«

»

Jun ২৭

বিবর্তনবাদীদের আত্মীয়-স্বজন এবং একটি প্রস্তাব

১. বিবর্তনবাদীদের আত্মীয়-স্বজনকে সারা বিশ্বের চিড়িয়াখানাগুলোতে যুগের পর যুগ ধরে মানুষের বিনোদনের জন্য বন্দী করে রাখা হয়েছে। অথচ আজ পর্যন্তও বিবর্তনবাদীদেরকে এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি! ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে মানবরূপী বিবর্তনবাদীরাও তাদের আত্মীয়দের সাথে চিড়িয়াখানায় বন্দী হয়ে বাকি সকলের বিনোদনের মাত্রা আরো বাড়াতে চায় 😀 আশা করি তাদের এই গোপন ইচ্ছা একদিন বাস্তবে রূপ নেবে!

chagol

monkey

chimps

 

২. বিবর্তনবাদীরাও কি নিজেদেরকে 'আশরাফুল মাখলুকাত' মনে করে না? তা না হলে তাদের কাউকেই চিড়িয়াখানায় দেখা যায় না কেন?!

মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ মানুষকে 'আশরাফুল মাখলুকাত' তথা 'সৃষ্টির সেরা' হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। যদিও ঠিক কোন্‌ দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষকে 'সৃষ্টির সেরা' বলা হয়েছে – এই বিষয়টা নিয়ে সেভাবে ভেবে দেখা হয়নি। তবে কোরআনের কিছু আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ মানুষকে সুন্দরতর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।

যাহোক, বিবর্তনবাদী নাস্তিকদের কাউকে কাউকে মুসলিমদের এই বিশ্বাস নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা গেছে এই অর্থে যে, মুসলিমরা মানুষকে সৃষ্টির সেরা মনে করে! কিন্তু মানুষ তো সৃষ্টির সেরা নয়! মানুষ বরং অন্যান্য প্রাণীদের আত্মীয়-স্বজন! ইত্যাদি। ইত্যাদি। অর্থাৎ বিবর্তনবাদীরা অন্যান্য প্রাণীদেরকে 'আত্মীয়-স্বজন' দাবি করে নিজেদেরকে 'মানবিক' হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে! কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বিবর্তনবাদীরাও কি নিজেদেরকে 'আশরাফুল মাখলুকাত' মনে করে না? আমি মনে করি মুখ ফুটে না বললেও তারা নিজেরাও একই বিশ্বাস ধারণ করে! কারণগুলো নিম্নরূপ:

– বিবর্তনবাদীরা নিজেদের বিবর্তনে বিশ্বাস করে না। অর্থাৎ তারা নিজেদেরকে কিংবা তাদের উত্তর-পুরুষদেরকেও বিবর্তিত/বিকৃত রূপে দেখতে চায় না! তারা শুধু অবলা প্রাণীদের বিবর্তন দেখতে চায়।

– আজ পর্যন্তও বিবর্তনবাদীদের কাউকে তাদের নিকটাত্মীয় বানর-শিম্পাঞ্জীদের সাথে বিবর্তন নিয়ে কোনো রকম আলাপ-আলোচনা করতে দেখা যায়নি! এমনকি নিকটাত্মীয় বানর-শিম্পাঞ্জীরা নিজেদের বিবর্তনে বিশ্বাস করে কি-না – এই প্রশ্নটা পর্যন্ত করার প্রয়োজন মনে করা হয়নি! হায়রে নিকটাত্মীয়!

– সারা বিশ্বের চিড়িয়াখানাগুলোতে যুগের পর যুগ ধরে বিভিন্ন জীব-জন্তুকে মানুষের বিনোদনের জন্য বন্দী করে রাখা হয়েছে। অথচ বিবর্তনবাদীরা নিজেদেরকে আর দশটা জীব-জন্তুর মতো দাবি করলেও ডারউইন থেকে শুরু করে বিগত প্রায় দেড়শ' বছরে দু-চার জন বিবর্তনবাদীকেও স্বেচ্ছায় চিড়িয়াখানায় যেয়ে তাদের আত্মীয়দের সঙ্গী-সাথি হতে দেখা যায়নি! আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি এ কেমন অবজ্ঞা! তার মানে বিবর্তনবাদীরা নিজেদেরকে 'চিড়িয়া' বা 'জন্তু' ভাবতে নারাজ! তারা বরং নিজেদেরকে 'আশরাফুল মাখলুকাত' হিসেবেই দেখতে চায়!!!

