«

»

Jul ০৬

ধর্মনিরপেক্ষ বস্তুবাদী সমাজ এবং সমকামী বিয়ে!

কিছুদিন আগে আয়াল্যান্ডে সমকামী বিয়েকে ভোটাভুটির মাধ্যমে বৈধতা দেয়া হয়। এতে বিষ্মিত হইনি তবে কিছুটা শংকিত হয়েছি। বিষ্মিত হইনি কারণ ধর্মনিরপেক্ষতা এবং প্রগতিশীলতার ধারাবাহিকতায় এটাই হবার কথা। কিন্তু শংকিত হয়েছি, কারণ এরপর কি – অজাচার বা আরো প্রগতিশীল (!) কিছু। এ নিয়ে কিছু লিখব ভাবছি, তখন দেখলাম যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রীম কোর্ট সব রাজ্যে সমকামী বিয়ের বৈধতার উপর রায় দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং আয়ারল্যান্ডে বৈধতার ধরণ ভিন্ন হলেও তাদের মধ্যে মিল আছে! জনগণের সমর্থন দুটোতেই আছে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ! আয়ারল্যান্ডে সেটা হয়েছে ভোটাভুটির মাধ্যমে, বেশ তাৎপর্যপূর্ণ! ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল বলে দাবী করলে, একে সমর্থন করলে এর মধ্যে বেড়ে উঠলে সমকামীতা প্রত্যাখ্যানের মধ্যে যৌক্তিকতা খোঁজাটা অবান্তর। যাই হোক, লেখার শিরোনামে সমকামীতা বিষয়টা থাকলেও (‘সমকামী বিয়ে’) সমকামীতা লেখার ফোকাস নয়, একটা উপলক্ষ মাত্র। সমাজে সমকামী বিয়ের বৈধতা হল ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রগতিশীলতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা – ইত্যাদি ওজনদার সব দার্শনিক বিষয়ের প্রত্যাশিত ফলাফল।

আমাদের দেশে প্রগতিশীলতা এখনও শ্লোগান সর্বস্ব, একে সেভাবে ধারণ করার মতো লোক নেই। একসময় সোভিয়েতনির্ভর বামরা প্রগতিকে ধারণ করতো! সমাজতান্ত্রিক প্রগতিশীলতা ঈশ্বরহীন, কিন্তু পাশ্চাত্য প্রগতিশীলতা ঈশ্বরকে কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে সীমাবদ্ধ করে। সমাজতন্ত্র বিগত হওয়ায়– কিছু রেশ এখনও থাকলেও আদতে সেই প্রগতিশীলতা এখন নেই। দেশে যেটা আছে সেটা হচ্ছে হাইব্রিড প্রগতিশীলতা। অবস্থাদৃষ্টে যাকে একটা ভিত্তির উপর দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মনে হয়।

[pullquote]এদেশের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ইসলাম ধর্মে সংস্কৃতির এডাপ্টেশন এর পরিবর্তে, ইসলামকে সংস্কৃতির মধ্যে এডাপ্টেশন হিসেবে দেখাতে চায় এবং তা করতে পেরে খুশী হয়। এইসব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের কাছে ইসলাম কখনই প্রায়োরিটির কিছু না; ইসলাম গৌণ বা হয়তো কিছুই না।[/pullquote]

আগাচৌ’র (আব্দুল গাফার চৌধুরী) বক্তব্যেও আয়ারল্যান্ডের সমকামী বিয়ের পক্ষে ভোটের ফলাফলের মতো অবাক হইনি। তার বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী, মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম ইত্যাদি নিয়ে লেখালেখি কিছু পড়লেও এরকম আপাত মুক্তমনা স্ট্যাইলে ইসলাম ধর্মকে দেখার সাথে পরিচিত নই! মুক্তমনারাও প্রমাণ করার চেষ্টা করে ‘আল্লাহ’ মূলত আরবী পৌত্তলিকদের দেবতা এবং ইসলামের মধ্যে পৌত্তলিকতাকে ব্লেন্ড করার তাদের নিরন্তর চেষ্টা চলে! অবাক হইনি কারণ জানতাম আগাচৌ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী। মুক্তমনার ট্রেডমার্ক ইসলাম বিদ্বেষী, অবশ্য এখন তাদের সবাই নাস্তিক (এটা একটা গালি!)। লতিফ সিদ্দিকী কিংবা আগাচী’রা ইসলাম বিদ্বেষী না, যেই ভুলটা অনেকে করতে পারে, যদিও কখনো কখনো এদের আলাদা করাটা কঠিন হয়ে পড়ে। এদেশের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ইসলাম ধর্মে সংস্কৃতির এডাপ্টেশন এর পরিবর্তে, ইসলামকে সংস্কৃতির মধ্যে এডাপ্টেশন হিসেবে দেখাতে চায় এবং তা করতে পেরে খুশী হয়। এইসব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের কাছে ইসলাম কখনই প্রায়োরিটির কিছু না। ইসলাম গৌণ বা হয়তো কিছুই না। রাজনৈতিক কারণে এদের যারা সমর্থন করে তাদের কাছেও- সেটাই প্রতীয়মান হয়। মুক্তমনার ইসলাম নির্মূলের বিপরীতে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ‘এডাপ্টেশন তত্ত্ব’ অনেক সহনশীল – মাজারপূজারীদের মতো, ধর্মটাও মানা হল, পূজাটাও করা হল।  এই এডাপ্টেশন তত্ত্বের বিরোধিতাকারীরা সব হয় জামায়াত নয়তো ওহাবী!

যেকারণে লেখার সুত্রপাত সেদিকেই ফিরে যাওয়া যাক। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, আয়ারল্যান্ডের সমকামী বিয়ের বৈধতাটা দেয়া হয়েছে ভোটাভুটির মাধ্যমে। দেখা গেছে, মূলত শহুরে এবং আধুনিক মানুষেরা বৈধতার পক্ষে, অপরদিকে কিছুটা পশ্চাদপদ এলাকার বাসিন্দারা এবং চার্চ এর বিরোধিতা করেছে। চার্চ এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রচার করেও হেরে গেছে। এটা নগ্নভাবে আবারো প্রকাশ করেছে, চার্চ বস্তুবাদী দর্শনের বিপরীতে কতটা অসহায়। এটা কি অপ্রত্যাশিত কিছু? ব্রিটেনে ১৬০০ শো শতক থেকে চার্চ এবং রাষ্ট্রের মধ্যে একধরণের দূরত্ব তৈরী হয়, রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চার্চকে উপেক্ষা করতে থাকে, তবে সম্পর্কটা তিক্ত ছিল না। তিক্ততা আনে ফরাসী বিপ্লব। ধর্ম প্রগতির পথে বাঁধা হিসেবে বিবেচিত হয়। ভলতেয়ার এর মতো ফ্রান্সের এনলাইটেনমেন্ট ফ্রিথিঙ্কার দার্শনিকরা ধর্মকে দেখতেন বিভেদজনক, অজ্ঞানতার তিমিরে আবদ্ধ এবং অসহনশীল হিসেবে। [অবশ্য স্থানভেদে এই সম্পর্কটা ভিন্ন রকমের। ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে ফ্রান্স যতোটা কট্টর যুক্তরাষ্ট্র ততোটা উদার। যাইহোক, ক্ষমতার সাথে নিবিড় যোগসাজশের কারণে এখন এটি একটি শক্তিশালী মতবাদ, ধর্মের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ ]।

চার্চ এর অসহায়ত্ব ছিল দর্শনগত। ট্রিনিটির মাধ্যমে যে মুক্তি, তাকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মোকাবেলা করতে চার্চ সক্ষম ছিল না। মানুষের জন্মগতভাবে পাপী হওয়ার ধারণা বিজ্ঞান এবং যৌক্তিকতার প্রসারে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে অর্থহীন হিসেবে প্রতীয়মান হয়। ফলশ্রুতিতে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পরাজিত খৃষ্টান ধর্মের পুরোহিতরা ব্রুনোকে আগুনে পুড়ায়, গ্যালিলিওকে জেলে বন্দী করে এবং বিজ্ঞান এবং যুক্তির পথকে রুদ্ধ করার আপামর চেষ্টা চালায়। খ্রিস্টান চার্চের সেই হঠকারী সিদ্ধান্ত এখনও ধর্মের বোঝা হিসেবে দেখা হয়, এবং তা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের একধরণের প্রপাগান্ডার হাতিয়ার। তবে শেষরক্ষা হয়নি, চার্চকে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে একেবারে বিতাড়িত করা হয়। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে চার্চ ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

