«

»

Dec ০৩

মুক্তমনার ব্যবচ্ছেদ!

কেউ ‘মুক্তমনা’ কেন জিজ্ঞেস করলে গতানুগতিক ভুংভাং ছাড়া সন্তোষজনক কোন উত্তর অধিকাংশ মুক্তমনারাই দিতে পারবে কিনা সন্দেহ! জানা উত্তরগুলোর মধ্যে প্রথমেই আসে ধর্ম খারাপ (সম্ভবত একমাত্র ইসলাম!), ধর্মের কারণে অশান্তি ইত্যাদি তাই তারা মুক্তমনা- ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এটাই সারকথা। প্যারাসাইটের মতো ধর্মের খারাপের মধ্যেই মুক্তমনা হবার কারণ নিহীত, মুক্তমনা মতবাদের নিজস্ব স্বকীয়তার জন্য নয়! নয়তো ইসলামের জন্য তারা যে সময় দেয় তার কানাকড়ি তাদের মতবাদের পক্ষে দিতো। এখানে বাড়িয়ে কিছুই বলা হয় নাই (হায় কপাল- ইসলামের কাছে চার্বাক দর্শনও 'অচ্ছুৎ' হয়ে গেল!)

স্বকীয়তাহীনতার মধ্যেও মুক্তমনাগো কিছু বৈশিষ্ট্য খুব নজরকাড়া! বিজ্ঞান-মনস্ক হবার কারণে, প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা না করেই তারা উপসংহারে আসতে পারে। উত্তরের জন্য অপেক্ষা করে না, প্রয়োজনও মনে করে না। তবে প্রশ্ন করতে ভালবাসে, কারণ প্রশ্নবাণে ছেড়াবেড়া করে ফেলার আরেক নাম মুক্তমনা!  

মুক্তমনাদের ইসলাম সচেতনতা দেখে মনে হবে পৃথিবীর প্রধান সমস্যা ইসলাম! কিন্তু সমালোচনা করতেওতো যোগ্যতা লাগে। খৃস্টান মিশনারী জাতীয় সাইট দিয়া কপিপেস্টের কাজ সমালোচনা নয় অথবা বজরংদল ও শিবসেনাদের বলা কথাগুলারে ঘুরাইয়া পেঁচাইয়া বলার মধ্যে অন্ততঃপক্ষে যোগ্যতা থাকে না! তবে এসব ঢাকতে আবার বিশেষজ্ঞের ভান করতে হয়!

মুক্তমনারা গল্প লিখতে ভালবাসে। শৈশবের মাদ্রাসার জীবনকাহিনী তাদের চেয়ে ভাল কেউ বলতে পারে না, হুজুরেরাও ফেইল। নিজের  পরিবারের সদস্যদের মুসলমানিত্বের কাহিনী রচনায় অনন্যতা তাদের নিন্দুকেরাও অস্বীকার করতে পারে না। তাদের মুসলিম পরিচয় নিয়া ব্যাপক সন্দেহ থাকলেও সেটা গল্পের মানকে কমাতে পারে না। আর ব্যাকগ্রাউন্ড যাই হোক নিজেরে সাচ্চা মুসলমান বইলা পরিচয় দিতে ইন্টারনেট এর চাইতে ভালো আর কোন মাধ্যম বোধ করি হইতে পারে না।

ইসলাম বিদ্বেষের বাইরে তাদের ধ্যান-জ্ঞান খালি বিজ্ঞান! বিবর্তনবাদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান নো কম্প্রোমাইজ! বুইঝা বা না বুইঝা বিবর্তনবাদের স্তুতির মধ্যে তাদের ওজন বাড়ার একটা ব্যাপার আছে। বিবর্তনবাদ নিয়া উচ্ছ্বাস ব্যারোমিটারের মত মুক্তমনরে মাপা হয়। যত উচ্ছ্বাস তত জাতে উঠা। ভোগবাদী মানসিকতার জন্য পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রতি আলগা উচ্ছ্বাসও কাজ করে। বিবর্তনবাদের উৎপত্তি, প্রয়োগ (ইউজেনিক্স) ও বিবর্তনবাদের সিড়িতে অগ্রভাগে থাকা পাশ্চাত্যদের (কম উন্নতরা অধিকতর উন্নতদের অনুসরণ করবে সেটাইতো স্বাভাবিক!) কারণে হয়ত এই আবেগ। পাশ্চাত্য দর্শন তাদের প্রগতিশীল (!) করে আর ভারতীয় দর্শন লাবড়ার (নিরামিষ) স্বাদ দেয়। একুল-ওকুল, আস্তিক নাস্তিক নিয়া চিন্তার কিছু নাই সব কুলের সংস্থানই লাবড়ায় আছে!

