«

»

Feb ০৯

মরণোত্তর দেহদান প্রসঙ্গে অভিজিৎ রায়ের ধূর্তামী

প্রতি বছর সারা বিশ্ব জুড়ে কম-বেশী প্রায় ৬ কোটি মানুষ মারা যায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। কাজেই এতগুলো মৃতদেহকে সৎকার করা মানব সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৃতদেহ সৎকারের মূলত দুটি প্রথা বা পদ্ধতি প্রচলিত আছে: শব সমাধিস্থকরণ (মৃতদেহকে মাটির নিচে রাখা) এবং শবদাহ (মৃতদেহকে আগুনে পুড়িয়ে ছাইভস্ম করা)। পদ্ধতি দুটিকে যদি যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে শব সমাধিস্থকরণ সকল দিক দিয়েই একটি যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক পন্থা হিসেবে গণ্য হবে। যেমন:

#ব্যতিক্রম ছাড়া খুব অল্প খরচে একটি মৃতদেহকে সমাধিস্থ করা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে খরচ লাগে না বললেই চলে। অন্যদিকে একটি মৃতদেহকে আগুনে পুড়িয়ে ছাইভস্ম করতে প্রচুর জ্বালানীর দরকার হয়। #মাটিতে যে জৈবিক উপাদান আছে সেগুলো মানুষের দেহেও থাকে। ফলে মৃতদেহকে সমাধিস্থ করলে মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে মৃতদেহকে আগুনে পুড়িয়ে ফেললে জৈবিক উপাদান নষ্ট হয়ে যায়। #মৃতদেহকে সমাধিস্থ করলে পরিবেশের কোনো ক্ষতিসাধন হয় না। অন্যদিকে মৃতদেহকে আগুনে পোড়ালে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। #বৃষ্টি-বাদলের দিনেও মৃতদেহকে সমাধিস্থ করা যায়। কিন্তু বৃষ্টি-বাদলের দিনে মৃতদেহকে আগুনে পোড়ানো খুবই কঠিন কাজ। আর মৃতদেহকে ঠিকমতো পোড়াতে না পারলে সেটি পরিবেশের জন্য আরো ক্ষতিকর। #মৃতদেহকে সমাধিস্থকরণ একটি মানবিক প্রক্রিয়া। অন্যদিকে মৃতদেহকে আগুনে পোড়ানো একটি অমানবিক ও ভয়ঙ্কর প্রক্রিয়া। শিশু বাচ্চা ও দুর্বল হার্টের লোকজনের উপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। #সর্বোপরি, মৃতদেহকে সমাধিস্থকরণের ক্ষতিকর কোনো দিক নেই। সমাধিস্থকরণের জন্য জায়গা লাগলেও পরবর্তীতে সেই জায়গাকে রি-সায়ক্লিং করা যায়। তাছাড়া কবরস্থান ছাড়াও তো অনেক পতিত জায়গা পড়ে আছে। কাজেই এটি মোটেও কোনো সমস্যা নয়। অন্যদিকে মৃতদেহকে পোড়ানোর সবগুলো দিকই ক্ষতিকর।

কিন্তু মুক্তমনাদের অতি ধূর্ত গুরুজী সম্ভবত ব্যাপারটাকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করে (শব সমাধিস্থকরণ একটি ইসলামিক প্রথা আর শবদাহ একটি হিন্দু প্রথা!) এই দুটি প্রথা নিয়ে আলোচনায় গেলে যেহেতু শব সমাধিস্থকরণ প্রথাকেই যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক হিসেবে মেনে নিতে হবে সেহেতু মৃতদেহ সৎকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গটা পুরোপুরি চেপে যেয়ে 'মানবতাবাদী' সেজে মরণোত্তর দেহদানের পক্ষে বিশাল একখান বিগ্যান-ভিত্তিক গোবেষণাপত্র লিখে ফেলা হয়েছে। ব্যাপারটার এখানেই পরিসমাপ্তি ঘটলে কষ্ট করে এই লেখাটি লিখার হয়তো প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু মুক্তমনাদের ধূর্ত গুরুজী এখানেই থেমে থাকেনি। কারণ, এতসব খাটা-খাটুনির পেছনে তার উদ্দেশ্যই হচ্ছে যেকোনো প্রকারে ইসলাম ও ম্লেচ্ছদেরকে হেয় করা – বিজ্ঞান-বিরোধী বা অমানবিক বা ধর্মান্ধ হিসেবে দেখানো। এবার তার ধূর্তামীগুলো একে একে দেখা যাক।

