«

»

Dec ০৫

প্রকৃতির বৈচিত্র্য: বিবর্তনবাদীদের নাইটমেয়ার – ১

ক. বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী বিবর্তন তত্ত্ব প্রাণীজগত ও উদ্ভিদজগতের বৈচিত্র্যকে ব্যাখ্যা করে, যদিও 'ব্যাখ্যা' আর 'প্রমাণ' এক জিনিস নয়। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে প্রাণীজগত ও উদ্ভিদজগতের বৈচিত্র্যই আসলে বিবর্তন তত্ত্বের জন্য নাইটমেয়ারস্বরূপ। কেননা প্রাণীজগত ও উদ্ভিদজগত যত বেশী বৈচিত্র্যময় হবে, তত বেশী অনুমান আর কল্পকাহিনীর আশ্রয় নিতে হবে সেই সব বৈচিত্র্যময়তাকে ব্যাখ্যার জন্য। প্রাণীজগত ও উদ্ভিদজগত সরলরৈখিক হলেই বরং বিবর্তনবাদীদের কিছু একটা বলার থাকতে পারতো। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। প্রাণীজগত ও উদ্ভিদজগত এত বেশী বৈচিত্র্যময় ও বিষমরৈখিক যে, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তো দূরে থাক প্রতি পদে পদে কল্পকাহিনী ফাঁদা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নাই। অথচ অসচেতন লোকজনকে 'বিজ্ঞান'-এর নামে প্রায় প্রতি পদে পদে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তবে হ্যাঁ, বৈচিত্র্য বলতে যদি একই প্রজাতির মধ্যে পরিবেশগত কারণে সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তনকে বুঝানো হয় সেক্ষেত্রে কারোরই কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।

যাহোক, বিবর্তন মানে হচ্ছে ক্রমবিকাশ তথা সময়ের সাথে কোনো কিছুর পরিবর্তন। বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী পরিবেশ ও জীনগত পরিবর্তনের কারণে এককোষী ব্যাকটেরিয়া থেকে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে কোটি কোটি বছর ধরে জটিল সব জীব-জন্তু তথা পুরো উদ্ভিদজগত ও প্রাণীজগত বিবর্তিত হয়েছে। অর্থাৎ এককোষী ব্যাকটেরিয়ার দেহে ধীরে ধীরে নতুন নতুন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ‘সংযোজিত’ হয়ে লক্ষ লক্ষ প্রকারের জটিল জীব-জন্তুর উদ্ভব হয়েছে! বিবর্তন তত্ত্ব সত্য হলে তা কিন্তু হতেই হবে। তাদের এই দাবি যে কতটা হাস্যকর আর অবাস্তব – তার পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা দিতে গেলে বিশাল এক বিশ্বকোষ হয়ে যাবে। তথাপি বেশ কিছু উদাহরণের সাহায্যে এই ধরণের কল্পকাহিনী-ভিত্তিক তত্ত্বের অসারতা তুলে ধরা হবে।

বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী যে ব্যাকটেরিয়া জাতীয় অণুজীন থেকে বিবর্তন শুরু হওয়ার কথা বলা হচ্ছে সেই জীবের মাথা, মস্তিষ্ক, চুল, কান, নাক, চোখ, মুখ, জিহ্বা, হাত, পা, নখ, শিং, লেজ, যকৃত, পরিপাকতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, হৃৎপিণ্ড-সহ কিছুই ছিল না। একেবারে প্রাথমিক অণুজীবের দেহে এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো আকস্মিকভাবে থাকার প্রশ্নও ওঠে না। অথচ প্রকৃতিতে শিং-বিহীন ও শিং-ওয়ালা উভয় প্রজাতিই দেখা যায়। প্রকৃতিতে যেহেতু শিং-বিহীন ও শিং-ওয়ালা উভয় প্রজাতিই আছে, এবং বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী এগুলোর উৎস যেহেতু এক, সেহেতু বিবর্তনের কোনো এক পর্যায়ে শিং-বিহীন প্রাণী থেকে শিং-ওয়ালা প্রাণী বিবর্তিত হতেই হবে। অন্যথায় বিবর্তন তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হবে। এবার নিচের ছবিগুলো লক্ষ্য করুন এবং যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভেবে দেখুন।

শিং-বিহীন, শিং-ওয়ালা, ও লেজ-ওয়ালা কিছু প্রাণী

সরল একটি অণুজীব থেকে ধীরে ধীরে বিবর্তিত হতে হতে একদিন হঠাৎ করে শিং আর লেজ গজানো শুরু করেছে! এমনকি শতভাগ ক্ষেত্রে ঠিক মাথার উপরে শিং আর পেছনের দিকে লেজ গজিয়েছে, শরীরের অন্য কোনো অংশে নয়! শিং ও লেজ-বিহীন প্রজাতির দেহে শিং ও লেজ গজাতে হলে কিন্তু নতুন তথ্য লাগবে। সেই নতুন তথ্য আসবে কোথা থেকে? এভাবে বিবর্তিত হতে হতে বিবর্তনবাদীদের মতো শিং ও লেজ-বিহীন মানুষে এসে ঠেকেছে! লেজ আর শিং এক সাথে গজিয়ে আবার এক সাথে বিলুপ্ত হয়েছিল কি-না, কে জানে!

বাস্তবতা হচ্ছে শিং ও লেজ-বিহীন প্রাণী থেকে ধীরে ধীরে শিং ও লেজ-ওয়ালা প্রাণী বিবর্তিত হওয়ার পক্ষে কোনোই প্রমাণ নেই। বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ও সাধারণ বোধ অনুযায়ী কিছু শিং ও লেজ-বিহীন প্রাণীকে আলাদাভাবে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে রেখে দিলেও তাদের দেহে একদিন শিং বা লেজ গজানো শুরু করবে না। বিবর্তনবাদীরা যদি মনে করেন তা সম্ভব তাহলে প্রমাণ করে দেখাতে হবে। তাছাড়া শুধু শিং ও লেজ গজালেই কিন্তু হবে না, সেই সাথে ধীরে ধীরে ভিন্ন প্রজাতিতে রূপান্তরিতও হতে হবে!

বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন: শিং-বিহীন প্রজাতির মাথায় একদিন হঠাৎ করে শিং গজানো শুরু করলো কেন? কোন্‌ প্রজাতির মাথায় প্রথমে শিং গজানো শুরু করেছিল? অনেক শিং-বিহীন প্রজাতি তো এখনো রয়েই গেছে, তাদের মাথায় আর শিং গজাচ্ছে না কেন? একেবারে শতভাগ ক্ষেত্রে ঠিক মাথার উপরে শিং গজালো কেন? শিং-বিহীন প্রজাতির দেহে শিং গজাতে হলে যে নতুন তথ্য লাগবে, সেই তথ্য আসবে কোথা থেকে? প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিং-বিহীন প্রজাতির মাথায় যখন ধাপে ধাপে শিং গজাচ্ছিল তখন সেই ধাপগুলোতে প্রজাতিগুলোর জৈবিক গঠন কেমন ছিল?

উপসংহার: শিং-বিহীন প্রাণী থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিং-ওয়ালা প্রাণী বিবর্তিত হওয়ার পক্ষে যেহেতু কোনোই প্রমাণ নেই এবং বাস্তবেও যেহেতু এই ধরণের বিবর্তন সম্ভব নয় সেহেতু শিং-বিহীন ও শিং-ওয়ালা প্রাণীর আলাদা আলাদা উৎস থাকতে হবে। আর আলাদা আলাদা উৎস থাকতে হলে বিবর্তন তত্ত্ব স্বাভাবিকভাবেই ভুল প্রমাণিত হবে। লেজ-বিহীন ও লেজ-ওয়ালা প্রাণীর ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য।

 

খ. বিবর্তনবাদীরা কথায় কথায় ‘প্রকৃতি’ বা ‘প্রাকৃতিক নিয়ম’ জাতীয় অস্পষ্ট শব্দ আউড়িয়ে কিছু একটা প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকেন। এমনকি তারা প্রাণীজগত থেকে খুঁজে খুঁজে কিছু উদাহরণ নিয়ে এসে বলার চেষ্টা করেন যে, প্রকৃতিতে যেহেতু অমুক-তমুক আছে সেহেতু সেটি বৈজ্ঞানিক বা প্রাকৃতিক! এভাবে প্রকৃতি থেকে উদাহরণ দিয়ে কোনো কিছুকে মনুষ্য সমাজেও বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রকৃতি থেকে উদাহরণ দিয়ে কিছু প্রমাণ করার চেষ্টা আসলে নিজের পায়ে কুড়াল মারার সামিল। উদাহরণস্বরূপ, তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী একটি প্রাণী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রাণী বিবর্তিত হয়েছে। অথচ প্রকৃতি তাদের এই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। কেননা প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী মানুষ থেকে মানুষের বাচ্চা-ই হওয়ার কথা। মুরগীর পেট থেকে মুরগীর ডিম-ই বেরুনোর কথা। কলা গাছে কলা-ই ধরার কথা। এর ব্যতিক্রম কিছু হলে সেটিকে অপ্রাকৃতিক বা অস্বাভাবিক নিয়ম বলা হয়।

