«

»

Jun ২৮

নরেন্দ্র মোদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারত!

গুজরাট রায়ট_০২টুইটারে নরেন্দ্র মোদীর অনুসরণকারীর সংখ্যা ১৫ লাখ। অবশ্য সব অনুসরণকারীই তার সমর্থক নয় যদিও। সংখ্যাটা তার গুরুত্বকে প্রকাশ করে।  ফেসবুকেও ভক্তের অভাব নেই। সর্বোপরি সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবার অন্যতম দাবীদার। অথচ গুজরাট রাজ্যের প্রধান হয়ে সেখানকার অসহায় সাধারণ মানুষ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হয়েও উন্নয়নের মডেল দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ (সেক্যুলার) ভারতে কেন্দ্রের ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে! তার প্রতি এই সমর্থনই ভারতীয় রাজনীতির ধর্মনিরপেক্ষতার স্বরূপটি উন্মোচিত করে। ভারতের মিডল ক্লাস ও এলিটরা বিশ্বশাসনের স্বপ্ন দেখছিল, হাতে রক্তের দাগ থাকা সত্ত্বেও মোদীর মাধ্যমে সেই স্বপ্নপূরণের একটা আশা দেখছে। অথচ প্রায় ২০০০ এর অধিক মুসলিম নিধনের সময় নিজে মূখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা এবং তার ঘনিষ্ঠ লোক এই হত্যাযজ্ঞে অভিযুক্ত হবার পরও মোদী এই মুসলিম বিরোধী দাঙ্গার জন্য এখন পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে অপারগ। এই অবস্থান তার ভারতের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হবার পথে যেন কোন বাধাও নয়! 

গোধরাতে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের বহনকারী ট্রেনে কে আগুন লাগিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট না হলেও উগ্র হিন্দু ও এর সাথে সম্পর্কযুক্ত দল ও প্রসাশন (মোদীর জনতা পার্টি) যে মুসলিম নিধনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সেটা অনেকটাই স্পষ্ট! দাঙ্গার সময় মোদীর সহযোগী ভিএইচপি’র নেতারা উগ্র বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করে তুলছিল। এই ভিএইচপি নেতাদের মোদীর সরকার বাধাতো দেয়ই নাই বরং সহযোগিতা করেছে। পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৫০ জন লোক ২৮শে ফেব্রুয়ারী ২০০২-তে উগ্র জনতা দ্বারা আগুনে পুড়ে মারা হয়। আর দাঙ্গায় মূল প্রাণহানী প্রথম কয়েকদিনে হলেও, প্রায় তিন মাস ধরে হত্যা, ধর্ষণ ও বাস্তুচ্যুত করা চলেছে।

Modi Riot_01

মোদীর উগ্র হিন্দুত্ববাদীতে মাথা বিকোনোর জন্য অনেক নামীদামী ব্রান্ডনামও সাথী হয়েছে। অনেকের মধ্যে অমিতাভ বচ্চন তাদেরই একজন। আছেন রামদেব নামের আধুনিক সমাজে জায়গা করে নেয়া ধর্মগুরু। জনপ্রিয় চ্যানেল জি-নিউজ মোদীকে প্রমোট করার ভঙ্গিটা বেশ চমকপ্রদ! জি-নিউজে মোদীকে মূল্যায়ন করা হয় এভাবে- “মোদী মন্ত্রে মুগ্ধ মহিলারা” ভাষণের শুরুতেই মোদী কী বলবেন তা ঠিক করে দিয়েছিল মহিলারা, আর তাতেই নাকি মোদী তাদের মন জয় করেন! অপরদিকে যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ২০০২ সালে গোধরা হত্যাযজ্ঞের পর গুজরাটের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ করে দেয় তারাই ২০১২ থেকে মোদীর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চালায়। ইউরোপিয়ান দেশগুলির সাথে মোদীর ঘরোয়া বৈঠক হবার পর তা একমাস পর প্রকাশ পায়। গত বছর অক্টোবর থেকে ব্রিটেন ও পরবর্তীতে জার্মানি এবং আরো কিছু দেন আবার সম্পর্ক স্থাপন করে। বেলজিয়ামও  বাৎসরিক ১৩ মিলিয়ন ইউরো’র ডায়মন্ড ব্যবসার কারণে সব ভুলে মোদীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে!

Modi with Brandname_01

গুজরাটের গোধরা দাঙ্গার প্রথম দিনেই (২৮ ফেব্রুয়ারী ২০০২) যখন শহরের বিভিন্ন স্থান আগুনে পুড়ছিল, মারা যাচ্ছিল শত শত মুসলিম, তখন রাজ্যের CMO পি কে মিশ্র দাবী করেন শহর “একেবারে স্বাভাবিক!” তাকে যখন বলা হয় প্রাক্তন কংগ্রেস এমপি এহসান জাফরি এই দাঙ্গায় নিহত হয়েছেন তখনও তার উত্তর ছিল যে এরকম কিছুই ঘটেনি। এই পি কে মিশ্র দিল্লিতে ডেপুটেশনে যায় এবং অবসর গ্রহণের পর পুরষ্কারস্বরূপ গুজরাট ইলেক্ট্রিসিটি রেগুলেশন কমিশনের চেয়ারম্যান এর পদ পায়। মোদী যদিও সবসময় বলে আসছিল যে গুজরাটের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গাটা ছিল তাৎক্ষণিক, কিন্তু দেখা গেছে এতে তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এর মহিলা ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী কোদনানীকে আদালত ২৮ বছর জেল দেয় দাঙ্গা উস্কে দেয়ার জন্য! ২০০৭ সালে মোদী তাকে ক্যাবিনেট মিনিস্টার হিসেবে মনোনয়ন দেন! ২০০২ সালের দাঙ্গার পুরষ্কারস্বরূপ মোদি তাকে মন্ত্রীসভার অন্তর্ভুক্ত করেন বলেই অনেকে মনে করেন। দাঙ্গার সময় কোদনানী মোদির সাথে ঘন ঘন টেলিফোন আলাপ করেছিলেন। ২০০২ এর রায়টের পর-পরই কোদনানী এসেম্বলি ইলেকশনে জয়ী হন।