 

১. সমসাময়িক একটি সুযোগের (অ)সদ্ব্যবহার করে লেখাটি শুরু করা হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের লাশ দাফন নিয়ে যে ক্যাচাল হয়েছিল সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে, যাতে তার অন্ধ মুরিদরা সহজেই কনভিন্সড্‌ হয়। শেষে বলা হয়েছে-

কিন্তু আজকের লেখাটি হুমায়ূন আহমেদকে কোথায় কবর দেয়া হয়েছে তা নিয়ে নয়, যে ব্যাপারটি আমাকে ভাবিয়েছে সেটা হল —  মানুষকে কবর দিলেই কি আর ঘটা করে শ্মশান ঘাটে নিয়ে পুড়ালেই বা কি, এতে তো জগৎ জীবন কিংবা মানুষের কোন উপকারই হচ্ছে না। তার চেয়ে আরো  ভাল সিদ্ধান্ত কী এরকম হতে পারে না যদি আমাদের মৃতদেহটিকে মানব কল্যাণে আমরা উৎসর্গ করতে পারি?

প্রথমে শব সমাধিস্থকরণ ও শবদাহকে 'যাহাই লাউ তাহাই কদু – কোনোই পার্থক্য নাই' হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তার লেখার ছত্রে ছত্রে এই ধরণের প্রতারণামূলক ধূর্তামী পাওয়া যাবে। এর পর উপসংহার টানা হয়েছে এভাবে (নিজ ভাষায়)-

মৃতদেহকে কোথায় কবর দেওয়া হবে – এ নিয়ে ক্যাচালে জড়ানোর কী দরকার বাপু! তার চেয়ে বরং মৃতদেহকে মানব কল্যাণে (মানবতাবাদী!) উৎসর্গ করাই ভালো।

কিন্তু একটি সম্পূর্ণ মৃতদেহকে মানব কল্যাণে কীভাবে উৎসর্গ করা যাবে, আর প্রতি বছর কোটি কোটি মৃতদেহকেই বা মানব কল্যাণে কীভাবে উৎসর্গ করা হবে – এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা চেপে যাওয়া হয়েছে। অধিকন্তু, দু-এক জনের লাশ দাফন নিয়ে ক্যাচালের উপর ভিত্তি করে যদি পুরো সমাধিস্থকরণ পদ্ধতিকেই বাতিল করতে হয় তাহলে তো মৃতদেহকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হলে এই ধরণের ক্যাচাল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। মুক্তমনাদের গুরুজী কি তাহলে পরোক্ষভাবে শবদাহের পক্ষে সাফাই গেয়েছে? তা না হলে হুমায়ূন আহমেদের লাশ দাফন নিয়ে ক্যাচালের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে?

 

২. মরণোত্তর দেহদান নিয়ে লেখায় আরজ আলী মাতুব্বরের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শমশের আলীকে হেয় করা হয়েছে এভাবে-

আমাদের কৃষক-দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর (১৯০০–১৯৮৫) কিন্তু চেষ্টা করেছিলেন।  আরজ আলী মাতুব্বর লোকটাকে আমার বরাবরই  দুঃসাহসী, দুর্দান্ত, দুরন্ত, দুর্বিনীত বলে মনে হয়েছে। অশিক্ষিত সামান্য একজন চাষা নিজ উদ্যোগে স্বশিক্ষিত হয়েছেন। কিন্তু এই শিক্ষা কেবল ‘শমশের আলীদের মত কোরানে বিজ্ঞান খোঁজার শিক্ষায়’ শিক্ষিত হওয়া  নয়, বরং  মনের  বাতায়ন খুলে দিয়ে ‘আলোকিত মানুষ’ হবার ঐকান্তিক বাসনা।  আরজ আলী বিনা প্রমাণে কিছু মেনে নেননি, প্রশ্ন করেছেন, জানতে চেয়েছেন।  সে প্রশ্নগুলো সন্নিবেশিত করেছেন ‘সত্যের সন্ধান’ বইয়ে। যে প্রশ্নগুলো একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারীরাও করতে ভয় পেতেন, সে সব প্রশ্নগুলো তিনি করে গেছেন  অবলীলায়, ভাবলেশবিহীন মুখে।

