«

»

Nov ০৩

ঘিলুহীন নির্বোধরা যেভাবে “বুদ্ধিমান নাস্তিক” হয়!

আজ থেকে ১০-১২ বছর আগ পর্যন্তও সারা বিশ্বে সাধারণভাবে এবং বাংলাদেশে বিশেষভাবে নাস্তিকদেরকে সাধারণ লোকজন অপছন্দ করলেও অন্ততঃ সমীহের চোখে দেখত এই ভেবে যে, নাস্তিকরা হয়তো আর দশ জনের চেয়ে জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান হয়। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে যদু-মদু-মোল্লা'দের নাস্তিক হওয়া দেখে সেই সাধারণ লোকজনও এখন নাস্তিকদেরকে অজ্ঞ-মূর্খ-গর্দভ মনে করে! একদিক দিয়ে অবশ্য ভালোই হয়েছে। এই সুবাদে সাধারণ লোকজনের কাছে আজ নাস্তিকতার জারি-জুরি-ভুং-ভাং সব ফাঁস হয়ে গেছে। সাধারণ লোকজন ও পোলাপানরাও এখন 'বিয়াদপ' হয়ে গেছে – তারা বড় বড় নাস্তিকদের নিয়েও হাসি-ঠাট্টা করার মতো সাহস দেখায়!

যাহোক, এক ঘিলুহীন নির্বোধ কীভাবে নিজেকে 'বুদ্ধিমান নাস্তিক' আর ধর্মে বিশ্বাসীদেরকে 'বুদ্ধিহীন' প্রমাণ করার চেষ্টা করছে তা দেখলে হাসি চেপে রাখা সত্যিই কষ্টকর হবে! তবে সেটা দেখানোর আগে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

১. নামে হলেও দুই বিলিয়নেরও বেশী ইহুদী-খ্রীষ্টানদের কাছে (যাদের মধ্যে কিছু বিজ্ঞানী-দার্শনিক-কবি-সাহিত্যিকও আছেন) গডের বাণী হিসেবে বিবেচিত বাইবেলে নাস্তিকদেরকে 'নির্বোধ' বলা হয়েছে! দেখুন-

The fool says in his heart, “There is no God.” They are corrupt, they do abominable deeds, there is none that does good. (Psalm 14:1)

২. নামে হলেও প্রায় এক বিলিয়ন হিন্দুদের কাছে (যাদের মধ্যে কিছু বিজ্ঞানী-দার্শনিক-কবি-সাহিত্যিকও থাকতে পারেন) ঈশ্বরের বাণী হিসেবে বিবেচিত গীতাতে নাস্তিকদেরকে অজ্ঞ, অযুক্তিবাদী, ইত্যাদি বলা হয়েছে! নিচে কিছু নমুনা দেখুন (বিস্তারিত এখানে)-

The evil doers, the ignorant, the lowest persons who are attached to demonic nature, and whose power of discrimination has been taken away by divine illusive power (Maya) do not worship or seek Me. (Gita 7:15)

The irrational, the faithless, and the disbeliever (atheist) perishes. There is neither this world, nor the world beyond, nor happiness for the disbeliever. (Gita 4:40)

৩. নামে হলেও প্রায় দেড়-দু বিলিয়ন মুসলিমদের কাছে (যাদের মধ্যে বিজ্ঞানী-দার্শনিক-কবি-সাহিত্যিক ও নোবেল ল্যরিয়েটও আছেন) আল্লাহর বাণী হিসেবে বিবেচিত কোরআনে অবিশ্বাসীদের সম্পর্কে কী বলা হয়েছে তা বাংলা নাস্তিকরা খুব ভালো করেই অবগত, তাদের লেখাতে এগুলো হর-হামেশাই দেখা যায়।

পাঠক! এই যখন বাস্তবতা তখন এক সৌদি প্রবাসী ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী বির্বোধ লেঞ্জা লুকিয়ে বুশ মোল্লা সেজে একাদশ শতকের এক 'অন্ধ আরব কবি'র বাণী সিগনেচারে লটকাইয়া রেখে একদিকে নিজেকে 'বুদ্ধিমান নাস্তিক' হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে অন্যদিকে আবার ইহুদী-খ্রীষ্টান ও হিন্দুদের পক্ষালম্বন করে মুসলিমদেরকে বিভিন্নভাবে হেয় করে আসছে। হাসবেন না কাঁদবেন! 😛

bushmolla

(সূত্র: নির্বোধটা তার সিগনেচার নিয়ে উপরে একজনের প্রশ্নের জবাবও দেয়নি!)

