«

»

Nov ১৮

দাসত্ব বর্ণবাদ ও মানবধর্ম

কিছু লোককে দেখা যায় নিজেদের মানবতাবাদী বলে পরিচয় দেয়, অথবা ধর্মের কথা বললে বলে মানবতাবাদ বা মানবধর্ম। এটা প্রচলিত ধর্মগুলোকে প্রতিস্থাপন করছে বুঝা যায়। মজার ব্যাপার হল, ধর্মবিমূখ, নাস্তিক, ধর্মবিদ্বেষী সবারই সাধারণ ধর্ম হয়ে গেছে এই মানবধর্ম। নামের বহর ছাড়া এর স্বরূপটা যে কী তা বুঝার কোন উপায় নেই, বুলি আওড়ানো ছাড়া তারা নিজেরাও জানে কিনা সন্দেহ। যাই হোক, লালন বা বৈষ্ণবীদের মানবধর্ম বিদ্বেষ শেখায় না বা বিদ্বেষকে উসকে দেয় না। তাহলে আজকের মানবতাবাদীদের মানবধর্মে ধর্মবিদ্বেষ এল কোথা থেকে? মুখে মানবধর্ম কিন্তু কাজে ধর্মবিদ্বেষ বিশেষত ইসলাম বিদ্বেষ!

মানবতাবাদের এই বৈশিষ্ট্য পাশ্চাত্য তথা ইউরোপিয়ানদের এনলাইটেনমেন্টের সাথে খুব মিলে যায়। ইউরোপিয়ান এনলাইটেনমেন্ট প্রতিযোগী হিসেবে পাওয়া সেই সমাজের খ্রিষ্টীয় ধর্মকে উৎখাত করে বিজয়ী হয়। এনলাইটেনমেন্ট নিয়ে আমাদের মানবতাবাদীরা গদগদ হলেও এটা ইউরোপ ছাড়া বাকী বিশ্বকে দাসত্ব ছাড়া তেমন কিছু একটা দেয়নি। এজন্যই দক্ষিণ আমেরিকা, সিরিয়া, মালি, জিম্বাবুয়ে, ইরাক, আফগানিস্তানসহ সারা পৃথিবীর বিবাদে সেই দাসত্বের কালো হাত সবকিছুকে ছাপিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠে। বর্তমান সভ্যতায় আমাদের যে অবস্থান তা অপাংক্তেয়তুল্য। তবে দাসমনোবৃত্তির কারণে এই সভ্যতার সেবাদাসেরও অভাব নেই আমাদের মাঝে। আমাদের মানবতাবাদীদের কাছে পূজ্য এনলাইটেনমেন্টের নায়কদের মাঝেও তাদের শ্রেষ্ঠত্যের ধারণাটা প্রকট, কিন্তু মানবতাবাদীরা তা নিয়ে বেখেয়াল (!) ও জানলেও প্রকাশ করতে চায় না।

সামাজিক অবস্থানের দিক থেকে দাসরা বাস করে সমাজের সবচেয়ে নীচুস্তরে। তাদেরও মূল্য আছে তবে সেটা মানবিক নয় বাজারমূল্য। কিন্তু এই বাজারমূল্য নির্ধারণে তাদের যে ভুমিকা সেটা খুবই নগণ্য। পেশীবহুল, কর্মক্ষম হলে দাস এর দাম একটু বেশী এই যা। এই অবস্থায় থেকে সমাজের প্রতিথঃযশা ব্যক্তিদের সহানুনুভূতি অর্জন করা তাদের পক্ষে অনেক সময়ই সম্ভব হয়ে উঠেনি। সমাজের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা এই দাসত্বের প্রথা উল্টো সেইসব ব্যক্তিদের সমর্থন পেয়েছে।

