«

»

Jun ১৩

ইলেকট্রিক সার্কিট নিয়ে সংক্ষিপ্ত টিউটরিয়াল [পর্ব-৫]

এই পর্বে সুপারপজিশন নীতি (Superposition Principle) নিয়ে আলোচনা করা হবে। সুপারপজিশন নীতি অনুযায়ী কোনো লিনিয়ার সার্কিটে যদি একাধিক সোর্স থাকে তাহলে কোনো একটি রোধকের আড়াআড়ি বিভব পার্থক্য হবে প্রত্যেক সোর্স দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে উৎপন্ন বিভব পার্থক্যের বীজগণিতীয় যোগফলের সমান। কারেন্টের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য, তবে পাওয়ারের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগ করা যাবে না। যে সকল সার্কিটে একাধিক সোর্স থাকে সেই সকল সার্কিটেই কেবল সুপারপজিশন নীতি প্রয়োগ করা হয়। সুপারপজিশন নীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:

ধাপ-১: একটি সোর্স ছাড়া বাকি সোর্সগুলোকে নিষ্ক্রিয় বা শূন্য করতে হবে। ভোল্টেজ সোর্সকে নিষ্ক্রিয় করতে হলে সোর্সটিকে সার্কিট থেকে খুলে ফেলে একটি তার দিয়ে টার্মিনাল দুটি যুক্ত করে দিতে হবে, যাকে শর্ট সার্কিট বলা হয়। আর কারেন্ট সোর্সকে নিষ্ক্রিয় করতে হলে সোর্সটিকে সার্কিট থেকে খুলে ফেলতে হবে, যাকে বলে ওপেন সার্কিট। তবে ডিপেনডেন্ট সোর্সকে নিষ্ক্রিয় করা যাবে না।

ধাপ-২: যে সোর্সটি থেকে গেল তার জন্য কারেন্ট অথবা ভোল্টেজ বের করতে হবে।

ধাপ-৩: প্রত্যেক সোর্স এর জন্য আলাদাভাবে ধাপ ১ ও ২ পুনরাবৃত্তি করতে হবে।

ধাপ-৪: সবগুলো সোর্স এর জন্য কারেন্ট অথবা ভোল্টেজ এর বীজগণিতীয় যোগফল করে মোট কারেন্ট অথবা ভোল্টেজ পাওয়া যাবে।

সুপারপজিশন নীতি প্রয়োগের একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। নিচের সার্কিটে একটি কারেন্ট সোর্স, একটি ভোল্টেজ সোর্স, এবং তিনটি রোধক আছে। সুপারপজিশন নীতি প্রয়োগ করে 2 Ω রোধের আড়াআড়ি বিভব পার্থক্য তথা v0 এর মান বের করতে হবে। সার্কিটে যেহেতু দুটি সোর্স আছে সেহেতু শুধু ভোল্টেজ সোর্সের জন্য 2 Ω রোধের আড়াআড়ি বিভব পার্থক্য ধরা যাক v'0 এবং শুধু কারেন্ট সোর্সের জন্য 2 Ω রোধের আড়াআড়ি বিভব পার্থক্য v''0. তাহলে দুটি সোর্সের জন্য মোট বিভব পার্থক্য হবে, v0 = v'0 + v''0. এবার v'0v''0 এর মান বের করতে হবে।

প্রথমে ভোল্টেজ সোর্সকে রেখে কারেন্ট সোর্সকে নিষ্ক্রিয় করলে নিচের এক লুপ-বিশিষ্ট সরল সার্কিট পাওয়া যাবে। এই সার্কিটের ক্ষেত্রে v'0 এর মান হবে 4 V.

এবার কারেন্ট সোর্সকে বিবেচনায় নিয়ে ভোল্টেজ সোর্সকে নিষ্ক্রিয় করলে নিচের সার্কিট পাওয়া যাবে। যে কোনো পদ্ধতি (যেমন কারেন্ট ডিভাইডার রুল) প্রয়োগ করে v''0 এর মান পাওয়া যাবে 8 V.

দুটি সোর্সের জন্য মোট বিভব পার্থক্য হবে, v0 = v'0 + v''0 = 4 + 8 = 12 V. একইভাবে তিন বা ততোধিক সোর্সের ক্ষেত্রে সুপারপজিশন নীতি প্রয়োগ করা যায়। সোর্স এর সংখ্যা বেড়ে গেলে সময় একটু বেশি লাগতে পারে, তবে প্রতিবার একটি করে সোর্স বিবেচনা করা হয় বিধায় এই পদ্ধতি খুব সরল এবং ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।

৫ comments

Skip to comment form

  1. 2
    শামস

    ইলেক্ট্রিকাল এইসব সার্কিট যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন বুঝতে কারো অসুবিধা হবার কথা না। কিন্তু সার্কিট একটু পেচিয়ে দিলে তখন মাথা উল্টা-পাল্টা হয়ে যায়। তাই অনুশীলনের বিকল্প নাই।

    1. 2.1
      এস. এম. রায়হান

      ঠিক বলেছেন, নিজে অনুশীলনের বিকল্প নাই, তা এখানে যতই বুঝানো হোক না কেন। এজন্য আমি শুধু বেসিক কিছু ধারণা সহ হাতে ধরিয়ে দেয়ার মতো করে উপস্থাপন করছি।

      1. 2.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        সাথে কিছু উদাহারণ না দিলে ইলেক্ট্রনিক্সের ছাত্র ছাড়া অন্যরা কিছুই বুঝব না।

  2. 1
    ফুয়াদ দীনহীন

    ক্রমান্নয়ে রায়হান ভাইয়ের সুন্দর পোস্ট আসছে। আবারো অনেক সুন্দর হয়েছে। ৮-১০ পর্ব হলেই ইবুক বানাতে পারেন।

    আচ্ছা রায়হান ভাই, এই নীতি গুলির উপর কোন প্রেক্টিক্যাল বাস্তব ঘটনা যোগ করা যায় না। যেমন এই নীতিটা এই জায়াগায় কাজ করে বা এই নীতির উপর ভিত্তি করে এটি করা হয়েছে। তাহলে বুঝতে এবং গুরুত্ব অনুভব করা যেত। লেখা গুলিও সহজ মনে হত।

    পোস্টে +++

    1. 1.1
      এস. এম. রায়হান

      ফুয়াদের প্রশংসায় আমার তো ফুলে-ফেঁপে ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে! আসলে সুন্দর হয়নি। লিখার হাত ভাল হলে ও আরেকটু সময় দিলে কিছুটা সুন্দর করে উপস্থাপন করা যেত। যাহোক, এই নীতিগুলোর বাস্তব প্রয়োগ অবশ্যই আছে, যদিও সেদিকে নজর দেয়া হয়নি। পরের পর্বে উল্লেখ করা যায় কিনা দেখি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.