«

»

Nov ১৬

অভিজিৎ রায়ের ধর্মেও দলিত-শূদ্র ও হিন্দু নারীরা “অচ্ছুৎ” হিসেবে বিবেচিত হয়!

প্রথমত- অভিজিৎ রায় ছিল পারিবারিকসূত্রে একজন ব্রাহ্মণ। তাকে কখনো ব্রাহ্মণত্ব বিসর্জন দিয়ে 'এক্স-ব্রাহ্মণ' দাবি করতে দেখা যায়নি। এমনকি তার দীর্ঘ ১৪-১৫ বছরের লেখালেখির ইতিহাসে ব্রাহ্মণবাদের সমালোচনা (বিষোদগার তো দূরে থাক) করে কোনো লেখাও নাই।

দ্বিতীয়ত- দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকায় প্রায়ই দলিত-শূদ্রদের উপর উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের অমানবিক নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে শুরু করে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের খবর দেখা যায়। সবগুলো খবর অবশ্য জাতীয় পত্রিকায় আসে না। তবে ইন্টারনেটের কল্যানে এগুলো জানা যায়। অথচ অভিজিৎ রায়ের ১৪-১৫ বছরের লেখালেখির ইতিহাসে দলিত-শূদ্রদের অধিকার নিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাইটে ক্যাম্পেন করা তো দূরে থাক, এমনকি তার নিজ সাইটেও কোনো লেখা নেই! তার বিপরীতে ইসলাম বিদ্বেষকে 'মুক্তচিন্তার চর্চা' আখ্যা দিয়ে ইসলাম বিদ্বেষীদের বাকস্বাধীনতার পক্ষে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাইটে ক্যাম্পেন করা হয়েছে।

তৃতীয়ত- বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে বাংলাদেশের হিন্দু নারীরা আজ পর্যন্তও পিতা ও স্বামীর সম্পত্তির কোনো অংশ পায় না। স্বামীকে তালাক দেওয়া না নেওয়ার কোনো অধিকারও তাদের নেই। এমনকি তাদের বিয়ের লিখিত দলিল-পত্রও নাকি থাকে না। আর ভারতে সেক্যুলার আইনে কাগজে-কলমে কিছু অধিকার দেওয়া হলেও নারীদের বাস্তব অবস্থা বেশ শোচনীয়ই বলা যায়। অথচ অভিজিৎ রায়ের ১৪-১৫ বছরের লেখালেখির ইতিহাসে হিন্দু নারীদের অধিকার নিয়ে একটিও লেখা নেই! তার পরিবর্তে 'নারীবাদী' সেজে ইসলামে নারীদের অধিকার নিয়ে ১৪-১৫ বছর ধরে মায়াকান্না করা হয়েছে। ইসলামের নবী ও কোরআনকে বিভিন্নভাবে 'নারী-বিদ্বেষী' প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের নারীদের অধিকার নিয়েও মায়াকান্না করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ইরানিয়ান আইনে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত রেহানা জব্বারীর মৃত্যুদণ্ডকে পুঁজি করে আস্তিক রেহানা জব্বারীর জন্য মায়াকান্না করে ইসলামকে 'ভাইরাস' প্রমাণ করা হয়েছে।

avirus

অভিজিৎ রায় মুসলিম নামধারী নাস্তিক নারীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। কারো কারো সাথে ফোনেও কথা বলত। তাদেরকে লেখালেখির জন্য উৎসাহ যোগাত, তাগাদা দিত। লাভ জিহাদের শিকার তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে সে-ই লেখালেখিতে নামিয়ে দিয়েছে, যদিও প্রথম স্ত্রীকে কখনোই লেখালেখি করতে দেখা যায়নি! ফলস্বরূপ ডজন ডজন মুসলিম নামধারী শিক্ষিত নারী (সকলেই বাম-কম্যুনিস্ট ঘরানার) 'ইসলাম ত্যাগের' ঘোষণা দিয়ে একদিকে অভিজিৎকে 'ঈশ্বর' বানিয়ে পূজা করছে অন্যদিকে ইসলামের পেছনে লেগে আছে। উল্লেখ্য যে, আজ পর্যন্ত কোনো হিন্দু বা বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টান পরিবারের নারীকে নিজ ধর্ম ত্যাগের ঘোষণা দিয়ে অভিজিতের পূজা করতে দেখা যায়নি কিংবা নিজ নিজ ধর্মের বিরুদ্ধেও লিখতে দেখা যায়নি। লক্ষ্য করলে দেখবেন এ পর্যন্ত ডজন ডজন মুসলিম নামধারী নারী আইডি থেকে অভিজিতের মৃত্যু নিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। অথচ কোনো হিন্দু বা বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টান পরিবারের নারীকে অভিজিতের মৃত্যু নিয়ে পোস্ট দিতে দেখা যায়নি! কেন? কারণ, অভিজিৎ কখনো হিন্দু বা বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টান নারীদের অধিকার নিয়ে কিছু লিখেনি। তাদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগও রাখেনি। অভিজিতের মিশন ছিল মুসলিম নামধারীদেরকে নাস্তিকতায় ধর্মান্তরিত করে ইসলাম, মুসলিম, ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে অভিজিতের খৎনাধারী পূজারীদের প্রায় সকলেই ভাদাকার, কেউ কেউ তো গর্বিত ভাদা!

