«

»

Apr ০২

হিন্দুরা না-হয় “তিলক-টিপ” পরে রক্ষা পাবে, কিন্তু অভিজিতের খৎনাধারী পূজারীদের কী হপে!

১. যুক্তরাষ্ট্রে গত নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচণ্ড নারী-বিদ্বেষী বক্তব্য ভিডিও প্রমাণ-সহ প্রকাশ পেয়েছিল। পাশাপাশি তার অভিবাসী-বিরোধী বক্তব্য, মুসলিম-বিরোধী বক্তব্য, ল্যাটিনো-বিরোধী বক্তব্য, মেক্সিক্যান-বিরোধী বক্তব্য, ইত্যাদিও প্রকাশ পেয়েছিল। তাছাড়া শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার জন্য ট্রাম্পের মূল ইস্যুগুলোর মধ্যে একটি ছিল অভিবাসীরা তাদের সব জব দখল করে নিচ্ছে, যাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভারতীয় হিন্দুরা। অথচ সব কিছুকে ছাপিয়ে হিন্দুত্ববাদী ও 'মুক্তমনা'রূপী মোদিমনাদের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়ে যায় দেবতা। কারণ একটাই – মহাপরাক্রমশালী আমেরিক্যান দেবতা ক্ষমতায় এসে মুসলিমদেরকে আচ্ছামতো পিটানী দেবেন! দেশী দেবতারা যে কাজ করতে পারেনি, সেই কাজ করবে আমেরিক্যান শ্বেতাঙ্গ দেবতা!

কিন্তু 'মা প্রকৃতি'র বিচার বলে কথা। মুসলিমদেরকে পিটানোর উদ্দেশ্যে যাকে দেবতা বানিয়ে সত্যিকার অর্থেই পূজা করা হলো – সেই [শ্বেতাঙ্গ] দেবতা ক্ষমতায় আসার পর তার পূজারীদের স্বগোত্রীয়দের উপরই একের-পর-এক বর্ণবাদী হামলা শুরু হলো! কয়েক জন মারা গেল। কয়েক জন গুরুতর আহতও হলো।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিদ্বেষপ্রসূত হামলায়’ ভারতীয় নিহত

‘আমার দেশ থেকে বের হ’ বলেই চলল গুলি

Indian Man’s House Trashed With Eggs, Poop & Hate Msgs in Colorado

Indian-Origin Businessman Harnish Patel Shot Dead Outside His Home In US

‘নিজ দেশে ফিরে যাও’ বলে যুক্তরাষ্ট্রে আরও এক ভারতীয়কে গুলি

যাদের উপর বর্ণবাদী হামলা হয়েছে তারা ট্রাম্প-পূজারী ছিল কি-না, তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে তারা নিরীহ লোকজন। তাদের উপর অন্যায়ভাবে বর্ণবাদী আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই ধরণের আক্রমণ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় – তা যাদের উপরই করা হোক না কেন।

 

২. প্রভু-দাস সেম-সাইড (!) হয়ে গেলে চেপে যেতে হয়, দাদা! এই যে নিরীহ লোকজনের উপর পর পর এতগুলো বর্ণবাদী হামলা হলো, কেউ কেউ মারাও গেল – অথচ এ নিয়ে হিন্দুত্ববাদী বা মোদিমনাদেরকে কি কোথাও খ্রীষ্টান ধর্মের উপর হামলে পড়তে দেখেছেন? প্রশ্নই আসে না! তাদের সকলেই কাকের মতো গোবরের মধ্যে মাথা গুঁজে আছে! কেন? কারণ হামলাকারীরা সব শ্বেতাঙ্গ খ্রীষ্টান! উরেব্বাপ! হুবহু একই হামলাগুলো যদি কোনো মুসলিম-অধ্যুষিত দেশে হতো সেক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদী-মোদিমনা'রা একজোট হয়ে কী ধরণের তাণ্ডব চালাতো, সেটা মনে হয় এখন আর কাউকে বলে দিতে হবে না। তার মানে হিন্দুত্ববাদী ও মোদিমনারা (একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ) হচ্ছে শক্তের পূজারী, নরমের যম।

 

খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত এলাকায় গোমাংসের বিরোধী নয় বিজেপি – শক্তের পূজারী!

