«

»

Oct ২৮

ধর্ম, বিজ্ঞান ও আমরা

ধর্ম শব্দটি সংস্কৃত “ধৃ” ধাতু থেকে উৎপন্ন। যার অর্থ ধারন করা বা পোষণ করা। অতএব মানুষ যা ধারন করে বা পোষণ করে তাই মানুষের ধর্ম। প্রাণী মাত্রই স্বভাবগত ধারনা পোষণ করে থাকে, মানুষের ক্ষেত্রে এই স্বভাবগত ধারনা জৈবিক এবং আধ্যাত্মিক। জীব দেহ প্রতিপালন ও পরিপোষণের জন্য যা প্রয়োজন তা জৈবিক চাহিদাঃ যেমন-ক্ষুধা, তৃষ্ণা, আনন্দ-বেদনা, সুখনুভুতি, দুঃখানুভুতি, বংশবৃদ্ধি, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি সকল জিবের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। কিন্তু আধ্যাত্মিকতা কেবল মানুষই লালন করে থাকে।  তাই মানুষের ধর্ম জৈবিক ও আধ্যাত্মিক।

“যার মধ্যে যা অতি – তা আল্লাহর বিভূতি”। আল্লাহ তার সৃষ্টিকে বিচিত্ররূপে দেখতে চেয়েছেন। তাই জন্মগতভাবেই মানুষ বিচিত্র চিন্তা, চেতনা, সুখ ও অনুভুতির ধারক। তাইতো আমরা দেখতে পাই মানুষ আদিকাল থেকেই “ম্যাথোস” এবং “ল্যাগোস” দু’ভাগে বিভক্ত। ম্যাথোস শ্রেণীর মানুষ হয় বিশ্বাসপ্রবন, কল্পনাপ্রবন এবং আবেগপ্রবন। এরাই সাধারনত হয় আস্তিক, গল্পে-মিথে বিশ্বাসী, কবি-সাহিত্যিক আর “যেন” হয় তাদের অবলম্বন। আর ল্যাগোস শ্রেণীর মানুষ হয় যুক্তিপ্রবন, বিচার-বুদ্ধি সম্পন্ন, ইন্দ্রিয়লব্ধ বাস্তব জ্ঞ্যানের বাহিরে আর “কেন” হয় তাদের অবলম্বন। ইন্দ্রিয়াতীত ধ্যান-ধারনা তারা গ্রহণ করতে নারাজ। পৃথিবীর আধুনিক ধর্মগুলির ইন্দ্রিয়লব্ধ বস্তু নিয়ে আলোচনা করলেও এবং এই বিষয়ে অনুশাসন রাখলেও এর মূল বিষয় সব ইন্দ্রিয়াতীতঃ যেমন স্রস্টা, আত্মা, পরকাল, জিন, ফেরেশতা ইত্যাদি সকলেই ইন্দ্রিয়াতীত। এদের অনেকগুলি পরকালের সহিত সম্পৃক্ত হলেও ইহ জগতে স্থান-কালের সীমাবদ্ধ নয়। পক্ষান্তরে বিজ্ঞান শুধু ইন্দ্রিয়লদ্ধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। অতএব দেখা যাচ্ছে, বিজ্ঞানের আলোচনার পরিধি ব্যাপকতর। কোন বিশেষ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা লদ্ধ ধারাবাহিক জ্ঞ্যানই হলো বিজ্ঞান। পক্ষান্তরে কিছু বিশ্বাসের নামেই হলো ধর্ম। বিজ্ঞান যুক্তিপ্রবন আর ধর্ম বিশ্বাসপ্রবন।

