«

»

Oct ১৪

‘টেরোরিজম’- দাওয়াইটা দরকার কোথায়?

টেরোরিজম- পশ্চিমা মিডিয়ার কল্যাণে বহুল উচ্চারিত একটি শব্দ। ১৭৮৯ সালে ফরাসী বিপ্লব এর মাধ্যমে শব্দটি ইউরোপিয়ান ভাষায় স্থান করে নেয়। একাডেমী ফ্রানিসে (Académie Française) ১৭৯৮ সালে ‘টেরোরিজম’কে সর্বপ্রথমে সংজ্ঞায়িত করা হয় “সন্ত্রাসের পদ্ধতি বা আইন (system or rule of terror)” হিসাবে। ফরাসী বিপ্লবের ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ এর সময় বামপন্থী মৌলবাদী ‘জেকোবিয়ান’দের সন্ত্রাসকে বুঝাতে ‘টেরোরিজম’ শব্দটি ব্যবহার করা হতো। এরপর ১৮৭৮ থেকে ১৮৮১ সালের দিকে রাশিয়ান একটি ছোট বিপ্লবী গ্রুপ “Narodnaya Volya” (জনগণের ইচ্ছা) ‘টেররিস্ট’ শব্দটিকে গর্বের সাথে ব্যবহার করত। অত্যাচারী শাসকদের হত্যা করাকে তারা ন্যায্য মনে করত। ১৩ই মার্চ ১৮৮১ সালে তারা সিজার আলেকজান্ডার-২ কে হত্যা করতেও সক্ষম হয়। ১৯১৮ সালে সমাজতান্ত্রিক বলশেভিক বিপ্লবীদের টেরোরিজমে খুন হয় সিজার-২ ও তার পুরো পরিবার, যার মধ্যে তার বউ, চৌদ্দ বছরের ছেলে ও চার কন্যা আছে। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শব্দটি তার সংজ্ঞা পাল্টাতে থাকে। আর তা শুধু বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর একটা মোক্ষম অস্ত্র হয়ে যায় এই ‘টেরোরিজম’। যেমনঃ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের চোখে ভারতীয় মুক্তিকামীরা ছিল ‘টেররিস্ট’। সত্তরের দশক থেকে নিজের ভুমি থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনীদের প্রতিবাদকেও লেবেল দেয়া হয় ‘টেররিস্ট’ কাজ বলে। অবশ্য ফিলিস্তিনিরাই জাহাজ ও বিমান ছিনতাই করে টেরোরিজমকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। রাশিয়ান দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইকারী আফগান মুজাহিদরা (পশ্চিমা পুঁজিবাদি দেশগুলো সে’নামেই ডাকত) রাশিয়ানদের কাছে ‘টেররিস্ট’। সেই মুজাহিদরাই (!) যখন পশ্চিমা পুঁজিবাদীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে তখন তাদেরকেই আবার বলা হয় ‘টেররিস্ট’! ১৯৮৭-৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য দক্ষিণ আফ্রিকার দখলদার ‘সাদা’দের বিরুদ্ধে কালোমানুষদের মুক্তিকামীদের সংগঠন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)কে লেবেল দেয় ‘টেরোরিস্ট’ সংগঠন হিসাবে! এর পরের ইতিহাস সন্ত্রাস আর মুসলিম, একে অপরের পরিপূরক, মিডিয়াতে সেভাবেই দেখানো হচ্ছে।

