«

»

Jul ১৬

বিবর্তনবাদীরূপী ধর্মান্ধদের মুখস্থ কিছু বুলি

বিবর্তনবাদীরূপী ধর্মান্ধরা দীর্ঘদিন ধরে মুখস্থ কিছু বুলি আউড়িয়ে বিবর্তন তত্ত্বের কল্পকাহিনীকে প্রশ্নাতীতভাবে "ধ্রুব সত্য" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার (অপ)চেষ্টা করে আসছে। যেমন:

১. বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: মাধ্যাকর্ষণ শক্তি যেমন সত্য, বিবর্তনও তেমনি সত্য।

যুক্তিবাদী: মাধ্যাকর্ষণ শক্তি যে সত্য, সেটা বিবর্তনবাদীদের দিয়েই প্রমাণ করে দেওয়া সম্ভব। কোনো বিবর্তনবাদী যদি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অস্তিত্ব অস্বীকার করে তাহলে তাকে ১০০ মিটার উঁচু একটি টাওয়ারের চূড়া থেকে শূন্যে ঝাঁপ দিতে হবে। ব্যাস। বিবর্তনবাদীরা যদি এই সাহস দেখাতে না পারে তাহলে তারা নিজেরাই মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অস্তিত্ব প্রমাণ করবে বা মেনে নিবে। কিন্তু বিবর্তনবাদীরা কি বিবর্তনে অস্বীকারকারীদের প্রতি এরূপ অতি সহজ কোনো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তাদের দিয়েই বিবর্তনের সত্যতা প্রমাণ করতে পারবে?

বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: ভ্যাঁ! ভ্যাঁ! ম্যাঁ! ম্যাঁ! ছেড়ে দে বাপ, কেঁদে বাঁচি! মুমিনরা খুব খ্রাপ!

 

২. বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: বিবর্তন হচ্ছে গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়ার মতোই সত্য।

যুক্তিবাদী: গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়া তো যেকেউ যেকোনো সময় নিজ চোখে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এমনকি কেউ চাইলে একই অ্যাপেল কোটি কোটি বার গাছ থেকে ছেড়ে দিয়ে সেটির ভূমিতে পড়াও পর্যবেক্ষণ করতে পারে, এবং সেটির ভিডিও করে সবাইকে দেখাতে পারে। কিন্তু এক প্রাণী থেকে ভিন্ন একটি প্রাণীর বিবর্তন কি কেউ পর্যবেক্ষণ করেছে? কেউ চাইলে কি এক প্রাণী থেকে ভিন্ন একটি প্রাণীর বিবর্তন কোটি কোটি বার পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পারবে?

বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: মুমিনরা বিবর্তনের ব-ও বোঝে না! বিবর্তন হতে কোটি কোটি বছর সময় লাগে!

যুক্তিবাদী: ঐ মিয়া ধর্মান্ধ! একটু আগেই না বললা যে, বিবর্তন হচ্ছে গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়ার মতোই সত্য? তো গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়তে কি কোটি কোটি বছর সময় লাগে? তোমার দাদা কি কোটি কোটি বছর জীবিত থেকে এক প্রাণী থেকে ভিন্ন প্রাণীর বিবর্তন নিজ চোখে পর্যবেক্ষণ করে সেই কথা তোমার কানে ফিস ফিস করে বলে গেছে?

বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: ভ্যাঁ! ভ্যাঁ! ম্যাঁ! ম্যাঁ! ছেড়ে দে বাপ, কেঁদে বাঁচি! মুমিনরা খুব খ্রাপ!

 

৩. বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: বিবর্তন তত্ত্ব একটি প্রমাণিত সত্য। ধার্মিকেরা শুধু তাদের ধর্ম বাঁচাতে এই সত্যকে অস্বীকার করে।

যুক্তিবাদী: বিবর্তন তত্ত্বের সাথে ধর্মের কী সমস্যা?

বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী বানর জাতীয় প্রাইমেটস থেকে মানুষ বিবর্তিত হয়েছে। অন্যদিকে ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্ব অনুযায়ী প্রথম মানব-মানবী আদম-হাওয়াকে স্বতন্ত্রভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। এজন্যই ধার্মিকেরা বিবর্তন তত্ত্বকে অস্বীকার করে।

যুক্তিবাদী: ও আচ্ছা! এই 'আদম-হাওয়া', 'ধপ্পাস তত্ত্ব', 'টুপ্পুস তত্ত্ব' তো আব্রাহামিক ধর্মের সমস্যা। তবে যাইহোক, ব্যাপারটা তো উল্টো করেও বলা যায়। সেটা হচ্ছে বিবর্তন তত্ত্ব একটি কল্পকাহিনী-ভিত্তিক গাঁঞ্জাখুরি মতবাদ। আব্রাহামিক ধর্ম-বিরোধীরা শুধু বিরোধীতার খ্যাতিরে এই সত্যকে অস্বীকার করছে। 

বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: না! না! আমরা সব ধর্মেরই বিরোধীতা করি। আসল কথা হচ্ছে বিবর্তন তত্ত্ব একটি প্রমাণিত সত্য। 

যুক্তিবাদী: আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু ধার্মিকেরা যদি শুধু তাদের ধর্ম বাঁচাতে বিবর্তন তত্ত্বের সত্যতাতে অস্বীকার করত তাহলে তো একই যুক্তি অনুযায়ী তারা ধর্ম বাঁচাতে স্ফেরিক্যাল ও ঘূর্ণায়মান পৃথিবীর সত্যতাকেও অস্বীকার করার কথা, যেহেতু অভিজিৎ রায়ের মতো ধর্মান্ধদের জোর দাবি অনুযায়ী কোরআনে পৃথিবীকে 'সমতল' ও 'স্থির' বলা হয়েছে। অথচ ধার্মিকেরা কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত স্ফেরিক্যাল ও ঘূর্ণায়মান পৃথিবীর সত্যতাকে অস্বীকার করে না। ক্যামনে কী?

বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: ভ্যাঁ! ভ্যাঁ! ম্যাঁ! ম্যাঁ! মুমিনরা খুব খ্রাপ!

যুক্তিবাদী: বুঝলাম মুমিনরা খুব খ্রাপ, আর বিবর্তনবাদীরূপী ধর্মান্ধরা খুব ভালা। এবার আরেক ধাপ অগ্রসর হওয়া যাক। বিবর্তনবাদীরা যদি একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে পুরো উদ্ভিদজগত এবং মানুষ ছাড়া বাকি প্রাণীজগতের বিবর্তন প্রমাণ করতে পারে তাহলে সেটি ইসলামের বিরুদ্ধে যাওয়ার কথা না। কিন্তু বিবর্তনবাদীরা কি একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে অন্তত উদ্ভিদজগতের বিবর্তন প্রমাণ করেছে? যদি না করে থাকে তাহলে মুমিনরা প্রথমে উদ্ভিদজগতের বিবর্তন নিয়ে বিতর্ক করতে আগ্রহী। এরপর মানুষ ছাড়া বাকি প্রাণীজগতের বিবর্তন নিয়ে বিতর্ক হবে। বিবর্তনবাদীরা যদি একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে পুরো উদ্ভিদজগত এবং মানুষ ছাড়া বাকি প্রাণীজগতের বিবর্তন প্রমাণ করতে পারে তাহলে মুমিনরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই মানুষের বিবর্তনও মেনে নিবে। এই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মতো বিজ্ঞান-ভিত্তিক বিষয়ে পিএইচডি আছে, বৈজ্ঞানিক জার্নালে কিছু পেপার আছে, এবং বিবর্তন তত্ত্বকে যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে ডিফেন্ড করে কিছু লেখা আছে – এমন কোনো বিবর্তনবাদী আসল নাম-পরিচয়ে আসতে রাজি আছে কি?

বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: ভ্যাঁ! ভ্যাঁ! ম্যাঁ! ম্যাঁ! মুমিনরা খুব খ্রাপ! তারা স্রেফ যুক্তি দিয়ে আমাদেরকে জনসম্মুখে দিগম্বর করে! মুমিনদের সাথে খেলুম না!

