«

»

Aug ২৮

ভারতবর্ষে বৌদ্ধ ধর্মের অবলুপ্তির কারণ

[লেখাটি 'সদালাপে' লিখেছিলেন ড.হাবিব সিদ্দিকী। মূল লেখাটি এখানে পাওয়া যাবে। লেখকের অনুমতিক্রমে বাংলায় অনুবাদ করা হলো।]

মুসলিমদের উপমহাদেশে আবির্ভাবের আগে থেকেই বৌদ্ধরা ক্ষমতাশালী হিন্দুদের প্রতাপে ছিলেন একেবারে কোণঠাসা। এমনকি গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুস্থান বিহারের প্রতিবেশী বাংলাতেও হিন্দু ব্রাহ্মণ, শাসক ও নেতারা সাধারণ জনগণকে বশীভূত করে ফেলতে পেরেছিলেন। আসলে ইসলাম না এলে বৌদ্ধ ধর্ম হিন্দুদের দ্বারা ভারতবর্ষ থেকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্নই হয়ে যেত। অন্ধ বৌদ্ধবাদের সমর্থকদের উচিত উইরাথুদের মত উগ্র জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীদের বিক্রি করা বিষাক্ত ঘৃণার বড়ি না গিলে এ বিষয়ে নির্মোহ বিশ্লেষকদের লেখাগুলো পড়ে দেখা – যদি তাতে অবিচক্ষণ মুর্খতা ও ঘৃণ্য মুসলিম বিদ্বেষ কিছুটা হলেও কমে। আদতে প্রচলিত ইসলামবৈরী গল্পকথার বিপরীতে এটাই সত্য যে, বখতিয়ারের অশ্বারোহীরা যখন হিন্দু রাজাদের পরাভূত করেন তখন স্থানীয় বৌদ্ধরা মুসলিমদেরকে বর্ণবাদী হিন্দুদের নিপীড়ন থেকে তাদের উদ্ধারকর্তা হিসেবেই দেখেছেন। 

যদিও গৌতম বুদ্ধ ব্রাহ্মণ্যবাদী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলে গেছেন, তবুও প্রাচীন ইতিহাসের নৃশংসতম এক হত্যাযজ্ঞের পরে হিন্দু রাজা অশোকের ২৩৬ পূর্বাব্দে বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত হবার আগ পর্যন্ত বৌদ্ধদের ভরতবর্ষের রাষ্ট্রযন্ত্রে কোনো রকম প্রভাব ছিলনা বললেই চলে। অশোকের শাসনামলে বৌদ্ধ ধর্ম পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্বভাবতই এমন আনুকূল্য বেশিদিন টিকেনি, আর শক্তিশালী গুপ্ত সাম্রাজ্যের আমল থেকে শাসনযন্ত্র ধীরলয়ে হিন্দুত্বের প্রভাবে ফিরে যায়। স্থানীয় রাজারা তখন থেকে বৌদ্ধ ধর্মের চেয়ে হিন্দু ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়ে – আর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চেয়ে হিন্দু ব্রাহ্মণদের সাথে মিত্রতা গড়ে তোলার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে থাকে। প্রান্তিক জনতার মধ্যে থেকে দলিত নিম্নবর্ণের লোকজন – যারা আগে বৌদ্ধ ধর্মের জাতপ্রথার বিরুদ্ধ বাণীতে আকৃষ্ট হয়েছিল –  তারাও পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক কারণে সনাতন ধর্মে ফিরে যেতে শুরু করে। পঞ্চম শতাব্দির চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক ও তীর্থযাত্রী ফেক্সিয়ান ভারত সফরের সময় স্থানীয় মহায়ন বৌদ্ধ-তত্ত্বে মৌলিক দুর্বলতা দেখতে পান। সেখানে অনেক ঈশ্বররূপী বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বরা মহাবিশ্বের অগণিত স্তরগুলোতে বসবাসরত – ওই বৌদ্ধ তত্ত্ব হিন্দু ধর্মের এতটাই কাছাকাছি ছিল যে অনেকেই এই দু'ধর্মের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পেতেন না।

ashoka

চিত্র ১ – সম্রাট অশোকের প্রতিকৃতি। লক্ষাধিক নিহতের কলিঙ্গের যুদ্ধের পরে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে অনুতপ্ত সম্রাট অশোক বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন।

উঁচু বর্ণের ব্রাহ্মণরা ধর্ম বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতেন। তারা বুদ্ধের দার্শনিক ভাবশিক্ষার বিরুদ্ধে ততটা সোচ্চার ছিলেন না। তবে ব্রাহ্মণ্যবাদের ভিত্তিপ্রস্তর অর্থাৎ, প্রাচীন কাল থেকে রক্ষা করে আসা বেদে দেয়া ব্রাহ্মণদের দৈবত্ব, প্রভুত্ব ও কর্তৃত্বকে যখন বৌদ্ধবাদে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলো তখন তারা তার সর্বাঙ্গীন বিরোধিতা করলেন। 

বৌদ্ধ ধর্মের পতনের কারণ নিয়ে গবেষণা করা শ্রী নরেশ কুমার মনে করেন, বৌদ্ধবাদের বিরোধিতা ও একইসাথে ক্ষয়িষ্ণু ব্রাহ্মণ্য আধিপত্যবাদের পুনর্স্থাপনের জন্যে, ব্রাহ্মণ পুনর্জাগরণীরা তিন ধাপের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন।

প্রথম ধাপে তারা বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে ঘৃণা আর অত্যাচারের অভিযান শুরু করেন। এরপরে তারা বৌদ্ধ ধর্মের ভালো দিকগুলো আত্মস্থ করে নেয় যাতে করে "নীচু" জাতের বৌদ্ধদের মন জয় করা যায়। কিন্তু বাছাইকৃত আত্মীকরণের এই ধাপে ব্রাহ্মণ্যবাদের আধিপত্য যাতে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয় তা নিশ্চিত রাখা হয়। বৌদ্ধবাদ ধ্বংস প্রকল্পের শেষধাপে – 'গৌতম বুদ্ধ হিন্দু বিধাতা বিষ্ণুর আরেকটি অবতার ছাড়া আর কিছুই নন' – এই ধারণা চালু করে তা চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এভাবে বুদ্ধকে ব্রাহ্মণ্যবাদের সর্বদেবতার মন্দিরের অগুন্তি ঈশ্বরের সামান্য একটিমাত্র-তে পরিণত করা হয়। অবশেষে, বৌদ্ধরা মূলত শুদ্র আর অচ্ছুত হিসেবে জাতপ্রথায় আত্মীকৃত হলেন – আর এভাবেই নিজ জন্মভূমিতেই বৌদ্ধরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে লাগলেন।

নীলেশ কুমার বলেন, "বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে চলা এই নির্মূলাভিযানকে বৈধতা দিতে ব্রাহ্মণ্য লেখাগুলোতে বৌদ্ধদের প্রচণ্ডভাবে তিরস্কার করা হয়। মনুসংহিতায় মনু বলেন, "কেউ যদি বুদ্ধকে স্পর্শ করে […] তবে সে স্নান করে নিজেকে শুচি-শুদ্ধ করে নেবে।" অপরাকা তার গ্রন্থে একই ধরণের আদেশ দেন। ব্রাদ্ধ হরিত ঘোষণা করেন যে বৌদ্ধ মন্দিরে প্রবেশ করাই পাপ, যা কেবল আচারিক স্নানের মাধ্যমে স্খলিত হতে পারে। এমনকি সাধারণ জনগণের জন্যে লেখা নাটিকা কিংবা পুথিগুলোতেও ব্রাহ্মণ পুরোহিতেরা বুদ্ধের বিরুদ্ধে ঘৃণার অর্গল ছড়িয়েছেন। প্রাচীন নাটিকা 'মৃচ্ছাকথিকা'তে (পর্ব ৭), নায়ক চারুদত্ত এক বৌদ্ধ সন্তকে হেঁটে আসতে দেখে, বন্ধু মৈত্রীয়কে ক্রোধক্তিতে বলেন – 'আহ্‌! কী অশুভ দৃশ্য – এক বৌদ্ধ সন্ত দেখছি আমাদের দিকেই আসছে।'