ধর্মনিরপেক্ষতা আপাত অতি নিরীহ একটি শব্দ – সেরকমই মনে হয়। এর প্রসার ঘটেছে আধুনিকতা, মানবতাবাদ, র‍্যাশনালিজম এবং গণতন্ত্রের সাথে, হাতে হাত ধরে। তাদের মধ্যে ধ্রুব মিল হল এসব প্রতিটিই ‘বস্তুবাদী’ ধারণাপ্রসূত। ধর্মনিরপেক্ষতাকে আলাদা করে কিংবা ছোট পরিসরে বর্ণনা করা রীতিমতো জটিল বিষয়। পাশ্চাত্য ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে বুঝায় ধীরে ধীরে জীবণের সব বিষয় থেকে ধর্মকে পৃথক করে ফেলা। ধর্ম সেখানে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। অতিপ্রাকৃত (স্রষ্টার) কোন কিছুর ভুমিকাকে স্বীকার করা হয় না। কারণ স্রষ্টাকে ছাড়াই বিজ্ঞানের সাহায্যে প্রায় সবকিছুকেই ব্যাখ্যা করা যায়। বিজ্ঞান স্রষ্টার বিপরীতে এমন একটি পদ্ধতি দিয়েছে যা কেবল ‘যুক্তির’ উপর নির্ভরশীল এবং এর বাইরে সবকিছুই গুরুত্বহীন। উনিশ শতকের বৈপ্লবিক দার্শনিকরা এতোই আশান্বিত ছিলেন যে, তারা ধারণা করেছিলেন ভবিষ্যতে ধর্মীয় মূল্যবোধকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারে বিজ্ঞানের উপর ভর করা এই ধরণের বস্তুবাদী দর্শন। নীটশে’র স্রষ্টা মৃত। আসলে নীটশে স্রষ্টাকে মৃত বলতে বুঝিয়েছিলেন বিজ্ঞান এবং ধর্মের দ্বন্দ্বকে, যেখানে বিজ্ঞান ধর্মকে প্রতিস্থাপন করছে।

বস্তুবাদী সমাজ নৈতিকতাহীন নয়, তবে এর জন্য স্রষ্টা কেন্দ্রিক নৈতিকতার দ্বারস্থ হবার দরকার পড়ে না। নৈতিকতা মূলতঃ ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এর একটা মানদন্ড। বস্তুবাদী দর্শনে ভালোটি “Good without God” যেখানে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধগুলো তাদের চাহিদা এবং অভিজ্ঞতার উপর ভর করে উৎসারিত হয়। ফলে সমকামীতাকে সেখানে জায়গা করে নিতে কোন সমস্যা হবার কথা না।

পাশ্চাত্য থেকে এতদঅঞ্চলের ধর্মনিরপেক্ষতার পার্থক্যের একটি যৌক্তিক কারণ আছে। পাশ্চাত্য ধর্মনিরপেক্ষতার আসন গড়ার একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে, আছে দ্বন্দ্ব এবং রক্তপাতের। আর এদেশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বুদ্ধিজীবিরা সাহসের অভাবে হোক বা অন্য কোন রাজনৈতিক কারণে হোক, ধর্মকে দূরে ঠেলে দেয়ার পরিবর্তে একে স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে ব্লেন্ড করে মার্কেটিংটা করে। আগাচৌ ভুলেভালে বা অতিউৎসাহে সেই ব্লেন্ডটা করে ফেলেছেন পৌত্তলিকতার সাথে। লতিফ সিদ্দিকীর মতো আগাচৌও সম্ভবত পাশ্চাত্য বাকস্বাধীনতার জোশে বাকবিড়ম্বনায় তাড়িত হয়েছিলেন। এদেশে পাশ্চাত্য ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের মতো ধর্মনিরপেক্ষতার সেরকম কোন  মৌলিক ভিত্তি এখনও নেই। আগাচৌ পাশ্চাত্য বসে হয়তো সেই সুখস্বপ্নই দেখেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা ধর্মনিরপেক্ষতার রেশ এর কারণে তুরষ্কে ইসলামপন্থী সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও যেমন সেখানে গে প্রাইড প্যারাডকে হজম করতে হয়। আগাচৌরা ভিত্তিটা সুদৃঢ় করতে পারলে এদেশেও ভবিষ্যতের সন্তানদের সমকামীতার মতো বিষয়কে হজম করতে সমস্যা হবে না এবং একে সমর্থনের মধ্যেও কোন ত্রুটি খুঁজে পাবে না!

সাহায্য নেয়া হয়েছেঃ

১। ireland-gay-marriage-referendum

২। secular-progressive-youre-probably-humanist

৩। Humanist_Manifesto_III

৪। do-chimpanzees-have-legal-rights 

৫। Intro_0506.pdf

৬। secularity_and_secularism_explained

৭। http://news.bbc.co.uk/2/hi/europe/3325285.stm

৮। https://faculty.unlv.edu/gbrown/westernciv/wc201/wciv2c11/wciv2c11lsec3.html

৯। The enlightenment and God

১০। http://imagining-other.net/enl7politics.htm

১১। obama-liberalism-conservative-opinions-columnists-charles-kesler

১২। Philosophic_Roots_Ideology

১৩। The Construction and Deconstruction of Secularism as an Ideology in Contemporary Muslim Thoughts

 

৪৩ comments

Skip to comment form

  1. 18
    পাভেল আহমেদ

    ব্যাবসার ব্যাপারে বাস্তবিক কিছু উদাহরন দিই!

    দেখুন সমকামীতার সমর্থনে তৈরি করা এই টি সার্ট ১৯৬ পিস বিক্রি হয়েছে --

    http://teespring.com/haveagayday1

     

    আর এই টি সার্ট বিক্রি হয়েছে ৪৮১ পিস এবং এখন আরও ১০ দিন বাকি রয়েছে বিক্রির জন্য সুতরাং ৫০০ পিস বিক্রি হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র --

    http://teespring.com/haveagayday1

     

    এরকম আরও অসংখ্য টি সার্ট এর ক্যাম্পেইন রান করানো হয়েছে আমেরিকা বিষয়টাকে বৈধতা দেওয়ার পরে। যে ডিজাইন করেছে এগুলো সে প্রত্যেক টি শার্টে কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ ডলার করে লাভ করেছে। আর টি সার্ট সেল করা প্রতিষ্ঠান তো আলাদাভাবে লাভ করেছেই। এলজিবিটি কে বৈধতা দান করার সাথে সাথেই একদল একে কাজে লাগিয়ে ফেলেছে নিজদের স্বার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে। আর হুজুগে পড়ে অনেক মানুষ নিজেকে মানবতাবাদী হিসেবে দেখানোর জন্য এধরনের প্রোডাক্ট ক্রয় করে এসকল ব্যাবসায়িদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

    সত্যি কথা বলতে কি আমি নিজেও ইচ্ছা করলে এধরনের টি ডিজাইন করে অনেক বড় একটা দাঁও মারতে পারতাম। কিন্তু এধরনের আজগুবি ধারনার ধারে কাছেও আমি নিজেকে রাখতে চাই না।

  2. 17
    Ghas bon kas bon

    valoi likheche onek kichu janlam
    dhonnobad +++++li,ke

  3. 16
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    পড়লাম।

    অনেকগুলো বিষয় এনেছেন এক লেখায়। সমকামীতা এবং এর বর্তমান অবস্থান নিয়ে ভিন্ন একটা লেখা আশা করছি।

