«

»

Jan ১৩

ইসলামকে ছুৎমার্গ ও প্রতীকি ধর্ম বানানো হচ্ছে

কথায় কথায় ছিঃ! ছিঃ! জাত গেল! জাত গেল! অশ্লীল! কুরুচিকর! এটা নিষিদ্ধ, ওটা নিষিদ্ধ, ইত্যাদি ছুৎমার্গ ব্যাপারগুলো আসলে পেগ্যান প্রথা। অনুরূপভাবে, সবকিছুকে প্রতীকি বানিয়ে ফেলাও একটি পেগ্যান প্রথা। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে মুসলিমদের মধ্যে এগুলো ভালোমতোই ঢুকে গেছে। অথচ কোরআনে (হাদিসের ব্যাপারে আমি কখনোই নিশ্চয়তা দিতে পারব না) প্রতীকি বলে যেমন কিছু নাই তেমনি আবার কথায় কথায় মুসলিমদের ছুৎমার্গ ব্যাপারগুলোও পাওয়া যায় না। কোরআনে খুবই সীমিত পরিসরে কিছু কিছু জিনিস (যেমন: শুকরের মাংশ, মৃত পশু-পাখির মাংশ, রক্ত, ও অ্যালকোহল-সহ আরো দু-একটি খাবার) এবং কিছু কিছু কাজকর্ম নিষিদ্ধ (হারাম) করা হয়েছে। তবে কোরআনে যেগুলো সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেগুলোর ব্যাপারেও কোরআনে ছুৎমার্গ ধরণের কোনো প্রতিক্রিয়া নাই। কিন্তু মুসলিমরা (সবাইকে বুঝানো হচ্ছে না) আসলে কী করছে? ইসলামকে ছুৎমার্গ ও প্রতীকি ধর্ম বানানোর কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো।

১. অন্তর্জালের যুগে মুফতী-মাওলানা-ফতোয়াবাজের ছড়াছড়ি। তাদের মুখে কথায় কথায় হারাম, হারাম, নাউজুবিল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু তেমন একটা শোনা যায় না। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ পর্যন্ত দু'জনকে প্রশ্ন করেছি, "আপনারা যে আল্লাহর উপর খোদাগিরি করে এভাবে কথায় কথায় হারাম ফতোয়া দিচ্ছেন, এজন্য আল্লাহর ভয়ে বুক কাঁপে না?" তাদের উত্তর ছিল এরকম, "আপনি চাইলে মাওলানা-স্কলারদের রেফারেন্স দিতে পারি।" তার মানে তারা কিছু মাওলানা-স্কলারকে আল্লাহর উপরে স্থান দিয়েছে। এটা তো আর কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে করতে পারে না। কিন্তু মনের অজান্তে হয়ে গেছে। সেই মাওলানা-স্কলার'রা কোন্‌ প্রেক্ষাপটে কী বলেছেন, তারা আসলেই সেগুলোকে হারাম বলেছেন কি-না, তাদের ফতোয়া অনন্তকালের জন্য প্রযোজ্য কি-না, সে ব্যাপারে অবশ্য তেমন কিছু জানা যায় না।

২. নারী-পুরুষের মধ্যে অবৈধ যৌন সম্পর্কের খবর পেলে মুসলিমদের (সবার না) প্রতিক্রিয়া কেমন হয়? ছিঃ! ছিঃ! জাত গেল! জাত গেল-সহ তাদেরকে অত্যন্ত নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। কোরআন-হাদিসে কি এ'রকম কোনো প্রতিক্রিয়া আছে? কোরআনে নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্ককে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ঠিকই, শাস্তির বিধানও আছে, তবে এটুকুই।

৩. আমার জানামতে কোরআন-হাদিসের কোথাও ইসলামের প্রতীক বলে কিছু নাই। অথচ সব জায়গায় দেখা যায় অন্যান্য ধর্মের প্রতীকের সাথে চাঁদ-তারা খচিত একটি প্রতীক দিয়ে ইসলামকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ইসলামের প্রতীক হিসেবে এই চাঁদ-তারা কি মুসলিমদের আবিষ্কার নাকি অন্য কারো আবিষ্কার, সে ব্যাপারে আমি অবশ্য নিশ্চিত না। তবে মুসলিম স্কলারদেরকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিবাদ করতেও দেখা যায় না।

৪. ধরা যাক অপরিচিত একজন ইসলাম বিদ্বেষীকে টুপি, সুন্নতি দাড়ি, ও জুব্বা পরিয়ে এবং অপরিচিত একজন মুসলিমকে টুপি-দাড়ি-জুব্বা ছাড়া শার্ট-প্যান্ট বা সাধারণ কোনো পোশাকে দেড় বিলিয়ন মুসলিমদের সামনে একে একে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করা হলো- এই দু'জনের মধ্যে কে প্রকৃত মুসলিম? এই লেখা পড়ে ব্যাপারটা অনুধাবন করতে পেরে যে যা-ই বলুন না কেন, বাস্তবে কী হবে? আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, ব্যতিক্রম ছাড়া দেড় বিলিয়ন মুসলিমদের প্রায় সকলেই টুপি, সুন্নতি দাড়ি, ও জুব্বা পরিহিত ইসলাম বিদ্বেষীকেই 'পরহেজগার মুসলিম' বলবে! এখানে কি তাহলে ইসলামকে প্রতীকি ধর্ম বানানো হলো না? এই উদাহরণটা দেওয়া মানে এটা মনে করার কোনো কারণ নাই যে, আমি দাড়ি-টুপির বিরোধীতা করছি। প্রায় সব ধর্মের লোকজনই কম-বেশী দাড়ি-টুপি পরিধান করে। অনেক অমুসলিমের দাড়ি আছে। কিন্তু এখানে কী বুঝাতে চাওয়া হচ্ছে সেটা বুঝতে হবে। মুসলিমরা টুপি-দাড়ি-জুব্বা'কে মুসলিম হওয়ার প্রতীক বানিয়ে ফেলেছে, যা চরম বিভ্রান্তিকর।

৫. উপরে যে উদাহরণটা দেওয়া হয়েছে সেটি খৎনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। শিক্ষিত-সচেতন মুসলিম ছাড়া সাধারণ মুসলিমদের অনেকেরই ধারণা যে, একমাত্র মুসলিমরাই খৎনা করে। অন্য অর্থে, খৎনা করা মানেই মুসলিম হওয়া! অর্থাৎ তাদের কাছে 'খৎনা' হচ্ছে মুসলিম হওয়ার একটি (কারো কারো কাছে হয়তো একমাত্র!) প্রতীক। এইটা যে পুরোপুরি একটা ভ্রান্ত ধারণা তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। অধিকন্তু, এই ধরণের চিন্তাভাবনা যে ইসলামকে পেগ্যান প্রথার মতো অবাস্তব বা সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলছে সে বিষয়ে কতজন ভেবে দেখেছেন কে জানে। প্রথমত, আমার জানামতে কোরআন-হাদিসের কোথাও বলা নাই যে, খৎনা না করলে মুসলিম হওয়া যাবে না। এই ধরণের অবাস্তব কথাবার্তা অন্তত কোরআনে লিখা থাকতে পারে না। দ্বিতীয়ত, ধরা যাক খৎনা না করা একজন বয়স্ক অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করতে চায়। তাকে বলা হলো মুসলিম হতে হলে খৎনা করতেই হবে। কিন্তু সে খৎনা করতে চাচ্ছে না, ভয় পাচ্ছে। এই অবস্থায় সে কি ইসলাম গ্রহণ করতে পারবে না? এইটা কি ইসলাম নাকি কোনো পেগ্যান প্রথা? তাছাড়া প্রতি বছর হাজার হাজার বয়স্ক পুরুষ ইসলাম গ্রহণ করছেন। তাদের সকলেই কি খৎনা করে মুসলিম হচ্ছে?

এই লেখাতে বুঝার জন্য কিছু ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে মাত্র। এগুলো ছাড়াও আরো অনেক উদাহরণ আছে। এভাবে সার্বজনীন ও বাস্তবধর্মী ইসলামকে পেগ্যান ধর্মের মতো অবাস্তব বা সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলা হচ্ছে। মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে অনেকেই এগুলোকে 'সহীহ ইসলাম' মনে করে বিভ্রান্ত হচ্ছে। অমুসলিমদের অনেকে এগুলোর জন্য ইসলামকে আলাদাভাবে কোনো গুরুত্বই দেয় না। অসচেতন মুসলিমদেরও কেউ কেউ এসব কারণেই ইসলামের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে।

৪৫ comments

Skip to comment form

  1. 19
    মুহাম্মদ হাসান

    ২. আপনি মনে করেন যে কুরআন অনুসারে "হস্ত-মৈথুন" হারাম নয়।

    কুরআন অনুযায়ীও হস্তমৈথুনসহ যত প্রকার sexual abuse আছে সবই হারাম । 

    "এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে(অর্থাৎ অন্য আর যেকোনো মাধ্যম অবলম্বন করা) কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে"  (সুরা আল মু’মিনূন, আয়াত ৫-৭) 

    "মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন । ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে…." (সুরা আন-নূর আয়াত ৩০-৩১)

    তবে একটা জিনিষ পরিষ্কার করা দরকার আর তা হল হস্তমৈথুনের গুনাহ বা শাস্থি আর জেনা ব্যাভিচার করার গুনাহ বা শাস্থি একই পাল্লায় মাপা যাবে না । ইসলামে সব হারামকে একই রকমভাবে গন্য করা হয় না । আশাকরি বিষয়টা পরিষ্কার ইনশাআল্লাহ্‌ । আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন ।

  2. 18
    সাদাত

    রায়হান ভাই,

    তাহলে দুটো বিষয় পরিষ্কার হলো:

    ১. আপনি "হালাল, হারাম, ফরয" এই তিনিটি বিষয়ে কুরআনকে একমাত্র দলিল বলে বিবেচনা করেন।

    ২. আপনি মনে করেন যে কুরআন অনুসারে "হস্ত-মৈথুন" হারাম নয়।

    আপনার অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য ধন্যবাদ। এসব বিষয়ে পৃথক পোস্টে আলোচনা করার আশা রাখি। আলোচনার মাধ্যমে অনেক কিছুই ইনশাআল্লাহ পরিষ্কার হবে।

  3. 17
    মুহাম্মদ হাসান

    আসসালামুয়ালিকুম,

     

    প্রথমত- আমি মনে করি হালালহারাম, ও ফরজ বিষয় তিনটি আল্লাহর বাণী কোরআন দ্বারা সংজ্ঞায়িত ও নির্দিষ্ট। কোরআন-বহির্ভূত কোনো কিছুকে হালাল, হারাম, বা ফরজ ক্যাটাগরিতে ফেলা হলে সেটা যেমন মুসলিমদের জন্য বিভ্রান্তিকর হবে

    ভাই, হালাল, হারাম ও ফরজ বিষয় তিনটি শুধু কুরআনের মধ্যে সীমাবদ্ধয় নয় । রাসুল(সঃ) অনেক কিছুকে হালাল,  হারাম ও ফরজ করেছেন যেগুলো কুরআনের মধ্যে উল্লেখ নেই । যেমনঃ লম্বা ছুঁচালো ধারালো দাঁত ওয়ালা পশু খাওয়া হারাম । http://sunnah.com/bukhari/72/56 

    দু’ সময়ে সালাত (নামায) আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। http://www.hadithbd.com/search.php?q=forbade+the+eating+of+the+meat+of+beasts+having+fangs&ss=hadith

    আরও অনেক আছে, আমার বিশ্বাস আপনি এগুলো যানেন । 

     

    কাজেই কোরআন-বহির্ভূত কোনো কিছুকে হালাল, হারাম, বা ফরজ টার্ম দ্বারা সংজ্ঞায়িত না করে অন্য কোনো টার্ম দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা উচিত যাতে কোরআনের স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ থাকে।

    রাসুল(সঃ) কোন কিছুকে হালাম, হারাম ও ফরজ করলে এতে কুরআনের স্বকীয়তা ক্ষুন্ন হয় না । আল্লাহ কুরআনের মধ্যে রাসুল(সঃ) কে এর অনুমতি দিয়েছেন ।  

    "……রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা" (সূরা আল হাশর আয়াত ৭)

    "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।" (সূরা আন নিসা আয়াত ৫৯)

    আর রাসুল(সঃ) দ্বীনের ব্যপারে যা কিছু বলতেন তা সবই আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিতেন । যাকে ওহী গায়রে মাতলু বলা হয় ।

  4. 16
    এস. এম. রায়হান

    আল্লাহর উপর খোদাগিরি-

    ইসলাম ধর্মে হস্তমৈথন সম্পূর্ণ হারাম

    → হস্তমৈথনে ক্ষতিসমূহঃ
    হস্তমৈথুনের কারণে দুই ধরনের সমস্যা হয়,
    (১) মানসিক সমস্যা ।
    (২) শারীরিক সমস্যা ।
    • পুরুষদের ক্ষেত্রেঃ
    ১) পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যে সব
    সমস্যায় ভুগতে পারে তার মধ্যে একটি হল
    নপুংসকতা (Impotence) ।
    অর্থাৎ ব্যক্তি যৌন সংগম স্থাপন
    করতে অক্ষম হয়ে যায় ।
    ২) আরেকটি সমস্যা হল অকাল বীর্যপাত
    (Premat ure Ejaculation) ।
    অর্থাৎ খুব অল্প সময়ে বীর্যপাত ঘটে ।
    ৩) বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায় ।
    তখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০
    মিলিয়নের কম (২ কোটি) ।
    যার ফলে সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতার
    দেখা দেয় ।
    একজন পুরুষ যখন স্ত্রী গমন করেন তখন তার
    থেকে যে বীর্য বের হয়
    সে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ৪২ কোটির
    মত ।
    স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে কোন পুরুষের
    থেকে যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয়
    তাহলে সে পুরুষ থেকে কোন সন্তান হয় না ।
    ৪) অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষের
    যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয় ।
    • নারীদের ক্ষেত্রেঃ
    ১) নারীরা যখন স্বমেহন বা হস্তমৈথুন
    করে তখন তার কুমারীত্ব (Virgi nity)
    হারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায় ।
    অনেকে স্বমেহন করতে গিয়ে কুমারীত্ব
    হারিয়ে ফেলে ।
    ফলে তার বিয়ে করতে সমস্যা হয় ।
    বিয়ের পর স্বামী তার এ
    অবস্থা দেখে তাকে সন্দেহ করে তালাক
    দেয় ।
    তাই হস্তমৈথুন নারীদের অনেক বড়
    সমস্যার সৃষ্টি করে ।
    আরো অনেক সমস্যা থাকতে পারে ।
    • নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেঃ
    ১) পুরো শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর
    রোগ-বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায় ।
    ২)চোখের ক্ষতি হয় ।
    ৩) স্মরণ শক্তি কমে যায় ।
    ৪) মাথা ব্যথা হয় ।
    ৫) আর উময়েরই সামান্য উত্তেজনায়
    যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হয় ।
    ফলে অনেক মুসলিম ভাই-বোনেরা সালাত
    পড়তে পারেন না ।
    ইত্যাদি আরো অনেক অজানা সমস্যা হয়
    হস্তমৈথুনের কারণে ।
    → বাঁচার উপায়ঃ
    (ছেলে,মেয়ে উভয়ের জন্য)
    ১. নামাযের পর সুরা তওবার শেষ দুই
    আয়াত পড়ে গায়ে ফুঁক দিবে প্রতিদিন ।
    এটা পরীক্ষীত…
    ২. কোন কারণে লিঙ্গ উত্তেজিত হলে হাত
    দ্বারা স্পর্শ করবেন না ।
    ৩.অশ্লীলতার ধারে কাছেও যাবেন
    না এবং খারাপ কিংবা অশ্লীল
    ছবি দেখবেন না ।
    ৪. FB তে বা অন্য কোথাও অশ্লীল কিছু
    দেখলে নিজেকে বিরত রাখার সর্বোচ্চ
    চেষ্টা করবেন ।
    ৫. সর্বদা আল্লার প্রতি ভয় রাখবেন ।
    ৬. যেহেতু এটি হারাম তাই আপনার
    ইচ্ছা শক্তি দৃঢ় রাখবেন, তাহলেই হারাম
    থেকে বাচতে আল্লাহও সাহায্য করবেন ।
    এই প্রশ্নটি হয়তো অনেকের
    মনে ছিলো কিন্তু লজ্জায় কারো কাছ
    থেকে জানতে পারতেন না ।
    পোস্টটি থেকে আপনার উপকার
    হয়ে থাকলে অন্যদের জানার সুযোগ
    করে দিন Share, Copy Paste, Like, Comments
    যে কোন মাধ্যমে ।
    ধন্যবাদ ।
    সংগৃহীত

    1. 16.1
      সাদাত

      কোন দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে "আল্লাহর ওপর খোদাগিরি" বললেন, একটু পরিষ্কার করে বললে ভালো হয়। "ইসলাম ধর্মে হস্তমৈথন সম্পূর্ণ হারাম" -- এই বক্তব্যকেই কি আপনি "আল্লাহর ওপর খোদাগিরি" বলছেন, নাকি অন্য কিছু বুঝাতে চেয়েছেন?

      1. 16.1.1
        এস. এম. রায়হান

        "ইসলাম ধর্মে হস্তমৈথন সম্পূর্ণ হারাম" – এই বক্তব্যকেই কি আপনি "আল্লাহর ওপর খোদাগিরি" বলছেন

        হ্যঁ।

        1. 16.1.1.1
          সাদাত

          ১. ইসলাম ধর্মে হস্তমৈথুন তাহলে কী? বৈধ?

          ২. ইসলাম ধর্মে পশুর সাথে সঙ্গম কার কী? বৈধ নাকি অবৈধ?

        2. সাদাত

          অপেক্ষায় আছি..

