«

»

Jul ২৬

সন্ত্রাস বা জঙ্গীবাদের সমীকরণ

পুঁজিবাদ পাশ্চাত্য মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুঁজিবাদ মানেই বৈষম্য। আপাতদৃষ্টিতে পুঁজিবাদের সাথে বাগড়া দেবার সামর্থ্য কেউ রাখে না।  পুঁজির উপর ভড় করেই হয়েছে পাশ্চাত্যের শিল্পবিপ্লব। পুঁজি না থাকলে পাশ্চাত্যের এনলাইটেনমেন্ট মুখ থুবড়ে পড়তো- ফ্রিডম, লিবার্টি, সেক্যুলারিজম – পুঁজি ছাড়া অচল। সেই পুঁজি এসেছে দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকার সম্পদ লুট করে আর দাসশ্রমিক দিয়ে। শিল্পবিপ্লবের আগে প্রাকৃতিক সম্পদহীন হতদরিদ্র হল্যান্ড সম্পদ লুটে শিল্পবিপ্লব ঘটিয়ে এখন পৃথিবীর অন্যতম ধনী দেশ। ১৭৫০ এর দিকে ভারতে আসার আগে পৃথিবীর মোট উৎপাদন এর শতকরা ২৪ ভাগ এর যোগান হতো ভারত থেকে, যেখানে ব্রিটেনের ছিল মাত্র শতকরা ১.৮ ভাগ। অথচ ১৯৪৭ সালে ভারত ছাড়ার সময়ে অবস্থা হয়ে যায় একেবারে উল্টো!  ভারতীয় উপমহাদেশের দুর্ভিক্ষে, দক্ষিণ আমেরিকার খনিতে কিংবা আটলান্টিকের পাড়ে কোটি কোটি আফ্রিকান দাস এর বলি হয়েছে। প্রসারণশীল পুঁজিবাদের জন্য চাই সম্পদের নিরাপদ লুটপাটের সুযোগ। লুটপাট আর শোষণ ছাড়া এটি একেবারেই প্রাণহীন। অবিচারের মধ্যেই এর স্ফূরণ। এই অবিচারের প্রতিরোধ পৃথিবীর নানা প্রান্তে নানাভাবে হয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকাতে হয়েছে বামপন্থী মতবাদকে মূল চালিকাশক্তি ধরে। মুসলিম বিশ্বের বেশীরভাগ স্থানে বামপন্থা আসন গাড়তে সক্ষম না হলেও, প্রভাববিস্তার করেছে, তবে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রতিক্রিয়ায় ধর্ম এসেছে একটি নিয়ামক শক্তি হিসেবে। মিশরে সাইয়েদ কুতুব প্রথমদিকে প্রতিক্রিয়াটা দিতে চেয়েছিলেন রাজনৈতিকভাবেই, সেক্যুলারদের সহযোগী হিসেবে, যা পরবর্তীতে মূলধারার ইসলামী রাজনীতি থেকে জঙ্গিবাদে এসে শেষ হয়।

পাশ্চাত্য কলোনিয়াল শক্তি বিজিত দেশে সামাজিক বৈষ্যম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। ব্রিটিশদের করা কলোনিয়াল আইন এবং তার পরবর্তী জাতীয় সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগী জনসংখ্যার দ্বারা অস্থিতিশীলতার সুযোগে নাইজেরিয়াতে সৃষ্টি হয়েছে সেখানকার জঙ্গিগোষ্ঠী বোকোহারামের। আজকের জঙ্গীবাদে জর্জরিত প্রতিটি অঞ্চলে কলোনিয়াল শক্তির অতীত এবং বর্তমানের একটি যোগসূত্র বিদ্যমান।  আফ্রিকাতে কলোনিয়ালশক্তি  যে ভুমি এবং খনিজ সম্পদ দখল করেছে, সেটা করেছে  নিজেদের আইনের আশ্রয় নিয়ে। আফ্রিকা ত্যাগ করার পর সেগুলোর মালিকানা চলে যায় বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী এবং তাদেরই আশ্রয়ে গড়ে উঠা স্থানীয় সুবিধাবাদী এলিট গোষ্ঠির হাতে। পুঁজিবাদের শোষণ হতে পারে পুঁজির আঁতুড়ঘরেও। ২০০৮ এর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর যুক্তরাজ্যের উপর এক জরিপে দেখা গেছে নিন্মবিত্ত এবং দরিদ্রারা তাদের সম্পদের শতকরা ৮০ ভাগ হারিয়েছে, মধ্যবিত্ত হারিয়েছে ৫০ ভাগ আর ধনীদের সেখানে বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশী। তবে নিজেদের স্বার্থে পুঁজিবাদী এলিট গোষ্ঠী তাদের সুরক্ষিত ভূসীমানায় আপাত একটা স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা তাদের একসময়ের কলোনি দরিদ্র দেশগুলোর ক্ষেত্রে হয়নি। তাদের উৎপাদনের কাঁচামাল আসে সেই দরিদ্র দেশগুলো থেকে, ফলে কলোনি থেকে উত্তরণে আসা  দরিদ্র অঞ্চলগুলোর দারিদ্রতা থেকে মুক্তির কোন সম্ভাবনা নেই। পুঁজিবাদের শোষণ শোষিতের সব কাঠামোকে ধবংস করে দেয়, এই ধ্বংসের মধ্যেই পুঁজির প্রবৃদ্ধি। এর ফলে আমেরিকান রেড ইন্ডিয়ান, নিউজিল্যান্ডের মাওরি কিংবা ল্যাটিন আমেরিকার আদিবাসীদের সামাজিক এবং ধর্মীয় কাঠামো প্রায় অস্তিত্বহীন হয়েছে। তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয়  উপাদানগুলোর অন্তর্নিহিত শক্তি তাদের পবিত্র প্রতিষ্ঠানগুলোকেও রক্ষা করতে সক্ষম ছিলো না।

পাশ্চাত্যের স্বার্থ রক্ষাকল্পে তাদের মিডিয়া এবং সিক্রেট সার্ভিস মেশিনারিগুলো (যেমনঃ সিআইএ) সরকার উৎখাত করে তা সে যতো জনপ্রিয় হোক না কেন। তাদের প্রধান বিবেচ্য ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং পুঁজির অবাধ প্রসার। উৎখাতটা করে (১) সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে,  (২) সামাজিক অস্থিরতা তৈরীর মাধ্যমে, এবং (৩) এবং যদি সব ব্যর্থ হয় তবে সরাসরি আক্রমণে। ইরানে ব্রিটিশ অয়েলকে যখন ১৯৫৩ সালে রাষ্ট্রীয়করণ করার চেষ্টা করা হয়, তখন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মোসাদ্দেককে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়, নানা ঘটনা পরিক্রমায় যা শেষপর্যন্ত ইসলামী বিপ্লবে এসে শেষ হয়। রকফেলার ফাউন্ডেশন এর ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানিকে রাষ্ট্রীয়করণ করতে চাইলে ১৯৫৪ সালে গুয়েতমালার নির্বাচিত সরকার জ্যাকব আরবেঞ্জ অপসারিত হন, বিরুদ্ধাচারণ করায় ১৯৩০ সালে ডমিনিকান রিপাবলিকান এর রাফায়েল তুজিলো নিহত হন, ইকুয়েডরের জোসে ভেলাসকোকে অপসারণ করা হয় তার ভাইস প্রেসিডন্ট দ্বারা, চিলির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সালভাদোর আলেন্দকে ১৯৭৩ সালে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে পরে হত্যা করা হয়, ১৯৮৯ সালে নিজেদের তৈরী নরিয়েগাকে আবার নিজেরাই ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে। এগুলো সামান্য কিছু খতিয়ান। হুগো স্যাভেজকে অনেক চেষ্টা করে কিছু করতে পারলেও তার দলের নেতৃত্বাধীন ভেনিজুয়েলাকে এখন এমন এক অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে যে এটি মিডিয়ার প্রায় ব্ল্যাকআউটের মধ্যে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ইরাকের সাদ্দাম সিআইএ’র সমর্থনপুষ্ট ছিলেন, কিন্তু পাশ্চাত্যকে চ্যালেঞ্জ করে তাদের চক্ষুশূল হন। তাকে অপসারণের জন্য মিলিটারী, কিংবা অবরোধ কোন কিছু কাজ না করায় সরাসরি দখল অভিযানে নামতে হয়। সাদ্দাম পাশ্চাত্য পুঁজির প্রসারে বাঁধা হিসেবে পরিগণিত হওয়ায় তার অপসারণ ছিল অবধারিত। খৃষ্টান ইভাঞ্জেলিক্যাল বুশ কিংবা লিবারেল লেবার তখন এক, দুটাই পুঁজিবাদের ক্রীড়ানক। বুশের খৃষ্টান ইভাঞ্জেলিক্যাল ধর্মবিশ্বাস একটা বড়ো কারণ হলেও মূল কারণ যেমন ধর্ম নয়, তেমনি সাদ্দামের পাশ্চাত্য এলিটদের বিরুদ্ধাচারণও ধর্মীয় কারণে নয়। সাদ্দাম নিজে কোন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন, তিনি সেক্যুলার আরব জাতীয়তাবাদী নেতা। অবশ্য ইরাক যুদ্ধ এবং তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে যায়।

সাইয়েদ কুতুব, কিংবা তার শিষ্য আইমান আল জাওয়াহিরি, লাদেন কেউই ধর্মীয় পণ্ডিত নন। ছিলেন সেক্যুলার এবং পাশ্চাত্য শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত। কুতুব জায়গীরদার পিতার অর্থবিত্তের বদৌলতে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পেয়েছিলেন। চল্লিশ এর দশকে উচ্চতর ডিগ্রী নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কলোরেডোতে স্কলারশীপ নিয়ে পড়তে যান। অপরদিকে জাওয়াহিরির পারিবারিক অবস্থা ছিল আরো বেশি সমৃদ্ধ। ১৯২৪ সালে অটোম্যান খেলাফত সরকারীভাবে যখন পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়, তখন বেশ কয়েকজন গণ্যমাণ্য লোক মক্কাতে একটা কনফারেন্সে মিলিত হয়ে কিভাবে খিলাফতকে আবার পুনরীজ্জীবিত করা যায় তার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা একজন খলিফা নির্বাচনে ব্যর্থ হলে কনফারেন্স এর প্রধান উদ্যোক্তা মুহম্মদ জাওয়াহিরি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আসুন তাহলে মুসলিম জাতির জানাযা পড়ি। মুহম্মদ জাওয়াহিরি হলেন আইমান আল জাওয়াহিরি’র দাদা, আল-আজহার এর একজন শেখ। মিশরীয় সংবিধান রচয়িতার মধ্যে একজন হলেন তার দাদা। বাবা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজির প্রফেসর। তার এক চাচা ছিলেন আরব লীগের প্রথম সেক্রেটারি জেনারেল। জাওয়াহিরি প্রসিদ্ধ কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে ঔষধশাস্ত্রে ডিগ্রী অর্জন করে এর পরের বছরই সার্জারিতে মাস্টার্স ডিগ্রী নেন। সাইয়েদ, কুতুব এবং আইমান আল জাওয়াহিরির এবং তার অনুসারীদের নিয়ে যে সশস্ত্র যুদ্ধের সূচনা হয়েছে সেটার প্রেক্ষাপটও পাশ্চাত্য কলোনিয়ালিজম এবং এর প্রসারণতার বিরুদ্ধাচারণ করে। তাদের মতোই এই এইসময়ের সশস্ত্র আন্দোলন বা জংগীবাদের মূল জনবল আসছে শিক্ষিত এবং ধর্মীয়ভাবে আবেগী  প্রতিহিংসাপরায়ণ একটা গোষ্ঠী থেকে।  

জঙ্গীবাদ নিয়ে প্রচলিত ধারণা হল এটি দরিদ্রতায় নিষ্পেষিতদের একটি প্রতিবাদ। বিখ্যাত অর্থনীতিবই এলান ক্রুগার এ নিয়ে সন্দেশ পোষণ করেন এবং লেবানন, এবং ফিলিস্তিনের সশস্ত্র আক্রমণের উপর গবেষণা করে দেখেন যে এইসব সশস্ত্র আক্রমণের প্রধান সমর্থক এবং পৃষ্ঠপোষক প্রধানত আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠী থেকে আসা।  অর্থনীতি, সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থা জঙ্গিবাদে প্রভাব বিস্তার করে। চরম দারিদ্রের মধ্যে থেকেও সেখানে দারিদ্রতা জঙ্গীবাদের প্রধান কারণ হিসেবে আসেনি। রাজনৈতিক অবস্থা, দীর্ঘদিন ধরে চলা অমর্যাদা, অসম্মান এবং হতাশা এর প্রধান কারণ। শিক্ষা জঙ্গিবাদকে কমাতে সাহায্য করতে পারে সে ব্যাপারে এলান ক্রুগার দ্বিমত পোষণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ১৯৮৩ সাল থেকে সন্ত্রাসবাদের যে সংজ্ঞাকে ব্যবহার করে সেখানে জঙ্গীবাদকে ধরা হয় রাজনৈতিকভাবে মটিভেটেড কোন দল এর সাধারণ নাগরিকদের উপর হামলাকে। বর্তমানের ইসলামের নামে যে জঙ্গীবাদ তাতে দীর্ঘসময় ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম বিশ্বের উপর কলোনিয়ান শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটা বহিঃপ্রকাশ। প্রফেসর অরুণ কুন্দনানী তার লেখায় চরম ধর্মীয় মতবাদকে জঙ্গীবাদের উৎস বলে যে প্রচলিত ধারণা তৈরী করা হয়েছে তাকে একাডেমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। মার্ক সেগম্যান আল-কায়েদার ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে স্টাডি করতে গিয়ে  জঙ্গীদের যে শিক্ষাগত যোগ্যতা পান তাতে দেখা গেছে তাদের শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশী আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। তাছাড়া তারা অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক স্বচ্ছল । আইরিশ রাজনৈতিক বিজ্ঞানী লুইস মেরি রিচারডসন একই বিশ্লেষণ টেনেছেন যে ধর্ম সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর জন্য দায়ী নয়, ধর্ম বৃহৎ কোন লক্ষ্য পূরণের জন্য জাস্টিফিকেশনের একটা উপায়। মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ব্যর্থতা ব্যক্তিবিশেষকে জঙ্গীবাদের দিকে ঝুকে পড়তে সাহায্য করতে পারে। সন্ত্রাস সেইসব ব্যক্তিদের কাছে মর্যাদাহানির বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া, যাতে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক উপাদানগুলো সহিংসতার একটা সংস্কৃতির দিকে ধাবিত করে। জঙ্গীদলগুলোর প্রধান লক্ষ্য অমর্যাদা, অপমান, শোষণ থেকে উত্তরণকল্পে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে ভেঙ্গে ফেলা। লন্ডন-বেসড বিখ্যাত লেখক গোয়েন ডায়ার জঙ্গীবাদকে দেখেছেন একটি রাজনৈতিক উপায় (সশস্ত্রভাবে) হিসেবে, ধর্মীয় মতবাদ হিসেবে নয়। ইসলামের সাথে বা ইসলামের কোন মতবাদের সাথে জঙ্গীবাদকে জুড়ে দেয়া, এবং জনসাধারণের মধ্যে একটা ধারণা তৈরীর কাজটা করেন উগ্রপন্থী খৃষ্টান ইভাঞ্জেলিক্যালক্যালদের প্রতিনিধি বুশ, এবং তার ডানপন্থি সহযোগীরা, পাশ্চাত্য পুঁজিবাদী এলিটদের সমর্থনে।