The Little Clay Cart

চিত্র বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে ঘটা নিয়মতান্ত্রিক অবহেলা আর ঘৃণার প্রকাশ প্রাচীন নাটিকা "মৃচ্ছাকথিকা"তেও দেখা যায়। উপরে বিখ্যাত নাটিকাটির ইংরেজি অনুবাদের গ্রন্থ। এই নাটিকার নায়ক চারুদত্ত এক বৌদ্ধ সন্তকে হেঁটে আসতে দেখে, বন্ধু মৈত্রীয়কে ক্রোধক্তিতে বলেন – 'আহ্‌! কী অশুভ দৃশ্যএক বৌদ্ধ সন্ত দেখছি আমাদের দিকেই আসছে।'

কুমার বলেন, “অর্থশাস্ত্র' গ্রন্থের রচয়িতা ব্রাহ্মণ বর্ণের চাণক্য ঘোষণা করেন, "যদি কেউ শক্য (বৌদ্ধ), অজিবিকাশ, শুদ্র বা নিষ্ক্রান্ত ব্যক্তিদের ঈশ্বর বা পূর্ব-পুরুষদের পূণ্যার্থে উৎসর্গিত ভোজসভায় যোগদান করে – তবে তার উপর একশ পানা অর্থদণ্ড আরোপিত হবে।" ব্রাহ্মণ্যবাদের পুনরুজ্জীবনের পুরোধা শঙ্করাচার্য বৌদ্ধবাদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড নিন্দামূলক কথার মাধ্যমে বৌদ্ধদের মনে সীমাহীন ভীতির সঞ্চার করেন … পুরানের অনেক রচয়িতাও মিথ্যা কলঙ্ক, অপবাদ, চরিত্রহরণের মাধ্যমে ঘৃণার এই পরম্পরা অব্যাহত রাখেন। এমনকি বিপন্ন সময়েও কোনো বৌদ্ধের বাড়িতে প্রবেশ করাকে ব্রাহ্মণদের জন্যে মহাপাপ হিসেবে তাদের ধর্মগ্রন্থ নারদীয় পুরানে আজ্ঞায়িত করা হয়। বিষ্ণু পুরানে বৌদ্ধদের মহা-মোহ হিসেবে উপাধিত করা হয়। এতে 'বৌদ্ধদের সাথে কথা বলার পাপ'-কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, "যারা এমনকি বৌদ্ধ সন্তদের সাথে কথাও বলবে – তাদের নরকে যেতে হবে।"

chan

চিত্র বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে নিন্দা ঘৃণার অর্গল ছড়াতে এমনকি অর্থশাস্ত্রের জনক বলে বিবেচিত চানক্যও কম ছিলেন না।    

কুশিনগর বা হার্রাম্বাতে গৌতম বুদ্ধ মারা যান বিধায় এটি বৌদ্ধদের কাছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ স্থান। এই নামকরা শহরের চাকচিক্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে ব্রাহ্মণরা এই কুৎসা রটায় যে এই শহরে মৃত্যু হলে সে সরাসরি নরকে চলে যাবে কিংবা পরজন্মে গাধা হয়ে জন্মাবে – কিন্তু ব্রাহ্মণীয় পবিত্র নগর কাশিতে মৃত্যু হলে সে সরাসরি স্বর্গে চলে যাবে। এই উদ্ভট ধর্মতত্ত্ব এমনই পরিব্যপ্ত হয়ে গিয়েছিল যে, যখন মুসলিম সুফী সাধক কবির ১৫১৮ সালে কুশিনগরের কাছে মঘরে মারা যান, তখন তার হিন্দু ভক্তকুল কোনো স্থানীয় স্মৃতি স্থাপনা বানাতে অস্বীকৃতি জানায়। তারাই আবার কাশিতে গিয়ে তার নামে একটি স্মৃতি স্থাপনা গড়ে তোলে। কবিরের মুসলিম ভক্তরা এদিক থেকে কম কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিল। তারা মঘরেই তার মাজার গড়ে তোলে।

এরপরে নরেশ কুমার বলেন, "বুদ্ধের নাম কলুষিত করার পাশাপাশি এহেন ব্রাহ্মণ্য পুনর্জাগরণবাদীরা নিরপরাধ বৌদ্ধদের নিপীড়ন কিংবা এমনকি মেরে ফেলার তাগিদ হিন্দু রাজাদের দিতে থাকেন। বাংলার শৈব ব্রাহ্মণ রাজা শশাঙ্ক শেষ বৌদ্ধ সম্রাট হর্ষবর্ধনের বড় ভাই রাজ্যবর্ধনকে ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে হত্যা করেন। এরপরে শশাঙ্ক বোধি গয়াতে গিয়ে বোধি বৃক্ষকে উপড়ে ফেলেন – যার নিচে বসে ধ্যান করে গৌতম বোধি প্রাপ্ত হন। পাশের বৌদ্ধ বিহারে থাকা বৌদ্ধের প্রতিকৃতি তিনি সরিয়ে ফেলে তার জায়গাতে শিবের প্রতিকৃতি ঝুলিয়ে দেন। এরপরে বলা হয়ে থাকে যে শশাঙ্ক কুশিনগরের সব বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নির্বিচারে হত্যা করেন। আরেক শৈব হিন্দু রাজা মিহিরকুল ১৫০০ বৌদ্ধ তীর্থস্থান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেন। শৈব রাজা তরামন কৌসম্বিতে থাকা বৌদ্ধ মঠ ঘষিতরাম ধ্বংস করেন বলে জানা যায়। [নোট: শেতাঙ্গ হুন জাতির মিহিরকুল হিন্দুত্বে ধর্মান্তরিত নাও হয়ে থাকতে পারেন।]

ব্রাহ্মণদের দ্বারা পাইকারী হারে বৌদ্ধ স্থাপনাগুলোর ধ্বংস ভারতবর্ষ  থেকে বৌদ্ধবাদের নির্মূল হওয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। বোধগয়ার মহাবোধি বিহারকে জোর করে শিব মন্দিরে পরিণত করা হয়েছে কিনা – তা নিয়ে বাদানুবাদ আজও চলছে। কুশিনগরের বুদ্ধের স্তুপ-প্যাগোডাকে রমহর ভবানী নামের এক অখ্যাত হিন্দু দেবতার মন্দিরে পরিবর্তিত করা হয়। জানা যায় যে আদি শঙ্কর অধিকৃত বৌদ্ধ আশ্রমের জায়গাতে হিন্দু শ্রীঙ্গেরী মঠ বানিয়েছিলেন। অযোধ্যার অনেক হিন্দু তীর্থস্থান, যেমন সবরীমালা, বদ্রীনাথ কিংবা পুরীর মত প্রসিদ্ধ ব্রাহ্মণ্য মন্দির আদতে একসময় ছিল বৌদ্ধ মন্দির।”

