«

»

Oct ১৭

সনাতন ধর্মে আস্তিকতা ও নাস্তিকতা-সহ সবই আছে!

যুক্তিবাদীদের কাছে ব্যাপারটা অবাক লাগার মতো মনে হলেও আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে হিন্দুদের দাবি অনুযায়ীই হিন্দু ধর্মে আস্তিকতা, নাস্তিকতা, একেশ্বরবাদ, বহুশ্বরবাদ, নিরীশ্বরবাদ, ও সর্বেশ্বরবাদ-সহ সবই আছে – তবে হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ দর্শন হচ্ছে নাস্তিকতা। এমনকি হিন্দুদের কারো কারো দাবি অনুযায়ী ভালো কাজ করলে নাস্তিকরাও স্বর্গে যাবে! আমার কথা কারো বিশ্বাস না হলে আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে হিন্দুদেরকেই জিজ্ঞেস করে দেখা যেতে পারে। দেখবেন তারা অস্বীকার করতে পারবে না। মুক্তমনা ও আমু ব্লগে একাধিকবার এই ধরণের দাবি করা হয়েছে।

এজন্য হিন্দুরা কেউ পুরোপুরি তাদের ধর্ম ত্যাগ করতে পারে না, যেহেতু আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলের জন্যই মূলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আর হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ দর্শন যেহেতু নাস্তিকতা সেহেতু হিন্দুদের মধ্যে যারা নিজেকে 'নাস্তিক' দাবি করে নাস্তিকতার পক্ষে লেখালেখি করছে তারাই প্রকৃত হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী, এবং তারা আসলে হিন্দু ধর্মের পক্ষেই প্রচারণা চালাচ্ছে। বাস্তবেও এর সত্যতা লক্ষ্য করা যায়। হিন্দু নাস্তিকদেরই কেউ কেউ সুযোগ বুঝে হিন্দু ধর্মকে নতুন করে লাইমলাইটে নিয়ে এসে ইসলামের অনেক উপরে উঠিয়ে দিয়েছে, এবং সেই সাথে মুসলিম নামধারীদেরকে বিজ্ঞানের নামে নাস্তিকতায় ধর্মান্তরিত করে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী উগ্রমনা বানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী হতে হলে হিন্দু ধর্মের ধর্মগ্রন্থগুলোকে স্রষ্টার বাণী হিসেবে বিশ্বাস না করলেও চলে, যেহেতু তাদের ধর্মগ্রন্থগুলো স্রষ্টার বাণীই নয়। এই ব্যাপারটা অনেকেই হয়তো জানেন না। এমনকি হিন্দুত্ববাদের জনক সাভারকার একজন নাস্তিক ছিলেন। সাভারকারের হিন্দুত্ববাদী মিশনের একটি উদ্দেশ্য ছিল অন্যান্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হিন্দুদেরকে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। দেখুন-

He [Savarkar] launched a movement for religious reform advocating dismantling the system of caste in Hindu culture, and reconversion of the converted Hindus back to Hindu religion. Savarkar created the term Hindutva, and emphasized its distinctiveness from Hinduism which he associated with social and political disunity. [সূত্র]

অথচ উচ্চ শিক্ষিত হিন্দুদের মধ্যে কিছু সুযোগ সন্ধানী নিজেদেরকে 'নাস্তিক' দাবি করে কথায় কথায় ইসলামের সাথে হিন্দু ধর্মকে প্রতিযোগীতায় বা তুলনায় নিয়ে এসে কোরআনের সাথে হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোকে গুলিয়ে ফেলে খুব সুকৌশলে অসচেতন লোকজনের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

প্রশ্ন হচ্ছে একটি ধর্মে এতগুলো সাংঘর্ষিক মতবাদ এলো কীভাবে, আর এর পেছনে উদ্দেশ্যই বা কী? এই প্রশ্নের উত্তর বেশ মজার। কিছু উদাহরণ দিলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে।

প্রথমত- ভারতের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন বিষয়ে নিজ নিজ মতবাদ দিয়েছেন যেগুলোর প্রায় সবই হিন্দু ধর্মের সাথে যুক্ত হয়ে গেছে। এখন এসে সেগুলোকে পৃথক করা প্রায় অসম্ভব। এজন্যই তাদের ধর্মের নামে শত শত ধর্মগ্রন্থ আর সাংঘর্ষিক মতবাদ দেখা যায়।

দ্বিতীয়ত- কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণ পুরোহিতরা বিরোধীদের [উদাহরণ হিসেবে চার্বাকদের কথা বলা যায়] সাথে যুক্তি-তর্কে সুবিধা করতে না পেরে বিরোধীদের মতবাদকেও হিন্দু ধর্মের সাথে যুক্ত করার কথা বলেছেন [সূত্র]। তবে তা স্রেফ মৌখিক, ধর্মগ্রন্থ-ভিত্তিক নয়। কেননা গীতাতে নাস্তিকদেরকে ঠিকই বাঁশ দেওয়া হয়েছে

তৃতীয়ত- বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তর ঠেকাতে গৌতম বুদ্ধকে হিন্দু ধর্মের "বিষ্ণুর দশম অবতার" বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবতার [মানুষরূপী ঈশ্বর] সম্পর্কে যাদের কোনো ধারণা নাই তারা এখানে থেকেই ব্যাপারটা আঁচ করতে পারবেন – কিছু মানুষের উপর মিথ্যা আরোপ। গৌতম বুদ্ধের [একজন মানুষ] মৃত্যুর পর তাঁকে অবতার বা মানুষরূপী ঈশ্বর বানিয়ে দেওয়া হয়!

চতুর্থত- ইসলাম ও খ্রীষ্ট ধর্মে ধর্মান্তর ঠেকাতেও কিছু ব্রাহ্মণ পুরোহিতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। উদাহরণ হিসেবে "যত মত তত পথ" এর প্রবক্তা রামকৃষ্ণের কথা বলা যেতে পারে। এ ব্যাপারে স্বামী বিবেকানন্দের ভূমিকাও অস্বীকার করা যায় না।

এ'রকম বেশ কিছু কারণে হিন্দু ধর্ম এমন এক জগাখিচুড়িতে পরিণত হয়েছে যে, হিন্দুদের মধ্যে কে হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী আর কে অবিশ্বাসী, কিংবা কে প্রকৃত আস্তিক আর কে প্রকৃত নাস্তিক – তা তাদের ধর্ম দিয়ে বিচার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য তারা বিভিন্ন নৈতিক ইস্যুতেও শক্ত কোনো অবস্থান নিতে পারে না।

এইসব হতভম্বতা ঠেকাতে উচ্চ শিক্ষিত হিন্দুরা বলা শুরু করেছে এই বলে যে, হিন্দু ধর্ম একটি 'সহনশীল ধর্ম' যেখানে সকল প্রকার মত ও পথকে গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে ইসলাম একটি 'অসহনশীল ধর্ম' যেখানে নাস্তিকতার কোনো স্থান নেই। উইকিতে লিখা আছে-

Generally, atheism is valid in Hinduism, but some schools view the path of an atheist to be difficult to follow in matters of spirituality. [সূত্র]

দেখলেন তো, নাস্তিকতাও হিন্দু ধর্মে বৈধ! যারা "নাস্তিকতা কোনো ধর্ম নয়" দাবি করে মুসলিমদেরকে বিভিন্নভাবে উপহাস-বিদ্রূপ করছে তাদের লেঞ্জা পুরোপুরি উন্মোচিত হয়েছে। এজন্য লক্ষ্য করলে দেখা যাবে হিন্দু নাস্তিকরা কোরআনে মৃত্যুপরবর্তী জীবনে অবিশ্বাসীদের সম্পর্কে আয়াতগুলো বারংবার প্রচার করে ইসলামকে একটি 'অমানবিক' ও 'অসহনশীল' ধর্ম হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও গীতাতে যে অবিশ্বাসীদেরকে চরমভাবে আক্রমণ করে অনন্তকালের জন্য শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে সেগুলো তারা বেমালুম চেপে যায়।

মজার ব্যাপার হচ্ছে হিন্দু আস্তিকরাও সহসা নাস্তিকতা বা নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কিছু বলে না। বরঞ্চ তারা নাস্তিকদেরকে প্রচ্ছন্নভাবে সমর্থনই দেয়। তাদের কাছে যদি সত্য-মিথ্যা ব্যাপারটা স্পষ্ট হতো কিংবা নিদেনপক্ষে তারা যদি সত্য-মিথ্যাকে গুরুত্ব দিত তাহলে যৌক্তিক ও নীতিগত কারণে নাস্তিকদেরকে সমর্থন দেওয়ার কথা না। আসল কথা হচ্ছে আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে তাদের মূল নীতিই হচ্ছে- যেকোনো ভাবে ইসলামকে ঠেকাও, এমনকি নিজের বোঁচা নাক আরেকটু বোঁচা করে হলেও, যা আসলে উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানসিকতা।

৫৭ comments

Skip to comment form

  1. 22
    এস. এম. রায়হান

    একজন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীর স্ট্যাটাস এখানে তুলে দেয়া হলো-

    আবির রয়

    November 3 at 11:04am

    নাস্তিকতা হিন্দুধর্মে কখনোই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং নাস্তিকতা এর দর্শন ও গ্রন্থগুলোর বিশাল এক অংশ জুরে আছে। আমাদের ঋষিরা যবে থেকে এই নিরীশ্বরবাদী (জড়বাদী বা বস্তুবাদী) চিন্তা ভাবনা শুরু করছে তখন মুহম্মদ তো দুরের কথা, খ্রীষ্টের জন্মও হয়নি।

    প্রাচীন কাল থেকেই হিন্দুধর্ম খুব স্বাভাবিক ভাবেই নাস্তিকতাকে গ্রহন করেছে। এই মতকে এত সহজ ভাবে মেনে নিয়ে প্রচারের সুযোগ দিয়েছে এমন ধর্ম ইতিহাস ঘাটলেও পাওয়া যাবে না। যত ধর্মই দেখা যায়, সবই কেবল "নাস্তিক কোতল করো" মন্ত্রে দীক্ষিত।

    নাস্তিকদের এই ধর্ম কখনো শত্রু ভাবেনি তাই হিন্দুদের নাস্তিক হত্যার দরকার নাই। কোনদিন দরকার হবেও না। কারন এসবই হিন্দু ধর্মে বৈচিত্রময়তা এনেছে।

    সূত্র- https://www.facebook.com/aabir.roy.90/posts/1736855466542550

    মুক্তমনা ও আমু ব্লগ-সহ বাংলা অন্তর্জালে একই ধরণের কথাবার্তা অনেকেই অনেকবার বলেছে। অভিজিৎ রায় জীবনেও কখনো এগুলোর প্রতিবাদ করেনি। বুদ্ধিমানদের জন্য নাকি ঈশারাই যথেষ্ট।

  2. 21
    এস. এম. রায়হান

    নাস্তিকরাই যেভাবে নাস্তিকতাকে একটি ধর্ম বানিয়েছে:

    -- নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম না হতো তাহলে- কেউ নাস্তিকতার সমালোচনা করলে তার উপর নাস্তিকরা ঝাঁপিয়ে পড়ত না। কিন্তু নাস্তিকরা নাস্তিকতার সমালোচকদের উপর অহরহ ঝাঁপিয়ে পড়ে, ব্যক্তি আক্রমণ করে। এমনকি নাস্তিকতার সমালোচকদেরকে নাস্তিকতা সম্পর্কে অজ্ঞ-মূর্খ-ইত্যাদিও বলা হয়।

    -- নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম না হতো তাহলে- রিচার্ড ডকিন্স বা কোনো পশ্চিমা নাস্তিকের সমালোচনাকারীকে বাংলা নাস্তিকরা গালিগালাজ বা হেয় করত না। কিন্তু বাংলা নাস্তিকদের অনেকেই এটা করছে। নাস্তিকতা নামক ধর্মের সুবাদেই পশ্চিমা [সাদা চামড়ার] ডকিন্স গং এখন বাংলা নাস্তিকদের কাছে 'ধর্মের ভাই' বা গুরু হয়ে গেছে। এজন্য ডকিন্স গং-এর লেখার যৌক্তিক সমালোচনা করলেও বাংলা নাস্তিকদের অন্তরে চোট লাগে।

    -- নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম না হতো তাহলে- আস্তিকরা সব ভাইরাসে আক্রান্ত জঙ্গী-সন্ত্রাসী-বাল-ছাল আর নাস্তিকরা একে-অপরের 'ভাই-দাদা' হতো না। নাস্তিকতা নামক ধর্মের সুবাদেই তারা ধর্মের ভাই-দাদা হতে পেরেছে।

    -- নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম না হতো তাহলে- নাস্তিকানুভূতিতে আঘাতের কোনো প্রশ্ন আসত না। কিন্তু নাস্তিকরা প্রায়ই নাস্তিকানুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ করে।