জনমানসে নাস্তিকদের প্রতি নৈতিকতাহীনতার যে স্টেরিওটাইপ বিরাজিত সেটা মুক্তমনারা ভাঙ্গতে পারছে বলেই অনুমান হয়! তাদেরও নৈতিকতা আছে! তবে তা জৈববিবর্তন থেকে উদ্ভুত, তাই পশুপাখির আচরণের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রতি তাদের জোরালো সমর্থন বিদ্যমান। সমকামীতা (এখানে), অজাচার (এখানে), ধর্ষণ বিবর্তনের হাত ধরে তাদের নৈতিকতাকে সমৃদ্ধ করছে। একদিকে মধু মিশাইয়া মানবতার কথা বললেও, প্রকৃতির দোহাই দিয়াই আরেকদিকে দাঁত ও নখের রাজত্বের প্রতি একনিষ্ঠ সমর্থন দেয়। এই মানবতার দোহাই দিয়াই তারা পুঁজিবাদ তথা ভোগবাদকে শক্তিশালী করে।

তারপরও পুঁজিবাদী/ভোগবাদী বা সমাজবাদী বা বামপন্থী সব ধরণের ইসলাম বিদ্বেষীদের জন্যই তাদের খোয়াড় খোলা। বিভিন্ন বাদ ও পন্থার এসব বিভাজন মুক্তমনা হবার পথের অন্তরায় নয়। বস্তুবাদ এমনই এক জিনিষ- পুঁজিবাদ ও বামপন্থার মধ্যে দূরত্ব ঘোচাইয়া দেয়! বামপন্থী হইলে সময়ে সময়ে পুঁজিবাদীগো উষ্ঠা-বিষ্ঠা খাইতে হইতে হয়, তবে মানায়ে নিতে পারলে মুক্তমনার সন্মানটা তারা ঠিকই পায়। বস্তুবাদের নামে পুঁজিবাদের উচ্ছিষ্টরে অমৃতসম মনে করা অনেক খ্যাতনামা বামপন্থীদের দৃষ্টান্ত আছে।

তারা আশাবাদী, মানুষকে আশার কথা শোনায়, স্বপ্ন দেখায় ধর্মহীন সমাজের। মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে একটা বিশাল জনগোষ্ঠীকে কিছুদিনের জন্য বোকা বানানো যায় কিন্তু তাদের আজীবনের জন্য বোকা বানানো যায় না। বলার অপেক্ষা রাখে না এই বোকারা ধার্মিক! তাদের এধরণের আশাবাদ কয়েক হাজার বছর আগে চার্বাকরাও করেছে। কিন্তু হাজার বছরেও বোকাদের সংখ্যা কমে নাই! আলেয়ার আগুনের কেরামতি খোলস হইবার পরেও দলে দলে বোকাগুলা চালাক হইয়া অবিশ্বাসের খাতায় নাম লিখায় নাই। মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞানে আগের চাইতে উন্নত হইছে, এইবার যদি বোকাদের সংখ্যা কমে! আশার শেষ নাই! আশায় ভিটামিন আছে, বিশ্বাসের (!) জন্য উপকারী!

 

৩৪ comments

Skip to comment form

  1. 15
    chaderhut

    সুন্দর লেখা।

  2. 14
    এম_আহমদ

    এই লেখাটির সাথে বিডিটুডে ব্লগে একটা লেখা অনেকাংশে অবিকল দেখলাম।  মুক্তমনার ব্যবচ্ছেদ!

    1. 14.1
      শামস

       দেখলাম। 

      তিনি লেখকের নাম উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলেও উনার উচিত মূল লেখার লিঙ্ক (সদালাপের) দেয়া। 

      আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

       

       

  3. 13
    mahfuz

    আমার একটাই দাবি এইসব ভন্ড স্বঘোসিত 'মুক্তমনা ' দের "মুত্রমনা" ডাকা হোক

  4. 12
    কিংশুক

    নালায়েক এর মাথায় নাস্তিক ইমাম সাবরা যন্তর মন্তর ঘরে নিয়া  কি সফটওয়্যার লাগিয়ে দিলো যে “হীরকের রাজা ভবগান” এর মতো নাস্তিকতার ইমাম সাবগণের শিখানো প্রথম মন্ত্র “একজন নাস্তিক, মুরতাদ আপনাদের তুলনায়………..I agree” জপা শুরু করলো। ওরে নালায়েক এটা কোন বোকা বালকের  কোলাহলের স্থান নয় এটা বড়দের জায়গা। তুমি বাছা তোমার মতো নালায়েকদের পাঠশালায় গিয়ে উল্টাপাল্টা মন্ত্র জপতে থাকো। একজন নাস্তিক যখন হিতাহিত জ্ঞানবুদ্ধি হারিয়ে কিছু না জেনে না বুজে যত্রতত্র “একজন নাস্তিক………..I agree” জপা শুরু করে তখন তাকে “নালায়েক” বলে আর যখন একাধিক লোকের মাথায় একই  ভ্রম দেখা দেয় তখন তাকে “মুক্তমণা” ওরফে মণা পাগলা বলে।

