«

»

Dec ১০

মিয়ানমারে গণহত্যার কবলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী

[মূল: ড. হাবিব সিদ্দিকী

পূর্বকথা: রোহিঙ্গা সমস্যা সব সময়ই কেন যেন আমাদের দৃষ্টির আড়ালে থেকে গেছে। ইদানিং এই সমস্যা নিয়ে নানা জায়গাতে আলোচনা হচ্ছে দেখে আমারও ইচ্ছে জাগে রোহিঙ্গাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানার। সামান্য গবেষণাতেই দেখতে পাই যে ইংরেজীতে রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে অনেক ভালো লেখা থাকলেও বাংলাতে ভালো লেখার বড় অভাব। মূল লেখাটির রচয়িতা ড. হাবিব সিদ্দিকী। লেখাটি ইংরেজীতে এশিয়ান ট্রিবিউন-সহ অনেক জায়গাতেই প্রকাশিত হয় (, , )। লেখকের অনুপ্রেরণাতে তাঁর অসাধারণ লেখাটি অনুবাদের চেষ্টা করেছি এখানে। মূল লেখাটি আসে প্রায় মাসখানেক আগে – তাই এই অনুবাদটিতে দেয়া সময় রেখা পাঠকেরা সেভাবে সমন্বিত করে নেবেন আশা করি।]

 

পরিচ্ছদ ১: আরাকানের বর্তমান অবস্থা

মিয়ানমারের পশ্চিমা প্রদেশ আরাকান (রাখাইন) আবার জ্বলছে। স্বাধীন আরাকান রাজ্যের পুরোনো রাজধানী ম্রাউক-উ-তে চলছে বৌদ্ধ রাখাইনদের মিছিল। মিছিল চলছে জীপগাড়ি, মোটরসাইকেল, রিক্সা, টুক-টুক কিংবা সাইকেলে চড়ে – কিন্তু সবচেয়ে বেশী লোক চলছে পায়ে হেঁটেই। তাদের সাথে আছে বর্শা, তরবারী, ধামা, বাঁশ, গুলতি, তীর-ধনুক এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে পেট্রোল বোমাও। তাদের লক্ষ্য – নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী। ঐ মিছিলেই জনৈক বৌদ্ধ সন্ত্রাসীকে গলা-কাটার মতো ভয়াবহ ইশারা-ইঙ্গিত করতে দেখা যায় (যুক্তরাজ্যের দি ইকনমিস্ট; ৩-রা নভেম্বর, ২০১২)।

দুঃখের বিষয় এই যে ম্রাউক-উ’ই একমাত্র শহর নয় যেখানে রোহিঙ্গা মুসলিমরা পরিকল্পিত গণহত্যার মুখোমুখি। মিয়ানমারের ভেতর থেকে পাওয়া খবর থেকে জানা যাচ্ছে যে স্থানীয় সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার, পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর মদদে রাখাইন বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিত ভাবে প্রতিটি রোহিঙ্গাকে বার্মা (মিয়ানমার) থেকে বের করে দেয়ার অভিপ্রায়ে গণহত্যার উন্মাদনায় মেতে উঠেছে। এই নির্মূলাভিযান এমনই ভয়াবহ ও নৃশংস যে, পরিকল্পিত হিংস্রতা লুকিয়ে রাখার স্বগত প্রবণতা থাকা বর্মী রাষ্ট্রপতিও শুক্রবার, ২৬-শে অক্টোবর, স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ৮টি মসজিদ সহ ২০০০ রোহিঙ্গার ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে (সূত্র: বার্মিজ সরকারপন্থী পত্রিকা, the New Light of Myanmar)। এই সপ্তাহে তার মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, “রাখাইন প্রদেশে পুরো গ্রাম কিংবা আংশিক নগর পুড়ে ভস্মীভুত হবার মতো ঘটনা ঘটেছে।” বলার অপেক্ষা রাখেনা যে আসল সংখ্যা ও বাস্তবতা আরো অনেক ভয়াবহ।

   

চিত্র ১: বার্মার বিভিন্ন শহরে রোহিঙ্গাদের বার্মা থেকে বের করে দেয়ার দাবীতে বৌদ্ধ জনতা ও ভিক্ষুদের মিছিল।

আশংকা করা হচ্ছে যে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ৫০০০ রোহিঙ্গার বসতি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) থেকে তোলা ছবিতে সমুদ্র উপকূলবর্তী শহর চিয়াউকফুর (Kyaukphyu) মুসলিম অধ্যুষিত অংশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ দেখা যায় (, )। এই শহর থেকেই তেল ও গ্যাসের পাইপ-লাইন বার্মা থেকে চীনে যাবার কথা। সাম্প্রতিক এই গণহত্যার আগ্রাসনের সময় মুসলিম অধ্যুষিত গ্রাম ও শহরাংশে তাদের আঁটকে রেখে আগুনের গোলা ছোঁড়া হয়। মৃত্যু আতংকে পালাতে চেষ্টা করা মুসলিমদের উপর রাখাইন বৌদ্ধ সন্ত্রাসী ও সরকারের মধ্যে তাদের পৃষ্ঠপোষকরা চালায় নির্বিচার গুলিবর্ষণ। বর্ণবাদী রাখাইন রাজনীতিবিদ ও ভিক্ষুরা দিনে দিনে সেখানে গড়ে তুলছে বর্ণ ও ধর্মের ঘৃণার পরিবেশ, যাতে নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সব ধরণের সহিংসতাকে অনুমোদন দেয়া যায়। অনেক রোহিঙ্গা তাই প্রাণভয়ে পালাচ্ছে সাগরে কিংবা জঙ্গলে। কিন্তু হায়! সেখানেও রক্ষা নেই। গত সপ্তাহে শতাধিক রোহিঙ্গার সলিল সমাধি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। অনেকে বাধ্য হয়ে পালিয়ে গেছেন বাংলাদেশে। ধরা পড়ে অনেককেই যেতে হচ্ছে সিত্তেওয়ের মানবতের জঘণ্য ক্যাম্পগুলোতে, যেখানে জুন মাস থেকেই আঁটকে আছে আরো অনেক রোহিঙ্গা ভুক্তভোগী। ঐদিকে রাখাইন সন্ত্রাসীরা আবার ডজন ডজন রোহিঙ্গা মেয়েদের তুলে নিয়ে করছে ধর্ষণ – আর সেইসাথে চারিদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে যুদ্ধের বিভীষিকা ( , )।

চিত্র ২: রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ী ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় রাখাইন সন্ত্রাসীরা।

এটা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেয়ারই তৎপরতা। ২৫-শে অক্টবরের এক ইস্তেহারে মিয়ানমারে অবস্থিত জাতিসংঘের কর্মকর্তা অশোক নিগম বলেন, “জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের নির্বাসন ও ধংসযজ্ঞের ব্যাপারে শংকিত।” তিনি বলেন ক্ষতিগ্রস্ত সকল জনগোষ্ঠীর কাছে নিরাপদ প্রবেশাধিকার অপরিহার্য; এবং সে লক্ষ্যে তিনি সরকারের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত সবার কাছে দ্রুত ও শর্তহীনভাবে পৌঁছবার মানবিক আবেদন জানান।

আমার আগের নানা লেখা ও বক্তব্যে আমি উল্লেখ করেছিলাম যে মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে করা জঘন্য অপরাধগুলো লুকিয়ে রাখতে চায়, সেজন্যে তারা আন্তর্জাতিক মিডিয়া, এনজিও, সাহায্য সংস্থা এমনকি জাতিসংঘকেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতে প্রবেশাধিকার দেয়না – পাছে তারা বর্বরতার মাত্রা বুঝে ফেলে। আর যেহেতু রোহিঙ্গাদের সার্বিক নির্মূল রাষ্ট্রীয় নীতিরই অংশ, তাই মুসলিম ভুক্তভোগীদের জন্যে মিয়ানমারের সরকারী সংস্থাগুলো থেকে কোনো সাহায্যই পৌঁছেনা। আরো জঘন্য বিষয় হচ্ছে এই যে, ও.আই.সি কিংবা ইসলামিক রিলিফ থেকে পাঠানো ত্রাণসামগ্রীও প্রাপক রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছেনি। হিসেবে দেখা গেছে, পাঠানো ত্রাণসামগ্রীর ১০ শতাংশেরও কম ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছেছে। রাষ্ট্র-আয়োজিত অক্টোবরের রাখাইন সন্ত্রাসী ও ভিক্ষুদের প্রতিবাদ সভাকে ধন্যবাদ দিতেই হয়; কেননা, সেই অযুহাত দেখিয়েই মিয়ানমার সরকার ও.আই.সি-সহ অন্যান্য মুসলিম সাহায্য সংস্থাকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে ত্রাণ কার্যালয় খুলতে দেয়নি।

চিত্র ৩: অহিংস বৌদ্ধ ভিক্ষুদের অহিংসার প্রকাশ। ও.আই.সি'র কোনো রকমের উপস্থিতি ভিক্ষুরা মিয়ানমারে চাননা – এমনকি দূর্যোগপূর্ণ স্থানে তাদের ত্রাণ তৎপরতা চালানোও।

মুসলিমদের ভয়াবহ হত্যার জন্যে একজন বৌদ্ধ সন্ত্রাসীকেও শাস্তি দেয়া হয়নি। থেইন সেইনের সরকার থেকে আমরা কেবল সহিংসতার হোতাদের চিহ্নিত করা ও তাদের বিচারের আওতায় আনার ফাঁকা বুলি শুনেছি। কিন্তু এসব প্রতিজ্ঞা কখনো ন্যায়বিচারে পর্যবসিত হয়না, যেমনটা আমরা দেখেছি ৩-রা জুনে ১০ বর্মী মুসলিমদের বিনা বিচারে মেরে ফেলার ঘটনায়। এই যখন বাস্তবতা – তখন সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের জান-মাল রক্ষার কথা না হয় বাদই দিলাম।

বুঝতে কষ্ট হয়না যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে থেইন সেইনের সরকার ইঁদুর-বিড়াল খেলা খেলছে; একদিকে যেমন উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি থেকে অপরাধগুলোকে আর লুকিয়ে রাখা যায়না তখন তারা সবাইকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়া শান্ত করে – আর অন্যদিকে যখন বহির্শক্তির চাপ কিছুটা কমে আসে, সাথে সাথেই বেড়ে যায় জঘন্য অপরাধগুলোর মাত্রা। তাই ৩-রা জুনে শুরু হওয়া সংঘবদ্ধ হত্যা ও নির্যাতনের ফলে সৃষ্ট এক লক্ষ আভ্যন্তরীন শরণার্থীর সাথে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসের ফলে আরো কয়েক অযুত বাস্তুহারা শরণার্থী যোগ দিলে সার্বিক অবস্থার অবনতি ঘটে অনেকখানি। এক সময়ের সমৃদ্ধ মুসলিম জনপদ এখন যেন বোমার আঘাতে ধ্বংস হওয়া অঞ্চল! কোনো রোহিঙ্গাকেই তাদের এলাকাতে ফিরে গিয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি পূনর্গঠন করতে দেয়া হয়নি। নাৎসি কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পের আদলে গড়ে ওঠা ক্যাম্পে তাদের আঁটকে রাখা হয়েছে। ঐ বীভৎস ছাউনিগুলো থেকে বের হয়ে জীবিকা আহরণের চেষ্টা করলে রাখাইন বৌদ্ধ নিরাপত্তা রক্ষীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হবার সমূহ ঝুঁকি থাকে। ঐ ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের রাখা হয়েছে যাতে তারা ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

 চিত্র ৪: শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের দূর্বিষহ জীবন।

নিরস্ত্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ভীত-সন্ত্রস্ত রাখা যেন রাখাইনদের জাতীয় চেতনাতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তরক্ষীরা (NASAKA) বারংবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে আরাকান হচ্ছে রাখাইন রাজ্য – যেখানে রোহিঙ্গা মুসলিমদের কোনো স্থান নেই। রোহিঙ্গাদের বলা হয় তারা যেন আরাকান থেকে চলে যায়, না হলে তাদের মেরে ফেলা হবে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ভীত-সন্ত্রস্ত করে নির্মূল করার তালিকায় একে একে যুক্ত হচ্ছে মুসলিম অধ্যুষিত জনপদগুলো। পাঁচের বেশী লোকের সমাবেশ ঘটানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা ১৪৪ ধারা কেবল রোহিঙ্গাদের উপরই প্রয়োগ করা হয়। নিরাপত্তারক্ষীদের আশীর্বাদ পওয়া রাখাইন সন্ত্রাসীদের হাতে ঘর-বাড়ী, দোকান-পাট, মসজিদ, স্কুল কিংবা গ্রাম লুট হওয়া অগ্নিদগ্ধ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতেও বাইরে যেতে পারেনা রোহিঙ্গারা।

 

চিত্র ৫: জ্বলছে রোহিঙ্গাদের বসত বাড়ি ও জন…

বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী রাখাইনরা সরকারের সহযোগিতা পায়। চিয়াউকফু শহরের ক্ষেত্রে এমনও দেখা গেছে যে, বৌদ্ধ অগ্নি-নির্বাপক দল পানির বদলে আগুনের উপর জ্বালানী ছিটিয়েছে, যাতে ধ্বংসলীলা সম্পূর্ণ হয়! পিট প্যাটিসন নামের একজন স্থানীয় শিক্ষক, যিনি যুক্তরাজ্যের ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার জন্যেও কাজ করে থাকেন বলেন,

দমকলের বাহিনীর লোকজন আগুনের উপর আদতে ঢেলেছে পেট্রোল – কিন্তু ভান দেখাচ্ছে যেন তারা পানি ছিটাচ্ছে! কর্তৃপক্ষ আসলেই একপেশে। আমরা তাদের বিশ্বাস করতে পারিনা।

গত বুধবার চিয়াউকফু শহরের তাবৎ মুসলিম জনগোষ্ঠী হত্যা কিংবা জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা পড়ার হাত থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্যে অন্যদের মতো মাছ ধরার নৌকাতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পাউক-ত শহরের প্রাক্তন মুসলিম অধিবাসীরা ইন্ডিপেন্ডেন্টকে জানান যে, সরকারী এক ফেরীযান সাগরে পালিয়ে আসা লোকদের মাছ ধরার নৌকাতে ধাক্কা মারে – ফলে ডুবে মারা যায় কয়েক ডজন লোক। আর যারা সেই যাত্রা বেঁচে গিয়ে কোনোমতে উপকূলে আসতে পেরেছে, তাদের সরকারী কর্তৃপক্ষ আর মাটিতে নামতে দেয়নি।

  

চিত্র ৬: প্রাণভয়ে সাগরপথে পালাচ্ছে রোহিঙ্গারা। এমনি এক নৌকাকে মিয়ানমার সরকারের এক ফেরীযান সাগরে গিয়ে ধাক্কা মারলে কয়েক ডজন রোহিঙ্গার সলিল সমাধি হয় বঙ্গোপসাগরে।

সপ্তাহান্তে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কর্তৃক প্রকাশিত উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে চিয়াউকফু ও পার্শ্ববর্তী উপকূল অঞ্চলের ধ্বংসের চিহ্ন স্পষ্ট। অজস্র ঘরবাড়ি আর অসংখ্য নোঙ্গর করা বজরা আর নৌকার শহর আজ যেন পোড়ো ধ্বংসস্তুপ – যার মধ্যে আছে পুরোপুরি ধ্বংস হওয়া ৮১১টি বাড়ীসহ অন্যান্য স্থাপনা।

চিত্র ৭: চিয়াউকফু শহরে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল রাখাইন সন্ত্রাসীরা আগুন জ্বালিয়ে ভস্মীভুত করে ফেলে। অজস্র ঘরবাড়ি আর অসংখ্য নোঙ্গর করা বজরা আর নৌকার শহর আজ যেন পোড়ো ধ্বংসস্তুপ।   

যদিও সাম্প্রতিক ঘটনাতেগুলোতে মুসলিমরা একতরফা ভুক্তভোগী – থেইন সেইন সরকার একে রাখাইন রাজ্যের আন্তঃগোত্রীয় দাঙ্গা বলে চিত্রায়িত করতে সচেষ্ট। সাদামাটা অর্থে যা হচ্ছে তা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ রাখাইনদের দ্বারা হত্যা-সহ ভয় ভীতির উদ্রেক করে মুসলিম রোহিঙ্গাদের বার্মার আরাকান অঞ্চল থেকে উৎখাতের উদ্দেশ্যমূলক সরকারী পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুসারে এই কাজগুলোকেই বলে নৃতাত্ত্বিক বিনাশ (ethnic cleansing)। রক্তপিপাসু এই সরকার কিংবা ঘরে ও বাইরে সরকারের কোনো সমর্থকই ছল-চাতুরী করে এমন ভয়াবহ অপরাধ লুকিয়ে রাখতে পারবেনা।

 

পরিচ্ছদ ২: মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নৃতাত্ত্বিক বিনাশ (Ethnic Cleansing)

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক বিনাশ আসলে পূর্ব-পরিকল্পিত বিষয় (text book case)। বিষয়টি বর্মী ও রাখাইন বৌদ্ধদের আশীর্বাদে রাখাইন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বর্মী সরকারের হাতে গড়ে ওঠা জাতীয় পরিকল্পনার অংশ – যেখানে সরকার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিয়ে থাকে। স্থানীয় রাখাইন রাজনীতিক থেকে শুরু করে বৌদ্ধ সাধু-সন্ত ও জনতা-সহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রযন্ত্রের সবাই রোহিঙ্গা সমস্যার শেষ সমাধান দেয়ার এই পরিকল্পনার উৎসুক অংশীদার।

তাই থেইন সেইন সরকারের রোহিঙ্গা উৎখাতের পরিকল্পনাকে সমর্থন করা তরুন সাধু সঙ্ঘের (Young Monks Association) বিক্ষোভ সভাতে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের দেখে অবাক হতে হয়না। সবচাইতে বড় এমনই এক বিক্ষোভ সভাতে সভাপতিত্ব করতে দেখা গেছে উইরাথু () নামের পরম-পূজনীয় এক বৌদ্ধ শিক্ষককে। সে হচ্ছে সেই অপরাধী যে ২০০৩ সালে মুসলিমদের বিরুদ্ধে দাঙ্গার প্ররোচনা দেবার জন্যে জেলে গিয়েছে। তাই অবাক হবার কিছু নেই যে আং সান সু চি আজ প্রতারণামূলক অঙ্গীকার করছেন – যেখানে তার দল NLD আসলে রোহিঙ্গা নির্মূলের রাষ্ট্রীয় অভিযানের অন্যতম সমর্থক। ‘গণতন্ত্র’র প্রতীক বলে পরিচিত এমন অনেক নেতাই আজ ফ্যাসিবাদের চাইতে কতটা ভালো তার প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন – সত্যি বলতে কি, তাদের কাজকর্ম আদতে কু ক্লাক্স ক্ল্যান (KKK) সদস্যদের চেয়েও জঘন্য বলেই প্রমাণিত হয়েছে।

এই নির্মূল অভিযানের সবচাইতে ভয়ানক অংশ হচ্ছে রাখাইন বৌদ্ধরা, যাদের পূর্বপুরুষেরা একাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আরাকানে বসতি স্থাপন করে। অবশ্য আরো শতাধিক বছর আগেই হিন্দু সাম্রাজ্য চন্দ্র’দের শাসনামলে অপেক্ষাকৃত শ্যামলা বর্ণের রোহিঙ্গাদের বংগ-ভারতীয় পূর্বপুরুষেরা আরাকানে ইতোমধ্যেই বসবাস শুরু করে দিয়েছে। চন্দ্র রাজাদের তৎকালীন বাংলার (বর্তমানের বাংলাদেশ) সাথে ছিল ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ।

