«

»

Jun ১৯

চেঙ্গিস বন্দনা-র নেপথ্যে

চেঙ্গিস খান আর তার প্রতিষ্ঠিত মোঙ্গল সাম্রাজ্যের নিষ্ঠুরতা, ভয়াবহতা, ও নৃশংসতার চিত্রের উপর চিনির প্রলেপ লাগিয়ে হোরাস এখানে তাকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে প্রমাণ করার লক্ষ্যে সব ধরণের অপচেষ্টা করেছেন। যে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্যে চেঙ্গিস ইতিহাসে বিখ্যাত তার ছিটেফোঁটাও উল্লেখ না করে হোরাস সাহেব তাকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন।

চেঙ্গিস খান ও তার প্রতিষ্ঠিত মোঙ্গল সাম্রাজ্যের নীতি ছিলো কোনো রকম প্রতিরোধ ছাড়া নিঃশর্তে মোঙ্গল কর্তৃত্বকে মেনে নাও নচেত সর্বাংশে ধ্বংশ/বিনাশ অনিবার্য। ডেভিড নিকোল তার “The mongol warlords” বইতে বলেছেন, সন্ত্রাস ও বৃহৎ আঙ্গিকে ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে সকল বাঁধাকে উপড়ে ফেলে এগুনোই ছিল পরীক্ষিত মোঙ্গল সমরনীতি। সম্পূর্ণ আনুগত্যের বিকল্প ছিল সার্বিক যুদ্ধ; যেখানে মোঙ্গল নেতারা চালাতেন নৃশংস গণহত্যা ও সম্পত্তির ভয়ানক ধ্বংসলীলা। খারেজমিদ, কিয়েভ, বাগদাদ, আর্মেনিয়া, চীন, জর্জিয়া, পোল্যান্ড ও উত্তর ইরানে এরকমই ভয়ানক ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যার হোলী খেলেন চেঙ্গিস ও পরবর্তী মোঙ্গল নেতারা। অবর্ণনীয় হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন ও ধ্বংসলীলার বর্ণনার প্রচারের উপর মোঙ্গলরা নির্ভরও করতো অনেকাংশে; এটা তাদের সমরকৌশলের অংশ ছিল। উদ্দেশ্য ছিল এই বাস্তবতা চালু করা যে মোঙ্গলরা অপ্রতিরোধ্য, ওদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অপচেষ্টা করা নিছক বোকামী ছাড়া কিছু না। আর যদি কেউ সামান্যতম প্রতিরোধের চেষ্টা করতো তাহলে ঐ জনপদকে সর্বাংশে ধ্বংস করে দিত চেঙ্গিস ও তার অনুসারীরা। সমসাময়িক ইতিহাস থেকে জানা যায় চেঙ্গিস খান ও তার পরবর্তী মোঙ্গল যোদ্ধারা কি হারে লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের উন্মত্ত খেলায় মেতে উঠতেন। প্রাচীণ ইতিহাস পাঠে জানা যায়, চেঙ্গিস খানের নজিরবীহিন পাইকারী ধ্বংসযজ্ঞ, হত্যা, লুটতরাজ, ধর্ষণ তৎকালীন পৃথিবীর ভৌগলিক ও নৃতাত্বিক চিত্রকে কীভাবে পাল্টে দেয়। [১]

চেঙ্গিস ও তার অনুসারীদের ব্যপক হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস এই পোষ্টের সামান্য পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব না; তাই কয়েকটা মাত্র উদাহরণ দিচ্ছি।

মধ্যযুগের ইতিহাসবিদ রশিদ আল-দীনের মতে মার্ভে-তে সাত লক্ষ ও নিশাপুরে দশ লক্ষাধিক লোক হত্যা করে মোঙ্গলরা। আর ইরানের জনসংখ্যা পঁচিশ লক্ষ থেকে আড়াই লক্ষতে নেমে আসে। আমরা দেখেছি, প্রাচীন ঐতিহাসিকগণ হয়ত সব সময় সঠিক ঐতিহাসিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ইতিহাস লেখেননি, মাঝেমধ্যে হয়ত অতিরঞ্জিত করে থাকেন; কিন্তু যে মারাত্মক ভয়ানক হত্যাযজ্ঞের চিত্র আমরা তাদের বর্ণনাতে দেখতে পাই, তার কিয়দংশ সত্য হলেও সেটাই বর্ণনাতীত। [১]

কাল্কার যুদ্ধে মোঙ্গলদের আগ্রাসনের চিত্রায়ন

চীনের রাজকীয় হিসেব মতে দেখা যায় মোঙ্গল বহিরাক্রমণের আগে জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি আর ১২৭৯ সালে মোঙ্গল আক্রমণ শেষ হবার পরের ১৩০০ সালের আদমশুমারীতে দেখা যায় চীনের জনসংখ্যা ৬ কোটি। জনসংখ্যার এই পতনের বড় অংশের কারণই ছিল চেঙ্গিস ও পরবর্তী মোঙ্গল যুদ্ধবাজদের নির্বিচারে পাইকারী ভঙ্গিমার গণহত্যা।

চেঙ্গিস ও অনুসঙ্গীদের অনুপ্রবেশের ফলে রাশিয়ার জনসংখ্যা অর্ধেকে নেমে যায়। ঐতিহাসিকদের হিসেবে একই ট্রেন্ড দেখা যায় হাঙ্গেরীতে (১০ লক্ষ বা অর্ধেক হাঙ্গেরীয় জনসংখ্যা প্রাণ হারায়)। [২]

বাগদাদের অধিগ্রহণ আরেক নৃশংশ ইতিহাস; অনেকে হয়ত এটা জানেন। মোঙ্গল নেতা হালাগু খানের নেতৃত্বে বাগদাদে নিহত হন ১ থেকে ১০ লক্ষ নীরিহ জনগণ; আগুনে পুড়ে ও দজলা নদীর পারাপারের কাজে ব্যবহৃত হয়ে ধ্বংস হয় বাগদাদের লাইব্রেরীর সকল বই। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া তৎকালীন বিশ্বের সবচাইতে প্রাণবন্ত নগরী এরপরে কয়েক শতাব্দী প্রায় জনশূন্যই থাকে। নরপশু মোঙ্গল হালাগুর সেই ভয়াবহ আক্রমণের সাথে সাথেই শেষ হয় ইসলামের স্বর্ণযুগের। [৩]

রক্তের হোলি খেলার তৎক্ষণাৎ দূর্ভাগা পরিণতি ছাড়াও চেঙ্গিস ও তার উত্তরসুরীদের ধ্বংসলীলা থেকে রেহাই পায়নি সেসব জনপদে বেঁচে থাকা অবশিষ্ট জনগোষ্ঠীও। ইরান ও ইরাকে ঘটানো ধ্বংসযজ্ঞে নষ্ট হয়ে যায় অনেকদিনে তিলে তিলে গড়ে ওঠা স্থানীয় কৃষি ও সেচ-ব্যবস্থা। সেচ ও কৃষিব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলাতে ঘটে যাওয়া অনুবর্তী খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষে মারা যায় যুদ্ধের চেয়েও বেশী লোকজন।

গাংঘাওয়া দ্বীপের অবরোধের সময় তারা ক্ষেতখামার ও শস্যাদি জ্বালিয়ে দেয়, যাতে লোকজন না খেয়ে মারা যায়। মোঙ্গলদের অন্যান্য অভিনব ও অভূতপূর্ব কূটচালের মধ্যে ছিল নদীর গতিরোধ/পরিবর্তন কিংবা মৃত শবদেহ গুলতি দিয়ে নগর সীমানাতে ছুঁড়ে মারা, যাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে রোগ সংক্রামিত করা যায়। [৪]

যাইহোক, এই হলো চেঙ্গিস ও তার উত্তরসুরীদের করা কুকর্মের ইতিহাসের কিয়দংশ। এখন আমার প্রশ্ন, তথাকথিত মুক্তমনা, সুশীল হোরাস কীভাবে ধ্বংসের লাল কালিতে লেখা এই নৃশংস চরিত্রকে সহস্রাব্দীর ‘মহানতম’ ব্যক্তিত্ব হবার কথা প্রস্তাবের মধ্যেও আনতে পারেন!!! যে ব্যক্তি নিজেই লক্ষ-লক্ষ লোক হত্যা করে হত্যাযজ্ঞের পরম্পরার সূচণা করেছেন, আর তার সুযোগ্য উত্তরসুরীরা তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে গেছেন; সেই ভয়াবহ ইতিহাসের জনকের কুকর্মকে সুবিধামতো ভুলে গিয়ে (conveniently forgetting) বুদ্ধিজীবি হোরাস কীভাবে কেবল অন্যের ঔরসে জন্মানো ছেলেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করা কিংবা প্রতিকৃতি না আঁকানো, মনুমেন্ট তৈরী না করা, মুদ্রার পিঠে নিজের ছবি না বসানো, গৌরব গাঁথা নিয়ে গান কিংবা কবিতা না লেখানোর মতো তুচ্ছ কাজের বদৌলতে এতটাই অভিভূত হয়ে পড়েন যে, কোটি কোটি নীরিহ মানুষের অকারণে প্রাণ নাশের মাদকতাকে ‘মহানুভবতার’ সীলমোহর দিতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠাবোধ করেননা??? চেঙ্গিসের হাতে শুরু হওয়া মোঙ্গল হত্যাযজ্ঞ সম্ভবত এই ধরাভূমে ঘটে যাওয়া নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ।

