«

»

Aug ০৪

সমকামিতার অপর পৃষ্ঠা – পর্ব ১

ডাঃ আতিক ভাই। আমার বন্ধু ,আমার শিক্ষক। আমি তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম সদালাপের একটি পোস্টে কমেন্ট করার জন্য। তিনি অনুরোধ রেখেছিলেন। কমেন্ট করতে গিয়ে আস্ত পোস্টের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। তিনি জানালেন তিনি লিখবেন তাঁর জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা থেকে। সদালাপের পাঠকদের জন্য তিনি সমকামিতা নিয়ে লিখেছেন। কিন্তু তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন, আমার একাউন্টের মাধ্যমে পোস্টটি দেবার জন্য। এবার আমাকে তার অনুরোধ রাখতে হয়। তবে পোস্টের পুরা কৃতিত্ব তাঁকে একাই দিচ্ছি না। আতিক ভাই তরকারী রেধেছেন, তাতে লবন আর মসলা দিয়ে স্বাদ কিছুটা হলেও বাড়িয়েছি আমি। আমার আর আতিক ভাইয়ের যৌথ প্রযোজনার পোস্টে সবাইকে আমন্ত্রন।

 

সমকামিতা—মানুষ বনাম পশু

মানুষের জন্য সমকামিতা কি ‘স্বাভাবিক’ ? নিঃশন্দেহে একটি মৌলিক প্রশ্ন। ঠিক যেমন মানুষ কেন ‘মানুষ’ প্রশ্নটি বা মানুষ কেন ‘পশু’ নয় প্রশ্নটি।অথবা মানুষ আর প্রাণীর মধ্যে কি কোন অনতিক্রম্য ব্যবধান আছে?  ছোট বেলায় কবিতা পড়েছি-

“কুকুরের কাজ কুকুরে করেছে কামড় দিয়েছে পায়,
তা ব'লে কুকুরে কামড়ানো  কি রে মানুষের শোভা পায় ?”

একসময় কবি মানুষ আর পশুর মধ্যে আচরনের ব্যবধান দেখিয়েছিলেন। বলেছিলেন মানুষের জন্য প্রাণীর মত একই আচরন শোভনীয় নয়। আর এই ব্যবধানই আসলে মানুষকে মানুষ আর পশুকে পশুর স্থানে রাখে।  

মানুষের সমকামিতাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেবার পেছনে অনেক বড় একটা যুক্তি হচ্ছে , বিভিন্ন শ্রেনীর পশু-পাখির মধ্যে সমকামী আচরন খুঁজে পাওয়া। এটা অবশ্যই ঠিক যে বিভিন্ন শ্রেনীর প্রাণীদের মধ্যে সমকামী আচরনের অনেক উদাহরন থাকতে পারে। তবে পশু-পাখির যৌন আচরনের সাথে মানুষের যৌন আচরন মিলিয়ে ফেলাটা বিরাট একটা ভুল। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অনেক অনেক উচ্চস্তরে থাকা মানুষের সাথে পাশু-পাখির যৌন আচরন আসলে তুলনা করা চলে না।  মানুষের সামাজিক আর পারিবারিক জীবনের একটি লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য থাক। সবচেয়ে বড় কথা মানুষ সবসময় তার লজিক ব্যবহার করে সঠিক-ভুল, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করতে পারে।

কিন্তু পশু-পাখি তেমন নয়। Animal society is mainly based ondinstincts or reflex behaviour। কেবল মাত্র খাদ্যগ্রহন আর সন্তান উতপাদনের মধ্যে পশু জীবনের শুরু আর শেষ।

Every animal lives upon his physical powers whereas human society has a wonderful system of law and order।The degree of social awareness is extremely dim. They lack the ability to perceive logical relations between things and the power of integrating (not merely associating) various order of things through mental synthesis.

প্রাণী জগতের মধ্যে সত্যবাদীতা, ন্যায়পরায়নতা , দায়িত্ববোধের কোন প্রশ্ন নেই। তাদের মধ্যে উচ্চস্তরের ভাবের আদান-প্রদান বা ভাষা ব্যাবহারের কোন ক্ষমতা নেই।

 

মানুষ আর প্রানিজগতের মধ্যে দুটি মৌলিক পার্থক্য আছে—

প্রথমত ,মানুষ অত্যন্ত উচ্চস্তরের সামাজিক জীব, আর মানুষের সামাজিক বিকাশের জন্য একটি পারিবারিক অবকাঠাম যেমন মা-বাবা, ভাই-বোন, চাচা-খালা-ফুফু ইত্যাদি সম্পর্কগুলো একটা গুরুত্বপুর্ন নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। । একজন মানব শিশুর কাছে তার মায়ের উঞ্চ আলিংগন আর বাবার স্নেহের চাইতে বড় কিছু আর নেই। মানুষের জন্য  তার মা-বাবা আর পরিবার একটা আইডেন্টিটি (identity) বা পরিচয় হিসেবে কাজ করে । কিন্তু প্রানিজগতে সত্যিকার অর্থে স্থায়ী কোন পারিবারিক অবকাঠাম নেই। একটি পশুর বিকাশের জন্য পারিবারিক কাঠাম থাকাটা খুব জরুরী কিছু নয়।

