«

»

Oct ১৯

পাশাপাশি দুইটা অন্যায় চলছে…

পাশাপাশি দুইটা অন্যায় চলছে:

১. বিচার-বহির্ভূত চোরাগুপ্তা হত্যা – যেটিকে আবার ইসলামের নামে জাস্টিফাই করা হচ্ছে। বিচার-বহির্ভূত হত্যা যেকোনো আইনে অন্যায়। এমনকি হাতেনাতে ধরা পড়া ধর্ষক বা দাগী খুনের আসামীকেও বিচার-বহির্ভূতভাবে হত্যা করা অন্যায়। পিরিয়ড। আর এগুলো দেখার দায়িত্ব পুলিশ-প্রসাশনের। আমজনতার এখানে কিছুই করার নাই।

২. রাজীব (থাবা বাবা), অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবুর মতো ধর্ম-বিদ্বেষী নাস্তিকদের উপর হামলার পর কোনো তদন্ত হওয়ার আগেই হামলাকারীদেরকে 'ইসলামিক জঙ্গি' (ইসলাম=জঙ্গিবাদ, খেয়াল কৈরা) তথা ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে যাদের উপর হামলা করা হচ্ছে তাদের আসল পরিচয় গোপন করে 'বিজ্ঞানী', 'বিজ্ঞান লেখক', 'বিজ্ঞানমনস্ক', 'মানবতাবাদী', 'মুক্তচিন্তার চর্চাকারী', 'প্রগতিশীল', 'সমাজকর্মী' ইত্যাদি মিথ্যা পরিচয়ে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এইটা কি মগের মুল্লুক না মোদির মুল্লুক? বাংলাদেশে এই কালচার সর্বপ্রথম শুরু করেছে অভিজিৎ রায়। হামলাকারীরা যদি ধর্মীয় পরিচয় অনুযায়ী 'ইসলামিক জঙ্গি' হয় তাহলে যাদের উপর হামলা করা হয়েছে তারা অবশ্যই 'ইসলাম বিদ্বেষী' হতে হবে – অর্থাৎ ইসলাম বিদ্বেষীতার কারণেই তাদের উপর হামলা করা হয়েছে – ঠিক কি-না? অথচ অভিজিৎ রায় বাংলাদেশে যে মোদির মুল্লুক সৃষ্টি করে গেছে সেই মুল্লুকে হামলাকারীরা বাই-ডিফল্ট 'ইসলামিক জঙ্গি', আর যাদের উপর হামলা করা হচ্ছে তারা বাই-ডিফল্ট 'বিজ্ঞানী', 'বিজ্ঞান লেখক', 'বিজ্ঞানমনস্ক', 'মানবতাবাদী', 'মুক্তচিন্তার চর্চাকারী', 'প্রগতিশীল', ইত্যাদি। বাম-নাস্তিক মিডিয়াগুলোও অ্যান্টি-বাম অভিজিতের শেখানো বুলিই প্রচার করছে। দিনে-দুপুরে এই ধরণের শঠতার কারণে প্রকৃত সমস্যা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে, আর একের-পর-এক ব্লগার আক্রমণের শিকার হচ্ছে। কথায় বলে- নগর পুড়িলে দেবালয় এড়ায় না। অভিজিৎ রায় যে ধর্মযুদ্ধটা শুরু করে গেছে, এইটা তারই দাবি, সেই যুদ্ধের শিকার এখন আপাত নিরীহ লোকজনও হচ্ছে।

সচেতন জনগণের উচিত এই দুই অন্যায়ের বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়ানো।

১০ comments

Skip to comment form

  1. 8

    কোন কিছু হলেই এরা ধর্ম টেনে নিয়ে আসে।বিশেষ করে ইসলাম।দেখা যায় গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্টস এর আগেই পত্রিকায় চলে আসে ‘অমুক ইসলামী দলের হাতে অমুক খুন’ কোন রাজনীতিবিদ আগেই বলে দিচ্ছেন কোন দল হত্যার জন্য দায়ী।আরও হাবিজাবি কত কি!!
    আবার এই নাস্তিকদেরই বুদ্ধিজীবী,শহীদ ইত্যাদি পদে ভূষিত করা হচ্ছে।
    যারা সত্য আড়ালকারী নিশ্চয় এরা মুনাফিক।

  2. 7
    এস. এম. রায়হান

    ধরা যাক, একটি হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকারীরা নিজেদেরকে মুসলমান দাবি করে টুইটারে মেসেজ দিয়েছে এই বলে যে, তারা একজন ধর্ষককে হত্যা করেছে। এক্ষেত্রে পয়েন্টস টু বি নোটেড:

    ১. তারা নিজেদেরকে মুসলমান দাবি করেছে।

    ২. তারা একজন ধর্ষককে হত্যা করার দাবি করেছে।

    যুক্তিবিদ্যা অনুযায়ী তাদের ১ম দাবিকে সত্য হিসেবে ধরে নিলে ২য় দাবিকেও সত্য হিসেবে ধরে নিতে হবে। এবার ধরা যাক, এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে মিডিয়াতে খবর প্রচার করা হলো এভাবে,

    "ইসলামিক (?) জঙ্গিরা একজন পথচারীকে হত্যা করেছে…"

    প্রথমত- লক্ষণীয়, এখানে এক পক্ষকে 'ধর্মীয় পরিচয়ে' এবং অন্য পক্ষকে 'নিরীহ মানুষ' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে।

    দ্বিতীয়ত- হত্যাকারীরা একজন ধর্ষককে হত্যা করার দাবি করলেও মিডিয়াতে বলা হচ্ছে একজন পথচারীকে হত্যা করা হয়েছে। 'ধর্ষক' আর 'পথচারী' কি এক জিনিস?

