«

»

Aug ০৩

ডারউইনের বিবর্তনবাদ ও এর পৌরাণিক দায়বদ্ধতা!

Evolutionary Imaginary Images_04ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদ অনুযায়ী একটা প্রাণী অন্য একটি প্রাণীতে অনেকগুলো রূপান্তরের মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হয়। প্রাণীদের বিবর্তিত হবার মধ্যবর্তী এই অবস্থা কল্পনার আশ্রয় নেয়া ছাড়া উপায় নাই। মানুষের কল্পনাশক্তি অনেক পুরোনো! পৌরণিক কাহিনীতো দাঁড়িয়ে আছে এই কাল্পনিক চরিত্রগুলোর উপর ভিত্তি করেই! গ্রীকদের ওডেসিসহ পৌরণিক কাহিনী, হিন্দু পূরাণ, ও বিভিন্ন অঞ্চলের পূরাণে এসবের রয়েছে অফুরন্ত রসদ! কল্পনাশক্তির দিক থেকে পৌরণিক চরিত্রগুলো বহুমাত্রিক ও অনেক সমৃদ্ধ! সেদিক থেকে বিচার করলে বিবর্তনবাদের পৌরাণিকতার প্রতি এক ধরণের দায়বদ্ধতা আছে।

গ্রীক পূরাণে আছে পেগাসাস নামক পাখি ও ঘোড়ার সংকর পাখাবিশিষ্ট ঘোড়া। আবার সেই ঘোড়ার শরীরে মানুষের মাথা লাগিয়ে দিলে যে অদ্ভূত সংকর প্রাণীটির সৃষ্টি হয় তার নাম সেন্টউর (Centaur)। অপরদিকে, হিন্দু পৌরণিক কাহিনীর পাখির মাথাবিশিষ্ট মানুষ গারুদা হল মানুষ ও পাখির সংকর। দেবতা বিষ্ণু ও দেবী লক্ষ্মীর কাহিনীতে পাওয়া যায় এই গারুদার উপস্থিতি। এছাড়া হিন্দুদের রামায়ণের কাহিনীতে আছে জটায়ু নামক এক পাখি যার থাবা হাতির শুড়ের মত লম্বা ও লোহার মত শক্ত। এই জটায়ু সূর্যকে বহনকারী অরুণের সন্তান এবং গারুদার ভাগনে। রামায়ণের বর্ণনা অনুযায়ী এই জটায়ুর বয়স ৬০,০০০ বছর। বিষ্ণুর অবতার নরসীমা মানুষ ও সিংহের সংকর একটি প্রাণী! আছে, জাপানীজ মিথলজীর আধা-মানুষ ও আধা-পাখির ‘টেঙ্গু’! জাপান চীন ও কোরিয়ান রূপকথায় তিন পা-বিশিষ্ট কাকও পাওয়া যায়। এই তিন পা-বিশিষ্ট কাক ইউরোপের পৌরণিক কাহিনীতে পাওয়া রাভেন। জাপান ফুটবল এসোশিয়েশনের প্রতীক এই রাভেন। দুই মাথা-বিশিষ্ট পিঁপড়াভোগী সাপের মতো প্রাণীটি হলো ‘এমফিসবায়েনা (amphisbaena)’। এর পাগুলো মুরগীর মত। দুই মুখ থাকায় এগুলো আগে পিছে যেকোন দিকে এগোতে পারে। অবশ্য হিন্দু রামায়ণে শত মাথা বিশিষ্ট রাক্ষসও বিদ্যমান।

Picture_Greek Mythology_01

মজার ব্যাপার হল, পৌরণিক অনেক চরিত্র বাস্তবেও ধরা দিয়েছে! গরিলা ও কমোডো ড্রাগন কিন্তু একসময় পৌরাণিক প্রাণীই ছিল, এর অস্তিত্ব বাস্তবেও পাওয়া গেছে। ১৮৫৭ সালে জানা যায় ক্রাকেন নামক পৌরাণিক প্রাণীটি আসলে মস্তবড় এক স্কুইড। উল্লেখ্য, বৃহদাকার স্কুইডের কাহিনী একসময় সমুদ্রযাত্রীদের মুখে মুখে ফিরত। ১৮৬১ সালে ফরাসী যুদ্ধজাহাজ আলেক্টন খুব বড় একটি স্কুইডের অংশবিশেষ পায়, তবে সেটা পৌরাণিক কাহিনীতে বর্ণিত দ্বীপের মতো বৃহৎ স্কুইড ছিল না। মধ্যযুগে ইউরোপের ‘বিশপ ফিস’ এর কাহিনী মানুষের মুখে মুখে ফিরত। এরকম দাবীও করা হয়েছিল যে পোলান্ড ও জার্মানির উপকূলে ১৫৩১ সালে এই বিশপ ফিসকে ধরা পাওয়া গেছে। আলেক্সান্ডার বেলায়েভের ‘উভচর মানুষ’ মিথ হলেও সাহিত্যে এর সরব উপস্থিতি বাস্তবতার কাছাকাছি নিয়ে গেছে।  খ্রিস্টের জন্মের ১০০০ বছর আগে আসিরিয়ান সভ্যতায় ‘মারমেইড’ এর পরিচয় জানা যায়। গ্রীক ইতিহাসবিদ প্লাইনি (Pliny) এই মারমেইড এর বর্ণনা দিয়েছেন খুব বাস্তবিক হিসেবে বিবেচনা করে। এমনকি ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯৩ সালে আমেরিকার দিকে তার প্রথম যাত্রাভিযানে মারমেইড দেখেছেন বলে উল্লেখ করেছিলেন।

