«

»

Dec ১০

কোন্‌ পন্থায় বামপন্থা!-৩

[পর্ব-১|পর্ব-২] ভোগবাদী নাস্তিকদের বন্ধু হিসেবে সাম্যবাদ ও মানবতার মেকী বুলি আওড়ানো বামপন্থীদের পাওয়া উৎসাহজনক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ধর্মকে ভোগবাদী ও বামপন্থী উভয় প্রকার নাস্তিকরা অমানবিক, হিংস্র ও যাবতীয় অশান্তির মূল কারণ বলে প্রচার করে। অথচ তাদের ইতিহাসের দিকে তাকালে ভয়াবহ একটি চিত্রই পাওয়া যায়। নীচে তাদের ঘটিত হত্যাকান্ডের কিছু নমুনা তুলে ধরা হল (The Black Book of Communism, p.4):

৬.৫ কোটি লোক চায়নাতে
২ কোটি লোক সৌভিয়েত ইউনিয়নে
২০ লাখ লোক ক্যাম্বোডিয়াতে
২০ লাখ লোক উত্তর কোরিয়াতে
১৭ লাখ লোক আফ্রিকাতে
১৫ লাখ আফগানিস্তানে
১০ লাখ পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে
১০ লাখ ভিয়েতনামে
১৫০,০০০ ল্যাটিন আমেরিকাতে
১০,০০০ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার নকশালীদের যোগ করলে সংখ্যাটা আরো বেশী হবে বলেই প্রতীয়মান হয়।


সৌভিয়ত রাশিয়ানদের দ্বারা হত্যাযজ্ঞ


কম্বোডিয়ার খেমারুজদের

জার্মানীতে যেমন নাজীদের ছিল ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’, সৌভিয়েত রাশিয়ায় যেমন ‘গুলাগ’, চায়নাতে তেমনি এটা হল ‘লাওগাই’ যার অর্থ হল: ‘শ্রমের মাধ্যমে সংস্কার’। অবর্ণনীয় অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হয় কোটি কোটি লোককে। শ্রেণীশত্রু খতমের নাম করে সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তরেই এই হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল। এমনকি শিক্ষকরাও বাদ যায়নি। চেয়ারম্যান মাও সে তুং এর মতে, “It’s either we kill them, or they kill us? You die and I live, this is class struggle”! একদিকে শ্রেণীশত্রু খতমের নামে নির্বিচার হত্যাকান্ড অন্যদিকে দূর্ভিক্ষ। খাদ্যের অপ্রতুলতায় সাধারণ চাইনিজরা সব খাওয়া শুরু করে এমনকি মানুষের মাংসও। ধর্মকে নির্বাসনে পাঠানো হয়, কারণ একে মনে করা হয় শোষকের হাতিয়ার হিসাবে। সবচেয়ে বড় খড়গটা নেমে আসে বৌদ্ধদের উপর। শুধু তিব্বতেই ৬০০০ প্যাগোডাকে ধবংস করা হয়। ভিক্ষুদের বন্দুকের নলের সামনে এসব ভাংতে বাধ্য করা হয়। মুসলিম অধ্যুষিত সিনজিয়াংএ অত্যাচারের অনেকটা সেরকমই চিত্র। ইমামদের পুরো শরীরে রং মেখে প্যান্ট পড়ে রাস্তায় মার্চ করানো হয়। চাইনিজ লালফৌজদের এসব নৃশংসতা ও অমানবিকতা বামপন্থীদের মুখে শুনতে পাওয়া আর ঘোড়ার ডিম পাড়া একই ব্যাপার!