        3. এস. এম. রায়হান

          প্রথমত- আমি মনে করি হালাল, হারাম, ও ফরজ বিষয় তিনটি আল্লাহর বাণী কোরআন দ্বারা সংজ্ঞায়িত ও নির্দিষ্ট। কোরআন-বহির্ভূত কোনো কিছুকে হালাল, হারাম, বা ফরজ ক্যাটাগরিতে ফেলা হলে সেটা যেমন মুসলিমদের জন্য বিভ্রান্তিকর হবে তেমনি আবার হালাল, হারাম, বা ফরজের লিস্ট সময়ের সাথে কমতে বা বাড়তে পারে। কাজেই কোরআন-বহির্ভূত কোনো কিছুকে হালাল, হারাম, বা ফরজ টার্ম দ্বারা সংজ্ঞায়িত না করে অন্য কোনো টার্ম দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা উচিত যাতে কোরআনের স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ থাকে।

          দ্বিতীয়ত- হস্তমৈথুনের সাথে পশু সঙ্গমকে জড়িয়ে ফেলে প্রশ্ন দুটি এমনভাবে করেছেন যাতে মনে হতে পারে আমি হস্তমৈথুন ও পশু সঙ্গমকে ইসলাম দ্বারা হালাল প্রমাণ করার চেষ্টা করছি। আমার জন্য বেশ অস্বস্থিকর অবস্থাই বলা যায়। ইসলামের কোথাও যেহেতু হস্তমৈথুন ও পশুর সাথে সঙ্গমকে হালাল বলা হয়নি সেহেতু এগুলোকে ইসলাম দ্বারা হালাল বানানোর প্রশ্নই আসে না। প্রশ্ন করার আগে একটু চিন্তা করলেই কিন্তু ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যেত। তবে কোরআনের কোথাও যেহেতু হস্তমৈথুনকে হারাম বলা হয়নি সেহেতু আমি হস্তমৈথুনকে হারাম ফতোয়া দেওয়ার বিপক্ষে।

          তৃতীয়ত- হস্তমৈথুন আর পশু সঙ্গম পুরোপুরি আলাদা জিনিস, একটির সাথে অন্যটি কোনোভাবেই তুলনীয় নয়। এটা আপনি নিজেও বোঝেন। ইসলামে বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সাথে সঙ্গম করাই যেহেতু হারাম সেহেতু পশুর সাথে সঙ্গম আবার হালাল হয় কী করে?

  5. 15
    মজলুম

    প্রতিটা জিনিসের  মধ্যে যেমন ভালো আছে তেমনি মন্দ  ও  আছে। আলেম মানে সবাই যেমন খারাপ নয় তেমনি সবাই ফেরেশতাও নয়।

    নিশ্চয় যারা সেসব বিষয় গোপন করে, যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন এবং সেজন্য অল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা আগুন ছাড়া নিজের পেটে আর কিছুই ঢুকায় না। আর আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের সাথে না কথা বলবেন, না তাদের পবিত্র করা হবে, বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব। সূরা বাকারাঃ ১৭৪    

    এখানে আলেমদের কথা বলা হয়েছে যারা টাকার বিনিময়ে ইসলাম ধর্ম  বিক্রি করে  খায়।

    তারা তাদের আলেম ও সংসার-বিরাগীদিগকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে আল্লাহ কে বাদ দিয়ে, সূরা তওবাঃ৩১

    এই আয়াত শুনার পর বিখ্যাত সাহাবী হাতিম তাঈ  যে আগে খ্রিষ্টান ছিলো পরে মুসলমান হয়েছে। সে রাসূল (সঃ)  এর কাছে গিয়ে বলে না না আমরাতো তখন আলেমদের খোদারূপে বিশ্বাস করতাম না। তখন রাসূল(সঃ) বলেন, যদিও এটা ডাইরেক্টরি না তবে ইনডাইরেক্টলি তারা এটা করে, যখন খ্রিষ্টান আলেমরা কিছু বলে তখন খ্রিষ্টানরা ওটা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে নেয়, হোক সেটা বৈধ বা অবৈধ।

    একবার হযরত ওমর(রঃ)  বলেছেন, তোমরা আমার কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস  করো, কিন্তু আমাকেওতো কাল কিয়ামতে এই ফতোয়ার জন্যে হিসাব দিতে হবে।
    ইবনে ওয়াসীর এক বর্ননায় আছে, কিয়ামতে সবর্বপ্রথম আলেমদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “নিশ্চয় সর্বপ্রথম ব্যক্তি কিয়ামতের দিন যার ওপর ফয়সালা করা হবে, সে ব্যক্তি যে শহীদ হয়েছিল। তাকে আনা হবে, অতঃপর তাকে তার (আল্লাহর) নিয়ামতরাজি জানানো হবে, সে তা স্বীকার করবে। তিনি বলবেন: তুমি এতে কি আমল করেছ? সে বলবে: আপনার জন্য জিহাদ করে এমনকি শহীদ হয়েছি। তিনি বলবেন: মিথ্যা বলেছ, তবে তুমি এ জন্য জিহাদ করেছ যেন বলা হয়: বীর, অতএব বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হবে, তাকে তার চেহারার ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আরও এক ব্যক্তি যে ইলম শিখেছে, শিক্ষা দিয়েছে ও কুরআন তিলাওয়াত করেছে, তাকে আনা হবে। অতঃপর তাকে তার নিয়ামতরাজি জানানো হবে, সে তা স্বীকার করবে। তিনি বলবেন: তুমি এতে কি আমল করেছ? সে বলবে: আমি ইলম শিখেছ, শিক্ষা দিয়েছি ও আপনার জন্য কুরআন তিলাওয়াত করেছি। তিনি বলবেন: মিথ্যা বলেছ, তবে তুমি ইলম শিক্ষা করেছ যেন বলা হয়: আলেম, কুরআন তিলাওয়াত করেছ যেন বলা হয়: সে কারী, অতএব বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হবে, তাকে চেহারার ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আরও এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সচ্ছলতা দিয়েছেন ও সকল প্রকার সম্পদ দান করেছেন, তাকে আনা হবে। তাকে তার নিয়ামতরাজি জানানো হবে, সে তা স্বীকার করবে। তিনি বলবেন: তুমি এতে কি আমল করেছ? সে বলবে: এমন খাত নেই যেখানে খরচ করা আপনি পছন্দ করেন আমি তাতে আপনার জন্য খরচ করি নাই। তিনি বলবেন: মিথ্যা বলেছ, তবে তুমি করেছ যেন বলা হয়: সে দানশীল, অতএব বলা হয়েছে, অতঃপর তার ব্যাপারে  নির্দেশ দেয়া হবে, তাকে তার চেহারার ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে অতঃপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে”

    হাদিসে কুদসীতেও এরকম হাদিস আছে যে, মাটি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছে কাফেরের লাশের গন্ধ থেকে বাঁচার জন্যে, তখন আল্লাহ মাটিকে বলেন নিশ্চই সেই সব আলেমের লাশের গন্ধ এর চেয়ে ও নিকৃষ্ট হবে যারা দ্বীন ইসলাম বিক্রি করে   খায়।  

    আরবের প্রত্যেকটা দেশে রাজা, আমির শেখরা বড় বড় আলেম পালেন যারা নিত্যদিন বিভিন্ন ফতোয়া দিয়ে শেখ আমিরদের শুধু ক্ষমতায় রাখেন না বরং তাদের অবৈধ কাজগুলোতেও কোরান হাদিসের দলিল দিয়ে ফতোয়া দেন।

    যেমন সৌদি গ্রান্ড মুফতি আব্দেল আজিজ ইবন বাজ, যে সৌদিতে আমেরিকান সৈন্য থাকার পক্ষে ফতোয়া দিয়ে আমেরিকান সৈন্যদের বৈহ করেছেন।

    ১৯৭৯ সালে মিশরের আনোয়ার সাদাত যখন ইসরাইলের সাথে সন্ধিচুক্তি করেন তখন কিছু  উলামারা  সূরা আনফালের ৬১ নাম্বার আয়াত নিয়ে আসেন,    আর যদি তারা সন্ধি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে তুমিও সে দিকেই আগ্রহী হও এবং আল্লাহর উপর ভরসা কর। নিঃসন্দেহে তিনি শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।     

    এরা এভাইবেই কোরান হাদিস হতে দলিল দিয়ে ধর্ম বিক্রি করে খায়।

    এ ব্যাপারে প্রচুর হাদিস আছে যেখানে আলেমদের সবসময় রাজা বাদশাহ হতে দুরে থাকতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে যে আলেম রাজা বাদশাহ হতে যে আলেম যত কাছে সে আল্লাহ হতে তত দূরে।

    আজ আমাদের আলেমরা হাসিনা-খালেদার সাথে জোট করে ক্ষমতায় যান, নারী নেতৃত্বে মেনে নেন।  আমাদের শুনায় হুদাইবিয়ার সন্ধির কথা, কিন্তু রাসূল(সঃ) তো জোট করেন নি। একজন মহিলা নেত্রীকে মাঝখানে রেখে এতো বড় বড় আলেম সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক সাহেব ও মাওলানা মুফতী ফজলুর হক আমিনী সাহেবের  বৈঠক করা কেমন দেখায়? টিভি পর্দায় তাদের অবাধে কথা- বার্তা ও হাসি খুশী ভাব দেখে মনে হয় যেনো তারা খালেদার সাথে বসতে পেরে ধন্য হয়েছেন।

    দুজনেই এখন তাদের রবের কাছে চলে গেছেন, উনাদের আল্লাহ জান্নাত নসীব করুক।

    বাদবাকি যেই সব আলেমরা খালেদা ও হাসিনার সাথে জোটে আছেন, মিটিংগুলোতে দেখা যায় উনারা হাসিনা-খালেদার সাথে বসতে পেরে খুবই ধন্য হয়েছেন।

    এবার আমার নিজের কিছু পর্যাবেক্ষনের কথা বলি।  
    আমাদের দেশে মসজিদ মাদ্রাসায় যেসব আলেম আছেন যদি গীবতের প্রতিযোগিতা দেওয়া হয় তাহলে মনে হয় উনারাই এক নাম্বার হবেন। একই মাদ্রাসার এক আলেম আরেক আলেমের বিরুদ্বে, মসজিদের ইমাম তার মোয়াজ্জিনের বিরুদ্বে। এক ইসলামি দলের আলেম অন্য ইসলামি দলের আলেমের বিরুদ্বে।

    কওমী মাদ্রাসা হতে ফারেগ হয়ে বেশীরভাগ আলেমরাই আত্বনির্ভর হতে পারেন না। তাই কারো কুলখানি পড়িয়ে, জানাজা পড়িয়ে, মিলাদ মাহফিল করে, যৌতুকের বিয়ে পড়িয়ে  করুনভাবে তাকিয়ে থাকেন একজন ঘুষখোর, সুদখোরের দিকে কিছু পাওয়ার আশায়। এক অথর্ব দূর্নিতিবাজ মসজিদ কমিটির সভাপতির নেক নজরে চলা, তাকে হুজুর হুজুর করে চলা, তার অসৎ কাজের বিরুদ্বে বলতে না পারা একজন আলেমের জন্যে বড়ই বেমানান।  রমজানে দলে দলে খতমে তারাবি পড়ার জন্যে কোথায় কোন মসজিদে বেশী টাকা দেবে সেই দৌড়ানো এবং খতমে তারাবির টাকার জন্যে দর কষাকষি করা এসবই একজন আলেম বা হাফিজের জন্যে বেমানান, কিন্তু বাস্তবতাই এদের এরকম করেছে। এই আমিও যদি ওদের জায়গায় হতাম তাহলে আমিও একই কাজ করতাম।

    এখানে আমাকে ভুল বুঝবেন না, উপরের এই কথাগুলোতে আমি একটুও কোন আলেমকে ছোট করতে চাইনি। আলেমদের এই দুরবস্হার জন্যে এই রাষ্ট্রযন্ত্র, এই সরকার, এই সমাজ দায়ী। আমরা যারা সকাল বিকাল ইসলাম মুসলিম বলে মুখে ফেনা তুলি, আমরাও এই আলেমদের দুবস্হার জন্যে কম দায়ী নই। আমি যখন কামরাঙিরচরের হাফেজ্জি হুজুরের মাদ্রাসায় সংলগ্ন মসজিদে তিনদিনের তাবলীগে গিয়েছি তখন দেখেছি কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা কি খেয়ে জীবন ধারন করে। মূলার দিনে প্রতিদিন মূলা সাথে মোটাভাত। লাউয়ের দিনে শুধু  লাউ, প্রতিদিন লাউ সাথে মোটাভাত। তারপরও কিছু ছাত্র রাতের খাবারে ভাত পায় না বলে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ে।
    খোদার কসম করে বলছি, এইলোকগুলা যে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ভাত না পেয়ে তার জন্যে কাল কেয়ামতের মাঠে এই আমাকেও জবাব দিতে হবে।

    আর কোন উত্তর দিবো না এই পোষ্টে, খারাপ টাইম ম্যানেজম্যান্ট আমার জন্যে।  খোদা হাফেজ।

     সর্বশেষ কোরবানীর ঈদ নিয়ে নজরুলের শহিদি ঈদ  কবিতা দিলাম।
    নজরুল মুসলিমদেরও কটাক্ষ করেছেন, তারমানে এই নয় যে সে মুসলিম বিরোধী বরং ভালো  হওয়ার জন্যে বলেছেন।

    শহীদী-ঈদ
     ১ শহীদের ঈদ এসেছে আজ শিরোপরি খুন-লোহিত তাজ, আল্লার রাহে চাহে সে ভিখ: জিয়ারার চেয়ে পিয়ারা যে আল্লার রাহে তাহারে দে, চাহি না ফাঁকির মণিমানিক।

    ২ চাহি নাকো গাভি দুম্বা উট, কতটুকু দান? ও দান ঝুট। চাই কোরবানি, চাই না দান। রাখিতে ইজ্জত ইসলামের শির চাই তোর,তোর ছেলের, দেবে কি? কে আছ মুসলমান?

    ৩ ওরে ফাঁকিবাজ, ফেরেব-বাজ, আপনারে আর দিসনে লাজ— গরু ঘুষ দিয়ে চাস সওয়াব? যদিই রে তুই গরুর সাথ পার হয়ে যাস পুলসেরাত, কি দিবি মোহাম্মদে জওয়াব!

    ৪ শুধাবেন যবে— ওরে কাফের, কি করেছ তুমি ইসলামের? ইসলামে দিয়ে জাহান্নম আপনি এসেছ বেহেশত 'পর— পুণ্য-পিশাচ! স্বার্থপর! দেখাসনে মুখ, লাগে শরম!

    ৫ গরুরে করিলে সেরাত পার, সন্তানে দিলে নরক-নার! মায়া-দোষে ছেলে গেল দোজখ। কোরবানি দিলি গরু-ছাগল, তাদেরই জীবন হলো সফল পেয়েছে তাহারা বেহেশ্‌ত্-লোক!

    ৬ শুধু আপনারে বাঁচায় যে, মুসলিম নহে, ভণ্ড সে! ইসলাম বলে—বাঁচো সবাই! দাও কোরবানি জান্ ও মাল, বেহেশত্ তোমার করো হালাল। স্বার্থপরের বেহেশ্‌ত্‌ নাই।

    ৭ ইসলামে তুমি দিয়ে কবর মুসলিম বলে করো ফখর! মোনাফেক তুমি সেরা বে-দীন! ইসলামে যারা করে জবেহ্, তুমি তাহাদেরি হও তাঁবে। তুমি জুতো-বওয়া তারি অধীন।

    ৮ নামাজ-রোজার শুধু ভড়ং, ইয়া উয়া পরে সেজেছ সং, ত্যাগ নাই তোর এক ছিদাম! কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা করো জড়ো ত্যাগের বেলাতে জড়সড়! তোর নামাজের কি আছে দাম?

    ৯ খেয়ে খেয়ে গোশ্‌ত্ রুটি তো খুব হয়েছ খোদার খাসি বেকুব, নিজেদের দাও কোরবানি। বেঁচে যাবে তুমি বাঁচিবে দ্বীন, দাস ইসলাম হবে স্বাধীন, গাহিছে কামাল এই গানই!

    ১০ বাঁচায়ে আপনা ছেলে-মেয়ে জান্নাত পানে আছ চেয়ে ভাবিছ সেরাত হবেই পার। কেননা, দিয়েছ সাতজনের তরে এক গরু! আর কি, ঢের! সাতটি টাকায় গোনাহ্ কাবার!

    ১১ জানো না কি তুমি, রে বেঈমান! আল্লা সর্বশক্তিমান দেখিছেন তোর সব কিছু? জাব্বা-জোব্বা দিয়ে ধোঁকা দিবি আল্লারে, ওরে বোকা! কেয়ামতে হবে মাথা নিচু!

    ১২ ডুবে ইসলাম, আসে আঁধার! ইব্‌রাহিমের মতো আবার কোরবানি দাও প্রেয় বিভব! 'জবিহুল্লাহ্' ছেলেরা হোক, যাক সব কিছু—সত্য রোক! মা হাজেরা হোক মায়েরা সব।

    ১৩ খা'বে দেখেছিলেন ইবরাহিম— 'দাও কোরবানি মহামহিম!' তোরা যে দেখিস দিবালোকে কি যে দুর্গতি ইসলামের! পরীক্ষা নেন খোদা তোদের হবিবের সাথে বাজি রেখে!

    ১৪ যত দিন তোরা নিজেরা মেষ, ভীরু দুর্বল, অধীন দেশ— আল্লার রাহে ততটা দিন দিও নাকো পশু কোরবানি, বিফল হবে রে সবখানি! (তুই) পশু চেয়ে যে রে অধম হীন!