যাহোক, প্রজননের উপর ভিত্তি করে প্রকৃতিতে দু'ধরণের প্রক্রিয়া আছে: যৌন প্রজনন প্রক্রিয়া (Sexual reproduction: humans, animals, birds, reptiles, fishes, insects, etc.) এবং অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়া (Asexual reproduction: bacteria, virus, hydras, some plants, etc.)। যৌন প্রজননের উপর ভিত্তি করে আবার দু'ধরণের প্রজাতি আছে: স্তন্যপায়ী প্রজাতি এবং অস্তন্যপায়ী প্রজাতি।

বিবর্তন তত্ত্ব যদি সত্য হয় তাহলে উপরের প্রজাতিগুলোর একটি থেকে অন্যটিকে বিবর্তিত হতেই হবে। যেমন, অস্তন্যপায়ী প্রজাতি থেকে স্তন্যপায়ী প্রজাতি কিংবা স্তন্যপায়ী প্রজাতি থেকে অস্তন্যপায়ী প্রজাতি বিবর্তিত হতেই হবে। এমনকি লিঙ্গ-বিহীন প্রজাতি থেকে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ বিবর্তিত হতেই হবে। তো প্রকৃতিতে যেহেতু স্তন্যপায়ী ও অস্তন্যপায়ী উভয় প্রজাতিই আছে – এবং বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী এগুলোর উৎস যেহেতু এক – সেহেতু বিবর্তনের কোনো এক পর্যায়ে অস্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে স্তন্যপায়ী প্রাণী বিবর্তিত হতেই হবে। অন্যথায় বিবর্তন তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হবে।

এবার কিছু অস্তন্যপায়ী প্রাণীর শারীরিক গঠন ও বংশবিস্তার প্রণালী দেখুন। পাশাপাশি কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীর কথা চিন্তা করুন এবং তাদেরও শারীরিক গঠন ও বংশবিস্তার প্রণালী ভালো করে লক্ষ্য করুন। দেখবেন যে দুটি প্রজাতির মধ্যে বিস্তর ফারাক। নিচের ছবিতে কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীর নমুনা দেখানো হয়েছে।

লক্ষণীয় কিছু বিষয়: যেখানে ছাগলের স্তনে দুটি নিপল আছে সেখানে গাভির স্তনে নিপল আছে চারটি, এমনকি কুকুরের স্তনে আবার নিপল আছে ছয়টি; যেখানে অধিকাংশ পশুদের স্তনের অবস্থান তাদের দেহের পশ্চাৎদিকের নিম্নভাগে সেখানে মানুষ ও বানর প্রজাতির স্তনের অবস্থান তাদের দেহের উপরিভাগে ও সম্মুখদিকে। এবার স্তনগ্রন্থীর ব্যাপারটা মাথায় রেখে যৌক্তিক ও বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিচের পয়েন্টগুলো বিবেচনা করুন:

– অস্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে কোনো স্তনগ্রন্থী নেই, এমনকি তাদের দৈহিক গঠনও বেশ আলাদা। এই অবস্থায় এই ধরণের প্রাণীর দেহে স্তনগ্রন্থী গজানো শুরু করবে কেন? শুরুটা কী থেকে হবে? স্তনগ্রন্থীর জন্য নতুন তথ্য আসবে কোথা থেকে? স্তনগ্রন্থীর মতো কোনো গ্রন্থী প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব কীভাবে? বিবর্তনে এক-শতাংশ বা এক-দশমাংশ বা অর্ধ-বিবর্তিত স্তনের কিন্তু কোনোই মূল্য নেই। সেক্ষেত্রে বংশ বৃদ্ধিই হবে না। অধিকন্তু, এক-শতাংশ বা অর্ধ-বিবর্তিত স্তনের ক্ষেত্রে প্রাণীরাও কি এক-শতাংশ বা অর্ধ-বিবর্তিত হবে? নিতান্তই হাস্যকর!

– বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ও সাধারণ বোধ অনুযায়ী অস্তন্যপায়ী প্রাণীদেরকে আলাদা করে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে রেখে দিলেও সেই প্রাণীগুলোর দেহে স্তনগ্রন্থী গজিয়ে স্তন্যপায়ী প্রাণীতে রূপান্তরিত হবে না। এই ধরণের বিবর্তন মিরাক্কেল ছাড়া বাস্তবে সম্ভব নয়। বিবর্তনবাদীরা যদি মনে করেন এমন বিবর্তন বাস্তবে সম্ভব তাহলে প্রমাণ করে দেখাতে হবে।

উপসংহার: অস্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধাপে ধাপে স্তন্যপায়ী প্রাণী বিবর্তিত হওয়ার পক্ষে যেহেতু কোনো প্রমাণ নাই এবং বাস্তবেও যেহেতু এই ধরণের বিবর্তন সম্ভব নয় সেহেতু স্তন্যপায়ী ও অস্তন্যপায়ী প্রজাতির আলাদা আলাদা উৎস থাকতে হবে। আর আলাদা আলাদা উৎস থাকতে হলে স্বাভাবিকভাবেই বিবর্তন তত্ত্বের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে যায়।

 

গ. বিবর্তনবাদীরা মন্ত্রের মতো একটি বুলি জপেন, আর সেটি হচ্ছে: Evolution is a fact! এই মন্ত্র জপে তারা ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বকেও সত্য হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করে থাকেন। অন্ধ অনুসারী ছাড়া অনেকের কাছেই তাদের এই মন্ত্রকে উদ্ভট মনে হবে এই ভেবে যে, দিনে-দুপুরে সবার সামনে এমন ডাহা মিথ্যাচার করা যায় কী করে! তবে ব্যাপারটাকে একটু খতিয়ে দেখলেই তাদের শুভঙ্করের ফাঁকি ধরা পড়ে। তারা হয়তো মিথ্যাচার করেন না, তবে শুভঙ্করের ফাঁকির মাধ্যমে অসচেতন লোকজনকে বিজ্ঞান-এর নামে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় ঠিকই। তারা যখন বলেন, Evolution is a fact, তখন তারা Evolution বলতে মনে মনে হয়তো একই প্রজাতির মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন বা ক্রমবিকাশের কথা বুঝিয়ে থাকেন যেটি আসলেই সত্য। যেমন: শুক্রাণু-ডিম্বাণুর মিলন থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ মানুষের বিবর্তন; ডিমের মধ্যে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ ছানার বিবর্তন; বীজ থেকে ধীরে ধীরে বিশাল গাছের বিবর্তন; একই প্রজাতির মধ্যে পরিবেশগত কারণে কিছু পরিবর্তন; ইত্যাদি। এগুলো চোখের সামনেই প্রতিনিয়ত ঘটছে। এই ধরণের বিবর্তনকে অস্বীকার করার কিছু নাই। কিন্তু জীবজগতের মধ্যে এই ধরণের বিবর্তন বা ক্রমবিকাশ যে বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে কোনো প্রমাণ নয় – এই সত্যকে চেপে যাওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে একই বীজ থেকে একই রকম প্রাণী বা উদ্ভিদের বিবর্তন। মানুষের শুক্রাণু-ডিম্বাণু থেকে কখনোই গরু-ছাগল কিংবা হাঁস-মুরগী বিবর্তিত হয় না – তা যতই সময় দেওয়া হোক না কেন। আম গাছ থেকে কখনোই তাল গাছ কিংবা কাঁঠাল গাছ বিবর্তিত হয় না। অন্যদিকে বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী এক প্রজাতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতি বিবর্তিত হয়েছে!

যাহোক, প্রকৃতিতে কিছু বিষাক্ত সাপ আছে যেগুলো কামড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যে মানুষ মারা যায়। অথচ অধিকাংশ সাপ ও অন্যান্য প্রজাতির দেহে কোনো বিষ নাই। শুধু কি তাই! নিচের ভিডিওতে দেখুন সাপ কীভাবে ফণা তুলে তার বিষকে স্প্রে করে ছুঁড়ে দিয়ে সিংহের মতো বনের রাজাকেও ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে আত্মরক্ষার জন্য কিছু সাপের দেহে বিষ, সেই বিষ দ্রুত বেগে স্প্রে করার পদ্ধতি, এবং দর্শনীয় ফণা কেন ও কোন্‌ প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে? সাপের বিষ, বিষ স্প্রে করার পদ্ধতি, এবং দর্শনীয় ফণা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব কীভাবে? সেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপগুলোতে সাপের অবস্থা কেমন ছিল?

নিচের ভিডিওতে গোখুরা সাপ আর বিশাল এক টিকটিকির মধ্যে যুদ্ধ দেখুন। যুদ্ধে মুখোমুখি হয়ে তারা উভয়েই নিজের দেহকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাচ্ছে! নিজের দেহকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুললে যে প্রতিপক্ষ ভয় পাবে – এইটা তারা জানলো কী করে! এই কৌশল কেন ও কীভাবে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হলো?

উপসংহার: সাপের দেহে বিষ, আত্মরক্ষার জন্য বিষ স্প্রে করার পদ্ধতি, এবং দর্শনীয় ফণা যেহেতু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হতে পারে না এবং তার পক্ষে যেহেতু কোনো প্রমাণও নেই সেহেতু পূর্ণাঙ্গ সাপের মধ্যে এই পদ্ধতি প্রথম থেকেই থাকতে হবে। এক্ষেত্রে অন্য কোনো প্রাণী থেকে ধাপে ধাপে বিবর্তনের কোনো সুযোগ না থাকায় বিবর্তন তত্ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে যায়।

নিচের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটি মাকড়সা জাল তৈরী করে তার চেয়ে অনেক বড় আকারের একটি বাদুরকে হত্যা করেছে। মাকড়সা কীভাবে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে সূক্ষ্ম জাল তৈরী করা শিখলো! জাল তৈরীর জন্য আঠালো পদার্থ ও কৌশল-ই বা কেমন করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিবর্তিত হলো? তাছাড়া মাকড়সাকে কে বলেছে যে, জাল তৈরী করে শিকার ধরা যায়! মাকড়সার জৈব বিবর্তন-সহ এগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হওয়া কী করে সম্ভব?