Picture_Greek Mythology_02

আবার ঐতিহাসিক কাহিনীতে পৌরাণিক কিছু চরিত্র এমনভাবে এসেছে যে মনে হতে পারে এগুলো বাস্তবেরই প্রাণী। পরিব্রাজক মার্কপোলো সাইনোসেফালি (Cynocephali) নামক এক প্রাণী ভারতীয় উপমহাদেশের কোন দ্বীপে বাস করত বলে দাবী করেছিলেন। প্রাণীটির মাথা কুকুরের ও শরীর মানুষের! অবশ্য অনেক সমালোচকদের মতে, ভারতীয়দের হীন জাত হিসেবে উপস্থাপন করতে মার্কোপোলো এরকমভাবে  চিত্রিত করেছেন। তাছাড়া, ইস্টার্ন অর্থডক্স ক্রিস্টিয়ান রীতি অনুযায়ী সেন্ট ক্রিস্টোফার একজন সাইনোসেফালি। কারণ ক্রিস্টোফার উত্তর আফ্রিকার বারবার (অসভ্য) গোত্র মারমারাইট থেকে এসেছিলেন। উল্লেখ্য ৩০০ খ্রিষ্টাব্দে ক্রিস্টোফার রোমে এসে ব্যাপ্টাইজ হবার পর গসপেল প্রচার করেন। মার্কপোলো কুবলাই খানের প্রসাদেও রক (Roc) নামক বৃহদাকার এই ঈগলের বর্ণনা দিয়েছিলেন যা আস্ত এক হাতিকে বহন করতে সক্ষম। এরও অনেক আগে  ইতিহাসের জনক হিসেবে অভিহিত হেরোডাটাস (৪৮৪-৩২২ বিসি) ইউরোপের বাইরে এশিয়া মাইনর, ব্যাবিলন, পার্সিয়ার, মিসর, প্যালেস্টাইন এর ভ্রমণ কাহিনী ‘The Histories’ বইতেও অনেক প্রাণীকে লিপিবদ্ধ করেছিলেন যার মধ্যে যেমন কুমির ছিল তেমনি ছিল ফিনিক্স পাখি। হেরোডাটাসের ভ্রমণ কাহিনী ছিল বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী মানুষের বর্ণনার উপর ভিত্তি করে। এছাড়া রোমান প্রকৃতি দার্শনিক প্লাইনি (২৩-৭৯ বিসি) তার বিখ্যাত ‘Naturals Historia’ বইতেও ম্যান্টিকোর, বাসিলিস্ক ও ওয়ারউলফ (werewolf) নামক অনেক কাল্পনিক প্রাণীকেও জায়গা দিয়েছিলেন। ল্যাটিন কবি ওভিড (৪৩-১৭ বিসি) এর বইতেও ছিল দেবতাদের মানুষ, মাকড়শা, ভল্লুক, ষাড়, পাখি, নেকড়ে ইত্যাদিতে রূপান্তরের বর্ণনা। এর সাথে কিছুটা মিল আছে হিন্দু পূরাণে বর্ণিত বিষ্ণুর মাছ, শুকরসহ দশটি প্রাণীতে আবির্ভূত হওয়ার, যাকে অনেক হিন্দু বিবর্তনবাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দেখাতে চায়!

Picture_Hindu Mythology

ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্বও অনেক মিথের জন্ম দিয়েছে। ৩০ এর দশকে বিজ্ঞান মহলে একটা বদ্ধমূল ধারণা প্রতিষ্ঠা পায় যে, মিউটেশনের ফলে একটা প্রাণী থেকে আরেকটা একেবারে নতুন প্রাণী বিবর্তিত হতে পারে। এর পরবর্তীতে ৪০ বছর ধরে ব্যাপক গবেষণা ও বিলিয়ন ডলার খরচ করার পর জানা যায় এভাবে একটা নতুন প্রাণীর বিবর্তন হওয়া অসম্ভব ব্যাপার। ৩০ বছর ধরে এর উপর গবেষণা করা বিজ্ঞানী লুনিগ সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হন যে, সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত কোন প্রাণীর সত্যিকার সীমাবদ্ধতা আছে যাদের দুর্ঘটনামূলকভাবে অন্য প্রাণীতে পরিণত হতে পারে না। ডারউইনের সময় থেকেই ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ এর মাধ্যমে এক প্রাণীর অন্য প্রাণীতে পরিণত হওয়াটার পক্ষে যুক্তি ছিল অগণিত ‘মধ্যবর্তী’ প্রাণির ফসিল পাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্য দিয়ে। সেই ভবিষ্যদ্বাণীও মাঠে মারা গেছে। আর বিবর্তনবাদীদের অগণিত সৃষ্টিতত্ত্ব এখন আর আলোচনাতেই আনা হয় না।

অপর্যাপ্ত মাইক্রোইভ্যুলুশন ছাড়া, বিবর্তনবাদ প্রমাণের প্রধান উৎস লক্ষ কোটি বছর আগের জীবাশ্মকে বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য কল্পনার আশ্রয় নেয়া ছাড়া উপায় নেই। অতি প্রাচীন জীবাশ্মগুলোর অবশিষ্ট সামান্য কিছু ভগ্নাংশ থেকেই মূল প্রাণীটিকে কল্পনা করতে হয়। বাস্তবতায় কিছুটা উঁকি দিলেও পৌরাণিক কাহিনীর কল্পনা নির্ভরতার সাথে বিবর্তনবাদের অনেকটাই মিলে যায়। ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কারণে পৌরাণিকতার এই কল্পিত কাহিনীকে অনেক ধর্মে বিশ্বাস করতে হয়, কিন্তু বিবর্তনবাদে সেই কল্পনাকে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়। বিবর্তনবাদে ফ্যাক্টগুলা কেবলই কল্পনা! তাই শেষবেলায় বিবর্তনবাদীদের কাছ থেকে বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনায় এতে ‘বিশ্বাস’টাই ঘুরে ফিরে আসে।

 

সূত্র:

১. বিশ্বের পৌরাণিক কাহিনী, ডঃ হুমায়ুন কবির, রাবেয়া বুক্স, প্রকাশক: রাবেয়া খাতুন।

২.সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাস, ডঃ মুহম্মদ গোলাম রসুল, আলীগড় লাইব্রেরী।

৩. The Mythical Creatures Bible, brenda Rosen

৪. http://wol.jw.org/en/wol/d/r1/lp-e/1102010233

৩৫ comments

Skip to comment form

  1. 17
    এস. এম. রায়হান

    পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিক একটি পোস্ট-

    বিবর্তনবাদী নাস্তিকদের প্রতি তৃতীয় ধাপে চ্যালেঞ্জ

  2. 16
    এস. এম. রায়হান

    আপনারা ফিনিক্স পাখির নাম শুনেছেন নিশ্চয়। এতদিন ধরে এই পৃথিবীর সকলেই ভুলক্রমে কিংবা অজ্ঞতাবশত ফিনিক্স পাখিকে 'পৌরাণিক জন্তু' (mythological creature) হিসেবে বিশ্বাস করে এলেও বিবর্তন তত্ত্বের সুবাদে সেই কথিত ফিনিক্স পাখিটি আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এভাবেই বিবর্তন তত্ত্ব ধীরে ধীরে মানুষের হাজার বছরের ভুল ধারণা বা অজ্ঞতাকে উন্মোচন করছে!

    http://en.wikipedia.org/wiki/Phoenix_(mythology)

    1. 16.1
      শামস

      ফিনিক্স পাখি হল ধবংসস্তুপের ছাইভস্ম থেকে প্রাণের সঞ্চারকারী একটি পাখি। এটি পৌরণিক হলেও গ্রীক ইতিহাস রচয়িতা হেরোডাটাস এই প্রাণীর অস্তিত্ব আছে বলে উল্লেখ করেছেন! ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদীদের সামনে সুদিন আসছে!

