«

»

Nov ২৫

ডারউইনের বিবর্তনবাদ থেকে মনুষ্যত্বের অবমাননাকারী বর্ণবাদী ইউজেনিক্স- গোড়ার কথা

বিবর্তনবাদকে বিজ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাটাই সমাচীন হতো কিন্তু অতিউৎসাহী কিছু নাস্তিকের বিবর্তনবাদের প্রচারের অন্তর্নিহিত কারণটির সাথে ধর্ম সম্পর্কযুক্ত, তা তাদের অনেকেই স্বীকার করতে চায় না। তবে কেউ কেউ আছে গায়ের জোরেই যেন বিবর্তনবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। নাস্তিকরা বিবর্তনবাদকে নাস্তিকতার সাথে সমার্থক হিসাবে দেখাতে চাইলেও তাদের কতজন বিবর্তন নিয়ে পড়ে ও বুঝে নাস্তিক হয়েছে তা প্রশ্নবোধক, কিন্তু বিবর্তনবাদ যে নাস্তিকতাকে একটা ভিত্তি দিয়েছে তা বললে হয়তো অত্যুক্তি হবে না। বিবর্তনবাদের প্রসারে নাস্তিকদের একটা ভূমিকা থাকলেও এর উৎপত্তি (ডারউইনের বিবর্তনবাদ) ও প্রসারের সাথে শুধুমাত্র নাস্তিকতাকে বিবেচনায় নিলে হয়তো ভুল হবে। এ লেখায় তা-ই অনুসন্ধান করার চেষ্টা করা হবে।

প্রকৃতির অজানা রহস্যের ব্যাপারে প্রাচীন অনেক দার্শনিকই ভেবেছেন। যেমনঃ প্লেটোর (৪২৭ বিসি – ৩৪৭ বিসি) মতে মানুষ প্রকৃতির অজানা রহস্যকে ততটুকুই উদ্ভাবন করতে পারে যতটুকু জ্ঞান তাকে দেয়া হয়েছে, যদিও তারই ছাত্র অ্যারিস্টটল (৩৮৪বিসি – ৩২২বিসি) প্লেটোর এই ধারণাকে ভুল বলেই মনে করতেন। প্লেটো ও অ্যারিস্টটল এর বৈজ্ঞনিক পরিচয়ের চেয়ে দার্শনিক পরিচয়টাই মূখ্য। অবশ্য বলা যায় আঠার শতকের আগে বিজ্ঞান ও দর্শনের মধ্যে স্পষ্ট কোনো সীমারেখা টানা বেশ কষ্টকর ছিল। বিজ্ঞানীদের অনেকেই একই সাথে দার্শনিকও ছিলেন বিজ্ঞান যেখানে পরীক্ষা দ্বারা তত্ত্ব ও ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করে, সেখানে দর্শন সাহায্য করে বৈজ্ঞনিক প্রণালীকে গঠন করতে। এখন অবশ্য বিজ্ঞান ও দর্শনের মধ্যে সম্পর্কটা সে অর্থে নিবিড় না হলেও একেবারে পর নয়। গ্রীকদের পর রোমানরা ও তারো পরে মুসলিম বিজ্ঞানী বিশেষ করে ইবনে সিনা (৯৮০ – ১০৩৭), ইবন আল হাইতাম, আল বেরুনী এই বৈজ্ঞনিক প্রণালীকে উন্নত করতে অবদান রাখেন। ইবনে সিনা পরীক্ষা-ই সত্যকে উন্মোচন করে বলে বিশ্বাস করতেন অন্যদিকে আল বেরুনী বৈজ্ঞনিক পরীক্ষায় 'ভুল' এর প্রয়োজনীয়তাকে সর্বপ্রথম সামনে নিয়ে আসেন তবে ফ্রান্সিস বেকন-ই (১৫২১- ১৬২৬) প্রথম ব্যক্তি যিনি বিজ্ঞান ও দর্শনের মধ্যে মধুচন্দ্রিমায় বাধ সাধেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক গ্যালিলিও (১৫৬৪-১৬৪২) কিন্তু যুক্তি ও পরীক্ষা দুটোর প্রতিই সমান গুরুত্ব আরোপ করেছেন দার্শনিক ক্রিস্টিয়ান হিউজেন (১৬২৯ – ১৬৯৫) আবার বিজ্ঞান ও গণিতকে পৃথক ক্ষেত্র বলে মনে করতেন কারণ বিজ্ঞান কেবল একটি ফলাফলকে সত্য কিনা তার সম্ভবনার কথা বলে, যেখানে গণিত ও জ্যামিতি কোনো ফলাফলকে সন্দেহাতীতভাবে সত্য বলে প্রমাণ করে তবে বৈজ্ঞনিক গবেষণায়ও আজকাল অহরহ গণিতের ব্যবহার হচ্ছে এটাও ঠিক বিজ্ঞানের সব তত্ত্বের প্রমাণে এই গণিত সার্বজনীনভাবে ব্যবহার করা যায় না ডারউইনের বিবর্তনবাদ প্রমাণে এই গণিত কার্যত তেমন কোন ভূমিকা পালন করে না এটা একটি পর্যবেক্ষণমূলক বিজ্ঞান যাতে ফাঁক-ফোঁকড় এর সম্ভবনা বেশী দার্শনিক হিউজেন বেঁচে থাকলে হয়ত এই বিবর্তনবাদকে বিজ্ঞানের মধ্যে ফেলতে আপত্তি করতেন

