«

»

Mar ০১

হঠাৎ করেই দৃশ্যপট বদলে গেল

[দেশটা ধীরে ধীরে সংঘাতময় হয়ে উঠছে। দ্রুত পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে। "আপনি আছেন হয় আমাদের সাথে নাহয় ওদের সাথে"  এমন অনমনীয় অবস্থার দিকে দেশের অবস্থা ঢলে পড়ছে। মনে পড়ছে বুশের সেই বিখ্যাত বানীর কথা, "You are either with us or against us." ইতিহাসের পরিক্রমায় দেখা যায় এই অতি সাধারনীকৃত বিভাজনী তত্ত্ব ছিল ভুল – একটা False Dichotomy. বিশ্বের ৯৯% মুসলিম তখন ছিলোনা বুশের আগ্রাসী সাম্রাজ্যিক শক্তির পক্ষে কিংবা সন্ত্রাসী আল-কায়েদার'ও পক্ষে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে, এখন হয় আপনি ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক নাহয় আপনি জামাতী রাজাকার। অথচ দেশের আপামর নিরব জনগন এই দুই অপশক্তির কারুর সাথেই নেই। কে বলবেন এখন সত্য কথা!!! পত্র পত্রিকাগুলোও দলীয় আদল থেকে বেরুতে পারছে না। সমস্যার গোড়াতে আছে সত্য স্বীকার না করা। অর্ধেক সত্য অর্ধেক মিথ্যা দিয়ে মেশানো কথা বলছেন সবাই। কিন্তু ভয় হচ্ছে একবার অবস্থা নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে কী হবে? দেশ জাতি হিসেবে আমাদের সবাই কিন্তু ভুগবো। মানবজমিনে এই লেখাটা পেলাম। মনে হলো দেশের নিরব সংখ্যাগরিষ্ঠের কথা এরা বলছে। তাই এখানে শেয়ার করলাম।]

 

মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত।

শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০১৩

 

রাজনৈতিক ভাষ্যকার : হঠাৎ করেই যেন সবকিছু ওলট-পালট হয়ে গেল। চরম এক অস্থিরতা চারদিকে। মানুষের মনে কোন শান্তি বা স্বস্তি নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও বেকুব বনে গেছেন। তারা বলছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে এতে কার কি বলার আছে, কেবল মাত্র সংক্ষুব্ধ দল বা ব্যক্তি ছাড়া। পরিস্থিতি এমনটাই ছিল। প্রধান বিরোধীদল বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেয়া ছিল সত্যিই কঠিন। কারণ, দলের দু’জন নেতা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। এর মধ্যে ‘শাহবাগে গণজাগরণ’ হয়ে গেল। এটাও এক নাটকীয় ঘটনা। কয়েকজন ব্লগার এ ঘটনা ঘটিয়েছেন এখন আর কেউ এটা বিশ্বাস করে না। শুরুতে তাই মনে হতো। টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট বিষয়টি খোলাসা করে দিয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধের তিনটি মামলার রায় হয়েছে। আবুল কালাম আযাদের রায় নিয়ে তেমন হইচই হয়নি। কারণ হতে পারে দুটো। তার এখন আর কোন দল নেই। বহু আগে জামায়াতে ইসলামী ছেড়েছেন। দুই নম্বর হতে পারে তার প্রতীকী ফাঁসি নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। তিনি কোন দূরদেশে অবস্থান করছেন। কিভাবে তিনি গেলেন বা কোথায় আছেন তা এখনও রহস্যঘেরা। সমালোচকরা নানা কথাই বলেন। এর মধ্যে যুক্তি আছে, নেইও।  আবদুল কাদের মোল্লার মামলার রায় নিয়েই যত গোলমাল। যাবজ্জীবন সাজা মানতে পারেননি তরুণরা। তাই তারা শাহবাগে জাগরণের চেষ্টা করেন। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তারা সফল হন। বিরোধী বিএনপিও এতে সমর্থন দেয়। আইন সংশোধন হয় দ্রুততম সময়ের মধ্যে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ প্রসঙ্গে বলেছে, ‘যে দেশে আইনের শাসন নিয়ে সরকার পরিচালিত হয় সেখানে আদালতের রায় তাদের পছন্দ না হলে তারা আদালতের সেই রায়কে পাল্টে দিতে একটি আইন করতে পারে না। এক্ষেত্রে আইনের যে সংশোধনী আনা হয়েছে তাতে বিচার প্রক্রিয়া যে প্রশ্নবিদ্ধ তাতে কোন সন্দেহ নেই।’ একথা ঠিক, শাহবাগের আন্দোলন মিশরের তাহরির স্কোয়ার অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখলের আন্দোলনের অবিকল কিছু নয়। বরং উল্টোটাই দেখা গেছে। খাওয়া দাওয়া, নানা সুযোগ সুবিধা ছাড়াও নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে চব্বিশ ঘণ্টা। এ থেকে সরকার ফায়দা তুলতে চেয়েছে। কিছুটা পেয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে চলে গিয়েছিল। এ ঘটনায় মানুষ সাময়িককালের জন্য হলেও হলমার্ক, ডেসটিনি, পদ্মা নিয়ে দুর্নীতি ভুলে গেছে। সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কথা মানুষ এখন আলোচনা করছে না। মেইনস্ট্রিম মিডিয়াও একই সুরে কথা বলছে। ক’দিন আগেও যারা সরকারের সমালোচনায় মুখর ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এসব মিডিয়া আরেকটা ওয়ান ইলেভেন তৈরি করতে চাচ্ছে। এখন এই মিডিয়া কোরাস গাইছে এক সুরে। যদিও কেউ কেউ তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বলছেন, শাহবাগকে বিকল্প সরকার বানিয়ে তারা সরকারের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে।  শেরেবাংলা একে ফজলুল হক পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তখন প্রতিদিনই তার সমালোচনা করতো কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা। একদিন সকাল বেলা তার প্রাইভেট সেক্রেটারি এসে বললেন- স্যার, আজকে আনন্দবাজার পত্রিকা আপনার প্রশংসা করেছে। শেরেবাংলা তখন বললেন- তাই নাকি? তাহলে তো মনে হয় আমি সঠিক পথে নেই।