আধুনিক ইসলামের নামে যে জঙ্গীবাদ তার অন্যতম কারিগর জাহয়াহিরি এবং তার সমমনারা। তাদের সবচেয়ে বড়ো অবদান হল জঙ্গীবাদকে বৈশ্বিক রূপ দেয়াতে। সাইয়েদ কুতুবকে অনেকে অভিহিত করেন এর গডফাদার হিসেবে। জাওয়াহিরি তার চাচার অনুপ্রেরণায় মাত্র পনের বছর বয়সে প্রথম রাজনীতির হাতেখড়ি নিলেও তার উপর সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী ছিলেন সাইয়েদ কুতুব। সাইয়েদ কুতুবের চিন্তার জগতের পরিবর্তন ছিল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রোমান্টিক জাতিয়তাবাদী থেকে মূলধারার রাজনীতি [মুসলিম ব্রাদারহুড] এবং শেষে রীতিমত “বিপ্লবী”। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ব্যর্থতা কুতুবকে ইসলামী রাজনীতির নিকট নিয়ে আসে। কুতুবের পাশ্চাত্য আগ্রাসনের বিরোধীতাকে ধর্মের চোখ দিয়ে দেখেছেন। ফলে পাশ্চাত্য এবং তার অনুসারীরা তার কাছে ‘জাহেলিয়া’র নামান্তর। কুতুবের দেখা সেই জাহেলিয়াতে মগ্ন ব্যাক্তি নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে অথর্ব পদার্থে পরিণত হয়। ‘জাহেলিয়া’ অথবা ‘ইসলাম’ – এর মধ্যবর্তী কিছু নেই। পাশ্চাত্য সমাজে গিয়ে সেই সমাজের অবাধ যৌনতা, নগ্নতা, বর্ণবাদ, লাগামহীন জীবণব্যবস্থা, সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ধসে পড়া দেখে তিনি ছিলেন বিরক্ত। কিন্তু সবচেয়ে শংকিত ছিলেন তার দৃষ্টিতে সেই রূগ্ন সমাজের সেক্যুলার এলিটদের হাত ধরে মিশরে চালান হওয়া দেখে! ফলে ৫০ এর দশকে সিভিল সার্ভিস এর চাকরি ছেড়ে দিয়ে  মূলধারার ইসলামী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবণ শুরু করেন। অপরদিকে কুতুবকে ফাঁসিতে ঝুলানো হলে তার কয়েক বছর পড়ে জাওয়াহিরি সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদে যোগদান করেন।

ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলনে মুসলিম ব্রাদারহুড এবং সেক্যুলার শক্তি ছিল একই ফ্রন্টে। মুসলিম ব্রাদারহুড ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অনেক সাফল্য অর্জন করে। ব্রিটিশদের বিদায়ের পর মিশরের ক্ষমতার ভারকেন্দ্র চলে যায় সেক্যুলারদের হাতে। একদিকে নাসেরের নেতৃত্বে সেক্যুলার আরব জাতীয়তাবাদীরা একদিকে, আরেকদিকে ছিলেন ইসলামী রাজনৈতিক দর্শনের নেতারা, যাদের মধ্যে কুতুবও ছিলেন। কুতুব ব্রাদারহুডের রাজনীতে সংশ্লিষ্টতা থাকলেও এতে যোগদান করেন অনেক পড়ে ১৯৫৩ সালে। নাসের ইরাকের সাদ্দাম, সিরিয়ার আসাদ, ফিলিস্তিনের আরাফাত, আলজেরিয়া কিংবা তিউনিসিয়ার সেক্যুলার জাতীয়তাবাদী শাসকদের মতোই। নাসেরের সাথে অনবরত ঘটতে থাকা সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ সালে সালে কুতুব গ্রেফতার হন নাসেরকে হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে। স্বল্পসময়ের জন্য ১৯৬৪ সালে ছাড়া পান। আবার গ্রেফতার হন ১৯৬৫ সালে এবং ১৯৬৬ সালে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত হন। অবশ্য কুতুবকে প্রাণভিক্ষার সুযোগ দেয়া হয়েছিল, এবং ইরাক ও লিবিয়ার সরকার তাদের দেশে আশ্রয়ও দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তিনি সেসব প্রত্যাখ্যন করেন। দীর্ঘদিন জেলে থাকা অবস্থায় কুতুব ভবিষ্যত আন্দোলনের যে রূপরেখা তৈরী করেন, তা তার অনুসারীদের দ্বারা সশস্ত্র যুদ্ধের নামে জঙ্গিবাদে পর্যবসিত হয়।     

সাম্প্রতিক ইরাক আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পাশ্চাত্য কলোনিয়াল শক্তি ইরাকীদের উপর যে অকথ্য অত্যাচার করে, তার সামান্যই লোকচক্ষুর নজরে আসে। ইরাকী বন্দীদের উপর করা পৈচাশিকতাকে শিল্পের (!) পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ইনফ্যাক্ট, তাদের উপর অত্যাচার করা হতো হেভিমেটাল মিউজিক বাজিয়ে। এই অত্যাচার করা হয়েছে পাশ্চাত্যের শাসকদের জ্ঞাতসারে, তাদের অনুমোদন নিয়ে। শুনতে আশ্চর্যজনক লাগলেও এটাই সত্য যে, সিআইএ এই কাজগুলো করেছে আরো ৫০ বছর আগেই মিশরীয় সেক্যুলার শক্তির সাহায্য নিয়ে। মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মীদের জেলের ভেতর অত্যাচার করা হতো সিআইএর তত্ত্বাবধানে!  তাদের নগ্নভাবে দাঁড় করিয়ে যৌন নির্যাতন কিংবা বদ্ধ সেলে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেয়া হতো। সাইয়েদ কুতুবের মতো এরকম একজন তাত্ত্বিক রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে কুকুড় লেলিয়ে দিতেও তারা এতটুকু কার্পণ্য করেনি। এতে কুতুবের হার্ট এট্যাক হলেও সে যাত্রায় বেঁচে যান। কুতুবের জেলের ভিতরে সবচেয়ে ভালো সময়ে তাকে ৪০ জন দাগী আসামীর সাথে একই কক্ষে রেখে টেপ রেকর্ডারে ২০ ঘণ্টা নাসেরের ভাষণ উচ্চ শব্দে বাজানো হতো। এইসব পাশবিক অত্যাচার কুতুবের দর্শনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হাসান আল বান্নার ইসলামিক রাজনৈতিক দল আল-ইখওয়ান আল-মুসলিমুন (মুসলিম ব্রাদারহুড) এর যে যাত্রা হয়েছিল, যার অন্তর্নিহিত কারণ ছিলঃ ১৯২৪ সালে মুসলিম বিশ্বের খিলাফতের পরিসমাপ্তি ঘটলে একে পুনরায় চালু করা, পাশ্চাত্যের কলোনাইজেশন, এবং তার সংস্কৃতির প্রসার রোধ করা। মুসলিম দেশের সীমানা রক্ষায় খিলাফতের প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যে রাজনীতির সূচনা, সেখানে কারো হস্তক্ষেপকে যেকোন উপায়ে প্রতিরোধের লক্ষ্যে কাজ করতে থাকে। কিন্তু তাদের অবস্থান ছিল ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে। ১৯৩৫ সালে হাসান আল বান্নার ফিলিস্তিন ভ্রমণের পর ইসরায়েলী ইহুদীদের পণ্য বর্জনসহ ফিলিস্তিনীদের আবেদনকে একেবারে সামনে নিয়ে আসেন।  জায়ানিজম, কলোনিয়ানিজম যে একই সুত্রে গাথা সেটাকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। ফিলিস্তিনীদের পক্ষ হয়ে সশস্ত্র সংগ্রামে  মুসলিম ব্রাদারহূডের ব্যাপক ভুমিকা ছিল, ১৯৪৭ সালে হাসান আল বান্না নিজে সামনে থেকে এসব পর্যবেক্ষণ করতেন। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিন নিয়ে যে সিদ্ধান্ত দেয় এর সবচেয়ে কড়া প্রতিবাদটি আসে মুসলিম ব্রাদারহুড এর কাছ থেকে। অপরদিকে ইসরায়েলী ইহুদীদের প্রধান সমর্থক ছিল পাশ্চাত্যে এবং তাদের প্রধান অস্রের যোগানদাতা ছিল তৎকালীন সৌভিয়েত রাশিয়া। হাসান আল বান্না’র সাথে তার  পূর্বসূরি জালালুদ্দিন আফগানী , রশিদ রিদা, মোহাম্মদ আবদু – তাদের একটা সাধারণ মিল ছিল পাশ্চাত্য কলোনাইজেশন এবং এর দ্বারা মুসলিম বিশ্বের গাভাসানোর বিরুদ্ধে, কিন্তু তারা ধর্মীয় গোঁড়ামিকে নিরুৎসাহিত করতেন। অপরদিকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের দ্বারা বর্তমানের জঙ্গীবাদে  গোঁড়ামি প্রধান অবলম্বন, যা এসেছে প্রতিশোধের স্পৃহা থেকে।

নাসেরের পর সাদাত – একই ধারাবাহিকতাকেই বহন করছিলেন! তবে সবচেয়ে মারাত্নক ভুলটি করেন সাদাত। হেনরী কিসিঞ্জারের পরামর্শে পাশ্চাত্যের সমর্থনে সাদাত মিশরের সাথে ইসরায়েলের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করেন। জাওয়াহিরির মতো কট্টরপন্থী গোপন দলগুলোর কাছে সাদাত ছিলেন পাশ্চাত্যের আধুনিকতার রুগ্নতায় পুরোপুরি আচ্ছন্ন একজন লোক। সাদাতের প্রশাসন ছিল দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত, তার উপর ইসরায়েলের সাথে চুক্তি, যা ক্ষমার অযোগ্য। ইসলামিক জিহাদ সাদাতকে হত্যাই করতে চায়নি, চেয়েছিল তার হত্যাকে একটি প্রতীকি রূপ দিতে। ১৯৮১ সালে ইসলামিক জিহাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সেনাবাহিনীর অফিসারদের একটি দল কড়া নিরাপত্তা বেষ্ঠনীর মধ্যে সামরিক কুচকাওয়াজের সময় সাদাতকে হত্যা করে।

আরব-ইসরায়েল এর দ্বন্দ্বে আরবদের নেতৃত্বদানকারীরা ছিলেন জাতীয়তাবাদী সেক্যুলাররা। আরব-ইসরায়েল যুদ্ধটা ছিল জাতীগত। ফিলিস্তিন নামক স্থানটির ঐতিহাসিক তাৎপর্যতার কারণে এর ধর্মীয় একটি দিককে অস্বীকার করার উপায় নেই। সেক্যুলার শাসকরা যোগ-বিয়োগের হিসেবে ধর্মকে তাদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্থান দিয়েছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরবদের হানাহানিতে ধর্ম প্রধান ভুমিকায় আসে অনেক পড়ে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে করা দূঃসাহসিক সব সশস্ত্র হামলায় অগ্রজ ছিল মূলত জাতীয়তাবাদী এবং বামপন্থীরা। একসময়ের ইসরায়েলের ত্রাস পপুলার ফ্রন্ট, ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট বামপন্থী সশস্র সব গ্রুপ। ১৯৭২ সালে মিউনিখে অলিমিপকে ইসরায়েলী খেলোয়াড়দের হত্যাকান্ডে অংশ নেয়ারা ছিল বামপন্থী। বিশ্বের প্রথম মহিলা বিমান ছিনতাইকারী লায়লা খালেদ ফিলিস্তিনি পপুলার ফ্রন্টের একজন সদস্য। ইয়াসির আরাফাতের পিএলও’ও একটি সেক্যুলার সংগঠন। সৌভিয়েতের পতনের পর বামপন্থীরা ধীরে ধীরে দৃশ্যপট থেকে দূরে সরে যায়। সেক্যুলার জাতিয়তাবাদীরা ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ঠেকাতে পারেনি, আর ইসরায়েল এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে ছিল শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ যা আরব জাতীয়তাবাদের জন্য গভীর ইমেজ সংকট তৈরী করে।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় যে অবিচার এবং বৈষম্য তা একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপে বিরাজমান। জঙ্গীবাদ এসবের উপসর্গ। দারিদ্রতা জঙ্গীবাদের প্রধান কারণ নয়, যেমন নয় ধর্ম। সম্পদের স্বল্পতা কখনো পৃথিবীর সমস্যা ছিল না, এখনো নেই।  বর্তমান পৃথিবীতে মানুষ তার সম্পদের দেড়গুণ বেশী ব্যবহার করে। ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিবছর দুইটা পৃথিবীর সমপরিমাণ সম্পদ ভোগ হবে। অথচ, এই পৃথিবীতে বর্তমানেই গড়ে প্রতিদিন ২৯ হাজার শিশু মারা যায় খাদ্য এবং চিকিৎসার অভাবে। মাত্র ২০ বিলিয়ন ডলার দিয়ে যেখানে দারিদ্র দূর করা যায়, সেখান যুক্তরাষ্ট্র একাই ৫০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করে মারণাস্ত্র। পাশ্চাত্যকেন্দ্রিক খুব ক্ষুদ্র একটি এলিট গোষ্ঠীর পুজিবাদী বিশ্বব্যবস্থা নিজ প্রয়োজনে সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দেয়, পুঁজির প্রসারকে সচল রাখতে। পুঁজির প্রসারের জন্য পেশীর যে ব্যবহার, তা  বিষ্ফোরণ ঘটাতে পারে, যা ইরাকে হয়েছে, লিবিয়াতে এবং আফগানিস্তানে। এর সাথে আছে জড়িয়ে আছে অপমান, অমর্যাদা এবং লাখো মানুষের মৃত্যুর খতিয়ান। মিথ্যার উপর ভড় করা, চরম অনৈতিক এবং নৃশংস এসব যুদ্ধ, জঙ্গীবাদীদের প্রতিক্রিয়াকেও নৃশংস করেছে।