সমাজতান্ত্রিক সৌভিয়েত রাশিয়াও সেই নৃশংসতাকে ভালভাবেই ধারণ করত। ফরাসী বিপ্লবের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের মধ্যেই সে খুজে পায় অনুপ্রেরণা। লেনিন একে শুরু করলেও স্ট্যালিনই এর আসল রূপটি দেখান। লেনিনের নেতৃত্বে এই হত্যাযজ্ঞ শুরু হয় বলশেভিক বিপ্লবের দ্বারা। উল্লেখ্য, বলশেভিক বিপ্লবের সময় সম্রাট সিজার-২ ও তার পুরো পরিবার (বউ, ১৪ বছরের ছেলে এবং চার কন্যা), ডাক্তার ও ৩ কর্মচারী নির্মমভাবে খুন হন জুলাই ১৯১৮ সালে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের দ্বারা। কন্যাদের হত্যা করা হয় বেয়নেট চার্জ করে। সৌভিয়েত শাসকরা অনেকদিন পর্যন্ত একে স্হানীয় বিপ্লবী বলশেভিকদের কাজ বললেও কম্যুনিস্ট রাশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা লেনিনের সম্পৃক্ততাকে ঢেকে রাখা যায়নি।

মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ খুনী স্ট্যালিন সৌভিয়েত সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্যেই তার হত্যাযজ্ঞের বৈধতা খুঁজে পেতেন। সমাজতন্ত্রের নামেই তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যথেচ্ছারের। নাস্তিকতা বা ঈশ্বরহীনতা যে সাম্রাজ্যের চালিকাশক্তি সেখানে এধরণের মানসিকতাকে বৈধতা প্রমাণের কোনো বালাইও হয়তো থাকে না, তার স্বাক্ষর তিনি রেখেছিলেন। স্ট্যালিন ব্যথাহীন অপরিপক্ক মস্তিষ্কসম্পন্ন মানুষ বানাতে চেয়েছিলেন, সৌভিয়েত রাশিয়ার প্রধান ব্রেডিং বিজ্ঞানী ইলিয়া ইভানভকে এব্যাপারে আদেশও করেন। সমাজতন্ত্রকে রক্ষার জন্য এরকম একটি নিরেট মানুষেরই হয়ত দরকার ছিল। এই সমাজতন্ত্রের ভিত্তি কতটুকু মজবুত হতে পারে, হতে পারে কতটুকু মানবিক! মনুষ্যত্বের অবমাননায় তিনি ডারউইনবাদীদেরও হার মানিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রকে সমাজতন্ত্র দূরে ঠেলে দিতে চাইলেও শক্তিশালী রাষ্ট্র ছাড়া যে সমাজতন্ত্রের ভীত বলে কিছু থাকে না- সমাজতান্ত্রিকরা তা অস্বীকার করলেও ঠিকই ধারণ করত। স্ট্যালিনও রাষ্ট্র নামক সংগঠনের ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে সব কিছুই করেছেন। হিটলারের সাথে তার বন্ধুত্ব সেই ঈঙ্গিতই দেয়! হিটলারকে হত্যার দুই দুইটি প্রচেষ্টা ১৯৪৩ ও ১৯৪৪ সালে তিনি ভণ্ডুল করে দেন। বন্ধুহীন হিটলার ইউরোপে তার বন্ধু হিসাবে সমমনা স্ট্যালিনকে পেয়েছিলেন। গোয়েবলস এর মতে স্ট্যালিন ছিলেন হিটলারের দ্বিতীয় পছন্দের লোক। নরওয়ে দখল করতে স্ট্যালিন হিটলারের নাৎসি বাহিনীকে তার পোর্ট ব্যবহার করতে দেন। ১৯৩৯ সালের ডিসেম্বরে স্ট্যালিন হিটলারের সাথে সরাসরি সাক্ষাত করেন। এছাড়া ১৯৪০ সালে সৌভিয়েত মন্ত্রী মলোটভ হিটলারের সাথে দেখার করার জন্য বার্লিনে যান। তৎকালীন প্রধান সৌভিয়েত পত্রিকায় এও লেখা হয়েছিল: ‘নাৎসীদের সাথে যুদ্ধ করা অপরাধতুল্য’। নাৎসীজমকে ‘কম্যুনিজমের’ একটি ফর্ম বলে মনে করা হতো। মজার ব্যাপার হল, সৌভিয়েতদের লাইব্রেরী হতে ঐসব পেপারের কপি হারিয়ে যায়। উপর থেকে সৌভিয়েত সমাজতান্ত্রিকরা এন্টি-ফ্যাসিস্ট হিসাবে নিজেদের জাহির করলেও বাস্তবে ছিল ভিন্ন। হিটলারকে খুশী করার জন্য সৌভিয়েত বিদেশমন্ত্রী লিটভিনভকে বরখাস্ত করেন। লিটভিনভ এর দোষ, তিনি ইহুদী। (The Story of Soviets, History Channel)। ১৯৩৯ সালে হিটলার ও স্ট্যালিনের মধ্যে এক গোপন চুক্তি অনুসারে সিদ্ধান্ত হয় পোলান্ড সহ স্বাধীন দেশকে তারা ভাগ করে নেবে। ভাগ্য ভাল যে, ১৯৩৯ সালে করা এই চুক্তি ১৯৪১ সালেই মুখ থুবড়ে পড়ে যখন হিটলার রাশিয়া আক্রমণ করে।

