«

»

May ১৯

“বিবর্তন-প্রীতি”র আড়ালে ড. প্রদীপ দেবের অসততা

প্রথমে ড. অজয় রায়ের লেখা থেকে 'মুক্তমনা' ড. প্রদীপ দেবের অ্যাকাডেমিক পরিচয়টা জেনে নেওয়া যাক-

শুনেছি প্রদীপ অস্ট্রেলিয়বাসী ও চিকিৎসা পদার্থবিদ্যাচর্চায় কর্মরত RMIT বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে। ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় বিএসসি (অনার্স) এবং এমএসসি করেছে যথাক্রমে ১৯৯২ ও ১৯৯৩ সালে। পিএইচডি করে ২০০১ সালে একই বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে; পরে ২০০৭ সালে কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল ফিজিক্সে 'MAppSc' করেছে।

পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পারছেন ড. প্রদীপ দেব কোনো টম-ডিক বা যদু-মদু জাতীয় কেউ না। তাছাড়া প্রদীপ দেবের অধিকাংশ লেখাই বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের নিয়ে। স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই যে, তার লেখার হাতও খুবই ভালো। কিন্তু তাই বলে বিজ্ঞানের মোড়কে তার মিথ্যাচার আর সাম্প্রদায়িক মানসিকতা বৈধতা পায় না নিশ্চয়। তাতে বরং এটাই প্রমাণ হয় যে, বিজ্ঞানে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে এবং পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেও প্রদীপ দেব'দের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয় না। এটাকে এক ধরণের ভাইরাস বলা যাবে কি-না, কে জানে।

যাহোক, ড. প্রদীপ দেবের এ পর্যন্ত ৮২টি পোস্টের মধ্যে বিবর্তন তত্ত্বকে যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে ডিফেন্ড করে একটিও লেখা নাই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, প্রদীপ দেবের স্বগোত্রীয় মুক্তমনা গ্রুপের আরো তিন-চার জন ডক্টরেট ডিগ্রীধারী লেখকেরও বিবর্তন তত্ত্বকে যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে ডিফেন্ড করে স্বতন্ত্র কোনো লেখা নাই। তবে 'বিবর্তন-প্রেমী' সেজে বিবর্তন তত্ত্বকে ডিফেন্ড করার নামে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের প্রপাগ্যাণ্ডামূলক বা বিদ্বেষপূর্ণ অনেক পোস্ট ও মন্তব্য আছে। প্রদীপ দেবও ঠিক একই কাজ করেছেন।

প্রদীপ দেব 'বিবর্তন'-কে শিরোনাম বানিয়ে একটিমাত্র পোস্টে কোনো সূত্র ছাড়াই প্রায় ৩০-৩২ বছর আগের তার একজন স্কুল শিক্ষকের নামে বানোয়াট একটি উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করে, পরবর্তীতে কোনো সূত্র ছাড়াই শিবির ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে প্রায় ২০-২২ বছর আগের একটি অপ্রীতিকর ঘটনার কথা উল্লেখ করে, অত্যন্ত সুকৌশলে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রপাগ্যাণ্ডা ছড়িয়েছেন। প্রদীপ দেবের লেখার শুরুটা দেখুন-

pdeb1

প্রদীপ দেব তার 'আবু মির্জা' স্যারের নামে উপরোল্লেখিত উদ্ধৃতি দিয়ে উপসংহার টেনেছেন এভাবে-

স্কুলগুলোতে ‘আবু মির্জা’র মত শিক্ষকের অভাব নেই। সুতরাং এটা বুঝা যায় যে বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ের কোন শিক্ষার্থীর পক্ষে স্কুলের পড়া থেকে বিবর্তন-বাদ সম্পর্কে কিছুই জানা সম্ভব নয়।

প্রথমত- একজন ডক্টরেট ডিগ্রীধারী ও পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে লেখায় বাংলাদেশের স্কুলের একজন ইংরেজী শিক্ষকের নামে আঞ্চলিক ভাষায় উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করা হয়েছে!!! তাও আবার প্রদীপ দেবের বর্তমান বয়স অনুযায়ী প্রায় ৩০-৩২ বছর আগের কথা!! ৩০-৩২ বছর আগের এতগুলো কথা কারো পক্ষে কি হুবহু মনে রাখা সম্ভব? এই ধরণের নীচু মানসিকতার ধূর্তামী কোনো বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানমনস্ক কেউ করতে পারেন না।