নোট: বাংলা অন্তর্জালে মূলত লেঞ্জাধারী হনুরা ছদ্মনামের আড়ালে 'বিবর্তনবাদী' সেজে এই ধরণের মুখস্থ কিছু বুলি আউড়িয়ে একদিকে মুসলিমদেরকে 'বিজ্ঞান-বিরোধী' প্রমাণ করার চেষ্টা করছে অন্যদিকে আবার এই সুযোগে বিভিন্নভাবে আক্রমণ ও হেয় করছে।

৫ comments

Skip to comment form

  1. 3
    এস. এম. রায়হান

    বিবর্তনবাদী বিনুদুন দেখুন!

    বিবর্তনবাদীদের দাবি-১: বিবর্তন তত্ত্ব গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়ার মতো সত্য।

    বিবর্তনবাদীদের দাবি-২: প্রাণীদের বিবর্তন হতে কোটি কোটি বছর সময় লাগে।

    দাবি দুটি থেকে সিদ্ধান্ত: অতএব, গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়তে কোটি কোটি বছর সময় লাগে 😀

    এমন বিনুদুন হিন্দু ধর্মের পৌরাণিক কাহিনীগুলোও দিতে পারে না! তারপরও শিক্ষিত হিন্দুদের প্রায় সকলেই বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করে! এটাও একটা বিনুদুন!

  2. 2
    আহমেদ শরীফ

    একটা জিনিস মাথায় রাখলে বাংলার বিবর্তনবাদীদের স্বরূপ বোঝাটা সহজ হয়ে যায়।

    সেটা হল বাংলার বিবর্তনবাদীদের অধিকাংশই হিন্দু পরিবার থেকে আসা, গুটিকয়েক পাওয়া যাবে হিন্দু থেকে খ্রীস্টধর্মে ধর্মান্তরিত, বৌদ্ধও আছে তাদের মাঝে কিছু। মুসলিম পরিবার থেকে আসা কিছুও আছে যারা প্রথমোক্তদের সংসর্গে পড়ে 'বিবর্তনবাদী' হয়েছে। মূলতঃ বাংলার বিবর্তনবাদীদের নেতৃত্ব-পরিকল্পনা-কর্মকান্ডে পুরোদস্তুর সনাতনধর্মীরাই প্রাধান্য বিস্তার করে আছে প্রথম থেকে এখনো পর্যন্ত। বাংলার বাইরে সারা দুনিয়ায় অবস্থিত বিবর্তনবাদীদের সাথে সনাতনধর্মী বিবর্তনবাদীদের মৌলিক অনেক পার্থক্য আছে যদিও, পোস্ট-প্রাসঙ্গিক না হওয়ায় সেটি এখানে আলোচ্য নয়।