পাশ্চাত্য মিডিয়ার অনেকটা ব্ল্যাকআউটের মধ্যে ২০০০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মূলত মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে মোট ১১৮০০০ বার বিমান হামলা চালায়। এর মধ্যে আফগানিস্তানে হয়েছে সবচেয়ে বেশী, ৬১,০০০ বার। ওবামা ক্ষমতায় আসার পর সাড়ে ছয় বছরে চালানো হয় মোট ৪৭,০০০ বার, যেখানে বুশের ‘শক এন্ড অ’ নামক সন্ত্রাসে আট বছরে চালানো হয় ৭০,০০০ বার। কেবল ২০১৫ সালেই ছয়টি মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ২৩,১৪৪ বার বিমান হামলা চালানো হয়। ২০১৪ সালে মোট ৩৯০ বার দ্রোণ হামলা চালানো হয়। আফগানিস্তানে এ পর্যন্ত যেসব দ্রোণ হামলা হয়েছে তার শতকরা ৯০% এর শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ। এগুলোতে শিশু মহিলাসহ পুরো পরিবার পর্যন্ত নিশ্চিহ্ন হয়েছে। ফিজিশিয়ানস ফর সোস্যাল রেস্পন্সিবিলিটি’র ২০১৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এই ‘ওয়ার অন টেরর’ এ ইরাক, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে আনুমানিক ১৩ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে আছে অনেক নারী এবং শিশু। ইরাক যুদ্ধ শুরু হবার পর এখন পর্যন্ত ৩০ লক্ষ লোক নিজের ভুমি থেকে বাস্তুহারা, আর আফগানিস্তানে এই সংখ্যাটা ২৫ লক্ষ, যাদের বেশীরভাগই পাকিস্তানে আশ্রয়প্রার্থী।  একসময়ে পাশ্চাত্যের সহায়তায় ইসরায়েল এর দ্বারা ফিলিস্তিন এবং লেবাননের উপর অনৈতিক যুদ্ধ জঙ্গীবাদের জন্য অফুরন্ত লোকবল প্রবাহ তৈরীর জন্য যথেষ্ট ছিলো। এ দুটি অঞ্চল এখনো তেমনি যুদ্ধাবস্থায়, সাথে যুক্ত হয়েছে ইরাক, আফগানিস্তান এবং লিবিয়ার মতো নির্বিচার গণহত্যার নতুন সব ক্ষেত্র, যার পরিধি প্রসারণমান। জঙ্গীবাদের যুদ্ধ এখন আন্তর্জাতিক হয়েছে, পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়েছে, এমনকি পাশ্চাত্যের স্থিতিশীল সুরক্ষিত সীমানার মধ্যেও। এখন একটা সন্ত্রাস আরেকটা সন্ত্রাসের জন্য জাস্টিফিকেশন হিসেবে চক্রাকারে আবর্তিত।

 

 

সাহায্য নেয়া হয়েছেঃ

১.https://www.middleeastmonitor.com/articles/middle-east/14418-the-muslim-brotherhood-and-salafist-jihad-isis-different-ideologies-different-methodologies

২.https://www.middleeastmonitor.com/articles/middle-east/14552-to-defeat-isis-we-need-to-stop-shooting-in-the-dark-and-understand-political-islam

৩. http://www.history.com/topics/cold-war/red-scare

৪. The search for al-qadea; its leadership, ideology and future, Bruce Riedel

৫.http://www.nytimes.com/2003/03/23/magazine/the-philosopher-of-islamic-terror.html?pagewanted=all

৬. Documentary: The end of poverty? Think again.

৭. https://www.youtube.com/watch?v=IfxcAqu0as4

৮. http://www.mideastweb.org/Middle-East-Encyclopedia/muhammad_rashid_rida.htm

৯. Challenges to Religion and Islam: A Study of Muslim Movements: Part 1

১০. Development or Destruction? The Oil Industry, Richard and Louise Spilsbury, Wayland

১১. http://www.globalissues.org/issue/2/causes-of-poverty

১২. Islamic movement in Egypt, Abdelnasser [Google book]

১৩. Colonialism and call to Jihad in british india, Tariq Hasan [Google book]

১৪. http://www.globalresearch.ca/a-timeline-of-cia-atrocities/5348804

১৫. http://www.rochester.edu/College/PSC/clarke/214/Krueger03.pdf

১৬. https://www.theguardian.com/commentisfree/belief/2015/jun/27/its-not-the-religion-that-creates-terrorists-its-the-politics

১৭. http://terrorism.about.com/od/causes/a/causes_terror.htm

১৮.https://www.theguardian.com/commentisfree/belief/2015/jun/27/its-not-the-religion-that-creates-terrorists-its-the-politics

১৯.The war on terrorism: A collision of values, strategies and societies, Thomas A Johnson. [Google book]

২০. https://www.youtube.com/watch?v=3qV3BBcEDlw

২১.http://www.huffingtonpost.com/bekeh-utietiang/understanding-boko-haram_b_5290825.html

২২.http://www.globalresearch.ca/four-million-muslims-killed-in-us-nato-wars-should-we-call-it-genocide/5470424

২৩. http://www.huffingtonpost.com/philip-slater/the-root-causes-of-terror_b_32466.html

২৪.http://www.globalresearch.ca/terrorism-originates-from-the-western-colonial-powers/24104

২৫. https://www.theguardian.com/uk-news/2014/nov/18/fivefold-increase-terrorism-fatalities-global-index

২৬.http://www.australiannationalreview.com/dropped-23144-bombs-muslimmajority-countries-2015

২৭.https://www.amnesty.org/en/latest/news/2016/07/syria-high-civilian-death-toll-from-us-led-coalition-airstrikes-on-manbij/

২৮. http://www.globalresearch.ca/playing-games-with-war-deaths/5502233

২৯. https://consortiumnews.com/2015/07/06/americas-endless-air-wars/

৩০. http://www.investigativeproject.org/3831/ayman-zawahiri-and-egypt-a-trip-through-time#]

৩১. http://www.bbc.com/news/world-middle-east-13789286

৩২.http://www.nytimes.com/2003/03/23/magazine/the-philosopher-of-islamic-terror.html?pagewanted=all

৩৩.http://america.aljazeera.com/opinions/2015/4/americans-have-yet-to-grasp-the-horrific-magnitude-of-the-war-on-terror.html

 

৫৮ comments

Skip to comment form

  1. 35
    madhumangal saha

    Good jokes,carry on,you may get nobel prize

    1. 35.1
      শামস

      জোক কোন অংশটা? লেবার পার্টির প্রধান করবিন যেটা বলছে সেটা?

  2. 34
    শামস
  3. 33
    শামস

    ব্রিটিশ ইন্ডিপেন্ডন্ট পত্রিকার রিপোর্ট  

    ২০০৩ সাল থেকেই ব্রিটিশ সরকার জানতো তাদের এই ব্যর্থ "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে" যুদ্ধ ম্যানচেস্টার হামলার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে।

    "Were Saddam and Gaddafi not overthrown, it is unlikely that Salman Abedi would have been in a position to slaughter people in Manchester " 

    লেবার পার্টির জেরেমি করবিন সাহসিকতার সাথে ইঙ্গ-মারকিন অন্যায় যুদ্ধের ভয়াবহ দিকটি নিয়ে অকপটে বলছেন যা অনেকেই বলতে লজ্জা পায় বা পাশ কাটিয়ে যায়!

    সুত্র এখানে 

  4. 32
    Madhumangal Saha

    mahan allar atai echa,,

  5. 31
    শামস

    @শামস:
    পাশ্চাত্যে এখনও কিছু মানুষ বা প্রতিষ্ঠান আছে যাদের থেকে নৈতিকতা এখন পুরোপুরি বিলীন হয় নাই. স্রোতের বিপরীতে কোন ট্যাগ এর পরোয়া না করে সময়ে সত্য কথা বলতে দ্বিধা করে না.

    US admits killing 200 civilians in Mosul air strike while world focuses on London terror attack
    Iraqi Vice President called the air strike a ‘humanitarian disaster’ [http://www.independent.co.uk/news/world/americas/us-air-strike-mosul-200-civilians-killed-isis-northern-iraq-pentagon-central-command-islamic-state-a7651451.html?cmpid=facebook-post]

    নির্বিচারে এই মানুষ হত্যা যদিও অবস্থার কোন পরিবর্তন করবে না, পাশ্চাত্য কোন লিবারেল দেশ এর নিন্দা করবে না এবং অন্যায়কারীদের অন্যায়ও থেমে থাকবে না.

  6. 30
    শামস

    যেকোন অন্যায় হত্যাই ঘৃণ্য, সেটাই হবার কথা.

    অথচ প্রগতিশীল, মানবতাবাদী, নাস্তিক, লিবারেল, ডেমোক্রেট সবার মধ্যে মৌনতা কাজ করছে, সম্ভবত লন্ডন নিয়ে ব্যস্ত আছে, কুকুরকে যেমন হাড় দিয়ে ব্যস্ত রাখা যায়.

    সিরিয়া ও ইরাকে পৃথক চারটি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা করে শিশু, মহিলাসহ তিনশো লোককে হত্যা করেছে। এগুলো প্রত্যেকটাই ওয়ার ক্রাইম হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য!

    http://edition.cnn.com/2017/03/24/politics/us-airstrikes-iraq-syria-civilian-deaths/index.html

    এর মধ্যে একটিতে নামাজরত অবস্থায় সিরিয়াতে ৪৬ জনকে হত্যা করার অভিযোগ আছে.

    https://www.theguardian.com/world/2017/mar/17/syria-mosque-airstrike-kills-dozens-of-civilians-near-aleppo

  7. 29
    শামস
  8. 28
    শামস

    UK is most corrupt country in the world, says mafia expert Roberto Saviano

    “If I asked you what is the most corrupt place on Earth you might tell me well it’s Afghanistan, maybe Greece, Nigeria, the South of Italy and I will tell you it’s the UK."  

     

     

     

     

  9. 27
    শামস

    আমরা যাদের সভ্য বলি এবং যারা বিশ্বব্যাপী সভ্যতা চাপিয়ে দিতে চায় --

    5 of the worst atrocities carried out by the british empire

    Between 12 and 29 million Indians died of starvation while it was under the control of the British Empire, as millions of tons of wheat were exported to Britain as famine raged in India.

    In 1943, up to four million Bengalis starved to death when Winston Churchill diverted food to British soldiers and countries such as Greece while a deadly famine swept through Bengal. 

     

    Talking about the Bengal famine in 1943, Churchill said: “I hate Indians. They are a beastly people with a beastly religion. The famine was their own fault for breeding like rabbits.” 

     

  10. 26
    শামস

    কোল্ড ওয়ার এর সময় সৌভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে পেন্টাগনের প্রপাগান্ডার ১০০ শতভাগ ছিল মিথ্যা। ইসলামিক টেররিজম এর নামে তারা যা করছে সেখানে ১০০ ভাগ মিথ্যা সেটা দাবী করার অবকাশ নাই, কিন্তু এখানে যে তাদের বিরাট একটা মিথ্যাচার আছে সেটাকে অস্বীকার করার উপায় নাই!

    US government spent over $500m on fake Al-Qaeda propaganda videos that tracked location of viewers

     

     

     

  11. 25
    শামস

    একটি প্রাসঙ্গিক ভিডিওঃ

    UpFront -- How religious are so-called 'Islamic terrorists'?

     

  12. 24
    সরকার সানজিদ আদভান

    জাযাকাল্লাহ খায়ির।অসাধারণ একটি লেখা।অনেক তথ্যবহুল।মূলত ধর্মকে এখানে একটা Guinea Pig হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে যার মাধ্যমে আসল ঘটনাগুলো চাপানো হচ্ছে।

    1. 24.1
      শামস

      ধন্যবাদ পড়া এবং মন্তব্যের জন্য।

       

  13. 23
    শামস

    ষাট বছর পরে ২০১৩ সালে সিআইএ স্বীকার করেছে যে তারা ১৯৫৩ সালে ইরানের অভ্যুন্থানে জড়িত ছি্ল।

    CIA admits role in 1953 Iranian coup -- The Guardian

    দীর্ঘ সময়টা অনেক মানুষকে বোকা বানানোর জন্য কার্যকরী। এখন যেমন নানা ছুতোয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি অন্যায় করে তাদেরকেই উল্টো প্রধান অন্যায়কারী হিসেবে একদল লোক সেটা প্রতিষ্ঠা করতে পারছে।

  14. 22
    শামস

    "Africa produces 75 per cent of all the cocoa in the world, the continent gets only 2 per cent of the $100 billion revenue from the chocolate industry."

    "Africa’s mineral resources are fuelling growth and development in many industrialised and emerging economies of the world, Africa still remains poor, under-developed and dependent on donor assistance for national budget support."

    "In 2010 alone, net profits for the top 40 mining companies grew by 156 per cent to $110 billion and the net asset base of these companies now exceeds $1 trillion." 