দ্বিতীয়ত- প্রদীপ দেবের দাবি অনুযায়ী ক্লাস সেভেন থেকে নাইন পর্যন্ত তার ইংরেজী শিক্ষক 'আবু মির্জা'র মুখ থেকে তাকে "হারামজাদা, বানরের পেটে জন্ম নেয়া শূকরের বাচ্চা" জাতীয় গালিগালাজ শুনতে হয়েছে। প্রদীপ দেবের এই দাবি শুনে একমাত্র ভেড়ার পাল ছাড়া যেকারো মনে প্রশ্ন জাগবে- প্রদীপ দেব কি আসলেই বাংলাদেশী? নাকি উনি স্বর্গে (অস্ট্রেলিয়া?) বসে বাংলাদেশ নিয়ে কাহিনী ফেঁদে তার ভেড়ার পালকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন? পাঠক! প্রায় ৩০-৩২ বছর আগের কথা! সেই সময় বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ে তো দূরে থাক, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও বিবর্তনবাদ নিয়ে বিতর্ক কিংবা বিবর্তনবাদ সম্পর্কে তেমন কেউ অবগত ছিল কি-না সন্দেহ। অথচ সেই সময় স্কুলের একজন ইংরেজী শিক্ষক (!) তার ক্লাসে প্রদীপ দেবকে "হারামজাদা, বানরের পেটে জন্ম নেয়া শূকরের বাচ্চা" বলে ক্লাস সেভেন থেকে নাইন পর্যন্ত গালি দিয়েছেন! প্রদীপ দেব বলেছেন, এজন্য বাকি সবাইকে বিশ্বাস করতে হবে। কেননা প্রদীপ দেব'দের বাণী মানে দেবতার বাণী।

এরপর বাংলাদেশের স্কুল-পর্যায়ে ধর্মশিক্ষা কেন বাধ্যতামূলক, বিবর্তনবাদশিক্ষা কেন বাধ্যতামূলক নয় – এ নিয়ে ক্ষোভ দেখানো হয়েছে। ঠিক তার পরেই শিবির ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে প্রায় ২০-২২ বছর আগের একটি কাহিনী ফেঁদে বলা হয়েছে-

শিবিরের রাজত্বকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সত্যিকারের অন্ধকারের যুগ নেমে এসেছিল। আর সেই আঁধার সময়েই পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হুজ্জোত আলী প্রামাণিক লিখলেন “Religious and Scientific views of the Universe”। সেই সময়ে প্রামাণিক স্যারের সংস্পর্শে এসে বিবর্তনবিদ্যা সহ আরো অনেক আলোকিত দরজা খুলে যায় আমার। তখন স্বাভাবিকভাবেই বইটি প্রকাশ করতে রাজী হয়নি ইউনিভার্সিটি প্রেস কিংবা অন্য কোন প্রকাশক। কিন্তু দুঃসাহসী প্রামাণিক স্যার দমে যাবার পাত্র নন। তিনি তিন-দিন ব্যাপী এখলাস উদ্দিন স্মারক বক্তৃতা’র বিষয় নির্বাচন করলেন “Religious and Scientific views of the Universe”। তখন দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ডীন থেকে শুরু করে আরো অনেক “বিজ্ঞানী”র বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার নামে মারমুখী বিজ্ঞান-ধর্ষণ। বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও উপাত্ত দাখিল করে প্রামাণিক স্যার ব্যাখ্যা করলেন কোরান বা বাইবেলে বর্ণিত সৃষ্টিতত্ত্ব কেন ভুল, ন্যূহের বন্যা কীভাবে অসম্ভব, জীব-জগত ‘সৃষ্টি’ হয়নি- বিবর্তনের ফলে ‘উৎপন্ন’ হয়েছে। বক্তৃতার দ্বিতীয় দিন শিবিরের ছেলেরা স্যারের হাত কেটে নেবে বলে হুমকি দিলো। স্যার হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে বক্তৃতা দিলেন। শেষের দিন বক্তৃতা-কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়া হলো। স্যারের বাসার সামনে বোমা পড়লো। প্রক্টর এসে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখার স্বার্থে বক্তৃতা-মালার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করলেন। সৃষ্টিবাদীদের পেশির দাপট তখনো ছিল- এখনো আছে।

