«

»

Mar ০৭

বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে চার্লস ডারউইনের গভীর সংশয়

বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষের ও বিপক্ষের উভয় ধরণের লেখা থেকেই জানা যায় যে, চার্লস ডারউইনের অনেক আগে থেকেই জীবজগতের বিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব বাজারে প্রচলিত ছিল। এই তথ্যগুলো বিবর্তনবাদী ডন নার্ডো (Don Nardo)-র লিখা "Words That Changed History" নামক সিরিজের "The Origin of Species" নামক বইটিতে বিস্তারিত পাওয়া যাবে। কাজেই ডারউইন আসলে নতুন কিছুই প্রস্তাব করেননি। তবে বিবর্তনবাদীদের কারো কারো দাবি অনুযায়ী ডারউইন "প্রাকৃতিক নির্বাচন" (Natural Selection) নামে বিবর্তনের প্রক্রিয়া বা মেকানিজম প্রস্তাব করেছেন। কিন্তু এই দাবিও সঠিক নয়, যে সম্পর্কে স্বয়ং ডারউইন ও ডন নার্ডোর লেখা থেকে ধারণা পাওয়া যায়। ডারউইন আসলে প্রাকৃতিক নির্বাচন (যার অপর নাম "The Survival of the fittest")-এর ধারণা পেয়েছেন সেই সময়ের একজন অর্থনীতিবিদ থোমাস ম্যালথাসের একটি লেখা থেকে (ডন নার্ডোর বই দ্রষ্টব্য)। এমনকি ডারউইনের বইয়েও "Natural Selection" ও "The Survival of the fittest" টার্ম দুটিকে একে-অপরের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে অর্থনীতিবিদ থোমাস ম্যালথাস যেখানে জনসংখ্যার বিষ্ফোরণ নিয়ে লেখায় মানুষের মধ্যে খাদ্যের প্রতিযোগিতা ও যোগ্যতমের টিকে থাকা (The Survival of the fittest) নিয়ে আলোচনা করেছেন, সেখানে ডারউইন এই ধারণাকে বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে পুরো জীবজগতের উপর প্রয়োগ করেছেন!

এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই যেকারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- ডারউইনের তাহলে অবদান কী? ওয়েল, ডারউইনের অবদান হচ্ছে: প্রথমত, ডারউইন জীবজগত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্টাডি করে অনেক সময় নিয়ে সিস্টেম্যাটিক পদ্ধতিতে অনেক কিছুকে জড়িয়ে বিস্তারিত আকারে লিখে বই প্রকাশ করেছেন; দ্বিতীয়ত, ডারউইনের বইয়ে জীবজগতের অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ডারউইনের আগে অন্য কেউ এতটা বিস্তারিতভাবে ও সিস্টেম্যাটিক পদ্ধতিতে লিখেননি।

তথাপিও কারো কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- ডারউইন যদি নতুন কিছুই প্রস্তাব না করে থাকেন তাহলে বিশেষভাবে তিনি বা তার প্রস্তাবিত তত্ত্ব এতটা সারা জাগালো কী করে? এর সম্ভাব্য উত্তর হচ্ছে:

– ডারউইনের আগে কেউই তার তত্ত্বকে সাজিয়ে গুছিয়ে ও প্রচলিত বিশ্বাসের বিপরীতে উপস্থাপন করে বই আকারে প্রকাশ করেননি, যেটি ডারউইন করেছেন। এজন্য ডারউইনের বইটাকে নাস্তিক্যবাদীরা ধর্মীয় সৃষ্টিতত্ত্বের বিপরীতে এক প্রকার "বাইবেল" হিসেবে উপস্থাপন ও প্রচার করার সুযোগ পেয়েছেন।

– একদম শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ডারউইনের তত্ত্ব প্রচার-প্রসারের পেছনে যেভাবে ডাইহার্ড বুলডগ'রা লেগে আছে, ডারউইনের আগে অন্য কারো তত্ত্ব প্রচার-প্রসারের পেছনে কোনো ডাইহার্ড বুলডগ ছিল না। এযুগের বুলডগ রিচার্ড ডকিন্স সম্পর্কে সকলেই কম-বেশি অবগত। ডারউইনের সময় থোমাস হাক্সলে নামে আরেকজন বিখ্যাত বুলডগ ছিলেন। ডারউইনের তত্ত্ব নিয়ে হাক্সলের কথাবার্তা শুনলে টাস্কি খেয়ে যাবেন! "সূর্যের চেয়ে বালি গরম" বলে একটা কথা আছে না! মাঝে সময়ে সময়ে আরো অনেক বুলডগ এসেছেন।