সজারুর সাথে কম-বেশী অনেকেরই পরিচয় আছে। খুব ছোট একটি প্রাণী। অথচ এই প্রাণীর প্রায় সারা দেহ বেশ ধারালো সুঁচের মতো কাঁটা দ্বারা এমনভাবে আবৃত যে, যেখানে বিশাল বিশাল বন্য প্রাণীরা সিংহের কাছে সহজেই ধরাশায়ী হয় সেখানে কয়েকটি সিংহ মিলেও ক্ষুদ্র একটি সজারুকে কাবু করতে পারে না। প্রশ্ন হচ্ছে সজারুর দেহে আত্মরক্ষার্থে ধারালো সুঁচের মতো কাঁটা কেন ও কীভাবে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হলো, যেখানে অন্য কোনো প্রাণীর দেহে এরকম কিছু দেখা যায় না?

পশু-পাখিরা কীভাবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও তাদের বাচ্চাদেরকে রক্ষা করার চেষ্টা করে তার কিছু নমুনা নিচের ভিডিওগুলোতে দেখা যাবে। এগুলো বিবর্তনবাদীদের জন্য নিঃসন্দেহে নাইটমেয়ার। অন্ধ-অচেতন ও উদ্দেশ্যহীন প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তিত হওয়া প্রাণীরা কেমন করে জানলো যে, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও তাদের বাচ্চাদেরকে রক্ষা করতে হবে! এমনকি পাখিরা তাদের ডিমকে পর্যন্ত শিকারীর হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে, যেখানে ডিম আসলে বস্তু ছাড়া কিছু নয়। পশু-পাখিদের জৈব বিবর্তন-সহ তাদের মধ্যে এই বোধশক্তি ও দরদ কেন ও কীভাবে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব!

 

ঘ. বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী মাছ জাতীয় জলজ কোনো এক প্রাণী থেকে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়ে একটি উভচর প্রাণী হয়েছে, যদিও অসংখ্য প্রকারের জলজ প্রাণী রয়েই গেছে। সেই উভচর প্রাণী থেকে আবার অনেক প্রকারের উভচর প্রাণী বিবর্তিত হয়েছে। কোনো এক উভচর প্রাণী থেকে আবার ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়ে একটি সরীসৃপ হয়েছে, যদিও অনেক প্রকারের উভচর প্রাণী রয়েই গেছে। সেই সরীসৃপ থেকে আবার অনেক প্রকারের সরীসৃপ বিবর্তিত হয়েছে। কোনো এক সরীসৃপ থেকে আবার ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়ে একটি পাখি হয়ে আকাশে উড়তে শিখেছে, যদিও অনেক প্রকারের সরীসৃপ রয়েই গেছে। সেই পাখি থেকে আবার অনেক প্রকারের পাখি বিবর্তিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, উড়ন্ত প্রাণীদের মধ্যে বাদুড় জাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণীও আছে। সংক্ষেপে বিবর্তনবাদীদের দাবি এরকম:

মাছ –> উভচর প্রাণী –> সরীসৃপ –> পাখি

দেখে দেখে আপাতদৃষ্টিতে কাছাকাছি প্রজাতিগুলোকে এভাবে সাজানো হয়েছে! তারা যেভাবে সাজিয়েছেন তার উল্টো অনুক্রমে কিন্তু তারা বিশ্বাস করেন না, যদিও বিবর্তনকে অন্ধ-অচেতন ও উদ্দেশ্যহীন প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফলাফল বলে দাবি করা হয়! এগুলোকেই বিজ্ঞানের নামে 'প্রতিষ্ঠিত সত্য' হিসেবে চালিয়ে দিয়ে ইতোমধ্যে মিলিয়ন মিলিয়ন অসচেতন লোকজনের মস্তক ধোলাই করা হয়েছে এবং হচ্ছে। এমনকি স্রেফ বিবর্তনবাদের উপর ভিত্তি করে অনেকেই নাস্তিক ও ধর্ম-বিরোধী হয়েছে।

নিচের ভিডিওতে ময়ূর এবং ময়ূরের পেখম লক্ষ্য করুন। মাথার উপর ফুলের মতো কারুকার্যখচিত সুন্দর পালকও লক্ষণীয়। প্রশ্ন হচ্ছে অন্য কোনো প্রাণী থেকে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে ময়ূরের অতি সূক্ষ্ম পালক ও বিশাল পেখম আদৌ বিবর্তিত হওয়া সম্ভব কি-না? ময়ূরের জৈব বিবর্তনের সাথে সাথে কেন, কীভাবে, ও কোথা থেকে কারুকার্যখচিত পালক ও পেখম বিবর্তিত হবে?

নিচের ভিডিওগুলোতে অভাবনীয় সুন্দর কিছু পাখির নমুনা দেখুন। সরীসৃপ জাতীয় প্রজাতি থেকে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে এই ধরণের উড়ন্ত পাখি এবং রং-বে-রং এর কারুকার্যখচিত পালক কেন ও কীভাবে বিবর্তিত হবে? কোথায় সরীসৃপ প্রজাতি আর কোথায় পাখি প্রজাতি! দুই প্রজাতির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ।

জলজ প্রাণী, উভচর প্রাণী, সরীসৃপ, ও পাখির মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে সকলেই অবগত। পার্থক্যগুলো মাথায় রেখে এবার নিচের পয়েন্টগুলো বিবেচনা করুন:

– পানিতে অসংখ্য প্রকারের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী আছে। সেই অসংখ্য প্রকারের জলজ প্রাণী যে কোথা থেকে ও কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে বা হওয়া সম্ভব, শুধু এই প্রশ্নের জবাবই বিবর্তনবাদীরা দিতে পারবেন না। ফলে ধরেই নেওয়া যাক যে, পানিতে ইতোমধ্যে জলজ প্রাণী রয়ে গেছে। আমরা সবাই জানি পানি থেকে ডাঙ্গায় উঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই অধিকাংশ জলজ প্রাণী মারা যায়। আর মারা না গেলেও একটি জলজ প্রাণী ডাঙ্গায় উঠার পর কীভাবে ধাপে ধাপে উভচর প্রাণীতে বিবর্তিত হবে!?!

– এবার ধরে নেওয়া যাক যে, প্রকৃতিতে ইতোমধ্যে উভচর প্রাণীও আছে। তো সেই উভচর প্রাণী থেকে কীভাবে ধাপে ধাপে সরীসৃপ বিবর্তিত হবে? উভচর প্রাণী থেকে ধাপে ধাপে সরীসৃপ বিবর্তিত হওয়ার প্রমাণই বা কোথায়?

– এবার ধরে নেওয়া যাক যে, প্রকৃতিতে ইতোমধ্যে সরীসৃপও আছে। সেই সরীসৃপ থেকে কীভাবে ধাপে ধাপে একদিন পাখি হয়ে আকাশে উড়তে শিখবে? বিবর্তনবাদীরা কি সরীসৃপ আর পাখির মধ্যে পার্থক্য জানেন না? সরীসৃপ থেকে পাখাওয়ালা পাখি বিবর্তিত হতে হলে কতগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হবে? সেই ধাপগুলো কী কী?

বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন: সরীসৃপ থেকে যখন পাখির বিবর্তন শুরু হয়েছিল সেই সময় এই পৃথিবীতে একটি নাকি অনেক সরীসৃপ ছিল? একটি হলে সেটি কী ছিল? অনেক হলে ঠিক কোন্‌ সরীসৃপ থেকে বিবর্তন শুরু হয়েছিল, এবং কেন? সরীসৃপ থেকে আর পাখির বিবর্তন হচ্ছে না কেন? সরীসৃপ থেকে কতগুলো ধাপ অতিক্রম করার পর পাখি হয়ে আকাশে উড়তে শিখেছিল? সেটি কোন্‌ পাখি ছিল? সেই একটি (?) পাখি থেকে কেমন করে বংশবৃদ্ধি হয়েছিল? সরীসৃপ ও পাখির মধ্যবর্তী ধাপগুলোই বা কেমন ছিল? মধ্যবর্তী ধাপগুলোতে কেমন করে বংশবৃদ্ধি হয়েছিল? তারপর স্তন্যপায়ী বাদুড়-সহ অসংখ্য প্রকারের পাখি কোথা থেকে ও কীভাবে বিবর্তিত হলো?