৩. বিবর্তনবাদী প্রাণীদের নিয়ে একটি প্রস্তাব

বিবর্তনবাদীদের নিজেদেরই দাবি অনুযায়ী আর দশটা প্রাণীর মতো তারাও এক প্রকার প্রাণী, এবং অন্যান্য সকল প্রাণীরা তাদের আত্মীয়-স্বজন। অথচ সারা বিশ্বের চিড়িয়াখানাগুলোতে বিনোদনের জন্য প্রায় প্রত্যেক প্রাণী থেকে দু-চারটা করে প্রাণী রাখা হলেও এ-পর্যন্ত কোনো চিড়িয়াখানাতেই বিবর্তনবাদী প্রাণীদেরকে রাখা হয়নি! আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে বড় বড় চিড়িয়াখানাতে অন্তত অন্যান্য প্রাণীদের পাশাপাশি দু-চার জন করে বিবর্তনবাদী প্রাণীকেও রাখা হোক। তবে অন্যান্য প্রাণীদেরকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে চিড়িয়াখানার খাঁচায় বন্দী করে রাখা হলেও আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবর্তনবাদী প্রাণীদেরকে জোর করে খাঁচায় বন্দী করার পক্ষপাতি না। আমরা বরং চাই তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে চিড়িয়াখানায় থাকার জন্য এগিয়ে আসুক। এমন কিছু বাংলা বিবর্তনবাদী কি স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসতে রাজি আছেন? না এলে যৌক্তিক কারণ দর্শাতে হবে। বন্যা-অভিজিৎ-হোড়াসমোল্লা গং কী বলে?

৫ comments

Skip to comment form

  1. 4
    পাভেল আহমেদ

    পরীক্ষামূলকভাবে বিবর্তনবাদীদেরকে তাদের স্বজাতির সাথে রাখা উচিত। এতে করে বিবর্তন সংক্রান্ত গবেষণায় অভাবনীয় সাফল্য দেখা দিতে পারে। 😛

  2. 3
    খালিদ

    "বিবর্তনবাদীদের কাউকে চিড়িয়াখানায় দেখা যায় না কেন?!" কারন জ্ঞাতি ভাইয়েরা যদি নিজেদের সাথে কিছু দিন থেকে যাওয়ার আবদার জানায়!                                                                    

    1. 3.1
      এস. এম. রায়হান

      বিবর্তনবাদীদের কাউকে চিড়িয়াখানায় দেখা না যাওয়া বলতে অন্যান্য প্রাণীদের মতো চিড়িয়াখানার খাঁচায় না দেখার কথা বুঝানো হয়েছে।

  3. 2
    Sotto

    //বির্তনবাদীর প্রকাশ্যে মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা মনে করে না।//

    আমরা মনে করার পরও কাজে তাদের থেকে পিছিয়ে পড়লে তাতে লাভ কি? এ সব কটুক্তি কি শেসমেস আমাদের গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হবেনা?

  4. 1
    Ashraf Mahmud

    বিবর্তনবাদীরা প্রকাশ্যে মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা মনে করে না। ঠিক আছে। আচ্ছা, এমন যদি হোত তবে কেমন হোত! -- যদি কোন স্বেচ্ছাসেবক বিবর্তনবাদী গরিলা, শিম্পাঞ্জি বা বানর জাতীয় প্রাণীর সাথে বিয়ে করতে এগিয়ে আসতো? কেননা এরা তো তাদেরই আত্মীয়! তাই বিয়ে করতে আপত্তি থাকার কথা নয়, তাই না? তারা যদি বিয়ে করতে এগিয়ে আসে তাহলেই বুঝতাম তারা নিজেদেরকে সত্যি সত্যি প্রাইমেটদের নিকটাত্মীয় মনে করে। খুব মজা হতো। তাই না? মজাই মজা!!! এবং তাদের মিলনের ফলে যে প্রাণীটি জন্ম নিত তার নাম কী হোত? দেখতে কেমন হতো? তাদের সন্তানকে ঐ বিবর্তনবাদী আপন সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতো কি-না? ইত্যাদি সব মিলে এক মজার কান্ডকারখানা হোত। তাই না? ওফ! ভাবতেই মজা পাচ্ছি। আচ্ছা, ভাল কথা মনে পড়েছে! ফেসবুকে একটা বিজ্ঞাপন দিলে কেমন হয়? যার শিরোনাম হতে পারে এরূপ:

    ============================================

    বিজ্ঞানের গবেষণায় নিবেদিতপ্রাণ বিবর্তনবাদীরা এগিয়ে আসুন। প্রাইমেটদের সাথে বিয়ে! বিবর্তনবাদী স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে আসুন। চূড়ান্ত বাছাইকৃত প্রাইমেট-হোমোসেপিয়েন্স Couple-দের ফাইভ ষ্টার হোটেলে থাকা-খাওয়া-ফ্রি সহ বিশ্বভ্রমনের টিকেট দেয়া হবে। ============================================

Leave a Reply

Your email address will not be published.