    -- নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম না হতো তাহলে- ধর্মের বিকল্প কখনো নাস্তিকতা হতো না। যেমন, ধর্মের বিকল্প কখনো বিজ্ঞান বা সাহিত্য হয় না। ধর্মের বিকল্প কেবল ধর্মই হয়।

    -- নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম না হতো তাহলে- পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করা কখনো নাস্তিকদের কাছে 'অশ্লীল, কুৎসিত, জাত গেল, জাত গেল' কাজ মনে হতো না। কোনো ধর্মে বিশ্বাসীদের কাছেই কেবল এই ধরণের বিয়েকে 'অশ্লীল, কুৎসিত…' কাজ মনে হতে পারে।

    -- নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম না হতো তাহলে- [আজ থেকে চৌদ্দশ’ বছর আগে] কে কতগুলো বিয়ে করেছেন, কে এক রাতে কত জনের সাথে শুয়েছেন, এই ধরণের ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলো নাস্তিকদের কাছে মাথা ব্যথার কারণ হতো না।

    -- নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম না হতো তাহলে- ব্রাহ্মণ পুরোহিতরা নাস্তিকতাকে তাদের ধর্মের অন্তর্ভূক্ত করার কারণে বাংলা নাস্তিকরা তার প্রতিবাদে ফেটে পড়ত। অথচ বাংলা নাস্তিকরা আজ পর্যন্তও কোনো রকম প্রতিবাদ তো করেইনি, বরঞ্চ কেউ কেউ সমর্থনই দিয়েছে। তার মানে বাংলা নাস্তিকরা মৌনভাবে এটাকে মেনে নিয়েছে।

    -- নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম না হতো তাহলে- হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ দর্শন নাস্তিকতা [সূত্র: মুক্তমনা ব্লগ] হতো না। এমনকি নাস্তিক-অধ্যুষিত মনা ব্লগে তাদের গুরুদের একজন অনেক আগে এই দাবি করার পরও এতদিন ধরে নাস্তিকদের কেউ চুপচাপ থাকত না।

    -- নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম না হতো তাহলে- একজন বিখ্যাত ব্রাহ্মণ আস্তিক দীর্ঘদিন আগে "ভালো কাজ করলে নাস্তিকরাও বেহেশতে যাবে" ফতোয়া দেওয়া সত্ত্বেও নাস্তিকরা এতদিন ধরে মৌন ভূমিকা পালন করত না। বরঞ্চ বেহেশতের লোভে দু'জন নাস্তিক তাকে ফুল, থাম্বস আপ, ও স্টার দিয়ে সরাসরি সমর্থনই দিয়েছে! [সূত্র: আমু ব্লগ]

    -- সর্বোপরি, নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম না হতো তাহলে- নাস্তিকতাকে মিশন্যারী পন্থায় প্রচার করা হতো না। কিন্তু নাস্তিকরা ধর্মের মতো করে নাস্তিকতা প্রচার করছে।

    ইত্যাদি। ইত্যাদি। কাজেই স্পষ্টতই প্রমাণ হচ্ছে যে, নাস্তিকরাই নাস্তিকতাকে একটি ধর্ম বানিয়েছে বা ধর্ম হিসেবে মেনে নিয়েছে। এখন এসে মাইনকা চিপায় পড়ে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি বলে ধর্মান্ধের মতো আবুল-তাবুল প্রলাপ বকে কোনো লাভ হবে না। তবে অন্যান্য ধর্মের সাথে নাস্তিকতা নামক ধর্মের পার্থক্য হচ্ছে, সেটি হচ্ছে নাস্তিকরা তাদের ধর্মগ্রন্থের নাম বলার সাহস পায় না। কেননা তারা খুব ভালো করেই অবগত যে, মানব জাতির ইতিহাসে যেকোনো গ্রন্থের নামই তারা বলুক না কেন, কোরআনের কাছে সেটি ঝড়া পাতা প্রমাণ হবে।

    মাইনকা চিপায় পড়া নাস্তিকদের আবুল-তাবুল কিছু প্রলাপ দেখুন (ফ্রী বিনুদুন):

    ——————————————————————————————--

    ১. নাস্তিক্যবাদ ধর্ম হলে “অফ” বাটনকে টিভি চ্যানেল বলতে হয়।
    ২. নাস্তিক্যবাদ ধর্ম হলে টাককে বলতে হয় চুলের রং।
    ৩. নাস্তিক্যবাদ ধর্ম হলে স্ট্যাম্প না জমানোকে হবি বলতে হয়।
    ৪. নাস্তিক্যবাদ ধর্ম হলে বাগান না করাও একটি শখ, ক্রিকেট না খেলাও একটি ক্রীড়া, কোকেইন সেবন না করাও একটি নেশা।
    ৫. নাস্তিকতাও একটি বিশ্বাস হলে বোবা লোককে ‘ভাষাবিদ’ হিসেবে ডাকতে হয়।
    ৬. নাস্তিকতাও একটি বিশ্বাস হলে দন্তহীন ব্যক্তিকে ‘দাঁতাল’ আখ্যা দিতে হয়।
    ৭. নাস্তিকতাও একটি বিশ্বাস হলে উপোস থাকাকেও এক ধরনের ‘খাদ্যগ্রহণ’ বলতে হয়।
    ৮. নাস্তিকতা একটি বিশ্বাস কিংবা ধর্ম হলে চাকরী না করাটাও একটি পেশা।
    ৯. নাস্তিকতা একটি ধর্ম হলে বই না পড়াকেও বলতে হয় ‘পাঠাভ্যাস’।
    ১০. নাস্তিকতা বিশ্বাস হলে পোষাক খুলে ফেলাটাও এক ধরনের পোষাক পরিধান।
    ১১. নাস্তিকতা ধর্ম হলে চশমা না পরাটাও এক ধরনের সানগ্লাসের ফ্যাশান।
    ১২. নাস্তিকতা একটি বিশ্বাস হলে চিরকৌমার্যও বিবেচিত হওয়া উচিৎ এক ধরনের ‘বিবাহ’ হিসেবে।
    ১৩. নাস্তিকতা একটি বিশ্বাস হলে নির্লোভী থাকার চেষ্টাকেও এক ধরনের ‘লোভ’ বলতে হয়।
    ১৪. নাস্তিকতা একটি ধর্ম হলে নিরোগ স্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়াটাও এক ধরনের রোগ!

    কার্টেসি: অভিজিৎ রায়

  3. 20
    Tamanna

    আসসালামু আলাইকুম …

    সবাই কেমন আছেন ? আমার কমেন্টস পোস্ট হলো না কেন ???? হতে পারে অনেক পুরোনো কমেন্টস এর রিপ্লাই দিয়েছি … তবুও ….

    ধন্যবাদ …

    আল্লাহ্ হাফেজ …

  4. 19
    Tamanna

    আসসালামু আলাইকুম …

    অাদাব…

    কেমন আছেন আপনারা সবাই ? আমি বেশ মজা পাচ্ছি সবার মন্তব্য পড়ে …সেই সাথে একটু খারাপও লাগছে । সত্যি ভাবাই যায় না … সত্যিই …মানুষের মধ্যে থেকে …মানুষকে নিয়ে কতজনে কত রকম মন্তব্য করে বেড়াচ্ছে …সত্যি করে আপনারা সবাই বলুন তো ? কোন ধর্ম-তে কি বলা আছে যে আপনারা মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন ? আমার তো মনেই হয় না যে এমনটা বলা আছে কোথাও। তবে কেন আমরা সবাই এমন অমানবিক আচরণ করি ???? কোন ধর্ম-তে নেই যে তোমরা কারো ক্ষতি কর । অথচ আমরা সবাই কোন না কোন ভাবে মানুষের ক্ষতি করেই চলেছি। কারো সামনে থেকে ..আর কারো আড়ালে থেকে …। কোন ধর্ম-তে কি বলা আছে ? যে- তোমরা মেয়েদের অত্যাচার কর বা মেয়েরা ছেলেদের অত্যাচার করুক । নাহ্ কোথাও নেই । তারপরও আমরা বিয়ের পরও স্বামী থাকতেও বা স্ত্রী থাকতেও অন্য মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হই । কেন ?????? এটা কি পাপ না ? আমরা সবাই যে যার ধর্ম (নিজের ধর্ম) সম্পর্ক-এ জানি …জেনেও কি আমরা তা পরিপূর্ণভাবে পালন করি ???

    সেজন্য আস্তিক নাস্তিক বিষয়টা বড় নয় … আগে আমাদের পরিপক্ক মানুষ হতে হবে । আমরা সবাই স্বাধীনভাবে বাস করি । স্বাধীন মতামতে চলতে পছন্দ করি । তবে কেন অাস্তিক নাস্তিকদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করার সুযোগ দেবনা ? থাকতে দিন না তাদের মতামত , চাওয়া পাওয়া নিয়ে তাদের মত করে । আর কে পুরোপুরি আস্তিক …কে নাস্তিক সেটা বিচার করবার মত আমরা কে ? বিচার তো করবেন তিনি যিনি অামাদের সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্ তায়ালা …হিন্দুদের ভগবান ….খ্রিষ্টানদের যীশুখ্রিষ্ট ….আরো যা ধর্ম আছে তারাই করবেন বিচার ।

    আমরা খুবই সামান্যতম রুপে জীব… আমাদের বলা হয় মানুষ । আমরা হলাম আল্লাহ্ তায়ালার শ্রেষ্ঠ জীব । আমাদের বিবেক,বুদ্ধি,মর্যাদা,হাত ,পা, মুখ, নাক ,কান গলা ব্যবহার করার শক্তি …সবই আল্লাহ্ আমাদের দিয়েছে। কারণ আমরা বোবা প্রাণি নই । অথচ আমরা বোবা প্রাণির চেয়েও অধর্ম। আমরা ধর্ম সম্পর্ক-এ জানবো কিন্তু পরিপক্কভাবে মানবো না …নিজেরাই নীতি বানিয়ে চলবো ….এটাই হলো আমাদের …মানুষদের সবচেয়ে বড় সমস্যা । আমার একটাই কথা ধর্ম জানো…সেইভাবে ধর্ম মানো…। দেখবেন চারিদিকে শান্তি আর শান্তি…….।

     

    ধন্যবাদ ….

     

    আল্লাহ্ হাফেজ ……..

  5. 18
    সজীব

    এক ধর্ম অন্য ধর্মের সাথে তুলনা চলে না। নিজে ধর্ম নিয়ে ভালোমতো চলতে পারছি কি না সেটাও দেখতে হবে।

  6. 17
    skd

    যারা মনে করে যে হিন্দুত্ব বেশিদিন টিকবে না তারা হচ্ছে মুর্খ । 
    যদি তারা ভাবে যে চারিদিকে ইসলামি সাম্রাজ্যের প্রসার ঘটাবে , তারা মিথ্যে স্বপ্ন দেখছে ,স্বপ্ন দেখা ভালো কিন্তু অবাস্তব স্বপ্ন দেখা উচিৎ নয় ।
    আর যারা অন্যকে খারাপ বলে তারা নিজেরা কি ? তাদের হাত নিরীহ কমজর মানুষের রক্তে রাঙা ।    আর সনাতনের কথা ?
    সনাতন মানে সত্য । সত্য অমর । যতোদিন পৃথিবী থাকবে ততোদিন সনাতন থাকবে । মানছি কিছু  ভন্ড ও মিথ্যুক  ধর্মিয় নেতারা যুগ যুগ ধরে 
     সনাতনকে বিকৃতো করেছে ও করার চেষ্টা করেছে । তবে মানুষকে বারবার অন্ধকার থেকে মুক্ত করার জন্য  রামকৃষ্ঞ দেব, বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন,
    চৈতন্য দেব,বিদ্যাসাগরের মতো মহাপুরুষরা জন্মেছে ও ভবিষ্যতে জন্মাতে থাকবে । যারা কিছু  ভন্ড ও মিথ্যুক  ধর্মিয় নেতাদের দেখে ভাবে যে  এবার সনাতনকে
    ধ্বংসো করা যাবে, তারা মিথ্য স্বপ্ন দেখে । কতো  এলো  কতো গেলো যারা সনাতনকে ধ্বংসো করার কথা ভেবে ছিলো ,উল্টে তারাই ধ্বংসো হয়ে গেছে ।
      সময় বোলবে কে টিকবে আর কে টিকবে না ।

  7. 16
    এস. এম. রায়হান

    নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম-ই না হবে তাহলে নাস্তিকতার যৌক্তিক সমালোচনা করা হলেও এক শ্রেণীর নাস্তিক লাঠি-সোটা-গালি নিয়ে তেড়ে এসে নাস্তিকতাকে ডিফেন্ড করে কেনো? নাস্তিকতাকে ধর্মের মতো করে প্রচার করে কেনো? মুসলিমদেরকে নাস্তিকতায় ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করে কেনো? হ্যাঁ, এই রহস্য ইতোমধ্যে উন্মোচিত হয়ে গেছে। হিন্দু ধর্মে নাস্তিকতাও আছে, যদিও ব্যাপারটা পুরোপুরি শুভঙ্করের ফাঁকি!