    ইসলামবিদ্বেষীদের হত্যার খবরগুলোও বাম-নাস্তিক মিডিয়াতে ঠিক এভাবেই প্রচার করা হচ্ছে। হত্যাকারীরা টুইটার মেসেজে নিজেদেরকে মুসলমান দাবি করে বলছে যে, তারা ইসলামবিদ্বেষীকে হত্যা করেছে। অথচ মিডিয়াতে হত্যাকারীদের সূত্র দিয়েই বলা হচ্ছে,

    "ইসলামিক (?) জঙ্গিরা একজন বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে…"

    এই ধরণের প্রতারণামূলক কৌশল শুরু করেছে নাস্তিকরূপী অভিজিৎ রায়। ইসলামিক (?) জঙ্গিরা বিজ্ঞানীকে হত্যা করছে! ইসলামিক (?) জঙ্গিদের দাবিকে সত্য হিসেবে ধরে নিলে 'ইসলামবিদ্বেষী' কী করে 'বিজ্ঞানী' হয়ে যায়? অথচ হত্যাকারীদের সূত্র অনুযায়ী সঠিক খবর হওয়া উচিত ছিল,

    "মুসলমান দাবিদার জঙ্গিরা একজন ইসলামবিদ্বেষীকে হত্যা করার দাবি করেছে…"

    এভাবে বাম-নাস্তিক মিডিয়াগুলোতেও রাজনৈতিক স্বার্থে সত্যকে আড়াল করে প্রকৃত সমস্যাকে জিঁইয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। অবশ্য দিনে-দুপুরে মিথ্যাচার করতে যেয়ে তারা নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারছে!

    1. 7.1
      ব্লগারাদিত্য

      "মুসলমান দাবিদার জঙ্গিরা একজন ইসলামবিদ্বেষীকে হত্যা করার দাবি করেছে…"

      যথার্থই বলেছেন। কিন্তু দেশের অধিকাংশ মিডিয়াগুলোই পরিচালনা করে মুসলমানরা, তাহলে তারা কিসের স্বার্থে এই মিথ্যাচার করছে? 

      1. 7.1.1
        এস. এম. রায়হান

        প্রথম আলো ও বিডিনিউজ২৪-সহ এই ঘরানার প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো মুসলমানরা পরিচালনা করে, জানতাম না তো!

  3. 6
    এস. এম. রায়হান

    অ্যান্টি-বাম অভিজিতের ধর্মযুদ্ধে শরীক হয়ে বামেরা জ্বলেপুড়ে ছারখার হচ্ছে। বাম নাস্তিকরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বাংলাদেশে বামেরা এতো বেশি নিরাপত্তাহীন আগে কখনোই ছিল না। তবুও তাদের হুঁশ হচ্ছে না। তারা বরং অভিজিৎকে ‘ঈশ্বর’ বানিয়ে পূজা করছে আর ধর্মযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঙ্কার ছাড়ছে। অভিজিৎ কি আর সাধে তাদেরকে বামছাগল বলতো!

  4. 5
    শাহবাজ নজরুল

    একেবারে সঠিক বলেছেন। সার্বিক পরিস্থিতির সঠিক চিত্রায়ন কেবল আপনার লেখা তথা সদালাপেই পাওয়া গেল। বাকিরা সবাই আছে 'অর্ধসত্য' বলে ফায়দা লুটতে। 

     

  5. 4
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    খুবই অবাক লাগে বাংলাদেশের মিডিয়া অভিজিতদের আসল মিশনকে আড়াল করে বলে -- উনারা "ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে" লিখতেন। অভিজিত একজন বিজ্ঞান লেখক। সমস্যাটা এখানেই। 

  6. 3
    জামশেদ আহমেদ তানিম

    কে সচেতন? আপনি, আমি?

    অভিজিৎগং যেখানে নোবেল, অস্কার, গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত বিজ্ঞানী সেখানে তো আমরা জংগী গোষ্ঠীর লোক।

    আর সরকার এবং মেডিয়া যেন এদের পরম আত্মীয়।

  7. 2
    কিংশুক

    সব পক্ষ খেলায় লিপ্ত । নাস্তিক, ব্রাহ্মণ্যবাদী, আওয়ামী লীগ, এমনকি জামায়াতও স্ব স্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে পরিস্থিতি কাজে লাগানোর চেষ্টায় রত। মিডিয়ার চাপাবাজি দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। এর ফসল দীর্ঘ মেয়াদে বাম আওয়ামী লীগের জন্য কোন লাভ বয়ে আনবেনা। মিথ্যার উপর সাজানো প্রাসাদ এক সময় ভেঙে পড়ে। ভয় হলো যদি এর ফলে দেশে ভয়ংকর জংগিবাদ সত্যিই মাথাচাড়া দেয় তাতে আওয়ামী লীগকে কেউ আর সাহায্য দুরে থাক কেউ বিশ্বাসও করবেনা।

  8. 1
    Shahriar

    Fantastic write..
    Jajak-allah.

Comments have been disabled.