«

»

Feb ০৩

অভিজিৎ রায়ের চোখে “অশ্লীলতা”

মুক্তমনাদের ধর্মগুরুজীর চোখে শষ্যক্ষেত্র হচ্ছে অত্যন্ত 'অশ্লীল' ও 'কুৎসিত' জাতীয় কিছু একটা। কারণ, কোরআনে স্ত্রীদেরকে 'শষ্যক্ষেত্র' বলা হয়েছে। শুধুমাত্র কোরআনের এই আয়াতকে 'অশ্লীল', 'কুৎসিত', ও 'নারী-বিদ্বেষী' আখ্যা দিয়ে তার অসংখ্য মন্তব্য আছে। আক্ষরিক অর্থেই শষ্যক্ষেত্রের কিছু নমুনা দেখা যাক-

cropfields1

cropfields2

cropfields3

cropfields4

cropfields5

cropfields6

cropfields7

এই ধরণের চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্যকে যার কাছে 'অশ্লীল' ও 'কুৎসিত' মনে হয় তার মন-মানসিকতা তাহলে কতটা অশ্লীল ও কুৎসিত হতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কোরআনের বিরুদ্ধে যেকোনো সমালোচনা যে বুমেরাং হয়, যা অনেকবার দেখিয়েও দেওয়া হয়েছে, এই সত্যকে যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে একই অপকর্মে লিপ্ত থাকে সে নিশ্চিতভাবেই একজন অসৎ, ভণ্ড, ধূরন্ধর, ও ধান্দাবাজ। আজ পর্যন্তও তার কোনো ভৃত্যমনা মুরিদ শিরদাঁড়া সোজা করে বলার সাহস পায়নি-

ও গুরুজী! বিজ্ঞানের কোথাও তো শষ্যক্ষেত্রকে 'অশ্লীল' বা 'কুৎসিত' জাতীয় কিছু হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষই তা মনে করে না। আফনার মাথায় তাহলে এই ধরণের (অপ)চিন্তা এলো কোথা থেকে? আফনি আসলে কোন্‌ ভাইরাসে আক্রান্ত? আফনাকে তো একজন গোঁড়া ধার্মিক মনে হচ্ছে, গুরুজী! আফনার লেঞ্জা কিন্তু অর্ধেক বেরিয়ে গেছে!

অনুরূপভাবে, পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ের ব্যাপারটাও মুক্তমনাদের ধর্মগুরুজীর চোখে অত্যন্ত 'অশ্লীল' ও 'কুৎসিত' একটি কাজ। কারণ, ইসলামের নবী তাঁর পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন। এটাকে অশ্লীল ও কুৎসিত বানানোর জন্য বলা হয়েছে, "যুদ্ধবন্দিনী কিংবা পালকপুত্রের স্ত্রীকে দেখে লালায়িত হয়ে সহবাস করার আয়াত…" নিচের মন্তব্য দ্রষ্টব্য। এক্ষেত্রেও তার কোনো ভৃত্যমনা মুরিদকে বলতে দেখা যায়নি-

গুরুজী মশাই! বিজ্ঞানের কোথাও তো পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সাথে বিয়েকে 'অশ্লীল' বা 'কুৎসিত' বা 'অনৈতিক' বা 'অবৈজ্ঞানিক' হিসেবে দেখা হয় না। আফনার অতি উর্বর ও বিবর্তিত মস্তিষ্কে এই ধরণের (কু)চিন্তা তাহলে কোথা থেকে এলো? এখানেও আফনাকে একজন গোঁড়া ধার্মিক মনে হচ্ছে, গুরুজী! ব্রাহ্মণ আস্তিক সজল শর্মাও ইসলামের নবীর এই বিয়ে নিয়ে ছিঃ ছিঃ করেছে। আফনিও এক যুগ ধরে ছিঃ ছিঃ করছেন। আফনার লেঞ্জা কিন্তু এবার পুরোটাই বেরিয়ে পড়েছে! হেঁহেঁহেঁ!

পাঠক, উপরের মন্তব্যটা একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখুন। তার একই ধরণের অসংখ্য মন্তব্য আছে। মুসলিমদেরকে তো বটেই, এমনকি তার নাস্তিক মুরিদদেরকেও শূদ্র বা আদিল-মালিক টাইপের ভৃত্য ছাড়া বেশী কিছু মনে করা হয় না। 'নাস্তিক' ও 'বিজ্ঞানমনা' ব্রাহ্মণ গুরুজীর ধূর্তামী কি আর শূদ্র বা আদিল-মালিক টাইপের ভৃত্যরা ধরতে পারে? অসম্ভব!

