«

»

May ১৮

ইসলামে বিশ্বাসীরা সবচেয়ে ঠাণ্ডা মাথার হওয়া উচিত

অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মে কীভাবে বিশ্বাস করে সেটা তাদের ব্যাপার। তবে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে প্রায় সকলেই অবগত যে, মুসলিমরা ইসলামকে স্রষ্টার মনোনিত একমাত্র সত্য দ্বীন বা ধর্ম হিসেবে বিশ্বাস করে। এখানে "সত্য ধর্ম" বলতে স্রষ্টার মনোনিত ধর্ম, আর "মিথ্যা ধর্ম" বলতে মানুষের তৈরী ধর্মকে বুঝানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে মুসলিমদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট – কোনো রকম ভণ্ডামি বা লুকোচুরি নেই।

শিক্ষিত মুসলিমরা যখন সবগুলো ধর্মকে বার্ড'স-আই ভিউ থেকে দেখে তখন তাদের কাছে ধর্মগুলো দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার হয়ে যায় – সত্য আর মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা সহজ হয়। তবে মুসলিমদের সাথে অমুসলিমদের মৌলিক কিছু পার্থক্য আছে। যেমন:

– আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে অমুসলিমরা যখন ইসলামকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করে তখন লক্ষ্য করলে দেখা যায় তারা ইসলামের নবীকে ভণ্ড ও সর্বকালের সর্বনিকৃষ্ট মানব এবং কুরআনকে একটি সন্ত্রাসী ধর্মগ্রন্থ বানিয়ে দিয়েই তবে ছাড়ে। এছাড়াও ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে মিথ্যাচার করা হয়। এগুলোই তাদের 'যুক্তি' আরকি। এরা রাতে ঘুমায় কী করে, কে জানে! রামকৃষ্ণ মিশনের বিখ্যাত পিএইচডি-মনা ও তার বাংলাদেশি সহোদরদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখা যেতে পারে।

(ইসলামের কারণে এই দুই আমেরিকা-প্রবাসী 'মুক্তমনা'রূপী ছুপা মনে হয় বিগত দশ-বারো বছর ধরে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেনি!)

– অন্যদিকে অন্যান্য ধর্মকে মিথ্যা প্রমাণের জন্য কিন্তু মুসলিমদেরকে বিদ্বেষ বা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিতে হয় না, নেওয়ার প্রয়োজন নাই। মুসলিমদের যুক্তি অত্যন্ত সহজ ও সভ্য – যা এই দুনিয়ার যেকোনো দেশ বা মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে বলা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, খ্রীষ্টান ও সনাতনপন্থীরা যাদেরকে 'স্রষ্টা' হিসেবে বিশ্বাস করে তারা আসলে আমাদেরই মতো মানুষ। কাজেই তাদের ধর্মগ্রন্থগুলোও অটোমেটিক্যালি মানুষের বাণী হয়ে যায় – মানে মিথ্যা ধর্ম। ব্যাস – যুক্তি শেষ। অন্যান্য ধর্মগুলোও এক বা একাধিক মানুষের নিজস্ব দর্শন। ফলে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে সেগুলোও মিথ্যা ধর্ম। আগ্রহী পাঠক এখানে থেকে কিছুটা বিস্তারিত ব্যাখ্যা পেতে পারেন।

তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে- যেখানে যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামে বিশ্বাসীরা সবচেয়ে ঠাণ্ডা মাথার হওয়া উচিত সেখানে তাদের মধ্যে উগ্রতা আসে কোথা থেকে? এই প্রশ্নের জবাবে সম্ভাব্য কারণগুলো হচ্ছে: সঠিক শিক্ষার অভাব, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও শক্তিতে দূর্বল হওয়ার কারণে হীনমন্যতা, ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক প্রপাগ্যাণ্ডা ও বিদ্বেষপূর্ণ কার্টুন প্রকাশ, ভূ-রাজনীতির প্রভাব, ইত্যাদি।

৬ comments

Skip to comment form

  1. 4
    জনিকা

     
    হাসি ছাড়া আর কিছুই আসে না। 
    আসলে নাস্তিক-আস্তিক বলা উচিৎ না। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী বলা উচিৎ। এরা বিশ্বাসহীনভাবে সারাটি জীবন কাটানোর পর…মৃত্যুর পর সৎকারের ব্যবস্থা আবার নিয়মমাফিকই করেন। যে কোন ধর্ম বিশ্বাসীই হোক না কেন…
    ধ্যুৎ মানে রাগ উঠে যায়….
     