    ১৫ মনের পশুরে করো জবাই, পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই। কশাই-এর আবার কোরবানি!— আমাদের নয়, তাদের ঈদ, বীর-সুত যারা হলো শহীদ, অমর যাদের বীরবাণী।

    ১৬ পশু কোরবানি দিস তখন আজাদ-মুক্ত হবি যখন জুলম-মুক্ত হবে রে দ্বীন।— কোরবানির আজ এই যে খুন শিখা হয়ে যেন জ্বালে আগুন, জালিমের যেন রাখে না চিন্॥ আমিন্ রাব্বিল্ আলমিন! আমিন রাব্বিল্ আলমিন!! --

    1. 15.1
      আহমেদ শরীফ

      আমাদের দেশে মসজিদ মাদ্রাসায় যেসব আলেম আছেন যদি ……………………………. খোদার কসম করে বলছি, এইলোকগুলা যে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ভাত না পেয়ে তার জন্যে কাল কেয়ামতের মাঠে এই আমাকেও জবাব দিতে হবে।

       

      মুদ্রার অপর পৃষ্ঠাও আছে। সাওদিতে যুবকদের জন্য সবচেয়ে লোভনীয় ক্যারিয়ারই এখন আলেম হওয়া। অন্য কথা 'মুতাওওয়া হওয়া। সাওদিতে যারা মুতাওওয়া হন সামাজিক সম্মান, প্রশাসনিক ক্ষমতা, পর্যাপ্ত অর্থবিত্ত এসবই হাতের মুঠোয় এসে যাওয়ার রাস্তা খুলে যায়। আমাদের গরীব দেশে এখনো অনেক বেশি পরিমাণে ইখলাসওয়ালা ওলামায়ে কেরাম রয়ে গেছেন যা না হলেই স্বাভাবিক হত, এটি আল্লাহর বিশেষ রহমত ছাড়া কিছুই না। আমরা ওলামাদের মাঝে নবী(সাঃ) ওয়ালা আদর্শের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে চাই কিন্তু সাধারণ মুসলমান হিসেবে নিজেদের অবিশ্বাস্য অধঃপতনের দিকে আলোকপাত করতে ভয় পাই। তারপরেও একটা কথা মনে রাখবেন _ এখনো দেশের শ্রেষ্ঠতম মানুষেরা, শ্রেষ্ঠতম মুসলমানরা কওমি মাদ্রাসাগুলোতেই আছেন। ক্বিয়ামতের দিন হয়তো এটার দ্ব্যর্থহীন মীমাংসিত প্রমাণ পাওয়া যাবে, দুনিয়ায় যদিও কিছু যুক্তিপ্রমাণের বেশি দেয়া সম্ভব না। আমাদের যা নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমরা তাই মানি, সাধারণভাবে আলেমওলামাদের সম্মান-তাজিমের দৃষ্টিতে দেখি, শ্রদ্ধা-ভক্তি করি। এতকিছু সত্ত্বেও আল্লাহর দ্বীনি ইলমের মশাল নিয়ে এই জামানাতেও বহু কষ্ট করে তাঁরা সংগ্রাম করে এগিয়ে চলেছেন, তাঁরা সেই শিক্ষা পুরোপুরি বাদ দিয়ে আমাদের মত দুনিয়া শিকারে নগ্ন হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েননি সেজন্যে শোকর করি, আর এই প্রকৃত শোকর হল যার যার অবস্থান থেকে আল্লাহর খাতিরে দ্বীনি ইলমের এবং ইলমওয়ালাদের নিয়মিত ইতিবাচক সাহায্য-সহযোগিতা করা।

       

      আর কোন উত্তর দিবো না এই পোষ্টে, খারাপ টাইম ম্যানেজম্যান্ট আমার জন্যে।  খোদা হাফেজ।

       

      আমারও এই পোস্টে শেষ কমেন্ট।

      আলোচনার জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।

      আল্লাহ হাফিজ।

  6. 14
    আহমেদ শরীফ

     

    عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا أَسْفَلَ مِنَ الكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِي النَّارِ»

     

    হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, টাখনুর নিচের যে অংশ পায়জামা বা লুঙ্গী দ্বারা ঢাকা থাকে তা জাহান্নামে যাবে।

    {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৭৮৭, ৫৪৫০, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৫৩৩১}

  7. 13
    আহমেদ শরীফ

    আমাদের প্রিয় নবীজী কী করেছেন? সেটাই আমাদের আলোচ্য ও বিবেচ্য। রাসূল সাঃ এর প্রতিটি কাজ উম্মতের জন্য আদর্শ। তবে কতিপয় সুনির্দিশ বৈশিষ্ট রাসূল সাঃ এর ছিল যা অন্য কারো জন্য জায়েজ নয়। যেমন চারের অধিক বিয়ে করা ইত্যাদি। এটা রাসূল সাঃ এর বৈশিষ্ট। এমন কতিপয় সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট ছাড়া রাসূল সাঃ এর প্রতিটি আমল, প্রতিটি চাল-চলন একজন নবী প্রেমিক উম্মতের কাছে আদর্শ ও পালনীয়। রাসূল সাঃ এর সকল আমলকে আদর্শ সাব্যস্ত করে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-

    لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا [٣٣:٢١]

    যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে,তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। {সূরা   আহযাব-২৩}

    পোশাকের মাঝে রাসূল সাঃ কোন নমুনা আমাদের জন্য রেখে যান নি? তিনি শুধু মক্কার কাফেরদের অনুসরণে জামা কাপড় পরিধান করে গেছেন?

     

    যারা আল্লাহ ও হাশরে বিশ্বাস রাখে তাদের জন্য নবীজীর পোশাকে, নবীজী কথায়, নবীজীর প্রতিটি আমলে উত্তম নমুনা আছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আল্লাহ পাক।

    কে কী করেছে? সেটা কোন মুসলমান বিবেচনা করতে পারে না। একজন মুসলমান দেখবে আমাদের আদর্শ, আমাদের পথিকৃত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ কী করেছেন? রাসূল সাঃ এর প্রতিটি কাজের শর্তহীন ও যুক্তিহীনভাবে অনুসরণের নাম দ্বীন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-

    قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ [٣:٣١]

    বলুন,যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস,তাহলে আমাকে অনুসরণ কর,যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। {সূলা আলে ইমরান-৩১}

    সর্বক্ষেত্রে নবীজীর অনুসরণকে আল্লাহ প্রেমের নিদর্শন বলা হয়েছে। আর হাদীসে কাফেরদের অনুসরণকে জাহান্নামী হওয়ার নিদর্শন বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-

    عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ».

    হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি যার সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে (আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং-৪০৩৩, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদিস নং-২৯৬৬, মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং-২০৯০৮৬)

     

    একজন মুমিন মুসলমান প্রতিটি আমলে রাসূলের মাঝে আদর্শ ও নমুনা খুঁজে বেড়ায়। আর নবী বিদ্বেষীরা খুঁজবে কাফেরদের মাঝে এটাই স্বাভাবিক। তাই তাদের মুখে নবীজী সাঃ এর পরিধান করা পোশাকে থাকা আল্লাহ তাআলার ঘোষণা দেয়া আদর্শিক রূপরেখা বর্জনের জন্য স্লোগান আসতেই পারে। নবীপ্রেমিকের মুখে এমন কুফরী কথা আসতে পারে না।

    রাসূলে কারীম সাঃ এর প্রতিটি কর্মের অনুসরণকে রাসূল সাঃ এর সাথে জান্নাতে যাওয়ার পথ বলে ঘোষণা করে বলেন-

    ومن أحيا سنتي فقد أحبني ومن أحبني كان معي في الجنة

    যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত তথা পথ-পদ্ধতিকে জিন্দা করবে তথা পালন করবে, সে আমাকে ভালবাসল, আর যে, আমাকে ভালবাসল, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। {সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৬৭৮}

    সুন্নাত কাকে বলে?

    السنة تطلق في الأكثر على ما أضيف إلى النبي من قول أو فعل أو تقرير

    সুন্নাত বলা হয়, রাসূল সাঃ এর কথা, কাজ ও চুপ থাকাকে। {আনওয়ারুল কাশিফাহ, উলুমুল হাদীস ফি জাওয়ি তাতবীকাতিল মুহাদ্দিসীন, কাওয়ায়েদুত তাহদীস ফি ফুনুনি মুসতালাহিল হাদীস, লিসানুল মুহাদ্দিসীন}

    রাসূল সাঃ এর প্রতিটি আমলকে অনুসরণের চেষ্টা করা নবীপ্রেমিকের কাজ। নবীজী সাঃ এর আমল বর্জনের বাহানা খোঁজা নবী বিদ্বেষীদের কাজ। সাহাবায়ে কেরাম রাসূল সাঃ যাই করেছেন, যে কারণেই করেছেন, তা’ই অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন দলিল ও যুক্তি ছাড়া। এ কারণেই রাসূল সাঃ এর মজাক করে বলা আবু হুরায়রা তথা বিড়ালওয়ালা নাম পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করতেন বিখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন সাখার রাঃ। সাহাবী আব্দুল্লাহ নামের সাথে জোড়ে নিলেন “জুলবাদাইন” তথা দুই চাদরওয়ালা নাম। আরেকজন জোরে নিলেন জুলইয়াদাইন তথা হাতওয়ালা নাম। যুক্তি খুঁজেননি, কেন বলেছেন রাসূল সাঃ? রাসূল সাঃ বলেছেন এর চেয়ে আর বড় দলিল কি আছে একজন একনিষ্ট ভক্তের কাছে?

    এ কারণেই যুক্তিহীনভাবে রাসূল সাঃ কে ভালবেসে এক সাহাবী সারা জীবন খাবারের তালিকায় কদু রাখতে চেষ্টা করেছেন যেহেতু রাসূল সাঃ পছন্দ করতেন। আব্দুল্লাহ বিন ওমর অকারণেই মদীনা থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে নির্দিষ্ট স্থানে বসে পড়তেন, যেহেতু রাসূল সাঃ কোন কারণে সেখানে একদিন বসে ছিলেন। হযরত ওমর রাঃ বিনা কারণে ইচ্ছেকৃত মাটিতে বসে গিয়েছিলেন এক স্থানে যেহেতু একদিন রাসূল সাঃ উক্ত স্থানে হোচট খেয়েছিলেন।

    এই সবই তীব্র মোহাব্বত ও হৃদয়ের টানের ব্যাপার। নবীজী সাঃ কে হৃদয়ের সবটুকু নিংড়ে ভালবাসার নিদর্শন।

    আল্লাহ তাআলা আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন। আমীন।

  8. 12
    আহমেদ শরীফ

    প্রশ্ন: শরীয়তের দৃষ্টিতে দাড়ি রাখার হুকুম কি? পরিমান কতটুকু? শুনেছি শরয়ী পরিমাপ থেকে কম দাড়ি রাখেন এমন ব্যক্তি সর্বদা গুনাহে লিপ্ত থাকেন, কথাটি কতটুকু সঠিক ?

    উত্তর:
    প্রথমে একটি হাদিস দেখি:
    যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে মুহাব্বত করল সে যেন আমাকেই মুহাব্বত করল। আর যে আমাকে মুহাব্বত করল সে আমার সাথে জান্নাতে বসবাস করবে।
    (তিরমিযী শরীফ, মেশকাত- পৃ: ৩০)

    দাড়ির হুকুম ও পরিমাপ:
    ইসলামী শরীয়তে একমুষ্টি পরমান লম্বা দাড়ি রাখা ওয়াজিব বা আবশ্যক। দাড়ি এক মুষ্টির কম রাখা বা একেবারে তা মুন্ডিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে হারাম এবং কবীরা গুনাহ। স্বয়ং হুজুর স. এর দাড়ি রাখা এবং তার অসংখ্য হাদীসে উম্মতের প্রতি দাড়ি রাখার সাধারণ নির্দেশই প্রমান করে যে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব এবং না রাখা হারাম। কারন, শরীয়ত প্রবর্তক কর্তৃক কোন বিষয়ের প্রতি সাধারন নির্দেশ হলে তা পালন করা ওয়াজিব এবং বিপরীত করা হারাম হয়ে যায়। আরে এটা ফিক্বাহ শাস্ত্রের একটি মূলনীতিও বটে। এছাড়া সাহাবা, সালফে সালেহীন এবং ফুক্বাহাগণের দাড়ি রাখার নিরবচ্ছিন্ন আমল এবং তাদের বিভিন্ন উক্তিসমূহের দ্বারাও এক মুষ্টি পরিমাপ লম্বা দাড়ি রাখা ওয়াজিব এবং এর বিপরীত করা হারাম প্রমাণিত হয়।

    নিম্নে দাড়ি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস, সাহাবাগণের আমল ও ফুক্বাহাগণের উক্তিসমূহ উল্লেখ করা হল:

    হাদীস শরীফে দাঁড়ি:
    ১. হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূল স. ইরশাদ করেছেন, দশটি বিষয় সকল নবী রাসূলগণের সুন্নাত। তন্মধ্যে গোঁফ ছোট করা এবং দাড়ি লম্বা করা অন্যতম।
    (মুসলিম শরীফ,১/১২৯)

    ২. হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল স. ইরশাদ করেছেন, তোমরা গোঁফ কাট এবং দাড়ি লম্বা কর, আর অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা কর।
    (মুসলিম শরীফ,১/১২৯)

    ৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল স. ইরশাদ করেন, মুশরিকদের বিরোধিতরা কর, দাড়ি লম্বা কর, আর গোঁফ ছোট কর।
    (বুখারী শরীফ- ২/৮৭৫, মুসলিম)

    ৪. হুজুর স. বলেছেন যে, তোমরা ভালভাবে গোঁফ কাট এবং দাড়ি বাড়াও। (বুখারী শরীফ)

    ৫. হুজুর স. এরশাদ করেন যে, গোঁফ কাট এবং দাড়ি ছড়িয়ে রাখ। (কাজী এয়াজ শরহে মুসলিম নববী)

    ৬. হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম স. ইরশাদ করেন, দাড়ি বাড়াও , গোঁফ কাট এবং এ ক্ষেত্রে ইহুদী-খ্রীষ্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করোনা। (মাসনাদে আহমদ)

    ৭. নবী করীম স. এর আমল দ্বারাও দাড়ি প্রমান পাওয়া যায়। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, সাহাবী হযরত খাব্বাব রা.-কে কেউ জিজ্ঞেস করেন, হুজুর পাক স. কি জোহর ও আছর নামাযে কেরআত পাঠ করতেন? তিনি বলেন, হ্যা, পাঠ করতেন। লোকটি পুন:প্রশ্ন করেন, আপনি কিভাবে তা বুঝতেন ? তিনি বলেন হুজুর স.-এর দাড়ি মুবারকের দোলায় আমরা বুঝতাম যে, তিনি কিরআত পাঠ করছেন। (তাহাবী শরীফ)

    বলাবাহুল্য, কেরআত পাঠকালে ঐ দাড়ি দোলাই পরিদৃষ্ট হবে, যা যথেষ্ট দীর্ঘ হয়, ছোট ছোট দাড়ি কখনো দুলবে না।

    এক নজরে দাড়ি:
    ১. দাড়ি বাড়াও। (বুখারী, মুসলিম শরীফ)
    ২. দাড়ি পূর্ণ কর। (মুসলিম শরীফ)
    ৩. দাড়ি ঝুলন্ত ও লম্বা রাখ। (মুসলিম শরীফ)
    ৪. দাড়ি বহার রাখ। (মাজমাউল বিহার)
    ৫. দাড়ি বেশী রাখ (বুখারী, মুসলিম)
    ৬. দাড়িকে ছাড়, অর্থাৎ কর্তন করো না। (তাবরানী)

    দাড়ি ও সাহাবায়ে কেরামের আমল :
    ১.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.যখন হজ্জ্ব বা উমরা আদায় করতে, তখন স্বীয় দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন, অতঃপর অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন।
    (বুখারী শরীফ- ২/৮৭৫)

    ২. হযরত আবু হুরায়রা রা. স্বীয় দাড়ি ধরতেন, অতঃপর অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন।
    (মুসান্নাফ লি-ইবনি আবি শাইবা- ১৩/১১২)

    দাঁড়ি ও ফুক্বাহাদের উক্তি:
    ১. হানাফী মাযহাবের কিতাব শরহে মুনহাল ও শরহে মানজুমাতুর আদবের মধ্যে লিখেছেন, নির্ভরযোগ্য ফতোয়া হল দাড়ি মুন্ডানো হারাম।

    ২.মাওলানা আশেকে এলাহী মিরাঠী রহ. তার প্রণিত “’”দাড়ি কী কদর ও কীমত” কিতাবে চার মাজহাবের ফক্বীহগণের মতামত শাফেয়ী মাজাহাবের প্রামান্য গ্রন্থ “আল ওবাব” হতে উদ্বৃত করেছেন :
    ইমাম ইবনুর রাফ’আ বলেন, ইমাম শাফেয়ী রহ. “আলউম্ম” কিতাবে লেখেন যে, দাড়ি কাটা হারাম।

    ৩. মালেকী মাজহাব মতেও দাড়ি মুন্ডন করা হারাম। অনুরূপভাবে ছুরত বিগড়ে যাওয়া মত ছেটে ফেলাও হারাম। (কিতাবুল ওবদা)

    ৪. হাম্বলী মাজহাবের কিতাব “শাহহুল মুন্তাহা” ও “শরহে মুজ্জুমাতুল আদব” এর উল্লেখ হয়েছে যে, নির্ভরযোগ্য মত হল দাড়ি মুন্ডন করা হারাম।

    অনুরূপ অন্যান্য গ্রন্থাকারও দাড়ি রাখা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে মাননীয় ইমামদের ইজমা (ঐকমত) বর্ণনা করেছেন।

    দাড়ি কর্তনকারী আল্লাহ পাকের দুশমনদের মধ্যে গণ্য হওয়ার সম্ভাবনা:

    ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. নিজ রচিত “কিতাবুজ্জুহুদে” আকীল ইবনে মোদরেক সালামী হতে উদ্ধৃতি করেন যে, আল্লাহ জাল্লা শানুহু বনী ইস্রাইলের এক নবীর নিকট এই অহী প্রেরন করেন যে, তিনি যেন নিজ কওম বনী ইস্রাইলকে এ কথা জানিয়ে দেন যে, তারা যেন আল্লাহ তা’য়ালার দুশমনদের বিশেষ খাদ্য শুকরের গোশত না খায় এবং তাদের বিশেষ পানীয় অর্থাৎ শরাব(মদ) পান না করে এবং তাদের শিক্ল ছুরত (আকৃতি) না বানায়। যদি তারা এমন করে অর্থাৎ শুকরের গোশত খায়, বা মদ পান করে, অথবা দাড়ি মুন্ডায় বা ছোট করে (ফ্রেন্সকাট করে) অথবা বড় বড় মোচ রাখে, তা’হলে তারাও আমার দুশমন হবে, যেমন তারা আমার দুশমন। (দালায়েলুল আসর)

    কওমে লূতের নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য ও ধ্বংসের কারন:

    প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে আসাকেরসহ আরো কতিপয় মুহাদ্দিস হযরত হাসান রা. হতে নবী করীম স. এর এই মুবারক হাদীস বর্ণনা করেন যে, দশ প্রকার পাপে লূত সম্প্রদায় ধ্বংস হয়েছিল; তন্মধ্যে দাড়ি কাটা, গোঁফ বড় রাখা অন্যতম।

    আল্লাহ সুবানুহুতা’'য়ালা আমাদের সকলকে দাড়ি রাখার গুরুত্ব অনুধাবন করে যারা এখন দাঁড়ি রাখিনি তাদের দাঁড়ি রাখার তৌফিক দান করুন এবং যারা দাড়ি সম্পর্কে আজেবাজে মন্তব্য করেন তাদের হেদায়াত দান করুন। আমীন।

  9. 11
    আহমেদ শরীফ

    কোরআন শরীফে সরাসরি দাড়ি রাখার কথা বলা হয়নি তবে হারুন আঃ এর ঘটনায় দাড়ির কথা উল্লেখ রয়েছে । যথাঃ আল্লাহ তা’য়ালা হযরত হারুন আঃ এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন – قَالَ يَا ابْنَ أُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي
    তথা হে আমার আপন ভাই! আপনি আমার দাড়ি ধরবেন না। {সূরা ত্বহা-৯৪}

    এ আয়াত দ্বারা একথা বুঝা যায় যে, হযরত হারুন আঃ এর দাড়ি এক মুষ্টির চেয়ে কম ছিল না। কারণ এক মুষ্টির চেয়ে কম দাড়িতে মুঠ করে ধরা যায় না।

    عن ابن عمر : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( خالفوا المشركين وفروا اللحى وأحفوا الشوارب . وكان ابن عمر إذا حج أو اعتمر قبض على لحيته فما فضل أخذه

    হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল(সাঃ) ইরশাদ করেছেন-তোমরা মুশরিকদের বিরোধীতা কর। দাড়ি লম্বা কর। আর গোঁফকে খাট কর। আর ইবনে ওমর(রাঃ) যখন হজ্ব বা ওমরা করতেন, তখন তিনি তার দাড়িকে মুঠ করে ধরতেন, তারপর অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন।

    {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৫৫৩}

    দাড়ি লম্বা রাখার ব্যাপারে হাদীসে বিভিন্ন শব্দ এসেছে। যেমন-

    -إعفاء اللحى [ইফা] সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৪৭৫
    -- وأعفوا اللحى [উফু] সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৫৫৪
    -وَأَرْخُوا اللِّحَى [আরখু] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৬২৬
    -وَأَوْفُوا اللِّحَى [আওফু] সহীহ মুসলিম হাদীস নং-৬২৫
    -- وَفِّرُوا اللِّحَى [ওয়াফফিরু] সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৫৫৩

    ___________________________________________

     

    সাহাবায়ে কেরাম থেকে এক মুষ্ঠি পরিমাণ দাড়ি রাখা প্রামাণিত আছে । দাড়ি সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী আবু হুরাইরা ইবনে উমর(রাঃ) প্রমুখগণ দাড়ি এক মুষ্ঠি পরিমাণ রাখতেন । তাই এ ব্যাপারে তাঁদের আমল আমাদের জন্য দলিল। এর কারণ হল – যে বিষয়ে হাদীসে সরাসরি পাওয়া যায় না সে বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের আমল শরীয়তের প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত হয়। কেননা তারা হলেন হাদীসে রাসূলের (সাঃ) আমালি নমুনা।

    সুতরাং দাড়ি কমপক্ষে এক মুষ্ঠি পরিমাণ হওয়া প্রত্যক্ষভাবে সাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত হলেও পরোক্ষভাবে তা রাসূল (সাঃ) থেকেই প্রমাণিত ।

    হযরত উমর (রাঃ) তো নিজেই এক ব্যক্তির দাড়ি ধরে এক মুঠের অতিরিক্ত অংশটুকু নিজেই কেটে দিয়েছিলেন । (ফাতহুল বারীঃ খন্ড-১০ পৃঃ ৩৬২)

    ইবনে উমর (রাঃ) ছিলেন রাসূলের (সাঃ) আদর্শের পুঙ্খনুভাবে এবং পূর্ণ অনুসারী । তাই তিনি যা করেছেন তা রাসূল (সাঃ) থেকেই জেনে-শুনে করেছেন ।

    উপরোক্ত দু’জন মহান সাহাবী ব্যতীত আবু হুরাইরা ,জাবির (রাঃ) পমুখ সাহাবী থেকে ও দাড়ির এক মুঠের অতিরিক্ত অংশটুকু কেটে ফেলার কথা পাওয়া যায় । এ থেকে দাড়ি কমপক্ষে এক মুঠ পরিমাণ রাখার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

    দাড়ি না রাখা , মুন্ডিয়ে ফেলা বা এক মুষ্ঠির কম রাখা হারাম ও কবীরা গুনাহ। যে দাড়ি মুন্ডায় বা এক মুঠের চেয়েও ছোট করে ফেলে তার আমল নামায় পুনরায় দাড়ি এক মুঠ পরিমাণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত গুনাহ লিখা হতে থাকে। কেননা শরীয়তের হুকুম হল-দাড়ি কমপক্ষে এক মুঠ পরিমাণ রাখা। তাই এর চেয়ে দাড়ি ছোট করে ফেললে বা মুন্ডিয়ে ফেললে যতক্ষন পর্যন্ত দাড়ি এক মুঠ পরিমাণ না হবে ততক্ষন পর্যন্ত সে শরীয়তের হুকুম অমান্যকারী সাব্যস্ত হবে এবং তার নামে গুনাহ লিখা হতে থাকবে । অন্যান্য গুনাহ সাময়িক ও অস্থায়ী, কিন্তু দাড়ি ছোট করা বা মুন্ডানোর গুনাহ দীর্ঘস্থায়ী ,যে ব্যক্তি দাড়ি মুন্ডায় বা ছোট করে (এক মুঠের চেয়ে ) সে ফাসিক।

     

    ফক্বীহদের দৃষ্টিতে দাড়ির বিধান

    উপর্যুক্ত হাদীসগুলোর আলোকে মুসলিম উম্মাহের ফক্বীহগণ একমত যে, দাড়ি বড় করা মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং দাড়ি মুন্ডন করা বা “একমুষ্টি” এর কম রাখা নিষিদ্ধ।

    পারিভাষিক মূলনীতির আলোকে কোন কোন ফক্বীহ দাড়ি রাখা “ফরজ” বলে উল্লেখ করেছেন। কেউ তা “ওয়াজিব”মত দিয়েছেন। কেউ বা “সুন্নাত” বলেছেন।

    পঞ্চম হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও ফক্বীহ ইবনে হাযম যাহিরী আলী ইবনে আহমাদ বলেন “দাড়ি ছেড়ে দেওয়া ও গোঁফ কর্তন করা ফরজ”। {আল মুহাল্লা-২/২২০}

    চতুর্থ হিজরী শতকের অন্যতম মুহাদ্দিস ও ফক্বীহ আবু আওয়ানা ইয়াকুব ইবনে ইসহক বলেন “গোঁফ কর্তন করা এবং তা ছোট করা ওয়াজিব ও দাড়ি বড় করা ওয়াজিব”। { মুসনাদে আবী আওয়ানা-১/১৬১}

    ষষ্ঠ হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও মালিকী ফক্বীহ কাযী ইয়াজ বলেন যে, “দাড়ি মুন্ডন করা, কাটা বা পুড়ানো মাকরূহ। তবে দাড়ির দৈর্ঘ ও প্রস্থ থেকে কিছু কাটা ভাল। দাড়ি কাটা বা ছাটা যেমন মাকরূহ, তেমনি প্রসিদ্ধির জন্য তা বেশি বড় করাও মাকরূহ”। {ফাতহুল বারী-১০/৩৫০, নাইলুল আওতার-১/১৩৬}

    একাদশ হিজরীতে প্রসিদ্ধ হাম্বলী ফক্বীহ মানসূর বুহুতী রহঃ বলেন যে, “দাড়ি মুন্ডন করা হারাম, এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কর্তন করা মাকরূহ নয়। {কাশশাফুল কিনা-১/৭৫}

    একাদশ শতকে প্রসিদ্ধ হানাফী ফক্বীহ আলাউদ্দীন হাসকাফী রহ^ তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ “আদ দুররুল মুখতার” এ লিখেন যে, “দাড়ি লম্বা করার সুন্নাত সম্মত পরিমাণ এক মুষ্টি। নিহায়া গ্রন্থে এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কর্তন করা ওয়াজিব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এক মুষ্টির কম পরিমাণ দাড়ি ছাটা কেউই বৈধ বলেন নি। মরক্কো অঞ্চলের কিছু মানুষ ও মেয়েদের অনুকরণপ্রিয় কিছু হিজড়া পুরুষ এরূপ সমর্বসম্মতভাবে নিষিদ্ধ কর্মে লিপ্ত হয়। {রদ্দুল মুহতার-২/৪১৭-৪৮১}

    কোন মুহাদ্দিস, ফক্বীহ, ইমাম বা আলিম এক মুষ্টির কম দাড়ি রাখার সুষ্পষ্ট অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা যায় না। যারা দাড়ি থেকে কিছু ছাটার অনুমতি দিয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, একমুষ্টির অতিরিক্তই শুধু কাটা যাবে। তাই একমুষ্টি হওয়ার আগেই দাড়ি কাটা, মুন্ডানো ইসলামের দৃষ্টিতে মাকরূহে তাহরীমী তথা হারামের কাছাকাছি গোনাহ।

    দাড়ি না রাখা , মুন্ডিয়ে ফেলা বা এক মুষ্ঠির কম রাখা হারাম ও কবীরা গুনাহ। যে দাড়ি মুন্ডায় বা এক মুঠের চেয়েও ছোট করে ফেলে তার আমল নামায় পুনরায় দাড়ি এক মুঠ পরিমাণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত গুনাহ লিখা হতে থাকে। কেননা শরীয়তের হুকুম হল-দাড়ি কমপক্ষে এক মুঠ পরিমাণ রাখা। তাই এর চেয়ে দাড়ি ছোট করে ফেললে বা মুন্ডিয়ে ফেললে যতক্ষন পর্যন্ত দাড়ি এক মুঠ পরিমাণ না হবে ততক্ষন পর্যন্ত সে শরীয়তের হুকুম অমান্যকারী সাব্যস্ত হবে এবং তার নামে গুনাহ লিখা হতে থাকবে । অন্যান্য গুনাহ সাময়িক ও অস্থায়ী, কিন্তু দাড়ি ছোট করা বা মুন্ডানোর গুনাহ দীর্ঘস্থায়ী ,যে ব্যক্তি দাড়ি মুন্ডায় বা ছোট করে (এক মুঠের চেয়ে ) সে ফাসিক।

  10. 10
    আহমেদ শরীফ

    يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًاوَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُّنِيرًا

    'হে নবী, নিঃসন্দেহে আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শনকারীরুপে প্রেরণ করেছি এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁর দিকে আহ্ববায়করুপে এবং উজ্বল প্রদীপরুপে।'

    (আহযাব, আয়াত-৪৬)

    لَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُم بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَآئِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالأَغْلاَلَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُواْ بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُواْ النُّورَ الَّذِيَ أُنزِلَ مَعَهُ أُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

    ' যারা অনুসরণ করে এমন রাসূলের যিনি নবীয়ে-উম্মী, যাঁকে তারা লিখিত পায় নিজেদের নিকট তাওরাতে ও ইন্জিলে, তিনি তাদেরকে সৎকাজের আদেশ করেন এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন, আর পবিত্র বস্তুগুলিকে তাদের জন্য হারাম করে দেন এবং তাদের ওপর যে গুরুভার ও বেড়ী ছিল তা বিদূরিত করেন, অতএব যারা এই নবীর ওপর ঈমান আনয়ন করে এবং তাঁর সহযোগিতা ও সাহায্য করে এবং সেই নূর (ক্বোরআন) এর অনুসরণ করে যা প্রেরিত হয়েছে তাঁর সাথে, এরুপ লোকেরাই পূর্ণ সফলকাম।'

    (আ'রাফ, আয়াত-১৫৭)

     

     

    অর্থ: আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আদেশ পালন কর, যাতে তোমাদের ওপর রহম করা হয়।

    (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১৩২)

     

    অর্থ: ঈমানদারদের কথা তো এটাই, যখন তাদেরকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে আহ্বান করা হয় তাদের মীমাংসার জন্য তখন তারা বলে দেয় __ আমরা শুনলাম এবং (আদেশ) মেনে নিলাম, আর এরুপ লোকেরাই সফলকাম হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কথা মান্য করে এবং আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর বিরুদ্ধাচরণ থেকে বিরত থাকে, এরুপ লোকেরাই সফলকাম হবে।

    (সূরা নূর, আয়াত ৫১-৫২)

     

    অর্থ: হে ঈমানদারগণ, আল্লাহতালাকে ভয় কর এবং সুসন্গত কথা বল, আল্লাহতালা তোমাদের আমল কবুল করবেন এবং তোমাদের গুণাহসমূহ মাফ করে দেবেন; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে সে মহান সফলতা লাভ করবে।

    (সূরা আহযাব, আয়াত-৭১)

     

    অর্থ: যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করেছে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যে ব্যক্তি বিমুখ থাকে, তবে আমি তো আপনাকে তাদের প্রতি রক্ষকরুপে প্রেরণ করি নি।

    (সূরা নিসা, আয়াত-৮০)

     

    অর্থ: হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আদেশ মান্য কর, যখন তিনি (রাসূল) তোমাদেরকে তোমাদের জীবন সন্চারক বস্তুর দিকে আহ্বান করেন, আর জেনে রাখ যে, আল্লাহতালা মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় হয়ে যান এবং নিঃসন্দেহে তোমাদের সকলকে আল্লাহতালারই সমীপে সমবেত হতে হবে।

    (সূরা আনফাল, আয়াত-২৪)

     

    অর্থ: আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত হয়, তবে এইরুপ ব্যক্তিগণও সেই মহান ব্যক্তিগণের সহচর হবেন যাঁদের প্রতি আল্লাহতালা অনুগ্রহ করেছেন, অর্থাৎ নবীগণ এবং সিদ্দিকগণ এবং শহীদগণ এবং নেককারগণ। আর এই মহাপুরুষগণ অতি উত্তম সহচর। এটা অনুগ্রহ আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সর্বজ্ঞ হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

    (সূরা নিসা, আয়াত ৬৯-৭০)

     

    অর্থ: আর যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের পূর্ণ আনুগত্য করবে আল্লাহ তাকে এরুপ বেহেশতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নহরসমূহ বইতে থাকবে, তারা অনন্তকাল তাতে অবস্থান করবে; আর এটা বিরাট সফলতা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কথা অমান্য করবে এবং সম্পূর্ণরুপেই তাঁর বিধানসমূহ লংঘন করে চলবে, আল্লাহ তাকে অগ্নিতে প্রবেশ করিয়ে দেবেন, এরুপে যে, সে তাতে অনন্তকাল থাকবে এবং তার এরুপ শাস্তি হবে যাতে লান্ছনাও রয়েছে।

    (সূরা নিসা, আয়াত ১৩-১৪)

     

    অর্থ: আপনি বলে দিন, তোমরা অনুসরণ কর আল্লাহ ও রাসূলের। অতঃপর যদি তারা ফিরে যায় তবে (শুনে রাখুক) আল্লাহতালা কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।

    (সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৩২)

     

  11. 9
    কিংশুক

    এস এম রায়হান ভাই, আপনার সাথে তর্ক করা আমার শোভা পায়না। আপনি কোরআন, হাদিস আমার চাইতে অনেক ভালো জানেন। কিছু বিষয় আছে, কোরআনেও বলা নাই, সহীহ হাদিসেও স্পষ্টভাবে বলা নাই। সেখানে আমার মনে হয়, উনার মনে হয়, তার মনে হয় এগুলো বসিয়ে দিয়ে আল্লাহর উপর নিজের মত চাপিয়ে দেয়া দৃষ্টিকটু ব্যপার। কিন্তু টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পড়া কবিরা (বড়) গুনাহ – বিষয়ে বুখারী, মুসলিম শরীফে সহীহ কয়েকটি হাদিস আছে সেখানে নবীজি (সা:) ইরশাদ করেছেন (১) টাকনুর নীচে ঝুলিয়ে কাপড় পড়লে টাকনুর নীচের অংশটি দোযখের আগুনে পুড়বে, (২) কেউ যদি আত্মম্ভরীতা দেখানোর জন্য অহংকার বশত: টাকনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরে তাহলে দোযখে যাবে, (৩) তিন ব্যক্তি বেহেশতের সুগন্ধও পাবেনা তার মধ্যে এক ব্যক্তি হলো যে অহংকার বশত: টাকনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে গর্বভরে চলে। এখন অনেক সহীহ হাদিসে বলা হয়েছে কেবল কালিমা পড়লেই বেহেশতে চলে যাবে, দোযখের আগুন স্পর্শ করবেনা, আজানের জবাব দিলে নবীজি(সা:) এর সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে, পূর্ণাংগরুপে ওযু করলে বেহেশতে যাবে ইত্যাদি। অর্থাত বিন্দুমাত্র ঈমান, আমল থাকলেও এক সময় না এক সময় বেহেশতে যাবেই। সেজন্য আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ এর আক্বিদা মতে কেউ কবিরা গুনাহ করলেই দোযখে যাবে(খারেজিদের মতো) যেমন বলা যায়না আবার কেউ কবিরা গুনাহ করলে দোযখে যাবার উপযুক্তও না একথাও বলা যায়না। অন্তত: সালাত আদায়ের সময়তো আমরা সবাই প্যান্ট গুটিয়ে সালাত আদায় করি। আল্লাহ পাক দয়া না করলে একটা কবিরা গুনাহও দোযখে যাবার জন্য যথেষ্ট হতে পারে আবার দয়া করলে পাহাড় প্রমান গুনাহ নিয়েও একটা ভালো কাজের উসিলায় সরাসরি বেহেশত দিয়ে দিতে পারেন। আমল নামা হতে সব গুনাহ মুছে দিতে পারেন আবার নাও দিতে পারেন। সবই আল্রাহর ইচ্ছা। কিন্তু গুনাহকে গুনাহ মনে না করা তো সঠিক কাজ না। দাড়ি রাখা কমপক্ষে সুন্নত, টুপি পরা, জোব্বা পরা সুন্নত। সাধারনত: যারা আল্লাহকে ভয় করে তারাই ফরজ, ওয়াজিব পালনের সাথে সাথে সুন্রতও আদায় করে। এজন্য মানুষ দেখে যে, যারা দাড়ি রাখে, টুপি, জোব্বা পরে তাদের অধিকাংশই নিয়মমতো সালাত, রোজা, যাকাত, হজ্ব আদায় করেন। এভাবেই তা প্রতীক হয়েছে, কেউ জোর করে প্রতীক বানিয়ে দেয়নি (যেখানে সাহাবা রা: গণ সুন্নাহ খুজতেন পালনের জন্য কেননা তা নবীর সুন্নাহ সেখানে আমরা সুন্রাহ পালন করিনা কারন তা সুন্নাহ)। ফেসবুকে সবাই ফতোয়া দেয় না, অনেকেই মুসলমানদের সতর্ক করার জন্য, নবীজি সা: এর নির্দেশ মতো তাঁর কথা মানুষের নিকট পৌছানোর চেষ্টা করেন।

