«

»

Apr ১২

বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে রিচার্ড ডকিন্সের যুক্তি-প্রমাণ

নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঘা বাঘা অধ্যাপকদের মধ্যে অন্যতম রিচার্ড ডকিন্সকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নাই নিশ্চয়! তাছাড়া উনি ডারউইনের বর্তমান যুগের একজন বুলডগ-ও বটে। সেই বুলডগ রিচার্ড ডকিন্স “The Greatest Show on Earth: The Evidence for Evolution” নামে একটি বই লিখেছেন। বইটাতে বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে ‘Massive evidence’ উপস্থাপন করার দাবি করা হয়েছে। বইটার নাম দেখেই বুঝতে পারছেন! নামের প্রথমাংশ দেখে মনে হবে বিশাল কোনো কনসার্টের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে! তো দেখা যাক রিচার্ড ডকিন্স আসলে কী ধরণের ‘যুক্তি-প্রমাণ’ উপস্থাপন করেছেন।

১. রিচার্ড ডকিন্সের এই বইয়ের শুরু থেকে জায়গায় জায়গায় যে 'যুক্তি'টাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে সেটি হচ্ছে- ইতিহাস! উনি বিবর্তনকে ইতিহাসের সাথে তুলনা করে বিবর্তনে অবিশ্বাসীদেরকে বারংবার 'ইতিহাস-অস্বীকারকারী (History-deniers)' বলে আক্রমণ করেছেন। উনার কাছে বিবর্তনকে অস্বীকার করা আর ইতিহাসকে অস্বীকার করা একই কথা! উদাহরণ হিসেবে বিবর্তনকে 'হলোকাস্ট'-এর সাথে তুলনা করা হয়েছে! 'হলোকাস্ট'-কে অস্বীকার করা তো দূরে থাক, এটা নিয়ে সংশয়-সন্দেহ করারই বা কার সাধ্য আছে! আর বাংলা দাসদের কথা তো বলাই বাহুল্য! একটি নমুনা দেখুন-

Evolution is a fact. Beyond reasonable doubt, beyond serious doubt, beyond sane, informed, intelligent doubt, beyond doubt evolution is a fact. The evidence for evolution is at least as strong as the evidence for the Holocaust, even allowing for eye witnesses to the Holocaust. It is the plain truth that we are cousins of chimpanzees, somewhat more distant cousins of monkeys, more distant cousins still of aardvarks and manatees, yet more distant cousins of bananas and turnips…continue the list as long as desired. [The Greatest Show On Earth, p.8]

রিচার্ড ডকিন্সের কথাবার্তা শুনে ঢাকার রাস্তার মলম বিক্রেতাদের মতো মনে হয় না? বিবর্তন কেমন ধরণের 'ফ্যাক্ট' সেটা বুঝানোর জন্য রিচার্ড ডকিন্স আরো বলেছেন-

Evolution is a fact in the same sense as it is a fact that Paris is in the Northern Hemisphere. [The Greatest Show On Earth, p.10]

😀 আরো লক্ষ্যণীয়-

If the history-deniers who doubt the fact of evolution are ignorant of biology, those who think the world began less than ten thousand years ago are worse than ignorant, they are deluded to the point of perversity. They are denying not only the facts of biology but those of physics, geology, cosmology, archaeology, history and chemistry as well. [The Greatest Show On Earth, p.85]

খ্রীষ্টানদের কিছু বিশ্বাসকে পুঁজি করে বিবর্তনবাদী মোল্লারা দীর্ঘদিন ধরে বাকি সবাইকে ঢালাওভাবে আক্রমণ করে বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আর বিবর্তন তত্ত্বকে অস্বীকার করা মানে নাকি বিজ্ঞানের সকল শাখাকেই অস্বীকার করা! ছাগলামী আর কারে বলে! খিস্তিখেউরও লক্ষ্যণীয়।

