«

»

Feb ২৫

পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো?

মূল: মাহবুব মোর্শেদ

[ফেসবুকে মাহবুব মোর্শেদের লেখাটা পাই। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উপর একটা লেখা – সবার জন্যে শেয়ার করা হলো লেখকের অনুমতিক্রমে। লেখাটা দুদিন আগে তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়]

 

by Mahbub Morshed on Saturday, February 23, 2013 at 8:14am ·
 
 
একটি জটিল পার্সোনালিটি ক্রাইসিসের কারণে আমি কখনোই কোনো দল, গোষ্ঠী বা সংগঠনের সদস্য হয়ে সেটির কর্মসূচির সঙ্গে একাত্ম হতে পারিনি। আমার প্রশ্ন করতে ইচ্ছা হয়, ছোট-বড় নানা বিষয় নিয়ে ভেতরে ভেতরে সমালোচনা তৈরি হয়। ফলে, অধিকাংশ সময়ই আমি দ্বিমত পোষণ করি, সমালোচনা করি, প্রশ্ন করি।
 
কিন্তু কখনো কখনো এমন সময় আসে যখন দ্বিমত, সমালোচনা ও প্রশ্ন শোনার অবকাশ কারো থাকে না। তখন সিদ্ধান্ত একটাই, তুমি যদি আমার দলে না থাকো তবে তুমি আমার শত্রুর দলে। এসময় কেউ যদি তার প্রশ্ন উত্থাপন করতে চায় তবে তা নিরুৎসাহিত হয়। কখনো কখনো প্রশ্নের কারণেই তাকে বিপক্ষ দলে বা দূরে ঠেলে দেওয়া হয়। ফলে যখন কেউ শোনে না তখন চুপ করে থাকাই শ্রেয়। আমার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত। যে কর্মসূচি নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে দাবি করবে তাকে প্রশ্ন, দ্বিমত ও সমালোচনা সহ্য করেই আগাতে হবে। এর বিকল্প আছে বলে আমার মনে হয় না।
 
কিন্তু বাংলাদেশ এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাতে প্রশ্ন, দ্বিমত ও সমালোচনা শোনার মনোভাব কারও আছে বলে মনে হচ্ছে না। আমরা চাই বা না চাই, অগণতান্ত্রিক একটি পরিস্থিতি এখানে তৈরি হয়েছে। বেশকিছু মিথ্যা, অর্ধসত্য ও অসত্য কথার ভিত্তিতে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতির গতি নির্ধারিত হতে চলেছে। পরিস্থিতি এমন যে, এখন কোনো পক্ষই কথা শুনছে না। কয়েকটি অর্ধসত্য কথার ওপর দাঁড়িয়ে জনগণের দুটো বড় অংশ পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে। অথচ বাংলাদেশের বিশেষ বাস্তবতায় সংঘর্ষের মাধ্যমে কোনো অর্থেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
 
গতকাল ঢাকা সহ সারাদেশে মুসল্লী ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে আর সকলের মতো আমিও উৎকণ্ঠায় ছিলাম। নিউজের খোঁজে টিভি, ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। বিস্ময়করভাবে দেখলাম, সংবাদমাধ্যমগুলো যথাযথ তথ্য দিচ্ছে না। বিক্ষোভকারী মুসল্লীদের ঢালাওভাবে জামাত-শিবিরের কর্মী বলেই অভিহিত করা হচ্ছিল। সকলেই জানেন, তথ্যটি সত্য নয়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সকলে জামাত-শিবির নয়, এমনকি এদের মধ্যে জামাত-বিরোধী ইসলামপন্থীরাও ছিলেন। যতদূর জানতে পারলাম তাতে শুক্রবারের বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের স্লোগান দেননি, ট্রাইবুনাল বন্ধের দাবিও জানাননি। তারা ভিন্ন কিছু দাবি নিয়ে মাঠে নামতে চেয়েছিলেন। সে দাবি কী তাও সবার জানা। তবু মিডিয়ায় এই মুসল্লীদের জামাত-শিবির বলেই মোটাদাগে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে, সমমনা ইসলামী দল সহকারে জামাত তাণ্ডব চালিয়েছে। বস্তুত, সারাদেশে জামাতের এই জনসমর্থন নেই। দেশব্যাপী বিক্ষোভ করার মতো লোকবলও নেই। খুব সামান্য জনসমর্থন নিয়ে তারা এ যাবত কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। বলতে গেলে, তারা একা হয়ে পড়েছিল। বিএনপির কৌশলী সমর্থন ছাড়া তাদের বন্ধু বলতে সেদিন পর্যন্ত কেউ ছিল না। কিন্তু এখন ইসলামপন্থী দলগুলোকে তারা সাথে পেয়েছে। দেশব্যাপী ধর্মভিত্তিক একটি আন্দোলন গড়ে তোলার সুযোগও তারা পেয়েছে। প্রথম আলোর কার্টুন সমস্যার পর এমন সুযোগ জামাত বা ধর্মভিত্তিক দলগুলো পায়নি।
 
