«

»

Jun ১৯

দাসত্ব – সভ্যতার মোহ এবং আমাদের ভ্রম!

[ইসলাম দাসত্বকে নির্মূল (!) করেনি, তবে এর কান্ডারীরা দাসমুক্তিতে উৎসাহ দিয়েছেন সামনে থেকেই! তারপরও দাসত্বের ব্যাপারে ইসলাম আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য, আর মুসলিমরাও পুরো ব্যাপারটা নিয়ে যথাযথ জ্ঞানের অভাবে এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যাকফুটেড। সাদাত ভাই তার লেখাতে দাসত্বের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। দাসত্ব নিয়ে যাদের কাছ থেকে ইসলাম আক্রমণের শিকার তাদের অনেকেকেই দেখা যায় সভ্যতা, মানবিকতা, সাম্য, ফ্রিডম ইত্যাদি অনর্গল কপচায়! কোথা থেকে তারা এসব শিখল? যাদের কাছ থেকে শিখল এবং যাদের লেখাগুলোকে আত্মস্থ করে সভ্য এবং মানবিক সেজেছে এ লেখায় তাদের প্রতি সামান্য আলোকপাত করা হয়েছে!]

কেউ স্যুট টাই পড়লে, তা ভিতরে যে জিনিষই থাক – সভ্য বলেই প্রতীয়মান হয়। একসময় এই বঙ্গে ইংরেজী জানাটাই ছিল শিক্ষিত হিসেবে নিজেকে জাহির করার একটা চেষ্টা। ইংলিশ স্পিকিং দেশে ইংরেজী জানা অশিক্ষিত লোকও থাকে! ৯/১১ এর পর বাংলামূলুকে কিছু আদমী দেখা গেল, যারা বেশী বেশী আমেরিকান কিংবা ব্রিটিশ হবার জন্য ইরাক যুদ্ধের পক্ষে জোর সমর্থন দিতো! অথচ ঐ আমেরিকা এবং ব্রিটেনে যুদ্ধবিরোধী মানুষ আছে, সংখ্যায় নগণ্যও নয়! যুদ্ধের বিপক্ষে বড় সড় প্রতিবাদগুলো সেখানেই বেশী হয়েছে। সে সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশের ইরাক নীতি কিংবা বুশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়াটা যেন তাদের কাছে অনেকটা জাত যাবার অবস্থা! অথচ, বুশবিরোধীতা খোদ মারকিনীরাও করেছে। 

গ্রীক সভ্যতার নাগরিকেরা গ্রীক রাজ্যগুলোর বাইরে অন্য জাতিগুলোকে বর্বর বলে মনে করতো, বর্বররা ঠিক মানুষের কাতারে পড়ে না, ফলে তাদের দাস করার মধ্যে এক ধরণের জাস্টিফিকেশন দাঁড় করানো যায়। গ্রীক দার্শনিক এরিস্টেটলও মনে করতেন দাসরা মনিব ছাড়া চলতে অক্ষম, দাসত্ব তাদের সারভাইভালের জন্য অপরিহার্য! আধুনিক সভ্যতাও ইউরোপে প্রাচীন গ্রীক সভ্যতার পূণঃজাগরণ। একদিকে দাসবিদ্রোহ এবং অপরদিকে সাম্প্রতিক ফরাসী বিপ্লবের ধাক্কা – এ দুয়ের মাঝে পড়ে ফ্রান্স ১৭৯৫ সালে দাসত্বকে বিলোপে আইন করে। দাসদের উপর নির্ভরশীল অর্থনীতি হুমকির সম্মুখীন হলে, ১৮০১ সালে থমাস জেফারসন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে অভিষিক্ত হবার পর, নেপোলিয়ন এর বিশেষ দূত ওয়াশিংটনে যান হাইতিতে ফ্রান্সের দাসত্ব আবার চালু করার ব্যাপারে। মানুষের সাম্য, বাকস্বাধীনতার  স্লোগান তুলে স্বাধীনতা অর্জনকারী যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সের সেই দাসত্ব রক্ষায় আবার সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দেয়! উল্লেখ্য নেপোলিয়ন আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের মডেল হিসেবে ফ্রান্সকে গড়তে একজন অগ্রপথিক ছিলেন। যে ফরাসী বিপ্লবের উপর ভড় করে আধুনিক সভ্যতার প্রসার ঘটেছে, মানুষের মুক্তি এসেছে – সেই সভ্যতা কিংবা কাদের মুক্তি তা বুঝায় রয়েছে বিরাট ভ্রম! কায়িক দাসত্ব অনেক কমে গেছে, কিন্তু ওভারঅল দাসত্ব কমেনি – রূপ পাল্টিয়ে তা এখন বিস্তৃত হয়েছে মানসিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক পরিমণ্ডলে। সভ্যতার প্রতি মোহ আপামর সব মানুষের। তাইতো আমেরিকানের চেয়ে বেশী আমেরিকান কিংবা ব্রিটিশের চেয়ে বেশী ব্রিটিশ হবার প্রতিযোগীতা দেখা যায়।  

