«

»

Oct ১২

অদৃশ্য স্রষ্টার অস্তিত্বের স্বপক্ষে তিনটি স্বতন্ত্র প্রমাণ

ড. রিচার্ড ডকিন্স সম্ভবত সমসাময়িক সময়ের সবচেয়ে জ্ঞানী ও যুক্তিবাদী নাস্তিক – নিদেনপক্ষে তার অনুসারীদের তেমনই ধারণা। সাদা চামড়ার বৃটিশ ও অক্সফোর্ড প্রফেসর হওয়ার সুবাদে তার বাণীকে কোনো রকম সংশয়-সন্দেহ ছাড়াই গডের বাণীর মতই বিশ্বাস করা হয়। অথচ তার লেখাতে আজ পর্যন্তও এমন কিছু উপস্থাপন করা হয়নি যার দ্বারা প্রমাণ হয় যে, এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা বলে কিছু নাই কিংবা থাকতে পারে না। যদিও এই পৃথিবীর যেকোনো মানুষের কাছে থেকে এমন কিছু আশা করাটা নিতান্তই হাস্যকর শুনায় তথাপি তার অন্ধ মুরিদরা তো আর সেভাবে ভাবে না। তার অন্ধ মুরিদদের বিশ্বাস অনুযায়ী রিচার্ডর ডকিন্স সত্যি সত্যি এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার অনস্তিত্ব প্রমাণ করেছেন! নইলে তার বাণীকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে 'ধ্রুব সত্য' হিসেবে ধরে নিয়ে ধর্মের মতো করে প্রচার করা হবে কেন!

যাহোক, এই মহাবিশ্বের একজন অদৃশ্য স্রষ্টার অস্তিত্বের স্বপক্ষে তিনটি অখণ্ডনীয় যুক্তি এই লেখাতে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

১. প্রাকৃতিক মহাবিশ্ব: সাধারণ বোধ অনুযায়ী ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্রহ-নক্ষত্র ও মিলিয়ন মিলিয়ন প্রজাতি তথা জীবজগত-সহ এই প্রাকৃতিক মহাবিশ্ব এমনি এমনি সৃষ্টি হতে পারে না। শূন্য থেকে তো দূরে থাক এমনকি সবকিছু ব্যবহার করেও এই মহাবিশ্বের মতো ক্ষুদ্র একটি মডেলও কেউ তৈরী করে দেখাতে পারবে না। নাস্তিকরা নিদেনপক্ষে এই মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র একটি মডেল তৈরী করে দেখাতে পারলেও শুরু করার মতো তাদের কিছু একটা থাকতে পারতো, যদিও তাতে প্রমাণ হবে না যে এই মহাবিশ্বের কোনো স্রষ্টা নাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সেটাও তারা পারবেন না। কাজেই যারা বিশ্বাস করেন যে, তারা নিজেরা-সহ এই প্রাকৃতিক মহাবিশ্ব এমনি এমনি সৃষ্টি হয়েছে তারাই হচ্ছে প্রকৃত অন্ধ বিশ্বাসী। এই ধরণের অন্ধ বিশ্বাসের আসলে কোনো তুলনাই হয় না। মোদ্দা কথা হচ্ছে জীবজগত-সহ এই প্রাকৃতিক মহাবিশ্ব যেহেতু এমনি এমনি সৃষ্ট হতে পারে না সেহেতু এই মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা থাকতেই হবে। এটি একটি অখণ্ডনীয় যুক্তি। আর সংজ্ঞা অনুযায়ী স্রষ্টার যেহেতু স্রষ্টা থাকতে পারে না সেহেতু “স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছে?” প্রশ্নটি একেবারেই অবান্তর।

২. অসংখ্য নবী-রাসূল: মানব জাতির ইতিহাসে অনেকেই নিজেকে স্রষ্টার মেসেঞ্জার তথা নবী-রাসূল বলে দাবি করেছেন। স্রষ্টা বলে কিছুই না থাকলে কেউ নিজেকে স্রষ্টার মেসেঞ্জার এবং স্রষ্টা থেকে মেসেজ পাওয়ার দাবি করতে পারেন না নিশ্চয়। এটি স্রেফ কোনো উটকো দাবিও নয়। যেমন, মুহাম্মদ (সাঃ) দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর দাবিকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর পূর্বের নবী-রাসূলগণও একই পথ অনুসরণ করেছেন। তাঁদের দাবি থেকে মাত্র দুটি উপসংহারে পৌছা যেতে পারে:

ক) তাঁরা সকলেই মিথ্যাবাদী ছিলেন – যেটা বিশ্বাস করা প্রায় অসম্ভব। বরঞ্চ তাঁদের সবাইকে মিথ্যাবাদী হিসেবে বিশ্বাস করাটাই হচ্ছে একটি অন্ধ বিশ্বাস ও আত্মপ্রতারণা।

খ) তাঁদের মধ্যে একজনও যদি সত্যবাদী হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে এই মহাবিশ্বের যে একজন স্রষ্টা আছে তাতে সংশয়-সন্দেহের কোনোই অবকাশ থাকে না।

৩. আল-কুরআন: কুরআন নামক গ্রন্থটি যে কোনো মানুষের নিজস্ব বাণী হতে পারে না – তার স্বপক্ষে বেশ কিছু যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। যেকেউ নিরপেক্ষ মন-মানসিকতা নিয়ে কুরআন অধ্যয়ন করলে এই সিদ্ধান্তে উপণীত হওয়া উচিত যে, কুরআনের মতো একটি গ্রন্থ লিখা মানুষের পক্ষে সত্যি সত্যি অসম্ভব। এমনকি কুরআনের ভাষা ও বাচনভঙ্গিও অন্য যেকোনো গ্রন্থ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তাছাড়া কুরআনের মধ্যে যে তথ্য আছে তার সঠিক ব্যাখ্যা আজ পর্যন্তও কেউ দিতে পারেনি। কেউ বলে কুরআন হচ্ছে মুহাম্মদের বাণী; কেউ বলে ইহুদী রাবাইদের বাণী; কেউ বলে খ্রীষ্টান পাদ্রীদের বাণী; কেউ বলে স্যাটানের বাণী; কেউ বলে মৃগী রোগীর বাণী; কেউ বা আবার বলে মুহাম্মদের কোনো এক সেক্রেটারির বাণী! তার মানে কুরআন বিরোধীরাই আজ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে ঐক্যমতে পৌঁছতে সক্ষম হয়নি। সকালবেলা কুরআনকে মুহাম্মদের বাণী বলে দাবি করা হয়। ভালো কথা। কিন্তু দুপুর হতে না হতে মত পাল্টে যায়! তখন কুরআন হয়ে যায় ইহুদী রাবাইদের বাণী। বিকেলবেলা হয় খ্রীষ্টান পাদ্রীদের বাণী। ডিনারের সময় হয় স্যাটানের বাণী। মাঝরাতে আবার হয়ে যায় মৃগী রোগীর বাণী। এ নিয়ে সারারাত জেগে কোনো কুল-কিনারা না পেয়ে ভোরবেলা হতাস হয়ে হয়তো বলা হয়: কুরআন আসলে উপরোল্লেখিত সকলেরই বাণী! প্রকৃত মৃগী রোগী যে কারা, তা সাধারণ বোধসম্পন্ন যেকারো বোঝার কথা। দশজন কুরআনের সমালোচককে যদি আলাদা আলাদা ভাবে মন্তব্য করতে বলা হয় সেক্ষেত্রে তারা হয়তো দশ রকম উপসংহারে পৌছবে। মানব জাতির ইতিহাসে দ্বিতীয় কোনো গ্রন্থ সম্পর্কে এমন অদ্ভুত ও বিক্ষিপ্ত মতামত নেই। কুরআনের সমালোচকরাই আসলে প্রমাণ করে দিয়েছে যে, কুরআন কোনো মানুষের বাণী হতে পারে না। কিন্তু একই কথা কুরআনে বিশ্বাসীরা বলতে গেলেই দোষ!