যাই বলুন না কেন, যেভাবেই মূল্যায়ন করুন না কেন, শেখ হাসিনা যে মস্তবড় এক চাল চেলেছেন তা নিয়ে কি কারো মনে সন্দেহ আছে!

হিসাবটা গোলমাল হয়ে গেল সাঈদীর ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়ে। দেশব্যাপী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লো। ৪৯ জনের মৃত্যুর সংবাদ এসেছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ৩শ’ জন। পুলিশও মারা গেছে। এখানেই কি শেষ? বিদেশী সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, শুরু হলো মাত্র। সিএনএন বলেছে, স্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশ। একবাক্যে বাংলাদেশের মানুষ সবাই স্বীকার করবেন। থমথমে অবস্থা। বাংলাদেশ স্তব্ধ হয়ে গেছে। ঘরে ঘরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে কোন দিকে যাচ্ছে প্রিয় মাতৃভূমি। জামায়াতবিরোধী ধর্মীয় সংগঠনগুলোও মাঠে। ব্লগার রাজীবের ব্লগের লেখা নিয়ে তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বলছেন, একজন নাস্তিককে নিয়ে সরকার কেন মাতামাতি করছে। সরকারপ্রধান কেন সবকিছু না জেনে তাকে জাতীয় বীর ঘোষণা করলেন। তাদের আন্দোলন অবশ্য অনেকটা নিয়ন্ত্রিত। সরকারের তরফে তাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করা হয়েছে। হাটহাজারীর জনপ্রিয় পীর সাহেবের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ফলাফল কি তা জানা যায়নি। আতঙ্ক এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে, লোকজন মসজিদে যেতেও ভয় পাচ্ছে।  অনেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করছেন। বলছেন, তারা কেন জামায়াতকে সমর্থন দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বলে আসছে, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলে তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবে। আর তারা যদি আল কায়েদার পথ বেছে নেয় তখন অশান্ত হবে বাংলাদেশ। তাদের রয়েছে বুদ্ধি ও শিক্ষা। তাদের পেছনে টাকার জোগান থাকবে নিরবচ্ছিন্নভাবে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আগাম সতর্ক করেছে। বাস্তব অবস্থা কিন্তু তাই। পাকিস্তান কাঁদছে। আফগানিস্তান জ্বলেপুড়ে ছাই। কেউ আমাদেরকে সেদিকে নিয়ে যাবার জন্য টানছে কিনা তা পর্যালোচনা করে দেখার সময় এসেছে। ক্রিকেটার কাম পলিটিশিয়ান ইমরান খান পাকিস্তানের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন- অনেক হয়েছে। আসুন সবকিছু ভুলে গিয়ে পাকিস্তানকে রক্ষার জন্য ভাবি। আমরা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করি। ভুলভ্রান্তি একপাশে রেখে তালেবানের সঙ্গেও কথা বলি। বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিশ্বময়। অর্থনীতি নাজুক হতে চলেছে। ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির। বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ। একমাত্র পুঁজি শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। সেটাও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কি হয় বলা যাচ্ছে না। তবে মদিনা থেকে এক ধরনের পরামর্শ গেছে জেদ্দায়। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বন্ধ করার দাবি এবং ব্যাংকটির স্বাভাবিক কাজকর্ম চালাতে বিঘ্ন ঘটানোয় আন্তর্জাতিক ১৪টি সংস্থার পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে, যারা এই ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার। ৮০ লাখ গ্রাহকের এই ব্যাংকটির ৪৫% বিনিয়োগ রয়েছে শিল্পখাতে। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার শিল্প কারখানা এই ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারকে এ ব্যাপারে চটজলদি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা কি চান পরিষ্কার করতে হবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোলাটে হচ্ছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও মাঠে নামতে যাচ্ছে। তাদের কৌশল কি হবে তা পরিষ্কার হবে খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, বিএনপি ঘুমিয়ে ছিল। ঘুম থেকে উঠে দেখছে খেলাতো তাদের বাদ দিয়েই হচ্ছে। যে খেলা হোক না কেন, পরিস্থিতি যে কোন সময় যে কোনদিকে মোড় নিতে পারে।

বাতাসে নানা কথাই চাউর হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। শেষ পর্যন্ত কি দাঁড়াবে তা বোধকরি রাজনীতির কারবারিরা জানেন। শুধু জানেন না জনগণ। তাদের সামনে এক অনিশ্চিত অবস্থা। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ। একের পর এক হরতালে পরীক্ষার রুটিনও বদল হচ্ছে। জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা যে কোন সময়ের তুলনায় বেশি। চালের দামে ঊর্ধ্বগতি। আগে আন্দোলন হতো শহরকেন্দ্রিক। এখন কিন্তু এই আন্দোলন গ্রামেও ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার অন্তত ৮টি স্থানে গ্রামের মানুষ যোগ দিয়েছে।