    মজার ব্যাপার হচ্ছে একই ভণ্ডরা একদিকে নাস্তিকতাকে লাঠি-সোটা-গালি দিয়ে ডিফেন্ড করছে, ধর্মের মতো করে প্রচার করছে, অন্যদিকে আবার মুসলিমরা যখন "নাস্তিকতাও একটি ধর্ম" বলে দাবি করছে তখন তারা (ভণ্ডরা) মুসলিমদের নিয়ে বিভিন্নভাবে উপহাস-বিদ্রূপ করে বলছে, "নাস্তিকতা কোনো ধর্ম নয়! হেঁহেঁহেঁ!" ভণ্ডরা কতদিক সামাল দিতে চায়!

  8. 15
    Nila

    ফুয়াদ দীনহীন ভালো লাগলো ভাইয়া আপনার মন্তব্য । আমার কাছে ইসলামের বিরূদ্ধে কোনো ঘেণ্না কিংবা বিতৃষ্ণা নেই । তবে এই ধর্মটাকে ভয়ঙ্কর করে তুলেছে আপনাদেরই ধর্মের মানুষ । সৃষ্টিকর্তা কিংবা ধর্মগ্রন্থ নিয়ে কেউ যদি আঙুল তোলে , বিশাল অপরাধ হিসেবে ধরা হয় । কিন্তু কেন ? বলুক না , তাতে কি হয় ? সত্যের পথে যে চলে , ন্যায়-নীতি যে যেভাবে মানুক , আর নাই মানুক তাতে কেন মিছিল-আন্দোলন-হত্যা-অত্যাচার করা হবে ? 
    এই যে এস.এম. রায়হান আমার বাবা-মাকে কতো অসম্মান করে বলেছেন , তাতে কি আমার বাবা-মায়ের সম্মানহানি হলো ? সত্যের পথে যে থাকে , তাকে যা ইচ্ছে তা-ই বলুক , সেই মানুষের কিছু হয়না । তবে যে বলে তার মুখ নষ্ট হয় ।
    এবার আসি আপনার দেয়া উত্তরগুলোর মন্তব্যে । নারী-পুরুষের সম-অধিকার ইসলামে নেই , এটা আমার বন্ধুরাই বলে । এদের মতে "আমাদেরকেই হিজাব-বোরখা পড়ে থাকতে হয় । যতোই আমি পর্দানশীন , ততোই ভালো মেয়ে ।" আমার এই বান্ধবীটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে , পবিত্র কোরআন তেলওয়াৎ করে ।
    একটা কথা বলে নেই , আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়তাম , ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটা অনুষ্ঠানে কবিতা খেয়াপাড়ের তরণী আবৃত্তি করে প্রথম হই । কিন্তু হিন্দু বলে  আমাকে সার্টিফিকেট দেয়া তো দূরের কথা , বললো হিন্দুদের জন্যে এ অনুষ্ঠান নয় । তবে আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক যিনি অসম্ভব নামাজী মানুষ , তিনি তাঁদের এমন ব্যবহারের কারণে আমাকে বলেছিলেন "মা কষ্ট নিওনা । এখানেই আমাদের ধর্মের পরাজয় । এরা প্রতিভা দেখে কম , ধর্ম দেখে বেশী ।" 
    আর শান্তির কথা বলা ছেড়েই দেই । আমাদের দেশে হিন্দুরাই অত্যাচারিত হচ্ছে সকল সময় । ১৯৯২ সালে বাবরী মসজিদ কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুরা ভাঙ্গেনি । সকলে বলবে মুসলমানেরাও অত্যাচারিত হচ্ছে ।  কারা করছে শুধু কি রাজনীতির কারণে ? আচ্ছা রাজনীতি কারা করে ? আমরাই তো , নাকি ? বাংলাদেশের হিন্দুদের বলা মালাউন , সংখ্যালঘু । কারা জন্ম দিয়েছে এই শব্দ দুটির ?
    ব্লগে কি লেখা হয়েছে , না হয়েছে জানি না । এও জানি আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই জানেনা কি কারণে হিন্দুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে । সবসময় যা কিছু হয় , মার খায় হিন্দুরাই । কষ্ট হয় ভাবতে জীবনের এই বয়সে এসে অসাম্প্রদায়িক এই আমি সাম্প্রদায়িকের মতো ভাবনা নিয়ে লিখছি । 

    1. 15.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      @নীলা দিদি,
      রায়হান ভাইয়ের হয়ে আমি আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আপনি যে সব প্রশ্ন করেছেন, সেগুলো তো অনেক গভীর প্রশ্ন। কেন মানুষ এসব করে, কেন মানুষ ঐসব করে না, ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর মানুষের মনজাগতিক। মানুষের মনের উপর তো হাত নেই, শুধু মানুষকে বুঝানোর চেষ্টা করা সম্ভব। 
       
      যে যত পর্দা করে সে তত ভাল এমন নিতি ইসলামে নেই, তবে এটা হতে পারে যে যত পরেজগার সে তত ভাল, পরেজগার মানে আল্লাহভীতি, এটা ছেলে মেয়ে সবার ক্ষেত্রে প্রযজ্য, সব দিকে আল্লাহ পাকের আদেশ নিষেধ মেনে চলা। কোন একটা অজানা কারণে মেয়েরা বিভিন্ন ভাবে সমাজে ভিক্টিমাইজ হয়। খুব সম্ভবত পুরুষরা অহংকারি হয়ে থাকে এবং নিজেকে সব বিষয়ে নারীদের থেকে শ্রেষ্ট ভাবতে ভালবাসে, যা বাস্তবে সত্য নয়। এজন্য ইসলামকে দোষ দেওয়া চলে না, কারণে এটা মানুষের সমস্যা।
       
      বাকি কথাগুলোর ব্যাপারে বলব, এগুলো আমাদের পরাজয়, মানুষকে প্রতিবেশীদেরকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব, যদি সম্মানীর সম্মান দিতে না পারি, তাহলে তা আমাদের পরাজয়, এগুলো ঠিক বলতে ইসলামের পরাজয় নয়।

      "কষ্ট হয় ভাবতে জীবনের এই বয়সে এসে অসাম্প্রদায়িক এই আমি সাম্প্রদায়িকের মতো ভাবনা নিয়ে লিখছি"-Nila

      মানুষ নিজ সম্প্রদায় নিয়ে চিন্তা করবে, নিজ সম্প্রদায়কে ভালবাসবে এটাই স্বাভাবিক, এগুলো সাম্প্রদায়িকতা হলেও, প্রচলিত অর্থের সাম্প্রদায়িকতা নয়। নিজ সম্প্রদায়ের কথা চিন্তা করে আপনি কোন দোষ করেন নি।

  9. 14
    কিংশুক

    ও তাছাড়া গরীব, দু:স্থদের নিজেদের সম্পদ থেকে যাকাত দিতে হয়, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা গরীব-দু:স্থ তাদেরকে টাকা পয়সা দিয়ে সেবা করতে হয় এমন ধর্মও তাদের অপছন্দ ছিলো। এজন্য হযরত মো: সা: এর ওফাতের পর কিছু মুসলমানও যাকাত দিতে অস্বীকার করে।একারনে তাদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ হয়। হক্ব ও বাতিল, তাগুতের বিরুদ্ধে ইসলামের এই সংগ্রাম চিরকালের।
        ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ। আসলেও তাই। তবে এই আত্মসমর্পণ অর্থ  ইসলামের, মুসলমানদের সকল কিছু আল্লাহ পাক এমনি এমনি করে দিবেন এই আশায় আত্মসমর্পণ করে ঘুমিয়ে থাকা নয়। মিথ্যা বলা, অন্যায়, অপবিত্রতা যেমন সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য নয় তেমনি আল্রাহর সাহায্য পাবার উপযুক্ত না হলে আল্রাহ সাহায্যও করেন না। আল্লাহ'র নির্দেশিত পথে কাজ করে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থণা করলে আল্লাহ পাক সাহায্য করেন আর সেই পথের প্রতি আত্মসমর্পণ করার অর্থই ইসলাম অর্থাত আত্মসমর্পণ্

  10. 13
    কিংশুক

    @ nila, ইসলাম অবশ্যই শান্তির ধর্ম। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) যে সময় আরবে ইসলামে প্রচার করেছিলেন সে সময়টাই আরব ভূমি পাপাচারে ভর্তি ছিলো। সেখানকার অভিজাত, ধনী , গোত্রপতিরা চড়া হারের সুদের কারবার, জুয়া, চুরি, ডাকাতি, লুন্ঠন, ধর্ম ব্যবসা করে নিজেরা আরাম আয়েশে আর গরীব, দূর্বলরা নির্যাতিত, নিপীড়িত, অধিকার হীন পশুর ন্যায় জীবন যাপন করতো। কালো, ক্রীতদাস, নারী, এতিম,  মেয়ে শিশু দের কোন অধিকার ছিলোনা। শক্তিশালীদের সেবা দাস হয়ে নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুর প্রতিক্ষা করা ছাড়া তাদের কোন উপায় ছিলোনা। নবীজি(সা:) এমন এক ধর্মের দাওয়াত দিলেন যেখানে বর্ন, ধনী, গরীব, বংশ নির্বিশেষে সকল মানুষ সমান; ক্রীত দাসেরাও মনিব যা খাবে তাই খাবে, সাধ্যের অতীত কাজ করানো যাবেনা, ক্রীত দাস মুক্ত করে দিলে বিশাল পূন্য, নারীদের প্রতিও কোন অবিচার করা যাবেনা, জোর করে পতিতাবৃ্ত্তি, অন্যের মনোরঞ্জনে ব্যবহার নিষিদ্ধ, সুদ, ঘুষ, জুয়া, চুরি, ডাকাতি, লুন্ঠন, হত্যা সব নিষিদ্ধ। এমন ধর্মের আহ্বানে যখন দলিতরা ইসলাম ক্ববুল করা শুরু করলো তখন সমাজের অভিজাত, ধনী, জালিমদের সকল প্রকার অবৈধ কাজকর্ম, মানুষ ঠকানো বন্ধ হয়ে যাবার হুমকিতে পড়লো। এজন্যই তারা হযরত মো:(সা:) কে, ইসলামকে নির্মূল করে দেয়ার জন্য সকল প্রকার ষড়যন্ত্র, তাদের অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চাপিয়ে দিয়েছিলো। অন্যায় ভাবে কেবল ইসলাম ক্ববুল করার কারনে মুসলমানদের উপর অত্যাচার, হত্যা কান্ড সংগঠিত হচ্ছিলো। ইসলাম কেবল বাতিলের প্রতিরোধ করেছিলো। তাদের অনেকেই হযরত মোহাম্মদ(সা:) কে সত্য নবী, কোরআন কে একমাত্র প্রভূ আল্লাহ'র বানী হিসাবে ঠিকই চিনতে পেরেছিলো কেবল দূর্বলের উপর অত্যাচার করে নিজেদের আভিজাত্য, ধর্ম ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে শেষ পর্যন্ত ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে গেছে।