সংঘাত হয় তখনই যখন ধর্ম ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলি পাশাপাশি লালন না করে একটিকে অপরটির উপর প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যেমন ইহুদী ও খিৃস্টান জগতে আমরা ধর্মীয় সংঘাত দেখতে পাই ষোড়শ শতক থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত তওরাত ও ইঞ্জিন সমর্থিত পৃথিবী কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার স্থলে যখন বিজ্ঞান সৌর কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার মতবাদ প্রচার করে। এসময় ধর্মের প্রতিনিধিগন নব চেতনার সৌরকেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার মতবাদকে দমিয়ে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করে। এই জন্য তারা হত্যা, ফাঁসি এবং আগুনে পোড়ায়ে মারার মতো জঘন্য অপরাধগুলি সম্পন্ন করে। অথচ আজ ইহুদী ও খিৃস্টান সম্প্রদায়গুলো সত্যকে মেনে নিয়েছে। উপরন্তু আধুনিক বিজ্ঞান সৌর কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা থেকেও সরে এসেছে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় “সৃষ্টির অগনিত বিশ্বের একটি মাঝারি ধরনের বিশ্বের অতি নাজুক ও অতি ক্ষুদ্র অংশে সৌর জগতের অবস্থান আর সৌর জগতের অতি ক্ষুদ্র অংশে এই পৃথিবীর অবস্থান এবং লক্ষ কোটি বিশ্বের সমন্বয়ে ঘটিত সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বে প্রতিটি বস্তুকনা গতিশীল”। মানুষের তৈরী চোখ (হাবল টেলিস্কোপ ইত্যাদি) একশত বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে দৃষ্টি রাখতে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে পবিত্র কোরআন মহা বিশ্বের কোন কেন্দ্র চিন্নিত করেনি বরং সম্প্রসারণশীল ও গতিশীল মহা বিশ্বের ইঙ্গিত দিয়েছে।

দুর্ভাগ্যবশতঃ ইসলাম ধর্মের কিছু লোক বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত বিজ্ঞানকে ইসলাম ধর্মের প্যরালাল গন্য করে শত্রুতা পোষণ করে আসছে। এটা যে তাদের অজ্ঞতারই ফল এতে কোন সন্দেহ নেই। কারন বিজ্ঞান সর্বদাই সত্যকে প্রতিভাত করে থাকে। তাইতো আমরা দেখতে পাই, আধুনিক বিজ্ঞানের অনেক কথা কোরআনে বিবৃত কথার কাছাকাছি চলে আসছে। কারন, কোরআন শ্বাশত এবং বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল। আবার আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত কিছু লোক কোরানের বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিতগুলোকে আধুনিক কোরআনের  সাথে সামঞ্জস্য দেখিয়ে কোরআনের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টায় লিপ্ত। তারা যেন বলতে চায়, দেখ আধুনিক বিজ্ঞান আজকে যা আবিষ্কার করেছে তা চৌদ্দশত বছর পূর্বে কোরআনই বলে দিয়েছে। এরুপ হীন মন্যতা থেকে আমাদের উর্ধ্বে উঠতে হবে। মনে রাখতে হবে কোরআন কোন বিজ্ঞানের পুস্তক নহে। যদিও কোরআন নিজে দাবী করেছে এটি “কোরআনুল/কিতাবুল হাকিম”। কোরআনে বিজ্ঞানের ইঙ্গিতগুলি প্রাসঙ্গিত। কোরআন মানুষের পুর্নাঙ্গ জীবন বিধান, ইহ-পারলৌকিক মুক্তির উপদেশাবলী, সকল মানবিক ও মানসিক গুনাবলী অর্জনের নির্দেশাবলী, অতিত ইতিহাসসহ উৎকৃষ্ট সাহিত্যের আকড়। অথচ বিজ্ঞান শুধু বাস্তব বস্তু ও জৈবিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। যে সব ক্ষেত্রে কোরআন ও বিজ্ঞানের কথা পাশাপাশি এসে দাড়ায় সেসব ক্ষেত্রে উভয়ের সামঞ্জস্য বিধানের চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে আধুনিক বিশ্বের প্রতি চোখ বন্ধ করা একদল আলীম যারা কোরআন হাদিসের বাহিরে কোন জ্ঞান নেই বলে দাবী করে এবং সকল জ্ঞান তাদের হাসিল হয়েছে বলে আত্মপ্রসাদে বিভোর তাদের দ্বারা আধুনিক বিজ্ঞানের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞ্যান প্রতি ৬ মাসে বা তার কম সময়ে দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে শত বছরের বা হাজার বছরের জ্ঞ্যাঙ্কে কেহ যদি চূড়ান্ত মনে করে তবে তা হাস্যস্পদ বৈকি। তবে সত্য চির কালই সত্য। কথায় বলে “বিদ্যা বিনায়াং দদাতি” অর্থাৎ বিদ্যা বিনয় দান করে। অতএব বিনয় ব্যতিত বিদ্যার অবস্থান অসম্ভব। কোরআন হাদিসের জ্ঞানের সহিত বাস্তব জ্ঞ্যানের সামঞ্জস্য অতিব জরুরী। বলে রাখা ভালো, ইহুদী ও খিৃস্টান সম্প্রদায় তাদের ধর্মগ্রন্থের সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের প্রবল বিরুধিতা সত্তেও বিজ্ঞানের সাথে অনেকটা আপোষ করে চলছে। অথচ শাশ্বত কোরআন আধুনিক বিজ্ঞানের পথিকৃৎ ও বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্য হলেও আমরা বিজ্ঞানকে সন্দেহের চোখে দেখছি এবং শত্রু মনে করে দূরে ঠেলে দিচ্ছি। পবিত্র কোরআনের ইঙ্গিতের আলোকে আধুনিক বিজ্ঞানের সত্যকে গ্রহণ করতে হবে এবং নব্য নাস্তিকদের মুখ্য আক্রমণের মোকাবেলা করতে হবে। এ কাজটি প্রকৃত জ্ঞ্যানীদের কাজ। ধর্মীয় শিক্ষায় পণ্ডিতম্মন্য ব্যক্তিদের ধারা সম্ভব নহে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই আলোর মশালধারী জ্ঞ্যানী ব্যক্তির পথ চেয়ে আছি যিনি বা যারা আল্লাহর সাহায্যে বর্তমানে ধর্মকে আক্রান্ত অবস্থা থেকে পরিত্রাণ করে তার উজ্জ্বলতায় ভাস্কর করে তুলবে। সম্প্রতি এ কাজটি ও আই সি নামক প্রতিষ্ঠানের অন্যতম এজেন্ডা হতে পারে।