রাখাইন জাতির সেই তিব্বতীয়-বর্মী বৌদ্ধ পূর্বপুরুষদের অনধিকার ও সহিংস প্রবেশের ফলে আরাকানে বসবাসকারী হিন্দু ও মুসলিমরা কালক্রমে সংখ্যালঘু হয়ে যায়। কিন্তু ১৪৩০ সালে প্রায় ৫০,০০০ সদস্যের দু’টি সৈন্যদল পলায়নরত রাজা নারামেইখলা’কে যখন আরাকান রাজ্যে পুনঃঅধিষ্ঠিত করে তখন সেই সৈন্যদলের অনেককেই আরাকানে থেকে যেতে রাজা অনুরোধ করেন (); উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বর্মী আক্রমণ প্রতিহত করা। মুসলিম সেনাদলের অনেকেই নতুন রাজধানী ম্রোহাংগ (ম্রাউক-উ)-এ থেকে গেলে, সংখ্যালঘু মুসলিমদের সংখ্যা আরাকানে কিছুটা বাড়ে।

আরাকানের ম্রাউক-উ সাম্রাজ্য পার্শ্ববর্তী বাংলা/ভারত অঞ্চল থেকে অনেক আচার, কৃষ্টি গ্রহণ করে। তারা ইসলামী অভিলিখনে মুদ্রাও বাজারে ছাড়েন। তারা বাংলা সাহিত্যকে পৃষ্ঠপোষকতাও দেন। তারা মুসলিম নামও অধিগ্রহণ করেন, যে রীতি ষোড়শ শতাব্দীর প্রায় শেষভাগ পর্যন্ত চলে। বৈচিত্র্যপূর্ণ নৃ ও জাতিগোষ্ঠীর সমাহারে সাজানো এই সাম্রাজ্যে মুসলিমরা প্রশাসন, আদালত ও প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বিশেষ অবদান রাখে। ১৭৮৪ সালের বর্মী রাজা বোদোপায়ার অধিগ্রহণের আগ পর্যন্ত প্রায় কয়েক শতাব্দী ধরেই এই বিচিত্র ও অনন্য রাজ্য ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন।

বোদোপায়া ছিলেন উগ্রপন্থী বৌদ্ধ, যিনি মুসলিম সম্পর্কিত সবকিছুই ধ্বংস করে ফেলতে চাইতেন। ধর্মীয় সৌহার্দপূর্ণ অঞ্চলে তিনি সংকীর্ণতাবাদী সাম্প্রদায়িকতার প্রচলন করেছিলেন। আরাকানের সৈকত জুড়ে থাকা মসজিদগুলোকে ধ্বংস করে তিনি সেখনে প্যাগোড়া ও বৌদ্ধ আশ্রম গড়ে তোলেন। আরাকান অধিগ্রহণের সময় তিনি কয়েক অযুত মুসলিমকে মারা ছাড়াও প্রায় ২০,০০০ মুসলিমকে বন্দী করে নিয়েছিলেন। তার নৃশংস রাজত্বকালে প্রায় দুই লক্ষ আরাকানবাসী পার্শ্ববর্তী ব্রিটিশ শাসিত বাংলায় (আজকের বাংলাদেশ) পালিয়ে যায়। প্রায় ৪০-বছর বর্মী শাসনের পরে (১৯৮৪-১৮২৪) আরাকান ইংরেজ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর অধীনে আসে। ইংরেজরা ৪-ঠা জানুয়ারী ১৯৪৮ সালের বার্মার স্বাধীনতা পর্যন্ত এই আরাকান অঞ্চল শাসন করে (, Aye Chan (2005))।

চিত্র ৮: বৌদ্ধ রাজা বোদোপায়া’র মুসলিম নির্মূলাভিযানের ২০০ বছর পরেও নির্যাতনের পরম্পরা চলছে। আরাকান থেকে পালাবার চেষ্টায় সাগরে ভাসছে রোহিঙ্গারা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বার্মা অধিগ্রহণের প্রাক্কালে বৌদ্ধ যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদী রাজকীয় জাপানী সেনাবাহিনীর পক্ষে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং ভারতীয় ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ী ও ব্যাবসাদির উপর হামলে পড়ে। এমনকি পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও এই নির্মূলাভিযান থেকে রেহাই পায়নি। প্রায় এক লক্ষ রোহিঙ্গা ঐ বৌদ্ধ-জাপানী যৌথ অভিযানে প্রাণ হরান। রোহিঙ্গাদের তখন দক্ষিণ আরাকান থেকে বের করে দেয়া হয়। অনেকেই তখন ব্রিটিশ বাংলার প্রতিবেশী উত্তর আরাকান অঞ্চলে পালিয়ে বাঁচেন, কেননা সেখানে তখনো রোহিঙ্গাদের নিগূঢ় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। জীবন বাঁচাতে গিয়ে আরো প্রায় ৮০ হাজার তখন সীমান্ত পেরিয়ে স্থায়ীভাবে বাংলায় বসবাস শুরু করে দেয়। সে সময় ২৯৪টি রোহিঙ্গা গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় (, )।

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে বার্মা স্বাধীন হবার পরেও রোহিঙ্গা-সহ অন্যান্য মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত গণহত্যা ও নৃশংসতা চলতেই থাকে। নৃতাত্ত্বিক বিনাশের লক্ষ্যে আমার জানা মতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিদেনপক্ষে দুই ডজন অভিযান চালানো হয়, সেগুলো হচ্ছে:

১. সামরিক অভিযান (৫ম বর্মী রেজিমেন্ট) – নভেম্বর ১৯৪৮

২. বার্মা টেরিটোরিয়াল ফোর্স (BTF) এর অভিযান – ১৯৪৮-৫০

৩. সামরিক অভিযান (দ্বিতীয় জরুরী ছিন রেজিমেন্ট) – নভেম্বর ১৯৪৮

৪. মাউ অভিযান – অক্টোবর ১৯৫২-৫৩

৫. মনে-থোন অভিযান – অক্টোবর ১৯৫৪

৬. সমন্বিত অভিবাসন ও সামরিক যৌথ অভিযান – জানুয়ারী ১৯৫৫

৭. ইউনিয়ন মিলিটারি পুলিস (UMP) অভিযান – ১৯৫৫-৫৮

৮. ক্যাপ্টেন হটিন কিয়াও অভিযান – ১৯৫৯

৯. শোয়ে কি অভিযান – অক্টোবর ১৯৬৬

১০. কি গান অভিযান – অক্টোবর-ডিসেম্বর ১৯৬৬

১১. ঙ্গাজিঙ্কা অভিযান – ১৯৬৭-৬৯

১২. মিয়াট মোন অভিযান – ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯-৭১

১৩. মেজর অং থান অভিযান – ১৯৭৩

১৪. সাবি অভিযান – ফেব্রুয়ারী ১৯৭৪-৭৮

১৫. নাগা মিন (ড্রাগন রাজা) অভিযান – ফেব্রুয়ারী ১৯৭৮-৭৯ (ফলাফল: ৩ লক্ষ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অভিনিষ্ক্রমণ (exodus); মৃত্যু চল্লিশ হাজার)

১৬. সোয়ে হিন্থা অভিযান – অগাস্ট ১৯৭৮-৮০

১৭. গেলোন অভিযান – ১৯৭৯

১৮. ১৯৮৪’র তাউঙ্গকের গণহত্যা

১৯. মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা – তাউঙ্গি (পশ্চিম বার্মা)। পিয়াই ও রেঙ্গুন সহ বার্মার অনেক অঞ্চলে এই দাঙ্গা ঘটে।

২০. পি থিয়া অভিযান – জুলাই ১৯৯১-৯২ (ফলাফল: দুই লক্ষ আটষট্টি হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অভিনিষ্ক্রমণ (exodus))

২১. না-সা-কা অভিযান – ১৯৯২ থেকে আজ পর্যন্ত

২২. মুসলিম বিরোধী সাস্প্রদায়িক দাঙ্গা – মার্চ ১৯৯৭ (মান্দালয়)

২৩. সিটীওয়ে’তে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা – ফেব্রুয়ারী ২০০১

২৪. মধ্য বার্মার মুসলিম বিরোধী সর্বাঙ্গীন দাঙ্গা – মে ২০০১

২৫. মধ্য বার্মার মুসলিম বিরোধী সর্বাঙ্গীন দাঙ্গা (বিশেষত পিয়াই/প্রোম, বাগো/পেগু শহরে) – ৯/১১ এর পরবর্তী থেকে অক্টোবর ২০০১

২৬. যৌথ নির্মূলাভিযান – জুন ২০১২ থেকে চলছে

জেনারেল নে উইন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সকল মিয়ানমার সরকারই মৌলিক মানবাধিকার বন্ধ রেখে রোহিঙ্গাদের সার্বিক নৃতাত্ত্বিক বিনাশে খেলায় মত্ত। রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রবিহীন ঘোষণা করতঃ – তাদের বিরুদ্ধে করা সব ধরণের অপরাধকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের কোনো অনুচ্ছেদই মানা হচ্ছেনা। এখানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘটা অপরাধগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকা দেয়া হলো:

নাগরিকত্ব অস্বীকার

সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত ভ্রমণ ও চলাচল

নিয়ন্ত্রিত ও সীমিত শিক্ষা

সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত কাজের অধিকার

জবরদস্তিমূলক শ্রমনিয়োগ

ভূমি অধিগ্রহণ

জবরদস্তিমূলক উচ্ছেদ

ঘরবাড়ী, অফিস, স্কুল, মসজিদ ইত্যাদির ধ্বংস সাধন

ধর্মীয় যন্ত্রণা দান

জাতিগত বৈষম্যমূলক আচরণ

নিয়ন্ত্রিত বিয়ে

প্রজননে বাধাপ্রদান ও জোরপূর্বক গর্ভনাশ

স্বেচ্ছাচারী কর আরোপ ও বলপ্রয়োগে কর আদায়

গবাদি পশু-সহ পরিবারের সদস্যদের জবরদস্তিমূলক জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধকরণ

স্বৈরাচারী মনোভাবসূলভ গ্রেফতার, নিবর্তন ও আইন বহির্ভূতভাবে হত্যা

রোহিঙ্গা মহিলা ও বয়ষ্কদের অবমাননা ও অমর্যাদা

যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণের প্রয়োগ

রোহিঙ্গা সমৃদ্ধ লোকালয়ের প্রণালীবদ্ধ উচ্ছেদ

অভিবাসন ও নাগরিকত্ব কার্ড বাজেয়াপ্তকরণ

আভ্যন্তরীণ শরনার্থী ও রাষ্ট্রহীনতা

মুসলিম পরিচিতি মুছে ফেলার লক্ষ্যে মুসলিম ঐতিহ্য সমৃদ্ধ স্থান ও প্রতীকের ধ্বংস কিংবা পরিবর্তন

 

পরিচ্ছদ ৩: আরাকান – এ যেন আরেক বসনিয়া!

তের-ই অক্টোবরে লন্ডনের ৩০ মাইল উত্তরের লুটন শহরে অনুষ্ঠিত এক সভায় (যেখানে আমাকে রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে বক্তৃতা দেবার জন্যে আমন্ত্রিত করা হয়েছিল) জনৈক ব্রিটিশ এমপি রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থাকে ৯০ দশকের প্রাকভাগে বসনীয় মুসলিমদের ভাগ্যে যা ঘটেছিল তার সাথে তুলনা করেছিলেন। উনি ঠিকই বলেছেন।

ড. শুয়ে লু মং ওরফে শাহনেওয়াজ খান তার লেখা The Price of Silence: Muslim-Buddhist War of Bangladesh and Myanmar – a Social Darwinist’s Analysis বইতে জানাচ্ছেন যে আরাকান রাজ্যের চারটি জেলাতে রোহিঙ্গা মুসলিম ও রাখাইন বৌদ্ধদের সংখ্যিক অনুপাত প্রায় সমানই ছিল – কিন্তু তেশরা জুন, ২০১২ থেকে শুরু হওয়া রাখাইন বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের নির্মূলাভিযানের কল্যাণে সেসব মুসলিম জনবসতি এখন প্রায় জনশূণ্য।

জাতিসংঘ সহ অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা রোহিঙ্গাদের ব্যপারে সঠিকই বলেছেন – রোহিঙ্গারা পৃথিবীর সবচাইতে বড় নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। তাদের গোত্র ও ধর্মের জন্যে তারা মিয়ানমারের সংখ্যা গরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায় দ্বারা গণহত্যার বলি হচ্ছেন।

চিত্র ৯: জাতিসংঘ-সহ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতামত অনুসারে রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে অসহায় ও নির্যাতিত জাতি।

রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থাকে ঠিকভাবে প্রকাশ করার জন্য গণহত্যা ছাড়া আর কোনো শব্দ আছে বলে মনে হয়না। এক্ষেত্রে গণহত্যা শব্দের ব্যবহারে কারো অবাক হবার কিছু নেই, কেননা মিরিয়াম ওয়েবস্টার অভিধানে গণহত্যাকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, “ইচ্ছাপ্রনোদিত ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কোনো নৃ, জাতি কিংবা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর নির্মূল অভিযান [the deliberate and systematic destruction of a racial, political or cultural group]।" সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞরা বলছেন, হোক সার্বিক কিংবা আংশিক – নৃ, জাতি, ধর্ম কিংবা রাষ্ট্রিক গোষ্ঠীর নিয়মতান্ত্রিক নির্মূলাভিযান থাকলেই গণহত্যা’র সংজ্ঞা প্রাসঙ্গিকই থাকে। আর যেকোনো সংজ্ঞা অনুসারেই আরাকানের রোহিঙ্গারা নৃ, জাতি ও ধার্মিক আঙ্গিকে সংখ্যাগুরু রাখাইন বৌদ্ধ বর্মীদের চাইতে পুরোপুরি আলাদা।

ড. ড্যানিয়েল জোনাহ গোল্ডহ্যাগেন তার লেখা Worse than War বইতে পাঁচ ধরণের উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার কথা বলেছেন, সেগুলো হচ্ছে –পরিবর্তন, নিবর্তন, বিতাড়ন, জন্মনিরোধ ও সর্বাংশে নির্মূল। এখানে পরিবর্তন বলতে বোঝানো হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি-সহ সকল মৌলিক পরিচিতিগুলোকে ধীরে ধীরে পাল্টে দেয়া। আগে আমি যেভাবে বললাম, যদিও আরাকানে রোহিঙ্গাদের ইতিহাস স্মরণাতীত কালেই পৌঁছে – তবুও তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে আসা নব্য বসতকারী গোষ্ঠী হিসেবে নতুন মিথ্যে পরিচিতি দেয়া হচ্ছে।      

নিবর্তন হচ্ছে সেই পদ্ধতি যার মাধ্যমে ঘৃণিত, অননুমোদিত ও ভয়ঙ্কর মানুষদের নিজেদের কব্জায় রেখে তাদের উপর সহিংস দমননীতি চালানো যাতে সেই ভয়ানক জনগোষ্ঠী আসল কিংবা কল্পিত কোনও রকমের ক্ষতিই আর করতে না পারে। নিবর্তন মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জীবনের প্রাত্যহিক বৈশিষ্ট্য।

বিতাড়ন কিংবা বিবাসন হচ্ছে তৃতীয় উচ্ছেদের উপায়। বিতাড়নের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত জনগোষ্ঠীকে হয় দেশের সীমানার বাইরে কিংবা দেশের মধ্যেই এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে তাড়িয়ে দেয়া হয়। বিতাড়নের আরেকটি উপায় অবশ্য হচ্ছে জনগোষ্ঠীকে স্বদলবলে ক্যাম্পের জীবন বেছে নিতে বাধ্য করা। আর নে উইনের আমল থেকেই মিয়ানমার সরকার এই দোষে দোষী।    

উচ্ছেদের চতুর্থ উপায় হচ্ছে জন্ম নিরোধ যা মিয়ানমার সরকার অন্যান্য উপায়গুলোর সাথে ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে রোহিঙ্গা মেয়েদের বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ছাড়াও ব্যবহার করা হয় জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ, গর্ভপাত ও ধর্ষণ। হালে ঘটা নিবর্তনে মুসলিমদের ঘরবাড়ি, শহর ও লোকালয় আক্রমণের সময় অনেক মেয়েদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া বলতে গেলে নৈমিত্তিক ঘটনাতে পরিণত হয়েছে।    

সর্বাংশে নির্মূল হচ্ছে উচ্ছেদের পঞ্চম উপায় যেখানে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে মেরেই ফেলা হয়। সর্বাংশে নির্মূলের ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে এমন কারণও দেয়া হয় যে উল্লেখ্য গোষ্ঠীর সামান্য উপস্থিতিই যেন অন্যদের জন্য ভয়ানক হুমকির ব্যপার। এই পদ্ধতিতে সাময়িক, খণ্ডকালীন কিংবা সম্ভাব্য সমাধানের বদলে দেয়া হয় “চিরস্থায়ী সমাধান।” বুঝতে কষ্ট হয়না যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কেন রাখাইন ব্যবসায়ীরা রোহিঙ্গাদের মেরে ফেলার জন্যে বিষাক্ত তেল ও খাদ্যাদি বিক্রী করেছে। বর্ণবাদী বৌদ্ধ ভিক্ষু, রাখাইন সন্ত্রাসী, রক্তপিপাসু রাজনীতিবিদ ও সরকারের সাম্প্রতিক কার্যকলাপে এটা পরিষ্কার যে সার্বিক মিয়ানমার সমাজে রোহিঙ্গারা নির্মূলাভিযানের শিকার।

চিত্র ১০: কী ভিক্ষু কী বৌদ্ধ জনতা – রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি থেকে বের করে দিতে প্রায় সকল শান্তিপ্রিয় বৌদ্ধ আজ সংকল্পবদ্ধ।

উপরে দেয়া মিয়ানমার সরকারের অপরাধ তালিকা থেকে এটা পরিষ্কার যে রোহিঙ্গারা উল্লেখিত পাঁচ ধরণের উচ্ছেদেরই শিকার। এটা আদতে রোহিঙ্গা নির্মূলের একটি সার্বিক পরিকল্পনা।

গণহত্যার জন্য প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক। এটা শুরু হয় মানুষের মন থেকে, আর এজন্যে দরকার ব্যপক প্রচারাভিযান যাতে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ কাজগুলো করা যায়। এক্ষেত্রে অপরাধ কিংবা হত্যাকারীদের নিঃশঙ্ক তো হতেই হবে, বরং তার উপরে বিশ্রী অপরাধগুলো চালিয়ে যাবার জন্য হতে হবে স্ব-প্রণোদিত অন্ধ সমর্থক। অনেক ক্ষেত্রেই, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আবহ তৈরীর দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া হয় অন্ধ বর্ণবাদী বুদ্ধিজীবীদের উপর, যারা আম-জনতাকে অসহিষ্ণুতার বিষাক্ত বড়ি বিক্রী করেন। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের বিদ্বেষী মানসিকতাসম্পন্ন হওয়া কঠিন। তবে, উৎসাহী ও উদ্যমী শব্দমালা দিয়ে একবার চালু করে দেয়া গেলে, উচ্ছেদকারী সরকারের অভিঘাতী সৈন্যদল ও সমাজের সাধারণ জনগণ সার্বাঙ্গীন উন্মাদনা নিয়ে দায়িত্ব পালনে দেহ প্রাণ সঁপে দেয়। তারা স্বপ্রনোদিত হয়েই তা করে। আর আজকে মিয়ানমারে, বিশেষত আরাকানে তা-ই আমরা দেখছি।

গণহত্যা আর যেসব জায়গাতে ঘটেছে সেখান থেকে দীক্ষা নিয়ে আজকের সবচেয়ে বড় অপরাধের হোতারা – অর্থাৎ, মিয়ানমার সরকার, স্থানীয় রাখাইন রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী ও বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সাধারণ জনতার মস্তক ধোলাইকল্পে রোহিঙ্গা-সহ অ-বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে অহর্নিশি বিকৃত ইতিহাস দিয়ে চালাচ্ছে প্রোপাগাণ্ডা ও প্রাতারণা – উদ্দেশ্য হচ্ছে মিয়ানমার ও আরাকানের মাটিকে ‘অন্য’ লোকদের থেকে দখলমুক্ত করে ‘পবিত্র’ করা। আয়ে চ্যান, (বিগত) আয়ে কিয়াও, খিন মং স ও অন্যান্য উৎকট স্বদেশপ্রেমী রাখাইন লেখকদের বিষাক্ত লেখাগুলোকে ধন্যবাদ জানাতেই হয় – কেননা তাদের লেখার কল্যানেই আজ মুসলিম জনগোষ্ঠী – বিশেষত রোহিঙ্গাদেরকে, বানানো হয়েছে ‘বহিরাগত ভাইরাস,’ যা বৌদ্ধ স্বকীয়তার প্রতি হুমকিস্বরূপ। তাই আজকাল মিডিয়ার বদৌলতে – ‘রাখাইন লোকজনদের পক্ষে আর রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বসবাস করা সম্ভব নয়’ – এমনতরো শ্লোগান প্রায়শই শোনা যাচ্ছে। আর ব্যপক এই হত্যাযজ্ঞের একমাত্র বলি যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী – এই সমস্ত একপেশে রিপোর্টে তা পুরোপুরি চেপে যাওয়া হয়েছে। আদতে উল্টো রোহিঙ্গারাই কিন্তু বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে দিশেহারা।