বেশীদিন হয়নি (২২শে জুলাই) নরওয়ের একটি ছোট শহর আততায়ী দ্বারা রক্তে রঞ্জিত হয়, মারা পড়ে ৯১ জন মানুষ। আততায়ী ব্রেভিক একজন গোড়া ডানপন্থী, মুসলিমবিদ্বেষী, প্রো-ইজরায়েলী ও কট্টরপন্থী খৃষ্টান। পশ্চিমের মিডিয়ার অনেকেরই যেন কামান তাক করাই আছে। ঘটনা যাই ঘটুক সন্ত্রাসবাদ ঘটবে আর মুসলিমদের নাম আগে আসবে না তা যেন ভাবাই যায় না। ঘটনার পরপরই যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বিক্রিত রুপার্ট মারডক এর বৃটিশ পত্রিকা ‘সান’ এর প্রথম পাতার হেডলাইনঃ “আল কায়েদার হত্যাযজ্ঞঃ নরওয়ের ৯/১১ (Al-Qaeda’ Massacre: Norway’s 9/11)”। সাথে মিডিয়ার কারসাজিও যেন উন্মুক্ত হয়। এএমসি মিডিয়া প্রিন্সিপ্যাল এন্থনি ম্যাক্লিল্যান এইসব মিডিয়ার সন্ত্রাস সম্পর্কে বলেছেনঃ “লক্ষ্যণীয়ভাবে অনেক ট্যাবলয়েড ও ট্যাবলয়েড সাইট এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও উগ্রতাকে মুসলিম সন্ত্রাস হিসাবে দেখতে চায়”। মিডিয়ার এই সংজ্ঞা শুধু সান এর মত কিছু পত্রিকাই না এর সাথে জড়িত বিবিসি সহ আরো নামী-দামী অনেক পত্রিকাও। মারডকের ওয়াল স্ট্রীট জার্নালও প্রথম দিকে একে মুসলিমদের কাজ বলে বর্ণনা করেঃ “সত্যিকার পশ্চিমা মূল্যবোধ ধারণ করার কারণে নরওয়ে হামলার লক্ষ্যবস্তু।” কিন্তু যখনই জানা গেল যে নরওয়ের এই গণহত্যা মুসলিমদের কাজ নয় উলটো মুসলিমবিদ্বেষীর কাজ, ঐসব মিডিয়ার ভাষ্যে ‘টেরোরিজম’ শব্দটি যেন কচিৎ উচ্চারিত হতে থাকে।

‘টেরোরিজম’ নিয়ে এই খেলা নতুন নয়। একে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে মুসলিমদের সাথে জড়ানো একটা ফ্যাশন, আর তা কিছু হেটমুগারদের অন্যতম অবলমম্বন। কিন্তু পরিসংখ্যান বলে ভিন্ন কথা! ১৯৮০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলার মাত্র ৬% হয় মুসলিম সন্ত্রাসীদের দ্বারা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থানুকুল্যে পরিচালিত RAND যে তথ্য প্রকাশ করে তাতে দেখা যায়, মুসলিম সন্ত্রাসীদের দ্বারা পরিচালিত সন্ত্রাসকে খুব ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে। ৯/১১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে যে ৮৩টি সন্ত্রাসী হামলা হয় তার মাত্র তিনটি সংঘটিত হয় মুসলিম সন্ত্রাসীদের দ্বারা। প্রতিবছর বাদামের এলার্জিতে যে পরিমাণ আমেরিকানের মৃত্যুর সম্ভবনা থাকে, সেখানে সন্ত্রাসবাদ থেকে মৃত্যুর সম্ভবনা থাকে শতকরা ৬০ ভাগ কম।

১৯৮০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাস, তথ্যসুত্রঃ লুনওয়াচ (এফবিআই ডাটাবেজ)

ইসলামবিদ্বেষীদের একটা প্রিয় উক্তি হলঃ “সব মুসলিমই সন্ত্রাসী না, তবে প্রায় সব সন্ত্রাসীই মুসলিম (not all Muslims are terrorists, but (nearly) all terrorists are Muslims)”। অথচ, ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ইউরোপের সন্ত্রাসের হিসাব দেখা দেখলে চিত্রটি ভিন্ন বলেই মনে হবে। সবচেয়ে বেশী হামলা হয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দ্বারা, যেখানে মুসলিম সন্ত্রাসীদের দ্বারা হামলা হয় মাত্র ০.৪% যা কিনা বামপন্থী সন্ত্রাসীদের করা হামলার (৬.৫%) চেয়েও অনেক কম!