ধর্মের ইতিহাস-বিবর্তনের ইতিহাস। যুগে যুগে যেমন বিভিন্ন ধর্মের উদ্ভব হয়েছে তেমনি ধর্মের শিক্ষা-অনুশাসন বিবর্তন লাভ করেছে। পৃথিবীর অধিবাসী প্রধানতঃ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক ও নাস্তিক। যারা সৃষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী তারা আস্তিক আর যারা সৃষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব স্বীকার করে না, তারা নাস্তিক। নাস্তিকরা আবার কট্টর নাস্তিক, অস্তিত্ববাদী, সংশয়বাদী, সমন্নয়বাদী, আজ্ঞেয়বাদী ও নিরীশ্বরবাদী ইত্যাদি ভাগে ভিবক্ত। তারা বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের উদাহরন দিয়ে সৃষ্টিতে যে স্রষ্টার কোন ভুমিকা নেই তা প্রতিপন্ন করতে চায়। ঈশ্বরে বিশ্বাসী অর্থাৎ আস্তিক গ্রুপ আবার এক ঈশ্বরবাদী এবং বহু ঈশ্বরবাদী। এক ঈশ্বরবাদীদের মধ্যে ইহুদী, খ্রিষ্টান এবং মুসলমান অন্যতম। বহু ঈশ্বরবাদীদের মধ্যে হিন্দুরা প্রধান। নিরীশ্বরবাদীদের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা অন্যতম। এছাড়াও রয়েছে প্রকৃতিপূজক, অগ্নিপূজক, শক্তিপূজক, জৈনীজম, শিকিজম, তাওইজম, সেন্তোইজম ও বিভিন্ন উপজাতিদের ধর্ম ইত্যাদি। বর্তমান বিশ্বে লোক সংখ্যা প্রায় ৭০০ কোটি। তম্মধ্যে প্রধান ৪ টি ধর্মের অনুসারী ৫০০ কোটির মতো।  বর্তমান বিশ্বে খ্রিষ্টান, মুসলমান, বৌদ্ধ, হিন্দু ও ইহুদী ৫টি প্রধান ধর্ম হিসেবে বিবেচিত। যাদের প্রত্যেকের রয়েছে অসংখ্য শাখা-প্রশাখা। ইসলাম ধর্মের নবী বলেছেন- “মুসলমানরা ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, যার একটি দল হবে আল্লাহর মনোনীত”। পৃথিবীর অধিকাংশ ধর্মই তার প্রচারকের পর ঘোষণা করেছে- “সেই সর্ব শেষ” – এরপর আর কোন ধর্ম প্রচারক নেই। তাইতো আমরা দেখতে পাই এক ধর্মের অনুসারী অন্য ধর্মের প্রচারককে অস্বীকার করেছে- ফলে সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ ধর্মের বিবর্তন তার অনুসারিদের দ্বারা চলতেই থাকে।