    1. 13.1
      বনমালি

      কিংসুক
      আপনার উক্ত বক্তব্য দ্বারা কিন্তু প্রমানিত হলো না যে ইসলাম শান্তির ধর্ম।  গায়ের জোরে উচ্চস্বরে চিৎকার করে যদি বলেন -- ইসলাম শান্তির ধর্ম, তাহলে কি সেটা শান্তির ধর্ম হয়ে যাবে ? আপনার ভাব সাব দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। ইসলাম প্রচারের পরও দাস প্রথা বহাল তবিয়তে ছিল তাদের কষ্টের কোন কমতি ঘটে নি। নবি কিছু দাসকে প্রথম দিকে মুক্ত করতে বলতেন কারন তারা মুক্ত হয়ে ইসলাম কবুল করত , যা মুসলমানদের সংখ্যা কিছু হলেও বাড়ত। কিন্তু যখন মুসলমানদের সংখ্যা বেশ বৃদ্ধি পায় তখন দাস মুক্তির এ মহানুভবতা বাদ হয়ে যায়। ইসলাম প্রচারে বিফল হয়ে নবি মক্কা ত্যাগ করে মদিনাতে হিজরত করেন আর সেখানে তার ও তার সাহাবিদের বেচে থাকার জন্য  প্রধান পেশা হয় মদিনার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কুরাইশদের বানিজ্য কাফেলা আক্রমন করে তাদের ধন সম্পদ লুন্ঠন করা ও তা অত:পর গণিমতের মাল হিসাবে ভাগাভাগি করা যাকে সোজা কথায় ডাকাতি করা বলে।  দুনিয়াতে কুরানই একমাত্র কিতাব যাতে ডাকাতিকে একটা মহান পেশা হিসাবে স্বীকৃতি দেযা হয়। কি মহান আল্লাহ , সে তার বিশ্বাসীদেরকে বলছে- তোমরা ডাকাতি কর, কারন সেটা হলো মহান পেশা। হায় রে যাই কোথায় ! যারা প্রাথমিক দিকে মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাদেরকে কুরাইশরা যে সত্যি সত্যি অত্যাচার করে হত্যা করত এমন নজির দু একটা দেখালে সেটা ভাল হতো। এমন কি নবিকেও যে কুরাইশরা কঠিন অত্যাচার নির্যাতন করত এমন নজির দেখানো যাবে ? একটা হাদিসে আছে একবার নবি কাবা ঘরের মধ্যে বসেছিলেন তখন এক লোক উটের নাড়ি ভুড়ি তার গায়ের ওপর ঢেলে দিয়েছিল। এ ছাড়া নবীকে প্রকৃতই কুরাইশরা খুব অত্যাচার করেছে এমন কাহিনী কোথায় লেখা আছে ? কুরাইশদের কোন দাস ইসলাম গ্রহন করলে তারা তাদেরকে মাঝে মাঝে নির্যাতন করত কিন্তু কেন ? কারন তারা কাজ ফাকি দিয়ে ইসলাম পালন করে সময় নস্ট করত। সেকারনে। তো কাজ ফাকি দিলে মনিবরা কি দাসদেরকে চুম্বন করবে ? ইসলাম তার গত ১৪০০ বছরের ইতিহাসে কোথাও প্রকৃত পক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে নি। ইসলাম যেখানেই গেছে সেখানে গণহত্যা , ধর্ষন , ডাকাতি , লুট পাট করে বহু জনপদ ধ্বংস করে দিয়েছে, ধবংস করে দিয়েছে অনেক উচু মানের সভ্যাতা ও সংস্কৃতি। যেমন -- মিশর , ইরান , সিরিয়া , ইরাক ইত্যাদি দেশ।  ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রবেশ করে এখানকার উন্নত মানের সভ্যতা ও সংস্কৃতিও ধ্বংস করে দিয়েছে আর মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছে চরম শত্রুতা যার জের ধরে আজও ভারতে মানুষ প্রতি বছর দাঙ্গা বাধায়।  বর্তমানে ইসলাম সারা দুনিয়ার জন্য এক চরম বর্বর ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে , মানুষ ইসলাম আর মুসলমানের নাম শুনলে ভয়ে আতকে ওঠে। টুপি ও দাড়িওয়ালা মানুষ দেখলে মানুষ ভয় পায়, না জানি কোন বোমা বা অন্য কিছু তার সাথে আাছে কি না। ইসলাম ও সন্ত্রাস বর্তমানে সমার্থক হিসাবে সারা দুনিয়াতে পরিচিত হয়েছে। সেই প্রাথমিক যুগেও ইসলাম ছিল এক সন্ত্রাসের নাম । ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও এটা ছিল আসলে ক্ষমতা দখলের এক আদর্শ। যে কারনে সেই খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগেও খোদ তিন জন খলিফা অত্যন্ত অপমানজনক ভাবে মুসলমানদের হাতে খুন হয়েছে। হযরত আলী তার শ্বাশুড়ি নবির প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশার সাথে যুদ্ধ করেছে আর তাতে মারা গেছে দশ হাজার মুসলমান , যাদের অধিকাংশই খোদ নবির সাহচর্য পেয়েছে। আলীর সাথে ওমর বা ওসমানের শত্রুতা ছিল সর্বজন বিদিত। আলী একবার তার শ্বশুর নবির সম্পদ ফিরিয়ে নিতে আবু  বকরের কাছে গেলে আবু বকর তাকে ফিরিয়ে দেয় যার ফলে আলী ও ফাতিমা উভয়েই আবু বকরকে প্রচন্ড ঘৃনা করতে থাকে।  এসব কাহিনী লিপিবদ্ধ আছে সহি হাদিস যথা বুখারি ও মুসলিমে। অথচ এই আবু বকর , ওমর, ওসমান ও আলীর চরিত্র ও আদর্শকে ইসলামে সবচাইতে বড় আদর্শ হিসাবে গণ্য করা হয়। মনে হয় এজন্যেই বর্তমানকার জামাত ইসলাম , তালেবান বা জে এম বি এর অনুসারীদের চরিত্র এত রুক্ষ কর্ক শ ও নিষ্ঠুর। সুতরাং ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা বর্তমানে সবচাইতে মারাত্মক কৌতুকে পরিনত হয়েছে। দুনিয়াতে এটাই সবচাইতে মারাত্মক কৌতুক এখন।

  11. 12
    Nila

    আমি নাস্তিক-আস্তিক শব্দদুটিকে বিশ্বাস করি…আমি কিন্তু হিন্দু…আর আমাদের মধ্যে একটা জিনিস বেশ দারুণ আর তা হলো ধৈর্য…এই যে গালাগাল দিলেন , তার জন্যে মিছিল-আন্দোলন করে সমস্ত পৃথিবীতে সন্ত্রাসী কাজ চালিয়ে মানুষ মারিনা…কেন মহানবিকে বাজে কথা বলা হলো , এ নিয়ে আপনারাই চিৎকার করেন…তর্কের খাতিরে তর্ক করা খুব সহজ…তবে নিজের কাছে একটাই প্রশ্ন করুন এক ধর্মের জন্যে কতো মানুষের জীবন নিয়েছে মুসলমানরা ? আর ধর্ম নিয়ে মাতামাতি আপনারাই করেন…খুব সহজভাবে বলছি আমি এসব অভিযোগ করছি…নারী-পুরুষের সমান অধিকার আপনাদের ধর্মে বলে…আচ্ছা তাহলে নারীদের জন্যেই কেন কেবল পর্দাপ্রথা ? কেন কন্যাসন্তান মেরে ফেলা হতো আগে ? এখনও হয়…আপনাদের ধর্ম তো শুরুই হয়েছে মারামারি-কাটাকাটি দিয়ে…এসব বলার জন্যে অনেক বাজে কথা বলবেন আপনারা…আর এসব বলতে আপনাদের তখন ধর্ম যায়না…ভারতে হিন্দু মৌলবাদী আছে , তবে তাদের দৌরাত্ম্য আপনাদের মতো নয়…ধর্মকে নয় মানুষের প্রতি সম্মান রাখুন , একজন মানুষ আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করলো , সেটা খেয়াল না করে আমি নিজে কি করলাম সেটাই দেখা উচিত…একেই ধর্ম বলে…জীব-জন্তুদের কোনো ধর্ম নেই…কারণ তারা মানুষ না…মানবতায় বিশ্বাস রাখুন…আমার প্রিয় এবং কাছের সব বন্ধুরা মুসলমান…কিন্তু কোনোদিন ধর্ম নিয়ে কোনো ভেদাভেদ আসেনি…এখনও না…আমার বাবা-মা শিক্ষা দিয়েছিলো , মানুষের প্রতি , বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের প্রতি , প্রতিটি ধর্মস্থানকে সম্মানের সাথে দেখতে…কিন্তু আজ মনে হচ্ছে ভুল করে ফেলেছিলো আমার বাবা-মা…কারণ তারা তখনও জানতো না , আমরা বাংলাদেশী সংখ্যালঘু পরিচয়ে এ দেশে থাকবো…

    1. 12.1
      এস. এম. রায়হান

      এই যে গালাগাল দিলেন…

      এখানে কে কোথায় কাকে গালাগাল করেছে প্রমাণ দেন। তারপর আপনার ধর্ম ও বাবা-মা আপনাকে কী শিখিয়েছে সে বিষয়ে পরে আসছি।

      1. 12.1.1
        বিদ্রোহী

        আপনারা বলেন ইসলাম নাকি সব ধর্মকে সম্মান করে , গালাগাল করে না। কিন্তু দেখুন তো কোরানের নিচের আয়াতগুলো অমুসলিমদের সম্পর্কে কি বলে --
        আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। (সূরা, বাইয়িনাহ, ৯৮:০৬, মক্কায় অবতীর্ণ
         
        সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অতঃপর আর ঈমান আনেনি। (সূরা আনফাল, ৮:৫৫, মদিনায় অবতীর্ণ)

        অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম সে সকল নিদর্শনসমূহের দৌলতে। কিন্তু সে যে অধঃপতিত এবং নিজের রিপুর অনুগামী হয়ে রইল। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। এ হল সেসব লোকের উদাহরণ; যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার নিদর্শনসমূহকে। অতএব, আপনি বিবৃত করুন এসব কাহিনী, যাতে তারা চিন্তা করে। (সূরা আল আরাফ, ০৭:১৭৬)

        বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের আরাধনা করেছে, তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে। (সূরা মায়দাহ, ০৫:৬০)

      2. 12.1.2
        নীলা

        এই যে লিখেছেন হিন্দুদের আস্তিকতা-নাস্তিকতা নিয়ে , সেটা কি ? আর লেখার মন্তব্যগুলো পড়লে কি বোঝা যায় ? এটা কি গালাগাল নয় ? ঠিক এমন করে আপনাদেরকে কিছু বললে কি করতেন , সেটা তো দেশের মানুষ দেখছে । 
        এবার বলি আমার মা-বাবা কি শিখিয়েছে সে বিষয়ে আপনাকে বলার অধিকার দেইনি আমি । আমার ধর্ম মানবতাবাদ , জন্মেছি হিন্দু পরিবারে । শিখেছি মানুষকে সম্মান দেয়া । আর তর্কের খাতিরে তর্ক চালাতে চাইলে প্রশ্নের উত্তরগুলো দিয়ে এরপর যা জানতে চান , সেটা জিজ্ঞাসা করুন । 
        ১) নারী-পুরুষের সমান অধিকারে কেন শুধু নারীদেরকেই পর্দা করতে হয় ? 
        ২) ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয় এর কারণ কি ? (মহানবী জীবিত কালে নিজেই ২৯ টি যুদ্ধে নেতৃত্ত্ব দিয়েছেন আর এমনিতে প্রায় ৮০ টি যুদ্ধ তিনি বেঁচে থাকতে হয়েছে)
        ৩) ইসলাম শব্দের অর্থ আত্মসমর্পনকারী , অথচ আদৌ কি তা ?
        ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন । 

        1. 12.1.2.1
          এস. এম. রায়হান

          আপনার বাবা-মা'কে আপনিই এখানে টেনে নিয়ে এসেছেন, আমি না। ১২ নং মন্তব্য ভুলে গেলে আবার একবার দেখে নিন। আপনার বাবা-মা আপনাকে ভণ্ডামী আর মিথ্যাচার শিখিয়েছেন -- ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে 'মানবতাবাদী' লেবাসে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে ঘৃণা করতে শিখিয়েছেন। আপনার উপরের দুটি মন্তব্যই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। তবে হতাশ হবেন না। আপনি এই লাইনে একা নন, বাংলা ব্লগে আপনার মতো আরো অনেকেই আছে। মুক্তমনা ব্লগে কী নামে লিখেন, বাই দ্য ওয়ে।

        2. Nila

          হাহাহাহাহা…হাসি ছাড়া আর কিছু দিতে পারলাম না…কারণ আপনার মতো মানুষের সাথে আর কথা বলতে রুচিতে বাঁধে…আমার বাবা-মাকে টেনে আনিনি…আমাকে কি শিক্ষা দিয়েছে , সেটাই বললাম…আর ইসলামকে ঘেণ্না শিখিয়েছে বললেন না ? আপনি কি জানেন , তবে সত্যি বলছি আপনার মঙ্গল হোক…সততার সাথে জীবন কাটানো মানুষ দুজনকে যে কথা বললেন । ধর্ম না দেখে গরীব মানুষের পাশে থেকেছেন । পুরো এলাকায় কেউ কোনোদিন বলতে পারবে না আমার বাবা-মা কখনো কারো ধর্মকে ছোট কিংবা অসম্মান করে কথা বলেছেন । ভারতে বারবার যাবার সুযোগ পেয়েও যাননি তারা , কারণ বাংলাদেশ আমাদের দেশ ।
          আমার প্রিয় সব বন্ধুরা সকলেই মুসলিম । কখনো কেউ বলতে পারবেনা আমি ধর্ম নিয়ে কোনো বাজে কথা বলেছি । ধ্যৎ আপনাকে এসব কেন বলছি ? আপনি তো গুরুজনদের সম্মান দিয়েই কথা বলতে পারেন না । আপনার বাবা-মাকে আমার আদাব জানাবেন । ভালো থাকুন নিরন্তর ।
          আর হ্যা আমি নীলাঞ্জনা চন্দ নীলা । নাম লুকোনো আমার অভ্যাসে নেই । হতাশ হবো কেন ? আশা নিয়ে শ্বাস নেই । মুক্তমনা ব্লগে আমি লিখিনা ।  
          তবে আপনি কিন্তু আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেননি , এও জানি এসব দেয়া আপনার পক্ষে মারাত্মক কঠিন । 

        3. 12.1.2.2
          ফুয়াদ দীনহীন

          @নীলা দিদি,

          প্রথমেই আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি যে আপনাদের আলোচনায় আমি অংশগ্রহন করছি, আপনার তিনটি প্রশ্নের উত্তর আমি দিবার চেষ্টা করলাম।

          প্রশ্নঃ ১) নারী-পুরুষের সমান অধিকারে কেন শুধু নারীদেরকেই পর্দা করতে হয় ? 