হলিউডের বিখ্যাত গ্ল্যাডিয়েটর ছবির ম্যাক্সিমাস গ্ল্যাডিয়েটর- একজন দাস! রোমানরা চারপাশের অঞ্চল থেকে দাসসংগ্রহ করত সভ্যতাকে ধরে রাখার জন্য। রোমান কলোসিয়ামগুলো তাদের সভ্যতার জয়গান করে- এগুলোও সেই দাসদের দ্বারা নির্মিত। সভ্যতা গড়ার পিছনের মানুষগুলো এই দাসরাই। রোমান রক্ত বহনকারী ম্যাক্সিমাস আর দশজন সাধারণ দাসের মতো নয়। তার শৌর্য-বীর্য ও রোমান রক্তের কাছে সাধারণ দাসদের গ্ল্যাডিয়েটর হয়ে আত্মাহুতি প্রায় মূল্যহীন! রোমান নাগরিকরা গ্ল্যাডিয়েটরদের জীবণ-মৃত্যুর খেলা পয়সা দিয়ে টিকেট কেটে দেখতো! নাগরিকদের মনোরঞ্জনের জন্য গ্ল্যাডিয়েটররা একে অপরের সাথে রক্তারক্তি করে মারা যেতো – এই রক্ত তখন সভ্যতার ধারকদের আনন্দ দিলেও আধুনিক সভ্যতার অংশীদার হয়ে এখনও দর্শকশ্রোতাদের তা ভাবায় না। কারণ গ্ল্যাডিয়েটরদের পরিচিতির সীমানা এভাবেই টানা হচ্ছে আর শৃঙ্খলিত মানুষ সীমার বাইরে চিন্তা করতে পারে না, তার চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে!  (ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর নামে বিপিএল এর একটা ক্রিকেট টিম আছে, তারা কি গ্ল্যাডিয়েটরদের করুণ কাহিনী জানে!)।

Gladiator_maximus

জীবণ, স্বাধীনতা এবং সম্পদ মানুষের জন্মগত- এই তিন অধিকার রক্ষা করে যে আধুনিক রাজনৈতিক ধারার প্রচলন হয়েছে এবং এখনো বিদ্যমান আছে এর রূপাকার ব্রিটিশ দার্শনিক জন লক  [https://sites.google.com/site/johnlockerocksocks/enlight]। জন লক এর এই ধারণার সবচেয়ে সফল প্রয়োগ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা আন্দোলনে। ১৬০০ – ১৭০০ শতাব্দীর দিকে দাসব্যবসা এতো জনপ্রিয় হয়ে যায় যে, ব্রিটেন, ফ্রান্স, পর্তুগীজ এবং অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো আফ্রিকাতে স্বর্ণ বাদ দিয়ে দাস ব্যবসার দিকে ঝুকে পড়ে। প্রথমদিকে রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানী ছিল দাসব্যবসায় একচ্ছত্র একটি প্রতিষ্ঠান। পশ্চিম আফ্রিকা থেকে দাসদের আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং এর আশে পাশের উপকূলে নিয়ে এনে বিক্রি করতে এই কোম্পানীর বেশ সুনাম ছিল তখন! জন লক সেই কোম্পানীতে মূলধন খাটিয়ে মুনাফা করতেন!  অবশ্য ব্রিটিশ সরকার পরবর্তীতে এই লাভজনক ব্যবসা সামান্য কিছু লোকের মধ্যে কূক্ষিগত না রেখে সাধারণ ব্রিটিশদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার নিমিত্তে এই কোম্পানীর অধিকার খর্ব করেন। ফলে সাধারণ ব্রিটিশরাও দাসব্যবসায় লগ্নি করতে সক্ষম হয়।

John Locke

রমরমা দাস ব্যবসাই ব্রিটেনের নগররাজ্যগুলো গড়তে সহায়তা করে। রাণী এলিজাবেদ-১ ছিলেন প্রথম দিকের একজন অন্যতম দাস ব্যবসার উৎসাহদাতা! ১৬৬০ এর পর ব্রিটেনের অর্থনীতি বৈদেশিক বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যার অন্যতম প্রধান উৎস ছিল প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে করা দাস ব্যবসা! পর্তুগীজ, ফ্রান্স কিংবা অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর চেয়ে ব্রিটিশরা ছিল অগ্রগামী। বিখ্যাত ব্রিটিশ ব্যাংকগুলো ব্রিটেনের অর্থনীতিকে কেবল চালিতই করছিল না, ফ্রান্স কিংবা অন্যান্য যুদ্ধের প্রধান অর্থের যোগানদাতা। লিভারপুলের দাসব্যবসায় জড়িত ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠা করেছিল হেইউড (Heywood), ব্যাংক যা পরবর্তীতে  বারক্লেই (Barclay) ব্যাংক এর অংশ হয়। এছাড়া আছে লয়ড (Lloyd) ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ১৮০০ শতকের ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রধান অর্থের যোগানদাতা। দাসব্যবসাকে চালিয়ে নিতে তাদের ভুমিকা ছিল ব্যাপক।