ইতিহাসবিদ এস. আর. গোয়েল এর মতে (লেখক – A History of Indian Buddhism) পুরোহিত বর্ণের ব্রাহ্মণদের শত্রুতার জন্যেই ভারতবর্ষে বৌদ্ধবাদের অবলুপ্তি ঘটেছে। গৌড়ের শাসক হিন্দু শৈব রাজা শশাঙ্ক (৫৯০-৬২৬) বোধি বৃক্ষ ধ্বংস করেন – যার নিচে বসে ধ্যান করে গৌতম বোধিপ্রাপ্ত হন। পুস্যমিত্র শুঙ্গ (১৮৫-১৫১ পূর্বাব্দ) বৌদ্ধদের প্রতি বৈরী ছিলেন। তিনি ধর্মীয় সূত্র লেখনিগুলোসহ বৌদ্ধ প্রার্থনালয় জ্বালিয়ে দেয়া ছাড়াও অসংখ্য বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পাইকারী হারে হত্যা করেন। এককালে উদগ্র গো-মাংস ভক্ষক ব্রাহ্মণরা বৌদ্ধদের দেখাদেখি নিরামিষাশী হয়ে যান। তারা বুদ্ধের প্রতি প্রচলিত ভালবাসার আদলেই নতুন করে রাম আর কৃষ্ণ বন্দনা শুরু করে দেন। বৌদ্ধদের অবলোপনের ঊষালগ্নের এই সময়কালেই মহাভারত রচিত হয় – যাতে করে নিম্নবর্ণের বৌদ্ধদের আবার শুদ্র হিসেবে হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনা যায়। ব্রাহ্মণরা অবশ্য এর পরেও বেদ গ্রন্থ শুদ্রদের পড়বার জন্যে উন্মুক্ত করেননি, আর এই বৈষম্য সামাল দিয়ে ধর্মান্তরিত বৌদ্ধ শুদ্রদের শান্ত রাখতেই খুব সম্ভবত মহাভারত রচিত হয়।

প্রথম সহস্রাব্দীর দ্বিতীয় অংশে বৌদ্ধদের অবস্থা সম্পর্কে আমরা যা জানি তা মূলত এসেছে সপ্তম শতাব্দীর চৈনিক বৌদ্ধ পদব্রাজক হিউয়েন সাং ভ্রমনবৃত্তান্ত থেকে। যদিও কিছু জায়গাতে বৌদ্ধদের সমৃদ্ধ হতে দেখেছেন, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি বৌদ্ধবাদকে দেখেছেন জৈন ও ব্রাহ্মণ শক্তির কাছে পরাভূত মৃতপ্রায় সত্তা হিসেবে। বিহারে (প্রাচীন মগধ – বুদ্ধের মৃত্যুস্থান) কয়েকটি বিশেষ বৌদ্ধ স্থানে তিনি মারাত্মকভাবে ক্ষয়িষ্ণু হাতেগোনা কিছু ভক্ত দেখেছেন – ঐদিকে আবার দেখেছেন হিন্দু ও জৈনদের রমরমা অবস্থা। বাংলা, কামরূপ ও আসামেও তিনি অপেক্ষাকৃত স্বল্প সংখ্যক বৌদ্ধ দেখেছেন; কন্যাধাতে কোনো বৌদ্ধ পাননি, আর তামিল, গুজরাট ও রাজস্থানে দেখছেন গুটিকয়েক বৌদ্ধ। চালুক্যদের রাজত্বকালে হিউয়েন সাং লিখেছেন, চালুক্যদের শাসনামলে অন্ধ্র আর পল্লব শাসকদের অনুকুল্যে গড়ে ওঠা অনেক বৌদ্ধ স্তুপ মন্দির পরিত্যাক্ত কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এই অঞ্চলগুলো বৈষ্ণব-পূর্ব চালুক্যদের শাসনাধীনে আসে, যারা বৌদ্ধদের প্রতি বৈরী ছিলেন। সাং এর বাংলা ভ্রমণকালে গোঁড়া হিন্দু শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার শাসক। তিনি শশাঙ্ককে একজন "বিষাক্ত গৌড় সাপ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন – যিনি বাংলার বৌদ্ধ স্তুপ -মন্দিরগুলো ধ্বংস করেন আর তার রাজ্যের একেক বৌদ্ধ সন্তদের মাথার জন্যে একশ স্বর্ণমুদ্রা করে পুরস্কার ঘোষণা করেন। হিউয়েন সাং-সহ অনেক বৌদ্ধ সূত্রগুলোতে থানেসরের বৌদ্ধ রাজা রাজ্যবর্ধনের হত্যার জন্যে শশাঙ্ককে দায়ী করা হয়। হিউয়েন সাং লিখেছেন, বোধ গোয়ার বোধি বৃক্ষ কাটা ছাড়াও ওখানকার বৌদ্ধ মূর্তিগুলোকে শিবলিঙ্গ দ্বারা প্রতিস্থাপন করেন।

Xuanzang_w

চিত্র চৈনিক পদব্রাজক হিউয়েন সাং-এর ভারত সফরের বৃত্তান্ত থেকে সমসাময়িক কালের বৌদ্ধদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। 

এখানে বলে রাখা ভালো যে, শশাঙ্ক বৌদ্ধ রাজা হর্ষবর্ধনের সাথে এক অমিমাংসিত যুদ্ধ করেন – যেখানে শশাঙ্ক তার নিজের অঞ্চলগুলো ধরে রাখতে সমর্থ হন। শশাঙ্কের মৃত্যুর পরে কিছুকাল ধরে শাসনের অধিকার নিয়ে বাংলায় হিন্দু ও বৌদ্ধদের মধ্যে রাজনৈতিক সংকট চলে। পরে পাল রাজারা বাংলার অধিপতি হলে তারা মহায়নী বৌদ্ধবাদ ও শৈব হিন্দু উভয়েরই পৃষ্ঠপোষকতা করেন। পালদের পরে ত্রয়োদশ শতকের বখতিয়ার খিলজি বাংলার শাসন অধিগ্রহণের আগে হিন্দু সেন রাজারা (১০৯৭-১২০৩) বাংলার অধিপতি ছিলেন। আর সেন'দের সময়ে শৈব হিন্দুরা পায় শাসকদের আনুকুল্য, আর ঐদিকে বৌদ্ধদের তিব্বতের দিকে ঠেলে সরিয়ে দেয়া হয়। পুরান গ্রন্থগুলো নিয়ে সামান্য গবেষণা করলেই দেখা যায়, এই ব্রাহ্মণ্য আখ্যানগুলো কীভাবে বৌদ্ধদের প্রতি শ্লেষ আর অবর্ণনীয় ভাষিক বর্বরতায় ভরা, যেখানে বৌদ্ধদের ক্ষতিকর আর ভয়ানক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।   

আসলে অশোকের পরে ভারতবর্ষের অধিকাংশ শাসকরাই হিন্দুত্বকে আনুকুল্য দেখানোর পাশাপাশি বৌদ্ধদের প্রতি ছিলেন বৈরী – আর এ কারণেই ভারতবর্ষে বৌদ্ধদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। অনেক দিক থেকেই বৌদ্ধবাদ সার্বিক অর্থে ম্রিয়মান হয়ে আসছিল। জনৈক ঐতিহাসিক বলেন, "গুপ্ত সম্রাজ্যের পর থেকে ভারতীয় ধর্মগুলো দিনে দিনে জাদুমন্ত্র ও যৌনতা-কেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক মর্মজ্ঞান লাভের মত সনাতনী চিন্তাধারা দিয়ে আবিষ্ট হতে থাকে, আর বৌদ্ধ ধর্মও এই ধারাগুলো দিয়ে প্রভাবিত হতে থাকে।" এই অবিষ্টতার ফলাফল হিসেবে "বজ্রপাতের যান" হিসেবে বজ্রায়নের আবির্ভাব ঘটে। নতুন এই গোষ্ঠী ধর্মীয় মতবাদের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে উন্মত্ততাকে আশির্বাদ দেয় – সাথে সাথে কৌমার্য ব্রতের প্রতিও দেখা দিতে থাকে শৈথিল্য।

সপ্তম শতাব্দীর আরেক পরিব্রাজক ইউয়ান চং বলেন, "বৌদ্ধবাদের নানা মতবাদীদের মধ্যে অবিরত বচসা লেগেই থাকত, যেন একেকজনের বচসা-বাণী সাগরের উত্তাল ঊর্মিমালা … যেখানে ১৮টি গোত্রের প্রতিটিই নিজেদের মৌলিক বিশিষ্টতার দাবি করে।" এই নানা উপদলের শত্রুতা জনমানসে সঞ্চিত বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা কালেক্রমে ম্রিয়মান করে তোলে। মহায়ন ও বজ্রায়ন উপদলের ধর্মীয় গ্রন্থগুলো সংস্কৃতে লেখা শুরু হলো যা কিনা ভারতীয় আমজনতার কাছে ছিল অবোধগম্য। এই ধারা দিনে দিনে বৌদ্ধ ধর্মকে সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিল। ফলে মূলত "ঈশ্বরহীন" মর্মবাণীর এই ধর্ম ভারতবর্ষের সাধারণ জনগণের মনে হিন্দুত্ববাদের মত করে স্থান করে নিতে ব্যর্থ হলো – যেখানে অসংখ্য দেবতারা সাধারণের জীবনে মধ্যস্থতা করতো যদি তারা সেভাবে পূজিত হত। বৌদ্ধদের এই নৈতিক অবক্ষয় ধর্মটিতে বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা ডেকে আনে – অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদ তখন শক্তিশালী বুদ্ধিজীবিদের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে ছিল।

