«

»

Feb ২৮

অভিজিতের অকাল প্রয়াণ ও আমার কিছু ভাবনা

অভিজিত রায়ের মৃত্যুর খবর পেলাম ক'দিন আগে। এর পর থেকেই মনটা বেদনা ভারাক্রান্ত হয়ে আছে। এভাবে একজন ব্লগার, লেখকের এমন নির্মম মৃত্যু কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায়না। প্রথমেই এই হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি – আর দাবি করছি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়া হোক। সাথে সাথে বন্যার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি, আর আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি বন্যা ও অজয় রায়-সহ অভিজিতের পরিবারের সদস্যদের।

 
ব্লগের জগতে অভিজিত ও মুক্তমনার লেখকেরা একরকম আমাদের প্রতিপক্ষ ছিলেন, অবশ্যই বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিপক্ষ। উনার অনেকগুলো লেখার প্রত্তুত্তর কিংবা ন্যায্য সমালোচনা সবসময়ই এখানে হয়েছে। তবে একটু সার্বিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয় অভিজিতের লেখার তিন রকম দিক ছিল। কিছু ছিল তার নিজস্ব বিশ্বাস (নাস্তিকতা) ও তা থেকে উদ্ভুত ধর্মের বিরোধিতা করে লেখা। আর কিছু লেখা ছিল বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের ইতিহাস কিংবা নিছক সাহিত্য কিংবা সাহিত্যের ইতিহাস লেখা। এর পাশাপাশি কিছু লেখা ছিল অবশ্য  ছিল এই দু'বিষয়ের মিশেল – অর্থাৎ বিজ্ঞান দিয়ে নিজের বিশ্বাসকে এগিয়ে নেয়া – কিংবা বিজ্ঞানের আলোকে প্রতিপক্ষকে পরাভূত করার প্রয়াসকল্পে কিছু লেখা। আমার নিজের উনার প্রতি ছিল এক রকমের অদ্ভুত ভালোলাগা আর বিরোধিতার মিশেল দেয়া অনুভূতি। অভিজিতের লেখা সবসময়ই প্রাঞ্জল – তার লেখার প্রাঞ্জলতা যেকোনো পাঠককে বাধ্য করে লেখাটি শেষ না করে উঠতে পারার অপারগতায়। তার লেখার বহমানতা হয়ত অনেককেই তার ভক্ত অনুরক্ত বানিয়েছে। অভিজিতের অকাল মৃত্যুতে আমরা সেই লেখনীগুলো পাওয়া থেকে বঞ্চিত হলাম।

 

যেভাবে আগে বললাম অভিজিতের লেখাগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। একভাগে আছে বিশুদ্ধ বিজ্ঞান ও সাহিত্য-ভিত্তিক লেখা, দ্বিতীয় ভাগে আছে নাস্তিকতার পক্ষ নিয়ে লেখা, যার অধিকাংশই আসলে ইসলাম-বিদ্বেষী লেখা বলেই পরিগণিত, আর শেষভাগে আছে বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে নাস্তিকতার প্রসার ও ধর্মগুলোর অসারতা কিংবা দুর্বলতা প্রমাণের প্রয়াসসমৃদ্ধ লেখা। আমি নিজে তার বিশুদ্ধ বিজ্ঞান-ভিত্তিক লেখাগুলো পড়তাম নিয়মিত – আর নির্দ্বিধায় বলতে পারি বৈজ্ঞানিক অনেক নতুন ধারণা ওর লেখাগুলো থেকেই আমি প্রথম শিখেছি। অভিজিতের মাল্টিভার্স, কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন, ইনফ্লেশনারি থিওরি ইত্যাদি নিয়ে লেখাগুলো চমৎকার। হালে 'ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে' নিয়ে বিশালাকায় ভ্রমণ, ইতিহাস আর সাহিত্যের মিশেল দিয়ে লেখাখানিও অসাধারণ ভালোলাগা একটি রচনা। বেশ আগে পড়েছিলাম, তার পিতা অজয় রায়কে নিয়ে লেখা 'তিনি বৃদ্ধ হলেন' – যেখানে অভিজিত কিভাবে ছোটকাল থেকে তার বাবাকে দেখতে দেখতে বড় হয়েছেন, তার অসাধারণ বর্ণনা তিনি দিয়েছেন। এই মুহূর্তে আরও মনে পড়ছে 'ওয়ার্মহোল' নামের একটি ছোটগল্পের কথা, কিংবা বিখ্যাত বাংলাদেশি পদার্থবিদ জামাল নজরুল ইসলামকে নিয়ে তার বেশ কয়েকটি লেখার কথা। এসব নিপাট লেখাগুলো বলে দেয় অভিজিতের অসাধারণ লেখনী শক্তির ধারণা। আমার নিজের পক্ষ থেকে অভিজিতের লেখার প্রতি দুর্বলতা কিংবা ভালোলাগার জায়গাটুকু এসেছে এই লেখাগুলো পড়ে।  

 

এর পাশাপাশি তার ছিল বিজ্ঞানের আলোকে নিজের মতবাদের প্রচার কিংবা প্রসার নিয়ে বেশ কিছু লেখা। এই জায়গাতে অভিজিতের দ্বিমাত্রিক চারিত্রিক অভিব্যক্তি আমরা দেখি। তিনি নিজে ছিলেন বিজ্ঞানের আলোকে ধর্মের প্রসারের ঘোর বিরোধী – অথচ বিজ্ঞানের আলোকে নিজের মতবাদ প্রচার ও প্রসারের দিকে তিনি ছিলেন অগ্রদূত। এ'নিয়ে তার বেশ কিছু লেখার কথা বলা যেতে পারে। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে কয়েক বছর আগের ক্রেইগ ভেন্টরের তথাকথিত 'কৃত্রিম প্রাণ' আবিষ্কার নিয়ে তৎক্ষণাৎ লেখা একটি ব্লগের কথা। আর এর পরপরই আসে স্টিফেন হকিংয়ের লেখা 'দ্যা গ্রান্ড ডিজাইন' বইটি – যেখানে হকিং মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বরের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মতামত দিয়েছিলেন। স্বভাবতই, অভিজিতের দিক থেকে বিজ্ঞান মহলের এই দুটি খবর আসে আশীর্বাদ হিসেবে – আর তিনি এই খবর দুটিকে নিজের মতবাদ প্রচারের জন্যে সদগ্রে গ্রহণ করেছিলেন। আমার নিজের প্রথম ব্লগের লেখা আসে অভিজিতের 'ক্রেইগ ভেন্টরের' পক্ষ নিয়ে লেখা আত্মপ্রসাদের লেখাটির প্রত্তুত্তরে। সেই অর্থে আমি অল্প বিস্তর যে ক'খানি ব্লগই লিখেছি তার জন্যে অভিজিতকে ধন্যবাদ দিতেই হবে – কেননা উনার লেখার প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই আমি ব্লগে লেখালিখি শুরু করি। যাইহোক, 'কৃত্রিম প্রাণ' নিয়ে নাস্তিকদের লাফালাফি বিজ্ঞান মহল থেকেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে – এ নিয়ে আর বিশদ কথা বলার দরকার নেই। সরোয়ারের লেখাটিতে এর কিছু আঁচ পাওয়া যাবে। 

 

পরে স্টিফেন হকিং এর বইকে পুঁজি করে ঈশ্বরবিহীন মহাবিশ্বের পক্ষে অভিজিত বিশাল ব্লগ লিখেন। ওখানেও তিনি বললেন কিভাবে স্টিফেন হকিংয়ের আশীর্বাদ এক বিশাল ব্যাপার – আর আসলেই মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বরের কোনই প্রয়োজন নেই। মীযান রহমানকে নিয়ে তার লেখা 'শুন্য থেকে মহাবিশ্ব' বইতে এই চিন্তাধারাই প্রতিফলিত হয়েছে। এমনকি, তিনি যেদিন মারা যান, সেদিনই সকালে এখানে তার শেষ লেখাটি ছাপে, যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন 'কেন কিছু না থাকার বদলে কিছু আছে' (why there is something rather than nothing)। অভিজিত মারা যাবার কয়েক ঘণ্টা আগেও তার শেষ ফেসবুক সংলাপে ঐ ব্লগটির লিঙ্ক দেয়া ছিল। যাইহোক এত কথা বলার উদ্দেশ্য এই, যে তিনি তার মতবাদ প্রচার ও প্রসারে ছিলেন নিরন্তর পরিশ্রমী। ব্লগ, ফেসবুক, বইমেলা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই তিনি বিচরণ করছিলেন।

 

