«

»

Mar ২৬

মনাব্লগে আইনস্টাইনকে নিয়ে এত মাতামাতি কেন?

অনেকেরই হয়তো ব্যাপারটা নজড়ে পড়েছে। মুক্তমনা ব্লগ-সাইটে আইনস্টাইনকে নিয়ে এ পর্যন্ত কতগুলো যে পোস্ট পড়েছে তার কোনো হিসাব নাই। এই বিশ্বের দ্বিতীয় কোনো সাইটে আইনস্টাইনকে নিয়ে এত বেশী মাতামাতি করা হয়েছে বলে মনে হয় না। এমনকি সদালাপে ইসলামের নবীকে নিয়েও এতগুলো পোস্ট আছে কি-না সন্দেহ। যেকারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- যেখানে নিউটন বা গ্যালিলিওকে নিয়ে দু-একটি পোস্টও হয়তো নেই সেখানে আইনস্টাইনকে নিয়ে এত পোস্ট আর এত মাতামাতি কেন? একজন বিজ্ঞানীকে নিয়ে এত মাতামাতির-ই বা কী আছে? এর নেপথ্যের কারণগুলো নিম্নরূপ:

১. আইনস্টাইন যদিও স্বঘোষিত নাস্তিক ছিলেন না তথাপি তাঁর কিছু উক্তি থেকে তাঁকে জোর করে 'নাস্তিক' বানিয়ে দিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে এক প্রকার 'ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেটি নিউটন বা গ্যালিলিওর ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তাছাড়া আইনস্টাইনের মতো একজন বিজ্ঞানীকে নিয়ে মাতামাতি করে অগা-মগা লোকজনকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, সেখানে 'বিজ্ঞানচর্চা' চলে। যেমন, আইনস্টাইনকে নিয়ে ড. প্রদীপ দেবের একটি লেখায় বলা হয়েছে-

বিজ্ঞানচর্চা নিজেরা করিনা তো বটেই – অন্য কেউ করলেও আমরা সহ্য করি না। বিশেষ করে আধুনিক বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পুরাতন ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে প্রশ্ন করলেই তেড়ে মারতে আসার লোকের অভাব নেই আমাদের বাংলাদেশে। রাষ্ট্রযন্ত্র আধুনিকতার মুখোশ পরে থাকে – কিন্তু মুখশ্রী বদলাতে রাজি নয় কোন ভাবেই। তাই ব্লগাররা যখন বৈজ্ঞানিক যুক্তির ধারালো চাকুতে ব্যবচ্ছেদ করে শত বছরের পুরনো সংস্কার – মোল্লারা ধর্মের নামে তলোয়ার চালায় তাদের উপর, রাষ্ট্র যোগ দেয় সাথে। এর মধ্যেও শত প্রতিকূলতা দুহাতে ঠেলে বিজ্ঞানচর্চা করে যাচ্ছেন অনেকেই। আইনস্টাইন সারাজীবন উৎসাহ দিয়েছেন এসব লড়াকু বিজ্ঞান-সৈনিকদের।

এখানে বিজ্ঞানের মোড়কে ইসলাম বিদ্বেষীদেরকে ডিফেন্ড করার জন্য খুব সুকৌশলে আইনস্টাইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মুসলিমরা নাকি বিজ্ঞানচর্চা সহ্য করে না! আধুনিক বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পুরাতন ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে প্রশ্ন করলেই তারা তেড়ে মারতে আসে! ব্লগাররা (?) বৈজ্ঞানিক যুক্তির (?) ধারালো চাকুতে (?) ব্যবচ্ছেদ করেছে শত বছরের পুরনো সংস্কার (?), আর মোল্লারা (?) তাদের উপর ধর্মের নামে তলোয়ার চালিয়েছে, রাষ্ট্রও যোগ দিয়েছে সাথে।

এই ধরণের দাবির পক্ষে প্রমাণ বা সূত্র কোথায়? প্রদীপ দেব কি স্বর্গে বসে এইসব তথ্য পেয়েছেন? একটি দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে এই ধরণের মিথ্যা প্রপাগ্যাণ্ডার পেছনে প্রদীপ দেব'দের উদ্দেশ্যই বা কী? তাছাড়া এই ধরণের মিথ্যা প্রপাগ্যাণ্ডাকে জাস্টিফাই করতে আইনস্টাইনের ঘাড়ে বন্দুক রাখা হচ্ছে কেন? আইনস্টাইন কোথায় বিজ্ঞানচর্চা-র নামে ইসলাম বিদ্বেষকে উৎসাহিত করেছেন?

