«

»

Oct ৩০

মুসলিমদের কর্মকান্ড ও বিশ্বাস নিয়ে কিছু কথা

সবকিছু নিয়ে লিখতে গেলে শেষ হবে না। তবে ব্যাপারটা বুঝানোর জন্য এই পোস্টে সংক্ষেপে কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হচ্ছে। চমকে দেওয়ার মতো নতুন কিছুই হয়তো থাকবে না। তথাপি এই কথাগুলো বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আগ-পিছ চিন্তাভাবনা করেই তবে লিখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি মুসলিমদেরকে দু'দিন আগে-পরে এগুলো থেকে সরে আসতেই হবে। কাজেই যত তাড়াতাড়ি সরে আসা যায় ততই ইসলাম ও মুসলিম তথা পুরো মানবজাতির জন্য মঙ্গলজনক।

 

বাল্যবিবাহ: হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ মনুসংহিতা অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের বয়স ৮ থেকে শুরু। মনুসংহিতা অনুযায়ী ২৪ ও ৩০ বছর বয়সের পুরুষরা যথাক্রমে ৮ ও ১২ বছর বয়সের মেয়েদেরকে বিয়ে করতে পারবে। দেখুন-

A man, aged thirty years, shall marry a maiden of twelve who pleases him, or a man of twenty-four a girl eight years of age; if (the performance of) his duties would (otherwise) be impeded, (he must marry) sooner. [Manusmriti 9:94]

আধুনিক যুগের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ২২ বছর বয়সে প্রায় ১০ বছর বয়সের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। অন্যদিকে কুরআন বা হাদিসের কোথাও ছেলে-মেয়েদের বিয়ের নির্দিষ্ট কোনো বয়স উল্লেখ নেই। আর রাসূল (সাঃ) ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছর বয়সের একজন বিধবা নারীকে প্রথম বিয়ে করেছিলেন। তাঁর প্রথম বিয়ের প্রায় ২৭ বছর পর এবং প্রথম স্ত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যুর পর আয়েশা (রাঃ)-এঁর সাথে তাঁর বিয়ে ছিল তৃতীয় ও ব্যতিক্রমধর্মী বিয়ে, প্রথম বিয়ে নয়। অথচ বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইনের কথা শুনলে শুধুমাত্র মুসলিমরাই (একাংশ) 'ধর্ম-বিরোধী আইন' বলে চিৎকার শুরু করে দেয়, যদিও এই চিৎকার করার কথা ছিল হিন্দুদের। তাহলে হিন্দুদের এই ধর্মীয় দায়িত্ব মুসলিমদের একাংশ নিজ ঘাড়ে তুলে নিলো কী উদ্দেশ্যে? উদ্দেশ্যটা কি 'রাসূলের সুন্নাহ্‌'র নামে ৯ বছর বয়সের মেয়েদেরকে বিয়ে করে রাসূল (সাঃ)-কে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো? কিছুদিন আগে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে এক বাংলাদেশি মেয়ে পশ্চিমা বিশ্বের কোনো এক প্রতিষ্ঠান থেকে পুরষ্কৃত হয়েছে। এই ধরণের খবর মুসলিমদের জন্য লজ্জাস্কর নয় কি? 

নোট: রাসূল (সাঃ)-কে অনুসরণ করে ৯ বছরের মেয়েকে (হাদিস অনুযায়ী) বিয়ে করতে হলে- প্রথমে ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছর বয়সের একজন বিধবা নারীকে বিয়ে করতে হবে। প্রথম স্ত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যুর পর আরো একজন বিধবা ও বয়স্কা নারীকে বিয়ে করতে হবে। এর মধ্যে বয়স হতে হবে ৫০-৫২। তারপরই না কেবল ৯ বছরের মেয়েকে বিয়ের প্রশ্ন আসবে। অথচ যারা হাদিস বা 'রাসূলের সুন্নাহ্‌'র নামে বাল্যবিবাহকে সমর্থন করে তারা ভুলেও কখনো এই চরম সত্যকে প্রকাশ করে না!

 

অনার কিলিং: বাইবেল অনুযায়ী কেউ যদি তার মা-বাবা কিংবা ধর্মগুরুকে 'অসম্মান' করে তাহলে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করতে হবে (Matthew 15:4, Genesis 38:24, Leviticus 21:9) – যাকে বলে অনার কিলিং। এই ধরণের কোনো বিধান কুরআনে নেই। এমনকি হাদিসেও সম্ভবত নেই। অথচ কতিপয় মুসলমানের বদৌলতে 'অনার কিলিং'-এর মতো একটি অযৌক্তিক ও বর্বর প্রথা আজ ইসলামের সাথে জড়িয়ে গেছে!

 

যৌতুক-সন্ত্রাস, কন্যাশিশু হত্যা, ও নারী-ধর্ষণ: হিন্দু সমাজের যৌতুক প্রথা ও কন্যাশিশু হত্যা মুসলিম সমাজের মধ্যেও ঢুকে পড়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ নারী যৌতুক সন্ত্রাসের বলি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ কন্যাশিশুকে জন্মের আগে-পরে হত্যা করা হচ্ছে। তাছাড়া বিগত বছরগুলোতে ভারত-বাংলাদেশে হাজার হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অথচ নারী-বিরোধী এমন অমানবিক তিনটি ঘটনার বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত আলেম-ওলামা-মাশায়েখ সমাজকে সচেতনতামূলক কোনো ক্যাম্পেইন করতে দেখা যায়নি। এমনকি তাদের পক্ষ থেকে এগুলোর বিরুদ্ধে জোড়ালো কোনো ফতোয়ার কথাও শোনা যায় না, যদিও ছোট-খাটো ব্যাপারেও তাদেরকে রাস্তায় নামতে বা ফতোয়া দিতে দেখা যায়। এই তিনটি অমানবিক ঘটনার বিরুদ্ধে অন্তত আলেম-ওলামা-মাশায়েখ সমাজ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারতো। সমস্যাটা যে কোথায়, কে জানে!