    পশ্চিমা বিশ্বের ধর্ম নিরপেক্ষতা আর ইসলামের আলোকে ধর্ম নিরপেক্ষতা ভিন্ন। ব্যক্তি জীবনে ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা আর রাষ্ট্রের ধর্ম নিরপেক্ষতা হতে পারে দুই অর্থ -- সকল ধর্মের প্রতি যথাযথ মর্যাদা। যেমন বৃটিশরা পাকভারত শাসনে সকল ধর্মের একোমোডেশেন করেছে -- মুসলিম আইন -- হিন্দু আইনে আলাদা কোর্ট চালু করেছিলো -- প্রতিটি রেল স্টেশনে হিন্তু এবং মুসলিমদের জন্যে আলাদা চায়ের স্টল চালু ছিলো পাকিস্তান সরকারের সময় পর্যন্ত। তেমনি বলি কানাডার আইনে ধর্মকে আলাদা করে বিচার করার সুযোগ নেই বলেই কমিউনিটি সার্ভিসের আওতায় এনজিও হিসাবে নিবন্ধন নিয়ে টরন্টোতে দুইশতের উপরে মসজিদ গড়ে উঠেছে যাতে সরকারের অনুদান থাকে ৬০%। আরেকটা হলো পুরোপুরি ধর্মকে বিসর্জন দেওয়ার ধর্ম নিরেপক্ষতা -- যা কমিউনিস্ট দেশগুলোতে চেষ্টা করেছে এবং ব্যর্থ হয়েছে।

     

    সমকামীতা বৈধ -- এবং সমকামীদের বিয়ের বৈধতা বিষয়টা আলাদা ভাবে ভাবতে হবে। রাষ্ট্রের আধুনিক সংজ্ঞায় রাষ্ট্র নৈতিকতা নির্ধারন করে দিতে পারে না -- সেই সুবাদে যা ধর্মে দৃষ্টিতে অনৈতিক তা রাষ্ট্রের কাছে কোন বিষয় না। রাষ্ট্র যেখানে আর্থিক বিষয় জড়িত এবং যা সামাজিক নিরাপত্তার বিষয় তা নিয়ন্ত্রন করে -- বলাবাহুল্য খৃষ্টান চার্চের একটা অংশ সমকামীতাকে সমর্থণ করে বিষয়টাকে আরো সহজ করে দিয়েছে।

     

    প্রশ্ন হলো -- সমকামীতাকে প্রতিরোধ করা সম্ভব কিনা -- বিশেষ করে আইন করে -- উত্তর হলো মনে হয় না। রাষ্ট্র যদি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তা হলো বিষয়টা জটিল হবে। বিশেষ করে যখন গনতন্ত্রের কথা বলবো তখন প্রতিটির মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাকে দমানোর কোন সুযোগ থাকে না।

     

    তবে প্রতিরোধের একটাই উপায় আছে -- তা হলো ধর্ম ভিত্তিক নৈতিকতার শিক্ষা -- যা একজন মানুষকে সকল অনাচার থেকে দুরে রাখবে।

    একটু বলে নিতে চাই -- দীর্ঘকাল ধরে সমকামীদের দেখছি -- টরন্টোয় প্রতি বছর বিশাল আয়োজনে প্যারেড হয়। তা থেকে বলতে পারি -- আপাত দৃষ্টিতে এরা বিজয়ী হলেও এরা একটা লুজার কমিউনিটি। বিশেষ করে আর্ট -- কালচারের মানুষরা এই সম্প্রদায়ের সাথে বেশী জড়িত বলে বিষয়টাকে আলাদা শোভনীয় করে উপস্থাপন করা হয় বলে জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও -- আলটিমেটলী এরা চরম ভাবে পরাজিত হবে। প্রকৃতি এদের উপর চরম প্রতিশোধ নেয় যা না দেখলে বুঝা যাবে না -- এরা মানসিক এবং শাররীক ভাবে এতোই প্রকৃতির প্রতিশোধের মুখোমুখি হয় যে তাদের দেখলে মায়াই লাগবে।

    আর একটা কথা বলি --  পশ্চিমকে অনুসরন করার যে ফ্যন্টাসিজম আছে তা থেকে বাংলাদেশেও কিছু ছেলে মেয়ে এই প্রক্রিয়ার যুক্ত হবে -- তবে যারা ইসলাম অনুসরন করে এবং আল্লাহকে ভয় পায় তারা এই ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবে ইনশাল্লাহ।

    1. 16.1
      শামস

      ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

      পশ্চিমা বিশ্বের ধর্ম নিরপেক্ষতা আর ইসলামের আলোকে ধর্ম নিরপেক্ষতা ভিন্ন।  

      আপনার ধর্মনিরপেক্ষতার দুটি উদাহরণের কোনটি কি ইসলামের আলোকে? 

      ব্রিটিশদের এ উপমহাদেশে আরোপিত ধর্মনিরপেক্ষতা আর কানাডার ধর্মনিরপেক্ষতায় কিছু মিল আছে আবার অমিলও আছে। একটি সাম্রাজ্যবাদের আরেকটি স্বাধীন দেশের। ব্রিটিশরা মুসলিম এবং হিন্দুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করেছে তাদের ধর্মীয় কিছু স্বাধীনতা দিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের লুটপাটে, হত্যাযজ্ঞে, নীল চাষে কিংবা দুর্ভিক্ষে (ছিয়াত্তরের মনন্তরে কোটির উপর লোক কৃত্রিম খাদ্যের অভাবে মারা যায়) কোন প্রতিবাদ না করা হয়। তারা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করেছিল, এটা এই অঞ্চলের জন্য বৈপ্লবিক অগ্রগতি বলা যায়, কিন্তু সেটা করেছে তাদের সামরিক এবং আধাসামরিক বাণিজ্যের সুবিধার্থে। তারা যে কি করেছে সেটা পরে প্রকাশ পায় রায়টের মাধ্যমে লক্ষ ল্কক্ষ মানুষ হত্যার মাধ্যমে। আর তাছাড়া এই সময়ের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ব্রিটিশরা নিজেদের দেশে কিংবা কানাডাও কমিউনিস্ট দেশগুলোর মতো নয়, যা লেখাতেও বলতে চেয়েছি। তারা ধর্মকে দেখে শরীরের এপেন্ডিক্স এর মতো, কিন্তু কমিউনিস্টদের মতো ধর্মকে নাই করে দেয় না, ধর্মকে সীমাবদ্ধ রাখে ব্যক্তিগত গণ্ডির মধ্যে। তাই মসজিদে আল্লাহ বিল্লাহতে কিংবা চার্চ কোরাস গানের মধ্যে সমস্যা নেই। ইউজেনিক্সের প্রভাবে জন্মশুদ্দিকরণ, আরলি সেক্স এডুকেশন, সমকামীতা আরো অনেক বিষয় চার্চ/ইসলাম ধর্মের সাথে রাষ্ট্রের মুখোমুখি দাঁড় করায়, যেখানে ধর্মের কোন ভুমিকা থাকে না, তা যদিও ধর্মের মূলনীতির বিরোধী হয় এবং স্রষ্টার আদেশের বরখেলাফ হয়। এখানে রাষ্ট তার বস্তুবাদী নীতির কারণে একটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে, কারণ শিক্ষায় ধর্ম উপেক্ষিত থাকে, ফলে ধর্মনিরপেক্ষতায় বেড়ে উঠা জনগোষ্ঠীর ভোটাভুটিতেও রাষ্ট্রের জয়লাভের সম্ভাবনা থাকে, যা আয়ারল্যান্ডে হয়েছে।  তবে ধর্মনিরপেক্ষতার সব কিছুই খারাপ না যতক্ষণ পর্যন্ত তা ধর্মের মৌল বিষয়গুলোকে অস্বীকার না করে। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা দেখে ঠিক উল্টো ভাবে। একই কথা খাটে গণতন্ত্রের জন্য। আরকটা কথা সরকারী অনুদানটাকে কোন রাষ্ট্র বিপদে পড়লে বিশ্বব্যাংকের মতো আগ বাড়িয়ে সাহায্য করার মতো মনে হয়। তবে এর সাথে আরো কিছু জিনিষ জড়িত, যা এখানে আর দীর্ঘায়িত করছি না। 

