«

»

Mar ২৩

“আলেম-উলামা সমাজ” নিয়ে কিছু কথা

ব্রাহ্মণ পুরোহিততন্ত্র বা ব্রাহ্ম সমাজের মতো "আলেম-উলামা সমাজ" নামে একটি সমাজের কথা মাঝে মাঝেই শোনা যায়। "আলেম-উলামা সমাজ"-এর নামে বিভিন্ন ধরণের ফতোয়াও দেখা যায়। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে "আলেম-উলামা সমাজ"-কে রাস্তায় নামতেও দেখা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে:

– ভারতীয় উপমহাদেশে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ নারী যৌতুকের বলি (খুন ও নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার) হওয়া সত্ত্বেও সেই "আলেম-উলামা সমাজ"-কে কখনো রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি কেন?

– ভারতীয় উপমহাদেশে এত ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটা সত্ত্বেও সেই "আলেম-উলামা সমাজ"-কে কখনো রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি কেন?

– ভারতীয় উপমহাদেশে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ কন্যা শিশুর ভ্রুণ হত্যা এবং অনেক ক্ষেত্রে জন্মের পর হত্যা নিয়ে সেই "আলেম-উলামা সমাজ"-কে কখনো রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি কেন?

– বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সুদ-ঘুষের কারবারের বিরুদ্ধে সেই "আলেম-উলামা সমাজ"-কে কখনো রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি কেন?

– তরুণ সমাজের একাংশ যে বিভিন্ন কারণে ইসলামের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে, এবং অবশেষে মিশন্যারীদের ফাঁদে পড়ে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে – এ ব্যাপারে "আলেম-উলামা সমাজ" কোনো রকম পদক্ষেপ নিয়েছে কি-না?

– ইসলামের বিরুদ্ধে সারা বিশ্ব জুড়ে কলম যুদ্ধ বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রপাগ্যাণ্ডার ব্যাপারে "আলেম-উলামা সমাজ" কী ধরণের ভূমিকা নিয়েছে? কথায় কথায় কতলের ফতোয়া দেয়া ছাড়া তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক কোনো ভূমিকা আছে কি?

– এই "আলেম-উলামা সমাজ"-কে সকল প্রকার সমালোচনা ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে কারা রেখেছেন?

১১ comments

Skip to comment form

  1. 10
    Anonymous

    আমার মনেহয় এই লেখাটি নিরোপেক্ষ দৃস্টি তে লেখা হয়নি তাই শুধু আলেমদের দোষ দেখানো হয়েছে অথচ এই উপমহাদেশে আলেমদের অনেকঅবদান রয়েছে যা আমার সম্মনিত ভায়ের দৃস্টিতে ধরা দেয়নি

  2. 9
    মিলন

    বর্তমানের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটা লেখা। আমাদের দেশ দূর্নিতীতে চ্যাম্পিয়ান হয়, ৫ বছরের মেয়ে গন ধর্ষনের শিকার হয়, চাকরীর কথা ছেড়েই দিলাম, ইদানিং স্কুল কলেজে ভর্তির জন্যও ঘুষ প্রদান করতে হয়, সমাজ ব্যবস্থায় প্রতিটা স্তরে দুর্নিতী যেন আদর্শ নীতি। এসব নিয়ে আলেম ওলামা গন ধর্ম গ্রন্থ হাতে নিয়ে রাস্তায় নামে না। অথচ একজন মানুষ ধর্মের বিরুদ্ধে কোন কথা বললেই, তাকে ধর্মের শত্রু মনে করে হত্যার ফতুয়া দিয়ে রাস্তায় নামা যায়।

    প্রতিটা মানুষই জন্মেরর পর হতে পারিবারিক ভাবে ধর্মীয় শিক্ষায় প্রাথমিক শিক্ষা দেয়া হয়। তখন হতেই সে আস্তিক হয়ে বড় হতে থাকে। কিন্তু জীবনের কোন একটা পর্যায়ে হয়তো সে নিজেকে নাস্তিক পরিচয় দিতে পারে। তাকে বুঝানোর জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। ব্যবস্থা একটাই, ধরে হত্যা কর। আজব কান্ড কারখানা।