গ্রীক দার্শনিক আরিস্টটল মনে করতেন দাসত্ব প্রাকৃতিক একটি বিষয়। তার মতে মানুষ দুই ধরণের: এক ধরণের মানুষ দাস আরেক ধরণের মানুষ মুক্ত। এর মধ্যে কিছু লোক জন্মগতভাবে দাস আবার কিছু লোক পরিস্থিতির কারণে দাস। জন্মগতভাবে যারা দাস তাদের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি থাকে না ফলে তাদের জন্য দাসত্বই উত্তম, কারণ একজন মনিব ছাড়া তার পক্ষে জীবণধারণ করা সম্ভব নয়। একজন দাসের দাসত্বই তার অস্তিত্বের জন্য সহায়ক। অপরদিকে প্লেটোও মনে করতেন অপেক্ষাকৃত নীচুজাতকে উঁচুজাত শাসন করবে সেটাই সঠিক। ওডেসির লেখক বিখ্যাত গ্রীক দার্শনিক হোমারের দাসদের প্রতি মনোভাব আরো কঠিন। তিনি জোর করে দাসত্বকে চাপিয়ে দেয়ার পক্ষপাতী। এর জন্য (নীচুশ্রেণীর মানুষটিকে) এমনভাবে চালিত করতে হবে যাতে সে প্রাকৃতিক দাসের মতো হয়ে যায়।

তবে আধুনিক ইউরোপিয়ানদের দাসত্ব ও বর্ণবাদকে আলাদা করে দেখা কঠিন কাজ। কারণ আধুনিক ইউরোপিয়ান দাসত্বের মধ্যে বর্ণবাদ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত। প্রাচীন কালের দাসত্ব কোন নির্দিষ্ট জাতি বা বর্ণকে লক্ষ্য করে না হলেও ইউরোপিয়ানরা ১৫’শো শতক থেকে নতুন করে যে দাসত্বের সূচনা করে সেটা ছিল বর্ণবাদের উপর ভিত্তি করে। কালোরা নীচুজাতের, অতএব তাদের নিয়তি দাসত্বেই! ফলে ইউরোপিয়ান দাসদের প্রায় সবই আফ্রিকান ও কালো বর্ণের মানুষেরা। ১৭৯৯ সালে একটি বিখ্যাত বৈজ্ঞনিক গবেষণায় সাদাদের শ্রেষ্ঠত্যকে উল্লেখ করা হয় এভাবে, “ইউরোপ ছাড়া কোথায় পাওয়া যাবে এমন আরচড মাথা, এত বড় মাপের মস্তিষ্ক………।” কালো আফ্রিকানদের দাস বানাতে যে নৈতিক সমর্থনের দরকার ছিল ইউরোপ তা পেয়েছিল। তাদের মধ্যে বিখ্যাত কয়েকজন এনলাইটেনদের নাম উল্লেখ না করলেই নয়: ডেভিড হিউম, জন লক, ভলতেয়ার, থমাস কার্লাইল, জর্জ ফ্রড্রিক হেগেল, ইমানুয়েল কান্ট, ফ্রান্সিস গাল্টন ও চার্লস ডারউইন। বর্তমান সময়ে নাস্তিকতা ও বিবর্তনবাদের পক্ষে সবচেয়ে উচ্চকন্ঠ রিচার্ড ডকিন্স এর পরিবারও দাসত্বের সুবিধাভোগী ও লালন পালনকারী (রিচার্ড ডকিন্স- খাইছে হেতারে!)।

ডেভিড হিউম প্রখ্যাত স্কটিশ দার্শনিক, ইতিহাসবিদ ও প্রবন্ধলেখক চার্চ অব ইংল্যান্ড যার বিরুদ্ধে ধর্মত্যাগের অভিসংশন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যুক্তিবাদী আন্দোলনের অগ্রপথিক হিসেবে বিবেচিত ডেভিড হিউম ১৭৫৩ সালে তার “অব ন্যাশনাল কারেকটার” রচনায় লিখেন যে তিনি এটা সঠিক ধারণা করেন যে যে কালোরা (নিগ্রো) ও সাধারণভাবে অন্যান্য মনুষ্যপ্রজাতি প্রাকৃতিকভাবেই সাদাদের থেকে নীচুজাতের……