দ্বিতীয়ত, মানব সমাজ যে কোন আচরনের একটা নৈতিক মানদন্ড নর্ধারন করতে পারে। চোর চুরি করলে, বা কেউ মিথ্যার কথার আশ্রয় নিলে – একটি নৈতিক মানদন্ডের কারনে বুঝতে পারে সে অন্যায় করেছে। এটাকে ইংরেজীতে বলে – মরালিটি (morality). আর এই Morality মানুষ থেকে প্রাণীকে সম্পুর্ন আলাদা করে ফেলেছে। একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই-  আমাদের বাসায় আমার ভাই খুব আদর করে একটা বিড়াল পুষতেন। কাল রং বলে নাম দেয়া হয়েছিল- ব্ল্যাক টাইগার। ব্ল্যাক টাইগারকে সময়মত তার পছন্দের খাবার আমার ভাই সরবরাহ করা হত। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে সে সুযোগ পেলেই পাতিলের দুধ বা রান্না ঘরের মাছ চুরি করতে ছাড়ত না। এ নিয়ে ভাইয়ার সাথে আমার মায়ের প্রায়ই কঠিন বাক্য বিনিময় হত । কিন্তু আমরা কখনই ব্ল্যাক টাইগারকে কোন শাস্তি দেই নি, কারন খুব ভালভাবেই বিড়ালের স্বভাব আমাদের জানা।

বেড়াল যখন আপনার ঘড় থেকে দুধ চুরি করে খায়, তখন আপনে বেড়ালকে চোর ভাবলেও সে কিন্তু নিজেকে চোর ভাবে না। বাঘ যখন বনের একটি সুন্দর হরিনকে হত্যা করে তাকে চিবিয়ে খায়, তখন সে কিন্তু নিজেকে ঘাতক মনে করে হীনমন্যতায় ভোগে না। ইঁদুর যখন ক্ষেতের ফসল কেটে কৃষকের সর্বনাশ করে , তখন কিন্তু ইদুরের মধ্যে কোন অপরাধবোধ কাজ করে না। এনাকন্ডা সাপ আস্ত একটি মানুষ খেয়ে ফেলার উদাহরন আছে, এক্ষেত্রে এনাকন্ডা সাপ নিশচয়ই নিজেকে অপরাধী ভাবে না। কারন প্রাণী জগতে এসব আচরন ইনবর্ন বা জন্মগত। তাই প্রাণীদের আচরন আর সভ্য মানব সমাজের আচরনকে এক করে দেখার কোন অবকাশ নেই। প্রাণিজগতে সমকামিতার ভূড়ি ভূড়ি উদাহরন থাকতে পারে তাই বলে সেটি মানুষের জন্যও একটি স্বাভাবিক আচরন এমন যুক্তির প্রয়োগ করা মানে মানুষকে পশুসমাজের আরও অন্যান্য আচরনের সাথে গুলিয়ে ফেলার মত বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়।

প্রাণিজগত আসলে Inborn pattern of behaviour অনুসরণ করে। এটাকে Overt বা অন্যভাবে innate behaviour ও বলা যায়। ডিকশোনারিতে innate behaviour এভাবে সংগায়িত করা হয়েছে-

originating in or arising from the intellect or the constitution of the mind, rather than learned through experience।

সূত্র  সূত্র

অর্থাৎ innate behaviour কোন অভিজ্ঞতালব্ধ আচরন নয় বরং একধরনের বংশপরম্পরায় অর্জিত জ্ঞান। একটি প্রাণী থেকে তার সন্তানের শরীরে যেভাবে Physical property  যেমন রং, শিং এর আকৃতি , লেজের  ধরন ইত্যাদি বাহিত হয় ঠিক তেমনি  innate behaviour গুলো কিন্তু বাহিত হয়। এর জন্য কোন প্রশিক্ষণের বা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। যেমন, মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য ফুলের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া বা মাকড়শা,পাখি, পিপড়া বসবাসের জন্য সম্পুর্ন নিজস্ব পদ্ধতিতে ঘর বানানো innate behaviour এর উদাহরন।ব্যাপারটা অনেক কম্পিঊটার প্রোগ্রামের মত। বা আরেকটু এগিয়ে বলা যায় রবোটের মত। রবোটে ইনপুট করা প্রোগ্রামের বাইরে নতুন কিছু করার ক্ষমতা রবোটের থাকে না। ঠিক তেমনি প্রাণিজগতে বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত জ্ঞানের বাইরে নতুন চিন্তা ভাবনা বা ক্রমাগত নিজেকে পরিবর্তন করার কোন ক্ষমতা রাখে না। ১০০ বছর আগের মানুষ আর ১০০ বছর পরের মানূষের আচার আচরন আর অভ্যাসের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকলেও, ১০০ বছর আগের মাকড়শা, টিকটিকি, ঘোড়া, তিমি মাছের আচরনে তেমন বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া যাবে না।