সব কথার শেষ কথা হচ্ছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখতে হবে তিনি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা। বঙ্গবন্ধু কিন্তু এমন বাংলাদেশ চাননি। ’৭১ সালের আগে শত্রুমিত্র চেনা যেত। পাকিস্তান ছিল শত্রুর কাতারে। এখন একই বাড়িতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বাস। তাই কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ভেবে দেখতে হবে, যাতে ভ্রাতৃঘাতী কোন যুদ্ধে আমরা লিপ্ত না হই।  জামায়াতিদেরও বুঝতে হবে হিংসা হিংসারই জন্ম দেয়। হিংসার পথে কোন সমাধান নয়। যুদ্ধপরাধের প্রশ্নে জামায়াতকে বাস্তবতা মেনে নিয়েই রাজনীতি করতে হবে।

 

১২ comments

Skip to comment form

  1. 5

    ভাই আমি ও এক নজরুল যার পিতা দেশ প্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলো। কিন্তু এই সত্যি কথাটা আমার মরহুম পিতা মহোদয় ও গোপন করে রাখছিলো। সত্যটা আমি জানতে পারি আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে।

    প্রেক্ষাপট ০১ঃ সে দিন আমি গ্রামের বাড়িতে আসলাম আমার পরিবার চট্টগ্রাম এ থাকতো। গ্রামের বাড়িতে ছিলো একটি মাটির ঘর আমার দাদা,দাদী মারা যাওয়ারপর আমার পিতা আর তেমন একটা গ্রাম মুখি হয়নি। রাতে আমি যখন বসে ছিলাম ঘরে তখন ঘরের কোনায় একটা আলমারি ছিলো তার উপরে ছিলো একটা সুটকেইস মনের কৌতুহলেই সেটা খুলি এবং অনেক পুরানো পাকিস্তান আমলের কিছু দলিল পাই সাথে অন্য আরো কাগজ পত্র। প্রয়োজনী মনে করে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় নিয়ে যাই এবং আব্বাকে নিয়ে দেখতে থাকি এমন সময় একটা কাগজ আমার হাতে আসে যাতে ভারতের আগারগাঁও মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের সিলমোহর ছিলো (যে ক্যাম্পেএ স্থল মাইন্ড এর প্রশিক্ষন দেয় হত ১৯৭১ সালে। যা আমি অনেক পরে যানতে পারি) কাগজটিতে আমার আব্বা,আম্মা ও আমার বড় ভাইয়ের নাম ছিলো তাই কাগজটি আব্বার হাতে দিয়ে দেখতে বলি কাগজটি অনেক ক্ষন দেখার পরে আব্বা একটা বড় নিঃস্ দিলো আমিও জেদ করি ঘটনা জানার জন্য সেইদিন প্রথম জানতে পারি আব্বা মুক্তিযোদ্বা ছিলো। মনে মনে খুশি হয় এবং আব্বাকে বলি এতদিন বলেন নাই কেন বললে এই কাগজটা দিয়ে আপনার মুক্তিযোদ্বা সনদ বানাইতাম এবং আমরা ভাই,বোনরা মুক্তিযোদ্বার সন্তান হিসাবে সরকারি সুযোগ সুবিদা পাইতাম তখন আব্বা বললো বাবারে যুদ্ধ করছি দেশের জন্য কোন সুবিধা নেয়ার জন্য না। আব্বার এই কথা শুনারপর মনের বিতর থেকে একটা শান্তি অনুভব করলাম একজন দেশ প্রেমিক মুক্তিযোদ্বার ছেলে হিসাবে। কিন্তু আব্বার সেই নিঃস্ এর কারনটা সে দিন বলে নাই।