গোধরার হিন্দু করসেবকদের বহনকারী ট্রেনে আগুন দেয়ার বিষয়ে বেশ কয়েকটি তত্ত্বের মধ্যে একটি পাওয়া যায় (National Enquiry) জাতীয় অনুসন্ধান কমিটির করা তদন্ত! তাতে দেখা যায়, গোধরার ট্রেনে আগুন ছিল এক্সিডেন্ট। তবে অন্য সরকারী তদন্ত দলের করা অনুসন্ধানে ছিল চক্রান্ততত্ত্ব! কোর্ট ‘চক্রান্ততত্ত্ব’কে শেষপর্যন্ত সমর্থন করেছে। মুসলিমরা বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, যে চক্রান্ত তত্ত্ব অনুযায়ী মুসলিমরা আগুন দিয়েছে বলে দাবী করা হয়, সেই চক্রান্তের প্রধান সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি মৌলানা উমরজী ও কংগ্রেস সমর্থিত গোধরা পৌরসভার বিলাল হোসেইন ক্যালোটাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কোর্টের রায়ে ১১ জন মুসলিমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি অন্য ২০ জনকে যাবজ্জীবন শাস্তিসহ অন্যান্য শাস্তি দেয়া হয়। এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এই বিচারকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে বর্ণনা করেছে। অপরদিকে, ২০০০ এরও বেশী মুসলিম হত্যার পরও কোর্ট যে রায় দেয় তাতে মোদীর সহচর রাজ্যের মন্ত্রী কোদনানীকে ২৮ বছর ও অন্য ৩০ জনকে যাবজ্জীবন দেয়! নরেন্দ্র মোদীর সহযোগীর এবং মোদীর অবস্থান তাকে একজন দোষী হিসেবে প্রতীয়মান করলেও ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট মোদীকে এই হত্যাযজ্ঞ থেকে নিষ্কৃতি দেয়।

মোদীর দিকে সন্দেহের তীর সবসময়ই ছিল, তা কোর্টের এই ধরণের রায়ের পরও থেমে থাকেনি। এই বছরের (২০১৩) ফেব্রুয়ারীতে এক সংবাদ সন্মেলনে গুজরাটের দাঙ্গার সাথে মোদীর ভূমিকা নিয়ে খুব শক্তিশালী প্রমাণ থাকার কথা আবারো উচ্চারণ করেছেন সমাজকর্মী তিস্তা সেতালভাদ। সে সময়ের ইন্টিলিজেন্স ব্যুরোর সিনিয়র অফিসার ভাটও অভিযোগ করেছিলেন যে গুজরাটের দাঙ্গার সময় মোদী হিন্দু দাঙ্গাবাজদের মুসলিমদের উপর তাদের রাগ ঝাড়তে দিতে বলেছিলেন। এ নিয়ে তাকে অনেক ঝামেলার মধ্যেও পড়তে হয়।

Modi_Double Standard_01

ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও গণতন্ত্রে ভারতীয়দের বাইরেও আমাদের দেশী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী একটি অংশ এখনো মজে আছেন! অপরদিকে হিন্দুত্ববাদীতার জন্যও তার একটা সমর্থক শ্রেণীকেও দেখা যায় যারা প্রগতিশীল ও মুক্তমনা সেজে মোদীর অন্ধকার অংশকে তার উন্নয়ন দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে তৎপর। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও বৃহত্তম গণতন্ত্রের কথা জোড় গলায় বলার আগে বিবেকবানদের একটু ভেবে দেখা উচিত!

২৬ comments

Skip to comment form

  1. 15
    শামস

    এটাই বর্তমান ভারত।

    একটা দেশে আইন আদালত থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এসব লোক অবলীলায় ঘুরে বেড়াতে পারে!

    "গরু হত্যাকারীদের যারা হত্যা করে তাদের সম্মান করোঃ ছত্রশগড় সংস্কৃত বোর্ডের চেয়ারম্যান" 

     

    এই ভারতের রাজনৈতিকরা বাংলাদেশে এসে ঠিক করে কে ক্ষমতায় থাকবে কে থাকবে না! 