উপরে শিবিরের নামে একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তার সাথে প্রেসিডেন্ট বুশকে জড়িয়ে সৃষ্টিবাদীদের (?) সম্পর্কে ঢালাওভাবে বলা হয়েছে-

একটা ব্যাপার সবসময় চোখে পড়ে – সেটা হলো ধর্মবাদী সৃষ্টিবাদীদের অসহিষ্ণুতা, গোয়ার্তুমি। তারা যে ধর্মশিক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের একেবারে শিশুবয়স থেকেই যতসব গাঁজাখুরি অবৈজ্ঞানিক মিথ্যা-কথা [7-9] শেখাতে শুরু করেন তাতে যুক্তিবাদী বিজ্ঞান-মনস্কদের গাত্রদাহ হলেও তারা কিন্তু কাউকে তেড়ে মারতে আসেন না, ধর্মশিক্ষার বই ছিঁড়েও ফেলেন না বা নিষিদ্ধ করার দাবীও তোলেন না। অথচ সৃষ্টিবাদীদের দেখুন- কার্যকরী বিবর্তনতত্ত্বকে ঠেকানোর জন্য এমন কোন হীন কাজ নেই যা তারা করেন নি বা করার চেষ্টা করেন নি। মধ্যযুগীয় পেশিশক্তির দাপট যেখানে অচল সেখানে ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন নামক অপবিজ্ঞান চালু করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। সেই অপচেষ্টায় শরিক হয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বুশ থেকে শুরু করে আরো অনেক উচ্চশিক্ষিত অপবিজ্ঞানী। (বিস্তারিত তথ্যের জন্য পড়ুন বিবর্তনের পথ ধরে [1]-র দশম অধ্যায়)।

প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের স্কুল-পর্যায়ে বিবর্তনবাদ শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রদীপ দেব'রা এত মরিয়া কেন? স্কুল-পর্যায়ে বিবর্তনবাদ শিক্ষা দেওয়ার সাথে প্রদীপ দেব'দের স্বার্থটা কী? প্রদীপ দেব'দের স্বার্থ তার উপরোল্লেখিত বক্তব্য থেকেই অবশ্য পরিষ্কার। তার দাবি অনুযায়ী ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্ব গাঁজাখুরি ও অবৈজ্ঞানিক মিথ্যা-কথা, বিবর্তন তত্ত্ব কোরান ও বাইবেলে বর্ণিত সৃষ্টিতত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করেছে, ইত্যাদি। কাজেই প্রদীপ দেব'রা স্কুল-পর্যায়ে বিবর্তনবাদ শিক্ষা দিয়ে মুসলিম তরুণদেরকে নাস্তিকতায় ধর্মান্তকরণের পথ সুগম করতে চান।

তাহলে দেখা যাচ্ছে বিবর্তনবাদ নিয়ে জীবনে একটিমাত্র লেখার শুরুতেই ড. প্রদীপ দেব চরম অসততা আর অবিজ্ঞানমনস্কতার পরিচয় দিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মুসলিম) শিক্ষকদেরকে সাম্প্রদায়িক ও অজ্ঞ-মূর্খ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। তারপর শিবিরের ঘাড়ে বন্দুক রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে প্রায় ২০-২২ বছর আগের একটি কাহিনী ফেঁদে সুকৌশলে 'সৃষ্টিবাদী'দের নামে মুসলিমদেরকে অসহিষ্ণু, গোঁয়ার, অসৎ, মধ্যযুগীয় মানসিকতার, বিজ্ঞান-ধর্ষক, ইত্যাদি প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রদীপ দেব'রা আসলে এই ধরণের উদ্দেশ্যমূলক লেখার শুরুতেই 'মৌলবাদী মুসলিম'দের নামে সূত্র-বিহীন অপ্রীতিকর ঘটনার উদাহরণ দিয়ে পাঠকদেরকে 'কনভিন্সড' করার চেষ্টা করেন। তারপর তাদের গাঞ্জাখুরি মতবাদ গেলানোর চেষ্টা করা হয়।