এই লিঙ্ক থেকে জানা যায় চেঙ্গিসের শুরু করা মোঙ্গল হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান তৎকালীন বিশ্বের ৩ থেকে ৬ কোটি নিরপরাধ প্রাণ। সংখ্যার চেয়ে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ঘটনার সময় পৃথিবীর জনসংখ্যার কত শতাংশ লোক প্রাণ হারান সে হিসেবটি। সংখ্যাটি ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মতো। তূলনাটি আরেক দৃষ্টিকোণ থেকে ভেবে দেখুন। মোঙ্গল হত্যাযজ্ঞ যদি আজ ঘটতো তাহলে বর্তমান বিশ্বের ৬০ থেকে ৯০ কোটি লোক প্রাণ হারাতেন। ভেবে দেখুন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ও বাংলাদেশ সহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সকল দেশে আর কোনো প্রাণ বেঁচে নেই, কিংবা সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত কিংবা চীনের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ লোক মারা গেছেন। সঠিক তূলনামূলক চিত্র যখন এরকম, তখন আমাদের বিশিষ্ট ব্লগ বুদ্ধিজীবি ও চিন্তাবিদ হোরাস কেন ও কীভাবে বিশাল জনগোষ্ঠীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ আলোচনার বাইরে রেখে ঘটনার নির্মোহ বিশ্লেষণ করেন? ভাবুন আজকের দিনে বুশ, চেঙ্গিসের হত্যাযজ্ঞের এক সহস্রাংশ মাত্র করলেন (৬ থেকে ৯ লক্ষ নিরপরাধ প্রাণ মারা গেলো); তখন কি হোরাস বলবেন, “কিছু লোক মারা ছাড়া বুশের জীবনের বাকী ঘটনাবলী নির্মোহ ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে তিনি খুব সহজেই আধুনিক নৈতিকতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ হয়ে পরিচিতি পেতে পারেন একজন মহান মানুষ হিসাবে? কেননা একবার তার শাসনের আওতায় যারা এসেছে তারা অন্য যে কোন স্থানের তুলনায় অনেক বেশী নিরাপদ, প্রগতিশীল, এবং স্বাধীন।” হাসব না কাঁদব? আমি বাকরূদ্ধ!!! আর ঐদিকে দেখলাম যুক্তি আর মুক্ত চিন্তার ঠিকাদারী পাওয়া লোকজন সিরিয়াসলি ডিবেট করছেন, যে তিনি সহস্রাব্দীর মহানতম ব্যক্তিত্ব না হলেও অন্তত প্রথম কয়েকজনের মধ্যেই থাকবেন নিশ্চয়ই। বলিহারি মুক্তমনা(?)-রা!!! আসলেই সব রকমের সংস্কার থেকে আপনারা নিজেদের মুক্ত রাখতে পেরেছেন!!!

হোরাস যখন গণহত্যার প্রসঙ্গ বাদ দেবার কথা তার লেখাতে বললেন তখন ভাবলাম তিনি হত্যার ইতিহাস মনে হয় পুরোপুরি বাদ দিয়ে অন্যান্য দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। কিন্তু তা না; চেঙ্গিসের লক্ষ লক্ষ প্রাণনাশের কথা তিনি সুবিধাজনক ভাবে ভুলে গেছেন, কিন্তু ভুলেন নাই নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) কীভাবে ৭০০ থেকে ৯০০ বানু কোরাইদার বিশ্বাসঘাতক, কৃতঘ্ন জনগোষ্ঠীকে একদিনে মারলেন তার সুপটু চিত্রকল্প আঁকতে। বানু কোরাইদাতে আসলে কী ঘটেছিল এ নিয়ে আমি সামনে একটা গবেষণাধর্মী লেখা দেবার কথা ভাবছি (কোনো ভাবেই/আঙ্গিকেই চেঙ্গিসের অকারণে প্রাণহত্যার সাথে বানু কোরাইদার হত্যার তূলনা করা যায়না); কিন্তু সেটা অন্য প্রসঙ্গ।

এখানে আরেকটা মোদ্দাকথা হচ্ছে চেঙ্গিসের মতো বিশ্ব সন্ত্রাসীর হাতে অকারণে লক্ষ লক্ষ প্রাণ হারানোর কথাটা হোরাস সুবিধাজনক ভাবে ভুলে যান ঠিকই কিন্তু এই ভোলাটা কিন্তু ব্যতিক্রমহীন নয়। প্রমাণ আছে যে হত্যা ও যুদ্ধকে তিনি তার লেখার প্রাণকেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন আগের লেখাগুলোতে। চেঙ্গিসের এক দেশ, ভাষা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্বাধীণতা দেয়ার আপাতঃ প্রগতশীলতার মাদকতায় মদাসক্ত হোরাস ভুলে যান চেঙ্গিসের গ্রামের পর গ্রাম আর জনপদের পর জনপদ ধূলার সাথে মিশিয়ে ফেলার ইতিহাস; কিন্তু তিনিই আবার তারিক বিন জিয়াদের স্পেন আক্রমণের ঘটনার ক্ষেত্রে আর অন্য সব দিক ভুলে যান কেবল আক্রমণের দিকটা ছাড়া। এই লেখাতে হোরাস বলেন,

ভাষন পড়লেই বোঝা যায় তারিকের মূল বক্তব্য কি! কি সেই মূলা যা সেই সব নও মুসলিমদের জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলো। আর তাছাড়া তাদের পিছনে হটার রাস্তাও তো বন্ধ! যাই হোক, তারিকের মূল কথা ছিলো…. যুদ্ধ করো, জেতো, সম্পদ লুন্ঠন করো, প্রাসাদ বন্দিনীদের রেপ করো….. আর বিনিময়ে মুসলিম জাহানের নেতা আল ওয়ালিদ কি চায়? সে চায় আল্লাহর নাম আন্দালুসের (স্পেনের) সবার মুখে মুখে থাকবে এবং একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলাম আন্দালুসে (স্পেন) প্রতিষ্ঠিত হবে। তরবারী দিয়ে ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার সবচাইতে উৎকৃষ্ট প্রমাণ বোধহয় তারিকের ভাষনটা। পাঠক মনে রাখবেন খৃষ্ঠান ধর্মও সে যুগে তরবারীর মাধ্যমেই সবচাইতে বেশি প্রতিস্ঠিত হয়েছে।

এখানে বেশ কয়েকটা বিষয় সচেতন পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। এই ২টা লেখার নিরিখে হোরাসের বহুমুখী ভণ্ডামী আমরা দেখতে পাই। পুরোটা বিচার বিশ্লেষণ করা সময় সাপেক্ষ ব্যপার, এবং ইচ্ছে আছে তা নিয়ে ভবিষ্যতে নৈব্যক্তিক লেখা দেবার। তবে সংক্ষেপে কিছু পয়েন্ট বলে রাখি। কোনোভাবেই যদি কেউ ভাবেন যে তারিকের স্পেন বিজয় ও সন্ত্রাসী চেঙ্গিসের বিশ্ব বিজয়ের খায়েশ একই ধরণের তাহলে তা হবে মস্ত বড় ভুল। কেননা,

১. তারিকের মুসলিম বাহিনী কখনোই নীরিহ লোকদের হত্যা করেন নাই। যুদ্ধ হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে। যুদ্ধের আগে ও পরে এর প্রভাব সাধারণ জনগণের উপর বর্তায়নি। আর চেঙ্গিস সহ মোঙ্গল যুদ্ধবাজ সন্ত্রাসীরা অকারণে গ্রামের পর গ্রাম শহরের পর শহর ধ্বংস করে, জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে, লোকশুণ্য করে ফেলে।

২. স্পেনের ভিসিগথরা ছিলো তারিকের স্পেন আক্রমণের সময়ে শাষকগোষ্ঠী। ভিসিগথরা স্থানীয় স্পেনীশ নন বরং বিদেশী কলোনিয়াল এলিট জার্মান। কলোনিয়াল এলিট শাষকগোষ্ঠী ভিসিগথদের গ্রহণযোগ্যতা স্থানীয় স্প্যানিয়ার্ডদের কাছে ছিল প্রায় শূণ্যের কোঠায়। সেজন্যে যাতে নিরাপদে স্থানীয় লোকদের শাসন করতে পারে তাই ভিসিগথেরা রাজনীরতির প্যাঁচ কষে রোমে পোপের আশীর্বাদ নিয়ে নেন। মনে রাখবেন, রোমান ক্যাথলিসিজমে পোপ হচ্ছেন পৃথিবীতে ঈশ্বরের প্রতিনিধি; সুতরাং, যেকোনো ব্যপারে তার কথাই শেষ কথা। এমনই এক অবস্থাতে স্থানীয় লোকদের প্রভু বনে থাকা ভিনদেশী জার্মান কলোনিয়াল শক্তির সাথে যুদ্ধ ঘটে তারিক বিন জিয়াদের বাহিনীর। ভিসিগথ রাজা রডরিগের বাহিণীর বেশীরভাগ সৈন্যই স্থানীয় স্প্যানিশরা, যাদের কাছে শাসক গোষ্ঠীর আবেদন প্রায় শূণ্য; তাদের যুদ্ধের স্পৃহা তেমন ছিলোনা। তাদের অনেকের কাছেই সাগরের ওপার থেকে খবর আসতো মুসলিম শাসক মুসা বিন নুসাইরের সুশাসনের গাঁথা; আসতো প্রজা আর রাজার মধ্যে অনবদ্য সম্পর্কের কথা। তাই তারা অনেকেই চাইছিল ভিনদেশী জার্মান ভিসিগথের চাইতে মুসলিমদের শাসন; আশা ছিল নিজের দেশেই অন্তত আর তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে থাকতে হবেনা। সেজন্যে নিস্পৃহ স্প্যানিশ সৈন্যরা যুদ্ধে তেমন আগ্রহী ছিলেন না; আর যুদ্ধক্ষেত্রে যখন বোঝা গেল তারিক যুদ্ধে জিতে যাচ্ছেন, তখন তারা যুদ্ধে পুরোটাই ক্ষান্ত দেন। [৫]

