«

»

Mar ২৯

পশ্চিমারা একই সাথে “নাস্তিক” ও “ইহুদী-নাসারা”!

শক্তের ভক্ত নরমের যম ভণ্ডমনারা পশ্চিমা বিশ্বকে কখনো "নাস্তিকদের দেশ", কখনো বা আবার "ইহুদী-নাসারাদের দেশ" বানিয়ে দিয়ে তাদের জুতার তলা চেটে চেটে মুসলিমদের দিকে থুতু ছিটিয়ে চরম শান্তি পায়! অভিজিৎ রায়ের লেখাতেও একই ভণ্ডামী করা হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে তারা বিজ্ঞানীদেরকেও কখনো "নাস্তিক", কখনো "ইহুদী-নাসারা" বানিয়ে দেয়! উদ্দেশ্য একই – তাদের জুতার তলা চেটে মুসলিমদের দিকে থুতু ছিটানো। তাছাড়াও ভণ্ডমনাদের অনেকের লেখাতে মুসলিমদেরকে উদ্দেশ্য করে প্রায়ই একটি বুলি দেখা যায়, সেটি হচ্ছে "সবই ইহুদী-নাসারাদের ষড়যন্ত্র"। এই বুলির দ্বারা তারা বুঝাতে চায় যে, মুসলিমরা সব কিছুর পেছনেই ইহুদী-নাসারাদের ষড়যন্ত্র খোঁজে। অর্থাৎ মুসলিমরাই একমাত্র জাতি যারা কথায় কথায় ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাস করে। ভণ্ডমনাদের এই ধরণের বিনুদুনমূলক ভণ্ডামী নিয়ে কিছু কথা:

– পশ্চিমারা কি একই সাথে "নাস্তিক" ও "ইহুদী-নাসারা"??? আর ভণ্ডমনাদের অবস্থানই বা এখানে কী? নাস্তিক, না ইহুদী-নাসারা, না তাদের দাস? ভণ্ডমনাদের কেউ যে নাস্তিক না, সেটা ইতোমধ্যে সকলেই জেনে গেছেন। তারা নিজেদেরকে ইহুদী-নাসারা বলেও দাবি করে না। তাহলে তাদের একমাত্র পরিচয় হচ্ছে তারা ইহুদী-নাসারাদের দাস।

– ভণ্ডমনাদের কাছে ইহুদী-নাসারা'রা যদি এতোই ভালো হয় তাহলে তারা নিজেরা ইহুদী-নাসারা হয় না কেনু???!!! নিদেনপক্ষে নাম পরিবর্তন করে ইহুদী-নাসারাদের নাম রাখে না কেনু? নাম পরিবর্তন করলে ইহুদী-নাসারাদের আর দাসত্বপনা করা যাবে না, তাই তো! তাহলে দেখা যাচ্ছে ভণ্ডমনারা ইহুদী-নাসারাদের দাসত্বপনাতেই বিশ্বাসী, মনুষ্যত্বে বিশ্বাসী না।

– ইহুদী-অধ্যুষিত দেশ বলতে সারা বিশ্বে একটিমাত্র দেশ আছে, সেটি হচ্ছে ইসরাইল। অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বে জনসংখ্যার দিক দিয়ে মুসলিমরা দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। অথচ ভণ্ডমনারা পশ্চিমা বিশ্বকে "ইহুদী"-নাসারাদের দেশ বলে! ক্যামনে কী! ভণ্ডমনারা কি তাহলে মুসলিমদের কারো কারো দাবিকে (ষড়যন্ত্র তত্ত্ব?) পরোক্ষভাবে সত্য বলে স্বীকৃতি দিচ্ছে এই বলে যে, পশ্চিমা বিশ্ব আসলে ইহুদীদের দ্বারাই পরিচালিত হয়?

– ভণ্ডমনারা মুসলিমদেরকে উদ্দেশ্য করা মন্তব্যে "খ্রিস্টান" না বলে ইচ্ছাকৃতভাবে "নাসারা" শব্দটা ব্যবহার করে। এর কারণ হচ্ছে ভণ্ডমনারা মনে করে মুসলিমরা খ্রিস্টানদেরকে "নাসারা" বলে গালি দেয়! অর্থাৎ "নাসারা" একটি গালি! অথচ "নাসারা" শব্দটা এসেছে ইসরাইলের নাজারাথ (Nazareth) নামক একটি শহরের নাম থেকে। যীশু খ্রীষ্ট এই শহরেই বড় হয়েছেন। খ্রিস্টানদের কাছে এই শহরটা ধর্মীয়ভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই "নাজারাথ" নামক স্থানের নামানুসারে কুর'আনের একটি আয়াতে যীশুর অনুসারীদেরকে "নাসারা" (আরবী ভার্ষণ) বলা হয়েছে। এজন্য বিশেষ করে আরব বিশ্বের মুসলিমরা খ্রিস্টানদেরকে "নাসারা" বলে। উল্লেখ্য যে, "খ্রিস্টান" নামটাও অন্যের দেওয়া।

– ভণ্ডমনারা এমনভাবে "ইহুদী-নাসারা" বলে যেন ইহুদী ও নাসারা'রা ভাই-ভাই – একই ধর্মের বা মায়ের পেটের ভাই! অথচ জিও-পলিটিক্যাল কারণে তাদেরকে আপাতদৃষ্টিতে "ভাই-ভাই" মনে হলেও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইহুদী ও নাসারাদের মধ্যে শত্রুতা অন্য যেকোনো দুটি ধর্মাবলম্বীদের চেয়ে অনেক বেশি।

– ভণ্ডমনারা মুসলিমদেরকে উদ্দেশ্য করে কথায় কথায় "সবই ইহুদী-নাসারাদের ষড়যন্ত্র" বুলি আউড়ালেও আজ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু উদাহরণ দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারেনি যে, মুসলিমদের অমুক-তমুক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ভুল বা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

২ comments

  1. 2
    Anonymous

    A good obsrvation

  2. 1
    মজলুম

    এগুলো আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এবং হীনমন্যতাবোধে ভোগা এবং মানসিক দাস কিছু সাইকো পাবলিক। তবে আশার কথা হলো এদের সংখ্যা খুবই কম, তবে চিৎকার ও চেচাঁমেচি বেশী করে বলে একটু এটেনশান পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.