    "তবে একদিক দিয়ে তাদের ধন্যবাদ না দিলেই নয়, তাদের এই কর্মকান্ডের জন্যই অনেক অসচেতন মুসলিম নিজের জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে আগ্রহ নিয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে এবং মূল পথে ফিরে আসছে। "

    সত্য কথা।

  2. 3
    মোঃ মাছুম বিল্লাহ

    ভাই এই অভিযোগ গুলোর জবাব গুলো আমি খুজে খুজে হয়রান হচ্ছি কোনো জবাব আপনার কাছে কি? কোথাও এগুলোর উত্তর দেয়া থাকলে লিঙ্কটা একটু দেবেন
    http://sonarbangladesh.com/blog/copyandpest/110142

  3. 2
    শামস

    ইমরান সরকারের এই লেখায় মন্তব্য অপশন বন্ধ আছে। জানেন, এটা কি লেখকের ইচ্ছাকৃত নাকি অন্য সমস্যাঃ
    এক্সপেরিমেন্ট : তথাকথিত নাস্তিক, মুক্তমনাদের নারীবাদী চেতনার রহস্য উন্মোচন।
     

  4. 1
    আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    সচলায়তন, আমার ব্লগ, মুক্তমনা ইত্যাদি ব্লগ খুব সহজেই আমাদের দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে। অথচ, গোড়া ইসলামবিরোধী ও ফ্রিল্যান্সার ইসলামবিরোধীরা নিজেদেরকে নাস্তিক বা সেকুলার পরিচয় দিয়ে, ইসলামের বিরুদ্ধে পরিচালিত ক্রিস্টিয়ানদের সাইট থেকে ধার করা লেখা দিয়ে প্রতিনিয়ত ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার, মিথ্যা অভিযোগ ও গালিগালাজ করে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে ভালোর মোড়কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চিরকালীন শয়তানী পদ্ধতি। অথচ বিষয়টি এরকম নয় যে এসকল অভিযোগের জবাব দেয়া হচ্ছে না বা এ সকল কুযুক্তি খন্ডানো হয় নি। যেহেতু এ সাইটগুলো ইসলামবিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত, এ বিষয়গুলো আড়ালে থেকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। 

    তবে একদিক দিয়ে তাদের ধন্যবাদ না দিলেই নয়, তাদের এই কর্মকান্ডের জন্যই অনেক অসচেতন মুসলিম নিজের জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে আগ্রহ নিয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে এবং মূল পথে ফিরে আসছে। 

    নয়ত এক নজর মুসলিম দাবীদারদের দিকে তাকালে ইসলাম সম্পর্কে কোন ধারণাতো জন্মাবেই না, বরং সকল প্রকার অনৈসলামিক কর্মকান্ড ইসলামের মোড়কে আচ্ছাদিত হয়ে পড়বে। এখন কেউ যদি এদেরকে দেখে ইসলামকে দোষারোপ করে, যদিও তার পদ্ধতিটা ভুল হবে তথাপি একই সাথে এটা সিউডোমুসলিমদের দাবীর দৈণ্যদশাও তুলে ধরবে। 

    কেউ আমাকে যদি একটু বুঝাতেন, সুদ, ঘুষ, লোভ, কৃপণতা, গীবত, পরনিন্দা, পরচর্চা, অশ্লীলতা, ব্যাভিচার, অশালিনতা, মিথ্যাচার, লেনদেনের অস্বচ্ছতা, গালিগালাজ, ইভটিজিং, এডাম টিজিং, রাষ্ট্রপ্রধানদের জবাবদিহীতা না থাকা এই বিষয়গুলো যে ইসলামে নিষিদ্ধ এটা কি আমাদের তথাকথিত মুসলিম সমাজের দিকে তাকিয়ে কেউ বুঝতে সক্ষম? একজন মুসলিম কিভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা অর্থহীন কার্যকলাপ যেমন, নাটক, মিউজিক ভিডিও, সিনেমা, খেলা এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারে?
     

    পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা, দয়া, সত্যাবাদিতা, ভালো কাজের প্রশংসা, ভুল কাজের গঠনমূলক সমালোচনা, ভাল ব্যবহার, সমাজ কল্যানমূলক কাজ, মানব কল্যাণে ও স্রষ্টাকে জানতে জ্ঞানের অনুশীলন এ সমস্ত ইসলামের শিক্ষা আমাদের সমাজে কই?

