«

»

Jun ১৭

তুরষ্কের সাম্প্রতিক আন্দোলন- ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও ইসলামপন্থীদের লড়াই!

Blue Mosqueতুরষ্কের পরিস্থিতি বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তপ্ত! ক্ষমতাসীন জাস্টিস এন্ড ডেভেলাপমেন্ট পার্টির (একেপি) তাকসীম স্কয়ারসংলগ্ন গেজী পার্কে ওসমানীয়া সাম্রাজ্যের সময়ের মিলিটারী ব্যারাক ও শপিং সেন্টার বানানোর প্রতিবাদে আন্দোলন চলছে। উল্লেখ্য, ওসমানীয়া সুলতান সেলিম-৩ এর সময়ে ১৮০৬ সালে সেই মিলিটারী ব্যারাক  নির্মাণ করা হলেও পরবর্তীতে তাকে ধবংস করে পার্ক ও স্টেডিয়াম স্থাপন করা হয়। এ নিয়ে গার্ডিয়ান এর রিপোর্টটি বেশ নজরকাড়া। অবশ্য অন্যান্য অনেক প্রথম সারির সংবাদপত্রেই এই আন্দলনে দুটি পক্ষকে অনেকটা সেভাবেই দেখিয়েছে। গার্ডিয়ান এর খবরে তুরষ্ক ও ইস্তাম্বুলের আন্দোলন সম্পর্কে যে পাচটি জিনিষ জানতে হবে বলে পাঠকদের পরিচিত করে দেয়া হয়েছে তার মধ্যে প্রথমে আসছে তুরষ্কের রাজনৈতিক মতবাদের দ্বন্দ্ব! ক্ষমতাশীল ইসলামপন্থী একেপি ইসলামী কিছু মূল্যবোধকে প্রতিস্থাপন করতে চাচ্ছে। এর প্রথম ধাপ হিসেবে মদ বিক্রিকে নিয়ন্ত্রিত করা, প্রকাশ্যে চুমু দেয়াকে নিষিদ্ধ করা, স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থায় গর্ভপাতকে সংযোজন না করা (এতে জয়ায়ু ও সন্তান জন্মদানের অধিকার খর্ব করেছে বলে অভিযোগ করছে)। আর এর প্রতিবাদ করছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী প্রগতিশীলরা! এই প্রগতিশীল ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হল তুর্কীর মধ্যবিত্তের প্রতিনিধিত্বকারী শহুরে শিক্ষিত শ্রেণী, এরা ইসলামপন্থী জাস্টিস ও ডেভেলাপমেন্ট পার্টির (একেপি) কট্টর বিরোধী। এই শিক্ষিত তরুণের বিরোধীতার ভাষা হিসেবে রাজপথে বিয়ার ও মদের বোতল ছুড়েছে। তাদের ঔদ্ধাত্য (সাথে একই ঘরণার বাম ও পাশ্চাত্যপন্থী প্রগতিশীলরা) এভাবে উচ্চারিত হয়েছেঃ মদ্যপান যদি পাপই হবে তাহলেই মদ্যপান করে সেই পাপকাজটিই করতে চাই। আর তাদের বহন করা তুর্কীর রূপাকার কামাল আতাতুর্ক এর ছবি সম্বলিত লাল পতাকা ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