  5. 11
    Vpcm Da Real Bd VI (নালায়েক)

    লেখক এবং মন্তব্যকারী দের কাছে প্রশ্ন আপনারা যে এত বড় বড় বয়ান দিলেন আপনারা কি কেউ যার যার ধর্মপুস্তক বুঝে পড়েছেন ??
    উত্তরঃ  ৯৯% না,(১০০% নাও হতে পারে)

    একজন নাস্তিক, মুরতাদ আপনাদের তুলনায় হাজার গুন ভালো মানুষ কারণ,
    আপনারা খারাপ কাজ করেন  আল্লার ভয়ে কিংবা বেহেস্তের লোভে,

    বিপরীত দিকে একজন নাস্তিক,মুরতাদ খারাপ কাজ করে না তার বিবেক বোধে বাধে বলে,

    এখন চিন্তা করেন কে উচু শ্রেণীর মানুষ ??

    ধার্মিকরা হয় ভিতু নয় লোভি,কিন্তু নাস্তিকরা শুধুই বিবেক সম্পন্ন মানুষ,
    তাই বলি মানুষের মত হাত পা থাকলেই মানুষ হওয়া যায় না, প্রকৃত মানুষ হতে বিবেক লাগে,
     
    প্রায় সব ধার্মিক লোকের কাছে তাদের ধর্মগ্রন্থ একটা সফ্টওয়ার লাইসেন্স এগ্রিমেন্টের মত। কেউ সেটা পড়ে না, বোঝাতো অনেক দুরের ব্যপার। তারা শুধু শেষটায় গিয়ে বলে "I agree". ………নাস্তিকজন কহেন

    যখন একজনের মাথায় ভ্রম দেখা দেয় তখন তাকে পাগলামি বলে আর যখন একাধিক লোকের মাথায় ভ্রম দেখা দেয় তখন তাকে ধর্ম বলে

    1. 11.1
      Rajani Kanth

      @Vpcm Da Real Bd VI (নালায়েক)
      How dare you make Jokes like me !?!

      1. 11.1.1
        শামস

        এখানে জোকটা কি?
         

        1. 11.1.1.1
          এস. এম. রায়হান

          Rajani Kanth is making a joke out of himself 😀

    2. 11.2
      শামস

      রজনী কান্ত সম্ভবত আপনার করা এই জোকটার কথা বলছেন!

      লেখক এবং মন্তব্যকারী দের কাছে প্রশ্ন আপনারা যে এত বড় বড় বয়ান দিলেন আপনারা কি কেউ যার যার ধর্মপুস্তক বুঝে পড়েছেন ??
      উত্তরঃ  ৯৯% না,(১০০% নাও হতে পারে)

      হাহাহাহাহা………
       

      আপনারা খারাপ কাজ করেন  আল্লার ভয়ে কিংবা বেহেস্তের লোভে,

      আল্লাহর ভয়ে যে ধার্মিকরা খারাপ কাজ করে এই প্রথম শুনলাম! আপনেতো ভাই পুরা অস্থির কইরা দিলেন!!!
       

      বিপরীত দিকে একজন নাস্তিক,মুরতাদ খারাপ কাজ করে না তার বিবেক বোধে বাধে বলে,

      বলেন কি? এই 'বিবেক' এর বেঞ্চমার্ক কি, আর আসলোই বা কিভাবে? টু দ্যা পয়েন্টে বলুন, জ্ঞান লাভ করতে সমস্যা কোথায়!!!
       

      যখন একজনের মাথায় ভ্রম দেখা দেয় তখন তাকে পাগলামি বলে আর যখন একাধিক লোকের মাথায় ভ্রম দেখা দেয় তখন তাকে ধর্ম বলে

      একাধিক লোকের ভ্রমকে শুধু ধর্ম বলে? আচ্ছা যুক্তির খাতিরে ধইরা নিলাম, এখন বলেন তাইলে সমাজতন্ত্র কি? (বাই দ্যা বাই, ওখানেও কিন্তু নাস্তিকতা আছে!)