 

মানুষের আচার-ব্যবহার হচ্ছে Learned behaviour বা অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞানের এর প্রকিষ্ট উদাহরন। মানুষ প্রতিনিয়ত তার চারপাশের পরিবেশ থেকে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে, আর তার আচরনটাও নির্ভর করে পরিবেশ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার উপর। বস্তির আটাআটি পরিবেশে বড় হওয়া একটি শিশু আর একটি শিক্ষিত ধনী পরবারের শিশুর আচরন একই অঞ্চলে বসবাস করলেও কখনই এক হবে না। প্রথিবীর ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠা মানুষের রং, পছন্দ-অপছন্দ , পোশাক, বাসস্থানের ধরন, খাওয়া-দাওয়ার মধ্যে কিন্তু বিস্তর পার্থক্য আছে। চীনের বাচ্চাদের কাছে সাপের স্যুপ (Snake soup) খুব প্রিয়  । কিন্ত বাংলাদেশের একটি বাচ্চাকে লাখবার চেষ্টা করলেও সাপের স্যুপ খাওয়াতে পারবেন না। সামনে আনলে স্রেফ বমি করবে। থাইল্যান্ডের ফুকেটে তেলাপোকার ফ্রাইয়ের দারুন কদর। শামুকের স্যুপও বেশ চলে  । এ সবই হচ্ছে মানুষের Learned behaviour বা পরিবেশ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের ফলাফল। অন্যদিকে ভারত মহাসাগর আর প্রশান্ত মহাসাগরের নীল তিমি মাছের খাবারের অভ্যাসের মধ্যে খুব বেশী পার্থক্য নেই। কিম্বা বাংলাদেশের সুন্দর বনের বাঘ আর দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান জংগলের বাঘের মধ্যে খাদ্য আর আচরনগত খুব বেশী পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবে না।    শিখতে পারে আমরা যদি innate behaviour আ Learned behaviour এর মধ্যে একটা স্কেল কল্পনা করি তাহলে জীব জগতের বেশীরভাগ সদস্য থাকবে এক প্রান্তে আর অপর প্রান্তে থাকবে মানুষ। তবে কিছু কিছু প্রাণীর মধ্যে যে Learned behaviour এর উদাহরন নেই এমন নয়। শিম্পাঞ্জী, কুকুর ,ঘোড়া, ডলফিন মাছ সহ বেশ কিছু প্রাণী আছে যাদের মধ্যে Learned behaviour এর উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায় এবং তাদেরকে সার্কাস , সিনেমা বা হলিউডের মুভিতে অহরহ দেখতে পাওয়া যায়। সব দেশের আর্মি বা পুলিশ বাহিনীতে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার নতুন কিছু নয়। কিন্তু এসব প্রাণীর IQ level  বা Intelligence Quality মানুষের চাইতে বেশ কিছুটা কম এবং অবশ্যই মানুষের সাথে তুলনা করা চলেনা।

এখন একটা প্রশ্ন চলে আসতে পারে, পশু-পাখীর IQ level  আসলে কত? IQ level কে একটি স্কেলের আকারে প্রকাশ করা হয় এবং গড়পরতায় সাধারন মানুষের IQ level  হচ্ছে ১০০। আমরা নীচের টেবিলটা একটু লক্ষ্য করি

Retarded

Below average

Average

Above average

Profound

Severe

Moderate

Mild

"Borderline retarded"

 

 

 

 

 

"Gifted"

<20

20-34

35-49

50-69

70-79

80-89

90-99

100-109

110-119

120-129

130-139

 

উপরের টেবিল থেকে দেখা যাছে গড়ে সাধারন বুদ্ধিমত্তার মানুষের IQ level  ৯০ থেকে ১০৯ এর মধ্যে। মানুষের ক্ষেত্রে যাদের IQ level  ৮০ এর নীচে হলে তাকে বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী হিসেবে বিবেচন করা গয়।     যাদের IQ level  ৭০ থেকে ৭৯ এর মধ্যে তাদেরকে Borderline retarded বা স্বল্প মাত্রার বুদ্ধি –প্রতিবন্ধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। IQ level  সম্পর্কে কিছুটা ধারনা পাওয়া যাবে এই সাইট থেকে। 