 

পাথর মেরে হত্যা: বাইবেল অনুযায়ী ব্যভিচারের শাস্তি পাথর মেরে হত্যা (Deuteronomy 22:22-24, Leviticus 20:10)। অন্যদিকে কুরআন অনুযায়ী ব্যভিচারের শাস্তি বেত্রাঘাত (হত্যা নয়) – তথাপি শর্ত হচ্ছে ব্যভিচারের পক্ষে চারজন চাক্ষুস সাক্ষী থাকতে হবে। চারজন চাক্ষুস সাক্ষী রেখে ব্যভিচারের ঘটনা বাস্তবে আদৌ ঘটতে দেখা যায় না। তার মানে কুরআন অনুযায়ী ব্যভিচারের শাস্তি দেওয়া প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। এই যখন বাস্তবতা তখন মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের কাছে পাথর মেরে হত্যার মতো বর্বর একটি প্রথা মানেই 'শারিয়া আইন' হয়ে গেছে! এই অবস্থা দেখে ইহুদী-খ্রিস্টানরা হয়তো মনে মনে হাসে! (নোট: পাথর মেরে হত্যাকে হাদিস দ্বারা কোনোভাবে 'জাস্টিফাই' করে ইসলামের নামে জিঁইয়ে রাখা হয়েছে- যার কোনোই প্রয়োজন ছিল না, যেহেতু কুরআনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান আছে।)

 

কথায় কথায় হত্যার ফতোয়া: বাইবেল ও বেদ-মনুসংহিতায় কথায় কথায় পাথর মেরে হত্যা, আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, কিংবা বিভিন্নভাবে শাস্তির বিধান আছে। মধ্যযুগের খ্রিস্টানরাও চরম বর্বর ছিল – বর্তমান যুগের আইসিস-এর মতো আরকি। বর্তমান বিশ্বে বাইবেল-বেদ-মনুসংহিতার আইন প্রয়োগ করা হলে পুরো মানব জাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। অন্যদিকে সম্পূর্ণ কুরআনে দু-একটি ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে হত্যা ও শাস্তির বিধান আছে। অথচ আজ কথায় কথায় হত্যার মতো অযৌক্তিক ফতোয়া কারা দেয়? মুসলিমরা (একাংশ)। এইসব ফতোয়ার দ্বারা ইসলামের কোনো লাভ তো হয়ই-নি, বরঞ্চ এগুলোর দ্বারা মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সারা বিশ্বের মানুষের মনে ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।

 

পাঁজরের হাড়: বাইবেল অনুযায়ী পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে (Genesis 2:22)। ধর্ম-বিরোধীরা এটাকে নারীদের জন্য 'অবমাননাকর' হিসেবে দেখায়। মজার বিষয় হচ্ছে কুরআনে এই ধরণের কোনো কথা লিখা না থাকলেও মুসলিমদের অনেকেই পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে নারীর সৃষ্টিতে বিশ্বাস করে। মুসলিমদের মধ্যে এই বিশ্বাস এসেছে একটি হাদিস থেকে। যে কথা কুরআনে নেই, সেই কথা বাইবেল ও হাদিসে আছে! বেশ মজার তো! পাথর মেরে হত্যার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এ'রকম উদাহরণ আরো আছে।

 

দাড়ি নিয়ে বাড়াবাড়ি: বাইবেলে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে দাড়ি কাটতে নিষেধ করা হয়েছে ("Do not trim off the hair on your temples or trim your beards." – Leviticus 19:27)। অন্যদিকে কুরআনে দাড়ি কাটা বা না-কাটা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। অথচ হুজুরদের একাংশ দাড়িকে 'ইসলামের পৈত্রিক সম্পত্তি' বানিয়ে দিয়ে এবং দাড়ি নিয়ে চরম বাড়াবাড়ি করে সারা বিশ্বের মানুষের মনে মুসলিমদের দাড়ি সম্পর্কে একটা বাজে ধারণা দিয়েছে। যে কারণে দাড়িওয়ালা মুসলিম দেখলেই এখন 'জঙ্গি' বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অনুরূপভাবে, নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের পোশাককে 'সুন্নতী পোশাক' আখ্যা দিয়ে একই ধরণের বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে। (নোট: আমি মোটেও দাড়ির বিরুদ্ধে না। দাড়ির প্রতি আমার বরং একটা সফ্‌ট্‌ কর্ণার আছে। কিন্তু যেটা সত্য সেটাকে স্বীকার করতে হবে।)

 

মাইকে ফজরের আযান: এখানে শুধুই ফজরের আযান নিয়ে বলা হচ্ছে। প্রথমত- রাসূল (সাঃ)-এঁর সময় থেকে শুরু করে মাত্র কয়েক দশক আগ পর্যন্তও সারা বিশ্বের কোথাও মাইকে আযান দেওয়া হতো না। তথাপি শত শত বছর ধরে মুসলিমরা মসজিদে যেয়ে ঠিকই সালাত পালন করেছে। এমনকি বর্তমান বিশ্বের অনেক দেশেই মাইকে আযান না দেওয়া সত্ত্বেও মুসলিমরা মসজিদে যেয়ে সালাত পালন করছে। মাইকে আযান না শোনার জন্য তাদের মুসলিমত্ব বাতিল হয়ে যায়নি নিশ্চয়? তাছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে মাইকে আযান দেওয়াকে 'না-জায়েজ' বলে ফতোয়াও দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়ত- বর্তমান বিশ্বের প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই কমপক্ষে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যাবে। আর মোবাইল ফোনে অ্যালার্ম ক্লক থাকে। তাছাড়া অল্প দামে একটি অ্যালার্ম ক্লক কিনেও নেওয়া যায়। কাজেই কারো সত্যি সত্যি ফজরের সালাতের জন্য ঘুম থেকে জেগে ওঠার সমস্যা থাকলে সে অ্যালার্ম ক্লক ব্যবহার করতে পারে। তৃতীয়ত- মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোর প্রায় প্রতিটা শহরে বা এলাকায় কম-বেশি অমুসলিম বাস করে। সেই সাথে শিশু বাচ্চারা আছে। অসুস্থ লোকজন আছে। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা আছে। রুগী-ভর্তি ক্লিনিক-হাসপাতাল আছে। এই অবস্থায় প্রতিদিন ভোরবেলা মাইক দিয়ে সকলকে আচমকা বা জোর করে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলাকে জুলুম ছাড়া আর কী বলা যাবে? ইসলামে কি জুলুম জায়েজ? মুসলিমদের কাজ কি ইসলাম পালন করতে যেয়ে অমুসলিমদের মনে বিরক্তির উদ্রেক করে ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দিয়ে তাদেরকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখা? চতুর্থত- স্রেফ আযান নিয়ে কারো কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। যেমন, এই আযান শুনে কেউ আযানকে 'ক্যাকোফোনি' বা 'কা কা ডাক' জাতীয় কিছু বলবে বলে বিশ্বাস হয় না। এই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে বরং অমুসলিমদের অনেকেই আযানের প্রশংসা করেছে। কিন্তু একই আযানের বাণী যদি প্রতিদিন ভোরবেলা চার-পাঁচ দিক থেকে চার-পাঁচ জন মুয়াজ্জিনের হেড়ে গলায় বিকট শব্দে কানে এসে কারো ঘুম ভেঙ্গে দেয়, তখন তার কাছে আযানকে কেমন লাগতে পারে? ভেবে দেখুন। এই ব্যাপারটা নিয়ে সবার আগে তো আলেম-ওলামা-মাশায়েখ সমাজকেই ভাবার কথা ছিল, তাই নয় কি? তার পরিবর্তে বরং কিছুদিন আগে একজন ভারতীয় সেলেব্রিটি আযানকে 'ক্যাকোফোনি' (হয়তোবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে) বলাতে অতি-মুসলমানদের অনেকেই তাকে গালিগালাজ ও ব্যক্তি-আক্রমণ করে 'ইসলাম উদ্ধার' করেছে! কী লজ্জা! কী লজ্জা! এই ধরণের মন-মানসিকতা নিয়ে তারা অমুসলিমদের সামনে দাঁড়াবে কোন্‌ মুখ নিয়ে, কে জানে! ফজরের আযান নিয়ে সম্ভাব্য দুটি সাজেশন:

১. ফজরের আযান মাইক ছাড়া দেওয়া যেতে পারে। এটাই সবচেয়ে যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ (ইসলামিক) সমাধান। 

অথবা,

২. এলাকা-ভিত্তিক একটি মাইক থেকে যথাসম্ভব কম ভলিউমে প্রতীকি আযান দেওয়া যেতে পারে। বাকি চার ওয়াক্তের আযানের ক্ষেত্রেও মাইকের ভলিউম একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা উচিত।

 

কুকুর-বিদ্বেষ: কুরআনে কুকুর সম্পর্কে এক অর্থে পজিটিভ কথা লিখা থাকলেও মুসলিমদের অনেকে আল্লাহ্‌র সৃষ্টি এই প্রণীকে ঘৃণা করে। শুকরের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। কুকুরের প্রতি ঘৃণাকে জাস্টিফাই করার জন্য দু-একটি অযৌক্তিক হাদিসের আশ্রয় নেওয়া হয়। (নোট: এখানে অবলা প্রাণীর প্রতি অযথায় ঘৃণার কথা বলা হচ্ছে। তবে কোনোভাবেই শুকরের মাংস খাওয়া কিংবা কুকুর পালন করার পক্ষে সাফাই গাওয়া হচ্ছে না।)

 

আপাদমস্তক ঢেকে রাখা: বাইবেলে অত্যন্ত কঠোরভাবে নারীদের মাথা ঢেকে রাখার কথা বলা হয়েছে (1 Corinthians 11:5-6, 1 Corinthians 11:13)। তার প্রমাণ খ্রিস্টান নানদের মধ্যে আজও দেখা যায়। এমনকি মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াকেও পোপের সামনে মাথা ঢাকতে দেখা গেছে! নিচের ছবিতে আপাদমস্তক ঢেকে রাখা কিছু খ্রিস্টান নারীকে দেখা যাচ্ছে [সূত্র]। তাদের এই পোশাকের সাথে আপাদমস্তক ঢেকে রাখা মুসলিম নারীদের পোশাকের কোনো পার্থক্য আছে কি?

এবার আপাদমস্তক ঢেকে রাখা কিছু ইহুদী নারীকে দেখুন [সূত্র]।

নিকাব-পন্থী মুসলিমরা উপরের নারীদেরকে চোখ বন্ধ করে 'পরহেজগার দ্বীনি বোন' আখ্যা দেবে! অথচ তারা সব খ্রিস্টান ও ইহুদী নারী। সত্যি বলতে, আপাদমস্তক ঢেকে রাখা একটি পেগ্যান প্রথা। যেমন, হিন্দুদের মূল ধর্মগ্রন্থ ঋগ্বেদে নারীদেরকে ঘোমটা (Veil) পরার কথা বলা হয়েছে। দেখুন-

Cast down thine eyes and look not up. More closely set thy feet. Let none See what thy garment veils, for thou, a Brahman, hast become a dame. [Rig Veda 8:33:19]

এজন্য ভারত-বাংলাদেশের হিন্দু নারীদের একাংশ এখনো পর-পুরুষ দেখলে ঘোমটা দিয়ে আপাদমস্তক ঢেকে রাখে যাতে কেউ দেখতে না পায়। নিচের ছবিতে যে নারীদেরকে দেখা যাচ্ছে তারা ভারতীয় হিন্দু নারী [সূত্র]।

বাংলাদেশি হিন্দু নারীদের মধ্যেও ঘোমটা পরার প্রচলন আছে। স্থানীয় কালচারের কারণে বাংলাদেশ-ভারতের মুসলিম নারীদের মধ্যেও ঘোমটার প্রচলন দেখা যায়- বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। দু-একটি হাদিসেও এই প্রথার প্রমাণ পাওয়া যায়। রাসূল (সাঃ)-এঁর সময় আরবের নারীরা পর-পুরুষ দেখলে কাপড়ের কিছু অংশ টেনে আপাদমস্তক ঢাকতেন, ঠিক যেভাবে ভারত-বাংলাদেশের নারীরা পর-পুরুষ দেখলে শাড়ির আঁচল টেনে ঘোমটার আড়ালে আপাদমস্তক ঢাকেন। অঞ্চলভেদে পোশাকের ডিজাইনে পার্থক্য ছাড়া হিন্দু ও খ্রিস্টান নারীদের আপাদমস্তক ঢেকে রাখা পোশাকের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দুটোর উদ্দেশ্য একই – আপাদমস্তক ঢেকে রাখা।

উপরোল্লেখিত তথ্যগুলো থেকে যেকারো বুঝার কথা যে, আপাদমস্তক ঢেকে রাখা আসলে ইসলাম-পূর্ব যুগের একটি পেগ্যান প্রথা। একই কথা উইকিপিডিয়াতেও লিখা আছে। অথচ কুরআন-হাদিসের কোথাও নারীদেরকে আপাদমস্তক ঢেকে রাখার কথা না-বলা থাকা সত্ত্বেও এই প্রথাকে 'আল্লাহ্‌র ফরয বিধান' আখ্যা দিয়ে মুসলিম নারীদেরকে ইসলাম-পূর্ব যুগের অযৌক্তিক পেগ্যান প্রথা মেনে চলতে এক প্রকার বাধ্য করে ইসলামকে একটি 'নারী-বিদ্বেষী ধর্ম' হিসেবে উপস্থাপন করার সহজ সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আপাদমস্তক ঢেকে রাখাকে জাস্টিফাই করার জন্য নারীদেরকে 'শামুক-ঝিনুক', 'কলা', 'মিস্টি', 'ফল-মূল', 'খোলা মাংস', ইত্যাদির সাথে তুলনা করে ইসলামকে একটি হাসি-ঠাট্টার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সেই সাথে নারীদেরকেও অবমাননা করা হয়েছে। এমনকি আপাদমস্তক ঢেকে রাখাকে ইসলামের 'পৈত্রিক সম্পত্তি'ও বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এজন্য কোনো দেশে নিরাপত্তাজনিত কারণে আপাদমস্তক ঢেকে রাখার বিরুদ্ধে আইন করা হলে একমাত্র মুসলিমরাই (একাংশ) 'ইসলাম-বিরোধী আইন' বলে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দেয়। অথচ মুসলিমদেরই সবার আগে আপাদমস্তক ঢেকে রাখার বিরুদ্ধে আইন করার কথা ছিল।