আমাদের মিডিয়া লেবাস বা ইউনিফর্ম না চেনার কারণে, তরিকা বা পন্থা সম্পর্কে না জানার কারণে যেমন দাড়ি-টুপি পরা লোকদের নির্বিচারে জামাত-শিবির বলছে তেমনি ইসলামপন্থীরা ব্লগারদের ঢালাওভাবে নাস্তিক ও ধর্ম অবমাননাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করছে। মুসল্লীরা কারা, তারা কেন মাঠ নেমেছে, তাদের লক্ষ্য কী তা যদি স্পষ্ট জানা না থাকে, স্পষ্টভাবে যদি তা জনগণকে না জানানো যায় তবে তাদের মোকাবেলা করা কঠিন, মোকাবেলা করে সমস্যার সমাধান করাও কঠিন। সেদিক থেকে সরকার ও গণমাধ্যম কতটা বিজ্ঞতা পরিচয় দিচ্ছে তা ভেবে দেখতে হবে। আমাদের গণমাধ্যম যদি দায়িত্বশীল হতো তবে অর্ধসত্য বা ভুল তথ্য প্রচার করে যে গণমাধ্যমগুলো হুজুরদের মাঠে নামাতে পেরেছে তারা সফল হতে পারতো না। কোনো দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ মিডিয়ায় মানুষ সঠিক তথ্যটি জেনেই যেত। এবং তাতে বিশ্বাস করতো।
 
ব্লগাররা ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, নাস্তিকতা প্রচার তাদের উদ্দেশ্য নয়, তাদের মধ্যে একদুইজন নাস্তিক থাকতে পারে। কিন্তু একে নাস্তিকদের আন্দোলন আখ্যায়িত করা রীতিমতো অপরাধ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমার দেশ বা নয়াদিগন্তের যে সাংবাদিকতা সে সাংবাদিকতার বাইরে কেউই যেতে পারছে না। ফলে, অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও অপপ্রচার রোধ করার ক্ষেত্রে বড় মিডিয়াগুলোর ভূমিকা বিশেষ কাজে আসেনি।
 