          উত্তরঃ ইসলাম প্রত্যেকের কাজ আলাদা করে বর্ননা করেছে। নারী-পুরুষ আইনের দৃষ্টিতে সমান হলেও, নারীরাই সন্তান জন্ম দিবার সম্মান অধিগ্রহন করেন। অতএব, নারী-পুরুষের পার্থক্য ইসলাম বিবেচনায় নেয়, একই সাথে, নারী এবং পুরুষের কাজ আলাদা ভাবে বর্ননা করে। ন্যাচারালিও দেখবেন নারী-পুরুষ ভিন্ন পোষাক পড়ে। ইসলামে পর্দার বিধান নারী-পুরুষ সবার জন্যই আছে, পর্দা পালনেও সমাজ অনুষারে তারতম্য দেখা যায়। অনেক সময় পর্দা-পালনে বাড়াবাড়ি করা হয়, আবার পর্দা না-পালন করতেও বাড়াবাড়ি করা হয়, যার দুটোই অন্যায়। (সেজন্য কতটুকু করলে পর্দা পালন হচ্ছে, সে ব্যাপারে আমি কোন বক্তব্য দিচ্ছিনা বরং ব্যাক্তির স্বাধীনতার উপর ছেড়ে দিচ্ছি)
          আপনার বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত উত্তর হল, ইসলাম নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য বিবেচনায় আনে, এবং সেভাবেই দায়িত্ব অর্পন করে। যেমনঃ পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সম্পূর্ণ ছেলেদের, মেয়েদের ব্যাপার তাদের স্ব্বইচ্ছার উপর নির্ভর করে। 

           
          ২) ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয় এর কারণ কি ? (মহানবী জীবিত কালে নিজেই ২৯ টি যুদ্ধে নেতৃত্ত্ব দিয়েছেন আর এমনিতে প্রায় ৮০ টি যুদ্ধ তিনি বেঁচে থাকতে হয়েছে)

          উত্তরঃ 
          ইসলাম সমাজের সকল অবিচার দূর করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্টা করে। রাসূল সাঃ ক্ষমতা গ্রহনের আগে গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ মারামারি লেগেই থাকত। তিনি যদি সকল গোত্র প্রতি-অবিচার দূর করতে গিয়ে নিজে আক্রান্ত হন, এবং এর প্রতিবাদের যুদ্ধ করেন, তাতে অন্যায়ের কি আছে? বরং রাসূল সাঃ আরব উপদ্বীপে মোটামোটি শান্তি স্থাপনে সমর্থ হন। মক্কা মদিনায়  নিজেদের ভিতর পুরোই শান্তি স্থাপনে সমর্থ হন।

           
          ৩) ইসলাম শব্দের অর্থ আত্মসমর্পনকারী , অথচ আদৌ কি তা ?
          ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন । 

          উত্তরঃ
          আপনার প্রশ্ন ক্লিয়ার নয়। ইসলাম শব্দের অর্থ আত্মসমর্পন মানে আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পন। আপনি কি বলতে চাচ্ছেন একটু পরিষ্কার করুন। তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে। আপনার প্রশ্ন না বুঝলে উত্তর কি দিব।

          -ভাল থাকুন।

        4. ফকির বাবা

          ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম-- আমাদেরকে প্রতিনিয়ত এ শ্লোগানটা দিতে হয় কেন ? ইসলাম শান্তির ধর্ম কি না তা তো বোঝা যাবে আমাদের আচরনের ওপর , তাই নয় কি ?

  12. 11
    রাজদরবার

    সাভারকার নিয়ে আমিই সম্ভবত ব্লগে সবার আগে লেখা দিয়েছিলাম। যা এখনো আমারব্লগে রয়েছে।
    http://www.amarblog.com/dastaar/posts/136880

  13. 10
    ময়ূখ

    @
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন, ঔরঙ্গজেবের আমলে জাঠ-শিখদের বিদ্রোহের বিষয়ে কোন বই পড়ে দেখতে পারেন। ইন্টারনেটেও অনেক তথ্য পাবেন। আমি স্কুলে পড়ার সময়েই শিখদের গুরু গোবিন্দ সিংহের মৃত্যুর ঘটনাটা পড়ি। ধন্যবাদ।

    1. 10.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

       
      ময়ূখ--
       
      -- আওরঙ্গজেবের নামের বাংলা বানান দেখেই বুঝা যাচ্ছে আপনি কোন স্কুলের ছাত্র। যাই হোক -- আপনি কোথায় পড়লেন --  কি পড়লেন সেইটাইতো জানতে চাইছি। আওরঙ্গজেব একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন এবং কোরানের আয়াত -- ধর্মের বিষয়ে জোর খাটানো নিষেধ -- উনার জানা থাকার কথা। সেই অবস্থায় কোন ঘটনা উনার বিরুদ্ধে আসলো যে উনি গায়ের জোরে মানুষকে মুসলমান বানালেন -- সেইটাই জানতে চাই। 

      এ্কটা সাধারন ইতিহাসের পাঠ হলো -- ভারত বর্ষে যারা ইতিহাস লিখেছে -- বিশেষ করে ইংরেজের সময়ে এরা সবাই মোটামুটি মুসলিম বিদ্ধেষ পোষন করতো -- তা ইতিহাস লেখার গতি প্রকৃতি দেখলেই দেখা যায়। তারা কখন স্বীকার করে নি যে ভারতবর্ষের সভ্যতার আলোক জ্বালিয়ে ছিলো মুসলিমরা। যে তাজমহল নিয়ে এতো আবেগ তা যেমন মুসলিমদের তৈরী করা -- তেমনি ভারতের সংগীত জগতের আজ যে বিরাট ভান্ডার তাও মুসলমানদের হাতে জন্ম নেওয়া। জাতপাত ইত্যাদি সামাজিক বর্ণবাদকে এক কথায় মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিলো ইসলাম -- যেখানে সামান্য কিছু বর্ণ হিন্দুর হাতে সমাজের সকল অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা গন্ডিবন্ধ ছিলো -- তাকে ভেংগে দিয়ে সমাজে মানবতা প্রতিষ্ঠা করেছে ইসলাম। ভারতের যে ইতিহাস ইন্টারনেটে দেখার কথা বলছেন -- তাতো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা আর মুসলিমদের হাতে ক্ষমতা হারানোর বেদনায় নীল হয়ে যাওয়া বর্ণ হিন্দুদের কিছু মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই না। প্রকৃত ইতিহাস বলে জনগন -- ইসলামের আগমনের আগের এবং পরের পিপলস হিস্ট্রি দেখার মতো মানসিকতা তৈরী করুন। তবেই কৃতজ্ঞতায় মন ভরে উঠবে ইসলামের কাছে -- যে মতাদর্শ ভারতকে অন্ধকার থেকে টেনে আলোতে নিয়ে এসেছিলো।
      ধন্যবাদ।  

      1. 10.1.1
        আহমেদ শরীফ

        ইসলাম সবচেয়ে দ্রুতসম্প্রসারমান একটি প্রধান আন্তর্জাতিক ধর্ম, এটা হিন্দুধর্মের মত আঞ্চলিক ধর্ম নয়। মূল সনাতন ধর্ম বিবর্তিত-পরিমার্জিত-সংশোধিত-সংষ্কারকৃত হতে হতে এখন যা দাঁড়িয়েছে তার সাথে আদি সনাতন ধর্মের অবশিষ্ট বিশেষ কিছু নেই বললেই চলে। লোকায়ত গ্রামীণসমাজগুলোতে ফ্যানাটিকরা কিছু কিছু ধরে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও যুগের হাওয়ায় যে বিরাট ধ্বস নেমেছে তা ঠেকানোর মত জোরালো কোন মালমশলা হিন্দুধর্মে তেমন নেই।

        যেমন আমারব্লগের সুশান্ত দাশগুপ্ত সম্ভবতঃ চতুর্মাত্রিক ব্লগের একটা পোস্টে একবার বলেছিলেন, কথাটা মোটামুটি এরকম, শিক্ষিত হিন্দুমাত্রেরই নাস্তিক না হয়ে কোন উপায় নেই _ বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে ওনার নিজের কাছেই নিজ ধর্ম হিন্দুধর্মের বিভিন্ন কাহিনী প্রথা এগুলোর কথা শুনলেই প্রচন্ড হাসি পেত। পাশাপাশি মুসলিম সমাজ থেকে যারা নাস্তিক হিসেবে উদ্ভূত হন তাদের তিনি 'স্যালুট' জানিয়ে বলেন যে মুসলিম ঘরের সন্তান হয়ে নাস্তিক হতে খুব সাহসের প্রয়োজন, এটাও স্বীকার করেন যে চর্চা করার মত অনেক স্পিরিচুয়াল উপাদান ইসলাম ধর্মে আছে যা হিন্দুধর্মে নেই(বা অন্য কোন ধর্মে নেই)।

        ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক ভিত্তিহীনতার কারণে অবিশ্বাসী হলেও 'জাত্যাভিমান'প্রসূত চেতনার বশবর্তী হয়ে ভিন্নধর্মীদের বৈরী চোখে দেখা এক ধরণের কোণঠাসা সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িকতার শিকার হিন্দুরা সাধারণভাবে, যা থেকে আসলে মুক্তি এখনো তাদের ঘটেনি। বলাই বাহুল্য যে এর কারণ যতটা না ধর্মীয় তার চেয়ে অনেক বেশি সামাজিক, সাংষ্কৃতিক। এই প্রবণতা আমরা আরো দেখতে পাব বিশেষতঃ সেসব ধর্মের ক্ষেত্রে যে ধর্মগুলো অঞ্চলভিত্তিক সম্প্রদায়ের ছত্রছায়ায় সীমাবদ্ধতায় ঘুরপাক খেয়েছে, ইসলাম বা খ্রীস্টধর্মের মত প্রসার-বিস্তার লাভ করে নি। বস্তুতঃ সেগুলো নির্দিষ্ট মানবগোত্র-সমাজের অনেকটা নৃতাত্বিক-সাংষ্কৃতিক পরিচয়ে পরিচিত হয়েই রয়েছে, বৈশ্বিক পরিসরে ঠিক 'ধর্ম' হিসেবে সার্বজনীন কোন আবেদন রাখতে সমর্থ হয় নি। যেমন ইসরাঈলের ইয়াহুদি ধর্ম বা পারস্যের অগ্নিউপাসকগণ, ইনকাদের ধর্ম।   
         
        ধর্মান্তকরণে জোরাজুরি সময়কালে কিছু কিছু যে একেবারেই হয় নি তা নয় কেননা আগেকার শতাব্দীগুলোর কোন কোনটিতে ধর্মপ্রচার দ্বিগ্বিজয়ী সম্রাটদের কোন কোন আমলে সাম্রাজ্যবাদের ছত্রছায়ায় হয়েছে বৈকি। তখনকার বিশ্ব পরিস্থিতিই ছিল সেরকম। কিন্তু শুধু জোরাজুরির ওপর কোন ধর্ম এরকম ব্যপকভাবে প্রসার লাভ করতে পারে না যদি না তাতে ধর্মচর্চার মনোআধ্যাত্মিক উপকরণ ও সুমহান গ্রহণযোগ্য মূল্যবোধ না থাকে।  

        নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাসে পর্তূগীজ আমলের পটভূমিতে লেখা, লেখক লুন্ঠন করে জাহাজে নিয়ে আসা ক্রীতদাসদের মধ্যে যারা মুসলিম তাদের ধর্মান্তরিত হওয়ার হার প্রায় শূণ্যের কোঠায় দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে লেখেন, ইসলাম ধর্মের মাঝে এমন কিছু কেমিক্যাল আছে যার ফলে একবার ইসলাম ধর্মে দিক্ষীত হওয়ার পর সহজে অন্য কোন ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রবণতা সাধারণতঃ দেখাই যায় না।

  14. 9
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @ময়ুখ 

    সুলতানি আমলে জোর করে ধর্মান্তরণ হয়নি? ঔরঙ্গজেবের আমলে হিন্দু-শিখদের  ধর্মান্তর করতে বাধ্য করা হয়নি? 