যাদের IQ level  ৩৫ থেকে ৪৯ এর মধ্যে তাদেরকে ধরা হয় Moderately  retarded বা মধ্যম শ্রেণীর বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী। এখন IQ level  ৩৫ থেকে ৪৯ এর মধ্যে বলতে আসলে কি বোঝায়?—

Can learn simple life skills and employment tasks with special education. May be employed in special settings, and achieve some independence. Often socially immature. Self-awareness – having an inner image of self, realizing that one is a person separate from the others around one – may exist from here on, but is not guaranteed to exist as it depends on more than intelligence alone. The most intelligent animals, such as some chimpanzees, bonobos, parrots, and dolphins, are in this range.

মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রাণিজগতের সবচেয়ে বুদ্ধিমান শিম্পাঞ্জী, বনবো, টিয়া পাখী আর ডলফিন মাছের IQ level  ৩৫ থেকে ৪৯ এর মধ্যে । অর্থাৎ মানুষের সাপেক্ষে সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণিদের বুদ্ধির লেভেল মধ্যম শ্রেণীর বুদ্ধি-প্রতিবন্ধির সমান। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রানিজগতের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণিদের অনেক চেষ্টা করেও শিশুশ্রেনীর একটা মাত্র বইও আত্বস্থ করান সম্ভব নয়।

ap

 ছবি ঃ প্রাণীদের আই কিউ এর লেভেল একজন বোকাসোকা মানুষের চাইতেও কম।
 

আগ্রহী পাঠকেরা   Project Nim নিয়ে পড়তে পারেন এই লিংকে 

যেখানে  Nim Chimpsky (November 19, 1973 – March 10, 2000) নামের একটি শিম্পাঞ্জীকে এক্সপেরিমেন্টালি একদম শৈশব থেকে তার পরিবেশ থেকে সম্পুর্ন আলাদা করে ফেলা হয় এবং দীর্ঘ ২৫ বছর শুধুমাত্র মানুষের সাথে তাকে রেখে তাকে ভাষা শেখানোর চেষ্টা করা হয়। যেহেতু শিম্পাঞ্জীর সাথে মানুষের জেনেটিক মেকআপের প্রায় ৯৮.৭% মিল আছে তাই এখানে চেষ্টা করা হয়েছিল কিভাবে ইভ্যুলিউশানারী ধাপে শিম্পাঞ্জী থেকে মানুষ ভাষা আয়ত্ব করেছে সেটা দেখার। কিন্তু এই দীর্ঘ এই এক্সপেরিমেন্টে কোন গ্রহনযোগ্য ফলাফল বেরিয়ে আসে নি।

ak

ছবিঃ Nim Chimpsky নামের আই বানরটিকে একদম শিশুকাল থেকে মানুষের সাথে রেখে ভাষা শেখানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোন আশাপ্রদ ফলাফল পাওয়া যায় নি। সূত্র

 

পশু-পাখির যৌন আচরনঃ

প্রাণীজগতের বেশীরভাগ সদস্যই নির্দৃষ্ট যৌন একটি আচরন অনুসরন করে না।  তাদের মধ্যে যৌন আচরনের ভেরিয়েশন অনেক বেশী। একই প্রাণী জীবনের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন যৌন আচরন করতে পারে। মোটা দাগে প্রাণিজগতের যৌন জীবনকে কয়েক প্রকারে ভাগ করা যায়–  যেমন–