২০০৬ থেক ২০০৮ পর্যন্ত ইউরোপে সন্ত্রাস, লুনওয়াচ (এফবিআই ডাটাবেজ)

২০১০ সালে ইউরোপে ২৪৯টি সন্ত্রাসী হামলা হয়। সবমিলিয়ে মাত্র ৭জন (!) এই হামলায় প্রাণ হারায়। মুসলিম সন্ত্রাসীরা মাত্র ৩টি হামলা চালায়। বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলো চালায় মোট ১৬০টি আক্রমণ, আর বামপন্থী ও অরাজকতা সৃষ্টিকারী দলগুলো চালায় মোট ৪৫টা আক্রমণ। বিচ্ছিন্ন ব্যাক্তি উদ্যোগে ৮৯ জন মুসলিমকে হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে আটক করা হয়। অপরদিকে সবমিলিয়ে ৩০৭ জনকে সন্ত্রাসের অভিযোগে শাস্তি দেয়া হয়। তারপরও মুসলিম সন্ত্রাসে তাদের ঘুম হারাম।

সমগ্র পৃথিবীর যে সন্ত্রাসের হার তাতেও মুসলিমরা পিছিয়ে! টেররিস্ট আক্রমণ ও ক্ষতির হিসাবে যেসব দেশ সামনের সারিতে তাদের মধ্যে মুসলিম অধ্যুষিত প্রথম দেশটির অবস্থান পাঁচ নম্বরে।

টেরোরিজমের যে খতিয়ান পাওয়া যায়, তাতে দেখা যায় মুসলিমরা এর সাথে যুক্ত হয়েছে অনেক পরে। তাই বলে, কিছু মুসলিমদের করা টেরোরিজমকে অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এ রোগের ব্যাপকতাতো অন্যখানে, দাওয়াইটাতো দেবার কথা সেখানেই বেশী! আসলে কি তাই হচ্ছে!!

৪৫ comments

Skip to comment form

  1. 23
    শামস

    শেখ ফরিদ আলম,
    হ্যা, ‘শামস’ দিলেই হবে।
    ধন্যবাদ।
     

    1. 23.1
      সত্তুক

      @শামস: হুম শামস, তাব্রেজ।

  2. 22
    ফরিদ আলম

    লেখকের নাম কি ‘শামস’ দিব?
    আপনার পুরো নাম কি?

  3. 21
    ফরিদ আলম

    শামস ভাই,
    আসসালামো আলাইকুম
    আমি কি আপনার এই লেখাটিকে আমাদের পত্রিকায় ছাপাতে পারি?
    আশা করি খুব তাড়াতাড়ি জানাবেন।
    http://www.islameraalo.wordpress.com

    1. 21.1
      শামস

      @শেখ ফরিদ আলম:
      জ্বী ভাই, অবশ্যই পারেন।
      অনুরোধ থাকবে, মূল লেখকের নাম উল্লেখ করতে ভুলবেন না। সাথে সদালাপ সাইটের নামও উল্লেখ করুণ।
      আপনাকেও সদালাপে লেখালেখির আমন্ত্রণ রইল। পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কেও আমরা আপনাদের কাছ থেকে ধারণা পেতে পারি।

      আপনার পত্রিকার জন্য শুভকামনা রইল।

  4. 20
    কিংশুক

    @ শাসম, আরে ভাই খ্রিস্টানকি আর সন্ত্রাসী হতে পারে ? সন্ত্রাসীতো সব মুসলমান, ইসলাম সব মুসলমানকে সন্ত্রাসী বানিয়ে ফেলেছে  ব্রেইভিকতো সন্ত্রাসীদের মুলোতপাটনের জন্য হিন্দু, খ্রিস্টান অভিযানের প্রয়োজনীয়তার পক্ষের মূখপাত্রপৃথিবীর এক নম্বর সমস্যার বিরুদ্ধে যে কাজ করে তাকে কি সাজা দেয়া সঠিক কাজ হতো ?
    http://www.knightscrusaders.com/Knights_Crusaders/Muslims_Jihad_Is_Obligatory.html
    http://www.google.com/url?sa=t&rct=j&q=bangladeshi%20muslims%20are%20kafir&source=web&cd=1&ved=0CCQQFjAA&url=http%3A%2F%2Fwww.hindurashtra.org%2FKHLA.pps&ei=v_bUTvTrPMqj-gabyeGiDw&usg=AFQjCNEXQva0OJPQYfBZdvI1hdjU6qaB9w&cad=rja
    http://www.hindurashtra.org/atrocities.htm
    http://atlasshrugs2000.typepad.com/atlas_shrugs/2010/05/man-beaten-to-death-in-mosque-in-religious-ritual-kill-the-kaffir.html