    এই প্রশ্নটা আমারও? আমি এই বিষয়ে পড়াশুনায় আগ্রহী -- আপনি কি একটা সূত্র দিতে পারেন -- কোন বই এর নাম দিতে পারেন ভারতের ইসলাম নিয়ে। ধন্যবাদ। 

    1. 9.1
      Nila

      ঔরঙ্গজেব কিংবা আওরেঙ্গজেব দুটোই ঠিক…ঔরঙ্গজেব শব্দটি উ্দূতে আর আওরঙ্গজেব বলা হয় বাংলায়…

  15. 8
    শামস

    আচ্ছা হিন্দু ধর্মের কোথাওকি নাস্তিকতার সমর্থনে কথা আছে। কোন হিন্দু ব্যক্তি বা মহাপুরুষ কবে কেমনে নাস্তিক হইছে সেটার উদাহরণ না টানলেই ভাল। সেখানে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসের কথাই আছে বলে জানি। আজকে যারা এই ধর্মকে সব তত্ত্ব থাকার 'লাবড়া' বানাতে চাইছে তারা কি সৎভাবে তা করছে? এই উপমহাদেশে বৌদ্ধদের উপর যে অত্যাচার ব্রান্মণরা করেছে তা অবর্ণনীয়। একসময় যে বৌদ্ধরা ছিল শাসন ক্ষমতায়, চালকের আসনে-সেই তাদেরকেই বর্ণহিন্দুদের হাত থেকে জীবণ রক্ষার জন্য তাদের ধর্মের জন্মস্থান ছাড়তে হয়েছে। অথচ, সেই বর্ণহিন্দুরাই পরে বৌদ্ধধর্মকে তাদের ধর্মের একটি শাখা হিসেবে ধোকা দিতে থাকে। এখন শুরু করেছে নাস্তিকতাকেও জায়গা দেয়ার জন্য। বর্ণহিন্দুরা তাদের ধর্মীয় পরিচয়কে পাশ কাটিয়ে নাস্তিকতাকে প্রচার করছে। তাদের এসব কার্যকলাপ দ্বারা মূল হিন্দু ধর্মকে দীনহীন করছে। নাস্তিকতা বর্ণহিন্দুদের জন্য নিরপেক্ষ গ্রাউন্ড। তারা তাদের ধর্ম দিয়ে হ্যামিলনের সুর বাজাতে সক্ষম নয়, কিন্তু অন্যদের অন্তঃতপক্ষে ঐ নিরপেক্ষ গ্রাউন্ডের দিকে নিতে পারে। এর জন্য আবার বিজ্ঞান, যুক্তি ইত্যাদির দোহাই দিতে হয়!

    1. 8.1
      এস. এম. রায়হান

      হিন্দু ধর্মের কোথাওকি নাস্তিকতার সমর্থনে কথা আছে।

      যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে যে ধর্মে গডের ধারণা আছে কিংবা যে ধর্মকে গডের নামে চালানো হয় সেই ধর্মে কখনো নাস্তিকতার সমর্থনে কিছু থাকতে পারে না। উচ্চ শিক্ষিত হিন্দুদেরকে হিন্দু ধর্মে ধরে রাখার জন্য এটি পুরোহিতদের তৈরি করা একটি মূলা! হিন্দুদের সবচেয়ে পবিত্র ও জনপ্রিয় ধর্মগ্রন্থ গীতাতে নাস্তিকদেরকে কীভাবে তুলাধুনা করা হয়েছে দেখুন, সেই সাথে হিন্দু নাস্তিকরাও ভণ্ড প্রমাণ হয়েছে।

  16. 7
    আহমেদ শরীফ

    অনলাইনে আদাজল খেয়ে আজাইরা ইসলামের পেছনে রাতদিন লেগে থেকে কুৎসিত বিষোদগার নোংরামি করা অদৃশ্য পাবলিকদের অধিকাংশই চরম বর্ণবাদি হিন্দু। বর্ণবাদি এই অর্থে নয় যে তারা বিশ্বাসী ধার্মিক হিন্দু। আদতে 'জাত্যাভিমান' রক্ষার এক অসম্ভব চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠা একদল নিজ ধর্মে বিশ্বাস হারানো আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত কোণঠাসা কিছু মানুষ, যারা আজন্ম লালিত জাতপাত  ধর্মীয় সংকীর্ণতার শিকারও বটে, তার অভিশপ্ত প্রভাবদুষ্টতার তেজষ্ক্রিয়তায় আজো জর্জরিত। এরাই নানাভাবে মুসলিম নাম নিয়ে অথবা ছদ্মনামে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ অত্যন্ত যত্নের সাথে ছড়াচ্ছে, কখনো বিজ্ঞান ও যুক্তির আবার কখনো মানবতার পূজারী সেজে বাঙ্গালিয়ানার নামে 'হিন্দুয়ানি' চালানোর সূক্ষ্ম চালিয়াতিতে ব্যস্ত থেকে বিভ্রান্ত, ব্যক্তিত্বহীন, নামধারী মুসলিম সন্তানদের মাথা মুড়িয়ে ঘোল ঢেলে দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়ে নিজ ধর্মকে পচানোর হীনবল কাপুরুষতাকে বীরত্ব হিসেবে পিঠ চাপড়ানি দিয়ে আড়ালে কুৎসিত হিংসুক হাসি হাসছে। কারণ তারা নিজেরা সবসময় নাস্তিকতার ধুয়া তুলে ইসলামকে বিষোদগার করলেও নিজ হিন্দু ধর্মকে সর্বদা ধূতির নীচে স্বযত্নে নিরাপদে লুকিয়ে রাখে।

    1. 7.1
      এস. এম. রায়হান

      তিক্ত শুনালেও চরম সত্য কথা বলার জন্য ধন্যবাদ।

  17. 6
    অভিষেক

    হিন্দুত্ব ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতি, কোন ধর্ম নয়, তবে হিন্দুরা নিজেদের কে সনাতনধর্মী বলে পরিচয় দেয়। ভারতীয় উপমহাদেশে একসময় সবাই এই সংস্কৃতির অনুসারী ছিল, ইসলামের অনুপ্রবেশের পর, অত্যাচরিত নিম্নবর্ণের হিন্দুরা ইসলাম গ্রহন করে, অনেক সময় বল প্রয়োগ ও করা হয়েছিল, অাবার অনেকে স্ব-ইচ্ছায় ও মুসলিম হয়েছিল। ভারত ও উপমহাদেশের বর্তমান মুসলিম পপুলেশন এনাদেরই বংশধর।

    1. 6.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      @অভিষেক,

      ইসলামের অনুপ্রবেশের পর, অত্যাচরিত নিম্নবর্ণের হিন্দুরা ইসলাম গ্রহন করে-অভিষেক

      বস, আপনি এখানে অনুপ্রবেশ কেন বলতেছেন ? 

      হিন্দুত্ব ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতি, কোন ধর্ম নয়, তবে হিন্দুরা নিজেদের কে সনাতনধর্মী বলে পরিচয় দেয়-অভিষেক

      হিন্দুত্বকে ন্যাশনালিজম হিসাবে ধরলে ভারতের মুসলিম, মানে ভারতীয় বাংলাদেশী পাকিস্থানি সকলকেই হিন্দু বলা যায়। ইসলাম প্রচারে কোন বল প্রয়োগ করা হয়নি, কিন্তু দুই একটা ক্ষেত্রে বল প্রয়োগের ঘটনা থাকতে পারে যেগুলো সাধারণত ধর্মিয় সমষ্টিক সিদ্ধান্ত নয় বরং ব্যাক্তিগত আচরণ এবং এগুলোর সংখ্যা অনেক কম। বরং, আপনারাই ফুলিয়ে ফেপিয়ে বাড়িয়ে বলেন। তাছাড়া, অনেক উচ্চ বর্ণের হিন্দু মানুষও মুসলিম হয়েছে। ইসলামে এসে উচ্চ বর্ণ, অনু উচ্চ বর্ণ সবাই এক থালে খাবার খেয়েছেন।

      1. 6.1.1
        অভিষেক

        অামি বলতে চাই , ত্বাত্তিক ভাবে ইসলামে সবাই সমান, কিন্ত বাস্তবে নয়, জন্মাবধি মুসলিমদের সংস্পর্শে অাছি, দেখছি তাদের মধ্যেও উচ্চ বংশজাত গরিমা অাছে, অাবার নীচ বংশজাতদের হীনমন্যতা অাছে ! ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-মূর্খ ভেদাভেদ অাছে ! অারব শেখরা ঘৃণা করছে বাংলাদেশের মুসলমানদের, কারণ তাঁরা অাসল মুসলিম নয়!  অাবার মুসলমানেরা প্রাণভরে ঘৃণা করছে বিধর্মীদের, বিধর্মীদের হত্যা, জখম, ধর্ষন করলে কোন পাপ হবেনা! অাজকের এই অন্তর্জালের যুগে এসব লুকিয়ে রাখা যাচ্ছেনা। মনে রাখবেন খ্রিষ্টান বা মুসলিম রাষ্ট্র বর্তমান অাছে, কিন্ত বর্তমানে কোন হিন্দুরাষ্ট্র নেই ! ভাবতে পারেন, রাষ্ট্র ইসলামিক হলে বিধর্মীদের ওপর কর বসায়! ইসলাম ইশ্বরপ্রেরিত ধর্ম হতে পারেনা ! সর্বশ্রেষ্ঠ তো নয়ই।

        1. 6.1.1.1
          ফুয়াদ দীনহীন

          @অভিষেক,

          জন্মাবধি মুসলিমদের সংস্পর্শে অাছি-অভিষেক

          জন্মবধি কি ধরনের মুসলিমদের সাথে থেকেছেন সেটা একটা বড় বিষয়। একটা জিনিস ভাল করে লক্ষ্য করে দেখবেন, যে দেশের মানুষ যা ছিল, তা মুসলিম হবার পরও কিছুনা কিছু রয়ে যায়। যেমন, ধরুন ইরানের মুসলিমদের উপর পারস্য সম্রাজ্যের আচার আচরণের প্রভাব রয়েছে, ঠিক তেমন বাংলাদেশের মুসলিমদের উপর সনাতনী প্রভাব রয়েছে, অবশ্যই তা সামান্য মাত্রায়।  মানুষ চাইলেই সব কিছু ছেড়ে দিতে পারে না। কিন্তু আপনি যদি তবলিগ জামাতের কাছে যেয়ে থাকেন, তাহলে দেখবেন অনেক জন মানুষ একই থালে ভাত খাচ্ছে। এভাবে খাওয়াকে সেখানে প্রমোট করা হয়। 

          ইসলাম ইশ্বরপ্রেরিত ধর্ম হতে পারেনা--অভিষেক

          ইশ্বর কি আইন দিবেন না দিবেন, সেটার সাজেশন আপনি দিতে পারেন না। অথবা তিনি কি করবেন না করবেন, তা আপনার চাওয়ার উপর নির্ভর করতে পারে না। ঠিক সেটাই কি নয় ?

        2. মুনিম সিদ্দিকী

          আপনি খামকা এই লোকের সাথে আলোচনা করছেন! আমার অনুমান যদি মিথ্যা না হয় তাহলে এই নিকের আড়ালের ব্যক্তি একজন ব্রাহ্মণ বংশের লোক। কেন আমার এই ধারণা? ইতিহাস সাক্ষী যে ভারতের বর্ণ হিন্দুরা সব সময় এই ভাবে আমাদের মূল্যায়ন করে আসছেন। তারা আমাদের কাউকে বহিরাগত আর কাউকে নিচু বর্ণের হিন্দুদের থেকে কনভার্টেড বলে  থাকেন। তারা নিজদেরকে ভূমিপুত্র বলে দাবী করে! অথচ ইতিহাস বলে এই ভারতে বর্ণ হিন্দুর আদি পিতামহগণ বহিরাগত আর্য।

          আমরা আরো জানতে পারি তারা যখন এই দেশে এসেছিল তখন স্থানীয়দের কচুকাটা করেছিল। যেমন ইউরোপিয়ানগণ আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ানদেরকে সমুলে বিনাশ সাধন করেছিল। কিন্তু তারপরও তারা নির্লজ্জের মত তাদেরকে ভুমিপুত্র বলে দাবী করে অন্যদিকে শুধু ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করার জন্য আমাদেরকে অনুপ্রবেশকারী বলে উল্লেখ করে থাকে।

          এরা কখনও এই ডাক ছাড়তে পারবেনা। কারণ ইসলাম এই দেশে এসে ব্যাপক সংখ্যক তথাকথিত অচ্ছ্যুৎদেরকে মানুষের মর্যাদা দিয়েছিল বলে তাদের কায়েমি স্বার্থে মারাত্মক আঘাত করে। তাদের বসে আরামে খাবার যৌন লালসা চরিতার্থ করা এবং সার্বিক ভাবে শোষণের যাঁতাকল থেকে মুক্ত করে আনে।

          আর এই তথাকথিত  অচ্ছ্যুৎরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে ৪৭-এ ভারত ভাগ করে তাদেরকে রিফুজি বানিয়ে পশ্চিম বাংলায় ভারতের ২য় শ্রেণীর নাগরিকে পর্যবেশিত করার জন্য তাদের পরণের কাপড় খুলে নেয়।

          কাজেই এই দুঃখ তারা জন্ম জন্মান্তরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ভুলতে পারবেনা!