  3. 8
    Shishir Islam

    ভাই, বর্তমান পৃথিবীতে আলেম সমাজ অত্যন্ত নিরীহ । কারণ, আলেম সমাজের কেউই তার মাদ্রাসার বাইরে কিছু করার সাহস পায়না । যেমন হেফাজতে ইসলামের অবস্থাটা দেখুন, মুসলিম ব্রাদারহুডের অবস্থাটা দেখুন । দেশে অনৈসলামিক কর্মকান্ডের বিরোধীতা করলেই তাদের কে গুম করা হয় । তাদেরও তো জীবন আছে । যদি কলেজ ভার্সিটির অধিক সংখ্যক ছেলেরা আলেম সমাজদের সাথে থাকত তাহলে আলেম সমাজ অনেকটা এগিয়ে থাকত । কারণ বর্তমান যুগে যা করার কলেজ ভার্সিটার ছেলেরাই করতে হবে আর আলেম সমাজ আমাদের কে সঠিক পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে । কলেজ ভার্সিটির ছেলেদের উচিত আলেমদের সাথে মিলে কাজ করা । তাহলেই তারা এগিয়ে যেতে পারবে ।

  4. 7
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    চিন্তার কথা বটে।
    সার্বিক সমাজের ধারাকে অস্বীকার করে সত্য উচ্চারন করা কঠিন। দিন শেষে সবাই মানুষ। সবাইকে খেয়ে পড়ে বাঁচতে হয়।
     

  5. 6
    মহিউদ্দিন

    পোস্টে উল্লেখিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তাদের কোনো ভূমিকা আছে কি? যদি বিশেষ কোনো ভূমিকা না থাকে তাহলে আর দশ জন সাধারণ মুসলিমদের সাথে তাদের পার্থক্য কী?

    এসব বিষয়  ভূমিকা না থাকার কারণ আমাদের দেশের অধিকাংশ আলেম ওলেমাদের কোন বিকল্প আয়ের উৎস নাই ।  

    ধর্মীয় আনাষ্ঠানিকতার কাজকে  তাদের একমাত্র পেশা হিসাবে গ্রহন করায়  তারা নিজেদেরকে সমাজের মূল ধারা থেকে অনেক দূরে সরিয়ে ফেলেছেন। হয়তবা সে জন্য সমাজের অন্যান্য বিষয়ে ভূমিকা রাখা তাদের দায়িত্ব নয় মনে করেন।  

  6. 5
    এস. এম. রায়হান

    'রাস্তায় নামা'টা একটি উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থে রাস্তায় নামা বুঝানো হয়নি। রাস্তায় নামা ছাড়া পোস্টে উল্লেখিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তাদের কোনো ভূমিকা আছে কি? যদি বিশেষ কোনো ভূমিকা না থাকে তাহলে আর দশ জন সাধারণ মুসলিমদের সাথে তাদের পার্থক্য কী?

  7. 4
    omar faruk

    ! নিজের দোষ অন্যের উপর চাপানোর অভ্যাস ভালোই আছে আমাদের ! আরে মিঞা আপনি কয়বার রাস্তায় নামছেন ,অনলাইন ছাড়া ! নামলে দেখতেন ! তছলিমা নাছরিনরে দেশ থেকে বিতারিত করার কৃতিত্ব কাদের ,আরও আছে ? ইতিহাসে একটু চোখ রাইখখেন ?