ঊনিশ শতকের বিজ্ঞানীদের মধ্যে কার্ল পপার (১৯০২ – ১৯৯৪) বিখ্যাত হয়ে আছেন বিজ্ঞান থেকে মেটাফিজিক্সকে দূরে ঠেলে দিয়ে তার মতে সামাজিক বিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান এমনকি সাইকোলজী বিজ্ঞানের অন্তর্ভূক্ত নয়খুবই অপ্রতুল মাইক্রোইভ্যুলুশন ছাড়া বিবর্তনবাদকে প্রমাণ করতে জীবাষ্ম পরীক্ষার উপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় নেই। দেখা যায়, কার্ল পপারের হিসাব অনুযায়ী বিবর্তনবাদ বিজ্ঞানের অন্তর্ভূক্ত হবার কথা নয়! পপার বিখ্যাত হয়ে আছেন, ফলসিফায়াবল (falsifiable) তত্ত্ব দেয়ার জন্য কোনো তত্ত্ব ফলসিফায়াবল না হলে তা বিজ্ঞানে ঠাঁই পাওয়া উচিত নয়

যাক, দার্শনিক ক্রিস্টিয়ান হিউজেনের কথায় আসা যাক। তিনিই প্রথম দার্শনিক যিনি অনুসিদ্ধান্ত ও সেই অনুসিদ্ধান্তকে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষালব্ধ ফলাফল দ্বারা প্রমাণের ব্যাপারে তাঁর মতামত দেন নিউটন আবার অনুসিদ্ধান্ত দেয়াকে বৈজ্ঞনিক বলে মনে করতেন না, এর প্রধান কারণ হতে পারে তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড হল গণিত এই নিউটনও বিজ্ঞানী ও দার্শনিক দুটোতেই অভিহিত হন, যদিও তাঁর বিজ্ঞানী পরিচয়টার কাছে দার্শনিক পরিচয়টা অনেকটাই ম্লান অবশ্য হিউজেনের সাথে নিউটনের চিন্তাধারায় এই ব্যাপারে মিল ছিল যে, তারা উভয়েই মনে করতেন, বিজ্ঞান কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দেবার সামর্থ্য রাখে না এজন্যই হয়ত নিউটনের ঈশ্বরবিশ্বাস এত প্রবল ছিল অপরদিকে জন হার্শেল (১৭৯২ – ১৮৭১) অনুসিদ্ধান্তের পক্ষপাতি আর সেই অনুসিদ্ধান্তকে খুব কঠিন ও বারংবার পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণের পক্ষপাতী। সে সময়ের ঐসব বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের মধ্যে একটা মিল হল তারা কমবেশী, অতিন্দ্রীয় ক্ষমতায় বিশ্বাস করতেন।