ওসমানীয়া সাম্রাজ্যের পতনের পর উগ্র জাতীয়তাবাদীরা ১৯২৩ খৃষ্টাব্দে আতাতুর্ক এর নেতৃত্বে ধর্মনিরপেক্ষ তুর্কী রাষ্ট্রের পত্তন করে। এই ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র ও জনগণকে এমন আকৃতি দিয়েছে যে কঠোরভাবে ধর্ম মানা ছাড়া অনেক সাধারণ তুর্কীই রাতের বেলা মদ খায় ও এর পরের দিন মসজিদে যায়। কামাল আতাতূরকের হাত ধরে ১৯২৩ সালে যে ধর্মনিরপেক্ষ ও জাতীয়তাবাদী সরকার গঠিত হয় তা কেবল রাষ্ট্র ও ধর্মকেই পৃথক হিসেবে রাখেনি, রাষ্ট্রের প্রায় সব জায়গা থেকে ধর্মকে দূরে রাখতে সংবিধানকে ব্যবহার করা হয়। আতাতুর্ক নিজে ওসমানীয়া যুগের ফেজটুপির বিপরীতে ইউরোপিয়ান স্টাইলে হ্যাট পড়ার ব্যাপারে উতসাহিত করেন, কারণ তার মতে হ্যাট হলো সভ্যদের পোষাক। ইসলামী পোষাকের জায়গায় স্থান করে নেয় ইউরোপীয় পোষাক, কেবল পুরুষ নয়, মেয়েদের জন্যও। বোরখাকে নিষিদ্ধ করা হয়। আরবী ভাষায় আযানের পরিবর্তে চালু করা হয় তুর্কী ভাষায় আযান দেওয়া। অপরদিকে তুর্কী হরফের বিপরীতে রোমান হরফকে চালু করা হয়। সবার জন্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলেও, ধর্মীয় শিক্ষার উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। এতসব সংস্কার করলেও কামাল আতাতুর্ক এর প্রায় পুরোটা শাসনামলই ছিল একনায়কতান্ত্রিক! ইসলামপন্থী বা কমিউনিস্ট বিরুদ্ধবাদীদের গন্তব্য ছিল হয় জেল নয়তো ফাসিকাষ্ট! আতাতুর্ক ১৯৩৮ সালে মারা যাবার পরও তার রেশ ধরে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত সেই একদলীয় শাসনব্যবস্থাই চালু ছিল। ১৯৫০ সালের পর বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা হতে থাকলেও ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেদের জাহির করে মিলিটারী ক্ষমতার কেন্দ্রে আসন পোক্ত করে। নির্বাচিত সরকাররা মিলিটারীর খেলার পুতুল এর বেশি ক্ষমতার অধিকারী ছিল না। তুর্কীতে ঘটে যাওয়া সামরিক অভ্যুন্থানগুলোর দিকে তাকালে তা সহজেই আচ করা যায়। সামরিক অভ্যুন্থানগুলো হয়েছে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে, যার পরিণতিতে তাদের ক্ষমতার মঞ্চ থেকে শেষপর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে।

Turkish Protest

অবশ্য কামাল আতাতুর্ক হঠাত করে তুরষ্কে ধর্মনিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থা আনেননি। এর জন্য উর্বর ক্ষেত্র তার পূর্বসূরীরা রেখে গিয়েছিল।  পূর্ববর্তী অটোম্যান সুলতানরা শেষের দিকে যতোটা না ইসলামী তার থেকে বেশী ছিল বস্তুবাদি ধারণার! তারা রাষ্ট্র ও ধর্মকে পৃথক হিসেবেই রেখেছিল। তাছাড়া পাশ্চাত্য দেশগুলোর মদতপুষ্ট আরব জাতীয়তাবাদী আন্দোলন অটোমান সাম্রাজ্যের অবস্থা নড়বড়ে করে দিলে তুর্কী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আরো শক্তিশালী হয়েছিল। ফরাসী বিপ্লবের ছোয়া যেখানে ইউরোপ ছাড়িয়ে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে অন্যান্য অনেক দেশেই ছড়িয়ে পড়ে, ইউরোপের কামাল আতাতুর্কও সেই প্রভাবের বাইরে ছিলেন না । পাশ্চাত্যের অন্যান্য দেশগুলো ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাপারে তুলনামূলক উদার অবস্থান নিলেও কামাল আতাতুর্ক ধর্মনিরপক্ষতার জন্মভূমি ফ্রান্সের অনুকরণে উগ্র ধর্মনিরপেক্ষতাকেই তুরষ্কের জন্য চালু করেন। তাইতো তার আমলের শিক্ষাব্যবস্থায় অটোমান সাম্রাজ্যের চাইতে অনেক প্রাচীন তুর্কী ঐতিহ্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অথচ ওসমানীয়া সাম্রাজ্যের ঐতিহ্য ছিল ৬০০ বছরের শাসনের ইতিহাস যার ব্যপ্তি ছিল পুরো এশিয়া মাইনর, ইউরোপের ভিয়েনার দোড়গোড়া, বিখ্যাত গ্রীক সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আরব উপসাগর, উত্তর আফ্রিকা, ইরাক ও ইরান পর্যন্ত। আজকের ইস্তাম্বুল সেই রোমান সভ্যতার একসময়ের রাজধানী ‘কনস্টান্টিনোপাল’ (সম্রাট কনস্টান্টিন-৩ এর নামানুসারে, যা তিনি ৩০০ শতাব্দীতে রোম থেকে কনস্টান্টিনোপালে স্থাপন করেন)  যা তুর্কী মুসলিম বাহিনী একসময় দখল করে নেয়। ১৮২১ সালে গ্রীস ওসমানীয়া সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীন হলেও কনস্টান্টিনোপলকে নিজেরা নিতে পারেনি। 