  2. 14
    শামস

    ভারতের সাথে ইসরায়েলের যোগাযোগটা অনেক আগে থেকেই ছিল। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতি সবসময়েই সমর্থন দিয়ে আসছে, তাদের প্রতি একটা কোমল অবস্থান ছিল ভারতীয় সংস্কৃতির উদার এবং প্রশংসনীয় দিক। মোদির বিজেপি সেটাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যেভাবে ইসরায়েলের সাথে দহরম-মহরম করছে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি যেভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সেটা তাদের নৈতিক অবস্থানকে অনেক নীচে নিয়ে এসেছে।  

    পৃথিবীর নানা জায়গাতে এখন যুদ্ধ-বিগ্রহ ও অশান্তি এমন একটা পর্যায়ে আছে, তা থেকে হঠাত করে বড়ো যুদ্ধের সুচনা হবার সম্ভাবনার কথা অনেকেই বলছেন। সেভাবে মিডিয়া কভারেজ না পাওয়ায়, ভারত-পাকিস্তান এবং ভারত-চীনের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্কটার সাথে অনেকেই পরিচিত না। অবস্থা দিন দিন নাজুক হচ্ছে, চীনও ক্ষিপ্ত হয়ে যে ভাষা ইদানিং ভারতের প্রতি ব্যবহার করছে সেটাও বিষ্ময়করন! 

    দক্ষিণ এশিয়াতে 'বাংলাদেশ' ছাড়া ভারতের মিত্র দেশ কোনটি? আর বিষয়টার সাথে ধর্মই বা কতটুকু জড়িত। হিন্দু অধ্যুষিত নেপালের সাথে ভারতের সম্পর্ক ভারত-পাকিস্তান, ভারত-চীন এর চেয়ে একটুও ভালো নয়। দরিদ্র এবং ক্ষুদ্র বিধায় নেপালের সাথে সেরকম যুদ্ধের সম্ভাবনা নেই, কিন্তু নেপাল যেখানে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, সেখানে বাংলাদেশে  দলীয় এবং ক্ষমতার স্বার্থে ভারতকে ছড়ি ঘুরাতে দেয়া হয়। এরপরও স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব নিয়ে একশ্রেণির দলান্ধ লোক, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে!

    ভারত কি ছিল বা না ছিল সেটার চেয়েও মূখ্য সেখানের বিজেপি, বজরং, গোসেনা, রামসেনা, মোদিসেনারা ক্ষমতায়। বাংলাদেশে মাইনোরিটি ভালো অবস্থায় নেই, কিন্তু ভারতে মুসলিমদের পিটিয়ে মারার মতো ঘটনা এখনও এদেশে মাইনোরিটির জন্য ঘটেনি। একটা দুইটা না, কি পরিমাণ বিদ্বেষ থেকে এভাবে একের পর এক মুসলিমদের পিটিয়ে মারা যায়! বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ এদেশে মাইনোরিটির প্রতি এধরণের আচরণ হলে খারাপ চোখে দেখবে বলেই মনে করি। অবশ্য ভারতেও প্রতিবাদ হয়েছে, প্রায় ২০০০ লোকের বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। 

    ভারত কি বাংলাদেশের মুসলিমদের কাছে এখনও বন্ধু রাস্ট্র!

     

