«

»

Aug ১৭

নাস্তিকদের দাবি বনাম তাদের মুখপাত্রের দাবি

১. সংক্ষেপে বিবর্তনবাদী নাস্তিকদের দাবিগুলো নিম্নরূপ [বিস্তারিত এখানে]:

-বিবর্তনবাদ সব বড় ধর্মকে ভুল-মিথ্যা-অসার প্রমাণ করে বাতিল করে দিয়েছে।

-বিবর্তন এই মহাজগতের ঈশ্বর/আল্লাহর অস্তিত্ব মিথ্যা প্রমাণ করেছে।

-বিবর্তন পড়ে নামাজ-রোজা পালন করা মানে নীতিহীনতা ও ভণ্ডামী।

-ধর্মে বিশ্বাসীদের জন্য বিবর্তন এক আতঙ্কের নাম।

তাদের বিশ্বস্ত মুখপাত্রের দাবি [বিবর্তন তত্ত্বকে যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে ডিফেন্ড করে যার একটিও লেখা নাই]:

আদিল মাহমুদ এর জবাব:
নভেম্বর ১৮, ২০১২ at ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
 
…একই ভাবে ১০০ বছর পরের ইসলাম প্রিয় ভাইরাও আজকের দিনে যারা ধর্মের নামে বিবর্তনবাদ বিরোধী লেখা লিখে বিপুল জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন তাদের লেখাও অশিক্ষিত কাঠমোল্লার কথা বলে উড়িয়ে দেবে…

পয়েন্ট ১.১: বিবর্তনবাদ যেখানে স্বয়ং আল্লাহর অস্তিত্ব মিথ্যা প্রমাণ করেছে, ইসলামকে ভুল-মিথ্যা-অসার প্রমাণ করে বাতিল করে দিয়েছে, যেখানে বিবর্তন পড়ে নামাজ-রোজা পালন করা মানে নীতিহীনতা ও ভণ্ডামী, ধর্মে বিশ্বাসীদের জন্য বিবর্তন যেখানে এক আতঙ্কের নাম – সেখানে বিবর্তনবাদীদের মুখপাত্র ওরফে শিক্ষিত বিজ্ঞানী সাহেব আজ থেকে ১০০ বছর পর তার 'ইসলাম প্রিয় ভাই' পাবে কোথা থেকে যারা মুসলিমদের লেখাকে 'অশিক্ষিত কাঠমোল্লার কথা' বলে উড়িয়ে দেবে?

পয়েন্ট ১.২: বিবর্তনবাদীদের মুখপাত্র ওরফে শিক্ষিত বিজ্ঞানী সাহেবের বর্তমান বয়স ৪০+। আজ থেকে ১০০ বছর পর তার বয়স হবে ১৪০+। শিক্ষিত বিজ্ঞানী সাহেব তাহলে তার 'ইসলাম প্রিয় ভাইদের' মুখ থেকে মুসলিমদের লেখাকে 'অশিক্ষিত কাঠমোল্লার কথা' শোনার জন্য ১৪০ বছর বেঁচে থাকবে?!

পয়েন্ট ১.৩: নাস্তিক ও বিবর্তনবাদীদের মুখপাত্র সাহেবের তাহলে বর্তমানে একজনও 'ইসলাম প্রিয় ভাই' নাই?! আহারে! বেচারা একাই 'ইসলাম প্রিয়'! sad

পাঠক বুঝতেই পারছেন, বিবর্তনবাদী নাস্তিকদের দাবির সাথে তাদের বিশ্বস্ত মুখপাত্রের দাবিকে কোনোভাবেই মিলানো যাচ্ছে না। কী করা যায় বলেন তো।