৩. উপরের পরিস্থিতির একটা উপমা দেই। মনে করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের অধীনে বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙ্গালী সৈন্যদের বলা হলো আগ্রাসী জাপানী বাহিনীকে রুখে দিতে। ব্রিটিশ বেনিয়া ও ব্লু-ব্লাড শাসক-গোষ্ঠী যারা এমনিতেই পরাধীনতার বেড়ীতে বাঙ্গালীকে আঁটকে রেখেছে, তারাই আবার জাপানী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে উদ্দীপনা দিচ্ছেন স্থানীয় বাঙ্গালীদের। যুদ্ধের আগেই কিন্তু সেই ছাপোষা বাঙ্গালী সিপাহী হয়ত রাস্তায় সাইনবোর্ডে দেখে এসেছে, “Exclusive British club; Dogs and Indians are not allowed.” নেতাজী সুভাষ বসুর যুক্তি তো সবই পানিতে ফেলে দেয়া যায়না!!!

৪. হোরাসের আরেকটা ভণ্ডামী দেখেন। চেঙ্গিস ও তার উত্তরসূরীদের জঙ্গী সন্ত্রাসী মোঙ্গলেরা যে সীমাহীন দূর্ভোগ মানব জীবনে ঘটিয়েছিলেন তা পৃথিবীর প্রতিটি আক্রান্ত অঞ্চলের ইতিহাসে লেখা আছে। এত বড় বিশাল সুপ্রতিষ্ঠিত সত্যকে তিনি শিকেয় তুলে রেখে অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনায় নামলেন, অথচ তারিক বিন জিয়াদের ভাষণের ৪-খানা লাইন কেন উইকিপিডিয়াতে নাই এমন তুচ্ছ ব্যপার নিয়ে অগ্নিশর্মা হয়ে গেলেন, আর সেজন্যে সারা বিশ্বের মুসলিমদের হীনমন্য বলে গালিগালাজ করলেন। ভাল করে খেয়াল করুন, স্পেন জয়ের ইতিহাস আমরা খুব কম সোর্স থেকে পাই (আরব দিকের ইতিহাসের কথা বলছি, যেখানে তারিকের ভাষণ থাকার সম্ভবনা আছে)। ইবন আব্দ আল হাকামের লেখা ইতিহাসই এই ঘটনার কথা বলা আছে। পরে ইবন মাগারী, হাকামের লেখা ইতিহাসের ভিত্তিতেই তার বইটি লেখেন। এখন হোরাস হাকাম বা মাগারী-র মতো প্রাচীণ ঐতিহাসিকদের কথাতে এতটাই বিশ্বাস করেন যতটা মনে হয় মুসলিমরাও কোরান-হাদীসে বিশ্বাস করেন না। পাঠকরা ভেবে দেখেন ইবন হাকামের লেখা একমাত্র ইতিহাসের বইতে খুব সম্ভবত অতিশয়োক্তির দোষে দুষ্ট ও অপ্রামাণ্য/অনির্ভরশীল ভাষণের ৪টা লাইন উইকিতে নাই কেন সেটাকে তিনি লাইম লাইটে নিয়ে এসে ব্লগে তুলকালাম কাণ্ড করে বসলেন; অথচ পৃথিবীর নানা কোনের, নানা ভাষার হাজার হাজার ইতিহাসবিদদের লেখা প্রামাণ্য দলিলকে তিনি সুবিধাজনক ভাবে শিকেয় তুলে রেখে,” চেঙ্গিস কয়টা শৌচাগার বানিয়েছে, আর সেজন্যে সে কত মহান, গদগদভাবে তার ফিরিস্তি দিতে বসছেন।

৫. এখন তারিক বিন জিয়াদ, মুসা বিন নুসাইর কিংবা পরবর্তী আব্দুর রহমানের মতো শাসকরা যুদ্ধ ক্ষেত্রের বাইরে কেমন ছিলেন? তারা তো চেঙ্গিসের মতো ক্ষেত খামার, কৃষিভূমিতে অগ্নিসংযোগ, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালানো, ত্রাস সৃষ্টির মতো কৌশল নেননি। নাকি তারা নিজেদের প্রতিকৃতি আঁকিয়েছেন, মনুমেন্ট তৈরী করিয়েছেন, মুদ্রার পিঠে নিজের ছবি না বসিয়েছেন না নিজেদের গৌরব গাঁথা নিয়ে গান কিংবা কবিতা লিখিয়েছেন? তাহলে হোরাস তারিক কিংবা মুসার ঐসব গুণ দেখে মুগ্ধ হন না কেন?

হোরাসকে অবশ্য মোঙ্গল বর্বরতার লক্ষ-কোটি ভাগের এক ভাগ বর্বরতার ক্ষেত্রে প্রতিবাদী হতে দেখেছি। মুক্তমনা রাজেশ তালুকদারের নালন্দার ইতিহাস নিয়ে লেখাতে হোরাস রাজেশের মাধ্যমে বখতিয়ার খিলজীর প্রকৃত স্বরূপ উদঘাটনের জন্যে থাম্বস-আপ উপহার দেন। এক্ষেত্রেও পাঠকরা লক্ষ্য করুন, মিনহাজ ই সিরাজের লেখা একমাত্র সোর্স তাবাক্বাত-ই-নাসিরির (নালন্দা ধ্বংসের একমাত্র ইতিহাস এই বই থেকে পাওয়া যায়) বয়ানে রাজেশ আর হোরাস গংদের অগাধ বিশ্বাস। এই প্রশ্ন তারা করেন না, কেন আর অন্য কোনো সোর্স থেকে নালন্দার ধ্বংসের ইতিহাস তেমনভাবে জানা যায়না, বিশেষত অন্য কোনো স্থানীয় সোর্স থেকে!!! এই মুক্তমনারা এই প্রশ্নটাও করেন না নালন্দা যদি বখতিয়ার পুরোপুরি ধ্বংসই করতেন তাহলে কীভাবে সেটা ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রায় শেষভাগ পর্যন্ত কার্যকরী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজে করে গেলো? Johan Elverskog তার লেখা Buddhism and Islam on the Silk Road বইতে এই প্রশ্নটাই করেছেন। তিনি বলেছেন, “For example, not only did local Buddhist rulers make deals with the new Muslim overlords and thus stay in power, but Nalanda also continued as a functioning institution of buddhist education well into the thirtheenth century. One Indian master, for example, was trained and ordained at Nalanda before he traveled to the court of Khubilai Khan. We also know that Chinease monks continued to travel to India and obtain Buddhist texts in the late fourteenth century.”

জোহানের লেখা বইয়ের আলোকে আমরা দেখি যে নালন্দা বখতিয়ারের কথিত আগ্রাসনের পরেও কার্যকরী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছিল ও ছাত্র/শিক্ষকরা সেখানে পড়াশুনা/গবেষণা করছিলেন। রাজেশের সেই লেখা ও মন্তব্যগুলো পড়লে বোঝা যায়, রাজেশ, হোরাস, অভিজিৎ ও মুক্তমনা গংদের বুকে থেকে যেন আক্রোশের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। বখতিয়ারের আগ্রাসনের প্রতিবাদ তারা এমন আবেগের সাথে করতে থাকেন যেন এখনই ভার্চুয়াল প্রতিবাদী মিছিল বের হয়ে যাবে। অথচ, হোরাসের লেখা চেঙ্গিস-বন্দনা তারা বেশ মুক্ত মনেই নিয়েছেন, এবং কোটি কোটি নীরিহ নিরপরাধ লোক হত্যা করা জঙ্গী সন্ত্রাসীর প্রতিষ্ঠিত, প্রমাণিত ইতিহাসকে শিকেয় তুলে রেখে চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন তাকে কী আসলেই সহস্র বছরের শেষ্ঠ মানবতাবাদী বলা যায় কিনা; কেননা তিনি পুরো জনপদ জ্বালিয়ে জনপদে শান্তি আর শৃংখলা ফিরিয়ে এনেছিলেন

উপসংহার

তো আমরা দেখলাম বুদ্ধিজীবি, সুশীল হোরাস এতই মুক্ত মনের অধিকারী যে তিনি কখনো কখনো প্রশ্নবিদ্ধ ইতিহাসের আলোকে আসা ইসালামের তরবারীর নৃশংসতার প্রতিবাদ করেন, আবার কখনো হাজার হাজার ইতিহাসে লেখা সুপ্রমাণিত কোটি কোটি নিরপরাধ মানুষ মারার ইতিহাসকে শিকেয় তুলে রেখে অন্যান্য তুচ্ছ বিষয়কে এমনভাবে আলোকপাত করেন যে তিনি সহস্র বছরের মধ্যে ‘মহানতম’ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে যান। কেন এই দ্বৈততা? কেন তার নেয়া সিদ্ধান্তে দ্বিমূখীতা?

