«

»

Feb ২৫

“এথিয়িস্ট বাংলাদেশ” গ্রুপের একটি বক্তব্য নিয়ে আমার মন্তব্য

"এথিয়িস্ট বাংলাদেশ" গ্রুপের কভারের বক্তব্যের ১ম অংশে বলা হয়েছে-

atheist1

এগুলো যে নাস্তিকতার পক্ষে কোনো যুক্তি বা প্রমাণ হতে পারে না – এই সত্যটা নাস্তিকদের সকলে না হলেও কেউ কেউ অবশেষে উপলব্ধি করতে পারার জন্য ধন্যবাদ দিতেই হয়! yes

বক্তব্যের ২য় অংশে বলা হয়েছে-

atheist2

প্রথমত- সায়েন্টিফিক মেথড সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলেই কেবল এই ধরণের বক্তব্য দেওয়া সম্ভব। এখানে আলোচ্য বিষয় হচ্ছে গড তথা এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা। এই দুনিয়ার কোনো ল্যাবেই গডের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব প্রমাণের জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করা হচ্ছে না (নাকি হচ্ছে!), কেননা গড বিষয়টা বিজ্ঞানের আওতাভুক্তই নয়। কাজেই সায়েন্টিফিক মেথড অনুযায়ী গডের অস্তিত্বের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ চাওয়া একেবারেই অবৈজ্ঞানিক একটি দাবি।

দ্বিতীয়ত- বিজ্ঞানের ভাষায় 'something' বলতে বস্তু জাতীয় কিংবা মানুষের ধরা-ছোঁয়া বা দেখার মধ্যে কিছুকে বুঝানো হয়। এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা কোনোভাবেই বিজ্ঞানের 'something'-এর মধ্যে পড়ে না।

তৃতীয়ত- বৈজ্ঞানিকভাবে কোনো কিছুর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে না পারা মানেই প্রমাণ হয় না যে সেটির বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নাই। বিজ্ঞান কখনোই এই ধরণের উপসংহার টানে না। এভাবে উপসংহার টানলে বিজ্ঞান অচীরেই স্থবির হয়ে পড়বে, সামনে আর এগোতে হবে না।

চতুর্থত- একজনের দাবি অন্য কেউ শুনল কি-না, সেটির উপর ভিত্তি করে তার দাবি মিথ্যা বা ভুল প্রমাণ হয় না।

অতএব- নাস্তিক হওয়ার পেছনে "এথিয়িস্ট বাংলাদেশ" গ্রুপের কভারে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে সেটিই আসলে অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক। আর Burden of Proof নিয়ে এই লেখায় বিস্তারিত পাওয়া যাবে।

৩ comments

  1. 3
    এস. এম. রায়হান

    বিজ্ঞান-ভিত্তিক কোনো বিষয়ে ডক্টরেট (পিএইচডি) ডিগ্রী আছে এমন একজন নাস্তিক থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর আশা করা হচ্ছে। 'এথিয়িস্ট বাংলাদেশ' গ্রুপের কভারে আস্তিকদেরকে উদ্দেশ্য করে সায়েন্টিফিক মেথড অনুযায়ী এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার অস্তিত্বের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে এভাবে-

    If you propose the existence of something, you must follow the scientific method in your defense of its existence. Otherwise, I have no reason to listen to you.

    আমার প্রশ্ন: নাস্তিকরা সেল ফোনের মেকার থাকার দাবি বা প্রস্তাব করে কি-না? উত্তর যদি "হ্যাঁ" হয় তাহলে তাদেরকে সায়েন্টিফিক মেথড অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি সেল ফোনের মেকারের অস্তিত্বের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

  2. 2
    আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    চমৎকার জবাব রায়হান ভাই। রিসার্চ মেথোডোলজি থেকে দুএকটি কনসেপ্ট না বুঝেই ধার করে নিয়ে লে-ম্যানদের ব্যবহার করলে যা হয়, এদের অবস্থা ঠিক সেরকমই। রিসার্চ কোয়েশ্চেন সেট করারও যে কিছু প্রক্রিয়া আছে এ সম্পর্কে এরা পুরোই অজ্ঞ। ফলে কোনটা রিসার্চ কোয়েশ্চেন হতে পারে, কোন গবেষণা সায়েন্টিফিক রিয়েলম এর বাইরে এ বিষয়ে তাদের ধারণা নেই। 

    অবশ্য নাস্তিক হওয়ার জন্য অল্প জ্ঞান নিয়ে বেশী ফাঁপড়বাজিটাই বোধ হয় জরুরী(!!) 

  3. 1
    কিংশুক

    আচ্ছা নাস্তিকদের আল্লাহকে মানতে কিসে এত বাধা দেয়? যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গর্বে তারা সৃষ্টিকর্তাকে পর্যন্ত অস্বীকার করে তা কি এখনও তার এমনকি স্বাভাবিক মৃত্যুরও নিশ্চয়তা দিতে পারে? মানুষ এখন পর্যন্ত কি এমন কিছু তৈরী করেছে যার দ্বারা সে মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করে। আল্লাহর তৈরী তুচ্ছ একটি প্রজাপতি, একটা কচু গাছের সৃষ্টি রহস্য নিয়ে গবেষণা করলেও তো তার মাথা ঘুরে যাওয়ার কথা। একজন মানুষের পক্ষে পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণী, প্রতিটি উদ্ভিদ, পৃথিবীতে যা যা রয়েছে, যা যা ঘটছে তার সৃষ্টি দুরে থাক সৃষ্টিরহস্য, জীবন বৃত্তান্তও তো কোটি বছরে গবেষণা করে আয়ত্বে আনতে পারবে কিনা সন্দেহ! আর মহাবিশ্বের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সির সৃষ্টি, কার্যপ্রণালী, ধ্বংস কিভাবে কার অধীনে হয় তা কারো পক্ষেই কোনদিন পুরোপুরি অনুধাবন করাও সম্ভব নয়। কোরআন অনুযায়ী আমরা জানি যে, আল্লাহ পাকের অসীম ক্ষমতার, কুদরতের এ এক অল্প অংশ। তাঁর কুদরতের কোন সীমা পরিসীমা নেই। যে নাস্তিকরা সব কিছু বিবর্তনবাদ ও অন্যান্য থিয়োরী দিয়ে নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছে, নিজে নিজেই পরিচালিত হয়, নিজে নিজেই নিখুঁতভাবে সামঞ্জস্য রেখে হতে পারে বলে বিশ্বাস করে তাদের মানসিক সমস্যা আছে বলে মনে হয়। বাস্তব জীবন ও জগত হতে এইরকম শিক্ষা আসে কিভাবে? কয়েক দিন আগে মাওলানা তারিক জামিল (রা:) ও শফিউল্লাহ কুরাঈশীর লেখা "কে সে জন?" নামক আল্লাহ তায়ালার পরিচয় নিয়ে একটি বই পড়েছিলাম। অসাধারণ একটি বই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.