কয়েক শতাব্দী ধরে সমৃদ্ধ হওয়া বৌদ্ধবাদ তাই সংঘ পরিবারের দূষণ, উপদলীয় কোন্দল, আর শাসক শ্রেণীর আনুকুল্য পেতে ব্যর্থ হওয়ায় ধীরলয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে – ফলে তা আর সংশোধিত হিন্দুত্ববাদের সাথে পাল্লা দিতে ব্যর্থ হয়ে পড়ে। এভাবে একসময় পুরো ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধ ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে পড়ে। নানা উপঢৌকনে সংঘ পরিবার ধনী হতে থাকে আর বৌদ্ধ সন্তরা বিনয়ের দশম বিধি উপেক্ষা করে সোনা রূপার অনুদান নিতে থাকেন। কৃচ্ছতার মূল সুর থেকে সরে গিয়ে মহায়ন উপদল নানা ব্যয়বহুল আচারানুষ্ঠান চালু করে।  

দেখা যায় যে নিজেদের দোষেই বৌদ্ধবাদ অনেকাংশে অবলুপ্ত হয়। নতুন শক্তিতে উজ্জীবিত হিন্দুত্ববাদের সাথে এটি জনপ্রিয়তায় কোনোভাবেই টিকতে পারছিলনা। আদিশঙ্কর, মাধবাচার্য ও রামানুজ প্রমুখ হিন্দু দার্শনিক ও ধর্মবেত্তাদের আবির্ভাবে হিন্দুত্বে নবপ্রাণ ফিরে আসে – আর সেইসাথে ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধবাদ দ্রুত হারিয়ে যেতে থাকে। শঙ্করাচার্য (৭৮৮-৮২০ খৃঃ) ও রামানুজ (১০১৭-১১৩৭) প্রান্তিক লোকদের কাছে পরিচিত বৈদিক সাহিত্যের আলোকে হিন্দু দর্শনকে পরিশীলিত করেন আর সেইসাথে এই নব মতবাদ প্রচার ও প্রসারে গড়ে তোলেন অসংখ্য মন্দির আর পাঠশালা। অন্যদিকে নানা পথ ও মতের সমন্বয়ের চেষ্টায় রত হিন্দুত্বের সর্বদেবতার আলয়ে গৌতম বুদ্ধকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে আত্মস্থ করে নেয়া হয়। হিন্দু ধর্মের মধ্যে থেকেই তাই একজন ভক্ত বুদ্ধকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করতে পারত। এটাই ছিল বুদ্ধের জন্মস্থানেই বৌদ্ধ ধর্মের কফিনে মারা শেষ পেরেক। হিন্দুধর্ম তাই ধীরে ধীরে হয়ে উঠলো – "নানা মতের বিশ্বাসীদের জন্যে আস্থা ও সন্তুষ্টির কেন্দ্র।" ব্যক্তিগত ঈশ্বরের স্থান করে দেয়া ছাড়াও তখন আবেগী ভক্তিমূলক গানের উত্থান শুরু হলো যা আগে দেখা যেতনা।

Hindupriests

চিত্র আদিশঙ্কর, রামানুজ মাধবাচার্য। এসব দার্শনিক ধর্মবেত্তাদের আবির্ভাবে হিন্দুত্বে নবপ্রাণ ফিরে আসেআর সেইসাথে ভারতবর্ষ  থেকে বৌদ্ধবাদ দ্রুত হারিয়ে যেতে থাকে।

বৌদ্ধ ধর্মবিশারদদের মতে একাদশ শতকের আগে সাধারণ বৌদ্ধ জনতার ধর্মরীতি কিংবা আচরণবিধি তৈরী করা হয়নি। কিছু বৌদ্ধ ধর্ম গবেষক বৌদ্ধ ধর্ম ক্ষয়িষ্ণু ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ার পেছনে কিছু ভিক্ষুর সহজিয়া ও অলস পথাবলম্বনকে দায়ী করেছেন – যা কিনা স্বয়ং বুদ্ধের অপরিগ্রহ কিংবা অনধিকার রীতির বিপরীত। বৌদ্ধ মন্দিরগুলো অনেকক্ষেত্রেই অঢেল সম্পদের ভাণ্ডার হিসেবে দেখা হয়। বাঁচার জন্যে ভিক্ষাবৃত্তি করা এসব বৌদ্ধ সন্তদের অনেক সময়ই দেখা গেছে সাধারণ জনগনের পরিবর্তে নিপীড়ক শাসকদের সাথে সখ্য গড়ে তুলতে। আর এই প্রবণতা – এমনকি আজও বৌদ্ধপ্রধান দেশগুলোতে দেখা যায়। 

হিদু আর বৌদ্ধদের এই সহস্রাব্দী ধরে চলতে থাকা শত্রুতাতে সাধারণ লোকজন বিরক্ত হয়ে পড়ে – এতে করে অবশ্য সুফী সাধক ও মুসলিম অগ্রদূতদের প্রচেষ্টায় ইসলাম এতদ অঞ্চলে স্থায়ীভাবে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। চমৎকার নৈতিক শিক্ষা, বর্ণবাদ-মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহজবোধ্য ও সহজসাধ্য বিশ্বাস ও আচারিক ব্যবস্থার কল্যানে ইসলাম এতদ অঞ্চলে জনপ্রিয় হতোই – প্রশ্নটা কেবল ছিল – কখন? তাছাড়াও বৌদ্ধ ও হিন্দু শাসনামলের চাইতে ত্রয়োদশ শতক থেকে শুরু করে ভারতবর্ষের বিশাল অংশে মুসলিম শাসকদের আমলে জনগণের উপর আরোপিত শুল্কহার কমে আসে – যা প্রান্তিক ও বঞ্চিত ভারতীয়দের ইসলামের প্রতি অনুকুল মনোভাব তৈরীতে সহায়তা করে। পরে অবশ্য নিজেদের অবস্থান আরো সুসংহত করতে শাসক শ্রেণীর অনেকেও ইসলাম গ্রহণ করে নেন। আর এসব ঘটনা রাতারাতি ঘটেনি – বরং শতাব্দী ধরে এই ধারা চলাতে ইসলাম ভারতবর্ষের অনেক অঞ্চলে প্রধান ধর্মে পরিণত হয়।

প্রচলিত উপকথা ও জনশ্রুতির বিপরীতে এখানে বলে রাখা ভালো যে, নালন্দার বৌদ্ধ বিহার বখতিয়ারের অভিযানের সময় মোটেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। নালন্দার ক্ষয়-ক্ষতিগুলো সবই প্রাক-ইসলামিক। তিব্বতীয় অনুবাদক চাগ লোতসাওয়া ধর্মস্বামী (১১৯৭-১২৬৪) যখন ১২৩৫ সালে ভারত সফর করেন, তিনি নালন্দাকে অনেকখানি লোকশূন্য অবস্থায় পান, তথাপিও তিনি সেখানে ৭০ জন ছাত্রসহ চালু অবস্থায় দেখতে পান। এটা কীভাবে সম্ভব যদি বখতিয়ারের সৈন্যদল আসলেই প্রায় তিন দশক আগে এটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে থাকে? 

তাহলে অন্যান্য জায়গাগুলো সম্পর্কে কি জানা যায় – যেখানে বৌদ্ধ ধর্ম নির্মূল হয়েছে?