২. সারা বিশ্বের নাস্তিক, বিবর্তনবাদী, অমুসলিম, লাদেন টাইপের লোকজন, ও নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বস্ত মুখপাত্র ওরফে শিক্ষিত বিজ্ঞানী সাহেবের আরেকটি দাবি অনুযায়ী তার দুই দেবতুল্য গুরুজী বিবর্তন তত্ত্বকে সবার চোখে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে, আর মুসলিমরা সেটিকে 'ষড়যন্ত্র' বলে উড়িয়ে দিয়েছে-

আদিল মাহমুদ এর জবাব:
নভেম্বর ১৯, ২০১২ at ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

…বিবর্তনবাদ যে অক্সফোর্ড, কেম্ব্রীজ, হার্ভাড এ জাতীয় সব বিশ্ববিদ্যালয় (যাদের লোকে ভুল বশত বিশ্বের সব সেরা বিশ্ববিদ্যালয় বলে জানে) ও অভিজিত রায় হোরাসদের মিলিত ষড়যন্ত্র এতে আমার আর কোন সন্দেহ নেই…

পয়েন্ট ২.১: বিবর্তনবাদকে 'ষড়যন্ত্র' বলার জন্য শুধুমাত্র সদালাপেই মুসলিমদেরকে বছরের পর বছর ধরে খাটাখাটনি করে এ পর্যন্ত ১৩৩টা পোস্ট দিতে হয়েছে! ১৩৩টা পোস্টের কোনো একটিতেও 'ষড়যন্ত্র' বলে কোনো শব্দই নাই! মুসলিমরা কতটা মাথামোটা জাত, ভেবে দেখুন! কোনো কিছুকে স্রেফ 'ষড়যন্ত্র' বলার জন্য একটি ব্লগেই কয়েক বছর ধরে ১৩৩টা পোস্ট দিতে হয়েছে! সারা বিশ্বের মুসলিমদের লেখা না হয় বাদই থাকল।

পয়েন্ট ২.২: অক্সফোর্ড, কেম্ব্রীজ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কোন্‌ পাগল-ছাগল 'ভুল বশত' বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় বলে জানে!? সেই পাগল-ছাগলদের নাম জানা যাবে কি?

পয়েন্ট ২.৩: সারা বিশ্ব জুড়ে শুধুমাত্র মুসলিম নামক মাথামোটা জাতটাই বিবর্তনবাদের বিরোধীতা করে। এই মাথামোটা জাতির উন্নতি হবে ক্যামনে! কিছু পরিসংখ্যান দেখুন:

Nearly HALF of Americans believe in creationism

46% Americans Believe In Creationism

{স্বয়ং আমেরিকাতে প্রায় ৫০% মাথামোটা মুসলিম আছে! এই ষড়যন্ত্র মানি না!}

Half of Britons do not believe in evolution

{ওমা! খোদ ডারউইনের দেশেও দেখা যাচ্ছে ৫০% মাথামোটা মুসলিম! এত্তবড় ষড়যন্ত্র!}

পাঠক! উগ্র সাম্প্রদায়িক ও নাস্তিকরূপী এলিট সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য যেভাবে ভোদকা গিলে মন্তব্য দুটি করা হয়েছে, সে অনুযায়ী উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে হলে আমাদেরকেও মনে হয় ভোদকা গিলে মাতাল হতে হবে! অন্যথায় এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে কেডা!

এখানে মাত্র দুটি নমুনা তুলে ধরা হয়েছে। 'মনা' ভাইরাসে আক্রান্ত প্রত্যেক রুগীর ক্ষেত্রেই এ'রকম ডজন ডজন নমুনা আছে, যারা ভোদকা গিলে ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে এমন সব কথাবার্তা বলেছে যেগুলো যুক্তিবাদী মহলে বদ্ধ উন্মাদের প্রলাপ ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে বিবেচিত হবে না।