  5. 19
    শামস

    নরওয়ের মুসলিম বিদ্বেষী হত্যাযজ্ঞের হোতা  ব্রেভিক সন্ত্রাসী না, পাগল!!! লম্বা জেল টার্মের বিপরীতে তার জন্য অপেক্ষা করছে মানসিক চিতিৎসা!
    http://www.bbc.co.uk/news/world-15936276

    http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-11-29/news/204945

  6. 18
    বুড়ো শালিক

    আপনার লেখাটা পড়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। এরপরেও যদি কেউ ‘মুসলিম’ আর ‘টেরোরিস্ট’ শব্দদুটো সমার্থকভাবে (বা প্রায় সমার্থকভাবে) ব্যাবহার করে, তাহলে তার মানসিক সমস্যা আছে বলতে হবে।

    1. 18.1
      শামস

      @বুড়ো শালিক:
      বাকরুদ্ধ হবারই কথা।
      ইউরোপ আমেরিকাতে সাধারণ মানুষ যদি মুসলিমদের সম্পর্কে এই ধারণা পোষণ করে তাহলে তাকে খুব একটা দোষ দেয়া যায় না, কারণ তাদের মিডিয়াগুলার প্রভাব আছে। কিন্তু আমাদের বাংলা ব্লগগুলাতে সাধারণ যদি কেউ এই ধারণা পোষণ করে তাহলে তার অজ্ঞতার ব্যাপারে ভাবতে পারে। সে না জেনেই বিরূপ ধারণা করতে পারে সে সম্ভবনা আছে। কিন্তু কিছু ইসলাম-বিদ্বেষী যখন এ ধারণা পোষণ করে তাহলে তার সততা প্রশ্নসাপেক্ষ, কারণ সে জেনেশুনেই এসব করছে। আমাদের মিডিয়াতে খবরের বিপরীত খবরটাও পাওয়া যায়। তাছাড়া একজন বিদ্বেষী বিদ্যার সাগর সেজে বিদ্বেষ করে যাচ্ছে, কিন্তু একবারও তথ্যকে ভেরিফাই করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছে না, তার মানসিক সমস্যা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করাই যায়!

  7. 17
    সরোয়ার

    তামিল বামপন্থী সন্ত্রাসীদের মুসলিম হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে তথ্যচিত্র ও সচিত্র প্রতিবেদন নীচের লিঙ্কে দেখা যাবে। বিশ্ব মিডিয়াতে এগুলো তেমন কিছুই আসেনি! বিশ্ববাসী জানলও না! হায়রে মানবতা! সন্ত্রাসী কার্যকলাপ যেই করুক না কেন, আমাদেরকে নিন্দা করতেই হবে।

    এখানে অনেক বিভ্ৎস ছবি আছে। এজন্য আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

    Genocide of Muslims by LTTE Tamil Tigers

    http://www.slnewsonline.net/LTTE_Atrocities_Genoside_of_Muslims.asp

  8. 16
    সরোয়ার

    তামিল টাইগারদের আইডিওলজি হচ্ছে উগ্রবামপন্থী (Marxist-Leninist)। শ্রীলংকান তামিল টাইগারদের উত্থান নিয়ে বিবিসি’র একটি ডকুমেন্টারী দেখতে পারেন-