  3. 13
    সত্যবাদী

    গুজরাটের দাঙ্গা 
    শুরু হয়েছিল গোধরা স্টেশানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের করসেবকদের বহনকারী সাবরমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ S6 এ ৫৮জন কে পুড়িয়ে মারার মধ্য দিয়ে। ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারীর সকাল ৭-৪৩ মিনিটে ট্রেন পোড়ানর ঘটনা থেকে সুত্রপাত ঘটে নিকৃস্টতম দাঙ্গার যাতে প্রান হারায় ৭৯৪ জন মুসলমান এবং ২৫৪জন হিন্দু, ২২৩ জন নিখোজ, এবং ২৫০০ জন আহত হন। 
    গোধরা এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাসঃ-ভারতের গুজরাট রাজ্যের পাঁচমহল জেলার ছোট শহর। লোক সংখ্যা ১ লক্ষ ২১ হাজার(২০০১), হিন্দুদের কাছে পবিত্র স্থান।বেশ কিছু মন্দির আছে এখানে।জনসংখ্যার ১৩% ভাগ মুসলমান ।মুসুলমানরা দরিদ্র “ঘাচি”সম্প্রদায়ের। দেশ বিভাগের সময় তারা ছিল মুসলিম লীগের সমর্থক এবং পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে।উগ্র লড়াকু হিসেবে এদের খ্যাতি আছে। দেশ বিভাগের সময় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের হিন্দুরা এখানে এসে বসতি গড়ে।হিন্দু সিন্ধী এবং মুসলিম ঘাঞ্চি দের মধ্যে বৈরিতা চলে আসছে সেই সময় থেকেই।সাম্প্রদায়িক দাংগা হয়েছে -১৯৪৭-৪৮ সালে,১৯৫৩-৫৫ সালে, ১৯৬৫ সালে,১৯৮০-৮১ সালে, ১৯৮৫ সালে। ১৯৮০ সালে দুই সম্প্রদায়ের কলা বিক্রেতার ঝগড়া থেকে দাঙ্গার সুত্রপাত ঘটে যাতে একই পরিবারের ৫জন হিন্দু সিন্ধীকে পুড়িয়ে মারা হয়। 
    ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারীর সকালে সাবরমতি এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় ৪ ঘন্টা দেরী করে পৌছায় গোধরা স্টেশানে।বিশ্ব হিন্দু পরিষদের করসেবকেরা রাম জন্মভুমি/বাবরী মসজিদে তাদের সম্মেলন শেষে ঐ ট্রেনে ফিরছিলো।স্টেশানের হকারদের (যাদের অধিকাংশ মুসুলমান) বচসা হয় কর সেবকদের । এরপর শুরু হয় ট্রেনে ঢিল ছোড়া। এই সময় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে একজন মুসলমান তরুনিকে করসবকেরা ট্রেনের কোচে ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করছে(পরবর্তীতে ভিত্তিহীন প্রমানিত), নির্দ্দিষ্ট ৫ মিনিট যাত্রা বিরতির পর ট্রেন যাত্রা শুরু করে। স্টেশান থেকে প্রায় ১ কিলো মিটার দূরে ফাদিয়া সিগন্যালের কাছে চেইন টেনে থামানো হয়।প্রায় ৫০০ জন মুসলিম এক যোগে হামলা চালায় ট্রেনে। তারপর করসেবকদের কোচএ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।মারা যায় ২৩ জন পুরুষ, ১৫জন মহিলা এবং ২০ জন ছেলেমেয়ে সর্বমোট ৫৮জন তীর্থযাত্রী। ২৫০ জন বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাদের একজনের দাবী প্রায় ৩,০০০ মুসলমান হামলা করেছিল ফাদিয়া সিগন্যাল এ।হামলাকারীরা ছিলো মুসলমানপুলিসের দাবী আনোয়ার কালান্দার নামের এক ছেলে মুসলমান তরুনীর অপহরনের ঘটনা শুনে চেন টেনে ট্রেন থামায়। 
    দি ট্রাইবিউন লিখেছিল “ চেন টেনে ট্রেন থামানোর পর ইটপাটকেল নিক্ষেপকারী বিপুল সংখ্যক লোক, পেট্রোল, পেট্রোল বোমা এবং কেরসিন ঢেলে ট্রেনের কামরায় আগুন ধরিয়ে দেয়। 
    সরকারী তদন্তঃ- “ইউ, সি ব্যানার্জী” তদন্ত কমিশন রিপোর্ট দেয় অগ্নিসংযোগের কোন ঘটনা ঘটে নি। সম্ভবতঃ ট্রেনের কামরার রান্না করার স্টোভ থেকেই অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত।গুজরাট হাই কোর্ট কমিশনের রিপোর্ট বাতিল করে দেন।প্রত্যক্ষ দর্শীরা বলেন” পেট্রোলে ভেজান জ্বলন্ত কাপড় ছুড়ে মারা হয়। স্টোভের ১ লিটার মত কেরোসিন একটা কোচকে জ্বালিয়ে দিতে পারে না মন্তব্য করেন তদন্তকারী পুলিস কর্মকর্তা নোয়েল পারমার।। 
    নানাবতি কমিশনঃ-প্রত্যক্ষদর্শী দের সাক্ষ্য সহ নানা তথ্য উপাত্ত নিয়ে তারা রিপোর্টে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সঠিক বলে রায় দেন। 
    পরবর্তীতে “ঈন্ডিয়ান মোজাহেদিন” এবং ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা কারীরা গোধরা হত্যা কান্ডের বদলা নিতে বোমা হামলা এবং হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবী করে 

    ট্রেনে হামলার ঘটনা পুর্ব পরিকল্পিত ।ট্রেন পোড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত জাবির বেহেরার স্বীকারক্তি অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয় মৌলানা হুসেন ওমারজীকে।বেহেরা স্বীকারোক্তি দেয় যে “ ঘটনার আগের দিন রাত এগারোটায় মৌলানা উমরজী গেস্ট হাউস “ আমান”এ মিটিং করেন। গেস্ট হাউজের মালিক “রাজ্জাক কুরকুরে” ঐদিন পার্শবর্তী পেট্রোল পাম্প থেকে ১৪০ লিটার পেট্রোল সংগ্রহ করেন তারা। পেট্রোল পাম্পের মালিক “প্যাটেল “ ভ্রাতৃদ্বয় পেট্রোল কেনার ব্যাপার নিশ্চিত করেন। সেলিম পানওয়ালা স্টেশানে গিয়ে খবর নিয়ে জানেন যে সবরমতি এক্সপ্রেস প্রায় ৪ ঘন্টা দেরী করে আসছে। তারা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনার সময় নির্ধারন করেন। ফাদিয়া সিগ্ন্যাল এলাকা মুসুলমান অধ্যুষিত।আমান গেস্টহাউজ সিগন্যাল ফাদিয়ার কাছেই। ওখানেই জমা রাখা হয়েছিলো প্রতিটি ২০ লিটারের জারিক্যান” এ ভরা পেট্রোল।বেহেরা সহ মোট ৬ জন ট্রেনের সংযোগ স্থল কেটে ট্রেন এ জারী ক্যান সহ ঢুকে পড়েন। তারপর জারীক্যান ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দরজা খুলে লাফিয়ে পড়েন তারা। সকাল বেলা এত বেশী লোকের স্টেশানে উপস্থিত থাকা পুর্ব পরিকল্পনারই ইঙ্গিত দেয়। হামলা কারীরা জানতো ঐ ট্রেনে করসেবকরা ফিরছে এবং তারা নির্দ্দিষ্ট কামরাতেই আক্রমন চালায়। 

