«

»

Oct ২৫

বিবর্তনবাদীদের নিয়ে যৌক্তিক বিনোদন ব্লগ!

ব্লগটিকে বিবর্তনবাদীদের জন্য সাধারণভাবে এবং বাংলা বিবর্তনবাদীদের জন্য বিশেষভাবে উৎসর্গীকৃত। যদিও বিবর্তনবাদীদের নিয়ে লিখতে গেলে বিনোদনের কোনো শেষ নেই তথাপি ব্লগটিকে নির্দিষ্ট কিছু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, শিরোনামে ‘বিনোদন ব্লগ’ নাম দেওয়া হলেও সত্যিকারের বিনোদনমূলক কিছু না পেলে তার জন্য লেখক দায়ী থাকবেন না। দেরি না করে শুরু করা যাক তাহলে…!

১. বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী তাদের শরীরে নাকি ব্যাড ডিজাইন আর শতাধিক নিষ্ক্রিয় অঙ্গের অস্তিত্ব আছে, যেগুলো এখন আর কোনো কাজে লাগে না। তো পাঠক! এবার আপনারাই বলুন – যাদের শরীর ব্যাড ডিজাইন আর শতাধিক নিষ্ক্রিয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ভরপুর তাদের কথার মধ্যে যৌক্তিক বা তথ্যপূর্ণ কিছু থাকতে পারে কি-না? তাদের কোনো কথাকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে কি-না? তাদের মাথা থেকে প্রলাপ ছাড়া যৌক্তিক বা তথ্যপূর্ণ কিছু তো বেরুনোর কথা না! কী বলেন? মুক্তমনা ব্লগে 'বিবর্তন আর্কাইভ' নামক ঠাকুর্মার ঝুলি থেকে প্রমাণ দেখুন-

২. ‘ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন’ এর প্রবক্তাদের সাথে বাকযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে বিবর্তনবাদী নাস্তিকরা ‘ইন্টেলিজেন্ট’ ও ‘ডিজাইন’ শব্দ দুটি শোনার সাথে সাথে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে। অথচ স্টিফেন হকিং-এর সম্প্রতি প্রকাশিত “The Grand Design” বইয়ে ‘ডিজাইন’ শব্দটা থাকা সত্ত্বেও তারা এই বইকে নাস্তিকতার পক্ষে 'প্রমাণ' হিসেবে ব্যবহারের জন্য লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে। অন্যদিকে আবার তাদের দেবতুল্য গুরু রিচার্ড ডকিন্স ইতোমধ্যে ‘ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনার’-এর অস্তিত্বও স্বীকার করেছেন। কেমন লাগে বলুন তো! দেখুন-

৩. বিবর্তনবাদীরা নিজেদেরকে বানর জাতীয় লেজওয়ালা প্রজাতির কাজিন বা নিকটাত্মীয় প্রমাণ করার জন্য বেশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সাথে লেজওয়ালা প্রজাতির নাকি তেমন কোনো পার্থক্যই নাই। তা-ই যদি হয় তাহলে আমরা যেমন লেজওয়ালা প্রজাতির কিচিরমিচিরকে কোনো গুরুত্ব দেইনা তেমনি লেজবিহীন বিবর্তনবাদীদের কিচিরমিচিরকেও কিন্তু গুরুত্ব দেওয়ার যৌক্তিক কোনো কারণ থাকতে পারে না! কী বলেন পাঠক? দেখুন-

৪. বিবর্তনবাদীরা নিজেদেরকে লেজওয়ালা প্রজাতির নিকটাত্মীয় বলে দাবি করলেও আজ পর্যন্ত নিদেনপক্ষে একজন বিবর্তনবাদীকেও পাওয়া যায়নি – যে কিনা তার লেজওয়ালা নিকটাত্মীয়দের কাছে থেকে বিবর্তন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে কিছু জানতে চেয়েছে! কিংবা লেজওয়ালা কোনো নিকটাত্মীয় লেজবিহীন বিবর্তনবাদীদেরকে বিবর্তন সম্পর্কে কিছু তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সাহায্য করেছে! এ কেমন নিকটাত্মীয়! নিকটাত্মীয়দের একে-অপরের প্রতি এতটা অবজ্ঞা কেন!