    BBC Documentary: Liberation Tigers of Tamil Eelam 1/6

  9. 15
    সরোয়ার

    উগ্র বামপন্থী তামিল সন্ত্রাসীরা ২৪ ঘণ্টার নোটিশে জাফনার মুসলিমদেরকে উচ্ছেদ করেছিল, যাদের অনেকেই এখনো শরনার্থী ক্যাম্পে জীবন-যাপন করছে।

    Muslims ethnically cleansed by Tamil (LTTE)

    1. 15.1
      শামস

      @সরোয়ার:
      তামিলরা তামিলনাড়ুতে এথনিক ক্লিন্সেনিং চালাইছে মারাত্নকভাবে। তামিলনাড়ু থেকে যারা একবার দেশের বাইরে আসতে পারছে, তারা আর ফিরে তাকাতে চায়নি। আমার পরিচিত এক তামিল মুসলিমকে দেখেছিলাম এইরকম। তবে তামিলরা অন্যদেশে খুব মিশুক ও বন্ধুবৎসল হিসাবেই দেখছি।

  10. 14
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    দারুন লেখা। ধন্যবাদ।

    গতকাল আমার এক কলিগ -- শ্রীলংকান তামিলদের কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তার একটা ভিডিও দেখাচ্ছিলো। বর্বরতা আর রাষ্টীয় সন্ত্রাস কতটা নির্মম ভাবে নেমে আসতে পারে একদল স্বাধীনতাকামী মানুষের উপর -দেখে বাকহারা হয়েছি।

    1. 14.1
      সরোয়ার

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:

      তামিলরাও তো অনেক সন্ত্রাসী কাজ করেছে। শ্রীলংকান মুসলিমদেরও হত্যা ও উচ্ছেদ করেছে। যেকোন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সমর্থনযোগ্য নয়। বিখ্যাত জার্নালিস্ট ইভন রিডলী একটি তথ্য প্রতিবেদন দেখতে পারেন। তামিলদের যুদ্ধের মটিভেশনও এই প্রতিবেদনে জানা যাবে।

      The Plight of Sri Lankan Muslims
      http://yvonneridley.org/index2.php?option=com_content&do_pdf=1&id=27

      I still can not believe how 125,000 people can be ethnically cleansed from their homes without a global outcry but the plight of Sri Lanka’s Muslims has not made so much as a headline or soundbite across the West.

      I was horrified -- no less than 40,000 Muslims ethnically cleansed from their homes in a matter of days. Things just couldn’t really get any worse, could they?

      Then I discovered around 75,000 Muslim refugees were ethnically cleansed from Jaffna around 15 years ago … with less than two hours warning.

      1. 14.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        @সরোয়ার:

        These Muslim victim later help Tamil people during tsunami, they opened mosque to Tamil that they can live there for while. But no one care Muslim, No one like Muslim. Humanist say, We Muslim have no humanity, though our humanity is far far greater then that of them. We are bad because we are Muslim. Our good work is not good, because We love prophet.

    2. 14.2
      শামস

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:
      আপনাকেও ধন্যবাদ।

  11. 13
    কিংশুক

    দারুন তথ্যবহুল লেখা। এরপরও টেররিজম ও ইসলামকে জড়িয়ে এভাবে অপপ্রচার চলতে থাকার অর্থ অবশ্যই বিশেষ কিছু মহলের ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

    1. 13.1
      শামস

      @কিংশুক:
      মনে হয় না এত তাড়াতাড়ি এই অপপ্রচার থেমে যাবে। কিন্তু সত্যতো আর চাপা থাকে না। ফাক-ফোকড় গলে কিছু তথ্য এসে পড়ে, তখনই আসল ঘটনা জানা যায়। সেখান থেকে কিছু শেয়ার করলাম আরকি।
      আপনাকেও ধন্যবাদ।