 চিত্র ১১: যুদ্ধ তরবারী হাতে রাখাইন সন্ত্রাসী।

ব্যাপক হারে হত্যাযজ্ঞের কারণ খুঁজে পাওয়া যায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার নীতিমালায়। সামাজিক ও নৃতাত্ত্বিক গঠনই হচ্ছে সেই বিভাজনকারী রেখা – যেখান থেকে সাধারণত এসব উচ্ছেদ প্রকল্প শুরু হয়। অন্য জায়গাতে আমি যেভাবে বলেছি, মিয়ানমার সরকার নব্য মিয়ানমারবাদকে সমর্থন জানায় – যেখানে বর্ণবাদ ও গোঁড়ামি হচ্ছে আদর্শিক সূতিকা – যার উপর ভিত্তি করে সকল অ-বৌদ্ধ ও অ-মোঙ্গল জাতির নাগপাশ থেকে মিয়ানমারের মাটিকে পবিত্র করার শপথ আছে। নৃ-তাত্ত্বিক, জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষিক ও সাংস্কৃতিক পরিচিতির বৈচিত্র্য যেখানে মহান শক্তিতে পরিণত হতে পারতো, সেখানে এই বিষাক্ত ভাবাদর্শের কল্যাণে তাকেই দেখা হচ্ছে সবচাইতে বড় দুর্বলতা হিসেবে।

ইহুদি হলোকস্টের অনেক আগে ১৯৩৫ সালে জার্মানীর নুরেমবার্গ শহরে ইহুদিদের সাথে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদ করে ইহুদি-বিরোধী বর্ণবাদী ও বিদ্বেষপূর্ণ এক আইন জারী করা হয়। ইহুদিরা ভোটাধিকার সহ চাকুরি করার যোগ্যতা হারায়। পরবর্তী ৮ বছর ধরে রাইখ (reich) নাগরিকত্ব আইন বলবৎ রাখার জন্যে ১৩টি আনুষঙ্গিক অধ্যাদেশ জারী করা হয় – যেখানে পর্যায়ক্রমে জার্মানির ইহুদিদের গুরুত্বহীন করে ফেলা হয়। এই আইন ভঙ্গকারীদের কঠিন কায়িক শ্রম, জেল কিংবা জরিমানা করা হতো। এই আইনের সুযোগ নিয়ে নাৎসি’রা ভুক্তভোগীদের সম্পত্তি ধ্বংস করতো। ইহুদি হলোকস্টের মতো ঘটনার সূত্রপাত যে নুরেমবার্গের সেই ইহুদি-বিদ্বেষী আইনে, তা বুঝতে কষ্ট হয়না। আর সম্প্রতি বিশেষত রোহিঙ্গা মুসলিম ও সার্বিক ভাবে সকল মুসলিমদের সাথে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদকারী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জারী করা ধর্মীয় ডিক্রি সার্বিক বার্মায় এবং বিশেষত আরাকানে এক সম্ভাব্য ভয়াবহ গণহত্যার আভাস দিচ্ছে।

চিত্র ১২: রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে সদর্পে চলেছেন এক রাখাইন সন্ত্রাসী।

আমি সম্প্রতি ব্যাংককে “বার্মার রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত – মীমাংসা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার” বিষয়ের উপর এক সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বলেছি (১০), মিয়ানমারের বৌদ্ধ রাজনৈতিক নেতৃত্বের গড়ে ওঠা নব্য মিয়ানমারবাদ, নব্য-নাতসীবাদের মতোই একটি সামগ্রিক ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারা। এই চিন্তাধারার নেতা ও অনুসারীরা রাষ্ট্র ও ধর্মের পার্থক্য মুছে ফেলে তাদের বর্ণ ও ফ্যাসীবাদী রাজনীতির সাথে থেরাভাদা বৌদ্ধ মতবাদকে একীভুত করে ফেলতে চায়। আর থেরাভাদা বৌদ্ধ মতবাদ নিজেদের ছাড়া অন্য সব ধর্মমতের প্রতি গোঁড়া, মৌলবাদী, বর্ণবাদী, হিংস্র ও অসহিষ্ণু। মুসলিম, খৃষ্টান, শিখ ও হিন্দুদের মতো ১৪০টি নৃ-গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত মিয়ানমারের প্রায় ১৫ শতাংশের এই সংখ্যালঘুদের জন্যে এই মতবাদ একটা সর্বনাশা বিষাক্ত প্রণালী। এটা অসহিষ্ণুতা উৎপাদন করে আর হিংস্রতা প্রতিপালন করে। তদুপরি বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থনসহ সরকারীভাবে এই নীতিকে রাষ্ট্রীয় প্রকল্প হিসেবে অনুমোদনও দেয়া হয়। বর্মী বর্ণবাদের এই জগাখিচুড়ি-মার্কা আত্মম্ভরী নীতি ও অসহিষ্ণু বৌদ্ধ মতবাদ সংখ্যালঘু সহ সামগ্রিক অঞ্চলের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

চিত্র ১৩: রোহিঙ্গা উৎখাতের রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে উৎসুক অংশীদার বার্মার নিরাপত্তা রক্ষীরাও।

দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে মিয়ানমারের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর পশ্চিমা আকাঙ্ক্ষার জন্য রাখাইন ও মিয়ানমার সরকারের অপরাধগুলোকে এড়িয়ে চলা হয়। মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড তাই সম্প্রতি প্রতারণামূলক ভাবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর চলা বর্বরতার মূল কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার অভাব বলে জানিয়েছেন।

তবে এই নিয়েও কোনো সন্দেহ নেই যে যদিও মিয়ানমার খনিজ সমৃদ্ধ একটি দেশ, এটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে সবচাইতে দরিদ্র। কিন্তু দারিদ্রই এই গণহত্যার মূল কারণ – যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এমন মতামত আসলে ভাষিক ছদ্মাবরণে থেকে ঘাতক মিয়ানমার সরকারের অপরাধগুলোর ভয়াবহতাকে চেপে যাবার নামান্তর। বসনিয়া আর রুয়ান্ডার ক্ষেত্রেও আমরা একই ধরণের অজুহাত শুনেছি। পৃথিবীতে অনেক দরিদ্র দেশই আছে – তাই বলে সেসব দেশে শক্তিশালী সংখ্যাগুরুরা সংখ্যালঘুদের উপর গণহত্যার প্রকল্প নেয়না। গণহত্যা ঘটাতে হলে চাই রাষ্ট্রিক পৃষ্ঠপোষকতা, যেখানে সমাজের প্রায় সকল স্তরের লোকই অংশগ্রহণ করে – আর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সাথে তাই-ই হচ্ছে।

অনেককাল ধরেই চীন, ভারত-সহ অন্যান্য এশীয় ও প্রশান্ত অঞ্চলের দেশগুলো মিয়ানমারের নির্দয় সামরিক সরকারের সাথে ব্যবসা করে আসছে। এখানে মানবাধিকার কখনো অগ্রাধিকার পায়নি। অনেকদিন ধরেই ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলো মিয়ানমারে ব্যবসা করতে পারেনি। তাদের অংশগ্রহণের জন্য মিয়ানমারের পরিচায়ক মুখের পরিবর্তন ছিল অপরিহার্য। এই বিকৃত পদ্ধতি শুরু হয় যোগ্যতাহীন সু চি’কে নোবেল পুরষ্কার দেয়ার মাধ্যমে – আর তার ধারাবাহিকতায় আসে সেনা সদস্যদের অসামরিক পোষাক পড়ে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে পরিচিতি দেয়ার নাটকের দৃশ্যায়নে। ওটা যেন ছিল বার্মার গ্লাসনস্ত মুহুর্ত – যখন বার্মার নাম পাল্টে মিয়ানমার রাখা হয়। এই দাবীর ধারাবাহিকতায় আসে ২০১০ সালের নির্বাচন ও এর পরের উপনির্বাচন, যেখানে সু চি’র NLD পার্টি সদ্যোমে অংশ নেয় – উদ্দেশ্য ছিল এটা প্রমাণ করা যে, মিয়ানমার ফ্যাসিবাদী সামরিক গোষ্ঠীশাসন থেকে ধীরে ধীরে গণতন্ত্রে উত্তীর্ণ হচ্ছে। এরপরে আসে থেইন সেইনের অলিখিত দূত হিসেবে সু চি’র পশ্চিমা বিশ্ব সফর – যেখানে তিনি বার্মার সাথে বহির্বিশ্বের ব্যবসা বাণিজ্য পুনঃস্থাপনের অনুরোধ জানান। সম্পর্কে স্বাভাবিকীকরণের শেষ অঙ্কে আসে থেইন সেইনের জাতিসংঘে সফরের নাটক, যেখানে তিনি বান-কি-মুন সহ অন্যান্য পশ্চিমা নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাত করেন।

চিত্র ১৪: বর্মী রাষ্ট্রপতি থেইন সেইন মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের উৎখাত চান।

এরপরে শুরু হয় অপরাধী বর্মী সরকারের উপর আরোপিত পুরোনো সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার পশ্চিমা সরকারগুলোর প্রতিযোগিতা – উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন বাজারে আগেভাগে ঢুকে নিজের ভাগের অংশ ঠিক রাখা। তারা মিয়ানমারে ব্যাপক বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দেয়। এমন উদ্যোগের মহড়া দেখে থেইন সেইন সরকারের সাহস বেড়ে যায় আরো অনেকগুণ – আর তারা ভাবতে থাকে যে বিশ্ববাসীর কাছে দেয়া আগের প্রতিশ্রুতিগুলো মানতে তারা আর বাধ্য নয়। জাতিসংঘের সফরের অব্যবহিত পরেই, বর্ণবাদী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিক্ষোভের সাজানো নাটক করে বর্মী সরকারের কাছে মুসলিমদের জোরপূর্বক অন্যত্র স্থানান্তরিত করার আর্জি জানায়। সরকার নিয়ন্ত্রিত পত্রিকাগুলোতে তারা ঘোষণা দেয় যে মুসলিমদের সাথে কোনোরকমের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেউ রাখলে তাকে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে। আগে যেভাবে বলা হলো, এটা নাৎসি নীতিরই ছায়া। এটা হচ্ছে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা সহ সকল মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার সার্বিক ব্যবস্থা। মিয়ানমারের এই বৌদ্ধ ফ্যাসিবাদ এমনই অনিষ্টকর যে, আরাকানের ভেতরে ও বাইরে বসবাসরত রাখাইন বৌদ্ধরা মিয়ানমারের অন্য সব বৌদ্ধদের আশীর্বাদে মিয়ানমারে, বিশেষত রাখাইন রাজ্যে একজন মুসলিমও অবশিষ্ট রাখতে চায়না।

আগে আমি অন্যখানেও বলেছি যে, রোহিঙ্গাদের নির্মূল করা এখন একটা মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে পরিণত হয়েছে – যেখানে তথাকথিত গণতন্ত্রের প্রতীক আং সান সু চি সহ মিয়ানমারের অধিকাংশ বৌদ্ধরা কোন-না-কোন ভাবে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী। অনেকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ না করলেও হন্তক রাখাইন বৌদ্ধ ও সরকারের গণহত্যার প্রকল্পের ব্যাপারে রহস্যজনক নিরবতা কিংবা মৌন সম্মতি তাদেরকে এই অপরাধের সহযোগী হিসেবেই চিত্রিত করেছে। রাখাইন বৌদ্ধরা এখন তাদের নিজস্ব ধাঁচের কৃস্টালনাক্সট খুঁজে পেয়েছে। তারা ১৯৩৮ সালের নাৎসি পার্টির ধারাবাহিক নির্যাতন, হত্যা ও লুণ্ঠনকে অনুকরণ করছে, যখন একের পর এক ইহুদি লোকালয় আক্রমণ করা হয়েছিল। এই হারে চলতে থাকলে নিজ মাতৃভুমি আরাকানেই মুসলিমদের কোনো চিহ্ন ভবষ্যতে অবশিষ্ট থাকবে না।

চিত্র ১৫: শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও গণতন্ত্রের প্রতীক সু চি রোহিঙ্গা গণহত্যার ব্যাপারে বিস্ময়কর ভাবে নীরব।

তেসরা জুন থেকে ঘটা আক্রমণগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন, অপরিকল্পিত কিংবা স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা নয়। আন্তর্জাতিক আইনের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ১৯৮২ সালের বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইনের আওতায় ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রহীন হওয়া রোহিঙ্গাদের উপর মিথ্যাভাবে সকল অপরাধের দায়ভার চাপিয়ে দিয়ে ফ্যাসিবাদী রাখাইন রাজনীতিকরা অবশিষ্ট বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীকে উত্তেজিত করে ক্রম-অগ্রসরমান “বর্ণ বিশুদ্ধিকরণ” প্রকল্পের প্রতি বাকীদের সমর্থন ও অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছে। আয়ে মং এর ফ্যাসিবাদী দল, RNDP ও অন্যান্য বর্ণবাদী রাখাইন রাজনীতিক সহ লোভী ব্যবসায়িরা বিনা বিচারে রোহিঙ্গাদের মেরে, ঘরবাড়ী, মসজিদ পুড়িয়ে তাদের সম্পত্তি ও ব্যবসা লুট করছে। রোহিঙ্গাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করা হচ্ছে। এই কাজে রাখাইন সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশও উৎসুক অংশীদার। ফলে রোহিঙ্গারা আজ হয় কন্সেন্ট্রেশন-ক্যাম্পের আদলে গড়ে ওঠা ছাউনি কিংবা বস্তিতে বন্দী কিংবা তাদেরকে দেশের বাইরে নির্বাসিত। গণহত্যার প্রকল্প এগিয়ে চলছে পূর্ণ উদ্যমে যাতে রোহিঙ্গাদের নির্মূল করে সমস্যাটির “শেষ সমাধান” দেয়া যায়।

  

চিত্র ১৬: বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গারা কাটাচ্ছে বীভৎস জীবন।

আমরা এখনো এই নির্মূলাভিযান থামাতে পারি, যদি পশ্চিমা সরকারগুলো এখনই ব্যবস্থা নেয়। তারা জাতিসংঘের মাধ্যমে থেইন সেইন সরকারকে চাপ দিতে পারে – যাতে করে এই জাতি-বিনাশী প্রকল্প থামানো যায় আর সেই সাথে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পূনর্বহাল করা যায়। পাশাপাশি এটাও নিশ্চিত করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা তাদের হারানো জান ও মালের জন্য ক্ষতিপূরণ পান ও কালাদান নদীর পশ্চিম পাশে যাতে তারা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্ভয়ে বসবাস করতে পারেন। সরকার যদি এমন বাস্তবমুখী পরিবর্তনকে বিরোধিতা করে তাহলে নিরাপত্তা পরিষদে অর্থনৈতিক অবরোধ সহ অপরাধী মিয়ানমার ও রাখাইন সরকারের নেতৃবৃন্দকে নুরেমবার্গের মতো বিচারসভায় নিয়ে যেতে হবে – যাতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য তাদের বিচার করা যায়।     

দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, রোহিঙ্গা সমস্যার প্রতি পশ্চিমা শক্তিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি নাৎসি আমলের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়; তারা স্পষ্ট সত্য দেখতে কিংবা শুনতে নারাজ। সহজ কথায় এটা অনৈতিক ও অমার্জনীয়। তারা কেবল মিয়ানমার সরকারের ভাষ্যকেই পুনরাবৃত্তি করছে – যেন সংঘর্ষটা দ্বিপাক্ষিক, অর্থাৎ বড় দুটো গোষ্ঠী একে অপরকে আক্রমণ করছে। এটা অবজ্ঞাপূর্ণ মিথ্যা সাযুষ্যের প্রয়াস বৈ কিছু নয়। যখন কেবল রোহিঙ্গাদের শহরগুলোই জ্বলছে, যখন সকল শরণার্থীই রোহিঙ্গা, যখন প্রথিতযশা কর্মী থেকে শুরু করে বৌদ্ধ ভিক্ষু, স্থানীয় রাখাইন রাজনীতিক ও ছাত্রদের আর্তনাদ নাৎসি আমলের স্মারক – তখন এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে রোহিঙ্গা সমস্যার “শেষ অঙ্ক” মঞ্চস্থ করার ভয়াবহ মহড়া চলছে। এই বীভৎস সত্য কেউই লুকিয়ে রাখতে পারবেনা।

চিত্র ১৭: গণহত্যার বিভৎসতার বিমূর্ত প্রতিচ্ছবি।

রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইন (আরাকান) রাজ্য যেন একটা বিশালাকায় কারাগার। রোহিঙ্গা ঘরবাড়ীগুলোতে এখন দেয়া হয়েছে লৌহবেষ্টনী আর তাদের পুড়ে যাওয়া দালান-কোঠা হয়েছে সামরিক চেকপয়েন্ট। রাজধানী সিত্তওয়ে (আকিয়াব) এর বাইরে প্রায় এক লক্ষ রোহিঙ্গা বাস করছে শরণার্থী শিবিরের অস্বস্তিকর পরিবেশে – যেখানে অপুষ্টি ও রোগব্যধি সুবিস্তৃত আর যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় রাখাইন লোকবল ত্রাণকর্মীদের অবাধ চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করছে। বহুকালের নিবর্তন ও ধীরলয়ে এগিয়ে যাওয়া গণহত্যার তৎপরতায় ইতোমধ্যেই অর্ধেক রোহিঙ্গাকে দেশ থেকে বের করে দেয়া গেছে। যারা এখনো দেশের মধ্যে জীবিত আছেন তারা জীবন্ত নরক থেকে পালাবার দিন গুনছেন। আমাদের প্রজন্ম কি পুরো একটা জাতিকে এভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে দেবে?

আর কতো রোহিঙ্গার মৃত্যু ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হলে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো সাম্প্রতিক এই ভয়ানক বর্ণবাদী নৃশংশতা রোধে এগিয়ে আসবে? বর্ণবাদী প্রতিহিংসা, ধর্মীয় গোঁড়ামী, সন্ত্রাস ও নৃশংসতা এবং সেইসাথে ঔদ্ধত্য ও শক্তির নিষ্ঠুরতার ইঙ্গিতবাহী এই পরিকল্পিত, ক্ষতিকর ও বিধ্বংসী অপরাধকে আর কতদিন আমরা উপেক্ষা করে যাব?