মানুষ মাত্রই মতের পার্থক্য থাকবে। আর এই পার্থক্য সময়ের সাথে, সমাজ পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তনশীল। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছেন, “যত মত তত পথ”। কাজেই আধুনিক বিশ্বে নিজের মতের সাথে অন্যের মতকে মূল্যায়ন করতে হবে। মানুষের সহাবস্থানের জন্য ইহা অতীব জরুরী। নিজের মতকে প্রাধান্য দেয়াতে দোষ নেই তবে এই প্রাধান্যতা অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়া দোষের। বিভিন্ন ধর্মের উগ্রবাদী দলগুলো এই কাজটি করে যাচ্ছে। ফলে দেখা যাচ্ছে অশান্তি, হানাহানি। কথায় বলে “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই”। কাজেই মানুষ হত্যা করে কিংবা মানুষের ক্ষতি করে কোন ধর্মের কাজ চলতে পারে না। “মানুষের জন্য ধর্ম না ধর্মের জন্য মানুষ” কথাটির প্রকৃত অর্থ আমাদের হৃদয়াঙ্গম করতে হবে।

পৃথিবীর সকল ধর্মের আরাধনা-শক্তির আরাধনা। আদিকাল থেকে মানুষ যেখানে শক্তির প্রকাশ দেখেছে সেখানেই নত হয়েছে-দেবতা জ্ঞ্যানে পূজা করেছে। এই আরাধনা পদ্ধতি স্থান-কাল-ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আরাধনাই মুখ্য-পদ্ধতি মুখ্য নহে। ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “এক পুকুর পাড়ের চার পাশের অধিবাসী পানি নেওয়ার সময় কেউ একে জল, কেউ পানি, কেউ ময়া আর কেউবা ওয়াটার নিচ্ছি বললেও তারা সকলেই যেমন একই জিনিষ নিচ্ছে তেমনি বিশ্বের সকল ধর্মের মত-পথ আপাতত ভিন্ন হলেও তারা একই উদ্দেশ্যে একই শক্তির উপাসনা করছে”।

পাক কোরআনে মুসলমানদের “মুসলিম” বলে সম্ভোধন করা হয়েছে। আর মুসলিম সেই –  যে আত্মসমর্পনকারী। পরমত সহিষ্ণুতা একটি বড় গুন। বিশ্ব শান্তি বজায় রাখার জন্য এর বহুল প্রচার ও অনুশীলন প্রয়োজন।  এক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মুখ্য ভুমিকা পালন করতে পারে। আমরা নিজের ধর্মের উপর দৃঢ় থাকব-সকল আচার আনুষ্ঠান নিষ্ঠার সাথে পালন করবো। তাই বলে নিজের মতকে জোর করে অন্যের উপর চাপিয়ে দেব না। কেহ যদি ধর্মের শিক্ষা ও আদর্শে মুগ্ধ হয়ে কোন ধর্ম গ্রহণ করে সেক্ষেত্রেও বাঁধা দেওয়া সমীচিন হবে না। আমরা চাই সকল ধর্মের শান্তিপুর্ন সহাবস্থান। সংবাদ ও প্রচার মাধ্যমগুলো এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করতে পারে। সংঘাত নয় বরং একটি সুন্দর শান্তিময় পৃথিবী যাতে আমরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে উপহার দিতে পারি এর জন্য এখন থেকে আমাদের সকলের যত্নবান হতে হবে।

 

৮ comments

Skip to comment form

  1. 6
    discount vouchers

    Thank you for such an informative blog post.