Slavery_Group Images

এই ব্রিটিশদের বংশধরেরা আমেরিকাতে রেডইন্ডিয়ানদের নির্মমভাবে হটিয়ে ভুখন্ড দখল করে সেখানেও দাসত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। ভার্জিনিয়া জেনারেল এসেম্বলি জুন ১৬৮০ এ ঘোষণা দেয়ঃ “যারা নিজেদের দেশে ধর্ম হিসেবে খৃষ্টান নয় তারা দাস হিসেবে পরিগণিত হবে” এবং “দাস তার মনিবের অবাধ্য হলে, মনিবের কোন দাসকে  হত্যা করাটাও আইনত দন্ডনীয় নয়!” একসময় আমেরিকান ব্রিটিশরা নিজেদের স্বজাতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। লিবার্টি, ফ্রিডম এবং মানুষের সাম্য- এই মূলমন্ত্র নিয় স্বাধীনতার জন্য লড়াই করলেও এর মূলে ছিল দাসব্যবসা এবং সম্পদের ভাগাভাগি। আমেরিকান ফাউন্ডিং ফাদার জর্জ ওয়াশিংটন মানুষ হয়েছেন দাসদাসী এবং বিত্তবৈভব এর মধ্যে থেকেই। তার পিতার ১১ জন দাস ছিল! জর্জ ওয়াশিংটন এক ধনী মহিলাকে বিয়ে করার পর তার দাসের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮৬ তে। তাছাড়া তিনি ১৭০০০ একর জমি পান, যা তাকে ভার্জিনিয়ার প্রথম দশ জন ধনীর একজন হিসেবে পরিণত করে। দাসদের দ্বারা উৎপাদিত পণ্য ইউরোপের বড় বড় শহরগুলোতে নাগরিকদের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য দিতো। ১৭৫৯ সালে এই দাসদের দ্বারা তামাক চাষ করে ইংল্যান্ডে বিক্রির জন্য পাঠালে ব্যাবসা সফল হয়নি, আরো অনেক দাসমালিকের মতো জর্জ ওয়াশিংটনও ঋণে জড়িয়ে পড়েন। সেটা ছিল আমেরিকার জন্য এক টার্নিং পয়েন্ট, যা ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতার আন্দোলন পর্যন্ত গড়ায়! ১৭৬৫ সালে পার্লামেন্টে প্রথম ব্রিটেনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া হয় একটি এক্ট এর মাধ্যমে যা ধীরে ধীরে সশস্ত্র আন্দোলনে রূপ নেয়।

Jeff Washington

১৭৭৬ সালে স্বাধীনতার ঘোষণায় আমেরিকার ফাউন্ডিং ফাদার এবং স্বাধীনতার ঘোষণার প্রধান লেখক থমাস জেফারসন উল্লেখ করেছিলেন  “We hold this truth to be self-evident, that all men are created equal, that they are endowed by their creator with certain unalienable rights, that among these are life, liberty and the pursuit of happiness. That to secure these rights, governments are instituted among men, deriving their just powers from the consent of the governed”। থমাস জেফারসন কালো আফ্রিকানদের অবদমিত থেকে ভবিষ্যতে একটি সুস্থ আমেরিকা গঠনের ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু, তিনি কালো আফ্রিকানদের মানুষের চেয়ে নিচুস্তরের বলেই মনে করতেন! দাসরা ছিল তার কাছে, তার সুখের জন্য কাজ করে যাওয়া বেগার খাটা শ্রমিক। জেফারসন তার ৮৩ বছরের জীবণে মোট তিনজন দাসকে মুক্তি দেন এবং আরো ৫ জনকে মুক্ত করার উইল করে যান! তিনি ১৮২৬ সালে যখন মারা যান সেই সময়েও তার ৫ টি ফার্মে মোট ২০০ জন দাস কর্মরত ছিল। জেফারসনের অনেক ঋণ ছিল, এ থেকে মুক্ত হতে তিনি ১৩০ জন দাসকে ১১০০ ডলারে ভার্জিনিয়া বিশব্বিদ্যালয়ে বিক্রিও করেছিলেন যাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশুও ছিল! মারা যাবার পূর্বে সে তিনটি জিনিষের জন্য স্মরণীয় হবার বাসনা ব্যক্ত করেন, যেগুলো হল – ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতীক ভার্জিনিয়ার স্ট্যাচু, তার নির্মিত ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণা। সেই স্বাধীনতা কালো দাসদের জন্য না! এখনও যেমন স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং সম্পদের হিস্যা সবার জন্য না!