সূত্র 

  • Monogamy:  এখানে একজন পুরুষ একজন স্ত্রীর সাথে জোড় বানায়("pair bonding" ) এবং তার সাথে মিলিত হয়।এটি আপাত একটি নর্দোষ সম্পর্ক মনে হলেও বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। কারন প্রত্যেক মেটিং সিজনেই(meting season)   জোড় পরিবর্তন করা হয় আর এই জোড় বা পেয়ারিং মানুষের মত কখনই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বরং একটি প্রাণীকে তার জীবনে বহুবার নতুন নতুন জোড় বানাবার প্রক্রিয়ার মধ্যে ব্যাস্ত থাকতে হয়।
  •  Polygamy: এটি আবার তিন ধরনের
    • Polygyny  একজন পুরুষ দুই বা ততোধিক স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় বা অন্যভাবে বললে কয়েকটি নির্দৃষ্ট স্ত্রী প্রাণী কেবল একজন নির্দৃষ্ট পুরুষের সাথেই যৌন সম্পর্ক রাখে। ঠিক যেমন মানুষের মধ্যে অনেক পুরুষই একাধিক স্ত্রীর সাথে ঘর সংসার করে। কিন্তু এক্ষেত্রেও মানুষের সাথে প্রাণিজগতের ফারাকটা আকাশ-পাতালের মতই বেশী। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় পুরুষ প্রাণীটিকে অন্যকোন পুরুষ প্রাণী তাড়িয়ে দেয় বা হত্যা করে ফেলে এবং তার হেরেমের মেয়েদের মালিক বনে যায়। কিন্তু আগের স্বামীকে হারিয়ে নিশ্চয় চাইলেই স্ত্রীরা খুনী পুরুষ প্রাণীর সাথে যৌন মিলন ঘটাবে না। তাই নতুন পুরুষ প্রাণীটি বেছে নেয় কিছু ভয়াবহ আর অমানবিক রাস্তা। সেটি হচ্ছে আগের সংসারের ছোট ছোট বাচ্চাগুলিকে মেরে ফেলা আর গর্ভবতী স্ত্রীদের নানাভাবে গর্ভপাতে বাধ্য করা। জানি বিশ্বাস করাটা কঠিন। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রাণীদের মধ্যে একটু উন্নত বুদ্ধিমত্তার প্রাণী যেমনঃ সিংহ, ঘোড়া, বেবুনদের মধ্যে এরকম যৌন অভ্যাসের প্রচলন আছে। দেখুন এখানে।
  •  
    • Polyandry: এক্ষেত্রে একজন স্ত্রী প্রাণী দুই বা ততোধিক পুরুষের সাথে মিলিত হয়। ঠিক যেমন যৌন পল্লিতে একজন নারীর সাথে অনেক পুরুষের যৌন সম্পর্ক থাকে। হয় 
    • Polygynandry: মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি প্রাইমেট শিম্পাঞ্জী আর বনবোদের মধ্যে এই যৌন আচরনের অভ্যাস দেখা যায়। এক্ষেত্রে একাধিক পুরুষ একাধিক স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়। এখানে যৌন মিলনের ক্ষেত্রে পুরুষ বা নারী কেউই নির্দিষ্ট সংখ্যা মেনে চলে না। এরা নিজেদের মধ্যে গ্রুপ বা দলের মত বসবাস করে এবং একই গ্রুপের স্ত্রী আর পুরুষ একজন অন্যজনের সাথে যৌন মিলন ঘটায়।
    • ak1 ছবি ঃ বেবুন, শিম্পাঞ্জীদের অনির্দৃষ্ট বহুগামী আচরনের অভ্যাস দেখা যায়।

 

উপরের আলোচনা থেকে আশা করি আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে প্রাণিজগতের যৌন আচরন আসলে মানব জগতের জন্য অনুসরনীয় কিছু নয়। বরং বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাণীদের মত আচরন করা মানুষের জন্য অনৈতিক হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু সমস্যা হবে তখন মানুষ নিজেকে ‘মানুষ’ না ভেবে প্রাণিজগতের একজন সদস্য মনে করতে থাকে । আসলে ডারউইনবাদ মানুষ আর প্রাণীর মধ্যে ব্যবধানকে অস্মীকার করেছে। ‘’মানুষ আসলে সতন্ত্র কোন সত্ত্বা নয় বরং উন্নত ধরনের বুদ্ধিমান প্রাণী’’ একথাটিই হচ্ছে বিবর্তনবাদের মূল ভাষ্য।  তাই বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় প্রাপ্ত প্রাণীদের যে কোন আচরন মানুষের জন্য এডাপ্ট করাটা বিবর্তনবাদীদের জন্য কোন বাধা বা নৈতিক ইস্যু দেখা দেয় না। বরং মানুষ আর প্রাণীর মধ্যে কোন বিভাজন রেখা টেনে দেয়াটাকে বিবর্তনবাদের বিপক্ষের যুক্তি হিসেবে দেখা হয়।

আজ এ পর্যন্তই। পরবর্তী পর্বগুলোতে নতুন কিছু লিখার আশা রাখছি।

৯ comments

Skip to comment form

  1. 3
    শাহবাজ নজরুল

    সিরিজটা আশা করি সার্বিক হবে -- শুরুটা বেশ ভালো হয়েছে। 

    একটা প্রশ্ন রাখতেই হচ্ছে -- পশুদের মধ্যে যে সমকামিতার প্রমান দেখা যায় -- এরা কি এক্সক্লুসিভলি সমকামী (Homosexual) নাকি এরা মূলত উভকামী (Bisexual)? যদি এক্সক্লুসিভলি সমকামী গোত্র পশুকূলের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় তবে কি তা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে ব্যর্থ প্রমান করেনা??? কেননা এক্সক্লুসিভলি সমকামী গোত্র তো জিন সঞ্চালন করতে পারবে না পরবর্তী প্রজন্মে -- তাহলে প্রকৃতিক নির্বাচনের চাপে তো এই সমকামী জিনের ট্রেইট প্রকৃতি থেকে পুরোপুরি মুছে যাবার কথা!!! নাকি ভুল বললাম?