কামাল আতাতুর্ক এর ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান, এর সেবক মিলিটারী তার (আতাতুর্ক) দেখানো পথেই তাকে রক্ষা করে গেছে। ১৯৬০ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টি কামাল যুগের কিছু আইন যেমনঃ মসজিদ খুলে দেওয়া, টার্কির পরিবর্তে আরবীতে আযান দেওয়া চালু করা, এবং ধর্মীয় স্কুল খুলার অনুমতি দেয়া ইত্যাদিকে শিথিল করতে চাইলে  মিলিটারী পবিত্র সংবিধান রক্ষাকল্পে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। ফলশ্রুতিতে সরকারের বিদায়। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে আটক ও জেল দেয়া হয়, এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আদনান মেন্দেরেসকে ফাসীতে ঝুলান হয়। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এই মিলিটারির শাসন চলে। ১৯৬০ এর পর থেকেই অথনীতি স্থবির হয়ে যেতে থাকে। এর রেশ ধরে অর্থনৈতিক মন্দা, ইউনিয়ন শ্রমিকদের আন্দোলন, সামাজিক অস্থিরতা  বাড়তে থাকলে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষার কথা বলে সুলেমান ডেমিরেলের সরকারকে ১৯৭১ সালে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করে। তবে ১৯৭১ এর ক্যু’র পরেও পরিস্থিতি উন্নতি লাভ করেনি। ফলে ৭০ এর দশকে মিলিটারীকে মোট ১১ বার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করতে হয়। ডানপন্থী ও বামপন্থী উভয় পক্ষ থেকেই সহিংস আন্দোলন হতে থাকে। ফলশ্রুতিতে ১৯৮০ তে আবার মিলিটারীর হস্তক্ষেপ! অবশ্য এরপর অর্থনীতি অনেকটা স্থিতিশীল হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৫ এর নির্বাচনে ইসলামপন্থী ওয়েলফেয়ার পার্টি ব্যাপক সাফল্য লাভ করলে, মিলিটারী উপায়ন্তর না দেখে সরকারকে বিভিন্নভাবে চাপে রাখে ও ইচ্ছেমত আইন সংশোধনে অনেকটা বাধ্যই করে। যেমনঃ ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য আট বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষার চালু করা। শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নিকমেতিন এরবাকানকে জোরপূর্বক ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। ১৯৯৮ সালে ওয়েলফেয়ার পার্টিকে বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এরবাকানকে পাচ বছরের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হয়। ফলশ্রুতিতে বর্তমান তুর্কী প্রধানমন্ত্রী এরদোগানসহ অনেক সদস্যকে জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) প্রতিষ্ঠা করতে হয় যা ২০০২ সাল থেকে তুর্কীতে আবার ক্ষমতায় আসতে সমর্থ হয়। 