Am I not a man and brother

কালো আফ্রিকান দাসরা পুরোপুরি মানুষ নয় – অন্যান্য প্রাণীদের মতো তাদেরকে দিয়েও তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে খাটানো যায়! সেটাই হয়েছে। অবশ্য দাসরা একসময় শারিরীকভাবে মুক্ত হয়েছে সফল সামাজিক এবং সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যেম। অবশ্য এর কৃতিত্ব তারা এখনো সেভাবে পায় না! সময় এবং স্থানে দাসত্ব নানাভাবে এসেছে। প্রাচ্যের দাসত্ব (মূলতঃ গৃহদাস), পাশ্চাত্যের দাসত্বের (উৎপাদন দাস) মতোও নয়! দাসত্ব রূপ পাল্টায়, ব্যাপ্তি এবং কৌশল পাল্টায়- কিন্তু আধুনিক দাসরা সেটা বুঝতে পারে না! 

 

সুত্রঃ

১. A Short History of Western Thought, Stephen Trombley, Atlantic Books, London

২. Africans in America, Africa’s Journey through Slavery (DVD)

৩. http://www.bbc.co.uk/history/british/abolition/building_britain_gallery_02.shtml

৪. http://www.voice-online.co.uk/article/how-african-slaves-created-prosperous-new-britain

৫. http://www.bbc.co.uk/ethics/slavery/ethics/philosophers_1.shtml

 

 

২২ comments

Skip to comment form

  1. 11
    পাভেল আহমেদ

    বেশ তথ্যবহুল গবেষণামূলক একটি লেখা। দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে অনেক পরিশ্রম করে লেখা হয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে এধরনের আরও চমৎকার কিছু লেখা পাব আমরা আপনার কাছ থেকে। 🙂

  2. 10
    শাফিউর রহমান ফারাবী

    ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে উনারা যুদ্ধবন্দী হয়েছিল তা আমি এখানে আলোচনা করেছি http://farabiblog.com/?p=302

  3. 9
    সাদাত

    দাসত্ব রূপ পাল্টায়, ব্যাপ্তি এবং কৌশল পাল্টায়- কিন্তু আধুনিক দাসরা সেটা বুঝতে পারে না!

    এক বাক্যে অনেক ব্যাপক একটি কথা বলে ফেলেছেন। ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণমূলক দারুণ একটি লেখা  লিখেছেন। তবে লেখাটার সমাপ্তিতে একটু তাড়াহুড়োর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন আরো অনেক কিছুই বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কোন কারণে আকস্মিকভাবে শেষ করে দিলেন। যা হোক, দাসপ্রথা এবং ইসলামকে আলাদা করে বুঝতে আপনার লেখাটি যথেষ্ট সহায়ক হবে বলে আশা করছি।

  4. 8
    ফাতমী

    আপনার লেখাটা আরো বড় হতে পারত, কেন জানি ভূমিকা ভূমিকা মনে হচ্ছে।

    1. 8.1
      শামস

      @ফাতমী ভাই, খূব দীর্ঘ করতে চাইনী, কিছু রসদ দিয়েছি মাত্র! দাসত্ব নিয়ে আমার আগের একটা লেখা ছিল (এখানেঃ দাসত্ব বর্ণবাদ ও মানবধর্ম )। এ নিয়ে আরো কিছু লেখার ইচ্ছে আছে যদি সময় কুলোয়! ডারউইনের বিবর্তনবাদের প্রেক্ষাপটও আসবে! 

      ধন্যবাদ।

       

  5. 7
    মুনিম সিদ্দিকী

    শামস ভাই বরাবরের মত অন্যোন্য হয়েছে এই ব্লগটিও। ধন্যবাদ।

    1. 7.1
      শামস

      ধন্যবাদ মুনিম ভাই! 

  6. 6
    mahfuz08

    @শামস :

    ভাই, আপনার পোস্টটি আজই পড়লাম এবং এটা খুবই ভালো লেগেছে।

    বিশেষ করে আপনি বেশ কিছু সাল উল্লেখ করেছেন।

     

    আপনি যদি ভারতবর্ষ, আরবের অঞ্চল, চিন, রাশিয়া, এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, গ্রীস, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ায় প্রাচীণ কালে কোন সময় কি ধরণের দাস প্রথা প্রচলিত ছিলো, তাদের সংগ্রহের কৌশল কি ছিলো, তাদের সাথে কি রুপ ব্যাবহার করা হতো, তাদের অধিকার কোথায় কেমন ছিলো, তাদেরকে কি ভাবে নির্যাতন করা হতো, তাদের ব্যাপারে কি কি আইন প্রচলিত ছিলো, দাসদের বিদ্রোহ ও আন্দলন, ইত্যাদির ব্যাপারে একাধারছে সিরিয়াল পোস্ট দিতেন তবে খুবই ভালো হতো এবং অনেক কিছু জানা যেত।

     

    যদিও আপনার এই পোস্টেই উপরের বলা অনেক কিছুই রয়েছে।

    তবুও আমি এই ব্যাপারে আরো জানতে আগ্রহী।

    এই বিষয়ে বাংলাদেশে বাংলাতে কি কি বই পড়লে আরো তথ্য জানা যেতে পারে?

     

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।

     

    1. 6.1
      শামস

      @mahfuz08,

      আমার লেখার নীচে কিছু সুত্র দেয়া আছে, এর বাইরেও প্রচুর লিঙ্ক ইন্টারনেটে পাবেন। বাংলাতে দাসপ্রথা নিয়ে কোন বই এখনো পড়া হয় নাই, আছে কিনা জানিনা, দূঃখিত সাহায্য করতে পারলাম না।

      পড়া ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ!