অপরদিকে ইংলিশ দার্শনিক ও পদার্থবিদ জন লক’কে সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী এনলাইটেনমেন্ট চিন্তাবিদ হিসেবে মনে করা হয়। খ্রিষ্টান-প্রভাবিত সাদাদের শ্রেষ্ঠত্যতে তার জোড়ালো সমর্থন ছিল। তেমনি ছিলেন জার্মান দার্শনিক জর্জ ফ্রেডরিক হেগেল। হেগেল তার ‘লেকচার অন ফিলসফি অব ওয়ার্ল্ড হিস্টরি’ তে মত দিয়েছেন কালোরা এমন বৈশিষ্ঠ্যের যে তাদের সচেতনতা এখনও বৈশ্বিক বা এর নির্যাস এর সাথে সম্পর্কযুক্ত স্রষ্টা বা আইনকে বুঝার সামর্থ্য অর্জন করে নাই…… একজন কালো লোক মানুষ হলেও পুরোপুরিভাবে না (হেগেল ১৩৮) হেগেল আফ্রিকাকে  কোন ঐতিহাসিক স্থান বলে মনে করেন না। কারণ কালোদের কোন ব্যক্তিত্ব নেই, তাদের সত্ত্বা ঘুমায়, ডুবন্ত অবস্থায় থাকে, কোন অগ্রগতি লাভ করে না, এবং এর ফলে বিরাজ করে গাঢ়, পার্থক্যহীন আফ্রিকান মহাদেশ। “হিস্টরি অব ফিলসফি” বইতে তিনি লিখেন, নিগ্রোদের মধ্যে বিরাজ করে সবধরণের বন্যতা ও আইনহীনতা……………

হেগেল সাম্রাজ্যবাদের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন, বিশেষত ভারতে ইউরোপিয়ান সাম্রাজবাদের। হেগেল, হিউমের মত ইউরোপিয়ান এনলাইটেনমেন্টের ইমানুয়েল কান্টও একই বর্ণবাদী ধারণা পোষণ করতেন। ‘ডিফারেন্ট রেসেস অব হিউমেন’ এ কাল্ট বলেন হলুদ ইন্ডিয়ানদের সামান্য বুদ্ধি আছে, নিগ্রোরা (কালো) তাদের থেকে অনেক নীচে, আর আমেরিকান জনগণের কিছু অংশ সবচেয়ে নীচে।

ফরাসী দার্শনিক লেখক ইতিহাসবিদ ভলতেয়ারের নাম মুক্তমনা নামের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদীদের মুখে মুখে ফেরে। আর তা হবে না কেন, তিনিওতো ঈশ্বরকে একহাত নিয়ে মানবতায় বিশেষ অবদান রেখেছেন: "God is a comedian playing to an audience too afraid to laugh.” এই ভলতেয়ার মনে করতেন স্প্যানিয়েল (একধরণের রোমশ ছোট কুকুর) গ্রেহাউন্ড (ছিপছিপে লম্বা পা-ওয়ালা শিকারী কুকুর) থেকে যেমন ভিন্ন নিগ্রোদের (কালোদের) প্রজাতি আমাদের থেকে সেইরকমভাবে ভিন্ন ……

বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও লেখক স্যার থমাস কার্লাইল ১৮৪০ সালে তার লেখা “দ্যা নিগার কুশ্চেন” হল চরম বর্ণবাদী লেখা। বর্ণবাদী কার্লাইল তার লেখায় উল্লেখ করেন যে একজন কালো লোক যদি স্বেচ্ছায় একজন সাদার জন্য কাজ না করতে চায় তবে তাদের দিয়ে জোর করে কাজ করানো উচিত, কারণ এটাই তাদের নিয়তি।