উল্লেখ্য, এই গোপন চুক্তিই জার্মানীকে পোলান্ড আক্রমণে উৎসাহিত করে। এই চুক্তি যে তাকে কেবল জার্মানীর সাথে নিজের সীমান্তকে নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে তা-ই নয় বরং স্ট্যালিন জার্মানীকে নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে প্রয়োজনে সৌভিয়েত ইউনিয়ন হিটলারকে সামরিক সাহায্য দিবে। স্বয়ং জার্মানীর বিদেশমন্ত্রী জোখিম ভন রিবেনট্রপ মস্কোতে এসে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। স্ট্যালিন আর একটু যুদ্ধের অপেক্ষা করছিলেন। উদ্দেশ্যটাও খুব পরিষ্কার, যত বেশী জায়গা দখল করা যায়, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জায়গা বলে কথা! একথা প্রকাশ পায় মলটোভ এর উক্তিতে লিথুয়ানিয়ার বিদেশমন্ত্রীর সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে। তার মতে তাদের মেধাবী কমরেড লেনিন এই কথা বলে ভুল করেননি যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তাদেরকে ইউরোপের ক্ষমতার অংশদারীত্ব দেবে, যেমনভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তাদেরকে রাশিয়ায় ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সাহায্য করেছিল। অবশ্য এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা সৌভিয়েত ইউনিয়নকে বিলিয়ে দিতে হয় ২ কোটি ৭০ লাখ প্রাণ।

তাছাড়া হিটলারের নাজী ছাত্ররাও মনে করত তার জার্মানীতে সমাজতন্ত্রের ভিত্তিই স্হাপন করছে। হিটলার আবার এই সমাজতন্ত্রকে মিলিয়ে ফেলেছিলেন বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টের সাথে, অনেকটা জগাখিচুরী! তিনিও মার্ক্স এর স্যোসালিজমকে নতুন কিছু নয় বলে মনে করতেন। যা মার্ক্স, লেনিন ও স্ট্যালিন করতে পারেনি তিনি তাই করতে চেয়েছিলেন!