    প্রেক্ষাপট ০২- বর্তমানে আমি গ্রামের বাড়িতে থাকি প্রায় ৬ বছর হল, আর আমার পিতা মারা গেছেন ২ বছর। মারা যাওয়ার  ২ বছর আগে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় আমার এক ফুফাত ভাই চেয়ারম্যান এর জন্য প্রার্থী হয় বিএনপি থেকে আমার আব্বাকে এলাকার মানুষ জন খুবই সম্মান করতো একজন হাফেজি হুজুর হিসাবে ও একজন সত মানুষ হিসাবে কারন তিনি এলাকার অনেক মানুষকে চট্টগ্রামে চাকরি দিয়েছেন কোন প্রকার টাকা/পয়সা ছাড়া বা না নিয়ে তাই তারঅনেক সম্মান ছিল, সেই ফুফাতো ভাইটা আব্বার সেই জনপ্রিয়তাটাকে কাজে লাগিয়ে প্রচার করার জন্য আমিও সেইদিন বাড়িতে সে তার সাথে অনেক গুলি মানুষ নিয়ে যারা ছিলো আমাদের এলাকার। ফুফাতো ভাই আব্বাকে বল্ল যে কালকে বাজারে একটা জনসভা আছে আব্বা যাতে সেই সভায় যায় এবং তার জন্য এলাকার মানুষের কাছে তার জন্য ভোট চায়। আব্বা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল বাবারে তুই আমার বোনের ছেলে নির্বাচনে দাড়াইসত ভাল কথা আমি তোর জন্য দোয়া করি কিন্তু তোর জনসভায় যেতে পারবোনা কারন দুই দাড়াইসত ৪দলিয় জোট থেকে তোর সভায় অনেক জামাতের লোক থাকবে যাদের মধ্যে এমনও লোক আছে যে বা যারা ১৯৭১ সালে আমার লুঙ্গি খুলে পাকিস্থানি হনাদারদের দেখাইছে আমি মুসলিম কিনা (আমাদের বাড়ির দুইপাশেই হিন্দুরা বসবাস করতো) তাদের সাথে এক কাতারে দাড়াইয়া আমি তোর জন্য ভোট চাইতে পারবোনা। আমিসহ যারা ছিলো সবাইতো পুরা "থ" হইয়া রইলাম। আমার ফুফাতো ভাই আর কোন কথা না বলে চলে গেল। আমি আব্বার কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম সে লোকটা কে। আব্বা আমারেসেই লোকটার না বলল। বিশ্বাস করেন নজরুল ভাই নামটা শুনারপর নিজের কাছে নিজেরে এতটা আপরাধি মনে হল যে ভাষায় প্রকাশ করারনা কারণ সেই লোকটারে এলাকার অনেক মানুষসহ আমি সম্মান করতাম একজন নামাজপড়া আল্লাওয়ালা লোক হিসাবে। আমার চুপ থাকাদেখে আমার আব্বা কথাগুলা কখনো বলিস না কারন রাজাকাররা এখন দেশ চাচালায়। আব্বা আরো বল্ল যে ১৯৭১ যেইদিন এই ঘটনা হলো সেই দিনেই আমি ভারত গিয়ে মুক্তিযোদ্বা ক্যাম্পেএ  পশিক্ষন নেই এবং যুদ্ধ করি। দেশ সাধীন হওয়ারপর মনের ইচ্ছা হইছিলো সেই রাজাকারকে গুলি করে মারি কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলছে অস্ত্র জমা দিতে রাজাকারের বিচার বাংলার মাটিতে হবে। কিন্তু সেই বিচার শুরু করতে গিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুকে ও হারাই লাম। এখন তোরা যুব সমাজ কিছু করতে গেলে তোদেরকে ও হারানোর ভয়ে থাকি। স্বাধীন দেশে থেকেও আমরা রাজারাদের ভয় পাই কারন এই আওয়ামীলিক ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধ  অপরাধীদের সাথে হাত মিলাই ছিলো।

    যাই হোক সে কথা, সাইদীর ব্যাপারটা একটু জটিল কারন সে চাঁদের মানুষ (একজন আলেম এর অনুসারিরা কি করে বলতে পারে যে তাকে চাঁদে দেখা গেছে) যদি সে অপরাধী হয়ে থাকে তার বিচার কার্যকরি হোক। দেলোয়ার হোসেন সাইদী

  2. 4
    সাদাত

    শেয়ার করা লেখাটা পড়ি নাই। আপনার দেওয়া ভূমিকা পড়লাম। একেবারে সত্য কথাটা বলেছেন।

    1. 4.1
      শাহবাজ নজরুল

      সাদাত ভাই, কি করবো বলেন -- প্রতিটি বিষয়ই এখন অকারণে সেন্সিটিভ। কিছু বলতেই ভয় পাই। ট্যাগ হাতে বসে আছে সবাই। আল্লাহ্‌ সুভানা -তায়ালার সাহায্য ছাড়া এখন আর উপায় নেই। আল্লাহ্‌ আমাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করুন। আমিন।
       

  3. 3
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    এতো বড় একটা লেখার উপসংহারটা হতাশ করলো। করাই কথা। কারন এই মূহুর্তের চিত্রটাকে বড় করে দেখলে কারো পক্ষেই করনীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে -- কারন পরিস্থিতি এতো দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে যে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। 
     
    বর্তমান অবস্থা -- বিশেষ করে দেলোয়ার হোসেইন সাঈদীর রায়ের পর যে সর্বগ্রাসী সন্ত্রাস চালাচ্ছে শিবির এবং সাঈদীর ভক্তরা তা কতদিন চলবে তা নির্ভর করে তাদের পরিকল্পনা ও জনসম্পকৃততার উপর। তবে যা দেখছি -- কোন ঘোষনা ছাড়া চট্রগাম কক্সবাজার সড়কে যানবাহনের উপর হামলা, রেল লাইন উপড়ে ফেলা বা ট্রেনের বগিতে যাত্রী বেশে আগুন দেওয়া -- এই গুলো নিয়ে বেশী দুর যেতে পারবে না ওরা। সন্ত্রাসকে সাধারন মানুষ পছন্দ করে না। 
     
    দুই দিনের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিলো শিবিরে সন্ত্রাসী কাজগুলো দ্রুতই স্থিমিত হয়ে যাবে -- কিন্তু বিএনপি এখন তাদের সহযোগী হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি একটা অসচ্ছ হয়ে গেছে। আমার বিশ্বাস বিএনপির সাধারন কর্মীরা খুব ভাল সাড়া দেবে না এই কাজে কারন এই কর্মসূচী খালেদা জিয়ার একক সিদ্ধান্তে এসেছে। নেতারা খুব একটা নিশ্চিত না এই কমূর্সচীতে কতটা লাভবান হবেন উনারা। সুতরাং এই সপ্তাহটা দেখতে হবে। 
     