      1. 11.2.1
        এস. এম. রায়হান

        নালায়েক সাবের মনে হচ্ছে এইমাত্র জন্ম হলো কিংবা আসলেই নালায়েক! নইলে ২০১৩ সালে কি কোনো বয়ঃপ্রাপ্ত ব্যক্তি এই ধরণের মুত্রমনা-মার্কা আবর্জনা মাথায় নিয়ে চলাফেরা করতে পারে?

      2. 11.2.2
        নির্ভীক আস্তিক

        শামস ভাই, কেমন আছেন ? অনেক দিন পর সদালাপে উকি মারতে আসলাম। এসেই দেখি একটি উন্মাদ পাগলের প্রলাপ । তাই তদনগাত লগআউট করলাম আর এই ফাঁকে Rajanikanth এসে কমেন্ট করে গেল । এখানে পড়ুন http://www.funonthenet.in/forums/index.php?topic=192491.5;wap2

        @নালায়েক , Rajanikanth is everywhere, mind it rascella!
         

    3. 11.3
      আহমেদ শরীফ

      একজন নাস্তিক, মুরতাদ আপনাদের তুলনায় হাজার গুন ভালো মানুষ কারণ,
      আপনারা খারাপ কাজ করেন  আল্লার ভয়ে কিংবা বেহেস্তের লোভে,

      কে কার চেয়ে শত বা হাজার গুণ ভাল মেপে দেখেছেন ? কোন মিটারে মেপেছেন জানতে পারি ?

      আল্লাহকে ভয় করার কারণে কেউ 'খারাপ কাজ' করে এই কথা জীবনে প্রথম শুনলাম।
      বেহেশতের লোভে ধার্মিকরা ভাল কাজ করলে তো ভালই, যে উদ্দেশ্যেই করুক দুনিয়ায় ভাল কাজের সংখ্যা বাড়বে। খারাপ কি ? আর কোন উদ্দেশ্য ছাড়া যে কাজ করবে সে তো পাগল !

      বিপরীত দিকে একজন নাস্তিক,মুরতাদ খারাপ কাজ করে না তার বিবেক বোধে বাধে বলে

      নাস্তিক বা মুরতাদের 'বিবেক' খুব জাগ্রত _ এ কথার স্বপক্ষে প্রমাণ কি ? অবিশ্বাসের কারণে নিজস্ব ধারণানুযায়ী কারো কাছে জবাবদিহিতার অনুপস্থিতির সুযোগে যে সে আরো হাজার গুণ লুচ্চা হবে না তার গ্যারান্টি কি ?

      ধার্মিকরা হয় ভিতু নয় লোভি,কিন্তু নাস্তিকরা শুধুই বিবেক সম্পন্ন মানুষ,

      তার মানে দাঁড়াচ্ছে নাস্তিকেরা ভীতু বা লোভী নয় ? যদি সাহসের ছিঁটেফোঁটাও সঞ্চয় তারা এতদিনে করতে পেরে থাকে তাহলে প্রকাশ্যে এখনো তারা কোন সভা বা মিছিল করে বক্তব্য রাখতে পারে না কেন ? বাস্তব জীবনে দ্বৈতজীবন, অনলাইনেও ফেইক আইডি নিয়ে তাদের আত্মপ্রতারণামূলক কাপুরুষোচিত গ্লানিময় জীবন কাটাতে হচ্ছে কেন ? বিবেকের যদি ভগ্নাংশও তাদের থাকে তাহলে সাম্প্রতিক 'রামুর ঘটনা' র মত ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরও তারা এরকম আরো ঘটনার ইন্ধন জোগাতে পরওয়া করছে না কেন ? বিবেক বা সততার ভগ্নাংশও যদি থাকে তাহলে  কিসের লোভে কিসের লালসায় নিজের নাস্তিক্য বিশ্বাস লুকিয়ে রেখে পৈতৃক নাম ধরে রেখে সমাজে থেকে সবরকমের সুযোগসুবিধা-সম্মান ভোগ করছে ? 
       
      কেন ?

      প্রায় সব ধার্মিক লোকের কাছে তাদের ধর্মগ্রন্থ একটা সফ্টওয়ার লাইসেন্স এগ্রিমেন্টের মত। কেউ সেটা পড়ে না, বোঝাতো অনেক দুরের ব্যপার। তারা শুধু শেষটায় গিয়ে বলে "I agree".