চিত্র ১৮: জীবন্ত নরক থেকে প্রাণ হাতে পালাবার চেষ্টা।

দুঃখের বিষয় এই যে আমরা অতীতের গণহত্যা থেকে কিছুই শিখিনি – না হিটলারের জার্মানী থেকে, না হালের বসনিয়া, কসভো কিংবা রুয়ান্ডা থেকে। ভাষিক কূটাবরণে আজো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর ঘটা অপরাধের মাত্রাকে খাটো করে দেখানোর অপচেষ্টা চলছে। অনেক সাংবাদিক ঘটনার বর্ণনা দেবার আগে “অভিযোগ আছে যে” (“alleged”) এর মতো পূর্বপদ ব্যবহার করছেন, যাতে আসলেই কী ঘটেছে সে সম্পর্কে ধুম্রজাল সৃষ্টি করা যায়। অনেক স্থানীয় সাংবাদিক নিঃসন্দেহে পক্ষপাতদুষ্ট যারা সরকারী প্রচারণাকেই বিতরন করার দোষে দোষী।

১৯৪৬ সালে নুরেমবার্গ বিচারসভার মার্কিন প্রধান কৌসুলী রবার্ট জ্যাকসন আন্তর্জাতিক সামরিক বিচার-পরিষদের সামনে দেয়া সমাপনী বক্তব্যে বলেছিলেন,

বাস্তবতা এই যে ইতিহাসের দীর্ঘ পদচারণায় বর্তমান শতাব্দী প্রশংসিত অবস্থানে থাকবে না, যদিনা এর দ্বিতীয় ভাগ প্রথম ভাগের কালিমা মুছে ফেলে। বিংশ শতাব্দীর এই দুটি ঘটনা ইতিহাসের বইগুলোতে সবচাইতে রক্তাক্ত ঘটনা হিসেবেই অন্তর্ভুক্ত হবে। বিশ্বযুদ্ধ দুটোতে হতের সংখ্যা প্রাচীণ ও মধ্যযুগের সকল যুদ্ধে নিহতের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশী। ইতিহাসের কোনও অর্ধ-শতাব্দী কখনো এই মাত্রার হত্যাযজ্ঞ দেখেনি। দেখেনি এমন নিষ্ঠুরতা, এমন অমানবতা, এমন পাইকারি হারে মানুষকে দাসত্বের শৃংখলে বাঁধা, এমন মাত্রার সংখ্যালঘুর পূর্ণবিলয়। তর্কেমাদার সন্ত্রাসও নাৎসি বিভৎসতার কাছে ফ্যাকাশে লাগে। ভবিষ্যত প্রজন্ম এই দশকগুলোতে ঘটা অনন্য ঐতিহাসিক বাস্তবতা স্মরণে রাখবে। আমরা যদি এই বর্বরতার পেছনের কারণগুলোকে দূরীভূত করে এর পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করতে না পারি, তাহলে এটা কোনো অতিরঞ্জিত ভবিষ্যত বাণী হবেনা যদি বলা হয় যে বিংশ শতাব্দী হয়ত সভ্যতারই পরিসমাপ্তি টানবে।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘটা এই গণহত্যার মহড়া দেখে এটা অস্বীকার করার অবকাশ নেই যে আমরা দুভাবে ব্যর্থ – প্রথমত “কারণ” গুলোকে দূরীভূত না করতে পারা, আর দ্বিতীয়ত, “বর্বর ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি” প্রতিরোধ না করতে পারা।

  

চিত্র ১৯: রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধের দাবী তুলুন। এখনই সময়।

৬২ comments

১ ping

Skip to comment form

  1. 45
    saon

    amader sorkar tho chailei puro arakan state dhokol korte pare ar help chaile Bangladesh k beshir bag muslim country o help korte raji hoye jabe. tai amader sorkar r uchit sob muslim country der sathe ek hoye arakan state puropuri dokhol kore neya jate oi state take ekta muslim state hisebe sikriti dea jay . ami chinta kori eta khub valo ekta decision jodi bangladesh sorkar eta korte pare

  2. 44
    arif

    amader sarkar ki konovabe rahangader ke sahijjo korte parana. joto tara tari sombab tader ke shajjo kora hok

  3. 43
    মহিউদ্দিন

    মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে লন্ডনের ইমাম আজমল মাসরুরের বক্তব্যটি শুনা দরকার।

    https://www.facebook.com/ajmal.masroor.7/videos/10154762150429439/

  4. 42
    Md Muksadul Momin

    আজকে জদি #পিস টিভি বাংলা জদিথাকতো তবে আনেক সমাচলনা হতো মিয়ানমারকে নিয়ে (জাকির নায়েকের) বক্তোবো কি

  5. 41
    M Jamal Uddin

    Jeeb Hottya Mohapap bole -- Kintu Manush Hottya Mohapap ora bole na tai to ora manush hottya korche.

  6. 40
    মো:ফয়সাল

    আমি মনে করি, বাংলাদেশের মুসলমানদের উপর এর বিরুদ্ধে জিহাদ করা ফরজ হয়ে গেছে।আর এখন থেকে যদি জিহাদ না করা হই তার জন্য আমাদের হাসরের ময়দানে জাবাব দিতে হবে।

  7. 39
    Firoj Kabir

    শুধু একটাই প্রশ্ন পুরো বিশ্ববাসীকে করতে চাই- “মানবাধিকার কোথায়?”

  8. 38
    Md.Julfikar Ali

    Need to protect Myanmer Govt. about Rohingya Issue , & need to help Rohingya Muslims about their Citysenship,economics, social recognition.

  9. 37
    Akbar

    Dear Admin,

    I want know more about Rohingya issue. Can U pl mention some books, articles, publications etc to my e-mail at akbarmoli@yahoo.com ? I will be highly obliaged.

    Akbar.

  10. 36
    মুসলিমাহ

    https://www.change.org/p/take-back-aung-san-suu-kyi-s-nobel-peace-prize?recruiter=77201109&utm_source=share_petition&utm_medium=whatsapp

  11. 35
    তাপস সরকার

    আমি মনে করি মিয়ানমারের কোনভাবেই উচিত নয় রোহিঙ্গাদের এমন আচরন করা কারন তারা তাদের দেশের জনগন 

  12. 34
    limonnesit

    মুসলমান দের বিজয় হবেই একদিন না একদিন।

  13. 33
    হামজা ইবনে মূসা কামাল

    মানবতার বিশ্ব কবি কাজী নজরুল ইসলাম যথার্থ ই বলেছিলেন “ দেখ একবার ইতিহাস খুলি কত উচ্চে তোরা উধিষ্ঠিত ছিলি ’’  তাই “মুসলমান” হইতে না পারায় আমাদের আজ এই পরিণতি কী ?

     

    জাতিসংঘ বলতে কি কিছু আছে ?

    মানবাধিকার বলতে কি কিছু আছে ?

     

    << মরবি যখন ভালে করে মর ….“ আল্লাহ্ র কোরান” ধর >> যত ভন্ড ইসলাম বিরোধীদের বিরুদ্বে “জেহাদ” (আল্লাহ্ র নির্দেশ) কর । (মানুষের তৈরী করা কোন “জেহাদি” মতবাদ নয়)………..

     

  14. 32
    Ashraful Islam

    আপনাদের কে জানাবো! হাস্যকর- কিন্তু চরম সত্যি। এবং উজ্জল ভবিষ্যৎ এর কথা !

    বার্মার রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিপীড়নের কথা তো কম বেশি সবাই জানেন!

     

    আপনারা জানেন কি? এর পিছনের অজানা হাস্যকর ঘটনাটা ! ঘটনাটা আপনার আমার জন্য হাস্যকর! কিন্তু ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে এটা বাস্তাবায়িতে হবে।

     

    ঘটনাটা এবার শুনুন-প্রায় দুই যুগ আগের ঘটনা- মিয়ানমারে যখন সামরিক জান্তা খমতায় আসলো !

    বৌদ্ধরা ও হিন্দুদের মত গনক ও গননায় খুবই বিশ্বাস করে। তারা সামরিক জান্তার টপ লেভেল এর সব অফিসার রা গনকদের ডাকলো । এবং বার্মা এবং তাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে জানতে চাইলো।

    গনক রা বললো যে, বার্মার পতন বা ক্ষতি সাধান হবে বাংলাদেশ এর দিক থেকে, এবং মুসলিম রা ক্ষমতায় আসবে ।

    ঐ খান থেকে শুরু রোহিঙ্গা নিধন। বার্মার তৎকালনী সামরিক অফিসার রা ঐ গননাটাকে খুবই গুরুত্ব সহকারে গ্রহন করে ।

    সুত্রঃ তৎকালীন মিয়ানমারে দায়িত্ব পালন রত -বাংলাদেশের এ্যম্বাসেডর একজন রিটার্ড মেজর ।

    এখন প্রশ্ন আমি কিভাবে জানলাম ? গত বসর ৭১ টেলিভিন এর টকশোতে , মেজর সাহেব ঘটনাটা বলছেন ।

     

    আর কেউ বিশ্বাস করুক আর নাই করুক। মেঘ দেখে করিস নে ভয়-আড়ালে তার সুর্য আসে।  ইনশাল্লাহ আমাদের –বাংলাদেশের দারাই ওদের অত্যাচারের দিন শেষ হবে। 

  15. 31
    nakib

    চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। আমাদের প্রিয় নবীর আমলে যদি এই নিষ্টুর হত্যা গুলো হত তাহলে তিনি বার্মাকে দখল করে নিতেন।  আমি বার্মিজদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম।

  16. 30
    শাফিউর রহমান ফারাবী

    ভাইয়া ব্লগটা শেয়ার করলাম। বার্মা, চীন ও থাইল্যান্ডে যুগের পর যুগ ধরে এই বৌদ্ধরা মুসলমানদদের উপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। সারা পৃথিবীর শিক্ষিত লোকেরা এখন এসব জেনে গেছে। ইউরোপ আমেরিকায় এখন একটা কথা প্রচলিত আছে কেউ যদি পশু দেখতে চায় তাইলে সে যেন বৌদ্ধদের কে দেখে।

  17. 29
    বুদ্ধের বাণী

    "জীব হত্যা মহাপাপ"। কিন্তু মুসলমানরা তো জীবই নয়, জড়। এমনকি পদার্থও নয়। কারণ পদার্থের ধর্ম হল, যার ওজন ও আয়তন আছে এবং বল প্রয়োগে বাধার সৃষ্টি করে।

  18. 28
    নেপথ্য কথা

    শয়তানের চক্রান্ত ও কূটকৌশলের সামনে আল্লাহর বান্দারা কি অসহায়?

    রাজনীতি ও কূটনীতিতে ভাল লোকেরা কোনদিনই খারাপ লোকদের সাথে পেরে ওঠে না, কুটবুদ্ধিতে মুসলমানরা কাফেরদের মোকাবেলায় সুবিধা করতে পারে না, মানুষ কোনদিন শয়তানের সাথে শয়তানিতে জিততে পারে না। মনে করুন, আপনি একজন বিবেকবান সরলমনা মুসলমান এবং আপনার প্রতিপক্ষ একজন আল্লাহদ্রোহী কুটিল স্বভাবের ইবলিস। ধর্ম ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্ব বলেন বা আধিপত্য বিস্তারের লড়াই বলেন, আপনি তার সাথে পারবেন না। কিভাবে? মনে করুন, একদল তরুণ এসে যদি আপনার কাছে প্রস্তাব দেয় যে, আমাদেরকে যেনা করার সুযোগ দিতে হবে, লুট করে হলেও কোটি টাকা এনে দিতে হবে বা আনার অনুমতি দিতে হবে, তাহলে তারা আপনার দলে থাকবে এবং আপনার সব আদেশ পালন করবে— এমনকি আপনার প্রতিপক্ষ সহ যে কাউকে খুন করার হুকুম দিলেও নিমিষে তামিল করবে; আপনি কি তাতে সায় দিতে পারবেন? কিন্তু ধরুন, ঐ একই তরুণেরা যদি আপনার নরাধম প্রতিপক্ষের কাছে গিয়ে একই প্রস্তাব দেয়, সে কিন্তু কথা শেষ না হতেই এ অপূর্ব চান্সটা নির্দ্বিধায় লুফে নেবে। তার পর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আপনার মুন্ডুখানা মাটিতে গড়াগড়ি করবে, না হয় আপনি সপরিবারে প্রতিপক্ষের হাতে বন্দি হয়ে গোলামি করতে বাধ্য হবেন। অনুরূপভাবে, একজন দেশপ্রেমিক বিবেকবান ব্যক্তি যখন দেশের শাসক হবে, তার পক্ষে কখনোই সম্ভব হবে না মহল বিশেষকে খুশি করার জন্য তাদের ন্যায়-অন্যায় চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে রাজভাণ্ডার শূন্য করে ফেলা। কারণ, তাকে একই সাথে ভাবতে হচ্ছে দেশের আর সব মানুষ কি খাবে, দেশটা আগামীকাল কিভাবে চলবে। মহল বিশেষের অবৈধ কাজকে বৈধতা দেয়ার মুচলেকা দিয়ে নিজের দলে ধরে রাখাও তার পক্ষে সম্ভব হয় না। পক্ষান্তরে, যে শয়তান ইবলিস, সে মানুষের অকল্যাণকামী হয়েও মানুষের মাঝে প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। দশ ভাইয়ের মধ্যে পাচ ভাইকে মেরে ফেলেও বাকি পাচ ভাইকে ক্ষণস্থায়ী আরাম-বিনোদন বা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বশে রাখতে পারে। সর্বোপরি শয়তান তথা সূক্ষ্ববুদ্ধির খারাপ লোকেরা কূটকৌশলের দ্বারা সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করে যেকোন পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে নিয়ে যেতে পারে।

    আল্লাহর বান্দারা যদি চলে ডালে ডালে, শয়তানরা চলে পাতায় পাতায়। বিএনপি-জামাত যে কৌশল দিয়ে শুধু চোর-ডাকাত দমন করেছিল, আওয়ামী লীগ সে কৌশল লুফে নিয়ে তা আরো মোডিফাই করে প্রতিপক্ষ দমনে সাফল্যজনকভাবে কাজে লাগিয়েছে। মুসলমানরা যে কাজ করে নিছক ছোটখাটো উদ্দেশ্য হাসিলে, কাফের-মুনাফিকরা সেই একই অস্ত্র প্রয়োগ করে বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে। উদাহরণস্বরূপ, কোন এক মুসলিম পিতা তার ছেলের কোন ভুল-ত্রুটির কারণে শাসন করার জন্য তাকে সাময়িকভাবে গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ জারি করলেন; আর তারপর থেকে সেই ছেলে সন্তানের ধর্মদ্রোহী সেকুলারবাদী মা নানা অযুহাতে নিয়মিত বিধি-নিষেধ আরোপের মাধ্যমে ছেলেকে মসজিদ ও মক্তবে যাওয়া থেকে ফিরানোর একটা সহজ ও নিরাপদ উপায় পেয়ে গেল। এমতাবস্থায় মতলববাজ বর্ণচোরা মায়ের আসল উদ্দেশ্য ছেলের পিতা বুঝতেও পারবে না, আর বুঝলেও কিছু বলতে পারবেন না, কারণ রাস্তাটা যে তিনি নিজেই দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন।

    আজ একই দশা হয়েছে বিএনপি জোটের। বিএনপি-জামাত যাদেরকে দিয়ে ছোট কাজ করিয়েছিল, আওয়ামী লীগ এখন সেই একই লোকদেরকে দিয়েই বড় কাজ করিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এদের কাছ থেকে বড় খেদমত কিভাবে আঞ্জাম নিতে হয়, এরজন্য কিভাবে এদেরকে রাজিখুশি রাখতে হয়, সেই কায়দাটা তাদের জানা ছিল না।

    শয়তানী শক্তির সাথে কূটকৌশলে পেরে ওঠা অত সহজ নয়, তারা সংখ্যা ও শক্তিতে যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন। কোন পরিবার বা গোত্রে যদি একজন মাত্র তাগুতী ব্যক্তি থাকে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আপনি ধর্মীয় বা পার্থিব কোন কর্মকাণ্ডেই সুবিধা করতে পারবেন না। কোথায় কখন কার কাছে দেনদরবার করে, ধরনা দিয়ে আপনার সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেবে, আপনাকে রীতিমতো স্ট্যাচু বানিয়ে বা নীলডাউন করিয়ে রাখবে, আপনি টেরও পাবেন না। আর টের পেলেও “কি-ও” করতে পারবেন না।

    রাগে ক্ষোভে হোক, লোভে পড়ে হোক, বা হুজুগের বশে হোক, কিংবা কোন অধিকার বা দাবি আদায়ের জন্য হোক; আল্লাহর বান্দারা যখন যে কাজই করুক, যে উদ্দেশ্যেই করুক, যে পদক্ষেপই নিক না কেন; তার ফলাফল শয়তানরা নিজেদের অনুকূলে নিয়ে নেয়, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর বান্দাদের পরিশ্রম কার্যত শয়তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নেরই হাতিয়ার হয়। আল্লাহ তাআলার এই বেকুব গোবেচারা বান্দারা কোনদিন বুঝতেও পারে না, তাদের কর্মের দ্বারা, তাদের রক্ত, ঘাম ও অর্থের দ্বারা কাদের উদ্দেশ্য হাসিল হচ্ছে। কোনটা সাফল্য, কোনটা ব্যর্থতা; কোনটা বিজয়, কোনটা পরাজয়; কোনটা স্বাধীনতা, কোনটা বন্দীদশা; কিসে উল্লাস করতে হবে, আর কিসের জন্য মাতম করতে হবে— এসব সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে না তারা। কখন কোনটা বেশি জরুরি, কোন বিষয়টাতে বেশি গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিতে হবে, সেটাও বুঝতে সক্ষম নয় এ যুগের আল্লাহর বান্দারা। তাইতো একেকটা চরম ক্রান্তিকালে চতুর শয়তানরা ছেলে ভোলানোর মত করে গুরুত্বহীন বা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ একেকটা বিষয় বাতলে দিয়ে আল্লাহর বান্দাদেরকে মূল বিষয় থেকে গাফেল করে রাখে। আল্লাহর বান্দাদের এটাও জানা উচিত, শয়তানরা কোন ঘুষখোর কোটিপতি রাজপুত্রকে ভয় করে না, তারা ভয় করে কেবল দ্বীনের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ঈমানদার মুসলমানদের। তাই যার-তার জন্য লড়াই করতে গিয়ে, যাকে-তাকে নিয়ে মাতামাতি করতে গিয়ে ধর্মীয়, মানবাধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক জরুরী ইস্যুগুলো ধামাচাপা দিতে শয়তানকে সহায়তা করার কোন মানে হয় না।

    চিন্তায় ও কর্মে শয়তান মানুষের চেয়ে হাজার ধাপ অগ্রসর। শয়তান আজ যেটা চিন্তা করবে, আল্লাহর বান্দারা হয়তো সেটা ধারণা বা অনুমান করতে পারবে কমপক্ষে ৩০ বছর পর, তাও নিশ্ছয় পুরোটা পারবে না, হয়তোবা ৩০ বছর এখনাগাড়ে পর্যবেক্ষণের পর শয়তানের অতীত মতিগতির কিয়দংশ আন্দাজ করতে পারবে; কিন্তু শয়তানের বর্তমান তথা সর্বশেষ মনোভাবের ধারেকাছেও যেতে পারবে না, কোন অবস্থাতেই শয়তানের চিন্তা-ভাবনার সাথে আপ-টু-ডেট থাকতে পারবে না।