উপসংহার: জলজ প্রাণী থেকে ধাপে ধাপে উভচর প্রাণী, উভচর প্রাণী থেকে ধাপে ধাপে সরীসৃপ, এবং সরীসৃপ থেকে ধাপে ধাপে পাখি হয়ে আকাশে উড়তে শিখা কল্পকাহিনী ছাড়া বাস্তবে সম্ভব নয়। বাস্তবে এমন কিছু ঘটতে দেখা যায় না এবং এই ধরণের বিবর্তনের পক্ষে কোনো প্রমাণও নেই। যে দু-একটি তথাকথিত প্রমাণ [মিসিং লিঙ্ক] দেখানো হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে কোনো ভাবেই এত বড় উপসংহারে পৌঁছা যাবে না। কাজেই জলজ প্রাণী, উভচর প্রাণী, সরীসৃপ, ও পাখি প্রজাতির আলাদা আলাদা উৎস থাকতে হবে। আর আলাদা আলাদা উৎস থাকতে হলে বিবর্তন তত্ত্ব অবশ্যই ভুল প্রমাণিত হবে।

 

ঙ. বিবর্তন তত্ত্বকে বিজ্ঞানের নামে “প্রতিষ্ঠিত সত্য” হিসেবে চালিয়ে দিয়ে বিবর্তনবাদীদের কল্পকাহিনী প্রচারকে উন্মোচন করার সহজ ও কার্যকর একটি পন্থা হচ্ছে সাধারণ লোকজন ও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা শেখানো। তাহলে দেখা যাবে বড় বড় বিবর্তনবাদীরাও সাধারণ লোকজন ও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। যেমন এক প্রজাতি থেকে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতি বিবর্তিত হওয়ার প্রমাণ কোথায়? নির্দিষ্ট একটি জায়গায় আষ্ঠেপিষ্ঠে চেপে ধরতে হবে। কেউ কেউ হয়তো দুটি প্রজাতির মধ্যে কিছু মিল দেখানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু দুটি প্রজাতির মধ্যে কিছু মিল থাকা মানেই প্রমাণ হয় না যে, এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতি বিবর্তিত হয়েছে। কেউ কেউ আবার জীবাশ্ম কিংবা ডিএনএ-র উদাহরণ নিয়ে এসে গোলক ধাঁধার মধ্যে ফেলে দিতে পারেন। এক্ষেত্রেও একই ধরণের প্রশ্ন করতে হবে। এভাবে যৌক্তিক প্রশ্ন করা শুরু করলেই দেখবেন যে, তারা প্রশ্নকারীদের থেকে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন এবং সেই সাথে বিজ্ঞানের মোড়কে বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনী প্রচার করার মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।

নিচের ভিডিওতে সরীসৃপ প্রজাতির একটি প্রাণীর শিকার ধরার পদ্ধতিটা খুব ভালো করে লক্ষ্য করুন। দেখবেন যে, বিশাল লম্বা জিহ্বাকে দ্রুতগতিতে ছুঁড়ে দিয়ে শিকার ধরছে। বেশ দর্শনীয়। তারা সরাসরি মুখ দিয়ে শিকার ধরে না। তো এই যে বিশাল লম্বা জিহ্বাকে ছুঁড়ে দিয়ে শিকার ধরছে – এই পদ্ধতি কীভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব? এরকম একটি পদ্ধতি কি আদৌ ধাপে ধাপে বিবর্তিত হতে পারে? লম্বা জিহ্বা আর শিকার ধরার পদ্ধতি যদি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হতে থাকে তাহলে সেই ধাপগুলোতে প্রাণীটার অবস্থা কেমন হবে? ভেবে দেখুন।

প্রজাপতিকে যারা হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখেছেন তারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে, প্রজাপতির ডানা অত্যন্ত সূক্ষ্ম, মসৃণ, ও কারুকার্যখচিত এবং ডানাতে এক ধরণের পাউডারও থাকে যে পাউডার প্রজাপতির ডানাকে পিচ্ছিল করে রাখে। শুধু তা-ই নয়, প্রজাপতির সম্মুখদিকে সুঁচের মতো অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও লম্বা শুঁড়ও লক্ষণীয়। প্রজাপতির মতো অতি সূক্ষ্ম, মসৃণ, ও কারুকার্যখচিত ডানাযুক্ত প্রজাতি 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে কোথা থেকে ও কীভাবে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হবে? এই ধরণের বিবর্তন বাস্তবে কী করে সম্ভব? নিজেরাই দেখুন:

উপসংহার: সরীসৃপ প্রজাতির লম্বা জিহ্বা আর শিকার ধরার পদ্ধতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে অন্য কোনো প্রাণী থেকে বিবর্তিত হতে পারে না। ফলে এই প্রাণীকে একদম প্রথম থেকেই সব কিছু-সহ পূর্ণাঙ্গভাবে থাকতে হবে, যেটি বিবর্তন তত্ত্বের বিপরীত। প্রজাপতির ক্ষেত্রেও অনুরূপ যুক্তি প্রযোজ্য।

৪১ comments

Skip to comment form

  1. 21
    এমিনেম

    এটা একটু দেখুন দেখি, বলেন কিভাবে হল…………..
    http://khmer.cc/community/t.c?b=1&t=2673

    1. 21.1
      এস. এম. রায়হান

      @এমিনেম: হা-হা-হা! আপনার পূর্ব-পুরুষদের লেঞ্জা দেখে বিনোদিত হলাম। 😀

    2. 21.2
      নির্ভীক আস্তিক

      ক'দিন ধরে ফেসবুকের একটা পেজ-এ দেখলাম মুসলমানদেরকে ঠাট্টা করছে কারণ তাদের কিছু লোক গাছের পাতায়, আকাশের মেঘে আরবিতে 'আল্লাহু' দেখতে পায় বলে। তাদের অই বিশ্বাসের বালখিল্যতা আর একজন মানুষের কোষ অস্বাভাবিক বিভাজনের জন্য সৃষ্ট মাংসল বিবর্ধনকে লেজ হিসেবে বিশ্বাস এর বালখিল্যতার মধ্যে পার্থক্য কতটুকু?
      http://listverse.com/2010/09/08/top-10-bizarre-birth-defects/ এই লিঙ্কটিতে দেখুন শুধু Vestigial Tail নয় Forg, এমনকি Cyclopia এর মত মিথিকাল Creature এরও জন্ম হয়েছে।

      1. 21.2.1
        এস. এম. রায়হান

        মানব জাতির ইতিহাসে যত কল্পকাহিনী আছে সেগুলো একত্রে করলে যতটা না অযৌক্তিক ও হাস্যকর শুনাবে, বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনী তার চেয়ে মিলিয়ন গুন বেশি অযৌক্তিক ও হাস্যকর। আর কীভাবে বুঝাব!

      2. 21.2.2
        Eminem

        আপনার দেওয়া লিংকটি পড়ে দেখলাম, এখানে বিবর্তনের স্বপক্ষেই প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে,  ভেস্টিজিয়াল টেল হল আধা-লেজ, যেটি উৎপন্ন হয় একটি মিউটেশনের ফলে, যখন সেই লেজের জন্য দায়ী প্রাচীন বন্ধ(অফ্) হয়ে যাওয়া জিনটি আবার চালু (অন) হয়ে যায়,
        একটি সাম্প্রতিক খবর দেখুন যেখানে একটি মেয়ে তার লেজটি নাড়তে পারত, কারণ তার লেজে আসল লেজের মত স্নায়ু সংযোগ ছিল। http://www.anandabazar.com/archive/1120725/25swasth1.html
        Vestigial tail is when a child is born with a semi-functional tail, complete with muscles, nerves, skin, and blood vessels. It is believed to be caused by a mutation of the genes that exist in infants to cause the cellular death of body parts that are not needed.

        1. 21.2.2.1
          নির্ভীক আস্তিক

          এখানে বিবর্তনের সপক্ষেই প্রমান দেয়া হচ্ছে ! মিথিকাল ক্রিয়েচার Cyclopia এর মত মিথিকাল Creature ও একসময় ছিল অথবা থাকতে পারে তারো প্রমান দেয়া হচ্ছে । আপনার জন্য আরো সুবিধা করে দেই -- এমনকি কিছু মানুষ এমন জন্মেছে যাদের সারা শরীরে আদি মানবদের বা এপি দের মত লোম আছে, আবার Tree Man নামেও মানুষ আছে যাদের দেহের চামড়ায় উদ্ভিদের মত কান্ড আর বাকল আছে। আপনি কি বুঝতে পারছেন আমি কি বুঝাতে চাচ্ছি ? Vestigial Tail কি সেটা আমি জানি, আর তা জানি বলেই অই লিঙ্কটা আপনাকে দিয়েছি শুধু Tail নয় হরেক প্রকৃতির মানুষ-ই জন্মেছে তা দেখার জন্য।  এখন এখানে Vestigial Tail কে জিনের মিঊটেশন দিয়ে স্রেফ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে তা বিবর্তন বাদকে সমর্থন করে বলে । কিন্তু  উপরের অন্যান্য ঘটনাগুলোতেও জেনেটিক মিঊটেশন বা যারা এরুপ অস্বাভাবিক ভাবে জন্ম নিয়েছে তাদের বেলায় কি ঘটেছে ? তাদের টা বিবর্তন বাদের সমর্থন হিসেবে ধরে নিতে সমস্যা ?