       

       

  3. 15
  4. 14
    এস. এম. রায়হান

    বিবর্তন তত্ত্ব দিয়ে দূর্গা ও কালীর অসংখ্য হাতের বাস্তবিক ব্যাখ্যা দেওয়া এখন পানির মতো সহজ। দূর্গা ও কালীর কোনো এক পূর্বসূরী হয়তো একাধিক হাত থাকার ইচ্ছা পোষণ করেছিল। এজন্য দূর্গা ও কালীর দেহে ধাপে ধাপে অসংখ্য হাত গজিয়েছে। থ্যাঙ্কস টু দ্যা দ্য থিয়রি অব ইভ্যলুশন!

    বাংলা বিবর্তনবাদীদের তিন গুরু ডঃ আলু রায়, বন্যা আহমেদ, ও হোড়াশ মোল্লা কিংবা তাদের টরন্টো-প্রবাসী বিশ্বস্ত মুখপাত্র কিছু বলে কি-না দেখা যাক।

  5. 13
    এস. এম. রায়হান

    বাংলা বিবর্তনবাদীদের জন্য সুখবর-

     

    How Hinduism explains the evolution of life?

    There is no any religion that believes in Evolution. The only religion is hinduism. The hinduism alone said first and proved. Those who discovered, those who lectures, those who talk about Evolution will be from the Hinduism only.Hinduism includes a range of viewpoints about the origin of life, creationism and evolution. The accounts of the emergence of life within the universe vary in description, but classically the god Brahma, from a Trimurti of three gods also including Vishnu and Shiva, is described as performing the act of 'creation', or more specifically of 'propagating life within the universe' with the other two deities being responsible for 'preservation' and 'destruction' (of the universe) respectively. Most Hindu schools do not regard the scriptural creation myth as a literal truth, and often the creation stories themselves do not go into specific detail, thus leaving open the possibility of incorporating at least some theories in support of evolution.

    In the Vedic stage, we first find the evolution of period of mantra samhita. The samhita consists of mantras which are the spiritual truths realised by rishis in meditation and expressed in human language. That is the reason, Vedas are called ‘apaurusheya’ and as ‘drashtya’. Apaurusheya means divine origin, that is not created by humans. The rishi's visualised these truths in meditation, hence, they are called ‘drashtya’.

    How Hinduism explains the evolution of life and what are the proof thereon?

    Many of us have noticed the similarity between Darwin’s Theory of Evolution and ten avataras of Vishnu . Fish/matsya Avatara, Tortoise/kurma Avatara,, Boar/varaha Avatara, Man- Lion/narasimha Avatara, Dwarf/vamana Avatara, then Rama, Parasurama, Krishna, Buddha(or Balarama) and Kalki avataras are equated with the life in the sea, amphibians, land animals, half man/half animal-semi civilised state, then full grown intelligent men. This is a reflection of Darwin’s Theory of Evolution.

    The first descent of the Lord was in the form of fish. This was then followed by the tortoise, the boar, the man-lion, the dwarf, the sage, an ideal king, the cow-herd leader, the enlightened prince and finally, yet to come, Kalki, riding a horse. If we were to pause for few seconds here, we can see a striking example of "The Theory of Evolution". This is clearly evident in the Dasavatar of the Lord, where the Lord first appeared as fish and then gradually evolved to human form. This is the way the Hinduism explains beautifully the evolution of Life.

    If you look at Hindu Dasa Avatharas with scientific view, these ten Avatharas bear a strange similarity to the Darwin's Theory of Evolution.

    সূত্র: http://ca.answers.yahoo.com/question/index?qid=20111110095707AAsTN1v

    1. 13.1
      অজয় রাউত

      @ এস. এম. রায়হান

      আছেন কোথায়! হিন্দু ধর্মের স্বয়ং ঈশ্বরও 'র‍্যাণ্ডম মিউটেশন ও ন্যাচারাল সিলেকশন' এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রাণীতে (যেমন: মাছ, সরীসৃপ, শূকর, সিংহ) রূপান্তরিত/বিবর্তিত হয়েছে। এমনই বিজ্ঞান-সম্মত এস্মার্ট ধর্ম যে, তাদের ঈশ্বর পর্যন্ত বিবর্তিত হয়। তাও আবার একজন বৃটিশ জিনতত্ত্ববিদ ও বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী তা প্রমাণ করে দিয়েছেন।

      হেঃ হেঃ বিষ্ণুর দশ অবতারের মধ্যে বানর জাতীয় কোনো প্রাণী পাওয়া না গেলেও হিন্দু ধর্মে বানর/হনুমান জাতীয় প্রাণীর অস্তিত্ব ঠিকই পাওয়া গেছে।

      এরপরে ১৩ নং মন্তব্য, বিশাল যদিও উইকির লিংকটা ইচ্ছে করেই দেননি। এই হিন্দু ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ এক ধরনের মর্ষকাম যেটা আপনার সমস্ত শিক্ষাদীক্ষা জ্ঞানবুদ্ধিকে আছন্ন করে ফেলছে। অনেক মজা তো করেন হিন্দু আর বিবর্তনবাদীদের নিয়ে কারন আপনার দৃষ্টিতে বিবর্তনবাদী আর হিন্দু একই জিনিষ, দেখা যাক বিবর্তন বিরোধী মুসলিমদের নিয়ে মজা করলে আপনি কি মনে করেন।

