«

»

Nov ২৭

অভিজিৎদের ধর্ষণ-এর সংজ্ঞায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ইতোমধ্যে অনেকেরই জানার কথা যে, 'মুক্তমনা-নাস্তিক'রূপী ইসলামবিদ্বেষী মৌলবাদীদের সংজ্ঞা (বেদবাক্য) অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচের বয়সীদের সকলেই 'শিশু' হিসেবে গণ্য হয়। তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী ১৮+ বয়সের একজন যুবক যদি ১৮ বছরের সামান্য নিচের কোনো মেয়েকে বিয়ে করে তাহলে সেটি 'শিশু-ধর্ষণ' হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ সামাজিক নিয়ম-কানুন ও দেশীয় আইন মেনে উভয়ের সম্মতিতে বিয়ে করা সত্ত্বেও শুধুমাত্র মেয়ের বয়স ১৮ বছরের সামান্য নিচে হওয়ায় সেই মেয়ের স্বামী একজন 'শিশু-ধর্ষক' হবে!

এজন্য সাধারণ ক্ষেত্রে ১৮ বছর ও বিশেষ ক্ষেত্রে ১৬ বছরের মেয়েদের বিয়ের কথা বলাতেও অভিজিৎ গ্যাং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণকে উৎসাহিত করার অভিযোগ করেছে! শেখ হাসিনা নাকি শিশু ধর্ষণকে উৎসাহিত করছেন, আর শিয়াল অভিজিৎ গ্যাং শিশুদের পরিত্রাতা সেজেছে! ওমাগ! অনেক প্রমাণের মধ্যে নিচে মাত্র দুটি প্রমাণ দেওয়া হলো-

(নোট: হিন্দুত্ববাদীরা তালাক-বিরোধী। এজন্য ভারতে হিন্দুত্ববাদীরা ইসলামের তালাক প্রথা নিয়ে বিভিন্নভাবে মিথ্যা প্রপাগ্যাণ্ডা ছড়িয়েছে। তাদের সাথে এদেশীয় 'মুক্তমনা'রূপী মোদিমনারাও যোগ দিয়েছে। এদেশীয় মোদিমনাদের কাছে ভারতে নিরীহ মানুষ হত্যা-ধর্ষণের চেয়ে ইসলামের তালাক প্রথা সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে! খুব খিয়াল কৈরা।)

 

এবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিয়ের প্রসঙ্গে আসা যাক… 

প্রথমত – এইটা একেবারে প্রমাণিত সত্য যে, আধুনিক যুগের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২২ বছর বয়সে (বিশ্ববিদ্যালয় পাশের সমতুল্য) প্রায় ১০ বছর বয়সী মৃণালিনী দেবীকে বিয়ে করেছিলেন। আনুমানিক ১৪ বছর বয়সে মৃণালিনীর প্রথম সন্তানও হয়। তারপর পর পর আরো চারটি সন্তান হয়। এতো অল্প বয়সে পর পর ৫ জন সন্তানের জন্ম দিতে যেয়ে এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে মাত্র ২৯ বছর বয়সে মৃণালিনী দেবী মারা যায়। [সূত্র]

বিয়ের সময় মৃণালিনীর বয়স যেহেতু ১০ বছর (১৮-র অনেক নিচে) ছিল সেহেতু অভিজিৎ গ্যাং-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন প্রমাণিত শিশু-ধর্ষক। সেই সাথে তাদের বাপ-দাদা'র চৌদ্দ পুরুষের অনেকেই হয়তো শিশু-ধর্ষক হবে!

(বিয়ের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মৃণালিনী দেবী)

দ্বিতীয়ত – অভিজিৎ গ্যাং যে সংজ্ঞা অনুযায়ী চৌদ্দশ' বছর আগের ইসলামের নবীকে বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে 'শিশুকামী (Pedophile)' বলে আসছে, সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী আধুনিক যুগের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও একজন 'শিশুকামী' প্রমাণ হয়। উল্লেখ্য যে, মৃণালিনীর ১০ বছর বয়স থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ বছর শিশু থাকাবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সাথে সেক্স করেছেন এবং সন্তানেরও জন্ম দিয়েছেন। একজন শিশুর প্রতি যৌন আকর্ষণ বা কামভাব ছাড়া দীর্ঘ ৮ বছর ধরে তার সাথে নিয়মিত যৌন সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় নিশ্চয়।

