«

»

Oct ১৮

বিবর্তন তত্ত্ব: সংশয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে [পর্ব-১]

চার্লস ডারউইনের প্রস্তাবিত বিবর্তন তত্ত্ব প্রকৃতপক্ষেই সত্য কি-না – এই বিষয়টাকে এক পাশে রেখে এই সিরিজে বিবর্তনবাদীদের দাবি ও তথাকথিত যুক্তি-প্রমাণ নিয়েই মূলত আলোচনা-সমালোচনা করা হবে। বিবর্তনবাদীদের কোটি কোটি বছর আগের “কাল্পনিক জগৎ” থেকে বাস্তব জগতে এসে যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই তাদের বিজ্ঞানের নামে অপবিজ্ঞান, কল্পকাহিনী, আর প্রতারণার গোমর ধরা পড়ে। এটা বোঝার জন্য যেমন আইনস্টাইন হওয়ার দরকার নেই তেমনি আবার আণবিক জীববিদ্যার উপর ডক্টরেট উপাধি থাকারও কোনো প্রয়োজন নেই। সামান্য বুদ্ধিমত্তা আর সাধারণ বোধ-ই যথেষ্ট।

বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী এককোষী একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে উদ্ভিদজগত-সহ পুরো জীবজগত বিবর্তিত হয়েছে। প্রজাতিগুলোর মধ্যে যেমন জলচর, স্থলচর, উভচর, ও উড়ন্ত প্রজাতি আছে তেমনি আবার স্তন্যপায়ী ও অস্তন্যপায়ী প্রাজাতিও আছে। এই বিবর্তনে স্রষ্টার যেমন কোনো ভূমিকা নেই তেমনি আবার এটি গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়ার মতোই একটি সত্য ঘটনা! তার মানে বৈজ্ঞানিক মহলে বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে সংশয়-সন্দেহ করা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা যাওয়া উচিত। আর তা-ই যদি হয় তাহলে গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়া নিয়ে কেউ সংশয় প্রকাশ করলে যেমন হাস্যকর শুনাবে তেমনি বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে কেউ সংশয় প্রকাশ করলেও নিঃসন্দেহে হাস্যকর মনে হওয়ার কথা। অথচ মজার ব্যাপার হচ্ছে বিবর্তন তত্ত্বকে গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়ার মতো সত্য বলে দাবি করার পরও এবং বৈজ্ঞানিক মহলে ইতোমধ্যে স্বীকৃতও হয়েছে বলার পরও দেখা যায় বিবর্তনবাদীরা প্রচুর পরিশ্রম করে মাটির নিচে থেকে প্রাপ্ত হাড়-হাড্ডির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ দিয়ে নিজেদের মতো ড্রয়িং করে কিছু একটা প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন! বিভিন্ন মিডিয়া জুড়ে মিশন্যারী পন্থায় রীতিমতো ক্যাম্পেন করা হচ্ছে! পাশাপাশি আবার ধর্মীয় সৃষ্টিতত্ত্বকে বাতিল করে দিয়ে নিয়মিত প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। তাহলে ঘটনা কী! অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের ক্ষেত্রে এ'রকম কিছু তো কখনো শোনা যায়নি। বড় কোনো ঘাপলা আছে নিশ্চয়!

যাহোক – সেই বিশেষ একটি ব্যাকটেরিয়া যে কোথা থেকে এলো, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে না যেয়েও বিবর্তনবাদীদের এহেন দাবিকে যেকোনো যুক্তিবাদী মানুষ স্রেফ কল্পকাহিনী বলে উড়িয়ে দেওয়ার কথা। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে: সেটাই যদি স্বাভাবিক হয় তাহলে পশ্চিমা বিশ্বের বিজ্ঞানী ও নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা এই ধরণের কল্পকাহিনীকে সত্য হিসেবে বিশ্বাস করছেন কেন? বিষয়টি নিয়ে যারা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তাভাবনা করেছেন তাদের কাছে মোটেও অস্বাভাবিক মনে হওয়ার কথা নয়। যেমন, বিভিন্ন ধর্মীয় ও আইডিওলজিক্যাল গ্রুপ যে কারণে বিবর্তন তত্ত্বে বিশ্বাস করে, কিংবা নিদেনপক্ষে বিবর্তনবাদীদের সাথে বাহাসে যেতে চায় না, তার কারণ জানাটা কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে খুব সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হলো।

নাস্তিক গ্রুপ: নাস্তিকতার যেহেতু ভিত্তি বলে কিছু নেই সেহেতু নাস্তিকদের কাছে বিবর্তন তত্ত্ব হচ্ছে ঘোর অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদের মতো কিছু একটা – যেখানে সত্য-মিথ্যা'র কোনো বালাই নেই। কাজেই তারা যেকোনো প্রকারে এই মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে।