      রাষ্ট্রের আধুনিক সংজ্ঞায় রাষ্ট্র নৈতিকতা নির্ধারন করে দিতে পারে না – সেই সুবাদে যা ধর্মে দৃষ্টিতে অনৈতিক তা রাষ্ট্রের কাছে কোন বিষয় না। আধুনিক রাষ্ট্রে ধর্মকে নীতি নির্ধারণে দূরে ঠেলে দেয় সেখানে ধর্মীয় নৈতিকতার স্থান কোথায়।

      হ্যা, সেটাই। রাষ্ট্র মসজিদ, চার্চ প্যাগোডা করে দেয়, ধর্ম-কর্ম করতে বাঁধা দেয় না, তবে সংঘর্ষ হলে টুটি চেপে ধরে। রাষ্ট্র তার মৌলিক ভিত্তিগুলোর বিরোধীতা সহ্য করতে পারে না, কিন্তু ধর্মের মৌল বিষয়গুলোকে বাকস্বাধীনতার জোড়ে পার পাইয়ে দেয়! আমার মতে আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা হল মানবতার অন্যতম প্রধান 'অবিচার' , 'অন্যায্য' এবং স্থূল একটি ব্যবস্থা, তবে সেটা ভিন্ন আলোচনা তাই এখানে আর এগোলাম না। আপনার মন্তব্যের অনেক কিছুর সাথেই একমত, আর দ্বিমতগুলাতো জানালাম। 

      ভালো থাকুন। 

  4. 15
    মজলুম

    যুক্তি বা র‌্যাশনালিটির সীমাবদ্বতা এখানেই। তাই নাস্তিকেরা ভাই-বোনের মধ্যে সেক্স করাতে খারাপ কিছু দেখেন না। অজাচার করলে সন্তান জেনেটিকেলি ডিফেক্ট হবে তাই ভাই-বোনের মধ্যে জন্মনিরোধক ব্যবহার করে সেক্স করতে কোন সমস্যা নাই। ইসলামের ইতিহাসে বাতেনিয়া ফিরকা নামে এক ফিরকার উদ্ভভ ঘটেছিলো। তাদের নেতা উবাইদুল্লাহ কিরানভি প্রচার করতেন যে নিজের আপন বোনকে বিবাহ করা হোক। তার যুক্তি ছিলো, কেন কোন ব্যাক্তি  তার ঘরে সুন্দরী বোন রেখে অন্য কারো অচেনা, অজানা মেয়েকে বিয়ে করে। আবার তার সুন্দরী আপন বোনকে অপরিচিত লোকের কাছে বিয়ে দেয়। এদের মতো বোকা লোক জগৎ এ আর আছে নাকি? এদের নবী এদের এই বোকামী শিখিয়েছে। তোমার বোন যদি তোমার খাবার রান্না করতে পারে, পরিবেশন করতে পারে তাহলে সেক্স করতে অসুবিধাটা কোথায়?

    উবাইদুল্লাহ ছিলেন তখনকার সমাজের মুক্তমনা! যুক্তিবাদী!
    তার যুক্তি গুলো সব চমৎকারই এবং অসাধারন যদিনা এখানে ওহীকে টেনে না আনা হয়। এজন্যে ওহী বা খোদার বিধান ছাড়া মানব মস্তিস্ক  হতে যত যুক্তি বের হয় তা সবই আবর্জনা।

     

    বস্তুবাদের ফেতনা রকেট গতিতে এগুচ্ছে সারা বিশ্বজুড়েই। কিছুদিন পর বেশীরভাগ শিশু জন্মাবে জারজ হিসেবে।  ২০১৬ তে ব্রিটেনে জারজ সন্তান/অবিবাহিত মেয়ের সন্তান সবচেয়ে বেশী জন্মাবে, অলরেডী তা ৫০% এর বেশী ছাড়িয়ে গেছে। আর আমেরিকার ২০১২ সালের হিসেব মতে ৪০% এর বেশী শিশু অবৈধ শিশু/জারজ শিশু হিসেবে জন্মায়। আর আফ্রিকা-আমেরিকানদের মধ্যে ৭২% এর বেশী শিশু জারজ হয়ে জন্মায়। বিয়ের প্রতি অনিহা, প্রমিসকিউটি/অবাধ যৌনাচার/ হুকাপ সংস্কৃতি/লিভ টুগেদারের জন্যেই অবৈধ শিশুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তার কারনে পশ্চিমে নারীদের মানে সোলো মাদার যারা বিয়ে ছাড়াই সন্তান নেন তাদের এই সন্তানকে বড়ো করতে হয় একাকীই। পুরুষতো মজা নিয়েই শেষ, তারপর ভাগে।  একটা চাকরী করে নিজের ও সন্তানের জন্যে তাকে সব করতে হয়। এইসব সন্তানেরা  আবার মানসিকভাবে   বিকশিত হয় না পরিপূর্ণভাবে কারন এরা পিতা-মাতার আদর সোহাগ সেইভাবে পায় না।

     

    পোষ্ট ভালো হয়েছে

     

     

    1. 15.1
      শামস

      বস্তুবাদের ফেতনা রকেট গতিতে এগুচ্ছে সারা বিশ্বজুড়েই। 

      বস্তুবাদী সমাজে যা ইচ্ছে খুশী তা করাটা একধরণের লাইফস্টাইল, যতক্ষণ না তা প্রত্যক্ষভাবে অপরের ক্ষতি করে, যদিও আল্টেমেটলি তা ক্ষতিই করছে। সমকামীতা, লিভ টুগেদার, সিঙ্গেল পেরেন্ট -- এগুলো  এক এক ধরণের লাইফস্টাইল। ব্যক্তিকেন্দ্রিক ইচ্ছা অনিচ্ছার জেরে সামাজিক ফেব্রিকগুলা আলগা হয়ে যাচ্ছে। 

       

  5. 14
    সাদাত

    এদেশের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ইসলাম ধর্মে সংস্কৃতির এডাপ্টেশন এর পরিবর্তে, ইসলামকে সংস্কৃতির মধ্যে এডাপ্টেশন হিসেবে দেখাতে চায় এবং তা করতে পেরে খুশী হয়। এইসব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের কাছে ইসলাম কখনই প্রায়োরিটির কিছু না। ইসলাম গৌণ বা হয়তো কিছুই না। রাজনৈতিক কারণে এদের যারা সমর্থন করে তাদের কাছেও- সেটাই প্রতীয়মান হয়। মুক্তমনার ইসলাম নির্মূলের বিপরীতে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ‘এডাপ্টেশন তত্ত্ব’ অনেক সহনশীল – মাজারপূজারীদের মতো, ধর্মটাও মানা হল, পূজাটাও করা হল। 

    দারুণ বলেছেন।

     

     

  6. 13
    সাদাত

    লেখা সুন্দর হয়েছে, তবে ছোটগল্পের মতো, শেষ হইয়াও হইলো না শেষ; অথবা বলা যায়, শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে গেল।

    যা হোক আগাচৌ বিষয়ে আমার দুইটি মন্তব্য এখানে দিচ্ছিঃ

    ১.

    ভিডিও দেখার পরের প্রতিক্রিয়াঃ

    আগাচৌ'র বক্তব্যে যারা কোন সমস্যা খুঁজে পান না, তাদের কোন ইসলামি বোধ নাই।

    ২.

    শয়তানও সবচেয়ে বড় ঈমানদার, আর আগাচৌ ও সবচেয়ে বড় মুসলমান!

    [একজন ঈমানদারের যতগুলো বিষয়ে বিশ্বাস করা দরকার, সবগুলো বিষয়ে শয়তানের পূর্ণ বিশ্বাস আছে। কাজেই শয়তান যদি বলে, "আমার চেয়ে বড় ঈমানদার আর কে আছে?" সেইটা কেমন হবে বলেন দেখি! সে হিসবে আগাচৌ ও দাবি করতে পারে তার চেয়ে বড় মুসলমান কে আছে!]