৫. যেখানে বিবর্তনবাদীদের সাথে বানর জাতীয় লেজওয়ালা প্রজাতির খালি চোখে দেখা যায় এমন অনেক মিল আছে (যেমন: উভয়েরই এক মাথা, দুই কান, দুই চোখ, এক নাক, দুই হাত, দুই পা, ইত্যাদি আছে; উভয়েরই পুংলিঙ্গ-স্ত্রীলিঙ্গ আছে; উভয়েই বাচ্চা প্রসব করে; উভয়ের শরীরেই রক্ত আছে; উভয়েরই পরিপাকতন্ত্র আছে; উভয়েই খাদ্য গ্রহণ করে; উভয়েই মল-মূত্র ত্যাগ করে; উভয়েই ঘুমায়; উভয়েই মারা যায়; ইত্যাদি), সেখানে বিবর্তনবাদীরা ডিএনএ দিয়ে বানর জাতীয় লেজওয়ালা প্রজাতির সাথে নিজেদের সাদৃশ্য দেখানোর চেষ্টা করে, যে ডিএনএ-কে খালি চোখে দেখা যায় না! ব্যাপারটাকে হাস্যকর মনে হয় না?

৬. বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী তাদের আদি পূর্ব-পুরুষ প্রাইমেটরা গাছে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য লেজ ব্যবহার করতো। গাছ থেকে নিচে নেমে আসার পর লেজের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে – যদিও কেন ও কীভাবে প্রথমে লেজ গজালো আর কীভাবেই বা আবার সেই লেজ বিলুপ্ত হয়ে গেল তা কখনোই বলা হয় না! বিবর্তনবাদীরা যে সত্যি সত্যি লেজওয়ালা প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে তার স্বপক্ষে তাদের একটি ‘প্রমাণ’ হচ্ছে লেজওয়ালা মানব শিশু! নিচের ছবিতে বিবর্তনবাদীদের হারিয়ে যাওয়া লেজ দেখুন। কেউ যেন মনে না করেন যে, বিবর্তনবাদীদের নিয়ে এখানে মস্করা করা হচ্ছে। বিবর্তনবাদীরাই এই ধরণের লেজওয়ালা মানব দেখিয়ে দাবি করছে যে, তারা লেজওয়ালা প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে!

৭. বিবর্তনবাদীরা বানর জাতীয় লোমশ প্রাইমেটদের থেকে বিবর্তিত হয়েছে বলেই নাকি তাদের গায়ে লোম রয়ে গেছে! তাদের 'যুক্তি' অনুযায়ী ব্যাপারটা এ'রকম দাঁড়াচ্ছে: তারা মাথা-ওয়ালা প্রাইমেটদের থেকে বিবর্তিত হয়েছে বলেই তাদের গায়ে মাথা রয়ে গেছে! তারা চোখ-কান-ওয়ালা প্রাইমেটদের থেকে বিবর্তিত হয়েছে বলেই তাদের গায়ে চোখ-কান রয়ে গেছে! সর্বোপরি, তারা বুদ্ধিমত্তাহীন প্রাইমেটদের থেকে বিবর্তিত হয়েছে বলেই তারা বুদ্ধিমত্তাহীন রয়ে গেছে!

৮. বাংলা বিবর্তনবাদীদের মধ্যে কারো কারো বেশ জোরালো একটি যুক্তি হচ্ছে: পশ্চিমা বিশ্বের নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঘা বাঘা অধ্যাপকরা যেহেতু বিবর্তন তত্ত্বে বিশ্বাস করেন এবং নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু বিবর্তন তত্ত্ব পড়ানো হয় সেহেতু বিবর্তন তত্ত্ব অবশ্যই সত্য হবে!