মার্ক্সিস্ট-কম্যুনিস্ট গ্রুপ: তাদের বস্তুবাদী দর্শনের সাথে যেহেতু বিবর্তন তত্ত্ব খাপ খেয়ে গেছে সেহেতু তাদের পক্ষ থেকে কোনো রকম প্রতিবাদ-প্রতিরোধের প্রশ্নই ওঠে না। কাজেই তারাও এই মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে। প্রকৃতপক্ষে, নাস্তিক বা মার্ক্সিস্ট-কম্যুনিস্টদের মধ্যে কেউ বিবর্তন তত্ত্বের সত্যতা নিয়ে সহসা সংশয় প্রকাশ করে না। কেননা তাদের কাছে বিবর্তনবাদ একটি ধর্মের মতো হয়ে গেছে।

ইহুদী গ্রুপ: এরা মূলত নাস্তিক বা সেক্যুলারিস্ট। খুব কম ইহুদীই হয়তো পাওয়া যাবে যারা একই সাথে স্রষ্টা ও তাদের ধর্মগ্রন্থকে স্রষ্টার বাণী হিসেবে বিশ্বাস করে। অধিকন্তু, একদিকে তাদের ধর্মগ্রন্থের কিছু অসারতা আর অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক কারণে তারা বিবর্তনবাদীদের সাথে সহজে বিতর্কে যায় না।

চাইনিজ-জ্যাপানিজ-কোরিয়ান গ্রুপ: এরা মূলত বস্তুবাদী ও প্রকৃতির উপাসক। এরা অনেক ধরণের কুসংস্কারে বিশ্বাস করলেও স্রষ্টায় বিশ্বাস করে না বললেই চলে। ফলে এদের পক্ষ থেকেও তেমন কোনো প্রতিবাদ আশা করা যায় না।

বৌদ্ধ-জৈন গ্রুপ: যদিও বৌদ্ধ-জৈন ধর্মাবলম্বীরা স্রষ্টায় বিশ্বাস করে না তথাপি তারা আত্মা, মৃত্যুপরবর্তী জীবন, স্বর্গ-নরক, ও জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস করে! কিন্তু স্রষ্টা ছাড়া মৃত্যুপরবর্তী জীবন ও পাপ-পূণ্যের উপর ভিত্তি করে জন্মান্তরবাদ যে কী করে সম্ভব, কে জানে! যাহোক, তারা যেহেতু স্রষ্টার অস্তিত্বেই বিশ্বাস করে না সেহেতু জন্মান্তরবাদকে ব্যাখ্যার জন্য তাদের কাছে নাস্তিক্য দর্শন 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে কোনো রকম সংশয়-সন্দেহ কিংবা বাক-বিতণ্ডাতে না যেয়েই তারা বিবর্তনবাদীদের দাবিকে লুফে নিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে বিবর্তনবাদের সাথে জন্মান্তরবাদের যৌক্তিক কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন, বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী বিবর্তনবাদ হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে শারীরিক বিবর্তন – যার সাথে আত্মার কোনো সম্পর্ক নেই – এবং এই বিবর্তন মূলত অগ্রগামী তথা উন্নতিশীল। অন্যদিকে জন্মান্তরবাদ হচ্ছে পাপ-পূণ্যের উপর ভিত্তি করে আত্মার বিবর্তন – উন্নতি কিংবা অবনতি যেকোনোটি হতে পারে – অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবনতিই হওয়ার কথা – এবং সর্বোপরি জন্মান্তরবাদ হচ্ছে জন্ম-মৃত্যুর একটি চক্র। অতএব, দেখা যাচ্ছে যে, বিবর্তনবাদ ও জন্মান্তরবাদ দুটি সাংঘর্ষিক মতবাদ হওয়া সত্ত্বেও বৌদ্ধ-জৈন ধর্মাবলম্বীরা বিবর্তনবাদকে জন্মান্তরবাদের ব্যাখ্যা হিসেবে বিশ্বাস করে!