    হাইকোর্টের রায়ঃ- ট্রেন পোড়ানো মামলার রায় বের হয়েছে ১১ ফেব্রুয়ারী।৩১ জন দোষী সাব্যস্ত হন। এদের মধ্যে ১১ জনের মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় এবং ২০জনকে, যাবজ্জীবন কারাদন্ডএর শ্বাস্তি দেওয়া হয়। মউলানা উমরজ়ী ছাড়া পান , হাজী বিল্লাহ এবং রাজ্জাক কুরকুর দোষী সাব্যস্ত হন। 

    http://bangalihindupost.blogspot.com/2012/07/blog-post_6341.html

    1. 13.1
      শামস

      @সত্যবাদী,

      আপনি একটা লেখা কপিপেস্ট দিলেন এর লিঙ্ক দিলেন, কিন্তু লেখাটির লিঙ্কেতো পেলাম না যে মুসলিমরা গুজরাট দাঙ্গার সুত্রপাতে সন্দেহাতীতভাবে দোষী! যেসব সুত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো দাঙ্গার নিকটসময়ের! তবে দাঙ্গার সুত্রপাত নিয়ে যেসব তত্ত্ব এসেছে, ভারতীয় আদালত যে মুসলিমদেরকেই দোষী করেছে সেটাতো আমার মূল লেখাতেই উল্লেখ করেছি! আর যে সন্দেহতত্ত্বের উপর ভর করে কোর্ট রায় দিল, তাতে মূল সন্দেহভাজন মৌলানা উমরজীকে কিন্তু খালাস দেয়া হয়, যার নাম আপনার কপিপেস্টেও বেশ জায়গা নিয়ে বিদ্যমান। কেন উমরজীকে ছাড়া হল, তিনি যদি এতই কলকাঠি নাড়েন! কেন মুসলিমরা এরকম কোর্টের এই অভিসংশনে সন্দেহ পোষণ করবে না!

      তবে মোদীর ভুমিকা কি ছিল, তার কোন ডানহাত বামহাত কিভাবে জড়িত সেটাই ছিল লেখার মূল উপজীব্য, যা লেখায় সুত্রসহ উল্লেখ করেছি! গণতন্ত্রের লেবাস পরে ভারতমাতা কাকে সিংহাসনে বসাচ্ছে। তবে এটাও ঠিক ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার মূখোশও উন্মোচন হচ্ছে! অন্তঃতপক্ষে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে অন্য দেশকে সবক দেয়ার দিন শেষ হচ্ছে, আর দিলে পাত্তা পাবে না।

      ইরাক, আফগানিস্তানে অন্যায় হামলা করে, অন্যদেশ দখল করার যে পথ দেখিয়েছে সে পথ ধরে এখন রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করেছে, যুক্তরাষ্ট চিন্তিত চীনও হয়তো এধরণের পদক্ষেপ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র মোরাল অবস্থান হারিয়ে ফেলায় বলিষ্ট কিছু করতে সামর্থ্যহীন। ভারতও ধর্মনিরপেক্ষতার লেবাস পরে, এর নাম ভাঙ্গিয়ে আমাদের এই বাংলাদেশ কিছু চেলাও জুটিয়েফেলেছিল, এরা এদেশে প্রগতিশীলতার দাবীদার। এদের মাঘমাস নিকটবর্তী, ভালো খবর!

       

       

       

  4. 12
    শামস

    অসাম্প্রদায়ীক, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষতা দিয়ে সবকিছুকে গ্রহণযোগ্য করার এক নজীর স্থাপিত হচ্ছেঃ 

    বিজেপি জিতলে মোদিই হবেন প্রধানমন্ত্রী

  5. 11
    শামস

    একটা কুকুর মরলে যে কষ্ট পাওয়া যায় মোদী গুজরাটের মুসলিম হত্যাযজ্ঞে সেইরকম কষ্ট পেয়েছিলেন!

    Narendra Modi's 'puppy love' comment generates political furore

     

  6. 10
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    হিন্দুধর্ম থেকে কোনোদিন ভালো মানুষের জন্ম হয় না।কারণ ধর্মটাই পাশবিক,অবাধ যৌনতায় ভরপুর।তো তারা আর তাদের বাংলাদেশি চামচারা তো মোদির মত বেজন্মা নরপশুকেই সমর্থন করবে,নয় কি?  

  7. 9
    sami23

    নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কারণে পুরো গুজরাটে রাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছিল এখন যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী করা তাহলে,পুরো ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়ে যাবে।এদিকে নরেন্দ্র মোদীকে বিজেপি দলের পোল কম্পেইনের চেয়ারম্যান করায়ে এল কে আদভানি এবং বিজেপি সিনিয়র নেতা নিতেশ নাকোশ হন দলের সভাপতি রাজনাথ সিং উপর।কিন্তু সমস্যা হল বিজেপির  রাজনৈতিক ইচ্ছা অনিচ্ছা বাস্তবায়ন হয় তাদের দলের প্রধান অংশীদার আরএসএস মতানুসারে।সেখানে আদভানির মত নেতাদের ইচ্ছা অনিচ্ছা প্রখর করা হয় না।অথচ আদভানিকে বিজেপি দলের প্রধান কারিগর বলা।নিচে একটি চমৎকার আর্টিকেল লিংক দিলাম পড়ে দেখতে পারেন আশা করি ভালো লাগবে।

    http://www.passionatewriters.org/2013/06/the-worst-decision-ever-modi-fication.html