উল্লেখ্য যে, ড. অজয় রায় ও ড. শমশের আলী উভয়েই ইউকে থেকে পিএইচডি করা এবং উভয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন বা আছেন। অথচ ড. অজয় রায় একজন ইসলাম-বিরোধী সাম্প্রদায়িক মানসিকতার হওয়া সত্ত্বেও মুক্তমনাদের কাছে উনি অত্যন্ত সম্মানিত ও দেবতুল্য গুরু হিসেবে বিবেচিত হোন। অন্যদিকে মুক্তমনা ধর্মে ড. শমশের আলী একজন ম্লেচ্ছ হিসেবে বিবেচিত হোন। মনাসংহিতা অনুযায়ী ড. শমশের আলীর 'অপরাধ' হচ্ছে উনি ম্লেচ্ছদের ধর্মগ্রন্থ কোরআনের মধ্যে বিজ্ঞান খোঁজার মতো সাহস দেখিয়েছেন। ড. অজয় রায় বা তার সুযোগ্য পুত্র ব্রাহ্মণদের ধর্মগ্রন্থ বেদ-গীতা-মনুসংহিতার মধ্যে বিজ্ঞান খোঁজেন না কেন – এই প্রশ্নটা কি কেউ তাদেরকে করতে পারবেন? বেদ-গীতা তাদের কাছে কবে থেকে 'অচ্ছুৎ' হওয়া শুরু করলো?

 

৩. মরণোত্তর দেহদান নিয়ে প্রতারণাপূর্ণ লেখায় মোল্লা-পুরোহিতদের 'যুক্তিবাদী হেডপাদ্রী' সেজে তার আরো ধূর্তামী দেখুন-

কিন্তু তারপরেও — দুঃখজনক হলেও দেশে সাধারণ মানুষদের মধ্যে প্রক্রিয়াটি এখনো জনপ্রিয় করা যায়নি, না এ পার বাংলায়, না ওপারে।  বেহেস্তের বা স্বর্গের অলীক হুর-পরীর লোভ, নরক কিংবা দোজখের ভয়, কুসংস্কার আর অপবিশ্বাসের পাশাপাশি অশিক্ষিত এবং অর্ধশিক্ষিত মোল্লা — পুরোহিত আর লালসালুর মজিদদের  ছড়ি ঘোরানো যে সমাজে প্রবল সে সমাজে এই ধরণের ব্রাত্য ধারণাকে জনপ্রিয় করাটা কষ্টকরই বটে।

বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে মরণোত্তর দেহদান একটি সাম্প্রতিক সংযোজন। বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতেই পারে। কিন্তু মুক্তমনাদের গুরুজী নিজেই মিথ্যাচার, ভণ্ডামী, কুসংস্কার আর অপবিশ্বাসের অন্ধকারে নিমজ্জিত থেকে কী বলতে চায়? মরণোত্তর দেহদান করা বা না-করার সাথে হুর-পরীর লোভ এলো কোথা থেকে? আর মুসলিমরা নিজেরাই যেখানে লালসালুর মজিদের মতো ভণ্ডদের বিরুদ্ধে সেখানে মুক্তমনাদের ভণ্ড গুরুজী লালসালুর মজিদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কাদের দিকে গুলি চালাচ্ছে? এগুলো নাস্তিকতার আড়ালে একজন ভণ্ডের ধূর্তামী ছাড়া আর কী হতে পারে? মুসলিমরা কি তার মতো উদ্দেশ্যমূলকভাবে 'উলঙ্গ' হয়ে আছে যে, কোথাও একটু ন্যাকড়া চোখে পড়লেই সেটি ভালো করে না দেখে তড়িঘড়ি করে তুলে নিয়ে লজ্জাস্থান ঢাকবে আর অন্যকেও একই কাজের জন্য পীড়াপিড়ি করবে? না। মুসলিমরা ইতোমধ্যে পোশাকে সজ্জিত। কাজেই পোশাক পরিবর্তন করার আগে কিংবা পুরাতন পোশাকের সাথে নতুন কিছু সংযোজন করার আগে তারা দু'বার করে ভেবে দেখবে। এতে নাস্তিকরূপী কোনো ধূর্ত বর্ণবাদীর অসৎ উদ্দেশ্য ব্যহত হওয়াতে গায়ে গ্যাসোলিন ঢেলে আত্মাহুতি দিলে করার কিছু নাই।