  12. 12
    সাদাত

    মুসলিমরা অনেক দিক থেকে পিছিয়ে তাই হয়তো অনেকে দয়া করে সন্ত্রাসের দিক দিয়ে মুসলিমদের মুসলিমদের শীর্ষে দেখাতে চায়! অন্যায়টা কী সেটার চেয়ে বড় অন্যায়টা কে করেছে! একটা কৌতুক মনে পড়ে গেল।

    নিউইয়র্কের এক পার্কে এক লোক হাঁটছিল।
    হঠাৎ দেখে এক হিংস্র কুকুর একটা ছোট মেয়েকে আক্রমণ করছে।
    লোকটা দৌড়ে গেল এবং কুকুরটার সাথে মারামারি করে অবশেষে কুকুরটাকে মেরে ফেলল।
    একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখছিল।

    পুলিশ: আপনি তো একজন হিরো। আগামীকাল সকালে সকল পত্রিকায় দেখতে পাবেন “ছোট্ট মেয়ের জীবন বাঁচালেন একজন সাহসী নিউইয়র্কার”

    লোক: কিন্তু আমি তো নিউইয়র্কার নই!

    পুলিশ: তাহলে পত্রিকায় দেখতে পাবেন “ছোট্ট মেয়ের জীবন বাঁচালেন একজন সাহসী আমেরিকান”

    লোক: কিন্তু আমি তো আমেরিকান নই!

    পুলিশ: তাহলে আপনি কী?

    লোক: আমি একজন সৌদি।

    পরদিন সকালে পত্রিকায় এলো:

    “ইসলামি চরমপন্থীর হাতে নিরীহ আমেরিকান কুকুর নিহত”

    1. 12.1
      শামস

      @সাদাত:
      হাহাহাহাহা…………মজা পাইলাম।

  13. 11
    সুমন আহমেদ

    দারুণ পোস্ট হয়েছে তো!!!

    1. 11.1
      শামস

      @sumon ahmed:
      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  14. 10
    শাহবাজ নজরুল

    শামস,

    আপনার লেখা সবসময়ই অনবদ্য!!! অকাট্য যুক্তি আর পরিসংখ্যান বলছে প্রায় ৯৪% সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে মুসলিমরা জড়িত না; তবুও মুসলিম-বিদ্বেষী চক্র দিনরাত গোয়েবলসীয় স্টাইলে বলে চলেছে, “সকল মুসলিম সন্ত্রাসী নয়, কিন্তু সকল সন্ত্রাসীই মুসলিম” যাইহোক, এহেন গোয়েবলসীয় পরগাছা গোষ্ঠী চিরকালই ছিল আর ভবিষ্যতেও থাকবে। আপনার যৌক্তিক লেখা দিয়ে সাধারণ পাঠকদের আসল সত্য জানিয়ে যেতে থাকেন। সচেতনতা এভাবেই আসবে ইনশাল্লাহ।

    --শাহবাজ

    1. 10.1
      শামস

      @শাহবাজ নজরুল:
      আপনাকেও ধন্যবাদ।

  15. 9
    নবাগত

    খুব ভালো লাগলো।

    1. 9.1
      শামস

      @নবাগত:
      আপনাকে নুতন দেখলাম। সদালাপে স্বাগতম।

  16. 8
    মহিউদ্দিন

    তথ্য বহুল লেখাটা পড়ে ভাল লাগল। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
    আসলে টেরোরিজমের যে খতিয়ান আপনি তুলে ধরেছেন তা জেনেও কিন্তু একটি মহল ঢালাও ভাবে ইসলাম ও সব মুসলিমকেই টেরোরিজমের জন্য দায়ী করতে চায় কারন তারা ইসলামোফবিয়া তথা “ইসলামের ভয়” রোগে ভুগছে। আগ্রহী পাঠক এ প্রসঙ্গে নিচের ভিডিওটা দেখতে পারেন-

    1. 8.1
      শামস

      @মহিউদ্দিন:

      আপনাকেও ধন্যবাদ।

  17. 7
    সরোয়ার

    রুপার্ট মারডক বিশ্ব মিডিয়া নিয়ন্ত্রন করে। তার ফক্স মিডিয়া গ্রুপ থেকে চালানো হয় মুসলিম বিরোধী প্রপাগান্ডা। তার সম্পর্কে একটা ভিডিও দেখেছিলাম।

    Who is Rupert Murdoch?