      রাত্তিরে হুইস্কি খেতে খেতে (আমি আবার গোমূত্র মিশ্রিত ভদকা ভালবাসি না) কি স্বপ্ন দেখলাম জানেন, বিবর্তন বিরোধী জিহাদি মুসলিমদের পরবর্তী প্রজন্ম প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে উঠছে, ১৫,২০ ফুট লম্বা হয়ে বিবর্তনবাদী আর হিন্দুদের আঙ্গুলে টিপে মারছে। শক্তির চর্চা করতে করতে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, শেষে যখন প্রায় ৪০ ফুট লম্বা হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন একদিন পায়ের মধ্যে একটা মশা দিয়েছে কামড়, তো শরীরটা এত লম্বা যে কামড়ের খবর মাথায় পৌঁছুতে পৌঁছুতে লেগে গেছে ৭ দিন (বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা না করতে করতে নার্ভাস সিস্টেম তো শুকিয়ে গিয়েছে) ফলে পুরো পাটাই গাংরিনে পচে গেছে। শেষে বেচারা মারাই গেল। ডাইনোসরদের মতই অবলুপ্ত হয়ে গেল বিবর্তন বিরোধী জিহাদি মুসলিমরা।

      1. 13.1.1
        এস. এম. রায়হান

        এরপরে ১৩ নং মন্তব্য, বিশাল যদিও উইকির লিংকটা ইচ্ছে করেই দেননি।

        অন্ধ চোখে মনে হয় দেখতে পাননি। ১৩ নং মন্তব্যটা উইকি থেকে নেওয়া হয়নি। যেখানে থেকে নেওয়া হয়েছে সেই লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে।

        এই হিন্দু ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ এক ধরনের মর্ষকাম যেটা আপনার সমস্ত শিক্ষাদীক্ষা জ্ঞানবুদ্ধিকে আছন্ন করে ফেলছে।

        এরেরেরে! ভূতের মুখে রাম নাম রে! শুধুমাত্র 'এস্মার্ট' শব্দটা ব্যবহার করার জন্য কাউকে যদি হিন্দু ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ, মর্ষকাম, সমস্ত শিক্ষাদীক্ষা জ্ঞানবুদ্ধিকে আছন্ন করে ফেলার অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হয় তাহলে আপনার মতো বর্ণবাদী হিন্দুদেরকে যে কী কী অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হবে তা মনে হয় বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্ণবাদী হিন্দুরা মুক্তমনা, ধর্মকারী, আমারব্লগ, ফেইথফ্রীডম, ইসলাম-ওয়াচ, ও ফেসবুক-সহ অসংখ্য পেজে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে কী পরিমাণ ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে তার অতি সামান্য নমুনা (০.০০০০০০১%) নিচের লিঙ্ক তিনটিতে পাওয়া যাবে। এর পরও মুসলিমরা মনে হয় আপনাদেরকে এত নীচু মানসিকতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেনি।

        http://www.shodalap.org/smraihan/19694/

        http://www.shodalap.org/smraihan/18502/

        http://www.shodalap.org/smraihan/19734/

        অনেক মজা তো করেন হিন্দু আর বিবর্তনবাদীদের নিয়ে…

        হিন্দু আর বিবর্তনবাদীদের নিয়ে কোথায় অযৌক্তিকভাবে কিংবা আপনার মতো হুইস্কি খেয়ে মজা করেছি তার কিছু প্রমাণ দেখান। অন্যথায় মিথ্যা অভিযোগ ছাড়েন।

        কারন আপনার দৃষ্টিতে বিবর্তনবাদী আর হিন্দু একই জিনিষ

        এটাও মিথ্যা অভিযোগ। এইটা আপনার দাবি, আমি কখনো এমন দাবি করি নাই। আমার মুখে কথা গুঁজে দিয়ে নিজেকে জাতে তোলার চেষ্টা করছেন কি-না, কে জানে! তবে এ বিষয়ে আলাদা পোস্ট আসবে। আমি প্রমাণ করে দেব অধিকাংশ হিন্দুই ভণ্ড বিবর্তনবাদী।

        দেখা যাক বিবর্তন বিরোধী মুসলিমদের নিয়ে মজা করলে আপনি কি মনে করেন।

        মজা করলে? মানে ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী হিন্দুরা মুসলিমদের নিয়ে এখনো মজা করেনি? আবারো দিনের আলোয় ডাহা মিথ্যাচার করলেন। উপরে দেওয়া লিঙ্কগুলো দেখুন।

        যাহোক, আপনার মুসলিম-বিদ্বেষী মনন থেকে হুইস্কি গিলে মাঙ্কি ড্যান্স দেখে বেশ মজা পেলুম। আপনিও মনে শান্তি পেয়েছেন নিশ্চয়। মোটের উপর পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ধর্মটা তো মানসিক শান্তি দিতে পারে না। এরূপ আরো মাঙ্কি ড্যান্স দেখার অপেক্ষায় থাকলাম। যখনই মনে অশান্তি অনুভব করবেন তখনই মুসলিম পরিচালিত সদালাপে এসে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ইচ্ছেমতো মাঙ্কি ড্যান্স দিয়ে যাবেন। আপনার মানসিক শান্তির জন্য আমরা এতটুকু ছাড় দিতেই পারি, যদিও আপনাদের ব্লগে যেয়ে আপনাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ মাঙ্কি ড্যান্স দিলে কল্লা নিয়ে আর ফিরা হবে না।

      2. 13.1.2
        শামস

        রাত্তিরে হুইস্কি খেতে খেতে (আমি আবার গোমূত্র মিশ্রিত ভদকা ভালবাসি না) কি স্বপ্ন দেখলাম জানেন, বিবর্তন বিরোধী জিহাদি মুসলিমদের পরবর্তী প্রজন্ম প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে উঠছে, ১৫,২০ ফুট লম্বা হয়ে বিবর্তনবাদী আর হিন্দুদের আঙ্গুলে টিপে মারছে। শক্তির চর্চা করতে করতে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, শেষে যখন প্রায় ৪০ ফুট লম্বা হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন একদিন পায়ের মধ্যে একটা মশা দিয়েছে কামড়, তো শরীরটা এত লম্বা যে কামড়ের খবর মাথায় পৌঁছুতে পৌঁছুতে লেগে গেছে ৭ দিন (বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা না করতে করতে নার্ভাস সিস্টেম তো শুকিয়ে গিয়েছে) ফলে পুরো পাটাই গাংরিনে পচে গেছে। শেষে বেচারা মারাই গেল। ডাইনোসরদের মতই অবলুপ্ত হয়ে গেল বিবর্তন বিরোধী জিহাদি মুসলিমরা।

        মুসলিমদের মধ্যে হুইস্কি খাওয়ার পরিমাণ কম, যদিও শুন্য হওয়া উচিত। এ কারণে পৌরণিক কাহিনীও কম। হুইস্কির গুণে কত সহজে পৌরণিক কাহিনী লিখতে পারেন! তবে সব পৌরণিক কাহিনী হুইস্কি বা মাদকের গুণে না!