পাকিস্তান আর আফগানিস্থানের মত উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের বিশাল অঞ্চল ও মধ্য এশিয়াতে বৌদ্ধ ধর্ম ষষ্ঠ শতকে শ্বেতাঙ্গ হুনদের দখল অভিযানে নির্মূল হয়ে যায়। বৌদ্ধবাদের বদলে সেখানে প্রচলিত হয় তান্গেরী ও মানিষেবাদ। রাজা মিহিরকুল (রাজত্বকাল ৫১৫ খৃষ্টাব্দ) বৌদ্ধবাদকে দমন করেন। তিনি এমনকি হালের এলাহবাদ থাকা বৌদ্ধ মন্দিরগুলোও ধ্বংস করেন। [নোট: শ্বেতাঙ্গ হুনেরা পরে ব্রাহ্মণদের কল্যানে রাজপূত হিন্দুত্ব গ্রহণ করে আর বৌদ্ধবাদের প্রতি বিরূপ বা বৈরী হয়ে পড়ে।] আর এইসব বৌদ্ধমঠগুলোর ধ্বংস ঘটে এতদ অঞ্চলে ইসলাম প্রবেশের বহুকাল আগেই।

দশম শতাব্দীর গজনীর সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের সময় বৌদ্ধ ধর্ম বলতে গেলে ভারত থেকে মুছেই গেছে – আর হিন্দু ও অন্যান্য অ-বৌদ্ধ রাজারাই এজন্যে মূলত দায়ী। আর যখন হুলাগু খানের পৌত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তখন মধ্য এশিয়ার বিশাল জনগোষ্ঠী ইসলাম ধর্মকে মেনে নেয়। গজনীর রাজারা সগদিয়া, বাকত্রিয়া কিংবা কাবুলের বৌদ্ধদের উপর কোনো অত্যাচার করেনি। ৯৮২ সালেও নব বিহারের চিত্রপটগুলো দৃশ্যমান ছিল আর মধ্য আফগানিস্থানের বামিয়ানে খাড়া পাহাড়ে খোদাই করা বিশালাকায় বুদ্ধের মুর্তিগুলোও ছিল অক্ষত। প্রথম সহস্রাব্দির সংলগ্নে সগদিয়ায় দক্ষিণ সীমান্তে অনেক বৌদ্ধ মঠ তখনও চালু ছিল বলে আল-বিরুনি জানিয়েছেন। গজনীর রাজারা বৌদ্ধ ধর্মকে বাঁধা দেননি – এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বলতে গেলে তারা একে পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছেন, বিশেষত এর সাহিত্য ও শিল্পকর্মকে।

১০২৮ সাল থেকে শুরু করে ১১০১ এ শেষ হবার আগ পর্যন্ত কাশ্মীরের প্রথম লোহারা সাম্রাজ্যের সময় বৌদ্ধধর্ম অর্থনৈতিকভাবে ধীরলয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। কালক্রমে বৌদ্ধ মঠগুলো অত্যল্প আর্থিক সাহায্যের জন্যে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, গজনীর শাসনাঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় মধ্য ভারতের ভিক্ষু বিহারের তুলনায় কাশ্মীরি মঠগুলোর মান ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে থাকে। লোহারা সাম্রাজ্যের শেষ হিন্দু রাজা হর্ষ (১০৮৯-১১০১) আরেকটি ধর্মীয় নিবর্তনমূলক নিয়ম চালু করেন। তিনি একাধারে হিন্দু মন্দির ও বৌদ্ধ মঠগুলো ধ্বংস করা শুরু করেন। দ্বিতীয় লোহারা সাম্রাজ্যের সময় (১১০১-১১৭১) অবশ্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দু'টি ধর্মই পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে। পরন্তু "The Decline and Fall of Buddhism" বইতে ডক্টর কে. জামানদাস জানিয়েছেন যে, দুটো বুদ্ধের মূর্তি হর্ষের ধ্বংসাভিযানের হাত থেকে বেঁচে যায় তা রাজা জয়সিংহের (রাজত্ব ১১২৮-১১৪৯) আমলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। তাছাড়াও শ্রীনগরের কাছে আরিগোনের বৌদ্ধ বিহার আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এছাড়াও সার্বিক অর্থেই সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তি দিনে দিনে কমে আসতেও থাকে। ঐদিকে এর পরে আবার আসে হিন্দু রাজাদের (১১৭১-১৩২০) আমল। তবে যদিও আর্থিকভাবে দিনে দিনে বৌদ্ধ মঠগুলো ম্রিয়মান হতে থাকে – তথাপি তিব্বত থেকে ক্ষণে ক্ষণে শিক্ষক ও অনুবাদকদের আসা যাওয়া থাকায় বৌদ্ধিক ক্রিয়াকলাপ চতুর্দশ শতক পর্যন্ত চলতে থাকে।

যদিও হিন্দু রাজাদের অধীনে তিন শতকেরও বেশি সময় ধরে কাশ্মিরে রাজনৈতিক দুর্বলতা ছিল – গজনীর সুলতান কিংবা ভারতে তাদের উত্তরসুরীরা ১৩৩৭ এর আগ পর্যন্ত কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করেনি। ডক্টর কে. জামনদাস বলেছেন যে, কাশ্মিরে ইসলাম এনেছেন সুফী সাধক ফকির বুলবুল শাহ আর সৈয়দ আলী হামদানী – যিনি আমির কবির নামেও পরিচিত। [আগ্রহী পাঠক কাশ্মিরে ইসলাম প্রবেশের ইতিহাস ডক্টর কে. জামনদাসের বই থেকে পড়ে দেখতে পারেন।]

আর দক্ষিণে শৈব আর বৈষ্ণবীয় হিন্দুত্বের বলিষ্ঠ পূণর্জাগরণের ফলে বৌদ্ধ ধর্ম দ্রুতই ক্ষীণকায় হয়ে পড়ে। 

বৌদ্ধ ধর্ম মূলত বৌদ্ধ মঠগুলোতেই বেঁচে ছিল ও আছে। অন্যান্য ধর্মের মত ধর্মসূত্র বা নৈতিক সংহিতার ঘাটতি এখানে সব সময়ই ছিল। তাই যখনই বৌদ্ধ মঠগুলো সাহায্যের অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে লাগলো, সাথে সাথে ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধ ধর্ম দ্রুতই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে লাগলো।

উপসংহার

কিছু ঐতিহাসিকের মধ্যে পূর্ব এশিয়াতে বৌদ্ধবাদের ক্ষীণকায় হয়ে আসার কারণ সম্পর্কে মতভেদ দেখা যায়। কিন্তু অকৃত্রিম ও নির্মোহ ইতিহাসবিদরা এ বিষয়ে একমত যে – ইসলামের আগমনের কারণে এখানে বৌদ্ধ ধর্মের বিলোপ ঘটেনি – বরং পুনরুজ্জীবিত হিন্দুত্বই এজন্যে মূলত দায়ী। অষ্টম শতকের বিখ্যাত হিন্দু দার্শনিক শঙ্কর বুদ্ধকে জনতার শত্রু বলে আখ্যায়িত করেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তিনি নিজেই বৌদ্ধবাদের আদলেই আশ্রম বিধি জারি করেন আর বৌদ্ধ ধর্ম থেকে অনেক দর্শন ধার করেন। বৌদ্ধ সংঘের আদলে শঙ্কর যখন অষ্টম শতকে সন্যাস ও আশ্রম বিধি জারি করেন – ঠিক তখনই বৌদ্ধ বৈরী প্রচারণাও ছিল উত্তুঙ্গে। তাকে বৌদ্ধবাদের কড়া সমালোচক হিসেবে যেমনভাবে অভিনন্দিত করা হয় – ঠিক তেমনিভাবে তাকেই ভারতবর্ষে বৌদ্ধবাদের অবলুপ্তির প্রধান কারিগর হিসেবেও দেখা হয়। একই সময়ে তাকে ছদ্মবেশী বৌদ্ধ হিসেবেও দেখা হয়। এই আপাত বিপ্রতীপ মতবাদগুলো সম্পর্কে প্রাচীন ও আধুনিক উভয়কালের দার্শনিক, ইতিহাসবিদ ও বিশেষজ্ঞ লেখকেরা একমত। যদিও শঙ্করকে হিন্দু সাহিত্যে বৌদ্ধবাদের পরাজয়ের কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়, তথাপি তিনি মূলত বৌদ্ধবাদ কিয়দ অঞ্চল থেকে দীপ্তিহীন হয়ে যাবার পরেই বেশি সক্রিয় ছিলেন।