যাইহোক, আমার কমন সেন্স থেকে প্রথম থেকেই মনে হচ্ছিল হকিং-এর বাজিটি খারাপ ছিল। তিনি দ্যা গ্রান্ড ডিজাইন বইটিতে 'সবকিছুর তত্ত্ব' হিসেবে এম-তত্ত্বকে বেছে নিয়েছিলেন, কেননা ওটাই 'সবকিছুর তত্ত্ব' হবার একমাত্র প্রার্থী ছিল। এম তত্ত্ব স্ট্রিং তত্ত্ব থেকে উদ্ভুত যেখানে পাঁচ ধরণের সুপার স্ট্রিং তত্ত্বকে একই তত্ত্বের কাঠামোতে বাঁধা হয়। তবে বারবারই হোঁচট খেলে একটি অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করে সমস্যার আপাত সমাধান দেয়াতে, প্রথম থেকেই আমার কাছে স্ট্রিং তত্ত্বকে জোড়াতালি মার্কা সমাধান মনে হয়েছে। 'স্ট্রিং তত্ত্ব' নিয়ে একটি সিরিজও আমি লেখা শুরু করেছিলাম – যা আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারিনি এই তত্ত্বে আপাত সম্ভাব্য অকাল প্রয়ানে। এখন বলতে গেলে 'স্ট্রিং তত্ত্বকে' লাইফ সাপোর্টে নিয়ে জিঁইয়ে রেখেছে অতি অন্ধ অনুরক্ত কিছু লোক। লার্জ হেড্রন কোলাইডরে কোনো সুপার সিমিট্রিক কণার অস্তিত্ব না পাওয়াতে এই তত্ত্ব বলতে গেলে এক অর্থে লাইফ সাপোর্টে চলে গেছে (1)। তবে তার পরেও অন্য বিশেষ পারিসাংখ্যিক আদলে এখনো স্ট্রিং তত্ত্বের দিনের আলো দেখার সামান্য সম্ভবনা আছে – আর তাতেই এর ডাইহার্ড সাপোর্টাররা এখনো হাল ছাড়েননি। আর আমার কাছে এই প্রতিক্রয়া আবার সেই জোড়াতালি দেবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হিসেবেই মনে হচ্ছে – যেমনটি এর আগেও যা বেশ কয়েকবার ঘটেছে, অর্থাৎ যখনই তত্ত্বটি প্রতিবন্ধকতায় পড়েছে, জোড়াতালি দিয়ে তত্ত্বটিকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। তাছাড়াও আমার কাছে প্রথম থেকেই মনে হত, স্ট্রিং এর কম্পনশৈলীই যদি মৌলিক কণাগুলোর মৌলিক বিধৃতি দেয়, তবে এটা অবশ্যই 'ফলসিফিকেশন টেস্টে' উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ একটি তত্ত্ব, কেননা মৌলিক কণার বিধৃতি দেয়া হচ্ছে যৌগিক উপাদান স্ট্রিং-এর সমীকরণ থেকে – যেটা কিনা একটা সিম্পল অ্যানোম্যালি। যাইহোক, এর ব্যাখ্যা ঠিকমতো দিতে গেলে আরো বড়ো পরিসরের লেখা দরকার – তবে পাঠকবর্গ যে অনুসিদ্ধান্ত নিতে পারে তা হলো, স্ট্রিং তত্ত্ব এখন মৃত, তাই এম-তত্ত্বও মৃত, আর হকিং তার 'ঈশ্বরবিহীন মহাবিশ্বের' বাজিতে হেরে গেছেন। অভিজিতের যে সমালোচনা এখানে করা যেতেই পারে তাহলো – সে বিজ্ঞান ভালোবাসা ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও, তার আসল পরিচিতি ছিলো বিজ্ঞানের ছত্রছায়ায় থেকে নাস্তিকতার ভিত্তি গড়ে তোলা। এই প্রবণতা আর কিছুই না – এটা সেই প্রবণতাই যার সমালোচনা অভিজিত সারাজীবন করে গেছেন, অর্থাৎ – 'ধর্মবেত্তারা বিজ্ঞানের ছাতার তলে থেকে ধর্মকে ওড়াতে চায়'। উপরের উল্লেখিত দু'টো ক্ষেত্রেই অভিজিতের বাজি হেরে গেছে – আসলে বিজ্ঞানের মৌলিক দর্শনের বিরুদ্ধে বাজি ধরা যায়না – বিজ্ঞান বহমান, তাই এর আলোকে দেয়া তত্ত্ব সবসময়ই পরিবর্তিত হবে, পরিশীলিত হবে। তাই অপ্রমাণিত এক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ধর্ম-বিশ্বাসীদের গদার আঘাত দেয়ার মনোবাসনা নিয়ে নাস্তিকতার ভিত্তি গড়ে তোলার চিন্তা আদতেই অতি অভিলাষী মনোবাঞ্ছা, যা প্রকারান্তরে প্রতিঘাতী হয়ে নিজের পরাজিত দ্বিচারিতাই প্রকাশ করে। 

 

এর পাশাপাশি অভিজিতের আছে মৌলিক নাস্তিকতা এবং ডারউইনবাদের উপর ব্যাখ্যামূলক অনেক লেখা। ওগুলো এই বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যাকারি লেখার সম্ভার। এখানে মৌলিক বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা ছাড়াও আছে নানাভাবে নাস্তিকতার জয়গানের ছাপ, ধর্মগুলোর সমালোচনা (যদিও অভিজিতের লেখা পড়ে মনে হয় ধর্ম মানেই ইসলাম)। এই লেখাগুলোর অনেক কিছুই সন্নিবেশিত হয়েছে তার 'অবিশ্বাসের দর্শন' বইটিতে। এ নিয়ে কথা বাড়ানোর আর দরকার আপাতত নেই। পরে কখনো হয়ত এ নিয়ে কথা বলা যাবে।

 

তবে উপসংহারে বলা যায়, অভিজিত সবসময়ই লিখে গেছেন। লেখক হিসেবে অনেক অনবদ্য রচনা তার রয়েছে – যদিও এর পাশাপাশি অনেকক্ষেত্রে, অন্য নিক নিয়ে অসৎভাবে অন্যদের আক্রমণের অভিযোগও আছে। একথা এখন সবাই বোঝেন, বিজ্ঞানকে অভিজিত নিয়েছেন ঢাল হিসেবে – যাতে করে এর ছাতার নিচে থেকে নিজের দর্শনকে জাতে তোলা যায়।

 
কিন্ত কোনো ভাবেই যে বিষয়টাকে সমর্থন করা যায়না তা হল কলমের বদলে অস্ত্র দিয়ে জবাব দেয়া। আমরা অনেকেই অভিজিত-সহ 'মুক্তমনা'দের লেখার (অ)যুক্তিগুলোর খণ্ডন করে আসছি অন্তর্জালে। আবিদ ভাইয়ের সাথে শতভাগ সমর্থন জানিয়ে বলতে চাই, কলমের জবাব হবে কলমে। আর আমি আরেকধাপ এগিয়ে এও বলতে চাই- কলমের এই যুদ্ধে 'মুক্তমনারা' পরাজিত। তারা কখনো আমাদের প্রত্তুত্তরগুলোর জবাব দিতে পারেনি। মুক্তমনের অধিকারী হতে হলে আসলেই মুক্ত মন নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সদলাপ-সহ নানা জায়গাতে বার বারই দেখা গেছে, আমাদের জবাবগুলো দেয়া হলে এ নিয়ে ওরা আর সামনে এগুতে চায়না – হয়তবা সামনে এগুনোর আর কোনো পথ নেই। আকাশ মালিকের মিথ্যায় ভরা 'যে সত্য বলা হয়নি' বইটির কথাই বলা যায় উদাহরণস্বরূপ। সাদাতের প্রত্তুত্তরগুলোর আর জবাব আকাশ মালিকের কাছ থেকে পাওয়া গেলোনা। যদিওবা কদাচিত দু-একটি কথা শোনাও যায় – তা সেই আগের কাসুন্দির দিকে নিয়ে যাওয়া ঘ্যানঘ্যানানি মার্কা কান্না বলেই প্রতীয়মান হয়। অনেকটা পরাজিত পাগলের প্রলাপের মত।

 

শেষে আবার অভিজিতের হত্যার নিন্দা জানাচ্ছি, আর দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলছি, যারা অভিজিতকে হত্যা করেছে তারা জঘন্য হত্যাকারী। এদেরকে অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক, এবং কঠোরতম শাস্তি দেয়া হোক।

৬১ comments

Skip to comment form

  1. 27
    এস. এম. রায়হান

    অভিজিৎ রায়ের বিগ্যানমনস্ক পূজারীরা আজ পর্যন্তও বিজ্ঞান দিয়ে তাদের গুরুদেবের হত্যাকারীদের সনাক্ত করতে পারলো না!!! অথচ তারা কথায় কথায় মুসলিমদেরকে উদ্দেশ্য করে বিজ্ঞান, ডিএনএ টেস্ট, ফিঙ্গারপ্রিন্ট টেস্ট, ইত্যাদি বুলি আউড়ায়! তাদের বিজ্ঞানী গুরুদেব তাদেরকে কী 'বিজ্ঞান' শিখিয়ে গেল, কে জানে!