       

  7. 5
    কিংশুক

    Free Thinker আলী সিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মনের মাধুরী মিশিয়ে ঘৃণা ছড়ানোর সময় নিজেকে নাস্তিক দাবী করে। একই সাথে তার সাইটে ইহুদি,হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধরা নিজেদের ধর্মের গুনকীর্তন করে। সে নিজে ইজরাইল, কাশ্মিরিদের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের হত্যাযজ্ঞের সাফাই গায়। খ্রিস্ট ধর্মের গুনকীর্তন করে। এখন দেখা যাচ্ছে, পুরোপুরি খ্রিস্টান মিশনারী হয়ে গেছে। আমি কিংশুক দেহ, আত্মা, মন নিয়ে গঠিত, কোন জিনিসের দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা থাকলেও তা একই জিনিস বলে সর্বশক্তিমান আদি অন্তহীন সৃষ্টিকর্তার মনুষ্যরুপী পুত্র, পবিত্র আত্মা সবকিছু মিলে আসলে এক ইশ্বর বুজায়! খ্রিস্টান, ইহুদিদের কাছ থেকে কয় মিলিয়ন পেয়েছ কে জানে? পড়ে দেখেন: http://www.faithfreedom.org/trinity-for-dummies/

    হিন্দু, খ্রিস্টান,বৌদ্ধদের ঐক্যের চেষ্টা (ইসলামকে রোখার জন্য): http://akshat.freedombulwark.com/?p=13&utm_source=feedburner&utm_medium=feed&utm_campaign=Feed%3A+FreedomBulwark+%28Freedom+Bulwark%29

         তাদের সার্বক্ষনিক ঘৃণাবাদের প্রচারের ফলেই শ্রীলংকা, মিয়ানমারে আজ বৌদ্ধ কর্তৃক মুসলমান নিধন চলে। পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলামের বিরুদ্ধে দাস প্রথা চালু, কোটি কোটি বিধর্মী নিধন, মুহাম্মদ সা:, কোরআন বিষয়ক হাবিজাবি অপপ্রচারের ফলে ইসলাম বিদ্ধেষ সাধারন মানুষের মনে ছড়িয়ে পড়েছে।

  8. 4
    কিংশুক

    বরাবরের মতোই অসাধারন লিখেছেন শামস ভাই। এই তথ্যগুলো আমার মনে হয় পৃথিবীর খুব কম মানুষই জানে। আপনার লেখাটা ফেইথ ফ্রিডমের আলী সিনা ও মুক্তমণা আবাল কাশেম গংদের পড়ানো উচিত। তারা  সারা পৃথিবীর সবাইকে দাসপ্রথার জন্য ইসলাম দায়ী, মুসলিমরা দাস ব্যবসা করানোর জন্য ইসলামের নামে যুদ্ধ করেছে, মিলিয়ন মিলিয়ন হিন্দু, খ্রিস্টানকে দাস বানিয়েছে; মিলিয়ন মিলিয়ন হিন্দু খ্রিস্টানকে মেরে ফেলেছে- এ প্রচারনা চালিয়ে সারা পৃথিবীর মানুষের মধ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। অথচ প্রকৃত ইতিহাস যে অনেকটাই ভিন্ন তার কোন প্রচার নেই। মানব মুক্তির মহামান্য আধুনিক ব্যক্তিদের যে পরিচয় দিলেন তা সত্যিই রোমহর্ষক।    

    1. 4.1
      শামস

      @কিংশুক, 

      আলী সিনা, আবুল কাশেমদের মনিবরা নিশ্চয়ই তাদের নিয়ে খুশী! 

  9. 3
    Ashraf Mahmud

    গুড জব শামস। জাজাকাল্লাহ।

    আক্ষরিক অর্থেই প্রাচীন সেই দাসত্ব এখনও আছে। তবে তা' খুব কমই রিপোটিং হয়। প্রশাসন ও লোকচক্ষুর অন্তরালে। অনুসন্ধান চালালে বাংলাদেশেই পাওয়া যাবে প্রচুর। এবং প্রায় সব দেশেই। যেমন প্রকাশ পেয়েছে নিচের ভিডিওতে।
    https://www.youtube.com/watch?v=8ZbvE1G87Mw

    বর্তমান সভ্যতায় অন্য ধরণের দাসত্ব চালু হয়েছে বা চলমান আছে। এবং তা' হচ্ছে -- অদৃশ্য দাসত্ব। এ আরো ভয়াবহ। নিজের অজান্তেই তা' মানুষকে শৃঙ্খলিত করে ফেলে। এবং ফেলছে। Mind Control, Indoctrination, Misinformation, Mind Diversion ইত্যাদি কৌশলে। এর চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পাবে দাজ্জালের আবির্ভাবের সাথে সাথেই। এ এক ভয়াবহ অবস্থা।

     