তবে ফরাসী বিপ্লবের পরপরই চিত্র পাল্টে যেতে থাকে এক্ষেত্রে সামাজিক ও পরিবেশগত উপাদান দায়ী রাজা, চার্চ ও পাদ্রীদের মিলিত অনাচারে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠা নাগরিকদের সামনে বিপ্লবের বিকল্প ছিল না সমাজের উচ্চশ্রেণী, রাজা ও চার্চরা সব ধরণের সুযোগ সুবিধা ভোগ করত, সেখানে দরিদ্র জনসাধারণের সামান্য অন্নেরও নিরাপত্তা ছিল না চার্চ ও পাদ্রী এ অনাচারে যুক্ত থাকায় স্বাভাবিকভাবে এই বিপ্লবীরা ধর্মকে বিদায় করতে একটুও কার্পণ্য করেনি, আর তাতে সাধারণ মানুষেরও সমর্থন ছিল। ফ্রান্সের এই ঢেউ ইউরোপের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে আর এর ঢেউ থেকে বিজ্ঞানও রক্ষা পায়নি কিন্তু মজার ব্যাপার হল, ইংল্যান্ডে অভিজাত সমাজই ফরাসী বিপ্লবের ফলে পরিবর্তিত বিজ্ঞানের এই মশালকে বহন করত। আর এই পরিবর্তিত বিজ্ঞানে ডারউইনের বিবর্তনবাদকে ঠাঁই করে নেয়াতে কোন সমস্যাই হয়নি।

ডারউইনের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে যে সোসাল ডারউইনিজমের প্রসার ঘটে তার শুরুটা ডারউইনবাদ নয় বা ডারউইন নিজেও না এর বীজ ইউরোপের ভূমিতে প্রসার ঘটে অনেক আগে থেকেই, ইউরোপের এনলাইটেনমেন্ট (১৮শো শতককে ধরা হয়, যদিও মতভেদ আছে) এর সময় থেকেই ইউরোপীয়ানরা এই ‘এনলাইটেনমেন্টের’ বায়োলজিক্যাল ধারণা দিতে শুরু করেন। এদের মধ্যে বাফন (Buffon), গোবিনিয়া (Gobineau) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই বাফনকে ডারউইনের যোগ্য উত্তরসুরী হিসাবেও আখ্যায়িত করেন অনেকে বাফন প্রকৃতিবিদ, গণিতজ্ঞ ও মহাকাশবিজ্ঞানী হিসাবে পরিচিত তার প্রকৃতির ইতিহাস বেশ কয়েকটি ভাষায় রচিত হয় (Histoire naturelle), যার জন্য বিখ্যাত দার্শনিক রুশো, ভলতেয়ারের বিপরীতে তাকে সেই সময়ের সবচেয়ে পঠিত লেখক বলে স্বীকৃতি দেয়া হয় বাফন’স ল বিখ্যাত হয়ে আছে তার বায়োজিওগ্রাফীর প্রথম সূত্র হিসাবে এই বাফনকেই ডারউইনের প্রিকারসর বলা হয় জলবায়ুর পরিবর্তনই যে প্রাণীর ব্যাপ্তি ঘটায় সেব্যাপারে তিনি মতামত দেন 

ইউরোপের এই এনলাইটেনমেন্টের বায়োলজিক্যাল যে ধারণা তার গভীরে ছিল বর্ণবাদ। এই বর্ণবাদের সবচেয়ে আধুনিক উপাদান হল ‘বেল কার্ভ’ (Bell Curve) হার্ভার্ডের  মনোবিজ্ঞানী বিচার্ড জ়ে হার্নস্টেইন ও আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সিটিটিউটের বাষ্ট্রবিজ্ঞানের চার্লস মারে ১৯৯৪ সালে এই বেল কার্ভকে সামনে নিয়ে আসেনতার মতে বুদ্ধিমত্তা জিন, পরিবেশ, ব্যক্তির আয়-রোজগার, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদির উপর নির্ভশীল এর দ্বারা তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে সাদা ও কালোদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তার পার্থক্য আছে তার গবেষণালব্ধ ফলাফলে দেখিয়েছেন সাদাদের গড় বুদ্ধিমত্তা কালোদের চেয়ে বেশী সমাজের শ্রেণীবিভাগটাকে দেখিয়েছেন ক্লাস এর উপর ভিত্তি করে যার সবচেয়ে উপরে আছে ‘কগনিটিভ এলিট’রা যারা সবচেয়ে বেশী সুবিধাভোগী সাদাদের আধিক্য এই গ্রুপে যেখানে কালো ও ল্যাটিনরা কম আইকিউ থাকার জন্য অবস্থান করে নীচের স্তরেএমনকি পরিবেশ ও পরিস্থিত তাদের অনুকুলে থাকলেও কালো ও ল্যাটিনদের আইকিউ লেভেলের পরিবর্তন হয়নি