৯. বিবর্তনবাদীরা সব সময় “বীটিং অ্যারাউন্ড দ্য বুশ” নীতি অনুসরণ করে। তারা নির্দিষ্ট কোনো যুক্তিতে স্থির থাকতে পারে না, যেহেতু তাদের বিশ্বাসের যৌক্তিক বা বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। উদাহরণস্বরূপ, তারা মানব দেহের অ্যাপেনডিক্সকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে ফতোয়া দিয়ে বিবর্তনের পক্ষে ‘প্রমাণ’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু অ্যাপেনডিক্সের প্রয়োজনীয়তা বিজ্ঞান দিয়েই প্রমাণ করে দেখালে তারা আবল-তাবল কিছু বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত গালিগালাজ ও ব্যক্তি আক্রমণ শুরু হয়ে যায়। অতঃপর যদি জিজ্ঞেস করা হয় অ্যাপেনডিক্সের কোনো কাজ না থাকা মানেই লেজওয়ালা প্রজাতি থেকে তারা বিবর্তিত হয়েছে বলে প্রমাণ হয় কি-না? তখন স্বাভাবিকভাবেই পিছুটান দিয়ে বলা হয়, “বিবর্তন প্রমাণ করার জন্য অ্যাপেনডিক্সের কোন দরকার নেই। আরও অসংখ্য ভাবেই সেটা প্রমাণিত।” এটা হচ্ছে যুক্তিতে ধরা খেয়ে তালগাছ বগলে নিয়ে পিছলে যাওয়ার প্রকৃষ্ট উদাহরণ! দেখুন-

১০. বিবর্তনবাদীরা বিবর্তনকে গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়ার মতো সত্য বলে দাবি করার পরও এবং বৈজ্ঞানিক মহলে ইতোমধ্যে স্বীকৃত হয়েছে বলার পরও দেখা যায় তারা প্রচুর পরিশ্রম করে মাটির নিচে থেকে প্রাপ্ত হাড়-হাড্ডির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ দিয়ে নিজেদের মতো ড্রয়িং করে মাঝে মাঝে ইউরেকা ইউরেকা বলে মিডিয়া জুড়ে রীতিমতো সোরগোল বাধিয়ে দেয়! দেখুন-

১১. বিবর্তনবাদের সমালোচকদের মধ্যে কেউ কেউ কৌতুকচ্ছলে কিংবা ধরা যাক না জেনে বানর থেকে মানুষ বিবর্তিত হওয়ার কথা বলে হাসি-ঠাট্টা করে। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় এই বলে যে, বানর থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে এখনো অনেক বানর প্রজাতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো থেকে মানুষ বিবর্তিত হচ্ছে না কেন? খুবই যৌক্তি প্রশ্ন। অথচ এই কথা শোনার সাথে সাথে বিবর্তনবাদীরা তেড়ে এসে বলা শুরু করে, “হেঃ! হেঃ! বিবর্তন সম্পর্কে আপনাদের কোনো ধারণাই নাই! জীববিজ্ঞানের উপর ব্যাসিক একটা বই পড়ে নিলে হয় না? বানর থেকে তো মানুষ বিবর্তিত হয়নি! বরঞ্চ মানুষ ও বানর একটি ‘সাধারণ পূর্ব-পুরুষ’ থেকে বিবর্তিত হয়েছে।” কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই ‘সাধারণ পূর্ব-পুরুষ’ কি মানুষ নাকি বানর নাকি অন্য কিছু ছিল – সেটা কখনোই বলা হয় না! তবে রিচার্ড ডকিন্স এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, “Monkeys and we come from a common ancestor and that common ancestor would probably have been called the monkey.” বিবর্তনবাদীদের আত্মপ্রতারণার নমুনা দেখলেন তো। একই কথা তাদের গুরু বললে ঠিক আছে কিন্তু অন্য কেউ বললে অজ্ঞ ও হাসি-তামাসার পাত্র হয়ে যায়!