  8. 8
    এম_আহমদ

    প্রায় ২০০০ এর অধিক মুসলিম নিধনের সময় নিজে মূখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা এবং তার ঘনিষ্ঠ লোক এই হত্যাযজ্ঞে অভিযুক্ত হবার পরও মোদী এই মুসলিম বিরোধী দাঙ্গার জন্য এখন পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে অপারগ।  গোধরাতে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের বহনকারী ট্রেনে কে আগুন লাগিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট না হলেও উগ্র হিন্দু ও এর সাথে সম্পর্কযুক্ত দল ও প্রসাশন (মোদীর জনতা পার্টি) যে মুসলিম নিধনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সেটা অনেকটাই স্পষ্ট!  … গুজরাটের দাঙ্গার সময় মোদী হিন্দু দাঙ্গাবাজদের মুসলিমদের উপর তাদের রাগ ঝাড়তে দিতে বলেছিলেন। [অভিযোগ]

    এবারে এটা ওটা শুনতে পারেন। একটু চিন্তা করে দেখেন। আমরা কোন পানির ভাটিতে? আমরা কোথায় যাচ্ছি?

    rel="nofollow">

    1. 8.1
      এম_আহমদ

      একটা ভিডিও নজরে পড়ল। ভাবলাম এটা এখানেই রাখা ভাল। কেউ না কেউ দেখবে।

      https://www.facebook.com/photo.php?v=10201307619785217&set=vb.1014391200&type=2&theater

  9. 7
    শাহবাজ নজরুল

    মোদী ধীরে ধীরে এগুচ্ছে -- তবে সে যে গুজরাটের দাঙ্গার জন্যে দায়ী সে অভিযোগে হজম করতে না পেরে করণ থাপরের সাক্ষাত্কারে ক্ষান্তি দেন।

    1. 7.1
      শামস

      হ্যা, পরিস্থিতি এভাবে টার্ন নিচ্ছে সেটা আর্টিফিশিয়াল বা ন্যচারাল হোক, মোদী ছাড়া গত্যন্তর নাই। কারণ মোদীর সমর্থক প্রকাশ্য যেমন আছে তেমনি বিভিন্ন বেশভূষার আড়ালে হিডেন একটা অংশও আছে। 

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

       

  10. 6
    শামস

    পাল হিন্দু ধর্মের ল্যাবড়া (নিরামিষ) তত্ত্ব নিয়ে খুব সরব দেখছিলাম। ল্যাবড়া তত্ত্বের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মে আস্তিক নাস্তিক সবাইরে পাওয়া যায়। তার নাস্তিকও হওয়া হলো, আবার হিন্দুত্বও রাখলো! মুক্তমনা মানে তাইলে কি দাঁড়াইল!

  11. 5
    এস. এম. রায়হান

    অপরদিকে হিন্দুত্ববাদীতার জন্যও তার একটা সমর্থক শ্রেণীকেও দেখা যায় যারা প্রগতিশীল ও মুক্তমনা সেজে মোদীর অন্ধকার অংশকে তার উন্নয়ন দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে তৎপর।

    মুক্তমনা ব্লগে তাদের ভারতীয় গুরু বিপ্লব পালেরও এরকম একটি লেখা আছে।

    1. 5.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      লেখাটির লিংকও এখানে দিয়ে দেন, তাহলে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে এদের চিনে রাখবে। নিরপেক্ষরা ঠিকই বুঝতে পারবে, আর যারা ইচ্ছে করে সাদাকে ‘কালো’ বানায় তাদের নিয়ে কোন আশা নেই।

      1. 5.1.1
        এস. এম. রায়হান

        বিজেপি যে আস্তে আস্তে হিন্দুত্ববাদ থেকে দূরে সরতে বাধ্য হচ্ছে-এর একটা বড় কারন অবশ্যই গণতন্ত্র। মোদিকেও উন্নয়নের পথেই ভোট চাইতে হচ্ছে কারন উনিও বুঝেছেন ঘৃণার রাজনীতি দিয়ে একবার জেতা যায়, দুবার নয়। হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি থেকে সরে আসার জন্যে বিশ্বহিন্দু পরিষদ এবং আর এস এস অখুশী। তারা নানান রাজ্যে বিজেপি বিরোধি আরো উগ্র  হিন্দুত্ববাদি দল তৈরী করেছে। মধ্যপ্রদেশে উমা ভারতী বিজেপি ছেড়ে উগ্রহিন্দুত্বের আহ্বানে ভারতীয় জনশক্তি পার্টি খুলেছেন। গত রবিবার তাদের সবকটি পার্থীই মধ্যপ্রদেশে প্রায় জামানত জব্দ হল(একটা মাত্র সিটে জিতেছে)-বিজেপি সেখানে জিতে গেল উন্নয়নের রাজনীতির জোরে। বিশ্বহিন্দু  পরিষদ উমাভারতীর পেছনে থেকে কিছু করতে পারল না। এর থেকেই বোঝা যায় হিন্দুত্বের রাজনৈতিক শক্তি ক্রমশ ফিকে হচ্ছে। ১৯৯১-২০০১ পর্যন্ত কংগ্রেসে অন্তর্কলহ,দুর্নীতি এবং বামপন্থিদের হটকারী রাজ়নীতি হিন্দু-জাতিয়তাবাদি  শক্তির উত্থানের পথ প্রশস্ত করে। গুজরাটে দাঙ্গার পর, ভারতের সাধারন মানুষ বুঝতে পারে এরা কারা এবং ফ্যাসিবাদি শক্তির আসল রূপ। ফলে বিজেপি কার্যত দুটো ভাগে ভেঙে যায়। একটা দল তীব্র মুসলমান বিরোধিতার পথে থাকতে চাইছিল-অন্যদলটা হিন্দুত্ব বাদ দিয়ে জাতিয়তাবাদের পথে হাঁটতে চাইছিল। ক্ষমতাসীন নেতারা দেখলো হিন্দুত্ববাদ বা জাতিয়তাবাদ আর কোনটাই খাবে না-ফলে তারাও উন্নয়নের রাজনীতিতে আসতে বাধ্য হয়। এটাই গণতন্ত্রের বিবর্তন। [সূত্র]