    1. 13.1
      শামস

      ধন্যবাদ সাদাত ভাই, আরো কিছু বিষয় এখানে আলোচনার অবকাশ ছিল এবং ভেবেছিলামও, যেমন ধরা যাক -- জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্র ইত্যাদি। দেখা যাক, পরে হয়তো এ নিয়ে কিছু লিখব। ভালো থাকুন।

  7. 12
    এস. এম. রায়হান

    আমার জানামতে আব্দুল গাফার চৌধুরী আওয়ামী লীগের পক্ষে (হয়তো কিছু সুবিধা আদায়ের জন্য) লেখালেখি করলেও উনি আসলে একজন বাম আদর্শের লোক। বাম আদর্শের বুদ্ধিজীবীরা ইসলামকে (অন্যান্য ধর্মকেও) যেভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন, গাফার চৌধুরীও সেই চেষ্টাই করেছেন। আমি মনে করি না যে, উনি অজ্ঞতা থেকে এসব কথা বলেছেন। উনাকে বাম আদর্শের ধরে নিলেই ব্যাপারটা সবার কাছে পরিষ্কার হওয়ার কথা।

    1. 12.1
      শামস

      সেটা জানা নাই. তবে বামপন্থার পতনের পর নতুনভাবে যে মেরুকরণ হয়েছে তাতে এক একজন তাদের বিবেচনায় সবচেয়ে পছন্দনীয় মতাদর্শকে গ্রহন এবং প্রমোট করছে। আপনার কথা সঠিক হলে, সে হিসেবে আগাচৌ'র খুব একটা পরিবর্তন হয়নি -- বামদিকে হেলানো!

      1. 12.1.1
        নির্ভীক আস্তিক

        গত কয়েকদিন ধরে আমি আগাচৌ শব্দটি এখান ওখান থেকে শুনে আসছি। অনেক চুল পাকালাম, মাথা চুলকালাম কিন্তু এই শব্দের উৎপত্তি আর অর্থ খুজে পেলাম না। হঠাৎ সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই মনে হলঃ "এই আগাচৌ কি ব্দুল গাফার চৌধুরী ?"

  8. 11
    redowan

    <p>আসলে দিনকে দিন মুক্তচিন্তা আর ধর্মনিরপেক্ষতা যে একটা ভন্ডামী সেটি আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে উঠছে। মুক্ত সমাজের শেষ পরিনতী হচ্ছে লিভটুগেদার; সমকামিতার মত বিকৃত আচরণ প্রতিষ্ঠা লাভ করা।তাই ইসলামে মুক্ত চিন্তার কোন স্থান নাই। ইউরোপ মুক্তসমাজের ভয়াবহ পরিণতী অচিরেই টের পাবে।<br />
    &nbsp;<br />
    &nbsp;</p>

    1. 11.1
      শামস

      ইসলামে মুক্ত চিন্তার স্থান হবে না কেন? গোড়ামি আর অন্ধত্বের কথা কি কোরানে কিংবা ইসলাম বলছে?

      মুক্ত সমাজ বলতে কিছু নেই, একজায়গায় দাড়ি টানতেই হয়. ইসলামে সেটা একভাবে করতে বলছে, আজ যারা মুক্ত সমাজের বলে দাবী করছে তারাও বলছে আরেকভাবে। ফ্রান্সে চার্লি হব্দের ঘটনার পরে, একটা দাবী করা হচ্ছিল যে ওখানে নাকি পুরোপুরি ফ্রিডম অব স্পিচ বিরজমান। অথচ ইটা একটা মিথ্যা বা ভুল ধারণা। ওখানেও দাড়ি টানা আছে. যেমন: হলোকাস্ট অস্বীকার করা একটি অপরাধ, ফ্রেন্স পতাকা বা জাতীয় সংগীতকে অপমান করা অপরাধ ইত্যাদি। 

  9. 10
    Monowar Bin Zahid

    আমার মনে হলো অধিক সুন্দর লিখাটির মূল বক্তব্য কোথায় যেনো চাপা পরে গেলো। তাছাড়া লিখাটি ভালো।

    1. 10.1
      শামস

      ধন্যবাদ।

  10. 9
    মুনিম সিদ্দিকী

    শামসভাই সালাম।

    একটানে পড়ে গেলাম! লেখার বিষয় বস্তু নিয়ে প্রাজ্ঞরা তাদের ভাষায় যা বলার বলে দিয়েছেন, এখন তা নিয়ে আমার কিছু বলা অক্ষমের আর্তনাদের মত শুনাবে তাই এই নিয়ে আমি কিছু বলছিনা। তবে লেখার গতি বাক্যের বিন্যাস শব্দ চয়ন গদ্য কবিতার মসৃণতাকেও যেন হার মানিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ আপনার পরিশ্রমের প্রতিদান করুন। আমিন!

    1. 9.1
      শামস

      @মুনিম সিদ্দিকী, সালাম এবং ধন্যবাদ।

  11. 8
    এস. এম. রায়হান

    আমি ব্যক্তিগতভাবে সমকামীদের মধ্যে 'বিয়ে' প্রথাকে সমর্থন করি না। ব্যাপারটাকে বরং আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়। আমি মনে করি 'বিয়ে' প্রথাটা শুধুমাত্র নারী-পুরুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। সমকামীদের ক্ষেত্রে অন্য কোনো টার্ম ব্যবহার করা যেত। অন্যথায় 'বিয়ে' শব্দটার সংজ্ঞা-ই পাল্টে যাচ্ছে।

    যাহোক, বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে সারা বিশ্ব জুড়ে ২০০-৩০০ মিলিয়ন LGBT আছে -- আমেরিকার মোট জনসংখ্যার প্রায় সমান। পশ্চিমা বিশ্ব অনেক পরে এসে হলেও এই বিশাল জনগোষ্ঠির জন্য কিছু একটা করছে, যদিও তা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু ইসলামপন্থীরা কোরআন-বহির্ভূত ও বাইবেল-সমর্থিত 'তলোয়ার-চাপাতি সমাধান' তথা 'কতল' (২০০-৩০০ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা?) ছাড়া বিকল্প কোনো সমাধান দিয়েছে কি? ইসলামপন্থী ভাইয়েরা কী বলেন।

    1. 8.1
      Sky

       

      “ইসলামপন্থীরা কোরআন-বহির্ভূত ও বাইবেল-সমর্থিত 'তলোয়ার-চাপাতি সমাধান' তথা 'কতল' (২০০-৩০০ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা?) ছাড়া বিকল্প কোনো সমাধান দিয়েছে কি? ইসলাম-প্রিয় ভাইয়েরা কী বলেন।”

      — আমার জানামতে (আমার জানা ভুল হতে পারে, তাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি), সমকামীতার শাস্তির ব্যাপারে  কুরআন শরীফে সরাসরি  কিছু বলা না হলেও কঠোর ভাষায় একে তিরস্কার  করা হয়েছে। সমকামীতায় অভ্যস্থ লুত জাতিকে যে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয়েছিল-সে কথাও কুরআন শরীফে বিধৃত হয়েছে। কিন্তু হাদিসে সমকামীতার জন্য কঠোর শাস্তি আরোপের বিধানের কথা বলা হয়েছে। এই শাস্তির ধরন কেমন হবে তা নিয়ে অবশ্য আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে এবং ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে এই শাস্তি নির্ধারণ করবে বিচারক।

      আর আপনি আপনার প্রশ্নে ইসলাম প্রিয় ভাইদের কাছে “কতল”-এর বিকল্প সমাধান  জানতে চেয়েছেন। 

      বিকল্প সমাধান:-

      ডাক্তারদের মতে সমকামীতা যেহেতু একটি  রোগ, তাই রোগীর অভিভাবকদের উচিত “ইসলাম পন্থীদের” কাছে ধরা খাওয়ার আগেই এই রোগের চিকিতসা করিয়ে ফেলা। 

    2. 8.2
      শামস

      পশ্চিমা বিশ্ব অনেক পরে এসে হলেও এই বিশাল জনগোষ্ঠির জন্য কিছু একটা করছে, যদিও তা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়।

      রায়হান ভাই,

      পশ্চিমা বিশ্ব কিছু একটা কি করেছে?

      আমি একটা মদের দোকান দিলাম, সাথে একটা হাসপাতালও দিলাম। মদ খেয়ে যারা মাতাল হবে, অসুস্থ হবে তারা সেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিবে। নতুন নতুন মাতাল আসবে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকবে, রেভিনিউতে ঘাটতি হবে না, জনসেবাটাও হবে। ঠিক বুঝি নাই! 