হিন্দু গ্রুপ: হিন্দুরাও জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী। তবে ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তাদের মধ্যে মূলত দুটি গ্রুপ আছে: স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসী গ্রুপ এবং সর্বেশ্বরবাদ তথা প্যান্থিইজমে বিশ্বাসী গ্রুপ। দ্বিতীয় গ্রুপ আসলে প্রকৃতিকেই ঈশ্বর হিসেবে উপাসনা করে। ফলে দ্বিতীয় গ্রুপের পক্ষ থেকে বিবর্তনবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না আসাটাই স্বাভাবিক। যৎসামান্য যে প্রতিবাদ আসে সেটা মূলত সৃষ্টিতত্ত্বে বিশ্বাসী গ্রুপ থেকে যাদের সংখ্যা খুবই নগন্য। তাদের মধ্যে কিছু কট্টর সমালোচকও আছেন যারা চার্লস ডারউইনকে মূর্খ ও অবিজ্ঞানী বলেন। বিবর্তন তত্ত্ব আসলে হিন্দু ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্বের সাথে সরাসরি ও পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।

Like fundamentalist Christians and Jews, they dismiss evolution. Unlike the latter, who believe the world has existed only six to ten thousand years, fundamentalist Hindus believe it has been going for billions and billions of years – far more than geology allows, in fact. And human beings, and indeed all living creatures, have been here all along. [Source]

Michael Cremo is a member of ISKCON who wrote Human Devolution: A Vedic alternative to Darwin's theory, published by ISKCON's Bhaktivedanta Book Publishing, which holds the view that man has existed on the earth in modern form far longer than that offered by the currently accepted fossil evidence and genetic evidence. Cremo suggests that Darwinian evolution should be replaced with "devolution" from the original unity with Brahman. [Source]

তথাপি কিছু কিছু কারণে হিন্দুরা অনেকটাই চেপে যাওয়া নীতি অনুসরণ করে। যেমন: তাদের ধর্ম অনুযায়ী মানুষকে অতিপ্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে (ব্রহ্মার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে চার প্রকার মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে যেটিকে বিজ্ঞান বা বিবর্তন তত্ত্ব দিয়ে কোনো ভাবেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়); তাদের ধর্ম যেহেতু অসংখ্য ধর্মগ্রন্থ ও সাংঘর্ষিক বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে সেহেতু তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস তেমন জোরালো নয়; তারা অনেক ক্ষেত্রেই পশ্চিমা বিশ্বের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে; বিবর্তনবাদকে যেহেতু খ্রীষ্ট ধর্ম ও ইসলামের বিরুদ্ধেই দেখানো হয় সেহেতু তারা তেমন একটা প্রতিক্রিয়া দেখায় না। অতএব, সার্বিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে তেমন কোনো প্রতিরোধ না আসাটাই স্বাভাবিক।

খ্রীষ্টান গ্রুপ: বিবর্তন তত্ত্বকে প্রাথমিকভাবে বাইবেলের সৃষ্টি তত্ত্বের বিপরীতেই দাঁড় করানো হয়েছিল। কিন্তু ডারউইনের মৃত্যুর অনেক পর সেটিকে ইসলামের বিরুদ্ধেও দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিবর্তন তত্ত্বের সাথে মূল দ্বন্দ্ব হচ্ছে খ্রীষ্টানদের। কিন্তু বাইবেল ও খ্রীষ্টানদের বিশ্বাসের মধ্যে গুরুতর কিছু সমস্যার কারণে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করেও বিবর্তনবাদীদের সাথে সেভাবে পেরে উঠছে না। কেননা খ্রীষ্টান স্কলাররা বিবর্তনবাদের অসারতার দিকে ইঙ্গিত করার সাথে সাথে বিবর্তনবাদীরাও খ্রীষ্টানদের বিশ্বাসের অসারতার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে। এজন্য খ্রীষ্টানদেরকে অনেকটাই চাপের মুখে থাকতে হয়। যদিও আজ পর্যন্তও তাদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রতিরোধ আছে তথাপি তাদের বিশ্বাসের অসারতার কারণে সেটি খুব বেশীদিন টিকে থাকতে পারবে বলে মনে হয় না। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিবর্তন তত্ত্বের বিপরীতে আইডি (Intelligent Design) প্রস্তাব করেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারছেন না।

মুসলিম গ্রুপ: মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা বিবর্তনবাদের দিকে ঝুঁকছে তাদেরকে মূলত দুটি গ্রুপে ভাগ করা যায়-

স্বঘোষিত নাস্তিক গ্রুপ: ব্যতিক্রম ছাড়া এদের সবার মন-মগজ কোনো-না-কোনো মহল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এদের নিজস্বতা ও ব্যক্তিত্ববোধ বলে কিছু থাকে না। ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যায় অথবা নিদেনপক্ষে যেতে পারে বলে মনে হয় – এই ধরণের যেকোনো ময়লা-আবর্জনাকে এরা খুব সহজেই গিলে ফেলে! ফলে এরা যে অন্ধভাবে বিবর্তন তত্ত্বে বিশ্বাস করবে তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। সারা পৃথিবী জুড়ে দু-এক জন মুসলিম নামধারী নাস্তিককেও খুঁজে পাওয়া যাবে কি-না সন্দেহ, যে বা যারা বিবর্তন তত্ত্বের সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে!