কারণটা সহজ। আপাতঃ দ্বৈততা দেখলেও আমি কিন্তু তার নেয়া অবস্থানে এক ধরণের অদ্ভুত একমুখীতা (consistancy) দেখি। আর সেটা হচ্ছে ইসলাম-বিদ্বেষীতা। উনি চেঙ্গিসকে মহান বলছেন কেননা তিনি খুশী যে চেঙ্গিসের হাতে মারা যাওয়া বেশীরভাগ লোকই মুসলিম; উদাহরণ স্বরূপ, খারাজাম মুসলিম সাম্রাজ্যকে তিনি পদানত করেন ও সেখানে লক্ষ লক্ষ মুসলিম হত্যা করেন। তারই ধারাবাহিকতায়, যোগ্য উত্তরসুরী হালাগু বাগদাদে মুসলিম আব্বাসীয় খেলাফার পরিসমাপ্তি টানেন অবর্ণনীয় সন্ত্রাস আর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। আর উনিই আবার তারিক বিন জিয়াদের স্পেন বিজয়কে দেখেন তরবারীর বিজয় হিসেবে, আর ভুলে যান তারিকের বসানো ভিত্তির উপরেই তৈরী হয়েছে কর্দোবার প্রাণবন্ত প্রকৃত মুক্তচিন্তার সমাজ যা ইউরোপে রেনেসাকে কিছুটা হলেও উদ্দীপিত করেছে। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত ধ্বংসে হোরাস ও মুক্তমনা গংদের অন্তরে ছুরিকাঘাত বসে যায়, কিন্তু এই সুশীল মুক্তমনা-রা আবার বাগদাদের লাইব্রেরির ধ্বংসের সুপ্রতিষ্ঠিত ইতিহাসকে ভুলে গিয়ে যারা এই কাজ করেছেন তারা অন্যভাবে কত মহান ছিলেন তা নিয়ে মুক্ত আলোচনার আয়োজন করেন। আর কতো বলবো। পাঠকরাই বিচার করুন।

[১,৪] – http://en.wikipedia.org/wiki/Destruction_under_the_Mongol_Empire

[১] – http://en.wikipedia.org/wiki/Ghenghis_Kahn

[২] – http://en.wikipedia.org/wiki/Mongol_invasion_of_Europe

[৩] – http://en.wikipedia.org/wiki/Battle_of_Baghdad_(1258)

[৫] – Muslim Spain, its history and Culture, by Anwar G. Chejne

৩৭ comments

Skip to comment form

  1. 22
    সজিব হুসাইন

    ভাইয়া আমি খুবিই ছোট বয়সে…হোরাসের লিঙ্ক গুলোতে ডুকে কিছুই দেখা জাচছে না………?

  2. 21
    Anonymous

    এক কথা হোরাস ইসলামের শত্রু

  3. 20
    Lutfunnesa

    "Mother Teresa" is lucky that she was a Roman Catholic lady. By any chance if she was a Muslim lady, then Horus must pictrurise her the most Vulgar lady in the world. To degrade her she may be compared with the Eva Braun, Cleopatra, or any other character who are negatively stated in the history. It is alarming that any person can write "History" with his own perception exactly like literature. Is there no law to prevent this melee practice of writting history? If any person write history without any authenticity then who will take the responsibility for misguidance of the future generation?

  4. 19
    Md. Jahangir Alam

    অনেক কিছুই জানতে পারলাম।।
    ধন্যবাদ।

  5. 18
    রাজু

    আমার মনে হয় হোরাস হলো কুখ্যাত চেঙ্গিস খানের বংশধর।

  6. 17
    পন্ডিত মাহির

    বিকৃত মানসিকতার হোরাস সুষ্পষ্ট ইসলাম বিদ্ধেষী মন-মানসিতার বশবর্তী হয়ে চেঙ্গিস খাঁকে মহামানব বলেছেন। এই হোরাসকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও ইতিহাস বিকৃতির অপরাধে আজীবন হাত-পা বেঁধে এবং মুখ শিলাই করে ফেলে রাখতে হবে । এটাই ওর উপযুক্ত উপহার ।

  7. 16
    জামশেদ আহমেদ তানিম

    মানবতার অন্তরালে মূত্রমনাদের মনে কি বাস করে চেঙ্গিস বন্দনা দেখলেই বোঝা যায়। এদেরকে আমি গুয়ের থেকেও বেশি ঘৃণা করি। নব্য পাগানিজম, ফ্রি ম্যসনারী, ইলুমিনাতি, সাইন্থোলজি ইত্যাদি হচ্ছে এদের আদর্শ। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন যেন এরা কখনো সংখ্যায় বৃদ্ধি হতে না পারে। যদি তা হয় সভ্যতার জন্য তা সত্যই বিরাট হুমকী স্বরূপ হবে। এরা যে হারে মুসলিমদের গালিগালাজ করে; যদি সংখ্যায় মেইন অধিক হতো তখন আর গালিগালাজ নয় সোজাসুজি বলি দিয়ে দিত। সুতরাং মানব সভ্যতা এবং পৃথিবীর নিরাপত্তার খাতিরে এদেরকে এখনই তুলেমূলে নির্মূল করা হোক।

  8. 15
    nayan chaklader

    হোরাস সাহেব কি শুধু চিনির প্রলেপ দিয়েছেন সম্ভবতঃ আশির দশকে ক্লাস সিক্স এর বাংলা বইতে ও এই কুখ্যাত মালাউন চেঙ্গীজ কে বীর বলেই বানানো হয়েছে। But চোখ খুলে যায় সৌদী আরবে এসে যখন শায়খ ইবনে তাইমিয়া রহঃ এর বই পড়ে,কত কষ্ট করতে হয়েছে শায়খ তাইমিয়া কে,ঐ বইয়ের লেখা অনুযায়ী এই কুখ্যাত মালাউন ১৮ লক্ষ মুসলিম নিরাপরাধ সাধারন মানুষ কে হত্যা নারী ধর্ষন লুটপাট তো আছেই , তা হোরাস সাহেব কত মাল পানির বিনিময়ে এই কাজ করেছেন, নবী মুহম্মদ সঃ এর জীবনী পড়ুন জানতে চেষ্টা করুন,মনে রাখবেন একটা সত্য কে ডাকতে হলে হাজার মিথ্যার সাপোর্ট নিতে হয় তারপর ও সত্য সত্যই থেকে যায়।

     

  9. 14
    Bdeshi Mahathir

    One more time I have to say that  people in shodalap are reactive. they mostly react  to the action of so called  free thinker. 

    Instead of reacting to them, you guys act.  before they say something wrong or false , you say it before.

    1. 14.1
      এস. এম. রায়হান

      আপনার মন্তব্য দেখে বুঝা যাচ্ছে আপনি এ নিয়ে দ্বিতীয়বার একই কথা বলেছেন। প্রথমত, আমার বিশ্বাস যে আপনি এই ব্লগের লেখাগুলো পড়েননি। পড়ে থাকলে সদালাপের লেখকদেরকে বারংবার ‘reactive’ ট্যাগ করতেন না। দ্বিতীয়ত, আপনি কি কখনো কল্পনাও করতে পেরেছেন যে, কোন এক সময় কেউ চেঞ্জিস খানের মতো কাউকে ইসলামের নবীর চেয়ে ভাল প্রমাণ করে পোস্ট দেবে? যদি কোনভাবে জেনে থাকেন, এমনকি কল্পনাতেও, তাহলে আপনি আগে থেকেই নিজে কিছু লিখেননি কেন আর কেনই বা অন্যকে লিখার জন্য বলেননি? আর আপনি যদি আগে থেকে না জেনে থাকেন তাহলে সদালাপের লেখকরা কী করে জানবে? তৃতীয়ত, সদালাপের লেখকদেরকে এভাবে উপদেশ না দিয়ে নিজেই শুরু করেন না কেন। চতুর্থত, সদালাপের লেখকরা মনে হয় ‘you guys’ নন। এর পর থেকে সম্বোধনটা ঠিকমতো করবেন।

  10. 13
    Ashraf Mahmud Munna

    Mr. Shahbaz,

    This is my first visit to this site, and really it was not known to me that such a wonderful and masterful write-up on CHENGIS KHAN is waiting for me over here, and I have found much much relish for which I salute you for your hard work. Also, I thank Mr. Sarwar for enriching and substantiating the write-up by patching 2 film clippings. Oh! really it is wonderful and enjoyable!

    May Almighty Allah accept your this humble task and reward you more than you deserve.

    Thank you.

    1. 13.1
      শাহবাজ নজরুল

      Welcome Ashraf Munna vai in Shodalap. Please try to read the articles published here. Also, try to write here if possible.

      Thanks for appreciation of the quality of writing. I write from my heart and try to express things in easy terms. Your inspiring word would help inshAllah in future for more quality writings.

      --Shahbaz

  11. 12
    ভানু ভাস্কর

    প্রিয় ভাইয়েরা, হেলাল নামের ওই পামরের সাথে যোগাযোগের নাম্বার জানা আছে কারো? নবীজি কে নিয়ে দেখুন কেমন উক্তি করেছে। মুক্তমনাদের মন কিভাবে ভুলের জালে বন্দী হয়ে আছে, ভাবছি।

  12. 11
    Saif

    Very well written article Shahbaz as usual, with lots of historic facts, many of which I did not know. I always enjoy your fluent writing style. I have not read the article by Horas yet, will do soon.