 

৪. ২০১২ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারী আমার একটি লেখায় বলেছি-

মেডিক্যালে মৃতদেহ দান করার ব্যাপারে ইসলামে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কেউ চাইলে দান করতে পারেন।

সারা পৃথিবী জুড়ে প্রতিদিন যত মানুষ মারা যাচ্ছে তাদের সবাইকে যদি মেডিক্যালে দান করা হয় তাহলে অতি অল্প সময়ে পৃথিবীটা জীবন্ত নরকে পরিণত হবে! ডাক্তার ও রুগীদেরকে আর মেডিক্যালে থাকতে হবে না! ফলে মেডিক্যালে মৃতদেহ দান সার্বজনীন কোনো সমাধান হতে পারে না। তাছাড়া কতিপয় মৃতদেহকে না হয় মেডিক্যালে দান করে কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেওয়া হলো, কিন্তু সেই মৃতদেহগুলোর বাকি অংশ এবং আরো হাজারো মৃতদেহের সৎকার করা হবে কীভাবে? কাজেই সবচেয়ে যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক সমাধান হচ্ছে মৃতদেহকে মাটির নিচে কবর দেওয়া, যদিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের জন্য মাঝে মাঝে কিছু মৃতদেহ মেডিক্যালে দান করা যেতে পারে। এর চেয়ে অধিকতর যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক সমাধান কেউ দিতে পারবে না।

মুক্তমনাদের গুরুজীর 'অভ্রান্ত' পোস্টে তার অন্ধ মুরিদরা সহসা প্রশ্ন-ট্রশ্ন করার সাহস পায় না। তবে ২০১২ সালের ২২শে আগস্ট (আমার উপরের লেখার ৬ মাস পর) কাজি মামুন নামে এক মুক্তমনা মুরিদ তার গুরুজীর মরণোত্তর দেহদান নিয়ে পোস্টে সাহস করে একটি প্রশ্ন করেছে-

একটি বিষয় জানতে কৌতূহল হচ্ছে। আলোচ্য নিবন্ধটির মেজাজকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে সেই শঙ্কা মাথায় নিয়েই (সেক্ষেত্রে আপনার ক্ষমা পাব ধরে নিয়েই) প্রশ্নটি করছি, যদি পৃথিবীর সব মানুষ মরণোত্তর দেহ দান করে, তাহলে তার সদ্ব্যবহার কিভাবে নিশ্চিত করবে মেডিকাল কলেজ বা অন্য গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান (যেহেতু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক রোগীর জন্য বা শিক্ষার্থীর জন্যই মরণোত্তর দেহ দরকার হয়)?

লক্ষণীয়, মুক্তমনাদের গুরুজীর পোস্টে প্রশ্ন করতে হলে আলোচ্য নিবন্ধের মেজাজ ক্ষুণ্ণ হতে পারে এই ভয়ে আগে-ভাগেই তার মুরিদদের ক্ষমা চেয়ে নিতে হয়! পুরাই গুরু-শিষ্য বা প্রভু-ভৃত্য কারবার আরকি। তথাপিও মুক্তমনাদের গুরুজীর মন গলেনি, আজ পর্যন্তও কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। কেননা এই প্রশ্নের জবাব দিতে গেলে তার 'মানবতাবাদী' মুখোশের আড়ালের লেঞ্জা উন্মোচিত হয়ে যাবে, যে ইঙ্গিত আমার উপরের লেখায় অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে। ওদিকে মুরিদ মনে হয় প্রশ্নটা করার অপরাধে কোনো রকমে হাফ ছেড়ে বেঁচেছে! জবাব না পেলেও কিছু এসে যায় না, দেবগুরুজী দেবগুরুজীই থেকে যাবে।