পাঠক! 'মুক্তমনা'রূপী ভণ্ডমনাদের নিজেদের সংজ্ঞা অনুযায়ীই তারা একজন প্রমাণিত শিশু-ধর্ষক ও শিশুকামীকে দেবতার চেয়েও উঁচু আসনে বসিয়ে দিয়ে তার গুণ-গান-স্তুতি গায়! তার ন্যূনতম সমালোচনা দেখলেও তারা গালিগালাজ করে। তার লেখা গল্প-কবিতা, গান ও জাতীয় সংগীত অত্যন্ত ভক্তিভরে পড়ে ও শ্রবণ করে! এমনকি জাতীয় সংগীতকে 'আল্লাহ্‌র বাণী'র মতো 'অনন্ত কালের জন্য প্রযোজ্য' হিসেবে ডিফেন্ডও করে! এদিকে অভিজিৎ রায়ের "আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী" ও "ভালোবাসা কারে কয়" বই দুটির নাম নেওয়া হয়েছে সেই শিশু-ধর্ষক ও শিশুকামীর লেখা থেকে! এমনকি অভিজিৎ রায় সেই শিশু-ধর্ষক ও শিশুকামীকে একজন বিদেশিনীর 'প্রেমিক পুরুষ' বানিয়ে দিয়ে "ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো: এক রবি-বিদেশিনীর খোঁজে" নামে একটি বইও লিখেছে! তাছাড়াও মুক্তমনা-নাস্তিক-পোরগতিশীল ছাগুলারদের লেখালেখিতে সেই শিশু-ধর্ষক ও শিশুকামীর বাণীকে মাঝে মধ্যেই উদ্ধৃত করা হয়!

অন্যদিকে 'মুক্তমনা-নাস্তিক'রূপী ভণ্ডমনাদের ধর্ষণ ও শিশুকামীতার সংজ্ঞাকে মুসলিমরা যেহেতু সমর্থন করে না, সেহেতু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা-সাহিত্য পড়তে কিংবা তাঁর লিখা গান ও জাতীয় সংগীত গাইতে মুসলিমদের কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। ব্যক্তিগতভাবে আমার অন্তত কোনো সমস্যা নেই। মুসলিমদের বরং উচিত হবে রবীন্দ্রনাথের নেতিবাচক দিকগুলোকে এড়িয়ে যেয়ে তাঁকে একজন কবি-সাহিত্যিক হিসেবে গ্রহণ করে নিয়ে ইসলাম-বিদ্বেষী রবীন্দ্র-পূজারীদের কোর্টে বল ছুঁড়ে দেওয়া। এই ফাঁকে রবীন্দ্রনাথের একটি গান ও আমার প্রিয় শেষের কবিতা থেকে আবৃত্তি শোনা যাক।

মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন: 'মুক্তমনা-নাস্তিক'রূপী বঙ্গাল ইসলামবিদ্বেষীদের নিজেদের সংজ্ঞা অনুযায়ীই একজন প্রমাণিত শিশু-ধর্ষক ও শিশুকামীকে তারা কি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে, নাকি আগের মতোই অসীম ভক্তিশ্রদ্ধার সাথে বুকে জড়িয়ে রাখবে? বল এখন তাদের কোর্টে। মুসলিমদের নিজেদের সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনো প্রমাণিত শিশু-ধর্ষক ও শিশুকামীকে তারা নবী/দেবতার মতো করে ভক্তিভরে শ্রদ্ধা তো করেই না, বরং ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। অন্ধ ইসলাম-বিদ্বেষের পরিণাম যে কতটা লেজেগোবরে হতে পারে, সেটা বুদ্ধিমান পাঠক ইতোমধ্যে বুঝতে পারার কথা!

৪ comments

Skip to comment form

  1. 3
    এস. এম. রায়হান

    মূল পোস্ট'কে আরো সংক্ষিপ্ত করার জন্য কিছু অংশ মুছে দিয়ে মন্তব্যের ঘরে (নিচে) নোট আকারে রাখা হলো।

    নোট-১: এই লেখায় 'মুক্তমনা-নাস্তিক'রূপী ইসলামবিদ্বেষী মৌলবাদীদের ধর্ষণ-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী কথা বলা হয়েছে। আমি নিজে বা মুসলিমদের কেউই তাদের গোচনা-মার্কা সংজ্ঞাকে সমর্থন করে না। কাজেই বিভ্রান্ত হওয়ার বা ভুল বুঝাবুঝির কোনোই অবকাশ নেই। উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের 'যুক্তি' দিয়েই তাদেরকে ধরাশায়ী করা; অন্ধ ইসলামবিদ্বেষের পরিণাম যে কতটা লেজেগোবরে হতে পারে, সেটি তাদের মস্তিষ্কে যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে আঘাত করে আরো একবার জানিয়ে দেওয়া; এবং সেই সাথে তাদের চরম ভণ্ডামিও উন্মোচন করা। উল্লেখ্য যে, নবী-বিদ্বেষী বঙ্গাল মৌলবাদীদের সকলেই একেকজন স্বঘোষিত অভিজিৎ এবং অন্ধ রবীন্দ্র-ভক্ত। ব্যাপারটা চিন্তার বিষয়ই বটে!