          আর এই লোক যে দাবী করছে যে এই দেশের সকল মুসলিম নিম্ন বর্ণের হিন্দু থেকে আগত তাও সত্য নয়। আপনি আমাদের সিলেট জেলায় দেখুন এই জেলায় যারা হিন্দু থেকে মুসলিম হয়েছে তারা সবাই উচ্চ বর্ণের হিন্দুই ছিল।

          তবে তিনি একটি কথা আংশিক সত্য বলেছেন -- ইসলাম যে বর্ণ প্রথা তথা মানুষ মানুষের মাঝে সকল প্রকার বৈষম্য দূর করতে এসেছিল, তা থেকে মুসলিম সমাজ অনেক দূরে চলে এসেছে। তবে এই বৈষম্য যত প্রকট আমাদের দেশে আরব দেশে তা তত প্রকট নয়। আরবরা মানুষ হিসাবে যে কারো সাথে এক পাতে খেতে  চলতে বসতে দ্বিধা করেনা। গায়ে গা লাগলে জাত যায় না। এক পাতে হিন্দু খ্রিস্টান ইহুদি বসে খেলেও তাদের জাত যায় না। কিন্তু আমাদের কিছু লোকের দ্বারা তাদের সামাজিক ব্যবস্থায় বিশৃংখলা সৃষ্টি হওয়ায় তারা আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করছেনা। এইটির জন্য ধর্ম নয় আঞ্চলিকতা এবং সম্পদের গরীমা দায়ী। আর মুসলিমরা যে ইসলামের মূল্যবোধ থেকে সরে এসেছে তার জন্য তারা অধঃপতিত এবং নাজেহাল হয়ে চলছে। এবং যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যান্য মানব রচিত জীবন ব্যবস্থা থেকে বের না হয়ে আসতে পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের এই দূর্গতি চলতে থাকবে।

        3. বনমালি

          ইশ্বর কি আইন দিবেন না দিবেন, সেটার সাজেশন আপনি দিতে পারেন না। অথবা তিনি কি করবেন না করবেন, তা আপনার চাওয়ার উপর নির্ভর করতে পারে না। ঠিক সেটাই কি নয় ?

          আল্লাহ যদি পরম করুনাময় হয় ও ন্যয় পরায়ন হয় তাহলে সে কোন দিন ডাকাতিকে মহান পেশা হিসাবে এবং দাসি ও যুদ্ধ বন্দিনী নারীদেরকে ধর্ষন করতে বলতে পারে না।  আর কোরানে আল্লাহ সেটাই অনুমোদন করেছে সরাসরি। আগে যা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। দুনিয়াতে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা সরাসরি এ ধরনের মহা অমানবিকতা ও ডাকাতির মত মারাত্মক অপরাধকে বৈধ করেছে।  আর তাই ইসলাম হলো এক মহা মিথ্যা ধর্মের নাম। যদি ঈশ্বর ও শয়তান থেকেই থাকে তাহলে অবশ্যই ইসলাম এসেছে শয়তান থেকে।

        4. 6.1.1.2
          নির্ভীক আস্তিক

          অামি বলতে চাই , ত্বাত্তিক ভাবে ইসলামে সবাই সমান, কিন্ত বাস্তবে নয়, জন্মাবধি মুসলিমদের সংস্পর্শে অাছি, দেখছি তাদের মধ্যেও উচ্চ বংশজাত গরিমা অাছে, অাবার নীচ বংশজাতদের হীনমন্যতা অাছে ! ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-মূর্খ ভেদাভেদ অাছে ! অারব শেখরা ঘৃণা করছে বাংলাদেশের মুসলমানদের, কারণ তাঁরা অাসল মুসলিম নয়! অামি বলতে চাই , ত্বাত্তিক ভাবে ইসলামে সবাই সমান, কিন্ত বাস্তবে নয়, জন্মাবধি মুসলিমদের সংস্পর্শে অাছি, দেখছি তাদের মধ্যেও উচ্চ বংশজাত গরিমা অাছে, অাবার নীচ বংশজাতদের হীনমন্যতা অাছে ! ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-মূর্খ ভেদাভেদ অাছে ! অারব শেখরা ঘৃণা করছে বাংলাদেশের মুসলমানদের, কারণ তাঁরা অাসল মুসলিম নয়!  অাবার মুসলমানেরা প্রাণভরে ঘৃণা করছে বিধর্মীদের, বিধর্মীদের হত্যা, জখম, ধর্ষন করলে কোন পাপ হবেনা!

          যেকোন জাতি বা সম্প্রদায়কে Generalized করে মন্তব্য করার যে হীনমন্যতা অনেকের মধ্যে কাজ করে, তাঁর সমালোচনা আমরা সাধরন শিক্ষতরা আর জ্ঞানী প্রগতিশীলরা অনেক দিন ধরেই করে আসছি । Cuba, North Korea, Russia, China, Albania, Sovier Union, Combodia তে মৌলবাদী নাস্তিকরা যে পরিমান মানব হত্যা করে আস্তিক শূন্য স্বর্গ বানাতে গিয়ে, পুরো নরক বানিয়ে ছেরেছে  তাকে সামনে রেখে আমরা দুনিয়ার অবশিষ্ট নাস্তিকদেরকে বিচার বিশ্লেষন করার অধিকারটি আপনার এই ঘুনেধরা আজেবাজে মন্তব্যের মাধ্যমে পেয়ে যাই । বরং তাদের ব্যাপারে এটা করা আরো যুতসই এজন্য যে, নাস্তিকদের নির্দিষ্ট কোন মতাদর্শ নেই তাই নাস্তিকতায় অন্তত তাত্তিক ভাবে যে সবাই সমান সেটা দাবি করা যায়না। আর হিন্দুদের বেলায় তো নয়ই ।
          একটু চোখ বুলিয়ে নিন পেজটাতে, এটি wikipedia, সবার কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং গ্রহনযোগ্য  তথ্যভান্ডার -- http://en.wikipedia.org/wiki/State_atheism
          যাইহোক, তাত্তিক ভাবে যেহেতু ইসলামে সমতার দাবি করা আছে এবং সেই তত্ত্বকে যদি নিয়মিত পালন করার একটি নূন্যতম সংখ্যক গোষ্ঠিও থেকে থাকে, তাহলে আপনার ঐ আবোল তাবোল দাবি হালে টিকে না ।  তবে নূন্যতম নয়, এক বিশাল সংখ্যক মুসলমান  যারা তবলীগ করেন, তারা এক প্লেটে খাবার খান। তাদের মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় অন্যান্য নামযিদের জুতো সোজা করে দেয়ার আদব আছে । তাদের মধ্যরাতে পাশের মুসলমান ভাইয়ের কোন স্বপ্নদোষ হলে, তাকে উঠে কল চেপে পানির ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য রীতিমত আদেশ থাকে। কোন মসজিদে থাকা অবস্থায় যদি ঐ মসজিদের এস্তেঞ্জা (পায়খানা) নোংরা থাকে, তবে তা তাদের পরিস্কার করে দেয়ার আদেশ থাকে। কোন বৃদ্ধ যদি তাঁর পোশাক গুছিয়ে না রাখতে পারেন তবে ঐ দলের কোন তরুনকে নিয়মিত এর প্রতি খেয়াল রাখার জন্য বলা হয় । এবং এই কাজ গুলো কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কে নয়, পালাক্রমে ঘুরেফিরে সবাইকে এই দায়িত্ব পালন করিয়ে ছারেন আমির সাহেব।  কোন লাট বাহাদুর বাপের ছেলে তবলীগে গেছে কিন্তু সে নিয়মিত তবলীগ করার পরো এসকল কাজ করেনি এমনটি খুজে পাওয়া রীতিমত দুরূহ । যাইহোক, শুধু তবলীগে নয়, তবলীগ করেননা  এমন এখনো অনেক মুসলমানদেরকেও এই কাজ নিয়মিত করতে দেখা যায়, এমন প্রমান আমি আপনাকে দেখাত পারব সহস্রবার ।  আর হ্যাঁ,  উচ্চ বংশজাত গরিমা আছে, আবার নীচ বংশজাতদের হীনমন্যতা আছে ! ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-মূর্খ ভেদাভেদ আছে- টা এসেছে অনেক হিন্দু, খ্রিষ্টিয়ান, নাস্তিকদের পালন করা  অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশের মাধ্যমে । এখানে, যেহেতু আপনিই বলছেন এগুলো তাত্ত্বিক দিকদিয়ে ইসলামের সাথে সংঘর্ষ করছে তাই অনুপ্রবেশের দাবিটি আপনার কাছে অযৌক্তিক হবেনা বলে  আশা করি ।

          মুসলমানদের বাহিরে অন্য ধর্মের জাত বর্ণ ভেদাভেদের এলারজি মুক্ত ব্যক্তিত্ত যে পাওয়া যাবে না তা নয়, কিন্তু মুসলমানদের মতাদর্শে তাত্তিক ভাবে উল্লেখ আছে তাই তাদের এই মূল্যবোধ ধরে রাখার জন্য মুসলমানরা দায়বদ্ধ কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরা তেমনটি নয়, নাস্তিকদের বেলায় সেটা তো অনেক দূরের ব্যাপার । আর তাই কোন মুসলিম হুজুরের ধর্ষণ করার রটনা শুনলে তাঁর উপর বিদ্রুপের আওয়াজ শোনা যায় শতগুন বেশি । না, সেটি খারাপ কিছু নয়। কেননা, পেশার দিক থেকে একজন ডাক্তারের আদর্শ যেখানে মানব সেবার মাধ্যমে জীবন বাচানো, সেই তিনিই যদি ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে কাওকে বিকলাঙ্গ করে ফেলেন , তাঁর তুলনায় একটি পুলিশ বা আরমি ভুলক্রমে মানুষ মেরে ফেলাটি  অনেক নগণ্য চোখে দেখা হয় ।  কারন পেশার দিক থেকে তাদের আদর্শই তো ডান্ডা দিয়ে ঠান্ডা করা । তাই মতাদর্শের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠা মূল্যবোধের মূল্যায়নই অধম থেকে উত্তমকে পৃথক করে দেয় । যেমনটি ইসলামের মতাদর্শ, অন্য সকল ধর্ম ও মতাদর্শ বিহীন নাস্তিকতা থেকে একে পৃথক করে  দিয়েছে। তাইতো, আপনি যেমন বেশ কয়েকটি পোষ্টে মুসলমানদের Genaralized করে উটকো টাইপের মন্তব্য করেছেন যদিও সেগুলোতে সরাসরি Genaralized করে সকল নাস্তিক বা সকল হিন্দুদের কে উদ্দেশ্য করে কোন কটুক্তি করা হয়নি । দেশের অন্যান্য প্রগতিশীলরা তো আপনার লাইনে আছেনি । মুসলমানদের খারাপ কিছু দেখলেই ধেই ধেই করে ইসলামের উপর আক্রমন । এই পোষ্টটিও দেখতে পারেন- http://www.shodalap.org/gurudevgi/15423 যা আমার ইসলামের মতাদর্শই যে সবচেয়ে উত্তম সে দাবির পক্ষে সাক্ষ্য দেয় ।

          যাইহোক কেউ যদি নিজের কর্মের মাধ্যমে নিজের দর্শনকে ঠিক রেখে নিজেকে উত্তম মনে করে, তাহলে তাতে বাধা নেই । কিন্তু কেউ যদি কর্ম নয় বরং অন্যকে অধম ডাকার মাধ্যমে নিজেকে উত্তম প্রমান করতে চায় তাহলেই বিপদ । নাস্তিকতার মূল সমস্যাটা এখানেই । হিন্দুত্ব আমার কাছে অপছন্দনীয় কিছু নয় । বড় ভালবাসি আমার হিন্দু বন্ধুদের প্রায় ১০-১২ জন তো হবেই, বিশেষ করে বন্ধু শুভঙ্কর আর পলাশ তালুকদারকে । তবে কোন নাস্তিককে ভালবাসতে পারি নাই আজো, একজনকেও না। আর নাস্তিকরাতো আমাকে ভালবাসতে চেয়েও পারে নি । দঃখজনক ! 

           
           

        5. 6.1.1.3
          এস. এম. রায়হান

          ইসলাম ইশ্বরপ্রেরিত ধর্ম হতে পারেনা !