    মূল কারণটি একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলে বোঝা যাবে। কোন কিছুর স্বাভাবিক নিয়মিত উপস্থিতির অভাবে অনেক সময়ই অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক অনেক কিছুর উদ্ভব-প্রাদূর্ভাব দেখা দিতে পারে সাধারণভাবেই ধারণা করা যায় এ ব্যাপারে উদাহারণ দেবার খুব দরকার নেই। যেমন যথেষ্ট বৃষ্টির অভাবে খরা জমিন। ইসলাম ব্যতীত অন্যান্য ধর্মে সেই আধ্যাত্মিকতার অনুপস্থিতিই এর জন্য দায়ী। সনাতনধর্মের বাস্তবতাবিবর্জিত উদ্ভট পুরাকাহিনী, যুক্তিহীন বিদঘুটে আচারসমূহ, জাতপাত ছোঁয়াছুঁয়ি, ধর্মীয় ঈশ্বর দেব-দেবীদের নৈতিকতাহীনতা, ভ্রষ্টাচারিতা, মনোআধ্যাত্মিক দেউলিয়াপনার কারণেই শিক্ষিত হিন্দু সমাজের বৃহদাংশই একটু পরিণত বয়সে বা তার বেশ আগেই নিজ ধর্মের প্রতি বিশ্বাস-শ্রদ্ধা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে পুরোপুরি অবিশ্বাসী হয়ে উঠতে বাধ্য হয়। আমারব্লগ এ্যাডমিন সুশান্ত দাশ গুপ্তের চতূর্মাত্রিক ব্লগে করা সেই বিখ্যাত উক্তির কথা এখানে স্মর্তব্য, "শিক্ষিত হিন্দু মাত্রেরই নাস্তিক না হয়ে কোনো উপায় নেই।" এই যে উপায়হীনতা এটিই অবধারিত স্বতঃস্ফূর্ত স্বভাবজাত অবশ্যম্ভাবী পরিণতি, শিক্ষিত হিন্দুদের জন্য। এখন পারিবারিকভাবে খ্রীস্টান পরিবার থেকে আসা ইউরোপীয়-আমেরিকান নাস্তিকদের সাথে হিন্দু নাস্তিকদের মূল পার্থক্য হল জাতিগত সংকীর্ণতা হীনমন্যতা। একজন ইউরোপীয় বা আমেরিকান নাস্তিককে ইসলামের বা অন্য যে কোন বিষয়ে যথাযথ সত্যের আলোকে তার মনীষাকে উদ্ভাসিত করতে পারলে তারা নির্দ্বিধায় সত্যকে মেনে নেবে। এই জায়গাটিতে হিন্দু নাস্তিকদের ক্ষেত্রে নিজস্ব জাতিগত সীমাবদ্ধতা, সংকীর্ণতা, হীনমন্যতা, প্রতিশোধকামিতা, আজন্ম লালিত বর্ণবাদি দৃষ্টিভঙ্গি, যুক্তিহীন গোঁয়ার্তুমি ইত্যাদি বিরাট প্রতিবন্ধকতা হিসেবে এসে দাঁড়ায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম শাসকদের অধীনে থাকার কারণে সংকীর্ণ প্রতিশোধকামিতাপ্রসূত হীনমন্যতা ও অযৌক্তিক গোঁয়ার্তুমি জন্ম দেয়। সেজন্যে তারা কিছুটা বুঝতে পারলেও যেন একরকম বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করে যায় ইসলাম ও মুসলিমদের।

    মুসলিম পরিবার থেকে আসা আধুনিক শিক্ষিতদের দলে ভেড়ানোর কুটিল কৌশল ব্যবহার করে হিন্দু নাস্তিকরা। তা হল 'মুক্তিযুদ্ধ', 'বাঙ্গালিয়ানা', 'যুক্তি', 'মানবতাবাদ' ইত্যাদির স্লোগান মূহুর্মূহু দিতে থাকা। একইসঙ্গে প্রথমদিকে মুক্তিযুদ্ধের স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র রাজাকারবিরোধিতা যা ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানবিরোধিতা-জামাতবিরোধিতা থেকে বিবর্তিত হতে হতে এক সময় হিজবুত-হেফাজতসহ পুরো ইসলাম-মুসলিমসহ নির্জলা ইসলামবিরোধিতায় রূপ নেয়, এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদী অপ-পরিকল্পনার ফসল। তারা বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী, হেফাজতেরও বিরোধী কিন্তু আবার নিজেদের প্রমিসডল্যান্ড ভারতে বিজেপি-মোদির খুবই অনুরাগী। সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ইসলামপন্থিদের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশে, আবার ভারতে সেটা হয়নি। সেখানে অমিতাভ বচ্চন, লতা মঙ্গেশকরের মত সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বিজেপির পক্ষে কাজ করে মোদির মত লোকদের সাথে বন্ধুত্ব করে আর্শীবাদ করে। বাংলাদেশে এদের কাছাকাছি সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কে আছে! এটিই হচ্ছে তাদের অপকৌশল। বাংলাদেশের সাংষ্কৃতিক উন্নতি তারা আদৌ চায় না সাম্প্রতিক বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই বিতর্কিত সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সেরা শিল্পীদের চরম অপমান করে স্টেজে উঠতে না দেওয়াই তার প্রমাণ। ভারতীয় বইয়ের বিশাল বাজার বাংলাদেশে খুলে দিয়ে ভারতে বাংলাদেশের বই প্রবেশ করতে না দেওয়াই তার প্রমাণ। ফলে মুক্তিযুদ্ধ-ধর্মনিরপেক্ষতা-সংষ্কৃতি এসবের টানে সাধারণ নামধারী আধুনিক শিক্ষিত মুসলিম বোকার মতো সরল বিশ্বাসে তাদের প্রবাহিত স্রোতে গড্ডালিকা প্রবাহের মতো ভেসে যায়, তাদের মতই হয়ে ওঠে। একটু ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বিশ্বাস না করলেও তাদের নিজেদের সনাতনধর্ম সম্পর্কে তারা এক ধরণের নীরবতা রক্ষা করে, এড়িয়ে চলে চাতুর্যের সাথে, যাতে হিন্দু ধর্মের বেশি আলোচনা না হয়। আবার অনেক জায়গায় দেখা যায় হিন্দু ধর্মকে ডিফেন্ড করতে হিন্দু নাস্তিকরাই এগিয়ে আসে। আলোচনা কম হলে হিন্দু ধর্মের দূর্নামও কম হবে এটিই তারা চায়। হিন্দু ধর্মে তাদের বিশ্বাস হারিয়ে ফেললেও সম্প্রদায়গতভাবে তারা অমর্যাদাগ্রস্ত-অপমানিত হতে চায় না যেহেতু তারা হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী হোক বা না হোক বিশ্বের দরবারে তারা হিন্দু সম্প্রদায় হিসেবেই চিহ্নিত হবে। অন্যদিকে নামধারী কিছু অপদার্থ বেকুব মুসলিমদের সাথে তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তকচ্ছ হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাকেই ‘নাস্তিকতা’র উৎকর্ষতা হিসেবে প্রতিভাত করে তোলে, নামধারী কিছু বেকুব মুসলিমদের দিয়ে তাদের নিজেদের ধর্মকে গালি দিয়ে সম্প্রদায়গতভাবে মুসলিমদের অবমাননা করাটাকে তারা কুৎসিত প্রতিশোধকামিতার সাথে উপভোগ করে। এছাড়া হিন্দুদের অনেকেই মুসলিম নাম নিয়ে অনলাইনে এসে ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে থাকে।