মন্তব্যটাকে এবার একটু বিশ্লেষণ করা যাক। আসিফ-থাবা গংকে 'মুক্তবুদ্ধির চর্চাকারী' আখ্যা দেওয়া তার একটি লেখায় শার্দুল নামে একজন ব্লগার থাবা বাবা ওরফে রাজিবের লেখাকে যুক্তিবিহীন ও অশ্লীল বলেছে। এই মন্তব্য দেখার সাথে সাথে মুক্তমনাদের গুরুজীর মাথায় রক্ত উঠে যায়। প্রশ্ন হচ্ছে আসিফ-থাবা গংকে 'মুক্তবুদ্ধির চর্চাকারী' আখ্যা দেওয়ার সে কে? এর পেছনে তার উদ্দেশ্য কী? ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ লেখাকে কেউ যুক্তিবিহীন ও অশ্লীল বললে মুক্তমনাদের গুরুজীর মাথায় রক্ত ওঠে কেন? এর কারণ হচ্ছে, প্রথমত, ইসলামের বিরুদ্ধে মুক্তমনাদের গুরুজীর লেখা আসিফ-থাবা'দের চেয়েও বেশী অশ্লীল, যুক্তিবিহীন, বিদ্বেষী, ও মিথ্যাচারে ভরপুর। তাছাড়া আসিফ-থাবা গং অন্তত মুক্তমনাদের গুরুজীর মতো চরম ভণ্ড, মিথ্যুক, ও ধূরন্ধর না। আসিফ-থাবা'রা স্রেফ ইসলামবিদ্বেষী বেকুব ছাড়া বেশী কিছু নয়। তাদেরকে অভিজিতের মতো ছুপারা পেছন থেকে সুড়সুড়ি দিয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ লেখা লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে। দ্বিতীয়ত, মুক্তমনাদের গুরুজী হচ্ছে আসিফ-থাবা গংদের গড ফাদার। গড ফাদার হিসেবে আসিফ-থাবা গংকে ডিফেন্ড করা তার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

যাহোক, মুক্তমনাদের গুরুজী নিশ্চিতভাবেই বুঝতে পেরেছে যে উপরের মন্তব্যে শার্দুল একজন মুসলিম, আর এজন্যই তার উপর হামলে পড়া হয়েছে। কিন্তু-

১. থাবা বাবা কি হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়েছে? না। হিন্দুরা কি থাবা বাবার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেছে? না। হিন্দুরা বরং তাকে একজন সহযোদ্ধাই মনে করে। তাহলে মুসলিম শার্দুলের মন্তব্যের জবাব দিতে যেয়ে 'শূদ্রদের পশ্চাৎদেশে গরম লৌহ শলাকার ছ্যাকা' আর 'মনুসংহিতা' এলো কোথা থেকে? শূদ্রদের পশ্চাৎদেশে ছ্যাকা দেওয়ার কথা কি ইসলামের কোথাও লিখা আছে? মনুসংহিতা কি ইসলামের ধর্মগ্রন্থ? এখানেই তার ধূর্তামী লক্ষণীয়। সে হয়তো ভেবেছে অজ্ঞ পাঠকরা না জেনে এগুলোকেও ইসলামের অংশ মনে করবে! তাছাড়া তার ভৃত্যদের মধ্যে যারা এ বিষয়ে অবগত তারা মনে মনে ভাববে, "বাপরে বাপ! আমাদের গুরুজী কত সৎ ও নিরপেক্ষ। কোনো ধর্মকেই ছেড়ে কথা কয় না।"

২. শূদ্রদের পশ্চাৎদেশে গরম লৌহ শলাকার ছ্যাকা দেওয়ার ব্যাপারটা কি মিথ্যা বা বানোয়াট কিছু? না। এই কথা হিন্দু ধর্মগ্রন্থে লিখা আছে। কাজেই মুক্তমনাদের গুরুজী এখানে কোনো মিথ্যাচার করেনি। তাছাড়া সে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে কোথায় কী বলেছে সেগুলো মুসলিমদের দেখার বিষয় না। সদালাপে যেখানে হিন্দু ধর্ম নিয়ে একেবারে নিরীহ গোছের লেখা আসার সাথে সাথে হিন্দুরা তেড়ে এসে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে সেখানে তারা মুক্তমনা ব্লগকে এড়িয়ে চলে কেন, এটা আদিল-মার্কা বুদ্ধি নিয়েও যেকারো বুঝার কথা।