    "The formula for the wealth of nations is clear: rich nations add value to exports, poor nations export raw materials"

    Link: https://www.ghanabusinessnews.com/2016/05/25/157624/

     

     

     

     

     

  15. 21
    শামস

    Black footballer Howard Gayle on Slave Trade! The British Empire built on the slave trade and the profit of Africa! 

    https://www.youtube.com/watch?v=te1yL279oyU

     

  16. 20
    শামস
    1. 20.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

       কি আর বলি! ৪১ জনকে মারতে গিয়ে ১,১৪৭ জনকে হত্যা করার পরও কোন মিডিয়া এই নিয়ে হূদয় বিদারক প্রতিবেদন করে না -- ফেইসবুকের প্রোফাইল পিকচার বদলানো হয় না -- এইটাইতো স্বাভাবিক। মুসলমানরা হলো অস্ত্রব্যবসায়ীদের গিনিপিগ -- নতুন অস্ত্র বানিয়ে তা মুসলিমদের উপর পরীক্ষা করা হয়। 

       

  17. 19
    মজলুম

    মুসলিমদের বর্তমান অবস্তা হলো ঐ লোকের মতো যার বাড়িতে ডাকাত ঢুকে তার সম্পদ লুটে নিচ্ছে, তার ছেলে সন্তানকে হত্যা করে তার স্ত্রীকে ধর্ষন করছে। আর তার হাত পা বেঁধে বাধ্য করা হচ্ছে তার স্ত্রীকে ধর্ষন করার দৃশ্য দেখতে। বেচারার হাত পা বাঁধা তাই কিছুই করতে পারছেনা তবে যা মুখে একটু চিৎকার করছে তখন ডাকাত দল তার মুখে কাপড় গুজে দিতে আসলো আর লোকটা ডাকাতের মুখে একটু থুতু নিক্ষেপ করলো। তখন ডাকাত বললো "হোয়াই ইউ হেইট আস? কেন তুমি আমাদের ঘৃনা করো? বড় বড় মিডিয়া, এক্সপার্টরা গবেষনা করতে লাগলো কেন এই লোকটা রেডিক্যাল বা চরমপন্থী বা পশ্চিমকে কেন ঘৃনা করে, কেন সে অসহনশীল? বিশ্ব মোড়লদের অধিকার আছে তার সম্পদ লুট করার, তার ছেলে মেয়েকে হত্যা, তার স্ত্রীকে ধর্ষন করার কিন্তু লোকটা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে।কিন্তু  কেন সে থুতু মারবে? এটা দেখে লোকটা কি হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছেনা। পরে সাংবাদিক, এক্সপার্ট, গবেষকরা বের করলো এই থুতু মারার পিছনে তার ইসলাম ধর্ম দায়ী। 

    একবার একটা গবেষনা করলাম, ১৯৮৬ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কতোজন মুসলিমকে আমেরিকা হত্যা করেছে এবং কতো জন আমেরিকানকে মুসলিমরা হত্যা করেছে। 
    তাতে ছিলো আমেরিকার লিবিয়াতে হামলা(৯০ এর দশকে), ইরাকে হামলা ও অবরোধ যাতে শুধু ৫ লক্ষ ইরাকি শিশু নিহত হয়। ছিলো আফগানিস্তান, সোমালিয়াতে আমেরিকার হামলা।
    আর মুসলিমদের হাতে ৯/১১ হামলার মতো ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্য হত্যা। দেখা গেলো একজন আমেরিকান হত্যার বিপরীতে আমেরিকা ৫০০ এর ও বেশী মুসলিম হত্যা  করে। আর ২০০৬ হতে ২০১৬ এর অবস্হা আরো ভয়াবহ। কারন আমেরিকা আরো নতুন নতুন মুসলিম দেশে হামলা করছে। যেমন পাকিস্তান, ইয়েমেন, সিরিয়া। 

    বর্তমান মিডিয়া হলো পশ্চিমের হাতে(আমেরিকা, ব্রিটিশ) এবং  ইংরেজী হওয়ায় বাদ বাকি বিশ্বের সব ভাষাভাষীরা শুধু ইংরেজী হতে অনুবাদ করে নিজেদের স্হানীয় সংবাদে ছাপায়। একজন পশ্চিমা লোক মারা গেলে এরা মিডিয়া কাঁপিয়ে ফেলে, মনে হয় দুনিয়া ধংস হয়ে গেছে। আর হাজার হাজার মুসলিম তাদের হাতে নিহত হলে এরা খবরই ছাপায় না বা কয়েক সেকেন্ডের নিউজ ব্রিফ করে। আর মানব ব্রেইন যেইভাবে কাজ করে মানে রিপিটেড এক্সপোজার মিথ্যা হলেও মানব ব্রেইন তাহাই বিশ্বাস করে। গোয়েলবসের প্রোপাগান্ডার একটা লাইন ছিলো "বার বার একটা মিথ্যা প্রচার করলে এক সময় মানুষ তা সত্য বলে মেনে নিবে"  এটা সত্যি। 

    তাই শুধু অমুসলিম না, মুসলিমরাও কনফিউজড। 

    পশ্চিমের অবস্হা হলো ঐ লোকের মতো যার বাপ দাদা ডাকাত ছিলো, তার বাপ দাদা ডাকাতি টাকা দিয়ে ছেলেকে ভালো ভার্সিটিতে পড়িয়েছে। নাতি এখন পড়াশোনা কইরা ভালো ইমেজ রক্ষা করে চলে। বাপ দাদার মতো সব জায়গায় ডাকাতি করে না। মানে নিজের এলাকায় ডাকাতি না করে ভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে  নিজে ভালো সাজে। 

    নিজ ঘরে হিউম্যান রাইটস, এসাইলাম, রুল অফ ল সব করে, কিন্তু আরেক দেশে গিয়ে এই সব ভাঙ্গে।  অবশ্য এইসব হিউম্যান রাইটস, এসাইলাম, রুল অফ ল, এই সব হয়েছে ১৯৪৫ এর বিশ্বযুদ্ধের পর। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে ইউরোপিয়ানরা বুঝতে পারে এরা যদি আবার আরেকটা বিশ্ব যুদ্ধে যায় তবে ইউরোপিয়ানরা দুনিয়া হতে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। পরে নিজেদের দেশগুলোতে ভালো ভালো শ্রমিক ল, হিউম্যান রাইটস, এসাইলাম ল তৈরী করে। এসব ল শুধু ওদের নিজ দেশের জন্যে প্রযোজ্য। বাইরের মহা দেশগুলোতে এরা এইসব হিউম্যান রাইটস, রুল অফ ল, গনতন্ত্র এইসব কেয়ার করেনা। বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার, এই প্রবাদের চেয়ে ও ভয়াবহ এদের অবস্থান। মানে বিচার হোক আর অবিচার হোক তালগাছ আমারই। 

    গনতন্ত্র হোক বা স্বৈরাচার হোক বাইরের দেশগুলো কিন্তু আমাদের কথাই শুনতে হবে। 

    ১৭৯০ হতে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত কোন মুসলিমকে আমেরিকার নাগরিকত্ব দেওয়া হতো না। আইনের মাধ্যমেই মুসলিমদের কোন নাগরিকত্ব দিতোনা। তখন আমেরিকার নাগরিক হওয়ার জন্যে সাদা হওয়া ছিলো বাধ্যতামূলক। মুসলিমরা যেহেতু বাদামি বা কালো তাই বাদ। সেইম অবস্হা বাদবাকি ইউরোপের দেশগুলোর। এরাও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের পর লোক সংকটের কারনে ব্রিটেন তার উপনিবেশিক এলাকা ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট হতে নিয়ে আসে। তাই বাংলাদেশের সিলেট বা পাকিস্তানের মিরপুরের লোকদেরই  ব্রিটেনে বেশী পাওয়া যায়। তেমনি ফ্রান্স তার আগেরকার উপনিবেশিক এলাকা আলজেরিয়া, তিউনেশিয়া হতে লোক নিয়ে আসে। 
    এখন ইউরোপের ডানপন্থীদের উত্থান ঘটছে, ওরা বলছে মুসলিমদের বের করে দাও। দুই তিনশো বছর ধরে ওদের দেশে উপনিবেশিক বাদ তথা ডাকাতিবাদ করেই তো ওদের এই সম্পদের পাহাড় আজ। মুসলিমরাতো আর পশ্চিমে ডাকাতি করতেছেনা, একটু কাজ করে খাচ্ছে তাও অনেকের সহ্য হয় না।  

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান অনেকবার বলেছেন যে আমরা আল-কায়েদা বা আইএসকে মুসলিমদের প্রতিনিধি করতে দিতে পারিনা। মুসলিমদের সমস্যাগুলো আমরা বিভিন্ন মুসলিম দেশের নেতাদের নিয়ে সমাধান করবো। বেচারা অনেক কাজ করতেছেন তা নিয়ে, সৌদির সাথে জোট টোট করলেন। মাঝে মাঝে আঙুল দিয়ে পশ্চিমের হিপোক্রেসি ধরিয়ে দেন। এখন ওদের এরদোগানকে সহ্য হয় না।  ক্যু করে তাকে হটাতে হবে। বেচারা নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, কিন্তু পশ্চিমা মিডিয়া তাকে ভিলেন, স্বৈরাচার হিসেবে প্রচার করছে। 
    পশ্চিমি ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন দেখুন।   ছমির মিয়া ও জমির মিয়া। ছমির মিয়া জমির মিয়াকে বললো বাক স্বাধীনতা তোমারও আছে এবং আমার ও আছে। কিন্তু ছমির মিয়ার হাতে হলো বড়ো বড়ো সব মাইক। ছমির মিয়া যখন বড়ো মাইকে জমির মিয়ার বিরুদ্বে বিদ্বেষ ছড়ায়, মিথ্যা তথ্য দেয় তখন জমির মিয়া গলা ফাটায়াও তার জবাব দিলেও এলাকাবাসী শোনেনা। কারন ছমির মিয়ার মাইকের যে আওয়াজ হয় তাতে জমির মিয়া কি বলে কিছুই শোনা যায় না। 

    এখন ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন আছে, কিন্তু মুসলিমরা তাদের বিরুদ্বে করা মিথ্যা তথ্য, বিদ্বেষ এসবের জবাব দিতে পারছেনা কারন বড়ো বড়ো মাইক তথা মিডিয়া সব পশ্চিমের দখলে। 

  18. 18
    শাহবাজ নজরুল

    অনেকদিন পরে আপনার লেখা পেলাম। বরাবরের  অসাধারণ একটা বিশ্লেষণী লেখা  উপহার দিলেন। লেখাটি সহ কমেন্টগুলো পড়ে বেশ  ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।

    1. 18.1
      শামস

      পড়া এবং সময় নিয়ে মন্তব্য করার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।

       

  19. 17
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    লেখাটা পোস্ট করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পড়ার সুযোগ হয়েছিলো। তারপর প্রতিদিন কমেনটগুলো পড়ছি। এক কথায় চমৎকার লেখা। তবে বিষয়বস্তু এবং তার মধ্যে তথ্যের পরিমানের বিবেচনায় বেশ ঠাসাঠাসি হয়ে গেছে। 

    যাই হোক -- ৭০ দশকের আমেরিকান পুঁজিবাদের বিস্তারের অগ্রগামী বাহিনী হিসাবে সিআইএ যে কার্যক্রম চালিয়েছিলো -- তার অধীনে ৭২ টা দেশে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করেছিলো। বলাই বাহুল্য -- সে কাজে তাদের স্থানীয় সমস্যা এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তা নিতে হয়েছে। চিলির আলন্দের পাশে বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমানের নামটাও এখানে আসার কথা। তাইলে হয়তো বৈশ্বিক পুঁজিবাদের আগ্রাসনের সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্থান পতনের একটা সমান্তরাল সূত্র পাওয়া যাবে। তারপর থেকে বাংলাদেশ পুঁজিবাদের বলয়ের কাছে মোটামুটি আত্নসমর্পন করেছিলো। ফলাফল হিসাবে দেখি আফগানিস্থানের সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ থেকে ওরা যোদ্ধা সংগ্রহ করেছে। যারা পরবর্তীতে দেশে ফিরে এসে সকল ধরনের সংগঠন তৈরী করে দেশে জেহাদ করার নিজস্ব কার্যক্রম চালাচ্ছে। যাকে আমরা এখন বৈশিক ভাষায় জঙ্গিবাদ বলে জানি। 

     

    আরেকটা কথা -- আপনার দেওয়া সমীকরনের মুল বিষয়টা যতটকু বুঝতে পারলাম -- তা হলো বৈশিক সমস্যার ভিত্তিতে আলোচিত। এই সমস্যার আরো দুইটা স্থর আছে -- তা হলো আঞ্চলিক এবং স্থানীয়। এই আঞ্চলিক সমস্যার অনুসংগ হিসাবে ভারতের পশ্চিম বংগের ভোটের সমীকরনের প্রভাব যেমন বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেছে তেমনি স্থানীয় সমস্যা যেমন যুদ্ধাপরাধের বিচারও কিছুটা প্রভাব ফেলছে। 

    সব কিছুর বিবেচনায় আপনার এই লেখাটা সদালাপের জন্যে একটা সম্পদ হয়ে থাকে। আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। 

     

     

    1. 17.1
      শামস

      চিলির আলন্দের পাশে বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমানের নামটাও এখানে আসার কথা। তাইলে হয়তো বৈশ্বিক পুঁজিবাদের আগ্রাসনের সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্থান পতনের একটা সমান্তরাল সূত্র পাওয়া যাবে। তারপর থেকে বাংলাদেশ পুঁজিবাদের বলয়ের কাছে মোটামুটি আত্নসমর্পন করেছিলো। 

       

      চিলির আলেন্দের মতো, সেই সময়ে শেখ মুজিব ভুল ব্লকে ছিলেন। বাম ব্লকে বা বাম ব্লকের নিকটবর্তী  থাকা মানে স্বাভাবিকভাবেই পুঁজিবাদী এলিটগোষ্ঠীর চক্ষুশূল।  শেখ মুজিবের হত্যা এবং তৎপরবর্তী ঘটনাগুলোতে পুঁজিবাদের আগ্রাসন একটি খুব বড় ভুমিকা আছে সেটা ঘটনাপ্রবাহ দেখলে সহজেই অনুধাবন করা যায়। তবে আরো কিছু স্থানীয় এবং আঞ্চলিক ফ্যাক্টরও এখানে বিদ্যমান! 

      পুঁজিবাদ যেই বিকৃতভাবে এগোচ্ছে এটি যে চুড়ান্ত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে সেটা এখন পাশ্চাত্যের অনেক বোদ্ধাজনই বলছেন, কিন্তু আমাদের এখানে এসব তেমন একটা শোনা যায় না। যারা কিছু বলে তারা অল্পকিছু বাম, তাদের নিজেদের গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বলে। বামরা এখন এসবের চেয়ে পুঁজিবাদের শেখানো জঙ্গীবাদ নিয়ে বেশ ব্যস্ত দেখা যায়। শেখ মুজিবের হত্যা পুঁজিবাদের দুয়ার খুলে দেয়, তবে বাংলাদেশ বিগত কয়েক বছর যাবত পুঁজিবাদের সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগ পার করছে বলে মনে হয়। এদেশে সাইজেবল মধ্যবিত্ত শ্রেণী সম্ভবত দাঁড়িয়ে গেছে। এরা পুঁজিবাদী এলিট গোষ্ঠীর ভোক্তা শ্রেণী, তাদের মতবাদের এবং  প্রটেকশনের  স্থানীয় এজেন্ট। এই ক্রয়ক্ষমতাশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণ্‌ পুঁজিবাদের দ্বারা যে অমানবিক জিনিষগুলো ঘটে, তা সেগুলোকে ঢেকে রাখতে সক্ষম। ফলে একদিকে উন্নয়নের গল্প শুনি, আরেকদিকে দেখি কৃষক এবং দরিদ্রদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা যা বাড়তির দিকে (লিঙ্ক)। অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে, কারণ পুঁজিবাদী এলিটরা এসব নিয়ে মাথা ঘামায় না, আর স্থানীয় মধ্যবিত্তরা ভোগের সুবিধা হাতছাড়া না হলে এসবে তেমন কোণ বৈকল্য অনুভব করে না। ফলে জঙ্গীবাদের সাথে আরো অনেক কিছু অচিরেই যুক্ত হতে পারে!