  2. 26
    হাবিব হাসান শাকিল

    হকিংস এর গ্রান্ড ডিজাইন বইয়ে সে যেসব লজিক ইউজ করে স্রষ্টাহীন মহাবিশ্ব বলার চেষ্টা করেছে সেগুলো নিতান্তই হাস্যকর। আপাতত ইন্টার পড়ুয়া একজন ছাত্রও বুঝতে পারবে এটা।
    আর “শূন্য থেকে মহাবিশ্ব” বইয়েও প্রচুর logical fallacy আছে।

  3. 25
    এম_আহমদ

    মুক্তমনাদের মন্তব্য থেকে যা বুঝা যায় তাতে মনে হয় অনন্ত বিজয় লোকটিকে তারা লো-প্রোফাইলে রেখেছিল এবং সে তাদের মহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং inner বৃত্তে ছিল। আকাশ মালিকের এই কথা থেকে তা অনুভব করা যায়,  “আমার লেখালেখির সকল প্রেরণা, উৎসাহ, আমার পথনির্দেশ সবকিছুই ছিল অনন্ত। সে আমার কী ছিল অভিজিৎ আর সৈকত ছাড়া আর কেউ জানেন না। দূরে থেকেও পনেরোটা বছর ছায়ার মত আমার পাশে ছিল।” এখানে দীর্ঘ সুত্রিতা ও গুরুত্বের বিষয় অনুমান করা যায়। তাছাড়া উপরের মন্তব্যে অনন্তের যে মানসিকতা প্রকাশ পায় –তা একজন ইসলাম বিদ্বেষীরই। ইসলাম ধ্বংস করে বাংলায় স্বর্গরাজ্য গড়ার স্বপ্ন ও কমিটম্যান্ট (commitment) ছাড়া কেউ তাদের এত ঘনিষ্ঠ হওয়ার কথা নয়। আকাশ মালিকের ধর্ম নির্মূল, ইসলাম বিদ্বেষ এবং এরই মাধ্যমে ‘ধর্মহীন স্বর্গরাজ্য’ প্রতিষ্ঠার ধারণা যারা দেখেছেন তাদের সামনে নতুন ব্যাখ্যার দরকার নেই। তাছাড়া এখন থেকে ১৫ বছর আগ পর্যন্ত ও গত শতকের শেষ দশক থেকে (অর্থাৎ বার্লিন-ওয়াল ধসার পর থেকে) বিশ্ব পরিস্থিতিতে ওয়ার্ল্ড-অর্ডার (world order) পরিবর্তনের যে কর্মতৎপরতা প্রকাশ পায় এবং ইসলামকে টার্গেট করে যে বিশেষ আন্দোলন শুরু হয় এবং ৯/১১ এর মাধ্যমে যা বৈশ্বিক রূপ লাভ করে –এখানে সেই কাল ও বৈশ্বিক আন্দোলনের কথাও চিন্তা করা যেতে পারে। একটি চক্র তাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লোক সংগ্রহ, তাদেরকে বিদেশ নেয়ার উৎসাহ দান, (এবং কার্যত নেয়াও), তাদেরকে ফান্ডিং দেয়া, প্রচার-প্রচারণায় সাহায্য করা, সেলেক্টশনের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে “পুরস্কৃত” করা -যাতে করে তারা এই পথে টিকে থাকে এবং তাদের কাজের জন্য “মূল্যায়িত” হয়েছে বলে তৃপ্তি লাভ করে –এসব কর্মকাণ্ড দেখা যায় এবং অনুমানও করা যায়। এই লিঙ্কের লেখাটি ভাল করে পড়লে আরও কিছু বিষয় বুঝতে পারা যায়।

    বাংলাদেশে কাউকে কোনোভাবে সামান্য স্টাইফেণ্ডের ব্যবস্থা করে দিলে বা বিদেশ নেয়ার মুলা দেখালে সে যে পথে হাঁটার নয় সে পথেও অনেক দূর হাঁটতে পারে। দু/চারটা নাস্তিকের বই হাতে দিয়ে, তাদের মাধ্যমে প্রবন্ধ লিখিয়ে, তাদেরকে যুক্তিবাদী বানিয়ে মগজ-ধোলাইয়ের যে পরিকল্পনা –তা যে কাউকেই বিস্মিত করবে।

    আজ মুক্তমনারা সরকারকে দায়ী করছে, দোষারোপ করছে। কিন্তু তাদের দায়-দায়িত্ব কী এসবে কম? তারা যখন মাফিয়া রাজনীতির সমর্থক হয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের স্বপন দেখছিল, তখন ভুলে গিয়েছিল এই রাজনীতিতে অর্থ-বিত্ত ও ক্ষমতাই আসল বস্তু। দেশি-বিদেশিসূত্রে প্রোথিত এই রাজনীতির ক্ষমতাধর অনেকেই হয়ত জানে না কে কোন সূত্রে কাজ করছে। মাফিয়াতন্ত্রে ক্ষমতা বহুলাংশে বিকেন্দ্রিক হয়ে থাকে এবং সব সেকশনেই প্রত্যেক গ্রুপ ও উপনেতা নিজেদেরকে চরম ক্ষমতাধর ভাবে। এই তন্ত্রে টিকে থাকার স্বার্থে নিজেদের আপন লোকদেরকেও, সময় ও প্রয়োজনে, বিসর্জন দেয়া হয়। আজ বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে ‘জঙ্গি-মৌলবাদী’ দেখানোর প্রয়োজন মুক্তমনাদের যেমন সরকারেরও তেমন। সুতরাং। One must consider before one sells their soul to Lucifer.

    1. 25.1
      এস. এম. রায়হান

      আকাশ মালিকের এই কথা থেকে তা অনুভব করা যায়,  “আমার লেখালেখির সকল প্রেরণা, উৎসাহ, আমার পথনির্দেশ সবকিছুই ছিল অনন্ত। সে আমার কী ছিল অভিজিৎ আর সৈকত ছাড়া আর কেউ জানেন না। দূরে থেকেও পনেরোটা বছর ছায়ার মত আমার পাশে ছিল।”

      এই ছদ্মবেশী মোল্লার সাথে যার আত্মার সম্পর্ক, ইমেইল-ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ, তার আর শত্রুর দরকার পড়ে না!

      1. 25.1.1

        আসসালামুয়ালাইকুম।ভাই আমরা কি পারি অনন্ত বিজয় দাস এর কুকর্ম মিডিয়ায় প্রকাশ করতে? যাতে মানুষ জানতে পারে মুক্তমনার আদলে তথাকথিত মুর্খমনারা কি করছে মুক্তবুদ্ধি চর্চা করার আরালে…
         

  4. 24
    শামস

    লিংক 

    আচ্ছা অনন্ত বিজয় দাস মুক্তমনায় লিখতো, কিন্তু কি ইসলাম বিদ্বেষী কিছু লিখত? সে মুক্তমনাতে লিখতো, কিন্তু কোনো লেখা পড়েছি বলে মনে হয় না, সেরকম কোনো লেখক না. এই নাম কোনো ইসলাম বিদ্বেষী কিছু চোখে পড়েছে বলে মনে করতে পারছি না. যতদোষ নন্দঘোষ- প্রশ্নগুলো ঘুরেফিরে আসছে! যেভাবে দেশ চলছে, এই হত্যাও শেষ পর্যন্ত ব্লেমগেম এ শেষ হবে! হত্যার নিন্দা জানানো ছাড়া আপাতত কিছুই করার নাই!!!  

    1. 24.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      অনন্ত বিজয় দাস হলো অভিজিৎ রায়ের অবিষ্কার। মুক্তমনা পুরষ্কার নাম দিয়ে একদল লেখক যোগার করেছিলো। অনন্ত প্রথম ব্যক্তি সেই পুরষ্কার পায়। ওর লেখা কোরানের মিরাকল ১৯ -- উনিশ বিশ প্রথম মুক্তমনায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্য দশজন মুক্তমনার মতোই বিজ্ঞান লেখকের আড়ালে মুলত ধর্মবিরোধী লেখাই লেখতো। যদিও সমাজবিজ্ঞানে পড়াশুনা করেছে -- মুল লেখাগুলো ছিলো ডারইউনের উপর এবং অবশ্যই ইসলাম তার অনুসংগ ছিলো।

      তার ইসলাম বিদ্বেষী অনেক পোস্ট ফেইসবুকে পাওয়া গেছে। তার একটা নমুনা --

       

      ''কুরআনের আয়াত'' ব্যঙ্গ করে অনন্ত বিজয় দাশ লিখেছিলেন,''—তিনি সেই পুন্যময় সত্তা,যাঁর হাতে(রয়েছে আসমান-জমিনের যাবতীয়)ডিম্বের মালিকানা,এ উট-বিহঙ্গম ডিম্বের ওপর তিনিই একক মালিক,যিনি তোমাদের বাসস্থানের মঙ্গলার্থে ডিম্বাকৃতি রূপ দিয়েছেন,যাতে এর দ্বারা তোমাদের যাচাই করতে পারেন,তোমাদের মধ্যে কে বেশি অশ্বডিম্ব প্রসবন করতে পারো।বলো,তিনিই সর্বশক্তিমান,তিনিই এক আছাড়ে ডিম ভাঙতে পারেন।''
      --(নিজস্ব বানানো সূরার নাম দিয়েছিলেন) আল বাঈজা,আয়াত ০-০০(September 8,2011) --

       

       

    2. 24.2
      শাহবাজ নজরুল

      অনন্ত বিজয়কে ইসলাম-বিদ্বেষী বলা ঠিক হবেনা। ওর লেখাগুলো যা অল্প-বিস্তর পড়েছি তাথেকে তাকে একজন প্যাশনেট ডারউইনবাদী বলা যেতে পারে। বিবর্তনের মৌলিক একটা সমস্যা নিয়ে একটা ব্লগ লেখার প্ল্যান করছি অনেকদিন ধরে -- সময়ের অভাবে ঠিক শেষ করতে পারছিনা। ঐ লেখাটিতে অনন্ত বিজয়ের একটা ব্লগের রেফারেন্স দেবার পরিকল্পনা ছিল। যাইহোক, দুঃখজনক হলেও সত্য যে সে ইতোমধ্যে নির্মমভাবে নিহত হয়েছে। এই হত্যাগুলো বেশ দুঃখজনক -- কিন্তু এটাও অমোঘ সত্য যে এই রেষারেষি/হানাহানি বলতে গেলে মনারাই শুরু করেছে। কি এক 'কলমের' স্বাধীনতা চায় -- কে জানে? কলম দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ডিসকোর্স করলে এক কথা ছিল -- না কলম দিয়ে অহর্নিশি করেছে বিদ্বেষের চাষাবাদ। ঘৃনার চাষাবাদ করে পোড়া কপাল ছাড়া আর কি পাবে বলেন। 

      যাইহোক, এই অনৈতিক ও আইন-বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানাই।   

