«

»

Apr ২৮

বাছাইকৃত কিছু লাশ নিয়ে মুক্তমনা ব্লগে নোংরা ব্যবসা

মুক্তমনা ধর্মের গুরুজীর প্রথম স্ত্রীর 'অকস্মাৎ মৃত্যু'র পর প্রায় ১২-১৪ বছর হতে চলল। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে সেই ধর্মের গুরুজীর স্ত্রীর মৃত্যুদিবস উপলক্ষে একটি পোস্টও পড়েনি, মোমবাতি-টোমবাতি জ্বালানো তো দূরে থাক! কারণ, এই মৃত্যু নিয়ে কোনো ব্যবসা করা যাবে না। তাছাড়া সংশয়বাদীদের মনে এই 'অকস্মাৎ মৃত্যু' নিয়ে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। এজন্য এই মৃত্যুর ব্যাপারটা ধামাচাপা দিয়ে রাখতে হবে, কেননা এই 'অকস্মাৎ মৃত্যু'র নেপথ্যে আছে ভিন্ন কাহিনী।

সামির মানবাদী ওরফে 'ঈশ্বরহীন' নিকের এক মুক্তমনা বামপন্থী ব্লগার মারা যেয়ে প্রায় ৩ বছর অতিবাহিত হয়েছে। অথচ আজ পর্যন্তও তার মৃত্যুদিবস উপলক্ষে একটি পোস্টও পড়ল না। কারণ, সেই যুবক আত্মহত্যা করেছিল। একজন অবিবাহিত মুক্তমনা যুবক কী কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে – এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। মুক্তমনা ধর্মের জন্য ব্যাপারটা সুখকর কিছু হবে না নিশ্চয়। কাজেই এই লাশের ব্যাপারটাও যথাসম্ভব চেপে যেতে হবে। তবে সে যদি 'ইসলামিক জঙ্গী'দের হাতে খুন হতো কিংবা তার গায়ে যদি কোনোভাবে 'ইসলামের রক্তের দাগ' দেখানো যেত তাহলে প্রতি বছর তার মৃত্যুদিবসে তাকে নিয়ে মায়াকান্না করে ডজন খানেক পোস্ট আর ব্যানার ঝুলানো হতো।

এছাড়াও প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কত-শত নিরীহ নারী-শিশু-বৃদ্ধ অমানবিকভাবে হত্যার শিকার হচ্ছে। তাদের নিয়েও মুক্তমনা ব্লগে কোনো রকম মায়াকান্না নাই কিংবা ব্যানার ঝুলানো হয় না।

এবার লক্ষ্য করে দেখুন মুক্তমনা ব্লগে কী ধরণের মৃত্যু বা লাশ নিয়ে মায়াকান্না করা হয়, আর নাস্তিক দাবিদার হয়ে মৃত লাশের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোমবাতি জ্বালানো হয়! লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যে'সকল মুসলিম নামধারী নাস্তিকের লাশ বা আক্রান্ত গায়ে 'ইসলামের রক্তের দাগ' আছে তাদের নিয়েই সেখানে মায়াকান্না চলে। প্রতি বছর তাদের মৃত্যুদিবসে মায়াকান্না করে পোস্ট আসে। যেমন: হুমায়ুন আজাদ, থাবা বাবা ওরফে রাজীব, ইত্যাদি। এক থাবা বাবাকে নিয়ে সেখানে কতগুলো পোস্ট এসেছে আর কতগুলো ব্যানার তৈরী করা হয়েছে তার কোনো হিসাব নাই, যদিও সে মুক্তমনা ব্লগে লেখালেখিই করেনি। অথচ নিবেদিতপ্রাণ মুক্তমনা সামির মানবাদী ওরফে 'ঈশ্বরহীন'কে নিয়ে এতদিনে একটি ব্যানারও তৈরী করার প্রয়োজন মনে করা হয়নি। মুক্তমনা ধর্মে সম্ভবত আত্মহত্যা হারাম! এজন্য সামির মানবাদী আত্মহত্যা করে মুক্তমনা ধর্মের নীতি লঙ্ঘন করায় সাচ্চামনাদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