পশ্চিমা বিশ্বে প্রবাসী গ্রুপ: এদের মধ্যে কেউ কেউ পশ্চিমা বিশ্বে যেয়ে ‘নতুন জীবন’ পাওয়ার পর ইসলামের প্রতি অনীহা প্রকাশ করা শুরু করে দেয় এবং সেই সাথে পশ্চিমা বিশ্বের আপাতদৃষ্টিতে ‘জৌলুস’ দেখে কিছুটা হীনমন্যতায়ও ভোগে। অন্যদিকে আবার ইসলাম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকায় এদেরকে কুপোক্যাত করতে তেমন একটা বেগ পেতে হয় না। ‘বিজ্ঞান ও আধুনিকতা’-র নামে চালিয়ে দিলেই হলো! ব্যাস! এদের মধ্যে অধিকাংশই আবার কোরান-অনলি ও আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য।

অপরদিকে মুসলিমরা সার্বিকভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকার কারণে তাদের পক্ষ থেকেও বিবর্তনবাদের বিরুদ্ধে উল্লেখ করার মতো জোরালো কোনো প্রতিরোধ নেই।

পাঠক এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন সঙ্গত কারণেই নাস্তিক গ্রুপ, মার্ক্সবাদী-কম্যুনিস্ট গ্রুপ, বৌদ্ধ-জৈন গ্রুপ, ও চাইনিজ-জাপানিজ-কোরিয়ান গ্রুপ থেকে বিবর্তন তত্ত্বের বিরুদ্ধে কোনো রকম প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আসবে না। সঙ্গত কারণে উচ্চ শিক্ষিত ও যুক্তিবাদী ইহুদী-খ্রীষ্টান গ্রুপ থেকে যৎসামান্যই প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আসতে পারে। সুবিধাবাদী হিন্দু গ্রুপ থেকেও তেমন একটা প্রতিরোধ আশা করা যায় না। অথচ “পশ্চিমা বিশ্বের বিজ্ঞানী ও নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক” বলতে মূলত তারাই! বিবর্তনবাদীদের প্রচারিত অপবিজ্ঞান আর কল্পকাহিনীকে তারা কেন বিশ্বাস করে – তার যৌক্তিক একটি কারণ এতক্ষণে পরিষ্কার হওয়ার কথা। আরো কিছু যৌক্তিক কারণও আছে। যেমন:

– মুসলিম-অধ্যুষিত কোনো দেশে কেউ প্রকাশ্যে নিজেকে 'ইসলাম-বিরোধী' ঘোষণা দিলে যেমন অবস্থা হতে পারে, পশ্চিমা বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও অনুরূপ একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে যেখানে কেউ নিজেকে 'বিবর্তন-বিরোধী' ঘোষণা দেওয়ার সাথে সাথে তাকে নিয়ে বিভিন্নভাবে উপহাস-বিদ্রুপ আর হেয় করা শুরু হয়ে যায়। এমনকি বাংলা অন্তর্জালেও একই ধরণের উগ্র মনোভাব পরিলক্ষিত হয়।

– বিবর্তনবাদকে বিজ্ঞানের মোড়কে ধর্মের বিরুদ্ধে ‘আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতা’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

– রিচার্ড ডকিন্স, ড্যান ডেনেট, স্যাম হ্যারিস, ও ক্রিস্টোফার হিচেন্সের মতো পশ্চিমা বিশ্বের জনপ্রিয় নাস্তিক ও তাদের ভক্তরা অনেকদিন ধরেই ধর্মকে সাধারণভাবে এবং জুদায়ো-খ্রীষ্টান-ইসলামকে বিশেষভাবে সকল প্রকার ইভিল-এর জন্য দায়ি করে আসছেন। ফলে তাদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে ধর্মের প্রতি অনীহা প্রকাশ করেও কেউ কেউ বিবর্তনবাদের দিকে ঝুঁকছেন।

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব: সংশয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে [পর্ব-২]

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব: সংশয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে [পর্ব-৩]

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব: সংশয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে [পর্ব-৪]

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব: সংশয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে [পর্ব-৫]

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব: সংশয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে [পর্ব-৬]

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব: সংশয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে [পর্ব-৭]

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব: সংশয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে [পর্ব-৮]

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব: সংশয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে [পর্ব-৯]

১ comment

  1. 1
    এস. এম. রায়হান

    "প্রকৃতির বৈচিত্র্য: বিবর্তনবাদীদের নাইটমেয়ার" শিরোনামে আরো ১০-পর্বের সিরিজ পড়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.