      1. 24.2.1
        Wings of Fire

        “অনন্ত বিজয়কে ইসলাম-বিদ্বেষী বলা ঠিক হবেনা”- কীভাবে নিশ্চিত হলেন? নীচের লিংকটি দেখুন:

        http://justpaste.it/anantabijoy

      2. 24.2.2
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        শাহবাজ,

        বাংলাভাষী অধিকাংশ মুক্তমনা মানে নাস্তিকদের মুল প্রেরণা হলো ইসলাম বিদ্বেষ। অনন্ত বিজয় দাশ এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলো না। উনি নিয়মিত ধর্মকারীকে লাইক দিতেন। কোন সময় দেখিনি এর বিরুদ্ধে কোন কথা বলেছেন। যাই হোক -- উনার ইসলাম বিদ্বেষী অনেকগুলো পোস্ট দেখেছি।

        তারমানে এই না যে তাকে হত্যা করতে হবে। যারা এই হত্যাকান্ডে জড়িত তারা কিভাবে এই হত্যাকে যৌক্তিক বিবেচনা করে তা জানার ইচ্ছা অনেকদিনের।

        1. 24.2.2.1
          শাহবাজ নজরুল

          হতে পারে, আমি যে লেখাগুলো পড়েছি সেই আলোকেই কমেন্টটি করা -- আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম যে, অভিজিত,আকাশ মালিক, আবুল কাশেম, ভবঘুরে, সুষুপ্ত পাঠক, কামরান মির্জা প্রমুখ প্রথিতযশা বিদ্বেষীদের লেখালিখিতে যে হারে বিদ্বেষের আগুন দেখেছি সেই অর্থে অনন্তের লেখাগুলোতে বিদ্বেষের অংশ কম। একেবারে নেই তা তো বলা যায়না। তবে আকাশ মালিকের হালের স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায় যে সে অভিজিত কিংবা আকাশ মালিকের চাইতেও দ্বিগুন বিদ্বেষী ছিল এক অর্থে -- কেননা সে 'যে সত্য বলা হয়নি' বইটির অর্ধেক লিখেছে, আর বাকি অর্ধেক লিখেছে অভি আর আকাশ। 

        2. তবে আকাশ মালিকের হালের স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায় যে সে অভিজিত কিংবা আকাশ মালিকের চাইতেও দ্বিগুন বিদ্বেষী ছিল এক অর্থে – কেননা সে 'যে সত্য বলা হয়নি' বইটির অর্ধেক লিখেছে, আর বাকি অর্ধেক লিখেছে অভি আর আকাশ।

          হুম। কিন্তু বুঝলাম না হঠাত আকাশ মালিক এ কথা প্রকাশ করে দিল কেন? কোন বিশেষ কারণ?

  5. 23
    এস. এম. রায়হান

    শাহবাজ ভাই!

    থাবা বাবা ইসলামবিদ্বেষী ছিল না। অভিজিৎও ইসলামবিদ্বেষী ছিল না, যদিও তার হত্যার ব্যাপারে আজ পর্যন্তও কিছুই জানা যায়নি। আমি নিশ্চিত যে, অভিজিৎ মুসলিম নামধারী হলে তাকেও 'সহি মুসলিম' বা নিদেনপক্ষে 'আস্তিক' বানিয়ে দেয়া হতো। মাঝখানে থেকে অভি'র ষাটোর্ধ ভৃত্য আকাম মোল্লা বলির পাঁঠা হলো 😛

  6. 22
    আরিফ

    মুক্তমনার এই পোস্টে সদালাপী লেখকদের জংগীর কাতারে ফেলে তাদের বিরুদ্ধে সোজা জীহাদে নামতে মুক্তমনাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে--

    জঙ্গীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হোন।

    সদালাপের জংগীদের এ ব্যাপারে মন্তব্য যানতে চাই।

     

    1. 22.1
      শাহবাজ নজরুল

      আপনি যদি সাদামাটা মানের মুসলিমও হন তবে আপনি তাদের সংজ্ঞাতে জঙ্গি -- কি আর করা? আর কলমের যুদ্ধে ওরা সদালাপীদের কাছে পরাজিত বলেই সংঘাতের দামামা বাজাচ্ছে। অভিজিতই বলেছে 'বিজ্ঞান আর ধর্মের' সমন্বয় সম্ভব নয় -- এখানে সংঘাত অবশ্যম্ভাবী। তাই যদিও তারা মুখে কলম যুদ্ধের কথাই বলে অন্তরে তাদের আছে 'সংঘাতের' খায়েশ। আহমেদ ভাইয়ের ভাষায় ওদের তাই বলে 'মিলিট্যান্ট নাস্তিক।'

      আমাদের কথা সবসময়ই স্পষ্ট -- আমরা কলমের জবাব কলম দিয়েই দিয়ে থাকি।

    2. 22.2
      Wings of Fire

      ‘আপনি কি মনে করেন এরপরে বাংলাদেশ থেকে কেউ ইসলাম নিয়ে সমালোচনা করতে সাহস পাবে যেখানে ইসলামপন্থীরা প্রকাশ্যে কল্লাকাটার হুমকি দিচ্ছে ফেসবুকে?’ হা হা হা……….. মুত্রমনাদের একথাটা আমার ভালো লেগেছে। @আরিফ

  7. 21
    শাহবাজ নজরুল

    অভিজিতের মৃত্যুর জন্যে বুয়েট শিক্ষক ফারসীম ও তাদের শেষ মিটিং নিয়ে বাবা অজয় রায়ের সন্দেহ --

    প্রথম আলোর সংবাদ -- লিঙ্ক

    1. 21.1
      এস. এম. রায়হান

      অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আরো কিছু লেখা:

      #ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর প্রতি কিছু প্রশ্ন-

      http://sylhettoday24.com/news/details/Column/2405

      http://sylhettoday24.com/news/details/Column/2560

      #অভিজিৎ হত্যা: সংকটে মানবিকতার বিজ্ঞান-

      http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/26041

      নোট: এই ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী অভিজিতের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং মুক্তমনা ব্লগের একজন লেখক হওয়া সত্ত্বেও মুক্তমনা ব্লগে এই প্রসঙ্গটা সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

  8. 20
    এস. এম. রায়হান

    অভিজিৎ হত্যাকান্ড ঘটনাকে বেশ জটিল বলেই মনে হচ্ছে।

    এক বৈঠক ঘিরে সন্দেহ অভিজিতের বাবার-

    http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article938198.bdnews

    আরো দেখুন-

    https://www.facebook.com/khansnigdha/posts/10153135262158104

  9. 19
    এস. এম. রায়হান

    অভিজিৎকে যারাই এবং যে কারণেই হত্যা করুক না কেন, এই হত্যার পেছনে তার ডাইহার্ড মুরিদরাই সর্বাগ্রে দায়ি থাকবে। কেননা তার ডাইহার্ড মুরিদরা দীর্ঘদিন ধরে জেনেশুনেবুঝেও পেছন থেকে সমর্থন দিয়ে তাকে বেপরোয়া হয়ে লাইমলাইটে এসে টার্গেটে পরিণত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। ব্যাপারটা গাছে উঠিয়ে দিয়ে মই সরিয়ে নেয়ার মতো আরকি। ডাইহার্ড মুরিদদের মধ্যে এক মোল্লা মনে হচ্ছে অবস্থা বুঝে গা ঢাকা দিয়েছে। আরেকজন বিশাল লম্বা এক কাহিনী ফেঁদে মায়াকান্না করছে।

  10. 18
    সাদাত

    ১. অকালে কারো প্রয়াণ হতে পারে না, অবশ্যই সেটার একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। যেটা হতে পারে সেটা হলো আকস্মিক বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রয়াণ।
    ২. কলমের বদলে অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে এটা বলার সময় এখনো আসে নাই। প্রমাণ হবার আগে এমন কিছু আমরা আগ বাড়িয়ে ধরে নেব কেন?
    ৩. বিচার-বহির্ভূত কোন হত্যাকাণ্ড যেমন সমর্থনযোগ্য নয়, তেমনি প্রমাণ-বহির্ভূত দোষারোপও গ্রহণযোগ্য নয়।
    ৪. হত্যাকারী যেই হোক, মৃত্যুটাও যতই অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত হোক না কেন,
    অভিজিতের মৃত্যুতে পৃথিবী বাকসন্ত্রাসের এক দক্ষ কারিগরের হাত থেকে নিস্কৃতি পেল।

    1. 18.1
      আহমেদ শরীফ

      সহমত।

      তবে শেষ লাইনের সাথে আরেকটু সংযুক্ত করতে চাই বাস্তবতার নিরিখে …

      অভিজিতের মৃত্যুতে পৃথিবী বাকসন্ত্রাসের এক দক্ষ কারিগরের এবং কুৎসিততম সাম্প্রদায়িক ঘৃণাযজ্ঞের হিংস্র এক মহাপুরোহিতের হাত থেকে নিস্কৃতি পেল।

  11. 17
    শামস

    অসাধারণ বিশ্লেষণ হয়েছে।

  12. 16
    এস. এম. রায়হান

    কলমের জবাব আমরা কলম দিয়েই দিয়ে আসছি, ভবিষ্যতেও কলম দিয়েই দেয়া হবে, তবে একটি কথা আছে।

    শার্লি হেবদো ম্যাগাজিন-সহ আরো অনেক জায়গায় কার্টুনের মাধ্যমে ইসলামের নবীকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং বাংলা অন্তর্জালে তাঁকে যেভাবে গালিগালাজ করা হচ্ছে সেগুলোর জবাব কলম বা কী-বোর্ড দিয়ে কীভাবে দেয়া সম্ভব? যারা মুসলিমদেরকে কলমের জবাব কলম দিয়ে দেয়ার জন্য সস্তা উপদেশ দিচ্ছে (যদিও মুসলিমরা সেটা আগে থেকেই করে আসছে) এবং "কলম চলবে…" ঘোষণা দিচ্ছে, তাদের প্রতি এই প্রশ্ন/চ্যালেঞ্জ থাকলো। তারা আমাদের সামনে এসে বা দূরে থেকেই নোংরা কার্টুন ও গালিগালাজের জবাব কলমের মাধ্যমে দেয়া দেখিয়ে/শিখিয়ে দেক। কী বলেন পাঠক?