বাংলা ব্লগের শুরু থেকে এর সঙ্গে নানাভাবে আমি আছি। আমার মতো অনেকেই আছেন। আমরা স্পষ্টভাবেই জানি, তরুণদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা তৈরির ক্ষেত্রে বাংলা ব্লগের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ব্লগগুলোর মাধ্যমে গত সাত আট বছরে তরুণরা নানাভাবে নিজেদের মধ্যে কথা বলেছেন, ভাববিনিময় করেছেন, পরস্পরের মতের সঙ্গে জেনেছেন। সমাজে যেমন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত সমর্থন আছে ব্লগেও তেমন আছে। এখানে অনেকেই ধর্মের বাণী প্রচার করেন, গুটিকয় মানুষ ধর্মবিরোধী কথাও বলেন। ব্লগে দেশ ও দশের মঙ্গলের জন্য কথা হয়, তেমনি গালাগালি ও অসহিষ্ণুতাও হয়। বাংলাদেশ যেমন বাংলা ব্লগও তেমন। বাংলাদেশ এমন বলে কেউ যেমন দেশ ছেড়ে যান না তেমনি বাংলাদেশের মতো বলে ব্লগের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার কোনো যুক্তি নেই। ধর্মকে অবলম্বন করে কেউ যখন ব্লগে অসহিষ্ণুতা প্রদর্শন করেন তখন তা যেমন নিন্দনীয়, তেমনি ধর্মকে আক্রমণ করে কেউ যখন অসহিষ্ণুতা প্রদর্শন করেন তাও নিন্দনীয়। কেউ ব্যক্তিগত বিশ্বাসে নাস্তিক হতে পারেন। কিন্তু অন্যের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে তার মাথাব্যথা থাকবে কেন? ধর্মবিশ্বাসীদের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের নিয়ে কটুক্তি করলে নাস্তিকের কী লাভ হয়?
 
শাহবাগে যারা আন্দোলন শুরু করেছেন এবং এর সঙ্গে আছেন তারা নাস্তিক নন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির আন্দোলনের কর্মীদের নাস্তিক বলা অন্যায় হবে। নাস্তিক আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করাটা তো মহাঅন্যায়। আন্দোলনে দুইএকজন নাস্তিক থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে ধর্মের অবমাননার অভিযোগও উঠতে পারে। কিন্তু সে অভিযোগ সুরাহার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সরকার ও বিচারবিভাগের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
 
আমার মতে, শাহবাগের আন্দোলন একটি বড় ভুল করেছে রাজীবের হত্যাকারীদের বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে। রাজীব হত্যা খুবই নিন্দনীয় ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। হত্যার জন্য যারা দায়ী তাদের অবশ্যই গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে একটি সত্য আমাদের মাথায় রাখতে হবে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দায়িত্ব আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর। যে কোনো হত্যার পর তদন্তের জন্য তাদের সময় দেওয়া আমাদের কর্তব্য। হত্যাকারী বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে তারা কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন তা শোনার জন্য অপেক্ষাও করতে হবে। আমাদের রাজনীতিকরা অহরহ যে কোনো হত্যা বা অন্য ঘটনায় প্রতিপক্ষের ওপর দোষ চাপান। কিন্তু নতুন প্রজন্মের সচেতন আন্দোলনকারীরা কোনো তদন্তের সুযোগ না দিয়েই কেন তা করবে? নিজেরা বলার আগে তদন্ত সাপেক্ষে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কী বলছে তা আন্দোলনকারীদের শোনার দরকার ছিল। দ্বিতীয় কথা হলো, রাজীবই যে থাবা বাবা, তা ব্লগার ভিন্ন অন্য কারও জানার কথা ছিল না। রাজীব থাবা বাবা কি না তা তৎক্ষণাত প্রকাশ না করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে তা প্রকাশ করা উচিত ছিল। একজন ব্লগারের খুনের প্রতিবাদ অবশ্যই প্রয়োজনীয় ছিল, কিন্তু আন্দোলনে তার যথাযথ ভূমিকাটাই সামনে আনা উচিত ছিল। তার ভূমিকাকে ছোট করা যেমন নিন্দনীয় হতো তেমনি বড় করে তোলার ঘটনাও অপ্রয়োজনীয়। এক্ষেত্রেও আন্দোলনপন্থী মিডিয়াগুলো যথাযথ ভূমিকা নিতে পারেনি। বস্তুত, রাজীব প্রসঙ্গটিই আন্দোলন-বিরোধী মিডিয়াকে পরিস্থিতি গরম করার সুযোগ দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের কৌশলহীন স্বতঃস্ফূর্ত আবেগের পরিণাম হিসেবে আজ হুজুররা মাঠে নেমেছেন। জনগণের বড় দুটি অংশ পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এটি জামাতের একটি বড় বিজয়।
 