পাঠক ব্যাপারটা চিন্তা করে দেখুন – কীভাবে সেখানে অতি কৌশলে বাছাইকৃত কিছু লাশ নিয়ে মায়াকান্না করা হয়। যেখানে একটি ধর্মের স্বয়ং গুরুজীর স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে কোনো খবর নাই সেখানে বাছাইকৃত কিছু ইসলাম বিদ্বেষীদের নিয়ে 'মানবতাবাদী মায়াকান্না' করা হয়! লাশ বা মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে এই ধরণের নীচু মানসিকতার ধূর্তামী শুধুমাত্র সাম্প্রদায়িক ভাইরাসে আক্রান্তদের পক্ষেই সম্ভব।

এবার 'ইসলামিক জঙ্গী'দের হাতে খুন বা আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে লেখায় বা মন্তব্যের ঘরে লক্ষ্য করলে দেখবেন সেখানে 'মায়াকান্না'র আড়ালে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। মাত্র একটি উদাহরণ হিসেবে 'ইসলামিক জঙ্গী'দের দ্বারা আক্রান্ত একজন ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী মুক্তমনা কম্যুনিস্ট নাস্তিকের একটি পোস্টে 'জিল্লুর রহমান' ছদ্মনামে অভিজিৎ রায়ের একটি মন্তব্য দেখুন-

jr

৫ comments

Skip to comment form

  1. 3
    আহমেদ শরীফ

    মনারা খুবই বিচিত্র ধরণের প্রাণী। একটা লাশ পড়লে তারা যেরকম তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানো শুরু করে তা বিস্ময়কর। মনে আছে 'থাবা বাবা' ওরফে রাজিব যে রাতে নিহত হল সে রাতেই কুখ্যাত ইসলামবিদ্বেষী সুশান্ত দাশগুপ্ত পোস্ট দিল যে তাদের ব্লগের ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে। সে নিজে দেশে থাকলে এই করত সেই করত ইতং বিতং এইসব বলে অবশেষে মুক্তমনাদের যার হাতে যা কিছু আছে তাই নিয়ে তখুনি ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে সেই পোস্টের একটি কমেন্টে সে লিখল, "আল্লাহর কসম এই মূহুর্তে দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে!"

    তো এই হইল অবস্থা। ইন্টারেস্টিং বিষয় হল তারা নামধারী মুসলিমদের লাশ নিয়ে যেভাবে কান্নার ব্যবসা করে তার বিপরীতে ছুপা হিন্দুদের নিয়ে কানাকড়িও করে না। অর্থাৎ তাদের টার্গেট তাদের মিশনই হচ্ছে মুসলিম পরিবারের মুসলিম নামধারী সেইসব সরলসিধে সন্তান যাদের বাঙ্গালিয়ানা-বাঙ্গালি সংষ্কৃতি-মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ইত্যাদির আকর্ষণে ধীরে ধীরে তাদের দীর্ঘমেয়াদি মগজধোলাই প্রকল্পের সহজ শিকারে পরিণত করা সম্ভব। আমাদের বুদ্ধিজীবি-শিল্পীসাহিত্যিকরা যেমন কোলকাতার বাবুসংষ্কৃতির বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে ৪২ বছরেও মুক্ত হতে পারেনি, সাধারণ নামধারী মুসলিম সমাজও সেরকম তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চাটুকারিতায় নিয়োজিত হতে পারলে নিজের জনম ধন্য মনে করেন। এই সুযোগে দিনে দিনে সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া ক্ষয়িষ্ণু মতাদর্শীদের কোণঠাসা নিভৃত জঙ্গলে সহজভাবে যেসব রবাহুতদের মুন্ডু চিবিয়ে খাওয়া সম্ভব তা হল এই সহজ-সরল-সাদাসিধে নামধারী মুসলিমসমাজের একাংশ। এই শিবছাগুরা এতই শঠ যে তারা আজ এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষিত মুসলিমদের দ্বারাই সাধারণভাবে ধর্মপ্রাণ-ধর্মভীরু মুসলিমদের 'ছাগু' 'পাকিস্তানি' 'জঙ্গি' ইত্যাদি গালিসমূহ দেওয়াতে সমর্থ হয়েছে। তাদের দেশে মোদীর মত সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ হিংস্র মৌলবাদি ক্ষমতায় গেলেও সে ব্যাপারে তাদের উচ্চবাচ্য নেই, বড় বড় সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা মোদীর দলে যোগ দিতে পারে ওখানে, দিলেও ধর্মান্ধ-মৌলবাদী হয়ে যায় না। অথচ আমাদের কিছু বেকুবের হদ্দ নামধারী মুসলিমদের তারা আধুনিকতা-দেশাত্মবোধের নামে ধর্মকে সবকিছু থেকে আলাদা করে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে, নিজের ধর্মকে নিজে ঘৃণা করতে, সব রকমের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ব্যঙ্গ-তাচ্ছিল্য করতে শিখিয়ে দিয়েছে। তাদের মিশনের হতভাগ্য শিকার হিসেবে মুসলিম সমাজের নতুন প্রজন্মের একটি অংশ নিজের ধর্মবিশ্বাসকে পশ্চাৎপদতা, আধুনিকতার সাংঘর্ষিক, মধ্যযুগীয় বর্বরতা হিসেবে মনে করছে।