    নোট-২: বিয়ে ছাড়া ১৮ বছরের নিচের মেয়েদের সাথে যৌন সম্পর্কটা অভিজিৎ গ্যাং-এর কাছে ধর্ষণ না হয়ে 'মিউচুয়্যাল সেক্স' হিসেবে গণ্য হয়! এ থেকে পরিস্কার যে, তারা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদেরকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহার করতে চায়!

    নোট-৩: অভিজিৎ রায় রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর করুণ কাহিনী চেপে যেয়ে সুদূর আর্জেন্টিনায় রবীন্দ্রনাথের একজন 'প্রেমিকা' আবিষ্কার করে, সেই 'প্রেমিকা'র বাড়ি ভিজিট করে অনেক তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করে "ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো: এক রবি-বিদেশিনীর খোঁজে" নামে একটি বই লিখেছে! ঠিক একইভাবে অভিজিৎ রায় তার নিজের প্রথম স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা পুরোপুরি চেপে যেয়ে মুসলিম নামধারী এক বাম-নাস্তিক নারীকে 'লাভ জিহাদ'-এর মাধ্যমে শিকার করে তার অন্ধ মুরিদদের কাছে নিজেকে একজন 'নারীবাদী' ও 'প্রেমিক পুরুষ' হিসেবে উপস্থাপন করে ইসলামের নবীকে 'নারী-বিদ্বেষী' প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। দিনে দুপুরে এই ধরণের চরম শঠতামূলক কাজ কোনো খৎনাধারী মুক্তমনা করলে তার যে কী অবস্থা হতো, ভেবে দেখুন! খাঁটি মুক্তমনারা তাকে একাধারে ছাগু, জঙ্গি, আইসিস, ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে জমের ঘরে পাঠাতো!

    নোট-৪: উইকিপিডিয়া ও অক্সফোর্ড অভিধান অনুযায়ী পেডোফিলিয়ার সংজ্ঞা- 

    "Pedophilia or paedophilia is a psychiatric disorder in which an adult or older adolescent experiences a primary or exclusive sexual attraction to prepubescent children. Although girls typically begin the process of puberty at age 10 or 11, and boys at age 11 or 12, criteria for pedophilia extend the cut-off point for prepubescence to age 13. A person who is diagnosed with pedophilia must be at least 16 years old, and at least five years older than the prepubescent child, for the attraction to be diagnosed as pedophilia." [Wikipedia]

    "A person who is sexually attracted to children." [Oxford Dictionaries]

    "An adult who is sexually attracted to children." [The Free Dictionary]

    উইকিপিডিয়া ও অক্সফোর্ড অভিধান অনুযায়ী ন্যূনতম ১৬ বছর বয়সের কোনো পুরুষ যদি তার চেয়ে ৫ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করে সেক্ষেত্রে সেই পুরুষ একজন শিশুকামী হিসেবে গণ্য হবে। ব্যাস এটুকুই। কিন্তু সেই পুরুষ নিজেকে 'নবী' দাবি করলেই শুধু শিশুকামী হবে, অন্যথায় হবে না; কিংবা সেই পুরুষের বয়স ৫০+ হতে হবে -- এই ধরণের কোনো শর্ত পেডোফিলিয়ার সংজ্ঞার মধ্যে নেই। কাজেই এই সংজ্ঞানুযায়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিশ্চিতভাবেই একজন শিশুকামী প্রমাণ হয়। অথচ ধূর্ত অভিজিৎ গ্যাং নিজেদের মতো করে 'ধর্মীয় সংজ্ঞা' বানিয়ে শুধুই ইসলামের নবীকে 'শিশু-ধর্ষক' ও 'শিশুকামী' আখ্যা দিয়ে মিশন্যারী স্ট্যাইলে প্রচার করেছে।

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      সময় করতে পারলে  নোট ৪ থেকে ধরে গোটা ৩ নম্বর মন্তব্যকে প্রশস্ত করে একটি আলাদা ব্লগ প্রকাশ করলে ভাল হয়। বিষয়টা এমন নয় যে এর উপর লেখা হয় নি, তবে আমরাও আমাদের কথা বার বার বলতে হবে, কারণ আমরা গোবেলীয় স্রোতস্বিনীর তীরে দাঁড়িয়ে আছি।

  2. 2
    চমকপ্রদ

    কোন মুসলিম ব্লগার যখন লেখার শুরুতে বা শেষে রবীন্দ্রনাথের কবিতা বা গানের উদ্ধৃতি দেন, তখন নবীবিদ্বেষী এই উগ্র নাস্তিকরা একে আল্লাহর চরিত্রে মানবিকতার ছোঁয়া প্রদানের প্রয়াস হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিদ্রূপ করতে থাকে।

  3. 1
    লাভ টু লার্ন

    ওরা নাস্তিক নয় ওরা ইসলাম বিদ্বেষী
     

Leave a Reply

Your email address will not be published.