চতুর্থত- প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন কন্যা শিশুর ভ্রুণ হত্যা করা হচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জন্মের পর কন্যা শিশু দেখে হত্যা করার প্রমাণও আছে। অথচ কন্যা শিশুদের প্রতি এতবড় একটা অমানবিক ঘটনা নিয়ে 'নারীবাদী' অভিজিৎকে এক লাইনও লিখতে দেখা যায়নি। একইভাবে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী যৌতুক প্রথার বলী হচ্ছে, অথচ এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও 'নারীবাদী' অভিজিৎকে কখনো টু-শব্দটিও করতে দেখা যায়নি। কেননা এই বিষয় দুটি নিয়ে লিখতে গেলে সবার আগে বিশেষ একটি ধর্মাবলম্বীদের নাম চলে আসবে! সে কতটা ক্যালকুলেটিভ ছিল, ভেবে দেখুন! মজার ব্যাপার হচ্ছে তার ধর্মে ধর্মান্তরিত মুসলিম নামধারী নারীদেরও কাউকে এই দুটি বিষয়ে কিছু লিখতে দেখা যায়নি! তাদেরকে ধর্মান্তরিত করে কীভাবে দাস-দাসী-পূজারী বানিয়ে রাখা হয়েছে! অথচ মুক্তমনা ব্লগেই কিন্তু দেনমোহর প্রথার বিরুদ্ধে চরম বিষোদগার করা হয়েছে। মুসলিম নারীদেরকে 'বেশ্যা'ও বলা হয়েছে।

উপরোল্লেখিত পয়েন্টগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে, অভিজিৎ রায়ের 'মুক্তমনা' ধর্মে দলিত-শূদ্র ও হিন্দু নারীদের কোনো স্থান নেই। অভিজিৎ রায়ের ধর্মের সাথে তাহলে ব্রাহ্মণবাদী ধর্মের কোনো পার্থক্য আছে কি? ইতোমধ্যে সকলেই হয়তো জেনে গেছেন যে, হিন্দু ধর্মে আস্তিকতা, নাস্তিকতা (চার্বাক দর্শন), একেশ্বরবাদ, বহুশ্বরবাদ, নিরীশ্বরবাদ, ও মুক্তচিন্তার চর্চা-সহ সবই আছে। এই দাবি অভিজিতের ব্লগেও তার চোখের সামনেই একাধিকবার করা হয়েছে। অভিজিৎ কখনোই কোনো প্রতিবাদ করেনি। কেননা অভিজিৎ নিজেও একজন চার্বাক (চার্বাক দর্শনে বিশ্বাসী) ছিল, এমনকি চার্বাক নামে তার একটি ই-মেইল আইডিও ছিল, আর চার্বাক দর্শন হিন্দু ধর্মেরই অংশ। এজন্য মুক্তমনা ব্লগে চার্বাক দর্শনকে প্রমোটও করা হয়েছে!