এই আইকিউ টেস্ট এর উদ্ভাবনে ধারণা দানকারী ব্যক্তিটি হলেন ডারউইনের চাচাতো ভাই স্যার ফ্রান্সিস গাল্টন গাল্টনই ডারউইনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে চরম বর্ণবাদী ‘ইউজেনিক্স’ এর স্থপতিতিনি মনে করতেন উচ্চবংশ ও নীচুবংশের মধ্যে পার্থক্যনির্ণয়কারী কোন হিসাব পদ্ধতি থাকা উচিত যা পরে ‘সাইকোমেট্ররী’ নামে পরিচিতি পায় ডারউইন পরিবার ইংল্যান্ডের উচ্চবংশীয় সমাজের হওয়ায় তার প্রতিনিধিত্বকারীও বটে গোবিনিয়ার মত গাল্টনও মনে করতেন উচ্চবংশীয় সাদারা অন্যান্য মানুষদের চেয়ে উন্নত এরপর ফরাসী মনোবিজ্ঞানী আলফ্রেড বিনেট ও সিমন, ইংলিশ মনোবিজ্ঞানী চার্লস স্পিয়ারম্যান বুদ্ধিমত্তা হিসাবের পদ্ধতি বাৎলে গেছেন ১৯১০ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউজেনিক্স আন্দোলন বিনেট-সিমন এর বুদ্ধিমত্তা পরিমাপকে গ্রহণও করেপরবর্তীতে আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী লুইস টারমান এই বিনেট-সিমন এর পরিমাপকে মার্জন করেন ও  জার্মান মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম স্টার্ণ এর ‘(intelligence quotient) ইন্টিলিজেন্ট কোটেন্ট (IQ)’ কে চালু করেন এই টার্মানও মনে করতেন ইউরোপের উত্তরের সাদা মানুষেরা অন্যান্য মানুষের চেয়ে উন্নত(চলবে)

তথ্যসুত্রঃ

১। http://en.wikipedia.org/wiki/Historical_definitions_of_race

২। http://en.wikipedia.org/wiki/Intelligence_quotient

৩। http://www.indiana.edu/~intell/bellcurve.shtml

১৭ comments

Skip to comment form

  1. 11
    darsh0nik

    ভালো লাগলো ভাই

    1. 11.1
      শামস

      আপনাকেও ধন্যবাদ।
       

  2. 10
    শামস

    @সাদাত,
    পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  3. 9
    সাদাত

     
    এই বিষয়গুলো আমার একেবারেই জানা ছিল না। অনেক নতুন বিষয় জানা হলো। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম..

  4. 8
    শামস

     
    @শাহবাজ নজরুল,
    আল বেরুনি বলছে ভুল বা এরর কে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম নির্ণায়ক হিসেবে নিয়ে এসেছেন। এর মানে কী এই যে, তিনিই ফলসিফিকেশন টেষ্টের প্রথম প্রস্তাবক।
    হ্যা, খুব ভাল প্রশ্ন। এমন হতে পারে কার্ল পপারের তত্ত্ব এসব পূর্বতন দ্বারা প্রভাবিত নয় অথবা প্রভাবিত। তবে পপারই একে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেন। গ্রীকদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের অনেক কিছুই একেবারে হারিয়ে যাওয়া থেক রক্ষা পায় মুসলিম বিজ্ঞানীদের কল্যাণে। তারা গ্রীকদের সেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারাকেতো রক্ষা করেনই তদুপরি সেগুলাকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যান, যা অনেকদিন যাবৎ অবহেলিত থেকেছে, সেরকম স্বীকৃতি পান নাই। খুব কম ইউরোপিয়ানই, মুসলিমদের এই অবদানের কথা স্বীকার করেছে। যাক এগুলোকে এখন কিছু উদঘাটন করা হচ্ছে। এখানে পাবেনঃ
    http://www.1001inventions.com/
    আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  5. 7
    শাহবাজ নজরুল