      প্রত্যেক ভাল মেশিনেরই একটা 'নির্দেশিকা' থাকে তাতে চালানোর নিয়মপদ্ধতি থাকে। এর ওপরেই ওয়ারেন্টি দেয়া হয়। নিয়মের বাইরে গেলে কোন ওয়ারেন্টি নাই কাজেই নিয়মপদ্ধতি অনুযায়ী কেয়ারফুলি চালাতে হয়। নিয়মপদ্ধতি ছাড়া মেশিনের কোন বিক্রয়মূল্য নাই কোন ওয়ারেন্টিও নাই। যার যেভাবে খুশি চালালেই হয় চললে চলল, না চললে ফেলে দিলেও কারো মাথাব্যাথা নাই।
       

      যখন একজনের মাথায় ভ্রম দেখা দেয় তখন তাকে পাগলামি বলে আর যখন একাধিক লোকের মাথায় ভ্রম দেখা দেয় তখন তাকে ধর্ম বলে

       
      যখন একজন নাস্তিক একা হয় তখন আরেকজন নাস্তিক না পাওয়া পর্যন্ত সাবধানে চলে, মনমরা হয়ে থাকে, সময় কাটে না। কিন্তু যখন একাধিক নাস্তিক পাওয়া যায় তখন তারা ফেসবুকে নিরাপদে গ্রুপ খুলে উল্লাস করতে থাকে, টাইম পাস ব্যাপার না আজাইরা একই ক্যাচাল হাজারবার জাবর কেটে কেটে দিব্যি পার হয়ে যায় সিগারেটের ধোঁয়ায় রাতদিন, রিপোর্ট খেয়ে গ্রুপ ব্যান হলে আবার আইডি বদলে নতুন গ্রুপ বানিয়ে আবার শুরু, ঘরে শুয়ে বসে এর চেয়ে বড় বিপ্লব আর কি আছে !
       
       

  6. 10
    আহমেদ শরীফ

    চমৎকার রসগ্রাহী লেখা।
     
    মজার ব্যাপার হচ্ছে, অর্ধশিক্ষিত-প্রায় অশিক্ষিত অর্বাচীন লোকেরা যখন শুধুমাত্র 'সব ধর্ম অস্বীকার' জাতীয় বুলি আউড়ে মুক্তমনা শিবিরে জয়োল্লাসে ঢুকে পড়ে মূর্খের মত নরক গুলজার করে মডারেটেড বদ্ধ বাতাস আরো দূষিত করে প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তোলে _ মূর্খামির বিকট আবহ অসহ্য হয়ে উঠলেও দলভারী হওয়ার আনন্দে উচ্চবাচ্য না করে 'উচ্চশিক্ষিত' চিন্তাশীল মুক্তমনাদের এই উৎকট বায়ুদূষণ মুখ বুজেই সহ্য করে যেতে হয়।

    মূর্খ বেচারাদের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে নিজেদের চিন্তাশীলতার আরো বারোটা বাজিয়ে গোঁয়ারের মত যে কোন অবস্থায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছলে-বলে-কৌশলে-কারণে-অকারণে-দিনে-রাতে-স্বয়নে-স্বপনে উচ্চকিত হয়ে শুধু 'ধর্ম অস্বীকার' এর খুঁটিতে ঘুরপাক খেতে খেতে একঘেয়ে নামতা পড়ার মত হাস্যকর সংষ্কৃতি গ্রহণ করা ছাড়াও উপায় থাকে না।

    1. 10.1
      শামস

      ধন্যবাদ।
       

  7. 9
    সরোয়ার

    মুক্তমনাদের আসল পরিচয় এই রসালো লেখায় উঠে এসেছে। লেখাটি আগেই পড়েছিলাম, কিন্তু মন্তব্য করতে পারিনি। ইদানিং ব্লগে ব্লগে মুক্তমনাদের নামকে বিকৃত করা হচ্ছে!

    “বিবর্তনবাদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান নো কম্প্রোমাইজ! বুইঝা বা না বুইঝা বিবর্তনবাদের স্তুতির মধ্যে তাদের ওজন বাড়ার একটা ব্যাপার আছে। বিবর্তনবাদ নিয়া উচ্ছ্বাস ব্যারোমিটারের মত মুক্তমনরে মাপা হয়। যত উচ্ছ্বাস তত জাতে উঠা। ভোগবাদী মানসিকতার জন্য পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রতি আলগা উচ্ছ্বাসও কাজ করে।বিবর্তনবাদের উৎপত্তি, প্রয়োগ (ইউজেনিক্স) ও বিবর্তনবাদের সিড়িতে অগ্রভাগে থাকা পাশ্চাত্যদের (কম উন্নতরা অধিকতর উন্নতদের অনুসরণ করবে সেটাইতো স্বাভাবিক!) কারণে হয়ত এই আবেগ। পাশ্চাত্য দর্শন তাদের প্রগতিশীল (!) করে আর ভারতীয় দর্শন লাবড়ার (নিরামিষ) স্বাদ দেয়। একুল-ওকুল, আস্তিক নাস্তিক নিয়া চিন্তার কিছু নাই সব কুলের সংস্থানই লাবড়ায় আছে!”