তো সেই অন্ধ আরব কবি এই কথা আদৌ বলেছেন নাকি তার নামে প্রচার করা হয়েছে, সেই প্রশ্ন অবশ্য থেকেই যাচ্ছে। চ্যালেঞ্জ করলে হয়তো লেঞ্জা গুটিয়ে পালাতে হবে। তথাপি ধরেই নেওয়া যাক যে, সেই অন্ধ আরব কবি সত্যি সত্যি এই কথা বলেছেন। কিন্তু ট্রিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হচ্ছে-

যেখানে দুই বিলিয়নেরও বেশী ইহুদী-খ্রীষ্টানদের কাছে গডের বাণী হিসেবে বিবেচিত বাইবেলে নাস্তিকদেরকে 'নির্বোধ' বলা হয়েছে; যেখানে প্রায় এক বিলিয়ন হিন্দুদের কাছে ঈশ্বরের বাণী হিসেবে বিবেচিত গীতাতে নাস্তিকদেরকে 'অজ্ঞ, অযুক্তিবাদী, ইত্যাদি' বলা হয়েছে; কোরআনের কথা না হয় বাদই থাকলো; যেখানে গ্যালিলিও, নিউটন, আইনস্টাইন, বার্ট্রান্ড রাসেল, কার্ল মার্ক্স, সেক্সপীয়ার, আব্দুস সালাম, জগদীশ চন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জামাল নজরুল ইসলাম-সহ বড় বড় বিজ্ঞানী-দার্শনিক-কবি-সাহিত্যিকদের কেউই যে কথা বলার সাহস পাননি – সেখানে একাদশ শতকের এক 'অন্ধ আরব কবি'র বাণীতে অন্ধ বিশ্বাসী হয়ে নিজেকে 'বুদ্ধিমান নাস্তিক' আর ধর্মে বিশ্বাসীদেরকে 'বুদ্ধিহীন' প্রমাণ করা কতটা নির্বুদ্ধিতা আর বেকুবী হতে পারে!!!???!!!

কারো মাথায় ন্যূনতম ঘিলু বলে কিছু থাকলে কি কেউ এক 'অন্ধ [আরব] কবি'র বাণীতে অন্ধ বিশ্বাসী হয়ে নিজেকে 'বুদ্ধিমান নাস্তিক' আর ধর্মে বিশ্বাসীদেরকে 'বুদ্ধিহীন' হিসেবে দেখাতে পারে? এইটা তো কালের শ্রেষ্ঠ বিনুদুনমূলক মিরাক্কেল হওয়ার কথা! তার গুরুজী মগাজিৎ রায়ের পথ অনুসরণ করে পশ্চিমা সাদা চামড়ার কোনো নাস্তিকের বাণীকে সিগনেচারে লটকাইয়া রাখলেও একটা কাজের কাজ হতে পারত!

যাহোক, শত শত বছর আগের নর্দমা হাতড়িয়ে এক 'অন্ধ আরব কবি'র বাণী খুঁজে বের করে সেটিকে 'ঈশ্বরের অভ্রান্ত বাণী' হিসেবে সিগনেচারে লটকাইয়া রাখা দেখে সেই বিখ্যাত বাংলা প্রবাদের কথা মনে পড়ে গেল (প্রবাদটা এক্ষেত্রে পারফেক্টলি ম্যাচ করে!): রতনে রতন চেনে, শূয়রে চেনে কচু! 😛

 

সংযোজন-১: একটি পাকিস্তানী ছাগুকে হত্যার জন্য চারিদিক থেকে ছয় জন হিন্দুস্তানী কাটমোল্লা বন্দুকের নল তাক করে আছে! লেএএএ হালুয়া! 😀  😛