এদিকে নিকাবের অপব্যবহারও শুরু হয়ে গেছে। ভারতে মোদি-যোগী'পন্থী মৌলবাদীরা ভাড়া করা কিছু নারীকে বোরকা-নিকাব পরিয়ে "স্বামীর বা শারিয়া আইনের দ্বারা নির্যাতিতা" হিসেবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন ভিডিও আর লেখা ছড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া এক শ্রেণীর নারীরা বোরকা-নিকাবের আড়ালে পরিচয় গোপন করে দেহব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের সামাজিক অপরাধের সাথেও জড়িয়ে পড়ছে।

 

মৌলবাদী (Fundamentalist): এই শব্দটার উৎপত্তি খ্রিস্টান-অধ্যুষিত ইউরোপে। প্রাথমিক পর্যায়ে গোঁড়া খ্রিস্টানদেরকে নেগেটিভ অর্থে 'মৌলবাদী' বলা হতো। অথচ মুসলিমদের মধ্যে কেউ কেউ 'বেশ দক্ষতা'র সাথে এই নেগেটিভ ট্যাগটাকে 'পজিটিভ' বানিয়ে মুসলিমদের ঘাড়ে টেনে নিয়ে খ্রিস্টানদেরকে স্বস্তি দিয়েছে! মুসলিমরাই এখন একমাত্র 'গর্বিত মৌলবাদী'! অর্থাৎ, মৌলবাদী = মুসলিম!

আরো উল্লেখ্য যে, ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্টদের বাইবেল আলাদা। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিগ্রহ ও হানাহানি সম্পর্কেও অনেকেই হয়তো অবগত। অন্যদিকে শিয়া ও সুন্নীদের কুরআন একই, আলাদা নয়। অথচ ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্টরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ ও ঘৃণা-বিদ্বেষ থামিয়ে দিলেও, শিয়া-সুন্নীরা ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছে! আর শিয়া-সুন্নী যুদ্ধে বিভিন্নভাবে ইন্ধন যোগাচ্ছে খ্রিস্টান বিশ্বের নেতারা!

সংক্ষেপে:

– হিন্দু ধর্মের বাল্যবিবাহ প্রথাকে মুসলিমদের একাংশ 'রাসূলের সুন্নাহ্‌'র নামে ডিফেন্ড করছে!

– বাইবেলের অযৌক্তিক ও বর্বর অনার কিলিং প্রথা কিছু মুসলমানের বদৌলতে ইসলামের সাথে জড়িয়ে গেছে!

– হিন্দু পুরুষদের দেখাদেখি ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম পুরুষদের অনেকেই যৌতুক নিয়ে বিয়ে করে এবং যৌতুকের কারণে নারীদেরকে নির্যাতনও করে!

– খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে হিন্দুদের দেখাদেখি ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমদেরও একটা অংশ কন্যাশিশুকে জন্মের আগে-পরে হত্যা করে! তাছাড়া কন্যাশিশুর প্রতি অবজ্ঞা তো আছেই।

– বাইবেলের পাথর মেরে হত্যার বিধান মুসলিমদের একাংশের বদৌলতে 'ইসলামের সম্পত্তি' হয়ে গেছে! এমনকি বাইবেল ও বেদ-মনুসংহিতার কথায় কথায় হত্যা ও শাস্তির বিধানও মুসলিমদের একাংশের বদৌলতে 'ইসলামের সম্পত্তি' হয়ে গেছে!

– অন্যান্য ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের নারী-বিদ্বেষী কথাবার্তা মুসলিমদের একাংশ বেশ দক্ষতার সাথে নিজেদের করে নিচ্ছে!

– পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে নারীর সৃষ্টির কথা বাইবেলে লিখা থাকলেও মূলত মুসলিমরাই একটি হাদিসের মাধ্যমে এটাতে বিশ্বাস করে!

– বাইবেলে দাড়ি কাটতে নিষেধ করা হলেও দাড়ি রাখাকে 'ইসলামের সম্পত্তি' বানিয়ে দিয়ে বর্তমানে শুধু মুসলিমরাই (একাংশ) দাড়ি নিয়ে চরম বাড়াবাড়ি করে!

– আপাদমস্তক ঢেকে রাখার মতো একটি পেগ্যান প্রথাকে 'আল্লাহ্‌র ফরয বিধান' এবং 'ইসলামের পৈত্রিক সম্পত্তি' বানিয়ে দিয়ে ইসলামকে একটি নারী-বিদ্বেষী ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করার সহজ সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে!

মোদ্দা কথা হচ্ছে এই পোস্টে উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রায় সবই মুসলিমদের একাংশের কল্যানে ইসলামের ঘাড়ে চেপে বসেছে। যার কারণে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে অনেকেই ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পাচ্ছে। অথচ এগুলো মূলত অন্যান্য ধর্ম ও কালচার থেকে এসেছে যেগুলোর সাথে কুরআনের কোনো সম্পর্ক নেই। "কুরআনের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই" কথাটা শুনে মুসলিমদের বরং খুশী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় মুসলিমদের একাংশ ইনিয়ে-বিনিয়ে কিংবা দু-একটি হাদিস দিয়ে এগুলোকে ডিফেন্ড করে ইসলামের নামে জিঁইয়ে রাখতে চায়! ব্যাপারটা চিন্তার বিষয়ই বটে!