প্রগতি ও মানবতার মশাল বহনকারী এই কুসংস্কারমুক্ত মানুষেরা দাসত্বের মাঝে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্যকে দেখতে পেতেন। দাসত্ব ও বর্ণবাদকে উপড়ে ফেলাতো দূরের কথা মানবিকতার কথা বলেও অমানবিকভাবে দাসত্ব ও বর্ণবাদের সাফাই-ই গেয়েছেন। আজ মানবতা শিখতে হয় তাদের ও তাদের কাছে স্বেচ্ছায় দাস হওয়া মানবধর্ম করে গলা ফাটানো প্রগতিশীল, মুক্তমনা ও নাস্তিকদের কাছ থেকে।

আরো সাহায্য নেয়া হয়েছে: "Racism Neo Colonialism Bio-Piracy and Other Essays" by Preethi Sirimanne – Von Den Driesch, Sarasavi Publishers (Pvt) Ltd

১৪ comments

Skip to comment form

  1. 7
    Ikram

    Informatve post

  2. 6
    sami23

    @শামস ভাই,
    “গ্রীক দার্শনিক আরিস্টটল মনে করতেন দাসত্ব প্রাকৃতিক একটি বিষয়। তার মতে মানুষ দুই ধরণের: এক ধরণের মানুষ দাস আরেক ধরণের মানুষ মুক্ত। এর মধ্যে কিছু লোক জন্মগতভাবে দাস আবার কিছু লোক পরিস্থিতির কারণে দাস। জন্মগতভাবে যারা দাস তাদের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি থাকে না ফলে তাদের জন্য দাসত্বই উত্তম, কারণ একজন মনিব ছাড়া তার পক্ষে জীবণধারণ করা সম্ভব নয়। একজন দাসের দাসত্বই তার অস্তিত্বের জন্য সহায়ক”
     
    এ সম্পর্কে আপনার লেখার সাথে এরিস্টটলের আরেকটি মন্তব্য যোগ করতেছি, “তার মতে একমাএ গ্রীক জাতি ব্যতীত অন্য সব মানুষ দাস বানানো যোগ্য”।দাস প্রথা মত ঘৃণ্য কুপ্রথাকে বৈধতা পশ্চিমা লেখকদের লেখা দেখতে পাওয়া যায়ে, অনেকের নাম আপনি উল্লেখ করেছেন,এ প্রসঙ্গে হাবাট স্পেন্সর,আর এইচ বারোর, কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।
    হাবাট স্পেস্নর তার the principle of sociology গ্রন্থে বলেন “দাসত্ব ছাড়া রাষ্ট্র নীতি পূর্ণতা লাভ করতে পারে না”
    আর এইচ বারোর তিনি তার “রোমান সাম্রাজ্যে দাস প্রথা শীর্ষক গ্রন্থে ভূমিকায়ে লিখেছেন “গোলামী এমন একটা শব্দ যা শুনতে খারাপ লাগে।এই শব্দ কানে প্রবেশ করা মাএ লৌহশৃংখলের ঝংকার,চাবুকের সপাং সপাং ধ্বনি এবং মজলুম গোলামের মম-বিদারী চিৎকার কণ কুহের ধ্বনি হতে শুরু করে। গোলামীকে সাধারণ খারাপ ভাবে দেখা হয়। কিন্তু গভীর সূক্ষ্ম চিন্তা করলে একথা কোনও সন্দেহ থাকে না যে, গোলাম খুব বেশি কিছু মহান আর পবিএ না হলেও সভ্যতা অগ্রগতি উৎকর্ষ সাধনে তাদের যথেষ্ট রয়েছে।তবুও গোলামী রেওয়াজ বন্ধ করা যেতে পারে,কিন্তু পুরাকালের দাস প্রথাকে খারাপ বলা এবং এটাকে চূড়ান্ত ভাবে খারাপ বলা আমাদের উচিত নয়”  
    দাসত্ব প্রাচীন ও মধ্যযুগে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যাপক উত্তরণ এবং যুদ্ধবন্দীদের বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে এটার প্রসার ঘটে।আধুনিক কাল তথা বর্তমানে দাসত্ব ব্যাপক ভোগবিলাস ও বিনোদন, স্বল্প মজুরি, কারণে প্রসার ঘটতেছে।তারি প্রমাণ হিসেবে বাংলাদেশের পতিতালয়ে গুলো  ও চা শিল্প,এবং পোশাক শিল্প শ্রমিকদের উপর নজর দিলে আধুনিক দাসত্ব নমুনা পাওয়া যায়ে।  