    1. 4.1
      এস. এম. রায়হান

      অপরিচিত কাউকে 'মিঞা' বলার শিক্ষা কে দিয়েছে? আপনি নিজে কি কোনো 'আলেম/উলামা' নাকি তাদের চেলা? আর একজন মেয়েকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার কৃতিত্ব দেখাচ্ছেন? চরম লজ্জাস্কর কথা। তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করে ইসলামের কোনো উপকার তো হয়-ইনি, বরং আপনারা তাকে আন্তর্জাতিক সেলেব্রিটি বানিয়ে দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের দাবার ঘুঁটি হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

  8. 3
    Arif

    কথা সত্য কিন্তু সব বিষয়েতো আর রাস্তায় নামা যায়না।
    আসলে যখন মৌলিক কোন বিষয়ে আঘাত হানা হয়
    তখনই কেবল আলেম ওলামা রাস্তায় নামে।

  9. 2
    আরিফ

    রায়হান ভাই আপনার অভিযোগ সত্যি। কিন্তু শুধু আলেম -ওলামাদের দোষ দিলে হবে না। এদেশের শ্রদ্ধেও আলেম-ওলামাগন সত্যিকার অর্থে সমাজের মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা মাদ্রাসাতে তালিম-তরবিওত, হাদীস-কোরান চর্চায় ব্যাস্ত থাকেন। কিন্তু মাদ্রাসার বাইরের সাধারন জনসমাজের সামনে ইসলাম ধর্মকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার মত অবস্থায় তারা নেই।  আমরা যারা কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া, বা অন্য শিক্ষায় শিক্ষিত, মোটামুটি ইসলাম ধর্ম অনুসরন করার চেষ্টা করি তারাও কিন্তু শ্রদ্ধেও আলেম-ওলামাদেরকে অনেকটা এড়িয়েই চলি। ফলে বর্তমান আলেম সমাজের সাথে আমাদের একটা গ্যাপ তৈরী হয়েছে। কিন্তু তাদের প্রতি শ্রদ্ধা হারালে চলবে না।

    আমি মনে করি আমাদেরকে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিটা এলাকায় এমন ধরনের স্কুল চালু করতে হবে যেখানে , প্রচলিত স্কুল শিক্ষার পাশাপাশি কোরান , হাদীস , ইসলামের ইতিহাসের জ্ঞান ইত্যাদি শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।আজকাল আমাদের সন্তানেরা যারা স্কুল, কিন্টারগার্ডেন,কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে পড়ে তাদের সঠিক ইসলামী শিক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। শুধুমাত্র পারিবারিকভাবে যতটুকু শিক্ষা দেয়া হয় ততটুকুই তারা পায়।  

    সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে  প্রতিটা মহল্লায় উদ্যেগ নিয়ে এমন ধরনের ইসলামিক স্কুল-কলেজ স্থাপন করতে হবে যেখানে একজন ছাত্র-ছাত্রী প্রচলিত পাঠ্যপুস্তকের সাথে সাথেই সঠিকভাবে ইসলামী শিক্ষা লাভ করতে পারবে। ইসলামের শিক্ষা শুধু মাদ্রাসাতেই আবদ্ধ থাকবে এমনটি নয়। এক্ষেত্রে ডাঃ জাকির নায়েক কে অনুসরন করা যেতে পারে। যতটুকু যানি তিনি ভারতে বেশ কয়েকটি এ ধরনের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন।

    তাছাড়া নাস্তিকতাকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবেও আমাদের মোকাবেলা করা প্রয়োজন। তথাকথিত মুক্তমনারা যেসব বিভ্রান্তি ছড়ায়, সেগুলোর সাথে আমাদের সন্তানদেরকে পরিচিত করতে হবে। আমি মনে করি মুক্তমনা ব্লগের ইসলাম বিদ্যেষী লিখাগুলো আমাদের সন্তানদের পড়ানো উচিত। তারপর সুন্দরভাবে যুক্তি দিয়ে তাদের আলোচনার অসারতা তুলে ধরতে হবে। 

    বিবির্তনবাদ যে কতটা অবৈজ্ঞানিক আর অযৌক্তিক -- তা ছোটবেলা থেকেই আমাদের সন্তানদেরকে বোঝাতে হবে। 

      

  10. 1
    অনুরাগী

    স্বার্থ! সব জায়গায় স্বার্থের কারবার তাই সব কিছু নিয়া সব সময় রাস্তায় নামা যায় না……………।

    সুন্দর লেখা-চোখে আঙ্গুল দেয়ার মত যদি কার তন্ত্রা ভাঙ্গে সেই কামনায়।

    ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.