    শয়তানকে চিনতে মানুষের ভুল করার কারণ হল, শয়তান স্বভাবতই নিজের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না, সর্বদাই তার অপকর্মের একেকটা ভাল নাম দেয়। আদম-হাওয়াকে কুপরামর্শ দেবার সময় নিজেকে তাদের কল্যাণকামী এবং নিজের নির্দেশিত পন্থাকে তাদের জন্য শান্তির পথ ও মুক্তির উপায় বনেই সাব্যস্ত করেছিল। আল্লাহর সাথে শত্রুতা ও আল্লাহর বান্দাদের অনিষ্ট সাধন করাই শয়তানদের একমাত্র লক্য হলেও, শয়তানী শক্তির যাবতীয় চেষ্টা-সাধনা ও লড়াই সংগ্রাম আল্লাহর বিরুদ্ধে ও আল্লাহর বান্দাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হলেও এ কাজ তারা কখনো করে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে, কখনো মুক্তিযুদ্ধের নামে, কখনো বা উদারপন্থা ও প্রগতিবাদের নামে, কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে। মানুষকে ধ্বংস বা মানুষের সর্বনাশ করার জন্য যে কাজ করবে বা যে পন্থা বাতলে দেবে, তা মানুষের কল্যাণ সাধনের প্রয়াস হিসেবেই উপস্থাপন করবে। উদাহরণস্বরূপ, কোন এক মুসলিম পরিবারে মানুষের ভেকধারী এক ডাইনী পরিবারের নবীন প্রজন্মকে ধ্বংস করার মানসে যে যে পদক্ষেপ নেবে, প্রত্যেকটা পদক্ষেপকেই উপকার ও ভাল করার প্রয়াস হিসেবে প্রচার করবে। প্রতিহিংসামূলক শারীরিক নির্যাতনকে সংশোধনমূলক শাসন হিসেবে, বমি খাওয়ানোকে অপচয় রোধ ও বমি করার শাস্তি হিসেবে, ধর্মকর্ম ও ধর্মশিক্ষায় বাধাদানকে সময় বাচানো ও স্কুলের লেখাপড়ায় গুরুত্ব প্রদান হিসেবে, ভাইয়ে ভাইয়ে বিভেদ ও হানাহানি সৃষ্টির উস্কানী প্রদানকে যেকোন এক ভাইয়ের প্রতি দরদী হবার বহি:প্রকাশ হিসেবে, অশ্লীলতা ও নস্টামির প্ররোচনাকে প্রেম-ভালোবাসা ও বিনোদন বা সংস্কৃতি হিসেবে জাহির করে থাকে। পরিবারের সবচেয়ে যোগ্য, চালু ও সম্ভাবনাময় ছেলেটিকে সেনাবাহিনীতে বা কোন সন্ত্রাসী দলে দিয়ে দেশবাসীর অভিশাপ কুড়ানোর কিংবা এক ভাইকে সশস্ত্র করে তাকে দিয়ে আরেক ভাইকে খুন করানোর পায়তারা করলেও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের কাছে একে নিছক অভাব মোচনের প্রয়াস হিসেবেই প্রকাশ করবে। ঘরে-বাইরে, পরিবারে-দেশে সর্বত্র ভাইয়ে ভাইয়ে খুনাখুনি লাগিয়ে আল্লাহর বান্দাদের দুনিয়া-আখেরাত বরবাদ করাটাই শয়তানের বৃহত্তর উদ্দেশ্য হলেও একে আড়াল করার জন্য হয় কোন নেক উদ্দেশ্য দাবি করবে, অথবা কোন ক্ষুদ্র উদ্দেশ্য প্রকাশ করে এর দ্বারা আসল উদ্দেশ্যটি চেপে রাখবে। আল্লাহ না করন, যদি মতলববাজ শয়তানটির কথামতো মুসলিম ছেলেটি কোন বাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের মুসলিম জনগণের বিরুদ্ধে অন্যায় যুদ্ধে লড়তে গিয়ে অপঘাতে প্রাণ হারায়, অথবা এক ভাই হাতে অস্ত্র ও ক্ষমতা পেয়ে মানুষরূপী শয়তানটির প্ররোচনায় আরেক ভাইকে নিষ্পেষণ করতে গিয়ে একজন আরেকজনের হাতে নিহত ও অপরজন সমাজ হতে বিতাড়িত ও রাষ্ট্র কর্তৃক দণ্ডিত হয়; তখন আত্মীয়-পরিজনের মধ্যে যারা একটু বেশি বেকুব, তারা ‘সন্তানহারা’ মাকে সহানুভূতি ও সান্ত্বনা জানাতে ছুটে আসবে, সবরের ফজিলত বয়ান করে নসিহত করবে, হাড়ি হাড়ি ভাত রেধে নিয়ে যাবে; আর যারা একটু কম বেকুব, তারা বড়জোর ‘নির্বুদ্ধিতা’ বা অর্থলোভের জন্য ভিকটিমের মাকে তিরস্কার করবে। কিন্তু শয়তান ব্যক্তির কাজের আসল হেকমত বা মাজেজা তথা ক্লু কেউই বুঝে উঠতে পারবে না। অর্থাত, আল্লাহর বান্দাদের অনিষ্ট সাধন করাই যে শয়তানের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের আসল হেতু ছিল, একথা কেউ ধারণায় আনতে সক্ষম হবে না।

    শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু — একথা কোরআনের ঘোষণার কল্যাণে সবাই কমবেশি জানে। কিন্তু এর দ্বারা মানুষ শুধু অদৃশ্য জিন শয়তানকেই ঘৃণা করতে শিখেছে — রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় মানুষের বেশধারী শয়তানদেরকে চিনে উঠতে পারেনি। আবার কোন শয়তানকে শয়তান হিসেবে চিনতে পারলেও তার কলাকৌশল সম্পর্কে জানতে পারেনি। শয়তানের চক্রান্ত ও অপততপরতা সম্পর্কে আল্লাহর বান্দারা প্রায় সকলেই অজ্ঞ বা উদাসীন। হাতেগোনা কেউ কেউ মানবতার বিরুদ্ধে শয়তানের অনিষ্ট সাধনের কার্যক্রম দেখতে পেলেও (স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা বা উদাসীনতা ও খামখয়য়ালীপনা বশত:) তা থামানোর প্রয়োজন অনুভব করে না। আল্লাহর দু’একজন বান্দা যারা শয়তানকে রুখতে চায়, শয়তানের হিংস্র ও কুটিল থাবা থেকে মানবতাকে বাচাতে চায়, তারাও শয়তানের ততপরতার মোকাবেলায় কার্যকর ও সময়োচিত পদক্ষেপ নিতে পারে না। যেখানে মদ-যেনার দ্বারা আল্লাহর বান্দাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে দেয়া এবং বান্দাদের মাঝে অশান্তি ও হানাহানি ছড়িয়ে দেয়ার বন্দোবস্ত হয়, সেখানে শুধু দ্বীনের দাওয়াত যথেষ্ট নয়। যেখানে একটা বাচ্চাকে বমি খাইয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে অপবিত্র করে দেয়ার মাধ্যমে তাকে ভবিষ্যত জীবনে বেদ্বীন ও পাপী বানানোর সর্বাত্মক প্রয়াস চালানো হয়, সেখানে এর মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট বাচ্চাটাকে শুধু কলেমা ও দু’চারটা সূরা-কেরাত শিখাতে পেরেই একথা ভেবে আত্মতৃপ্তি লাভের সুযোগ নেই যে, “এইতো বুঝি শয়তানের প্রয়াসকে ব্যর্থ ও নস্যাত করে দিয়েছি, শয়তানের চক্রান্তকে প্রতিহত করে ফেলেছি।” মনে রাখতে হবে, শয়তান কখনো কাচা কাজ করে না। শয়তানদের প্রতিটি পদক্ষেপ ও রণকৌশল হয় কার্যকর, তাদের নিশানা হয় লক্ষ্যভেদী, অব্যর্থ। সীমিত মাত্রায় নড়বড়ে কর্মসূচীর দ্বারা এগুলো রোধ হবার নয়।

    শয়তান যখন কোন কাজ করে, তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ম্যানেজ করেই করে। যখন আল্লাহর বান্দাদের উপর আঘাত হানে, তখন সম্ভাব্য পাল্টা আঘাতের দরজা আগে বন্ধ করে নিয়েই তবে করে, অর্থাত নিজেদের সুরক্ষার নিশ্চিত বন্দোবস্ত আগে থেকেই করে রাখে। আল্লাহর বান্দারা যতই লাফালাফি করুক না কেন, “শয়তান এত বড় অপরাধ যখন করেছে, নিশ্চয়ই এবার ধরা খাবে; এতগুলো মানুষকে যখন মেরেছে, নিশ্চয়ই সবাই এবার একযোগে ক্ষেপে যাবে এবং সবাই মিলে শয়তানকে গিলে খাবে।”— কিন্তু আসলে শয়তানদের কিছুই হবে না। এত কাচা কাজ করলে তো ওরা শয়তানের দলে চান্সই পেত না, আল্লাহর বান্দাই থেকে যেত। এসব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী আল্লাহর বান্দারা হাতের কাছে কাউকে কাউকে পেয়ে তেড়েমেরে ঠাণ্ডা করতে পারলেই উল্লাস করে ও সান্ত্বনা বোধ করে এই ভেবে যে, “যাক, শালাদেরকে শায়েস্তা করা গেছে, উচিত প্রতিশোধ নিতে পেরেছি, হারানো সতীর্থদের রক্তের বদলা সুদে আসলে আদায় করে ফেলেছি।” অথচ তারা যে কেবল সুদটাই নিয়েছেন, আসলটা ছেড়ে দিয়েছেন, সেটা বুঝতে পারেন না। আর সুদটাও যে প্রকৃত দেনাদারের কাছ থেকেই আদায় করলেন কিনা, সেটাও খেয়াল করতে পারেন না। শয়তানের আক্রমণে বিপর্যস্ত আল্লাহর বান্দারা যে গোবেচারাটিকে বাগে পেয়ে প্রতিশোধস্পৃহা মেটানোর খোরাক বানান, সেটাকে যে শয়তান তথা আসল অপরাধীরাই বলির পাঠা বানিয়ে ভিকটিমদের ক্রোধ শান্ত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেই তাদের নাগালের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে গেছে — সেটা বোঝার মতন আক্কেল জ্ঞান আল্লাহর বান্দাদের হয়ে ওঠে না। ফলে আল্লাহর বান্দারা কখনোই শয়তানদের পক্ষ থেকে আঘাত পাবার পর সেই আঘাতকারী শয়তানদের উপর পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হয় না, বড়জোর আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকেই কাউকে না কাউকে পাল্টা আঘাতের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বরং শয়তানদের উদ্দেশ্যটাই ষোলকলায় পূরণ করে দেয়।

    আল্লাহর বান্দারা যখন অপঘাতে স্বজন হারায়, তখন খুনীদের কাছেই খুনের বিচার দাবি করে। সেই খুনিরাই যাদেরকে অপরাধী সাব্যস্ত করে ফাসি দেয়, ভিকটিম পক্ষ আল্লাহর বান্দারা তাতেই সন্তুষ্ট হয় এবং ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায়। বিচারের রায় কার্যকর করার দাবিটাও করে কিনা সেই খুনীদের কাছেই। অথচ এরা একবারও ভেবে দেখে না, তাদের আপনজনের হত্যাকারী অভিযোগে যাদের দণ্ড দেয়া হল, তারা আসলেই হত্যাকারী কিনা; কিংবা হত্যায় জড়িত থেকে থাকলেও কার ভূমিকা কোন পর্যায়ে কতটুকু ছিল। অনুসন্ধান করলে হয়তো দেখা যাবে, যাদেরকে খুনের দায়ে ফাসি দেয়া হয়েছে, তারা অধিকাংশই হয়তো গোবেচারা নিরপরাধ— যাদেরকে সরিয়ে ফেলাটাও হয়তো এক ঢিলে দুই পাখি মারার উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনাটারই পরিকল্পনার অংশ ছিল; আর কিছু লোক হয়তো আল্লাহর বান্দাদের মধ্যেই কিছু বিপথগামী, যাদেরকে কিনা আসল নাটের গুরু শয়তানরাই ভাংগা কুলা হিসেবে ব্যবহার করেছিল। নামমাত্র খুনী আর সেই সাথে অনেকগুলো নিরপরাধ মানুষকে ফাসি দিয়ে আসল খুনীদেরকেই শোক পালন, কবরস্থানে পুষ্পদান ও মিলাদ পড়ার ভণ্ডামি ও তামাশা করতে দেখেও এদের অন্তর জ্বলে না। এই অতি সরলীকরণের কাজটা অর্থাত সরল মনে সব মেনে নিয়ে তুষ্ট হবার কাজটা কিন্তু শয়তানরা করে না। শয়তানরা যখন কারো দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তখন কিন্তু প্রতিপক্ষের কাউকে দরদ দেখাতে এসে সাধু সাজার সুযোগ দেয় না। সোজা নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে মুখের উপর বলে দেয়— “তুমিই তো আমাকে খুন করতে চেয়েছ! এখন আবার ভড়ং দেখাতে এসেছ?” তারা অন্যের কাছে এর জন্য বিচারও দাবি করে না, বরং একবাক্যে বলে দেয়- “ওরাই তো খুন করেছে, ওরা আবার কি বিচার করবে?” পরের কাছে বিচার চেয়ে চেয়ে মাথা ঠুকে না মরে এরা বিচার করার ক্ষমতাটা নিজেদের হাতে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে। কিন্তু আল্লাহর বান্দারা স্বজনহারাদের খুনের বিচারের জন্য খুনীদের মুখের পানেই চেয়ে থাকে। “আমাকে বিচার পাবার জন্য তিন যুগ অপেক্ষা করতে হয়েছিল”— খুনীর মুখে এই সান্ত্বনাবাণী শুনেও কথাটির আসল অর্থ ও তাতপর্য বুঝে নিয়ে তার থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে না এই আল্লাহর বান্দারা। ভিকটিম হয়ে ক্রিমিনালদের কাছে প্রতিকার চাওয়ার এ immatured অবাস্তব প্রয়াসের কারণ হল শত্রু-মিত্র চিনতে না পারা। আর শত্রু-মিত্র চিনতে এরা পারবেই বা কিভাবে? এরা তো আর কোরআন পড়েনি। ইসলামের ইতিহাস অধ্যয়ন করেনি।

    শয়তানরা আশপাশের প্রত্যেকটা মানুষের মনস্তত্ত্ব বিচার করে চলতে জানে এবং কাকে কিভাবে পটানো বা বশে রাখা যাবে সেই কায়দা-কানুন জানে। বিশেষত ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালী কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তিবর্গের সামনে নিজের এমন ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে জানে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শয়তানটির হিংস্রতা ও নৃশংসতা সচক্ষে দেখতে পেলেও তাকে দরদী বন্ধু ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারবে না। শয়তানরা এ ধরনের অন্ধ সমর্থন ও ভালবাসা অর্জন করে থাকে মূলত টার্গেটকৃত মহলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু সেবা প্রদান ও সহমর্মিতা প্রকাশের মাধ্যমে। প্রয়োজনমত সংশ্লিষ্টদের দুর্বল জায়গা চিনে নিয়ে ঝোপ বুঝে কোপ মারতে পারংগম এই শয়তানেরা।

    শয়তানের দুটি গুণ আছে যা আমাদের জন্য ঈর্ষণীয় ও অনুকরণীয়; তাহল- সময়ানুবর্তিতা ও অধ্যবসায়। শয়তানরা কখনো সময়, পরিশ্রম ও অর্থের বিন্দুমাত্র অপচয় করে না; একটা মুহুর্তও উদ্দেশ্যহীনভাবে ব্যয় করে না। একজন শয়তান তার জীবনের ছোট-বড়, সাধারণ-অসাধারণ প্রত্যেকটি কাজ কেবল শয়তানী উদ্দেশ্যেই করে। একজন ধর্মদ্রোহী ভ্রষ্টাচারী মা যখন তার বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করাবে, সেটাও করবে কেবল বাচ্চাকে ধর্মের পথ থেকে ফিরিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই। অর্থাত, লেখাপড়ার চাপ দিয়ে আটকে রেখে ধর্মশিক্ষা ও ধর্মপালনকে বাধাগ্রস্ত করাটাই হয় একমাত্র উদ্দেশ্য। কিন্তু এটা বাইরে থেকে দেখে কারো বোঝার উপায় নেই। সবাই ভাববে, আর দশজন বাবা-মা যে জন্য বাচ্চা-কাচ্চা স্কুলে ভর্তি করে, লেখাপড়া করায়, সেও বুঝি তাই করছে। লেখাপড়ার নামে শারীরিক নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার করলেও কেউ দেখে বুঝতে পারবে না যে, লেখাপড়া শেখানোর উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে নাকি লেখাপড়ার বারোটা বাজানোর জন্যই করা হচ্ছে। কারণ, এই একই রকম কাজ বা আচরণটা যে আল্লাহর বান্দারাও অনেকে করে থাকে। শয়তানের মোটিভকে আপনি আলাদা করবেন কি দেখে? এমনকি মতলববাজ তাগূতী নারী যদি শিশু নির্যাতনের কাজটা ধর্মশিক্ষার নামেও করে থাকে, নামাজ-কালাম শেখানোর ছলেও যদি বাচ্চাকে হয়রানি করে থাকে, তবুও কেউ দেখে বুঝতে পারবে না যে, আসলেই ধর্মশিক্ষা দেয়ার জন্য এটা হচ্ছে, নাকি বাচ্চাকে ধর্মের প্রতি বিরক্ত ও বীতশ্রদ্ধ করে তোলার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। কারণ, একই ধরনের আচরণ যে সাধারণ বাবা-মা থেকে শুরু করে মোল্লা-মৌলভী পর্যন্ত আল্লাহর বান্দারা অনেকেই করে থাকে। জীবনে আরো অনেক ছোটখাটো সাধারণ কাজ আছে যা আল্লাহর বান্দারা করে নির্দোষভাবে সাধারণ উদ্দেশ্যে বা উদ্দেশ্যহীনভাবে, আর শয়তানরা করে বৃহত্তর লক্ষ্য নিয়ে। যেমন, মানুষকে দাওয়াত করে খাওয়ানো— এটাও তারা করে নিছক নিজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা ভালবাসা লাভের জন্য নয়, বরং নিজের মতাদর্শ প্রচারের জন্য, কিংবা নিজের অন্যায়-অত্যাচারের পক্ষে মানুষের কাছ থেকে সমর্থন ও স্বীকৃতি লাভের জন্য। শয়তানের কোন কাজই তার বৃহত্তর মিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যের আওতার বাইরে নয়। যেখানে শয়তানরা বাচ্চা-কাচ্চাকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টার কোন ত্রুটি করে না, সেখানে আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে বাচ্চা-কাচ্চাকে আল্লাহর পথে ধরে রাখার কোন আগ্রহ বা প্রয়াস লক্ষ্য করা যায় না। যেখানে শয়তানরা কেউ একটা সেকেন্ড, একটা পয়সা বা এক ক্যালরি শক্তি ফাও খরচ করে না, সেখানে আল্লাহর বান্দারা তাদের সকল সময়, অর্থ আর এনার্জি খরচ করে যতসব আলতু-ফালতু কাজে। কোথায় গেলে দু’লাইন ইংরেজি শেখা যাবে, কোন কোচিংয়ে ভর্তি হলে পরীক্ষায় দু’টা নম্বর বেশি পাওয়া যাবে, কোন একাডেমিতে গেলে আর্টটা আরেকটু নিখুত হবে, কোন মাস্টারকে দিয়ে হাতের লেখাটা আরেকটু সোজা করা যাবে— এসব নিয়েই ২৪ ঘন্টা ব্যস্ত থাকে অভিভাবকরা। আপনার বাচ্চার উপর ইংরেজি বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে এমন নাভিশ্বাস উঠিয়ে দিচ্ছেন যে, সপ্তাহে একবার সূরা ফাতিহাটাও পড়ার ফুরসত হয় না। এখনকার যুগের আল্লাহর বান্দারা নিজেদের ও বাচ্চা-কাচ্চাদের জীবন ও শরীর-স্বাস্থ্য ক্ষয় করছে এমন সব কাজে, যা দিয়ে দুনিয়াতেও কোন লাভ হয় না, আখেরাতেও কোন লাভ হয় না। শুধুই একটু জাতে ওঠা, ফুটানি দেখানো, মানুষের কাছে গর্ব দেখানোই যে জাতির জীবনের লক্ষ্য; নিজেদের জান, মাল ও সন্তান-সন্তুতি সব যারা এসব অর্থহীন বিষয়ের জন্য উতসর্গ করে; সে জাতির উপর শয়তানের শাসন চেপে বসবে না তো কি খলীফা ওমরের (রা:) স্বর্গীয় সুশাসন নেমে আসবে? এমনকি যারা দ্বীনী শিক্ষার সাথে জড়িত আছেন, তারাও কোরআন-হাদীসের মৌলিক শিক্ষার চেয়ে যুক্তিবিদ্যা, ইমামদের এখতেলাফ এসব নিয়েই বছরের পর বছর রাতের ঘুম কামাই করে শরীরটাকে কষ্ট দেন। আমার তো মনে হয় না, এসব জিনিস পড়বার সময় ইবলিশ শয়তান সময় নষ্ট করে এগুলো থেকে মনোযোগ সরানো বা এগুলোর পাঠে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য দাগা দিতে আসবে।