    শামস,
    বেশ ভালো লাগলো। ইউজেনিক্সের ইতিহাস সহ বিজ্ঞান ও দর্শনের পার্থক্য ভালোভাবে দেখিয়েছেন। আল বেরুনি বলছে ভুল বা এরর কে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম নির্ণায়ক হিসেবে নিয়ে এসেছেন। এর মানে কী এই যে, তিনিই ফলসিফিকেশন টেষ্টের প্রথম প্রস্তাবক।
     

    এর দ্ধারা তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে সাদা ও কালোদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তার পার্থক্য আছে

     
    এই ধারণা পোষণ করে এমন অনেক সাদা এই আমেরিকাতেই এখনো অনেক আছে। কিছুকাল আগে এক সাদা রেডিও টক শো হোস্ট আক্ষরিক অর্থে এই দাবীই করে বসেন। পরে এনিয়ে অনেক ঝামেলা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের ভিত্তিও ছিলো মনে হয় এই ইউজেনিক্সই। 
    ইবনে সিনার সময়কাল অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। 
     
    চালিয়ে যান। আপনার লেখা সবসময় প্রাণবন্ত।
     
    --শাহবাজ

  6. 6
    কিংশুক

    মেন্ডেলের বংশগতিবিদ্যা বিবর্তনবাদের বিরুদ্ধে যায় বলে রাশিয়াতে ম্যান্ডেলিয়ান জেনেটিক্স  আইন করে ১৯৪৮ সালে নিষিদ্ধ করা হয়।  শত শত বিজ্ঞানী যারা জেনেটিক্স নিয়ে কাজ করতেন তাঁদেরকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে (গুলাক)  রেখে নির্যাতন করে, অনাহারে মেরে ফেলা হয়। রাশিয়ার তৎকালীন বিখ্যাত বিজ্ঞানী নিকোলাই ভ্যাভিলভ (Nikolai Vavilov,) কে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দী করে অনাহারে রেখে হত্যা করা হয়।

    @ সরোয়ার সাহেব, হায় হায় রে, একি শুনাইলেন ভাই !!  এতদিন তো কেবল শুনতাম খ্রিষ্টান চার্চ কতৃপক্ষ, পাদ্রীরা কিছু বিজ্ঞানীদের উপর অত্যাচার করেছেন, চার্চ-রাজ কতৃপক্ষ মিলে কয়েক জনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে (খ্রিষ্টানদের সমতল পৃথিবী,  ছয় হাজার বছরের পৃথিবী তত্ত্বের বিরোধী হওয়ায়)  । আর নাস্তিকদের দাবী অনুযায়ী তারা বিজ্ঞানীদের সমজদার, রক্ষাকর্তা, ধারক-বাহক। আজ জানলাম যে, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে যায় বলে, একজন, দুইজন না দল বেঁধে বিজ্ঞানীদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন-হত্যা করা হয়েছে ! বিজ্ঞানের একটি শাখা যা মানুষের বাস্তব জীবনের অতি প্রয়োজনীয় ও প্রায়োগিক এবং প্রমানিত বৈজ্ঞানিক সত্য তা আইন করে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে ! নাস্তিকতা তো কম্যুনিষ্টদের মানুষের কাতার থেকে বের করে দিয়েছিলো দেখা যাচেছ। ভয়ংকর প্রতিক্রিয়াশীল ঐসব নাস্তিকদের ধিক! 

  7. 5
    শামস

    সরোয়ার ভাই, আপনার সংযোজনের জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
    বিবর্তনবাদ নাস্তিকদের এত প্রিয়, আর একে নাস্তিকতার সমার্থক হিসাবে দেখতে চায়, তার ইতিহাস জানা প্রয়োজন। আমার ধারণা, বাংলা নাস্তিকরা ডারউইনের বিবর্তনবাদের সেই ইতিহাসকে না জেনে ও হিসেবে না নিয়েই, শুধুমাত্র নাস্তিকতাকে সমর্থন করে এই সংকীর্ণ মানসিকতার জন্যই একে সমর্থন দিয়ে যায়। আর এই অতি উৎসাহী নাস্তিকদের মধ্যে বামপন্থীদের ব্যাপকভাবে পাবেন। কিন্তু নির্মম পরিহাস কি জানেন, বামপন্থীদের পূর্বতন কেবলা, সৌভিয়েত রাশিয়া ডারউইনের বিবর্তনবাদকে প্রথম দিকে গ্রহণ করে নাই, কারণ সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া মনে করত এটা তৎকালীন অভিজাত ইংল্যান্ডের শাসক শ্রেণীর একটি সাম্রাজ্যবাদী হাতিয়ার। বিবর্তনবাদকে বর্ণবাদী বলে মনে করত। রাশিয়ানরা ডারউইনকে বলত "বুর্জোয়া প্রকৃ্তিবিদ"। কোন এক পর্বে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হবে।
    ধন্যবাদ।