       

      আপনার মন্তব্য এবং সংযোজনের জন্য ধন্যবাদ।

       

       

       

  20. 16
    শামস

    আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নেপালের প্রতিরোধ বামপন্থার মাধ্যমে। মজার ব্যাপার হল, পুষ্প কমল একসময়ের মাওবাদী বিদ্রোহী নেতা। এই মাওবাদীরা ভারতে সশস্ত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত! মাওবাদীরা ভারতে জঙ্গী সংগঠন! 

    http://www.channelnewsasia.com/news/asiapacific/maoist-chief-prachanda-el/3009932.html

     

  21. 15
    শামস

    নিউজিল্যান্ডের উপর তৎকালীন ব্রিটিশদের অধিকারকে মেনে নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর না করা একটি ট্রাইব হল তাহো। তারা আজও ব্রিটিশদের সেই স্বীকৃতি দেয় নাই,। নিজেদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ায় নিউজিল্যান্ড সরকার অতি সম্প্রতি তাদেরকে 'সন্ত্রাসী' হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। মুসলিমদের বাইরে আরো অনেক 'সন্ত্রাসী' আছে।

     An innocent warrior

  22. 14
    শামস

    একটা প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্টারি যুক্ত করা হল। সন্ত্রাসবাদসহ বর্তমান বিশ্বের ক্রাইসিস নিয়ে সুন্দর একটি  বিশ্লেষণ।

    Four Horsemen

     

  23. 13
    মহিউদ্দিন

    তৃতীয় বিশ্বে গণতন্ত্রের চর্চা বা জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলন করা বিশ্ব মোড়লদের জন্য এখন বড় একটি মাথা ব্যথার কারণ  হয়ে দাঁড়িয়েছে! জনগণকে মুক্তভাবে তাদের নেতা নির্ধারণ করতে দিলে সমস্যা হল তখন যারা ক্ষমতায় আসবে তারা বিশ্ব মোড়লদের কথা না শুনার সম্ভাবনা বেশী তাই গণতন্ত্রের নামে প্রতারণা করতে পারলেই ভাল। 

  24. 12
    মজলুম

    জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, স্বাধীনতাকামী যাই বলি না কেন এ সবই এখন অনেকের কাছে একাকার হয়ে গেছে। এই বিষয় খুবই জটিল এবং বৃহৎ আকারের যে একটা কমেন্টে বা একটা পোস্টেও পুরা বিষয়টা তুলে আনা যাবে না। 

    তবে সব দিক আলোকপাত করে এটা বলতে পারি যে জঙ্গিবাদ/সন্ত্রাস ইত্যাদি থামবে না যতদিন না বিশ্বে বড় কোন পলিটিক্যাল/জিওগ্রাফিক/ইকোনোমির পরিবর্তন না হয়। ঠিক যেমনটি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর হয়েছিলো। তার মানে বিশ্ব যুদ্ধের মতো  বড়ো কোন সংঘাত না হলে এই জঙ্গিবাদ থামবে না।

    গত ১০০ বছরের বিশ্ব ব্যবস্থায় মুসলিমদের যে সবদিক দিয়ে দমন, নিপীড়ন, গণহত্যা করা হচ্ছে এবং তারপরে মুসলিম মুসলিমদের একটু আহ! উহ! ও করতে দেওয়া হচ্ছেনা। তার উপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত শুধু তুর্কি/সৌদির মূল ভূখন্ড ছাড়া আর সব মুসলিম দেশই পশ্চিমা উপনিবেশবাদের দখলে ছিলো। সাইয়েদ কুতুবের ভাষায় এটা ছিলো ক্রুসেডের  আরেকটা রুপ। মুসলিমদের সরকার ব্যবস্তা, অর্থনীতি ধংস করে গোলাম করে রাখা হয়েছে। মুসলিমদের শিক্ষার দিক দিয়ে পিছিয়ে রাখা হয়েছে উদ্দেশ্যমূলক ভাবেই। শুধু কিছু লোককে উচ্চ শিক্ষার জন্যে প্যারিস বা লন্ডনে নিয়ে যেত যেন পরে তারা গোলামি করতে পারে এবং গোলামিতেই সম্মান এই  শিক্ষা প্রচার করতে পারে। 

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ও তার আগে ইহুদিদের বিরুদ্বে বিশ্ব জুড়ে দমন নিপীড়ন হত, ওদের প্রটেক্ট করার জন্যে কোন দেশ ছিলো না। পরে তারা নিজেরাই অনেকগুলো সন্ত্রাসী সংগঠন যেমন হাগানাহ, স্টেনগ্যাং নামে জন্ম দেয়। এবং এখানে সেখানে হামলা করে। পরে যখন ইসরাইল রাষ্ট্র গঠিত হয় এবং ইসরাইল বিশ্বের সকল ইহুদিদের সমস্যাগুলোর পাশে দাঁড়ায় তখন এই ইহুদি সংগঠন গুলোর ও বিলুপ্ত হয়ে যায়। 

    কিন্তু এখন সারা বিশ্বের সব শক্তিশালি দেশ মুসলিমদের বিশ্বজুড়ে মারতেছে, কিন্তু মুসলিম দেশগুলো কিছুই করতে পারছেনা ঐ বিশ্ব ব্যবস্থার কারনে। ধরুন ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইল  বিমান হামলা করতেছে তখন সৌদি, তুরস্ক, কাতার ইসরাইলে হামলাতো দূরের কথা একটু অস্র সাহায্য ও দিতে পারেনা হামাসকে। যদি সৌদি, তুরস্ক, কাতার হামাসকে বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দেয় বা দূরপাল্লার রকেট দেয় তাহলে আমেরিকান সরকার সৌদি/তুরস্ক/কাতারের বিরুদ্বে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করবে। বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবস্থা "SWIFT"  হতে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে একেবারে পথে বসিয়ে দিবে। 

    অনেক মুসলিম মুসলিম দেশ ও সরকার এই নিপীড়িত মুসলিমদের সাহায্য করতে চায়, কিন্তু বিশ্ব মোড়লদের নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব ব্যবস্থার কাছে তারা অসহায়। 

    সাধারণ মুসলিমরা এগুলো দেখে যে  দশকের পর দশক জুড়ে মুসলিমরা মার খেয়ে যাচ্ছে, কেউই সাহায্য করছে না তখন তারা নিজেরাই জঙ্গি হয়ে এখানে সেখানে হামলা চালায়। (নিরিহ মানুষ হত্যা ইসলাম সমর্থন করেনা, ফুলস্টপ)

    এই দেখুন রাশিয়া। কোন সিরিয়ান কখনো রাশিয়ায় হামলা চালায় নি বা কোন রাশিয়ান কে হত্যা করেনি। কিন্তু রাশিয়া আসাদ সরকারকে সাহায্য করতে এসে  সিরিয়ার বিরোধীদের এলাকার স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল, রুটি তৈরীর বেকারিতে উদ্দেশ্যমূলক ভাবেই হামলা করে হাজার হাজার নিরীহ সিরিয়ান নারী, পুরুষ, শিশুকে হত্যা করে। আই এস দমনের ভুয়া ভাওতাবাজি করে করে সে সিরিয়ায় হামলা করে আসলে রাশিয়ার সকল বিমান হামলার মাত্র ১২% সে করে আই এসের বিরুদ্বে, বাকি ৮৮% করে সিরিয়ান আসাদ বিরোধীদের বিরুদ্বে। এবং সিরিয়ান লোকদের উপর গণহত্যা চালানোয় সাথে আছে পিছন হতে চাকু মারা সেই শিয়া ইরান। 

    এখন রাশিয়ান হামলায় মা বাপ হারা এক সিরিয়ান যদি রাশিয়ায় গিয়ে হামলা করে ১০ জন রাশিয়ান কে হত্যা করে তখন সারা বিশ্ব জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যাবে যে মুসলিমরা কতো খারাপ। (আবারো, নিরীহ মানুষ হত্যা ইসলাম সমর্থন করেনা, ফুলস্টপ)
    কিন্তু হাজার হাজার সিরিয়ান কে যখন রাশিয়ার বিমান হামলায়  হত্যা করা হয় তখন এরা মুখে কলুপ এঁটে বসে থাকে। 

    এবার দেখুন আফগানিস্তান। তালেবানরা গত ১৫ বছর ধরে আমেরিকার বিরুদ্বে যুদ্ব করে যাচ্ছে। এখন এরা যদি সকল অস্র জমা দিয়ে গেরিলা যুদ্ধ ছেড়ে দিয়ে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে  দাঁড়ায়। পাগড়ি খুলে, পাঞ্জাবি খুলে, দাঁড়ি ছেঁটে পুরা শেভ করে কোট আর টাই পরে নিলো তালেবানরা, একেবারে তুরস্কের এরদোগানের মতো । গণতান্ত্রিকভাবে জিতলো ধরেন তালেবানিরা, ক্ষমতায় গেলো। কোন শরিয়াহ আইন না, সেক্যুলার আইন দিয়েই আফগানিস্তান পরিচালনা করলো তালেবানরা। আমেরিকার অনেক হুকুমই তালেবানরা মানে তবে কিছু মানে না তুরস্কের এরদোগানের মতো। এরপর দেখবেন এই আমেরিকাই ক্যু করে তালেবানকে ক্ষমতা হতে অপসারন করবে তুরস্কের মতো। (তুরস্কের বর্তমান ক্যু এবং আগের কার তিন ক্যুর সবই হয়েছিলো আমেরিকার দ্বারা)

    আলজেরিয়া দেখুন, ৯০ এর দশকে ইসলামি সালভেশন পার্টি নির্বাচনে জিতেও তাদের ক্যু করে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে ফ্রান্সের সাহায্যে। মিশর দেখুন, নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্ট হয়ে ও মুসরি আজ জেলে। এসব দেখে সাধারণ মুসলিম সমাজ কি ম্যাসেজ পাবে? 

    শেষ কথাঃ  দাজ্জাল দুনিয়ায় আসার পর তার ভিন্ন চেহারা, শক্তি, প্রতারণা ও কপালে কাফির শব্দটা লেখা থাকার পর শুধু অমুসলিমেরা না অনেক মুসলিম ও দাজ্জালের দলে যোগ দেবে। বর্তমান বিশ্ব মোড়লদের দ্বারা মুসলিমদের উপর চালানো গণহত্যা, দমন, নিপীড়ন, টুটি চেপে ধরা, আলজেরিয়া, মিশর, তুরস্কের ঘটনা দেখেও যেইসব মুসলিম  বিশ্ব মোড়লদের প্রতারণা ধরতে পারেনা সেইসব মুসলিমদের দেখে আর আর অবাক হইনা ঐ দাজ্জালের দলে যোগ দেওয়া মুসলিমদের মতো।

    1. 12.1
      শামস

      তবে সব দিক আলোকপাত করে এটা বলতে পারি যে জঙ্গিবাদ/সন্ত্রাস ইত্যাদি থামবে না যতদিন না বিশ্বে বড় কোন পলিটিক্যাল/জিওগ্রাফিক/ইকোনোমির পরিবর্তন না হয়। ঠিক যেমনটি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর হয়েছিলো। তার মানে বিশ্ব যুদ্ধের মতো  বড়ো কোন সংঘাত না হলে এই জঙ্গিবাদ থামবে না।

      সহমত। গত শতাব্দীর দুইটা বিশ্বযুদ্ধসহ বৈশ্বিক যুদ্ধগুলোর কোনটাই ধর্মের কারণে হয় নাই। সামান্য কিছু লোকের লোভ আরেকটা ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন হল, আমরা এই যুদ্ধ থেকে কতোটা দূরে?

      শুধু কিছু লোককে উচ্চ শিক্ষার জন্যে প্যারিস বা লন্ডনে নিয়ে যেত যেন পরে তারা গোলামি করতে পারে এবং গোলামিতেই সম্মান এই  শিক্ষা প্রচার করতে পারে। 

      সঠিক বলেছেন। এই ব্যাপারটা কিন্তু খুব ইন্টারেস্টি! তাদের এলিট ক্লাবের দরজা কিন্তু খোলা তাদের জন্য যারা সেই এলিটি ক্লাবকে যারাই সার্ভিস দিতে পারে। সবচেয়ে বেশী দুর্নীতিগ্রস্থ সিস্টেমগুলো  হল অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্যাঙ্কিং খাত, ওয়াল স্ট্রীট এসব। এরা সবধরণের দুর্নীতি, অসততা, অনৈতিকতাকে লিগ্যাল করে নিয়েছে। নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ছেলেপুলেরা ওগুলতে যায়, ঐসব চরম করাপ্টেড সিস্টেমগুলোতে। বিজনেস স্টাডিস এ পড়ালেখার খরচও বেশী। পৃথিবীর নানাপ্রান্ত থেকে মেধাবীরাও যায়। এখানে ব্যক্তিক  লাভ হলেও সাধারণ মানুষের কিছু নেই। কিন্তু হাস্যকর ব্যাপার হল জাতীয়তাবাদী তাড়নায় আমরাও আমোদিত হই, আমাদের নিউজের হেডিং হয় কে কোন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে, কিংবা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেশের নাম কতো উপরে তুলছে। জাতীয়তাবাদী তাড়নায় ভুলে যাই, আমাদের দৌড় এর বেশীদূর না। এই বিশ্বমডেলকে আমরা অজান্তেই নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছি। এমনকি ক্রিকেট খেলায় পর্যন্ত ১৬ কোটি থেকে একপিস 'মুস্তাফিজ' শয়ে শয়ে ব্রিটিশদের মধ্যে খেললে দেশের নাম উজ্জ্বল হয়, দেশপ্রেমে, গর্বে মুস্তাফিজ হয়ে যাই! 