          'ইশ্বর' একটি কাল্পনিক সত্তা হওয়াতে ইসলাম অবশ্যই ইশ্বর-প্রেরিত ধর্ম হতে পারে না! ইসলাম আল্লাহ-প্রেরিত দ্বীন বা ধর্ম।

          সর্বশ্রেষ্ঠ তো নয়ই।

          ঠিক, হিন্দুত্ববাদই সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম।

      2. 6.1.2
        মুনিম সিদ্দিকী

        হিন্দুত্বকে ন্যাশনালিজম হিসাবে ধরলে ভারতের মুসলিম,

        ঠিক বলেছেন আমার মধ্প্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থান কালে তাদেরকে বলতে শুনেছি যে, আমাদের পরিচয় তারা বলে -হিন্দি মানে ভারতীয় ! যেমন জাপানী চাইনিজ ইত্যাদি!

        1. 6.1.2.1
          Masud Rana

          ঠিক বলেছেন আমার মধ্প্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থান কালে তাদেরকে বলতে শুনেছি যে, আমাদের পরিচয় তারা বলে -হিন্দি মানে ভারতীয়  100% true 

      3. 6.1.3
        এস. এম. রায়হান

        ইসলাম প্রচারে কোন বল প্রয়োগ করা হয়নি, কিন্তু দুই একটা ক্ষেত্রে বল প্রয়োগের ঘটনা থাকতে পারে…

        হিন্দুরা কি বল প্রয়োগ করে তোমাকে হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী বানাতে পারবে? তুমি কি বল প্রয়োগ করে কোন হিন্দুকে ইসলামে বিশ্বাসী বানাতে পারবে? তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে হিন্দুত্ববাদীদের প্রপাগাণ্ডাকে "দু-একটা ক্ষেত্রে" বলেও সমর্থন দাও কীভাবে?

        1. 6.1.3.1
          নির্ভীক আস্তিক

          এই কথাটিই কাওকে সহজে বুঝানো যায়না। জোর করে অন্যায় করানো যায়, অনৈতিক কাজে বাধ্য করানো যায় কিন্তু ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাস করানো যায় না ।

        2. ময়ূখ

          বহুদিন বাদে এমন জোক শুনলাম দাদা। অনবদ্য। ইসলামকে আপনি মহান ধর্ম বলুন, কোন আপত্তি নেই। তা বলে ইতিহাসকে ফুঁ মেরে উড়িয়ে দিচ্ছেন যে! সুলতানি আমলে জোর করে ধর্মান্তরণ হয়নি? ঔরঙ্গজেবের আমলে হিন্দু-শিখদের  ধর্মান্তর করতে বাধ্য করা হয়নি? মশাই, আমি মেদিনীপুরের ছেলে। আষাঢ়ে গল্প অন্য জায়গায় শোনলেই ভালো। 
          আর এই যে জাতপাত নিয়ে গলা ফাটাচ্ছেন- সময় সুযোগ পেলে একবার এই অধম প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গেই এসে দেখে যাননা এখানে জাতপাত কতটা। সতীদাহ প্রথা, অস্পৃশ্যতা এখন অন্ধকার যুগের স্মৃতি মাত্র। জাতপাতের ঘটনা তবুও ভারতের কোন কোন জায়গায় মাঝেমধ্যে ঘটে।
          আর এমন নয় যে গত দু-পাঁচ বছরে হুট করে জাতপাত কমে গেছে। আড়াইশো বছর আগে বাঙালীর নবজাগরণ শুরু হয়। সবচেয়ে বড় কথা, ষাট বছর আগে সংবিধান লেখার সময় এসব ব্যাপারকে সরাসরি জঘন্য অপরাধ বলা হয়েছে। জাতপাতকে আমরা হিন্দুধর্মের বাধা বলে মনে করিনা, ভারতবর্ষের সমস্যা বলে মনে করি। 
          আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাণে কোন বিশেষ ধর্মকে প্রাধান্য না দেওয়ার শিক্ষা আমাদের ছোটবেলা থেকে দেওয়া হয়। আপনাদের দেশই তো ইসলামিক, আপনারা তাই আরামসে অন্য ধর্মের সমালোচনা ও নিজের ধর্মের সমালোচনার বিরোধীতা করতে সুযোগ পান।
          ''দুই একটা ক্ষেত্রে বল প্রয়োগের ঘটনা থাকতে পারে'' -- এ কী মামদোবাজি নাকি?     

    2. 6.2
      মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

      একটা শিবসেনা ধরা পড়েছে।

      1. 6.2.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        @মহা বিদ্রোহী রণক্লান্ত,
        সদালাপে কেউ কিছু শিখতে আসলে কি তাকে শিখতে দেওয়া উচিত নয়। তাছাড়া, আলোচনা ছাড়া হিন্দু সনাতন এবং মুসলিম পরস্পরকে বুঝবে কিভাবে। 
        আপনার এই মন্তব্যের বিরুধীতা করছি। no

        1. 6.2.1.1
          মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

          জেনেশুনে অভিষেকের এইরকম হীন মন্তব্যের পরও যদি আপনার মনে হয় উনি ইসলাম শিখতে সদালাপে এসেছেন,তাহলে আমার কিছুই বলার নেই।

    3. 6.3
      এস. এম. রায়হান

      হিন্দুত্ব ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতি, কোন ধর্ম নয়।

      সংস্কৃতি, তবে ধর্ম-ভিত্তিক সংস্কৃতি। 'ধর্ম' শব্দটা হিন্দুত্ববাদীদের কাছে কবে থেকে অচ্ছুৎ হলো?

      তবে হিন্দুরা নিজেদের কে সনাতনধর্মী বলে পরিচয় দেয়।

      হিন্দু ধর্মগ্রন্থের কোথায় এই ধর্মকে 'সনাতন ধর্ম' আর অনুসারীদেরকে 'সনাতনধর্মী' বলা হয়েছে?

      ভারতীয় উপমহাদেশে একসময় সবাই এই সংস্কৃতির অনুসারী ছিল।

      মিথ্যে কথা। ভারতীয় উপমহাদেশে সবাই সতী প্রথা, বর্ণ প্রথা, বিধবা প্রথা, ইত্যাদির অনুসারী ছিল? হাস্যকর।

      ইসলামের অনুপ্রবেশের পর, অত্যাচরিত নিম্নবর্ণের হিন্দুরা ইসলাম গ্রহন করে, অনেক সময় বল প্রয়োগ ও করা হয়েছিল…

      এগুলো হচ্ছে হিন্দুত্ববাদী ধর্মের স্লোক, ফলে বিশ্বাস করতেই হবে।

      1. 6.3.1
        অভিষেক

        দয়া করে রাগ করবেন না, অাপনি কি মনে করেন, যে উপমহাদেশের মুসলমানদের পূর্বপুরুষেরা ১০০ শতাংশই এই ভারতীয় উপমহাদেশের ভুমিপুত্র ছিলেন না ?

        1. 6.3.1.1
          দস্তার

          আমেরিকায় যদি ৩০০ বছর শাসনের পর পুরো দেশ বহিরাগত সাদা এবং কালো দিয়ে ভরে যায়, ভারতবর্ষের মুসলমানদের সেখানে ৮০০ বছর শাসনের পর কোনভাবেই সবাই হিন্দু পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে, এরকম বলার উপায় নেই। বিশেষ করে চট্টগ্রাম আরাকানের মুসলমানদের পূর্বপুরুষরা ঐতিহাসিকভাবেই আরব। যা বহু প্রামাণ্য ইতিহাসগ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে।

        2. 6.3.1.2
          অভ্র

          ভারতীয় উপমহাদেশের ৯০ শতাংশ মুসলিম ধর্মান্তরিত। আর তাঁদের সকলেই যে ইসলামের মহিমা বুঝে তাকে গ্রহণ করেছিলেন এমন নয়। নিম্নবর্ণের হিন্দুরা কখনো পেশাগত সুবিধের কারণে, কখনো আরো বেশি সামাজিক নিরাপত্তার আশায়, কখনো বা বাধ্য হয়ে মুসলিম হয়েছিলেন। আর বহু উচ্চবর্ণের হিন্দু মুসলিম শাসনকালে আরো বেশি অর্থনৈতিক সুবিধের কারণে মুসলিম হয়েছিলেন। ধার্মিক আদর্শের কারণে কিছু ধর্মান্তরণ হতেই পারে (যেমনটা খ্রী:পূ:৬০০ নাগাদ বৌদ্ধধর্মের উদ্ভবের সময় হয়েছিল)। তা বলে দলে দলে মানুষ মুসলিম হয়ে গিয়েছিল? এটা অনেকটা যেনতেনপ্রকারেণ হিন্দুধর্মকে খাটো করে ইসলামকে মহিমাণ্বিত করার প্রচেষ্টা নয় কি? ইতিহাসকে যদি আপনার অপমানকর মনে হয়, তাহলে ইতিহাসকেই আপনি বিকৃত করে দেবেন!!
           
           
          আর তাছাড়া যদি হিন্দুদের কাছে ইসলাম আরো মহৎ বলে মনে হত, তাহলে আজো এই ধর্মত্যাগের ট্র্যাডিশন সমানে চলত। এভাবে ধর্মত্যাগের হিড়িক ভারতে তো নেই। আছে  পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ; দুটি দেশই ঘোষিত ইসলামিক। এর পরেও যদি কেউ ধর্মান্তরণের জন্য শুধুমাত্র বর্ণাশ্রম প্রথাকে দায়ী করেন, কিছু বলার নেই।

        3. 6.3.1.3
          অভ্র

  18. 5
    মুনিম সিদ্দিকী

    পড়লাম জানা কথা আবার নতুন করে জানলাম।  ধন্যবাদ।

  19. 4
    এম_আহমদ

    হিন্দু ধর্মে আস্তিকতা, নাস্তিকতা, একেশ্বরবাদ, বহুশ্বরবাদ, নিরীশ্বরবাদ, ও সর্বেশ্বরবাদ-সহ সবই আছে – যাকে বলে একের মধ্যে বহু – তবে হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ দর্শন হচ্ছে নাস্তিকতা।

    হিন্দু ধর্মের multiple রূপের উপর এই লেখাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। একই সাথে 'সবকিছু' হওয়াতে হিন্দুদের হয়ত অনেক লাভ হতে পারে: এতে যুগের বাতাস যেদিকে যাবে, সেটাই হবে কিছু লোকের হিন্দু ধর্ম। কিন্তু তা সহিষ্ণুতার নামে চালানো অসম্ভব। একই সাথে আপনি আস্তিক/নাস্তিক হতে পারবেন না। এখানে ইবাদত আরাধনার ব্যাপার আছে। বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতি আছে। আপনি বাঘ, ভল্লুক, হরিণ, ছাগল, সিংহ সবই এক বলাতে কেউ আপনার মুখ বন্ধ করতে পারবেনা।  কিন্তু এই প্রাণীগুলো যখন জলাশয়ে হাজির হবে তখনই বোঝা যাবে তারা ভিন্ন, না অভিন্ন।
     
    নাস্তিকতা কোন ধর্ম নয়, তারা একথা বললেই শেষ হয়ে যায় না। নাস্তিকতা যদি empirical জ্ঞানের দাবী করে, তবে সেই জ্ঞান ইতিবাচক হোক অথবা নেতিবাচক –তা প্রামাণিক হতে হবে। খোদা নাই বলে তাদের যে অবস্থান, সেই অবস্থানে  কীভাবে পৌঁছা হল, এর প্রামাণিক ভিত্তি কি? নাস্তিকদের premises স্ববিরোধী: একদিকে empiricism অপর দিকে বিশ্বাস।

  20. 3
    KALAM

    1. 3.1
      এস. এম. রায়হান

      ধন্যবাদ। তবে কিছু মন্তব্যও আশা করছি।

  21. 2
    স্রষ্টার সন্ধানে

    আমার গুরুদেব (শ্রীশ্রী তপনকুমার তালুকদার), যিনি ধর্মশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষিত, গয়া ফেরত পাক্কা ব্রাহ্মণ; তিনি বর্তমানে মোহাম্মদ নূরে ই আলম নামে পরিচিত। অপর এক পৈত্তাধারী শুদ্ধ ব্রাহ্মণ শ্রীশ্রী নারায়ন চন্দ্র তিনিও নতুন নামে পরিচিত। 

    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত says: তবে এর মাঝেও শিবসেনা, মানে উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী হিন্দুরা ধর্মটাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে নানাভাবে।

    ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টটির জন্য রায়হান ভাই।

  22. 1
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    হিন্দুত্ববাদ আর বেশিদিন টিকবে না। ইন্ডিয়ায় শিক্ষিত হিন্দুরা নাকি গণহারে ধর্মত্যাগ করা শুরু করেছে। বাংলাদেশের শিক্ষিত হিন্দুরাও এখন যুক্তিবাদী হয়ে উঠছে। আমাকে এক হিন্দু স্যার অংক করাতেন। উনি মাঝে মাঝে নিজের ধর্মের কিছু বিশ্বাসকে এমনভাবে তুলোধুনো করতেন যে উনার সাথে কথা না বললে বিশ্বাস হবে না।
     
    তবে এর মাঝেও শিবসেনা, মানে উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী হিন্দুরা ধর্মটাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে নানাভাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.