যে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী স্লোগানে মুখরিত থাকে বামপন্থীদের মিছিল তাদের পথপ্রদর্শকরাই ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার অগ্রভাগে, ছলে-বলে-কৌশলে, সব উপায়েই। স্ট্যালিনের সময়ই ১৯৪০ সালে সৌভিয়েত রাশিয়ার লালবাহিনী দখল করে লিথুনিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়কে। তাছাড়া ঐ সালেই রুমানিয়ার কাছ থেকে ৫৫,০০০ বর্গকিলোমিটারের মত জায়গা দখল করে নেয় জোরপূর্বক। ১৯৪৪ সালে মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী রিপাবলিক অব টান্নুটুভাকে গলধকরণ করে। ১৯৪৫ সালে রুথেনিয়া নামে তৎকালীন চেকোস্লাভাকিয়ার একটা অংশকে নিজেদের অঙ্গীভূত করে। আর পাশ্চাত্যের পুঁজিবাদীদের মতই আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্বজার্মানী, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরী, আউটার মঙ্গোলিয়া, ও রুমানিয়াকে করদরাজ্যে পরিণত করে।

সবচেয়ে করুণ ব্যাপার হল এই সৌভিয়েত সমাজতান্ত্রীরা খুন করেছে নিজের লোকদেরকে। হত্যা গুম, নির্বাসন ছাড়াও জনগণকে উপহার দেয়া হয় দুর্ভিক্ষ। খাদ্যের অভাবে মানুষের মাংশ ভক্ষণের উদাহরণও পাওয়া যায়। যদি বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার কথা ধরা হয় তাহলে দেখা যাবে অ-রাশিয়ান বিশেষ করে মুসলিমদের হত্যা ও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে ব্যাপকভাবে। বিভিন্ন জাতিসত্তার প্রায় ২০ লাখ মুসলিমকে হত্যা করা হয় যাদের মধ্যে ঈনগুস, তাজিক, তাতার, চেচেন ইত্যাদি অন্যতম। চেচেন, ঈনগুসরা আজও সেই রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। সমসাময়িক ঘটনা বিশেষ করে ইসরাইলের প্রতি সমর্থনের কারণে আজ মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে যে নেগেটিভ ধারণা পোষণ করে, যদি রাশিয়ান এই অমানবিকতা ও নৃশংসতার কথা জানত তবে তার চেয়ে বেশী অপছন্দ করত। সৌভিয়েত সমর্থিত যুগোশ্লাভিয়া, আলবেনিয়া, রোমানিয়া ও চেকোশ্লাভিকিয়ায় সরকারগুলোর অত্যাচার ও উৎপীড়ন বামপন্থী ছাড়া যেকোন বিবেককেই নাড়া দিবে। কোটি কোটি লোক হত্যা করে চীন এখনো তাদের কাছে পূজণীয়! আফগানিস্তানে তালেবানরাও এতো হত্যা করেনি যা সমাজতান্ত্রিকরা করেছে, কিন্তু তালেবানদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে হাত মুছে ফেলার চেষ্টা তারা যতই করুক তাদের আদর্শের ভাইদের ঐ পৈশাচিকতাকে ধামাচাপা দিতে পারবে না। তারা তালেবানদের থেকে অনেক অনেক নৃশংস! ভোগবাদী নাস্তিকরা আজ তাদের নতুন আদর্শের ভাই। তাদের জন্য করুণা ছাড়া আর কী করা যায়, যখন দেখা যায় ভোগবাদী নাস্তিকদের সাথে মিশে তারা মুসলিমদের মানবিকতা শিখাতে চায়! (চলবে…)

১২ comments

Skip to comment form

  1. 7
    অবাস্তব মুজাহিদ

    ৪থর্ পাঠ কবে লিখবেন 

  2. 6
    আহমেদ শরীফ

    অসাধারণ পোস্ট ! চমকে দেয়ার মত তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে যা অনেকেরই অজানা। তারা প্রায়ই তোতাপাখির মত কতগুলো বুলি আওড়ায় যেমন "মসজিদ-মন্দির ভাঙ্গে আস্তিকেরা, যারা ভাঙাভাঙিতে নাই তারাই নাস্তিক"। সুযোগ পেলে যে তারাও দক্ষযজ্ঞ বাধিয়ে বাকিদের পেছনে ফেলে দেয়ার অনেক ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে তার পরিষ্কার পরিসংখ্যান অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হবে।