তারপরও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়নি! ২০০৭ সালে মিলিটারী আবদুল্লাহ গুল (বর্তমান প্রেসিডেন্ট) এর প্রেসিডেন্ট প্রাথী হওয়ায় বাধ সাধে। কারণ তার স্ত্রী হিজাব পড়ত! এর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ আবদুল্লাহ গুল এর স্ত্রীর কিছু পাবলিক অনুষ্ঠানে নিজের যাতায়ত সীমিত করতে হয়েছিল। ২০০৮ সালে আর্মির উগ্র ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী গ্রুপের সন্দেহভাজন প্রায় ৮৪ জন্য সদস্য অভ্যুন্থান করার চেষ্টা চালায় যা পড়ে ব্যর্থ হয় ও তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়। ২০১০ সালে মিলিটারীর প্রায় ৭০ জন্য সদস্য সরকারকে হঠানোর চেষ্টা করাকালে ধৃত হন ও ৩৩ জন্য অফিসারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। ২০১১ সালে তৃতীয়বারের মত সাধারণ নির্বাচনে একেপি বিজয় লাভের পর প্রথম কোন নির্বাচিত দল মিলিটারীর প্রধান নির্বাচন করতে সমর্থ হয়। অবশ্য এর আগেই ২০১০ সালে ৩০ বছর মেয়াদী একটি সাংবিধানিক আইনকে পরিবর্তন করা হয় যাতে মিলিটারির ক্ষমতা অনেকাংশে কমে যায়। আর মিলিটারীর বাইরেও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিটিও সেনাবাহিনীর সহায়ক হিসেবে বারবার ইসলামপন্থীদের উপর চড়াও হয়েছে। ইসলামপন্থী অবস্থানের কারণে লাখ লাখ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ২০০৭ সালে রেসিপ তাইপ এরদোগান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) যাতে নির্বাচনে দাড়াতে না পারে সেজন্য আন্দোলন করেছিল। পরে এরদোগান এর পরিবর্তে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ গুল প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হন। ২০০৮ সালে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের মাথায় স্কার্ফ পড়ার নিষেধাজ্ঞাকে উঠিয়ে নেয়া হয় তখনও হাজার হাজার ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অভিযোগে ২০০৮ সালে চিফ প্রসিকিউটর দ্বারা করা পিটিশন  সাংবিধানিক আদালতে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। প্রসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল, প্রধানমন্ত্রী রেসিপ তাইফ এরদোগানসহ ৭১ জন সদস্য ও তাদের দল একেপিকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা ছিল। 

এই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার ফল।  ১৯২৩ সাল থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ তুরষ্ক বোরখাকে পশ্চাদপসারণতা, অসভ্যতা ও অশিক্ষা হিসেবে চিত্রিত করে। ১৯৮২ সালে কাউন্সিল অব হাইয়ার এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের বোরখা নিষিদ্ধ করে। ফলে অনেক মহিলা বাধ্য হয়ে বোরখা না পড়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা চালাতে হয়েছিল। আবার কিছু মহিলা হিজাবের বিপরীতে ‘উইগ’ পড়া শুরু করে। আবার অনেক মেয়েই প্রতিবাদস্বরূপ বোরখা পড়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার শুরু করে। আন্ডারগ্রাউন্ড ইসলামিক দলগুলো হিজাবের পরিবর্তে পাগড়ির মতো এক ধরণের পোষাক দিয়ে মাথা ঢাকার পক্ষে প্রচারণা চালায়। হিজাবীদের সংখ্যা বেড়ে গেলে ১৯৮৯ সালে সব ধরণের হিজাবকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ইসলামিক দলগুল প্রকাশ্য অগ্রযাত্রা সেই সময় থেকেই। তারা ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ১৯৯৫ তে সেনাবাহিনীর রোষানলে পড়ে ইসলামপন্থী সরকার বিদায় নিলেও ২০০২ সালে জাস্টিস এবং ডেভেলাপমেন্ট পার্টির (একেপি) নেতৃত্বে তারা তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থায় থেকে ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়। যার ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে একেপি আবার ক্ষমতায় আসলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিজাব পড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। অবশ্য সেটা কেবল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে! তারপর ২০১২ সালে একেপি আবার ক্ষমতায় আসার পর স্কুলগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারে আরো জোড়ালো ভুমিকা নেয়। আর এর সবই ছিল ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের জন্য চক্ষুশুল! 