অথচ, আন্দোলনের শুরুতে কোণঠাসা জামাত একেবারে হতবাক হয়ে পড়েছিল। আন্দোলন শুরুর পর সরকারের ভূমিকা ছিল সন্তোষজনক। এতবড় একটা সমাবেশে মঞ্চ দখলের লড়াই থাকবেই। এক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সেটা কমই হয়েছে।আইন সংশোধন হয়েছে। সংশোধনের আগে আন্তর্জাতিক প্রায় সব মানবাধিকার সংস্থা আপত্তি জানালেও সরকার কানে তোলেনি। আপিলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংগঠন হিসেবে জামাতের বিচারের পথও খুলে গেছে। আন্দোলনের সফলতা বিশাল। এক্ষেত্রে সরকার যে সহযোগিতা, ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে তা তুলনাহীন। আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামাত নিষিদ্ধ করার দাবি খুব যৌক্তিক। এ দাবিতে আন্দোলন চলছে, চলবেও। কিন্তু অতিবিপ্লবী কিছু কর্মসূচি আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যেমন ভিন্নমতাবলম্বী বিভিন্ন গণমাধ্যম নিষিদ্ধের দাবি। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো গণমাধ্যম বন্ধের পক্ষে না। শুধু গণতন্ত্রের জন্যই নয়, আন্দোলনের স্বার্থেও ভিন্নমত প্রকাশিত হতে দিতে হবে। প্রতিপক্ষের যদি মাধ্যম না থাকে তবে তার বক্তব্য, নীতি ও কৌশল আমি কীভাবে বুঝবো? আর আমি যদি নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান হই, আমি যদি ন্যায় বিচারের পক্ষে থাকি তবে প্রতিপক্ষের অপপ্রচার আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। লাখো মানুষের সমর্থন, অধিকাংশ মিডিয়ার সমর্থন সত্ত্বেও সমাবেশে কেন গুটিকয় ভিন্নমতের গণমাধ্যম নিষিদ্ধের দাবি উঠলো তা আমার যুক্তিতে ধরে না। এ বিষয়ে আমাদের মিডিয়াগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করেনি। অথচ, আন্দোলনপন্থী সব মিডিয়াই আন্দোলন চলাকালে ইসলামী ব্যাংকের বিজ্ঞাপন ছেপেছে। কেন ছাপলো সে ব্যাখ্যা কেউ দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। যদি ইসলামী ব্যাংক বাজেয়াপ্ত করার দাবির সঙ্গে মিডিয়াগুলো দ্বিমত পোষণ করে থাকে তবে তা পরিষ্কার করা উচিত ছিল। গণমাধ্যমের যুক্তি শুনে সবাই খুশী হতো। কিন্তু তা না করে, চুপ থেকে বিজ্ঞাপন ছেপে তারা যে জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়নি তা স্পষ্ট।
 
আন্দোলনের পক্ষ থেকে যদি কোনো মিডিয়াকে শত্রু বানানো না হতো তবে জামাত সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও জনসমর্থনের কারণে তারা আন্দোলনের পুরোপুরি বিপক্ষে যেতে পারতো না। কিছু অপচেষ্টা চলতোই। কিন্তু একেবারে কাছাখুলে নামতে পারতো না। ফলে মিডিয়া বন্ধের কর্মসূচি আন্দোলনের কৌশল হিসেবে ভাল ছিল না। বলা যায়, কয়েকটি মিডিয়াকে খোলাখুলি শত্রু ঘোষণার কারণে তারা আন্দোলনের পেছনে লেগে এর বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে পেরেছে। পুরো আন্দোলনে যেখানেই অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে সেখানেই আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
 
ঘৃণা, বিদ্বেষ, অবমাননা, আক্রমণ না থাকলে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো গণমাধ্যম, ব্লগ, পেজ বন্ধের বিপক্ষে। কিন্তু এ আন্দোলনের মধ্যে এমন একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে যে, আন্দোলনের সমালোচনা করলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন সেটি হবে? কোন যুক্তিতে হবে? এতগুলো শিক্ষিত যুক্তিশীল মানুষ একত্রিত হয়েছেন তারা সমালোচনার জবাব দিতে পারবেন না? দ্বিমতকারীকে বোঝাতে পারবেন না? সমালোচনা করলেই তাকে রাজাকার বলবেন? এই চর্চার মধ্য দিয়ে খুব বেশি দূর কি আগানো সম্ভব?
 