  13. 15
    কিংশুক

    বাংলাদেশ সরকার যদি নিজেদের জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করতে চায়,  দেশে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে চায় তাহলে এইসব উগ্র  মৌলবাদী জংগি নাস্তিকদের কার্যক্রম বন্ধ করা উচিত। সময়োচিত সব পদক্ষেপ নিয়ে এদেশের মুসলমানদের উত্তেজিত করা বন্ধ করে  দেশে আকাইম্যা  ভেজাল বাজানো বন্ধ করা উচিত।

  14. 14
    কিংশুক

    তিন তথাকথিত “মুক্তমনা” কাল্টের গুরু অভিজিৎ, শিষ্য বামপন্থী বাটপাড় আসিফ, ব্রেইন ওয়াশড বাংলায় প্রথম কুফরী বইয়ের (তার দাবীকৃত) অনুবাদক ও প্রচারক “থাবাবাবা” ওরফে রাজিব  প্রকৃতপক্ষে কোন উগ্র জংগিবাদি গোষ্ঠি দ্বারা নিহত বা আহত হয়নি। তারা দিনের পর দিন অকথ্য ভাষায়  মোহাম্মদ সা:, ইসলামের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ করে যাওয়ায় তরুণ সরলপ্রাণ কিছু মুসলিম তরুণ সহ্যের শেষ সীমায় গিয়ে তাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেছে। সবাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের  সেক্যুলার শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলমান তরুণ। মুক্তমনা দাবীদার ঐসব ব্যক্তির  লেখার প্রচুর জবাব দেওয়া হয়েছিল। তথ্য বিভ্রাট, যুক্তি খন্ডন করা হয়েছিল। অনেক অনুরোধ করা হয়েছিল এইসব না করতে। তারপরও তারা মানসিক আঘাত দিতে দিতে এই মুসলমান তরুণদের পাগল করে দেয়াতেই তথাকথিত  “মুক্তমনা”দের উপর আক্রমণ হয়েছে। ফলে সরলপ্রাণ মেধাবী উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কিছু তরুণের জীবন ধ্বংস হয়ে  গেল। অভিজিৎকে  কে হত্যা করেছে  কে জানে! তবে এমনও হতে পারে  যে,  কোন দল নিরপেক্ষ (এমনকি ছাত্রলীগের সদস্য্ও) মুসলিম তরুণরা এই কান্ড ঘটিয়েছে  যারা তার লেখার জন্য ক্ষুদ্ধ। আবার অন্য অনেক কিছুই হতে পারে। জাস্ট অনুমান। তবে ”মুক্তমনা” কাল্ট আমাদের বাংলাদেশের শান্তি শৃংখলার জন্য প্রচণ্ড হুমকি।

  15. 13
    নির্ভীক আস্তিক

    By the way, শাহবাজ ভাইয়ের কাছে প্রশ্নঃ আপনার জানা মতে অভিজিৎ এর নিজস্ব কোন Research acheivement আছে? উল্লেখ করার মত তার কোন Journal এ Research publication এখন পর্যন্ত আছে কিনা?

    1. 13.1
      শাহবাজ নজরুল

      যতটুকু আমি জানি অভিজিতের রিসার্চ সেই পিএইচডি এর সময়কালেই করা। কেবল 

      CyberCAD: a collaborative approach in 3D-CAD technology in a multimedia-supported environment 

      পেপারটি ছাড়া অভিজিতের আর কোনও বৈজ্ঞানিক রিসার্চ পেপার আমি সনাক্ত করতে পারলামনা। এটি  Elsevier Journal, Computers in Industry তে ছেপেছিল ২০০৩ সালে। 

       

      লিঙ্ক

       

      আদিল মাহমুদের লেখা থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে তার নাকি প্যাটেন্টও আছে। আমি কোনও প্যাটেন্ট খুঁজে পাইনি। অতএব আমার হিসেবে সে অতি সাধারন মানের রিসার্চার -- অথচ পারলে সবাই মিলে বাংলাদেশের আইন্সটাইন বানিয়ে দেয়। 

      দেখি এ নিয়ে কিছু লেখা যায় কিনা।

       

      1. 13.1.1
        এস. এম. রায়হান

        সত্যি বলতে, আমার ধারণা ছিল তার ফিল্ডের সবচেয়ে ভালো জার্নালে কমপক্ষে ৩-৫টা পেপার আছে। তার পরিবর্তে যা শুনাইলেন তাতে তো ভীষণ অবাক হচ্ছি। এই একমাত্র পেপারটা আসলে তার পিএইচডি গবেষণার উপর ভিত্তি করে লিখা হয়েছে। পিএইচডি-র পর থেকে বিজ্ঞানের কোনো বিষয় নিয়ে আর গবেষণা করেনি। যা করেছে তা আপনি খুব ভালো করেই জানেন। নাস্তিক্যধর্মী কিছু পশ্চিমা বিজ্ঞানীর লিখা বই-পুস্তক পড়ে সেগুলো থেকে চোথা মেরে জায়গায় জায়গায় নাস্তিকতার এলেমেন্ট গুঁজে দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিবেশন করা হয়েছে মাত্র। আর তাতেই তার অন্ধ ভক্তরা তাকে আইনস্টাইনের চেয়েও বড় বিজ্ঞানী বানিয়ে দিয়ে প্রচার করছে।

      2. 13.1.2
        নির্ভীক আস্তিক

        আপনাকে জিজ্ঞাস করেছি কারন আমি নিজেও একবার খুঁজাখুঁজি করেছি। উল্লেখ করার মত কিছু পাইনি। তাই আপনাকেও জিজ্ঞাস করেছি। পেপারটি আমি আগেই দেখেছি। Title আর Abstract পড়ে মনে হল এটা আসলে Experiemntal আর application based research paper. আমার জ্ঞানদিয়ে যা বুঝি, Research level এ অন্যান্য Theoretical research এর তুলনায় এধরনের Research এর ওজন যথেষ্ট কম। যেমনঃ বুয়েটের শেষবর্ষের Theoretical computer science এর দুটি Resarch paper submit করি Bioinformatics এর উপর ২০১৩ তেঃ একটি Elsevier এর  Discrete Mathematics journal এ, অপরটি Information processing letter এ। পেপারগুলো Publish হতে সময় নেয় প্রায় ১ বছর। এরপরে Experimental research করেছি আরো তিনটিঃ এই হাবিজাবি 3d Network modeling, Artificial intelligence আর Digital image processing এর উপর। তাদের মধ্যে একটু Submit করেছি। Publish হওয়ার পর, Barkley, UBC, KCL(kings college, london) গুলোতে শিক্ষকদের সাথে কথাবার্তা শুরু করলামঃ দেশপ্রেমী মানুষ দেশ ছেরে প্রেম উদ্ধার করার স্বার্থে। মজার ব্যাপার হল তারা কেউই আমার তৃতীয় গবেষনাপত্রটির দিকে কোন গুরুত্বই দেননি। একজন, যিনি Elsevier এর চিফ এডিটর বলে ফেল্লেনঃ "Experimental research কোন Research-ই না। ওসব দেখিয়ে কি করবে?" যাইহোক সেইলোকটিই আমাকে শেষপর্যন্ত পিক করেছিলেন  "Discrete Mathematics journal" এ প্রকাশিত পেপারটির জন্য। 

        1. 13.1.2.1
          শাহবাজ নজরুল

          হুম এক্সপেরিমেন্টাল রিসার্চ করেই অভিজিত হামবড়া বিজ্ঞানী হয়ে গেছে -- কি আর করা? আর মুখে পশম থাকার জন্যে (হুমায়ুন আযাদের ভাষায়) ডজন ডজন পেপার আর কয়েক হালি প্যাটেন্ট থাকলেও সে ব্যক্তি ধর্মান্ধ -- সে বিজ্ঞানমনস্ক নন। এদের জন্যে নতুন নাম ঠিক করেছি -- 'বিজ্ঞান-ব্যবসায়ী'। ওরা যেমন বলে ধর্ম-ব্যবসায়ী তেমনি ওদের 'বিজ্ঞান-ব্যবসায়ী' বলে অভিহিত করা উচিত।

          আর ওর বিজ্ঞান-ভিত্তিক লেখাগুলোও মোটামুটি ইংরেজি বইগুলোর অনুবাদ -- যুক্তিগুলো সেই ডকিন্স, হকিং, হিচেন্স, হ্যারিস, ক্রাউস'দের কথাগুলোর বঙ্গানুবাদ। তার মৌলিক যুক্তিও আদতে আমি দেখেছি বলে মনে হয়না।

  16. 12
    আহমেদ শরীফ

    কিভাবে সুগভীর ঔপনিবেশিক চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষশক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে ক্রমশঃ বিতর্কিত করা হয়েছে সেই দীর্ঘ প্রলম্বিত ইতিহাস কমবেশি অনেকেরই জানা। জাতির জন্য দূর্ভাগ্যজনক হল সেই প্রক্রিয়া এখন আরো প্রকাশ্যে আরো নগ্নভাবে চলমান। অভিজিতের স্মৃতিসৌধ নির্মাণে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ঘোষণা !!