গরু জবাই করলে গুজরাটে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড – নরমের যম!

মোদিমনা আর তাদের দাসেরা পবিত্র গোবরের মধ্যে মাথা গুঁজে চুপ!

 

৩. 'মুক্তমনা'রূপী এক যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী ভারতীয় মোদিট্রাম্প-পূজারী জোর গলায় দাবি করেছে এই বলে যে, হিন্দুদেরকে ভুল করে 'মুসলিম' ভেবে আক্রমণ করা হয়েছে! সে নিজেও নাকি অনেকবার হেট ক্রাইমের শিকার হয়েছে এবং প্রতিবারই নাকি তাকে 'মুসলিম' ভেবে আক্রমণ করা হয়েছে! এজন্য সে কিছু মনে করেনি! ব্যাপক বিনুদুন! হিন্দুত্ববাদীরা কী-না পারে! তবে এ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সত্য বেরিয়ে আসছে। যেমন: 

– মুসলিমদেরকে আক্রমণ করা হলে সেটা হতো উচিত কাজ! অর্থাৎ তারা মনেপ্রাণে চাচ্ছে যে, মুসলিমদেরকে বেছে বেছে আক্রমণ করা হোক।

– যে ক'জন হিন্দু আক্রমণের শিকার হয়েছে তাদের কারো চেহারাতেই কোনো রকম 'মুসলিম ছাপ' ছিল না! ঐ 'মুক্তমনা'রূপী মোদিট্রাম্প-পূজারীর চেহারাতেও কোনো 'মুসলিম ছাপ' নেই! তথাপি তাদেরকে যদি 'মুসলিম' মনে করে আক্রমণ করা হয় তাহলে এটাই প্রমাণ হচ্ছে যে, পশ্চিমাদের কাছে হিন্দুদের আলাদা কোনো অস্তিত্বই নেই! স্বঘোষিত দাসদের আলাদা কোনো অস্তিত্ব থাকতে পারে না নিশ্চয়!

বাস্তবতা হচ্ছে তাদের গায়ের বাদামী রঙ দেখে আক্রমণ করা হয়েছে (একটি প্রমাণ: "You Brown or Indian Shouldn't Be Here")। এর আগেও অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় হিন্দুদের উপর বর্ণবাদী আক্রমণের একাধিক প্রমাণ আছে। তথাপি দাস-মনোবৃত্তির বর্ণবাদীরা এই সত্যকে কখনোই স্বীকার করবে না। বাদামী চামড়ার বর্ণবাদী দাসেরা বরং নিজেদেরকে 'স্বান্ত্বনা' দেবে এই ভেবে যে, তাদের শ্বেতাঙ্গ প্রভুরা তাদেরকে ভুল করে 'মুসলিম' ভেবে আক্রমণ করেছে! অবশ্য তাদের ট্রাম দেবতার যুগে তাদের এই 'স্বান্ত্বনামূলক' দাবি কিছুটা সত্য হলে হতেও পারে!

 

৪. ট্রাম্প দেবতার রাজ্যে হিন্দুদের উপর 'ভুল' করে প্রথম আক্রমণ হওয়ার পর এক ট্রাম্প-পূজারী হিন্দুত্ববাদী প্রবীন নেতা হিন্দুদেরকে 'তিলক-টিপ' পরার পরামর্শ দিয়েছেন! দেখুন-

 

আমেরিকায় ভারতীয় যুবককে গুলিতে খুন: ‘তিলক’, ‘টিপ’ পরার পরামর্শ

নয়াদিল্লি: মুসলমানদের থেকে নিজেদের ভিন্ন চেহারা তুলে ধরতে হিন্দু পুরুষদের উচিত, কপালে তিলক আঁকা। আর হিন্দু মহিলাদের টিপ পরা উচিত। মন্তব্য করেছেন হিন্দু সংহতি সভাপতি তপন ঘোষ। কানসাসে ভারতীয় যুবক শ্রীনিবাস কুচিভোটলার মৃত্যুর জেরে তপনবাবুর মন্তব্য, নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই হিন্দুদের এটা করা উচিত।