বিশ্বকোষে লেখা হয়েছে, "চাঁদেলার প্রাঙ্গনে ঘটা প্রভাবশালী সংস্কৃত নাটক প্রবোধচন্দ্রদায়ে বিষ্ণুর আরাধনা আর প্রতিকাশ্রয়ী ভাষায় বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের পরাজয় যেভাবে দেখানো হয়েছে তাতে বোঝা যায় যে প্রাক একাদশ শতকে উত্তর ভারতে হিন্দুত্বের নব-উচ্ছাস ফিরে আসে। উত্তর ভারতের জনগণ ততদিনে মূলত শৈব, বৈষ্ণব কিংবা শাক্ত হিন্দুত্বে ফিরে গেছেন। দ্বাদশ শতকের মধ্যে বৌদ্ধবাদ বলতে গেলে মঠ ও আশ্রম ভিত্তিক ধর্মে পরিণত হয় – যদিওবা কৃষক শ্রেণীতে কিছু লোক তখনও বৌদ্ধ ছিলেন, তাদেরকে ভিন্ন ধর্মগোষ্ঠী হিসেবে পৃথক করা যেতোনা … আর যখন ভারতে মুসলিম শাসন অধিষ্ঠিত হলো তখন ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের কেবল ছিটেফোটা অবশিষ্ট ছিল – আর প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা তো বৌদ্ধদের হাত থেকে অনেক আগেই চলে গিয়েছে।"

সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ শতকে যখন ইসলাম দক্ষিন এশিয়ায় আগমন করে তখন থেকেই এটি হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় ধর্মকেই উদার ও বিশ্বজনীন ধর্ম হিসেবে প্রতিস্থাপন করে ফেলে। আগে যেভাবে বলা হলো, মধ্য ত্রয়োদশ শতকে বাগদাদে হুলাগু খানের গণহত্যা ও ধ্বংসলীলার বদৌলতে অনেক মুসলিমই ঝামেলাবিহীন জায়গাগুলোতে আশ্রয় খুঁজছিল। অনেকেই ভারতবর্ষে স্থাপনা গাড়েন। সাথে নিয়ে এসেছিল উন্নততর নৈতিক শিক্ষা ও তার প্রয়োগ এবং এরসাথে সুফী শিক্ষা ভারতীয় জনগণকে ধীরে ধীরে ইসলাম গ্রহণ করতে প্রনোদিত করে। সুফী সাধকদের প্রভাব, বর্ণপ্রথার চাপ, ও সেইসাথে সামাজিক পরিবর্তনকে রুখে দেবার মত রাজনৈতিক শক্তির অভাবে বাংলাতে সবচাইতে বেশি লোক ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়।

মোদ্দাকথা হচ্ছে, গাঙ্গেয় সমতল, মধ্য ও উত্তর ভারত-সহ হালের অন্ধ্র ও কর্নাটকে ইসলাম প্রোথিত হবার অনেক আগে থেকেই বৌদ্ধ ধর্ম এতদ অঞ্চলে অবলুপ্তির নিদর্শন দেখাচ্ছিল। বলতে গেলে এর স্বাভাবিক মৃত্যুই ঘটেছে। যেভাবে জনৈক হিন্দু পণ্ডিত বলেছেন, "পুরাতন বৌদ্ধবাদ, যা কিনা ঈশ্বরের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করেছে, মানব জীবনের অমরত্বকে কোনো আশা দেখাতে পারেনি – যেন জীবনটাই এক মর্মবেদনা, জীবনের মায়া যেন এক মহাপাপ, আর মৃত্যুই হচ্ছে সমস্ত কামনা, বাসনা থেকে পাওয়া নিষ্কৃতি। বৌদ্ধবাদ কুসংস্কার, স্বার্থহীনতা ও তদ্ভুত তুষ্টির দ্বারা নিজেই ছিল ভারাক্রান্ত … মহায়ন অধিবিদ্যা ও ধর্ম আদতে অদ্বৈত দর্শন ও বিশ্বাস সমার্থক। অন্যদিকে বৈরাগ্য চরিত্রের হীনায়ন শেষমেষ শৈব ধর্মের একটি শাখায় পরিণত হয়। দেখা গেল বৌদ্ধ ধর্মের স্বতন্ত্র আর কোনো শিক্ষাই দেবার ছিলনা। যখন ব্রাহ্মণ্যবাদ ঈশ্বরের প্রতি সর্বজনীন ভক্তি আত্মস্থ করলো আর সেইসাথে বুদ্ধকে বিষ্ণুর অবতার বলে ঘোষণা দেয়া হলো – তখনই ভারতবর্ষে বৌদ্ধবাদের কফিনে শেষ পেরেক খানি ঠোকা হয় গেল।" 

স্বামী বিবেকানন্দের ভাষায়, "তাই, জীবে দয়া প্রদর্শন করার আদেশ সত্ত্বেও, মহান নৈতিক ধর্ম হওয়া সত্ত্বেও, চিরায়ত আত্মার অস্তিত্ব কিংবা অনস্তিত্ব সম্পর্কিত আলোচনা থাকা সত্ত্বেও বৌদ্ধবাদের দালান ধ্বসে পড়েছে আর দালানের সেই ধ্বংসাবশেষ আসলেই কদাকার। মানব রচিত কিংবা পরিকল্পিত সবচাইতে কদর্য আচারাদি কিংবা অশ্লীল বই যা চিন্তা করা যায় তার সবই অধঃপতিত বৌদ্ধবাদের কল্যানে পাওয়া গেছে।"

অন্য ধর্মের দিকে অঙ্গুলি প্রদর্শন না করে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের নিজেদেরই ভারত ও দক্ষিণ এশিয়াতে নিজেদের অবলুপ্তির কারণ অনুসন্ধানে অন্তর্বীক্ষণে নামা উচিত। যদি তাই'ই করা হয় তবে দেখা যাবে যে বৌদ্ধ ধর্মের মৃত্যুর জন্যে সে নিজেই দায়ী – কোনো বাইরের শক্তি নয়। নিজেদের পর্বতপ্রমাণ ব্যর্থতার দায় বৌদ্ধবাদ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে পারেনা। বিশ্বায়নের এই যুগে বৌদ্ধবাদ যদি টিকে থাকতে চায় তবে এর সংস্কার বড়ই জরুরি – পাছে এটি মানব আকাঙ্খার প্রতি বৈরী ও 'অন্য'দের প্রতি গণহত্যার আকাংখায় লালিত মৃতপ্রায় এক দর্শন হিসেবে বিবেচিত না হয়। এই সফরের জন্যে তাদের যত কম সম্ভব 'উইরাথু'-দের  ও যত বেশি সম্ভব গম্বিরা'-দের প্রয়োজন।

কথা হচ্ছে, বৌদ্ধবাদ  কি সেই ‘প্রার্থিত অগ্রচিন্তা’ (‘quantum leap’) করতে প্রস্তত?