    আমাদের এই বাংলাদেশে এখনকার আল্লাহর বান্দারা এতই আতেল যে, মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য মশার কাছেই অনুমতি চায়, মশার রাকেট হাতে নেবার আগে মশার কাছেই জিজ্ঞেস করে নেয় এটা অন করা যাবে কিনা, মশার কাছ থেকে দয়া নিয়ে শর্তসাপেক্ষে বৈদ্যুতিক চার্জ ছাড়া রাকেটটা একবার হাতে নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করতে পেরেই সান্ত্বনা বোধ করে। কেউ কেউ আবার ধর্মীয় বা জাগতিক দাবি-দাওয়া শয়তানের কাছ থেকেই আদায় করতে চায়, যাতে তাদের দীনতাই প্রকাশ পায়।

    শয়তানরা যখন আল্লাহর বান্দাদেরকে টিটকারি মেরে বলে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেছে, তখন আল্লাহর বান্দাদের আত্মসম্মানবোধ জেগে ওঠে এবং গর্বিতভাবে গর্জন করে ওঠে, এবার দেখা যাবে কে লেজ গুটায়। অথচ এটা যে ফাদে ফেলারই পরিকল্পিত উস্কানী, বিপর্যয় ঘটার আগ পর্যন্ত তা বুঝতেই পারে না। শয়তানরা যখন আল্টিমেটাম দেয় বাচতে চাইলে তাড়াতাড়ি ফিরে যান, তখন আল্লাহর বান্দারা কোন বাস্তব ও সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই পাল্টা বলে দেয়, আপনারা আগামীকাল সকালে কোন রাস্তা দিয়ে পালাবেন সে পথ দেখেন। অথচ আল্লাহর বান্দাদের বোঝা উচিত, শয়তানরা কখনো ফাকা বুলি আওড়ায় না, ফালতু কথা বলে না; বরং সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল ও ঘোষণা বাস্তবায়নের কার্যকর পরিকল্পনা পাকাপাকি করেই তবে বলে এবং যা বলে তা করে ছাড়ে। যে শয়তান স্বয়ং আল্লাহর সামনেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসেছিল, সেই শয়তানের অবতাররা আল্লাহর বান্দাদের সামনে নিছক কথার কথা বলবে, এমনটি মনে করার কোন কারণ নেই।

    আল্লাহর বান্দাদের অনেককেই দেখা যায় মিথ্যা সান্ত্বনা লাভের জন্য ফাকা বুলি আওড়ায় — অতীতে কেউ স্বৈরাচারী করে টিকতে পারেনি, বর্তমানেও পারবে না। কিন্তু তারা ভেবে দেখে না যে, অতীতে এদেশে যারা স্বৈরাচারী শাসক ছিল তারা ছিল আল্লাহর বান্দা। আর তাদেরকে হটাতে বিরোধী দলের আন্দোলনের পরিচালনা ও নেতৃত্বে ছিল শয়তানরা। আর এখন তো শয়তানরাই রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। আর বিরোধী দলে তো কেবল আল্লাহ পাকের সেই আনাড়ি বান্দারাই। তাহলে এখনকার এই শয়তান শাসকদের হটাবে কে? শয়তানের দলের নেতারা তো তাই যথার্থই গর্বের সাথে এই বাস্তব সত্যটি সংক্ষেপে ঘোষণা করছে — আম আর আমলকি এক নয়।

    শয়তানের পক্ষ যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে, তখন শিক্ষা ব্যবস্থা ও সংবাদ মাধ্যমগুলোকে নিজেদের মত করে ঢেলে সাজায়। যখন ক্ষমতার বাইরে থাকে, তখনও এনজিও আর সংস্কৃতিকর্মীদের মাধ্যমে শিক্ষা ও মিডিয়ার উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলার দায়িত্বহীন বান্দারা ক্ষমতায় আসলে শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধু নেতার ছবিটা পাল্টায়, আর মিডিয়াকে শুধু ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করে। জনমত গঠনের নিয়ামক এই প্রধান দুটি মাধ্যমে তাগুতী শক্তির আধিপত্য বজায় থাকায় শয়তানের দলটি কোন কোন সময় নিজেদের কার্যকলাপের কারণে জনগণের ঘৃণা ও বিরক্তির শিকার হলেও নিজেদের পছন্দের চিন্তা-চেতনা ও মতাদর্শের বীজ জনগণের অন্তরে স্থায়ী রাখতে পারার কারণে যেকোন সময় আবার নিজেদের হারানো জনসমর্থন ফিরে পাবার আশা রাখতে পারে। অর্থাত, রোগ সেরে গেলেও যাতে ভাইরাসের বীজাণু শরীরে থেকে যায় এবং সেই সুযোগে রোগের পুনরাবির্ভাবের সম্ভাবনা থাকে, সেই ব্যবস্থাই সার্থকভাবে করতে পারে শয়তানের দল।

    তালিম-তরবিয়ত ও দাওয়াতের ক্ষেত্রেও আল্লাহর বান্দাদের তুলনায় শয়তানদের পারফরমেন্স ভাল। আল্লাহ তার বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন হেকমত ও মিষ্টি কথার দ্বারা দ্বীন শিক্ষা ও দ্বীনের দাওয়াত প্রদান করতে। কিন্তু আল্লাহর এ নির্দেশিত এ পন্থাটি আল্লাহর বান্দাদের পরিবর্তে এখন শয়তানরাই বেশি অনুসরণ করছে। শয়তানরা তাদের ধর্ম ও সংস্কৃতি শিক্ষাদান ও প্রসারের জন্য, নিজেদের মতাদর্শের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করবার জন্য হেকমত ও মধুর ব্যবহারকেই অবলম্বন করে। আর আল্লাহর বান্দারা মনে করে, আল্লাহর কালাম শেখানোর সময় শয়তান আসে, তাই পিটান ছাড়া শয়তান তাড়ানো যায় না! [যেন অনেকটা পিটিয়ে জিন তাড়ানোর মত] মক্তবের হুজুররা তো বেতের ব্যবহার ছাড়া বাচ্চাদেরকে ‘আলিফ-বা’ও শেখাতে পারেন না। কওমী মাদ্রাসায় তো যে হুজুর ছাত্রদের যত বেশি পিটিয়ে তক্তা বানাতে পারবেন, যাকে ছেলেরা যত ভয় করবে, তিনি তত বড় বাহাদুর ও সম্মানিত হবেন। নামাজের জামাতের রাকাত মিস গেলে শাস্তি পেতে হবে এই ভয়ে কেউ কেউ বিনা অযুতে বিনা গোসলে জামাতে শরীক হবার নজিরও নাকি আছে কোন কোন মাদ্রাসায়। হেকমতের সাথে ধর্ম প্রচারে আল্লাহর ধর্মের লোকদের চেয়ে শয়তানদের ধর্মের অনুসারীরাই বেশি অগ্রণী। এমনও নাকি দেখা গেছে, মৌলভী সাহেবকে দেখে ছেলেপেলে সব দৌড়ে পালায়, কিন্তু পণ্ডিত মশাই বা ফাদারকে দেখে ছেলেপেলেরা দৌড়ে এসে কোলে চড়ে বসে। অবশ্য তাই বলে আল্লাহর বান্দারা সবাই যে হেকমতকে একদম ভুলে বসে আছে তা নয়। অন্যায়ের সাথে আপোসের ক্ষেত্রে বা শয়তানদের দলের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে চলতে হেকমতের শরণাপন্ন হতে অনেককেই দেখা গেছে। তবে এ ধরনের হেকমত নিজের বা মানুষের কোন দ্বীনী বা দুনিয়াবি কল্যান বয়ে আনার পরিবর্তে নিজেদের জন্য ফাসির রজ্জুটাকেই কাছে টেনে আনে, আর দেশবাসীর জন্য নিয়ে আসে বুলডোজার নামক নতুন এক অভিনব উপহার।

    শয়তানদের সবচেয়ে বড় গুণ হল, শত্রু-মিত্র চিনতে ভুল করে না। একজন শয়তান আরেকজন শয়তানের চোখে চোখ পড়তেই চিনে নেবে, এ তো নিজেদেরই লোক। অপরদিকে আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা হল, কেউ যদি সাগর-মহাসাগর পাড়ি দিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করে আন্তরিকভাবে আল্লাহর ওয়াস্তে তাদেরকে সাহায্য করতেও এগিয়ে আসে, তবু তাকেও গুপ্তচর সন্দেহ করে গলা কেটে দেয়। “গুপ্তচর না হোক, অন্তত শত্রু দেশের একটা নাগরিককে তো পাওয়া গেল”- এই ভেবে বিজয় উল্লাস উদযাপন করে আর ভাবে— একটা কাজের কাজ করেছি বটে! মারার আগে একটাবার অনলাইনে সার্চ দিয়ে বেচারার আসল পরিচয়টা জেনে নেবারও প্রয়োজন মনে করে না এই গর্দভরা। ওদিকে যারা সত্যিকারেই শত্রুপক্ষের গুপ্তচর, তারা কিন্তু ঠিকই এদেরকে পাম-পট্টি দিয়ে তোষামোদ করে সবচে বিশ্বস্ত আপনজন হিসেবে বিবেচিত হতে সক্ষম হয়, এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে গোয়েন্দা প্রধানের দায়িত্বটাও বাগিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, অনেক সময় আল্লাহর বান্দাদের দলে অনুপ্রবেশকারী শয়তান গুপ্তচররা দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বিভ্রান্ত করে ভাল লোকদেরকেই গুপ্তচর সাজিয়ে চরম দণ্ডে দণ্ডিত করাতে সক্ষম হয়। তাই বলে আল্লাহর বান্দারা কিন্তু কোনদিন ‘চোরের উপর বাটপারি’ করে শয়তানদেরকে ধোকা দিয়ে বোকা বানাতে পারবে না। আল্লাহর বান্দারা যদি গুপ্তচরবৃত্তির জন্য শয়তান মহলে যায়— তা সে তথ্য সংগ্রহের জন্য হোক বা শত্রুকে মিসগাইড করার জন্য হোক; হয় ধরা পড়ে যাবে, অথবা প্রেমের অভিনয় করতে গিয়ে নিজেরাই প্রেমে পড়ে যাবে।

    যেকোন গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শয়তানরা সবসময় মতাদর্শকেই প্রাধান্য দেয়। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি কমবেশি থাকলেও এর জন্য তারা মূলনীতি ও আদর্শপ্রীতিকে বিসর্জন দিয়ে কিছু করবে না। সমমনা ছাড়া কারো হাতে আমানত অর্পণ করবে না। অপরদিকে এ যুগের আল্লাহর বান্দারা রাষ্ট্রীয় বা দলীয় কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম আত্মীয়তা বা টাকার লেনদেনকেই প্রাধান্য দেয়। তবে আল্লাহর খাটি বান্দাদের অবস্থা এরূপ নয়। আমাদের নবীর সাহাবীরা কিন্তু সবক্ষেত্রে আদর্শকেই প্রাধান্য দিতেন। আত্মীয়তা বা বন্ধুত্বের জোরে কেউ তাদের কাছে পদ বা বাড়তি সুযোগ-সুবিধা লাভ তো দূরের কথা, শরীয়তের দণ্ড থেকেও অব্যাহতি পেত না। তাইতো মাত্র লাখ দুয়েক মানুষ অর্ধ দুনিয়া জয় ও শাসন করতে পেরেছিলেন।

    যদি কখনো দেখতে পান, রাজনৈতিক কারণে ক্ষমতার লড়াইয়ে আল্লাহর বান্দাদের একটি দল শয়তানের দলের সাথে এক ঘাটে জল খাচ্ছে, তখন নিশ্চিতভাবে ধরে নেবেন, ভুলটা নিশ্চয় আল্লাহর বান্দারাই করছে। কারণ, ‘ভুল’ বলে কোন শব্দ তো শয়তানের অভিধানে থাকার কথা নয়। যদিও উভয় দলের প্রত্যেকের লক্ষ্য ক্ষমতার চাবিকে নিজ নিজ পকেটে ঢোকানো; কিন্তু একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন, কোন দলটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বাস্তব পরিকল্পনার ভিত্তিতে, আর কোন দলটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে নিছক অবাস্তব দুরাশার ভিত্তিতে। আর এমন ঘটনার পরবর্তিকালের তাতক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী ফলাফলগুলো দেখলে তো আর কিছু নতুন করে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন পড়বে না।

    নিজেদের জন্য কোন্ ইস্যু বা পন্থা উপযোগী হবে, সেটাও নির্ধারণ করতে পারে না আল্লাহর বান্দারা। নিজেরা কিছু ঠিক করতে না পেরে শয়তানদের অনুকরণ করতে গিয়ে ধরা খায়। যেমন ধরুন, মুক্তিযুদ্ধ, জংগি দমন এগুলো হলে ইসলামের শত্রুদের ইস্যু। তাই এসব ক্ষেত্রে শয়তানরাই টপে থাকবে। আল্লাহর বান্দারা কোনদিনই এগুলোর কৃতিত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা করে শয়তানদেরকে টপকাতে পারবে না। আর যদি পেরেও থাকে, এর দ্বারা শয়তানের পারপাস সার্ভ হওয়া ছাড়া আর কিছুই হবে না। কারণ, নিজের হাত কেটে আর শত্রুর হাত শক্তিশালী করে কেউ লাভবান হতে পারে না। আবার ধরুন, মানুষের জান-মালের ক্ষতি করে যুদ্ধে জেতা হল শয়তানের খাস রণকৌশল। কারণ, মানুষের ক্ষতিতে শয়তানের কোন লস নেই, বরং মানুষের যত ক্ষতি হবে, ততই শয়তানের লাভ। তাই মানুষকে ভুগিয়ে ক্ষমতায় যেতে, ক্ষমতায় থাকতে, রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে কেবল শয়তানের দলই সফল হতে পারে। পক্ষান্তরে আল্লাহর বান্দাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহর আনুগত্য ও মানুষের কল্যাণ। মানুষের দীর্ঘশ্বাস নয়, বরং মানুষের দোয়াই হতে পারে আল্লাহর বান্দাদের উপকারী সম্বল। শয়তানরা যে পন্থায় বা যে পথে সফল হতে পারে, আল্লাহর বান্দারা সে পন্থায় বা সে পথে সফলতা পাবে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইবরাহীম (আ:)-কে পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে অগ্নিকুণ্ড প্রজ্জলিত করার প্রয়াস ব্যর্থ হবার পর ইবলীস শয়তানের পরামর্শে নারী-পুরুষ উলংগ অবস্থায় প্রকাশ্যে যেনার আয়োজন করে রহমতের ফেরেশতাদের তাড়ানোর বন্দোবস্ত হয়েছিল। এ থেকে বোঝা যায়, যেকোন শয়তানী কাজ কেবল ফেরেশতা তাড়াতে এবং শয়তানের আগমন ঘটাতে সহায়ক হয়। এখন আপনারাই বলুন, ঐ ধরনের কৌশল দিয়ে কি আল্লাহর বান্দারা আদৌ কোন ফায়দা হাসিল করতে পারবে? ইবরাহীমের দল কি নমরূদের দলের কৌশল অনুসরণ করতে পারে? শয়তানরা কিন্তু অন্যের কলাকৌশল অন্ধভাবে বিনা বাছবিচারে অনুসরণ করে না, যাচাই বাছাই করে নেয় — নিজেদের জন্য উপযোগী বিবেচিত হলেই কেবল সেটা গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহর বান্দারা নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য লাভ করলে তার দেখাদেখি শয়তানরা নিশ্চয়ই অজু-গোসল করে জায়নামাজে বসে পড়বে না। কারণ, শয়তানরা ভাল করেই জানে, আল্লাহর রহমত ও সাহায্য কেবল আল্লাহর বান্দাদের জন্যই খাস। আর আল্লাহর এবাদত

  19. 27
    এস. এম. রায়হান

    মিয়ানমারে উগ্র বৌদ্ধদের হামলায় জাতিসংঘ প্রতিনিধি আহত

    মিয়ানমারে এবার উগ্র বৌদ্ধদের হামলার শিকার হয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টমাস ওজেয়া কুইন্টানা। দেরিতে পাওয়া এক খবরে জানা গেছে, গত বুধবার মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল একদল বৌদ্ধ। কুইন্টানা গত বুধবার ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিয়ানমারের মেইকটিলা শহরে মুসলমান বিরোধী দাঙ্গার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গেলে প্রায় ২০০ ক্ষুব্ধ বৌদ্ধের একটি দল তার গাড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার কারণে এ হামলায় তার কোনো ক্ষতি হয়নি। গত মার্চ মাসে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় মেইকটিলা শহরে উগ্র বৌদ্ধদের মুসলিম বিরোধী দাঙ্গায় অন্তত ৪০ জন মুসলমান নিহত হন। বৌদ্ধরা মুসলমানদের শত শত ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং হাজার হাজার মুসলমান সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসেন। গত এক বছরের দাঙ্গায় কয়েক হাজার মুসলমান নিহত ও লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হন। বিবিসি অনলাইন, এএফপি।

    গত বছর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন প্রদেশের  রোহিঙ্গা মুসলমানরা উগ্র বৌদ্ধদের বর্বরতার শিকার হলেও এ বছর মেইকটিলা শহরে অ-রোহিঙ্গা মুসলমানরাও আক্রান্ত হন। কুইন্টানা তার ১০ দিনব্যাপী মিয়ানমার সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সেদিনের হামলার সময় আমি যে বিষয়টি অনুভব করেছি তা হলো স্থানীয় পুলিশ আমার সাহায্যে মোটেও এগিয়ে আসেনি। আমি এটি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছি, গত মার্চ মাসে এই বৌদ্ধরা যখন নিরস্ত্র মুসলমানদের ওপর হামলা চালিয়েছে তখন তাদের অবস্থাটা কেমন হয়েছিল। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইয়ে হাতুত অবশ্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এ বিশেষ প্রতিনিধির অভিযোগের ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কুইন্টানার জীবন এক মুহূর্তের জন্যও বিপদের মুখে পড়েনি। হাতুত বলেন, বৌদ্ধদের ওই দলটি জাতিসংঘের প্রতিনিধিকে একটি চিঠি ও একটি টি-শার্ট দিতে  চেয়েছিল। কাজেই কুইন্টানা যা বলেছেন বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। ২০১২ সালের জুন মাসে মিয়ানমারের নিরপরাধ মুসলমানরা উগ্র  বৌদ্ধদের নৃশংস হামলার শিকার হন। তখন থেকে টানা প্রায় এক বছর ধরে সমগ্র মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর বৌদ্ধদের বর্বরতা চলতে থাকে।

    মিয়ানমারের সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী মুসলমানদের জান-মাল রক্ষার পরিবর্তে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গায় বৌদ্ধদের সহযোগিতা করে। কোথাও কোথাও মুসলমানদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে  দেয়ার জন্য সরকারি সেনারা কেরোসিন ও পেট্রোল সরবরাহ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একাধিকবার বিবৃতি প্রকাশ করে উগ্রবাদীদের হাত থেকে মুসলমানদের রক্ষা করার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

  20. 26
    সুজন সালেহীন

    নির্যাতিত, নিপীড়িত মানব সন্তানগুলোর ছবি দেখে আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আজকের এই সভ্য পৃথিবীতে কিভাবে এমন বন্য, খুনে বর্বর দেশ থাকতে পারে! তাদের স্কুলে কি নৈতিকতা শিক্ষার চর্চা হয়না? তাদের সমাজে কি বিবেকসম্পন্ন লোক নেই? এমনভাবে চললে তো তারা তাদের প্রতিবেশী সংখ্যাসঘুদের খতমের পর এবার নিজেদের মধ্যে খুনাখুনি শুরু করে দিবে! কারণ রাষ্ট্রের তরফ থেকে খুনের নেশা উত্সাহিত হলে, এটা সে জাতির বংশ পরম্পরায় অস্হিমজ্জায় হয়ে যাবে। প্রকৃতি কিন্তু একদিন এ বর্বরতার প্রতিশোধ নিবেই! এর থেকে আমরাও রেহাই পাব না! সুতরাং আমাদের উচিত যার যার অবস্হান থেকে মানবতার বিরুদ্ধে এই নৃশংসতাকে থামানোর চেষ্টা করা।