    1. 9.1
      আহমেদ শরীফ

      ফেসবুকে সবাই ফতোয়া দেয় না, অনেকেই মুসলমানদের সতর্ক করার জন্য, নবীজি সা: এর নির্দেশ মতো তাঁর কথা মানুষের নিকট পৌছানোর চেষ্টা করেন।

      মু'আজ(রাঃ) বলতেন, মুহাম্মাদ(সাঃ) আল্লাহর রাসূল, আর আমরা রাসূল(সাঃ) এর রাসূল।

      'রিসালাহ' শব্দের অর্থ হল 'পৌঁছানো'। রাসূল(সাঃ) স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্যদের পৌঁছিয়েছেন, আর আমরা রাসূল(সাঃ) এর পক্ষ থেকে পৌঁছাই।

      'ফতোয়াবাজি' শব্দটি পাইকারি হারে যত্রতত্র ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি যেহেতু কুরআন-হাদিসের ভিত্তিতে রাসূল(সাঃ) এর আনীত ধর্ম ইসলামের মূলনীতি নির্ধারণের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত _ সেহেতু যত্রতত্র ব্যবহারে ফলতঃ জনমনে এই গুরুদায়িত্বের সার্বিক আবেদন খর্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার অংশ নেয়া একজন বুদ্ধিমান মুসলিমের জন্য মোটেই বুদ্ধির কাজ না। কুরআন-হাদিস বা ধর্মজ্ঞানীদের বক্তব্য অন্যদের পৌঁছানো 'রিসালাহ' তথা 'দাওয়াহ' র পর্যায়ে পড়ে, সেটি 'ফতোয়াবাজি' না। ফতওয়া যিনি বা যাঁরা দেয়ার অথোরিটি রাখেন তাঁদের প্রদত্ত-প্রণীত ফতওয়ার দায়িত্বও তাঁদের ওপরই বর্তায়। যে অন্যের কাছে অন্যের কথা পৌঁছায় তার ওপর কিন্তু সেই দায়িত্ব বর্তায় না।

  12. 8
    এস. এম. রায়হান

    এইমাত্র ফেসবুকে একটি ফতোয়া দেখলাম-

    টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পড়া কবিরা (বড়) গুনাহ্। আর একটা কবিরা গুনাহ্ জাহান্নামে যাবার জন্য যথেষ্ট।

    আপনাদের কার কার জাহান্নাম নিশ্চিত হয়ে গেছে, দয়া করে একটু হাত তুলুন!

  13. 7
    এস. এম. রায়হান

    পাঠকদের জন্য নোট: আমি খৎনার পক্ষে। খৎনার তেমন কোনো ক্ষতিকর দিক নাই, বরং উপকারী দিকই বেশি। কিন্তু এই লেখাতে কী বুঝাতে চাওয়া হয়েছে সেটা বুঝতে হবে। খৎনাকে যেভাবে মুসলিম হওয়ার প্রতীক বানিয়ে ফেলা হয়েছে, সেই ভ্রান্ত ধারণা তুলে ধরা হয়েছে মাত্র। কিন্তু খৎনা কখনো মুসলিম হওয়া বা না হওয়ার কোনো প্রতীক হতে পারে না। অনুরূপভাবে, দাড়ি-টুপি-জুব্বাও মুসলিম হওয়া বা না হওয়ার কোনো প্রতীক হতে পারে না। সোজা কথায় মুসলিম হওয়া বা না হওয়ার কোনো প্রতীক নাই বা থাকতে পারে না। এগুলো গোঁড়ামী ও পেগ্যান চিন্তাভাবনা।

  14. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    চমৎকার ভাবে আপনি কিছু বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছেন। ইসলামিক আন্দোলনের করুণ অবস্থা আর বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের অসহনীয় কষ্ট আর বেদনার কারন খোঁজার একটা পথ হলো আত্ন জিজ্ঞাসা। বিশেষ করে মুসলমানের বেঞ্চমার্ক হলো কোরান এবং হাদিস -- তার থেকে কত দূরে আজকের মুসলিম সমাজ দাঁড়িয়ে আছে তার কিছু নমুনা আপনি দেখিয়েছেন এই লেখায়। আপনার লেখায় কিছু কথা যোগ করি-

    ১. বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের বিভ্রান্তি এবং বিকৃতির পিছনে যেমন তাদের আলেম সমাজ ভূমিকা রেখেছে -- ঠিক তেমনি ইসলামের মত পথ তৈরী আর বিবাদ কোন্দল তৈরীতে আমাদের আলেম হিসাবে দাবীদাররাই প্রধান ভূমিকা রাখছে। যদি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের তালিকাভূক্ত দলগুলো দেখেন -- দেখবেন প্রায় এক ডজন ইসলামী দল আছে সেখানে -- তার বাইরে আছে আরো অর্ধশত দল। এরা ইসলামী ঐক্য জোট তৈরী করে কয়েক মাসের মধ্যেই তা ভেংগে নিজেদের ভাগ নিয়ে যাচ্ছে। তার উপরে আছে অসম্পূর্ন এবং বাস্তবতা বিবর্জিত শিক্ষার নামে আরবী কোরান মুখস্ত করা আলেমগন -- উনারা বাস্তবতা থেকে এতোই দূরে থাকেন যে -- পৃথিবীর তাবত বিষয় তাদের কাছে "হারাম" হয়ে যায়। আর তাদের অনুসারীরাও এমনভাবে সীমাবদ্ধ জ্ঞানের চর্চায় আটকে যায় যে -- কোন বিষয়ে মুক্ত চিন্তা করতেই ওরা ভয় পায়। তাদের কাছে কোরান বা হাদিসের চেয়ে তাদের পছন্দের আলেমদের ফতোয়া বেশী গুরুত্ব পায় -- কারণ, কার্যত কোরান হাদিসের চর্চা থেকে তাদের দূরে রাখা হয় নানান ধরণের ফতোয়া আর গল্প গুজবে ব্যস্ত রেখে।

    ২. প্রতীকের বিষয়টা খুবই জটিল। অনেকে প্রতীক প্রদর্শন এবং প্রতীকি পোষাকে স্বস্থি বোধ করেন। টরন্টোয় ১০০ এর উপরে মসজিদ আছে -- তার মধ্যে তিনটা মসজিদের মিনারে চাঁদের প্রতীক লাগানো আছে -- বলাই বাহুল্য সেই মসজিদগুলোর নিয়ন্ত্রণ করে এমন একটা দেশের মানুষ যাদের জাতীয় পতাকায় চাঁদ তারা প্রতীকটা আছে। ইসলামের সাথে এই প্রতীকের কোন সম্পর্ক নেই। ঘটনাক্রমে একটা কথা বলি -- আমার ব্লগের শুরুতে নীতি নির্ধারকদের মাঝে কথা হচ্ছিলো -- রোজার সময় ব্যানারে কি ছবি থাকবে তা নিয়ে। আমি বললাম -- একটা কোরানের আয়াত দিতে পারেন -- কিন্তু অন্যান্যরা ইফতারের ছবি বা চাঁদের ছবি লাগাতে এক মত হলো। এইটাই স্বাভাবিক। কোন অবয়ব ছাড়া বিশ্বাস কঠিন কাজ -- তাই অবয়বগুলো ঘুরে ফিরে চলে আসে -- যা মূলত শিরকের দিকে টেনে নেবার একটা ফাঁদ মাত্র।

    ৩. দাড়ি টুপি জোব্বার বিষয়ে একটা অবজারবেশন বলি। টরন্টোর মদিনা মসজিদে যদি নামাজ পড়তে যান দেখবেন প্রায় সবাই ইসলামী লেবাস (পাঞ্জাবী, টুপি পরা এবং প্রায় সবাই দাড়ি রেখেছেন) কিন্তু যদি বে স্ট্রীটের মসজিদে যান দেখবেন হয়তো ৫০০ নামাজীর মাঝে ২/১ জন টুপি পরা আর কালে ভদ্রে দুই একজন জোব্বা পরা মানুষ আছে। দাড়ির বিষয়ে একই কথা -- খুব কম লোকজনই সেখানে দাড়ি রাখে। এই দুই মসজিদের আরেকটা পার্থক্য হলো মদিনা মসজিদের জুম্মা নামাজের খোতবা দেওয়া হয় আরবীতে যদিও সেখানে আরবী ভাষাভাষী নামাজী হাতে গোনা কয়জন আর বে স্ট্রীটের মসজিদে যদিও আরবী ভাষীদের প্রাধান্য কিন্তু সেখানে পুরো খোতবা হয় ইংরেজীতে। একদল সুষ্পষ্ট ভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করছে -- কেউ বুঝুক না বুঝুক -- অনুকরণ করাই তাদের ধর্মচর্চা আর অন্যদল তা অনুধাবনের মাধ্যমে ধর্ম পালন করছে। আশা করি আমরা বিষয়টা বুঝতে সক্ষম হবো। 

    ৪. খাতনা বিষয়ে কিছু বলা দরকার। কানাডায় হেলথ কেয়ার ফ্রী -- মানে সরকার সব খরচ দেয় কিন্তু কিছু বিষয়ে সরকারী অর্থ দেওয়া হয় না -- যেমন কসমেটিক সার্জারী, ধর্মীয় কারণে কোন সার্জারী ইত্যাদি। খাতনাও তাই সরকারী খরচ থেকে পাওয়া যায় না। এখানে মুসলমানদের জন্যে একটা সুবিধা করে রাখা হয়েছে -- কিছু ডাক্তার হাসপাতালে বাচ্চা জন্মের ৭২ ঘন্টার মধ্যেই স্বল্প দামে খাতনা করিয়ে দেয় -- কারণ হাসপাতালের কোন বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই নিজেদের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে খাতনা করাতে পারে। কিন্তু সমস্যা হয় ইমিগ্রেন্ট মুসলিম পরিবারের -- যারা ছেলেদের খাতনা না করিয়ে নিয়ে আসে এবং বয়স বেড়ে যায়। সেখানে ইহুদী কিছু স্পেশালিস্ট সার্জন বিশেষ ভাবে সাহায্য করে -- তারা বিষয়টাকে মেডিকেল ইমারজেন্সী প্রসিডিউর দেখিয়ে সরকারী খরচে খাতনা করিয়ে দেয় -- যার খরচ ২ থেকে ৩ হাজার ডলারের মধ্যে পড়ে। ইহুদীদেরও খাতনা করা হয় বলেই ওরা মুসলিমদের এই বিষয়ে সহায়তা করে।

    আপনাকে আবারো ধন্যবাদ।

  15. 5
    মজলুম

    ক্যাথলিক ধর্মের যাজকরা শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন চালালেও কিছু বলা যাবে না যাজকদের বিরুদ্ধে, বললে আপনি দোজখে যাবেন এই ভয় দেখানো হয় ক্যাথলিকদের, ওদের ধর্মের নিয়মও তাই। ক্যাথলিকরা নিজেরা বাইবেল পড়েও দেখবেনা, ওদের প্রিষ্ট ও যাজকরা যা বলবে তাই মেনে নিবে।

    এখন ইসলামকেও সেই রকম ধর্ম বানিয়ে ফেলা হয়েছে। "ইসলামকে একটি ছুৎমার্গ ও প্রতীকি ধর্ম বানানো হচ্ছে" এই হেডলাইন পুরোই সার্থক। 

    মুসলিমদের আকিদ্বা হলো সকল নবী রাসূলগণ নিষ্পাপ। আর সাহাবীদের ব্যাপারে মুসলিমদের (আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত) আকিদ্বা হলো, সাহাবীদেরও ত্রুটি বা ভুল আছে, তবে ইসলামের জন্যে তারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে তাই তাদের কোন ক্রমেই সমালোচনা করা যাবে না। বাদ বাকি সবার ভুল শুদ্ধ, সঠিক বেঠিক, দোষ গুণ সবই আছে, কেউই শিয়া ইমামদের মতো তথাকথিত "ইনফেলিবল" নয়। এখন ইসলামকে এমনই ছুৎমার্গ বানিয়ে ফেলা হয়েছে যে, কারো নামের আগে পিছে টাইটেল না লাগালে দোজখের ভয় দেখানো হয়। এরা এমনই উলামা যে এদের বরাবরই নারী ফ্যাটিস আছে। এই উলামারা কয়দিন পরপর এক ফতোয়া ছাড়বেন আর ইসলামকে হাস্যকর বানাবেন। যেমন-

    নারীরা অফিস আদালতে কাজ করতে চাইলে তাদের পুরুষ সহকর্মীদের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে

    নারীদের কলা এবং শসার(বিদেশী শসা) মতো ফল ও সব্জি শুধু স্পর্শ করা নয় বরং এগুলো হতে দুরে থাকতে বলা হয়েছে যা দেখতে লিঙ্গের মতো। এগুলো দেখলে নাকি নারীদের কামভাব জাগ্রত হয়

    নারীরা গাড়ি চালালে নারীদের ডিম্বানু নষ্ট হয়

    পোলিও রোগের টিকা দেওয়া মানে ছেলেমেয়েদের খাসী(বন্ধা) বানানো এবং এটা পশ্চিমা ষড়যন্ত্র

    সমুসা খাওয়া নিষিদ্ব, এটা দেখতে তিনকোনা যা খ্রীষ্টানদের ত্রিনিটির সাথে মিল আছে

    rel="nofollow">নারীরা হলো তেঁতুলের মতো, গার্মেন্টসে মেয়েরা যেনার মধ্যে লিপ্ত, মেয়েরা শুধু ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ে স্বামীর টেকাটুকা গুনতে পারলেই হবে

    এখন এইসব তথাকথিত উলামাদের আগে পিছে টাইটেল না লাগালে উম্মতভুক্তই হতে পারবো না, লে হালুয়া!!!!

  16. 4
    মজলুম

    গুরুত্বপূর্ণ টপিক নিয়ে এসেছেন। সবাই লেখালেখি করে একটা জাবরকাটার মতো, ঘুরে ফিরে লাউ আর কদু।

    ইসলাম একটা মধ্যপন্হার ধর্ম। কোরান যেমন বলে তোমরা পরিপূর্ণ ইসলামের মধ্যে দাখিল হও, তেমনি বলে ধর্মে কোন জোর জবরদস্তি নেই। আল্লাহ যেমন নারীদের পর্দার কথা বলেছেন তেমনি পুরুষদের দৃষ্টি অবনত করার কথা বলেছেন। ইসলাম যেমন মা-বাপকে বলবে ছেলেমেয়েদের সঠিকভাবে লালন পালন করবে, তেমনি ছেলেমেয়েদের বলবে ওদের খেদমত ও সেবা করার জন্যে। শ্রমিককে যেমন বলবে কাজে ফাঁকি না দেওয়ার জন্যে তেমনি মালিককে বলবে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার শ্রমের মূল্য দিয়ে দাও। এখন কিছু মুসলিমদের দেখলে মনে হয় ইসলাম ওদের বাপ দাদার সম্পত্তি, ওনারাই ইসলামের সঠিক ধারক ও বাহক, ইসলাম শুধু উনারাই বুঝেন আর কেউ বুঝেন না।

    ১) সাহাবীদের একটা নখের যোগ্যও না কোন মুসলিম আলেম। সাহাবীদের যামানায় যখন কেউ তাদের ফতোয়ার জন্যে জিজ্ঞাসা করতো, সাহাবীদের চেহারা ভয়ে হলুদ হয়ে যেত এবং বলতো আমি এখন জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যখানে আছি। ইমাম মালেক (রঃ)কে সূদুর মরক্কো হতে কয়েক মাসের সফরে উটের পিটে চড়ে তিনটা ফতোয়া জানতে চাইলে উনি একটার উত্তর দিয়ে বাকি দুটো জানিনা বলে ফেরত যেতে বলতেন। আর এখন কয়েকটা ইসলামি বই পড়ে বা ফিকাহ শাস্ত্রের উপর একটু পড়েই মহাজ্ঞানী বনে যায়। এক পানের খিলি মুখে ঢেলেই কয়েকটা ফতোয়া অনবরত দিয়ে দেয়। খালি কলসী বেশী বাজার মতো অবস্হা।

    ২) নারী পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক সমাজ ও পরিবার ভিত্তির উপর সরাসরি আঘাত। ইসলামে বিবাহিত ও অবিবাহিত উপর ভিত্তি করে লঘু ও গুরু দণ্ড আছে, তবে অবশ্যই চার জন সাক্ষী থাকতে হবে। কাউকে জেনার অপবাদ দেওয়াও অনেক বড় পাপ বলে কোরানে আছে বিশেষ করে যে আয়াতগুলো হযরত আয়েশা(রঃ)-এর সাথে এক সাহাবীকে নিয়ে মুনাফিকদের বানানো গল্প খণ্ডিত করে আয়েশা(রঃ)কে নিষ্পাপ ঘোষণা করে। নিজের চোখে দেখা ছাড়া কাউকে জেনার অপবাদ দিলে ইসলামে তার শাস্তি বেত্রাঘাত। আল্লাহ ভালো করেই জানতো মানুষের একটা স্বভাব হলো যাকে তাকে নিজের চোখে না দেখেই জেনার অপবাদ দেওয়া, তাইতো ইসলামে এই শাস্তি।