  13. 10
    ডাঃ মাহফুজ শান্ত

    হায়, হোরাস!!!??
    মানবতার মুক্তিদূত রাসূল (সাঃ) এর সাথে কুখ্যাত চেঙ্গিসের তুলনাই শুধু নয়, চেঙ্গিসকে নাকি তার বেটার মনে হচ্ছে। শুধু এ কারণেই হোরাসের মত ধর্ম-বিমুখের মুখে থুথু ছেটানো ছাড়া আমার আর কিচ্ছু বলার নাই-
    মাহফুজশান্ত-

    1. 10.1
      শাহবাজ নজরুল

      মানবতার মুক্তিদূত রাসূল (সাঃ) এর সাথে কুখ্যাত চেঙ্গিসের তুলনাই শুধু নয়, চেঙ্গিসকে নাকি তার বেটার মনে হচ্ছে।

      এবার বোঝেন!!! মনে পুষে রাখা এই বাণীটা (চেঙ্গিস ইস বেটার দ্যান মুহাম্মাদ(সাঃ)পুশ ইন করার জন্যেই হোরাস তার লেখাটা প্রসব করেছেন। 

      --শাহবাজ

    2. 10.2
      এস. এম. রায়হান

      ছদ্মনাম আর বিজ্ঞানের নামে অপবিজ্ঞানের আড়ালে তার অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে।

  14. 9
    farid

    ——- CHENGIS KHAN AND YAHIA KHAN—OF PAKISTAN--THESE TWO ARE SAME—PL.DISCUSS ABOUT YAHIA KHAN——-

  15. 8
    শামস

    বিবেকের মাথা এরা কিভাবে খায়, আর এসবই মানুষকে গিলানোর চেষ্টা করে। এই অসততাকে কিভাবে কোনো মনার চোখে পড়ে না। কি পরিমাণ গোঁড়া এরা। সাধারণ মানুষ নাস্তিকদের ব্যাপারে এমনি্তেই নাক সিটকায়, এতে তাদের পূর্ববর্তীদের ভূমিকা আছে কিনা কে জানে, কিন্তু মুক্তমনাদের প্রতি শুধু নাক সিটকানো নয়, তাদেরকে দৌড়ের উপর রাখলেও, তার জন্য দায়ী এই মনারাই। সাধারণ মানুষের কাছে তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেবার বিকল্প নেই।

    শাহাবাজ ভাইকে ধন্যবাদ এই সময়োপযোগী পোষ্টটি দেয়ার জন্য।

  16. 7
    Abdus Samad

    যারা ইসলামকে অযথা আক্রমণ করে, হেয় প্রতিপন্ন করার মানসিকতা পোষণ করে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য শাহবাজ ভাইকে অশেষ ধন্যবাদ। হীনমন্য মানসীকতার লোকজন যেন এমনি ভাবেই জনসম্মুখে অপদস্থ হয়। ধন্যবাদ

  17. 6
    মুসলিম

    ওরা তাহলে চেঙ্গিস খানের মধ্যেও অনেক ভাল দিক খুঁজে পেয়েছে। এমন কি চেঙ্গিস খান আর নবীর মধ্যে তুলনা করে হোরাস বলেছে-

    হোরাস বলেছেঃ দুইজনের মধ্যে তুলনা করলে তো আমার চেঙ্গিসকেই বেটার মনে হচ্ছে। ভাগ্যিস বেচারা ধর্ম প্রচার শুরু করে নাই।

    বিপ্লব পাল বলেছেঃ চেঙ্গিস খানের জীবনী অন্য কারণে আমার কাছে বিরাট অনুপ্রেরণার। ছোট বেলা থেকেই সে বঞ্ছিত-বাবাকে মেরে ফেলেছে কাকুরা। এমন কি যখন সবে সে গোষ্ঠি নেতা হয়েছে-তখন তার বৌকে অপহরণ করে অন্যদলের নেতারা। সেখানেই থামে নি। অসম এক গোষ্টিযুদ্ধে হেরে তাকে ক্রীতদাস করে চীনে পাঠানো হয় তিন বছর। দাসের ওপর কিরূপ দুর্ব্যাহর হয়-সেটা নিজে অনুভব করায়, চেঙ্গিস খান যুদ্ধে হারাদের ক্রীতদাস না বানিয়ে, তাদেরকে নিজের সেনা বাহিনীতে নিয়োগ করতেন। যাইহোক-সেই ক্রীতদাস অবস্থা থেকে পালিয়ে এসে-আবার নিজের গোষ্টিকে ঐক্যবদ্ধ করে, নতুন উদ্যোমে মঙ্গোল জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন তিনি। তার মূলমন্ত্র ছিল বিভেদ না-এক্ করতে হবে। পরাজিতদের ক্রীতদাস না বানিয়ে, তাদেরকে তার সাম্রাজ্যে সামিল করতে হবে। ক্রীতদাস অবস্থায় যখন তার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে-ঠিক তখনো লড়াই ছাড়েন নি চেঙ্গিস খান। দেওয়ালে পিঠ ঠেকা অবস্থায়ও মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে পারে বারে বারে তার চরিত্রগুণে-চেঙ্গিস খান তার সব থেকে বড় উদাহরন। শুধু তাই না-তার প্রশাসনে মঙ্গল এবং নন-মঙ্গলদের সমান গুরুত্ব ছিল এবং তিনি মেরিটোক্রাসিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। জাতি, ভাষার বিভেদের ওপরে ওঠা সেকালে সহজ ছিল না-কিন্ত ছোটবেলায় মঙগোলদের গোষ্ঠিদ্বন্দ্ব তাকে এত ভুগিয়েছিল-তিনি বুঝেছিলেন জাতিগর্ব মানুষের নষ্টের মূল।

    হেলাল বলেছেঃ বর্বরতার কথা মনে আসলেই আগে হালাকু খা-চেঙ্গিস খা’র কথা মনে আসত। যদিও এখ্ন আরেক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মদের কথা মনে হয়। মুহাম্মদের কুকীর্তির কথা জেনে যেমন চমকে উঠেছিলাম তেমনই চেঙ্গিস খা’র গুনের কথা শুনে চমকে উঠেছি। আচ্ছা আরেক মঙ্গলিয়ান নেতা হালাকু খা’র কি ভাল কোন গুন ছিল? নাকি মুহাম্মদ যেমন খুন, ধর্ষণ, লুটতরাজ করে দেশ দখল করত, সেও তাদেরকে তাই করেছে?

    আদিল মাহমুদ বলেছেঃ মানুষের বহু রকমের চেহারা থাকে। ব্যালেন্সড মূল্যায়ন মনে হয় খুবই বিরল। চেংগিস সম্পর্কে যেসব কাহিনী শুনে এসেছে তাতে তাকে পিশাচ ভিন্ন কিছু কল্পনা করা খুবই শক্ত ছিল। সে বিদ্রোহী রাজ্যে যেভাবে বিদ্রোহ দমন করত তা পড়লে গা শিউরে উঠতে বাধ্য। ওনার যে এত উন্নত রাজ ব্যাবস্থা ছিল তা জানা ছিল না।

    1. 6.1
      শাহবাজ নজরুল

      ওরা তাহলে চেঙ্গিস খানের মধ্যেও অনেক ভাল দিক খুঁজে পেয়েছে। এমন কি চেঙ্গিস খান আর নবীর মধ্যে তুলনা করে হোরাস বলেছে-
      হোরাস বলেছেঃ দুইজনের মধ্যে তুলনা করলে তো আমার চেঙ্গিসকেই বেটার মনে হচ্ছে। ভাগ্যিস বেচারা ধর্ম প্রচার শুরু করে নাই।

      ঠিক ধরেছেন। আর আমি আমার লেখাতে এটাই দেখালাম উনার লেখার নেপথ্যের মূল কারণটা। চেঙ্গিস হলো  বিশ্ব সন্ত্রাসী ও আগ্রাসী, আর রাসুল (সাঃ) করেছেন আত্মরক্ষার্থে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ। একটা অন্যায় আরেকটা সবদিক থেকেই ন্যায়। ন্যায় সঙ্গত অধিকার পেতে আমরাও তো ‘৭১ এ যুদ্ধ করেছি। তো এই ন্যায় আর অন্যায় উনারা ইচ্ছাকৃত ভাবে গুলিয়ে ফেলেছেন, লক্ষ্য হচ্ছে ইসলামকে হেয়/নীচ দেখানো। এর জন্যে যদি চেঙ্গিসের মতো নরপশুকে সহস্র বছরের মহামানবও বানানোর প্রয়োজন পড়ে তবে সেটাই করা হবে।  

      আর চেঙ্গিসের হাতে মূলত মুসলিম মারা যাওয়াতে restrained jubilation দেখায় হোরাসের মতো মানুষের মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা চেঙ্গিসের মতো কদর্য পশুরা।

      --শাহবাজ

  18. 5
    এস. এম. রায়হান

    Genocide and Crimes Against Humanity

    The name of Genghis Khan (born Temüjin, son of Yisugei) is synonymous with bloodletting, barbarity, and wanton massacres in much of the Arab world, Europe, and the Americas. In Turkey and Central Asia, however, Genghis is not an uncommon name, and the legacy of his Turco-Mongol empire is viewed in a positive light. The globalization imposed by his Eurasian hordes in the thirteenth and fourteenth centuries roused strong reactions. Those biases remain present in the early twenty-first century.