    1. 6.1
      শামস

      @সামি ভাই,
      আপনার প্রাসঙ্গিক সংযোজনের জন্য ধন্যবাদ।
      আসলে অনেক কিছু আনা যেত, হয়তো পরবর্তী কোন লেখাতে আনবোও। সাথে যোগ করতে পারেন কোথা থেকে উৎপন্ন হল 'বারবারিয়ান' শব্দটি। গ্রীক ছাড়া বাকীদের তারা বারবারিয়ান বলে মনে করত যারা নীচু জাতের, অসভ্য ঠিক মানুষ হয়নি। আর সভ্যতার কথা বলছেন, গ্রীক ও রোমান সভ্যতাতো বলা যায় দাঁড়িয়ে আছে লক্ষ লক্ষ দাসদের ত্যাগের দ্বারা। প্রাচীন গ্রীসের নগররাষ্টগুলোতে দাসদের সংখ্যা কোন কোনটিতে মূল জনগণের একতৃতীয়াংশ পর্যন্ত ছিল। একজন গ্রীক নাগরিক নিজের ইচ্ছেমত যত ইচ্ছে তত দাস রাখতে পারত। একটা সময় ছিল যখন দাসদের খুব কাছাকাছি ছিল মেয়েরা, যাদের সন্তান উৎপাদন ছাড়া সমাজে অবস্থান দাসদের কাছাকাছি। ধীরে ধীরে তাদের অবস্থান কিছুটা উন্নত হয়। তবে পতিতা হিসেবে তাদের কদর ছিল খুব বেশী। পতিতাদের আয়ও ছিল অনেক।
      আর রোমান সাম্রাজ্যের বিশাল সব অট্টালিকার সাথে দাসরা দূঃখের স্মৃতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত। দাসদের অনেকের জীবণ করুণভাবে শেষ হতো গ্ল্যাডিয়েটর লড়াই-এ। অমানবিকভাবে তাদের হিংস্র পশুর সামনে চারপাশ ঘেরা প্রাচীর মধ্যে ছেড়ে দেয়া হত। আর নাগরিকরা সেই থেক মজা লুটত। সেই খেলা উপভোগের মাধ্যমে অর্থনীতিও সচল হতো। আজকাল যেমন উন্নত বিশ্বের মারণাস্ত্রের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের কোথাও অঝোড়ে রক্ত ঝড়ে আর সেই অস্ত্র বিক্রির টাকা দিয়ে তাদের অর্থনীতি সচল থাকে। দাসদের উপর অত্যাচার এমন পর্যায়ে যায় যে দাসরা বেশ কিছু সশস্ত্র বিদ্রোহ করে। 'গ্ল্যাডিয়েটর ওয়ার' খ্যাত এসব যুদ্ধে তারা পরাক্রমশালী রোমান সাম্রাজ্যকে বেশ কয়েকবার পর্যদুস্থ করে, তাদের সাম্রাজ্যের ভীতও নাড়িয়ে দিয়েছিল।
      অথচ ইউরোপ সেই সাম্রাজ্য নিয়ে গর্ব করে কিন্তু সেই গ্ল্যাডিয়েটরদের কাহিনী চাপা পড়ে যায়। গ্ল্যাডিয়েটর ছবিটি দেখেছেন কিনা জানি না। আপনার মনে গ্ল্যাডিয়েটরদের জন্য করুণা করার মত আবহ সেই ছবি তৈরী করে না। সেই সভ্যতার অংহকারই যেন প্রকাশ পায়। তাইতো নিজেদের অপর্যাপ্ত জ্ঞানের কারণে ও মোহিত হয়ে আমাদের মধ্যেও অবলীলায় তাদের সেই অহংকারকে স্থান দেই (ধরুণঃ আমাদের একটি ক্রিকেট টিমের নামঃ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস). অথচ এখানে অহংকারের কিছু নেই, আছে অসহায় মানুষের প্রতি হিংস্রতা, অপমান, শোষণ, অত্যাচার। এর চেয়ে বড় বিদ্রুপ আর কি হতে পারে।
      সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।
       