    1. 5.1
      সরোয়ার

      কিন্তু নির্মম পরিহাস কি জানেন, বামপন্থীদের পূর্বতন কেবলা, সৌভিয়েত রাশিয়া ডারউইনের বিবর্তনবাদকে প্রথম দিকে গ্রহণ করে নাই, কারণ সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া মনে করত এটা তৎকালীন অভিজাত ইংল্যান্ডের শাসক শ্রেণীর একটি সাম্রাজ্যবাদী হাতিয়ার। বিবর্তনবাদকে বর্ণবাদী বলে মনে করত।

      ইউজেনিক্স ভাবধারার কারণে মূলত সৌভিয়েত রাশিয়ার কম্যুনিষ্টরা ডারউইনের বিবর্তনবাদকে প্রথমদিকে সরাসরি সমর্থন করত না। কিন্তু বিবর্তনবাদ তত্ত্বকে ঘিরেই কম্যুনিষ্টদের ধ্যান-জ্ঞান গড়ে উঠে। এরাই কিন্তু সবচেয়ে কট্রর বিবর্তন মৌলবাদী! ডারউইনের অরিজিন অফ স্পিসিস প্রকাশিত হওয়ার পরপর কম্যুনিষ্ট    ভাবধারার স্থপতি কার্ল মার্কস ডারউইনের  বিবর্তনবাদ তত্ত্বকে সমর্থন করেন। এ নিয়ে কার্ল মার্কস, এঙ্গেলস ও লেনিন চিঠি চালাচালি করেন।       

      In 1866, Marx wrote to *Frederick Engels, that Origin of the Species contained the basis in natural history for their political and economic system for an atheist world.
      Engels, the co-founder of world communism with Marx and *Lenin, wrote to Karl Marx in 1859:

        "Darwin, whom I am just now reading, is splendid" (*C. Zirkle, Evolution, Marxian Biology, and the Social Scene, 1959, p. 85).

       In 1861, Marx wrote to Engels

      "Darwin’s book is very important and serves me as a basis in natural selection for the class struggle in history" (*op. cit., p. 86).

      At Marx’s funeral, Engles said that, as Darwin had discovered the law of organic evolution in natural history, so Marx had discovered the law of evolution in human history (*Otto Ruhle, Karl Marx, 1948, p. 366).

      >মেন্ডেলিয়ান জেনেটিক্সকে বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা প্রথম দিকে গ্রহন করেনি, কেননা এটা সেই সময়ের বিবর্তনবাদ তত্ত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করত বা বিপদে ফেলে দিত! এজন্য  চার্চের পাদ্রী মেন্ডেলের বংশগতি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ন আবিষ্কার অবহেলায় পড়ে ছিল অনেকদিন। পরবর্তীতে বিজ্ঞানীদেরকে তাঁর গবেষণালব্ধ বিষয়টিকে পুনঃআবিষ্কার করতে হয়!  এখনকার মত যুগে যুগে বিজ্ঞান পলিটিক্সের শিকার হয়েছে।

      রাশিয়ার কম্যুনিষ্টরা বিবর্তনবাদ তত্ত্ব হিসেবে ল্যামার্কিজমকে বেশী  গুরুত্ব দিত। এ তত্ত্ব অনুযায়ী একটি প্রাণী এমনকি তার জীবদ্দশায়তেই তার স্বভাব পরবর্তী বংশধরে স্থানান্তর করতে পারে (heritability of acquired characteristics)। বর্তমানের নিও-ডারউইনিস্টরা ল্যামার্কিজমকে তেমন পাত্তা না দিলেও ল্যামার্কিজমের  ভাবধারা এখনো অনেক বিজ্ঞানীরা এখনো পোষণ করেন। এজন্য আমার এই লেখাটি পড়তে পারেন-   মাছের লাফালাফিও ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদকে প্রমাণ করে!