৩. মনুসংহিতা যদি মানবিক বা ভালো কোনো ধর্মগ্রন্থ হতো তাহলে শিক্ষিত হিন্দুরা মনুসংহিতা থেকে শত হাত দূরে থাকার চেষ্টা করত না। প্রকৃতপক্ষে, অমানবিক-বর্বর-অযৌক্তিকতার দিক থেকে মানব জাতির ইতিহাসে মনুসংহিতার ধারেকাছেও কোনো গ্রন্থ নেই। এটা শুধু আমার কথা না, যেকারোরই কথা হওয়া উচিত। তাছাড়া মনুসংহিতা যেখানে হিন্দু ধর্মের আইনের গ্রন্থ, সেখানে মকসদুল মোমেনীন ইসলামের কোনো গ্রন্থই না। তাহলে এই দুটি গ্রন্থ কি আদপেই তুলনীয়? অতি ধূরন্ধর কেউ ছাড়া এই দুনিয়ার কোনো যুক্তিবাদীই জেনেশুনে এই ধরণের তুলনা করবে না। মনুসংহিতার সাথে তাহলে মকসদুল মোমেনীনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে কেন? এক্ষেত্রেও তার ধূর্তামী দেখতে হবে। মনুসংহিতার সাথে কোরআন বা হাদিসের তুলনা করলে আদিল-মার্কা বুদ্ধি নিয়েও যেকেউ ব্যাপারটা বুঝতে পারত। এজন্য মনুসংহিতার সাথে মকসদুল মোমেনীনের তুলনা করে অত্যন্ত সুকৌশলে বুঝাতে চাওয়া হয়েছে যে, ইসলামেও মনুসংহিতার মতো ধর্মগ্রন্থ আছে! ঐদিকে 'আবুল কাশেম' ছদ্মনামের ষাটোর্ধ বয়সী এক এক্স-মার্ক্সিস্ট ও যৌনউন্মাদ বৃদ্ধকে পামপট্টি দিয়ে ইসলামেও 'কামাসূত্রা' আবিষ্কার করে ফেলা হয়েছে। তার অধিকাংশ লেখাই 'ইসলামিক কামাসূত্রা' নিয়ে।

৪. একজন শার্দুলের মন্তব্যের জবাবে বলা হয়েছে, "আপনাদের মেশিনম্যান সাইদীর শ্লীল ফোনালাপের কথা না হয় বাদই দিলাম।" প্রথমত, শার্দুল সাঈদীর মুরিদ কি-না এটা মুক্তমনাদের গুরুজী নিশ্চিত হয়েছে কী করে? আর সে যদি সাইদীর মুরিদ হয়েও থাকে তথাপি তার মন্তব্যের সাথে এর সম্পর্ক কী? দ্বিতীয়ত, এখানে কৌশলে মুসলিমদেরকে ঢালাওভাবে 'মেশিনম্যান সাইদী'র মুরিদ বা ছাগু বানিয়ে দিয়ে এর মধ্যে সাইদীর ফোনালাপকেও টেনে এনে তাকে ধরাশায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছে। সন্দেহ হয়, সাইদীর ফোনালাপ স্ক্যাণ্ডালের সাথে সে নিজেও জড়িত কি-না। এর আগেও তার একাধিক মন্তব্যে বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ছাগুরাই তাদেরকে ইসলামবিদ্বেষী বলে। এই একুশ শতকেও একজন ব্রাহ্মণ নিজেকে কতটা ধূর্ত আর বাকি সবাইকে কতটা 'আদিল' মনে করে, ভেবে দেখুন।

৫. ইসলামের সাথে হিন্দু ধর্মকে গুলিয়ে ফেলে 'যাহাই লাউ তাহাই কদু' বানিয়ে দিয়ে তার অন্ধ মুরিদদের কাছে নিজেকে সাধু-সন্ন্যাসী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে কোনো রকম মিথ্যাচার বা বানোয়াট কিছু বলা হয় না – বরঞ্চ নির্জলা সত্য কথাই বলা হয় যেগুলো হিন্দুরা কখনোই মুক্তমনা ব্লগে যেয়ে বা অন্য কোথাও ডিফেন্ড করে না।