    1. 3.1
      শামস

      @Ashraf Mahmud, 

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

       

  10. 2
    এস. এম. রায়হান

    এই বিষয়টা নিয়ে আমি সেভাবে চিন্তা বা পড়াশুনা কোনোটাই করি নাই। তবে লেখাটি থেকে নতুন কিছু তথ্য জানতে পারলাম। সেই সাথে আমার জানার জন্য কিছু প্রশ্ন রাখলাম-

    ১. দাসত্ব বা দাস প্রথা বা ক্রীতদাস প্রথা'র সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা আছে কি-না। ইসলামে সে'রকম দাস প্রথা বলে আদৌ কিছু আছে কি-না। আমার জানামতে কোরআনের কিছু আয়াতে যুদ্ধবন্দীদের কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধবন্দীদেরকে 'দাস/ক্রীতদাস' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা ঠিক হচ্ছে কি-না।

    ২. কোরআন-হাদিসের কোথাও কি লিখা আছে যে, ইসলাম দাস প্রথাকে নির্মূল করেনি। কিংবা ইসলামের কোথাও দাস প্রথাকে উৎসাহিত করা হয়েছে কি-না। উভয় ক্ষেত্রেই উত্তর যদি "না" হয় তাহলে আমরা নিজেরা কেন স্বীকার করে নিচ্ছি এই বলে যে, ইসলাম দাস প্রথাকে নির্মূল করেনি।

    ৩. "দাস প্রথাকে নির্মূল" বলতে ঠিক কী বুঝানো হয়। এই "নির্মূল" কে কোথায় করেছে। এটা কি লিখিতভাবে করা হয়েছে। কোন্‌ প্রেক্ষাপটে করা হয়েছে। দাস প্রথাকে নির্মূল করার প্রশ্ন তখনই আসবে যখন কোনো সমাজে দাস প্রথার অস্তিত্ব থাকবে। যেমন বাইবেলে দাসদের উপর বেশ কিছু অমানবিক ভার্স আছে। এগুলোর উপর ভিত্তি করে খ্রীষ্টানরা দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্ণাঙ্গদেরকে দাস বানিয়ে তাদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। এজন্যই আমেরিকাতে বা খ্রীষ্টান বিশ্বে দাস প্রথাকে নির্মূলের প্রশ্ন এসেছে। আর হিন্দু ধর্মে তো শূদ্রদেরকে জন্মসূত্রেই দাস বানিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু ইসলামের ক্ষেত্রে দাস প্রথাকে নির্মূল করার বা না করার প্রশ্ন আসছে কেন।

    লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।

    1. 2.1
      মাহফুজ

      @ এস এম রায়হান
      ভাই, খুবই যুক্তিপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। এ ধরনের কয়েকটি প্রশ্ন সাদাত সাহেবের পোষ্টে আমিও করেছিলাম। কিন্তু তিনি এসবের উত্তর না দিয়ে বরং মুছে দিয়েছেন এবং আমাকে তার লেখায় মন্তব্য করতে নিষেধ করেছেন!! যারা এসব বিষয়ে লেখেন, তাদেরকে অবশ্যই সে সম্পর্কে কৌতূহলী মানুষের প্রশ্নের জবাব দেয়ার মত ধৈর্য ও সামর্থ অর্জন করা উচিত।
      আপনাকে এখানে আমন্ত্রণ- ইসলাম কি দাসপ্রথাকে আদৌ সমর্থন করে? 

    2. 2.2
      শামস

      @রায়হান ভাই, আমার জানামতে কোরান ও হাদিসে দাসদের মুক্তির ব্যাপারে যেভাবে বলা হয়েছে অন্য কোন কিতাবে সেভাবে বলা হয়নি! ইসলামী রীতি অনুসার  যুদ্ধবন্দীদের ক্রীতদাস বানানো যায়, কিন্তু এর জন্য অনেক শর্ত আছে, আর ব্যাপারটা মিউচুয়াল। দাসত্বের ইউনিভার্সাল সংজ্ঞা জানা নেই, তবে তা বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। সাধারণত প্রাচ্যে দাসরা সাধারণত গৃহস্থালীর কাজে নিয়োজিত সেখানে ইউরোপে এবং প্রাচীন কিছু সভ্যতায় দাসদের উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হতো।আবার ইউরোপিয়ানদের করা দাসত্ব চরম বর্ণবাদী ধারণা প্রসূত!  কাগজে কলমে আধুনিক ইউরোপিয়ানরা সবার আগে দাসপ্রথা উচ্ছেদ করেছে, অথচ দেখুন যে বর্ণবাদী ধারণা থেকে তাদের দাসপ্রথার চর্চা সেই বর্ণবাদ তারা তিন-চার দশক আগেও দক্ষিণ আফ্রিকায় বলবত রেখেছিল।মারটিন লুথার কিংদের সিভিল রাইটের জন্য আন্দোলন করতে হয়েছিল! আব্রাহাম লিঙ্কনের নাম আসে খুব জোরেশোরে, অথচ দাসবিদ্রোহই ছিল ইউরোপিয়ানদের দাসপ্রথা উচ্ছেদের প্রধান কারণ। একসময় গ্ল্যাডিয়েটরা প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিল, প্রতাপশালী রোমান সেনাবাহিনীকে অনেকবার প্রযদুস্ত করেছিল। আধুনিক ইউরোপেও কালো দাসরা বিদ্রোহ করে তাদের সভ্যতাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছিল। দাসবিদ্রোহ থেকেই হাইতি ফ্রান্স থেকে প্রথম স্বাধীনতা লাভ করে, যার ঢেউ অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রথমদিকে ইউরোপিয়ানরা খৃষ্টান ধর্মের দোহাই দিয়ে দাসপ্রথাকে বৈধতা দান করলেও এই খৃষ্টান ধর্মেরও দাসবিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা ছিল। আপনি সাদাত ভাইয়ের পোস্টটিতে দাসপ্রথা নিয়ে ইসলামের অবস্থানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাবেনঃ দাসপ্রথা ও ইসলাম  