আগামী দিনগুলোতে ব্লগ, ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখে আমরা মত প্রকাশ করে যেতে পারবো কি না তা নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এত বড় আন্দোলন যারা করে ফেলতে পেরেছে তারা যে আরও আন্দোলন করতে পারবে তা তো বোঝাই যাচ্ছে। কে চাইবে তেমন ঘটুক? ফলে, মতপ্রকাশের স্বাধীন মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। সেটি পরের কথা।
 
আপাতত যে কথাটি বলা দরকার, তা হলো, যে হুজুররা মাঠে নেমেছেন তাদের শান্তিপূর্ণ উপায়ে ফেরত পাঠাতে হবে। জামাত আখ্যায়িত করে মারপিট করে সেটি সম্ভব বলে মনে হয় না। সরকারকে আলাপ-আলোচনার পথে যেতে হবে। আশা করি, সরকার সেটি করবে। হুজুররা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের জন্য মাঠে নামেনি, নামবেও না। তাদের মাঠ থেকে ফেরত পাঠানো দরকার।
 
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনের বিরুদ্ধে হুজুরদের আন্দোলনকে দাঁড় করানো ঠিক হবে না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, সরকার, হুজুর কারও জন্যই সেটি শ্রেয় হবে না। কেননা সেটি যে বড় সংঘর্ষের ইঙ্গিত তৈরি করে তার সহজ সমাধান বাংলাদেশে নেই।

 

২ comments

  1. 1
    Abu Hasan

    Thanks Shahbaz. A good analysis of the event, I do not agree 100%, however agree with the main theme. I do not think shahbag movement is only against "Jamat" or “Rajakar”, sure there are people who are against only Jamat, but at large I think at least leaders of the movement against Islam, not only that Islamic institution, Islamic philosophy, I can understand the feeling against Jamat, however I do not understand movement against Islamic Bank. Finally it is not us so called educated people who stood against it, when "hujurs" who do not understand all these but love Allah and his messengers came to field and now I see -- shahbaghis retreated a bit and now they are changing slogan and wanted to project that they are against Rajakar and Jamat and not Islam. But it was not the case in the first place. I hope hujurs will remain in the field to protect Islam. I agree with you that there are people in Shahbagh who want to see the justice for the crime that happened in 1971. But the leadership is different -- I see two main interest group in the leadership, pro Awami League group ( I think they are the stronger group) wants just to stay in Power, AL does not care anything but power, AL is nothing but a party of nosto people. And the leftist part of the leaders wants to destroy Islam and anything related to Islam. They are using this as platform. If they really care about justice, they should hold govt accountable, but they are not doing that. It is interesting to see that Kader Siddique now Rajakar and our home minister who was loyal to Pakistan govt during 1971 is freedom fighter, strange !. Anyway good writing …

    1. 1.1
      শাহবাজ নজরুল

      Thanks Shahbaz. A good analysis of the event, I do not agree 100%, however agree with the main theme. I do not think shahbag movement is only against "Jamat" or “Rajakar”, sure there are people who are against only Jamat, but at large I think at least leaders of the movement against Islam, not only that Islamic institution, Islamic philosophy, I can understand the feeling against Jamat, however I do not understand movement against Islamic Bank.