১২. বিবর্তনবাদীরা নিজেরাই বিবর্তনে বিশ্বাস করে না। কারণ বানর থেকে তাদের বিবর্তিত হওয়ার কথা বলা হলে তারা ক্ষেপে যেয়ে বলে, বানর থেকে তো আমরা বিবর্তিত হইনি! তার মানে তারা বলতে চায় যে, বানর থেকে তাদের বিবর্তন সম্ভব নয়। কিংবা বানরকে নিজেদের পূর্ব-পুরুষ হিসেবে মেনে নিতে তারা লজ্জা পায়। অন্যথায় তো ক্ষেপে যাওয়ার কথা না। আর তা-ই যদি হয় তাহলে বিবর্তনে সংশয়বাদীরাও তো একই কথা বলে আসছে – অর্থাৎ এক প্রজাতি থেকে ধাপে ধাপে ভিন্ন প্রজাতির বিবর্তন হয়নি বা হওয়া সম্ভব নয়। কী বলেন পাঠক? বিবর্তনবাদীরা যে কোন্‌ ইউটোপিয়ার উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে বুঝতেই পারছেন।

১৩. এই পৃথিবীর শতভাগ মানুষ তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে নিদেনপক্ষে কয়েক হাজার বছর ধরে স্বচক্ষে যা দেখে আসছে তা হচ্ছে: মানুষ থেকে মানুষ-ই হয়; গরু থেকে গরু-ই হয়; ছাগল থেকে ছাগল-ই হয়; বাঘ থেকে বাঘ-ই হয়; বিড়াল থেকে বিড়াল-ই হয়; হরিণ থেকে হরিণ-ই হয়; কুকুর থেকে কুকুর-ই হয়; সিংহ থেকে সিংহ-ই হয়; হাতি থেকে হাতি-ই হয়; বাঁদর থেকে বাঁদর-ই হয়; গরিলা থেকে গরিলা-ই হয়; মুরগীর ডিম থেকে মুরগী-ই হয়; ইলিশ মাছের ডিম থেকে ইলিশ-ই হয়; কুমিরের ডিম থেকে কুমির-ই হয়; টিকটিকির ডিম থেকে টিকটিকি-ই হয়; তিমি থেকে তিমি-ই হয়; পিপীলিকা থেকে পিপীলিকা-ই হয়; মৌমাছি থেকে মৌমাছি-ই হয়; আমের বীজ থেকে আমের-ই গাছ হয়; অ্যাপেলের বীজ থেকে অ্যাপেলের-ই গাছ হয়; কাঁঠালের বীজ থেকে কাঁঠালের-ই গাছ হয়; ইত্যাদি; ইত্যাদি। ব্যতিক্রম কিছু হয়েছে কি-না জানা নেই, তবে সে'রকম কিছু হয়ে থাকলে সেটিকে অপ্রাকৃতিক বা অস্বাভাবিক হিসেবেই ধরা হয়। এই যখন দিনের আলোর মতো বাস্তবতা তখন বিবর্তনবাদীদের অন্ধ বিশ্বাস অনুযায়ী ব্যাকটেরিয়া থেকে তারা নিজেরা-সহ ধাপে ধাপে পুরো উদ্ভিদজগত ও প্রাণীজগত বিবর্তিত হয়েছে!

১৪. বিবর্তনবাদী গুরুরা যৌক্তিক প্রশ্ন আর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে যখন বুঝতে পারলেন যে, বাস্তবে এক প্রজাতি থেকে ধাপে ধাপে ভিন্ন প্রজাতি বিবর্তিত হওয়া সম্ভব নয় তখন সবকিছুকে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পেছনে নিয়ে গেলেন! ভাবসাব দেখে মনে হবে যেন মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পেছনে নিয়ে গেলেই সব কিছু এমনি এমনি হয়ে যাবে! যেমন, তারা যখন দেখলেন যে বানর জাতীয় লেজওয়ালা প্রজাতি থেকে ধাপে ধাপে তাদের বিবর্তন সম্ভব নয় তখন তারা বলা শুরু করলেন যে, লক্ষ লক্ষ বছর আগে বানর ও মানুষ উভয়েই একটি ‘সাধারণ পূর্ব-পুরুষ’ থেকে বিবর্তিত হয়েছে! এই ‘সাধারণ পূর্বপুরুষ’-কে ঠেলে ঠেলে কোথায় যে নিয়ে যাওয়া হবে, কে জানে! শেষ পর্যন্ত প্রথম ব্যাকটেরিয়াতে যাওয়া ছাড়া মনে হয় কোনো উপায় নেই!