    ইসলামের এমন সব বিশ্বাসগত-চর্চাগত মনোআধ্যাত্মিক উপাদান বা রুহানিয়াত আছে যে বিজ্ঞানের উন্নতি বা যুক্তিবাদের প্রসারে বা যুগের হাওয়ায় তার বিশেষ পরিবর্তন ঘটে না। ইসলামের নিজস্ব বিশ্বাসের গভীরতা ও দৈনন্দিন নিয়মিত চর্চাগত আচারসমূহ থেকে ব্যক্তিগতভাবে মুসলমানদের উপকৃত হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় বাইরের বহিরাগতদের ধারণাগত যুক্তি-আলোচনা এসব বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে না। শ্রদ্ধা-ভক্তি যে পরিমাণ নিজ উপাস্য, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ধর্মাচারের প্রতি মুসলিমদের রয়েছে, চর্চাগত আচারের নিয়মিত একনিষ্ঠতা আনুগত্য মুসলিমদের রয়েছে -- তা আনুপাতিক হারে পৃথিবীর অন্য কোন ধর্মাবলম্বীর মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় না। এরকম আরো অনেক কারণেই মুসলিমদের মাঝে নাস্তিক হওয়ার হার খুবই কম বা সবচেয়ে কম, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝে যা অনেক অনেক বেশি।

    1. 2.1
      এস. এম. রায়হান

      আপনার এই মন্তব্যটা একটি শিরোনাম নির্বাচন করে পোস্ট আকারে দেন। ফেসবুকেও ছড়িয়ে দেন। এটার দরকার আছে। কতিপয় শিক্ষিত ধূর্ত 'নাস্তিক/বিবর্তনবাদী' সেজে অসচেতন লোকজনকে বিভ্রান্ত করবে, তা হতে দেয়া যায় না।

  3. 1
    বলন কাঁইজি

    কতটুকু বিবর্তন? কী কী বিবর্তন? অঙ্গাদির বিবর্তন নাকি ইন্দ্রাদির বিবর্তন? দৈহিক বিবর্তন নাকি মানসিক বিবর্তন? এসব প্রশ্নের সঠিক সমাধান না করে কেবল বিবর্তনের ধুয়া তোলা কোন মতেই সমীচীন নয়। বানর হতে মানুষ বিবর্তন করা অতি সহজ। তাই করা হয়েছে। বিবর্তনবাদীদের নিকট জানতে চাই বটগাছ, আমগাছ, আলো, অন্ধকার, মন, জ্ঞান, জন্ম ও মৃত্যু বিবর্তন হয়েছে কিভাবে?