 

৫. এবার মুক্তমনাদের ধূরন্ধর গুরুজীর দিনে-দুপুরে পুকুর চুরি দেখা যাক। প্রথমে মুক্তমনাদের গুরুজী ও তার অতি বিশ্বস্ত মুরিদের মধ্যে নিচের মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য মনোযোগ দিয়ে পড়ুন-

dehodaan1

মুক্তমনাদের গুরুজীর মন্তব্যে একটি ফতোয়ার লিঙ্ক দিয়ে ম্লেচ্ছদেরকে মরণোত্তর দেহদানের বিরুদ্ধে দেখানোর জন্য সেই ফতোয়া থেকে এক লাইনের একটি অংশের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, "মানবদেহের মূল মালিক আল্লাহ। অতএব কোন ব্যক্তির অধিকার নেই যে, আল্লাহর তৈরি দেহকে সে যথেচ্ছ ব্যবহারে দান করে দেবে।"

এবার ঐ লিঙ্কের পুরো ফতোয়ার স্ক্রীনশট নিচে দেখুন-

dehodaan2

মুক্তমনাদের গুরুজীর দিনে-দুপুরে পুকুর চুরি নিজ চোখে দেখলেন তো? ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী প্রপাগ্যাণ্ডার সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য ছোট্ট একটি লেখা থেকে লাল আন্ডারলাইন করা অংশটি নিয়ে তার পরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দিনে-দুপুরে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে! অথচ লাল আন্ডারলাইনের ঠিক পরেই বলা হয়েছে-

এক্ষণে যরূরী কোন রোগজীবাণু পরীক্ষা বা মানবতার কল্যাণে শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের স্বার্থে যথাযথ দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সীমিত ক্ষেত্রে এটা করা যেতে পারে (লাজনা দায়েমা)। ঢালাওভাবে কখনোই নয়। নইলে মানবদেহ এক সময় ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত হবে। তখন জীবন্ত মানুষকে হত্যা করে এই নিকৃষ্ট ব্যবসা চালানো হবে।

এদিকে মুক্তমনাদের গুরুজীর পোস্টের ৬ মাস আগে আমি সদালাপে বলেছি-

মেডিক্যালে মৃতদেহ দান করার ব্যাপারে ইসলামে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কেউ চাইলে দান করতে পারেন।… পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের জন্য মাঝে মাঝে কিছু মৃতদেহ মেডিক্যালে দান করা যেতে পারে।

এর পরও দিনে-দুপুরে এতবড় পুকুর চুরি দেখে বা না দেখে প্রভুকে তুষ্ট করার জন্য উদোর পিণ্ডি ম্লেচ্ছদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে তার অতি বিশ্বস্ত অন্তর্ঘাতক সাইডকিক আঃ মাহমুদ বলেছে, "এইসব ফতোয়া দেখায় কোন লাভ নাই। সত্যের সেনানীদের ডবল গেম পদ্ধুতির কাছে পরাজিত হতেই হবে।"

অন্তর্ঘাতক সাইডকিকের কাছে প্রশ্ন: এখানে 'সত্যের সেনানী' কারা, আর তাদের 'ডবল গেম পদ্ধুতি'-ই বা কী? অন্তর্ঘাতক সাইডকিক নিজে সত্যের সেনানী নাকি মিথ্যার সেনানী নাকি স্রেফ ভৃত্য?

কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন:

– একটি সম্পূর্ণ মৃতদেহকে মানব কল্যাণে কীভাবে উৎসর্গ করা যায়? প্রতি বছর কোটি কোটি মৃতদেহকে মেডিক্যালে দিয়ে কী করা হবে? মেডিক্যালগুলো কি কোটি কোটি মৃতদেহ নেওয়ার সম্মতি দিয়েছে? তাছাড়া মেডিক্যালে দিয়ে মৃতদেহগুলো থেকে না হয় দু-একটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খুলে নেওয়া হলো, কিন্তু মৃতদেহগুলোর বাকি অংশের সৎকার করা হবে কী করে? মুক্তমনাদের গুরুজী তার মুরিদদের নিয়ে বাকি অংশগুলো রান্না করে খাবে নাকি?