     

    1. 3.1
      এস. এম. রায়হান

      কিছু মনে না করলে নিচের অংশে একটু ইন্টারফেয়ার করছি।

      যদি এক্সক্লুসিভলি সমকামী গোত্র পশুকূলের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় তবে কি তা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে ব্যর্থ প্রমান করেনা??? কেননা এক্সক্লুসিভলি সমকামী গোত্র তো জিন সঞ্চালন করতে পারবে না পরবর্তী প্রজন্মে – তাহলে প্রকৃতিক নির্বাচনের চাপে তো এই সমকামী জিনের ট্রেইট প্রকৃতি থেকে পুরোপুরি মুছে যাবার কথা!!! নাকি ভুল বললাম?

      প্রথমত- নাস্তিক ও বিবর্তনবাদীরা তো আবল-তাবল অনেক কিছুই দাবি করে। কিন্তু তাদের কথার উপর ভিত্তি করে কোনো বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছা যৌক্তিক হবে না নিশ্চয়।

      দ্বিতীয়ত- আপনি সম্ভবত ব্যাপারটাকে যেভাবে দেখছেন তা হচ্ছে সমকামীরা যদি বিপরীত লিঙ্গের সাথে জিন আদান-প্রদান না করে, তাহলে প্রজননের অভাবে তারা (সমকামীরা) বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কথা। ব্যাপারটা মোটেও সে’রকম কিছু নয়। সমকামীরা বরং বিষমকামী পরিবার থেকেই আসে, আর এজন্যই হাজার হাজার বছর ধরে তাদের অস্তিত্ব আছে। এর পরও যদি মনে কোনো রকম সংশয় থেকে থাকে তাহলে ট্র্যান্সজেন্ডারদের ব্যাপারটা একবার ভেবে দেখুন। হাজার হাজার বছর ধরে কিন্তু তাদেরও অস্তিত্ব আছে যেহেতু তারাও বিষমকামী পরিবারেই জন্ম নেয়।

    2. 3.2
      শামসুল আরেফিন

      আসলে প্রাণিজগতের সমকামিতার ব্যাপারটি কারো কাছেই খুব স্পষ্ট নয়। বায়োইথিক্সের প্রফেসর ডঃ আন্তোনিয় পারডো প্রাণীদের সমকামিতাকে স্মীকার করেন নি। তিনি বলেছেন--

      Properly speaking, homosexuality does not exist among animals…. For reasons of survival, the reproductive instinct among animals is always directed towards an individual of the opposite sex. Therefore, an animal can never be homosexual as such. Nevertheless, the interaction of other instincts (particularly dominance) can result in behavior that appears to be homosexual. Such behavior cannot be equated with an animal homosexuality. All it means is that animal sexual behavior encompasses aspects beyond that of reproduction.

      মানুষের মত প্রাণীরাও জন্মগতভাবে সমকামী হয় না। এবং তাদের মধ্যে 'গে- জিন' টাইপের উদ্ভট কিছুর সন্ধানও পাওয়া যায় নি। তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সমকামী আচরনের প্রমাণ নেই। তবে প্রাণীদের নিজেদের মধ্যে ডমিনেট করার প্রবণতা দেখা যায়। এই প্রবণতাকে অনেক স্ময় সমকামিতার সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়। 

      উল্লেখ্য সান ফ্র্যান্সিসকোতে বহুল আলোচিত সমকামী  পেংগুইন কাপল Harry and Pepper এর মধ্যে সম্পর্ক এক সময় ভেংগে যায় এবং Harry শেষ পর্যন্ত  Linda নামের স্ত্রী পেংগুইনের সাথে ঘর বাধে । যদিও ব্যপারটা নয়ে বিবর্তনবাদীরা অনেক প্রচারনা চালিয়েছিল।

      তাই প্রাণীদের সমকামিতা নিয়ে এখনও অনেক বিতর্কের অবকাশ আছে।

  2. 2
    শামস

    সমকামীতা, অযাচার কিংবা বিকৃত যৌনাচারের পক্ষে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী বৈজ্ঞনিক সমর্থনটা  আসে সম্ভবত ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব থেকে। অনেকভাবেই সেই সমর্থনটা দেয়, তবে এর মধ্যে পশুপাখির ট্রেইট বিবর্তনবাদের ধারাবাহিকতায় মানুষের মধ্যে এসেছে সেটাকেই সবচেয়ে শক্তিশালী বলে মনে হয়েছে। এছাড়া অন্যসব বৈজ্ঞনিক প্রমাণের কথা দাবীর বেশি না।