তো দেখা যাক এতক্ষণ ধরে পাঠকদেরকে 'কনভিন্সড' করার পর বিবর্তনবাদ নামক ঠাকুর্মার ঝুলির পক্ষে ড. প্রদীপ দেব কী ধরণের প্রমাণ দিয়েছেন। প্রদীপ দেব বলেছেন-

ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের হাজারো প্রমাণ ছড়িয়ে আছে অস্ট্রেলিয়ার আনাচে কানাচে।

বাপরে বাপ! অস্ট্রেলিয়ার আনাচে কানাচে বিবর্তন তত্ত্বের হাজারো প্রমাণ ছড়িয়ে আছে! এ জীবনে হয়তো প্রদীপ দেবের স্বর্গরাজ্য অস্ট্রেলিয়াতে যাওয়া হবে না, আর বিবর্তন তত্ত্বের কোনো প্রমাণ দেখার সৌভাগ্যও হবে না! এরপর প্রদীপ দেব 'প্রমাণ' দিয়েছেন এভাবে-

মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রকান্ড একটা দ্বীপ হওয়ার কারণে পুরু দ্বীপটাই হয়ে ওঠেছে বিবর্তনের পরীক্ষাগার। এতবড় দ্বীপটার আবহাওয়া বিচিত্র। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মরুভূমি এখানে। নানারকম আবহাওয়ার সাথে টিকে থাকার জন্য এখানে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিবর্তন ঘটেছে অনেক। মাত্র কয়েক প্রজাতির ইউক্যালিপ্টাস থেকে বিবর্তিত হতে হতে এখন প্রায় আটশ’ প্রজাতির ইউক্যালিপ্টাস বা গাম ট্রি পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ায়। এদের মধ্যে আছে নিচু এলাকায় নদীর পানিতে টিকে থাকা ‘রেড রিভার গাম’, একদম শুকনো বালিতে টিকে থাকা ‘হোয়াইট গাম’, বরফের মধ্যে টিকে থাকা ‘স্নো গাম’। গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড উত্তাপে প্রায়ই আগুন লেগে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় মাইলের পর মাইল ইউক্যালিপ্টাসের বন। কিছুদিন পর দেখা যায় সেই পোড়া গাছ থেকেই জন্ম নিচ্ছে নতুন গাছ। প্রতিকূল পরিবেশের সাথে টিকে থাকার জন্য জিন-গত পরিবর্তন ঘটে চলেছে এ গাছগুলোর মধ্যে।

অস্ট্রেলিয়ায় বিবর্তন তত্ত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো অস্ট্রেলিয়ান খরগোশের উৎপত্তি। ইউরোপিয়ানরা এসে ঘাঁটি করার আগপর্যন্ত কোন ধরনের খরগোশ ছিল না অস্ট্রেলিয়ায়। মাত্র বারোটি খরগোশ নিয়ে ইংল্যান্ড থেকে ভিক্টোরিয়ায় এসেছিলেন এক ইংরেজ পরিবার ১৮৫৯ সালে। কয়েক বছরের মধ্যেই Oryctolagus cuniculus প্রজাতির এই বারোটি খরগোশ দ্রুত বংশবিস্তার করতে থাকে। বছরে প্রায় একশ’ কিলোমিটার হারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পড়তে ১৮৮৬ সালের মধ্যেই ভিক্টোরিয়া থেকে সাউথ অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত পৌঁছে গেলো হাজার হাজার খরগোশ। ১৯০৭ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লো কয়েক কোটি খরগোশ। গাছ-পালা ফলমূল শাকসব্জি সব চলে যেতে শুরু করলো খরগোশের পেটে। মেরে, কেটে, বিষ দিয়ে- যত ধরণের পদ্ধতি জানা ছিলো সব প্রয়োগ করেও কিছুতেই কিছু করা গেলো না। খরগোশের সংখ্যা বেড়েই চললো।

পাঠক! বিজ্ঞানে ডক্টরেটধারী ও পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষকের মুখ থেকে বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে 'প্রমাণ' দেখুন! ইউক্যালিপ্টাস থেকে ইউক্যালিপ্টাসের বিবর্তন! খরগোশ থেকে খরগোশের বিবর্তন! মানে তালগাছ থেকে তালগাছের বিবর্তন কিংবা বিড়াল থেকে বিড়ালের বিবর্তন আরকি! এই হচ্ছে ড. প্রদীপ দেবের স্বর্গরাজ্য অস্ট্রেলিয়াতে ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের হাজারো প্রমাণ!