      স্টালিনের সময়ে লাইসেংকু (Lysenko) সোভিয়েত বায়োলজির সবচেয়ে বড় পদে ছিলেন। তিনি বিবর্তনবাদ থিউরীর ব্যবহারিক প্রয়োগ করতে যেয়ে দেশে দূর্ভিক্ষ বাধিয়েছিলেন। বিবর্তনবাদ তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে যেয়ে কৃষি ব্যবস্থার প্রায় ধবংস করে ফেলেছিলেন। গমের ফলন বাড়াতে গিয়ে গমের বীজকে সাইবেরিয়াতে বরফে সংরক্ষন করেছেন। বৈরি পরিবেশে বীজকে  সংরক্ষণের কারণে নাকি গাছের জীবনীশক্তি

      মেন্ডেলের বংশগতিবিদ্যা বিবর্তনবাদের বিরুদ্ধে যায় বলে রাশিয়াতে ম্যান্ডেলিয়ান জেনেটিক্স  আইন করে ১৯৪৮ সালে নিষিদ্ধ করা হয়।  শত শত বিজ্ঞানী যারা জেনেটিক্স নিয়ে কাজ করতেন তাঁদেরকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে (গুলাক)  রেখে নির্যাতন করে, অনাহারে মেরে ফেলা হয়। রাশিয়ার তৎকালীন বিখ্যাত বিজ্ঞানী নিকোলাই ভ্যাভিলভ (Nikolai Vavilov,) কে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দী করে অনাহারে রেখে হত্যা করা হয়।

      1. 5.1.1
        শামস

        বামপন্থীদের বিবর্তনবাদের ব্যাপারে দৃষ্টিভংগী মিক্সড। যেমন,  জর্জ বার্ণার্ড'শ বামপন্থী ঘরণার এবং ইউজেনিক্স এর সমর্থক। সে হিটলারের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনও জানিয়েছিল। বলে নেয়া ভাল হিটলারের দলের নামও "ন্যাশনাল সোস্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি" আর সে নিজেকেও সমাজতন্ত্রী বলেও পরিচয় দিত। তবে তার চিন্তাধারাকে মিক্স মনে হবে। সে আবার আর্য রেসের শ্রেষ্ঠত্বকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করত। যাক, হিটলারের সাথে স্ট্যালিনের চিন্তাধারার অনেক মিল আছে। স্ট্যালিন সম্পর্কে কিছু পাওয়া যাবে এখানেঃ
        কোনপন্থায় বামপন্থা!-৩

        স্ট্যালিনের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। তার কিছু বিদঘুটে প্রজেক্টও ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিস্ট নেতা জে ফস্টারও ইউজেনিক্সকে সমর্থন করতেন। কিন্তু ওভারঅল কমিউনিস্টরা বিবর্তনবাদকে সাম্রাজ্যবাদী ধারণা হিসেবেই দেখত। তবে সম্ভবত ষাটের দশক থেকে তা কমে আসতে থাকে (সময়টা পরখ করে নিতে হবে)।

        1. 5.1.1.1
          সরোয়ার

          বামন্থীরা মূলত বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী কিন্তু মত পার্থক্য হচ্ছে বিবর্তনের ম্যাকানিজ নিয়ে। যেমন তাদের বিবর্তন প্রক্রিয়ায় ডারইউনিয়ান ন্যাচারাল সিলেকশনে সেভাবে আস্থা ছিল না। বিকল্প হিসেবে ল্যামার্কিজমকেই বেশী পছন্দ করত।

        2. শামস

          বামপন্থীদের ডারউইনের চেয়ে ল্যামার্ককেই মানত, সেব্যাপারে আপনার সাথে একমত।

  8. 4
    mdmasumbillah

    Ai VDO ta kamon

    Scientists presents Proof of Intelligent Design ! Charles Darwin -- Origin of Species -- Evolution Disproved, Refuted by Biologists and Scientists from Cambridge, Chicago, Munich universities ! Creation proved by Scientists ! Part 1 / 7