        বিবর্তন বিরোধী হলেই মুসলিম জিহাদী মুসলিম হয়ে যায়। বিদ্বেষের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে নিজেই বিদ্বেষের উদ্গীরণ করছেন!

         

      3. 13.1.3
        আহমেদ শরীফ

        রাত্তিরে হুইস্কি খেতে খেতে (আমি আবার গোমূত্র মিশ্রিত ভদকা ভালবাসি না) কি স্বপ্ন দেখলাম জানেন, বিবর্তন বিরোধী জিহাদি মুসলিমদের পরবর্তী প্রজন্ম প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে উঠছে, ১৫,২০ ফুট লম্বা হয়ে বিবর্তনবাদী আর হিন্দুদের আঙ্গুলে টিপে মারছে। শক্তির চর্চা করতে করতে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, শেষে যখন প্রায় ৪০ ফুট লম্বা হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন একদিন পায়ের মধ্যে একটা মশা দিয়েছে কামড়, তো শরীরটা এত লম্বা যে কামড়ের খবর মাথায় পৌঁছুতে পৌঁছুতে লেগে গেছে ৭ দিন (বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা না করতে করতে নার্ভাস সিস্টেম তো শুকিয়ে গিয়েছে) ফলে পুরো পাটাই গাংরিনে পচে গেছে। শেষে বেচারা মারাই গেল। ডাইনোসরদের মতই অবলুপ্ত হয়ে গেল বিবর্তন বিরোধী জিহাদি মুসলিমরা।

         

        ভুল করলেন। বুদ্ধি করে হুইস্কির সাথে কয়েক ছিলিম 'গঞ্জিকা' সেবন করে নিলে নেশাটা আরো ভালো জমতো। এমন হুলুস্থুল স্বপ্ন দেখতেন যে আনন্দে ঘুমের মধ্যে নিজের অজান্তেই উচ্চস্বরে উলুধ্বনি দিয়ে বিল্ডিংসহ মাঝরাতে গোটা পাড়া খবর করে দিতে পারতেন। তারপর সেই তৃপ্তি ও সুখস্মৃতি রোমন্থন করে বেশ কিছুদিন একটা মায়ার ছলনে ভুলে ইউটোপিয়ায় বুঁদ হয়ে থাকতে পারতেন। মিস করলেন, নেক্সট টাইম ভুল করবেন না।

        বাস্তবতা হচ্ছে মুসলিমরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বের এক বিরাট অংশ শাসন করেছে, ভারতবর্ষও শাসন করেছে। এখন আবার নবউদ্যমে উত্থানরত সর্বাধিক সম্প্রসারমাণ ধর্ম হিসেবে ইসলামের আরোহণ নতুন মাত্রায় শুরু হয়েছে, স্বভাবতঃই তা বিশ্বের অন্যান্য প্রধান ধর্মের প্রতি হুমকিস্বরুপ। সনাতনধর্ম নিয়ে আক্ষেপ স্বাভাবিক যদিও তা অর্থহীন, কারণ অপসৃয়মান সংকীর্ণ আঞ্চলিক ধর্মগুলোর পরিণতি কমবেশি একই হয়ে চলেছে। 'মায়া' বা 'ইনকা' দের তুলনায় সনাতনধর্ম আরো কিছুদিন হয়তো বেশি টিকে থাকবে তাও ধর্ম হিসেবে নয়, সাংষ্কৃতিক-রাজনৈতিক কারণে। 'ধর্ম' হিসেবে আবেদন হারিয়ে 'সংষ্কৃতি-ঐতিহ্য' হিসেবে জাতিগত ক্ষেত্রে কোনমতে টিকে আছে, তারপরও অসম্ভব আশায় ভুগে ভুগে অস্তিত্বের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, মুখে যতই 'বিজ্ঞান সমিতি' গঠন করুন _ ভেতরে ভেতরে 'ইসকন' 'হিন্দু পরিষদ' 'নরেন্দ্র মোদি' হৃদয়ে মহাযতনে গোপনে ধারণ করে জাগরণের স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন চিরঅবদমিত, রাজনৈতিক-সাংষ্কৃতিক-ঔপনিবেশিকভাবে চিরপরাধীন সনাতনধর্মীরা। সহানুভূতি ছাড়া আসলে তাদের দেয়ার কিছুই নেই।

        আপনি বরং গ্রীক মিথোলজি আর পুরাণের অবাস্তব কাহিনীগুলো নিয়ে মনের মাধুরী মিশিয়ে আরো কিছু 'যুগান্তকারী' বিবর্তনবাদী তত্ত্ব দাঁড় করানোর চেষ্টা করুন, এটা একটা নতুন জিনিস হবে খুবই প্রমিজিং। ইমাজিনেশন পাওয়ারকে বাড়ান, গভীর রাতের দিকে মেডিটেশনে বসুন আর ওই যে হুইস্কির সাথে গঞ্জিকা বা চরস খুব হেল্পফুল হবে। 'এ্যাবসাঁত' বা 'টাকিলা' হলে খুবই ভাল, কারণ ৭০/৮০% এ্যালকোহল হওয়ায় অল্প খেলে সহজেই নেশা চাঙ্গে উঠে যাবে। আরো ভাল সরাসরি 'এলএসডি' গ্রহণ করলে। এসব বেশি করে খেয়ে এমন 'বিবর্তনবাদি তত্ত্ব' বের করেন যাতে হৈ চৈ পড়ে যায় গোটা দুনিয়ায়। বিবেকানন্দ বলেছেন "জন্মেছিস যখন দেয়ালের গায়ে একটা আঁচড় রেখে যা", আপনি 'আঁচড়' না ডাইরেক্ট খাবলা দিয়ে থাবা মেরে দেয়ালশুদ্ধু ভেঙ্গে চুরমার করে দিন আপনাকে দিয়েই হবে।