          আমি BIO-Informatics নিয়ে পড়াশুনা করছি। তাই এর Computational model সম্পর্কেও মোটামুটি ধারনা আছে । বিজ্ঞানের ঝান্ডা আমিও উড়াতে চাই । কিন্তু "জিব জগত কে ব্যাক্ষা করে" -- কেবল এই উক্তিকে সামনে রেখে "বিবর্তনবাদ কে বিশ্বাস করার তো কোন কারন নেই" । বিজ্ঞানে "বিশ্বাস" -- এর কোন ঠাই নেই। আপনার যদি মনে হয়ে থাকে আমি আল্লাহ আছে এতে বিশ্বাস করছি বলেই বিবর্তন-কে "অবিশ্বাস" করছি এ ধারনা ভুল । আল্লাহ্‌ মানুষকে জানান-নি যে উনি কিভাবে আমাদের সৃষ্টি করেছেন ।  আর তাই সে সৃষ্টি রহস্য আমরা খুজে দেখছি সবাই । তা আস্তিক নাস্তিক নির্বিশেষে । যখন আমরা সত্যটা জানব তখন "বিশ্বাসে বিশ্বাস" করার প্রয়োজন নেই ।  সুতরাং আমরা আরো খুজে দেখি । পক্ষে এবং বিপক্ষে, নিরপেক্ষ ভাবে দুইভাবেই চিন্তা করে দেখি ।
          আমার কাছে  -- "Sceience is neither theistic, nor Atheistic. It is rather Agonstic. "
          আপনার অবস্থানের প্রতি সম্মান রইল । আপনার প্রতিও অনুরোধ রইল নিজেকে অন্যান্য প্রানিদের সাথে মিলিয়ে পার্থক্যটা খোজার । আমার কাছে বিবর্তনবাদ ফেলে দেয়ার মত কিছু নয়, আবার তা গ্রহন করার মতোও কিছু নয় । এর প্রতি আপনার আগ্রহ আর বিশ্বাসকে প্রশংসা করছি, কিন্তু গ্রহন করছিনা এই যা ।

          ঠিক তেমনি সৃষ্টিকর্তা আছেন কিনা তা আপনিও ভেবে দেখবেন । নিরপেক্ষ ও স্বতন্ত্র ভাবে, অপরে কি বলছে তা দিয়ে নয়, কোন গানিতিক প্যারাডক্স দিয়ে নয় । প্রানিজগতে মানুষ অনেক বেশি অনন্য । জীবন আর জীবের কিভাবে সৃষ্টি হল তা দিয়ে পৃথিবীর অন্য কোন প্রানির ঠেকা পরেনাই জানার জন্য, কিন্তু মানুষের ঠিকি পড়ছে । দুনিয়ার অন্য সকল প্রানি যেখানে খায় সেখানেই ঘুমায় সেখানেই মলত্যাগ করে, কিন্তু সভ্য মানুষ তা করে না। মানুষ টাকা রুপ দিয়েছে, অট্টালিকা গড়েছে, নিজেদের কাজের সুবিধার জন্য এখন তারা Artifical Intelligent ও সৃষ্টি করছে। এখন,  Natural Selection এর মত random generation থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন বছরে উন্নত মস্তিষ্কের মানুষ হলে, এই ধারা তো বসে থাকবেনা  কেননা "Natural Constraint" টা ডিফাইন করা না। আমি চাইলেই এমনটা দাবি করতে পারিনা যে "Natural Constraint" মানুষের এই বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ এবং এর চাইতে উন্নতর formtation সম্ভব নয়। কেননা বিবর্তন-ই বলছে আমাদের দেহে অনেক অপ্রয়োজনীয় অংগ রয়ে গেছে অর্থাৎ "Current Human Formation is still Imperfect!"  সেক্ষেত্রে মানুষের নিজস্ব এই উত্তম গঠন এবং মস্তিষ্ক আর "উত্তম" রইলনা এবং মানুষের বিবর্তনে ফলে পরবর্তী উন্নতর গঠন ও মস্তিষ্কওয়ালা প্রাণীর ধারাটা কি হতে পারে ? ? ? ? ? ?

           

        2. 21.2.2.2
          নির্ভীক আস্তিক

          দুঃখিত। "Tree Man" -- সমস্যাটির জন্য দায়ি করা হয় "HPV-2"-কে এবং "genetically inherited immune defecttion"-কে। যদিও এর ২য় কোন উদাহপরণ পাওয়া যায়নি।

          আনন্দ বাজার পত্রিকা দেখতে বললেন -- খুশি হলেই ছোট্ট মেয়েটা টুকটুক করে লেজ নাড়ত। বাবার ভালই লাগত। কিন্তু লোকলজ্জা ও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হাসপাতালে গিয়ে লেজটা কাটিয়ে আসতে হল।-- এটাতো স্রেফ একটা গল্প-ই মনে হল । উপযুক্ত প্রমাণ কই? অনেক কুদরতি গল্প প্রথমআলো পত্রিকাতেও পাওয়া যায়- উপযুক্ত ছবি, ডকুমেন্ট বিবর্জিত।

          এবার আমি আপনাকে একটি সংবাদ দেই, দেখুন বিশ্বাস করতে পারেন কিনা! -- রাশিয়াতে সদ্য জন্মগ্রহন করা এক শিশুর শরিরের চামড়াতে মাঝে মাঝে আরবি কোরানের আয়াত ভেষে উঠে। তখন শিশুটি প্রচুর ব্যাথা পায়, তার শরিরের তাপমাত্রা অত্যাধিক পরিমাণ বেড়ে যায়। -- এই ঘটনাটির ছবি ও কিছু ডকুমেন্ট আছে। গুগল করে দেখেন। আমার মনে হয় না আপনি এতে বিশ্বাস করবেন। আমিও করিনি। করার কারণও নেই। আল্লাহর এত ঠেকা পড়েনাই যে মানুষকে পরতে পরতে কুদরতি দেখিয়ে বেড়াবেন যেন তাদের জন্য বিশ্বাস করা সহজ হয়।

  2. 20
    fat eee

    …onek othorbo alochona. biborthon bad next 200 bosore aro 2000+ missing link abiskar korbe in terms of stahges & conditions of evolution. so ekhon e eto sure na hoai valo. jib poribortonsil poribese tar khdavas poriborton kore tike thakte chai, na parle ostitto harai. poribeser sathe manie near ei obostha tai bongsanu krome jin e profolito hoi. projatir boisisto poriborton ar onno projatite te rupantor vinno kotha, second baper ta eta just analogy, sicence has to wait millions of yrs! during civilization of human (last few hundred years) we hv seen thousands of species had lost their existence, where are the missing links of those? how abt their transatory states? i am not so sure! million yr in evolution is just a modern scientific myth! its a gr8 imagery in deed. the earth is losing its live existence in hundreads of yrs, but we dont see its transation rather than changes in character or food behavior..if 1 species is goona elope in next 500 yrs (there are so many) they must have their transatory sates during this time, otherwsie they would lost existence. over the 2000+ yrs of scicence do we hv any clue of such type? why we are talking millions of or billions of yrs?

  3. 19
    মাসুদ

    এই ব্লগটা মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো ব্লগ, সেই গুহামানবের গুহা থেকে যার শুরু । সমস্যা হলো সারা দুনিয়া উন্নত আর বিবর্তিত হয়ে অন্য ব্লগে চলে গেলেও কিছু গুহামানব এখনো রয়ে গেছে যারা এই ব্লগ চালায়। বিবর্তনে বিশ্বাস করে না এমন অনেক লোক দেখেছি, কথা বলেছি, সত্যি কথা বলতে কি তাদের খুব কম সংখ্যকেরই দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন করতে পেরেছি , কিন্তু তাদের কেউই এই রকম হাস্যকর সব যুক্তি দাড় করায়নি । মাঝে মাঝে সন্দেহ হচ্ছি যে কোন কমেডি ব্লগে এসে পড়লাম কি না । এমিনেম ভাই আপনার অনেক ধৈর্য্য, শুধু আপনার জন্যই রিপ্লাইটা করা ।

    অনেকক্ষণ ধরে হাসতে হাসতে তারপর রিপ্লাই লিখতে বসলাম বলে দেরি হলো। রায়হান ভাই, আমি আমার আসল নাম দিলাম, নাম ঠিকানা দিলে প্রমান হিসেবে ছবি/সার্টিফিকেটও পাঠিয়ে দেব। অবশ্য আপনারটা যে কতটুকু সত্যি সেটা জানলাম না…

    1. 19.1
      সরোয়ার

      @মাসুদ:

      বিবর্তনে বিশ্বাস করে না এমন অনেক লোক দেখেছি, কথা বলেছি, সত্যি কথা বলতে কি তাদের খুব কম সংখ্যকেরই দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন করতে পেরেছি

      -- নিজে সবজান্তা সমশের, আর অন্যরা সবাই বোকা!

    2. 19.2
      এস. এম. রায়হান

      @মাসুদ: তুমি আর এমিনেম একই স্কুলে পড় নাকি? তোমাদের শিক্ষকদেরকে এই ব্লগে আসতে বলিও।

  4. 18
    ibnul kayes

    হা হা হা… এখন তাহলে মেনে নিতে হবে নক্ষত্র আর উপগ্রহ থেকে জীবন সৃষ্টির উপাদান এসেছে? মঙ্গল গ্রহে গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে সেখানে পানি সহ জীবন সৃষ্টির অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান গুলো বিদ্যমান। তাহলে সেখানে জীবন সৃষ্টি হচ্ছে না কেন? why comet or asteroid did not provide MARS with that ingredients? why it selected EARTH? WHY???

  5. 17
    এমিনেম

    “He believes the answer may lie in interstellar dust, and will be talking about the possibility that a comet or asteroid may have provided Earth with the raw ingredients needed for life.”

  6. 16
    ibnul kayes

    ওই এককোষী থেকে যেমন প্রানিজগত হয়েছে তেমনি উদ্ভিদ জগত ও হয়েছে। এটা কিভাবে হল? একটি মাত্র কোষ থেকে একসাথে প্রানিকোষ এবং উদ্ভিদকোষ কিভাবে আসলো? এটার কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে নাকি এটা বিশ্বাস?
     