  12. 4
    এস. এম. রায়হান

    বাংলাদেশেও নরেন্দ্র মোদী আর হিন্দুত্ববাদের সমর্থক মনে হয় ভালই আছে। এখানে একটি পেজেই অনেক সমর্থক দেখা যাচ্ছে। এদিকে মুক্তমনারাও নরেন্দ্র মোদী বা হিন্দুত্ববাদ নিয়ে তেমন কোনো উচ্চবাচ্য করে না।

    1. 4.1
      কিংশুক

      @রায়হান ভাই, তাদের মুখোশ উম্মোচন করলে আপনি হয়ে যাবেন উস্কানিদাতা, তালেবান, বর্বর আরবদের ইত্যাদি ইত্যাদি। আর যারা এসব কুকর্ম করে, ঘৃণাবাদের চাষ করে, মনুষত্যহীন পশু তারা সব সুশীল, মুক্তমনা, বাংগালী জাতীয়তাবাদের ঝাণ্ডাধারী!!! কোন বিচার নাই।

    2. 4.2
      শামস

      @রায়হান ভাই, হ্যা আমারও চোখে পড়ছে। আর মনা'র কথা বাদ দিলাম, কারণ এরা অনেক আগেই তাদের মোদীরূপ প্রমাণ দিছে। যাক আমার লেখার ধারণাটা ঐসব মোদীপ্রেমীদের দেখেই আসছে।

  13. 3
    ফুয়াদ দীনহীন

    আপনার লেখা ভাল পাই, সব সময় বিভিন্ন কিছু ঘেটে বের করে নিয়ে আসেন গুরুত্বপূর্ন বিষয়

    1. 3.1
      শামস

      ধন্যবাদ।

  14. 2
    মুনিম সিদ্দিকী

    ভারতীয়রা তাদের ৫হাজার বছর পূর্বের সভ্যতা কৃষ্টি নিয়ে গর্বিত ভাবে প্রচার চালিয়ে আত্মপ্রসাধ লাভ করলেও তারা যে ঐ ৫ হাজার বছরের মধ্যে কোন আলেক্সজান্দারের মত কোন বিশ্ববিজয়ী বীরের জন্ম দিতে পারেনি, বা তারা বিশ্বশক্তি রূপে কখনও নিজদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি, সে না পাওয়ার ব্যথা বা জাতী হিসাবে হাজার হাজার বছর ধরে পরাজিত হয়ে বিজাতীয়দের সম্রাজ্যের অধীনে থাকার কথা তাদের মর্মমূলে বেজে চলছে। কাজেই তাদের ৫ হাজার বছরের পুর্বসূরীরা যা করে যেতে পারেনি, তা আগামীতে করতে তারা বদ্ধপরিকর। তারা বিশ্বশক্তি হবার পরিকল্পনাতেই এগিয়ে চলছে। কাজেই তাদের জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে হিন্দুত্ববাদী(!) চেতনা জাগ্রত রাখা আবশ্যক। কারণ তারা জানে তাদের মুখে যত ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেনা কেন তাদের হিন্দুত্ববাদি চেতনা মিলিয়ে গেলে তাদের পক্ষে ভারতকে অখণ্ড রাখা সম্ভব হবেনা।

    তাই ভারতের এখন নরেন্দ্রমোদীর মত হিন্দুবাদী নেতার খুব দরকার।

    1. 2.1
      কিংশুক

      @ মুনিম ভাই, একেবারেই সঠিক বলেছেন। কিন্তু হিন্দুত্ববাদ দিয়ে বিশ্ব জয় দূরে থাক উপমহাদেশেই তো তাদের ভবিষ্যত নাই। পাকিস্তানকে যতই ব্যর্থ, বর্বর মাথামোটা যাই বলুক পাকিস্তানে হিন্দুত্ববাদ ঢুকানো, হিন্দুত্ববাদের প্রভাব বিস্তার, অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক, সামরিক কিছু করার মুরোদ ভবিষ্যতেও হবেনা, আফগানিস্তান জংগি দেশ হয়ে গেলেও ভারতের প্রভাব বিস্তারের কোন চেষ্টা সফল হবেনা। শ্রীলংকা, নেপালের সাথেও তেমন কোন সদ্ভাব নাই। ভারতীয় মুসলমানদেরও বর্বর আরবদের …. , শুদ্র ইত্যাদি বলেও কোনদিনও হিন্দু বানানো সম্ভব না বরং মুসলমানদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রাম রাজত্বের স্বপ্ন অলীক। এশিয়ার রাজনীতিতে চীনের সাথে পারার কোন কারন নাই। বিশ্ব শক্তির স্বপ্ন সূদুর পরাহত।