    সমকামীতা প্রকৃতির জন্য হুমকিস্বরূপ, কিন্তু এটি  প্রকৃতিগত হয়েছে (!) বিবর্তনবাদের হাত ধরেই ইতর প্রাণীদের ট্রেইটকে ধারণ করে। যাক, একটা মজার স্ট্যাটিস্টিকস দেখলাম, গে'রা এনাল ইন্টারকোর্স করে। যেখানে সমকামীদের আনুমানিক  হার ১০ ভাগ, সেখানে পুরুষ-নারীর যে এনাল ইন্টারকোর্স এর হার সেই সংখ্যাটাও ৫ -- ১০ ভাগের মতো। দুটো'ই প্রায় সমান মাত্রার রিস্কি, এবং এর মধ্যে বিকৃত যৌনাচারের কিছুটা ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে হয়েছে।

    খুব চমৎকারভাবে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছেন, পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম। 

    ধন্যবাদ আপনাকে এবং ডাঃ আতিক সাহেবকে।

     

  3. 1
    Momtaz Begum

    @ জনাব  শামসুল আরেফিন,

    ধন্যবাদ আপনাকে।

    লেখার শুরুতেই আপনি মানুষের  বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, লজিক, পরিবার গঠন এবং নৈতিকতা বিষয়ে উপদেশ বানী প্রদান করেছেন।  এ বিষয়ে আপনার সাথে সহমত। ধন্যবাদ। কিন্তু তারপরও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। 
      
    ১। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা সম্মৃদ্ধ এই মানুষকেই আবার  বিশ্বাস করতে হবে সমকামিতার করণে আকাশ থেকে প্রস্তর বৃষ্টি নেমে আসে!!??  
    ২।  আদর্শ পারিবারিক গঠন প্রক্রিয়ায় যখন বহুবিয়ে, মৌখিক তালাক, হিল্লা, মুতা(পতিতা বৃত্তি) এবং সর্বপরি ক্রীতদাসী/যুদ্ধবন্ধি নারী গনিমতের সাথে পুরুষের বিয়ে বহিঃভুত অবাধ যৌনতা বৈধ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে মানুষ আর পশুর মাঝে কি পার্থক্য থাকে?  

    আশা করি প্রশ্ন দুটির উত্তর দিবেন, প্লিজ।  

    আর 'সমকামিতা—মানুষ বনাম পশু'  এ বিষয়ে আপনার সামগ্রিক লেখাকে অবান্তর মনে হচ্ছে। কেননা,  কেউ কখনো দাবি করে না মানুষ ও পশুর বুদ্ধিমত্তা, নৈতিকতা এক অভিন্ন। মূল বিষয়টি হচ্ছে- অনেক মানুষের মাঝেই সমকামিতার প্রকৃতগত প্রভাব রয়েছে। যেমটি আছে প্রনি জগতের উপর।  বুঝতে পেরেছেন আশা করি। 

    ধন্যবাদ আবারো। 

    1. 1.1
      মাহফুজ

      @Momtaz Beg

      এখানে আমন্ত্রণ- Punish the homosexuals/ সমকামীদের কঠিন সাজা চাই-

    2. 1.2
      শামসুল আরেফিন

      ধন্যবাদ momtaz begum আপনার মন্তব্যের জন্য। আপনি দুটি পয়েন্টের উপর প্রশ্ন রেখেছেন। আপনার মতে