আচ্ছা, প্রদীপ দেব যে ইউক্যালিপ্টাস থেকে ইউক্যালিপ্টাসের বিবর্তন (?) এবং খরগোশ থেকে খরগোশের বিবর্তন (?) এর কথা বলেছেন – সেগুলোকে কি এই দুনিয়ার কোনো সৃষ্টিবাদী অস্বীকার করে? নিশ্চয় না। অধিকন্তু, এগুলো কি বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে কোনো প্রমাণ? পাগোল নাকি! প্রদীপ দেবের মাথায় ঘিলু বলে কিছু থাকলে তার বুঝা উচিত ছিল যে, এগুলোই যদি বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে প্রমাণ হতো তাহলে আমরা-সহ এই দুনিয়ার এত মানুষ এই তত্ত্বকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবে কেন! আসল কথা হচ্ছে প্রদীপ দেব'দের মাথায় এ যুগেও 'ব্রাহ্মণবাদী চিন্তাধারা' কাজ করে। তাদের চিন্তাভাবনা এ'রকম-

ওসব আদিল-টাইপের নিম্ন শ্রেণীর প্রজাতিরা আর কী বুঝবে! তারা না বোঝে বিজ্ঞান, না বোঝে যুক্তি, না বোঝে তাদের ধর্ম! এজন্য আমরা ধর্ম ও বিজ্ঞানের নামে যা কিছুই বলি না কেন – তাতেই তারা চোখ-কান বুজে বিশ্বাস করবে! আমরা যদি বলি তাদের ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্ব গাঁজাখুরি ও অবৈজ্ঞানিক মিথ্যা-কথা, বিবর্তন তত্ত্ব কোরান ও বাইবেলে বর্ণিত সৃষ্টিতত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করেছে, আমরা বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে সব সময় পকেটে করে প্রমাণ নিয়ে চলাফেরা করি, আমাদের স্বর্গরাজ্যে বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে হাজারো প্রমাণ রাখা আছে, ইত্যাদি, ইত্যাদি – তাতেই তারা বিশ্বাস করবে!

প্রদীপ দেব'রা যে ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন, তাতে বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনীর পক্ষে এগুলোকেই তাদের কাছে 'প্রমাণ' মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাতে অবশ্য কারো কোনো সমস্যাও থাকার কথা নয়। কিন্তু এই প্রজাতির কিছু অতি ধূর্ত যখন লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে 'বিবর্তন-প্রেমী' ও 'বিজ্ঞানমনস্ক' সেজে চরম অসততার আশ্রয় নিয়ে উল্টোদিকে মুসলিমদেরকে বিভিন্নভাবে হেয় করার চেষ্টা করে তখন তাদেরকে উন্মোচন করা নৈতিক ও মানবিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে যায়।

প্রদীপ দেবের লেখার উপর ভিত্তি করেই কিছু প্রশ্ন রাখা হলো:

– প্রদীপ দেবের ইংরেজী শিক্ষক 'আবু মির্জা' ঠিক কী কারণে তাকে ক্লাস সেভেন থেকে নাইন পর্যন্ত "হারামজাদা, বানরের পেটে জন্ম নেয়া শূকরের বাচ্চা" বলে গালি দিয়েছেন?

– বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে 'আবু মির্জা'র কথায় ঠিক কী ভুল ছিল? আর দ্বিজেন শর্মার লেখা পড়ে সেই ভুল কীভাবে ভেঙ্গেছে? এই দুটি বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে কি?

– কিছুদিন আগে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেসিস্ট ইউজিন ম্যাকার্থির বরাত দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় একটি খবর বেরিয়েছে। সেই খবর অনুযায়ী পুরুষ শুয়োর আর স্ত্রী শিম্পাঞ্জির মিলনের ফলেই পৃথিবীতে মানুষ এসেছিল। অথচ আজ থেকে ৩০-৩২ বছর আগে প্রদীপ দেবের 'আবু মির্জা' স্যার হুবহু এই কথাই বলেছেন! প্রদীপ দেব এই খবরটা চেপে গেছেন কেন? এ ব্যাপারে তার মতামতই বা কী?