হিন্দু সংহতি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, মার্কিন বন্দুকবাজ বুঝতে পারেনি, যাঁকে সে টার্গেট করেছে, তিনি মুসলমান নন, হিন্দু। তাই ভুল করে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ ভেবে তাঁর ওপর গুলি চালায় সে। কিন্তু যদি শ্রীনিবাসের কপালে তিলক থাকত, তবে তাঁকে হিন্দু বলে চেনা যেত। হেট ক্রাইমের শিকার হতে হত না তাঁকে।

তপনবাবুর প্রশ্ন, জঙ্গিরা কি বিচার করে, আপনি হিন্দু না মুসলমান? তাই মুসলমান মৌলবীদের তাঁদের সমর্থকদের বলা উচিত, প্রাণরক্ষার জন্য হিন্দু বা খ্রিস্টান প্রতীক ধারণ করতে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, এই তপন ঘোষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সমর্থক। ট্রাম্পের বহু টুইট রিটুইট করেন তিনি। ট্রাম্পের মতামত, নীতি- তাঁর পূর্ণ সমর্থন পায়।

 

মজার বিষয় হচ্ছে মুসলিমদেরকেও একই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে! মুসলিমরাও জীবন রক্ষার্থে 'তিলক-টিপ' পরে 'হিন্দু' সেজে চলাফেরা করবে! অর্থাৎ 'তিলক-টিপ' হচ্ছে বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গদের হাত থেকে জীবন রক্ষাকারী বৈগ্যানিক কবচ! যাইহোক, টিপ যে হিন্দু নারীদের প্রতীক সেটা জানা ছিল না। আমার ধারণা ছিল টিপ হয়তো 'বাঙ্গালী' নারীদের প্রতীক! অন্যদিকে সেই 'মুক্তমনা'রূপী ভারতীয় বর্ণমনা যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দুদেরকে বার-এ যেতে নিষেধ করেছে! – যেহেতু প্রথম আক্রমণটা একটি বার-এ হয়েছিল! কিন্তু পরবর্তীতে যখন একেবারে বাড়িতে আক্রমণ করা হলো (Indian Man’s House Trashed With Eggs, Poop & Hate Msgs in Colorado) তখন কিছু না বলে চেপে যাওয়া হয়েছে! এমনকি হিন্দুদেরকে 'তিলক-টিপ' পরার পরামর্শদাতা সেই হিন্দুত্ববাদী নেতাকেও আর কোনো পরামর্শ দিতে দেখা যায়নি! এক্ষেত্রেও 'চেপে যাও, দাদা' নীতি অনুসরণ করা হয়েছে! তবে এ থেকেও মজার কিছু সত্য বেরিয়ে আসছে। যেমন: 

– যুক্তরাষ্ট্রে যাদের উপর বর্ণবাদী হামলা হয়েছে (কয়েক জন মারাও গেছে) তাদের সকলেই নিরীহ লোকজন। তথাপি হিন্দুত্ববাদী-মোদিমনা'রা হিন্দুদেরকেই উল্টোদিকে 'সেল্‌ফ ডিফেন্স' করতে বলেছে! কেউ 'তিলক-টিপ' পরতে বলেছে, কেউবা আবার বার-এ যেতে নিষেধ করেছে! অথচ চরম ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষীরা হামলার শিকার হওয়ার পর হিন্দুত্ববাদী-মোদিমনা'রা একজোট হয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের উপর গোচনা নিয়ে হামলে পড়েছে, যাদের মধ্যে সেই 'মুক্তমনা'রূপী ভারতীয় বর্ণমনা ছিল অন্যতম। সেই সাথে ইসলামের বিরুদ্ধে আরো জোর দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও হুঙ্কার দেওয়া হয়েছে, চালিয়ে যাচ্ছেও। এক্ষেত্রেও তাদের 'শক্তের পূজারী, নরমের যম' নীতি লক্ষণীয়। অর্থাৎ, শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা একেবারে নিরীহ হিন্দুরা আক্রমণের শিকার হলেও এক্ষেত্রে অপরাধী হচ্ছে হিন্দুরা!!! অন্যদিকে অভিজিতের ভাষায় সহি ইসলামিক জঙ্গিদের দ্বারা ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষীরা আক্রমণের শিকার হলে সেক্ষেত্রে অপরাধী হচ্ছে ইসলাম ও সারা বিশ্বের মুসলিমরা! প্রথম ক্ষেত্রে নিরীহ হিন্দুরাই অপরাধী! আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষীরা নিরীহ-মাসুম!