২. রিচার্ড ডকিন্সের এই বইটাতে "Evolution is a fact" নামক মন্ত্রটা যে কতবার যপা হয়েছে তার কোনো হিসাব নাই! তথাপি উনি খুব ভালো করেই জানেন যে, এই মন্ত্রটা যতবারই যপা হোক না কেন, বাস্তবে বিবর্তন তো পর্যবেক্ষণযোগ্য নয়! এজন্য দ্বিতীয় যে 'যুক্তি' দিয়ে পাঠকদেরকে কনভিন্সড করার চেষ্টা করা হয়েছে সেটি এরকম: একটি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর গোয়েন্দারা যেমন স্পট থেকে বিভিন্ন নমুনা (পায়ের ছাপ, আঙ্গুলের ছাপ, ডিএনএ, ইত্যাদি) যোগাড় করে অপরাধীকে সনাক্ত করেন, বিবর্তনের ক্ষেত্রেও তেমনি অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার (বিবর্তনের) 'নমুনা' থেকে বিবর্তনকে প্রমাণ করা সম্ভব! এ প্রসঙ্গে রিচার্ড ডকিন্স বলেছেন-

We are like detectives who come on the scene after a crime has been committed. The murderer's actions have vanished into the past. The detective has no hope of witnessing the actual crime with his own eyes. In any case, the gorilla-suit experiment and others of its kind have taught us to mistrust our own eyes. What the detective does have is traces that remain, and there is a great deal to trust there. There are footprints, fingerprints (and nowadays DNA fingerprints too), bloodstains, letters, diaries. The world is the way the world should be if this and this history, but not that and that history, led up to the present. [The Greatest Show On Earth, p.16]   

এই 'অপরাধী ও গোয়েন্দা' যুক্তিটাও অনেক জায়গায় পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এই ধরণের যুক্তি অজ্ঞ-মূর্খ পাঠকদেরকে 'কনভিন্সড' করার ধান্দা ছাড়া কিছু নয়। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর স্পট থেকে নমুনা যোগাড় করে অপরাধীকে সনাক্ত করা, আর কোটি কোটি বছর ধরে ধীর গতিতে (!) অতীতে ঘটে যাওয়া (যদিও বাস্তবে ঘটেইনি!) জীবজগতের বিবর্তন প্রমাণ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। এইটা কলা দেখিয়ে কাঁঠালের অস্তিত্ব প্রমাণ করার মতো কিছু একটা আরকি।

৩. রিচার্ড ডকিন্সের বইয়ের জায়গায় জায়গায় ক্রিয়েশানিস্টদেরকে বিভিন্নভাবে আক্রমণ ও হেয় করে বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে 'যুক্তি' জোরদার করা হয়েছে। তবে যে'সকল জায়গায় খ্রীষ্টান ক্রিয়েশানিস্টদের প্রসঙ্গ এসেছে সেই সকল ক্ষেত্রে 'খ্রীষ্টান ক্রিয়েশানিস্ট' না বলে শুধু তাদের নাম বলা হয়েছে। অন্যদিকে মুসলিমদের ক্ষেত্রে 'ইসলামিক ক্রিয়েশানিস্ট' বা 'মুসলিম অ্যাপোলজিস্ট' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। যেমন-

I have seen an Islamic creationist ask truculently why there are no crocoducks. And, second, 'I'll believe in evolution when I see a monkey give birth to a human baby.' This last one makes the same mistake as all the others, plus the additional one of thinking that major evolutionary change happens overnight. [The Greatest Show On Earth, p.151] 

An equally ludicrous example is to be found in the Muslim apologist Harun Yahya's enormous, lavishly produced, glossily illustrated and fatuously ignorant book Atlas of Creation. [The Greatest Show On Earth, p.154]

এভাবে 'ইসলামিক ক্রিয়েশানিস্ট' বা 'মুসলিম অ্যাপোলজিস্ট' নামে 'হালকা' দু-একটি কথা তুলে ধরে বুঝাতে চাওয়া হয়েছে যে, মুসলিমরা বিবর্তন নিয়ে এই ধরণের 'হালকা' প্রশ্ন বা যুক্তিই দিয়ে থাকে! এগুলো হচ্ছে চালাকি-চতুরী। বিজ্ঞানে কি চালাকি-চতুরতার কোনো স্থান আছে?