       

      1. 8.2.1
        এস. এম. রায়হান

        সদালাপে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ছোট একটি মন্তব্য করেছি। অন্যথায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য হয়তো করতাম না। তবে আপনি যেন মনে না করেন যে, প্রশ্নটা আপনাকে উদ্দেশ্য করে করেছি। এটা একটা জেনারেলাইজড প্রশ্ন বলতে পারেন। তাছাড়া আগেই বলেছি যে, আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ধরণের বিয়ে প্রথাকে সমর্থন করি না। আর তাদের এই সিদ্ধান্ত যে সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়, সেটাও বলেছি। পশ্চিমা বিশ্বে যেখানে ধীরে ধীরে বিয়ে নামক প্রথা উঠে যেয়ে লিভ টুগেদার প্রথা চালু হচ্ছে, সেখানে সমকামীদের জন্য নতুন করে বিয়ে প্রথা চালুর কারণ আমার কাছে বোধগম্য নয়। তবে আমার কিছু বলা বা না-বলার সাথে কিছুই যায় আসে না। এমনকি সারা বিশ্বের মুসলিমরা মিলেও কিন্তু এটাকে বন্ধ করতে পারেনি। পশ্চিমা বিশ্বের ইহুদী-খ্রীষ্টানরাও কিছু করতে পারেনি। এটাই আজ বাস্তবতা। এটাই তাদের বর্তমান অবস্থান। আর এজন্যই বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামপন্থীদের অবস্থান জানতে চেয়ে একটি প্রশ্ন করেছিলাম। তারা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন LGBT-কে কতল করতে চায় কি-না। তারা কিন্তু নাস্তিকদেরও কতল করতে চায়। সাধারণ মুসলিমদেরও তো এই প্রশ্নের উত্তর জানা থাকা দরকার। অন্যথায় যার যার ইচ্ছেমতো ফতোয়া দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। কিছু তরুণ এইসব ফতোয়ার ফাঁদে পড়ে নিজ হাতে আইন তুলে নিয়ে নাস্তিকদেরকে হত্যা করে নিজেদের জীবনকেও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। দু'দিন বাদে LGBT-দেরকেও হত্যা করা শুরু হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।  

        যাহোক, আপনি যে যুক্তি দিয়েছেন সে প্রসঙ্গে সামান্য একটু বলতে হচ্ছে। আপনি বলেছেন- 

        আমি একটা মদের দোকান দিলাম, সাথে একটা হাসপাতালও দিলাম। মদ খেয়ে যারা মাতাল হবে, অসুস্থ হবে তারা সেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিবে। নতুন নতুন মাতাল আসবে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকবে, রেভিনিউতে ঘাটতি হবে না, জনসেবাটাও হবে। ঠিক বুঝি নাই!

        মদ কিন্তু প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না। কারখানাতে কৃত্রিমভাবে মদ তৈরী করে দোকানে সাপ্লাই দেয়া হয়। এটা একটা বিশাল ব্যবসা। এই ব্যবসার সাথে সকল শ্রেণীর লোকজন কম-বেশী জড়িত। কারখানাতে যদি কৃত্রিমভাবে মদ তৈরী করা না হতো সেক্ষেত্রে কিন্তু মদের দোকান দেয়ার প্রশ্ন আসত না। এর পরও মদ তৈরীর কারখানাগুলো কিন্তু কেউই বন্ধ করতে পারেনি।

        এবার আপনি যদি মনে করেন যে, ব্যবসায়িক স্বার্থে কোনো গোপন কারখানায় কৃত্রিমভাবে LGBT তৈরী করে সমাজে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে, সেক্ষেত্রে সেই কারখানার ঠিকানা দিলে আমি সবার আগে সেই কারখানার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব। কেননা, আমি কখনোই চাইব না যে, কৃত্রিমভাবে LGBT তৈরী করা হোক।

        1. 8.2.1.1
          শামস

          আপনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেননি, অবশ্য আমার নিজেকে ইসলাম-প্রিয় বলতে আপত্তি নেই। সেটা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই, আর সেটা আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। 

            এমনকি সারা বিশ্বের মুসলিমরা মিলেও কিন্তু এটাকে বন্ধ করতে পারেনি।

          সারা বিশ্বের মুসলিমরদের কিভাবে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা আয়ারল্যান্ডের মতো দেশগুলোর এ ধরণের বিয়েকে বন্ধ করতে বলেন? 

          এটাই আজ বাস্তবতা। এটাই তাদের বর্তমান অবস্থান। আর এজন্যই বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামপন্থীদের অবস্থান জানতে চেয়ে একটি প্রশ্ন করেছিলাম। 

          মদের উদাহরণ আবারো দেই, (আমার কাছে সহজ মনে হওয়ায়)! মদ ইসলামে হারাম, পাশ্চাত্য ছাড়া প্রায় সব অমুসলিম দেশে এর অবাধ ব্যবহার চলে। এমনকি মুসলিম অধ্যুষিত দেশেও এর ব্যবহার কম নয়, ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা লিবারেল মুসলিম সমাজে আরো বেশী। সেটাওতো বাস্তবতা, আর তারপরও ইসলামে সেটা হারাম!

          ইসলামপন্থী মানেই কতল করে কোথায়?কিছু লোক সেটা করছে, তাদের একটা সাইজেবল সমর্থকও আছে। সব ফতোয়াবিদরাও একইভাবে ফতোয়া দেয় না, আশা করাটাও ঠিক না, যেমন সুইসাইড হামলার বিপক্ষে বেশীরভাগ আলেম, তবে এর পক্ষে অনেক আলেম ফতোয়া দেন। আমাদের দেশে পকেটমার ধরা পড়লে সাধারণত পিটিয়ে মেরে ফেলে, সেটা হয় ন্যায়বিচার পাওয়ার অপ্রতুলতা থেকে -- বুঝা যায় সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করে।  মুসলিম সমাজেও (ধার্মিক কিংবা আধা-ধারমিক) একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। এর জন্য অনেকগুলো কারণ জড়িত যা স্বল্প পরিসরে বলা সম্ভব নয়। ফলে এরকম খুন-খারাবি কিংবা এর চেয়ে বড়ো সংঘর্ষ, হত্যাযজ্ঞও হচ্ছে পৃথিবীব্যাপী। আল্লাহ জানেন কখন এর থেকে মুক্তি।

          আর, মদের উদাহরণটা আগের মন্তব্যে এনেছি, অপ্রাসঙ্গিক মনে করেই, আপনি বুঝতে পারেননি, কারণ হয়তো আমি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করিনি। অনেকের মতো আপনিও LGBT  দের প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম প্রচারণায় কনফিউজড হয়ে গেছেন। সেটা অস্বাভাবিক নয়। একাডেমিকভাবে এ নিয়ে অনেক গলদঘর্ম হচ্ছে, একে প্রাকৃতিক প্রমাণ করার জন্য। ১৯৭৩ এর পর থেকে অনেক গবেষণা হয়েছে, কিন্তু প্রমাণ করা যায়নি। ডাটাভিত্তিক যেসব গবেষণা সেখানে অনেক বায়াসড তথ্য থাকে, যেগুলো অনেকবার ফ্রড হিসেবে প্রমাণ হয়েছে।

          রোমান সভ্যতার এক নগর ইতালীর পম্পেই নগরীতে নারীপুরুষের অবাধ যৌনাচার, সমকামীতা ইত্যাদি ছিল। প্রাচীন গ্রীসে সমকামীতাকে উৎসাহিত করা হতো, কারণ এতে সৈন্যদের মধ্যে বন্ধন গাঢ় হয় এই হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতেও সমকামীতার প্রকোপ দেখা যায়, (আর মেয়ে সৈন্যদের উপর যৌন নির্যাতন স্বাভাবিক ঘটনা), এমনকি জেলখানাগুলোতেও! লুত (আঃ) এর জাতি সমকামীতায় ডুবে, তাদের মধ্যে এর প্রকোপ এতো বেশী ছিল যে সেই জাতিকে ধবংস করে দেয়া হয়। এর দ্বারা এই যৌনাচারকে কি পরিমাণ তিরস্কার করা হয় সেটা বুঝা যায়। এখন তা, লুত (আঃ) এর জাতিতে কি কারখানায় কৃত্রিমভাবে LGBT তৈরী করা হতো?  পুরো ব্যাপারটাতে অনেক ঘাপলা আছে, যেভাবে সেটাকে রিপেজেন্ট করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এইডস এর প্রথম জীবাণু আবিষ্কার করা হয় সমকামীদের মধ্যে, এটা এবং সেক্স ইন্ডাস্ট্রী (এইডস) ছড়াতে ব্যাপক ভুমিকা রাখলেও এসব ব্যাপার মেইনস্ট্রীম মিডিয়া কিছু কারণে এড়িয়ে চলে, যা পুরোপুরি বুঝতে পারিনি। যাক, সমকামীতা নিয়ে আগে কিছু লেখেছিলামঃ "সমকামীতা, বিবর্তনবাদ ও একটি বাস্তবধর্মী বিশ্লেষণ"