    http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article933689.bdnews

    1. 12.1
      শাহবাজ নজরুল

      খুবই হতাশাজনক কথা। অভিজিৎ আদতে ছিল একজন ইসলাম-বিদ্বেষী ব্যক্তি। ওর ব্লগে সাদামাটা ইসলাম মেনে চলা একজন লোকও পাওয়া যাবেনা। এমন ইসলাম-বিদ্বেষী ব্যক্তিকে জোর করে মহামানব বানানো হচ্ছে। আর যা বললেন -- সুগভীর ঔপনিবেশিক চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষশক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। 

      এর বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত। চুপ করে বসে থাকা যায়না…

      1. 12.1.1
        নির্ভীক আস্তিক

        শাহবাজ ভাই, আপনি কি কিছু কিছু ব্যাপার আঁচ করতে পারছেন?  কিছু জিনিস লক্ষ্য করুণঃ

            ১। জাফর ইকবাল তাকে বিজ্ঞানমনস্ক ডেকে বাংলাদেশ প্রতিদিনে লেখা ছাপিয়েছেনঃ  "প্রিয় অভিজিৎ"। তার সাথে আসিফ মহিউদ্দিণের ঘনিষ্ঠ হাসিখুশি ভারে ছবিতোলার কথা মনে আছে নিশ্চই।

            ২।  শাহরিয়ার কবির এর সাক্ষাৎকার থেকে আমরা যা জানতে পারিঃ "মুক্তমনা সাইটটি বন্ধ হয়েছে অভিজিৎ হত্যার ২ ঘন্টা পূর্বে।" কিন্তু আমি কিন্তু অন্যকিছু লক্ষ্য করেছি। সেটি হচ্ছে অজয় রাউত "২ ঘন্টা ধরে মুক্তমনা বন্ধ" থাকার ব্যাপারটি যদি শাহরিয়ার কবিরকে জিজ্ঞাসা করেন তার মানে অজউ রাউত নিজে মুক্তমনাকে সবসময় Watch এ রাখেন। উনি মুক্তমনা এর সকল প্রোপাগান্ডা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে উনি তার নিজের ছেলের এই হিংস্র সাম্প্রদায়িকতা, অসভ্যতার চর্চা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকা সত্যেও কিভাবে দিনের পর দিন এই চারিত্রিক চর্চাকে সমর্থন দিয়ে গেলেন আমার ভাবতেই অবাক লাগছে। 

           ৩। bdnews24 এর আভিজিত স্মৃতিসৌধ নির্মাণের খবরটিকে ঘিরে একটি মজার ব্যাপার আছে। সেখানে সেক্টর কমান্ডার এর চ্যায়ারমেন মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশের সম্মান রক্ষার স্বার্থে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করতে বলেন। আর তা খবর হিসেবে প্রকাশ করেছে bdnews24। কিন্তু আমি সেখানে কিছু প্রশ্ন রেখে মন্তব্য করেছি, আমার মন্তব্যটি প্রকাশ করা হয়নি। ওটার একটি ভিডিও রেকর্ড রেখেছি।  "মুক্তচিন্তা এবং মতপ্রকাশের স্বরূপ" প্রসঙ্গে একটি পোষ্ট নামানো দরকার। চেষ্টা করছি।  

        1. 12.1.1.1
          আহমেদ শরীফ

          ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে উনি তার নিজের ছেলের এই হিংস্র সাম্প্রদায়িকতা, অসভ্যতার চর্চা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকা সত্যেও কিভাবে দিনের পর দিন এই চারিত্রিক চর্চাকে সমর্থন দিয়ে গেলেন আমার ভাবতেই অবাক লাগছে। 

           

          অজয় রায় আজকের নাস্তিক নন। বহু পুরনো চাল। অভিজিৎ মনাব্লগ খুলে বসার কারণে বেশি পরিচিতি পেয়েছে এই যা। অভিজিৎ আম গাছের আমড়া নয় _ আমড়া গাছেরই আমড়া।

           

          আর তা খবর হিসেবে প্রকাশ করেছে bdnews24। কিন্তু আমি সেখানে কিছু প্রশ্ন রেখে মন্তব্য করেছি, আমার মন্তব্যটি প্রকাশ করা হয়নি।

           

          বিডিনিউজ২৪ পুরোপুরি সরকারি দলের ধামাধারী একটি সাইট। সজীব ওয়াজেদ জয়ের খাস চামচা সুশান্ত দাশগুপ্তের নির্দেশনা তাদের কাছে আপ্তবাক্যের মত। মুক্তচিন্তার নামে রাজ্যের যত রাম-বাম-শাহবাগি-ইসলামবিদ্বেষীদের লেখা ওখানে রীতিমত আর্কাইভ করে রাখা হয়। তারা প্রতিটি কমেন্ট সেখানে মডারেশন করে আত্মরক্ষার জন্য নাহলে পাবলিক তাদের মামদোবাজির বিরুদ্ধে কমেন্ট করে করে এতদিনে তাদের ১২টা বাজিয়ে দিত।  

           

           

  17. 11
    শাহাব উদ্দীন আহমেদ

    আমি সদালাপ এর প্রতিটি পোষ্টের তথ্য কিভাবে পাব??? জানালে খুশি হব

     

  18. 10
    মাহফুজ

    অকাল মৃত্যু কারোরই কাম্য নয়। মি. অভিজিতের ক্ষেত্রেও এটি কাম্য না হলেও তা ঘটে গেছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত।

    এ পৃথিবীতে সঘোষিত আস্তিক ও নাস্তিক সহ সবারই শান্তিতে বসবাসের ও বাঁচার অধিকার রয়েছে। তািই শান্তি-শৃঙ্থলা রক্ষায় সমাজে বিরাজিত আইন অনুসারে অপরাধীর সাজা নিশ্চিত করতে হয়। এক হাতে তালি বাজেনা। কিন্তু তাই বলে নিজের হাতে আইন তুলে নেয়াও ঠিক নয়। শান্তি ভঙ্গে কার হাত কতটুকু তা সাক্ষ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে যোগ্য বিচারকই ফায়সালা করার অধিকার রাখেন। আর যদি একালে যোগ্য বিচার না মেলে, তাহলে পরকালের চুলচেরা বিচার থেকে তো কারো মুক্তি নেই।

  19. 9
    Md Sahensah

    Ora mukto monara mukto monar arale ashole procur ugrobadita Puson kore.

  20. 8
    কিংশুক

    আহমেদ শরীফ ভাইতো চমকপ্রদ ভিডিও  শেয়ার করলেন।

  21. 7
    আহমেদ শরীফ

    আমি সম্ভবতঃ একটি ভুল তথ্য দিয়েছি।

    চমকপ্রদ তথ্যটি হল অভিজিৎ নিহত হওয়ার পর নয় _ বাস্তবতা হল সে আক্রান্ত ও নিহত হওয়ার আড়াই ঘন্টা আগেই মুক্তমনা সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল !!

    খোদ শাহরিয়ার কবিরের মুখে আসল সত্যটি প্রকাশ পাওয়ার পর এটিকে একেবারে ঘোড়ার মুখের তাজা খবর না বলে আর উপায় নেই !

    * সাক্ষাৎকারে স্বয়ং শাহরিয়ার কবির _

     ~~~~~ সাক্ষাৎকার ~~~~~

    1. 7.1
      শাহবাজ নজরুল

      কি যে হয়েছে ভেতরে ভেতরে কে জানে? আজকাল কোনও কথাই বিশ্বাস করতে পারিনা। কিছু বুঝতেও পারিনা। 

  22. 6
    সাইফুল ইসলাম

    সদালাপের বিজ্ঞ লেখকদের কাছে একটি বিষয় জানতে চাই,
    যদি আমাদের দেশে ইসলামী শাসন-ব্যবস্থা কায়েম থাকত তবে অভিজিত যে অন্যায় করেছে তার বিচারে কি শাস্তি হতো?
    যদি সেটা মৃত্যুদন্ড হয়ে থাকে তবে এই হত্যাকে কিভাবে দেখবেন?
    আর এই বিষয়ে শরীয়াহ কি বলে? অরথাত যে দেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা চালু নেই, সেখানে ইসলামী বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায় কি?

    মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকলাম।

    1. 6.1
      এস. এম. রায়হান

      প্রথমত- বাংলাদেশে ইসলামী শাসন-ব্যবস্থা কায়েম থাকলে অভিজিতের শাস্তি হতো কি-না, এই প্রশ্ন এখানে অবান্তর যেহেতু বাংলাদেশে ইসলামী শাসন-ব্যবস্থা কায়েম নেই। আর আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ধরণের কেসে মৃত্যুদণ্ডের সম্পূর্ণ বিরোধী।

      দ্বিতীয়ত- অভিজিৎকে বিচার-বহির্ভূত চোরাগুপ্তা হামলার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে, যেটি যেকোনো দেশের বা ধর্মীয় আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এমনকি সৌদি আরবেও কাউকে এভাবে বিচার-বহির্ভূত চোরাগুপ্তা হামলার মাধ্যমে হত্যা করা হয় না। এইটা ছিল স্রেফ একটি বর্বর ও সন্ত্রাসী হামলা। পিরিয়ড।

      1. 6.1.1
        সাইফুল ইসলাম

        আসসালামু আলাইকুম রায়হান ভাই,
        আমরা ব্যক্তিগতভাবে কি বিশ্বাস করি সেটার চেয়ে শরীয়াহ-র গুরুত্ব বেশি।
        http://www.muftisays.com/blog/Seifeddine-M/3016_17-09-2012/ruling-on-one-who-insults-the-prophet-peace-and-blessings-be-upon-him.html
        উপরের লিঙ্ক-এ দেখুন রাসুলুল্লাহ (সা)-কে অপমান করার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। এখন যদি প্রমাণিত হয় অভিজিত-কে যারা হত্যা করেছে তারা এই হাদীস-গুলোর আলোকেই করেছে সেক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য কি?
        আমাদের দেশে ইসলামী শাসন চালু নেই, কিন্তু যারা ইসলামী শাসন চালু করার জন্য আন্দোলন করছে (হতে পারে তাদের আন্দোলনের পদ্ধতিতে ভুল আছে) তারা অতি আবেগের বশবর্তী হয়ে এই ধরণের ঘটনা ঘটালে তার দায় কার?
        http://islamqa.info/en/12461
        এই লিঙ্কে দেখা যাচ্ছে মৃত্যুদন্ড দিতে হলে মুসলিম শাসকের অনুমতি লাগবে।
        এই বিষয়ে আপনার ও সদালাপের বিজ্ঞ লেখকদের বিস্তারিত মতামত আশা করছি।

        1. 6.1.1.1
        2. 6.1.1.2
          শাহবাজ নজরুল

          এ বিষয়টা বেশ গভীর ও ব্যাপক। সার্বিক ব্যাপ্তি নিয়ে বিবেচনা না করলে সবাই ভুল করতে পারে। আমি যতটুকু জানি -- এমনকি ইস্লামি শাসন হলেও vigilante justice এর স্থান ইসলাম নেই। একজন একাই judge, jury and executioner হতে পারেনা। ইসলামী শাসন ব্যবস্থাতেও জতদুর জানি এইই বিধান। ইসলামী শাসন বলবত থাক্লেও কারুর বিরুদ্ধে ব্লাস্ফেমির অভিযোগ থাকলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাক্তি কিংবা রাষ্ট্রকে বিবাদিকে আদালতে নিতে হবে। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে শাস্তি হতেও পারে -- তবে তা আদালতে প্রমান করতে হবে। বিষয়টা অনেকটা আমাদের দেশে প্রচলিত আইসিটি আইনের মত। মত প্রকাশের স্বাধীনতার সীমারেখা আছে -- ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করলে শাস্তি হতেও পারে। তবে vigilante justice এর স্থান ইসলাম নেই। ওটা সন্ত্রাসী হামলা হিসেবেই গন্য হবে বলে মনে হয়। 

           

          আল্লাহ ভাল জানেন। 

        3. 6.1.1.3
          সাইফুল ইসলাম

          ভাই, আমার মনে হয় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া দরকার।
          যদি সম্ভব হয় আপনারা কেউ পোস্ট দিয়ে বিষয়টি সদালাপে তুলে আনুন।
          আপনাদের পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টির গুরুত্ব বাড়বে।

          আর রায়হান ভাই ও শাহবাজ ভাই দুজনেই নিজের ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছেন কিন্তু এ সম্পর্কে শরীয়াহ কি বলে সেটা নিয়ে আলোচনা করেন নি। সদালাপের অন্যান্য লেখকদের কাছ থেকেও মতামত আশা করছি।
          মা'আসসালাম।

        4. 6.1.1.4
          এস. এম. রায়হান

          দ্বিতীয় পয়েন্টে সুস্পষ্ট করে বলার পরও আপনি না বুঝার ভাণ করছেন কেন বুঝতে পারছি না। আমার একটি প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন। আপনি কি বিচার-বহির্ভূত হত্যাকে ইসলাম-সম্মত মনে করেন?

        5. 6.1.1.5
          সাইফুল ইসলাম

          রায়হান ভাই, আমি না বুঝার ভান করিনি, আমি বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারছি বলেই বারবার প্রসঙ্গটি তুলে আনছি।
          আর, আমি আপনার মতই বিচার-বহির্ভূত হত্যাকে ইসলাম-সম্মত মনে করি না।
          সমস্যা হচ্ছে সবাই আপনার-আমার মতো চিন্তা করছে না। অনেকেই ভাবছে যা হয়েছে তা ইসলাম-সম্মত। কিন্তু আমি যখন কাউকে বোঝাতে যাই, তখন আমার জ্ঞানের দুর্বলতার কারণে বোঝাতে পারি না।
          আমার দৃষ্টিতে সদালাপের লেখকগণ যথেষ্ট যুক্তিজ্ঞান-সম্পন্ন ভাবে যে কোন বিষয় তুলে আনেন। এবং এইসকল যুক্তির মধ্যে শরীয়াহগত যুক্তিও থাকে।
          যেহেতু, অনেকেই ভাবছে যা হয়েছে তা শরীয়াহ-সম্মত, তাই আমি আপনাদের কাছে সাহায্য চেয়েছি, যাতে করে সবাইকে বোঝানো যায় যে, যা হয়েছে তা ইসলাম-সম্মত নয়। তাই আপনাদের কাছে এই বিষয়ে সাধারণ যুক্তি-জ্ঞান-এর পাশাপাশি শরীয়াহ থেকে নেয়া যুক্তিও আশা করেছি।
          আশা করছি বুঝতে পেরেছেন।
           

        6. 6.1.1.6
          শাহবাজ নজরুল

          এনিয়ে কেউ লেখা দিলে ভালো হয়। কিছু হাদিসের আলোকে অনেকেই মনে করেন বিচার বহির্ভূত ভাবে ব্লাস্ফেমারকে হত্যা করা যাবে। সদালাপে আলাপ হলে ভালো হয়। তবে আমি নিজে এই নিয়ে সার্বিক লেখা দেবার যোগ্য ব্যক্তি নই। আমার মতে সাদাত কিংবা এম আহমেদ ভাই এই বিষয়ে একটা সার্বিক লেখা দিতে পারেন। 

  23. 5
    কিংশুক

    আহমেদ শরীফ ভাইয়ের সাথে একমত। শাহবাজ নজরুল ভাইয়ের লেখাটা্ও ভালো লাগলো।

  24. 4
    আহমেদ শরীফ

    ইসলামবিদ্বেষীতার কারণেই যে অভিজিৎকে মরতে হয়েছে এটি একটি প্রোপাগান্ডানির্ভর প্রচলিত ধারণাপ্রসূত অনুমান। এটি এখনো প্রমাণ হয়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত সন্দেহাতীতভাবে সেটি প্রমাণিত না হয় ততক্ষণ ইসলাম বা ইসলামের অনুসারীদের সাথে এর যোগসুত্র থাকার কষ্টকল্পনা অনেকে করতে পারে _ কিন্তু সেটির সাথে বাস্তবতার কোন সম্পর্ক নেই। যেভাবে অত্যন্ত জনাকীর্ণ পরিবেশে বিপুলসংখ্যক পুলিশের সামনে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় এবং তারপর পুলিশের সামনে দিয়ে হত্যাকারীরা অনায়াসে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয় বলে বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় এসেছে _ তাতে অত্যন্ত শক্তিশালী কোন মহলের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রত্যক্ষ যোগসাজশ আছে বলে সন্দেহ করার ঘোরতর কারণ আছে। মাত্র দুজন হত্যাকারী শুধু চাপাতি হাতে খুন করে এত বিপুলসংখ্যক পুলিশ-পাবলিকের সামনে দিয়ে নাহলে এত সহজে পলায়নে সমর্থ হত না। অতএব এটিও মোটামুটি ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় যে হত্যাকারীদের ধরা পড়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।

    আরো একটি কঠিন আলামত হচ্ছে ঠিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পরমূহুর্ত থেকে মুক্তমনা সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়া। এরকম আরো কিছু অদ্ভূত কারণে জনমনে সন্দেহ আরো ঘনীভূত হচ্ছে। আমার ধারণা ভুলও হতে পারে। অবস্থাদৃষ্টে অনেকেরই এমন ধারণা হচ্ছে যার পেছনে অনেক পরিষ্কার আলামত ও সুস্পষ্ট লক্ষণ বিদ্যমান।

    এটা উগ্র ধর্মান্ধ মৌলবাদিদের দ্বারা হতে পারে না _ একথা আমি বলছি না। হতেই পারে। আগে অনেক হয়েছেও। কিন্তু এইটার প্লট-সিচুয়েশন-এ্যালিবাই-ইকুয়েশন সবকিছু মিলিয়ে প্যাটার্ণটা দেখে মনে হচ্ছে এর মাঝে অন্য কিছু আছে। ভয়ংকর বক্রগতির শয়তানি চিন্তাপ্রসূত ধুরন্ধর পরিকল্পনা। পুরো জাতিকে বেকুব বানিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোন ফায়দা হাসিল করার কাকতালীয় সময়োচিত সুযোগের চমৎকার সফল সদ্ব্যবহারের উদাহারণ। আমি বলছি না আমার এই ধারণাই সঠিক। কিন্তু কেন জানি বারবারই মনে হচ্ছে _ অন্ততঃ এবার। এবং এই ধারণা যদি কোনভাবে সত্যি হয়ে থাকে তাহলে দুঃখজনক উপসংহার হল মাঝখান থেকে বেচারা অভিজিৎকে স্কেপগোট বানানো হয়েছে।