       
      এই ব্যপারটা সময় হয়তো বলে দেবে – তবে আমার নিজের বিশ্বাস এই আন্দোলনের মৌলিক অংশটা আছে যুদ্ধ অপরাধের বিচারের পাশাপাশি জামাতের রাজনীতি বন্ধ করার দাবীতে। তবে গণজাগরণ মঞ্চ অনেক গোষ্ঠীর সমষ্টিতে তৈরী – এতে আছে পাড় নাস্তিক থেকে শুরু করে, উচ্ছিষ্টভোগী দেউলিয়া বামপন্থী, লীগ সহ বাংলা ব্লগের আওয়ামী লীগ সহ সুশীল গ্রুপের অনেক ব্লগার। আবার অনেকেই আছেন হয়তো বেশ নিরপেক্ষ – এসেছেন কেবল রাজাকারের সুবিচারের দাবী নিয়েই। কিন্তু এদের মধ্যে ক্ষমতার বিন্যাস কেমন তা বোঝা সম্ভব নয় – ভেতরের কেউ না হলে। আমার নিজের মতামত হচ্ছে – গণজাগরণের উত্তালতম মুহুর্তে জনগণ এসেছেন কেবল যুদ্ধ-অপরাধীদের বিচার নিয়ে ও জামাতের রাজনীতি’র প্রতি ঘৃণা জানাতে। এর বাইরের দাবী নিয়ে এদের বেশীরভাগেরই মনে হয় মাথাব্যথা নেই। ইসলামী ব্যাঙ্ক বন্ধ করা কিংবা আমারদেশ সহ, নয়া দিগন্ত, সংগ্রাম পত্রিকা বন্ধ করা ইত্যাদি নিয়ে সেই বিশাল জনসমাবেশের লোকদের তেমন মাথাব্যাথা আছে বলে মনে হয়না। আর বিকল্প ধারার পত্র-পত্রিকার কন্ঠ রোধ করলে গণতন্ত্রের কথা এরা কীভাবে বলে বোঝা যায়না!!! এই সেন্সে অন্তত পত্রিকাগুলো বন্ধের আবদারে ফ্যাসিবাদী লক্ষণই দেখা যায়। ব্লগের এই নেতাদের অনেক দিন থেকেই চিনি – ব্লগে লেখালিখির কারণে। উনারা অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাসী – বুদ্ধি ভিত্তিক আলোচনা করে মন জয় করার কথা বলেন। অথচ উনারাই যখন অন্য ধারার সব পত্রিকা বন্ধের আবদার করেন – সেটি তখন তাদের নিজেদের প্রাক অবস্থানের সাথেই বৈরী বলে গণ্য হবে।
       
      আর ইসলামী ব্যাঙ্কের সাথে বৈরিতার কারণ হচ্ছে ব্যাঙ্কটি জামাতের অর্থনৈতিক ভত্তি বলে। আন্দোলন চলার সময় বিশিষ্ট পরদেশী ব্লগার নেতা ডাক্তার আইজুদ্দিন ইসলামী ব্যাঙ্ক বন্ধ করার পক্ষে বিস্তারিত লিখেন – কেননা তার ধারণা এটা সফল হলে জামাতের অর্থনৈতিক শক্তি আর থাকবেনা। এখানে অনেক প্রশ্ন থাকে। আমাদের ইসলামী ব্যাঙ্ক বয়কটের প্রথম কথা বলা এই নেতা প্রথমে এই আন্দোলনকেই সমর্থন দেননি (লেখাটি এই বিশিষ্ট ব্লগ নেতা মুছে ফেলেছেন)। যখন তিনি বুঝলেন আন্দোলন গণদাবীতে পরিনত হয়েছে – তখন তিনি ইসলামী ব্যাঙ্ক বয়কটের ডাক দিলেন – হয়তো নিজের প্রেডিকশনের ভুল শোধরানোর জন্যে। তবে সমস্যা হচ্ছে  -- এতে হয়ত জামাতের কিছুটা আর্থিক ক্ষতি হবে – কিন্তু এত বড় একটা ব্যাঙ্ক যদি ধ্বসে পড়ে তাহলে পুরো দেশের অর্থনীতিতে পড়বে আরো নেতিবাচক ভাব। ইসলামী ব্যাঙ্কে জামাতের কয় শতাংশ লোক টাকা রাখেন। ২০ শতাংশ সর্বোচ্চ। বাকীরা তো জামাতী না – হয়ত দেখেন সিধাসাধা অর্থে ধর্মভীরু মুসলিম। ওদের কি দোষ? আর ইসলামী ব্যাঙ্ক বয়কট করলে সৌদি সহ মধ্যপ্রাচ্যে কী প্রভাব পড়বে কেজানে? কেন এই মাথামোটা মঞ্চ-নেতারা খুবই সিম্পল দাবী নিয়ে এগুলো না? কেন তারা বলল না যে তারা কেবল যুদ্ধ অপরাধীদের ফাসির দাবী নিয়ে এসেছে। ওই একটা দাবীর প্রতি জনসমর্থন ও ছিল। ঐ একটা পয়েন্টে তাদের স্থির থাকা উচিত ছিল। পরে বাকী দাবীগুলো দেয়াতে তাদের আর যেমন অরাজনৈতিক বলে বলা যাচ্ছেনা – ঠিক তেমনিভাবে এদের আসল উদ্দেশ্য কি আসলেই ইসলামের মুলোটপাটন কিনা তাও কেউ নিশ্চিত বলতে পারছেন না। আমার মতে হাজার মতের সমাবেশ সেই তাহরির স্কোয়ার সফল হয়েছিল এজন্যে যে তারা খুবই সিম্পল একটা দাবীই করেছিলেন আগাগোড়া – মোবারক আউট, ডেমক্রেসি ইন। আমাদের শাহবাগের আন্দোলন তাহরিরের মতো সফল না হবার কারণ হচ্ছে সর্বজন গ্রহণযোগ্য দাবীকে পেছনে ফেলে কায়েমী গোষ্ঠীদের নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে মঞ্চের ভরবেগকে হাইজ্যাক করে ব্যবহার করার অপচেষ্টায়।