          প্রতিটা দেশেই সমকামীদের নিজস্ব ক্লাব আছে, যতদূর জানি ঢাকাতেও -- গে'দের মিলনক্ষেত্র। বিয়েটা হল একটা সামাজিক স্বীকৃতি সেটা তাদের প্রয়োজন, সেই আবদারটা তাদের প্রগতিশীল সোসাইটিতে করেছে এবং পেয়েছে। তাদেরকে (পাশ্চাত্যে সমকামী বিয়েকে) নিয়ন্ত্রণ করার কোন ইচ্ছে আমার নেই, সেটা সম্ভব নয়। আচ্ছা, ধরা যাক, একটি শহরে, ১০০০ জন লোক বাস করে যাদের ১০০ জন গে। এখন কি এই ১০০ জন্য ৫০-৫০ করে যৌনকর্মটা সীমাবদ্ধ রাখবে? আমাদের সাধারণ সেন্স কি বলে?  

           

        2. সরোয়ার

          শামস, 

          আপনার জবাবটা যৌক্তিক হয়েছে। প্রবলেমকে প্রবলেম হিসেবে স্বীকার করতেই হবে। যেটি হারাম সেটি বলতেই হবে। কয়েকশ বিলিয়ন এতে জড়িত থাকলেও সেটি গ্রহনযোগ্য হয়ে যায় না (ইসলামের মাপকাঠিতে)।

           

          রায়হান ভাই,

          আপনার লেখালেখি প্রমান করে আপনিও ইসলামপন্থী।  সব লোকের কাছ থেকে একই রকম মতামত আশা করা কঠিন, কেননা সবার ঈমান এবং জ্ঞানের লেভেল একরকম নয়। সমকামিতা প্রাকৃতিক হয় কিভাবে? যদি কারোর মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি তেমন আকর্ষণ নাও থাকে তবে তাকে ধৈর্য্য ধরতে হবে; বুঝতে হবে এটা আল্লাহর তরফ থেকে তার জন্য অন্যান্য টেস্টের মত টেস্ট।      

        3. এস. এম. রায়হান

          @সরোয়ার,

          আপনার লেখালেখি প্রমান করে আপনিও ইসলামপন্থী।

          এখানে 'ইসলামপন্থী' বলতে যারা বিভিন্ন ইসলামিক দলের সাথে জড়িত এবং শারিয়া আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনার কথা বলে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে, ঢালাওভাবে সকল ইসলামে বিশ্বাসীদেরকে বুঝানো হয়নি। তবে স্বীকার করছি যে, এই কথাটা এখানে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে যেটি পরের মন্তব্যে পরিষ্কার করেছি।

          সমকামিতা প্রাকৃতিক হয় কিভাবে?

          আমার মন্তব্যের কোথাও সমকামিতাকে প্রাকৃতিক বলা হয়নি। দু'জনেরই একই ভুল হলো কীভাবে বুঝলাম না। সমকামিতা প্রাকৃতিক কি-না, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। আমার মন্তব্যে যেটা বুঝাতে চাওয়া হয়েছে সেটা হচ্ছে ব্যবসায়িক স্বার্থে মদ যেমন কৃত্রিমভাবে তৈরী করে বাজারে সাপ্লাই দেয়া হয়, LGBT-দের ব্যাপারটা মোটেও সে'রকম কিছু না। LGBT-দেরকে কোনো কারখানায় বা নির্দিষ্ট কোনো দেশে কৃত্রিমভাবে তৈরী করে ব্যবসায়িক স্বার্থে বাজারে সাপ্লাই দেয়া হচ্ছে না। LGBT-রা আর দশ জন মানুষের মতোই সারা পৃথিবীর বিভিন্ন পরিবারের মাতৃগর্ভে জন্ম নিয়েছে। খুব ব্যতিক্রম ছাড়া তারা বড় হয়ে নিজে থেকে না বললে তাদের পরিবারের লোকজনও বুঝতে পারে না যে, তারা L/G/B/T. এর পরও ব্যাপারটা না বুঝলে করার কিছু নাই।

        4. 8.2.1.2
          Sky

          এস. এম. রায়হান ভাই:

          //আর এজন্যই বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামপন্থীদের অবস্থান জানতে চেয়ে একটি প্রশ্ন করেছিলাম। তারা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন LGBT-কে কতল করতে চায় কি-না।//

          — LGBT কে ‘কতল’ বা ‘শাস্তি’ ( ইসলামি রাষ্ট্রে) দেওয়ার প্রশ্ন তখনই আসবে যখন এই অপরাধ সংঘটনের সময় চাক্ষুস  প্রমাণ/স্বাক্ষী থাকবে। আর ইসলামি রাষ্ট্রে (যদি প্রতিষ্ঠা করা যায়) ৩০০ মিলিয়ন LGBT নিশ্চয়ই রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সমকাম করবে না! সুতরায় ৩০০ মিলিয়ন LGBT কে ‘কতল’ করার আপনার এই দাবী অবান্তর। আর একথাও ভুলে যাবেন না, তথাকথিত ‘নাস্তিক’/সমকামীদের বিচারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের, সাধারণ মানুষের না। ধন্যবাদ। 

    3. 8.3
      Ghas bon kas bon

      apnar prosner answer ta sundor vab Sky vai diyeche

    4. 8.4
      এস. এম. রায়হান

      আজকে লক্ষ্য করলাম বেখেয়ালবশত প্রথম মন্তব্যটার দু-এক জায়গায় শব্দ চয়নে একটু ভুল হয়েছে। ঠিক করে দিলাম।

  12. 7
    শাহবাজ নজরুল

    শামস, বরাবরের মত অসাধারণ লেখা। একেক ইন্টারেস্ট গ্রুপের কাছে ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা ও ব্যাপ্তি একেকরকম -- আপনার লেখাতে এই বাস্তবতাটি ফুটে উঠেছে চমত্কারভাবে। পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষতার আদলে সমকামিতাকে বৈধতাদান কোনভাবেই যে আটকে রাখা সম্ভব নয় -- তা আমি  অনেক আগেই বুঝেছি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়াতে প্রপোজিশন-৮ এ ভোট দিতেই ভোটকেন্দ্রে যাই -- যেখানে বিয়ে কে কেবল একজন ছেলে ও একজন মেয়ের মধ্যে সামাজিক বন্ধন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে সংবিধানে জুড়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রস্তাবনাটি জিতেও যায় ৫২% ভোট পেয়ে -- কিন্তু বছর কয়েক পরে তা আবার আটকে যায় স্টেট কোর্টে। এতে বলা হয় প্রস্তাবনাটি মৌলিক অর্থেই ব্যক্তি-স্বাধীনতা বিরোধী -- আর তাই অসাংবিধানিক। ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবার সময়েই মনে মনে কান জানি জানা ছিল -- যে এদেশের সংবিধানের আলোকে এই প্রস্তাবনা আপাত আলোর মুখ দেখলেও -- সেই সুখস্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী হবেনা। 

    একই গতিতে এখন অজাচার বৈধতা পাবে। সেদিন খবরেও দেখলাম জার্মানির কোথায় যেন অজাচারকে আশির্বাদ করা হয়েছে। আমাদের জীবদ্দশাতেই দেখবেন পশুকাম ও বৈধতা পেয়ে যাবে। যেখানে নৈতিক মানদন্ডের মূলমন্ত্র হচ্ছে 'আমি তো কারুকে ক্ষতি করছিনা -- তো আমি কি ধরনের জীবন চাই তা নিয়ে তোমাদের এত মাথা ব্যথা কেন' -- তাহলে emphatic অপরাধ ছাড়া আর সবই পশ্চিমে বৈধতা পাবে। কেউ কিছু ঠেকাতে পারবে না। আর এভাবেই এই সমাজ সেই হাদিসের পরিপূর্ণতা একসময় দেবে -- যেখানে বলা হচ্ছে মানুষ একসময় পশুদের মতই প্রকাশই যৌনকর্ম করবে।

    সুন্দর গোছানো লেখা উপহার দেবার জন্যে ধন্যবাদ। 

     

    1. 7.1
      শামস

      ভাবছিলাম, আমাদের সমাজ থেকে এখন কতদূরে!