  2. 5
    ফাহাদ

    আস সালামু আলাইকুম, 

    @ মো সিরাজুল ইসলাম 

    আপনি লিখেছেন " পৃথিবীর অধিকাংশ ধর্মই তার প্রচারকের পর ঘোষণা করেছে- “সেই সর্ব শেষ” – এরপর আর কোন ধর্ম প্রচারক নেই।" এই কথাটি আপনার একান্ত নিজের কথা। বর্তমান পৃথিবীর সব প্রধান ধর্মই একজন শেষ ধর্ম প্রচারকের কথা উল্লেখ করেছে। 

    আপনি আরো বলেছেন " তাইতো আমরা দেখতে পাই এক ধর্মের অনুসারী অন্য ধর্মের প্রচারককে অস্বীকার করেছে- ফলে সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে।!"

    কোরান এর ভাষ্য অনুযায়ি এর 'অস্বীকার ও সংঘাত' এর মুল কারন শুধুমাত্র অহংকার ও মিথ্যা প্রচার। কিন্তু তারা এটা জানে যে ইসলাম সত্য ধর্ম।

    আপনার এই কথাটির সাথে সহমত কিছু ধর্ম এবং কিছু ধর্মের বিশেষ কিছু বিষয় এ কিছু অনুসারিরা সরাসরি ডারঊইন এর ভক্ত, ক্রমাগত বিবর্তন এ বিশ্বাসি। 

    আর জনাব ' যত মত তত পথ' কথাটি যিনি বকেছিলেন তিনি নিজে কিন্তু কালীপুজার পথ গ্রহন করেছিলেন।কারন এটা সত্যি যে একই সময়ে সব পথে হাটা যায় না। অথেব আপনার মত ও পথ ঠিক করে হাটা শুরু করুন জনাব।

    আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

     

  3. 4
    মাহফুজ

    @ মোঃ সিরাজুল ইসলাম

    আপনি বলেছেন- //“বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্য দেখিয়ে যারা কোরআনের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত করতে চায়”//

    সামঞ্জস্য থাকলে তা দেখানোতে সমস্যা কোথায়? যাদের দেখার ক্ষমতা নেই, তাদেরকে তো চোখ আঙ্গুল দিয়ে দেখানো লাগতেই পারে।

    আপনার কাছে একটা প্রশ্ন- আল-কোরআন কি বিজ্ঞানময় নয়?

  4. 3
    মোঃ সিরাজুল ইসলাম

    শ্রদ্ধেয় পাঠক, মূল প্রবন্ধে কম্পোজ করার সময় দুই/তিনটি স্থানে কিছু শব্দ বাদ পড়ে ছিল, তা সংযোজন করে দেওয়া হল।

  5. 2
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    "দুর্ভাগ্যবশতঃ ইসলাম ধর্মের কিছু লোক বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত বিজ্ঞানকে ইসলাম ধর্মের প্যরালাল গন্য করে শত্রুতা পোষণ করে আসছে। এটা যে তাদের অজ্ঞতারই ফল এতে কোন সন্দেহ নেই।"