৯ comments

Skip to comment form

  1. 4
    TDWD

    চালিয়ে যান।

  2. 3
    সাদিয়া

    লেখক সাহেব, পারলে এই পোস্টের একটি জবাব দিন

    1. 3.1
      এস. এম. রায়হান

      একই ধরণের গার্বেজের জবাব এই লেখাতে অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে। এখন বিবর্তনবাদী ভণ্ডরা যদি নিত্য নতুন নিকে একই গার্বেজ প্রসব করে, তাহলে প্রত্যেকটি নিকের আলাদা আলাদা জবাব কেউ দিতে যাবে না নিশ্চয়।

      আরেকটা কথা। ঐ পোস্টের লেখক-সহ মন্তব্যকারীরা সব ছদ্মনিকে লিখছে কেনো? ওদের কি নাম নাই? নাকি ওরা বিশেষ এক শ্রেণীর ভণ্ড বিবর্তনবাদী।

      1. 3.1.1
        সাদিয়া

        বিৰ্বতনবাদ নিয়ে কিছু "মজা" করা ছাড়া আপনার ঐ "বিশেষ লেখায়" কোন যুক্তি পেলাম না। নাকি সৃষ্টিবাদীদের বিশ্বাসের জন্য যুক্তির দরকার নাই।

        অধ্যাপক রিচার্ড ডকিন্স এবং জেরি কয়েন তাদের একটি প্রবন্ধে বলেছেন:-
        সত্যি কথা বলতে কি, একটি খাঁটি ফসিলও এখন পর্যন্ত কোন ‘ভুল’ জায়গায় পাওয়া যায়নি -- যা বিবর্তনের ধারাবাহিকতাকে ক্ষুন্ন করতে পারে। যদি এমন কোন ‘বেমানান’ ফসিল কখনও পাওয়া যেত, তাহলে এক নিমেষেই বিবর্তনতত্ত্বের সলিল সমাধি ঘটতো।

      2. 3.1.2
        সাদিয়া

        লেখকের নিকট একটি প্রশ্ন : পৃথিবীপৃষ্ঠে নির্জীব পদার্থ থেকে কীভাবে প্রাণের উৎপত্তি হয়েছিল??? কিংবা, অজৈব জড় পদাৰ্থ থেকে জৈব পদাৰ্থ উৎপত্তি কি সম্ভব ???  
        ওপারিন-হালডেন তত্ব অনুযায়ী, সাড়ে ৪০০ কোটি বছর আগেকার পৃথিবী কিন্তু কোন দিক দিয়েই আজকের পৃথিবীর মত ছিল না। ঐ সময় পৃথিবী ছিল প্রচন্ড গরম, অনেকের মতে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৫০০০-৬০০০ ডিগ্রীর মত। তখন সেখানে কোন প্রান ছিল না, ছিল না কোন মুক্ত অক্সিজেন। আকাশ আর পৃথিবী পরিপূৰ্ন ছিল হাইড্রোজেন(H.), হিলিয়াম(He) ,নাইট্রোজেন(N), মিথেন(CH4), অ্যামোনিয়া(NH4) এর মত বিষাক্ত গ্যাসে, সাথে ছিল জলীয় বাষ্প আর কিছু খনিজ পদাৰ্থ। পরে পৃথিবীর অভ্যন্তরস্থ তাপ বৃদ্ধির সাথে সাথে আর সূৰ্যের মহাকৰ্ষের টানে অধিকাংশ প্রাথমিক গ্যাস উরে চলে যায়। অক্সিজেনের পুরোটুকু বিভিন্ন ধরনের পরমানুর সাথে মিলে নানা ধরনের অক্সাইড তৈরি করে। কাৰ্বনও বিভিন্ন ধাতুর সাথে মিলে নানা ধরনের মেটাল কাৰ্বাইড তৈরি করে। ধীরে ধীরে তৈরি হয় CO2,SO2,HCl এসিড আর সামান্য পরিমানে H, CH4, CO, NH4, HF এসিড,…ইত্যাদি। বায়ুমন্ডলে কোন মুক্ত অক্সিজেন ছিল না ও বায়ুমন্ডলের বাইরে কোন ওজন স্তরও ছিল না। তাই সূৰ্যের অতিবেগুনী রশ্মি খুব সহজেই পৃথিবীতে এসে পৌছাত। আর এক্স রশ্মি, গামা রশ্মি,কস্মিক রশ্মিগুলোর বিকিরন, আর সেই সাথে বৈদ্যতিক বিকিরনও ছিল আজকের দিনের চেয়ে বহুগুন বেশী। ওপারিন আর হালডেনের মতে এমন প্রানহীন পরিবেশে একটা সময় এসব গ্যাসের উপর উচ্চশক্তির বিকিরনের প্রভাবে নানা ধরনের জৈব পদাৰ্থের উদ্ভব হয়। এগুলো থেকেই পরবৰ্তীতে নিজেদের মধ্যে বিক্রিয়ার মাধ্যমে আরো জটিল জৈব পদাৰ্থ উৎপন্ন করে। এগুলো থেকেই পরবৰ্তীতে ঝিল্লি তৈরি হয়। ঝিল্লিবদ্ধ এসব জৈব পদাৰ্থ বা প্রোটিনয়েড ক্রমে ক্রমে এনজাইম ধারন করতে থাকে আর বিপাক ক্রিয়ার ক্ষমতা অৰ্জন করে। এটি একসময় এর মধ্যকার বংশগতির সংকেত দিয়ে নিজের প্রতিকৃতি তৈরি করতে বা পরিব্যপ্তি(Mutation) ঘটাতে সক্ষম হয়। আর এভাবেই একটি সময় তৈরি হয় প্রথম আদিকোষ ও সরল জীবনের । তবে এ স্তরে জীবন ছিল অকোষীয়, পরে তা থেকে কোষীয় জীবের উদ্ভব ঘটে। এই তত্বের মূল নিৰ্যাসটি হল এটি অজৈবজনি(abiogenesis)- অৰ্থাৎ, অজৈব জড় থেকে জীবের উৎপত্তির নিৰ্দেশক।