    হেফাজতের শফি যখন গার্মেন্টসকর্মীদের যেনার অপবাদ দিয়েছেন, উনি কি নিজের চোখে দেখেছেন? না। বা একজন আলেমকে দেখেছেন যে শফির বিরুদ্ধে বলেছে গার্মেন্টসকর্মী মেয়েদের যেনার অপবাদ দেওয়ার জন্যে? না।

    ৩) ইসলামের পতাকা হলো সাদা রংয়ে কালেমা লেখা কালো পতাকা। চাঁদ তারা প্রতিক বা চাঁদ তারা খচিত পতাকা যেমন পাকিস্তান বা বিভিন্ন মাজারে দেখা যায় তা ইসলামি নয়। এটা করেছে তুর্কিরা ওদের খেলাফতের সময়, ওরা যখন খ্রিষ্টান দেশগুলো দখল করতো তখন গির্জার উপরে থাকা ক্রুশকে পরিবর্তন করে কি দিবে কি দিবে ভাবতো। তারপর ওরা চাঁদ তারা প্রতিক দিয়ে দেয় গির্জার উপর। তাই এটা ইসলামি নয় বরং তুর্কিদের নিজস্ব উদ্ভাবন। উইকি দেখতে পারেন।

    ৪) প্রথম দেখায় যে কেউ একটা ধারণা করে নেয়। এটা শুধু মুসলিমরা করেনা, এটা সবাই করে। যতক্ষণ না তার কাছ হতে কোন কথা বা লেকচার শুনছে, এটা কমন বিষয়। শুধু পোশাক বা দাড়ি নয়, নাম দিয়েও আজকাল মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান বুঝা যায় না। আমাদেরকে মানুষ বুঝতে হবে তার কর্মে, তার এপিয়ারেন্সে মোটেও নয়।

    ৫) ইব্রাহিম (আঃ) এর অনেকগুলো করা কাজ আমরা ও ইহুদিরা ফলো করি, তার মধ্যে একটা হলো খৎনা করা। আমাদের দেশ আরেক কাঠি সারেশ, এখানে খৎনার আরেকটা প্রতিশব্দ হলো মুসলমানি করানো।

    অর্থনৈতিক, সামরিক, শিক্ষা ও রাজনৈতিক দিক হতে মুসলিম দেশগুলো ব্যাকডেটেড, বিপরীতে দূর্নিতিতে শীর্ষ দেশগুলো হলো মুসলিম, ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশানালের রিপোর্ট দেখুন প্রতি বছরের। ইসলামের সাথে বর্তমান মুসলিমকে মিলিয়ে দেখুন গণিতের মতো ফলাফল পাবেন এবং বুঝতে পারবেন কেন আমরা ব্যাকডেটেড।

    1. 4.1
      কিংশুক

      @মজলুম: হেফাজতের শফি যখন গার্মেন্টসকর্মীদের যেনার অপবাদ দিয়েছেন, উনি কি নিজের চোখে দেখেছেন?

      মুফতি মুহাম্মদ শফী (দা:বা:) কোন প্রসংগে কি বলেছেন তার জন্য তাঁকে 'হেফাজতের শফি' বলে সম্বোধন করা ঠিক না। চোখের যেনা, মনের যেনা অনেক রকম যেনা হতে পারে। যত যাই হোক, তিনি একজন অনেক বড় আলেম। কয়েকটা ইসলামি বই পড়েই সব বুঝে যাওয়া না, মনে হয় আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ এর প্রয়োজনীয় সকল বইই তাঁর পড়া আছে। তাঁর গুনাহে বে-লযযত বা অহেতুক গুনাহ নামক ছোট একটি বই পড়েছিলাম। ইসলামের জন্য, মুসলমান, মানুষের জন্য উনাদের সহমর্মিতার শেষ নাই। অবশ্য অনেকেই আছেন যারা মহিলাদের চাকুরী করাকেই যেনা করা বলেন।

      1. 4.1.1
        আহমেদ শরীফ

        হেফাজত তো কয়দিন আগে ফর্ম হওয়া একটা প্ল্যাটফর্ম মাত্র। এর অধীনে কওমি, তাবলীগি, হানাফি, দেওবন্দীসহ সারা দেশের কোটি কোটি ইসলামপন্থি জনগণ তথা প্রায় সার্বজনীন সমর্থিত ইসলামের মূলধারা বলতে যা বোঝায় তার একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বি আলেম শিরোমণিকে 'হেফাজতের শফি' জাতীয় অমুক তমুকের সম্বোধন ব্যবহার আমাদের জন্য অতি দূর্ভাগ্যজনক ব্যাপার। ওলামায়ে কেরামের সম্মান না করলে রাসূল(সাঃ) কেয়ামতের দিন উম্মতভুক্ত হিসেবে গণ্য করার সম্ভাবনা খুবই কম। আর মুফতি শফি সাব(দাঃ বাঃ) মত মানুষকে সম্মান না করলে সম্মান করার মত আর কে বাকি থাকে ?

        হাজার হাজার বঙ্গবন্ধু-জিয়ার চেয়ে একজন আল্লামা শফির দাম আল্লাহর কাছে অনেক অনেক গুণ বেশি। ওলামায়ে কেরামের সাথে বেআদবি করা, খারাপ ধারণা পোষণ করা, বিদ্বেষ পোষণ করা অভিশপ্ত হওয়ার আলামত। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠি যদি দুনিয়া-আখেরাত দোজাহানে বরবাদ হতে চায় তার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে ওলামায়ে কেরামের সাথে শত্রুতা পোষণ করা বা অসম্মান করা। সমস্ত ফরজ ও নফল আমল পুরোপুরি বরবাদ হওয়ার মত গুটিকয় মহাপাপ আছে। সেসব থেকে শতহস্ত দূরে গা বাঁচিয়ে সতর্ক হয়ে না চললে ফাইনাল ধরা খেয়ে একদম চরম সর্বনাশ করে ছাড়বে।

        আল্লাহতা'লা নিজ মেহেরবানিতে আমাদের সকলকে হেফাজত করুন।

        আমিন।

         

        সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেছে মুসল্লিরা। আজ বিকালে জেলার কচুয়া উপজেলার উজানী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিতে গেলে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে লক্ষ্য করে উপস্থিত মুসল্লিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার দিকে জুতা ছুড়তে থাকেন। এ সময় তারা ‘নাস্তিক’ ও ‘খুনী’ বলে কটুক্তিও করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে গাড়িতে তুলে নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় উত্তেজিত মুসল্লীরা ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ২টি গাড়ি ভাংচুর করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহীউদ্দীন খান আলমগীর মঞ্চে আসা মাত্র উপস্থিত মুসল্লিরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তারা হইচই ও নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে আয়োজকরা মাইকে সবাইকে শান্ত হওয়ার আহবান জানান। কিন্তু এ আহবান উপেক্ষা করে মুসল্লিরা চারদিক থেকে জুতা নিক্ষেপ শুরু করেন। তখন অবস্থা বেগতিক দেখে সাবেক মন্ত্রীকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু উত্তেজিত লোকজনও তার পিছু নেয় এবং গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ও জুতা নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় পুলিশ সদস্যরাও সাবেক মন্ত্রীকে রক্ষায় বিপাকে পড়েন। পুলিশ সুপার মো. আমির জাফর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনার পর পুলিশি নিরাপত্তায় ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ওই এলাকা ত্যাগ করেছেন। উল্লেখ্য, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপির নির্বাচনী এলাকা কচুয়া। স্থানীয়রা জানান, উজানীর ওয়াজ মাহফিলে এবার লক্ষাধিক মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন।

         

        লিংক

        1. 4.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          মুসল্লি শব্দের অর্থ কি? কাদের মুসল্লি বলা হয়? 

      2. 4.1.2
        মজলুম

        আপনি নাম্বার এক ও দুই কে গুলিয়ে ফেলেছেন। এক হলো ফতোয়া হতে যারা ফতোয়াবাজি করে। দুই হলো যাকে তাকে যেনার অপবাদ দেওয়া। বর্তমান সমাজের এক কঠিন ব্যাধী হলো এটা। কয়েকটা ছেলে একসাথ হলেই আলোচনা শুরু হয় কোন মেয়ে কতো খারাপ, কে কার সাথে যেনা করেছে, এই সব। শফি সাহেবের প্রতি আমার কোন বিদ্বেষ বা ভক্তি কোনটাই নাই। একটা বাচ্চা ছেলে শুনলেও বুঝবে শফি সাহেব তার ওয়াজে গার্মেন্টসের মেয়েদের কোন যিনার কথা বলেছেন, আগে না শুনলে আরেকবার শুনে দেখুন প্রানখুলে।

        নজরুল এই সমাজটা দেখে তার "আমার কৈফিয়ত" কবিতায় বলে গেছেন,

        মৌ-লোভী যত মৌলভী আর 'মোল্লারা' ক'ন হাত নেড়ে,
        'দেব-দেবী নাম মুখে আনে, সবে দাও পাজিটার জাত মেরে !'
        ফতোয়া দিলাম কাফের কাজী ও,
        যদিও শহীদ হইতে রাজী ও !
        'আম পারা'-পড়া হাম-বড়া মোরা এখনো বেড়াই ভাত মেরে !'
        হিন্দুরা ভাবে, 'পার্শী-শব্দে কবিতা লেখে, ও পা'ত-নেড়ে !

        আনকোরা যত ননভায়োলেন্ট নন্-কো'র দলও নন্ খুশী ।
        'ভায়োলেন্সের ভায়োলিন' নাকি আমি, বিপ্লবী -মন তুষি ।
        'এটা অহিংস', বিপ্লবী ভাবে,
        'নয় চরকরা গান কেন গা'বে ?'
        গোঁড়া-রাম ভাবে নাস্তিক আমি, পাতি-রাম ভাবে কনফুসি !
        স্বরাজীরা ভাবে নারাজী, নারাজীরা ভাবে তাহাদের অঙ্কুশি !

        নর ভাবে , আমি বড় নারী -ঘেঁষা ! নারী ভাবে, নারী বিদ্বেষী ।
        'বিলেত ফেরনী ?' প্রবাসী বন্ধু ক'ন, এই তব বিদ্যে ছি !
        ভক্তরা বলে, 'নবযুগ-রবি !'-
        যুগের না হই, হুজুগের কবি
        বটি তো রে দাদা , আমি মনে ভাবি, আর ক'ষে কষি হৃদ- পেশী,
        দু'কানে চশমা আঁটিয়া ঘুমানু, দিব্যি হ'তেছে নিদ্ বেশী !

        1. 4.1.2.1
          আহমেদ শরীফ

          একজন মুসলিম হিসেবে আখেরাতের ওপর ইয়াক্বীন রেখে আল্লাহর দাসত্বের নিয়তে যখন আল্লাহ-রাসূল(সাঃ) এর ইত'আত বা আনুগত্য করা হবে _ তখন রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল বা অন্য কোন কবি নয়, কুরআন-হাদিস-ফিক্বহশাস্ত্রের হিসেব আসবে। ইসলামের প্রসঙ্গ যখন আসবে _ তখন অবধারিতভাবে ব্যকরণসম্মত শরীয়তের প্রশ্ন আসবে। শরীয়তের নিয়ম-কানুন-হুকুম-ব্যাখ্যা সবকিছু প্রণয়নের যথার্থ অথোরিটি ওলামায়ে কেরাম। ওনাদের মাঝে মতানৈক্য হতেই পারে, বিভিন্ন দলিল-ঐতিহাসিক পরম্পরা-স্বতন্ত্র চিন্তার বৈপরিত্য ইত্যাদি কারণে, সেক্ষেত্রে নির্দেশিত আছে 'অধিকাংশ' এর মত গ্রহণ করার, পরম্পরা দেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার। ইসলাম 'যা খুশি তাই' মার্কা কোন ধর্ম না বরং সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিগত জীবনবিধান যা অনুসরণে মানুষ ও জ্বীনজাতির জন্য দুনিয়া-আখেরাতের সফলতার চুড়ান্ত শুভ পরিণতি বয়ে নিয়ে আসে।

          ইসলামের নিক্তিতে কোনটি কোন মাত্রার কতটুকু পাপ বা পূণ্য তা নির্ধারণের জন্যেও রয়েছে কুরআন-হাদিস-ইজমা-ক্বিয়াসের দলিল। কারো 'ধারণা' অনুযায়ী নয় বরং দলিলভিত্তিকভাবে নির্ধারিত হবে পাপ বা পূণ্যের সংজ্ঞা। যদি অবশ্য 'মুসলিম' হিসেবে আল্লাহ-রাসূল(সাঃ) এর মাপকাঠিতে মাপা হয়।

          মুসলিম হতে গেলে আল্লাহর-রাসূল(সাঃ) এর নিয়মাবলীর কাছে আত্মসমর্পিত হতে হবে, যথাযথ বিধিসম্মতভাবে। এর বাইরে 'যার যা খুশি' তা ইসলাম নয়, অন্য কিছু।

        2. মজলুম

          বদর, ওহুদ ও হুনায়নের যুদ্বে সাহাবীরা নিজেদের ও সাথীদের যুদ্বে উজ্জিবীত করতে বিভিন্ন কবিতা আবৃতি ও তারানা গাইতেন। সাহাবীদের চেয়ে বড় মুসলিম হওয়ার চেষ্টা করাটা বোকামী। জিহাদের মতো গুরুত্বপূর্ন ইবাদাতেও সাহাবীরা এসব করতেন।

           

          ইসলামের প্রসঙ্গ যখন আসবে _ তখন অবধারিতভাবে ব্যকরণসম্মত শরীয়তের প্রশ্ন আসবে। শরীয়তের নিয়ম-কানুন-হুকুম-ব্যাখ্যা সবকিছু প্রণয়নের যথার্থ অথোরিটি ওলামায়ে কেরাম।

           

          শরিয়তের(ইসলামি নিয়ম কানুন) নিয়ম কানুন হুকুম সব  পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কোরান নাজিলের শেষের দিকের একটা আয়াত হলো আজ তোমাদের জন্যে দ্বীনকে পরিপুর্ন করে দেওয়া হলো। যেহেতু এটা পরিপূর্ন হয়ে গেছে তাই নতুন করে শরিয়তের নিয়ম কানুন সংযোজন/বিয়োজন করার অবকাশ নাই। এখন শুধু শরিয়তের নিময় কানুন ব্যাখ্যা করা যাবে, তবে ব্যাখ্যাটা অবশ্যই কোরান ও হাদিসের ফ্রেমওয়ার্কের ভিতেরই হতে হবে। কখনোই কোন ব্যাখ্যায় কোরান ও হাদিসের বৈপিরত্যে ব্যখ্যা করা যাবেনা। এজন্যই চার স্কুল অফ ইসলামিক থট এর ইমামগন(ইমাম আবু হানিফা(রঃ), ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল(রঃ) ,ইমাম শাফেয়ী(রঃ) , ইমাম মালেক(রঃ) )  বলেছেন যদি আমাদের ব্যাখ্যায়  কোরান সুন্নাহ বিরুধী কিছু থাকে  তবে তা কেটে ফেলে দিও।
          যেমন কোরানের তাফসির যার বাংলা হলো ব্যাখ্যা, মোফাসসিররা কোরানকে যখন তাফসির করেন(ব্যাখ্যা) করেন তখন যেভাবে কোরানকে ব্যাখ্যা করেন।
          ১:-কোরানের এক আয়াতকে ব্যখ্যা করার জন্যে অন্য সূরার অন্য আয়াত দিয়ে ব্যখ্যা করেন।
          ২:- হাদিস দিয়ে উক্ত আয়াতের ব্যখ্যা করেন।
          ৩:- রাসূলের জিবনী দিয়ে ব্যখ্যা করেন।
          ৪:- সাহাবীদের কোন ঘটনা দিয়ে  ব্যখ্যা করেন।
          ৫:-উক্ত আয়াতের শানে নুজুল বা মিলিয়ে যাওয়া অন্য কোন আয়াতের শানে নুজুল দিয়ে ব্যখ্যা করে।

          তাই এই তাফসীর কখনোই কোন লোকের/আলেম-উলামার মনগড়া তথ্য দিয়ে হবে না। তবে যদি সে করে, তাহলে সেটা বাদ।

          এজন্যেই রাসূল(সঃ) এর বিদায় হজ্জের ভাষনে তিনি মুসলিমদের জন্যে দুটো জিনিস রেখে গেছেন, কোরান ও সুন্নাহ। যদি এই দুটোকে আকড়ে ধরো তাহলে অবনতি হবে না। তিনি বলেন নাই উলামা ইকরামদের অনুসরন করতে হবে।

          এই আয়াতটা দেখুন,
           আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে যুদ্ব করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও। সুরা নিসাঃ৭৫

          এই আয়াতের ব্যখ্যা দূরের কথা অনুবাদটাই পাল্টে দেওয়া হয়। ছাত্র শিবিরের বই পুস্তকে কিতাল শব্দের অনুবাদে সংগ্রাম লেখা হয়। আর সংগ্রাম তাদের কাছে হলো মিছিল, মিটিং, হল দখল, ভাংচুর ও জ্বালাও পোড়াও কাজ।
          আবার তাবলীগ জামাতের সাথী ভাইদের দেখেছি এই আয়াতকে এভাবে বলছেন, আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে বের হচ্ছ না দুর্বল সেই নারী পুরুষের পক্ষে……………।
          তাবলীগ জামাত সম্পর্কে সবার একটা কমন নলেজ হলো এরা জিহা/কিতালের আয়াত গুলোকে "তাবলীগ দাওয়াত" দিয়ে অনুবাদ করে দেয়।
          জামাত-শিবিরের বই পুস্তকগুলোতে কোরানের যেই আয়াতগুলোতে কাফির আছে সেগুলোর অনুবাদ করবে "বাতিল শক্তি" দিয়ে। তারপর এরা ছাত্রদল ও ছাত্রলীগকে ও মিটিং, সভায় "বাতিল শক্তি" বলবে। এদের কৌশল দেখুন, সরাসরি ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলকে কাফির না বলে বাতিল শক্তি দিয়ে কুরান অনুবাদ করা হয়, পরে হল দখল বা শিবিরে রিক্রুটের সময় মারামারিকে ওহুদ ও বদরের যুদ্বের সাথে তুলনা করে কর্মিদের উদ্দিপ্ত করবে(ছোট বেলায় নিজের সামনে দেখেছি ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মারামারির সময়)।