৬. এবার দেখা যাক ইসলাম সম্পর্কে কী বলা হয়েছে:

– কোরআনে নারীকে (আসলে স্ত্রীকে) শষ্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করাকে অশ্লীল, কুৎসিত, ও নারী বিদ্বেষী বলা হয়েছে। শষ্যক্ষেত্র নাকি 'অশ্লীল' ও 'কুৎসিত' কিছু যার দ্বারা নারীদের প্রতি 'বিদ্বেষ' বুঝায়।

– কোনো সূত্র ছাড়াই বিধর্মীদের কতল করার কথা বলা হয়েছে। ম্লেচ্ছদের ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলতে হলে ব্রাহ্মণদের মনে হয় কোনো সূত্র দিতে হয় না। ব্রাহ্মণরা যা বলে তা-ই সত্য। এই সাক্ষী অবশ্য তাদের অতি বিশ্বস্ত ভৃত্য জুটি আদিল-মালিক অনেকবার দিয়েছে। আর কী লাগে!

– "যুদ্ধবন্দিনী কিংবা পালকপুত্রের স্ত্রীকে দেখে লালায়িত হয়ে সহবাস করার আয়াত" – এখানে তো মনে হচ্ছে বিশেষ একটি ধর্মের দেবতাদের রগরগে কাহিনী কোরআনের মধ্যে গুঁজে দেওয়া হয়েছে, ঠিক যেভাবে ইসলামের মধ্যে মকসদুল মোমেনীন নামে একটি 'মনুসংহিতা'কে গুঁজে দেওয়া হয়েছে।

একজন অতি ধূর্ত ব্রাহ্মণ সুযোগ বুঝে নাস্তিকতা আর বিজ্ঞানকে ঢাল বানিয়ে নিজেকে 'নিরপেক্ষ' দেখানোর জন্য কথায় কথায় হিন্দু ধর্ম, যা যুক্তিবাদী ও শিক্ষিত হিন্দুদের কাছে অনেক আগেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, থেকে কতিপয় নির্জলা সত্য তথ্যের সাথে ইসলামের কিছু বিষয়কে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলে কী করছে তার হাজারো নমুনার মধ্যে মাত্র একটি নমুনা এই লেখায় দেখানো হলো।

৬ comments

Skip to comment form

  1. 5
    mrsumonbogra

    কিছু কিছু নাস্তিকের বক্তব্য শুনলে মনে হয় যে শষ্য ক্ষেত্র যেন একটি বিশাল জঘন্য স্থান। আসলে মহান আল্লাহ তায়ালা স্ত্রীকে স্বামীর শস্যক্ষেত্র হিসেবে বলায় তারা এমন মনোভাব প্রকাশ করছে। আমি মনে করি পৃথিবীতে মসজিদের পর সর্বোত্তম স্থান হিসাবে শষ্যক্ষেতকে সর্বোত্তম বলা উচিৎ। কেননা শষ্যক্ষেত্রে উৎপাদিত শষ্য খেয়ে আমরা জীবন ধারন করি, সেখানে যে সকল পশু-পাখি আহার করে আমরা তাদেরকেও ভক্ষন করি এবং তাদের চামরা দ্বারা আমরা বিভিন্ন উপকারী বস্তু হিসাবে ব্যবহার করি। মোটকথা শষ্যক্ষেত্র আমাদেরকে খাওয়ার জন্য অন্ন জোগায়, পরিধান করার জন্য বস্ত্র জোগায়। তাহলে কেন আমরা শষ্যক্ষেত্র কে ঘৃণার চোখে দেখব। আমি মনে করি নারীদেরকে শষ্যক্ষেত্রর সাথে তুলনা করাতে তাদের মর্যাদা আরা দ্বীগুন হয়েছে। তারা স্বামী-র হক আদায় করে আবার সন্তান লালন-পালন করে আবার শ্বশুর শাশুড়ির সেবা যত্ন করে । একজন মহিলার দ্বারা অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন, যেমন টি একটি শষ্যক্ষেত্র এর দ্বারা মানুষ সহ অনেক পশু-পাখি উপকৃত হয়।

  2. 4
    কামরুজ্জামান

    বতমান যুগের আবু লাহাব!