    1. 7.1
      কিংশুক

      @সরোয়ার: ভিডিওটি সংযোজনের জন্য ধন্যবাদ।

    2. 7.2
      শামস

      @সরোয়ার:
      মারডক যে প্রো-ইসরাইলী ইহুদী জানতাম না। ইসরাইলের জন্য তারা কিনা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যকে ধ্বংস করতেও এরা পিছপা হবে না।

  18. 6
    সরোয়ার

    বেশীদিন হয়নি (২২শে জুলাই) নরওয়ের একটি ছোট শহর আততায়ী দ্বারা রক্তে রঞ্জিত হয়, মারা পড়ে ৯১ জন মানুষ। আততায়ী ব্রেভিক একজন গোড়া ডানপন্থী, মুসলিমবিদ্বেষী, প্রো-ইজরায়েলী ও কট্টরপন্থী খৃষ্টান। পশ্চিমের মিডিয়ার অনেকেরই যেন কামান তাক করাই আছে। ঘটনা যাই ঘটুক সন্ত্রাসবাদ ঘটবে আর মুসলিমদের নাম আগে আসবে না তা যেন ভাবাই যায় না। ঘটনার পরপরই যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বিক্রিত রুপার্ট মারডক এর বৃটিশ পত্রিকা ‘সান’ এর প্রথম পাতার হেডলাইনঃ “আল কায়েদার হত্যাযজ্ঞঃ নরওয়ের ৯/১১ (Al-Qaeda’ Massacre: Norway’s 9/11)”।

    নরওয়ের হত্যাযজ্ঞ নিয়ে ডঃ হাবিব সিদ্দীকির দারুণ একটি লেখা থেকে তুলে দিলাম-

    “Published reports, including Breivik’s own Internet postings, show that he was a fundamentalist Christian-Zionist zealot who had closely followed the acrimonious American debate over Islam, and was poisoned by the hateful blogs and writings of pro-Israeli, anti-immigrant and anti-Muslim provocateurs in America, Europe and India. In his 1500-page manifesto he wrote that he acquired some 8,000 e-mail addresses of “cultural conservatives” not just across Europe but North America, Australia, South Africa, Armenia, Israel, and India – ensuring scrutiny of anti-Muslim groups far beyond Europe.

    Breivik’s primary goal was to remove Muslims from Europe. But his manifesto calls for a military cooperation with Jewish groups in Israel, Buddhists in China, and Hindu nationalist groups in India to contain Islam.”

    http://www.shodalap.org/?p=3500#comment-1079

    1. 6.1
      শামস

      @সরোয়ার:

      Breivik’s primary goal was to remove Muslims from Europe. But his manifesto calls for a military cooperation with Jewish groups in Israel, Buddhists in China, and Hindu nationalist groups in India to contain Islam.”

      নরওয়ের ম্যাসাকারের হোতা ব্রেভিক মুসলিমদের ইউরোপ থেকে বিতারণের জন্য ইসরায়েলের ইহুদী, চায়নার বৌদ্ধ, ভারতের হিন্দু মৌলবাদী সবার সাথে গাট বাধতে চায়! বলতে গেলে কাউরেইতো বাদ দেয় নাই!

  19. 5
    সরোয়ার

    ২০১০ সালে ইউরোপে ২৪৯টি সন্ত্রাসী হামলা হয়। সবমিলিয়ে মাত্র ৭জন (!) এই হামলায় প্রাণ হারায়। মুসলিম সন্ত্রাসীরা মাত্র ৩টি হামলা চালায়। বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলো চালায় মোট ১৬০টি আক্রমণ, আর বামপন্থী ও অরাজকতা সৃষ্টিকারী দলগুলো চালায় মোট ৪৫টা আক্রমণ। বিচ্ছিন্ন ব্যাক্তি উদ্যোগে ৮৯ জন মুসলিমকে হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে আটক করা হয়। অপরদিকে সবমিলিয়ে ৩০৭ জনকে সন্ত্রাসের অভিযোগে শাস্তি দেয়া হয়। তারপরও মুসলিম সন্ত্রাসে তাদের ঘুম হারাম।