এবার ট্রিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হচ্ছে: এই মহাবিশ্বের যে কোনো স্রষ্টা নাই, তার স্বপক্ষে নাস্তিকদের কাছে অখণ্ডনীয় কোনো যুক্তি বা প্রমাণ আছে কি-না? ওয়েল, তাদের কাছে কোনো যুক্তি-প্রমাণ থাকার প্রশ্নই ওঠে না। আর এ কারণেই তারা বিজ্ঞানের মধ্যে মাথা গোঁজা শুরু করেছে। বিজ্ঞান-ই হচ্ছে তাদের গড! বর্তমান যুগের শিশুদের কাছে যেটি নিছকই একটি টুল, অক্সফোর্ড প্রফেসর রিচার্ড ডকিন্সের মতো নাস্তিকদের কাছেও সেটিই হচ্ছে গড! অধিকন্তু, বিজ্ঞান যেহেতু একটি পরিবর্তনশীল বিষয়, বিশেষ করে প্রোবাবিলিস্টিক ক্ষেত্রে, সেহেতু বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে দর্শনভিত্তিক কোনো বিষয়ে অখণ্ডনীয় কোনো তত্ত্ব বা যুক্তি দাঁড় করাতে যাওয়াটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় অপবিজ্ঞান।

স্রষ্টার অস্তিত্বের পক্ষে যারা প্রমাণ চায়…

আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে যেকেউ স্বীকার করতে বাধ্য যে, এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা সম্পর্কীত প্রশ্নটি (স্রষ্টা আছে কি নেই) যেমন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেমনি আবার এই প্রশ্নের উত্তরও সবেচেয়ে জটিল। আর তা-ই যদি হয় তাহলে একই সাথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে সহজ-সরল ও প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্নের উত্তর জানা অতি আবশ্যক। অন্যথায় সারা জীবন চড়কীর মতো ঘুরপাক খেতে হবে!

যাদের ভিডিও গেমস খেলার অভিজ্ঞতা আছে তারা নিশ্চয় অবগত যে, কিছু কিছু গেমসে খুব সহজ লেভেল থেকে শুরু করে একাধিক লেভেল থাকে। প্রথম লেভেল অতিক্রম করতে না পারলে দ্বিতীয় লেভেলে যাওয়া যায় না। লেভেল যতই বাড়তে থাকে ততই কঠিন হয়। এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার ব্যাপারটাও কিছুটা মাল্টি-লেভেল গেমসের মতো – যেখানে স্রষ্টা সম্পর্কীত প্রশ্নটি হচ্ছে সর্বশেষ লেভেল। কাজেই যারা স্রষ্টার অস্তিত্বের পক্ষে ‘প্রমাণ’ চায় তাদেরকে আগে নিম্নের প্রাথমিক তিনটি লেভেল অতিক্রম করা অতীব জরুরী।

লেভেল-১: স্রষ্টার অস্তিত্বের পক্ষে ‘প্রমাণ’ বলতে আসলে কী বুঝানো হয়? কী ধরণের ‘প্রমাণ’ দেখালে তারা স্রষ্টার অস্তিত্বকে মেনে নেবেন, এবং কেন?

লেভেল-২: বিশ্ববাসীর কাছে তারা নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারবেন কি-না?

লেভেল-৩: এখানে একজনকে দেখিয়ে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা বলে দাবি করা হয়েছে। স্বচক্ষে দেখেও তাকে স্রষ্টা হিসেবে মেনে না নেওয়ার পেছনে যৌক্তিক ও নৈর্ব্যক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।

এই তিনটি লেভেল অতিক্রম না করে মুসলিমদের কাছে স্রষ্টার অস্তিত্বের পক্ষে প্রমাণ চাওয়া আর মাল্টি-লেভেল গেমসের ক্ষেত্রে প্রাথমিক লেভেল অতিক্রম না করে সর্বশেষ লেভেলে যাওয়ার চেষ্টা করা একই কথা। এমনকি সেটা অসততাও বটে।

domain generator Emfreepexrigdans

৭ comments

Skip to comment form

  1. 6
    Sadiqul Amin

    SM Raihan bhai apnar lekha pore ami pulokito, jazakallahu khairan.