      শেষ কথাঃ  দাজ্জাল দুনিয়ায় আসার পর তার ভিন্ন চেহারা, শক্তি, প্রতারণা ও কপালে কাফির শব্দটা লেখা থাকার পর শুধু অমুসলিমেরা না অনেক মুসলিম ও দাজ্জালের দলে যোগ দেবে। বর্তমান বিশ্ব মোড়লদের দ্বারা মুসলিমদের উপর চালানো গণহত্যা, দমন, নিপীড়ন, টুটি চেপে ধরা, আলজেরিয়া, মিশর, তুরস্কের ঘটনা দেখেও যেইসব মুসলিম  বিশ্ব মোড়লদের প্রতারণা ধরতে পারেনা সেইসব মুসলিমদের দেখে আর আর অবাক হইনা ঐ দাজ্জালের দলে যোগ দেওয়া মুসলিমদের মতো। 

      প্রথমেই হিসেব করতে হয় নিজের রাজনৈতিক দলের প্রতি বা রাজনৈতিক লাভালাভের বিরুদ্ধে যায় কিনা, শিয়া-সুন্নীর ব্যাপার আছে কিনা, দেওবন্দী-মাযহাবী -- লামাযহাবী-সালাফী-তরিকতি এসবের মধ্যে নিজেরটার স্বার্থ রক্ষা হয় কিনা। ফলে আপাতত মাইর খাওয়াই নিয়তি, এর উপরই চলতে থাকবে। এই ধরণের অবস্থায় দজ্জাল আসলে সে খুব সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে নিঃসন্দেহে!

       

       

       

       

    2. 12.2
      মাহফুজ

      বাস্তত চিত্রটি খুব স্বাবলিল ভাষায় তুলে ধরেছেন-- ধন্যবাদ

      //যেইসব মুসলিম  বিশ্ব মোড়লদের প্রতারণা ধরতে পারেনা সেইসব মুসলিমদের দেখে আর আর অবাক হইনা ঐ দাজ্জালের দলে যোগ দেওয়া মুসলিমদের মতো।//

      যাদের অন্তর প্রতারণার আশ্রয়স্থল, তারা প্রতারণা ধরতে নয় বরং গ্রহণ করতেই ব্যস্ত।

      দাজ্জালে প্রতারণা চিনতে ও তাকে পরাভূত করতে হলে আত্মিক জিহাদের সাথে সাথে বৈষয়িক ব্যাপারে জিহাদের ক্ষেত্রেও ক্ষুদ্র স্বার্থবাদী বিবাদ ভুলে সমবেদভাবে সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

       

  25. 11
    মহিউদ্দিন
  26. 10
    মজলুম

    সাইয়েদ কুতুবের মাইলস্টোন সহ তাফসীর ফী জিলালিল কোরান পড়া আছে। তবে তার মাইলস্টোন এর বাংলা অনুবাদে জামাত-শিবিরের লোকেরা মওদুদী চিন্তা ও ভাবাদার্শে অনুবাদ করে। ঠিক যেমন কুতুবের তাফসীর ফি জিলালিল কোরানের অনুবাদে  জামাতি প্রকাশনা আল-কোরান একাডেমি লন্ডন মওদুদির লেখা টিকা, টুকা দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়। এটা জামাতিদের চাতুর্য। এরা মওদুদি ভালো লোক বলে প্রচার করতে তার অনেক উর্দু বই ও এরা হুবহু অনুবাদ করেনা, যেমন, খিলাফা ওয়া মুলকিয়াত বইটা। 

    পশ্চিমা লেখকরা সাইয়েদ কুতুবকে জঙ্গিবাদের ফাদার বলে লিখলেও ঠিক কি লিখেছে জঙ্গিবাদের পক্ষে তা নিয়ে ধোঁয়া ধোয়াসা করে লিখে, স্ট্রেইট টু পয়েন্টে লিখে না। কারন লিখলে ওদের জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাবে। মুসলিম দেশগুলোকে দমিত রাখা, চেটেপুটে খাওয়া, দখল করে রাখার কৌশলই সাইয়েদ কুতুব ফাঁস করেছেন। 
     বিন লাদেনকে যে ফিলিস্তিনি আবদুল্লাহ আজ্জাম সৌদি হতে আফগানিস্তান নিয়ে এসেছেন সে আল-আজহারে পড়ার সময় সাইয়েদ কুতুব হতে শিক্ষা নিয়েছেন, সে আবার মুসলিম ব্রাদারহুড করতো। তার লেখালেখিতে সাইয়েদ কুতুব লেখার আগে উস্তাদ সাইয়েদ কুতুব সে লিখে। তবে তিনি বিন লাদেনের মতো বেপোরোয়া সন্ত্রাসের পক্ষে ছিলেন না। সে জন্যে রাশিয়া যখন আফগানিস্তান দখল করে তখন শুধু রাশিয়ান সৈন্যদের আফগানিস্তানে মোকাবেলা করতে বলেছেন। তবে রাশিয়ার ভিতরে গিয়ে নিরিহ রাশিয়ান সাধারন পুরুষ, নারী, শিশু হত্যা করতে বলেন নাই। আফগানিস্তানে অনেক মাজার আছে, তিনি সেগুলো ভাঙতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলতেন এতে সাধারন লোকেরা আমাদের ভুল বুঝবে বরং আমাদের দাওয়াত দিতে হবে। 
    তার আফগানিস্তানে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিলো এখান হতে সকল দেশের মুজাহিদদের সংগঠিত করে তার দেশ ফিলিস্তিন কে স্বাধিন করবে। ১৯৬৭ সালে যখন আরব বিশ্বকে হারিয়ে ইসরাইল ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর দখল করে নেয় তখন কয়েকজন যুবক সেকেলে রাইফেল নিয়ে তৎকালিন ইসরাইলের মডার্ন ট্যাংকের বিরুদ্বে দাড়িয়ে গিয়েছেন, তাদের মধ্যে সেও একজন। এরকম নরমপন্হী লোক কেও আমেরিকা এবং জর্ডানে গোয়েন্দা সংস্হার লোকেরা পেশাওয়ারে গুপ্ত হত্যা করে। 

    পরে বিন লাদেন চলে যায় আরও কট্টর পন্হি স্কলারদের কাছে, শুরু করে তার বেপোরয়া সন্ত্রাস।  আবার সাইয়েদ কুতুবকে ফাঁসি দিলেও তার ভাই মুহাম্মত কুতুব ও বোন আমেনা কুতুবকে সৌদি বাদশা ফায়সাল নাসেরের কারাগার হতে ছাড়িয়ে সৌদিতে  নিয়ে  আসে। বিন লাদেন মোহাম্মদ কুতুব হতেও অনেক শিক্ষা পেয়েছেন সৌদিতে। 

    সাইয়েদ কুতুবকে তার বই মাইলস্টোন লেখার করনেই জামাল আব্দের নাসের তাকে ফাঁসি দেয়। সাইয়েদ কুতুব লক্ষ্য করেছেন মুসলিম দেশ মিসরে সোস্যালিস্ট এবং বাথ পার্টির দুর্নিতিবাজ শাসক জামাল আব্দের নাসের খুব জনপ্রিয়। কুতুব বুঝতে পারলেন যে একটা মুসলিম দেশে শাসক যখন দুর্নিতিপরায়ন/জাহেল হয় তখন তা ধীরে ধীরে সাধারন মুসলিমদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। সে জন্যে সাধারন মুসলিমদের ও শাসকদের মতো দূর্নিতিবাজ/জাহেলিয়াত  হতে বাচাতে মুসলিম দেশের শাসকদের ক্ষমতা হতে উৎখাতের বিকল্প নেই। তাই কুতুব গন জোয়ারের মাধ্যমে এই শাসকদের উৎখাতের কথা বলেছেন। 

    তবে সাইয়েদ কুতুব তার কোন লেখায় আল-কায়েদার মতো বেপোরয়া সন্ত্রাসের কথা বলেন নাই। শুধু যেটা লিগ্যাল, যেমন আমেরিকা যদি বাংলাদেশ আক্রমন করে দখল করে, তাহলে অবশ্যই আমেরিকান সৈন্যদের বিরুদ্বে যুদ্ব করতে হবে। এবার আপনি সেটাকে জঙ্গিবাদ বলুন বা সন্ত্রাস বলুন, কোন সমস্যা নাই। কিন্তু আমেরিকায় গিয়ে সেখানে নিরিহ সাধারন পুরুষ, নারী বা শিশুকে হত্যা করতে পারবেন না, এটা ইসলামের বিরুদ্বেই যায়। 

    এই যেমন আনওয়ার আল-আওলাকি। বেচারা ছিলেন আমেরিকার মডারেট মুসলিম। এখনো ইউটিউবে তার বিন লাদেন বিরুধী এবং ৯/১১ হামলার বিরুদ্বে বলার ভিডিও পাবেন। কিন্তু সে আমেরিকার অনেক মধ্যপ্রাচ্যের পলিচির বিরুদ্বে বলতেন। পরে আমেরিকা তাকে ইয়েমেনের সরকার দিয়ে গ্রেফতার করে এমন অত্যাচার করলো যে জেল হতে বের হয়ে পুরাদমে র‌্যাডিকেল হয়ে গেলো। ইংরেজীতে ফ্লুয়েন্ট হওয়ায় শুধু তার লেকচার লেকচার শুনে অনেক পশ্চিমি মুসলিম র‌্যাডিক্যাল হয়ে যায়। 

    এখন একটা লোক যদি জাকির নায়িক ও আওলাকির লেকচার শুনে র‌্যাডিক্যাল হয়, তাহলে আনওয়ার আল-আওলাকি কে দোষ দেওয়া যায়, কিন্তু জাকির নায়িককে দোষ দেওয়া যায় না। তেমনি বর্তমান বিশ্বের জঙ্গিবাদের জন্যেও সাইয়্যাদ কুতুবকে দোষ দেওয়া যায় না। 

    1. 10.1
      শামস

      পশ্চিমা লেখকরা সাইয়েদ কুতুবকে জঙ্গিবাদের ফাদার বলে লিখলেও ঠিক কি লিখেছে জঙ্গিবাদের পক্ষে তা নিয়ে ধোঁয়া ধোয়াসা করে লিখে, স্ট্রেইট টু পয়েন্টে লিখে না। কারন লিখলে ওদের জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাবে। মুসলিম দেশগুলোকে দমিত রাখা, চেটেপুটে খাওয়া, দখল করে রাখার কৌশলই সাইয়েদ কুতুব ফাঁস করেছেন।  

       

      সাইয়েদ কুতুবকে জঙ্গীবাদের গডফাঁদার অনেকে বলে এদের মধ্যে পাশ্চাত্যের পণ্ডিত যেমন আছে তেমনি আছে তার বিরোধী মুসলিমরা। তার অনুসারীর সংখ্যা খুব বেশী ছিল না। সংখ্যায় কম হলেও জাওয়াহিরির ইসলামিক জিহাদের মতো দলগুলো নির্বিচারে সরকারী স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে ধারণা করেছিল এর মাধ্যমে তারা পাশ্চাত্যপন্থী সরকার উৎখাত করে ফেলবে। সাইয়েদ কুতুবের কাছে পাশ্চাত্যের জীবণদর্শন এবং সেগুলার অনুসারী মুসলিমদের দর্শন তার কাছে জাহেলিয়া। মাইলস্টোন-এ সে অসাধারণভাবে সেসব ফুটিয়ে তুলেছে। সে জিহাদের কথা অনেকবার উল্লেখ করেছে, কিন্তু সেই জিহাদের জন্য জাওয়াহিরি বা অন্যরা স্থানবিশেষে যেভাবে সাধারণ মানুষ হত্যা করেছে এবং এখনো করছে, এর জন্য সাইয়েদ কুতুবকে পুরো দায় দেয়াটা ঠিক হবে না। কিন্তু তার শিষ্য জাওয়াহিরি এবং অন্য আরো অনেকে যেভাবে জিহাদকে প্রয়োগ করেছে, এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেকেই কুতুবকেই গডফাঁদার হিসেবে আখ্যায়িত করে। তবে কুতুব এর লেখায় চুম্বকত্ব আছে, পাশ্চাত্য এবং কলোনিয়াল শক্তির মুখোশ উম্মোচন করে তাকে মুসলিমদের কাছে সহজবোধ্যরূপে প্রকাশ করায় তার জুড়ি মেলা ভার।  

      রেজা আসলানের একটা ভিডিও এড করেছি, পড়ে দেখতে পারেন। কিছু বিষয় সে পরিষ্কার করেছে, যা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। সে 'ইসলামিজম' কে দারুণভাবে ব্যাখ্যা করেছে। এই ইসলামিজম মূলত আইডেনটিটি, এর সাথে ধর্মের সংযোগ খুব একটা নেই বা থাকার প্রয়োজনীয়তাও নেই। এটা অনেকটা ইসলামী ন্যাশলালিজম। হাসান-আল-বান্না, সাইয়েদ কুতুব, জাওয়াহিরি এবং সাধারণ অসাধারণ মুসলিমরা যারা ইসলামিক আইডেন্টিটিকে প্রাধান্য দিচ্ছে  তারাও এই ইসলামী ন্যাশনালিজ এর তাড়নায় তা করছে। এই ইসলামীজম এর দুইটা ভার্সন আছে -- একটা মধ্যপন্থী এবং যারা রাজনীতি করে তাদের রাজনীতি মূলধারার এবং আরেকটি উগ্রপন্থী। এভাবে বিশ্লেষণ করলে হাসান-আল-বান্না, সাইয়েদ কুতুব প্রথম ভার্সনের। জাওয়াহিরি, লাদেন, আইসিস এরা উগ্রপন্থী ধারার। 

      তবে ইসলামিক জিহাদ কিংবা উগ্র মতবাদের দল্গুলোর উগ্রতা বাড়ার জন্য তাদের উপর করা স্টিমরোলার অনেকাংশে দায়ী। পাশ্চাত্য এদের উপর স্টিমরোলার চালিয়েছে মুসলিম শাসক দ্বারা, আর নিজেরাতো আছেই। বিরুদ্ধতাকারী কাউকে গ্রেফতার করলে সিরিয়া, মিশর এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে তাদের পাঠিয়ে অমানবিক অত্যাচার চালানো হতো, এখনও হয়।  হাসান-আল-বান্নার হত্যায় ব্রিটেনকে অভিযুক্ত করা হয়, আইসসি এর বোগদাদী ইরাকে তাদের জেলে ছিল, এই সংগঠনের অনেকেই তাদের জেলের অত্যাচারভোগী, এছাড়া ড্রোন দিয়েতো হত্যা চলছেই।  এসব সন্ত্রাস দমনে সহায়ক নয়।

      বর্তমানের আইসিস, আলকায়েদার মতো দল্গুলো উগ্রতাকে এতোদূর নিয়ে গেছে যে, এখন সাধারণ মুসলিমরা এগুলাকে 'ইহুদী -নাসারা'দের সৃষ্ট বলে থাকে, বিশেষত আইসিস কে। 

      1. 10.1.1
        মহিউদ্দিন

        তবে ইসলামিক জিহাদ কিংবা উগ্র মতবাদের দল্গুলোর উগ্রতা বাড়ার জন্য তাদের উপর করা স্টিমরোলার অনেকাংশে দায়ী। পাশ্চাত্য এদের উপর স্টিমরোলার চালিয়েছে মুসলিম শাসক দ্বারা, আর নিজেরাতো আছেই।

         

  27. 9
    শামস

    এই লেখায় জঙ্গীবাদের সমীকরণটি দাঁড় করানো হয়েছে, যা মূল সমস্যাটা বুঝতে সহায়তা করতে পারে।  সমাধান নিয়ে কিছু বলা হয়নি। সমস্যা বুঝলে সমাধান করার উপায় থাকে। সমাধান করতে হয় সবপক্ষকে নিয়ে. যেভাবে চলছে, তাতে আদৌ সমাধান আছে কিনা সেটাই প্রশ্ন! তবে রেজা আসলানের এই ভিডিওটা কিছুটা সাহায্য করতে পারে: 

    Reza Aslan: Islam and ISIS   

     

    1. 9.1
      শামস

      ভিডিওটা এমবেডেড করার উপায় কি? 