 

৪৯ comments

Skip to comment form

  1. 20
    madhumangal saha

    THE FATHER OF BANGLADESH NATION’S BANGOBONDHY SAYS THAT SELF CRITICISM IS THE BEST WAY .SO I REQUESTED ALL OF YOU THAT TO READ HISTORY. THE FIRST MUSLIM RULER WAS ARABIAN THEN TURKEU AND SPATIALY SULTAN MAMUID(IS HE MUSLIM?)THEN MD.GHORI THEN A LOT OF MUSLIM RULER BORN IN INDIA ,INDIA WAS THERE MOTHERLAND BUT THEY DEMOLISHED INDIAN CULTURE AND RITUALS.THEY WANTED TO STABLISHED ISLAMICCOUNTRY .BUT INDIAN LAND MAKE THEM INDIANMUSLIM. INDIA THAT IS BHARAT IS NOT MUSLIM BUT THE REYAL MUSLIM IS INDIAN.PLEASE THINK PRACTICALLY NOT IMMOTONALY IN 1937 ELECTION WHAT IS RESULT OF MUSLIMLEAGE ? HOW MANEY PERSENTAGE OF MUSLIM IN INDIA? AND HOW MANEY MUSLIM WANT SEPARATE COUNTARY? BUT 1946 THE GREAT CALCUTTA KILLING WAS HAPPEND AND NOAKHALI MASACCAR HOW COULD WE FORGATE? IN BENGALI LANGUAGE A IDIOM THAT IS “URA AIO CHIL JURA NILO BILL” MUSLIM THEY ARE NOT ORIGINAL INDIAN BUT NOW THE INDIAN MUSLIM THEY ARE REAL INDIAN . THE GREAT USTAD BISSMILLA KHAN, RASID KHAN JAVED AKHTER AND MANEY OTHERS WHO STABLISHED INDIAN CLASSICAL(SASTRIYA) MUSIC.ISLAMIC LAW DOES NOT INFLUENCE MUSIC AND DANCE BUT SAMA VEDAS , GANDHARBAS IS CREATER OF CULTYRE.NOT ONLY MUSLIM BUT ALSO ALL NATIONS FOLLOW INDIAN MUSIC AND DANCE SPESSALY BANGLADESH PAKISTAN. WE THE PEOPLE OF INDIA RESPECT AND LOVE THE LIGEND RUNA LAYLA , REJWABNA CHAUDHIRI BONNA USTAD GOLAMALI.WITH OUT MUSIC BANGLADESH SURVIVE?THE MUSLIM LOVE MUSIC DANCE BECAUSE THEY ARE INDIAN [BANG AND PAK NOW HAVE SOVEREIGN]THEY ARE FOLLOWED INDIAN hymns like sa ra ga ma pa dha ni NOW I SAID INDIA FOR INDIANS .IF ANY BODY CAN TRY TO DESTROY INDIAN CULTURE RITUALS THEY CANNOT SUCESS BECAUSA THE LORD SRIKRISHNA WHO CREATED “BISWA BRHOMANDO”[HISTORICAL PROVED THAT RIG VEDAS IS THE FIRST AND AFTER A LONG TIME LATER THE HOLEY KORAN WAS WRITTEN AND IT ALSO BORROWED FROM UPONISHOD] PROMISED “PARITRANAIO SADHU NAM BINASAOCHAI DUSKRITM DHARMA SANASTA PANARTHYO SAMBHABAMI JYGA JUGA’ PLEASE SCQUESE ME FOR SPELLING MISTAKE.

  2. 19
    শাহবাজ নজরুল

    মমতাজ ভাবিজান, 

    প্রসঙ্গের বাইরে কথা বলার জন্যে আপনার একটা কমেন্ট মুছে দেয়া হয়েছে। 

    এখানে আলোচনা করতে চাইলে ধারাবাহিক ভাবে একেকটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে – এবং ঐ ইস্যুতে নিজের শেষ অবস্থান জানাতে হবে। এই পদ্ধতিতে কথা বলতে চাইলে বলেন – নাহলে অন্য কোথাও যান। ১৪.২.১ এর মন্তব্য এখানে আবার দেয়া হলো। 

    এবার আসেন প্রথম ৩-টি ইস্যু আগে শেষ করা যাক। ইস্যুগুলোতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করবেন। নাহলে কথা বার্তা বলে লাভ নেই।  ১. এই পোস্টে ভারতবর্ষে বৌদ্ধধর্ম অবলুপ্তির ব্যাপারে যে বক্তব্য তুলে ধরা হলো এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।  ২. আপনার মূল প্রশ্নের জবাবের একাংশে ৪.১.১.২.১ এ বলা হয়েছে – আপনার ভাষার এই "দখলবাজ"-দের প্যালেস্টাইনি মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের বিতাড়িত করে ইহুদিদের GOD GIFTED  পিতৃভুমি ফিলিস্তিনের মালিকানা বুঝিয়ে দেয়াতেই (অন্য কথায় জায়নবাদ) খ্রিষ্টান ধর্মের সুতিকাগার প্যালেস্টাইনেই আর খ্রিষ্টান নাই। এই মন্তব্যের সাথে একমত কিনা তা পরিষ্কার করেন।  ৩. মিশরের ব্যাপারে ৯ নং কমেন্টে এম আহমেদ ভাই কিছু কথা বলেছেন। এই বিষয়ে আপনার অবস্থান পরিষ্কার করেন। এই তিনটি ইস্যু আগে ক্লিয়ার করেন। পরিষ্কার ভাবে বলেন আপনি উপরোক্ত পয়েন্ট গুলোর সাথে একমত কিনা কিংবা আপনার অবস্থান কি? তারপরে ধারাবাহিক ভাবে অন্যান্য ইস্যু গুলোতে যাওয়া যাবে।  মজলুম, কিংশুক, এম আহমেদ ভাই – আপনারা প্লিজ একই নিয়ম ফলো করেন। একেকটা ইস্যু করে আলোচনা করা যাক। 

    এই তিনটি ইস্যু সম্পর্কে পরিষ্কার অবস্থান না জানালে মমতাজ ভাবির সাথে আলোচনা এখানেই শেষ। অবশ্য পরিস্কার ভাবে এই ৩-টি ইস্যু ক্লোজড হলে অন্যান্য ইস্যুতে যাওয়া হবে।  

  3. 18
    সাদাত

    ড. হাবিব সিদ্দিকী সদালাপের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক। কিন্তু উনার লেখাগুলো ইংরেজিতে হওয়ায় বাঙালি পাঠকরা তেমন উপকৃত হতে পারেন না। শাহবাজ ভাইয়ের এই উদ্যোগ সত্যই প্রশংসনীয়। লেখাটি সদালাপের একটি বিশেষ সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হবে।

    প্রসঙ্গের বাইরে এক সাথে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আলোচনার সুযোগ কমেন্ট সেকশনে রাখা উচিত না। অপ্রাসঙ্গিক এবং একটি পয়েন্ট শেষ না করে আরেক পয়েন্টে আলোচনা শুরু করা হলে পোস্টদাতা তার বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন। পাঠককে বিভ্রান্ত ও লক্ষ্যচ্যুত করার সুযোগ রাখা উচিত নয়।

    1. 18.1
      শাহবাজ নজরুল

      সাদাত ভাই ধন্যবাদ। 

      সাদাত ভাইয়ের সাথে একমত যে প্রসঙ্গের বাইরের যাতে আলোচনা না যায় সেদিকে লেখক ও মডারেটরদের সজাগ থাকা দরকার। সেই মতে এখানে প্রয়োজনে কমেন্ট মডারেট করা হবে। 

  4. 17
    এস. এম. রায়হান

    আপনারা কী করছেন বুঝতে পারছি না। এই লেখায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোনো এক বৌদ্ধ স্কলারের মিথ্যা অভিযোগের জবাব দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো বৌদ্ধকেই মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। অথচ আপনারা 'মেজভাবী'র মতো আরেক ছুপার একের পর এক লাদি পোস্ট করছেন আর তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছেন! 'মুসলিম নারী' নামে আইডি থেকে এই ধরণের লাদি সদালাপের পাঠকদের জন্য একই সাথে অস্বস্থিকর ও বিভ্রান্তিকর। নতুন পাঠকরা মনে করতে পারে একজন মুসলিম পরিবারের নারী সদালাপে এই ধরণের লাদি ছেড়েছে।

    1. 17.1
      শাহবাজ নজরুল

      অপ্রাসঙ্গিক লেখা ও কমেন্ট এখন থেকে মডারেট করা হবে। একটি ইস্যু ক্লোজড না হওয়া পর্যন্ত অন্য ইস্যুতে যাওয়া যাবেনা। ধন্যবাদ অপ্রাসঙ্গিক কমেন্টের ব্যপারে কঠোর হবার পরামর্শের জন্যে।

  5. 16
    মুনিম সিদ্দিকী

    একটি ঐতিহাসিক ঘটনার বস্তুনিষ্ট পোষ্টমর্টেম করার জন্য মুল লেখক এবং অনুবাদক উভয়কে অসংখ্য ধন্যবাদ।

    1. 16.1
      শাহবাজ নজরুল

      ধন্যবাদ মুনিম ভাই লেখাটি পড়ার জন্যে। পারলে অন্যান্য জায়গাতেও শেয়ার করুন। 

  6. 15
    ডঃ হাবিব সিদ্দিকী

    Thanks to Shahbaz Nazrul for translating yet another important article of mine into Bangla to help Bengali readers to understand our world better. As he has said, translation is hard work and takes longer than one's original articles. That is why I don't blame him that he translated the shorter version rather than the longer and more comprehensive version of the topic.