    ব্যাপক বিনোদন!

  8. 8
    সাদাত

    মুক্তমনারা গল্প লিখতে ভালবাসে। শৈশবের মাদ্রাসার জীবনকাহিনী তাদের চেয়ে ভাল কেউ বলতে পারে না, হুজুরেরাও ফেইল। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের মুসলমানিত্বের কাহিনী রচনায় অনন্যতা তাদের নিন্দুকেরাও অস্বীকার করতে পারে না। তাদের মুসলিম পরিচয় নিয়া ব্যাপক সন্দেহ থাকলেও সেটা গল্পের মানকে কমাতে পারে না। আর ব্যাকগ্রাউন্ড যাই হোক নিজেরে সাচ্চা মুসলমান বইলা পরিচয় দিতে ইন্টারনেট এর চাইতে ভালো আর কোন মাধ্যম বোধ করি হইতে পারে না।

    এইটা একেবারে খাঁটি কথা বলেছেন।
    কেউ কেউ তো অভিযোগ করে, এমন মুক্তমনাও নাকি আছে রুজির প্রয়োজনে যারা দিনের বেলায় বাচ্চাকাচ্চাদের কায়দা-সিপারা পড়ায়, আর রাতের বেলায় ইন্টারনেটে পাক্কা ইসলামবিদ্বেষী হয়ে যায়। 

    1. 8.1
      শামস

      কেউ কেউ তো অভিযোগ করে, এমন মুক্তমনাও নাকি আছে রুজির প্রয়োজনে যারা দিনের বেলায় বাচ্চাকাচ্চাদের কায়দা-সিপারা পড়ায়, আর রাতের বেলায় ইন্টারনেটে পাক্কা ইসলামবিদ্বেষী হয়ে যায়। 

       
      আপনার মন্তব্যটা যথার্থ। যা  দেখছি তাতে মনে হচ্ছে অস্বাভাবিক কিছু না!

  9. 7
    শাহবাজ নজরুল

    মুক্তমনাদের ইসলাম সচেতনতা দেখে মনে হবে পৃথিবীর প্রধান সমস্যা ইসলাম! কিন্তু সমালোচনা করতেওতো যোগ্যতা লাগে। খৃস্টান মিশনারী জাতীয় সাইট দিয়া কপিপেস্টের কাজ সমালোচনা নয় অথবা বজরংদল ও শিবসেনাদের বলা কথাগুলারে ঘুরাইয়া পেঁচাইয়া বলার মধ্যে অন্ততঃপক্ষে যোগ্যতা থাকে না! তবে এসব ঢাকতে আবার বিশেষজ্ঞের ভান করতে হয়!

     
    হ্যা জ্ঞানের জোর ঐ সাইটগুলো পর্যন্তই। তার সাথে চলে নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা। তাই আকাশ, আবুল কিংবা ভ্যাগাবন্ড জাতীয়দের লেখাকে আমি রূপকথার গল্পের চাইতে বেশী কিছু ভাবিনা। ঠাকুরমার ঝুলির গল্পগুলো পড়ে মাঝেমধ্যে মজাই পাই। এখানেও একজন আসছিল কিছুদিন আগে। অনেক গ্যান দেহায় গেছে। পরে আবার ঐখানে গিয়াও কিছু লাত্থি-উষ্ঠা খাইসে।

  10. 6
    কোথাও কেউ নেই

    মুনিম সিদ্দিকী ভাইয়ের সাথে একমত। পোস্টের শেষ দুটি লাইনের কারণে খানিকটা হলেও ফিকে হয়েছে লেখাটির গাম্ভীর্য। আর, এসবেরই সুযোগ নিয়ে অন্যান্য ব্লগ কিংবা ফোরামে হাসাহাসি/তীর্যক মন্তব্য করতে পারে ইসলামবিরোধী ভন্ডগুলো। শামস ভাই যদি পোস্টখানা এডিট করে শেষ লাইন দুটি বাদ দিয়ে দেন তাহলে কোন ক্ষতি হবে বলে মনে হয়না। ওভারঅল পোস্টটি ভালো লেগেছে।