    আর শিবিরের চলমান সন্ত্রাসী কাজের বিষয়ে ভয় পাওয়ার তেমন কোন কারন দেখি না -- গত সেপ্টেম্বর অক্টোবরে এরা ঢাকায় এই ধরনের ভাংগচুর অগ্নি সংযোগ করে যে মহড়া দিয়েছিলো তারই ধারাবাহিকতায় এরা সারাদেশে এই কাজাটা ছড়িয়ে দিয়েছে -- সাথে যুক্ত হয়েছে সাঈদীর ভক্তকুল। আমরা আগেও দেখেছি এই ধরনের কাজকর্ম -- যেমন জাসদ ১৯৭৩ ৭৪ সালে সারা দেশে এর চেয়েও ব্যাপক সন্ত্রাস করেছে -- পড়ায় পাড়ায় গলিতে গলিতে লাশ ফেলেছে -- অগ্নি সংযোগ থেকে শুরু করে বিদেশী রাষ্ট্রদূতকে অপহরনের মতো চেষ্টাও করেছে। কিন্তু যেহেতু সন্ত্রাসের ফলে দলের মুল বক্তব্য আড়ালে চলে যায় -- তাই এরা দ্রুতই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দেশের এবং আন্তর্জাতিক মহলের কেউই সন্ত্রাসকে পছন্দ করে না। সুতরা বিএনপির সক্রিয় সমর্থনের পরও হয়তো কিছুদিন সন্ত্রাসী কাজ চালাতে পারবে জামাত-শিবির কিন্তু তা এক সময় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় পরিনত হবে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ আশংকার বিষয় হলো যে -- এরা আরো ভীতিকর কাজ করতে পারে -- যেমন আত্নঘাতি বোমা হামলার মতো কিছু ঘটনা। তবে তার কার্যকারীতা তাদের নিজেদের ধ্বংসের পথেই নিয়ে যাবে। 
     
     

    1. 3.1
      শাহবাজ নজরুল

      আপনার কথা মানছি … কিন্তু যেভাবে একদাগে ঘটনাপ্রবাহ বিধৃত করলেন এটা পুরো সত্য না। পুলিশ যে ভয়াবহ রকমের বাড়াবাড়ি করেছে তা কী অস্বীকার করবেন জিয়া ভাই? মনে হচ্ছে পুলিশের ৪ জন সদস্য মারা গেলে তারাও কিছুটা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু যেভাবেই হোক দেশের লোকদের জান-মালের নিরাপত্তা পুলিশ ও সরকারকেই দিতে হবে। যদিও পুলিশের সদস্য মারা যান -- তারা কোনভাবেই "ট্রিগার হ্যাপি" হতে পারেন না।
      আরেকটা ব্যপার -- জামাত যে সাইদী'র রায়ের পরে মরন কামড় বসাবে এটা সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে পুলিশ সদস্য সবাই জানতো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সরকারের নিজের কি মোকাবেলা'র প্রস্তুতি ছিল? মনে হচ্ছে মোটামুটি লোক দেখলেই গুলির নির্দেশ -- এটাইপের কিছু। এভাবে সমস্যা মোকাবেলা করা ভুল। জামাতের চালের কাছে সবাই ধরা খাচ্ছে। জামাত চায় লাশ -- সরকার জামাতকে লাশই উপহার দিচ্ছে -- সেসব লাশ (অনেকক্ষেত্রে) যারা হয়তো জামাতের ফাঁদে পা দিয়ে মিছিলে গেছে। ইনোসেন্ট ভিক্টিম। জামাত যখন খুনের গঙ্গা বইয়ে দেয়ার প্ল্যান নিয়েছে -- তাকে সেই গঙ্গাই কেন উপহার দেয়া হলো??? সরকার কি কোনভাবেই ক্যাজুয়েল্টি কমাতে পারলোনা? অনেকেই বলেছেন পুলিশ "পাখির মতো গুলি করেছে", এরা সবাই কি শতভাগ মিথ্যা বলছেন?
       
      যাইহোক, জিয়া ভাই আপনার কাছে একটা প্রশ্ন ছিল। অনেক প্রশ্ন উঠেছে যে সাইদী রাজাকার ছিলোনা -- তাই তার ফাঁসি হচ্ছে অন্যায় বিচার … ইত্যাদি। এই বিষয়ে আমার জ্ঞান কম। তাই একটা প্রশ্ন। সাইদী যে রাজাকার ছিলো ও যুদ্ধের সময় অনেক লোককে হত্যা করেছে -- এই অভিযোগ প্রথম কখন ওঠে? কোথায় ওঠে? একটু আলোকপাত করুন।
       
      --শাহবাজ

    2. 3.2
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      শাহবাজ,
       
      ধন্যবাদ। বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই যে সাঈদী মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ভূমিকার জন্যেই শাস্তি পেয়েছেন।

      অনেকগুলো ফ্যাক্টর এখানে কাজ করেছে -- ফলে ২০টি অপরাধের মধ্যে ৮টি প্রমানিত হয়েছে। আমি বরাবরই মামলাগুলো ফলো করি -- আমার মনে হচ্ছিলো মাত্র দুইটি পরিপূর্ন ভাবে প্রমানিত হবে। তাই হয়েছে -- যে দুইটির বিষয়ে কোন সন্দেহাতীত প্রমান পাওয়া গেছে তার জন্যেই ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
       