    একমত। ভারত উপমহাদেশে কওমী মাদ্রাসা ইসলামের ক্যান্সার। দক্ষিন এশিয়া ব্যতীত কওমী মাদ্রাসার কোথাও কোন অস্তিত্ব নেই। হাতে গুনা ২/৪ জন ব্যতীত, কওমীর সবই মাথামোটা, গোয়াড়, যদিও চেহারায় বিনয়ী প্রকাশ করে। উনাদের সাথে মতের অমিল হলে, সর্বদা কল্লা ফালায়া দিব, এই মনোভাব।  ইসলামের সকল জ্ঞ্যান ভান্ডার উনাদের কাছে। উনারা নীজেদের সমাজের একমাত্র আলেম বলে দাবী করেন। আর আলেমরাই সমাজের একমাত্র সম্মান ও জ্ঞ্যানীর অধিকারী। নীজেদের ঢোল নীজেরাই পিঠাইতে ব্যস্ত।  উনাদের নাক সর্বদা ব্যস্ত থাকে মাল আর হালুয়ার গন্ধের জন্য সাথে ভন্ড পীরদের মত বেহেশতের টিকিটও বিক্রয় করেন। ভবিষ্যতে এদের বাড়াবাড়ি আরও ভয়ংকর হবে, তাতে সন্দেহ নেই।

    “এক পুকুর পাড়ের চার পাশের অধিবাসী পানি নেওয়ার সময় কেউ একে জল, কেউ পানি, কেউ ময়া আর কেউবা ওয়াটার নিচ্ছি বললেও তারা সকলেই যেমন একই জিনিষ নিচ্ছে তেমনি বিশ্বের সকল ধর্মের মত-পথ আপাতত ভিন্ন হলেও তারা একই উদ্দেশ্যে একই শক্তির উপাসনা করছে”।

    আল্লাহ্‌-র কাছে একমাত্র গ্রহনযোগ্য ধর্ম ইসলাম যা আমাদের নবী(স) আমাদের দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। সবাই একই শক্তির আরাধনা করে না। ইসলাম ব্যতীত সবাই 'শিরক'-এ লিপ্ত।

  6. 1
    এম_আহমদ

    লেখাটি পড়ে কয়েকটি স্থানে বেশ আটকে যেতে হল, তাই এই মন্তব্য।

    যার মধ্যে যা অতি – তা আল্লাহর বিভূতি।

    এই কথাটি কি ইসলামী? বিভূতি? ঈশ্বরের শক্তি, ঐশ্বর্য, সম্পত্তি; অণিমা লঘিমা ব্যাপ্তি প্রাকাম্য মহিমা ঈশিত্ব বশিত্ব কামাবসায়িতা –এই এই অষ্ট বিভূতি বা ঐশ্বর্য? (বাংলা অভিধান)। যার মধ্যে চুরি-ডাকাতির অভ্যাস অতি … তা কি …? যার মধ্যে মন্দকাজ ও হিংসা-প্রবণতা অতি … তা কি …? তারপর বাক্যের পরে যে প্যারাগ্রাফ ব্যাখ্যা স্বরূপ “ম্যাথোস” এবং “ল্যাগোস” এ আসল এসবের উৎস কি? এসব কাদের কথা?

    দুর্ভাগ্যবশতঃ ইসলাম ধর্মের কিছু লোক বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত বিজ্ঞানকে ইসলাম ধর্মের প্যরালাল গন্য করে শত্রুতা পোষণ করে আসছে। এটা যে তাদের অজ্ঞতারই ফল এতে কোন সন্দেহ নেই।

    মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত সেই লোকগুলো কারা যারা বিজ্ঞানকে ইসলাম ধর্মের প্যারালাল গণ্য করে শত্রুতা পোষণ করে আসছে? লোকগুলো "অজ্ঞ" বটে! আরেকটু উদ্ব্যক্তি নিয়ে, “আধুনিক বিশ্বের প্রতি চোখ বন্ধ করা এই আলেমের দল” কারা যারা সকল জ্ঞান হাসিল হয়েছে বলে আত্মপ্রসাদে বিভোর থাকে? আমাদের বুঝের আওতায় আসতে পারে এমনভাবে বললে হয়ত বুঝতে সুবিধা হত। নিশ্চয় বিদ্যা আপনাকে বিনয় দান’ করেছে বা করে থাকতে পারে।

    তারপর “বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্য দেখিয়ে যারা কোরআনের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত করতে চায়” তারা কি মাদ্রাসায় শিক্ষিত লোক? বিজ্ঞান না পড়ে কিভাবে বিজ্ঞানের সাথে কোরানের সামঞ্জস্যতা দেখায়? এই প্রবণতা কি কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়াদের মধ্যে দেখা যায় না? আবার “যে সব ক্ষেত্রে কোরআন ও বিজ্ঞানের কথা পাশাপাশি এসে দাড়ায় সেসব ক্ষেত্রে উভয়ের সামঞ্জস্য বিধানের চেষ্টা করতে হবে” এই চেষ্টা কোন মাদ্রাসায় পড়ুয়া লোক করলে তা কি হীন হয়ে পড়তে পারে?