    1. 4.1
      এস. এম. রায়হান

      অন্যান্য পেজে একাধিক তত্ত্ব চাউর হয়েছে। তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আগ বাড়িয়ে কিছুই বলা সম্ভব নয়। তবে একটা ব্যাপারে আমার কিঞ্চিত সন্দেহ আছে, সেটা হচ্ছে এ পর্যন্ত যতজন ইসলাম-বিদ্বেষীর উপর হামলা চালানো হয়েছে তাদের সকলেই মুসলিম পরিবারের। অমুসলিম পরিবারের কাউকে এভাবে আক্রমণ করার ঘটনা আমার জানা নেই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, অভিজিতের মাথাতেও এটা ছিল, আর এজন্যই ফেসবুকে তাকে সরাসরি হত্যার হুমকি (স্ক্রীনশট থেকে জানা যাচ্ছে, অভিজিতও এটা জানত) দেয়া সত্ত্বেও সে পাত্তা দেয়নি। আমি প্রচণ্ড অবাক হচ্ছি এই ভেবে যে, তাকে সরাসরি হত্যার হুমকি দেয়া সত্ত্বেও সে কীভাবে বই মেলা থেকে রাতের বেলা একা বাসায় ফিরছিল! আর যারা অভিজিতের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাকে হত্যার স্ক্রীনশট প্রচার করেছে তারাই বা এতদিন কোথায় ছিল? তারা অভিজিৎ ও তার পরিবারকে আগ থেকেই সতর্ক করেনি কেন? এমনকি অভিজিৎ বা স্ক্রীনশটধারীদের কেউ থানাতেও জিডি করেনি। এই ব্যাপারটাতে বেশ অবাক হচ্ছি।

      1. 4.1.1
        আহমেদ শরীফ

        সেটাই। নিরপেক্ষ প্রভাবমুক্ত তদন্তে নিঃসংশয়ে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মুসলিমদের এ্যাপোলজেটিক হওয়ার কোন কারণ দেখি না।

        ক্যালকুলেশন অনেক রকমভাবে করা যায়। আপাততঃ এটুকুর ওপরই থাকলে ভাল যে বিনা প্রমাণে কোন একজন ব্যক্তিকে যেমন অভিযুক্ত করা যায় না _ সেখানে একটি পুরো সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র কাল্পনিক ধারণার ওপর অভিযুক্ত করার অপচেষ্টা নিঃসন্দেহে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত-অন্যায্য-নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।

      2. 4.1.2
        নির্ভীক আস্তিক

        যারা স্ক্রীনশট সংগ্রহে রেখেছিলেন তারা এই বিষয়টিতে অনেকটা ওঁৎপেতেই ছিলেন। রাজীব এর ব্যাপারে এরা মানুষের কাছে তেমন একটি জায়গা করে নিতে পারেনি, ইসলামিস্টদের সমালোচনার মুখে বরং উল্টো অবস্থান অনেকটা নাজেহাল ছিল। তখন মিডিয়ার সামনে যারা গিয়েছিলেন তারাও শেষমেশ রাজীবের পক্ষে কোন শক্ত অবস্থান নিতে পারেনি। বরং সমালোচনার ভয়ে পাশ কেটেছিল। এক্ষেত্রে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়েছে এই বাম আর মৌলবাদী নাস্তিক সম্প্রদায় চেয়েছিলেন এরকম কিছু একটা আবার হোক। তাতে করে ধর্মের গায়ে আঁচর কাটানো রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা আরো একধাপ এগিয়ে নেয়া যাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই মৌলবাদী নাস্তিক সম্প্রদায়ের লোকগুলো কট্টর সাম্প্রদায়িক মুসলিমদের সমালচনা করার জন্য হাত লম্বা করে রাখে কিন্তু রাজিব, অভিজিৎ, আসিফ মহিউদ্দিন ইত্যাদি মৌলবাদী হেটমুঙ্গার সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্বদের বিদ্বেষী প্রচারণার বিরুদ্ধে কোন টু-শব্দটিও করেনা। ব্যাপারটি এরকম: "আপনি মুসলিম-হিন্দু-খ্রিষ্টান-বৌদ্ধ তাই আপনি সাম্প্রদায়িক, আর উনারা মৌলবাদী একরোখা নাস্তিক হয়েও অসাম্প্রদায়িক(সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যোদ্ধা)।"

        পোশাক যে পরে তার শরীরেই ফুটো খোঁজার চেষ্টা করা যায়, আর যে এমনিতেই উলঙ্গ তার জন্য আর খোঁজার দরকার কি?

  25. 3
    মিড

    “সূরা আল মায়েদাহ:32 -- এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে বিপযর্য় সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন পুরো মানবজাতিকে হত্যা করল। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করল। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুতঃ এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করে।”

    অভিজিৎ রায়কে যারা হত্যা করল তারা সীমালংঙ্ঘন করল।

    1. 3.1
      শাহবাজ নজরুল

      অবশ্যই সীমা লঙ্ঘন করেছে। সে এমনিতেই পরাজিত ছিল আমাদের কাছে -- বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে -- আর এই অন্যায় হত্যার মাধ্যমে কি অর্জিত হলো, অন্যায্য ও কাপুরুষোচিত হত্যা ছাড়া?  

  26. 2
    এস. এম. রায়হান

    লেখাটির জন্য ধন্যবাদ। সন্ত্রাসী ঘাতকদের অতি দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তার আগ পর্যন্ত কোনো কথা নাই।

    1. 2.1
      mrsumon

      মুসলমানরা মারলে হয়ে যায় জঙ্গী আর কাফেররা মারলে তারা বীর, এটা কেমন কথা?

      1. 2.1.1
        শাহবাজ নজরুল

        এইটা একটা কাপুরুষোচিত, জঙ্গি হামলা বৈ কিছু নয়। অন্য কোনো ব্যাখ্যা এখানে দেবার দরকার নেই। আমি ও আমার মত অনেকে অভিজিত ও মুক্তমনাদের লেখার জবাব লেখা দিয়েই দিয়েছি -- এবং সেটাই জবাবের একমাত্র পথ।  

  27. 1
    শাহবাজ নজরুল

    জিয়া ভাইয়ের ফেসবুকের একটা অভিমত শেয়ার করলাম …

     

    আবু সাইদ জিয়াউদ্দিন

     

    অভিজিত রায়ের হত্যাকান্ডের পর বাংলাদেশের টিভি আর পত্রিকাগুলোতে নজর রাখছিলাম। না রাখলেই ভাল হতো। কারন এতে হতাশাটা বাড়তো না।

    একজন লোক একটা বিশ্বাসের উপর কাজ করেছে গত দুই যুগের উপর। উনি বিশ্বাস করতেন বিশ্বের সকল সমস্যার মুল হলো ধর্ম ( বিশেষ করে ইসলাম)। তাই ধর্মহীন সমাজের স্বপ্ন দেখতেন -- এবং দেখাতেন। তা দেখাতে গিয়ে উনি বিজ্ঞান আর সাহিত্যের সহায়তা নিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে উনি একজন নাস্তিক ছিলেন। এইটাই উনার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

    কিন্তু তাকে মুক্তমনা, বিজ্ঞানমনষ্ক, লেখক বা ব্লগার হিসাবে পরিচয় দিলে তা হবে খন্ডিত পরিচয় এবং এইটা হবে উনার উপর অবিচার। একজন মৃত মানুষের উপর অবিচার না করি -- উনার জীবনের সবচেয়ে বড় মিশন -ধর্মহীন সমাজ -- তাই তার পরিচয়ে বলা উচিত।

    উনার কর্মের উদ্দেশ্য এবং আদর্শের কথা বলাই হবে উনার উপর সুবিচার। কিন্তু দেখলাম অনেকে উনার সম্পর্কে বলতে গিয়ে (৭১ টিভিতের দেখলাম) বলছেন উনি কখনই ধর্মের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেননি -- সত্যই না জেনে কথা বলাটা কত বড় সমস্যা।

    উনার ব্ইপত্র প্রকাশের শুরুর আগেই উনি ইয়াহুতে মুক্তমনা গ্রুপর তৈরী করে ইসলামবিদ্বেষী প্রচুর লেখা দিয়েছেন। আলি সিনা এবং তসলিমা নাসরিনের সাথে গুগলগ্রুপে থেকে সেপ্টেম্বর ১১ এর ঘটনার সাথে কোরানের আয়াতের সূত্র প্রচার করেছেন। কোরান ঐশী গ্রন্থ নয়, "বিজ্ঞানময় কোরান" ইত্যাদি লেখায় উনি ইসলামের বিরুদ্ধে লিখেছেন স্বনামে -- আর বেনামে প্রচুর লিখেছেন -- তার অনেক প্রমান দেখিয়েছি ভিন্ন সময়ে।

    ২০০৩ সালে একটা হিসাব করে দেখিয়েছিলাম মুক্তমনার লেখার ৯৬% ইসলামের সমালোচনা থেকে উগ্রহিন্দুত্ববাদের সমর্থকদের প্রপাগান্ডায় পরিপূর্ন ছিলো। সেই কারনে বহু লেখক কালক্রমে মুক্তমনা ত্যাগ করে চলে যায়। শুধুমাত্র অভিজিত রায় নিজের লেখার প্রচার এবং প্রসারের জন্যেই মুক্তমনা চালু রেখেছিলেন এবং সফলও হয়েছেন -- বিশেষ করে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় নাস্তিকদের আনুকূল্যে "জাহানার ইমাম" এর নাম দিয়ে স্বর্নপদকও পেয়েছিলেন।

    মোদ্দা কথা হলো একজন মানুষ যে আদর্শ ধারন করতেন এবং ঐ আদর্শ অর্থাৎ ধর্মহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যে জানবাজি রেখেছিলেন -- অবশেষে জীবন দিলেন -- তার খন্ডিত পরিচয় প্রচার আসলে উনার দুই যুগের কর্মযজ্ঞ এবং সংগ্রামের প্রতি অবিচার করা হয় বলেই মনে করি।

     

Leave a Reply to নির্ভীক আস্তিক Cancel reply

Your email address will not be published.