– যে'সকল জায়গায় বা আশেপাশে কোনো মেডিক্যাল নাই সেখানে থেকে মৃতদেহগুলোকে মেডিক্যালে পাঠানো হবে কীভাবে? মেডিক্যালে যেতে যেতে মৃতদেহগুলো যদি পচে যায় তখন কী হবে? তাছাড়া মৃত্যুর আগে-পরে যাদের চোখ ও কিডনি-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো নষ্ট হয়ে যায় সেই সকল মৃতদেহ মেডিক্যালে দিয়ে কী হবে?

– ধরা যাক, একজন নাস্তিক জীবিত অবস্থায় তার মৃতদেহ মেডিক্যালে দান করার জন্য উইল করে গেল। কিন্তু মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ সত্যি সত্যি মেডিক্যালে দান করা হলো নাকি নর্দমাতে ফেলে দেওয়া হলো নাকি আগুনে পোড়ানো হলো নাকি কুকুর-শিয়াল দিয়ে খাওয়ানো হলো – এটা সে জানবে কী করে?

মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন: মুক্তমনাদের গুরুজীর প্রথম স্ত্রীর মৃতদেহ, বিখ্যাত মুক্তমনা নাস্তিক ড. জাফর উল্লাহর মৃতদেহ, ও মুক্তমনা নাস্তিক ব্লগার 'ঈশ্বরহীন' এর মৃতদেহ মেডিক্যালে দান করা হয়েছিল কি-না, তা জানা যায়নি কেন?

এই অতি সহজ ও প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্নের মাধ্যমেই মুক্তমনাদের ধূর্ত গুরুজীর ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী 'মানবতাবাদী' ধর্মের সলীল সমাধি ঘটবে। পেগ্যান ধর্ম (অযৌক্তিক ও অবাস্তব) হলে যা হয় আরকি। তার ভৃত্যমনা পেগ্যান মুরিদদের এখন কী হবে!

পয়েন্টস টু বি নোটেড: যেখানে মুক্তমনাদের গুরুজীর প্রথম স্ত্রীর মৃতদেহ, বিখ্যাত মুক্তমনা নাস্তিক ড. জাফর উল্লাহর মৃতদেহ, মুক্তমনা নাস্তিক ব্লগার 'ঈশ্বরহীন'-এর মৃতদেহ, এবং এমনকি বাংলা নাস্তিকদের গুরু হুমায়ুন আজাদের মৃতদেহ পর্যন্ত মেডিক্যালে দান করা হয়নি – যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সারা বিশ্ব জুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৬ কোটি মানুষ মারা গেলেও কতিপয় মৃতদেহকেই হয়তো মেডিক্যালে দেওয়া হয় — সেখানে মুক্তমনাদের ভণ্ড গুরুজী 'মানবতাবাদী' সেজে চরম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে আক্রমণ করেছে এই অজুহাত দেখিয়ে যে, ইসলাম ও মুসলিমরা মরণোত্তর দেহদানের বিরুদ্ধে। এই ধরণের দিনে-দুপুরে তথ্য ডাকাতি শুধুমাত্র একজন ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী গোঁড়া মৌলবাদীর পক্ষেই সম্ভব।

১২ comments

Skip to comment form

  1. 7
    অনিন্দ্য রায়

    মরনোত্তর দেহদান কোনো ধর্মীয় বিষয় নয় .এটা র প্রয়োজন শিক্ষার কারনে …….. আর চক্ষু দান সেতো বাড়ায় পবিত্র কর্ম .. "অন্ধ জনে দেহ আলো".