    Temüjin’s harsh rise to power was the catalyst that resulted in the formation of the largest-ever contiguous land empire. He was born around 1167 on the banks of the Onan River, Mongolia, reputedly clutching a clot of blood in his right hand. He emerged first as the young son who fought for the survival of his destitute family, abandoned by their clan after the murder of his father, a minor chieftain. Then through ruthless determination, he was eventually accepted as tribal leader and thereafter as the supra-tribal ruler who unified the peoples of the Eurasian steppes. Finally in 1206 he was elected Genghis Khan, the supreme leader of the Turco-Mongol nomadic tribes and the world conqueror whose offspring accomplished spectacular feats, the outcome and influence of which are felt to this day. The relationship between Tibet and China was first defined by a Mongol ruler; the Sufi songs of Rūmī that resound around the world from California to Tokyo were nurtured under Mongol rule; the cultural and spiritual links between western Asia and the East were cemented under Mongol auspices. From Temüjin whose name once evoked derision, to Genghis Khan who cowed and riled the princes of Russia and Eastern Europe, and would awe emissaries from a fearful outside world, this Mongol emperor is more deserving of fame than of infamy. He was not only a world conqueror but also a world unifier.

    The legacy of Genghis Khan and the Mongol hordes has been shrouded and obscured by the mythmakers of history and indeed by the propaganda of the Mongols themselves. Genghis Khan remains the epitome of evil and the Mongols are associated with barbarian rule and destruction. Their defenders are few and until recently their apologists rare.

    Genghis Khan was a steppe ruler who transferred the cruel realities of steppe life to a sedentary urban environment. His initial raids into China c.1211 were in search of plunder and were intended to inspire awe, shock, and terror. His ferocious forage against the Islamic world c.1220 sought to avenge the wanton killing of his envoys by the Khwarazmshah. But even at this early stage, Genghis Khan was selective in his destruction and massacres. Craftsmen and artisans, poets and painters, and clerics and holy men of all faiths were spared the fate of their countrymen and taken to the increasingly cosmopolitan and luxurious Mongol camps. Genghis Khan, unlike steppe rulers before him, realized that the world outside the steppe would offer far greater wealth tamed and harnessed rather than cowed and defeated. After the notoriety and horror of his initial attacks, there were few who would oppose him, and in the emerging Pax Mongolica he established the foundations of a great and prosperous empire. Unfortunately, it is the legacy of those early years that has endured and inspired many in more recent times, including such twentieth-century leaders as Joseph Stalin. They remember the blood and the fury and disregard the religious tolerance and nurturing of trade and cultural exchange. Genghis Khan was a harsh and mercilessly determined ruler. The empire he established through bloodshed and awe survived until his death in 1227, which strongly suggests that he gave his descendants more than just a taste for violence, rapine, and destruction.

    Bartold, W. (1977). Turkestan Down to the Mongol Invasion. London: Luzac & Co. Ltd.
    Morgan, David (1986). The Mongols. Oxford, U.K.: Blackwell.
    Onon, Urgunge (1993). The Golden History of the Mongols. London: Folio Society.
    Ratchevsky, Paul (1991). Genghis Khan: His Life and Legacy. London: Blackwell.
    Waley, Arthur (2002). The Secret History of the Mongols. New York: House of Stratus. 

    http://www.enotes.com/genocide-encyclopedia/khan-genghis

  19. 4
    সাদাত

    আজকাল মানুষ নতুন ইতিহাস শুনতে চায়। লোকে নতুন নতুন ইতিহাস শোনায়, আর পাঠক বাহবা দিয়ে বলে ‘বেশ, নতুন কিছু জানলাম’। আপনার এসব পুরনো ইতিহাস শুনে কি আর তাদের মন ভরবে! এতো সেই পুরনো কথা! আমার মনে হয় কি একশ্রেণীর মানুষ নতুন করে ইতিহাস লেখায় ব্যস্ত। তাদের চিন্তা সুদূরপ্রসারী। আজ আপনারা যতই তাদের লেখা খণ্ডন করেন না কেন, ১০০/২০০/৫০০ বছর পর এই সব নতুন ইতিহাস যদি উদ্দেশ্যবাদিদের কেউ নেট ঘেঁটে পেয়ে যায়, তখন এসব ইতিহাসকেই রেফারেন্স হিসেবে চালাতে শুরু করবে।

    1. 4.1
      সাদাত

      @Admin,
      সদালাপের কমেন্টের ব্যবস্থা অতি জঘন্য। এটা ভালো করার কেউ নাই। এত ছোট ফন্ট, কী লিখত কী যে লিখি!

    2. 4.2
      শাহবাজ নজরুল

      আজকাল মানুষ নতুন ইতিহাস শুনতে চায়। লোকে নতুন নতুন ইতিহাস শোনায়, আর পাঠক বাহবা দিয়ে বলে ‘বেশ, নতুন কিছু জানলাম’।

      হুম ট্রেন্ডটা ঐদিকেই। হোরাস সহ সমমনারা নতুন ইতিহাস খুঁজে পেতে মরিয়া; যেমন “নুতন আলোতে চেঙ্গিসকে চেনা।” এই একই লোকদের আবার বিপ্রতীপ ট্রেন্ডও আছে। যেমন মিনহাজের তাবাক্বাত ও ইবন ইসহাকের ইতিহাস এরা প্রাণপনে আঁকড়ে ধরে থাকেন। তবে সব ধরণের ট্রেন্ডের মূল একই জায়গাতে, তা হচ্ছে নুতন আলোতে ইসলামের বিদ্বেষীতা কিংবা পুরাতন আলোতে (“দেখেন না ওদের প্রাচীনতম গ্রন্থেই তা বলা আছে?” … ইত্যাদি) ইসলাম বিদ্বেষীতা। ইসলাম বিদ্বেষীতা থাকলে সবকিছুই চলবে।

      --শাহবাজ

    3. 4.3
      শামস

      <আজকাল মানুষ নতুন ইতিহাস শুনতে চায়। লোকে নতুন নতুন ইতিহাস শোনায়, আর পাঠক বাহবা দিয়ে বলে ‘বেশ, নতুন কিছু জানলাম’। >

      আপনার সাথে একমত না। যারা এসব বলে তারা ইতিহাস জানার জন্য এসব বলে না, তাদের অন্য কোন প্রায়রিটি থেকে বলে। শাহবাজ ভাই সে কাজটাই করেছে, তথ্য দিয়ে সাজিয়ে দেখিয়েছেন কোনটা গ্রহণযোগ্য। নতুন ইতিহাস জানা এখানে ফ্যাক্টর না, ফ্যাক্টর হল ইনটেনশনটা কি!

      <আজ আপনারা যতই তাদের লেখা খণ্ডন করেন না কেন, ১০০/২০০/৫০০ বছর পর এই সব নতুন ইতিহাস যদি উদ্দেশ্যবাদিদের কেউ নেট ঘেঁটে পেয়ে যায়, তখন এসব ইতিহাসকেই রেফারেন্স হিসেবে চালাতে শুরু করবে।>

      আমাদের এগুলোকে সংরক্ষণ করতে হবে। সাথে তুলনা হিসাবে এলেখাগুলোকেও পাবে। 
      মানে দাড়াচ্ছে সবসময়ই আমাদের লেখক লাগবে এসবের জবাব দেয়ার।

  20. 3
    সরোয়ার

    শাহবাজ ভাইয়ের অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ লেখার ফলে মুখোশধারী হোরাসকে মনে হচ্ছে মুখোশের আড়ালেই চিরজীবন আত্নগোপন করে থাকতে হবে! অথচ মনারা নিজেদেরকে সবসময় যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানবাদী হিসেবে প্রচার করে বেড়ায়।

    মুখোশের আড়ালে এসব কি তাদের আসল রূপ? তাদের ইসলাম বিদ্বেষের নমুনা ইতিহাসে স্থান করে নিবে।

  21. 2
    সরোয়ার

    যেকারণে হোরাসের দৃষ্টিতে চেঙ্গিস খান একজন মহামানব--

    ১। চেঙ্গিস খান ছিলেন আপাদ মস্তক একজন ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষ। আজীবন তার নিজের ধর্ম শামানে বিশ্বাসী ছিলেন।
    ২। চেঙ্গীস খান এবং তার মা জীবনে মোট চার জন ছেলেকে পালক হিসাবে গ্রহন করেন।
    ৩। যেকোন বিষয়ে দক্ষ, পারদর্শী, জ্ঞানী, গুণী ব্যক্তি, চিত্রকর, ভাস্কর, প্রকৌশলী, এবং ধর্মীয় গুরুদেরকে তিনি সন্মানের চোখে দেখতেন তার কড়া নির্দেশ ছিলো এধরণের মানুষদের যেন কোন ভাবেই হত্যা করা না হয় (নোট- তাহলে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ হত্যার কি হবে? তারা সবাই নিরক্ষর, অকর্মন্য ছিলেন? )
    ৪। চেঙ্গীস খান সাহসী এবং বিশ্বস্ত মানুষদের পছন্দ করতেন এবং বিনিময়ে ফেরৎ দিতেন সেই বিশ্বস্ততা।
    ৫। একের পর যাদের তিনি পরাজিত করেছেন পরবর্তীতে তারাই তার বিশ্বস্ত অনুসারীতে পরিনত হয়েছিলো। (!!!!!!!!!)
    ৬। যদিও চেঙ্গীস তার জীবদ্দশাতেই বিশাল বড় বড় সব সাফল্য অর্জন করেছিলেন তবুও তিনি তার প্রতিকৃতি আঁকাননি, কোন মনুমেন্ট তৈরী করাননি, মুদ্রার পিঠে নিজের ছবি বসাননি, তার গৌরব গাঁথা নিয়ে গান কিংবা কবিতা লেখাননি, প্রাসাদ কিংবা উপাসণালয়ের নাম নিজের নামে রাখেননি। তিনি যখন মারা যান তখন তার জন্মভূমিতে কবর দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন এবং কোনরকম স্মৃতিসৌধ বানাতে নিষেধ করে গিয়েছিলেন। (নোট- যারা চেঙ্গিস খানকে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তাদের সবাইকে হত্যা করা হয় যেন তার কবর খুজে না পাওয়া যায়। ভিডিও দেখুন ৮.20)
    ৭। একটা নিরুপদ্রব সাম্রাজ্য গড়েছিলেন যেখানে ছিলো ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিল্পীর স্বাধীনতা, শিক্ষা এবং আন্ত্রজাতিক বাণিজ্য সহায়ক।