২০ comments

Skip to comment form

  1. 11
    চমকপ্রদ

    লেখাটার নিয়ত ভালো। লেখার অর্ধেক বিষয়ের সাথে আমি একমত। কিন্তু বাকি অর্ধেক সম্পর্কে আমার মনে হয়েছে, জোড়াতালি দিয়ে ইসলামকে মডারেট করে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করা এবং ইসলামের প্রতি বৈরীভাবপোষণকারীদের খুশি করার একটা ন্যাকামী প্রবণতা এখানে কাজ করছে।

    ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অনাবশ্যক বাড়াবাড়ি দূর করে ইসলামকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা এবং মানবসৃষ্ট খুঁটিনাটি বিষয় যাতে মানুষকে ইসলামের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তুলতে না পারে, এ বিষয়ে সচেতনতা অবশ্যই কাম্য। কিন্তু আমাদের সংস্কার ও ছাড়দানের প্রবণতা যাতে এই পর্যায়ে উপনীত না হয় যে, ইসলামকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে গিয়ে ইসলামের জরুরী বিধানগুলোর ব্যাপারেই ছাড় দিতে বসে পড়ি। ইসলামকে অতি আধুনিক ও সর্বজনগ্রাহ্য করতে গিয়ে আবার নিম্নলিখিত ফতোয়া বা সুপারিশ যেন চলে না আসে:-

    (১) এখন থেকে মুসলিমদেরকে গরু খাওয়া ছাড়তে হবে। তাহলে জীবহত্যার মত অপরাধের বদনাম থেকে ইসলাম রেহাই পেয়ে যাবে।

    (২) সম্মতিসূচক দৈহিক সম্পর্ককে যেনা বলা যাবে না। কেবল জোরপূর্বক হলেই সেটা নিন্দনীয় হবে। অর্থাৎ, বিবাহ বহির্ভূত দৈহিক সম্পর্ককে ইসলামে জায়েয করে দিতে পারলে আরো বহু মানুষ দলে দলে ইসলাম কবুল করবে!

    (৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের কথা যেহেতু কোরআনে নেই, তাই নামাযের ওয়াক্ত দু'একটি কমাতে পারলে বা সম্ভব হলে নামাজকে বাদ দিতে বা নিদেনপক্ষে নফল ও ঐচ্ছিক বানাতে পারলে ক্ষতি কি?

    এখানে আমি আরেকটি কথা বলতে চাই, শুধুমাত্র কোরআনে না থাকার দোহাই দিয়ে ইসলামের সব বিধানকে বাদ দেয়া যাবে- এমন কোন কথা নেই। কোন কোন বিধান নবীর কথা ও বাস্তব আমলের দ্বারাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হাদীস অবশ্যই যাচাইসাপেক্ষ। আমরা একেবারে হাদীস অস্বীকারকারী 'কোরান অনলি' দলের অন্তর্ভুক্তও হবো না, আবার হাদীস বলে প্রচলিত সকল কথাকে বিনা যাচাইয়ে গ্রহণও করব না। হাদীসকে ইসলাম থেকে বাদ দেয়ার কোন সুযোগ নেই।

    আল্লাহ বলেছেন, "আল্লাহ দুনিয়াবাসীর মুখাপেক্ষীতা থেকে মুক্ত।" অতএব, মানুষকে খুশি করতে গিয়ে ইসলামের বিধানকে কমবেশি করার প্রবণতা যেন আমাদের অন্তরে না আসে। অবশ্য ধর্মের নামে কোন অধর্ম বা বেদাত প্রচলিত হয়ে থাকলে সেগুলো সংস্কারে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে- এ বিষয়ে আমার কোন দ্বিমত নেই। সময়ের অভাবে আপনার প্রবন্ধের পয়েন্টগুলো পৃথকভাবে আলোচনা করতে পারলাম না।

    1. 11.1
      এস. এম. রায়হান

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আমি পারতপক্ষে ছদ্মনিকের সাথে কোনো বিষয়ে বিতর্কে জড়াই না।

      লেখার অর্ধেক বিষয়ের সাথে আমি একমত। কিন্তু বাকি অর্ধেক সম্পর্কে আমার মনে হয়েছে, জোড়াতালি দিয়ে ইসলামকে মডারেট করে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করা এবং ইসলামের প্রতি বৈরীভাবপোষণকারীদের খুশি করার একটা ন্যাকামী প্রবণতা এখানে কাজ করছে।

      ১মত- লেখার কোন্‌ অর্ধেক বিষয়ের সাথে একমত, আর বাকি কোন্‌ অর্ধেক বিষয়গুলোকে 'জোড়াতালি দিয়ে ইসলামকে মডারেট করে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করা এবং ইসলামের প্রতি বৈরীভাবপোষণকারীদের খুশি করার একটা ন্যাকামী প্রবণতা কাজ করছে' -- সে সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছুই বলা হয়নি।

      ২য়ত- আমাকে কেন জোড়াতালি দিতে হবে, কেন ন্যাকামী করতে হবে, আর ঠিক কী উদ্দেশ্যেই বা ইসলামের প্রতি বৈরীভাবপোষণকারীদের খুশি করতে হবে -- এ সম্পর্কেও সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই।

      কাজেই এই ধরণের মন্তব্যকেই বরং পাঠকদের জন্য বিভ্রান্তিকর এবং আমাকে হেয় করার একটা প্রবণতা বলা যেতে পারে।

      ৩য়ত- 'মডারেট ইসলাম' কথাটা খুব সম্ভবত জর্জ বুশের আবিষ্কার। এদিকে ইসলামবিদ্বেষী অভিজিৎ গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের সাথে জড়িত মুসলিম নামধারীদেরকে 'সহী মুসলিম', আর বাকি ৯৯.৯৯৯% মুসলিমকে 'মডারেট/ভণ্ড/সুবিধাবাদী মুসলিম' আখ্যা দিয়ে হাসি-ঠাট্টা-উপহাস-বিদ্রূপ করে আসছে। আপনি যদি জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের সাথে জড়িত না থাকেন তাহলে অভিজিৎ গ্যাং-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী আপনিও একজন 'মডারেট মুসলিম'! কাজেই ইসলামবিদ্বেষীদের আবিষ্কৃত 'মডারেট' টার্ম'টা দিয়ে কোনো মুসলিমকে হেয় করতে যাওয়া মানে নিজের পায়েই কুড়াল মারার সামিল। খুব খিয়াল কৈরা।

  2. 10
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    অনেক ধন্যবাদ এই লেখার জন্যে -- বস্তুত এই ধরনের বিষয়গুলো অনেকেই জানে -- কিন্তু কথা বলে না। বস্তুত নিজেদের মাঝে বিভেদ তৈরী হবে ভেবে অনেকে চুপ করে থাকে। ধীরে ধীরে এই সকল জঞ্জাল মূল স্রোতকে আটকে দিচ্ছে।

    1. 10.1
      এস. এম. রায়হান

      পড়ার জন্যও আপনাকে ধন্যবাদ।

      বস্তুত নিজেদের মাঝে বিভেদ তৈরী হবে ভেবে অনেকে চুপ করে থাকে।

      কেউ কেউ 'নিজেদের মাঝে' বিভেদ তৈরী হবে ভেবে চুপ থাকে, কেউ কেউ সমালোচনা বা ফতোয়ার ভয়ে চুপ থাকে, কেউ কেউ আবার হয়তো জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ে চুপ থাকে। কিন্তু এভাবে সকলে চোখ-মুখ বুজে চুপ থাকলে সর্বনাশ হয়ে যাবে যে!