    1. 4.1
      শামস

      @mdmasumbillah,
      আপনি কোন ভিডিওর কথা বলছেন? সম্ভবত কোন ভিডিও যুক্ত করেছিলেন যা আসে নাই? তাহলে লিঙ্ক দিতে পারেন।
      তবে, বিবর্তনবাদ বৈজ্ঞনিকভাবে ভুল বা সৃষ্টিতত্ত্ব বৈজ্ঞনিকভাবে প্রমাণিত কিনা তা আমার এই লেখার বিষয় না।

  9. 3
    সরোয়ার

    বর্ণবাদী ইউজেনিক্স ভাবধারায় প্রভাবিত হয়ে গুয়েতেমালা ও টাসকিগিতে সিফিলিস টেস্ট করা হয়েছিল। বিস্তারিত জানতে পড়ুন-

    মানবতার মুখোশে গুয়েতেমালা ও টাসকিগিতে সিফিলিস টেস্ট!

  10. 2
    সরোয়ার

    বিজ্ঞান, বিবর্তনবাদ ও নাস্তিকতার  মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হলে পড়তে পারেন এই লেখাটি-
    বিজ্ঞান, বিবর্তনবাদ ও নাস্তিকতা

  11. 1
    সরোয়ার

    যারা সায়েন্টিফিক রেসিজম সম্পর্কে জানতে চান তারা বিসিসি ডকুমেন্টারী দেখতে পারেন। ডারউইনের আগে থেকেই সমাজে রেসিজম চালু ছিল, কিন্তু এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল না। ডারউইন নিজে দাস প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু তাঁর অরিজিন অব স্পিসিস রেসিজমকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দেয়! এটার প্রমাণ দেখতে পারেন বিবিসি’র ভিডিওতে (নীচের ভিডিওটি ৫৮ মিনিটের। শুধুমাত্র মাঝের ২৮-৩০ মিনিট, অর্থাৎ ২ মিনিট দেখলেই বুঝা যাবে)। মানুষের বিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে মাথার খুলির যথেচ্ছা ব্যবহার বৈজ্ঞানিক জার্নাল ও জনপ্রিয় মিডিয়াতে দেখা যায়। শুধুমাত্র আংশিক মাথার খুলীর উপর ভিত্তি করেও মানুষের বিবর্তন ব্যাখ্যা করা হয়। এই মাথার খুলীর ব্যবহার সায়েন্টিফিক রেসিজমে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছিল। বিবিসি’র ভিডিওতে সব জানা যাবে। এই বিবর্তনবাদের দোহাই দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার এবোরিজিনালদেরকে কিভাবে অত্যাচার করা হয়েছে ভিডিওতে পাওয়া যাবে। হাজার হাজার বিজ্ঞানীরা এসব কাজে জড়িত ছিলেন।

    বিবিসি ডকুমেন্টারীর ৩০ মিনিট থেকে শেষ পর্যন্ত ডারউইনিয়ান ইভুলেশন নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে। সমাজে ডারইউনিয়ান বিবর্তনবাদ তত্ত্বে ব্যবহার যে কত ভয়ানক ঘটনার জন্ম দিয়েছিল, তার সবগুলোই ডকুমেন্টারীতে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি ভারত উপমহাদেশে ইংরেজ রেসিয়াল বিজ্ঞানীরা দূর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে ন্যাচারাল সিলেক্টশনও বাস্তবায়নে চেষ্টা করেছে। এই ভিডিওটা অনেকের জন্য চিন্তার রাজ্য খুলে দিতে পারে।

    Scientific Racism: The Eugenics of Social Darwinism- বিবিসি ডকুমেন্টারী

    At least in England and Germany, the direction this interpretation would take was undoubtedly influenced by Darwin’s (1859) publication of The Origin of Species and the subsequent work of Huxley (1864) and Haeckel (1868) on the origin of Homo sapiens and racial variation. One of the central themes to emerge from this combined research effort was that the homeland of the genus Homo was in Africa, from which people had eventually spread and colonised the world.

    বিস্তারিত জানতে পড়ুন-
    Human origins and antiquity in Australia: an historical perspective
    http://www-personal.une.edu.au/~pbrown3/AusOrigins.html

Leave a Reply

Your email address will not be published.