  28. 8
    শামস

    পোস্টের অপ্রয়োজনীয় বোঝা কমানোর জন্য অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যগুলো মুছে দিলাম।

     

  29. 7
    শামস

    ধর্মীয় গভীর আলোচনা, কোনটা জিহাদ কোনটা না এসব এ লেখার উদ্দেশ্য না. তাই মন্তব্যকারীদের অযথা এসব নিয়ে অমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

     

  30. 6
    শামস

    পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, ইউরোপে চলমান সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনা প্রমাণ করেছে, ‘বিশ্ব এখন যুদ্ধে লিপ্ত’। তবে তিনি বলেন, এ যুদ্ধ বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে নয়, বরং ‘স্বার্থ, অর্থ ও সম্পদের’। পোল্যান্ড সফরের প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় গতকাল বুধবার এ কথা বলেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের এই নেতা। 

    পোপের হুঁশিয়ারি 

     

     

     

  31. 5
    মহিউদ্দিন

    আপনার লিখাটি তথ্যবহুল সুপাঠ্য হয়েছে। তাই ধন্যবাদ। 
     
    বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার স্বৈরাচারী শাসকদের অত্যচার ও কলোনিয়াল সাম্রাজ্যবাদের ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বিরূপ প্রভাব কিভাবে সমাজে হতাশা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে যাচ্ছে তা প্রকাশ পেয়েছে। তবে লেখাটি যে পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্লেষকদের বর্ণনায় রচিত তা স্পষ্টত প্রকাশ পাচ্ছে। তাই দুএক  জায়গায় খটকা লেগেছে। ঔপনিবেশিকোত্তর মুসলিম সমাজে ইসলামী রেনেসা আন্দোলন তথা ইসলামিক চেতনা পুনরুজ্জীবিত কারার লক্ষ্যে যারা জীবন দিয়েছেন তাদেরকে জঙ্গীবাদের সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যামে কেন যেন পশ্চিমা দেশের এনালিষ্টদের সাথে মিলে গেল!  তবে মিশরের কথা যখন এসেছে তাই শাহ আব্দুল হান্নান সাহেবের এই লিখাটি পড়া যেতে পারে। তাঁর মতে, " ইখওয়ানুল মুসলেমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুড হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সুসংগঠিত ইসলামি আন্দোলন, যারা আইনের মাধ্যমে কাজ করে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। তারা সন্ত্রাসকে ঘৃণ্য মনে করে। ইখওয়ান-বিরোধী অপপ্রচার বাস্তবে ইসলামের দুশমনদের কাজ।"

    আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ একবার বলেছিল যে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ একটি দীর্ঘ মেয়াদী (long term) যুদ্ধ হবে। বাংলাদেশেও খুব শীঘ্রই হয়তবা সন্ত্রাস বিরোধী "আঞ্চলিক যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী" গঠন করা হবে।

    আল কায়েদার পরে এসেছে আল নুসরাত তার পরে এসেছে আইসিস কিছুদিন পর আইসিসও হয়তবা ছুটিতে চলে যাবে আসতে পারে অন্য কিছু! 
    আর বাংলাদেশের সন্ত্রাসীরা যেমন, আল আনসার, হুজি ইত্যাদির নামও হয়তো একদিন শুনা যাবে না।  আসবে তখন অন্য কোন নাম! 

    অতএব জর্জ বুশের কথামত সন্ত্রাস বিরোধী এ অনন্ত যুদ্ধ চলতেই থাকবে! অনেকে বলেন এটি আধিপত্যবাদের সাথে সংযুক্ত আধুনিক ক্রুসেড। যেভাবে সেভাবে এর সংযুক্তি খোঁজা হবে। কোন ভাল শিক্ষকের অসংখ্য ছাত্রের মধ্যে কেউ কোন কারণে মিলিট্যান্ট/সন্ত্রাসী হয়ে গেলে অথবা সমসাময়িক কোন একটি শ্রেণির কেউ সেই পথ ধরলে, সেই শিক্ষককে এবং সেই সহপার্টির অনেককেও সন্ত্রাসী বানানো হবে। এভাবে নবীকে (সা) এবং কোরানকেও সংযুক্তিতে টানা হচ্ছে। বিভিন্ন বাখ্যাকে বিচ্ছিন্নতায় ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। অনেক বড় বড় ইসলামী চিন্তাবিদও এখন সন্ত্রাসী। আসলে সংযুক্তিতে টেনে যে কাউকেই সন্ত্রাসী বলে একটা প্রবন্ধ রচনা করা যায় এবং উপযুক্ত চ্যানেলে ঢালতে পারলে তার প্রচার হু হু করে বাড়ানো যায়। তাই মুসলিম সমাজে শান্তি ফিরে আসবে বলে আশা কম। Thanks to our leaders!

    চরমপন্থা বন্ধ করতে সামাজিক ও মানসিক যে বুদ্ধি ভিত্তিক পরিপক্বতা গড়ার প্রয়োজন সে প্রচেষ্টা মুসলিম সমাজের ধর্মীয় পরিসরে খুবই সীমিত। কেননা ধর্মীয় নেতৃত্ব যাদের হাতে এরা এখনও খুবই সংকীর্ণ মনের এবং তাদের কাছে ভিন্নমত সহ্য করে চলার মত যোগ্যতাই নাই! তাই তাদের মাঝে ঐক্যতা নাই। আর এই কট্টর মানসিকতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে চরম পন্থী মানসিকতা! বিশ্বের ভূরাজনৈতিক গতিবিধি বুঝার মত যোগ্যতাও তাদের অধিকাংশের মাঝে নাই।  ইসলাম বিদ্বেষী আধুনিক বিশ্বের সেক্যুলার সমাজ ব্যবস্থার প্রধান উৎস ও লাইফ লাইন কোথা থেকে আসে সে ধারণা নাই। আর সে জন্য তারা প্ররোচক (pro active) হতে না পেরে শুধু মাত্র প্রতিক্রিয়াশীল হতে হচ্ছে যা আবার কিছু লোককে রেডিক্যল বা চরমপন্থার পথে নিয়ে যাচ্ছে। মুসলিম দেশে দেশপ্রমিক তথা স্বাধীনতার পক্ষের মানুষেরা সমাজে নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন। 

    তাই তথা কথিত "ষড়যন্ত্র তথ্যের" অনুসারী মনে হলেও  বলতে হয়, মুসলিম দেশে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড  বন্ধ হবে না যতদিন সকাল সন্ধ্যা বিদেশী গোয়েন্দাদের অফিস করার সুযোগ থাকবে, টাকা দিয়ে বা অন্য কোন লোভ দেখায়ে মুনাফিকদেরকে ক্রয় করার বা ব্ল্যকমেইল করার সুযোগ থাকবে ততদিন কোন না কোন নতুন সন্ত্রাসী দলের জন্ম নিবে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস কর্মকাণ্ডে মুসলিম সমাজের বা ইসলামের লাভ হচ্ছে না ক্ষতি হচ্ছে সেটা বুঝতে কি রকেট বিজ্ঞানী হতে হয়?
     

    1. 5.1
      মহিউদ্দিন

      আমার উপরের মন্তব্যে মিশরের ব্রাদারহুডের উপর প্রদত্ত লিংকটা কাজ করছেনা লক্ষ্য করে লিংকটা এখানে আবার দিলাম। এ কথাগুলা পড়া দরকার।
       

    2. 5.2
      শামস

      ঔপনিবেশিকোত্তর মুসলিম সমাজে ইসলামী রেনেসা আন্দোলন তথা ইসলামিক চেতনা পুনরুজ্জীবিত কারার লক্ষ্যে যারা জীবন দিয়েছেন তাদেরকে জঙ্গীবাদের সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যামে কেন যেন পশ্চিমা দেশের এনালিষ্টদের সাথে মিলে গেল! 

      যারা জঙ্গিবাদের দিকে গিয়েছে, তাদের কথা বলেছি, সবাইকে ঢালাওভাবে বলি নাই. তারা মুসলিম ব্রাদারহুড থেকে ছিটকে গিয়ে জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত হয়েছে। লেখায় উল্লেখ করেছি "সাইয়েদ কুতুবের চিন্তার জগতের পরিবর্তন ছিল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রোমান্টিক জাতিয়তাবাদী থেকে মূলধারার রাজনীতি [মুসলিম ব্রাদারহুড] এবং শেষে রীতিমত “বিপ্লবী”।"  কুতুব  এর দর্শন জঙ্গিবাদের দিকে অনেককে নিয়ে গেছে, এদের মধ্যে জাওয়াহিরি অন্যতম একজন। কুতুব এর দর্শন কেন কঠোরতার দিকে গেছে তার একটা সম্ভাব্য কারণও বলা হয়েছে।

       

       

      1. 5.2.1
        মহিউদ্দিন

        সবাইকে ঢালাওভাবে বলি নাই

        শামস ভাই, নিজের খেয়ে আপনার সাথে কথা বাড়ানোতে কোন লাভ দেখছি না। কথা হচ্ছে আপনি তো ঢালাওভাবেই কথা বলেছেন।

        আপনি সাইয়েদ কুতুবের কোন কোন বই পড়েছেন এবং তার সম্পর্কে আপনার অধ্যয়ন কি ?–এগুলো, সংক্ষেপে হলেও, উল্লেখ করে অর্থাৎ তার লেখা/বক্তৃতা দেখিয়ে তবেই বলতে হবে আপনি কিভাবে আপনার সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন।  আপনি সত্যিই কি তার লেখা অধ্যয়ন করে নিজের নিজের সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন? যদি তাই হয় তবে কীভাবে তিনি জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত হয়েছেন, এবং কিভাবে তার আন্দোলন জঙ্গিবাদে এসে শেষ হল, সেই সিদ্ধান্তের উদাহরণ দিন। একদল লোক ঢালাওভাবে বলছে জাকির নায়েকের বক্তৃতার মাধ্যমে যুবসম্প্রদায় জঙ্গিবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, কিন্তু এর পক্ষে কোন ‘বিশ্বাসযোগ্য’ নজির স্থাপন করছে না। এগুলো “অন্য পক্ষের” শিখানো কথা যা তারা নিজেদের করে বলছে। এক ব্যক্তির লেখায় জিহাদের কথা থাকলেই কি তিনি জঙ্গি হয়ে যান? জিহাদের কথা তো কোরানেও আছে এবং হাদিসেও আছে। আর এজন্য দুশমন পক্ষ কোরান/হাদিসকেও জঙ্গি পুস্তক বলছে। সাইয়্যেদ কুতুব একজন প্রমিন্যান্ট স্কলার। তার কোরানের তফসীর, ‘ফী জিলালিল কোরান’ এক বিস্মকর অবদান এবং তার অন্যান্য লেখাও। কেউ আধুনিক শিক্ষিত হলেই তাকে ডিসমিস করা যায় না। জাকির নায়েকও আধুনিক শিক্ষিত, আমি আপনিও আধুনিক শিক্ষিত। সুতরাং বড় মাপের কারো ব্যাপারে কথা বলতে হলে তাদের লেখা ভাল করে পড়ার দরকার আছে এবং তাদের চিন্তার পরিধী আদ্যপাদ্য বুঝারও প্রয়োজন আছে। আপনার এই লেখায় সেই জিনিসটি প্রকাশ পেয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে না।
        হয়তবা আপনি অনেক কিছু জানেন, কিন্তু তা লেখায় প্রকাশিত না পেলে আমরা কীভাবে তা মূল্যায়ন করব? আমরা তো ভাই চাই আপনারা নিজেদের পাঠ ও অধ্যয়নের ভিত্তিতে আমাদেরকে সঠিক কথা শুনাবেন। এটা তো আমরা আশা করতে পারি। কিন্তু যা পড়ছি, দেখছি, তার বাইরে যদি অধ্যয়ন প্রসূত কিছু উদ্ভাসিত না হয়, তবে কেমনে বলব যে আপনার তথ্যে মৌলিক বিষয় রয়েছে? আসলেই পশ্চিমা দেশের এনালিষ্টদের সাথে মিলে যাচ্ছে।

        ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  32. 4
    মাহফুজ

    তথ্য সমৃদ্ধ পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।
    তবে আমার মতে বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য শুরুতে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য আছে কিনা তা তুলে ধরলে বোধ হয় ভাল হত।
    সম্ভবত ধর্মের নামে সংঘটিত সন্ত্রাস কিংবা বিপ্লবকে আপনি জঙ্গীবাদ হিসেবে সরলিকরণ করতে চেয়েছেন।
    আশাকরি এবার জঙ্গীবাদ এবং জিহাদ তথা কিতাল এর সমীকরণ কিংবা এর মাঝে মৌলিক পার্থক্য নিয়ে কিছু লিখবেন- অপেক্ষায় থাকলাম।