    এ বিষয়ে হিন্দু মুসলিম না করলেই ভালো ..তাতে জাতির মঙ্গল 

  2. 6
    ফেবু সালাফী ফিতনা

    প্রথমে এই মুক্ত শয়তানদের নাম পরিবর্তন করা দরকার। বেটা মুক্তমনা কিন্তু নাম আরবিতে। মুসলিমদের ধোঁকা দেস কেন। সাহস থাকলে নাম পরিবর্তন করে দাদা হয়ে যা। ২/১ টা আবার বিবাহ করে। হুজুর দিয়ে বিবাহ করার দরকার হয় কেন???

  3. 5
    আহমেদ শরীফ

    অন্তর্ঘাতক সাইডকিকের কাছে প্রশ্ন: এখানে 'সত্যের সেনানী' কারা, আর তাদের 'ডবল গেম পদ্ধুতি'-ই বা কী? অন্তর্ঘাতক সাইডকিক নিজে সত্যের সেনানী নাকি মিথ্যার সেনানী নাকি স্রেফ ভৃত্য?

    'বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব' বলা যায়। যেখানে প্রচুর অসততা অবলম্বন করে হলেও দাসত্ব বজায় রাখতেই হয়।

    এই সাইডকিক অনেক হাই লেভেলের মাল। ওনার প্রাণের বন্ধু হোরাস আর মহাগুরু শিয়ালপণ্ডিতসহ ৩ জনের এক ত্রয়ী সৃষ্টি করেছেন। ফেসবুক সূত্রে দেখেছি বেশ অনেকদিন আগে থেকেই কানাডায় 'ফিজিক্যালি' এই ত্রয়ী অনেক কাছাকাছি এসেছেন একে অন্যের বাসায় দাওয়াত খান ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডাও দিয়ে থাকেন। তাই পারষ্পরিক বোঝাপড়া-সহযোগিতার ভিত্তিতে ব্লগীয় কর্মকাণ্ডেও চোখে পড়ার মত কৌশলগত একটা ছন্দের মত চলে এসেছে। ধুরন্ধর বুদ্ধিতে ছলে-বলে-কৌশলে-বাহানায় ইসলামের ১৪ পুরুষ উদ্ধার করাই ওনাদের বেঁচে থাকার আনন্দ, জীবনের একমাত্র ব্রত। আলোচ্য ক্ষেত্রে খণ্ডিতভাবে একটি বাক্য তুলে এনে বাকিটা গোপন করে যে ধূর্ত অপকৌশল ব্যবহার করলেন -- মিথ্যাচারের এরকম অসংখ্য উদাহারণ খুঁজলে বের হবে। ইসলামবিদ্বেষকে ওনারা একটি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, দিবারাত্রি তার সাধনায় একনিষ্ঠভাবে নিমগ্ন আছেন।

  4. 4
    শামসুল আরেফিন

    একটি সংবিধিবব্ধ সতর্কিকরণ: মুক্তমনাদের দেহের যে কোন অংশ গ্রহণ করার আগে তাতে এইচআইভি, সিফিলিস, গনোরিয়ার জীবাণু আছে কি-না পরীক্ষা করিয়ে নিন, তা না হলে আপনিও যে কোন সময় এসব রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

    অফ টপিক: আমাদের জীবদ্দশাতেই আশা করি বেশ কয়েকজন মুক্তমনার ইহধাম ত্যাগ করার করুণ দৃশ্য আমরা দেখব। দেখা যাক তখন গুরুজীর আহবানে সারা দিয়ে তাদের শবদেহ মেডিক্যালে যায়, নাকি খাটিয়ায় চড়িয়ে মুসলিম তরিকায় কবরে রাখা হয়। গুরুজীর কে কত বড় মুরিদ হতে পেরেছে, তখনই তা প্রমাণ হবে।

    1. 4.1
      এস. এম. রায়হান

      আমাদের জীবদ্দশাতেই আশা করি বেশ কয়েকজন মুক্তমনার ইহধাম ত্যাগ করার করুণ দৃশ্য আমরা দেখব। দেখা যাক তখন গুরুজীর আহবানে সারা দিয়ে তাদের শবদেহ মেডিক্যালে যায়, নাকি খাটিয়ায় চড়িয়ে মুসলিম তরিকায় কবরে রাখা হয়। গুরুজীর কে কত বড় মুরিদ হতে পেরেছে, তখনই তা প্রমাণ হবে।