  3. 9
    আবু জারীর

    পাকিস্তানের জাভেদ আহাম্মদ গামাদী সাহেব অনেক বিষয়েই সাহসী কথা বার্তা বলেছেন। এখন সময় এসেছে প্রচলিত আলেমদের বাহিরে কিছু স্কলারের ইসলাম নিয়ে গভেষনা করার। যদি সেটা সম্ভব হয় তাহলে অনেক গোঁড়ামিরই গোমড় ফাস হয়ে যাবে। 

     

  4. 8
    মহিউদ্দিন

    "যে কথা কুরআনে নেই, সেই কথা বাইবেল ও হাদিসে আছে! বেশ মজার তো! পাথর মেরে হত্যার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এ'রকম উদাহরণ আরো আছে।"  

    আসলেই এ জাতীয় আরো অনেক বিষয় আছে যা নিয়ে আলোচনা দরকার। একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। আপনার এ লিখাটি অনেকের মনে চিন্তার খোরাক দিবে আশা করি। ভালো লেগেছে ।

    আচ্ছা রাসুল (স:) একমাত্র কোরআন ছাড়া তাঁর নিজের কথা লিখতে নিষেধ করেছিলেন কেন?
    হযরত আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন-“তোমরা আমার কোন কথা লিখনা । দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) এর আমলে তিনি হাদীস সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন কিন্তু তিনি দীর্ঘ একমাস ইস্তেখারা করার পর এই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। হযরত ওমর (রা:) নাকি হযরত আবু হুরায়রাকে কম কথা (হাদিস) বলতে হুকুম দিয়েছিলেন। 
    হযরত আলী (রাঃ)-এর নিকট সাদকা, যাকাত এবং ব্যাবহারিক কাজকর্ম সম্পর্কিত হুকুম আহকামের কয়েকটি হাদীস লিখিত ছিল । 

  5. 7
    আব্দুস সামাদ

    আসসালামো আলায়কুম। মাঝে মাঝে আসি। তেমনই আজও এলাম। প্রথমেই আপনার  লেখা। দাঁড়াতেই হল। ভাল অবশ্যই লেগেছে। তবে সবিনয়ে অনুরোধ করব। পর্দা 'বা আপাদ মস্তক' ঢাঁকার বিষয়ে কোরআনের সুরা আহযাব ও সুরা নূর এ সুরা দুটি একটু ধৈর্য সহকারে পড়বেন।

    আশাকরি ভাল আছেন। আমি এখন দেশে। ভাল থাকেন। ধন্যবাদ।

    1. 7.1
      এস. এম. রায়হান

      সামাদ ভাই, ওয়ালাইকুম সালাম। আমি অনেকদিন ধরেই ইসলাম নিয়ে লেখালেখি করছি। আপনিও সেটা জানেন। তথাপি আপনার কাছে কেন যে মনে হয়েছে আমি কোরআনের সুরা আহযাব ও সুরা নূর না পড়েই লেখালেখি করছি, সেটা বুঝতে পারছি না। কুরআনে বা এমনকি হাদিসেও যে নারীদেরকে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখতে বলা হয়নি সে বিষয়ে আমি খুব ভালো  ইসলামিক স্কলারেরও রেফারেন্স দিতে পারবো। তাছাড়া কিছু মুসলিম-অধ্যুষিত দেশেও নিকাবকে ব্যান করা হয়েছে বা ব্যানের পক্ষে প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে। কুরআনে নারীদেরকে নিকাব পরিধানের কথা বলা থাকলে মুসলিম-অধ্যুষিত দেশে এটা করা হতো না নিশ্চয়।

  6. 6
    ফাতমী

    আসসালামুয়ালাইকুম,

    কেমন আছেন রায়হান ভাই? যাইহোক, আপনি মূল সমস্যাই তুলে ধরেননি। মানুষের একটা বাক্যের অর্থ কি হয়, সেটা ভাল ভাবে না দেখেই বিচার বিশ্লেষণে চলে যাওয়া।

    1. 6.1
      এস. এম. রায়হান

      ফুয়াদ, ওয়ালাইকুম সালাম। আমি ভালো আছি। তুমি এখানে 'মূল সমস্যা' বলতে ঠিক কী বুঝিয়েছ সেটা আমি ধরতে পারি নাই, যদিও তোমার শেষের বাক্য থেকে কিছুটা অনুমান করতে পারছি। তবে আরেকটু বিস্তারিত লিখলে মনে হয় ভালো হতো।

  7. 5
    এম_আহমদ

    প্রথমে রসিকতা: আপনি অন্যান্য ধর্মের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কয়েকটি পাখি শিকার করলেন।  এভাবে না করলে নিজ ধর্মের লোকগুলো ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে –হয়ত এই ভয়ে। এক স্থানে না হয় অন্য স্থানে, আমাদের সকলের মনেই এমন ভয় বিরাজ করে। ধর্ম ও ভয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। থাকগে তত্ত্ব-কথা। আজকের সমস্যা হচ্ছে ধর্মীয় ব্যাখ্যার ‘প্যারাডাইম সিফট’ –কোন ধর্ম থেকে কোন ধর্ম কোন কোন বস্তু ধর্মে ঢুকে গেছে তা নয়। মানুষের ধর্ম, প্রথা, জ্ঞান-বিজ্ঞান সব কিছুতেই ‘পূর্ববর্তিতা’ রয়েছে। নবী মোহাম্মাদ (সা) ধ্যান-তপস্যার জন্য কেন নিজ বাড়ি, নিজ স্থান ছেড়ে হিরা-গুহায় আত্মনিয়োগ করবেন? আল্লাহ কি পাহাড়-চূড়ায়, বা গুহায় থাকেন? অথবা এই স্থানগুলো কি তুলনামূলকভাবে তার কাছে অধিক পছন্দের? কেন মুসা নবী (আ) সিনাইয়ের পাহাড় চূড়ায় যাবেন? এসবের পিছনে রয়েছে ‘পূর্ববর্তিতা’।  মুহাম্মদের (সা) যুগ পর্যন্ত একত্ববাদী হানিফগণ পাহাড়-চূড়া ও গুহাতে ধ্যান-তপস্যা করতেন।  এটাই ছিল সেদিনের একটি সুন্নত। রাসূলের (সা) দাদাও পাহাড় চূড়ায় যেতেন; তপস্যা করতেন। অনেকের মত ওয়ারাকা বিন নাওফলও করতেন।  যদিও কিছু কথা অন্য লেখায় বলেছি, আবারও বলি: ধর্মীয় ও অপরাপর জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিষয়গুলো মানব জাতিরই –এক মাথা থেকে অন্য মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আল্লাহও মানুষের প্রথাকেন্দ্রিক বিষয় ও পূর্ববর্তিতা সামনে রেখে কথা বলেছেন। 