    এই সঙ্গে বাংলাদেশের বামপন্থি নির্ধর্মীরা ক্ষমতা পেলে তারাও কিরকম অনুভূতিহীন 'দানব' এ পরিণত হয়ে উঠতে পারে তারই এক ধারণাতীত নজির আমরা দেখি মতিঝিল শাপলা চত্বরে ৫ ই মে দিবাগত রাত্রিতে। মুখে যতই সাম্যবাদ আর মানবতার বুলি আওড়াক, ভোগবাদের গদি আঁকড়ে ধরে থাকতে কার্যতঃ ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তারাও কম অগ্রগামী নয় সেটি তারা বাংলাদেশেও অবিস্মরণীয় উদাহারণ সৃষ্টি করে দেখিয়েছে।

  3. 5
    বাস্তব

  4. 4
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    তালেবানরা যে নৃশংস,সে ব্যাপারে এত শিওর হলেন কিভাবে?যা-ই হোক,চে গুয়েভারার হত্যাযজ্ঞ নিয়ে আপনার কাছ থেকে লেখা চাই।

    1. 4.1
      শামস

      @মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত,

      তালেবানরা যে নৃশংস,সে ব্যাপারে এত শিওর হলেন কিভাবে?

      আপনাকে উল্টো প্রশ্ন করা যায়, তাদের কাজ কারবারে কি তাদের নৃশংস বলা যায় না। তালেবানরা সুইসাইড বোমা হামলা চালাইয়া নিজেরা দায় স্বীকার করে কিনা বলেন? সাথে যোগ কইরেন তাতে নিরীহ লোক মারা পড়ার হার কত?

      চে গুয়েভারার হত্যাযজ্ঞ নিয়ে আপনার কাছ থেকে লেখা চাই। 

      চে গুয়েভারাকে নিয়ে আগ্রহ নেই। সে এখন একটি মৃত ইতিহাস বলা যায়। সমাজতন্ত্রের পতনের সাথে সাথে ওরে নিয়া ইতিহাস বলতে গেলে মৃত হয়ে গেছে। টিশার্টে ফ্যাশন (কেমন যেন পুজিবাদী গন্ধ আছে!) প্রডাক্ট ছাড়া এরে নিয়া লেখার তেমন কিছু নাই। বামপন্থাকেও সেই অর্থে মৃত ইতিহাস বলা যায়। কিন্তু এইটার অনুসারী কিছু প্রেতাত্না এখনও পুজিবাদের উচ্ছিষ্টের আশায় তাদের বস্তুবাদের শেষ অবলম্বন নাস্তিকতার  আড়ালে ইসলাম বিদ্বেষ নিয়ে মগ্ন থাকায় একটু বাজাইয়া দেখতেই এই লেখা, তেমন কিছু না! 
      ধন্যবাদ।
       

      1. 4.1.1
        মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

        তালেবানরা সুইসাইড হামলা চালায়,সেটার কোনো প্রমাণ তো মিডিয়া দেখাতে পারেনি।তারা অবশ্যই গেরিলা হামলা চালায়।কিন্তু সেটাকে আপনি অবৈধ বলতে পারেন না।গেরিলা হামলা চালাতে গিয়ে অনিচ্ছায় কিছু নিরীহ মানুষ মারা যেতেই পারে।আর হামলা চালিয়ে তারা কীভাবে দায় স্বীকার করে?ওয়েবসাইটে স্বীকারোক্তি দিয়ে?সেগুলো যে তাদের ওয়েবসাইট,সেটাও তো নিশ্চিত নয়।যা-ই হোক,তালেবানদের ডিফেন্ড করা আমার উদ্দেশ্য নয়।আমি বলতে চাই যে মিডিয়া তালেবানদের সম্পর্কে যা বলে,তার বেশিরভাগই মিথ্যা।আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে,যুক্তরাষ্ট্র কিংবা রাশিয়ার হত্যাযজ্ঞের সাথে তুলনা করলে তালেবানদের হত্যাযজ্ঞকে মাছি মারার মতই মনে হয়।
        চে গুয়েভারা সম্পর্কে লেখা চাইলাম কারণ আমাদের দেশের কম্যুনিস্টরা চে গুয়েভারাকে কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মের মাথা খাচ্ছে।তাই চে গুয়েভারার মুখোশ উন্মোচন করাটা খুব দরকার বলেই মনে করি আমি।