 

৫. নিচে দেওয়া ভিডিও অনুযায়ী কৃষ্ণাঙ্গদেরকে নির্বিচারে হত্যার পরিকল্পনা করতে যেয়ে এক শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে (যে কিনা এর আগেও কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত)। ধরা পড়ার পর সে নিজেই তার ইচ্ছার কথা স্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী সেই বর্ণমনার গায়ের যে রঙ, তাতে সে এই ধরণের কারো হাতে বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়ে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গেলে তখনও হয়তো বলবে, "আমাকে ভুল করে 'মুসলিম' ভেবে আক্রমণ করা হয়েছে! crying কিন্তু আমি তো খাঁটি কৃষ্ণাঙ্গ নই!"

 

 

৬. মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন- হিন্দুরা না-হয় 'তিলক-টিপ' পরে রক্ষা পাবে, কিন্তু অভিজিৎ রায়ের খৎনাধারী পূজারীদের কী হপে?! তারা রক্ষা পাবে কী করে? তারা ইতোমধ্যে 'তিলক-টিপ' পরা শুরু করেছে কি-না, তা এখনো জানা যায়নি! এমনকি এ নিয়ে মোদিমনা মহলের কোথাও হাসি-ঠাট্টা-উপহাস-বিদ্রূপ করতেও দেখা যায়নি! বরঞ্চ 'চেপে যাও, দাদা' নীতি অনুসরণ করা হয়েছে! এ প্রসঙ্গে Munshi Biswajit নামে একজনের একটি স্যাটায়ারধর্মী লেখা নিচে তুলে দেওয়া হলো-

ইদানিং এক মুসিবত দেখা দিছে…

রাইতে ঘুমাইলেই কানাডা আর আমেরিকার মুক্তমনা প্রগতিশীল বাঙালরা দুঃস্বপ্ন দেইখা জাইগা উঠতেছে।

তাগোর স্বপ্নের মাঝে হানা দিয়া "নো মুসলিম" হুঙ্কার দিয়া বিশাল এক রুলের গুতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁদের খাদের দিকে ঠেইলা ফেলতেছে। বাঙাল কোঁকায় আর প্রানপন চিৎকার করে— স…স্যার প্লিজ… আমি তো মুসলমান নাআআ…। আমি হইলাম প্রগতিশীল কম্যুনিস্ট।

মু হা হা… ট্রাম্প দাঁত কিড়মিড় করে… হারামজাদা, তুই মুসলমান, তোর বাপ মুসলমান, তোর চৌদ্দ গুষ্টি মুসলমান… তুই বাইরা দেশ থেকে, শালার টেররিস্ট… তোগোরে আর এই দ্যাশেই থাকবার দিমু না।

ঘামে ভিইজা বাঙালের ঘুম টুইটা যায়। –আমেরিকা আইসা কি মুসিবতে পড়লাম… আল্লাগো। আমি ইসলাম-বিদ্বেষী কমিউনিস্ট কইলেও দেখতেছি হ্যারা মানে না! কুনো কাম হয় না…!!

অভিজিৎ রায় তার খৎনাধারী পূজারীদেরকে বর্ণমনা ভাইরাসে আক্রান্ত করে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে গেলেও তাদের বিভিন্ন সমস্যার কোনো সমাধান দিয়ে যায়নি। উদাহরণস্বরূপ:

– অভিজিৎ রায় খৎনার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছে। ছদ্মনামে মুসলিমদেরকে 'আগা মোটা গোরা চিকন' বলে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ করেছে। অথচ তার 'আগা মোটা গোরা চিকন' পূজারী ও তাদের পুত্র সন্তানদেরকে অভিজিতের নিজের মতো 'আগা চিকন গোরা মোটা' বানিয়ে দিয়ে যায়নি কিংবা বানানোর কোনো বৈজ্ঞানিক পন্থাও বলে যায়নি! তার 'আগা মোটা গোরা চিকন' পূজারীদের জন্য কী লজ্জা! কী লজ্জা!