– ডারউইনের তত্ত্বকে নাস্তিক্যবাদী ও মার্ক্সবাদীরা একযোগে প্রচলিত ধর্মের বিপরীতে আরেকটি  ধর্মের মতো করে প্রচার করেছেন। তাছাড়া এই তত্ত্ব দ্রুত প্রচার-প্রসারের পেছনে আধুনিক যুগের ইন্টারনেট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অবদান তো অনস্বীকার্য।

নোট: ডারউইনের সমসাময়িক সময়ে খ্রীষ্টানদের বিশ্বাস ছিল যে, জীবজগতের প্রতিটা প্রাণী ও উদ্ভিদকে একেবারে শুরুতেই যেরূপে সৃষ্টি করা হয়েছিল, বর্তমানেও ঠিক সেরূপেই আছে, এবং ভবিষ্যতেও সেভাবেই থাকবে। অর্থাৎ জীবজগত পুরোপুরি অপরিবর্তনীয় (Immutable)। ডারউইনের বই থেকেই এই তথ্য জানা যায়। ডারউইনের মাথাতেও এই ধারণা ছিল। কিন্তু এই ধারণা তো পুরোপুরি সঠিক নয়। পরিবেশ ও জীনগত কারণে জীবজগতে একই প্রজাতির মধ্যে মাইক্রো লেভেলে কিছু পরিবর্তন হয়, কিন্তু সেটা কখনোই ভিন্ন প্রজাতিতে রূপান্তর পর্যন্ত যায় না (এই ভিন্ন প্রজাতিতে রূপান্তরটা শুধুমাত্র কল্পকাহিনীতেই সম্ভব)। এজন্য গ্যালাপ্যাগোস আইল্যান্ডে যেয়ে ডারউইন যখন একই প্রজাতির ফিঞ্চ পাখিদের মধ্যে কিছু বাহ্যিক পরিবর্তন (বিভিন্ন প্রকারের ঠোঁট) লক্ষ্য করলেন তখন তার প্রচলিত বিশ্বাস নিয়ে সংশয় শুরু হলো। তাহলে দেখা যাচ্ছে কিছু মানুষের একটি ভুল ধারণার উপর ভিত্তি করে ডারউইন পুরো জীবজগতের উপর একটি ভুল তত্ত্ব প্রস্তাব করেছেন!

যাহোক, যে প্রসঙ্গে এই পোস্টের অবতারণা সেটি হচ্ছে বিবর্তনবাদীদের লেখাতে বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে স্বয়ং চার্লস ডারউইনের গভীর সংশয় সম্পর্কে কিছুই বলা হয় না। বরঞ্চ তারা বালির মধ্যে মাথা গুঁজে চোখ-কান বন্ধ করে এমন ভাব দেখায় যেন তাদের মনে বিবর্তন তত্ত্বের সত্যতা নিয়ে সামান্যতম প্রশ্ন-সংশয়ও নেই! অথচ উল্টোদিকে নিজেদেরকে একাধারে 'সংশয়বাদী', 'যুক্তিবাদী', 'ক্রিটিক্যাল থিংকার', ইত্যাদি দাবি করে মুসলিমদেরকে 'অন্ধ বিশ্বাসী' আখ্যা দিয়ে বুক চাপড়ানো হয়।

নিচে "প্রজাতির উৎপত্তি" নামক বই থেকে ডারউইনের নিজের ভাষাতেই কিছু প্রশ্ন-সংশয় তুলে দেয়া হলো। বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্য কোনো তত্ত্বের প্রস্তাবককে কখনোই নিজের তত্ত্ব নিয়ে এভাবে সংশয়-সন্দেহ করতে দেখা যায়নি। ডারউইন নিজেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি একটি চরম অবাস্তব তত্ত্ব বা মতবাদ প্রস্তাব করছেন।

Long before having arrived at this part of my work, a crowd of difficulties will have occurred to the reader. Some of them are so grave that to this day I can never reflect on them without being staggered; but, to the best of my judgment, the greater number are only apparent, and those that are real are not, I think, fatal to my theory.

These difficulties and objections may be classed under the following heads:-Firstly, why, if species have descended from other species by insensibly fine gradations, do we not everywhere see innumerable transitional forms? Why is not all nature in confusion instead of the species being, as we see them, well defined?