    এখানে দেখুন http://news.bbc.co.uk/2/hi/science/nature/4702336.stm জীবন সৃষ্টির যে ধারনা করা হত darwin’s pond এর মাধ্যমে তা ভুল প্রমানিত হয়েছে। এখন তাহলে কি হবে?

  7. 15
    এমিনেম

    এক কোষি জীব থেকে জীবের মাথা, ব্রেন, চুল, কান, নাক, চোখ, মুখ, জিহ্বা, হাত, পা, নখ, শিং, লেজ, পরিপাকতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, ও হৃৎপিণ্ড,শিং হামেশাই গঠিত হচ্ছে মায়েদের জরায়ুতে। কোন জীব যখন মায়ের গর্ভে জীবন শুরু করে তখন সে এককোষি হিসেবেই শুরু করে, বাবার শুক্রানু ও মায়ের ডিম্বানু মিলে তৈরী করে এককোষী ভ্রন, তারপর তা থেকেই পর্যায়ক্রমে গঠিত হয় ব্রেন, চুল, কান, নাক, চোখ, মুখ, জিহ্বা, হাত, পা, নখ, শিং, লেজ, পরিপাকতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, ও হৃৎপিণ্ড,শিং ইত্যাদি। প্রাচীন সেই এককোষি যে জলীয় পরিবেশে জন্মলাভ করেছিল, অবিকল সেই জলীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয় মায়ের গর্ভে, যাকে বলা হয় অ্যামনিয়টিক ফ্লুইড।

  8. 14
  9. 13
    ibnul kayes

    ধন্যবাদ। এবার বিবর্তনের ধারাটা ধীরে ধীরে বুঝতে পারছি। সদালাপে আপনি যদি একটু সাহায্য করেন তাহলে বিবর্তন বিষয়টা ভালো মত বুঝতে পারব।
    ইউরোকর্ডাটা কোত্থেকে বিবর্তিত হল এটাও আমি জানি না। আর
    পুরুষ থেকে নারী অথবা নারী থেকে পুরুষে বিবর্তিত হয় না! পুরুষ ও নারী আলাদা বিবর্তিত হয়েছে, বলতে গেলে নারী-পুরুষের বিভাজন টা আগেই হয়ে গেছে ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না। এটা কি এরকম যে পুরুষ ও নারী দুটো আলাদা প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে? আলাদা প্রজাতি হোক আর একই প্রজাতি হোক মানুষের একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ আছে তাই না? সেই পূর্বপুরুষ যেই লিঙ্গেরই হোক না সেখান থেকে কিভাবে সম্পূর্ণ আলাদা এবং স্বতন্ত্র প্রজননতন্ত্র বিশিষ্ট দুটো জীব বিবর্তিত হল সেটাও ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না। যদি একটু বুঝিয়ে দেন……
     
    জীবের মাথা, ব্রেন, চুল, কান, নাক, চোখ, মুখ, জিহ্বা, হাত, পা, নখ, শিং, লেজ, পরিপাকতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, ও হৃৎপিণ্ড,শিং এর কিভাবে উংপত্তি হয়েছে তা জীববিজ্ঞানের ছাত্র ভালোভাবেই জানে। এককোষী প্রাণী থেকে কিভাবে এটা হল সেটা মনে হয় বলতে ভুলে গেছেন……

     

    1. 13.1
  10. 12
    ibnul kayes

    এমিনেম ভাইয়া (যেহেতু আপনি নিজেকে ছাত্র বলেছেন তাই ভাইয়া ডাকলাম) আরেক টা ব্যাপার বুঝতে পারছি না…
     
    মাছ——>সিলাকান্থের মত প্রানি ——>উভচর
    সরীসৃপ ——–>আরর্কিওপটেরিক্স মত প্রানি—–>পাখি

    এটুকু বুঝলাম। তাই এবার নিচের শূন্যস্থান দুটি পূরণ করে আমাকে আরেকটু জ্ঞান লাভ করতে সাহায্য করবেন আশা করি……
    ________ ——> মাছ?
    ________ ——-> সরীসৃপ?
    ধন্যবাদ।

    1. 12.1
      এমিনেম

      অত্যন্ত সহজ ব্যাপার
      ইউরোকর্ডাটা——--টুনিকেট লার্ভা——> মাছ
      মাছ————উভচর———--সরীসৃপ

  11. 11
    ibnul kayes

    @ এমিনেম
    “জীবের মাথা, ব্রেন, চুল, কান, নাক, চোখ, মুখ, জিহ্বা, হাত, পা, নখ, শিং, লেজ, পরিপাকতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, ও হৃৎপিণ্ড,শিং এর কিভাবে উংপত্তি হয়েছে তা জীববিজ্ঞানের ছাত্র ভালোভাবেই জানে।”

    এককোষী প্রানি থেকে কিভাবে এটা হল আমি আসলেই বুঝতে পারছিনা। আপনি যেহেতু জীববিজ্ঞানের ছাত্র তাই আমাকে দয়া করে ব্যাপারটা বুঝতে সাহায্য করবেন? বিস্তারিত বলার দরকার নেই। শুধু ধারণা দিলেই চলবে। দয়া করে লিঙ্ক না দিয়ে নিজে যেটা বুঝেন সেটাই বলবেন।
     
    আমি বেশ কয়েকদিন ধরেই একটা ব্যাপার চিন্তা করে বেশ কৌতুক বোধ করছি। যেহেতু transitional প্রাণীরা বেঁচে থাকতে পারে তাই যখন বিবর্তন বিরোধীরা প্রশ্ন করে যে মানুষ যখন পুরুষ থেকে নারী অথবা নারী থেকে পুরুষে বিবর্তিত হচ্ছিল তার মিসিং লিঙ্ক কই? তখন বিবর্তনবাদীরা হিজড়া সম্প্রদায়কে উদাহরন হিসেবে দিতে পারে। এখন পর্যন্ত কাউকে দিতে দেখিনি! তাই কথাটা বললাম আর কি!

    1. 11.1
      এমিনেম

      “আমি বেশ কয়েকদিন ধরেই একটা ব্যাপার চিন্তা করে বেশ কৌতুক বোধ করছি। যেহেতু transitional প্রাণীরা বেঁচে থাকতে পারে তাই যখন বিবর্তন বিরোধীরা প্রশ্ন করে যে মানুষ যখন পুরুষ থেকে নারী অথবা নারী থেকে পুরুষে বিবর্তিত হচ্ছিল তার মিসিং লিঙ্ক কই? তখন বিবর্তনবাদীরা হিজড়া সম্প্রদায়কে উদাহরন হিসেবে দিতে পারে। এখন পর্যন্ত কাউকে দিতে দেখিনি! তাই কথাটা বললাম আর কি!
      পুরুষ থেকে নারী অথবা নারী থেকে পুরুষে বিবর্তিত হয় না! পুরুষ ও নারী আলাদা বিবর্তিত হয়েছে, বলতে গেলে নারী-পুরুষের বিভাজন টা অাগেই হয়ে গেছে। হিজড়ারা transitional নয় Transgender.

  12. 10
    এমিনেম

    “এমিনেম’ নিকে বাংলা ব্লগ জগতে বিজ্ঞান বা বিবর্তনবাদের উপর কোনই লেখা নাই। ফলে এ বিষয়ে আপনি হয় একজন অজ্ঞ, এজন্য লিখার কোন মুরোদ নাই, অথবা মুখোশের আড়ালে মুখ ঢেকে মন্তব্য করেছেন। অজ্ঞ হয়ে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই আমার লেখা বুঝার মতো যোগ্যতা আপনার নাই। স্যরি টু সে দ্যাট। আর মুখোশধারী হলে স্বনামে আসেন। তখন দেখিয়ে দেয়া হবে বিবর্তনবাদ কে বোঝে আর কে বোঝে না। বিজ্ঞান জগতে কিন্তু মুখোশধারীর কোন স্থান নাই”
    দেখুন অামি কোন বড় বিদ্বান বা লেখক নই, তাই অামার লেখা পাওয়া যাবেনা! তবে অামি জীববিজ্ঞানের ছাত্র। বাংলা ওয়েবসাইট খুজতে গিয়ে অামি এটা দেখতে পেলাম! বিবর্তনবাদের ভুল ব্যাখা দেখে অামি অাশ্চার্যন্বিত হলাম! অামি বুঝেছি একমাত্র বিবর্তনবাদই এই জগতের জীববৈচিত্র্য কে সঠিক ভাবে ব্যাখা করতে পারে। পরিবর্তন হচ্ছে জীবনের ধর্ম, অার পরিবর্তন শুধু জৈবিক ক্ষেত্রেই হয় না, সামাজিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই অবশ্যম্ভাবী, চিন্তা করুন মাত্র ১০০ বছর অাগে অামরা কি ছিলাম, অার এখন কি হয়েছি। অাপনি যদি একলক্ষ বছর বাঁচতেন তাহলে চোখের সামনে বিবর্তন দেখতে পেতেন! ধন্যবাদ।