১১ comments

Skip to comment form

  1. 6
    Monowar Bin Zahid

    ধর্মকে ‘ভাইরাস’ প্রমাণ না করে বরং ‘মানব-সৃষ্ট’ প্রমাণ করাই সহজ, যেমনটা করা হচ্ছে
    এই লিংকে

    1. 6.1
      আব্দুল আওয়াল সুমন

      ইসলাম সম্পর্কে স্বল্পজ্ঞানসম্পন্ন এবং যারা বিশ্বাস করে রাসূল (সাঃ) আলেমুল গায়েব ছিলেন তারা এসব পড়ে বিভ্রান্ত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

      “বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমণ্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়েবের খবর জানে না।” (নমলঃ ৬৫)

      “আমি যদি গায়েবের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম। ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না।” (আরাফঃ ১৮৮)

      আপনার দেয়া লিংকে কোরআনকে মুহাম্মদ (সাঃ) এর স্বরচিত দাবি করা হয়েছে। তাই আপনাকে সামান্য চিন্তার খোরাক দিচ্ছি:

      ** কোরআন শরীফে পূর্ববর্তী উম্মত, শরীয়ত ও তাদের ইতিহাস এমন পরিস্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সে যুগের ইহুদী- খ্রীস্টানদের পন্ডিতগন যাদেরকে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহের বিজ্ঞ লোক মনে করা হতো, তারাও এতটা অবগত ছিলেন না। রাসূল (সাঃ) এর কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, কোন শিক্ষিত লোকের সাহায্যও তিনি গ্রহণ করেন নি। এতদসত্ত্বেহ পৃথিবীর প্রথম থেকে তাঁর যুগ পর্যন্ত সমগ্র বিশ্ববাসীর ঐতিহাসিক অবস্থা এবং তাদের শরীয়ত সম্পর্কে অতি নিখুঁতভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা আল্লাহর কালাম ব্যতীত কিছুতেই তাঁর পক্ষে সম্ভব হতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহতা’লাই যে তাঁকে এ সংবাদ দিয়েছেন এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। তাই আল্লাহতা’লা এরশাদ করেনঃ

      “এরা কি লক্ষ্য করে না কোরানের প্রতি? এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরীত্য দেখতে পেত।” (নিসাঃ ৮২)

      ** বড়, ছোট এবং মাঝারি আকারের ১১৪ টি সূরা কোরআনে রয়েছে। সূরা বাক্বারা- ২৮৬ টি, আল ইমরান- ২০০ টি, আন নিসা- ১৭৬ টি, মায়িদা- ১২০ টি, আনআম- ১৬৫ টি আয়াত বিশিষ্ট, এছাড়া বড় অনেক সূরা রয়েছে। এসব সূরাগুলি পর্যায়ক্রমে একটির পর একটি নাযিল হয়নি। দীর্ঘ তেইশ বছরে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে কয়েক আয়াত করে নাযিল হয় এবং বিভিন্ন সূরার সাথে জুড়ে দেয়া হয়। কয়েক আয়াত করে মুখে-মুখে একসাথে সূরাগুলি রচনা করা, প্রতিটি সূরার বিষয়বস্তু ঠিক রেখে আয়াতগুলো জোড়া লাগিয়ে সূরাগুলোকে অর্থপূর্ণ করে তোলা, প্রতিটি আয়াতে অন্তর্মিল রাখা এবং প্রতিটি সূরাকে মুখস্ত রাখা কি মুহাম্মদ (সাঃ) এর মত নিরক্ষর মানুষের পক্ষে বা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব? কখনও সম্ভব নয়। তাই আল্লাহতা’লা অবিশ্বাসীদেরকে কোরানের মত কোন কিতাব বা সূরা রচনা করার জন্য বারংবার চ্যালেঞ্জ করেছেন।

      “এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো। অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না।” (বাক্বারাঃ ২৪)

      “যদি মানব ও জ্বীন এই কোরআনের অনুরূপ রচনা করার জন্য জড়ো হয় এবং তারা পরস্পর সাহায্যকারী হয়; তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না।” (বনী ইসরাঈলঃ ৮৮)

  2. 5
    মিনহাজ

    একে বলে 'জাফর ইকবাল এই প্রশ্নের জবাব দেন' সিনড্রোম।  জাফর ইকবাল কেন ওটা বলেননি, ওটা করেননি বলে বলে সারাক্ষণ চেঁচায় নিম্ন বুদ্ধির কিছু লোক। আপনার মতে এ সমস্যা দেখতে চাই না।