    1. 6.1
      শামস

      @মুনিম ভাই ও কোথাও কেউ নেই,

      মুক্তমনাদের প্রিয় নারীবাদী (!) তসলিমা নাসরিন তার কোন এক বইতে (এখন ঠিক খেয়াল নেই) মনা ও গ্রামদেশে প্রচলিত এর কিছু প্রতিশব্দকে (!) নিয়ে অভিযোগ করছিলেন।  কারণ এইসব শব্দ পুরুষতন্ত্রের সমর্থনকারী প্রতীক। যাই হোক আমার কাছে এখানে লেখায় বেখাপ্পা কিছু মনে হয়নি। তবে আপনাদের অনুরোধে শেষ অংশটুকু তুলে নিলাম!

      @ কোথাও কেউ নেই,
      শেষ অংশটুকু পাঠক হিসেবে আপনাদের ভাল লাগেনি তাই বাদ দিলাম। কিন্তু ইসলামবিরোধী ভন্ডরা হাসাহাসি করবে বলে বাদ দিতে হবে তাই বাদ দেইনি। তারাতো মুসলিম বা ইসলাম নাম শুনলেই হাসাহাসি করে এজন্যকি সব ত্যাগ করবেন নাকি! অথচ জুয়া খেলার আসরে দ্রৌপদীর নগ্ন হওয়ায় তাদের হাসাহাসি করার কিছু নেই, ব্রিটিশ কেট উইলিয়ামের নগ্নতায় হাসাহাসির কিছু হয় না, অজাচার, সমকামিতার সমর্থনে এক ধরণের প্রগতিশীল ও সভ্য হওয়ার আত্নতৃপ্তি দেখা যায়, বিবর্তনের সিড়িতে নীচে থেকেও দাসসূলভ মনোভাব নিতেও আপত্তি করে না। তারা নিজেদের খোয়াড় ও আমুর মত কিছু সিস্টারব্লগ ছাড়াতো দেখি দৌড়ের উপর থাকে! এরা ইসলাম ধর্মের প্যারাসাইট (!), প্যারাসাইট আমার অভিব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না! তাদের নিয়েও একটু হাসাহাসি করেন!

      ভালো থাকুন।

  11. 5
    sami23

     আমার মনে হয় যে মানুষ যখন ভোগবিলাসী হয়ে পড়ে,তখন তার মধ্যে মুক্তমনার চিন্তা ধারা প্রতিফলিত হয়। এই চিন্তাধারা যখনই প্রতিফলিত হয় তার নিরপেক্ষতা,নৈতিকতার ভাবধারা গুলো লোপ পায়।যাহা তাকে ধমই মৌলিক চিন্তা ধারা সাথে বিপরীত অবস্থানে দাঁড় করায়ে।ফলাফল হিসেবে তাদের মত মুক্তমনার,যারা মানুষের লাশ কে তাচ্ছিল্য করেতে ছাড়েনা ।এসব মুক্তমনার চিন্তা চেতনায়ে যে,ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক অমানবিকটাকে মানবিক কাতারে নিয়ে এসেছেন। ধর্মের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ এসব মনোভাবকে আরও তীব্র করে তুলে।বিশেষ করে তাদের এ মনোভাবের শিকার ইসলাম এবং সেটা প্রতিফলন যে আজকাল মিডিয়া,নেটে,তীব্র ভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।এক্ষেএে ইসলামকে অমানবিক ধর্ম ও বিজ্ঞানের সাথে সাংঘশিক  এবং আধুনিক জীবনযাএা সাথে সমনয়ের অভাবকে তুলে ধারার প্রবণতাটা বেশি।এটা পুজি করে আজকাল বাংলার ভার্চুয়াল জগতে হিন্দু সাম্প্রদায়িক মনোভাব ধারি কিছু মানুষ ফায়েদা লুটে,নিজেদের মুক্তমনা হিসেবে নিজেকে মানবতার ধারক বাহক হিসেবে জাহির করতেছে।

    1. 5.1
      শামস

      মুক্তমনাদের নৈতিকতা যে নাই তা কিন্তু বলা হয় নাই। তাদেরও নৈতিকতা আছেঃ

      তাদেরও নৈতিকতা আছে! তবে তা জৈববিবর্তন থেকে উদ্ভুত, তাই পশুপাখির আচরণের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রতি তাদের জোরালো সমর্থন বিদ্যমান। সমকামীতা, অজাচার, ধর্ষণ বিবর্তনের হাত ধরে তাদের নৈতিকতাকে সমৃদ্ধ করছে।

  12. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    সবশেষে সতর্কতা: গ্রামদেশে প্রচলিত 'মনা' মানে ‘পুরুষাঙ্গ’! অতএব, মুক্তমনা মানে ‘মুক্ত পুরুষাঙ্গ’ যদি কেউ পড়েন তাইলে নিজ দায়িত্বে পড়বেন। এর জন্য লেখক দায়ী নয়!