    আপনার লেখায় বিজ্ঞানের কোন বিশেষ সংজ্ঞা দেখতে পাচ্ছি না যার আলোকে এটা সহজে গ্রহণ করা যায় যে “বিজ্ঞান সর্বদাই সত্যকে প্রতিভাত করে থাকে”। আচ্ছা ধরুন বিবর্তবাদ, এটা কি বিজ্ঞান? এটা কি সত্যকে প্রতিভাত করে? বিজ্ঞানের নামে যা কিছু দেখা তার সবই কি  সত্য বলে প্রতিভাত?

    একদিকে বলছেন, “বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞ্যান প্রতি ৬ মাসে বা তার কম সময়ে দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে শত বছরের বা হাজার বছরের জ্ঞ্যাঙ্কে কেহ যদি চূড়ান্ত মনে করে তবে তা হাস্যস্পদ বৈকি”! অন্যদিকে বলছেন, “তবে সত্য চির কালই সত্য”। যদি তাই হয়, তবে এখানে কি যুক্তি হাস্যাস্পদ হচ্ছে না? এ পর্যন্ত বিদ্যার বিনয় কোন দিকে  যাচ্ছে বুঝতে পারছি না।

    তারপর “শাশ্বত কোরআন আধুনিক বিজ্ঞানের পথিকৃৎ ও বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্য হলেও আমরা বিজ্ঞানকে সন্দেহের চোখে দেখছি এবং শত্রু মনে করে দূরে ঠেলে দিচ্ছি” এখানে “আমরা” কারা? কারা “বিজ্ঞানকে সন্দেহের চোখে দেখছে এবং শত্রু মনে করে দূরে ঠেলে দিচ্ছে?

    এতক্ষণ মাদ্রাসায় পড়ুয়াদেরকে এক বিশেষ আঙ্গিকে দেখে এবারে বলছেন,‘ইসলাম ধর্মের নবী বলেছেন- “মুসলমানরা ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, যার একটি দল হবে আল্লাহর মনোনীত”। এই হাদিসটি কি আপনি সত্যায়ন করেছেন? কোন দিন এই মুসলিম বিশ্বে ৭৩ দল ছিল?

    “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই”, এটা কি সত্য কথা? মানুষের বাইরে কি আর কোনো সত্য নেই? তারপর, ‘কথায় বলে “যত মত তত পথ”, কাজেই আধুনিক বিশ্বে নিজের মতের সাথে অন্যের মতকে মূল্যায়ন করতে হবে। মানুষের সহাবস্থানের জন্য ইহা অতীব জরুরী”, এতে মাদ্রাসায় পড়ুয়াদের সাথে সহাবস্থান, তাদের মতের মূল্যায়ন কি বাইরের হবে?

    “আদিকাল থেকে মানুষ যেখানে শক্তির প্রকাশ দেখেছে সেখানেই নত হয়েছে-দেবতা জ্ঞ্যানে পূজা করেছে। এই আরাধনা পদ্ধতি স্থান-কাল-ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আরাধনাই মুখ্য-পদ্ধতি নহে” –এই কথাটি তাৎপর্য কি? এটা কি আকারে ইঙ্গিতে ইসলামের ব্যাপারে বলছেন?  “বিশ্বের সকল ধর্মের মত-পথ আপাতত ভিন্ন হলেও তারা একই শক্তির উপাসনা করছে”, এটা কি ইসলামী ধারণা?