    অভিজিৎ রায় পরিষ্কার একজন নাস্তিক ছিলেন, সে বিষয়ে সন্দেহ অমূলক।
     

    1. 5.1
      এস. এম. রায়হান

      ছদ্মনাম নিয়ে অযথায় জাফর ইকবালকে এখানে টেনে নিয়ে এসে কাকে উঠানোর চেষ্টা করলেন, কাকে ডুবানোর চেষ্টা করলেন, আর কাকেই বা 'নিম্ন বুদ্ধির লোক' প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন- তা বোধগম্য হলো না। একটু পরিষ্কার করলে ভালো হতো।

  3. 4
    ব্লগারাদিত্য

    ধন্যবাদ আমার জন্য মূল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য।

    আমি আপনাদের লেখাও গভীর আগ্রহ নিয়ে পড়ছি, মুক্তমনা'র লেখাও পড়ছি। উদ্দেশ্যঃ জেনে-বুঝে, বিচার বিশ্লেষণ করে একটা সিদ্ধান্তে পৌছান।

    আপনাদের অনেক লেখার মধ্যেই আমার অনেক প্রশ্নের উত্তর খুজে পাচ্ছি।

    তবে আপনার ধারণা ভুল, আমি কোন নতুন আইডি নিয়ে আসিনী। ছদ্মনামের আড়ালে আসল পরিচয়টা গোপন করছি মাত্র।

  4. 3
    ব্লগারাদিত্য

    আপনার লেখাটি পড়ে খুব ভাল লাগল কিন্তু আমার মনে হচ্ছে কিছু তথ্যে ভুল আছে। প্রথমত, অভিজিৎ রায় মোটেই ব্রাহ্মণ নয়। দ্বিতীয়ত, মাত্র ৫ দিন আগেই আমি ঐ নাস্তিকের লেখা "বিশ্বাসের ভাইরাস" বইটি পড়েছি। বইটিতে উনি শুধু ইসলাম কে নয় সকল ধর্মকেই আঘাত করে লিখেছেন। ব্রাহ্মণদের সাধারণ মানুষের প্রতি নিপীড়ন, সতীদাহ নামক অমানবিক নিয়ম, কালীপূজোয় নরবলীসহ প্রভৃতি তার লেখায় উঠে এসেছে।

    হ্যা তিনি ধর্ম'কে ভাইরাসের সাথে তুলনা করেছেন। সেই ধর্মটা শুধু "ইসলাম" নয় সকল ধর্ম। ভুল তথ্য দিয়ে পাঠককে বিভ্রান্ত করেই যদি আপনাদের সত্যকে টিকিয়ে রাখাতে হয় তাহলে ঠিক আছে। অভিজিৎ এর লেখাগুলো আগে মন দিয়ে পড়ুন তারপর তার আলোচনা/ সমালোচনা করুন। যুক্তিযুক্ত হলে অবশ্যই মেনে নেব।

    1. 3.1
      এস. এম. রায়হান

      আমি বলেছি অভিজিৎ রায় ছিল জন্মসূত্রে বা পারিবারিকসূত্রে একজন ব্রাহ্মণ। আপনি নিদেনপক্ষে তার একটি লেখা দেখান যেখানে তার ব্রাহ্মণত্ব বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। 

      ব্রাহ্মণদের সাধারণ মানুষের প্রতি নিপীড়ন, সতীদাহ নামক অমানবিক নিয়ম, কালীপূজোয় নরবলীসহ প্রভৃতি তার লেখায় উঠে এসেছে।

      এইটা ছিল তার অল-টাইম চালাকি। ব্রাহ্মণদের সাধারণ মানুষের প্রতি নিপীড়ন -- নির্জলা সত্য তথ্য। সতীদাহ একটি অমানবিক নিয়ম -- নির্জলা সত্য তথ্য। কালীপূজোয় নরবলী -- নির্জলা সত্য তথ্য। ব্রাহ্মণবাদ বা হিন্দু সমাজের এই ধরণের কিছু নির্জলা সত্য তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি ৯/১১-সহ সকল প্রকার জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলা ও মুসলিম সমাজে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোকে সহি ইসলামের নামে চালিয়ে দিয়ে সে 'ধর্ম'কে ভাইরাস প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। এই পোস্টে দেখুন অভিজিৎ কীভাবে তার "বিশ্বাসের ভাইরাস" নামক ধর্মগ্রন্থে কোরআনের আয়াতকে বিকৃতি করেছে। 