  3. 5
    এস. এম. রায়হান

    আজ মানবতা শিখতে হয় তাদের ও তাদের কাছে স্বেচ্ছায় দাস হওয়া মানবধর্ম করে গলা ফাটানো প্রগতিশীল, মুক্তমনা ও নাস্তিকদের কাছ থেকে।

    এই 'মানবধর্ম' করে কারা ও কী উদ্দেশ্যে গলা ফাটাচ্ছে সেটা দেখতে হবে। কারা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন লেবেলের মধ্যে মাথা গুঁজতেছে। তাহলেই পুরো ব্যাপারটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হবে।

  4. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    ভাই আমার তো এই সব জানা ছিলনা! এরা জগতকে আলোকিত করেছিলেন! আর এই মানুষগুলোর মধ্যে এই ধরণের অমানুষত্ব মূলক ধারণা ধারণ করতেন? শুনে অবাক হতেই হলো!!!
    এর জন্যতো ইসলামের সাম্যবাদ তাদের চরম দুশমন হয়ে পড়ে।

    প্রগতি ও মানবতার মশাল বহনকারী এই কুসংস্কারমুক্ত মানুষেরা দাসত্বের মাঝে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্যকে দেখতে পেতেন। দাসত্ব ও বর্ণবাদকে উপড়ে ফেলাতো দূরের কথা মানবিকতার কথা বলেও অমানবিকভাবে দাসত্ব ও বর্ণবাদের সাফাই-ই গেয়েছেন। আজ মানবতা শিখতে হয় তাদের ও তাদের কাছে স্বেচ্ছায় দাস হওয়া মানবধর্ম করে গলা ফাটানো প্রগতিশীল, মুক্তমনা ও নাস্তিকদের কাছ থেকে।

    ঠিক মূল্যায়নটি করতে পেরেছেন। ধন্যবাদ।

    1. 4.1
      শামস

      মুনিম ভাই,
      হ্যা, দেখুন আমাদের মানবতাবাদীদের কাছে আপনি ইসলামের পক্ষে কিছু বলতে পারবেন বলে মনে হয় না। তাদের সাথে কথা হলে শুনবেন বলবে, মানুষ আগে, মানবধর্ম ইত্যাদি। কিন্তু কাজে কারবারে ইসলাম কত খারাপ, মুহম্মদ (সাঃ) কতো খারাপ, ইসলামের বিশ্বাস কতো খারাপ, শুধু খারাপ আর খারাপ। 
      এদের এই মানবতাবাদী দর্শন এই উপমহাদেশের মানবতাবাদের দর্শনের সাথে খাপ খায় না, এর বীজ পাশ্চাত্যের, এর সাথেই তাদের কাজকারবার মিলে যায়। যেসব কপিপেস্ট হয় সেগুলোও ধার করা তাদের কাছ থেকে। তাই একটু তলিয়ে দেখলাম তাদের নায়কদের (উদাহরণস্বরূপ) রূপটি কেমন। তাই দাসত্ব ও বর্ণবাদের মত অমানবিক ব্যাপারে তাদের কি সদ্মভ সমর্থন। তাদের অনেকের জীবণ যাপনও যথেচ্ছাচার। যেমন ধরুণ, ফরাসী দার্শনিক রুশো প্রলেতারিয়েতদের খুব বন্ধু, অথচ নিজে চালাত ল্যাভিশ এক জীবণ, ব্যয়বহুল বাড়িতে থাকত, যেসব উইগ পড়ত সেগুলো ছিল খুব মূল্যবান।
      আমাদের মানবতাবাদীরা মুহম্মদ (সাঃ) এর যেগুলো আসলে উল্লেখযোগ্য কোন ঘটনা হতো না সেগুলোকে ঘটনা বানিয়ে বিদ্রুপ করে। তাই তাদের মানবতাবাদী নায়কদেরও একটু চেখে দেখা দরকার বলে মনে হল।
      ভালো থাকুন।
       