        সাফল্যের শুভকামনা রইল।

        * বিঃ দ্রঃ -- গোমুত্রের সাথে কারণবারির মিশ্রণ খুবই গর্হিত কাজ। গোমুত্র সরাসরি আলাদাভাবে ‘মুক্তমনে’ পান করলেই ভাল, সাতসকালে, খালি পেটে, বড়জোর নিজের উত্তপ্ত বাসি মুত্র কিছু মেশাতে পারেন। লালবাহাদুর শাস্ত্রী নাকি পান করতেন, তাতে ভাল ফলও পেয়েছিলেন।

  6. 12
    আহমেদ শরীফ

    বাস্তবতায় কিছুটা উঁকি দিলেও পৌরাণিক কাহিনীর কল্পনা নির্ভরতার সাথে বিবর্তনবাদের অনেকটাই মিলে যায়। ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কারণে পৌরাণিকতার এই কল্পিত কাহিনীকে অনেক ধর্মে বিশ্বাস করতে হয়, কিন্তু বিবর্তনবাদে সেই কল্পনাকে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়। বিবর্তনবাদে ফ্যাক্টগুলা কেবলই কল্পনা! তাই শেষবেলায় বিবর্তনবাদীদের কাছ থেকে বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনায় এতে ‘বিশ্বাস’টাই ঘুরে ফিরে আসে।

     

    উভয় সংকটে ত্রিশঙ্কু অবস্থা বিবর্তনবাদিদের। একদিকে 'যুক্তির প্রয়োগের' আপ্রাণ চেষ্টা, আরেকদিকে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণের অভাবে যুক্তির খেই হারিয়ে 'যুক্তিহীন বিশ্বাস' এর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ। সনাতনধর্মীদের যারা ইসলামফোবিক 'বিবর্তনবাদি' তাদের করুণ এই অবস্থা দেখে সত্যি মায়া হয়, তুলনামূলক গ্রহণযোগ্যতা খুঁজে পেলেও স্বভাবজাত দাম্ভিক জাত্যাভিমানের কারণে ইসলামকে মেনে নিয়েও মেনে নিতে পারে না, নিজেদের অসংলগ্ন অলীক ধর্মবিশ্বাসে কোন যৌক্তিকতা খুঁজে না পাওয়ায় প্রকাশ্যে সেটি সমর্থন করতে পারে না, আবার উদ্ভট গোঁজামিল দিয়ে বিবর্তনবাদ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে এই শেষ আশ্রয়টুকুও বিপন্ন হয়ে পড়ে।

    1. 12.1
      শামস

      @আহমেদ শরীফ,

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

       

  7. 11
    শিহাব

    দারুণ লেখা। এক হিন্দু ছেলে এই কথাগুলো বলেই আমার সাথে গর্ব করছিল এই বলে যে হিন্দু ধর্ম বিজ্ঞান-সম্মত ও বিবর্তনবাদ দ্বারা প্রমাণিত। সে এমনকি এই কথাও বলে যে রামায়ন এর যুদ্ধে নাকি যে বানর সেনাগুলো ছিল তারা বিবর্তনবাদের উদাহরণ। সে আরো বলে যে রামসেতুর বয়স ১৬ লক্ষ বছর ও সাগরের নিচে কৃষ্ণের যে প্রসাদ পাওয়া গিয়েছিল তাই হিন্দুইজম, বিবর্তনবাদ ও বিজ্ঞানের মাঝে সম্পর্ক থাকার কথা প্রমাণ করে।

    1. 11.1
      শামস

      হিন্দু কেন, কোন ধর্মই ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদকে সমর্থন করে না। কিছু হিন্দু যে বিবর্তনবাদের কথা বলে সেটা হিন্দু বিবর্তনবাদ, ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদ নয়। এই হিন্দু বিবর্তনবাদটা, ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদের বিকৃতরূপ। দিনরাত ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদ জপ করাদের উচিত এই বিকৃত বিবর্তনবাদের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া, এই প্রতিবাদ হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে না, হিন্দু ধর্মের যারা বিবর্তনবাদের নামে বিকৃত বিবর্তনবাদকে প্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধে! মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।  

  8. 10
    এস. এম. রায়হান

    বিবর্তনবাদ সব সম্ভবের দুয়ার খুলে দিয়েছে!

    এতদিন ধরে আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে সারা বিশ্বের মানুষ যেগুলোকে পৌরাণিক জন্তু (mythological creatures) হিসেবে জেনে এসেছে, বিবর্তন তত্ত্বের সুবাদে আজ সেগুলো বাস্তবে রূপ নিয়েছে। সেই সাথে পৌরাণিক কল্পকাহিনীতে বিশ্বাসীদের আজ জয়-জয়কার! তারা নিঃসন্দেহে খুশীতে বগল বাজাচ্ছে 😀 এদিকে যে সকল বিবর্তনবাদী-রূপী পেগ্যান নাস্তিক এতদিন ধরে ইসলামে বিশ্বাসীদের নিয়ে কোনো রকম যুক্তি ছাড়াই হাসিঠাট্টা করেছে, তারা তাদের লেঞ্জা পেছনে গুঁজে দিয়ে মুখে আঙ্গুল দিয়ে বসে আছে! এছাড়া তাদের অবশ্য কিছু করারও নাই!

  9. 9
    সরোয়ার

    ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কারণে পৌরাণিকতার এই কল্পিত কাহিনীকে অনেক ধর্মে বিশ্বাস করতে হয়, কিন্তু বিবর্তনবাদে সেই কল্পনাকে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়।

    এটাই হচ্ছে আসল কথা। বরাবরের মত তথ্যপূর্ন এবং প্রাঞ্জল। স্যালুট!

    1. 9.1
      শামস

      মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।

       

  10. 8
    dilruba

    ভাইজান- আল বোরাক পংখি বাদ পরে গেল যে………………

    1. 8.1
      শামস

      বইনগো, কোরান হাদিস ঘেটে বোরাক নিয়ে কি পাইলেন?