একেপি’র বহির্বিশ্বে মুসলিমদের স্বার্থরক্ষায় দৃঢ় অবস্থানও সেদেশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের সমালোচনার রোষে পড়তে হয়েছে! যেখানে অন্যান্য আরব দেশগুলোও গাজার ফিলিস্তীনীদের জন্য ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিতে ইসস্ততঃ করেছে, সেখানে তুরষ্কের ইসলামপন্থী একেপি ইসরাইলের সাথে দীর্ঘ সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে অবজ্ঞা করে গাজার ফিলিস্তীনীদের পাশে দাড়িয়েছিল যা ছিল। ২০০৮ সালে গাজায় ইসরাইলী হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে একেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও তাদের সবচেয়ে প্রভাবশালী এরদোগানই ছিলেন সবচেয়ে বেশী উচ্চকন্ঠ। গাজার অবরোধ ভাঙ্গতে তুর্কী ত্রাণকর্মীদের বহনকারী ফ্লটিল্লাকে নিরাপত্তা দেবার জন্য তুর্কী যুদ্ধজাহাজগুলোকে ব্যবহারের ঈঙ্গিতও দিয়েছিলেনফ্লটিল্লাতে আক্রমণের বিরুদ্ধে এরদোগান এর কন্ঠ ছিল খুবই কঠিন,”ইসরায়েল কোন অনুযোগ দিয়ে ফ্লটিল্লার হত্যাকান্ডের ব্যাপারে তার হাত পরিষ্কার করতে পারবে না”। তুর্কীর সাথে ইসরায়েল এর যে ‘স্পেশাল’ সম্পর্ক ছিল তাকেও তিনি মৃত বলে ঘোষণা দেন। শুধু তাই নয় ফিলিস্তীনের গাজায় হত্যাযজ্ঞের পর সুইজ্যারল্যান্ডের ডাভোসে নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়া ইসরাইলী প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজের সাথে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং মুখের উপর বলতে দ্বিধা করেননি “তারা (ইসরাইলীরা) ভালো করে জানে কিভাবে হত্যা করতে হয়”। এরদোগান এর বলিষ্ঠ ভুমিকাও এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণস্কুলজীবণ থেকেই কঠোর ধর্মীয় নীতিবোধের কারণে এরদোগান তার বন্ধুদের কাছে আধ্যাত্নিক নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই তিনি ইসলামী রাজনৈতিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। পরে ইসলামী ধারার ওয়েলফেয়ার পার্টির অধীনে ইস্তাম্বুলের মেয়র হন ১৯৯৪ সালে। তিনি সিটি মিউনিসিপ্যলা এর তত্বাবধানে থাকা রেস্টুরেন্টগুলোতে মদ নিষিদ্ধ করেন, তুর্কীর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ঢুকার বিরোধীতা করেন, এমনকি ন্যাটো থেকে বের হয়ে আসাকেও সমর্থন করেন। মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের জন্য তুর্কীর ভুমিকাকে তিনি দেখেছেন এই ভাবে, “বিশ্বের ১৫০ কোটি মুসলিম তুরষ্কের জেগে উঠার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা জেগে উঠব। আল্লাহর অনুমতিতে সেই দ্রোহ শুরু হবে”। এসব তার জন্য কাল ছিল, তাকে ১০ মাসের কারাবরণ দেয়া হয়, অফিস থেকে বের করে দেয়া হয় এবং চিরজীবণের জন্য রাজনীতি করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী হয়। 

২০১০ সালে তিউনিসিয়ার মাধ্যমে আরব স্প্রীং শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মনিরপেক্ষ একনায়ক সরকারগুলোকে পতনের মধ্য দিয়ে। অনেক বিশ্লেষকের মতেই, মধ্যপ্রাচ্যে তুর্কী ইসলামপন্থীদের দ্বারাই ২০০২ সালে এর বীজ বপন করা হয়। আরব স্প্রীং কোথাও কোথাও সহিংস হলেও তুরষ্কে তা ছিল তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ। ইসলামপন্থী একেপি’র ক্ষমতায় দোড়গোড়ায় পৌছেও যখন ক্ষমতা না পাবার আশঙ্কা করছিলেন তখন মিলিশিয়া দিয়ে মিলিটারীকে চ্যালেঞ্জ না জানিয়ে জনগণকে সাথে নিয়েই আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। একেপি শক্তিকে সেবার অগ্রাহ্য করার সাহস মিলিটারীর ছিল না। অবশ্য এরপর  মিলিটারী থেকে একের পর এক অভ্যুন্থান ঘটানোর চেষ্টা এখনো হচ্ছে, সাথে আছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী অন্যান্য শক্তিগুলো, যার বহিঃপ্রকাশ ছিল এই তাকসীম স্কয়ারের আন্দোলন। ইসলামপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির এই আন্দোলন তূরষ্কে আরো অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবার অপেক্ষায়!