      হ্যা তিনি ধর্ম'কে ভাইরাসের সাথে তুলনা করেছেন। সেই ধর্মটা শুধু "ইসলাম" নয় সকল ধর্ম। ভুল তথ্য দিয়ে পাঠককে বিভ্রান্ত করেই যদি আপনাদের সত্যকে টিকিয়ে রাখাতে হয় তাহলে ঠিক আছে।

      অভিজিৎ রায় যে শুধুই বা মূলত ইসলামকে ভাইরাসের সাথে তুলনা করেছে, তার পক্ষে অকাট্য প্রমাণ আছে। এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হবে। তার আগে এই পোস্টটা দেখতে পারেন।

      অভিজিৎ এর লেখাগুলো আগে মন দিয়ে পড়ুন তারপর তার আলোচনা/ সমালোচনা করুন। যুক্তিযুক্ত হলে অবশ্যই মেনে নেব।

      আমরা (অনেকেই) ১২-১৪ বছর ধরে অভিজিতের লেখার সাথে পরিচিত। আর আপনি কিনা কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে আমাদেরকে তার লেখা মন দিয়ে পড়ার জন্য উপদেশ দিচ্ছেন, যা সত্যিই হাস্যকর। আপনি ধর্মে বিশ্বাসী না অবিশ্বাসী হয়ে অভিজিৎকে ডিফেন্ড করতে এসেছেন, বাই দ্য ওয়ে।

      1. 3.1.1
        ব্লগারাদিত্য

        ধন্যবাদ। আমি বয়সে নবীন অভিজ্ঞতাও একেবারেই কম। অভিজিৎ এর লেখাও বেশি পড়িনী আপনাদের (গভীর ধর্মবিশ্বাসীদের) লেখাও বেশি পড়িনী আর আমি মোটেও অভিজিৎ কে ডিফেন্ড করতে আসিনি। আমি ধর্মে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী'র মাঝামাঝি পর্যায়ে আছি। মানে-বুঝতেই পারছেন কিছু কিছু লেখা আমার চিন্তা, চেতনাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তাই  সত্যের সন্ধান করছি। আমি এখানে একটা মিথ্যা প্রচারকে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র।

        আপনি বলছেন অভিজিৎ শুধুমাত্র ইসলাম-কে আঘাত করে লিখে গেছে। কিন্তু আমি তার যেগুলো লেখা পড়েছি সেখানে দেখতে পাচ্ছি তিনি সকল ধর্মকেই "ভাইরাস" হিসাবে আখ্যা দিয়ে লেখালেখি করেছেন।

        হ্যা ইসলাম হয়তো তার আলোচনায় বেশি এসেছে। সেটা আপনিও বোঝেন কেন। কিছু পথভ্রষ্ট মুসলমান "ইসলাম" কে বিতর্কিত করেছে-এটা তো অস্বীকার করতে পারেন না।

        আবারো বলছি আমি অভিজিৎ কেও ডিফেন্ড করছি না, আপনাকেও সমর্থন করছি না। আমি সত্যকে অনুসন্ধান করছি। আপনারা গুণীজন, অনেক পড়েছেন, অনেক জানেন আপনাদের লেখালেখি থেকেই ত আমাদের মত তরুণরা শিক্ষা গ্রহণ করবে।

        আপনার রেফারেল লিঙ্কে ক্লিক করে মোঃ আবু সালেহ সেকেন্দার সাহেবের লেখাটি পড়লাম। উনার লেখায় অভিজিৎ রায়ের 'বিশ্বাসের ভাইরাস' বইয়ের ১৫৬ পাষ্ঠায় কোরয়ানের যে আয়াত আছে বলে লিখেছেন সেখান পড়ে দেখলাম ঐ আয়াত অভিজিৎ লেখেননি। তবে দ্বিতীয় আয়াত সম্পর্কে উনি (আবু সালেহ সেকেন্দার) যা বলেছেন তা আছে এবং অভিজিৎ মশাই যদি সত্য সত্যি কোরয়ানের আয়াত বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে থাকেন তাহলে নিঃসন্দেহে আমার জন্য এ সংবাদ আনন্দদায়ক।

        আমিও একটি লিঙ্ক দিলাম, সময় পেলে পড়ে দেখবেন আসলে তিনি (অভিজিৎ) কি বলতে চেয়েছেন। তার কথাগুলো আমার কাছে একেবারে অগ্রাহ্য মনে হয়নি, তাই মন সংশয়ে পড়ে গেছে।

        আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
         

        1. 3.1.1.1
          এস. এম. রায়হান

          আমি এখানে একটা মিথ্যা প্রচারকে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র।