      কিছু বিষয় এখানে বিবেচনা করা দরকার আছে --

      ১) বাংলাদেশের জন্যে যুদ্ধাপরাধী/মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বিষয়টি সম্পূর্ন নতুন -- যেহেতু ক্রিমিন্যাল কোর্ট থেকে আসা উকিল এবং জাজরা যারা এই বিচারের সাথে জড়িত ছিলেন তাই পুরো বিচারটিই ছিলো এক পক্ষে জন্যে লার্নিং প্রসেস, তাই আমরা দেখেছি প্রচুর পিটিশনের শুনানী হয়েছে এবং অন্যদিকে জামাতের আইনজীবিরাও পরিপূর্ন ভাবে মামলায় অংশগ্রহন করেছে এবং সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে তাদের পক্ষে লড়াই করেছে। সেই বিবেচনায় রায় নিয়ে জামাতের এই আন্দোলন অযৌক্তিক এবং অনৈতিক। 

      ২) অন্যান্য দশটি বিষয়ের মতোই জামাত এখানে ডাবল স্টান্ডার্ড নীতিতেই ছিলো -- একদিকে কোর্ট মেনে নিয়েই ভিতরে আইনী লড়াই করেছে -- অন্যদিকে আন্তর্জাতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোর্টের বিরোধীতা করেছে। কোর্টে আইনী প্রক্রিয়া অংশ নেওয়ার পর তার রায় নিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টি করা অনৈতিকই নয় আইনের দৃষ্টিতে অপরাধও বটে। 
       

      এবার আসি সাঈদীর অভিযোগের ভিত্তি সম্পর্কে --

       
      আমাদের সাঈদী বিষয়টি বুঝার আগে অবশ্যই যুদ্ধাপাধের বিচারের বিষয়টির সাথে রাজনৈতিক এবং ঐতিকাসিক কিছু তথ্যের দিকে তাকাতে হবে --
      ১) ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি জারি করা দালাল আইন বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদেশের আওতায় এই চার দলের নেতাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে আটক হয় ৩৭ হাজার ৪৯১ জন ব্যক্তি। ৭৩টি ট্রাইব্যুনালে মানবতার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয় প্রায় ১১ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মোট দুই হাজার ৮৪৮ জনকে বিচারের সম্মুখীন হতে হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মুসলিম লিগের শীর্ষস্থানীয় নেতা খান আবদুস সবুর, ফজলুল কাদের চৌধুরী, শাহ আজিজুর রহমান, জামায়াতের নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আব্বাস আলী খানও ছিল। এসব মামলায় মোট ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৬৮ জনের যাবজ্জীবন ও ৭৫২ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। 
       

      ২) ৭৫ এর ১৫ ই আগষ্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রাজাকারতন্ত্র নিজেদের ফিরে পায় এবং ইতিহাস বদলানোর সাথে সাথে বিচারের বিষয়টি সম্পূর্ন আড়ালে ফেলে দেয় -- কিন্তু শহীদ পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের একটা দল সব সময়ই স্বল্প পরিসরে বিচারের দাবীতে সক্রিয় ছিলো -- কিন্তু সামরিক এবং স্বৈরশাসনের কারনের তাদের পরিসর খুব একটা বড় হয়নি। কিন্তু ১৯৯০ সালের স্বৈরশাসকের পতনের পর গনতান্ত্রিক পরিবেশে বিচারের বিষয়টি আবার প্রকাশ্যে চলে আসে -- যার প্রতিফলন দেখেছি জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গনআদালাত আর নিমূল কমিটি। 

      ৩) সরকারের সম্পূনূ বৈরীতার মাঝে প্রাথমিক ভাবে ১০ জন টপমোস্ট রাজাকারের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে নিমূল কমিটি। বলাই বাহুল্য গোলাম আযমের বিষয়টি তদন্ত শেষ করে গনআদালত সংঘটিত হয় এবং তার অপরাধ ফাঁসির যোগ্য ঘোষনা দেওয়া হয়। 

      ৪) গনআদালাত বেআইনী ঘোষনা করে উদ্যোগতাদের (জাহানার ইমাম, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল সহ বরেন্য ১৭ জনের ) বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা করে বিএনপি সরকার -- এবং শিবির আর ফ্রিডম পার্টি মিলে যুবকমান্ড নামে একটা সন্ত্রাসী সংগঠন বানিয়ে ঘাতক দালাল নিমূর্ল কমিটির সকল সমাবেশের উপর হামলা করতে থাকে সরকারী মদদে। ফলে আন্দোলনের প্রকাশ্য রূপ ভাটা পড়ে যায় -- কারন বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় বিএনপি বিচারে পক্ষে না
       

      ৫)  কিন্তু ভিতরে ভিতের কার্যক্রম চলতে থাকে -- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো যুদ্ধাপরাধে বিষয়ে তথ্য প্রমান সংগ্রহ করা। সেই সুবাদে ১৯৯৪ সালে দেলোয়ার হোসেইন সাইদীর অপরাধের বিষয়টি প্রকাশিত হয় -- কিন্তু পিরোজপুরের মানুষের ক্ষোভ এবং অভিযোগ ছিলো ৭১ থেকেই। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আর ক্যাডার বাহিনী দিয়ে সাঈদী তার প্রতিপক্ষতে দমন করে রেখেছিলো -- বিশেষ করে হিন্দুদের উপর চাপ প্রয়োগ করে তাদের দেশত্যাগ করিয়ে মুখ বন্ধ করে রেখেছিলো। 