১৫. বাংলা বিবর্তনবাদীদের মধ্যে কারো কারো দাবি অনুযায়ী বিবর্তনবাদ আল্লাহ, গড, বা দেবদেবী ব্রহ্মা আছে কি-না তা নিয়ে কাজ করে না। অন্যদিকে আবার কারো কারো দাবি অনুযায়ী বিবর্তন দিয়ে প্রাণীজগত থেকে ঈশ্বরের হাতকে কেটে ফেলা সম্ভব! দেখুন-

১৬. বাংলা বিবর্তনবাদীদের লেখা দেখে মনে হবে যেন একমাত্র মুসলিমরা ছাড়া ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই পৃথিবীর সকলেই বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনীতে বিশ্বাস করে। তাদের লেখা থেকে এ-ও স্পষ্ট যে, একমাত্র জাকির নায়েক আর হারুন ইয়াহিয়া ছাড়া এই দুনিয়ার কেউই বিবর্তনবাদের বিরোধীতা বা সমালোচনা করে না। তবে ইদানিং তাদের তালিকায় সদালাপ সাইটও যোগ হয়েছে। আর যারা বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনীর সমালোচনা করে তারা সবাই নাকি অজ্ঞ ও ধর্মান্ধ – বিবর্তনের ব-ও বোঝে না। এমন একজন তালগাছবাদী পীরবাবা ও সবজান্তা শমসেরকে দেখুন-

১৭. বাংলা বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবর্তনবাদ পড়িয়ে ইসলামে বিশ্বাস করা মানে নীতিহীনতা ও সিরিয়াস ইন্টেলেকচুয়াল ডিজঅনেস্টি। এমনকি তাদের দাবি অনুযায়ী নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্ত পদার্থবিদ আব্দুস সালাম একজন অসৎ ও ছদ্মবিজ্ঞানী ছিলেন – যাঁর থেকে সাবধান থাকা উচিত। দেখুন-

১৮. বিবর্তনবাদী নাস্তিকরা স্রষ্টা ও ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করে বন্য পশু-পাখিদের জগৎ থেকে কিছু উদাহরণ নিয়ে এসে নৈতিকতার 'বিবর্তনীয় উৎস' খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে – যদিও গৃহপালিত পশু-পাখিদের মধ্যেই ঢের উদাহরণ আছে এবং স্বয়ং বিবর্তন তত্ত্বেরই কোনো ভিত্তি নেই। তো তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী স্রষ্টাই যদি না থাকে – মৃত্যুপরবর্তী জীবন বলেও যদি কিছু না থাকে – তাহলে নৈতিকতার উৎস খোঁজার উপর তারা এত জোর দিচ্ছে কেন? বলাই বাহুল্য, পশু-পাখিরা কিন্তু বিবর্তনবাদীদের কাছে নৈতিকতা শিখতে আসে না! তার মানে বিবর্তনবাদীরা নিজেদেরকে পশু-পাখিদের চেয়েও অধম ভাবে – যাদের নিজস্বতা বলে কিছু নেই।

১৯. বিবিসি হার্ডটক-এ ইন্টারভিউ এর সময় রিচার্ড ডকিন্স যখন সকল প্রকার ইভিলের জন্য ধর্মকে দায়ী করছিলেন তখন ইন্টারভিউয়ার তাকে থামিয়ে দিয়ে বিংশ শতাব্দীতে সংঘটিত যুদ্ধ আর গণহত্যা এবং সেই সাথে স্ট্যালিন, পলপট, মাও'দের কথা উল্লেখ করলে রিচার্ড ডকিন্স বলেন যে, স্ট্যালিন, পলপট, মাওদের মতো কম্যুনিস্টরা প্রকৃত নাস্তিক ছিলেন না! তারাও এক ধরণের ‘ধার্মিক’ ছিলেন! – যদিও কম্যুনিস্ট নাস্তিকদের কল্যাণেই অনেক দেশে নাস্তিকতা আর বিবর্তনবাদের প্রসার ঘটেছে। তবে ‘প্রকৃত নাস্তিক’ এর সংজ্ঞাও উনি বলেননি! যেমন, কেউ যদি দাবি করে রিচার্ড ডকিন্সই প্রকৃত নাস্তিক নন সেক্ষেত্রে উনি কীভাবে নিজেকে প্রকৃত নাস্তিক প্রমাণ করবেন? কী বলেন পাঠক?