        আপনার কাছে কি এই "ওপারিন-হালডেন তত্ব" বিশ্বাসযোগ্য না ???

        তাহলে আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, কোন এক ঈশ্বর/আল্লাহ বললেন হও, সাথে সাথে প্রান  সৃষ্টি/উদ্ভব হয়েছে, অবশ্য মোল্লা-হুযুরেরা তাই বিশ্বাস করে !!!

        মোল্লা-হুজুরদেরই বিৰ্বতনবাদ নিয়ে "মজা" করা মানায়। "মজা" চলুক ….. 

        1. 3.1.2.1
          এস. এম. রায়হান

          বিৰ্বতনবাদ নিয়ে কিছু "মজা" করা ছাড়া আপনার ঐ "বিশেষ লেখায়" কোন যুক্তি পেলাম না। নাকি সৃষ্টিবাদীদের বিশ্বাসের জন্য যুক্তির দরকার নাই।

          তাহলে আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, কোন এক ঈশ্বর/আল্লাহ বললেন হও, সাথে সাথে প্রান  সৃষ্টি/উদ্ভব হয়েছে, অবশ্য মোল্লা-হুযুরেরা তাই বিশ্বাস করে !!! মোল্লা-হুজুরদেরই বিৰ্বতনবাদ নিয়ে "মজা" করা মানায়। "মজা" চলুক …..