 

সর্বশেষ খবরঃ টানা ১৮ দিনের আন্দোলন শেষে পুলিশ শনিবার (১৫ জুন ২০১৩) তাকসীম স্কয়ার থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এতে ৪৪ জন আহত হয়।

 

২৫ comments

Skip to comment form

  1. 13
  2. 12
    Syed Md. Kamruzzaman

    ইনশাআল্লাহ্‌, আবার ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে।

  3. 11
    আহমেদ শরীফ

    'বাংলা স্প্রিং' এর বাসন্তী হাওয়া ৬ ই এপ্রিল ও ৫ ই মে অনুভব করেছি। এর পরিপূর্ণতা দেখার অপেক্ষায় আছি …

  4. 10
    শাহবাজ নজরুল

    যথারীতি অসাধারণ বিশ্লেষণ!!! কামালিজমের অনুসারীরাই একে 'সাধারণের বিপ্লব' বলে সাজাতে চাচ্ছে। জনগনের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আর্মি আর সাংবিধানিক আদালতের মাধ্যমে এই সেকুলারিস্টরা নিজেদের ক্ষমতা ফিরে পেতে চেয়েছিল। সাম্প্রতিক আন্দোলন ওই ধারাবাহিকতারই পরবর্তী স্টেপ। এতে আম জনতার সমর্থন নেই তা সাধারণ বুদ্ধি-সম্পন্ন লোক মাত্রই বোঝার কথা।

    1. 10.1
      শামস

      বুঝা যাচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী কামালিস্টরা খুব একটা সুবিধা করতে পারে নাই, কোন দুর্বিপাক ছাড়াই সরকার যোগ্যতার সাথেই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হচ্ছে।

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

  5. 9
    engl

    কামাল আতাতুর্ককে যতই সমালোচনা করা হোক না কেন তার উত্থান ঘটেছিলো কট্টোরপন্থী মুসলিম নামধারীদের হাত ধরেই।

    ক্ষয়িষ্ণু অটোমান সম্রাজ্য, বিলাসিতার সাগরে ভাসতে থাকা নেতৃত্ব আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মত ভুল যুদ্ধে জড়িয়ে স্বাধীনতা হারানো। সব মিলিয়ে আতাতুর্ক টাইপ শ্রেণীর উত্থান, যারা সাধারণ মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলো যে ইসলাম মানেই পঙ্কিলতা। যদিও ইসলাম তা না।

    কামাল আতাতুর্ককে বকার আগে এক প্রস্থ গাল মুসলিম শাসকদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা দরকার।

    1. 9.1
      শামস

      আমার মূল লেখায় কাদের হাত ধরে কামালিস্টদের উন্থান ঘটেছিল তার কথা বলা হয়েছে। আর অধঃপতনের কথা বললে শুধু ওসমানীয়া সাম্রাজ্যের অধিপতিরাই না, এ উপমহাদেশে মুসলিম শাসকরাই বা কম কিসে। এখানে আত্নোপলব্দি ও ভুলভ্রান্তি থেকে শেখার রসদ আছে তাই বলে গালিগালাজ করতে হবে কেন?

      আবার বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক ইবণে খালাদুনের মতো বলা যায়ঃ রাষ্ট্রের জীবণ চালিত হয় ব্যাক্তির মতো! ব্যক্তির মতো ইহারও আছে জন্ম, যৌবন, বারধ্যক্য, অধঃপতন ও অবশেষে মৃত্যু!

      ভালো থাকুন, ধন্যবাদ।

  6. 8
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    পড়লাম। তুরষ্কে মুলত ইসলামকে বিদায় করার জন্যেই মুস্তফা কামালকে আতাতুর্ক উপাধি দিয়ে মাথা তোলা হয়েছে। মজার বিষয় হলো কামাল পাশা সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষকে ভুল ধারনা দিয়েছে আগের দিকে। ঢাকার রাস্তার নাম আছে কামাল আতাতুর্কের নামে -- কবি নজরুল কবিতা লিখেছিলেন কামালকে নিয়ে।