          এখন ব্যাখ্যা করতে হলে আপনাকে অবশ্যই কোরান ও সুন্নাহ ফলো করতে হবে, নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা বা নিজের উদ্দেশ্য সফল করার জন্যে বা নিজের নিজস্ব মতবাদকে সফল করার জন্যে ভুল ব্যখ্যা বা ভুল অনুবাদ অবশ্যই করা যাবে না, রাসুল(সঃ) কাউকেই এই অথরিটি দেন নাই।

          আগে আমাদেরকে দেখতে হবে কোরান ও হাদিস। কোরান হাদিস না দেখেই ইজমা ও কিয়াসে লাফ দেওয়া যাবেনা। যখন কোরান ও হাদিসে কোন সমাধান পাওয়া যাবেনা তখন ইজমা ও কিয়াস দেখতে হবে, তবে ইজমা ও কিয়াস অবশ্যই অবশ্যই কোরান ও হাদিসের সাথে বৈপিরত্য হতে পারবে না।

          আরেকটা উধাহারন দেই, ধরুন ২১ শে আগষ্টে হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা। পরদিন বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট ছাপা হলো কারা এই হামলা চালিয়েছে। এখন বিভিন্ন সংবাদ পত্রগুলো কে কোন দল সাপোর্ট করে, কার আইডিওলজী কি, কোন সংবাদপত্রটা কতটুকু কোন দল ঘেঁষা তার উপর নির্ভর করে লিখা হবে কারা এই হামলা চালিয়েছে। বিএনপি করেছে, জামাত করেছে, আওয়ামীলীগ নিজেরাই নিজেদের উপর এই হামলা চালিয়েছে, উলফা করেছে, জেএমবি করেছে, হরকাতুল জিহাদ করেছে। সাধারন মানুষেরাও চায়ের কাপে ঝড় তুলবে এই ঘটনা নিয়ে কে কোন দল বা মতবাদের সমর্থক বা কে কোন দল কতটুকু ঘেঁষা তার উপর।

          এখন কোরানে বর্নিত সকল কিছুই আমাদের কাছে সলিড, ১০০% সঠিক।  কিন্তু এখন আপনি যদি নিজের দল, নিজস্ব বুঝ,  মতবাদ ও কোন দল ঘেঁষা তার উপর ভিত্তি করে অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করেন যা কোরানের ভুল ব্যাখা হয় তাহলে সবই ইনভেলিড বা বাতিল।

          এবার দেখি উলামা কারা? উলামা হলো আলেম এর বহুবচন। একজন আলেম হলেন ইসলাম সম্পর্কে যার পরিপূর্ন জ্ঞান আছে এবং ফিকাহ শাস্রের সাথে সুপরিচিত। এটা কোন দেওবন্দী কওমী মাদ্রাসা বা আল-আজহারেই পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ব নয়। যে কেউই চাইলে আলেম হতে পারে, তবে অবশ্যই কোরান ও হাদিসের বাইরে যেতে পারবেনা।   এই আলেমরা এমপিদের মত নয় যে সংসদে বসে সংবিধানে নতুন ধারা সংযোজন ও বিয়োজন  করতে পারে অনায়েসে।  

          ইসলাম মানে যা মুখে আসে তাই বলা নয় বরং সংযত হওয়া ।

        3. 4.1.2.2
          আহমেদ শরীফ

          বদর, ওহুদ ও হুনায়নের যুদ্বে সাহাবীরা নিজেদের ও সাথীদের যুদ্বে উজ্জিবীত করতে বিভিন্ন কবিতা আবৃতি ও তারানা গাইতেন। সাহাবীদের চেয়ে বড় মুসলিম হওয়ার চেষ্টা করাটা বোকামী। জিহাদের মতো গুরুত্বপূর্ন ইবাদাতেও সাহাবীরা এসব করতেন।

           

          কোথায় আইয়ুব খান আর কোথায় খিলি পান ! কার সাথে কিসের তুলনা করেন ! সাহাবা(রাঃ) দের জীবন ধনসম্পদ এমনকি প্রাণের চেয়ে প্রিয় আল্লাহ-রাসূল(সাঃ) এর জন্য জান কুরবানি করার জজবা নিয়ে স্বতোৎসারিত আবৃত্তি করা আর নজরুলের 'অসাম্প্রদায়িকতা' র নামে হিন্দুদের খুশি করা নিজের জাত মারা হ্যাংলা চামচামির কবিতা এক হল ! পীযুষ বন্দোপাধ্যায়ের কবিতাটাও তুলে দিতেন ষোলকলা পূর্ণ হত।

          অবশ্য ব্যাপার না আজকাল তো নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়াকে নুহ(আঃ) এর কিস্তির সাথে তুলনাও দেয়া হচ্ছে আপনার আর দোষ কি !

           

          * বাকি আপনার লম্বা কমেন্টের উত্তর অতি সংক্ষিপ্ত :

          কুরআন-হাদিস থেকে ইজমা-কিয়াস কখন-কোথায়-কতটুকু সংযোজন-বিয়োজন করতে হবে তা নির্ধারণের অথোরিটি আপনি বা আমি না _ সম্মিলিতভাবে ওলামায়ে কেরাম। 

        4. মজলুম

          আপনি বরাবরই নিজের বুঝ অন্যের উপর চাপিয়ে দেন জোর করে।  নজরুলের কবিতা দেওয়ায় বড়  দোষ ধরেন।নজরুলকে বোঝার জ্ঞান মোল্লা এবং পুরোহিতদের  তখনও হয় নি কোন কালেও হবে না। নজরুলের তীর্যক কবিতার আঘাতে  বিধস্ত মোল্লা ও পুরোহিতের দল। নজরুল কখনোই তোষামদি/চাটুকার কবি ছিলেন না যে কাউকে খুশী করতে কবিতা লিখতে হবে। শুধু ওপার বাংলার হিন্দুরাই নয়, এই বাংলারই সেক্যুলার সমাজ বা অসাম্প্রদায়িকতার দাবীদারদের কাছে নজরুলের কদর নেই, কেন নেই তা নিয়ে ফেসবুকে একবার একটা নোট লিখেছিলাম।
          তব মসজিদে মন্দিরে নাই মানুষের দাবী,
          মোল্লা পুরোহিত লাগিয়েছে তাহার সকল দুয়ারে চাবী।
                                                  কবি নজরুল।

          কুরআন-হাদিস থেকে ইজমা-কিয়াস কখন-কোথায়-কতটুকু সংযোজন-বিয়োজন করতে হবে তা নির্ধারণের অথোরিটি আপনি বা আমি না _ সম্মিলিতভাবে ওলামায়ে কেরাম।

          হ! আবারো তালগাছটা শুধু  আপনারই। এই উলামারা কারা? দেওবন্দী উলামা, বেরেলভী উলামা, সালাফি উলামা, আহলে হাদিসের উলামা?
          কারটা মানবেন আপনি?
          মনগড়া এবং মুখে যা আসে তাই বলার অথরেটি কারোই নাই।

    2. 4.2
      আহমেদ শরীফ

       

      'আল উলামা ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া'(হাদিস) _ অর্থাৎ উলামাগণ আম্বিয়া বা নবীদের প্রতিনিধি। উলামাদের সম্মন্ধে আন্তরিক শ্রদ্ধাবোধ না থাকা লোকদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা নিস্ফল।

      আরেক হাদিসে উলামাদের তাজিম(সম্মান) না করলে হুজুর(সাঃ) এর উম্মতভুক্ত না বলেও ধমকি এসেছে। অন্যান্য হাদিসে উলামাদের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা, উলামাদের গালিগালাজ করাকে কুফরির পর্যায়ভুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই উলামাদের 'মোল্লা ও পুরোহিত' বলে যারা অনায়াসে এক পাল্লায় মাপে তাদের সাথে আলোচনা খুব ফলপ্রসু হবার সম্ভাবনা নেই।

      ভুল আমারই হয়েছে। কারণ ওইভাবে উলামাদের আমি দেখি না।

      (* সাম্প্রদায়িকতা নিবারণে সময়োচিত কিছু লেখা নজরুল লিখেছিলেন, সেগুলো চিরায়ত নয়। আর একটা ব্যাপার হল ধর্মতাত্ত্বিক দিক থেকে উলামাদের সম্মন্ধে পাইকারি হারে ওইভাবে ধারণা পোষণ করা নিজের ঈমান বিধ্বংসী বিষাক্ত উপাদান গলধঃকরণ করার শামিল, কেননা হাদিসের সাথে তা সাংঘর্ষিক _ কাজেই ওই পথ আমার না। ধন্যবাদ।)

      1. 4.2.1
        মজলুম

        উলামাদের প্রতি খারাপ ধারনা কখন পোষন করা হয়? এটা এমনি এমনি হয় না, কিছু উলামাদের কর্ম ও কাজে ভালো ধারনা পোষন করা সম্ভব হয় না। আলেম হলেই উনি ভুল ত্রুটির উর্ধে হয়ে যান না। আর সব আলেম ও সমান না। কেউ তার কর্মকান্ডে শ্রদ্বার পাত্র হয়ে উঠেন, কেউ তার কর্মকান্ডে  ঘৃনার পাত্র হয়ে উঠেন।
        মোল্লা এবং পুরোহিত সবই ধর্ম বিক্রি করে খায়, আমি সবার কথা বলছি না। সব কিছুর মধ্যেই ভালো খারাপ আছে। আমি যেমন সব আলেমকে ঢালাওভাবে খারাপ বলছি না তেমন সব আলেমকে ঢালাও ভাবে ভালো বলছি না।

        আলেম উলামাদের ব্যাপারে যেসব হাদিস নিয়ে আসছেন এগুলা সনধের ভিত্তিতে খুবই দূর্বল হাদিস। কিছু আলেম নিজেদের কর্মকান্ডে যখন নিজেরাই অশ্রদ্বার পাত্র হয়ে উঠেন তখন এই হাদীস গুলো আউড়াতে থাকেন।
        অতীতের ইহুদী আলেমরা কি কারনে অভিশপ্ত হয়ে উঠেছে তা নিয়ে ও একটু  ঘাটাঘাটি করবেন দয়া করে।

         

        নজরুল পাইকারী দরে মোল্লাদের বিরুদ্বে বলেন নাই। আগে ও পরের কবিতার লাইন গুলো পড়ে দেখুন, কেউ খারাপ না হলে তার আতেঁ ঘাঁ লাগার কথা না।

      2. 4.2.2
        আহমেদ শরীফ

        'ওলামায়ে সু' বা দুনিয়াদার বাজারি আলেম কিছু থাকতেই পারে তাদের থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ সেটা অবশ্যই মানি। যেহেতু হাদিসে তাদের উম্মতের মাঝে সর্বনিকৃষ্ট বলে অভিহিত করা হয়েছে। কিন্তু সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত না হয়ে কোন উলামার সম্মান করা থেকে শুধুমাত্র 'ধারণা' র ওপর ভিত্তি করে খারাপ মনোভাব-অবিশ্বাস পোষণ করা ঠিক নয়। সাধারণভাবে উলামাদের সম্মান-তাজিম-শ্রদ্ধা করা রাসূল(সাঃ) এর নির্দেশ। উম্মতের মধ্যে থাকতে চাইলে তা মানতেই হবে।

         

        নজরুলকে বোঝার জ্ঞান মোল্লা এবং পুরোহিতদের  তখনও হয় নি কোন কালেও হবে না। নজরুলের তীর্যক কবিতার আঘাতে  বিধস্ত মোল্লা ও পুরোহিতের দল।মোল্লা এবং পুরোহিত সবই ধর্ম বিক্রি করে খায়, আমি সবার কথা বলছি না।

        আপনি যে হালকা ভঙ্গিতে ঢালাওভাবে এই কথাগুলি বললেন তার সাথে তীব্র আপত্তি ও দ্বিমত পোষণ করছি। নজরুলের চেয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষায় বা বিশ্বসাহিত্যের বিচারে অনেক বড় কবি। আপনার সাহিত্যজ্ঞান দেখে করুণা হচ্ছে। নজরুলের চেয়ে কবি হিসেবে কবিগুরু অনেক বড়। নজরুল বিশেষতঃ গানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সাহিত্যের জন্য ততটা নন। যদিও অনেক বর্ণবাদি মুসলিমের ধারণা শত্রুতা করে কবিগুরুকে নোবেল দেয়া হয়েছে, মুসলমান বলে নজরুলকে দেয়া হয়নি !

        (* ভাল কথা নজরুলের প্রমীলাকে বিবাহ কিংবা কমল দাশগুপ্তের ফিরোজা বেগমের সঙ্গে বিবাহ সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি ?)

        রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ হওয়ার চেয়েও একজন প্রকৃত আলেম হওয়া হাজার-লক্ষগুণে কঠিন। এই বয়েসে আরবি-ফারসি শিখতে যান টের পাবেন, যে কয়টা দাঁত এখনো পাটিতে আছে, খুলে আসবে। বাঁধানো দাঁত লাগিয়ে ঘুরতে হবে।

        'বাঘ' বা 'উষ্ট্র' শব্দটির কয়টা প্রতিশব্দ বাংলা-ইংরেজিতে আছে ? বড়জোর ১০ টা করে। আরবীতে ৮০০ শব্দের দ্বারা 'বাঘ', ১২০০ শব্দ দিয়ে 'উষ্ট্র' বোঝানো যায়। আরবীতে এক একটি শব্দ দিয়ে পুরো বাক্যের ভাবার্থ প্রকাশ করা সম্ভব। ফার্সির কথা আর বললাম না সেটি যে কোন বিচারে অতি কঠিন একটি ভাষা। এইসব জটিল ভাষায় কুরআন-হাদিসসহ নানা বিদ্যার্জন করে যারা ছেলেবেলা থেকে ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার পাশাপাশি কঠিন অনুশাসন-সংযম পালনের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন, আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠেন _ তাঁদের আসল মর্যাদা আল্লাহপাক ক্বেয়ামতের দিন নিজের হাতে দিয়ে দেবেন। আপনার আমার বা সমাজের সেটা না দিলেও চলবে। তবে _ আমার আপনার নাজাতের জন্য, আল্লাহর কাছে পাকড়াও না হওয়ার জন্যই আল্লাহর খাতিরে ওনাদের সম্মান করা প্রয়োজন।

        হিন্দু-ক্রীশ্চান বা ইয়াহুদি পুরোহিতদের সাথে এক পাল্লায় মেপে হরেদরে কোন মুসলিম নামধারী পাইকারীভাবে উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে কটুক্তি-বিষোদগার করে তাহলে তার অন্তরে নিফাক্ব আছে বলে ধরে নেয়াই ব্যকরণসম্মত বিধেয়।

         

         

        1. 4.2.2.1
          মজলুম

          আপনি বরাবরই কিছু বিষয় নিজের মন মত  জোর করে বসিয়ে দেন ইচ্ছে মতো। চায়ের আড্ডায় চায়ের কথা হলে আপনি জোর জরে কফির আলাপ নিয়ে আসবেন।

          প্রথমে আমি একটা কমেন্টে নজরুলের একটা কমেন্টের একাংশ দিয়েছিলাম তখন আপনি বলেন, একজন মুসলমান শুধু কোরান ও হাদিসের কথা বলবে, নজরুল রবিন্দ্রের কথা বলবে। আমি যখন বললাম সাহাবীরাও কবিতা আবৃতি করতেন, তখন নিয়ে আসলেন কোথায় আইয়ুব খান কোথায় খিলি পান। তারপর বললেন নজরুল হিন্দুদের তোষামদ করে কবিতা লিখেছে(যা খাঁটি অপবাদ নজরুলের নামে)। যখন আমি বললাম নজরুল তোষামত করেনি  বরং তোষামত শব্দটা নজরুলের সাথে যাবে না, তখন বললেন না না অসাম্প্রদায়িকতা নিয়ে তিনি লিখেছেন কিছু যা ভালো।  তারপর আমি যখন বললাম নজরুলকে মোল্লারা বুঝতে পারিনি, তখন নিয়ে আসলেন নজরুল কি বাংলা সাহিত্যের হেনতেন নাকি? ওটাতো রবিন্দ্রের দখলে, আপনার সাহিদত্য জ্ঞান দেখে করুনা হচ্ছে।
          তারপর রবিন্দ্র রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ হওয়া কঠিন নাকি আলেম হওয়া কঠিন?
          আর্বি, ফার্সিতে শব্দ সংখ্যা, দাঁত ভাঙ্গা।  
          একটা প্রবাদ আছে যে আমি বলি কি আর আমার সারিন্দা বাজায় কি।

          নজরুলের প্রমিলা বিবাহঃ মা বাপ হারা এই ছেলেটার ছোটকাল, বাল্যকাল, কিশোরকাল সবই কেটেছে নিতান্ত অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে, রবিন্দ্রনাথের মতো জামিদারের পোলা ছিলো না সে। সারা জীবনই নানা কারনে মানসিক ব্যাথায় জর্জরিত ছিলেন নজরুল।  নজরুলের জীবনে নারীর প্রতি প্রেম মূলত তিনবার এসেছিল প্রথম নার্গিস আসার খানম, দ্বিতীয় তার স্ত্রী প্রমিলা দেবী এবং তৃতীয় বেগম ফজিলাতুন্নেসা।   
          কুমিল্লার মুরাদনগরে নার্গিসকে বিয়ের দিনই নার্গিসদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান নজরুল।
          ড. আবুল আজাদের বই নজরুলের জীবনে নারী ও প্রেম হতে নার্গিস পর্ব প্রমিলা পর্ব পড়ে দেখুন।

        2. মজলুম

          প্রমীলা পর্ব:-২     and প্রমীলা পর্ব:-৩

          কারেকশানঃ নজরুলের মা থাকলে না থাকার মতোই ছিলো, গরীব হলেই যা হয় আর কি!