          আমার ঐ লেখায় যুক্তি খুঁজে পাওয়ার মতো বুদ্ধি আপনার মাথায় নাই- বেশী বেশী গোমূত্র খেলে যা হয় আরকি। তবে ঐ পোস্টে যার লেখার জবাব দেওয়া হয়েছে সে (রায়হান আবীর) ঠিকই যুক্তি খুঁজে পেয়েছে, আর সেজন্যই সে সামনা-সামনি না এসে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

          যাহোক, সাদিয়া (?) নিকে লিঙ্কটা দেখেই বুঝে গিয়েছিলাম ঘটনা কী। তথাপি স্রেফ বেনিফিট-অব-ডাউট এর ভিত্তিতে স্বাভাবিকভাবে জবাব দিয়েছিলাম। আপনি একজন লেঞ্জাধারী পুং হনু। যে পোস্টটার লিঙ্ক দিয়েছেন সে-সহ ওখানে ছুপা নিকে যারা ইসলাম-বিরোধী মন্তব্য করেছে তারাও বিশেষ একটি ধর্মের লেঞ্জাধারী হনু। লেঞ্জাধারী হনুরা বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করে না, ইতোমধ্যে প্রমাণিত। তারা বিবর্তনবাদে বিশ্বাসের ভান করে ইসলাম ও মুসলিমদের গায়ে গোমূত্র ছিটায়। যান যান আরো বেশী করে গোমূত্র ছিটান। এইসব জিনিস আপনার জন্য না।

  3. 2
    shahriar

    @করতোয়া,

    Very good writing.

  4. 1
    করতোয়া

    এক নাস্তিক পাগলের প্রলাপ

    রোজার মাস। নিজ শহরের এক বাঙালী ডাক্তারের বৌ হঠাৎ ইফতারের দাওয়াত করলেন। রোজার মাস ইফতারের দাওয়াত না নেয়াটা একজন রোজদারের জন্য সুন্নাহ নয়। তাই গ্রহণ করলাম। বাড়ীর ডাক্তার ভাই হজ্জ ফেরৎ নাস্তিক আর ভাবী হলেন আস্তিক। সন্তান ২জনের পরিচয় যে কি জানা হয়না। যাই হোক! ইফতারের টেবিলে নাস্তিক সাহেব অনেক কিছু বক বক করছেন ইসলাম, আল্লাহ আর রসুল সম্পর্কে। ভাবী তার সাথে বিতর্ক করছেন আর আমি রোজা আছি বলে মুখ চেপে বসে আছি। ইফতারের পর শুরু করলাম বিতর্ক। বিতর্কের বিষয় “কে লাভবান হচ্ছে বা হবে নাস্তিক না আস্তিক”।

    আমি তাকে প্রশ্ন করলাম:

    আমিঃ আচ্ছা বিজ্ঞানের যুক্তিতে মানুষের মৃত্যুটা সত্য কিনা?

    নাস্তিকঃ অবশ্যই সত্য একটি ঘটনা।

    আমিঃ আমরা যারা আস্তিক তারাও মেনে নিই যে মৃত্যু একটা সত্য ঘটনা যা আমাদের সৃষ্টিকর্তা বলে দিয়েছেন আর বাস্তবেও দেখছি। তাহলে মৃত্যুর ব্যাপারে নাস্তিক বা আস্তিক উভয়-ই একমত। মৃত্যুর পর কিছু আছে কিনা সেটা না হয় আপাতত সাইড লাইনে রেখে দিন। আমাকে বলুন আপনি অংক শাস্ত্রের প্রবাবিলিটি সম্পর্কে কতটুকু জানেন। আশা করি এটা ভাবভাবে জানার কথা কারণ এটা বিজ্ঞানেরই চমক বটে।

    নাস্তিকঃ অবশ্যই প্রোবাবিলিটি আপনাকে কোন বিষয়ে সমানাধিকার সুযোগ দেয়। দেখুন বিজ্ঞান কিভাবে বৈজ্ঞানিক কায়দায় সমানাধিকার সুযোগ দিয়েছে মানুষকে যা ধর্ম তো বটেই ইসলামেও নাই।

    আমিঃ তাহলে প্রোবাবিলিটি বলতে আপনি কি বুঝাতে চান বৈজ্ঞানিক কায়দায়?