  2. 5
    এস. এম. রায়হান

    যুক্তি ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ধাপে ধাপে স্রষ্টার সন্ধান

    ধাপ-১: প্রথমেই যুক্তি ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে -- জীবজগত-সহ এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা থাকার প্রয়োজন আছে কি-না। যাদের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মহাবিশ্বের কোনো স্রষ্টা নাই বা থাকার প্রয়োজন নাই, তাদেরকে এখানেই থেমে যেতে হবে। এর পরও তারা যদি তাদের এই অ-বিশ্বাসকে প্রমাণ করার চেষ্টা করে তাহলে তারা স্রেফ অজ্ঞ-মূর্খ হিসেবে বিবেচিত হবে। কেননা কোনো কিছুকে আগেই 'নাই' ধরে নিয়ে সেটিকে আবার 'নাই' প্রমাণ করতে যাওয়াটা নির্বুদ্ধিতা ছাড়া কিছুই নয়। আর যাদের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা আছে বা থাকার প্রয়োজন আছে তারাই কেবল দ্বিতীয় ধাপে যেতে পারেন।

    ধাপ-২: আপনাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা আছে। কিন্তু এখানে থেমে না থেকে সেই স্রষ্টার স্বরূপ বা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে চান। ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে মাত্র দুই ধরণের স্রষ্টার ধারণা পাওয়া যায়: দৃশ্যমান স্রষ্টা ও অদৃশ্য স্রষ্টা। এবার যুক্তি ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনারা দৃশ্যমান স্রষ্টা নাকি অদৃশ্য স্রষ্টায় বিশ্বাস করতে চান। যারা দৃশ্যমান স্রষ্টায় বিশ্বাস করতে চান তাদের জন্য ধাপ-৩, আর যারা অদৃশ্য স্রষ্টায় বিশ্বাস করতে চান তাদের জন্য ধাপ-৪ প্রযোজ্য।

    ধাপ-৩: দৃশ্যমান স্রষ্টার অনেক উদাহরণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দু’জন হচ্ছেন কৃষ্ণ ও যীশু। এবার যুক্তি ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ভেবে দেখুন আপনি কৃষ্ণ নাকি যীশু নাকি হোরাস নাকি অন্য কাউকে এই মহাবিশ্বের দৃশ্যমান স্রষ্টা হিসেবে বিশ্বাস করবেন।

    ধাপ-৪: অদৃশ্য স্রষ্টার ধারণা পাওয়া যায় মূলত জুদাইজম ও ইসলামে। তবে জুদাইজমে স্রষ্টার কোনো নাম নাই, আর স্রষ্টার নাম না থাকাতে স্রষ্টার বাণী বলেও কিছু থাকার কথা নয়। শুধুমাত্র ইসলামেই স্রষ্টার নাম (আল্লাহ) এবং স্রষ্টার বাণী (কোরআন) আছে। এবার যুক্তি ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে চিন্তা করে দেখুন আপনি জুদাইজমের অজ্ঞাত স্রষ্টা নাকি ইসলামের আল্লাহতে বিশ্বাস করতে চান। ইসলামের আল্লাহর স্বরূপ বা বৈশিষ্ট্য কোরআনে লিপিবদ্ধ করা আছে।

  3. 4
    আহমেদ শরীফ

    ভাল লাগল।

  4. 3
    Tahsin

    ভাই…আমি আপনার লেখার দারুণ ভক্ত। আমি খালি একটা জিনিষ বুঝি, আমরা যারা শিক্ষিত এবং ইসলামে বিশ্বাসীরা আছি, এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পরে, যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য নিয়ে ইসলামের অস্তিত্বকে রক্ষা করা। এর জন্য আমি আপনার সহায়তা কামনা করি। আমি আপনার সাথে যোগাযোগ করতে চাই। আমার মেইল আইডিঃ Saroj_2k6@yahoo.com

  5. 2
    Abdus Samad

    রায়হান ভাই, পোষ্ট দারুণ হয়েছে। ধন্যবাদ।

  6. 1
    ডাঃ মাহফুজ শান্ত

    “মহান স্রষ্টা যে আছেন” আল-কোরআনই তার চিরন্তন জ্বলন্ত প্রমাণ।

    1. 1.1
      এস. এম. রায়হান

      তা ঠিক, তবে যারা কোরআনে বিশ্বাস করে না কিংবা কোরআন সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের জন্য কিন্তু কোরআন কোন প্রমাণ নয়। এজন্য আরো দুটি প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.