– ইসলামের সৃষ্টিতত্ত্ব কীভাবে "গাঁজাখুরি ও অবৈজ্ঞানিক মিথ্যা-কথা" – এর পক্ষে কোরআন থেকে প্রমাণ-সহ সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে কি?

– বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী বিবর্তন হতে কোটি কোটি বছর সময় লাগে – অর্থাৎ বিবর্তন কোনোভাবেই পর্যবেক্ষণযোগ্য নয়। অন্যদিকে প্রদীপ দেবের দাবি অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার আনাচে কানাচে বিবর্তন তত্ত্বের হাজারো প্রমাণ ছড়িয়ে আছে। একই সাথে দুটি সাংঘর্ষিক দাবি কীভাবে সত্য হতে পারে?

– অস্ট্রেলিয়ার আনাচে কানাচে বিবর্তন তত্ত্বের 'হাজারো প্রমাণ' নিয়ে বৈজ্ঞানিক জার্নালে কোনো পেপার প্রকাশ করা হয়েছে কি-না? হয়ে থাকলে রেফারেন্স দেওয়া যাবে কি?

– বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষিত মুসলিমরাই যদি বিবর্তন তত্ত্ব না বোঝে, এবং প্রদীপ দেবের দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কুলগুলোর অধিকাংশ শিক্ষক যদি 'আবু মির্জা'র মতো হয়, তাহলে বাংলাদেশের হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারা বিবর্তন তত্ত্ব শিক্ষা দেবে? আর সেক্ষেত্রে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরাই বা বিবর্তন তত্ত্ব বুঝবে কী করে?

১০ comments

Skip to comment form

  1. 8
    এস. এম. রায়হান

    ড. প্রদীপ দেবের জবাবের অপেক্ষায় আছি…

  2. 7
    Saptarshi

    পুরুষ শুয়োর আর স্ত্রী শিম্পাঞ্জির মিলনের ফলেই পৃথিবীতে মানুষ এসেছিল — If its proven its good, any truth is good and truth is sometimes stranger than friction!

    1. 7.1
      এস. এম. রায়হান

      কথা তো সেটাই। সত্য হলে তো মেনে নিতেই হবে। কিন্তু বিবর্তনবাদী (!) ড. প্রদীপ দেব তার 'আবু মির্জা' স্যারের কথাকে বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে 'সাম্প্রদায়িক আক্রমণ' হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ক্যামনে কী!

  3. 6
    এস. এম. রায়হান

    পাঠক! প্রদীপ দেবের দাবি অনুযায়ী ক্লাস সেভেন থেকে নাইন পর্যন্ত তার ইংরেজী শিক্ষক 'আবু মির্জা'র মুখ থেকে তাকে "বানরের পেটে জন্ম নেয়া শূকরের বাচ্চা" জাতীয় গালিগালাজ শুনতে হয়েছে। কিন্তু আজ থেকে ৩০-৩২ বছর আগে ক্লাস সেভেনের একজন ছাত্রকে তার ইংরেজী শিক্ষক ঠিক কী কারণে এভাবে গালিগালাজ করেছেন, সে ব্যাপারে প্রদীপ দেব কিছুই বলেননি। বুঝতেই পারছেন মুসলিমদেরকে হেয় করার জন্য একজন শিক্ষকের নামে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যাচার করা হয়েছে।

    যাহোক, কিছুদিন আগে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেসিস্ট ইউজিন ম্যাকার্থির বরাত দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় একটি খবর বেরিয়েছে। সেই খবর অনুযায়ী পুরুষ শুয়োর আর স্ত্রী শিম্পাঞ্জির মিলনের ফলেই পৃথিবীতে মানুষ এসেছিল। অথচ আজ থেকে ৩০-৩২ বছর আগে প্রদীপ দেবের শিক্ষক আবু মির্জা হুবহু এই কথাই বলেছেন! কিন্তু অসৎ ও ধূর্ত প্রদীপ দেব এই খবরটা পুরোপুরি চেপে গেছেন। দেখুন:

    http://pathikrit.com/e/?p=33

    http://zeenews.india.com/bengali/lifestyle/human-comes-from-hybrid-of-pig-and-chimpz_18257.html