      3. 4.2.3
        আহমেদ শরীফ

        প্রকৃত আলেমের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যে ব্যক্তি ফিকাহ শাস্ত্রের ইলম হাসিল করেছেন কিন্তু তাসাঊফ হাসিল করেননি, তিনি হচ্ছেন ফাসেক। আর যে ব্যক্তি কেবল তাসাউফ বিদ্যা লাভ করেছে, কিন্তু ফিকাহ শাস্ত্রের বিদ্যা আর্জন করেনি, সে হচ্ছে যিন্দিক। আর যে ব্যক্তি উভয় প্রকার (ফিকাহ ও তাসাউফ) ইলেম উপার্জন করেছেন, তিনি হচ্ছেন মুহাক্কিক বা পরিপূর্ণ ও প্রকৃত আলেম। আল্লাহ পাক কুরআনে পাকে আলেমের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন,

        “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাকের বান্দাদের মধ্য হতে শুধুমাত্র আলেমগণই আল্লাহপাককে ভয় করে।”

        [সূরা ফাতির : ২৮]

        এ আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে হাম্বলী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম, ইমামুল আইম্মা, শায়খুল মুহাদ্দেসীন হযরত আহমদ বিন হাম্মল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যার ভিতর যত বেশি আল্লাহভীতি রয়েছে তিনি তত বড় আলেম।”

        এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ‘‘তাফসীর খোলাছায়ে’’ উল্লেখ আছে যে, “শুধুমাত্র কিতাবসমূহ পাঠকারীকে বুঝানো হয়নি। বরং কুরআন শরীফে বর্ণিত আলেম তারাই যারা মহান আল্লাহ পাক এর জাত ও অসীম গৌরবময় সিফাতসমূহে ঈমান ও মারেফাতের নূরের আলোকে অবলোকন করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের প্রিয়তম সাহাবীগণ রাদিআল্লাহু আনহুম, তাবেয়ীনগণ, তাবে-তাবেয়ীনগণ এবং ওলী আল্লাহগণ সর্বোচ্চ স্তরের উপকারী ইলমের অধিকারী ছিলেন। অর্থাৎ তারাই কুরআন শরীফে বর্ণিত প্রকৃত আলেম ছিলেন।

        এ আয়াতের ব্যাখায় বিখ্যাত আলেম, ইমামুল মুফাসসিরীন ইবনে কাছীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার প্রসিদ্ধ “তাফসীরে ইবনে কাছীরে” উল্লেখ করেছেন যে, হযরত ইবনে মাসউস রাদিআল্লাহু আনহু  বলেন, যে ব্যক্তি অধিক হাদীস জানে সে ব্যক্তি আলেম নয়। বরং যার মধ্যে আল্লাহর ভীতি অধিক সে ব্যক্তিই প্রকৃত আলেম।

        ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

        বিশিষ্ট তাবেয়ী, আমীরুশ শরীয়ত ওয়াত্ব তরীকত ইমাম হাসান বছরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-কে জিজ্ঞেস করা হলো-আলেম কে? তিনি জবাবে বলেন, “ফকীহ বা আলেম হলো ঐ ব্যক্তি, যে দুনিয়া হতে বিরাগ, পরকালের প্রতি ঝুঁকে আছেন, গোনাহের প্রতি সতর্ক, সর্বদা মহান আল্লাহ পাকের ইবাদাতে মশগুল, পরহেজগার বা সুন্নতের পাবন্দ, মুসলমানের মান-সম্মান নষ্ট করেন না, তাদের সম্পদের প্রতি লোভ করেন না এবং তার অধীনস্থদের নছীহত করেন।”

        যারা প্রকৃত আলেম তাদের মর্যাদা আল্লাহর দরবারে অতি উচ্চে। সাধারণ মানুষের মাঝে আলেমরা হলেন নক্ষত্ররাজিতুল্য। যাদেরকে অনুসরণ করার মাধ্যমে মানুষ সঠিক পথের সন্ধ্যান লাভ করে থাকে।

        মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

        “পৃথিবীতে আলেমদের উদাহরণ হলো নক্ষত্ররাজির মতো। এদের সাহায্যে জল ও স্থলের অন্ধকারে পথের দিশা পাওয়া যায়। আর যদি তারকারাজি নির্মিলিত হয়ে যায়, তবে পথিকদের পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

        [মুসনাদে আহমাদ ও জামিউস সগীর]

        কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন আয়াতে আলেমদের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

        সূরা জুমার এর ৯ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে,

        “যারা আলেম এবং যারা আলেম না; তারা কী সমান হতে পারে?”

        কুরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে,

        “অন্ধ আর চক্ষুষ্মান কী সমান হতে পারে?”

        [সূরা রাদ : ১৬]

        সাধারণ মানুষের মাঝে আলেমরাই অনুসরণ ও অনুকরণযোগ্য। কোন বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগলে অথবা কোন বিষয়ে জানার প্রয়োজন হলে আলেমদের শরণাপন্ন হওয়ার জন্যে কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন। কুরআনে বলা হয়েছে,

        “ তোমরা যদি না জানো তবে আলেমদের জিজ্ঞাসা করো।”

        [সূরা নাহল : ৪৩]

        আলেমদের মর্যাদাদানের কারণ সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে,

        “নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা আলেম তারাই তাঁকে অধিক ভয় করে।”

        [সূরা ফাতির : ২৮]

        এছাড়া আলেমদের মর্যাদাদানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা সাধারণ মানুষের উপর আলেমদের দায়িত্বশীল বানিয়ে পাঠিয়েছেন। কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে,

        “আলেমরা কেন তাদেরকে পাপ কথা বলতে এবং হারাম ভক্ষণ করতে নিষেধ করে না?”

        [সূরা মায়েদা : ৬৩]

        আলেমরাই আল্লাহর কল্যাণ ও অনুগ্রহপ্রাপ্ত বলে কুরআনে বলা হয়েছে,

        “যাকে প্রজ্ঞা (গভীর জ্ঞান) দান করা হয়েছে, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে।”

        [সূরা বাকারা :২৬৯]

        শুধু কুরআনুল কারীমেই নয় বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসংখ্য হাদীসেও আলেমদের সম্মান ও মর্যাদার কথা গুরুত্বের সাথে বলা  হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

        “একজন আলেমের মর্যাদা একজন সাধারণ মানুষের উপর ততটুকুন, যতটুকুন তোমাদের উপর আমি একজন নবীর মর্যাদা।”

        [সহীহ তিরমিজি]

        অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, “দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষিত একজন আলেম শয়তানের মোকাবেলায় একজন অজ্ঞ ব্যক্তির চেয়ে হাজার গুণ অধিক শক্তিশালী।”

        [সহীহ তিরমিজি ও ইবনু মাজাহ]

        মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলেমদের সম্মান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,

        “যে ব্যক্তি আলেমদের সম্মান করলো সে যেনো আমাকেই সম্মান করলো।”

        [দারেমী]

        আলেমরা হলেন ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা দ্বীনের গভীর ইলম দান করেছেন। যাদেরকে সবাই সম্মান করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

        “কেবল দুই ব্যক্তির সাথে ঈর্ষা করা যায়। ১. সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং সে সেই সম্পদ সত্য-ন্যায়ের পথে খরচ করে। ২. সেই আলেম যাকে আল্লাহ তার দ্বীনের গভীর ইলম দান করেছেন এবং তার দ্বারা তিনি রায় প্রদান করেন।”

        [সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম]

        অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

        “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয়।”

        [ইবনে মাজাহ]

        মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলেমদেরকে তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন,

        “নিশ্চয় আলেমরা হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী।”

        [সহীহ তিরমিজি, আবু দাউদ]

         

         

        উপসংহার :  উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা মোটেও বলা অত্যুক্তি হবে না যে, আলেম-ওলামাদের মর্যাদা ও সম্মান আকাশতুল্য। তাদের সাথে বেয়াদবি, তাদের কষ্ট দেয়া ও নির্যাতন করা অত্যন্ত গোনাহের কাজ। এর জন্যে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন মুসিবতের সম্মুখীন হতে হবে।

        অতএব যারা আলেম-ওলামা তাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দান সকলের অবশ্য কর্তব্য। আলেম-ওলামাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দানের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি লাভ করা সম্ভব।

         

        1. 4.2.3.1
          মজলুম

          এটার উত্তর সর্ব নিচে দিলাম।

      4. 4.2.4
        আহমেদ শরীফ

        প্রমীলা যদি ইসলাম গ্রহণ করে থাকেন বিবাহের আগে বা পরে _ তাহলেই নজরুলের সেই বিবাহ শরীয়তসিদ্ধ হয়েছে। নচেৎ হয় নি। এটাই থিওরিটিকালি আসল কথা। আমার ফোকাস সেইটুকুই।

        আমার যা বক্তব্য তার আলোকে যথেষ্ট দলিল দিয়েছি বলে আমার ধারণা। এরপরও দীর্ঘায়িত করতে চাইলে আলাদা পোস্ট দেন আলোচনা হবে। শুধু সারিন্দা কেন পুরো অর্কেস্ট্রা নিয়ে আসেন। দেখা যাবে।

        ধন্যবাদ। 

  17. 3
    রকি

    আমার জানামতে কোরআন-হাদিসের কোথাও ইসলামের প্রতীক বলে কিছু নাই। অথচ সব জায়গায় দেখা যায় অন্যান্য ধর্মের প্রতীকের সাথে চাঁদ-তারা খচিত একটি প্রতীক দিয়ে ইসলামকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ইসলামের প্রতীক হিসেবে এই চাঁদ-তারা কি মুসলিমদের আবিষ্কার নাকি অন্য কারো আবিষ্কার, সে ব্যাপারে আমি অবশ্য নিশ্চিত না। তবে মুসলিম স্কলারদেরকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিবাদ করতেও দেখা যায় না।

    ইসলামে এই চাঁদ-তারা প্রতীকটি কিভাবে ঢুকলো? এটা কি ঐ প্যাগানদের চন্দ্রদেবতা অর্থাৎ হুবাল (Hubal) এর প্রতীক??

  18. 2
    কিংশুক

    এস এম রায়হান ভাই একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও বাস্তব বিষয় নিয়ে লিখেছেন। এখানে প্রথমেই বলে নিই যে, বর্তমানে আমার দাড়ি আছে, টিভিও দেখিনা, গানও শুনিনা, মেয়েদের দিকেও পারতপক্ষে তাকাইনা। ঐসব বিষয় আর টানেওনা। তাবলিগি সহকর্মীর সাহচর্যে নিয়ম মতো সালাত আদায় হতে শুরু করে ঈমানের অনেক পরিবর্তন এসেছে। তাবলিগি সহকর্মী ভাইদের মতো এত ভালো মানুষ, পরহেজগার, ঈমানদার মানুষ আমি বাস্তবে দেখিওনি। এখন কথা হলো, সবই ভালো। আমিও বর্তমানের মেয়েদের বেহায়া চালচলনের বিরোধী। কিন্তু মূল ধারার আলেমগন যদি বলেন যে, মেয়েদের পারতপক্ষে বাইরে বেরোনো দুরে থাকুক, পুরুষদের কন্ঠ শুনা/ পুরুষদের মেয়েদের কন্ঠ শুনাও নাজায়েজ। তাতেতো মেয়েদের ঘরের ভিতরে আটকে রেখে অসূর্যস্পর্শা বানিয়ে তালা মেরে রাখতে হবে নাহলে কোথাও যেতে হলেও গভীর রাতে রোবট বানিয়ে যাতায়াত করতে হবে। সব কিছুকে কঠিন বানাতে বানাতে মানুষের কাছে অতি কষ্টসাধ্য ব্যপার বানিয়ে কি লাভ? এর ফলে অমুসলিমদের নিকট শরিয়া আইনের অর্থই হবে মেয়েদের ঘরে তালা মেরে দাসী বানিয়ে রাখা, পাথর ছুড়ে মেরে ফেলা, চোরের হাত কাটা। কোরআন হাদিস সম্পর্কে যাদের কোন জ্ঞান নেই তারা মনে করবে এগুলোই ইসলাম। ইসলামের অন্যান্য দিক তাদের আর স্পর্শ করবেনা। এর ফলে অমুসলিমদের ইসলাম সম্পর্কে কোন আগ্রহ তো থাকবেই না বরং চরম ঘৃণা জম্মাবে। ইসলাম সম্পর্কে কম জানা মুসলমানেরও একই অবস্থা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। অথচ ইসলাম যে কত যৌক্তিক, মানবিক, মানবাধিকার নিশ্চিত করার ধর্ম তা কিভাবে অনুধাবন করবে? গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লেখার জন্য রায়হান ভাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কেউ যদি সকল ন্যুনতম সন্দেহজনক বিষয়ও পরিহার করে দিনরাত ইবাদত করে অলি আউলিয়া হয়ে যায় তা তার জন্য খুবই ভালো, তার নেক নসিব। কিন্তু যদি সবার উপর তা চাপিয়ে দিতে চায় তাহলেতো আর সবার ভালো লাগার কথা না।

    1. 2.1
      আহমেদ শরীফ

      কেউ যদি সকল ন্যুনতম সন্দেহজনক বিষয়ও পরিহার করে দিনরাত ইবাদত করে অলি আউলিয়া হয়ে যায় তা তার জন্য খুবই ভালো, তার নেক নসিব। কিন্তু যদি সবার উপর তা চাপিয়ে দিতে চায় তাহলেতো আর সবার ভালো লাগার কথা না।

      'পরহেজগারি' আর 'জাওজাত' এক বিষয় নয়।

      পরহেজগারি বা তাক্বওয়া অর্জন করা উচ্চস্তরের ব্যাপার। সে বিষয়ে কোরআনে পাকে এবং হাদিসে বহু উৎসাহ দেয়া হয়েছে। মুত্তাকিদের জন্য দু'টি জান্নাত বলা হয়েছে। জান্নাতের অনেক নেয়ামত আছে যা স্পেশালি শুধু মুত্তাকিদের জন্যই নির্দিষ্ট। সাধারণ জান্নাতিগণ তা লাভ করতে সমর্থ হবে না। তাক্বওয়া এখতিয়ার করার সবচেয়ে লাভজনক দিক হল সবসময় সতর্ক থাকার ফলে হারাম থেকে শতহস্ত দূরে থাকার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়।

      জাওজাত জায়েজ বস্তুসমূহের সমষ্টিকে বলে। এটি একেবারে সীমারেখায় অবস্থিত। অর্থাৎ আপনি এর সীমারেখা অতিক্রম করলেই 'নাজায়েজ' বা হারামের সীমানায় পৌঁছে গেলেন। এটি ন্যূনতম, এটুকু মানতেই হবে। সাধারণভাবে জায়েজসমূহ মানা অত্যাবশ্যক। এর নেগেটিভ দিক হল যে কোন সময় সীমার অন্য পাশে পৌঁছে যাওয়া বা সীমারেখা পার হয়ে যাওয়ার বিপদটা থেকেই যায়। ব্যস্ত সংসার-দুনিয়ার হাজার ডামাডোলে জাওজাতটুকুও মানা সম্ভবও হয় না অনেকের পক্ষে। ফলে বিভিন্ন অজুহাতে অভ্যস্ত হওয়ার,, সন্তুষ্ট থাকার এক মানসিকতা গড়ে ওঠে যার কারণে উন্নতির পথ অনেকটাই সংকীর্ণ হয়ে যায়।

      সেজন্যে টার্গেট যদি তাক্বওয়া রাখা যায় _ তার লাভজনক দিক হল পারফেক্ট মুত্তাকি হতে না পারলেও অন্ততঃ জাওজাত ছোটার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। অনেকটা এরকম যে লেটার মার্ক টার্গেট করে এগুলে মিনিমাম পাস মার্ক পাওয়ার অনিবার্যতা বহুগুণে বেড়ে যায়, সেরকম। মিনিমামটুকু বাদ দেয়ার কাছাকাছি পৌঁছতেও ভয় লাগবে,, চিন্তা করতেও ভয় লাগবে। তাক্বওয়া টার্গেট হওয়ায় নিজের আমলটুকু সবসময় অকিঞ্চিৎকর মনে হবে যার ফলে অহংবোধ সৃষ্টি হওয়ার সুযোগও অনেক কমে যাবে।

      1. 2.1.1
        কিংশুক

        ধন্যবাদ।

  19. 1
    সত্যবাদী

    সুন্দর বলেছেন। আসলে দাড়ি টুপিতে বুজুর্গি নাই (আমার দাড়ি আছে)।

    খাতনা করলে অনেক রোগ থেকে বাঁচা যায়। কোরআন এসেছে সকল মানব জাতির জন্য। আমারা কোরআন মানি না। হাদিস মানি। আর এই হাদিস অনেক মুসলিমই দেখতেছি পুরোপুরি বিশ্বাস করে না। কারণ হাদিস ২৫০ বছর পরে লেখা হয়েছে। আর ইহুদীরাই নাকি সাড়ে চৌদ্দ হাজার হাদিস লিখেছিল।

    সেদিন একজন মাদ্রাসার ছাত্র বলতেছে ঈমাম ইবনে তাইমীয়া নাকি বলেছিল >>> "আলেমদের মাঝে বিরোধ রহমত স্বরূপ!!!!" আমি হাসব নাকি কাঁদব?

    অনেক মুসলিম এখন ২ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে কোরআন অনুযায়ী। আমিও এখন কনফিউজড হাদিস মানা ছেড়ে দেব কিনা?

    1. 1.1
      এস. এম. রায়হান

      অনেক মুসলিম এখন ২ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে কোরআন অনুযায়ী। আমিও এখন কনফিউজড হাদিস মানা ছেড়ে দেব কিনা?

      মুসলিমদের অনেকেই এক ওয়াক্ত থেকে শুরু করে পাঁচ ওয়াক্ত পর্যন্ত নামাজ পালন করলেও মুসলিমদের মধ্যে নামাজের ওয়াক্ত সংখ্যা (পাঁচ ওয়াক্ত) নিয়ে কোনো মতবিরোধ নাই। আর এর সাথে হাদিস ছেড়ে দেওয়ারও কোনো সম্পর্ক নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.