  21. 25
    এস. এম. রায়হান

    মিয়ানমারে ‘নৃগোষ্ঠী নিধন’ চলছে: এইচআরডব্লিউ
     
    মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘নৃগোষ্ঠী নিধন অভিযানে’ নেমেছে বলে অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বলেছে, হত্যা, নির্যাতন, নির্বাসন, জোর করে স্থানান্তরসহ নানা অপরাধের শিকার হচ্ছে রোহিঙ্গারা। এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দেশটির কর্মকর্তা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতা ও বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সরাসরি জড়িত। তাঁরাই এসব অপরাধে নেতৃত্ব কিংবা উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে উসকে দিচ্ছেন।
     
    নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি গতকাল সোমবার একটি প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ করেছে। তারা বলেছে, মুসলমানদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যার সময় নিরাপত্তা বাহিনী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে। কখনো কখনো উচ্ছৃঙ্খল জনতার সঙ্গে মিলে অপরাধ করছে। এইচআরডব্লিউ বলেছে, রাখাইন রাজ্যে চারটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী হত্যার প্রমাণ মুছে ফেলতে নিহত ব্যক্তিদের এসব কবরে পুঁতে ফেলে।
     
    এইচআরডব্লিউর এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং তাদের সহযোগিতা বন্ধের মাধ্যমে মিয়ানমারের সরকার নৃগোষ্ঠী নিধন অভিযানে নেমেছে।
     
    তবে রাখাইন রাজ্যের সরকারি মুখপাত্র উইন মিয়াং বলেন, এইচআরডব্লিউর তদন্তকারীরা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেননি। সরকার হামলার বিষয়টি আগে জানতে পারেনি। অস্থিতিশীলতা রোধে সরকার নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছিল। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, সরকার এ রকম একপেশে প্রতিবেদনে পাত্তা দেবে না।
     
    রবার্টসন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সব দাতাগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন আনায়নে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাখাইন পরিস্থিতি জিইয়ে রাখলে তা শেষ পর্যন্ত দেশটির গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
     
    এইচআরডব্লিউ বলেছে, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য সোয়া লাখ মুসলমানকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তারা কোনো মানবিক সাহায্য পাচ্ছে না, আবার বাড়িতেও ফিরতে পারছে না। সরকারি তথ্যমতে, ২০১২ সালের জুনে রাখাইনে বৌদ্ধ-মুসলিমদের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর এ পর্যন্ত ২১১ জন নিহত হয়।
     
    শতাধিক ব্যক্তির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে এইচআরডব্লিউ। তাঁরা বলেছেন, রাখাইনে চারটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে।

    সহিংসতার ভিডিও প্রকাশ: বিবিসি গতকাল একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, মিকতিলা এলাকায় মুসলমানদের ওপর হামলা চালাচ্ছে বৌদ্ধরা। তাতে ভিক্ষুরাও অংশ নিয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল পুলিশ।
     
    ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, উচ্ছৃঙ্খল জনতা এক মুসলিম ব্যক্তির মালিকানাধীন সোনার দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করছে। পরে তাঁর বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। সেই আগুনের মাঝখানে এক ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় পাশের লোকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘তাঁকে কেউ পানি দিও না, মরতে দাও।’
     
    আরেকটি দৃশ্যে দেখা যায়, একদল দুর্বৃত্তের হাতে ধরা পড়ার পর এক যুবক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। দুর্বৃত্তদের দলে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুও রয়েছেন। ওই যুবককে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। ওই যুবক মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছেন। একপর্যায়ে এভাবেই তিনি মারা যান। এএফপি।
     
    সূত্র: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-04-23/news/346882

  22. 24
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    পড়লাম। 
    কি বলবো -- এতো বড় অন্যায় পৃথিবীর এক পাশে হয়ে যাচ্ছে -- ভাবতে কষ্ট হয়। 
     
     

    1. 24.1
      শাহবাজ নজরুল

      পড়া ও মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ জিয়া ভাই।

  23. 23
    Muhammad Shafi

    We must do something, especially whose who are outside Bangladesh.
     
    1. File petition to the of United Nation …… to action to stop this  genocide.
     
    2. Send letters to all Embassys/Consulate of Muslim countries in USA/Canada/  Australia … where ever we are .. (for example if we are in  USA, then  send letter to Muslims Consulates in Washington DC…,  so on)

    3. ALso we  send letters (I mean a lot of people ) to the  Bangladeshi Consulates  in our country (who are in USA , send letter to Embassy of Bangladesh in Washington DC..)
     
    4. Make a lot of (I mean A lot of)  videos of all the genocide in Burma and put it in under different names  like torture, human genocide, Muslim killing, innocent killing etc.   and put it on YOUTUBE.. so that billions of people on the globe can see that   so the world can be awrae of what is going in Burma….
     
    5. Make arrangement of sending our Zakat and sadaqah money to Rohinga Muslim .. monetary help .. whcih they need right now. 
     
    6. Use internet and youtube as a means for getting the words outside the world ,,.. this is  a very effective tools we msut use it.
     
    7. Most of us are very educated .. use your talent and education for humanity…
    8. If we are silent .. do nothing .. them SHAME on us…

  24. 22
    Monir Uddin Ahmed

    কিন্তু বিডালের গলায় ঘন্টা বাধ বে কে? ওদের পাশে দাড়াচ্ছে কে? তুরস্ক, ইরান, ওয়াইসি? তবে ভিতর থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলতে না পারলে বাইরে থেকে ত্রাণ  দিয়ে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হবে না। 

    1. 22.1
      শাহবাজ নজরুল

      জাতিসংঘ, ও আই সি, তুরষ্ক, সৌদি আরব সহ এমনকি মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্রও এই ইস্যুতে মুখ খুলেছে। আশ্চর্যজনক ভাবে হলেও প্রতিবাশী দেশ বাংলাদেশে এই নিয়ে মাথাব্যাথা নেই। এইটাই আমাকে পীড়িত করে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে আমরা প্রতিবেশী ভারতের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছি। এখন সারা জীবনের সম্পত্তি ছেড়ে কেবল জানটা নিয়ে কোনোমতে সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের সীমানাতে এসে পৌঁছুলেও তাদের আবার পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে মৃত্যুমুখে। সাথে অবশ্য দিচ্ছে একটা করে রুটি আর এক বোতল পানি -- এটা আবার সরকার ফলাও করে বলছেনও। যাইহোক, আমাদের আপাতত রোহিঙ্গাদের করুণ অবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে -- অপরকে তা জানাতে হবে। আর সাথে সাথে গড়ে তুলতে হবে জনমত। যাতে আশু সম্ভাব্য এই গণহত্যা রোধ করা যায়।
       

  25. 21
    শামস

    মিয়ানমার এর প্রেসিডেন্ট থিয়েন সেন এর অবস্থা দেখেনঃ
     
    Thein Sein is ST's Asian of the Year
     

  26. 20
    ডঃ হাবিব সিদ্দিকী

    Here is a link to a documentary on the forgotten Rohingyas of Myanmar-

    1. 20.1
      শামস

      কি ভয়ঙ্কর! 

  27. 19
    ডঃ হাবিব সিদ্দিকী

    As to the question by a reader on other Muslims in Burma, my old articles can help. Here is a link. The link here will also help our readers to understand the problems faced by them under the previous administrations.

  28. 18
    ডঃ হাবিব সিদ্দিকী

    Thanks to Shahbaz Nazrul for translating my original work on the Genocide of the Rohingyas of Myanmar. I hope this translation would allow Bengali speaking people around the globe to have a better understanding of the major genocidal campaign that has been slowly but steadily continuing for quite some time. I also pray and hope that the readers would share this article with others so that we can stop this serious crime. Surely, our posterity will not forgive us, if we fail to stop this extinction campaign against the most vulnerable people of our time who are denied all the rights we so often take for granted. As the most discriminated and persecuted people in our time, they need all our help.
     
     

  29. 17
    মাহমুদ

    অনেক কথা বলার ছিল, আরেক সময় হবে ইনশাআল্লাহ। 
    তবে সংক্ষেপে এতটুকু বলি:  রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমারা পরাজিত। রোহিঙ্গাদের চাইতে বেশি অভাগা এ ক্ষেত্রে আমরা । শরনার্থীদের সুযোগ না দেয়ায় আমরা যে কয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি তার একটি নমুনা:
    ১- মানবিক ভাবে যে কোন বিপর্যয়ের  মুখে পড়লে জাতি স‌‍ংঙ্ঘের   মানবিক সাহায্য থেকে বঞ্ছিত হতে পারি। 
    ২-রোহিঙ্গাদের জন্য শরনর্থী ভাতা দেশের অর্থনীতিতে স্থায়ী ভুমিকা রাখত। 
    ৩- িরোহিঙ্গাদেরকে পাসপোর্ট না দিয়ে হলুদ শরনার্থী  পাস দিয়ে   আমাদের দেশীয় ভাবমুর্তি ও  আন্ত কর্মসংস্থান  সমস্যায়  অনধিকার চর্চা থেকে বিরত করণ। বিপরীতে দূর্নীতির আশ্রয় ও আমাদের প্রশ্রয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা  আমাদের পাসপোর্ট গ্রহণ করে দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করে, এমনটি হতো না যদি আমরা ফিলিস্তিনীদেরকে মিশর যেমন আলাদা কার্ড ও  পাসপোর্ট ইস্যু করেছে আমরাও তেমন করলে। 
    ৪- বাংলাদেশে মধ্যপ্রাচ্যের   শ্রমবাজারে   কোনঠাসা হত না, বরংচ   আরো বেশি বেতন ভাতা দাবী করতে পারতো, যা কিনা রহিঙ্গাদের দ্বারা নষ্ট হয়ে আসে। 
    ৫- রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে  প্রতিরোধ করার শক্তি প্রদান। 
    ৬ --  গুপ্ত চুক্তির মাধ্যমে  সামরিক ও  অর্থনৈতিক  ও খনিজ ও  ইন্ড্রাস্টিলাইজ করে আরকান অঞ্চলকে উন্নত ও   আমাদের ঘনবসতিকে সে অঞ্চলে কর্মপ্রদান ও  ইউটিলাইজ করা।  
    ৭ -- এ সকল বিষয়গুলোতে    আন্তর্জাতিক ইনভেস্ট রয়েছে তা আমরা ব্যাবহার করতে পারতাম । বিশেষত জাতিসংঙ্ঘের শরনার্থি  তহবিল,  আরব বিশ্বের তহবিল  আরো কত কি। 
    সব খুয়েছি । 

    1. 17.1
      শাহবাজ নজরুল

      আপনার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

  30. 16
    শামস

    আপনার লেখায় দেখলাম মায়ানমারের সাথে ভারতসহ এশিয়ার অনেক দেশের ব্যবসাপাতির খবর। মায়ানমারের সামরিকজান্তা কিন্তু সমাজতান্ত্রিক, চীনের সাথে কোলাকুলি! ভারত ইদানীং বেশ ভালো ইনভেস্ট করছে। তবে এসবের বাইরে মায়ানমার আসিয়ান নামক দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠনের সদস্য। তাদের নাকে ডগায় এসব অপকর্ম করে কিভাবে? আসিয়ান কিন্তু আমাদের সার্ক এর মতো না, তুলনামূলকভাবে অনেক শক্তিশালী, বিশেষত ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। এসব দেশের সদস্যদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়শিয়ার মতো মুসলিম দেশও আছে। তাদের ভুমিকাই বাঁ কতোটুকু?
    তবে এটাও ঠিক, রোহিঙ্গাদের প্রতি করা এই অন্যায় আন্তর্জাতিকভাবে অতোটা হাইলাইটেড না, হতে পারে একটু দূরদেশে মানুষ অতোটা জানে না। তাদের মধ্যে শিক্ষার হার কম, ভালো নেতারও অভাব থাকতে পারে। সে তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিনের সমস্যা অনেক বেশী আলোচিত। কারণ যারা ভুক্তভোগী প্রথম প্রতিবাদটা তাদের কাছ থেকে আসতে হয়, সেটা কেবল শারিরীক যুদ্ধ না, কলম ও মেধার যুদ্ধও। ফিলিস্তিনীরা সেটাতে অন্যান্য ট্রাবলড জনগোষ্ঠীর থেকে এগিয়ে, তাদের কথা খুব বেশী শোনা যাওয়ার এটাও একটা কারণ। আন্তর্জাতিক মুসলিম সংগঠনগুলোকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিক্ষা বিকাশে কিছু একটা করা উচিত, যাতে তারা তাদের দাবীকে আরো শক্তিশালী করতে পারে।
     

  31. 15
    শামস

    আপনি অথবা হাবিব সিদ্দিকী সাহেব যে কেউ একজন যদি জানাতে পারেন- বার্মাতে রাখাইন রাজ্য ছাড়া রাজধানী ইয়াঙ্গুনেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম থাকে। বার্মিজরা কি তাদের সাথেও একই আচরণ করে?
    রোহিঙ্গারা ধর্মের দিক থেকে মুসলিম, কিন্তু তারা একটি আলাদা জাতিসত্বা! তাদের সাথে আমাদের বাঙ্গালীদের মিলই বেশী, বার্মিজরাও তাদের বাঙ্গালী টেররিস্টই (!) বলে, মুসলিম টেররিস্ট বলছে না। মুসলিম পরিচয়কে একপাশে রেখে হলেও, তাদের এই বাঙ্গালী ট্রেস এর কারণে আমাদের মানবতাবাদীদের আরো উচ্চকন্ঠ হবার দরকার ছিল, উলটা আমরা আমাদের দরজাটাই বন্ধ করে দিয়েছি আর তাতে মানবতাবাদীদের কি জোড়ালো সমর্থন! তাদের মানবতা এখন ৫৫ হাজার বর্গমাইলে আটকাইয়া গেছে। তবে মাঝে মাঝে বর্ডারের বাইরেও একটু উপচাইয়া পড়ে। মালালা'রে নিয়ে সেটাই দেখা গেছে!
     

    1. 15.1
      শাহবাজ নজরুল

      হ্যাঁ মোটা দাগে হয়ত সার্বিক মুসলিমদের থেকে রোহিঙ্গাদের কিছুটা হলেও আলাদা করে দেখা হয় -- এর মনে হয় বেশ কিছু কারণ আছে। একে আছে ঐতিহাসিক পটভূমি -- অন্য মুসলিমরা মূলত ভারতের অন্যান্য জায়গাগুলো থেকে এসেছেন ব্রিটিশ অনুশাসন শুরু হবার পর থেকে, কিন্তু আরাকানে বাঙ্গালী ঐতিহ্যের মুসলিমরা গেছে অনেক আগেই -- এই লেখাতে যেভাবে বলা হলো হিন্দু রাজা চন্দ্রদের আমল থেকেই। হাজার বছর আগে যারা আরাকানে গিয়েছিলেন বাংলা থেকে তাদের বেশীর ভাগই কিন্তু হিন্দু ছিলেন -- এদের অনেকেই কালক্রমে মুসলিম হন। ঐদিকে আরব থেকে সুফি সাধক সহ ধর্ম প্রচারকরা যখন চট্টগ্রাম সহ বাংলাতে আসেন সেই একই সময়ে তারা গিয়েছেন আরাকানেও। তখন আরাকানে থাকা অনেকেই মুসলিম হতে থাকেন। এরপরে নারামেইখলা এর সময় ৫০ হাজার সৈন্যের আরাকানে প্রবেশ করাতে মুসলিমরা ওখানে ভালো অবস্থানে আসেন। ঐ সময় আরাকান ছিল পুরো স্বাধীন। তারা তখন বর্মী আক্রমণ এর ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকতো। চট্টগ্রামের বাংলা কবি আলাওল ও দৌলত কাজী কিন্তু আরাকানেই বেশীরভাগ জীবন কাটান। স্বাধীন আরাকানে মোগল সম্রাটের ভাই সুজাও গিয়েছিলেন রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে। এভাবে ইতিহাসের পরম্পরা দেখলে দেখা যায় আরাকান এর সাথে বাংলার সম্পর্ক সব-সময়ই ছিল। ঐদিকে কোম্পানী উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে বার্মার দখল নিলে আরাকানকে ব্রিটিশ বাংলার সাথে প্রশাসনিক ভাবে যুক্ত করা হয়। তখন থেকে বাংলা আর আরাকানের যোগাযোগ অনেক বেড়ে যায়। রাখাইন ও বাঙ্গালীরা তখন অবাধে এপার-ওপার যান, কেননা এটা তখন প্রশাসনিক ভাবে একই অঞ্চল। এখনো কক্সবাজারে বার্মিজ মার্কেট আছে, ওখানে অনেক রাখাইনরা আছেন -- তারা সেই আমল থেকেই বাংলাতে বাস করছেন। তেমনিভাবে টেকনাফেও অনেক রাখাইন আছেন। কিন্তু দেশ বিভাগ হলে যারা যে অংশে পড়েছেন (১৯৪৭-৪৮) তারা সেই অংশেরই নাগরিক হয়ে যান। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বার্মার ১৯৮২ সালের নিবর্তন মূলক নাগরিকত্ব আইনে বলা হচ্ছে ১৮২৭ সালের কোম্পানীর অধিগ্রহণের পরে সকল বাঙ্গালী অর্থাৎ রোহিঙ্গারা আরাকানে আসেন -- তাই তারা  সবাই বহিরাগত। কোনোভাবেই এটা গ্রহণযোগ্য যুক্তি নয়। প্রথমত ১৮২৭ সালে আসলেও বার্মা স্বাধীন হয় ১৯৪৮ সালে। ততদিনে রোহিঙ্গারা ঐদেশেই থেকেছেন ১২০ বছর। তাই ওটাই তাদের দেশ। আর তাছাড়াও ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় গেলে দেখা যাচ্ছে এমনকি ১৭৯৯ সালের গনশুমারীতেও রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন ছিল। আর নারমেইখলা ও আরও আগের চন্দ্রদের আমলে গেলে তো রাখাইন ও বর্মীদেরই বহিরাগত প্রমাণ করা যায়। আসলে সবই হচ্ছে জাতিবিদ্বেষী চাল-চলন, অযৌক্তিক কথা। এসব শীবের গীত গেয়ে রোহঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি থেকে বের করে দেয়া যাবেনা।
      বাকী মুসলিমরা যারা ভারত থেকে এসেছেন তারা স্পষ্টতই এসেছেন ১৮৫০ বা তারো পরে। ওদের নিয়ে আপাতত প্রশ্ন না তোলা হলেও হয়ত একসময় তোলা হবে। এখানে আঞ্চলিক রাজনীতিও জড়িত। বর্মীদের সাথেও রাখাইনদের অনেক সংঘাত আগে ঘটেছে। তাই সার্বিক সমস্যাটা অনেক জটিল। মগ (রাখাইন) রা নিজেদের দেখে মুসলিম প্রসারণ রোধে অগ্রণী সৈনিক হিসেবে -- অর্থাৎ ইসলামের পূর্বমূখী সম্প্রসারনে তারাই সীমান্তরক্ষী। সেজন্যে অনেক আগে থেকেই রোহিঙ্গা রাখাইন সমস্যা রয়ে গেছে। ঐদিকে নীচে হাবিব সিদ্দীকি কিছু লিঙ্ক দিয়েছেন পড়ে দেখুন।
       

  32. 14
    শামস

    রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নাই, তাই সুচির কাছেও তাদের দাম নাই! সুচি শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পর তাকে শুধু ভোটের দিকে তাকালেই হবে না বিশ্ব জনমতের দিকেও তাকাতে হবে। তাদের স্বৈরাচারী সরকারকে বলে লাভ নেই, যা কিছু করার সুচির মাধ্যমেই করতে হবে। তাকে উপলক্ষ্য করে সামরিক জান্তা কিন্তু পাশ্চাত্য থেকে অনেক সুবিধাই নিচ্ছে!