– অভিজিৎ রায় ইসলামিক পন্থায় মৃতদেহ সৎকার নিয়ে বিষোদগার করেছে। অথচ তার খৎনাধারী পূজারীদের মৃতদেহ কীভাবে সৎকার করা হবে, তার কোনো সমাধান দিয়ে যায়নি। এ পর্যন্ত তার খৎনাধারী পূজারীদের সকলেরই লাশ ইসলামিক পন্থায় দাফন করা হয়েছে! কী লজ্জা! কী লজ্জা!

– অভিজিৎ রায় যে নামগুলো দেখে 'বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত ছাগু, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, ইত্যাদি' বলতো – তার পূজারীরা সেই নামগুলোই ধারণ করে আছে! কী লজ্জা! কী লজ্জা! তার পূজারীদের জন্য 'মুক্তমনা' বা 'নাস্তিক' পরিচয়ের কিছু নাম দিয়ে যাওয়া হয়নি! যার কারণে তার খৎনাধারী পূজারীদের কারো কারো লেখায় পান থেকে চুন খসলে খাঁটি মুক্তমনারা তাদেরকে 'ছুপা মুসলিম', 'ছুপা জামাতি', 'বামাতি', ইত্যাদি বলে! কী লজ্জা! কী লজ্জা! এই খৎনাধারী দাসদেরকে পশ্চিমা বিশ্বে 'ইসলামিক জঙ্গি' বলে সন্দেহ করা হলেও তারা সেটা প্রকাশ না করে হিন্দুত্ববাদীদের মতো নীরবে সহ্য করবে এই ভেবে যে, শ্বেতাঙ্গ প্রভুরা আমাদেরকে ভুল করে 'মুসলিম' ভেবে 'ইসলামিক জঙ্গি' বলেছেন!

৮ comments

Skip to comment form

  1. 8
    এস. এম. রায়হান

    যুক্তরাষ্ট্রে আবারো একজন ভারতীয় বংশোদ্ভুত হিন্দু নামধারী ডাক্তারকে গুলি করে হত্যা। তার চেহারাতেও 'মুসলিম' ছাপ লক্ষণীয়! তথাপি বাদামী চামড়ার বর্ণবাদীরা সত্যকে স্বীকার না করে নিজেদেরকে স্বান্তনা দেবে এই বলে যে, তাদেরকে ভুল করে 'মুসলিম' ভেবে হত্যা করা হয়েছে!

    http://www.ndtv.com/indians-abroad/indian-american-doctor-shot-dead-in-michigan-1690644

  2. 7
    এস. এম. রায়হান

    @সত্য সন্ধানী:

    কথা তো সেটাই। অভিজিতের খৎনাধারী পূজারীরা 'তিলক-টিপ' পরে উপর উপর না-হয় খাঁটি হিন্দু সাজলো। কিন্তু ভারতীয় সৈন্যদের মতো করে তাদের লুঙ্গি-ধূতি খুলে চেক করা শুরু করলে তখন তারা কী করবে! তারা ইতোমধ্যে প্ল্যাস্টিক সার্জারি করে 'টুপি' লাগিয়ে নিলে অবশ্য ভিন্ন কথা! কিন্তু তাতেও শতভাগ নিরাপদ হওয়া যাবে না, কেননা তাদের পাসপোর্টে নাম দেখলেই তারা 'ইসলামিক জঙ্গি' হিসেবে ধরা খেয়ে যাবে! হায় অভিজিৎ! তোমার খৎনাধারী পূজারীদেরকে এ কোন্‌ নরক যন্ত্রনার মধ্যে রেখে দিয়ে নিজে স্বর্গবাসী হইলা!

  3. 6
    সত্য সন্ধানী

    @Brasalacleoless:
    ভাই,
    জীবনে অনেক কিছু দেখেছি, কিন্তু আজ আপনার আর আহমেদ ভাইয়ের দেয়া ভিডিও লিংকে যা দেখলাম তা না দেখলে একটা বড় মিস হয়ে যেত। ট্রাম্পের পুজা করা এদের জন্য সহজ কারন ট্রাম্প মুসলিম বিতাড়নের ঘোষনা দিয়েছিল। যদিও এখন হিন্দুদেরকেই মারছে! যার জন্য এত প্রার্থনা সেই দেবতারা ভুল করে কিনা…. ছি ছি ছি কেমন দেবতা এরা যে ভক্ত চেনেনা। অথবা একেই হয়ত বুমেরাং দেবতা বলা হয়!