    এই রসিকতা না থাকলেও ব্লগের মূল উদ্দ্যেশের কোন ঘটতি হত বলে আমি মনে করিনা। ধন্যবাদ।

    1. 4.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      মনা মানে-! এই রূপ কথা আমি শুনি নাই। আমাদের এলাকায় অনেক নারী এবং পুরুষের নাম মনা পাওয়া যায়।  ধন্যবাদ।

      1. 4.1.1
        শামস

        মুনিম ভাই, ছেলেমেয়ে সবার যে মনা নাম থাকে জানা ছিল না। নারীবাদী (!) তসলিমার বইতেই সম্ভবত প্রথম 'মনা' শব্দের সাথে পরিচিত হই এইভাবে। আপনার এলাকা দেখছি ভিন্ন! হতে পারে, চুলকেওতো দিল্লির দাদারা বাজে কইরা বলে!!!
         

        1. 4.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          আমার ক্লাস মেট শিশুকালের বন্ধু তাঁর নাম ছিল জাহানারা বেগম মনা। ডাক নাম মনা আমি এখনও এই বুড়ো বয়সে মনা মনে ডাকি। আমাদের এখানে এক পাগলকে মনা পাগলা বলে ডাকা হয়, এক ঠাকুরকে মনা ঠাকুর বলে ডাকা হয় । এক ঢুলীর নাম ছিল মনা ঢুলী। আমাদের পাড়ার এক বড় ভাইয়ের নাম মনা, আমরা উনাকে মনা ভাই বলেই ডাকতাম।
          হতে পারে একদেশের গালী আর এক দেশের বুলি!!!!  তবে আমার বলার মূল বিষয় হচ্ছে এই ব্লগে এই বিশেষ অঙ্গের প্রসঙ্গ না আনলেই ভাল হতো। এইটি আমার মত একান্ত আমার মত কাউকে মানতে হবে এমন নয়। ধন্যবাদ।

  13. 3
    এস. এম. রায়হান

    সবশেষে সতর্কতা: গ্রামদেশে প্রচলিত 'মনা' মানে ‘পুরুষাঙ্গ’! অতএব, মুক্তমনা মানে ‘মুক্ত পুরুষাঙ্গ’ যদি কেউ পড়েন তাইলে নিজ দায়িত্বে পড়বেন। এর জন্য লেখক দায়ী নয়!

    সংক্ষেপে 'মুক্তাঙ্গ' বলা যেতে পারে!

    1. 3.1
      ফরিদ আলম

      সংক্ষেপে 'মুক্তাঙ্গ' বলা যেতে পারে!

  14. 2
    এস. এম. রায়হান

    আমার একটা প্রশ্ন ছিল! 'freethinker' এর বাংলা 'মুক্ত-মনা' করা হয়েছে। 'free' মানে 'মুক্ত' না হয় ঠিক আছে, কিন্তু 'thinker' এর বাংলা প্রতিশব্দ 'মনা' কোথায় পেল তারা! 'thinker' মানে কি 'মনা'! অধিকন্তু, তারা তো সবাই নিজেকে নাস্তিক দাবি করে। নাস্তিক আবার freethinker হয় কী করে! পুরাই ভণ্ডামি।

    1. 2.1
      শামস

      এককথায় যা বুঝি জগাখিচুরী। এজন্যইতো বলছিলামঃ

      কারণে হয়ত এই আবেগ। পাশ্চাত্য দর্শন তাদের প্রগতিশীল (!) করে আর ভারতীয় দর্শন লাবড়ার (নিরামিষ) স্বাদ দেয়। একুল-ওকুল, আস্তিক নাস্তিক নিয়া চিন্তার কিছু নাই সব কুলের সংস্থানই লাবড়ায় আছে!
       

    2. 2.2
      mahfuz

      amar mone hoi freethinker mane mutromona

  15. 1
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    আসেন আমরা লাদিবাজদের,মানে বিবর্তনবাদীদের ল্যাঞ্জা নিয়া খেলাধুলা করি। 

    1. 1.1
      শামস

      ল্যাঞ্জা নিয়া খেলাধুলা করেন ভালো কথা, কিন্তু পাড়া দিয়েন না 

Leave a Reply

Your email address will not be published.