    2. 2.2
      শামস

      @মুনিম ভাই, ভারতীয় মধ্যবিত্তের একটি বড় অংশ, ভারতের বাইরে প্রভাব বিস্তারের চিন্তা করতে পারছে মোদীর মাধ্যমে। সে খুনী হোক, ডাকাত হোক সমস্যা নেই। এটা অবশ্য আমার কথা নয় রাজনৈতিক বোদ্ধাদের কথা। বাইরের দিকে দৃষ্টি না দেয়ার কারণে হাজার বছর ধরে কুসংস্কার এখানে ডালপালা গজিয়েছে। মহত্নাগান্ধীও যখন দেশের বাইরে যায় তখন তার সমাজে তাকে সমাজচ্যুত করে, ধর্মবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। তবে চীনের সাথে হিসেব করলে ভারত কিন্তু উন্নয়নের দৌড়ে দিন দিন পিছনে পড়ে যাচ্ছে। ছোট দেশ হিসেবে অনেক প্রতিকূলতা সত্বেও বাংলাদেশ সে তুলনায় ভালো অবস্থানেই বলে মনে হয়।

       

  15. 1
    আহমেদ শরীফ

    কোর্টের রায়ে ১১ জন মুসলিমকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার পাশাপাশি অন্য ২০ জনকে যাবজ্জীবন শাস্তিসহ অন্যান্য শাস্তি দেয়া হয়। এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এই বিচারকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে বর্ণনা করেছে। অপরদিকে, ২০০০ এরও বেশী মুসলিম হত্যার পরও কোর্ট যে রায় দেয় তাতে মোদীর সহচর রাজ্যের মন্ত্রী কোদনানীকে ২৮ বছর ও অন্য ৩০ জনকে যাবজ্জীবণ দেয়! নরেন্দ্র মোদীর সহযোগীর এবং মোদীর অবস্থান তাকে একজন দোষী হিসেবে প্রতীয়মান করলেও ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট মোদীকে এই হত্যাযজ্ঞ থেকে নিষ্ক্রিতি দেয়।

    ভারতীয়দের অধিকাংশ উদারতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ মনমানসিকতার মানুষজন প্রকৃতপক্ষে মডারেট ধার্মিক একটি সাংষ্কৃতিক বলয় থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেন না, কারণ যুগ যুগান্তর ধরে অত্যন্ত যত্নের সাথে সামাজিকভাবে সেটিকে লালন করা হয়ে আসছে। ভারতের চলচিত্রগুলোর অধিকাংশই দেখবেন ভূমিকায় দেবদেবীর মূর্তি বা নাম সংকীর্তন দিয়ে দেবদ্বিজে অপার ভক্তি প্রকাশ করে সূচনা করা হয়। ভারতের চলচিত্র ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধর্মব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ-সমাজপতিদের ভন্ডামির চালচিত্র তুলে ধরলেও সার্বিক সংখ্যার হিসেবে তা গৌণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিকে আঘাত না করে বরং সেটিকে কিছুটা উস্কে দেয়ার প্রবণতাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সার্বজনীনভাবে লক্ষ্যণীয়। চলচিত্র ও টিভি সিরিয়ালগুলোতে ধর্মীয় বিষয়ে, দেবদেবী পুরাণের কাহিনী নিয়ে যতগুলো ঘটনা-চরিত্র-তথ্য ধারাবাহিকভাবে শুরু থেকে এ পর্যন্ত সন্নিবেশিত হয়েছে তা বিশ্বে সন্দেহাতীতভাবে সর্বাধিকই হবে। আধুনিকতার পাশাপাশি সহাবস্থান করা ধর্মের জয়গান সমানতালে গেয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাজনীতিবিদরাও ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে দোর্দন্ড প্রতাপে চালিয়ে যেতে পারছেন। উগ্র ধর্মবাদি দল সেখানে সামাজিকভাবে শুধু গ্রহণযোগ্যই নয়, অনেক ক্ষেত্রে স্বীকৃত, আদরণীয়। বড় বড় সাংষ্কৃতিক-ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সেসব দলগুলোতে ঢাকঢোল পিটিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন এমনকি নির্বাচিত হয়েছেন এরকম নজির ভুরি ভুরি আছে। মুখে যতই 'ধর্মনিরপেক্ষতার' কথা বলুক _ আদভানি বা বাজপেয়ী কিংবা বালকৃষ্ণ থ্যাকারেরা সেখানে সামাজিকভাবে কিন্তু সম্মান ভক্তির আসনেই বিরাজ করেছেন।

    1. 1.1
      শামস

      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

       

       

Leave a Reply

Your email address will not be published.