    সালাম ও শুভেচ্ছা রইল-

    1. 4.1
      শামস

      সালাম।

      লিঙ্গুইস্টিক্যালি সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদের পার্থক্য আসলেই জানি না। সন্ত্রাস এর জন্য সাধারণ কোণ গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা আছে কি? ইংরেজী মিডিয়াতে সন্ত্রাস এর জন্য 'টেররিস্ট' ব্যবহৃত হয়। কোণ মুসলিম নামধারী করলে সেটা অবশ্যই 'টেররিস্ট' হিসেবে লেখে। কিন্তু বাংলা মিডিয়াতে সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদ দুটোই ব্যবহৃত হয়। মাস্তানদের সন্ত্রাসকে জঙ্গীবাদ লেখে কোথাও দেখি নাই, তাই ধারণা করি যে সন্ত্রাসের সাথে ধর্মীয় কোন আইডিওলজি জড়িত সেগুলোকে জঙ্গী হামলা বলে। তবে মিডিয়াতে এ দুটোর যে কোণ একটাকে উল্লেখ করলেই সবাই এখন মোটামুটি ধরে নিতে পারি আসলে বিষয়টা কি? রাজনৈতিক দল্গুলো চাপাতি, রামদা, বন্দুক নিয়ে অন্যদল বা নিজ দলের লোক মারলেও সেটা জঙ্গী বা সন্ত্রাসী কোনটাই সাধারণত বলা হয় না। যেহেতু দুটাই বাংলাতে এখন সমার্থকভাবে ব্যবহৃত হয়, তাই এ দুটোকেই শিরোনামে উল্লেখ করেছি। এদের মধ্যে অর্থগত পার্থক্য ্মূল লেখার কোনকিছুকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ দেয় বলে মনে হয় না।

      সন্ত্রাস বা জঙ্গীবাদের মৌলিক পার্থক্য নিয়ে কিছু লিখি নাই, জঙ্গীবাদ এবং জিহাদ বা কতলের মৌলিক পার্থক্য নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছে নেই। আমার এসব ব্যাপারে জ্ঞান নেহায়েত কম। এগুলো যাদের লেখার তারা লেখবে, আর হলিস্টিকভাবে এ ধরণের স্পর্শকাতর কোন জিনিষ নিয়ে জানতে চাইলে আমি এ ব্যাপারে কোরান, হাদিস, ধর্মীয়বেত্তার বিশ্লেষণ এবং ঐতিহাসিকদের অবস্থানও জানতে চাইব এবং অন্যদেরও তা করতে বলবো।

      ধন্যবাদ।

       

      1. 4.1.1
        মাহফুজ

        আপনার পোষ্টটি যে তথ্য সমৃদ্ধ হয়েছে, তা আমি আগেই বলেছি।

        পোষ্ট দেয়ার পরে আলোচনা/ সমালোচনা স্বাভাবিক বিষয়। আপিন যেভাবে বুঝেছেন, হয়ত আমার মাঝে সেই যোগ্যতা নেই। তাই বিরক্ত বোধ না করলে বোঝার/ বোঝানোর স্বার্থে পরস্পর মত বিনিময় হতেই পারে।

        আপনি বলেছেন- //মুসলিম বিশ্বের বেশীরভাগ স্থানে বামপন্থা আসন গাড়তে সক্ষম না হলেও, প্রভাববিস্তার করেছে, তবে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রতিক্রিয়ায় ধর্ম এসেছে একটি নিয়ামক শক্তি হিসেবে। মিশরে সাইয়েদ কুতুব প্রথমদিকে প্রতিক্রিয়াটা দিতে চেয়েছিলেন রাজনৈতিকভাবেই, সেক্যুলারদের সহযোগী হিসেবে, যা পরবর্তীতে মূলধারার ইসলামী রাজনীতি থেকে জঙ্গিবাদে এসে শেষ হয়।//

        প্রথমত আপনি ধর্মকে এবং বিশেষ করে মিশরের সাইয়েদ কুতুব যে ধর্মের অনুসারী অর্থাৎ ইসলামকে নিয়ামক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাইয়েদ কুতুব যে মূল ধারার সাথে থেকে রাজনৈতিকভাবেও চেষ্টা করেছিলেন সেটাও বলেছেন। কিন্তু তাদের এই প্রচেষ্টার শেষ পরিণতিকে জঙ্গিবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করে নিজের স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করেছেন। অথচ সাইয়েদ কুতুব এবং তার অনুসারীরা কিন্তু তাদের এই স্ংগ্রামকে জিহাদ হিসেবেই বিশ্বাস করেন।

        আপনি বলেছেন- //সাদাতের প্রশাসন ছিল দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত, তার উপর ইসরায়েলের সাথে চুক্তি, যা ক্ষমার অযোগ্য। ইসলামিক জিহাদ সাদাতকে হত্যাই করতে চায়নি, চেয়েছিল তার হত্যাকে একটি প্রতীকি রূপ দিতে। ১৯৮১ সালে ইসলামিক জিহাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সেনাবাহিনীর অফিসারদের একটি দল কড়া নিরাপত্তা বেষ্ঠনীর মধ্যে সামরিক কুচকাওয়াজের সময় সাদাতকে হত্যা করে।//

        এখানে সাদাত হত্যাকে আপনি ইসলামিক জিহাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

        দুর্নীতিগ্রস্ত ও ইসরায়েলের সাথে চুক্তি থাকার কারণেই কি এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করায় আপনি এটিকে জঙ্গিবাদ না বলে জিহাদ বলতে চেয়েছেন?

        তাহলে দুর্নীতি, মুশরিকদেরকে সহযোগী হিসেবে মনে নেয়া ও তাদের সাথে চুক্তি করায় কোন সরকারের বিরুদ্ধে কেউ সংগ্রাম করলে সেটাকে আপনি কি বলবেন?

        আপনি বলেছেন- //সন্ত্রাস বা জঙ্গীবাদের মৌলিক পার্থক্য নিয়ে কিছু লিখি নাই, জঙ্গীবাদ এবং জিহাদ বা কতলের মৌলিক পার্থক্য নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছে নেই। আমার এসব ব্যাপারে জ্ঞান নেহায়েত কম। এগুলো যাদের লেখার তারা লেখবে, আর হলিস্টিকভাবে এ ধরণের স্পর্শকাতর কোন জিনিষ নিয়ে জানতে চাইলে আমি এ ব্যাপারে কোরান, হাদিস, ধর্মীয়বেত্তার বিশ্লেষণ এবং ঐতিহাসিকদের অবস্থানও জানতে চাইব এবং অন্যদেরও তা করতে বলবো।//

        সমালোচনা আপনি করতেই পারেন। মতামত ব্যক্ত করার সাধীনতা সবারই আছে এবং থাকা উচিত। কিন্তু সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ/ জিহাদ-কিতাল, এই বিষয়গুলো সম্পর্কে না জেনেই মতামত ব্যক্ত করা ঠিক কি? তাছাড়া সংকটের মুহূর্তে মুসলিম হিসেবে সন্ত্রসি-জঙ্গিবাদ থেকে বেঁচে থাকার জন্যও তো জিহাদ-কিতাল সম্পর্কে মিনিমাম জ্ঞান অর্জন করা জরুরী। এ ধরেনের স্পর্শকাতর বিষয়ে স্রষ্টার নির্দেশনাকে নিজে জানার চেষ্টা না করেই ধর্মীয়বেত্তার বিশ্লেষণ এবং ঐতিহাসিকদের অবস্থানের উপরে নির্ভর করলে পথভ্রান্ত হবার সম্ভাবনা থেকেই যায়। এর ফলে একদিকে যেমন উগ্রতা মাথা চাড়া দিতে পারে, তেমনি উদাসিনতাও আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে। সুতরাং আসুন! সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে চলার জন্য অন্তত স্রষ্টার দিকনির্দেশনার প্রতি অনীহা নয় বরং তা জেনে নেয়ার জন্য সচেষ্ট হই।

         

        1. 4.1.1.1
          শামস

          এখানে সাদাত হত্যাকে আপনি ইসলামিক জিহাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

           

          'ইসলামিক জিহাদ' একটি রাজনৈতিক দলের নাম. আমি কোন কিছুকে জিহাদ বলি নাই. এইবার আরেকবার পড়ে দেখেন।

    2. 4.2
      কিংশুক

      @মাহফুজ: ও শামস ভাই, ইসলামে সন্ত্রাস জংগিবাদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ।হককানি জামাত আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ এর দৃষ্টিতে জিহাদ ও কিতাল সম্পর্কে জানতে নিচের লেখাটি পড়বেন। আহলে সুন্নাহ চৌদ্দশ বছর যাবৎ জিহাদ ও কিতালকে এই দৃষ্টিতে দেখেছেন । চার খলিফা হতে শুরু করে আহলে সুন্নাহর ও হানাফি মাজহাবের অনুসারী মোঘল, দিল্লি সালতানাত, উসমানি খিলাফত সবাই প্রকৃত জিহাদ ও কিতালেই বিশ্বাস করতো। বিংশ শতাব্দীর বাতিল জংগি ইসলামের দুশমন খারেজি আল কায়েদা, আইএস, হারামি, জেএমবি প্রমূখরা পৃথিবীর বিভিন্ন জংগি,  গেরিলা গোষ্ঠীর অনুসরণ করে ও ইহুদিদের ফাঁদে পড়ে মহা পবিত্র জিহাদকে সন্ত্রাস বানিয়ে, ইসলামকে সন্ত্রাসের সাথে যুক্ত করে ইসলামের চরম ক্ষতি করলো।

      http://www.annoorbd.com/বর্তমান-বিশ্বে-বা-আমাদের/

      1. 4.2.1
        Calculation

        মোঘল, পাঠান এরা সবাই প্রকৃত ইসলামী জিহাদে হয়তো বিশ্বাস করতো। কিন্তু তারা নিজেরাও পরস্পর ক্ষমতার লড়াইয়ে, রক্তক্ষয়ী হানাহানিতে লিপ্ত হয়েছে। অতএব, তাদেরকে শতভাগ শুদ্ধ আদর্শ ভেবে তাদের কর্মের দোহাই দিয়ে কোন মাজহাবের মাহাত্ম্য প্রমাণ করতে যাওয়াটা দীনতারই পরিচায়ক ও হাস্যকর প্রয়াস মাত্র।

        আরেকটা কথা, সন্ত্রাস বনাম জিহাদের পার্থক্য রণকৌশলে নয়, বরং রণনীতিতে। গেরিলা পদ্ধতিতে হলে সন্ত্রাস হবে, আর সম্মুখযুদ্ধ হলে জিহাদ হবে ব্যাপারটা এমন নয়। বরং নিরীহ নিরপরাধ মানুষ হত্যা করলে সেটা হবে সন্ত্রাস, আর আক্রমণকারী বা নির্যাতনকারী শত্রুকে হত্যা করলে সেটা হবে জিহাদ।

      2. 4.2.2
        Calculation

        আহলে সুন্নতের দাবিদার মাযহাবী আলেমরা ফেরকাগত বাহাছকে প্রমোট করবার মাধ্যমে বাগদাদ ও গ্রানাডার কী দশা করেছিল, তা বোধহয় আমাদের কারো অজানা নয়। অতএব, উম্মতের ভালো যা কিছু সব শুধু একটা মাযহাবের দ্বারা হয়েছে, আর খারাপ সবকিছু আরেকটা দলের দ্বারা ঘটেছে, এমন সরল সমীকরণ হয়তো সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

  33. 3
    কিংশুক

    সত্য তথ্য, উপাত্ত সমৃদ্ধ বাস্তব ও মানসম্মত একটি লেখা। আপনাদের মাধ্যমে অনেক কিছু শেখার সূযোগ হয়।

    1. 3.1
      শামস

      ধন্যবাদ পড়া এবং মন্তব্যের জন্য।

       

  34. 2
    ফাতমী

    কার্ল পোলানি তার "The Great Transformation" বলেছেন, মানব অর্থনিতি সমাজের সাথে মিশে ছিল। সেটা ক্রমান্নয়ে মার্কেট দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। এবং এর ভিত্তিতেই তিনি ১ম এবং ২য় মহাযুদ্ধের ব্যাক্ষা খুজছেন। আমি তাকে জিনিয়াস মনে করি, তিনি সঠিক ভাবেই বাজারের উত্থান বর্ননা করতে পেরেছেন। আর বাজার চলে চাহিদা-যোগানের ভিত্তিতে, যুদ্ধ ও জংজ্ঞীবাদের চাহিদা থাকলে, এও আসবে। তাই এগুলো মানব অর্থনিতিক, সামাজিক ও রাজনিতিক পক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। আর এগুলো হয়, সময়ের বাস্তবতায় যা এড়ানো সম্ভব নয়, এগুলো বিশাল মানবের কর্মফল, কোন একক ব্যাক্তির নয়। 

    কার্ল মাক্স যে রিভুলোশনের কথা বলেছিলেন, যার দ্বারা সামাজিক ও অর্থনিতিক স্ট্রাকচার চেইঞ্জ হয়, সেটা সম্ভবত হতে যাচ্ছে। পৃথিবী Socialism এর দিকে যাবে না অন্য কিছু করবে সেটা নিয়ে ভবিষতেই দেখা যাবে।

    "The final stages of capitalism, Marx wrote, would be marked by developments that are intimately familiar to most of us. Unable to expand and generate profits at past levels, the capitalist system would begin to consume the structures that sustained it. It would prey upon, in the name of austerity, the working class and the poor, driving them ever deeper into debt and poverty and diminishing the capacity of the state to serve the needs of ordinary citizens. It would, as it has, increasingly relocate jobs, including both manufacturing and professional positions, to countries with cheap pools of laborers. Industries would mechanize their workplaces. This would trigger an economic assault on not only the working class but the middle class—the bulwark of a capitalist system—that would be disguised by the imposition of massive personal debt as incomes declined or remained stagnant. Politics would in the late stages of capitalism become subordinate to economics, leading to political parties hollowed out of any real political content and abjectly subservient to the dictates and money of global capitalism."-Hedges C, 2015

    1. 2.1
      শামস

      বামদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে আমজনতা মিলাতে পারে না, আমি নিজেও পারি না। সোস্যালিজম নামে যা ছিল সেটা কি আদৌ আসার কোন উপায় আছে? 

      1. 2.1.1
        ফাতমী

        @শামস ভাই,

        কোন প্রিডিকশন ভুল হতে পারে, কিন্তু কিছু কিছু বিষয় বিবেচনার যোগ্য। পাশ্চাত্যের দেশগুলির অনেক গুলিতেই এখন রাজনিতি অর্থনিতির সাব-অরডিনেইট ছাড়া আর কিছুই নয়। আর সোস্যালিজম এর বিষয়টা জটিল। সেটা আপনি কোন ডেফিনেশনের আলোকে দেখেন সেটার উপর। 

  35. 1
    মজলুম

    অনেকদিন পর সদালাপে একটা ভালো মানের লেখা আসলো। লেখার সব লাইনের সাথে একমত, তবে আপনি লেখেন না কেন? 
    আমিও পরে কিছু এড করবো। পোষ্টের জন্যে ধন্যবাদ। 

    1. 1.1
      শামস

      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। লেখালেখি বা দীর্ঘ আলচনায় অংশগ্রহণের সময়ের স্বল্পতা এখন। 

      আপনার সংযোজন এর অপেক্ষায়।

       

       

Leave a Reply

Your email address will not be published.