এভাবে বইটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জায়গায় জায়গায় উপরোল্লেখিত 'যুক্তি'গুলো পুনরাবৃত্তি করে এবং মাঝে মাঝে ক্রিয়েশানিস্টদের নিয়ে খিস্তিখেউর করে পাঠকদেরকে কনভিন্সড করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই পর্যায়ে এসে পাঠকরা হয়তো মনে মনে বলছেন, আরে বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে রিচার্ড ডকিন্সের যুক্তি-প্রমাণ কোথায়! হ্যাঁ, বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে অনেক 'যুক্তি-প্রমাণ' দেয়া হয়েছে। তবে এতদিন ধরে আপনারা যা শুনে এসেছেন সেগুলোরই পুনরাবৃত্তি মাত্র! যেমন: ফসিল রেকর্ড, নিষ্ক্রিয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, ডিএনএ-র ভিত্তিতে হোমোলজি, ইত্যাদি। এই ধরণের তথাকথিত 'যুক্তি-প্রমাণ' অনেক আগেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কিন্তু বিবর্তনবাদকে প্রচলিত ধর্মের বিরুদ্ধে আরেকটি ধর্ম বানিয়ে ফেলার কারণে তারা সেগুলোকে ছাড়তে পারছেন না। আগ্রহী পাঠক নিচের ভিডিও থেকে এই বইটির উপর রিচার্ড ডকিন্সের লেকচার (কবিতা আবৃতি!) শুনতে পারেন।

৪ comments

Skip to comment form

  1. 4
    Desi Barta

    বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে রিচার্ড ডকিন্সের যুক্তি-প্রমাণ:

    আসসালামু আলাইকুম

    যেটার জবাব আসলে ডারউইনের এতদিন পরেও বিবর্তনবাদীরা দিতে পারেনি। ডারউইন কিংবা নিও-ডারউইন উভয় ক্ষেত্রেই Natural Selection এর মাধ্যমে যোগ্যতর Variation বেঁচে থাকে বলে বলা হয়েছে – কোথাও Species Boundary Cross করার কথা বলা হয়নি। 

    Crossing species boundary আসলে বিবর্তন তত্ত্বে কোথাও নাই – অথচ এটাই নাকি Origin of All Species এর সূত্র।

    জেনে খুব আনন্দিত হলাম!

  2. 3
    Monowar Bin Zahid

    আসসালামু আলাইকুম
    বিবর্তনবাদ নিয়ে সদালাপে যতো গুলি লেখা রয়েছে ঐ সব গুলি পড়ে কি একজন মানুষ পুরো-পুরি বিশ্বাস করতে পারবে যে এই মতবাদ একটি কল্প-কাহিনী? অর্থাৎ লেখা গুলি কি এমন যে তা একজন মানুষকে ‘বিবর্তনবাদ’ এর স্বরূপ দেখাতে পারবে? আশা করে এই ব্যাপারে মতামত জানাবেন।

  3. 2
    সজল আহমেদ

    বিবর্তনবাদীদের পরমেশ্বর ডকিন্স সাহেবের প্যান্ট খুলে দিবে স্বয়ং স্যার চার্লস ডারউইন নিজেই:

    স্যার চার্লস ডারউইনের পল্টি নং ১

    স্যার চার্লস ডারউইনের পল্টি নং ২

    স্যার চার্লস ডারউইনের পল্টি নং ৩

    স্যার চার্লস ডারউইনের পল্টি নং ৪

    স্যার চার্লস ডারউইনের পল্টি নং ৫

  4. 1
    শাহবাজ নজরুল

    রিচার্ড ডকিন্স প্রতিপক্ষকে যে প্রশ্নটা করতে বলে তা হচ্ছে -- 

    Show me the evidence.

    আর এখানে ডকিন্স সাহেবের যে এভিডেন্সের সমাহার দেখলাম -- বলিহারি।

    রিচার্ড ডকিন্সের কথাবার্তা শুনে ঢাকার রাস্তার মলম বিক্রেতাদের মতো মনে হয় না? 

    আলবৎ।

    I'll believe in evolution when I see a monkey give birth to a human baby.

    এই মতামত দিয়ে আসলে মুসলিম এপলোজেটিক বলতে চেয়েছেন, "Show me that evolution crosses species boundary."

    যেটার জবাব আসলে ডারউইনের এতদিন পরেও বিবর্তনবাদীরা দিতে পারেনি। ডারউইন কিংবা নিও-ডারউইন উভয় ক্ষেত্রেই Natural Selection এর মাধ্যমে যোগ্যতর Variation বেঁচে থাকে বলে বলা হয়েছে -- কোথাও Species Boundary Cross করার কথা বলা হয়নি। 

    Crossing species boundary আসলে বিবর্তন তত্ত্বে কোথাও নাই -- অথচ এটাই নাকি Origin of All Species এর সূত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published.