    এবারে আসল কথা বলি। ধর্মীয় সমস্যা নিয়ে ধর্মীয় লোকজনই প্রথমে কথা বলা দরকার। তা না হলে অন্যরা কথা বলবে -তাদের মত করে বলবে, এবং বলছেও। তাই আপনার উদ্যোগে সমর্থন যোগাতে এই মন্তব্য।  এটা এমন হতে পারে না যে আমি ভয়ে ভয়ে কিছু বলব না, আর অন্য কেউ সাহস করে বললে তাকে বাধা দিতে সাহসী হয়ে উঠব।

    কিন্তু আজকের সমস্যা মূলত এই কয়টি স্থানে নয় –বরং যেসব ধর্মীয়-ধারণা এইসব কর্মের মূলে কাজ করছে সেগুলোতে।  এই পথে অনুসন্ধান চালালে, আপনি দ্রুতই কোরান হাদিসের টেক্সটের প্রকৃতিতে চলে যাবেন। কিন্তু তখন দেখবেন সেই স্থান নিয়ে গভীর আলোচনা নেই, কম –ভীতি শিন শিন করছে: বাবা, আমি এসব নিয়ে কথা বলার দরকার নেই, কে কী বলবে –এমন ভীতি। যারা কথা বলেছেন, তাদেরকে বেশির ভাগই মার্জিনেলাইজ করা হয়েছে: এ পথে প্রথমে মুতাজিলারাই যাত্রা শুরু করে। আর যারা ‘এই বিশেষ ক্ষেত্রে’ গভীরতায় যাবার যোগ্যতা রাখেননি, বা অর্জন করেননি, তারাই ‘সকলে যাহা চায় তাহা নিয়ে’ বই পুস্তক রচনা করেছেন, পটর-পটর করেছেন, চিল্লাচিল্লি করেছেন –আর এভাবে ওয়াজে চিল্লাচিল্লি করা, কঠোরভাবে কিড়বিড় করা, উত্তেজনাপূর্ণ ভাষা স্থান পেয়েছে: প্রথা হয়ে গিয়েছে। আজকের যুগের ধর্মীয় জিজ্ঞাসার উত্তর তাদের লেখায় নেই –আমি সেই প্যারাডাইমগত বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করছি। 

    মানুষ বেশি সংরক্ষণশীল হয় তখন, যখন ভয়ের পরিস্থিতি দেখা দেয়। ইসলামে নবীর (সা) ওফাতের পরোক্ষণেই চতুর্দিক থেকে আরবের গোত্রগুলো জাহেলি স্বাধীনতা ঘোষণা করে।  তারপর যুদ্ধের পর যুদ্ধ আসে এবং ধর্মহীনতার মোকাবেলায় ধর্মীয় ব্যাখ্যা রক্ষণশীল হতে হতে একদলের মধ্যে চরমধর্মী রূপ লাভ করে যা খারেজি নামে পরিচিত হয়। কিন্তু ধারণা যেহেতু এক ঘরে বন্দী হয়ে থাকে না, বরং ছড়িয়ে পড়ে, এবং তা কোরান হাদিসের ক্লাস্টারিংএ ছড়িয়ে পড়ে, সাহিত্যে সন্নিবেশিত হয়, প্রথাগত হয়, তাই তা রক্তের সাথে মিশে যায়: আজো আছে –প্রায় সব দলেই আছে, মাত্রার তারতম্য মাত্র।

     

    আরেকটি গভীরের কথা বলি। ধর্ম একান্ত গ্রন্থ সর্বস্ব নয়। উপরে আপনি অন্যান্য ধর্মের গ্রন্থে যা আছে বলে উল্লেখ করেছেন, তা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রথা থেকে উহ্য হয়ে গিয়েছে, আবার ইসলামের গ্রন্থে না থাকা সত্ত্বেও প্রথাগত হয়ে আছে। তাদের ধর্মগুলোতে অপরাপর আরও অনেককিছু আমাদের মত প্রথাগত আছে কিন্তু গ্রন্থে নেই। আমাদের ধর্মে সুদ হারাম, মিথ্যা বলা হারাম, অন্যায়, নির্মূল-নির্যাতন করা হারাম, জিনা-ব্যভিচার হারাম, মদ পান নিষিদ্ধ, অপরের মাল-লুণ্ঠন হারাম, জনসাধারণের মাল, সরকারী মাল –সব। কিন্তু গ্রন্থে থাকাবস্থায় বাস্তবতা ভিন্ন: দলের লোকেরা ট্রিলিয়ন ডলার ডাকাতি করলে আমি বলব, “এমনটি সব দেশে হয়!”

    গ্রন্থ অনেক ক্ষেত্রে প্রোপের ভূমিকা পালন করে, যা প্রধাণত অথোরিটি ও পবিত্রতার ধারণা ভিত্তিক, কিন্তু মানুষ এই দুটি ধারণাকে কেন্দ্র করে তার প্রথা তৈরি করতে হয়। এতে কিছু বিষয় প্রাধান্যে আসে, কিছু বিষয় ব্যাখ্যায় অন্যভাবে স্থাপিত হয়। মুসলিম সমাজের আলেমগণ এই কাজটি করতে সার্বিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, এবং অনেক ক্ষেত্রে “অশিক্ষিত”, “কুশিক্ষিত”, “মূর্খ” আলেমরা পপুলার-ধর্মকে চিল্লাচিল্লির মাধ্যমে নিজেদের দলে প্রজন্ম পরম্পরায় চালিয়ে যাচ্ছেন, তাই পরিবর্তনের  আশা কতটুকু করব বুঝতে পারছি না। তাছাড়া এখন ফোন, ওয়াটসআপ, ফেসবুক, চাটু-পত্রিকা, মেজমোরাইজিং ভাষায় বৈরাগী মার্কা ভিডিও ইত্যাদির মাধ্যমে কুপ্রথা, কুশিক্ষা, মূর্খতা, গুজব, দলাদলি, গালাগালি, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি যেভাবে ছড়াচ্ছে তার আলোকে কী ভবিষ্যতবাণী করা হবে সেটা মুস্কিল –জ্ঞানও যে ছড়াচ্ছে না তাও নয়।

    অনেক কথা বলা হল বলার খাতিরে।

    আপনার রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে লেখাটিও ভাল ছিল। সেটা এখন দেখতে পাচ্ছি না –কারণ কি?