    ইউরোপের মুসলিম বিদ্বেষের গভীরতার নমুনা এই ভিডিওতে দেখা যাবে-

    rel="nofollow">

    1. 5.1
      শামস

      @সরোয়ার:
      আপনার সংযোজনের জন্য ধন্যবাদ।

    2. 5.2
      শামস

      @সরোয়ার:
      ব্রেভিকের মত এই উগ্রপন্থীদের প্রধান লক্ষ্য মুসলিম বিদ্বেষ। এদেরকে উগ্র বানাতে মিডিয়ার ভুমিকা অস্বীকার করা যাবে না। শুধু মিথ্যার উপর ভড় করে অন্যায়ভাবে মানুষের মনকে বিষিয়ে একটা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে তাদের একটুও বিবেকে বাধে না!

  20. 4
    সরোয়ার

    বরাবরের মত অসাধারণ লেখা। হ্যাটস অফ! যে কোন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিন্দনীয়। সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভাল কিছু হতে পারে না।

    “রাশিয়ান দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইকারী আফগান মুজাহিদরা (পশ্চিমা পুঁজিবাদি দেশগুলো সে’নামেই ডাকত) রাশিয়ানদের কাছে ‘টেররিস্ট’। সেই মুজাহিদরাই (!) যখন পশ্চিমা পুঁজিবাদীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে তখন তাদেরকেই আবার বলা হয় ‘টেররিস্ট’! ”

    In March 1982, President Reagan declared:

    “Every country and every people has a stake in the Afghan resistance, for the freedom fighters of Afghanistan are defending principles of independence and freedom that form the basis of global security and stability.”

    In March 1983, he cited

    “the Afghan freedom fighters” as “an example to all the world of the invincibility of the ideals we in this country hold most dear, the ideals of freedom and independence”.

    In a March 1985 speech, he said:

    “They are our brothers, these freedom fighters, and we owe them our help… They are the moral equivalent of our Founding Fathers and the brave men and women of the French resistance. We cannot turn away from them.”

    সোর্সঃ ব্রিটিশ গার্ডিয়ান নিউজ পেপার

    1. 4.1
      শামস

      @সরোয়ার:
      যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতিতে রিগ্যান একজন কারিশম্যাটিক নেতা। তার কারিশমা সে দেখাইছে সৌভিয়েত রাশিয়ার সাথে। এই করতে গিয়া সৌভিয়েত বিরোধী আফগান যোদ্ধাদের বানাইছে ‘মুজাহিদ’। এই মুজাহিদরা এখন ‘সন্ত্রাসী’ হইলেও রিগ্যান এখনও ক্যারিশমাটিক!

  21. 3
    সত্তুক

    চরম ! সেই রকম! তবে টেরোরিজমে লাদ্দু-গুড্ডু হওয়ায় কষ্টিত। 🙂

    1. 3.1
      শামস

      @সত্তুক:

      ধন্যবাদ।

  22. 2
    আহমেদ শরীফ

    দুর্দান্ত লেখা !

    1. 2.1
      শামস

      @আহমেদ শরীফ:

      ধন্যবাদ।

  23. 1
    এস. এম. রায়হান

    দারুণ তথ্যপূর্ণ একটি লেখার জন্য ধন্যবাদ।

    আগ্রহী পাঠক আমার প্রাসঙ্গিক দুটি লেখাও পড়তে পারেন-

    ৯/১১ ও কিছু ছবি: মুসলিম-বিদ্বেষী চক্রের মুখোশ উন্মোচন

    ৯/১১ ঘটনা: নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করুন

    1. 1.1
      শামস

      @এস. এম. রায়হান:
      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
      আপনার লেখাগুলিও চমৎকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.