  11. 1
    মাহফুজ

    আপনি বলেছেন- //ইসলাম দাসত্বকে নির্মূল করেনি, তবে এর কান্ডারীরা দাসমুক্তিতে উৎসাহ দিয়েছেন সামনে থেকেই!//
    ……………..
    আপনার এই বচন যদি সত্যি হয়, তাহলে সামনে থেকে বলাও যা, পেছন থেকে বলাও তাই!
    আর আপনাদের এরূপ দুমুখো দৃষ্টিভঙ্গি ও বক্তব্যের কারণেই দাসত্বের ব্যাপারে ইসলাম আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য, আর মুসলিমরাও কোনঠাসা হওয়াটাই স্বাভাবিক নয় কি?

    আপনি যদি বলতেন- "ইসলামের মূলগ্রন্থ আল-কোরআনে দাসত্বকে নির্মূল করার সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং এ কারণেই ইসলামের কান্ডারীরা দাসমুক্তিতে উৎসাহ দিয়েছেন সামনে থেকেই"- তাহলে বক্তব্যটি একেবারে পরিষ্কার হয়ে যেত।
    ধন্যবাদ-

    1. 1.1
      শামস

      @মাহফুজ,

      আপনি দাসত্ব এবং দাসমুক্তি দুটো জিনিষকে এক করে ফেলেছেন। এই আধুনিককালে দুটি পক্ষের যুদ্ধে একপক্ষ আরেকপক্ষকে প্রিজনার অব ওয়ার করে, আগের দিনে সেটার ভার্সন ছিল 'দাসত্ব', এটা অতি প্রাচীন একটি প্রাক্টিস এবং এর ব্যপ্তি ছিল সর্বব্যাপী। যে আফ্রিকা ছিল আধুনিক ইউরোপিয়ান দাসপ্রথার উৎস, সেখানে সাদা ইউরোপিয়ান কিংবা তার আগের আরবরা যাওয়ার আগেও দাসপ্রথা ছিল বহাল তবিয়তে। একগোত্র আরেক গোত্রকে দাস করত এবং আফ্রিকার বাইরে বিক্রি করতো। গ্রীক কিংবা রোমানদের কাছে দাসরা ছিল অনেকটা খনির মতো। তারা রাজ্য বিস্তার করতো, যাতে খাজনার ক্ষেত্র বাড়াতে পারে এবং সহজলভ্য দাস পেতে পারে। প্রাচীন গ্রীস এবং রোমে কোন কোন রাজ্যে দাসরা মূল জনগোষ্ঠীর একতৃতীয়াংশ ছিল। প্রাচীন মিশরের পিরামিডগুলো দাসদের অবদান, বিজিত অঞ্চল থেকে এই দাসদের ধরে আনা হতো। মুসলিমরা যদি একটা পক্ষ হয় এবং তাদের দাস হবার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তারাও বিজিতদের দাস করবে- এটা সরল, বাস্তব এবং যুক্তিসঙ্গত নিয়ম। দাসদের মুক্তির ব্যাপারটা আসে পরে! এই আধুনিককালে যদি কোন মুসলিম পক্ষ অন্য পক্ষকে পরাজিত করে তাহলে এখন আর 'দাস' করবে না করবে 'প্রিজনার অব ওয়ার' কারণ অন্তঃতপক্ষে আক্ষরিক অর্থে বিরোধীকোন পক্ষই দাস করছে না! পুরো ব্যাপারটাকে বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, দাসমুক্তিতে ইসলামের বিশাল কৃতিত্ব আছে, কিন্তু দাসত্বকরণে এর দায় নেই!

      দাসত্ব নিয়ে আপনি সাদাত ভাইয়ের পোস্টটি খোলামনে আবার পড়ুন, আপনি ব্যাপারটা নিয়ে খুব দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন! 