    ধন্যবাদ লেখারটার জন্যে।

    1. 8.1
      শামস

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

  7. 7
    sami23

    শামস ভাই বেশ তথ্যবহুল লেখা পড়লাম।কামাল আতাতুক তৈরি করা সেক্যুলারিষ্টশ্রেণীরা ইউরোপীয় ঢঙে ইসলামের পর্যালোচনা, জাতিয়বাদের বিরুদ্ধে ট্যাগ দিয়ে রাষ্ট্রই চর্চার জন্য অযোগ্য বলে প্রচার করেছে সর্বত্র।সেই ধরনা তুরস্কের নতুন প্রজন্ম মাঝে কয়েকগুণ পাকাপোক্ত হয়েছে বিগত কয়েক দশকে।ফলে সম্প্রতি সেক্যুলারে দেওয়া গরম তেলে জলের ছিটা লেগেছে ইসলামপন্থী সরকারে গায়ে।অদূর ভবিষ্যতে হয়তো এধরনে অস্থির পরিস্থিতি সময় অনুযায়ী ভিন্ন রূপে সৃষ্টি করে সুবিধা লুটবে সেক্যুলার গুষ্টি গুলো।এখন দেখার বিষয় ইসলামপন্থী সরকার কিভাবে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে।

    1. 7.1
      শামস

      প্রায় ৭০ বছর ধরে সেক্যুলাররা যে শক্তি সঞ্চয় করেছে সেটার মূল অনেক গভীরে প্রোথিত থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। একেপি ২০০২ এর পর থেকে অনেক সতর্কতার সাথে সেক্যুলার এস্টাবলিশমেন্টকে মোকাবেলা করছে। সেটা খুব বন্ধুর হলেও তারা এখন পর্যন্ত যোগ্যতার পরিচয়ই দিচ্ছে। তবে জয়-পরাজয় নিয়েই আগাতে হয়। তবে একটা শক্ত ভীত তৈরীর জন্য এখনই কোন হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে আরো কৌশলী হওয়া প্রয়োজন! সাম্প্রতিক বিরোধীদের আন্দোলনকে মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়ই দিয়েছে। দেখা যাক…

  8. 6
    ফুয়াদ দীনহীন

    কামাল আতাতুর্ক আর কোন সব অন্যান্য দেশের নেতারদের উপর প্রভাব বিস্তার করেন সেটাও বিবেচনার বিষয় হতে পারে।

    1. 6.1
      শামস

      কামাল আতাতুর্ক প্রভাব এখন নিজ দেশেই পড়তির দিকে, অন্যদেশের প্রশ্নই আসে না। রাষ্ট্রের ধারণার সাথে এই ধর্মনিরপেক্ষতা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। চাইলেইতো রাষ্ট্রকে ভেনিশ করে দেয়া যায় না! ইসলামপন্থী দলগুলো এটাকে ইসলামের আদলে সংজ্ঞায়িত করতে চাচ্ছে! আল্টিমেটলি এর অবস্থা কি দাড়ায় সেটা এখনই বলা সম্ভব বলে মনে হয় না। আর ফরাসী ধর্মনিরপেক্ষতার প্রভাবে পৃথিবীর প্রায় সবদেশেই এর একটা সমর্থকগোষ্ঠী আছে ভিন্নভাবে ও ভিন্ন আদলে!

  9. 5
    মহিউদ্দিন

    তুরস্কের সেকুলার বনাম ইসলামপন্থীদের চলমান লড়াইয়ের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস পাওয়া যায় এ নিবন্ধে। অশেষ ধন্যবাদ লেখককে এরকম তথ্যবহুল একটি নিবন্ধ লেখার জন্য।