KaMo2

 

সংযোজন-২: হিন্দুস্তানী কাটমোল্লা দেখা যাচ্ছে সেক্যুলার পাকিস্তানী পেজের লেখা শেয়ার দিচ্ছে! রতনে রতন চেনে…

KaMo1

 

সংযোজন-৩: হিন্দুস্তানী কাটমোল্লা এবার তারেক ফাতাহ নামে এক পাকিস্তানী ও জায়নবাদীদের দাসের লেখা শেয়ার দিচ্ছে! রতনে রতন চেনে…

KaMo3

৯ comments

Skip to comment form

  1. 6
    এস. এম. রায়হান

    এই কাঠ বলদ দীর্ঘদিন ধরে লেঞ্জা লুকিয়ে অবৈধভাবে সৌদি আরবে থেকে ইহুদী, খ্রিষ্টান, ও হিন্দুত্ববাদীদের পা চেটে মুসলিমদের দিকে থুতু ছিটিয়ে আসছে। সদালাপ ও সদালাপের লেখকদের নাম বিকৃতি করে ব্যক্তি আক্রমণ ও বিভিন্নভাবে হেয় করে আসছে। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে- সে কি অভিজিৎ রায়ের ভাষায় 'আগা মুটা গুরা চিকন' নাকি 'আগা চিকন গুরা মুটা' কেউ?

  2. 5
    এস. এম. রায়হান

    পাঠক! এই সৌদি প্রবাসী রাম্ভাদাটা কিছুদিন পর পর খোয়াড় থেকে বের হয়ে কিছুক্ষণ ম্যা ম্যা করে আবার খোয়াড়ে ঢুকে পড়ে! আমু ব্লগে বিবর্তনবাদ নিয়ে সাম্প্রতিক একটি পোস্টে তার ম্যা ম্যা দেখুন-

    শনিবার, ৩১/০৫/২০১৪ – ০২:২৮ তারিখে কাঠ মোল্লা বলেছেন

    বিবর্তন জীববিজ্ঞান থেকে শিখবেন কেন? হয়রান ইয়াহইয়ার মত ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের কাছ থেকে শিখবেন।

     

    শনিবার, ৩১/০৫/২০১৪ – ০৩:১৫ তারিখে কাঠ মোল্লা বলেছেন

    আপনি তো হয়রানের কাছ থেকে ছবক নিয়ে বসে আছেন, আমি কী শিখাবো? আর আমিও জীব বিজ্ঞানী নই, হয়রানের মত নিজেকে তা মনেও করি না।

    সূত্র: https://www.amarblog.com/Masud-Rana-007/posts/179667

    আস্ত একটা নির্বোধ 😛 এক লাইনের যৌক্তিক কিছু বলার মতোও তার মস্তিষ্কে ঘিলু বলে কিছু নাই!

  3. 4
    এস. এম. রায়হান

    'কাটমোল্লা' নিকের সৌদি প্রবাসী ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী নির্বোধটা তার লেঞ্জা উন্মোচিত হওয়ার ভয়ে সম্ভবত নিক পরিবর্তন করেছে। এই লেখা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে সে পুরোপুরি লাপাত্তা হয়ে গেছে। অথচ তার আগ পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা আমু ব্লগে অনলাইনে থাকত।

    1. 4.1
      এস. এম. রায়হান

      পাঠক! এই পোস্ট প্রকাশ হওয়ার পর-পরই সে আমু ব্লগ থেকে লাপাত্তা হয়ে গেছিল। কিন্তু উপরের মন্তব্যটা নজরে পড়ার সাথে সাথে আমাকে ব্যক্তি আক্রমণ করে একটি পোস্ট দিয়ে বুঝাতে চেয়েছিল যে, সে জীবিত আছে! কিন্তু তারপর আবারো দীর্ঘদিন ধরে লাপাত্তা! এর কারণ হচ্ছে লেঞ্জা উন্মোচন হওয়ার ভয়ে সে এই নিকটা ডি-অ্যাকটিভেট করার পাঁয়তারা করছে! তাছাড়া সৌদি সরকার সেই দেশে বসবাসরত নাস্তিকদেরকে সন্ত্রাসী ঘোষণা দেওয়াতে হনুটা সম্ভবত মহা বিপদে আছে! দেখা যাক, এই লেঞ্জাধারী নির্বোধটার দৌড় কতদূর।