       
       

      1. 4.1.1
        এস. এম. রায়হান

        আপনি 'মানবতাবাদীদের' বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন। ওদের টরন্টো-প্রবাসী বিশিষ্ট মুখপাত্র জেনে গেলে কিন্তু খবর আছে -- যে কিনা হায়েনা-শিয়ালদের কাছে বিচার দিচ্ছে এই বলে যে হাঁস-মুরগী-গরু-ছাগল ও তাদের ধর্ম খুউব সাম্প্রদায়িক।

        1. 4.1.1.1
          শামস

          এটাও লক্ষ্য করে থাকবেন, পশ্চিমারা যখন মুসলিম দেশগুলোতে হামলা চালায় তাদের মধ্যে সেই হামলার পক্ষে কেমন সমর্থন! এক ধরণের চাপা আনন্দই যেন তাদের মধ্যে দেখি। নামকাওয়াস্তে তাদের কিছু কিছু দেখা যাবে প্রতিবাদ করে। এটা তাদের স্বেচ্ছা দাসত্ব ছাড়া আর কিছু মনে হয় না।
           

  5. 3
    এস. এম. রায়হান

    উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ সহ অসাধারণ একটি লেখার জন্য ধন্যবাদ।

    গ্রীক দার্শনিক আরিস্টটল মনে করতেন দাসত্ব প্রাকৃতিক একটি বিষয়। তার মতে মানুষ দুই ধরণের: এক ধরণের মানুষ দাস আরেক ধরণের মানুষ মুক্ত। এর মধ্যে কিছু লোক জন্মগতভাবে দাস আবার কিছু লোক পরিস্থিতির কারণে দাস। জন্মগতভাবে যারা দাস তাদের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি থাকে না ফলে তাদের জন্য দাসত্বই উত্তম, কারণ একজন মনিব ছাড়া তার পক্ষে জীবণধারণ করা সম্ভব নয়। একজন দাসের দাসত্বই তার অস্তিত্বের জন্য সহায়ক। অপরদিকে প্লেটোও মনে করতেন অপেক্ষাকৃত নীচুজাতকে উঁচুজাত শাসন করবে সেটাই সঠিক। ওডেসির লেখক বিখ্যাত গ্রীক দার্শনিক হোমারের দাসদের প্রতি মনোভাব আরো কঠিন। তিনি জোর করে দাসত্বকে চাপিয়ে দেয়ার পক্ষপাতী। এর জন্য (নীচুশ্রেণীর মানুষটিকে) এমনভাবে চালিত করতে হবে যাতে সে প্রাকৃতিক দাসের মতো হয়ে যায়।