      ধন্যবাদ, আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ারের জন্য।

  13. 6
    সানজিদ সরকার

    আপনার লেখার মধ্যে বাক্যের মাধূর্য মাশাল্লাহ খুবই সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।আমার “Adaptation Theory” টা বোধগম্য হলো না।যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন।ধন্যবাদ শামস ভাই

    1. 6.1
      শামস

      খুব সংক্ষেপেঃ ধীরে ধীরে মানিয়ে নেয়া।

    2. 6.2
      মাহাথির তুষার

      আসলেই। খুব ভালো লেগেছে।

  14. 5
    Shahriar

    জাযাকাল্লাহ খাইরান

    1. 5.1
      শামস

      ধন্যবাদ।

       

  15. 4
    এম_আহমদ

    ভাই, আপনি এমন একটি জরুরি বিষয়ে লিখেছেন যে এ ব্যাপারে যথার্থ মন্তব্য করতে যে সময়ের প্রয়োজন, সেটা এখন হাতে নেই।  শুধু এতটুকু বলব যে লেখাটি অত্যন্ত ভাল হয়েছে এবং এই দৃষ্টিকোণ ও সাব্জেট থেকে আরও লেখা দরকার।

    সেক্যুলার/নাস্তিক সমাজ দর্শনের ভিত্তিতে গোটা বিশ্বের সমাজিক বাস্তবতাকে হাজার হাজার বৎসরের সভ্যতা ও নৈতিকতা  থেকে সরিয়ে খোদাহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে 'প্রোজেক্ট' নাস্তিকগণ তিনশো বছর আগে সেক্যুলারিজম ও হিউমেনিজমের আড়ালে শুরু করেছিল এখান তা ষোলকলায় রূপায়িত হতে যাচ্ছে। একমাত্র মুসলমানগণ ব্যতীত এই সর্বগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে আর কেউ তেমন দাঁড়িয়ে নেই। এজন্য ইসলামকে তারা আক্রমণ ও কলাকৌশলের মাধ্যমে কুঁকড়ো করে আনতে আর্থ-রাজনৈতিক ও মিলিটারী ট্রাটেজি অবলম্বন করছে এবং  তাদের মোড়লদের সাহায্য সহায়তা দিচ্ছে।

    1. 4.1
      শামস

       

      একমাত্র মুসলমানগণ ব্যতীত এই সর্বগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে আর কেউ তেমন দাঁড়িয়ে নেই। 

      হ্যা, খুব সোজাসুজি এবং সংক্ষেপে বললে সেটাই! তবে তথ্য উপাত্তসহ বিস্তারিতভাবেও বলা যায়। বস্তুবাদী (নাস্তিক, ধর্মনিরপেক্ষ ইত্যাদিকে একশব্দে) শক্তিটি প্রায় সব মতবাদ বা ধর্মকে বশীভূত করতে সক্ষম -- প্রতিবাদটা এখনও করছে ইসলাম এবং এর সামান্য কিছু অনুসারী। কারণ ধর্মনিরপেক্ষে মুসলিমদের অনেকেইস মজে আছে। এনলাইটেনমেন্ট ইউরোপ তথা পাশ্চাত্যকে আলোকিত করেছে, বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে সাম্রাজ্যবাদী করেছে, তাদেরকে অনুসরণ করলে হয়তো বড়জোড় ভালো দাস হওয়া যাবে, এর বেশি না!

      অবস্থা এমন, মুসলিমরা প্রতিবাদ করলে ইতিমধ্যেই বশীভূত হওয়ারাও বেরাজ হয়, একটু বাকলে কি এমন ক্ষতি হয়! তারা যদি ইসলামী দর্শনের শক্তি এতটুকুও অনুধাবন করতে পারতো তাহলে হয়তো নিজেরাও বশীভূত হতো না! ইসলাম মুসলিমদের সংঘাত এড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করতে বলেছে, কিন্তু তা যদি অবশ্যম্ভাবী হয় তাহলে লড়াইটা করতে বলেছে বীরত্বের সাথে, ডরভয়হীনভাবে। মিলিটারী লড়াইটা সামনাসামনি -- এতে যুদ্ধটা সহজ। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বস্তুবাদীতায় নিমজ্জিত করাটা কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও ফলদায়ক। মুসলিম বিশ্বে মিলিটারিজেশনের চেয়ে সেই লড়াইটাই বেশী হচ্ছে। আমার ধারণা, মুসলিমরা সেটাতেই বেশি মার খাচ্ছে। লড়াইয়ের লক্ষ্য তাই বুদ্ধিবৃত্তিকভাবেই হওয়া দরকার।

       

  16. 3
    রিজভী আহমেদ খান

    ভাইয়ার লেখা সব সময়ই আমার ভালো লাগে। জাযাকাল্লাহ খাইরান।অনেক কিছু জানলাম। ভালো লিখেছেন।

    1. 3.1
      শামস

      ধন্যবাদ।

       

  17. 2
    জামশেদ আহমেদ তানিম

    গোগ্রাসে গিলছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে শেষ হয়ে গিয়ে ধাক্কা খেলাম।

    লেখাটাকে আরো অনেক টেনে নেয়া যেত।

    1. 2.1
      শামস

      @জামশেদ আহমেদ তানিম,

      আরো বড়ো করলে হয়তো লেখাটাই দেয়া হতো না! 

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। 

  18. 1
    নির্ভীক আস্তিক

    অসাধারন কিছু তথ্যের সমাহার ঘটিয়েছেন শামস ভাই। বরাবারেই আপনার লেখা পড়ে মুগ্ধ হই। তবেঃ

    বিষ্মিত হইনি কারণ ধর্মনিরপেক্ষতা এবং প্রগতিশীলতার ধারাবাহিকতায় এটাই হবার কথা। কিন্তু শংকিত হয়েছি, কারণ এরপর কি – অজাচার বা আরো প্রগতিশীল (!) কিছু।

    কি যে বলেন না! বোকা নাকি আপনি? তারা কি বসে আছে আপনার মনে হয় ? এখানে একটি মন্তব্য করেছি একটু দেখে নিন। অনেক দ্রুত লিখেছি মন্তব্যটি কিন্তু আরো অনেক কিছু সংযোজন করে একটি পোষ্ট দেয়ার ইচ্ছে আছে। অবশ্য আপনাদের মত অত ভাল লিখতে পারিনা এই হল সমস্যা। সমকামিতা, আচার্য, পতিতাবৃত্তি এগুলোকে সামাজিক বৈধ সংস্কৃতি আর ব্যবসার মাধ্যম(আই মীন Capitalist দের টাকা পয়সা কামানোর মাধ্যম) হিসেবে সচল করার ক্ষেত্রে নাস্তিকতা ও ধর্মহীন বাম রাজনীতি কিভাবে কাজ করছি তাকে একটু ফোকাস আনা দরকার। 

    1. 1.1
      শামস

      @নির্ভীক আস্তিক,

      ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

      দেখলাম, একটু গুছিয়ে নিলেই ব্লগ হয়ে যাবে। আপনি অনেকদিন ধরেই মন্তব্যে আছেন। এবার কিছু লিখুন এবং নিজের মতামতকে প্রকাশ করুন।

       

Leave a Reply

Your email address will not be published.