  3. 3
    রাসেল ইউসুফী

    কোরআনের বিরুদ্ধে যেকোনো সমালোচনা যে বুমেরাং হয়, যা অনেকবার দেখিয়েও দেওয়া হয়েছে।

    যথার্থ বলেছেন।

  4. 2
    এস. এম. রায়হান

    আপনারা কি জানেন, মুক্তমনা ধর্মের হারাম-এর তালিকা ইসলামের হারাম-এর তালিকার চেয়ে অনেক বড়? নিচে মুক্তমনা ধর্মের হারাম-এর একটি আংশিক তালিকা দেওয়া হলো। আপনারা আরো যোগ করতে পারেন।

    ১. নাস্তিকতা নিয়ে কোনো রকম প্রশ্ন-সংশয় করা হারাম। কারণ, নাস্তিকতার ঘাড়ে সওয়ার হয়ে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে কোপাতে হবে।

    ২. বিবর্তনবাদ নামক কল্পকাহিনী-ভিত্তিক পেগ্যান ধর্মের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন-সংশয় করা হারাম। কারণ, বিবর্তনবাদ দিয়ে ইসলামকে ভুল-মিথ্যা-অসার প্রমাণ করে মুসলিমদেরকে 'বিজ্ঞান-বিরোধী' হিসেবে দেখাতে হবে।

    ৩. তসলিমা নাসরিন, হুমায়ুন আজাদ, আরজ আলী মাতুব্বর, রিচার্ড ডকিন্স-সহ যে কোনো ধর্ম-বিরোধী নাস্তিকের লেখা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হারাম। কারণ, তাদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে হেয় করতে হবে।

    ৪. ধর্ম বিষয়ে নিজেদের লেখা নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংশয়-সন্দেহ করা বা বিতর্কে জড়ানো হারাম।

    ৫. অন্যান্য ধর্মের বিরুদ্ধে বেশি সময় ব্যয় করা হারাম। কারণ, তাতে ইসলামকে ঠেকানোর সময় কমে যাবে।

    ৬. পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করা হারাম। কারণ, ইসলামের নবী তাঁর পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন।

    ৭. পুরুষের এক সাথে একাধিক স্ত্রী থাকা হারাম। কারণ, ইসলামের নবীর এক সাথে একাধিক স্ত্রী ছিল।

    ৮. এক রাতে একাধিক স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়া হারাম (সহবাস বা সাক্ষাৎ যা-ই হোক না কেন)। কারণ, ইসলামের নবী এক রাতে একাধিক স্ত্রীর সাথে মিলিত হতেন।

    আরো অনেক আছে…

    1. 2.1
      রাসেল ইউসুফী

      ১) অবৈধ যৌনতার বিরুদ্ধে কথা বলা হারাম, কারণ মুক্তমনাদের চোখে উহা হালাল।

      ২) সমকামীতার বিরুদ্ধে কথা বলা হারাম, কারণ মুক্তমনাদের চোখে উহা হালাল।

      ৩) মদ্যপানের বিরুদ্ধে কথা বলা হারাম, কারণ মুক্তমনাদের চোখে উহা হালাল।

      ৪) হিজাবের পক্ষে কথা বলা হারাম, কারণ মুক্তমনাদের চোখে হিজাব না করে চলাটা হচ্ছে হালাল।

  5. 1
    এস. এম. রায়হান

    মুক্তমনাদের গুরুজীর ধর্মের কিছু ভার্স:

    ১.১ শষ্যক্ষেত্র অত্যন্ত অশ্লীল ও কুৎসিত কিছু একটা। কেন? কারণ, কোরআনে স্ত্রীদেরকে শষ্যক্ষেত্র বলা হয়েছে।

    ১.২ পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করা অত্যন্ত অশ্লীল ও কুৎসিত একটি কাজ। কেন? কারণ, ইসলামের নবী তাঁর পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন।

    ১.৩ পুরুষের এক সাথে একাধিক স্ত্রী থাকা হারাম। কেন? কারণ, ইসলামের নবীর এক সাথে একাধিক স্ত্রী ছিল।

    ১.৪ এক রাতে একাধিক স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়া (সহবাস বা সাক্ষাৎ যা-ই হোক না কেন) হারাম। কেন? কারণ, ইসলামের নবী এক রাতে একাধিক স্ত্রীর সাথে মিলিত হতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.