২০. বিবর্তনবাদীরা মাছ থেকে কীভাবে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়েছে তার পক্ষে ‘বৈজ্ঞানিক প্রমাণ’ দেখুন। একেবারে খাসা!

২১. দুষ্ট লোকজনের দাবি অনুযায়ী বাংলা বিবর্তনবাদীরা নাকি সাদা চামড়াকে প্রচণ্ডরকম ভয় পায়। তারা নাকি শক্তের ভক্ত, নরমের যম। এই দাবির স্বপক্ষে অসংখ্য প্রমাণের মধ্যে নিচের কিছু প্রমাণ দেখানো হয়।

 

পড়ুন: বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে আমাদের লেখাগুলোর সঙ্কলন

৭ comments

Skip to comment form

  1. 6
    এস. এম. রায়হান

    বাংলা বিনোদনবাদীদের তাল্গাছবাদী পীরবাবা হোড়াস মাঙ্কির দাবি অনুযায়ী পুরুষের স্তনগ্রন্থী কোনো কাজে লাগে না -- এইটা নাকি ভেস্টিজিয়্যাল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে পড়ে। তো এই কথা শুনে আমি তার স্তনগ্রন্থী কেটে ফেলার ভালো পরামর্শ দেই এবং এ-ও বলি যে, টাকা-পয়সা যা লাগে আমি দেব। তাকে শুধু স্তনগ্রন্থী কেটে ফেলার পক্ষে প্রমাণ দেখাতে হবে। আমার এই মানবিক পরামর্শ শুনে ধন্যবাদ দেওয়া তো দূরে থাক, পীরবাবা তার তাল্গাছটা বগলে নিয়ে আমাকে উল্টোদিকে গালি দিতে দিতে সেই যে পালিয়ে গেল আর কোনো পাত্তাই পাওয়া গেল না! 😀 এর আগেও একবার তার অ্যাপেন্ডিক্স কেটে ফেলার ভালো পরামর্শ দেওয়া হলে একইভাবে তাল্গাছটা বগলে নিয়ে গালি দিয়ে পালিয়ে যাওয়া হয়! 😛 এই ধরণের পলাতক আসামীকে নিয়ে কী করা যায়, পাঠক!

  2. 5
    এস. এম. রায়হান

    বাংলা বিনোদনবাদীদের তাল্গাছবাদী পীরবাবা হোড়াস মোল্লারে কইলাম তারে ঢাকা বা টরন্টো চিড়িয়াখানায় রেখে দিয়ে আমরা বিবর্তন তত্ত্বের সত্যতা যাচাই করতে চাই। আমরা বিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা-পর্যবেক্ষণলব্ধ ফলাফলে বিশ্বাসী। এই ধরণের বৈজ্ঞানিক প্রস্তাবের জবাবে পীরবাবা তার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী তাল্গাছটা বগলে নিয়ে গালি দিতে দিতে পালিয়ে গেল! 😀

  3. 4
    ইমরান হাসান

    ডারউইন এর ফালতু natural selection বর্তমানে প্রায় অসার একটি তত্ত্ব। বর্তমানে যে তত্ত্বটি সব থেকে বেশি যৌক্তিক বলে মনে হয় তা ওয়ালেস এর Inteligent Evolution যেখানে দেখানো হয়েছে যে প্রাকৃতিক নির্বাচন নয় বরং সুদক্ষ পরিকল্পনার সাহয্যেই এই সমস্ত প্রাণীপ্রজাতি সৃষ্টি হয়েছে। কেননা এই বিবর্তনও যেন কিছু সুত্র মেনে চলে যেটা ডারউইন এর তত্ত্ব মতে পুরোপুরি অসম্ভব। এই আজগুবিকে ঢাকার জন্য কিছু বিজ্ঞানীরা বর্তমানে Rare Earth নামে এক আবাল তত্ত্ব বের করার চেষ্টা করছেন যে  আমাদের পৃথিবী খুবই ইউনিক একটা কিছু যেটা অনন্ত সম্ভাবনাকে কাটিয়ে উঠে প্রান ধারনে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু তাদের আশায় গুরে-বালি কেননা পর্যবেক্ষণে ইতোমধ্যে প্রমানিত যে পৃথিবী মোটেও ইউনিক না। বরং বহুল সম্ভাবনা আছে স্রষ্টার আরও এরকম বহু জগত বানানোর। 