  13. 9
    এমিনেম

    “বানর জাতীয় লেজ-ওয়ালা প্রাইমেটস আর আপনার মতো লেজ-বিহীন হোমোসেপিয়েন্সের মধ্যে কয়টা ধাপ আছে এবং সেই ধাপগুলো কী কী, বাই দ্য ওয়ে? অস্তন্যপায়ী প্রজাতি থেকে ধাপে ধাপে স্তন্যপায়ী প্রজাতি বিবর্তিত হতে হলে মাঝখানে কতগুলো লিঙ্ক থাকতে হবে এবং সেই লিঙ্কগুলো কেমন হবে? একইভাবে, ফল-বিহীন উদ্ভিদ থেকে ধাপে ধাপে ফলন্ত উদ্ভিদ বিবর্তিত হতে হলে মাঝখানে কতগুলো লিঙ্ক থাকতে হবে এবং সেই লিঙ্কগুলোই বা কেমন হবে?”
    অাবার সেই বোকার মতো প্রশ্ন ! একটা জীববিজ্ঞানের ছাত্র কমপক্ষে ৫ বছর(৩বছর ব্যচেলর ডিগ্রি+২ বছর মাস্টার্স ডিগ্রি) পড়াশোনার পর এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেয়ে যায়, অাপনাকে তারজন্য প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে। এরকম কয়েকটা ভাসা ভাসা ধারনা নিয়ে প্রশ্ন করলে জীববিজ্ঞানের ছাত্ররা হাসবেই হাসবে। বিবর্তন যে চরম সত্য একটা ঘটনা তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কোন দ্বিমত নেই!
    http://www.newscientist.com/topic/evolution

  14. 8
    এস. এম. রায়হান

    @এমিনেম,

    মাছ——>সিলাকান্থের মত প্রানি ——>উভচর
    সরীসৃপ ——–>অার্কিওপটেরিক্স মত প্রানি—–>পাখি

    তার মানে মাছ আর উভচর প্রাণীর মধ্যে মাত্র একটি ধাপ (মিসিং লিঙ্ক?) আছে, আর সেটি হচ্ছে সিলাকান্থের মতো প্রাণী? অন্যদিকে সরীসৃপ আর পাখির মধ্যেও মাত্র একটি ধাপ আছে, আর সেটি হচ্ছে ‘আর্কিওপটেরিক্স’ এর মতো প্রাণী? এই হচ্ছে ধাপে ধাপে লক্ষ-কোটি বছর ধরে বিবর্তন!?!

    বানর জাতীয় লেজ-ওয়ালা প্রাইমেটস আর আপনার মতো লেজ-বিহীন হোমোসেপিয়েন্সের মধ্যে কয়টা ধাপ আছে এবং সেই ধাপগুলো কী কী, বাই দ্য ওয়ে? অস্তন্যপায়ী প্রজাতি থেকে ধাপে ধাপে স্তন্যপায়ী প্রজাতি বিবর্তিত হতে হলে মাঝখানে কতগুলো লিঙ্ক থাকতে হবে এবং সেই লিঙ্কগুলো কেমন হবে? একইভাবে, ফল-বিহীন উদ্ভিদ থেকে ধাপে ধাপে ফলন্ত উদ্ভিদ বিবর্তিত হতে হলে মাঝখানে কতগুলো লিঙ্ক থাকতে হবে এবং সেই লিঙ্কগুলোই বা কেমন হবে?

    অার বলে রাখি বিবর্তন কোন দুই-এক হাজার বছরের ঘটনা নয়, এতে পরিবর্তন আসতে লক্ষ থেকে কোটি বছর সময় লাগে।

    তাই নাকি! ঝানতাম না তো! তা এই কথা কি আপনার কোন দেবতা আপনার কানে কানে বলেছে নাকি আপনি নিজেই দেবতা!

    মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন: সিলাকান্থের মতো প্রাণী যে মাছ আর উভচর প্রাণীর মধ্যকার ‘মিসিং লিঙ্ক’ কিংবা ‘আর্কিওপটেরিক্স’ এর মতো প্রাণী যে সরীসৃপ আর পাখির মধ্যকার ‘মিসিং লিঙ্ক’ -- এই গোপন তথ্য কেমন করে জেনেছেন??? মনাদের মতো আমরা কিন্তু যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে জবাব দিতে না পেরে বোকার মতো হাসি না!

  15. 7
    এস. এম. রায়হান

    @এমিনেম,

    অাপনার বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান চাওয়ার প্রশ্ন গুলো দেখলে জীববিজ্ঞানের স্কুল পর্যায়ের ছাত্রও হেসে ফেলবে!

    হা-হা-হা! আমার বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমাণ চাওয়ার প্রশ্নগুলো দেখলে জীববিজ্ঞানের স্কুল পর্যায়ের ছাত্ররা হেসে ফেলবে কিনা তার পক্ষে ছয়-সাতটি ব্লগে সবগুলো লেখা পোস্ট করেও এখন পর্যন্তও কোন প্রমাণ পাওয়া যায়িনি, তবে মনারা যে ছদ্মনামে বোকার মতো হাসাহাসি করে তার পক্ষে অনেক প্রমাণ আছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে তারা স্বনামে পর্যন্ত হাসতে পারে না! কী মহা মুশকিল-রে বাবা!  

    জীবের মাথা, ব্রেন, চুল, কান, নাক, চোখ, মুখ, জিহ্বা, হাত, পা, নখ, শিং, লেজ, পরিপাকতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, ও হৃৎপিণ্ড,শিং এর কিভাবে উংপত্তি হয়েছে তা জীববিজ্ঞানের ছাত্র ভালোভাবেই জানে।

    ওদেরকে এখানে ধরে নিয়ে আসেন, তাদের সাথেই কথা বলি। আর আপনি যদি তাদের একজন হয়ে থাকেন তাহলে অন্যের মুখে ঝাল না খেয়ে প্রমাণ দেখানোর সৎ সাহস থাকলে নিজে থেকে কথা বলুন। অন্যের মুখে কিন্তু অজ্ঞ কিংবা বিদ্বেষীরাই ঝাল খায়।

  16. 6
    সরোয়ার

    এনিমেনের জন্য আরো কিছু টান্সজিশনাল স্পিসিস যুক্ত করা হলো! লিস্ট অফ ট্রান্সজিশনাল ড্রয়িংস (কাল্পনিক) দেখুন। এতে সিলাক্যান্থ নিয়ে টানা-হেচড়া কম হবে!

    http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_transitional_fossils

  17. 5
    সরোয়ার

    How Fish Evolved Out!

    rel="nofollow">

  18. 4
    সরোয়ার

    ‘Ida’ নামক ফসিল আবিষ্কারের (২০০৯) পর সমস্ত পৃথিবীর মিডিয়া জুড়ে হৈ-চৈ পড়ে যায়। কেননা মিসিং লিঙ্ক নিয়ে বিবর্তনবাদীরা বেশ বেকাদায় পড়ে যায়। ইডা আবিষ্কারের পরে এটাকে “Eight Wonder of the World” বলে ঘোষণা করা হয়। Sir David Attenborough বলেছিলেন, এখন থেকে আর কেউ বলতে পারবে না যে মিসিং লিঙ্ক নেই। আর কেউ যদি প্রমাণ চায় তবে ইডা’কে যেন হাজির করা হয়। মিডিয়াতে বলা হলো যে ইডা ফসিল সব ধর্মকে মিথ্যা প্রমাণিত করল!

    কিছুদিন পরে দেখা গেল-
    ‘Eighth wonder’ Ida is not related to humans, claim scientists

    তাহলে ধর্মের এখন কি হবে?
    বিস্তারিত জনতে-

    Ida ruins Darwin’s party

  19. 3
    ibnul kayes

    স্যার ভাল লাগলো। কিন্তু এই লিঙ্কে http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_transitional_fossils  মিসিং লিঙ্ক এর মাধ্যমে এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে বিবর্তনের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। আমি বিবর্তন নিয়ে খুব বেশী কিছু জানি না। এই মিসিং লিঙ্কের ব্যপার টা এবং অই লিস্ট টা সম্পর্কে কিছু বলুন।
     

    1. 3.1
      এস. এম. রায়হান

      উইকি’র মিসিং লিঙ্ক সম্পর্কে খুব সংক্ষেপে বলে রাখি। সেখানে পুরোপুরি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মিসিং লিঙ্ক দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মিসিং লিঙ্ক বলে কিছু নাই বা থাকতে পারে না।

      1. 3.1.1
        এমিনেম

        অাপনি কি জীব-বিজ্ঞানের ছাত্র? অামার তো মনে হচ্ছে অাপনি বিবর্তনবাদ কি, সেটাই জানেন না! শুধুই বাচ্চাছেলের মত অাবোল-তাবোল বলছেন!
        “সেখানে পুরোপুরি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মিসিং লিঙ্ক দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মিসিং লিঙ্ক বলে কিছু নাই বা থাকতে পারে না।”
        অাজ পর্যন্ত কাউকে এটা বলতে শুনিনি! প্রকৃতিতে অসংখ্য মিসিং লিঙ্ক পাওয়া গেছে, এমনকি জীবন্ত ট্রানগিশন্যাল প্রানী অাছে ! যেমন “সিলাকান্থ” এটা একদিকে মাছ, অথচ এর ফুসফুস অাছে! অর্থাৎ মাছ ও উভচরের মিসিং লিঙ্ক।

        1. 3.1.1.1
          সরোয়ার

          @এমিনেম,

          অন্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করতে যেয়ে আপনি তো হাসির পাত্র হলেন!!! সিলাকান্থ এর উদাহরণ দিলেন! বিবর্তনবাদ সম্পর্কে ধারণা থাকলে এই উদাহরণ দিতেন না। ৪০০ মিলিয়ন বছরের সিলাকান্থ নামক ফসিলের উপর অনেক কল্প-কাহিনী বলা হয়েছিল। কিন্তু ঐ মাছটি জীবন্ত ধরা পড়ে ১৯৫৩ সালে। এজন্য এটা আর ট্রান্সজিশনাল স্পিসিসের উদাহরণ হিসেবে দেয় না। আপনার জ্ঞান আপডেট করতে হবে। দেখনু এই সিলিকান্থ মাছের জীবন্ত ভিডিও পাওয়া যায়।   