  4. 5
    সারওয়ার

    বিবর্তনবাদ থিওরি দ্বারা কি মানুষের আদিম শারীরিক আকৃতি, শক্তি, উচ্চতা ইত্যাদি অবস্থা থেকে বর্তমান শারীরিক গঠন, উচ্চতা, শক্তি ইত্যাদির পরিবর্তন বিষয়গুলো বুঝাবে? এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখলে উপকৃত হব।

  5. 4
    Mahabub Alam

    জাহান্নামের অধিবাসী হবে ইবলিশ শয়তান তাই, শয়তান চায় মানুষকে যে কোন প্রকারে আল্লাহ এর তওহীদ বা আল্লাহ এর একাত্তবাদ বিরোধী চিন্তা চেতনায় নিয়ে যেতে।  হযরত আদম (আঃ) থেকে এই মানবজাতির শুরু, ডারউইন মতবাদ অযৌক্তিক। 

    আমাদের উচিত কোরআন এবং রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আদর্শ অনুযায়ী চলা।    

  6. 3
    এস. এম. রায়হান

    পয়েন্টস টু বি নোটেড:

    ১. বিজ্ঞানে ডক্টরেটধারী ও পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে জীবনের প্রথম বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে লেখার শুরুতেই প্রায় ৩০-৩২ বছর আগের তার এক ইংরেজী স্কুল শিক্ষক 'আবু মির্জা'র নামে বলা হয়েছে যে, 'আবু মির্জা' তাকে ক্লাস সেভেন থেকে নাইন পর্যন্ত 'হারামজাদা শূকরের বাচ্চা জন্মেছিস বানর থেকে' বলে গালিগালাজ করেছেন। এরপর বাংলাদেশের স্কুল শিক্ষকদের নামে ঢালাওভাবে বলা হয়েছে-

    স্কুলগুলোতে ‘আবু মির্জা’র মত শিক্ষকের অভাব নেই। সুতরাং এটা বুঝা যায় যে বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ের কোন শিক্ষার্থীর পক্ষে স্কুলের পড়া থেকে বিবর্তন-বাদ সম্পর্কে কিছুই জানা সম্ভব নয়।

    অর্থাৎ বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষকরা প্রথমত সাম্প্রদায়িক মানসিকতার, দ্বিতীয়ত বিবর্তন তত্ত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ-মূর্খ।

    ২. কোনো সূত্র ছাড়াই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে প্রায় ২০-২২ বছর আগের একটি অপ্রীতিকর ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবর্তনবাদকে কেন্দ্র করে শিবিরের ক্যাডাররা এতবড় একটি ঘটনা ঘটিয়েছে, হত্যা-বোমাবাজির হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে, অথচ বাংলাদেশের প্রগতিশীল পত্রিকাগুলোতে পর্যন্ত সেই খবর ছাপানো হয়নি! শিবিরের নামে এই ধরণের ঘটনা উল্লেখ করার পেছনে উদ্দেশ্য হচ্ছে এটা বুঝিয়ে দেওয়া যে, বিবর্তনবাদ-বিরোধী মুসলিমরা সকলেই শিবির এবং তারা হত্যা-বোমাবাজির হুমকি দিয়ে বিজ্ঞানকে প্রতিহত করছে।

    ৩. এরপর বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে চরম প্রতারণাপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ৪. ১ ও ২ নম্বরে উল্লেখিত ঘটনার দ্বারা সুকৌশলে সৃষ্টিবাদীদের নামে মুসলিমদেরকে ঢালাওভাবে অজ্ঞ-মূর্খ, সাম্প্রদায়িক, অসহিষ্ণু, গোঁয়ার, অসৎ, মধ্যযুগীয় মানসিকতার, বিজ্ঞান-ধর্ষক, বোমাবাজ ইত্যাদি হিসেবে দেখিয়ে শেষে অস্ট্রেলিয়ান সমাজের পক্ষালম্বন করে বলা হয়েছে-

    বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সুবাদে অনেক মতবাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সাথে আলোচনা করার সুযোগ হয় আমার। তাদের মধ্যে বিবর্তন তত্ত্বে বিশ্বাসীর সংখ্যা অনেক বেশি। হতে পারে পদার্থ-বিজ্ঞানের মানুষ বলে এ ধরণের মানুষের সাথেই আমার আলাপ হয় বেশি। তবুও এটা বলা যায় যে এদেশে গায়ের জোরের চেয়েও যুক্তির জোর প্রবল। সুস্থ সমাজে এটাই তো কাম্য। ক্রমশ যুক্তিবাদী হয়ে উঠবে সারা পৃথিবীর মানুষ – ডারউইন দিবসে এটাই আমার কামনা।

  7. 2
    পাভেল আহমেদ

    সব সময়ই তারা মশা থেকে মশা, গরু থেকে গরু, ভালুক থেকে ভালুক এধরনের উদাহরণ দিচ্ছে। কিন্তু মশা থেকে সম্পূর্ণ নতুন কোন পোকার বিবর্তনের কোন উদাহরণ তাদের কাছে নেই! কোন জীবের ক্ষেত্রেই এরকম কোন উদাহরণ তারা আজ পর্যন্তও দেখাতে পারেনি! এমনকি ব্যাপারটা এককোষী লেভেলেও প্রযোজ্য! -_-

  8. 1
    কিংশুক

    RMIT বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র লেকচারার, পদার্থ বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রীধারী সুলেখকের লেখা দ্বারা সাধারন মানুষের মস্তক ধোলাই করা খুব সহজ। এত মেধাবী, বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তির কথা বিজ্ঞানসম্মত না হয়ে যাবেইনা ধরে নিয়ে প্রতারনার শিকার হওয়া স্বাভাবিক। নাস্তিকতা হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ দর্শন। হিন্দুরা কম্যুনিস্ট হলেও, নাস্তিক হলেও হিন্দু সংস্কৃতির অর্থাত ইসলাম বিদ্বেষীই থেকে যায়। এজন্য নিজের ইসলাম বিদ্বেষ লুকিয়ে না রেখে বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে হালাল করে মুসলমান, খ্রিস্টানদেরকে ডারউইনের বিবর্তনবাদ নামক রূপকথা দিয়ে আচ্ছামতো অপমান করা গেল। অনেক বিখ্যাত হিন্দু লেখকের ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য, বিজ্ঞান বিষয়ক লেখায়ও দৃষ্টিকটু রকম ইসলাম বিদ্বেষ চোখে পড়ে।

    বাংলায় ডারউইনের বিবর্তনবাদ, ধর্ম বিষয়ে নাস্তিকদের অসংখ্য বই দেখেছি। প্রতি বছর বই মেলাতেই বিজ্ঞান, দর্শন, বিজ্ঞানের নামে এরকম ডজন ডজন বই বের হয়। কই তাদের বিরুদ্ধে জামাতের কোন কর্মসূচীতো চোখে পড়ে নাই। ড: প্রদীপ দেব ডারউইনের বিবর্তনবাদের যেরকম প্রমাণ দিলেন তাতেই বুঝা যায়, তিনি একজন ইসলাম বিদ্বেষী প্রতারক।

    মুক্তমণাদের কথা আর বলেন না। ঐখানে মুক্তমণা হাই প্রোফাইল অনেক লেখক আছেন যাদেরকে মুক্তমণারা দেবতার আসনে বসিয়ে রেখেছে। তারা যা-ই লিখে, দেবতার উপাসনাকারী মুক্তমণারা চোখ বন্ধ করে জ্বি জ্বি রবে "ওহী" হিসাবে মেনে নেয়।

    1. 1.1
      এস. এম. রায়হান

      ঐখানে মুক্তমণা হাই প্রোফাইল অনেক লেখক আছেন যাদেরকে মুক্তমণারা দেবতার আসনে বসিয়ে রেখেছে। তারা যা-ই লিখে, দেবতার উপাসনাকারী মুক্তমণারা চোখ বন্ধ করে জ্বি জ্বি রবে "ওহী" হিসাবে মেনে নেয়।

      ঐ পোস্টের মন্তব্যগুলো এক নজর দেখুন। আপনার এই কথার সাথে হুবহু মিলে যাবে! সাথে বিনা পয়সায় কিছু মজাও পাবেন 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published.