      Finally it is not us so called educated people who stood against it, when "hujurs" who do not understand all these but love Allah and his messengers came to field and now I see — shahbaghis retreated a bit and now they are changing slogan and wanted to project that they are against Rajakar and Jamat and not Islam.

      হ্যাঁ রাজীবের মতো নরকের কীট নাস্তিক মারা যাবার পরে যখন তারা তাকে মিথ্যা শহীদ বানানোর চেষ্টা করা হলো – তখনই তারা জামাতের কাটা ফাঁদে পড়ে গেলো – আর জামাত অনেক নীরিহ জগনণকেই গেলাতে সফল হলো যে মঞ্চের লোকজন সবাই আদতে ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক। এর পরে যখন পরিস্থিতি ঘুরে যায় আর সাধারন মুসল্লিরা রাসুল (সা।) এর ইজ্জতের পক্ষে রাস্তায় নেমে আসে – তখন এরা বলা শুরু করে কে কত বড় আস্তিক। কিছু স্পষ্ট বিভাজনও তখন দেখা দেয়। অমি পিয়াল মুক্তমনার অভিজিৎ রায়কে “জামাতি” বলে সম্বোধন করে।

      But it was not the case in the first place. I hope hujurs will remain in the field to protect Islam. I agree with you that there are people in Shahbagh who want to see the justice for the crime that happened in 1971. But the leadership is different — I see two main interest group in the leadership, pro Awami League group ( I think they are the stronger group) wants just to stay in Power, AL does not care anything but power, AL is nothing but a party of nosto people. And the leftist part of the leaders wants to destroy Islam and anything related to Islam. They are using this as platform. If they really care about justice, they should hold govt accountable, but they are not doing that. It is interesting to see that Kader Siddique now Rajakar and our home minister who was loyal to Pakistan govt during 1971 is freedom fighter, strange !. Anyway good writing …

      এই অংশ একেবারে খাঁটি বলেছেন। এখানে আগত নির্বাচনের শক্তি ও কৌশলের খেলাও চলছে। যে যার আখের গোছাচ্ছে – স্ট্রেটেজি ঠিক করছে। আর লেখাটি আমি লিখিনি – লিখেছেন মাহবুব মোর্শেদ – আমি কেবল কপি করেছি।
       

Leave a Reply

Your email address will not be published.