    ব্রাহ্মণবাদী ধর্মের সাথে হুবহু মিল আছে দেখা যাচ্ছে।
     
    আমার প্রাসঙ্গিক একটি লেখা-
     
    কৃষ্ণাঙ্গরা যেভাবে বিবর্তনবাদের শিকার

    1. 3.1
      শামস

      কিভাবে এসব গণ্যমাণ্যরা দাসত্বের পক্ষে সাফাই গায় দেখতে পারছেন। আমাদের মানবতাবাদীরা সেই গণ্যমাণ্যদের চিন্তাচেতনা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাদের মানবতাবাদ শিখায়। তাদের চিন্তা, দর্শন কতো কাছাকাছি!!
      আপনার লিঙ্কের জন্য ধন্যবাদ।
       
       

  6. 2
    সরোয়ার

    অসাধারণ লেখা। তথাকথিত মানবতাবাদীরা মুখে মানবতার কথা বললেও অন্তরে বর্ণবাদ ভাবধারা পোষণ করেন। তাদের দাবীকে জাস্টিফাই করার জন্য  বিবর্তনবাদের আশ্রয় নেয়া হয়।

    নোবেল বিজয়ী বিখ্যাত বিজ্ঞানী উইলিয়াম শোকলে তথ্য ও প্রযুক্তি বিপ্লবের অন্যতম কর্ণধার।  তিনি ছিলেন চরম বর্ণবাদী। তিনি   ইউজেনিক্স মুভমেন্টে গভীরভাবে জড়িত হন এবং এটাকেই তিনি জীবনের সবচেয়ে মহৎ কর্ম হিসেবে মনে করতেন। কৃষ্ণাঙ্গরা বিবর্তন অনুযায়ী কম বুদ্ধিসম্পন্ন। তাই তাদের বংশবৃদ্ধি রোধ করার জন্য আমেরিকাতে জোর করে বন্ধ্যাকরণ প্রোগ্রামও চালু করার জন্য আমেরিকার একাডেমী অব সায়েন্সকে ব্যবহার করেছেন।

    আরেক মানবতাবাদী হচ্ছেন জেমস ওয়াটসন, যিনি ডিএনএ’র ডবল হেলিক্স আবিষ্কা্র করার জন্য নোবেল প্রাইজ পান। তার বর্ণবাদী ভাবধারা অন্যান্য বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীদেরকে লজ্জায় ফেলে দিয়ে ছিল। কট্রর বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা বর্ণবাদকে মনে-প্রাণে সমর্থন করেন কিন্তু তা প্রকাশ্যে বলতে পারেন না।  জেমস ওয়াটসন সাহসিকতার সাথে জনসমকক্ষে বলে ফেলেছেন যে বিবর্তনবাদ তত্ত্ব অনুযায়ী কৃষ্ণাঙ্গদের বুদ্ধিমত্তা কম (অক্টবর ১৪, ২০০৭)[সূত্র]। তাই সমাজের পলিসিও সেই আলোকেই করা উচিত। তার এই মন্তব্যের জন্য Cold Spring Harbor Laboratory’র ডিরেক্টরপদ থেকে তাঁকে বাধ্যতামূলক অপসারণ করা হয় [সূত্র]। আমাদের স্মরণ রাখা উচিত যে জেমস ওয়াটসনবিবর্তনবাদ তত্ত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ নন! তাঁর ভাষায়-

    inherently gloomy about the prospect of Africa" because "all our social policies are based on the fact that their intelligence is the same as ours – whereas all the testing says not really

    তাঁর রচিত বইয়ে তিনি;লিখেন-

    There is no firm reason to anticipate that the intellectual capacities of peoples geographically separated in their evolution should prove to have evolved identically he writes. Our wanting to reserve equal powers of reason as some universal heritage of humanity will not be enough to make it so. [সূত্র]

    1. 2.1
      শামস

      আপনার সংযোজন লেখাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। অনেক ধন্যবাদ।
       

  7. 1
    ফুয়াদ দীনহীন

    লেখাটি সদালাপে বাধিয়ে রাখা উচিত। সম্পাদক সাহেবকে অনুরোধ করব। 

    1. 1.1
      শামস

      পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
       

Leave a Reply

Your email address will not be published.