      ৬)  এখানে আরেকটা বিষয় লক্ষ্যনীয় জামাত-বিএনপি ক্ষমতা গিয়ে ১৯৭৩ সালে শুরু হওয়ার মামলা নথিগুলো নষ্ট করে ফেলেছে বলে জানা যায়। কিন্তু তারপরও কিছু কিছু দলিল সুপ্রিম কোর্টে পাওয়া গেছে সেখানে অভিযুক্ত এবং বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত হাজার হাজার রাজাকারের নামের তালিকা পাওয়া যায়। সেখানে জামাতের প্রায় সকল নেতার নাম আছে এবং এদের অনেকে পলাতন থাকায় ওয়ারেন্ট পত্রিকায় প্রকাশতিও হয়েছে। সামুর ব্লগে আমি একটা বিরাট তালিকা দিয়েছিলাম যাতে গোলাম আযমের ওয়ারেন্টের নাম আছে।

      ৭)আরেকটা বিষয় লক্ষ করা যেতে পারে -- আবুল কালাম আযাদ যে বাচ্চু রাজাকার ছিলো তা ২০০৭ সালের আগে ঢাকাবাসী জানতো না -- ফলে সে একটা মাওলানা হিসাব বেশ সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিলো -- কিন্তু যখনই টিভিতে তার চেহারা দেখা গেলো -- ফরিদপুরের লোকজন হৈ চৈ শুরু করলে প্রবীর সাহা নামের এক সাংবাদিক একটা প্রতিবেদন লিখে দেশবাসীকে জানা যে সে বাচ্চু রাজাকার -- যা কারনে প্রবীর এখন পংগু অবস্থায় বসবাস করছে। বাচ্চু রাজাকার যেহেতু জামাতে সক্রিয় ছিলো না -- তাই তাকে নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। যেহেতু সাঈদী জামাতের সক্রিয় তাই তাকে নিয়ে যত বিতর্ক তৈরী করা হয়েছে -- এখন তা চাঁদ পর্যন্ত চলে গেছে।
       

      সুতরাং প্রচার প্রচারনায় বিভ্রান্ত হওয়ার কোন কারন নেই। একটা যথেষ্ঠ স্বচ্ছ বিচারে সাঈদীর অপরাধ প্রমানিত হয়েছে এবং শাস্তি পেয়েছে -- এর মধ্যে রাজনীতি প্রবেশ করিয়ে যারা বিতর্ক করছে তারা তাদের নিজেরে লাভের আশায় করছে।
       

      ধন্যবাদ। 

      1. 3.2.1
        শাহবাজ নজরুল

        ধন্যবাদ জিয়া ভাই উত্তরের জন্যে। আমি এসব ইতিহাসের অনেক কিছুই জানিনা। তবে জানার ইচ্ছে আছে -- বিশেষত যখন অভিযোগ উঠেছে যে সাইদীকে রাজনৈতিক কারণে ফাসানো হয়েছে তখন ঘটনার গোড়ায় যেয়ে দেখার ইচ্ছে জাগে। আশা করি সরকার কেবল রাজনৈতিক কারণে যুদ্ধ-অপরাধীর আদালতকে ব্যবহার করছেনা। গোলাম আজম, নিজামী কিংবা সাকা'র ইতিহাস আমাদের সবার জানা -- অনেক পত্রপত্রিকা কিংবা ব্লগে অনেক ডকুমেন্ট পাওয়া যায়। কিন্তু সাইদী'র ক্ষেত্রে তেমনটা পাওয়া যায়না।তাই আপনার সরনাপন্ন হওয়া --

        ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি জারি করা দালাল আইন বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদেশের আওতায় এই চার দলের নেতাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে আটক হয় ৩৭ হাজার ৪৯১ জন ব্যক্তি। ৭৩টি ট্রাইব্যুনালে মানবতার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয় প্রায় ১১ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মোট দুই হাজার ৮৪৮ জনকে বিচারের সম্মুখীন হতে হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মুসলিম লিগের শীর্ষস্থানীয় নেতা খান আবদুস সবুর, ফজলুল কাদের চৌধুরী, শাহ আজিজুর রহমান, জামায়াতের নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আব্বাস আলী খানও ছিল। এসব মামলায় মোট ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৬৮ জনের যাবজ্জীবন ও ৭৫২ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

        দালাল আইন বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এর যে পরিসংখ্যান দিলেন তাতে কি সাইদী'র নাম কোথাও ছিল? ধরুন সবচেয়ে কম্প্রিহেনসিভ লিস্ট অর্থাত ৩৭ হাজার ৪৯১ জনের তালিকায় কি সাইদী'র নাম ছিল?

        1. 3.2.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          আমি পুরো লিস্টটা দেখার সুযোগ পাইনি। তাই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।
           
          যতটুকু জেনেছি ১৯৭২ সালেই সাইদীর বিরুদ্ধে পিরোজপুরে মামলা হয়েছিলো। মামলার রায়েও তাই বলা হয়েছে। ১৯৭১ সালে সাইদী নামে কোন মানুষ ছিলো না। তার নাম ছিলো দেলোয়ার হোসেন শিকদার / দেলু শিকদার/ দেইল্যা রাজাকার নামে এলাকায় পরিচিত ছিলো। আসামী পক্ষ দেলোয়ার শিকদারের নির্দোষ প্রমান করতে পারেনি -- কিন্তু এরা প্রমানের চেষ্টা করেছে দেলু আর সাঈদী এক ব্যক্তি নয়। কিন্তু বিশু বালী স্বাক্ষী প্রমান করে যে এই লোকই দেলু। উনি যুদ্ধের পর পিরোজপুর থেকে পালিয়ে খুলনা -- যশোহর এলাকায় বসবাস করেছেন এবং আলেম হিসাবে পরিচিত পাওয়ার পরই নির্বাচনের জন্যে এলাকায় গেছেন। ততদিনে ৭১ এর প্রজন্ম প্রায় শেষ -- নতুন ভাবে শিবির আর জামাতের ক্যাডার পরিবেষ্টিত হয়ে উনি সাঈদী নামে এমপি হন। 
          মামলার এফ আই আরএর কপি যা আদালতে উপস্থাপন করা হয় --
           