    1. 1.1
      মোঃ সিরাজুল ইসলাম

      মি এম আহমেদ,

      আপনার মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়ার জন্য ধন্যবাদ।

      আপনার বক্তব্যের জবাবে প্রতিটি কথার উত্তরে আমরা যাব না। কারন, আমাদের আলোচনা এখানেই সমাপ্ত করতে চাই।

      আমার লিখার সপ্তম প্যারায় বলেছি, “মানুষ মাত্রই মতের পার্থক্য থাকবে। আর এই পার্থক্য সময়ের সাথে, সমাজ পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তনশীল।“ শেষ প্যারায় বলেছি, “পরমত সহিষ্ণুতা একটি বড় গুন।“ এই আলোকে আমার লিখা “ধর্ম, বিজ্ঞান ও আমরা” প্রবন্ধে ধর্ম ও বিজ্ঞানের বর্তমান সরস বিতর্কের অবসানে ধর্মের ক্ষেত্র এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্র ২-টি পৃথক প্লাটফর্ম চিন্নিত করার প্রয়াস পেয়েছি। যেমন সংঘাত হয় তখনই যখন ধর্ম ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলি পাশাপাশি লালন না করে, একটিকে অন্যটির উপর প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আর মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত কিছু লোক বিজ্ঞানকে না জেনেই সমালোচনায় মুখর। এইরুপ অজ্ঞানপ্রসূত সমালোচনা হিতে বিপরীত হয়।

      ধর্ম অনুশীলন/ধর্ম চর্চা ভাল, তবে ধর্ম উম্মাদনার প্রায়শ তিক্ত ফল বহন করে। সকলের সাথে সহ অবস্থানের অনুশীলন লেখাটির প্রধান আবেদন। এক্ষেত্রে হিংসা বিঘ্ন সৃষ্টি করে। তাই সকলের প্রতি ভালবাসা ও মানবতার দাবী আক্ষুন্ন রাখার অনুশীলন করতে হবে।

      প্রবন্ধটি ধর্ম ও বিজ্ঞানের পার্থক্য সূচক একটি সাধারণ ও আনুসাঙ্গিক কথা। কোন ইসলামিক প্রবন্ধ নহে। বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে ধর্মের  অনুশাষনের চুলছেরা ব্যাখ্যা আরো নতুন চিন্তা ও প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। এ সমস্ত অনাগত পরিস্থিতির জন্য ইসলাম ধ্বজাধারী সম্প্রদায়কে সতর্ক করাই প্রবন্ধটির উদ্দেশ্য। কাজেই, সর্বতমূখী জ্ঞ্যান লাভের বিকল্প নেই ও আই সি-কে এই বিষয়ে এজেন্ডাভুক্ত করে পথ চলা পরামর্শ এ কারনেই।  

      1. 1.1.1
        এম_আহমদ

        @মোঃ সিরাজুল ইসলাম:

        কিছু লোক তো সব দেশ, সব সম্প্রদায়, সব ধর্ম ও গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানাদিতে থাকে যারা কিছু উলটাপালটা কথা বলে থাকে কিন্তু এখানে কেবল “মাদ্রাসা শিক্ষিত” বলে “মাদ্রাসা”কে টানছেন কেন –এটাই ছিল আসল কথা। আপনি দেখে থাকবেন যে আপনার নিজ কথাতেও অনেক উলটাপালটা বিষয় রয়েছে। তাহলে এর জন্য আপনার কোন প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হবে? আপনার সাথে সম্পৃক্ত কোন ইসলামী দল/সম্প্রদায় এখানে নির্দেশিত হতে পারে?  শুধু তাই নয়, এই প্রবন্ধের ভাষা ও বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে, আপনি কোন 'ইসলামের ধ্বজাধারী হয়ে কোন সম্প্রদায়কে এখানে সতর্ক করছেন'? (আপনি কি হেজবুত তাওহীদের লোক হওয়া সম্ভব?)।

        তারপর ধর্মীয় উন্মাদনা কারা শিক্ষা দিচ্ছে? কারা হিংসা বিদ্বেষ প্রচার করছে? মাদ্রাসা? কোন মাদ্রাসা এবং কিভাবে তা করছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published.