      ভালো থাকুন।

       

       

      1. 1.1.1
        মাহফুজ

        আপনি বলেছেন- //প্রাচীন মিশরের পিরামিডগুলো দাসদের অবদান, বিজিত অঞ্চল থেকে এই দাসদের ধরে আনা হতো। মুসলিমরা যদি একটা পক্ষ হয় এবং তাদের দাস হবার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তারাও বিজিতদের দাস করবে- এটা সরল, বাস্তব এবং যুক্তিসঙ্গত নিয়ম। দাসদের মুক্তির ব্যাপারটা আসে পরে!//

        আপনার পোষ্টে আপনি ঐতিহাসিক বেশ কিছু উদাহরণ দিয়েছেন। যারা জানেন না তারা এসব তথ্য জেনে নিতে পারেন। কিন্তু এই উদাহরণ টেনে যদি আপনি "ইসলাম দাসত্বকে নির্মূল করেনি!"- এ ধরনের কন্ট্রডিক্টরী মতবাদ প্রচার করতে চান, তাহলে তা মুসলিমদের জন্য খারপ ছাড়া ভাল কিছু বয়ে আনতে পারেনা।

        দাসদের অবদানের কথা বলে কোন মানুষকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে রাখার জন্য সাফাই গাওয়া কখনই ইসলামের নীতি নয়। আপনাদের কথা অনুসারে মুসলিমদেরকে দাস বানিয়ে রাখা হলে, বিজিতদেরকেও দাস বানিয়ে রাখায় কোন অসুবিধা নেই। এরূপ উদ্ভট ধরনের সরল, বাস্তব এবং যুক্তিসঙ্গত নিয়ম আপনারা কই থেকে আমদানি করলেন- তা মহান আল্লাহতায়ালাই ভাল জানেন। অথচ যেখানে আল-কোরআন সব সময় দাস-মুক্তির কথাই বলেছে। এই একই ট্রিক্স খাটিয়ে তো আপনারা দাবি করতে পারেন যে, শত্রুদের হাতে মুসলিমরা ধর্ষিত হলে, বিজিত শত্রুদেরকে বন্দি কোরে প্রমাণ সাপেক্ষে ধর্ষণের শাস্তি না দিয়ে বরং নির্লজ্জভাবে তাদেরকেও ধর্ষণ করা আপনাদের জন্য হালাল হয়ে যাবে- হায় হায়, এরূপ আচরণ করার চিন্তা কোন প্রকৃত মুসলিম কি কখনও করতে পারে!!?? মনে রাখবেন- এরূপ বিকৃত কর্মকে জায়েজ ভেবে তা করা, এমনকি যারা এরূপ অশ্লীল ও বিকৃত চিন্তা করে কিংবা তা সাপোর্ট করে অন্যকে তা করার জন্য উস্কে দেয়- তারা অবশ্যই চরম গোনাহর মধ্যেই আছেন।

        আপনি বলেছেন- //দাসত্ব নিয়ে আপনি সাদাত ভাইয়ের পোস্টটি খোলামনে আবার পড়ুন, আপনি ব্যাপারটা নিয়ে খুব দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন!//

        না, আমার মধ্যে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই। সাদাত সাহেবের পোষ্টের শুরুতে যে হাদিছটি উল্লেখ করা হয়েছে- তা দেখার পর সেই পোষ্টটির বাকি কথা বিশ্বাস করার মত রুচি কোন বিবেক সম্পন্ন বিশ্বাসী মানুষের থাকতে পারেনা। কারণ যারা বন্দি অসহায় নারীকে ধর্ষণ করার পরও আল্লাহর অনুকম্পা পাওয়ার জন্য দেন দরবার করা হয়েছিল বলে মিথ্যাচার করে, তাদের পোষ্টের ভেতরে যে মিষ্টি কথার কুট যুক্তিতে ধর্মান্ধ সরল মনাদেরকে পথভ্রান্ত করার সকল অপকৌশলই অবলম্বন করা হয়েছে- তাতে কোন সন্দেহ নেই। আর সে কারনেই সেখানে কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আমাকে ও সত্যকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছিল!!?

        1. 1.1.1.1
          শামস

          @মাহফুজ,

          আপনাকে বোঝানোর সামর্থ্য আমার নাই, সেই জ্ঞানও নাই! আপনাকে সাদাত ভাইয়ের পোস্টটা পড়তে বলছি, ওখানেই বিস্তারিতভাবে এর উল্লেখ আছে, এই পোস্টে সেগুলা আবার টেনে আনা অর্থহীন। ইসলামে দাসত্বের অবস্থান নিয়েও আমার এই লেখা না, তাই অনুরোধ থাকবে এ নিয়ে এখানে আর অযথা প্যাচাল পাড়বেন না, সেই সময় বা ইচ্ছা কোনটাই এখন নাই!

          ধন্যবাদ।

           

      2. 1.1.2
        মাহফুজ

        সাদাত সাহেবের সেই হাদিছ-
        পোষ্ট- "ইসলামে ক্রীতদাসি ও যুদ্ধবন্দিনীর সাথে যৌন সম্পর্কের বৈধতার স্বরূপ"
        সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস, ফাতাওয়া ও আইন
        সূত্র-৩ (হাদিস)

Leave a Reply

Your email address will not be published.