      ইতোমধ্যে তিনটি কেসের তিনটিই ফেল মারছে- মানে ১০০% ফেল! মুক্তমনাদের গুরুজীর প্রথম স্ত্রীর মৃতদেহ, বিখ্যাত মুক্তমনা নাস্তিক ড. জাফর উল্লাহর মৃতদেহ, ও মুক্তমনা নাস্তিক ব্লগার 'ঈশ্বরহীন' এর মৃতদেহের কোনোটাই মানব কল্যাণে মেডিক্যালে দান করা হয়নি! এমনকি লাশগুলো কীভাবে সৎকার করা হয়েছে, তাও কেউ জানে না!

      1. 4.1.1
        পাভেল আহমেদ

        থাবা বাবারও তো একই অবস্থা! 😛

        1. 4.1.1.1
          এস. এম. রায়হান

          থাবা বাবার কেস একটু আলাদা। সে মুক্তমনা ব্লগে কখনো লেখালেখি করেনি, স্বঘোষিত মুক্তমনাও মনে হয় সে ছিল না। কিন্তু স্বয়ং মুক্তমনাদের গুরুজীর প্রথম স্ত্রীর মৃতদেহ-সহ তার দুই বিশিষ্ট মুরিদের লাশ পর্যন্ত মানব কল্যাণে মেডিক্যালে দান করা হয়নি! ভেবে দেখুন।

  5. 3
    এস. এম. রায়হান

    যেখানে প্রতি বছর কোটি কোটি মৃতদেহ সৎকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা জড়িত, সেখানে মুক্তমনাদের ধূর্ত গুরুজী আত্মা নিয়ে ইতং বিতং মারাচ্ছে! সে নাকি বৈগ্যানিকভাবে প্রমাণ করে দিয়েছে আত্মা বলে কিছু নাই 😛 আর আত্মা বলে যেহেতু কিছু নাই সেহেতু কোটি কোটি মৃতদেহ সৎকারেরও কোনো প্রয়োজন নাই! মৃতদেহগুলোকে এখন মানব কল্যাণে (!) মেডিক্যালে উৎসর্গ করলেই সব ল্যাটা চুকে যাবে! এই ধরণের মূত্র খাওয়া মস্তিষ্ক নিয়ে মুসলিমদেরকে উপহাস-বিদ্রূপ করতে লজ্জাও করে না- ধূর্ত ব্রাহ্মণ বলে কথা।

  6. 2
    এস. এম. রায়হান

    মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন: মুক্তমনাদের গুরুজীর প্রথম স্ত্রীর মৃতদেহ, বিখ্যাত মুক্তমনা নাস্তিক ড. জাফর উল্লাহর মৃতদেহ, ও মুক্তমনা নাস্তিক ব্লগার 'ঈশ্বরহীন' এর মৃতদেহ কি মেডিক্যালে দান করা হয়েছিল না কী করা হয়েছিল, তা জানা যায়নি কেন?

    মুক্তমনাদের নাস্তিকরূপী ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ভণ্ড গুরুজীর লেঞ্জা পুরোপুরি উন্মোচন করতে হবে।

    1. 2.1
      পাভেল আহমেদ

      ব্লগার রাজীবের মৃতদেহও তো মেডিক্যালে দান করা হয়নি। বরং কবর দেওয়া, জানাজা পড়ানো এসব নিয়া কত কত ক্যাচালই তো হইল!

  7. 1
    রাসেল ইউসুফী

    আচ্ছা, একটা মানুষের শরীরে যদি এইডস, সিফিলিস, গণোরিয়া, কুষ্ঠ বা প্লেগের মত ভয়াবহ রোগ থাকে, তবে তাদের মৃতদেহগুলোকে নিয়ে কী করা হবে তা নিয়ে মুক্তমনাদের গুরুজী কি কোন প্রেসক্রিপশন দেননি? আমি ভাবছি ঐ রোগওয়ালা মৃতদেহগুলি গুরুজীর কাছে এক্সপোর্ট করে দিব।

    1. 1.1
      পাভেল আহমেদ

      ভালো কথা বলসেন! 😛

Leave a Reply

Your email address will not be published.