    1. 5.1
      শামস

      আপনাকেও ধন্যবাদ।

  10. 4
    এম_আহমদ

    লেখাটি ভাল হয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক পটভূমি বেয়ে যে এংগল সৃষ্টি করে এসেছে সেদিক থেকে।
    মুসলিম বিশ্বে আধুনিকতাবাদী, (দর্শন ও রাষ্ট্রদার্শনিক অর্থে) খোদা-বিমুখী যে সেক্যুলার শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থা গায়ের জোরে ও কৌশলে মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল এবং যে কয়টি ‘নারিকেল-শ্রেণীর’ (brown outside white inside) মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদ্ধতিতে চালিয়ে যাওয়ার ক্রমধারা সৃষ্টি করা হয়েছিল, মুসলমানগণ সেই আধুনিকতাবাদী দর্শন (modernist philosophy) ও ব্যবস্থা এতদিন ভাল করে বুঝতে না পারলেও এ যুগে এসে সেই ব্যবস্থার কৌশল বুঝে ফেলেছেন, আলেমগণসহ যদিও তারা এখনও এই ব্যবস্থাপনার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও ভাষা আত্মস্থ করতে পারেননি। নারিকেল-শ্রেণী সুবিধাভূগি হওয়াতে নিজেদের যুক্তি ও অবস্থানের অসারতা স্বাভাবিকভাবে বুঝতে ব্যর্থ হলেও তাদের মুনাফিকি ঈমানদার সম্প্রদায়ের কাছে দিবালোকের মত স্পষ্ট। ইসলামী আদর্শ ও মডার্নিস্ট সেক্যুলার আদর্শের চিরন্তন দ্বন্দ্ব আবার তার দ্বান্দ্বিক ময়দানে উপস্থিত। ইসলাম হর কারবালা কী বাদ জিন্দা হতে হ্যায় –মনে হয় কথাটি এভাবেই বলা হয়। আমি মনে করি বাংলাদেশের ৬ই মের কালোরাত্রে আলেম-হত্যার জঘণ্য বিভীষিকায় যে চেতনার সৃষ্টি হয়েছে তা’ই বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনবে, যদিও সময় লাগতে পারে, কেননা নারিকেল শ্রেণী কাফির এবং মুনাফিকদের মিশ্রণের এক জটিল কক্টেল।

    * ‘অটোমান’ না বলে ওসমান বা ওসমানী সাম্রাজ্য বললেই মনে হয় ভাল হত।

    1. 4.1
      শামস

      অটোমান কে পরিবর্তন করে দিয়েছি।

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

  11. 3
    কিংশুক

    টার্কির ইতিহাস সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    1. 3.1
      শামস

      ধন্যবাদ।

  12. 2
    এম ইউ আমান

    চমৎকার একটি তথ্য সমৃদ্ধ লেখা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটানে পড়েছি। লেখককে ধন্যবাদ।
    টার্কিতে যে আরবী ভাষায় আযানের পরিবর্তে তুর্কী ভাষায় আযান দেওয়া হয় এই তথ্যটি জেনে বেশ অবাক হয়েছি। পৃথিবীর আর কোথাও স্থানীয় ভাষায় আযান দেওয়া হয় কিনা কে জানে?
    গুলতেকিন –এর পিএইচডি ডিফেন্স হচ্ছে। ওর মা-বাবা, ও এক চাচা ইজমীর (তুরস্কের একটি শহর) থেকে ছেলের এই ইনশাল্লাহ পাশ হবে উপলক্ষে জুরিখে এসেছেন- হলের বাইরে উৎকন্ঠায় দোয়া পড়ছেন ও তসবি টিপছেন। গুলতেকিন হল থেকে বেরিয়ে এসে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কয়েক মিনিট পর এক্সামিনাররা বেরিয়ে এসে ডঃ গুলতেকিন বলে হ্যান্ডসেক করলেন। চারিদিকে একটা হর্ষধ্বনি উঠলো। গুলতেকিনের গার্লফ্রেন্ড ওজগে দৌড়ে গিয়ে কোলে উঠে গুলতেকিনকে কিস করলো- হর্ষধ্বনি আরো জোরালো হল। কৌতুহলবশতঃ গুলতেকিনের মা-বাবার দিকে তাকালাম… দেখি ওনারা চোখ নামিয়ে নিয়েছেন। এই প্রজন্মের টার্কিশদের সাথে এক প্রজন্ম আগের তার্কিসদের প্রভেদ সুস্পষ্ট।

    1. 2.1
      শামস

      প্রথমে টার্কিতে আযান দেবার এই ব্যাপারটা জেনে আমিও অবাক হয়েছিলাম।

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

      1. 2.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        এই প্রজন্মের টার্কিশদের সাথে এক প্রজন্ম আগের তার্কিসদের প্রভেদ সুস্পষ্ট।-এম ইউ আমান

        এর উল্টোটাও সত্য

        1. 2.1.1.1
          শামস

          হ্যা, ঠিক বলেছেন। তবে তারা শহরের চেয়ে উপশহরে বেশী শক্তিশালী!

  13. 1
    মুনিম সিদ্দিকী

    অনেক কিছু জানলাম। কারবালার পর যে ইসলাম জিন্দা হয় তা তুরস্ক থেকে বুঝা যাচ্ছে। ধন্যবাদ।

    1. 1.1
      শামস

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.