    নাস্তিকঃ সব কিছুর ৫০/৫০ চান্স। যাকে বলে বৈজ্ঞানিক কায়দায় সমানাধিকার। এর চেয়ে সমানাধিকারের অংক আর কোথায় পাবেন?

    আমিঃ ধরুন আপনার বিশ্বাসে মৃত্যুর পর কিছু নাই আর আমার বিশ্বাসে আছে। আপনি যেমন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করতে পারছেন না যে মৃত্যুর পর আসলেই কিছু নাই তেমনি আমিও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করতে পাচ্ছিনা যে মৃত্যুর পর কিছু আছে। কিন্তু আমি ধর্মের জ্ঞানে নিশ্চিত যে কিছু একটা আছে। আমি শাস্তির ভয়ে দুনিয়াতে খুব সাবধানে চলছি যাতে মৃত্যুর পর আমার ক্ষতি না হয়। আর আপনি কাল্পনিক ভাবে শাস্তি নাই বিধায় যেভাবে পছন্দ আপনি সেভাবেই দুনিয়াতে চলছেন। আপনার ভোগ বিলাশ আর আমার ভোগ বিলাশের মধ্যে তেমন কোন ব্যাপক পার্থক্য নাই। এখন যদি মৃত্যুর পর কোন শাস্তি না থাকে তাহলে আপনিও সেফ আমিও সেফ যাকে বলে ৫০/৫০ সমানাধিকার। আমার কোন ক্ষতি হবে না আপনারও হবে না। কিন্তু ধরুন দেখা গেল কিছু একটা আছে তখন আমি সেফ আপনি কিন্তু সেফ না। এটাকি ভেবে দেখেছেন। আমি ৫০/৫০ চান্স নিয়ে চলছি বলে মৃত্যুর পর সেফ হবার সম্ভাবনা আছে কিন্তু আপনার সে চান্স নাই।

    নাস্তিকঃ ৫০/৫০ চান্স বলছেন কেন, কেন ৯৯:১ চান্স বলছেন না।

    আমিঃ বড় মুখে একটা হা করে তার মুখের দিকে চেয়ে থাকলাম। শুধু বল্লাম আপনি কি অংক ভুলে গেলেন? মাথা ঠিক আছে তো? আপনারই বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অনুযায়ী আমি ৫০/৫০ চান্সে সমানাধিকারের অংক করলাম আবার এখন আপনিই সেটা বাতিল করছেন কি কারণে। ৯৯% চান্স তো কখনও প্রবাবিলিটি’র থিওরীকে সাপোর্ট করে না। এটা কোন্‌ বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব?

    1. 1.1
      কিংশুক

      আল্লাহর রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সা:) কে আল্লাহ পাক যত ওয়াদা দিয়েছেন সবই পূরন হয়েছিলো যদিও হযরত মোহাম্মদ(সা:) এতিম, নিজ বং কুরাইশ কর্তৃক বহিষ্কৃত, প্রথম দিকে বেশীর ভাগ দরিদ্র অল্প কিছু অনুসারী পেয়েছিলেন। আল্লাহর তায়ালার দুনিয়াবী বিষয়ক প্রদত্ত সকল ওয়াদা দৃনিয়াতে পুরন হয়েছিলো। তাহলে মৃত্যুর পরের জীবনের ওয়াদাও সত্য এবং অবশ্যই পূরন হবে। অবশ্য নাস্তিকরা এটা মানবেনা বরং মোহাম্মদ(সা:) গুপ্তচরের মাধ্যমে সকল খবর পেয়ে যেতেন আর ভাগ্য খুব ভালো ছিলো ইত্যাদি ইত্যাদি-এরকম খোঁড়া যুক্তি বানিয়ে নিবে। তাদের বৈজ্ঞানিক ধর্মে সম্ভাবনাও সৌভাগ্যের মতো, তারাও ভাগ্যে বিশ্বাসী!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published.