«

»

Mar ১১

ডারউইনের বিবর্তনবাদ- কিছু পর্যবেক্ষণ-২

[পর্ব-১]
পূর্ববর্তী লেখার ধারাবাহিকতায় ইউজেনিক্স (Eugenics) এর উপর সংক্ষেপে একটু আলোকপাত করা হবে। বিবর্তনবাদের প্রতিষ্ঠাতা চার্লস ডারউইনের কাজিন ফ্রান্সিস গাল্টন বর্ণবাদী ইউজেনিক্স মতাদর্শের গোড়াপত্তন করেন, যার দ্বারা ডারউইন নিজে প্রভাবিত ছিলেন এবং তার পরিবার এ আন্দোলনে বিশেষ অবদান রাখেন। এই ইউজেনিক্সের ইতিহাস অমানবিকতা ও অবিচারে ভরা। ইউজেনিক্স মূলত একটি বৈজ্ঞানিক আন্দোলন, সহজভাবে বললে এর লক্ষ্য যোগ্যতার বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা ও অযোগ্যকে বিনাশ করা। মানবিকতার বিচারে খুব করুণ শোনায়। অবশ্য মানবতাবাদী বিবর্তনবাদীদের কথা ভিন্ন, তাদের মানবতার সংজ্ঞা আলাদা! আমেরিকার ইউজেনিক্স সোসাইটি (AES) এ ব্যাপারে কৌশলী ও অগ্রদূত। আমেরিকার ইউজেনিক্স এর অন্যতম প্রবাদপ্রতীম মার্গারেট সেংগার এর মতে, “ইউজেনিক্স এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের সভ্যতার মূল্য আলোকপ্রাপ্ত ও বুদ্ধিমানদের কাছে পরিষ্কার হচ্ছে………:

The eugenics and civilization value of birth control is becoming apparent to the enlightened and the intelligent. . . .

উল্লেখ্য মার্গারেট সেংগার একজন কট্টর ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদী। তিনি একটি প্রজেক্ট নেন যা ‘নিগ্রো প্রজেক্ট’ নামে পরিচিত, পরবর্তীতে আমেরিকান জন্মনিয়ন্ত্রণ লীগ (ABCL) রূপে পরিগণিত হয়। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল কালোদের (যাদেরকে নীচুস্তরে ধরত) জন্মনিয়ন্ত্রণ করা যাতে এক সময় এরা পুরোপুরি হারিয়ে যায়। তার এই বর্ণবাদী দৃষ্টিভংগীর জন্য ১৯২৯ সালে তাকে সাদাদের বর্ণবাদী সন্ত্রাসী দল KKK-এর অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেংগার তার কাজের জন্য ফেডারেল সরকারের সমর্থন পেতেন। তাদের হিসাব মতে আনুমানিক ৬০,০০০ লোক এই অমানবিক জন্মশুদ্ধীকরণের বলি হয়। শুধু্মাত্র কালোদের ব্যাপারেই না, অন্ধ, বধির ও সর্বোপরি অক্ষম প্রতিবন্ধীদের প্রতিও ইউজেনিক্সরা একইরকম বর্ণবাদী ধারণা পোষণ করত, আর‌ তাদের এই অমানবিক কার্যকলাপকে চালিয়ে দিত প্রাকৃতিক আইন বলে।

১৯১৫ সালেরে ১২ নভেম্বর সকাল ৪:০০ ঘটিকায় শিকাগোর জার্মান আমেরিকান হাসপাতালে আন্না বলিংগার নামে একটি বাচ্চার জন্ম হয়। বাচ্চাটি কিছুটা বিকৃত ও ইনটেস্টিনাল ও রেকটাল অস্বাভাবিকতা নিয়ে জন্ম নেয়। হাসপাতালের প্রধান ডা: হাইসেলডেন বাচ্চাটাকে বাঁচার যোগ্য মনে করলেন না এবং তাকে চিকিৎসাও দিলেন না। বলিংগারের এক আত্নীয় ক্যাথেরিন ওয়ালশ বাচ্চাটাকে বাঁচানোর আকুল আবেদন করলেন। তার মতে বাচ্চাটা স্বাভাবিক ও সুন্দর। ডা: হাইসেলডেন এর মতে বাচ্চাটাকে বাঁচতে দেয়া মানে এক বিরাট অপরাধ যা প্রকৃতির দ্বারা জায়েজ করার চেষ্টা করেন। তার মতে:

I should have been guilty of a graver crime if I had saved this child’s life. My crime would have been keeping in existence one of nature’s cruelest blunders.

ডা: হাইসেলডেন এর নীতিবোধের উৎস ডারউইনের বিবর্তনবাদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা ‘ইউজেনিক্স’। এ ঘটনা তাকে পত্রিকায় ব্যাপক পরিচিতি দেয়। তার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হলিউডের চিত্র পরিচালক জ্যাক লেইট ১৯১৭ সালে ‘দ্যা ব্ল্যাক স্ট্রক’ (The Black Strok) নামে ছবি করেন যাতে জন্মগত ত্রুটিপূর্ণদের মেরে ফেলার ব্যাপারে প্রচারণা চালানো হয়, এর বিজ্ঞাপনটা ছিল: “জন্মত্রুটিপূর্ণদের (প্রতিবন্ধীদের) মেরে ফেল, জাতিকে বাচাও এবং ছবিটি (‘দ্যা ব্ল্যাক স্ট্রক’) দেখ”

Kill Defectives, Save the Nation and See ‘The Black Strok’.

ভাবুনতো আপনার পরিবারে একজন ত্রুটিপূর্ণ সদস্যের প্রতি কি আপনি বেশী সদয় হবেন নাকি মেরে ফেলাটাকে মানবিক কাজ মনে করবেন। আজ যারা ডারউইনের বিবর্তনবাদকে সমর্থন করছে তারা কোন্ ধরণের মানবিকতার কথা বলছে, যে তত্ত্বের ভিত্তি এইরকম অসংখ্য অমানবিক ও ঘৃণিত কাজ দ্বারা কলঙ্কিত! মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ, শ্রেণীবিভাগ ও অবিচার তার উপরই দাঁড়িয়ে আছে ডারউইনের বিবর্তনবাদ। আর এটাকে চালানো হতো বিজ্ঞানের নামে প্রাকৃতিক আইন বলে। (চলবে…)

Leave a Reply

Your email address will not be published.