    বিবিসি ডকুমেন্টারীর (Duration 9.30 min) Part4/5 –এর শুরুতেই দেখবেন চীন দখলের পরে চেঙ্গিস খানের সৈন্যরা কীভাবে নির্বিচারে হত্যাজজ্ঞ, ধর্ষণ করেছিল তার একটি চিত্র। মাঝে রয়েছে মুসলিম হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য।


    মঙ্গোলদের মুসলিম নিধন এবং পরবর্তীতে তাদের ইসলাম গ্রহণ! (Duration 6. 30 min)

    চেঙ্গিস খানের পক্ষে হোরাসের অভিযোগ খণ্ডন এভাবে-

    ১। এই তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের যুগও পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ তাকে চেনে অন্যতম একজন নৃশংস যুদ্ধবাজ নেতা হিসাবে। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই যে চেঙ্গীস খান বহু নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছেন তবে সেই সব নৃশংসতা ক্রুসেডারদের তুলনায় খুব বেশী কিছু যে ছিলো তা মনে হয় বলা যাবেনা।
    ২। তবে তার জীবনের ঘটনাবলী নির্মোহ ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে তিনি খুব সহজেই আধুনিক নৈতিকতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ হয়ে পরিচিতি পেতে পারেন একজন মহান মানুষ হিসাবে। (নোট-তাহলে আধুনিক নৈতিকতা কি? হিটলার বা বুশীয় নৈতিকতা?)
    ৩। তাই সচেতনভাবেই চেঙ্গিস খানের বিরুদ্ধে যে বিশাল সংখ্যক মানুষ হত্যার অভিযোগ আছে তা এখানে আলোচনার বাইরে রাখব। —- কিন্তু ইতিহাস আমাদের স্বাক্ষী এ দুটি ব্যাপারের কোনটিই একজন মানুষের ভাল মানুষ কিংবা শ্রেস্ঠ মানুষ হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কোন সমস্যাই না। (নোট- এটা কি শুধুই অভিযোগ?)

    ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও কুখ্যাত চেঙ্গিস খানকে মুক্তমনা ব্লগের ‘ইতিহাসবিদ’ হোরাস সাহেব মহামানব বানিয়ে দিলেন, কেননা চেঙ্গিস খান সেক্যুলার ছিলেন ও সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলেন! তাহলে এটাই কি ‘মুক্তমনায়ী’ সেক্যুলারিজম? এটা কি হোরাসের বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ নয়?

    1. 2.1
      শামস

      দুই নম্বর ভিডিওটা দেখলাম। 
      এই চেঙ্গিশ খানের বংশধররাই পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামিক সভ্যতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। শিল্প, সাহিত্য, গবেষণা নতুন মাত্রা পায়। কিন্তু এসব নিয়ে এরা কখনোই লিখবে না।

      1. 2.1.1
        সরোয়ার

        ইসলামের ছায়াতলে এসেই মোঙ্গলদের হিংস্রতা লোপ পেয়েছে। আর সভ্যতাকে করেছে সমৃদ্ধ ও  দান করেছে নতুনত্ব।

        1. 2.1.1.1
          এস. এম. রায়হান

          [ইসলামের ছায়াতলে এসেই মোঙ্গলদের হিংস্রতা লোপ পেয়েছে।]

          এই ‘অপ্রিয়’ তথ্য মনাদের কানে গেলে কিন্তু কথার রামদা-চাপাতি নিয়ে কোপাতে আসবে!

    2. 2.2
      এস. এম. রায়হান

      যেকারণে হোরাসের দৃষ্টিতে চেঙ্গিস খান একজন মহামানব--

      ১। চেঙ্গিস খান ছিলেন আপাদ মস্তক একজন ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষ। আজীবন তার নিজের ধর্ম শামানে বিশ্বাসী ছিলেন।

      >বাহ! আপাদমস্তক ধর্ম নিরপেক্ষ হলেই কেউ মহামানব হয়ে যায়! এই সংজ্ঞা যে কে আবিষ্কার করেছে কে জানে! তাছাড়া আপাদমস্তক ধর্ম নিরপেক্ষ মনে হয় এই দুনিয়াই একমাত্র চেঙ্গিস খানই ছিল! 

      ২। চেঙ্গীস খান এবং তার মা জীবনে মোট চার জন ছেলেকে পালক হিসাবে গ্রহন করেন।

      >বাহ! কোন পরিবারে জীবনে চার জন ছেলেকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করলেই কেউ মনামানব হয়ে যায়!

      ৩। যেকোন বিষয়ে দক্ষ, পারদর্শী, জ্ঞানী, গুণী ব্যক্তি, চিত্রকর, ভাস্কর, প্রকৌশলী, এবং ধর্মীয় গুরুদেরকে তিনি সন্মানের চোখে দেখতেন তার কড়া নির্দেশ ছিলো এধরণের মানুষদের যেন কোন ভাবেই হত্যা করা না হয় (নোট- তাহলে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ হত্যার কি হবে? তারা সবাই নিরক্ষর, অকর্মন্য ছিলেন?)

      >হাহ-হা! এ তো গরু মেরে জুতা দান এর মতো!

      ৪। চেঙ্গীস খান সাহসী এবং বিশ্বস্ত মানুষদের পছন্দ করতেন এবং বিনিময়ে ফেরৎ দিতেন সেই বিশ্বস্ততা।

      >তাতেই মহামানব প্রমাণ হয়ে গেল!

      ৫। একের পর যাদের তিনি পরাজিত করেছেন পরবর্তীতে তারাই তার বিশ্বস্ত অনুসারীতে পরিনত হয়েছিলো। (!!!!!!!!!)

      >পরাজিত সৈনিকরা বিশ্বস্ত অনুসারীতে পরিণত না হলে তাদের ভাগ্যে কী হতো!

      ৬। যদিও চেঙ্গীস তার জীবদ্দশাতেই বিশাল বড় বড় সব সাফল্য অর্জন করেছিলেন তবুও তিনি তার প্রতিকৃতি আঁকাননি, কোন মনুমেন্ট তৈরী করাননি, মুদ্রার পিঠে নিজের ছবি বসাননি, তার গৌরব গাঁথা নিয়ে গান কিংবা কবিতা লেখাননি, প্রাসাদ কিংবা উপাসণালয়ের নাম নিজের নামে রাখেননি। তিনি যখন মারা যান তখন তার জন্মভূমিতে কবর দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন এবং কোনরকম স্মৃতিসৌধ বানাতে নিষেধ করে গিয়েছিলেন। (নোট- যারা চেঙ্গিস খানকে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তাদের সবাইকে হত্যা করা হয় যেন তার কবর খুজে না পাওয়া যায়। ভিডিও দেখুন ৮.20)

      >তাতেই মহামানব প্রমাণ হয়ে গেল! এরকম উদাহরণ যেন আর নাই।

      ৭। একটা নিরুপদ্রব সাম্রাজ্য গড়েছিলেন যেখানে ছিলো ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিল্পীর স্বাধীনতা, শিক্ষা এবং আন্ত্রজাতিক বাণিজ্য সহায়ক।

      >পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশেই তো এই ধরণের স্বাধীনতা দেয়া হচ্ছে! তার আগে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ এবং স্পেনের কর্দোভাতেও এই ধরণের সুযোগ সুবিধা দেয়া হতো, যা চেঙ্গিস খানের বাহিনী ধ্বংস করে দেয়। তাহলে তো তারা সবাই মহামানব হওয়ার কথা!

      পাঠক, তার মহান গুরু চেঙ্গিস খানের নামে যেগুলো বলা হয়েছে সেগুলো সত্য কিনা কে জানে! তথাপি এই আধুনিক যুগে এমন মহামানবের একজন মাত্র ছদ্ম-নামধারী অনুসারী আছে, যে কিনা ‘মনা’ নামে পরিচিত!

    3. 2.3
      এস. এম. রায়হান

      [ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও কুখ্যাত চেঙ্গিস খানকে মুক্তমনা ব্লগের ‘ইতিহাসবিদ’ হোরাস সাহেব মহামানব বানিয়ে দিলেন, কেননা চেঙ্গিস খান সেক্যুলার ছিলেন ও সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলেন! তাহলে এটাই কি ‘মুক্তমনায়ী’ সেক্যুলারিজম? এটা কি হোরাসের বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ নয়?]

      >চেঙ্গিস খানের মুরিদের হাতে ক্ষমতা থাকলে গুরুর স্টাইলে সবাইকে হত্যা করে ‘সেক্যুলার রাষ্ট্র’ গঠন করা হতো!