          <img src="http://www.bdtoday.net/blog/bloggeruploadedimage/chairman/1362329714.jpg” alt=”সাঈদীর মামলার কপি ” />

          এখানে একটা কথা বুঝা দরকার যে -- ১৯৭১ সালে গোলাম আযমও সাইদীকে চিনতেন বলে মনে হয় না। সাঈদীর উত্থান হয়েছে ১৯৭৬ সালে সোরোওয়ার্দী উদ্যানে এক সিরাত মাহফিলের মাধ্যমে -- যেখানে মুজিব হত্যার পর হত্যাকারীরা ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ ঘোষনার জন্যে একটা সমাবেশ করে এবং তাকে সিরাতুন্নবী মাহফিলে কভার দেয়। সেখানে সাঈদী প্রথম জাতীয় পর্যায়ের কোন অনুষ্ঠানে ওয়াজের সুযোগ পায়।
           
          সেই কারনেই রায়ে বলা হয়েছে বিচার হয়েছে ১৯৭১ সালের দেলুর -- আলেম সাঈদীর না।  

        2. Sam

          আপনি বলছেন,
          "যতটুকু জেনেছি ১৯৭২ সালেই সাইদীর বিরুদ্ধে পিরোজপুরে মামলা হয়েছিলো। মামলার রায়েও তাই বলা হয়েছে। ১৯৭১ সালে সাইদী নামে কোন মানুষ ছিলো না। তার নাম ছিলো দেলোয়ার হোসেন শিকদার / দেলু শিকদার/ দেইল্যা রাজাকার নামে এলাকায় পরিচিত ছিলো।"

          আপনি নিশিত না যে ১৯৭২ সালেই সাইদীর (দেলোয়ার হোসেন শিকদার) বিরুদ্ধে পিরোজপুরে মামলা হয়েছিলো কি না? মামলা হলে তার কপি বের করা বা কে মামলা করেছিল, কেন করেছিল তা বের করা কি খুবই কঠিন? এলাকায় কি কেউ বেচে নেই?

          সাঈদীর নাম দেলোয়ার হোসেন শিকদার / দেলু শিকদার ছিল এটা কিভাবে জানলেন?

          তার নাম সাটিফিকেটে কিন্ত শিকদার ছিল না। আবার তার পিতার নাম সাঈদী আছে ঠিকই। সে যদি তার পিতার নাম সাঈদী যোগ করে নামের শেষে- আপত্তি কোথায়? যদি সাটিফিকেটের নামে শিকদার থাকত,আর সেটা পরিবতন করে সাঈদী রাখত তাহলে কথা ছিল।

          বাংলাদেশে অনেকেই বয়স কয়েক বছর কম করে দেখায়। কিন্তু ১২ বছর বয়সের ছেলেকে দাখিল দিতে দিল কিভাবে স্কুল বা বোড?

          নিচের ভিডিও আপনি দেখে থাকতে পারেন। কেউ কি এগিয়ে এসেছিল তাকে রাজাকার প্রমাণের জন্য? সাঈদীর ব্যাপারটা আমার কাছে ঘোলাটে মনে হয়।

  4. 2
    মুনিম সিদ্দিকী

    নেটে পেলাম কেউ একজন এই মন্তব্য করেছেন। যা সাথে আমিও একমত। তা আপনাদেরকে শেয়ার করছি।

    "আপনি জামাত হোন আর আওয়ামি হোন, আস্তিক হোন আর নাস্তিক হোন, ফাঁসি চান আর মুক্তি চান, দয়া করে সবাই মাথা খাটান। দেশটা আমাদের অনেক সুন্দর। হে মহামান্য দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদগণ, দয়া করে আমাদের দেশটাকে পাকিস্তানের মত মারদাঙ্গা বানাবেন না, আফগান বা ফিলিস্তিনের মত জলন্ত অগ্নিকুন্ড বানাবেন না। এমন কোন কিছু হয়ে যায় নাই দেশে যে একদিনে অর্ধশত লাশ পড়তে হবে। আপনরা রাজনীতি করেন, আপনারা সমস্ত রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করেন, কোটি কোটি টাকা আপনারাই পাচার করেন আবার আপনারাই ফিরিয়ে আনেন, আপনারাই দূর্নীতি করেন আবার আপনারাই দেশপ্রেমিক খেতাব পান, তাতে আমাদের কোন আফসোস নেই। যত কষ্টই হোক, সব দাত চেপে সয়ে যাব। শুধু হাতজোর অনুরোধ, দেশকে রক্ষা করুন। দেশে এমন শুরু হলে কারোর জন্যই ভালো হবে না। "

    1. 2.1
      শাহবাজ নজরুল

      সুন্দর মন্তব্য তুলে এনেছেন মুনিম ভাই। ধন্যবাদ।

  5. 1
    শামস

    দেশের এমন ভয়াবহ অবস্থা এই প্রথম দেখলাম! রীতিমত আতঙ্কের!  
    লেখাটি নিয় ভাববার অবকাশ আছে।
     

Leave a Reply

Your email address will not be published.