    এরা কি তাদের নামের জন্য আল্লাহর কাছে আদৌ মুসলিম হিসেবে গন্য হবে? না কি তাদেরকে মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত করা হবে যাদের শাস্তি সুস্পষ্ট অস্বীকারকারীদের(কাফির) চেয়েও বেশী? 

    আমার মাঝে মাঝে দৃঢ়ভাবে বলতে ইচ্ছে করে যে হয়ত, ইসলামের এই গুণ সম্বলিত এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত কোন ব্যাক্তি যাদের আমরা তার নামের কারণে বা তার কথাবার্তার কারণে অমুসলিম বলে তাদেরকে জাহান্নামের অধিবাসী বলে ধারণা করে বসে আছি , তারাই হয়ত তাদের মনস্থ এক ইশ্বরের প্রতি দু একটি ডাকের কারণে আল্লাহর কাছে মুসলিম বলে গণ্য হবেন। আর আমরা যারা শুধুমাত্র আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপনের দাবী করে ও মুহাম্মদ (সা:) কে শেষ নবী মেনে নিয়ে সকল কাজ তাদের দেখানো পথের বিপরীত পথে করছি, তারাই আল্লাহর কাছে অমুসলিম হিসেবে গন্য হব। 

    মুসলিম সংজ্ঞা নিশ্চয়ই কোন মাদ্রাসায় পড়া আলেম নির্ধারণ করে না, নির্ধারণ করে আমাদের আচরণ। 

    আল্লাহ আমাদের 'মুসলমান' হওয়ার তৌফিক দিন। আমীন

    1. 1.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      @আব্দুল্লাহ সাঈদ খান,
      এই যে আপনার মত কিছু মানুষ কিছু কথা বলছে, তাও বা কম কিসে। 

    2. 1.2
      শামস

      @আবদুল্লাহ সাঈদ খান,

      সচলায়তন, আমার ব্লগ, মুক্তমনা ইত্যাদি ব্লগ খুব সহজেই আমাদের দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে। অথচ, গোড়া ইসলামবিরোধী ও ফ্রিল্যান্সার ইসলামবিরোধীরা নিজেদেরকে নাস্তিক বা সেকুলার পরিচয় দিয়ে, ইসলামের বিরুদ্ধে পরিচালিত ক্রিস্টিয়ানদের সাইট থেকে ধার করা লেখা দিয়ে প্রতিনিয়ত ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার, মিথ্যা অভিযোগ ও গালিগালাজ করে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে ভালোর মোড়কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চিরকালীন শয়তানী পদ্ধতি। অথচ বিষয়টি এরকম নয় যে এসকল অভিযোগের জবাব দেয়া হচ্ছে না বা এ সকল কুযুক্তি খন্ডানো হয় নি। যেহেতু এ সাইটগুলো ইসলামবিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত, এ বিষয়গুলো আড়ালে থেকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

      এই সিস্টার ব্লগগুলোর মধ্যে মুক্তমনা একটু ভালো যে ওরা ইসলামের বিরোধীতা করতে কোন কেমোফ্লজ নেয় না, (আমি লেখকদের কেমোফ্লজ এর কথা বলছি না!), কিন্তু অন্য দুটি সেটা নেয়। তাদের কেমোফ্লজটা মুক্তিযুদ্ধ, আর এটার দ্বারাই তারা কিছু পাঠক পাচ্ছে। তবে হাতে গোনা কিছু গালিবাজ ও চাপাবাজ আছে এরাই ব্লগগুলোরে গরম রাখে। এভাবে বেশীদিন টিকে থাকার কথা না।

      তবে একদিক দিয়ে তাদের ধন্যবাদ না দিলেই নয়, তাদের এই কর্মকান্ডের জন্যই অনেক অসচেতন মুসলিম নিজের জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে আগ্রহ নিয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে এবং মূল পথে ফিরে আসছে। 

      পজেটিভলি নিলে সেটা সঠিক। আমার নিজেরও ব্লগে আসার কারণও সেটাই! ব্লগ নিয়ে খুব একটা আগ্রহ কখনো ছিল না, এখনও খুব একটা নেই! কিন্তু তাদের প্রতিরোধের জন্য ব্লগে লেখালেখির শুরু।
      ভালো থাকুন।
       
       

Leave a Reply

Your email address will not be published.