      1. 8.1.1
        dilruba

        আরে ধুর ভাই! এত কমন জিনিস প্যাচান কেন? ঐ যে, আমাগো মুসলমাদের এ্যাপলো-১১ পাংখাওয়ালা গাধা………………….

      2. 8.1.2
        এস. এম. রায়হান

        বইনকে বইন বলছেন নাকি আমগো 'মেজভাবী'র মতো উল্টো কিছু একটা হয়ে যাচ্ছে! বিবর্তনবাদে অবশ্য সবই সম্ভব! পাঙ্কচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়াম (punctuated equilibrium) আছে না! 🙂 যাহোক, আপনি হিন্দু ধর্মের পৌরাণিক চরিত্র নিয়ে লিখেছেন অথচ ইসলামের পৌরাণিক চরিত্র এড়িয়ে গেছেন, এজন্য বইন মাইন্ড করেছেন!

    2. 8.2
      আহমেদ শরীফ

      বোরাকের ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে। মি'রাজের রাত্রিতে আল আকসার ক্রীশ্চান পাদ্রীর সাক্ষ্য আছে। ঐতিহাসিকভাবে ইসলামের কিছু বিষয় এমন আছে যা অন্যান্য সেমিটিক ধর্মেও আছে যেমন খ্রীষ্টিয় বা ইয়াহুদি ধর্মে। গ্রীক আর আপনাদের সনাতনী কল্পিত ঠাকুরমার ঝুলিগুলোর ঐতিহাসিক ভিত্তি কি ?

  11. 7
    পাভেল আহমেদ

    পুরা সিরাম পৌরাণিক লেখা! 🙂 😀

    1. 7.1
      শামস

      কি বলেন, বিবর্তনবাদরে ফোকাস করেইতো লেখতে চাইছিলাম। পৌরণিক হয়ে গেল নাকি? 🙂

       

  12. 6
    এম_আহমদ

    বিবর্তনবাদ যে প্রধানত conjecture এর উপর দাঁড়িয়ে, এখানে যে কোনো science প্রতিষ্ঠিত হয় না, ঠেলা-ধাক্কা দিয়ে যা প্রতিষ্ঠা করা যায় তা হয় ধর্মীয় বিশ্বাসের মত এক বিশ্বাস। বিগত কয়েক শতাব্দী ব্যাপী রাষ্ট্রযন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় এক মহলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে বিশ্বাস ঢুকে পড়েছে সেই মহল নিজেদের বিশ্বাসের ব্যাপারে উদাসীন, oblivious. কেবল ছাদে ওঠে মুক্তচিন্তার চিৎকার কিন্তু পরনের লুঙ্গিখানা যে মাটিতে খুলে গিয়েছে সেদিকে খেয়াল নেই, 'মুক্তচক্ষু' অপ্রসারিত। ছুম্মুন, বুকমুন, উমইয়ুন, ফাহুম লা ইয়ারজিয়ূন। 

    1. 6.1
      শামস

      ভালো বলেছেন। ধন্যবাদ।

       

  13. 5
    এস. এম. রায়হান

    বিবর্তনবাদী মোল্লারা কী মহা বিপদেই না পড়েছে! এতদিন ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও পৌরাণিক কাহিনীতে যাদেরকে পৌরাণিক জন্তু (mythological creatures) হিসেবে গণ্য করা হতো, বিবর্তনবাদী মোল্লারা সেগুলোকে আর পৌরাণিক জন্তু বলার সাহস পাবে না! বরঞ্চ বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী সেই পৌরাণিক জন্তুগুলোকে এখন বাস্তব হিসেবে মেনে নিতে হবে! পৌরাণিক কল্পকাহিনী নিয়েও বিবর্তনবাদী কাঠমোল্লাদের হাসিঠাট্টা করার দিন শেষ 😀

    1. 5.1
      শামস

      কল্পকাহিনীর দায়বদ্ধতা ভুলে গেলে হাসিঠাট্টা করা আর এমন কি। বানরের কার্যকলাপ দেখে কে না হাসে, অথচ এরাই কিনা (বিবর্তনবাদীদের)  পূর্বপুরুষ! পূর্বপুরুষদের নিয়া হাসিঠাট্টা করতে পারলে পৌরণিক কাহিনী নিয়েও করতে পারবে! 🙂

       

       

  14. 4
    এস. এম. রায়হান

    আছেন কোথায়! হিন্দু ধর্মের স্বয়ং ঈশ্বরও 'র‍্যাণ্ডম মিউটেশন ও ন্যাচারাল সিলেকশন' এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রাণীতে (যেমন: মাছ, সরীসৃপ, শূকর, সিংহ) রূপান্তরিত/বিবর্তিত হয়েছে। এমনই বিজ্ঞান-সম্মত এস্মার্ট ধর্ম যে, তাদের ঈশ্বর পর্যন্ত বিবর্তিত হয়। তাও আবার একজন বৃটিশ জিনতত্ত্ববিদ ও বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। বিস্তারিত নিচের লিঙ্কে দেখুন।

    British geneticist and evolutionary biologist, J B S Haldane, observed that the Dashavataras (ten principal avatars of Lord Vishnu) are a true sequential depiction of the great unfolding of evolution. These avatars of Vishnu show an uncanny similarity to the biological theory of evolution of life on earth.

    http://en.wikipedia.org/wiki/Hindu_views_on_evolution

    1. 4.1
      শামস

      এটা নিয়ে লেখা, বিবর্তনবাদ বিষয়ে ধর্মগুলোর পরিষ্কার অবস্থান! 