    বিজ্ঞানমনষ্কতা-যুক্তিবাদিতা-মানবতা ইত্যকার মহান সব গুণে গুণান্বিত হওয়া সত্ত্বেও মনারা নিজেদের দেবদেবী-ভূতপ্রেতভর্তি জগাখিচুড়ি উদ্ভট ধর্মবিশ্বাস সম্মন্ধে মোটেই উচ্চকিত নয়, তাদের সমস্ত ভীতি-আতঙ্ক-ঘৃণা-বিদ্বেষ আবর্তিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে সম্প্রসারমান আধুনিক ধর্ম ইসলামকে ঘিরে -- যা তাদের আধ্যাত্মিক দেউলিয়াপনা-আত্মবিশ্বাসহীনতা-বিপন্নতাকেই প্রকট করে তোলে।

    1. 3.1
      কিংশুক

      ১০০% সহমত ভাই। ইসলাম সম্পর্কে আমরা সাধারন মুসলমানরা খুব কম জানি। বর্তমানে আধুনিকতার নামে অসংখ্য পরিবারের বাবা মায়েরাই অনৈসলামিক জীবন যাপন করে। তাদের সন্তানরা খুব সহজেই সারা পৃথিবীর ঈমান বিধ্বংসী সেক্যুলার প্রচারনার ফলে ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে যেতে পারে। যাদের মধ্যে কোরআন, হাদিস, সুন্নাহ, ইসলামের ইতিহাসের ন্যুনতম জ্ঞান আছে তারা ঐসব শয়তানের ফাঁদ হতে সহজেই রক্ষা পায় কিন্তু যাদের দ্বিনের কোন জ্ঞান নেই তারা খুব সহজেই মুক্তমণাদের দ্বারা ইসলামের নামে মিথ্যা তথ্যের দ্বারা মস্তক ধোলাই হয়ে যেতে পারে।

  2. 2
    মীযান হারুন

    @রায়হান ভাই,

    আমি কিছু বিষয় নিয়ে আপনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে চাই। কীভাবে বলবো দয়া করে আমাকে জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো। 

    1. 2.1
      এস. এম. রায়হান

      আপনার ফেবু অ্যাকাউন্ট থাকলে আমার ফেবু ইনবক্সে মেসেজ দিতে পারেন।

  3. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @রায়হান ভাই,

    এই মনার প্রথম স্ত্রী কিভাবে মারা গেলেন এবং এর কারন কি? 

Leave a Reply

Your email address will not be published.