          আমরা যেখানে অভিজিতের মিথ্যাচার ও প্রতারণাকে উন্মোচন করে লেখালেখি করেছি সেখানে আপনি নতুন আইডি নিয়ে আমার মিথ্যা প্রচার ধরিয়ে দিতে এসেছেন! বাহ্‌। কিন্তু কী মিথ্যা প্রচার ধরিয়ে দিলেন তা তো বুঝা গেল না। আপনি অভিজিতের ব্রাহ্মণত্ব বিসর্জন দেওয়া একটি প্রমাণও দেখাতে পারলেন না। এবার এক কাজ করেন। তার ১৩-১৪ বছর লেখালেখির ইতিহাসে শুধুমাত্র ব্রাহ্মণবাদ বা হিন্দুত্ববাদের সমালোচনা করে স্বতন্ত্র ('স্বতন্ত্র' শব্দটার ব্যাখ্যা দিতে হবে না নিশ্চয়) একটি লেখা দেখান।

          আর অভিজিৎ রায় শুধুমাত্র কোরআনের নামেই একাধিকবার দিনে-দুপুরে মিথ্যাচার করেছে। আমাদের লেখাগুলো পড়লেই প্রমাণ পেয়ে যাবেন। উপরের মন্তব্যে দেওয়া দ্বিতীয় পোস্টটা মনে হয় পড়েননি। সেই পোস্টেও তার কোরআনের নামে ডাহা মিথ্যাচার আছে, যে ধরণের দিনে-দুপুরে মিথ্যাচার বাংলা অন্তর্জালে আর কারো লেখায় দেখা যায় না। সেই পোস্টে তার অনেকগুলো পোস্টের স্ক্রীনশট আছে। সেখানে এই পোস্টটা দেখুন (বিশেষ করে শেষের লাইনটা)। সেখানে ব্যভিচারের উপর কোরআনের আয়াতকে 'ধর্ষণ'-এর নামে চালিয়ে দিয়ে কোরআনকে ভাইরাস প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই পোস্টে আরো কিছু মিথ্যাচারও আছে। হিন্দু ধর্ম বা অন্য যেকোনো ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থের নামে ডাহা মিথ্যাচার করে সেই ধর্মকে ভাইরাস প্রমাণ করা হয়েছে -- এমন একটি প্রমাণ অভিজিতের লেখা থেকে দেখান দেখি।

          আপনি বলছেন অভিজিৎ শুধুমাত্র ইসলাম-কে আঘাত করে লিখে গেছে। কিন্তু আমি তার যেগুলো লেখা পড়েছি সেখানে দেখতে পাচ্ছি তিনি সকল ধর্মকেই "ভাইরাস" হিসাবে আখ্যা দিয়ে লেখালেখি করেছেন।

          "অভিজিৎ শুধুমাত্র ইসলাম-কে আঘাত করে লিখে গেছে।" -- এমন কথা তো আমি বলি নাই। আপনি আমার মুখে কথা গুঁজে দিচ্ছেন কেন। আর বাকি অংশের জবাব উপরের মন্তব্যে দেওয়া হয়েছে।

  5. 2
    কিংশুক

    অভিশপ্ত নরকের কীট বিজেপি, বৌদ্ধ সন্ত্রাসীগুলা মুত্রমণায় ইউরোপ, আমেরিকা থেকে সব মুসলমান তাড়িয়ে দেওয়ার ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। ওরা হচ্ছে মুত্রমণার আড়ালে খাঁটি ও অকৃত্রিম মালু যারা মুসলমান তাড়িয়ে হিন্দু প্রজাদের ইউরোপে অভিবাসনের স্বপ্ন দেখে। ফ্রান্সে মুসলমান দশ শতাংশ যা বাংলাদেশে হিন্দুর সমান। আমাদের কেউ যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাজারো মুসলিম নিধনের জন্য বাংলাদেশ থেকে সব হিন্দু তাড়িয়ে দেওয়ার দাবী করি তাহলে আমাদেরকে তো মানুষ হিসাবেই কেউ গণ্য করবে না। সেখানে বিজেপিগুলা দীর্ঘদিন ধরে এই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  6. 1
    এ. এস. এম. রাহাত

    আহারে অভিজিৎ!! আহারে মানবতাবাদী!!

Leave a Reply

Your email address will not be published.