    1. 14.1
      শাহবাজ নজরুল

      আপনার মতামতের সাথে একমত। এখানে সু চি কে দিয়েই যা করার করতে হবে। কিন্তু এটা বড়ই আশ্চর্যের ব্যপার যে সু চি, যিনি নিজের লোকদের জন্যে গণতন্ত্রের সংগ্রাম করছেন, তিনিই আবার তার নিজের দেশের বিশাল একটা অংশের গণতান্ত্রিক ক্ষমতা তো দুরে থাক -- নাগরিকত্বও নাই এটা নিয়ে কোনও কথাই বলছেন না। এটা কেমন হলো? তবে রোহিঙ্গাদের এই দুর্দশার সময়ে আশ্চর্যজনক ভাবে হলেও যুক্তরাষ্ট্র পাশে দাঁড়িয়েছে। ওবামা তার বার্মা সফরে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কয়েক লাইন হলেও কথা বলেছেন। এই আশু গণহত্যা ঠেকাতে আমরা যারা বহির্বিশ্বে আছি -তাদেরকেই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে -- রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করার শর্ত জাতিসংঘ সহ বহির্বিশ্বকেই দিতে হবে ও তা মনিটর করতে হবে। এই দলিত গোষ্ঠীকে রাখাইনরা কোনোই অধিকার দেবে না, যদি না তা অন্যভাবে আদায় করে না নেয়া হয়।
       

  33. 13
    শাহবাজ নজরুল

    রোহিঙ্গা গণহত্যার ব্যপারে আল-জাজিরার করা ডকুমেন্টরিটি  দেখুন-

  34. 12
    শাহবাজ নজরুল

    আপাতত পিটিশনে স্বাক্ষর করুন, অন্যদেরও স্বাক্ষর করতে অনুপ্রাণিত করুন। রোহিঙ্গাদের পক্ষে জনমত গড়ে তুলুন …

  35. 11
    Enamullah

    This is a vivid picture of the persecution on Rohingyas in Arakan, Burma. The transaltion is appealing. This will be able to make understand the reader true story of persection on Rohingyas. This is a tremendous job done by both writer Dr. Habib Siddiqui and transaltor Shabaz nazrul. The Rohingyas will remain indebted to both of them.

    1. 11.1
      শাহবাজ নজরুল

      Thanks for your kind response. Please share it to your acquaintances.
       

  36. 10
    সরোয়ার

    জাতিসংঘ-সহ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতামত অনুসারে রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে অসহায় ও নির্যাতিত জাতি।

     
    লেখাটি পড়ে স্তব্ধ হয়ে গেছি। আমাদের প্রতিবেশী দেশে এরকম ঘটনা ঘটছে যা আমাদের অগোচরে রয়ে গেছে। নিপীড়িতরা যে দেশেরই হোক না কেন তাদের প্রতি সমবেদনা দেখানোই হচ্ছে প্রকৃত মানবতা। মূল লেখক ড হাবিব সিদ্দিকী (আমার ভাল লাগছে যে ড হাবিব সিদ্দিকীকে আমি সদালাপে লেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম!) এবং অনুবাদক শাহবাজ সাহেব লেখুনীর মাধ্যমে প্রকৃত মানবতাবাদী হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। স্যালুট।

  37. 9
    শামস

    মাস্টারপীস!
    কিছুটা পড়লাম, সময় নিয়ে বাকীটা পড়ব। 
     
    রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলার লোক খুব বেশী ছিল না। তবে ইদানীং তাদের উপর অত্যাচার চরম মাত্রায় পৌচেছে। বাংলাদেশ এই গ্রুপে আছে কিনা জানি না তবে মুসলিম দেশগুলো থেকে মায়ানমার এর উপর চাপ বাড়ছে। পাশ্চাত্যের কিছু দেশও আগের চেয়ে বেশী উচ্চকন্ঠ তবে তাদের আগ্রহ হয়তো কেবল রোহিঙ্গা মুসলিমরা নয়! যাই হোক, দালাইলামা থেকে শুরু করে কিছু নামকরা বৌদ্ধও রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলছে:

    Dalai Lama, Buddhist leaders in Rohingya compassion call

  38. 8
    এস. এম. রায়হান

    রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে নিচের ভিডিওটাও দেখা যেতে পারে-

    rel="nofollow">

    1. 8.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      রায়হান ভাই,
      ইউটিউবের লিংক এভাবে থাকলে নাকি বাংলাদেশ থেকে পুরো পেইজ দেখা যায় না। তাই লেখার সাথে লিংক আকারে ইউটিউব দেওয়া যেতে পারে। না-হলে বাংলাদেশের কোন কোন পাঠক এই লেখা পড়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। 

      1. 8.1.1
        এস. এম. রায়হান

        এমন কিছু শুনি নাই তো। আর এরকম কিছু হলে ইতোমধ্যে কিছু বাংলাদেশি পাঠকের ফিডব্যাক পাওয়ার কথা। সদালাপের অন্যান্য লেখাতেও মাঝেমধ্যে কিছু ভিডিও যোগ করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কেউই তোমার উল্লেখিত সমস্যার কথা বলেনি।

        1. 8.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          পেইজ আসছে কিন্তু ভিডিও আসছেনা। ভিডিওর যায়গাটি সাদা দেখাচ্ছে।

    2. 8.2
      শাহবাজ নজরুল

      এই ভিডিওতে মূল লেখক ড. হাবিব সিদ্দিকী ও ড. আবিদ বাহার থাই টিভিতে সাক্ষাত্কার দিচ্ছেন। প্রথম মিনিটখানেক অনুষ্ঠানের সঞ্চালক থাই ভাষায় কথা বলেন, এর পর থেকে সাক্ষাতকারটা ইংরেজিতে। সাক্ষাত্কারে আরো অনেক অজানা তথ্য পাবেন। আশা করি দেখে নেবেন।

      ড. আবিদ বাহারের BURMA'S MISSING DOTS: THE EMERGING FACE OF GENOCIDE বইটাও পড়া যেতে পারে।

  39. 7
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    যে দেশ থেকে প্রত্যক্ষভাবে নির্যাতন করে পূর্বপুরুষদের মাটি থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে, আর যে দেশটি তাদেরকে আশ্রয় দিচ্ছেনা; দু’টি দেশেই একজন করে শান্তিতে নোবেল প্রাইজ উইনার আছেন। তারা কোন কথা বললে পৃথিবীকে তা শুনতে হয়। তাদের এভাবে নিশ্চুপ থাকা বুকে বড় বাজে।

    গরীব, কালো-কেলো এই মানুষগুলি কোথায় হয়তো শুনে বা পড়ে থাকবে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলিমদের মজলুমের পাশে দাঁড়ানোর একটা বাধ্যবাধকতা আছে। হায়! বাস্তব কত আলাদা। আরাকানে তেল নেই, যাদেরকে উৎখাত করা যাচ্ছে, তাদের চেহারাও তেল চকচকে নয়; তায় আবার ইসলাম ধর্মের অনুসারী। তাই, গ্লাডিয়েটরের প্রক্মিমোর মতো বলা যায়- “হোয়েন ইউ ডাই, এন্ড ডাই ইউ শ্যাল”- তখন তোমাদের আর কোন কষ্ট থাকবেনা।

    বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য আসলে বেশীরভাগকেই আমরা তাড়িয়ে দেব। তারপরও মজলুম কোন পরিবার যদি আপনার সামনে এসে পড়তে পারে, অনুগ্রহ করে তাদের পেট ভরে দু’টি ভাত খেতে দিন। তার বাচ্চাটির মাথায় হাত রেখে বলুন, মাগো-বাবাগো, আমরা লজ্জিত।     

    সদালাপ পড়েন এমন কোন সহৃদয় ব্যক্তি যদি থাকেন যিনি সরাসরি কোন দুঃস্থ, নির্যাতিত রোহিঙ্গা পরিবারকে চেনেন তবে আমরা সদালাপ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যৎসামান্য সাহায্য করতে চাই।

  40. 6
    সাদাত

    পোস্ট স্টিকি করা হোক।
    এডিটর'স চয়েসে যোগ করার ব্যাপারে সম্পাদক সাহেব ভেবে দেখতে পারেন।

  41. 5
    মুনিম সিদ্দিকী

    আমার মনে পড়ে ১৯৭৭ সালে বার্মায় যখন নেউন সরকার ছিল, তখন এই ভাবে বার্মিজ বৌদ্ধদের দ্বারা রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী নির্মূল অভিযান শুরু হয়েছিল। সেদিন সে খবর শুনে পুরো বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল। কিন্তু আজ আমরা এ কোন্‌ মুসলিম জাতি! যারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের এই অবস্থা শুনেও হৃদয়ে কোন প্রকার অনুভূতি জেগে উঠছেনা! তাহলে এই মুসলিম জাতী পুরোটি গরু খাওয়া মুসলিমে পরিণত হয়ে গেল!

    এত হত্যা, ধর্ষণ, বাড়ির পর বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করে পুরো গ্রামকে মৃত জনপদের পরিণত করা এবং জাতিগোষ্ঠী নির্মূল করার মত মানবতা বিরোধী অপরাধ হবার পরও এই দেশের মানুষ আর সরকারের মুখে রা শব্দটি পর্যন্ত নেই বরং কারো কারো মুখে রোহিংগাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে শুনতে পাচ্ছি!

    হায়রে মানবতা বোধ! পৃথিবীতে কোন মুসলিম অন্যায় ভাবে নিহত হলে ধর্ষিত হলে বা পুড়িয়ে মারা হলে বসত বাটি থেকে বিতাড়িত হতে দেখেও তারা নিশ্চুপ হয়ে থাকে কিন্তু একজন মুসলিম কর্তৃক কোন অমুসলিম কেউ সামান্যতম আঘাত প্রাপ্ত হলে তারা প্রতিবাদের ফেটে পড়ে!!! ধিক তোদেরকে ধিক তোদের মানতাবোধকে।

    এখন আর সেই মুসলিমরা বেঁচে নেই যারা যখন পৃথিবীর এক প্রান্তে কোন মুসলিম নিহত হলে অন্য প্রান্তের মুসলিম তা শুনা মাত্র বেদনা অনুভব করত, চোখ ফেটে অশ্রু নেমে আসত! এখনকার মুসলিম আত্মবিস্মৃত জাতিতে পরিণত হয়ে পড়েছে! ভেড়ার দলের মত গড্ডালিকায় ভেসে চলছে।

    মক্কার মুসলিমরা যখন আক্রান্ত হয়েছিল তখন মদিনার মুসলিমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছিল। আমরা সেই মুসলিমদের বংশধরেরা আজ আমাদের প্রতিবেশী বিপন্ন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে রাজী না। আমাদের কাছে আশ্রয় প্রার্থী আমার মা, আমার কন্যা, আমার বোনসম রোহিংগা নারীকে ঠেলে ফেরত দিচ্ছি বার্মিজ ধর্ষকদের হাতে। আমাদের আশ্রয় প্রার্থী আমার বাবা-সম, সন্তান-সম ভাই-সম রোহিংগা পুরুষ, শিশুদেরকে ফিরিয়ে দিচ্ছি বার্মিজ হত্যাকারীদের হাতে! ধিক আমাকে! ধিক আমার জাতিকে! ধিক আমাদের সরকারকে!!

    শাহবাজ ভাই আপনাকে আর সিদ্দিকী সাবকে ধন্যবাদ দেবার মত আমার ভাষা নাই।

    1. 5.1
      শাহবাজ নজরুল

      এখন আর সেই মুসলিমরা বেঁচে নেই যারা যখন পৃথিবীর এক প্রান্তে কোন মুসলিম নিহত হলে অন্য প্রান্তের মুসলিম তা শুনা মাত্র বেদনা অনুভব করত, চোখ ফেটে অশ্রু নেমে আসত! এখনকার মুসলিম আত্মবিস্মৃত জাতিতে পরিণত হয়ে পড়েছে! ভেড়ার দলের মত গড্ডালিকায় ভেসে চলছে।

      আপনার কথার সাথে একমত। আমরা অন্তত ওদের দু:খের কথাগুলো জানিয়ে যাই। এ নিয়ে জনমত গড়ে তুলি, যাতে বিশ্ববাসী এই নির্যাতিত গোষ্ঠির দিকে কিছুটা হলেও নজর দেয়।

  42. 4
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    আমার চিন্তাভাবনা খুবই পরিষ্কার। বার্মার এই খুনী, জল্লাদ রাখাইনগুলোকে মুজাহিদ বাহিনী পাঠিয়ে তেলাপোকার মত পিষে সাফ করে দেয়া হোক। তা না হলে আমাদের প্রতিটা রোহিঙ্গা ভাইবোন হাশরের ময়দানে আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। স্পেশালি বাংলাদেশের মুসলিমদের বিরুদ্ধে, কারণ ভৌগোলিকভাবে এত কাছাকাছি থেকেও আমরা ওদের সাহায্য করছি না, সাহায্য চাইতে এলে উল্টো তাড়িয়ে দিচ্ছি হৃদয়হীন পশুর মত। আমাদের অপরাধ বহুমাত্রিক।

    1. 4.1
      এস. এম. রায়হান

      আমার চিন্তাভাবনা খুবই পরিষ্কার।

      হ্যাঁ, তা তো দেখাই যাচ্ছে-

      বার্মার এই খুনী, জল্লাদ রাখাইনগুলোকে মুজাহিদ বাহিনী পাঠিয়ে তেলাপোকার মত পিষে সাফ করে দেয়া হোক।

      ইন্টারনেটের যুগে বেনামে যাচ্ছেতাই বলা যায় -- রাজা-উজির মারা যায় -- যেগুলোর দায়িত্ব ব্লগারকে নিতে হয় না। কিন্তু এর প্রভাব পড়ে ব্লগ, ব্লগের পরিচালক, ও নিয়মিত লেখকদের উপর বিশেষ করে যারা স্বনামে লিখেন। নেটে এই ধরণের মন্তব্য যদিও ডাল ভাতের মতো হয়ে গেছে তথাপি সদালাপে এগুলোকে সমর্থন বা প্রমোট করা হয় না। কেননা এই ধরণের বক্তব্যে ব্যক্তিগতভাবে আপনার কোন ক্ষতি হবে না, কিন্তু ক্ষতি হবে সদালাপ ও তার নিয়মিত লেখকদের। হায়েনারা চারিদিকে হা করে আছে। কিছু না পেয়েই যে ম্যাৎকার করা হচ্ছে, কিছু পেলে যে কী করা হবে তা সহজেই অনুমেয়।

      1. 4.1.1
        মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

        শুধু শুধু মডারেট সাজার চেষ্টা করেন কেন?আপনি নিজেও কি মনে করেন বার্মার এই রাখাইন তেলাপোকাগুলোকে ছেড়ে দেয়া উচিৎ?এসব ক্ষেত্রে ইসলামের হুকুম যেটা,সেটাকে লুকাচ্ছেন কেন?

  43. 3
    এস. এম. রায়হান

    রোহিঙ্গাদের নিয়ে এত তথ্যপূর্ণ ও বিস্তারিত গবেষণাধর্মী লেখা দ্বিতীয়টি আছে কি-না সন্দেহ। লেখাটি নিঃসন্দেহে একটি মাস্টারপিস। মূল লেখক ড. হাবিব সিদ্দিকীকে তো বটেই, সেই সাথে আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি লেখার বাংলা অনুবাদ করার জন্য। অনুবাদ অত্যন্ত সুপাঠ্য ও ঝরঝরে হয়েছে।
     
    পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিক একটি লিঙ্ক-
    http://songbadika.blogspot.ca/2012/11/buddhist-warfare-buddhist-fury-zen-at.html

    1. 3.1
      শাহবাজ নজরুল

      মূল লেখাটি নিঃসন্দেহে একটা মাস্টারপিস, ওখানে সংক্ষেপে বর্তমান থেকে শুরু করে অতীত ইতিহাসে গিয়ে আবার বর্তমানে ফিরে এসে সমস্যাটির কারণ ও সম্ভাব্য সমাধানের কথা বলা হয়েছে। বাংলাতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভালো লেখা নেই -- হয়ত এই অনুবাদটি কিছুটা হলেও সে অভাব পূরণ করবে আশা করি।

  44. 2
    সাদাত

    ওরাই না বলে জীবহত্যা মহাপাপ!
    ওদেরকেই না একশ্রেণীর মানুষ শান্তিপ্রিয় বলে প্রচার করে!
    এত হিংস্রতা এত নৃশংসতা দেখেও ওদের শান্তিতে নোবেল পাওয়া নেত্রী টু শব্দটি পর্যন্ত করেন না!

    তাহলে মুসলিম নিধনই কি ওদের কাছে শান্তির অপর নাম?

    তথ্যসমৃদ্ধ এই লেখাটির জন্য ড. হাবিব সিদ্দিকীকে, আর দীর্ঘ এই লেখাটির কষ্ট ও সময়সাধ্য অনুবাদের জন্য শাহবাজ ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    1. 2.1
      এস. এম. রায়হান

      ওরাই না বলে জীবহত্যা মহাপাপ!
       
      ওদেরকেই না একশ্রেণীর মানুষ শান্তিপ্রিয় বলে প্রচার করে!

      "জীব হত্যা মহাপাপ" -- এটি বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের মূল বাণী। এই বাণীকে সম্বল করে -- সাথে কিছু গেরুয়া পোষাকধারী 'শান্তিপ্রিয়' বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দেখিয়ে -- পশ্চিমা বিশ্বে সাদা চামড়ার লোকজনকে বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে।
       
      অথচ কেউ জীব হত্যা করলে [মানে মহাপাপ করে ফেললে] তার চূড়ান্ত বিচার কে করবে -- আর যাদেরকে হত্যা করা হলো তাদেরই বা কী হবে — এই দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের যৌক্তিক কোন জবাব তারা দিতে পারে না। এতটাই ঠুনকোর উপর দাঁড়িয়ে আছে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের মূল বাণীটাই! এর পরও বিখ্যাত পিএইচডি-মনা বিপ্লব পালের মতো কিছু হিন্দুত্ববাদী 'বুদ্ধের ভক্ত' সেজে বৌদ্ধ ধর্ম দিয়ে ইসলাম ও ইসলামের নবীকে আক্রমণ করে। তার ভাষাতেই বলতে হয়: হাসবেন না কাঁদবেন!

    2. 2.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      বৌদ্ধ ধর্মালম্বিরা নিত্যদিন ত্রিশরন মন্ত্র পাঠ করে থাকে। বুদ্ধং শরনং গচ্ছামি- বুদ্ধের শরন নিলাম। ধর্মং শরনং গচ্ছামি- ধর্মের শরন নিলাম। সংঘং শরনং গচ্ছামি –সংঘের শরন নিলাম।  যে মন্ত্র সাধনা দ্বারা তারা লাভ করে পরম সত্য। কিন্তু অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে বার্মার বৌদ্ধরা তারাও এই মন্ত্র পাঠ করে  যে পরম সত্য লাভ করেছে  সেটি জগতের সকল জীবকে সুখী করার মন্ত্র নয় বরঙ  মুসলিমকে হত্যা, ধর্ষন করার সত্য। যত পারো মুসলিম মারো মুসলিম নারীদেরকে ধর্ষণ কর। শিশুকে পুড়িয়ে দাও, মুসলিম জনপদকে গুড়িয়ে দাও।

      তাহলে আসুন উচ্চকন্ঠে গেয়ে উঠি-
      বৌদ্ধ বল বলরে—
      বৌদ্ধদের মত এমন দয়াল আর নাইরে—
      বৌদ্ধ আস আসরে—
      মুসলিমদের ধরে পুড়িয়ে মারো মার রে—
      বৌদ্ধদের মত এমন দয়াল আর নাইরে—
      রোহিঙ্গা নারীদের ধরে ধরে ধর্ষণ কর ভাইরে—

  45. 1
    ফুয়াদ দীনহীন

    এভাবেই সবাইকে এই অন্যায়ের প্রতিবাদে এগিয়ে আসতে হবে। জুন মাসের ১৩ তারিখ আমি এই লেখাটি সদালাপে প্রকাশ করেছিলাম: রোহিঙ্গা ভাই বোনেরা আমাদের ক্ষমা করো।
     
    আপনার লেখাটি দেখে ভাল লাগল। এক লেখায় যেন পুরো ইতিহাস উঠে এসেছে।  

    -শুরুতে মূল অংশটুকু একটু শুদ্ধ করা দরকার। উপরে ৩য় ব্র্যাকেট দিয়ে দেন, দেখতে সুন্দর হবে। মানে ২ বার ৩য় ব্র্যাকেট দেন।

  1. 0
    রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা অন্তত দোআ করতে পারি। – ভিডিও | কুরআনে বর্নিত বিষয়ের সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের

    […] রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি তথ্যবহুল লিখা […]

Leave a Reply

Your email address will not be published.