        1. 4.1.1.1
          শামস

          @বিদ্রোহী রণক্লান্ত,

          তালেবানরা সুইসাইড হামলা চালায়,সেটার কোনো প্রমাণ তো মিডিয়া দেখাতে পারেনি।

          মিডিয়ার কারসাজি অনেক থাকবে, বিশেষত পাশ্চাত্যের এস্টাবলিষ্টদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন পায় এই মিডিয়া। তাই অনেক ধুম্রজালের আড়ালে তারা যে সত্য কিছু সত্য লিখে না, সেটা বললে একপড়তা হয়ে যায়। কিন্তু তালেবানরা যে সুইসাইড হামলা চালায় না সেটা বিশ্বাস করাটাইতো সঠিক ঠেকে না! তারা নিরীহ লোক হত্যা করে সেটাই মূখ্য। পাকিস্তানী তালেবানরাও একই কাজ করছে। আর তালেবানদের বিরোধীতা করতে গিয়ে মার্কিন দখলদারিত্বকে সমর্থনের কিছু নাই। তারাও দ্রোন দিয়ে নিরীহ মানুষদের মারে। কিন্তু মানবতাবাদীরা (!) তালেবানদের বিরুদ্ধে অনেক কথা বললেও তাদের প্রভূদের (পাশ্চাত্যের এস্টাবলিষ্টমেন্টদের) এই দ্রোন হামলার বিরুদ্ধে কিছু বলে না! প্রভূদের মতই মনে করে এগুলা কোলাটেরল ড্যামেজ! অবশ্য এর ফল ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে পাইতে শুরু করছে। ইরাকে এক পিটুনী খাইছে, এখন আফগানিস্তানে। পিটানির চোটে এখন এক্সিট রুট খুজে পাচ্ছে না! যাই হোক, নিরীহ মানুষ হত্যা কখনোই সমর্থন করা যায় না, সেটা তালেবান হোক বা পাশ্চ্যাত্যের নিও-কন ও তাদের সমর্থকরা যেই হোক!

          আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে,যুক্তরাষ্ট্র কিংবা রাশিয়ার হত্যাযজ্ঞের সাথে তুলনা করলে তালেবানদের হত্যাযজ্ঞকে মাছি মারার মতই মনে হয়।

          একটা দেশে আইসা মাস্তানি করা ও তাদের নিরীহ লোকদের হত্যা করা, সেটা সুস্থ লোক সমর্থন করবে না, এগুলো করতে পারে ইসলাম বিদ্বেষী মুক্তমনা টাইপের লোকেরা! পাশ্চাত্যের মিডিয়ার চালাকির কারণে তাদের সাধারণ জনগণ ধোকার শিকার। তবে যখন বুঝতে পারে তখন তারা ঠিকই প্রতিবাদ করে। কিন্তু তালেবানরা কম করলেও সেটাকেও আমাদের নিরুৎসাহিত করা উচিত। নিজেদের এতো সঠিক বললে সঠিক কাজটাই করা উচিত।

          চে গুয়েভারা সম্পর্কে লেখা চাইলাম কারণ আমাদের দেশের কম্যুনিস্টরা চে গুয়েভারাকে কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মের মাথা খাচ্ছে।