      ধর্মবিশ্বাস ও ডারউইনের বিবর্তনবাদ

      হিন্দু বিশ্বাস মতে বিষ্ণুর দশটি অবতার বিভিন্ন সময়ে আবির্ভাব হয়ে ধর্মকে রক্ষা করেছে [১১]। বিষ্ণুর দশটি অবতার হল মৎস্য, কচ্ছপ, বরাহ (শুকর), নরসীমা, বামন, পরশুরাম, রাম, বলরাম, কৃষ্ণ, ও কল্কি। বিষ্ণুর এই পূণর্জন্মকে বিবর্তনবাদের সমার্থক বলে দাবী করা হয়। ডারউইনের বিবর্তন এককোষী থেকে শুরু হলেও, হিন্দুদের বিবর্তনবাদের শুরু বহুকোষী মাছ (মৎস্য) থেকে। ডারউইনের বিবর্তনবাদের ক্রমের মত, মাছের পরই উভচর প্রাণীর (কচ্ছপ) আগমণকে ‘হিন্দু বিবর্তনবাদ’র সাথে মিল হিসেবে দেখছেন এই ধর্মের বিবর্তনবাদীরা। কিন্তু এরপরে বরাহ (শুকর) এর আবির্ভাব ব্যাপক ছন্দপতন ঘটায়! আরো উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল বিষ্ণুর এই দশ আবির্ভাবের মধ্যে তাকে ‘বরাহ (শুকর)’ হিসেবে পাওয়া গেলেও বানর জাতীয় (!) কোন প্রাণী হিসেবে পাওয়া যায় না! তবে হিন্দু ধর্মের অনেক ‘ট্রাঞ্জিশনাল প্রাণী’র মত বিষ্ণুর একটি ‘ট্রাঞ্জিশনাল অবতার’ ‘নরসীমা’কে পাওয়া যায়! এরকম অনেক কল্পকাহিনীর সাথে বিবর্তনবাদের মিল ও অমিলের মাঝেও সাধারণত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিবর্তনবাদের সমর্থক হিসেবে পাওয়া যায়।

      1. 4.1.1
        এস. এম. রায়হান

        আরো উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল বিষ্ণুর এই দশ আবির্ভাবের মধ্যে তাকে ‘বরাহ (শুকর)’ হিসেবে পাওয়া গেলেও বানর জাতীয় (!) কোন প্রাণী হিসেবে পাওয়া যায় না!

        হেঃ হেঃ বিষ্ণুর দশ অবতারের মধ্যে বানর জাতীয় কোনো প্রাণী পাওয়া না গেলেও হিন্দু ধর্মে বানর/হনুমান জাতীয় প্রাণীর অস্তিত্ব ঠিকই পাওয়া গেছে। রাম-রাবণের যুদ্ধে বানর/হনুমান জাতীয় প্রাণী রাবণকে সাহায্য করেছিল। সেদিন দেখলাম এক হিন্দু এই প্রসঙ্গ তুলে হিন্দু ধর্মকে বিবর্তনবাদের বানর তত্ত্বের সাথে লিঙ্ক করে মুসলিমদেরকে 'বিজ্ঞান-বিরোধী' বলে গালি দিচ্ছে!

  15. 3
    কিংশুক

    দু:খিত, আমি এস এম রায়হান ভাইয়ের লেখা মনে করেছিলাম। শামস ভাই দারুন লিখেছেন।

  16. 2
    কিংশুক

    বিবর্তনবাদীদের চরম ভণ্ডামী, মিথ্যাচার তুলে ধরলেন। সত্য স্বীকার করলে তো তাদের ধর্ম যাবে, ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে, মান ইজ্জত পাণ্ডিত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। বিবর্তনবাদ সম্পর্কে অজ্ঞ মানুষকে এত বছর ধরে ধোঁকা দেয়ায় অনেক মানুষ বিচারও চাইতে পারেন। অতএব, জোরপূর্বক তাল গাছের মালিকানা ধরে রাখতে বিবর্তনবাদকে ধর্মের চাইতেও বেশী প্রশ্নের উর্ধে রাখা হয়, কেউ প্রশ্ন করলেই তাকে নানান ছল চাতুরী করে থামিয়ে দেয়া হয়, অহর্ণিশি বিবর্তনবাদের পক্ষে আজগুবি প্রচারনা চলতেই থাকে। বিবর্তনবাদ চরম সত্য বলে বিনা প্রমাণে মেনে নিলে জ্ঞানী আর সত্যিকারেই যে বিবর্তনবাদের কোন প্রমাণ এত বছরে এত রকম ভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সর্বপ্রকারে জোড়াতালি দিয়েও পাওয়া যায় নাই অর্থাৎ ডারউইনের বিবর্তনবাদ ডারউইনের দেখানো পথে মিথ্যা হয়ে গেছে- এটাই প্রমাণিত সত্য তাহা আর কেউ স্বীকার করতেও রাজিনা, কাউকে জানতে দিতেও রাজিনা। তাদের যেহেতু অর্থ বিত্ত, ক্ষমতা আছে, মিথ্যা তত্ত্বকে প্রচার করলে টাকা পয়সা দেয়ার অনেক গোষ্ঠি আছে তাই যতদিন তাদের হাতে ক্ষমতা থাকবে ততদিন মিথ্যাই সত্য হিসাবে প্রচার পাবে।

    সত্যকে উদঘাটন করে বাংলাভাষী ব্লগারদের নিকট বিবর্তনবাদের আসল কাহিনী জানানোর এই প্রচেষ্টার জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এক সময় ইসলাম বিদ্বেষী ডারউইনের বিবর্তনবাদের চ্যালারা যাদের বেশীর ভাগ না বুঝেই বস্ বলেছেন এজন্য বিবর্তনবাদ সত্য, ইসলামের সৃষ্টিতত্ত্বের বিরুদ্ধে এজন্য বিবর্তনবাদ সত্য হিসাবে বিশ্বাস ও প্রচার করতো তারা উপহাস, মানসিক আঘাত, গালাগালি অনেক করেছে কিন্তু সত্যের সামনে টিকতে না পেরে এখন যারা মোটেই জানেনা সে ধরণের শিকার খুঁজছে। আপনার প্রচেষ্টা সফল হোক এই কামনা।

  17. 1
    ফুয়াদ দীনহীন

    খাইছে শামস ভাই। কি লিখা দিলেন। আরো কিছু বাকি আছে বোধ হয়।

     

    অফ টপিকঃ এক্স ম্যান সিরিজের সিনামা গুলি দেখেছেন? বোধ হয় পোস্টে আসতে পারে। 

    1. 1.1
      শামস

      এক্সমেন দেখা হয়নি। তবে এখন পৌরণিক কাহিনী নির্ভর ছবির জয়জয়কার! বিওলফ, কিং আরথার…………এর বাইরে আছে আধুনিক কেরামতি টাইপের অনেক সিরিজ। এগুলার দর্শকও অনেক মনে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.