Secondly, is it possible that an animal having, for instance, the structure and habits of a bat, could have been formed by the modification of some animal with wholly different habits? Can we believe that natural selection could produce, on the one hand, organs of trifling importance, such as the tail of a giraffe, which serves as a fly-flapper, and, on the other hand, organs of such wonderful structure, as the eye, of which we hardly as yet fully understand the inimitable perfection?

Thirdly, can instincts be acquired and modified through natural selection? What shall we say to so marvellous an instinct as that which leads the bee to make cells, which have practically anticipated the discoveries of profound mathematicians?

But, as by this theory innumerable transitional forms must have existed, why do we not find them embedded in countless numbers in the crust of the earth?

If it could be demonstrated that any complex organ existed, which could not possibly have been formed by numerous, successive, slight modifications, my theory would absolutely break down.

As natural selection acts by life and death, by the preservation of individuals with any favourable variation, and by the destruction of those with any unfavourable deviation of structure, I have sometimes felt much difficulty in understanding the origin of simple parts, of which the importance does not seem sufficient to cause the preservation of successively varying individuals. I have sometimes felt as much difficulty, though of a very different kind, on this head, as in the case of an organ as perfect and complex as the eye.

Although we must be extremely cautious in concluding that any organ could not possibly have been produced by successive transitional gradations, yet, undoubtedly, grave cases of difficulty occur. One of the gravest is that of neuter insects, which are often very differently constructed from either the males or fertile females. The electric organs offer another and even more serious difficulty; for they occur in only about a dozen fishes, of which several are widely remote in their affinities.

Many instincts are so wonderful that their development will probably appear to the reader a difficulty sufficient to overthrow my whole theory.

Source: http://www.talkorigins.org/faqs/origin.html

৪ comments

Skip to comment form

  1. 3
    Rafiur Rahman

    অনেক ধন্যবাদ। ডারউইনের মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কিত তত্ত্বটি যে ভুল তা প্রকাশ করার জন্য। এই সত্যটি আমাদের আরও বেশি করে প্রচার করতে হবে যে, ডারউইনের মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কিত তত্ত্বটি বৈজ্ঞানিক ভাবে পুরােপুরি ভুল।

  2. 2
    সজল আহমেদ (পাঠক)

    এইভাবে স্যার চার্লস ডারউইনের সংশয় প্রকাশ করে বিবর্তনবাদীদের ধূতি উন্মোচন করার প্রতিবাদ না জানিয়ে তো দেখছি আর পারা গেলনা।

    বিবর্তনবাদ নিয়ে স্যার চার্লস ডারউনের সংশয় উন্মোচনের জন্য আপনার লেখালেখির অধিকার কাইরা নেওয়া হোক।

    আর যারা চোখ থাকতেও স্যার চার্লস ডারউইনের এই সংশয়গুলোকে অবজ্ঞা করে তাদের কি বলা যায়? অন্ধ? নাকি ভণ্ড?

    ধন্যবাদ লেখাটি উপহার দেয়ার জন্য। এই লেখার উপর ভিত্তি করে তার বইয়ের স্ক্রীনশটগুলো সংগ্রহ করলাম।

  3. 1
    শাহবাজ নজরুল

    ডারউইন অন্তত হালের বিজ্ঞান-ব্যবসায়ীদের মতো বিজ্ঞানমনস্ক(?) ছিলেন না। অথচ ডারউইনের নিজের সংসয়্গুলোকে চাপা দিয়ে কেবল যতটুকু দরকার ততটুকু নিয়ে তারা বিবর্তনবাদের ঝান্ডা ওঠাতে চায়। মুক্তমনারা আসলেই আদতে বিজ্ঞান-ব্যবসায়ী।

    1. 1.1
      এস. এম. রায়হান

      ঠিক বলেছেন। ডারউইনের "প্রজাতির উৎপত্তি" নামক বইয়ের উপসংহারে আরেকটি দারুণ জিনিসের সন্ধান পেয়েছি যেটি বাংলা বিবর্তনবাদীদের সকলেই চেপে গেছে। আর রিচার্ড ডকিন্স চাপাবাজির আশ্রয় নিয়ে সেটিকে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন! এ প্রসঙ্গে অন্য একটি লেখায়।

Leave a Reply to শাহবাজ নজরুল Cancel reply

Your email address will not be published.