          চে গুয়েভারার সাম্রাজ্যবিরোধী মনোভাবটাকে আমি নিজেও পছন্দ করি। এটা খারাপ কিছু না। চে'র টিশার্টের বিভিন্ন ক্যারিকেচার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একধরণের ক্ষণস্থায়ী আবেশ দেয়। চে'র কারণে তরুণ প্রজন্ম কম্যুনিস্ট হয়ে গেছে বা যাবে সেটা ঠিক বলে মনে হয় না। আর যেসব তরুণদের দেখছেন চে'কে নিয়ে মাতামাতি তারা কোন না কোনভাবে সমাজতান্ত্রিক পরিবেশের মধ্যে বড় হইছে, হয়তো বা বাবা ,ভাই, মামা, চাচা অথবা খুব নিকটের কেউ দ্বারা ইনফুয়েন্সড। কিন্তু তারা খুব এক্টিভ হওয়ায় তাদের গলার জোর বেশী শুনছেন। তাদের যতজন নেতা ততজন কর্মী ও ততজন সমর্থক!
           

        2. মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

          সুন্দর ব্যাখ্যা শামস ভাই।

  5. 3
    সরোয়ার

    শামস ভাইয়ের বামপন্থীদের নিয়ে লেখাগুলো দিয়ে একটা চমৎকার ই-বুক তৈরী করা যাবে। এত কম্প্রিহেনসিভ লেখা বাংলাদশে বা ব্লগে আছে কিনা সন্দেহ। আল্লাহ উনাকে স্পেশাল যোগ্যতা দিয়েছেন। আমি তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘ আয়ু দান করি, যেন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত লিখে যেতে পারেন।
    আমার সমর্থ থাকলে সদালাপের প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো দিয়ে বই প্রকাশ করতাম। আমার এই আকুতি কি কেউ শুনবে?  

  6. 2
    কিন্তু মানব

    শামস ভাই, আপনার পোস্ট গুলি রি-পোস্ট করেন ভাই। আগের সদালাপের চেয়ে এখনকার সদালাপ অনেক অনেক বেশী পরিচিত। আমরা অনেক নিয়মিত। ফেসবুকে লিংক থাকায় এখন অনেক সহজে, পোস্ট গুলো ছড়িয়ে যায়। আপনাদের সবার, বাছা বাছা সুন্দর পোস্ট গুলি রি-পোস্ট করার অনুরোধ করছি। একি সাথে এডমিন কে এব্যপারে এগিয়ে এসে ভাল কোন পথ বাতলে দেয়ার অনুরোধ করছি।

  7. 1
    কিংশুক

    ভয়ংকর ব্যাপারস্যাপার। ইতিহাস তো বলছে নাস্তিক কম্যুনিষ্টরা ভয়ংকর একনায়ক, স্বৈরাচারী, নৃশংস খুনী। নিজেদের স্বার্থের জন্য গনহত্যা, জোরপূর্বক অন্যের দেশ দখল, জোরপূর্বক নিজেদের মতবাদ সবার উপর চাপিয়ে গিনিপিগ বানানো কোন কুকর্মটা বাকী রেখেছে তারা ! এইসব ভয়ংকর দানবদের হুমকির কবল হতে মানবজাতির রক্ষা পাওয়াটা মানবজাতির জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। নাস্তিকতা কম্যুনিষ্টদের মানবিকবোধ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া দুরে থাক ন্যূনতম পর্যায়েও তো রাখতে পারেনি। কম্যুনিষ্ট নাস্তিকরা জনগনকে সৃষ্টিকর্তাকে না মেনে কম্যুনিষ্ট নেতা, পার্টি,  সমাজতান্ত্রিক সাম্রাজ্যকে পুজা করতে, উপাসনা করতে বাধ্য করতো।  কম্যুনিজমের চাইতে গনতন্ত্র কোটি গুন ভালো।

    1. 1.1
      শামস

      বিবর্তনের (!) স্বাভাবিক নিয়মে সমাজতন্ত্র বিদায় হইছে! 🙂

       

Leave a Reply

Your email address will not be published.