      ১। সমকামিতার জন্য আকাশ থেকে পাথর বৃষ্টি নেমে আসাটা লজিক্যাল কিনা।

      —-- আমার ধারনা লূত (আ) এর জাতী সম্পর্কে আপনার খুব বেশী ধারনা নেই। লূত স্মপ্রদায় জাতিগত ভাবে বেশ কিছু ধরনের ভয়াবহ অন্যায় আচরনে লিপ্ত ছিল। যেমন প্রকাশ্যে সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া , ডাকাতি, খুন আর রাহাজানী করা ইত্যাদি। এসব আচরন যে তাদের মত দু-একজন করত এমনটি নয়। বরং লূত জাতির বেশীরভাগ মানুষের মধ্যেই নানান ধরনের অন্যায় আচরনের প্রচলন ছিল। আরেকটি সমস্যা ছিল তাদের এলাকায় কোন পুরুষ মানুষ এলে তাকেও তারা সমকামিতায় বাধ্য করত।  সূত্র- কোরানে বলা হয়েছে--“কেন তোমরা নরদের সাথে নোংরা কাজ কর? ডাকাতি রাহাজানি কর? আর জনসমাবেশে কুকাজে লিপ্ত হও?” আল্লাহ তাদের এই জাতিগত আর ব্যাপক আচরনের সংশধনের জন্য লূত (আ) কে পাঠান । তিনি অনেক বুঝিয়েও তাদেরকে প্রচলিত আচরন থেকে ফেরাতে পারেন নি। তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি লূত সম্প্রদায়ের দুটি অভ্যাস ছিল, একটি হচ্ছে প্রকাশ্যে, পাবলিক প্লেসে আর ব্যাপকভাবে সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া আর অন্যদেরকেও সমকামিতায় বাধ্য করা। এবং তারা এ ধরনের আচরন থেকে ফিরে আসতে আগ্রহী ছিল না। এবার আপনিই বিবেচনা করুন প্রস্তর নিক্ষেপ করে আল্লাহ মহা অন্যায় করেছিলেন কিনা।

      ২। — কোরানে আল্লাহ একটি বিয়েকে উতসাহিত করেছেন ঃ দেখুন সূরা নিসা আয়াত ৪। আর প্রয়োজনবোধে সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করা যেতে পারে।  সেটিও শর্ত সাপেক্ষে । পাশ্চাত্য সমাজে তো বিয়ে না করেই ব্যাপকহারে পলিগ্যামী আচরনের অভ্যাস দেখা যায়। সেই সাথে চলে দায়-দায়িত্বহীন আর পরিচয়হীন সন্তান উতপাদন প্রক্রিয়া। কিন্তু ইসলামের পলিগ্যামিতা শর্ত সাপেক্ষ এবং দায়িত্বহীন ভোগ সর্বশ্য কোন আচরন নয়। সেটি কিন্তু আপনেও আমার চাইতে ভাল বোঝেন।

      —-- তালাক স্বামী-স্ত্রী বিচ্ছিন্ন হবার একটি আইনী প্রক্রিয়া। আমি এর মধ্যে কোন সমস্যা দেখি না।

      —-- হিল্লা আর মূতা বিয়ে ইসলামের কোন প্রচলিত বিধান নয়।

      ৩। মানুষের মধ্যে সমকামিতার প্রভাব থাকা আর প্রাণিজগতের প্রকৃতিগত সমকামিতা যে এক কথা নয় , সেটি বোঝাবার জন্যেই এই পোস্ট। ধৈর্য ধরে সামনের পোস্টগুলো পড়ুন, তাতে আশা করি ধারনাটি আরো পরিষ্কার হবে।  

      1. 1.2.1
        Momtaz Begum

        @ শামসুল আরেফিন,

        ধন্যবাদ।

        প্রথম প্রশ্ন-   আল্ল ন্যায় করেছে, নাকি অন্যায় করেছেন সেটি আমার প্রশ্ন না। আমার প্রশ্ন ছিল-  সমকামিতার কারনে আ্কাশ থেকে পাথর বৃষ্টি নেমে আসে?  বিষয়টি সিন্দাবাদ দৈত্যের গল্পের মতই গাজাখড়ি নয় তো??    

        ২য় প্রশ্ন- সূরা নিসা ৪ আয়াতের নসিহত করেছেন।  দেখা যাক ঐ আয়াতে কি বলা হয়েছে : 

        "আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।"  

        যাদের ভাল লাগে,  গবাদি মাল নারীকে বিয়ে করে নাও ১, ২, ৩, ৪???   নারীর ভাল লাগার কোন বিষয় নেই তাহলে। তো ভায়া,  এটা কি ধরনের বিয়ে যেখানে বিয়ের পরও দাসীদের সাথে বিয়ে বহিঃভুত মৌজফূর্ত্তি।   

        বিঃদ্র- আপনি অযথাই পাশ্চাত্য সমাজ টেনে আনলেন। অথচ আমি কোন বিশেষ সমাজের ওকালতি করি না।  বিষয়টি এমন হয়ে গেল না যে : ইসলামী সমাজের ছেঁচরামি কে পাশ্চাত্য সমাজের চুরির দোহাই দিয়ে হালাল করা। নয় কি??

        1. 1.2.1.1
          শামসুল আরেফিন

          আসলে পোস্টের মূল বিষয় বস্তু থেকে আপনি অনেক দূরে সরে গেছেন। তাই উত্তর দেবার খুব বেশী আগ্রহ বোধ করছি না। যদি পোস্ট সংক্রান্ত প্রশ্ন বা আলোচনা থাকে সেটি করতে পারেন। উত্তর দেবার চেষ্টা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.