        2. এমিনেম

          কি অাবোল-তাবোল বলছেন! অামি তো অাগেই বলে দিয়েছি “প্রকৃতিতে অসংখ্য মিসিং লিঙ্ক পাওয়া গেছে, “এমনকি জীবন্ত ট্রানজিশন্যাল প্রানী অাছে ! যেমন সিলাকান্থ” এটা একদিকে মাছ, অথচ এর ফুসফুস অাছে! অর্থাৎ মাছ ও উভচরের মিসিং লিঙ্ক।”
          অামার বলা কথাগুলোই অাপনি বলে দিলেন ” কিন্তু ঐ মাছটি জীবন্ত ধরা পড়ে ১৯৫৩ সালে। এজন্য এটা আর ট্রান্সজিশনাল স্পিসিসের উদাহরণ হিসেবে দেয় না। আপনার জ্ঞান আপডেট করতে হবে। দেখনু এই সিলিকান্থ মাছের জীবন্ত ভিডিও পাওয়া যায়।”    ট্রানজিশন্যাল প্রানী হলেই যে তাকে মারা যেতে হবে এমন তো কথা নয় , তারা এখনো বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকতেই পারে, তাই সিলাকান্থ কে বলা হয় জীবন্ত জীবাশ্ম।

        3. 3.1.1.2
          এস. এম. রায়হান

          @এমিনেম,

          অাপনি কি জীব-বিজ্ঞানের ছাত্র? অামার তো মনে হচ্ছে অাপনি বিবর্তনবাদ কি, সেটাই জানেন না! শুধুই বাচ্চাছেলের মত অাবোল-তাবোল বলছেন!

          আপনাদের তো জন্মই হয়েছে বিভিন্ন মুখোশের আড়ালে মুসলিমদেরকে হেয় আর তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার জন্য, তাই নয় কি? ‘এমিনেম’ নিকে বাংলা ব্লগ জগতে বিজ্ঞান বা বিবর্তনবাদের উপর কোনই লেখা নাই। ফলে এ বিষয়ে আপনি হয় একজন অজ্ঞ, এজন্য লিখার কোন মুরোদ নাই, অথবা মুখোশের আড়ালে মুখ ঢেকে মন্তব্য করেছেন। অজ্ঞ হয়ে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই আমার লেখা বুঝার মতো যোগ্যতা আপনার নাই। স্যরি টু সে দ্যাট। আর মুখোশধারী হলে স্বনামে আসেন। তখন দেখিয়ে দেয়া হবে বিবর্তনবাদ কে বোঝে আর কে বোঝে না। বিজ্ঞান জগতে কিন্তু মুখোশধারীর কোন স্থান নাই।

          আর হ্যাঁ, বাংলা ব্লগ জগতে যারা হাঁটু দিয়ে বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনীকে ডিফেন্ড করছে তারা জীববিজ্ঞানের ছাত্র কিনা তার পক্ষে প্রমাণ হাজির করুন। তাছাড়া জীববিজ্ঞানের ছাত্র হওয়া বা না হওয়ার সাথে বিবর্তনবাদের বিরুদ্ধে আমার বিভিন্ন যুক্তি এমনি এমনি ভুল প্রমাণ হয় কিনা -- এটি উপলব্ধি করার মতো ন্যুনতম জিনিস আপনার মাথায় আছে কিনা তাও বলুন।

        4. এমিনেম

          অাপনার বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান চাওয়ার প্রশ্ন গুলো দেখলে জীববিজ্ঞানের স্কুল পর্যায়ের ছাত্রও হেসে ফেলবে! যেমন- “বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী যে অণুজীব থেকে বিবর্তন শুরু হওয়ার কথা বলা হয় সেই জীবের মাথা, ব্রেন, চুল, কান, নাক, চোখ, মুখ, জিহ্বা, হাত, পা, নখ, শিং, লেজ, পরিপাকতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, ও হৃৎপিণ্ড সহ কিছুই ছিল না। অথচ প্রকৃতিতে শিং-বিহীন ও শিং-ওয়ালা উভয় প্রাণীই দেখা যায়। প্রকৃতিতে যেহেতু শিং-বিহীন ও শিং-ওয়ালা উভয় প্রাণীই আছে, এবং বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী এগুলোর উৎস যেহেতু এক, সেহেতু বিবর্তনের কোন এক পর্যায়ে শিং-বিহীন প্রাণী থেকে শিং-ওয়ালা প্রাণী বিবর্তিত হতেই হবে।”
          জীবের মাথা, ব্রেন, চুল, কান, নাক, চোখ, মুখ, জিহ্বা, হাত, পা, নখ, শিং, লেজ, পরিপাকতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, ও হৃৎপিণ্ড,শিং এর কিভাবে উংপত্তি হয়েছে তা জীববিজ্ঞানের ছাত্র ভালোভাবেই জানে।

        5. 3.1.1.3
          এস. এম. রায়হান

          @এমিনেম,

          অাজ পর্যন্ত কাউকে এটা বলতে শুনিনি!

          আপনি তাহলে গুহায় বাস করছেন। আর আজ পর্যন্ত সত্যি সত্যি কেউই যদি তা না বলে থাকে, যা আমি বলেছি, তাহলে এই দাবির সত্তাধিকারী আমি। কী বলেন?

          প্রকৃতিতে অসংখ্য মিসিং লিঙ্ক পাওয়া গেছে, এমনকি জীবন্ত ট্রানগিশন্যাল প্রানী অাছে !

          মিসিং লিঙ্ক কাকে বলে বোঝেন? দুটি উদাহরণ দিচ্ছি:

          -অস্তন্যপায়ী প্রজাতি থেকে ধাপে ধাপে স্তন্যপায়ী প্রজাতি বিবর্তিত হতে হলে মাঝখানে কতগুলো লিঙ্ক থাকতে হবে এবং লিঙ্কগুলো কেমন হবে বলে মনে করেন?

          -ফল-বিহীন উদ্ভিদ থেকে ধাপে ধাপে ফলন্ত উদ্ভিদ বিবর্তিত হতে হলে মাঝখানে কতগুলো লিঙ্ক থাকতে হবে এবং লিঙ্কগুলো কেমন হবে বলে মনে করেন?

          সহজ দুটি উদাহরণই থাক। এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় ডারউইনবাদী থেকে সাহায্য নিয়ে আসেন।

        6. এমিনেম

          মাছ——>সিলাকান্থের মত প্রানি ——>উভচর
          সরীসৃপ ——-->অার্কিওপটেরিক্স মত প্রানি—-->পাখি
          http://en.wikipedia.org/wiki/Coelacanth
          http://en.wikipedia.org/wiki/Archaeopteryx
          অার বলে রাখি বিবর্তন কোন দুই-এক হাজার বছরের ঘটনা নয়, এতে পরিবর্তন আসতে লক্ষ থেকে কোটি বছর সময় লাগে।
           
           

        7. সরোয়ার

          @এনিমেন,

          সিলাক্যান্থ ১৯৫৩ সালের ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত পাঠ্য-পুস্তকে আজগুবি ছবি এঁকে ট্রান্সজিশনাল স্পিসিস হিসেবে দেখানো হতো। বলা হতো এরা ব্যাঙ মত উভরচয় টাইপের প্রানী! জলের উপরিভাগে বাস করে। বস্তুত দেখা গেল এরা আসলে অত্যন্ত গভীর জলে বাস করে, বিধায় এগুলো ধরা বেশ কঠিন ছিল। তাই সিলাক্যান্থকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে কাল্পনিক ছবিগুলো বইয়ে শোভা পেত! এখনও আপনার মত গিয়ানী মানুষ সিলিক্যান্থকে ট্রাঞ্জিশনাল স্পিসিস হিসেবে দেখাচ্ছেন!!!!

  20. 2
    কিন্তু মানব

    ভাল্লাগছে

  21. 1
    এস. এম. রায়হান

    নোট: আমার লেখাতে ‘ডারউইনবাদী’ বলতে মূলত তাদেরকেই বুঝানো হয় যারা বিবর্তন তত্ত্বকে সংশয়বাদীদের হাত থেকে ধর্মের মতো করে ডিফেন্ড করে, বিবর্তন তত্ত্বকে বিজ্ঞানের নামে স্রষ্টা ও ধর্মের বিরুদ্ধে প্রচার করে, বিবর্তন তত্ত্বের সত্যতা নিয়ে সংশয়কারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের ফতোয়া দেয়, এবং গালাগালি ও ব্যক্তি আক্রমণ থেকে শুরু করে দলবদ্ধ আক্রমণ পর্যন্ত করে।

    লেখার বিরুদ্ধে কারো কিছু বলার থাকলে লেখা থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দিয়ে তার বিপরীতে বৈজ্ঞানিক জার্নাল থেকে তথ্য-প্রমাণ সহ যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনাকে স্বাগত জানানো হবে। তবে লেখার বিরুদ্ধে কিছু বলার না থাকলে অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে পাঠকদের মূল্যবান সময় নষ্ট না করাই ভালো।

    আরো পড়ুন- বিবর্তনবাদ তত্ত্ব: সংশয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে [৯ পর্বের সিরিজ]

Leave a Reply

Your email address will not be published.