  22. 1
    এস. এম. রায়হান

    যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তি দিয়ে চেঙ্গিস খানের এক ছদ্ম-নামধারী মুরিদের মস্তিষ্ককে যেভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তাতে তার মস্তিষ্ক বলে কিছু থাকলে খবরই আছে। অপনাস্তিকতা, অপবিজ্ঞান আর অপযুক্তিবাদের আড়ালে মনাদের মধ্যে চেঙ্গিস খানেরও যে মুরিদ আছে তা জানা ছিল না যদিও থাকাটা অস্বাভাবিক না।

    পাঠকদের জন্য কিছু উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট:

    -চেঙ্গিস খানের মুরিদ খুব ভাল করেই অবগত যে, তার মহান গুরু যাদের উপর নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে কোটি কোটি নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে এবং কয়েকটি দেশকে প্রায় মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে তাদের মধ্যে মুসলিম অধ্যুষিত কিছু দেশ অন্যতম। এজন্য সুকৌশলে চেঙ্গিস খানকে বেছে নিয়ে তাকে “হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ” কিংবা “আধুনিক নৈতিকতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ একজন মহান মানব” বানানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে।

    -স্বয়ং ইসলামের নবীর ঘাড়ে বন্দুক রেখে কোটি কোটি নিরীহ মানুষের হত্যাকারী ও সভ্যতা ধ্বংসকারী চেঙ্গিস খানকে “হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ” কিংবা “আধুনিক নৈতিকতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ একজন মহান মানব” বানানোর মতো সাহস দেখানো হয়েছে।

    -শুধুমাত্র ইসলামের নবীর উদাহরণ দিলে লোকজন কী মনে করে এজন্য প্রথমেই একজন নাম-না-জানা খ্রীষ্টান যোদ্ধার উদাহরণ দেয়া হয়েছে, যে জেরুজালেমের মুসলিমদেরকে হত্যা করেছিল। চেঙ্গিস খানকে “হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ” বানাতে যেয়ে কোন উদাহরণ খুঁজে না পেয়ে একজন অপরিচিত খ্রীষ্টান যোদ্ধা আর স্বয়ং ইসলামের নবীর উদাহরণ দেয়া হয়েছে।

    -যাকে নিয়ে লেখা সেই মহান গুরু চেঙ্গিস খানের দ্বারা বিশাল জনগোষ্ঠীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞকে ‘আলোচনার বাইরে রেখে’ সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে ও সুকৌশলে ইসলামের নবী কতজন বানু কুরাইজা গোত্রের লোককে হত্যা করেছেন তা বলতে ভুল হয়নি।

    -মুসলিমদের মধ্যে কেউ যদি নিজে নিজে “আধুনিক নৈতিকতার মানদন্ড” তৈরী করে তার দৃষ্টিকোণ থেকে হিটলারের জীবনের কিছু ‘ভাল দিক’ উল্লেখ করে তাকে “হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ” কিংবা “আধুনিক নৈতিকতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ একজন মহান মানব” বানিয়ে পোস্ট দিত তাহলে কী অবস্থাটাই না হতো ভেবে দেখুন। চেঙ্গিস খানের মুরিদ নিজেও কিন্তু এই ধরণের লেখা পোস্ট করার সাহস পাবে না।

    -ইসলামের নবীকে আক্রমণ জাস্টিফাই করার জন্য মনাদের তরফ থেকে যে যুক্তিগুলো দেয়া হয় সেগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে “মুসলিমরা তাদের নবীকে সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হিসেবে বিশ্বাস করে”। এজন্য নাকি ইসলামের নবীকে আক্রমণ করা তাদের দৃষ্টিতে জাস্টিফাইড। অথচ সেই মনা ব্লগেই আজ ৯-১০ বছর ধরে ইসলামের নবীকে অত্যন্ত নোংরাভাবে আক্রমণ করে ইতিহাসের এক কুখ্যাত যোদ্ধা ও গণহত্যাকারীকে “হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ” শিরোনামে পোস্ট দেয়া হয়েছে।

    -চেঙ্গিস খানকে “হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ” ও “আধুনিক নৈতিকতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ একজন মহান মানব” বানিয়ে দিয়ে তাকে নবী বা দেবতা বা নিদেনপক্ষে হিরু হিসেবে বিশ্বাস করা হবে কিনা?

    চেঙ্গিস খান সম্পর্কে উইকিতে লিখা আছে:

    These campaigns were often accompanied by wholesale massacres of the civilian populations – especially in Khwarezmia.

    Many of these invasions resulted in the large-scale slaughter of local populations, which have given Genghis Khan and his empire a fearsome reputation in local histories. Mongol campaigns may have resulted in the deaths of 40 million people.

    Genghis Khan asked to be buried without markings, according to the customs of his tribe… According to legend, the funeral escort killed anyone and anything across their path to conceal where he was finally buried.

    In the Middle East and Iran, he is almost universally looked on as a destructive and genocidal warlord who caused enormous damage and destruction to the population of these areas. The Mongol violence and depredations killed up to three quarters of the population of the Iranian Plateau, possibly 10 to 15 million people.

    The invasions of Baghdad, Samarkand, Urgench, Kiev, Vladimir among others caused mass murders, such as when portions of southern Khuzestan were completely destroyed. His descendant, Hulagu Khan destroyed much of Iran’s northern part and sacked Baghdad although his forces were halted by the Mamluks of Egypt. According to the works of the Persian historian Rashid-al-Din Hamadani, the Mongols killed more than 70 million people in Merv and more than 190 million in Nishapur. In 1237 Batu Khan, a grandson of Genghis Khan, launched an invasion into Kievan Rus’. Over the course of three years, the Mongols destroyed and annihilated all of the major cities of Eastern Europe with the exceptions of Novgorod and Pskov.

    In much of Russia, Middle East, Korea, China, Ukraine, Poland and Hungary, Genghis Khan and his regime are credited with considerable damage, destruction and loss of population.

    The Mongols, who established the Mongol Empire across much of Eurasia, caused much destruction during their invasions. Documents written during or after Genghis Khan’s reign say that after a conquest, the Mongol soldiers looted, pillaged and raped.

    BBC Reveals the Truth Behind Genghis Khan:

    He was a man who combined the savagery of a real-life Conan the Barbarian with the sheer tactical genius of Napoleon; a man from the outermost reaches of Asia whose armies ultimately stood poised to conquer Europe. His name was Genghis Khan. The name is one of the most resonant in all history. He is seen as the incarnation of pure evil, dismissed as a ruthless psychopath who murdered millions. Yet Genghis Khan’s legacy was far greater.

    চেঙ্গিস খানের ছদ্ম-নামধারী মুরিদের বচন:

    যুদ্ধের অজুহাতে মানুষ মারাটা কারও ভাল মানুষ হিসাবে পরিচিতি পাওয়ার ব্যাপারে কোন বাধা সৃষ্টি করেনি বা করেনা। এরকম অসংখ্য নজীর ইতহাসের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাই সচেতনভাবেই চেঙ্গিস খানের বিরুদ্ধে যে বিশাল সংখ্যক মানুষ হত্যার অভিযোগ আছে তা এখানে আলোচনার বাইরে রাখব

    অথচ তার আগেই সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে ইসলামের নবী সম্পর্কে বচন:

    বানু কুরাইজা গোত্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনে সাবালক সকল বয়সের পুরুষকে হত্যা করার আদেশ দেন মুসলমানদের চোখে পৃথবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ মোহাম্মদ। একদিনে প্রায় সাতশ থেকে নয়শর মত লোককে মেরে ফেলা হয় গলা কেটে এবং নারী ও শিশুদের দাস/দাসী হিসাবে মুসলিমদের মধ্যে বন্টন করা হয়।

    1. 1.1
      শাহবাজ নজরুল

      চেঙ্গিস খানের মুরিদ খুব ভাল করেই অবগত যে, তার মহান গুরু যাদের উপর নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে কোটি কোটি নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে এবং কয়েকটি দেশকে প্রায় মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে তাদের মধ্যে মুসলিম অধ্যুষিত কিছু দেশ অন্যতম। এজন্য সুকৌশলে চেঙ্গিস খানকে বেছে নিয়ে তাকে “হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ” কিংবা “আধুনিক নৈতিকতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ একজন মহান মানব” বানানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে।

      হ্যাঁ আমার বিশ্বাসও তাই। আচ্ছা মনে করেন হিটলার, মুসোলিনি, পলপটের মতো বিখ্যাত সন্ত্রাসীদের কিছু eccentric trend যদি থাকতো; যেমন মনুমেন্ট বানানোতে নিষেধাজ্ঞা…, তাহলে তিনিও কী আধুনিকতার মানদন্ডে “মহান” মানব হয়ে যেতেন? ধরেন ইয়াহিয়া খান, সে তো দেশটাকে একত্রিত রেখে শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল, তো ঐ নরপিশাচও কি মহামানব হয়ে যাবেন? পাকিস্তানীরাও কিন্তু এক দেশ রাখার পাশাপাশি, এক ভাষাও রাখতে চেয়েছিল। এখন হোরাসের সংজ্ঞা অনুযায়ী কি ঐসব পাকি-দের নতুন করে “মহান” বলতে হবে???? কৈ যাই এসব ব্লগ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে বলেন???

      –শাহবাজ

      1. 1.1.1
        শাহবাজ নজরুল

        এডমিন,

        ব্লক কোটেশন কীভাবে ঠিক করা যায় বলে দেন?

        --শাহবাজ

Leave a Reply

Your email address will not be published.