     

    1. 5.1
      সত্য সন্ধানী

      আহমদ ভাই সালাম, আপনার কাছে অনেক দিন কোন নতুন লেখা পাই না! আশা করি আবার লিখবেন।

       

      আর আপনাকে একটা ইমেইল দিয়েছি। সময় করে একটু দেখে নেবেন প্লিজ।

    2. 5.2
      এস. এম. রায়হান

      আপনার বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      প্রথম পাতায় আমার এক সাথে কয়েকটা পোস্ট থাকার জন্য রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে লেখাটি ড্র্যাফট করে রেখেছি। এটা পরে আবার প্রকাশ করা হবে।

  8. 4
    শামিম

    কোরানে যা অাছে শুধু তা মানলেই কি হবে ? হাদিসের মাধ্যমে কি মুসলিমদের জন্য কোন  বিধিবিধান দেয়া হয়নি? সহি হাদিসের একটা সামান্য বিধান পরিবর্তন করার ক্ষমতাও কি কোন মানুষ রাখে?

    1. 4.1
      এস. এম. রায়হান

      এখানে কোথাও হাদিসকে অস্বীকার করা হয়নি। হাদিস বলতে রাসূল (সাঃ)-এঁর নামে হাজার হাজার হাদিস আছে। হাদিস সম্পর্কে আপনার মতো আরো অনেকের মাথায় যে 'বিশ্বাস' আছে সে বিষয়ে নিচে একজন খুব ভালো ইসলামিক স্কলারের বক্তব্যের ভিডিও লিঙ্ক দেওয়া হলো। শুনে দেখতে পারেন।

      https://www.youtube.com/watch?v=JdFyd0HHkAE

  9. 3
    সত্য সন্ধানী

    অসাধারন আর সময়োপযোগী লেখা রায়হান ভাই।

    আসলে আমাদের বিশেষ করে বাঙালী মুসলিমদের মধ্যে এসব প্রবনতা মোটামুটি একটা অসুখে পরিনত হয়েছে। বিশেষ করে দেশে এক শ্রেনীর মুনাফিক আছে যারা সারা জীবন নানা মেয়েরে বারোটা বাজিয়ে বিবাহের পর খাঁটি মুসলিম হয়ে যাবার মানসে নামাজ, দাড়ি, টুপি, বোরখা নিকাব এসবের মাঝে নিরাপত্তা খুঁজে বেড়ায়, ইসলামের ভুল ব্যখ্যাকে বাস্তব বলে চালানোর চেষ্টা করে! (ভয়টা হয়ত এই যে তারা যেহেতু আগে নানা মেয়ের সাথে যেরুপ ব্যবহার করেছে, যদি তাদের বউদের সাথেও এমন বা ধারে কাছে কেউ ব্যবহার করে! তাই বউকে প্যাকেট করে রাখো, আর নিজে ইসলামিক ভং ধরো, ঢাল বানাও ইসলামকে আর বিধর্মীদের বাজে কালচার অনুপ্রবেশ করাও।)

    নিজের চোখে এসব দেখেছি আমি। আজকাল এদের অনেকে বলে যে হজরত উমরকে ঢাল বানায়, যে রসুলুল্লাহকে হত্যা করতে গিয়েই মুসলিম হয়েছিলেন এরাও নাকি তেমন ভুল বুঝে।

    ভাল কথা বিয়ের আগে যে কেন যে এদের কেউ হজরত উমরকে ফলো করে সৎকাজে নামে না সেটা অবশ্য আমার কাছে পরিষ্কার নয়। 

    আবার তাবলীগের কিছু অতি গোঁড়া লোকজনও এমন। আমার এক স্কুল জীবনের সহপাঠী, তার আপন ভাবীকে চোখে দেখেনি কোনদিন।

    এরকম হাজারটা উদাহরন দেয়া যায়। এসব থেকে মুক্তি আসলেই জরুরী!

    আবার ১৯০ বছর ধরে খৃষ্টান শাসনে হিন্দু জমিদারদের প্রজা হয়ে থাকাও হয়ত এর একটা কারন হতে পারে বলে মনে হয়।

  10. 2
    Kamal

    অনেক বিষয় নিয়ে বলেছেন। তবে নাটক সিনেমা ও গান-বাজনা নিয়ে কিছু বলেন নি। নাটক সিনেমা ও গান-বাজনা নিয়ে আপনার মতামত কি? হুমায়ুন আহমেদের নাটক দেখা কি জায়েজ হবে? নাকি সব বন্ধ করে দিতে হবে?

    1. 2.1
      এস. এম. রায়হান

      আরো অনেক কিছুই এখানে উল্লেখ করা হয়নি। যেমন, মাজহাবী ও লা-মাজহাবীদের মধ্যে কিছু তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অনেকদিন ধরে মল্লযুদ্ধ আর কাদা ছোঁড়াছুড়ি চলছে। কাজেই এই পোস্টে উল্লেখিত বিষয়গুলো নিয়ে কিছু বলার থাকলে বলতে পারেন। কিন্তু পোস্ট-বহির্ভূত কোনো প্রশ্নের জবাব এখানে দেওয়া হবে না। নাটক-সিনেমা ও গান-বাজনা নিয়ে কেউ কোনো পোস্ট দিলে সেখানে না-হয় প্রশ্ন করতে পারেন।

  11. 1
    Mijan

    আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। খুবই সময় উপযোগী এবং চিন্তা করার মতো বিষয়গুলো তুলে এনেছেন। তবে যদি সময় পান "অনার কিলিং প্রথা" সম্পর্কে একটু বিস্তারিত উদাহরণসহ কিছু লিখলে বুঝতে সুবিধা হতো। আবারো ধন্যবাদ। মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন আপনার জ্ঞান আরো বৃদ্ধি করে দিন -- একই কামনায় — জাজাকাল্লাহ্‌।

    1. 1.1
      এস. এম. রায়হান

      অনার কিলিং (পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে হত্যা) সম্পর্কে এখানে ও এখানে বিস্তারিত পাবেন। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.