    কিন্তু হিটলারের স্তবে যে মহিষাসুর মর্দীনি বলা হয়েছে এটা একটা বড় ভুল হয়েছে। হিটলার মহিষাসুরদের (মুসলিম) মারেনি, সে মেরেছে ইহূদীদের। বর্তমান ইহূদী দেশ ইসরায়েল হল কৈলাস পর্বত (আর আমেরিকা হল বৈকুণ্ঠ বা বিষ্ণুলোক), কাজেই হিটলারের স্তব নতুন করে লিখলে ভাল হয়।

    আপনার লেখায় বলেছিলেন যে এরা শক্তির পুজারী কথাটা আংশিক সঠিক। আমার মতে, আসল সত্য হল এরা একাধারে শক্তের ভক্ত আর বিকৃত জিনিসের ভক্ত, কাজেই বিকৃত শক্তের বেশি ভক্ত।

    বিকৃতি হল এদের মজ্জাগত, তাই হিটলার বিভৎস গনহত্যা(ইহুদী)কারী হয়েও এদের কাছে পুজ্য, আর এখন ইহুদীরা/ইহুদিবাদীরা এদের দেবতা। যেখানে যত বিকৃতি সেখনেই এদের সহাবস্থান।

    ভাল জিনিস গ্রহন করার সক্ষমতা এদের হবে না কোনদিন।

  4. 5
    সত্য সন্ধানী

    রায়হান ভাই সালাম,
    দিলেন তো মুর্তিপুজকদের ধুতি খুলে। এবার কি হপে? বেশি বিপদ তো এতে খাসীদের হল, কারন এরা সত্যি যদি তিলক ধুতি পড়ে তাতে লাভ কি? ট্রাম্প গং যদি ধুতি খুলে চেক করা শুরু করে তাহলেই খাসীদের তিলক পড়ে রক্ষা পাবার চান্সটা শেষ হয় যাবে।

    যাক দাস্য মনোবৃত্তি সম্পন্ন এই ইতর ধর্মাবলম্বীদের মুখোশ উন্মোচনের জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

  5. 4
    মজলুম

    হিন্দু মৌলবাদীগুলো কাপুরুষ ও কুচক্রী, হিস্টোরী রিপিট ইটসেলফ। হিটলারের সময় এরা হিটলারকে পূজা করতো, এখন যেমন ট্রাম্পকে করছে। হিটলারকে তখন বলা হতো বিষ্ণু ভগবানের কল্কি অবতার। হিটলারের বই মেইন ক্যাম্পও ভারতে বেষ্ট সেলার। আরএসএসের নেতা মোদির গুজরাটের স্কুল বইয়ে হিটলারের গুণকীর্তন করা হয়। অরুন্ধতী রায়ের মুখ হতে শুনুন, আরএসএস গঠিত হয় ইতালীর ফ্যাসীবাদি মুসোলিনির অনুকরণে। হিটলারকে কল্কি অবতার বানিয়ে ভজন রচনা করে এরা

  6. 3
    ফাতমী

    @এম_আহমদ: আপনার লিংকের কমেন্টগুলি দেখুন।ভয়ংকর মনভাব দেখতে পারবেন। এখানে আরেকটি মজার ভিডিও দেখুনঃ https://www.youtube.com/watch?v=n4ma7t9DmvI

  7. 2
    মহিউদ্দিন

    ভাই,
    আপনার লিখাটিতে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের পূজারী, বিকৃত মনের মানুষ নামের পশুদের মুখোশ উন্মোচন করছেন অতি চমৎকারভাবে সে জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

  8. 1
    এম_আহমদ

    এইটা না দেখলে “মজার” বিষয়টি মিস হয়ে যাবে। https://www.youtube.com/watch?v=lBxmFotKtcI
    তবে এই সাথে “জিন্দাবাদ” এর তীর আরও কত জাগায় গিয়ে যে পড়ে সেটাও কম মজার নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.