  4. 3
    এস. এম. রায়হান

    পাঠক! বিবর্তন তত্ত্বকে যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে ডিফেন্ড করে যার একটিও লেখা নাই, এমনকি বিজ্ঞান- বা দর্শন-ভিত্তিক বিষয়েও যার কোনো লেখা নাই, যার পোস্টগুলো মূলত মুসলিমদের হাগুপাদু-ভিত্তিক (শূয়রে চেনে কচু টাইপের), বিবর্তনবাদ বা নাস্তিকতা নিয়ে আমাদের কোনো একটি প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো ঘিলু যার মাথায় নাই, যে কিনা একাদশ শতকের এক অন্ধ আরব কবি'র বাণী (শূয়রে চেনে কচু) সিগনেচারে লটকাইয়া রেখে নিজেকে 'বুদ্ধিমান নাস্তিক' প্রমাণ করছে -- এমন একজন ঘিলুহীন ইডিয়ট আবার অন্যকে বিবর্তন সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছে! 😛 কোন্‌গুলো 'তথ্যমূলক লেখা' আর কোন্‌গুলো 'ওয়াজ' সেটাও এই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বুঝে গেছে! স্ক্রীনশটে দেখুন। হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়-রে ভাই!

  5. 2
    কিংশুক

    গর্দভ কাঠমোল্লা একাদশ শতকের ভোম্বল দাস অন্ধ কবির (আরবীয় বটে! আরবের গর্ব!) উদ্ধৃতি দেয় কেন? ঐ অন্ধ ভোম্বল দাস কবি হয়তো মূর্খ, জগৎ সম্পর্কে জ্ঞানহীন বেকুব। একাদশ শতকের অমিত প্রতিভাবান সকল দার্শনিককে (সকল কালের দার্শনিকদের) ঘোল খাইয়ে দেওয়া, সকল কালের নাস্তিকদের আল্লাহর অস্তিত্ব, কোরআন ইত্যাদির সকল প্রশ্নের অকাট্য যুক্তি দ্বারা ব্যাখ্যা দানকারী, যাঁর জ্ঞানের স্বীকৃতি দিতে কোন মহলই (গর্দভ নাস্তিকরা ব্যতীত। তাদের কাছে গাজ্জালীই হইলো আসল কাঠমোল্লা) অস্বীকৃতি জানায়না, সেই ইমাম গাজ্জালী (রাঃ) এর উদ্ধৃতি সিগনেচার হিসাবে ব্যবহার করলে বাংগাল কাঠমোল্লাকে বুদ্ধিমান ভাবা যেতো। আসলেই “রতনে রতন চেনে, শূয়রে চেনে কচু!কোন্‌ পাগল ছাগলদের সাগরেদ এই বাংগাল কাঠমোল্লা! লজ্জাজনক।

    1. 2.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      কাঠমোল্লা এবং ভবঘুরে একই ব্যক্তি, উনার আরও নাম আছে। 

      1. 2.1.1
        এস. এম. রায়হান

        ভবঘুরে আর এই পোস্টের কাঠমোল্লা এক ব্যক্তি না। তবে ভবঘুরে একবার মনা ব্লগে কাঠমোল্লা নিকে মন্তব্য করতে যেয়ে ঐ ব্লগের দু-জনের কাছে ধরা খেয়েছিল।

  6. 1
    এম_আহমদ

    বেশ ভাল হয়েছে। বিবেচনা করা যেতে পারে অথবা তাদের কথাবার্তা দারণ চ্যালেঞ্জিং অনুভূত হতে পারে এমন কোনো বঙ্গাল নাস্তিকদের লেখা দেখেছি বলে স্মরণ করতে পারছি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.