২. অনেকেই হয়তো অবগত যে, আইনস্টাইনের সাথে রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎকারের ছবি-সহ একটি দার্শনিক আলোচনা আছে। এজন্য মুক্তমনাদের মধ্যে বিশেষ একটি সম্প্রদায় আইনস্টাইনকে 'আপনজন' মনে করে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়।

৩. হিন্দু পরিচালিত সাইটগুলোতে কোনো সূত্র ছাড়াই আইনস্টাইনের নামে হিন্দু ধর্মের পক্ষে কিছু উক্তি রাখা আছে। গুগলে 'Einstein quotes on Hinduism' বা 'Einstein on Hinduism' লিখে সার্চ দিলে অনেক সাইটের লিঙ্ক পাওয়া যাবে।

৪. "এথিয়িস্ট বাংলাদেশ" গ্রুপে এই পোস্টটা লক্ষ্যণীয়। এই পোস্টে আইনস্টাইনের "ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান অন্ধ, বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম খঞ্জ" উক্তিকে হিন্দু ধর্মের পক্ষে বলে দাবি করা হয়েছে, এবং সেই সাথে আইনস্টাইনকে হিন্দু ধর্মের প্যান্থিয়িস্টিক গডে বিশ্বাসীও বানিয়ে দেওয়া হয়েছে! এও বলা হয়েছে যে, আইনস্টাইন-সহ বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানীরা হিন্দু দর্শনকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলে দাবি করেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই পোস্টটি দেওয়ার পর এতদিনেও কোনো একজন নাস্তিক এসে টু-শব্দটি পর্যন্ত করেনি! ভাবখানা এমন যে, কারো নজড়েই পড়েনি! অথচ কোনো মুসলিম ব্লগার এই ধরণের পোস্ট দিলে তার উপর লাঠি-সোটা-গোচনা নিয়ে হামলে পড়া হতো, হয়েছেও। পোস্টটার একটি স্ক্রীনশট নিচে দেওয়া হলো।

nirmaldas

উপরের সবগুলো পয়েন্ট একত্রে করে একটু ভেবে দেখলেই মুক্তমনা ব্লগে আইনস্টাইনকে নিয়ে এত মাতামাতির পেছনের রহস্য উন্মোচিত হবে।

৬ comments

Skip to comment form

  1. 3
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আমার বুঝে আসে না, ধর্মের সাথে আইনস্টাইনের কি সম্পর্ক? এই বেটা আস্তিক না নাস্তিক তাতে অন্যের কি লাভ-ক্ষতি? যদি কোন সৎ ও চরিত্রবান লোক ধর্ম নিয়ে কথা/মন্তব্য করে, তাহলে অবশ্যই এর প্রাধান্যতা আসবে। আমার জানা মতে, এই বেটা ছোট বেলা থেকেই লুইচ্ছা স্বভাবের। মেলেইভা-কে তালাক দিবার জন্য যেভাবে নিজেকে জার্মান কোর্টে উপস্থাপন করেছে, এতে তার নৈতিকতার চরম নগ্নতাই প্রকাশ পায়। মেলেইভার পূর্বে ও পরে দুটু জীবনই ঘৃণ্য। 

    1. 3.1
      এস. এম. রায়হান

      আপনি ধূর্তমনাদের ফাঁদে পা দিয়েছেন। তারাও এটাই চাচ্ছে। 'এই বেটা' জাতীয় ভাষা রিচার্ড ডকিন্সের ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে আমার কোনো আপত্তি থাকত না। কিন্তু আইনস্টাইনের ক্ষেত্রে এই ধরণের ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আশা করি একটু চিন্তাভাবনা করে ভাষার প্রয়োগ করবেন।

      1. 3.1.1
        মোঃ তাজুল ইসলাম

        রায়হান ভাই,

        আমার জানা মতে, আইনস্টাইন ভাল চরিত্রের মানুষ নন। উনি আস্তিক বা নাস্তিক যাই হন, এটা তার ব্যক্তিগত ব্যপার।  কিন্তু উনাকে নিয়ে ধর্মের সাথে মিলিয়ে বা ধর্মের বিপক্ষে নিয়ে আস্তিক বা নাস্তিকেরা ফায়দা নিয়ে মাতামাতি করার কি আছে?

        আপনাকে ধন্যবাদ  ভাষা প্রয়োগের ব্যাপারে আমাকে সাবধান করার জন্য।

        1. 3.1.1.1
          এস. এম. রায়হান

          এই লেখাতে আইনস্টাইনের ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে কোনো আলোচনা আসেনি। বরঞ্চ যারা নাস্তিকতার আড়ালে আইনস্টাইনকে ঢাল বানিয়ে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে তাদের মুখোশ উন্মোচনের চেষ্টা করা হয়েছে।

  2. 2
    কিংশুক

    মুক্তমণা ব্লগ ছুপা হিন্দুত্ববাদী ব্লগ।

  3. 1
    জামশেদ আহমেদ তানিম

    মূত্রমণা গাঞ্জাখোর, আফিমখোরদের কথায় এখন কোন দাম দেই না। ওদের চরিত্র সব এক:- লুচ্চা, নেশাখোর, বিকৃত মানসিকতা। ওদের নৈতিকতা বা মানবিকতার মানদন্ডটা কি এখনো পর্যন্ত আমি বুঝতে পারলাম না। আমার জীবনে অনেক মূত্রমণা দেখেছি সবগুলাই এক কলসের পানি। আইডল হিসেবে ওরা শয়তানের দোসর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.