  4. 3
    সরোয়ার

    @এনিমেন, কেউ যদি হাতুড়ি দিয়ে পাহাড় ভাংগে চায়, তবে সেটা নিয়ে আপনার চিন্তার কোন কারণ দেখি না। কিন্তু বিবর্তনবাদ বিষয়ে আপনাকে বেশ উদ্বিগ্ন দেখায়! বিবর্তনবাদ যে বিশ্বাসের বিষয় তা আপনার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়।

  5. 2
    এমিনেম

    আপনার কথা শুনে সেই লোকটার কথা মনে পড়ছে, যে হাতুড়ি দিয়ে পাহাড় ভাঙতে গিয়েছিল! বিবর্তনবাদ একটি কোন মতবাদ মোটেই নয়, এটি একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া, সৃষ্টিতত্ত্ব এর বিকল্প কখনই হতে পারেনা! হাজার চেষ্টা করেও কেউ বিবর্তনকে ভুল প্রমান করতে পারবেনা! কিছু মানুষ এই পৃথিবীতে এত বিভিন্নতা দেখে অবাক হয়ে যায়, আবার কিছু সংখ্যক মানুষ এত বিভিন্নতার মধ্যে একতা(ইউনিফিকেশন) খুঁজে বের করেছেন, যেমন বৈদিক যুগের ঋষি কণাদ বলেছিলেন পৃথিবীর সমস্ত বস্তই অতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, তারপর গ্রীক দার্শনিক ডিমোক্রিটাস, আধুনিক বিজ্ঞানী জন ডালটন সেটাকেই সমর্থন করেছেন, আজকে সেটা প্রমানিত হয়েছে, আবার আইনস্টাইন দেখিয়ে দিয়েছেন পদার্থ বস্ততঃ শক্তিরই জমাট বদ্ধরূপ, আবারও জীববিজ্ঞানে ভাইসম্যান, ডারউইন প্রভৃতি বিজ্ঞানীগন দেখিয়েছেন জীবজগতের এই বিভিন্নতা আসলে বিভিন্নতা না, এর মধ্যেও ইউনিফিকেশন আছে, একটি জীব আসলে এক একটি কোষের পাহাড়, যারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করে, যার ফলস্বরূপ আমাদের এই জীবদেহ! জীব আসলে সিঙ্গল সেলের বিভিন্ন রূপভেদ, তাই বিবর্তন কোন আশ্চর্যজনক ঘটনা নয়! এটি জগতের ইউনিনিফিকেশনেরই সাক্ষ্য দেয়।

    1. 2.1
      এস. এম. রায়হান

      @এমিনেম: আপনাদের জন্য এই লেখা দ্রষ্টব্য।

  6. 1
    জব্বার খান

    হা হা হা। এস. এম. রায়হান ভাই, ডারউইনবাদিরা আপনার করা প্রশ্নের কোন যৌক্তিক উত্তর দিতে না পারলেও দেখলাম আপনার নামে তালগাছবাদী নামে ফেজবুক ফ্যানপেজ খুলেছে। সেখানে দুইশ’র উপর মেম্বার। মুক্তমনায় আপনাকে নিয়ে লেখা হয়। চিন্তা করুন, আপনি কতো বড় যম তাদের কাছে! সামু, আমু, প্রথম আলো ব্লগ, টেকটিউনসে আপনার পোষ্টের কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে আবোলতাবোল গালাগালি করেও তাদের ক্ষোভ দুর হচ্ছেনা। ধন্যবাদ, রায়হান ভাই। বিবর্তনবিরোধী পোষ্টগুলো আবার বিভিন্ন ব্লগে পোষ্ট করা শুরু করুন। সবাইকে জানিয়ে দিন বিজ্ঞানের মুখোশ পরা নাস্তিকরা কতো বড় অবৈজ্ঞানিক মতবাদের অন্ধ ধারকবাহক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.