    সৃষ্টির মূলের অন্বেষণ না করে ব্যাঙ হতে বানর এবং বানর হতে মানুষের উদ্ভব এরূপ চিন্তা করা আর নারকেলের ছোবড়াকে ফল মনে করে খাওয়া একই ব্যাপার। কারণ যে নারকেলের ছোবড়া খুলে মালা বের করতে পারেনি তার নিকট ঐ ছোবড়াকেই ফলের শাস মনে হবে। আর যে ছোবড়া খুলে মালা বের করেছে, তারপর মালা ভেঙ্গে শাস বের করতে সক্ষম হয়েছে তার কাছে ছোবড়াকে আর শাস মনে হবে না। নব্য বিবর্তনবাদী বলি আর সেকেলে বিবর্তনবাদী বলি এখন পর্যন্ত ঐ একই অবস্থা। মুখরোচক কটা যুক্তি ছাড়া কোন দার্শনিক আজো কী প্রমাণ করতে পেরেছেন যে, ওমুক ব্যাঙ প্রজাতি হতে মানুষের উদ্ভব?

    এসব ময়লাধারে ফেলে দেওয়ার সময় এসেছে। মানুষ; মানুষরূপেই উদ্ভব, বটগাছ; বটগাছরূপেই উদ্ভব, তদ্রূপ ব্যাঙ; ব্যাঙরূপেই উদ্ভব। এর সমাধান আমাদের বের করা একান্ত সমীচীন হবে।

    1. 1.1
      এস. এম. রায়হান

      অল্প কথায় সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      বানর হতে মানুষ বিবর্তন করা অতি সহজ। তাই করা হয়েছে।

      আমার কথাও তাই। সত্যি বলতে আমার লেখাগুলোতে বানর/শিম্পাঞ্জি থেকে মানুষের বিবর্তনের উপর সেভাবে গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। এর কারণ হচ্ছে বিবর্তনবাদীরা যদি একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে একদিকে তালগাছ, বটগাছ, আমগাছ; অন্যদিকে বানর-শিম্পাঞ্জি পর্যন্ত বিবর্তন প্রমাণ করতে পারে, তাহলে বানর/শিম্পাঞ্জি থেকে মানুষের বিবর্তন আর প্রমাণ করার দরকার পড়বে না। শেষোক্তটা (বানর/শিম্পাঞ্জি থেকে মানুষের বিবর্তন) এমনিতেই মেনে নেওয়া যাবে। আর চ্যালেঞ্জটা তো এখানেই-

      বিবর্তনবাদীরা যদি একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে পুরো উদ্ভিদজগত এবং মানুষ ছাড়া বাকি প্রাণীজগতের বিবর্তন প্রমাণ করতে পারে তাহলে সেটি ইসলামের বিরুদ্ধে যাওয়ার কথা না। কিন্তু বিবর্তনবাদীরা কি একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে অন্তত উদ্ভিদজগতের বিবর্তন প্রমাণ করেছে? যদি না করে থাকে তাহলে মুমিনরা প্রথমে উদ্ভিদজগতের বিবর্তন নিয়ে বিতর্ক করতে আগ্রহী। এর পর মানুষ ছাড়া বাকি প্রাণীজগতের বিবর্তন নিয়ে বিতর্ক হবে। বিবর্তনবাদীরা যদি একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে পুরো উদ্ভিদজগত এবং মানুষ ছাড়া বাকি প্রাণীজগতের বিবর্তন প্রমাণ করতে পারে তাহলে মুমিনরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই মানুষের বিবর্তনও মেনে নিবে।

      বিবর্তনবাদীরূপী ধর্মান্ধদের সৎ-সাহস থাকলে এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হোক। তখন দেখা যাবেনি কারা তাদের ধর্ম বাঁচাতে বিবর্তন তত্ত্বকে অস্বীকার করছে, আর কারা ইসলাম ও মুসলিম বিরোধীতার জন্য ঠাকুর্মার ঝুলিকে বিজ্ঞানের নামে "গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়ার মতো চাক্ষুস সত্য" হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.