    A great job, well done!

    1. 15.1
      শাহবাজ নজরুল

      Thanks for your words and inspiration. 

  7. 14
    মজলুম

    ইসলাম পূর্ব আরব বিশ্ব নিয়ে আগে একটু পড়াশোনা করে আসেন। মক্কার আশে পাশে কিছু জায়গা ছাড়া পুরোটাই ছিলো তৎকালিন সুপার পাওয়ার দখলে। মক্কা বিজয় ও তার আগে কোথায় তরবারি ব্যবহার করা হয়েছে? মক্কা বিজয়ের পর কেন মুক্ত আরব বিশ্বের লোকেরা দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করতে শুরু করেছে, কোন যুদ্বের কারনে এমনটা হয়েছে? মক্কার পৌত্তলিক আর ইরানের পৌত্তলিকরা তথাকথিত সনাতন ধর্মের ছিলোনা, ওরা ছিলো জরোস্ট্রিয়ান সম্যক ধর্মের লোক। মক্কার পৌত্তলিকরা মুসলিমদের বিরুদ্বে সকল যুদ্বেই ইরানি পৌত্তলিকদের সাহায্য পেয়েছে। ইরানি/পারস্য সম্রাজ্য মুসলিমদের দূতকে হত্যা করেছে, দূত হত্যা করা প্রাচীন যামানা হতেই যুদ্ব ঘোষনার শামিল। রোমান সম্রাজ্য কেন মুসলিমদের ধংস করতে তাবুক পর্যন্ত এসেছে?  বাইজেন্টাইন সম্রাজ্য প্রথমেই মূসলিম দূত মোস্তফাকে(রঃ) মূতায় বন্দী করে এবং আরেক দূত হারীস(রঃ) কে হত্যা করে। আবারো দূত হত্যা করে যুদ্ব ঘোষনা করায় বাইজেন্টাইন সম্রাজ্যের সাথে মূতায় যুদ্বের ঘোষনা দেওয়া হয় মুসলিমদের পক্ষ হতে।

    প্রতিটা জায়গায় এরা মূসলিমদের আগ বাড়িয়ে আক্রমন করেছে। এখন মুসলিম ওম শান্তি বলে বসে থাকলে দুনিয়াতে ইসলামের অস্তিত্বই থাকতোনা। কয়েকশ মুসলিমের ছোট্ট কম্যুনিটি মদিনায় ধেয়ে আসছিলো মক্কার শাসকগোষ্টিরা এই লোকদের সম্পূর্ন ধংস করার জন্যে বদর প্রান্তরে তখন রাসূল(সঃ) এর একটি মুনাজাত দেখলে এরকম একটা  ইঙ্গিত  পাওয়া যায়। তিনি মুনাজাতে কান্নারত হয়ে বলেছেন, হে আল্লাহ আজকে যদি এই ক্ষুদ্র মুসলিম গোষ্ঠী ধংস হয়ে যায় তাহলে দুনিয়াতে তোমার নাম নেওয়ার জন্যে আর কেউ থাকবেনা। কতো বেদনার্ত ছিলো সেই মুনাজাত। এই কয়েকশ লোককে তাদের নিজভূমি মক্কায় নিষ্ঠুর নির্যাতন, জুলুম, হত্যা করে দেশ ছাড়া করলো, তারপর ওরা আশ্রয় নিলো মদিনায়। এবার এরা মদিনায় এসে এই কয়েকশ লোকের কম্যুনিটিকে এরা বিনাশ করতে চায়।

    এবার আপনাকে বলি, হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃনা এই সব দিয়ে সভ্যতার নির্মান হয়না, মানব জাতির বিকাশ হয়না, এগুলো আত্ব-বিনাশী শক্তি এবং নিজের বিবেকবোধকে ধংস করে দেয়। এই বিদ্বেষ নিয়ে তর্ক আলোচনা কিছুই হয় না, বড়জোর কয়েকটা সাইট বা ফেসবুকে বসে ট্রোলিং এবং বিদ্বেষের বিষবাষ্প ছড়ানো যায়।
    আর এগুলো যারা করে এরা সবাই কুয়ার ব্যাঙ এবং পেঁচা সর্বস্ব প্রানী। এরা কুয়া থেকে বেরোয় না বা দিনের আলো দেখলে কেটে পড়ে। এই লোকগুলোর জন্যে আজকে এক বাঙালি হিন্দু ও ঢাকার ওয়ারীতে বড় হওয়া হার্ভার্ডের প্রফেসর এবং নোভেল জয়ী অমৃত্য সেনের বই হতে কিছু উদৃতি তুলে ধরছি।
     
    তিনি তার বই আইডেন্টি এবং ভায়োল্যান্স বইয়ে ইসলামিক টোলারেন্স অধ্যেয়ে লিখেছেন,
    ১. যুগে যুগে মুসলিমরাই সবচেয়ে বেশী সহনশীলতা দেখিয়েছে
    ২. মুসলিম অটোমান তুর্কি সম্রাজ্য ছিলো তাদের সমসাময়িক ইউরোপিয়ান সম্রাজ্য হতে অনেক বেশী সহনশীল।
    ৩. বিখ্যাত ইহুদি দার্শনিক মাইমুনাদ যখন অসহনশীল ইউরোপ হতে তাড়া খেয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আসে তখন তাকে আশ্রয় দেন সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী  মিশরের  কায়রোতে।
    ৪. ১৬শ শতাব্দিতে যখন ইউরোপে জিয়োর্ডানো ব্রুনোকে পুড়িয়ে হত্যা করা হতো, বিধর্মীদের কচুকাটা করা হতো  তখন  মুঘল বাদশাহ আকবর যে মুসলিম হয়ে জন্ম ও মৃত্যুবরন করেছে সে অমুসলিমদের ভারতে অধিকার দিয়েছে।

    ইউরোপিয়ানরা জেরুজালেম দখল করে মুসলিমদের উপর ইতিহাসের এক নির্মম গনহত্যা চালালো, কিন্তু মুসলিমরা যখন সেই জেরুজালেম পুনরায় উদ্বার করে তখন কোন খ্রিষ্টানদের উপর প্রতিশোধ নেন নি। ইউরোপিয়ানরা তাদের চিরশত্রু সুলতান সালাহুদ্দিনের ন্যায় বিচার, সহনশীলতা দেখে তাকে "চেভেলরিয়াস নাইট"  উপাধি দিয়েছে।  

    বাঙ্গালি বর্নচোরা, কুয়ার ব্যাঙ, পেঁচাদের সর্বস্ব ভেকধারী নাস্তিকদের উচিত প্রফেসর অমৃত্য সেনকে অনুসরন করা।

    1. 14.1
      শাহবাজ নজরুল

      অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মন্তব্য সংযোজনের জন্যে।

      আরেকটা ব্যাপার আমাদের ভাবীসাব কিন্তু নাস্তিক না -- এমন দাবী কোথাও করেছে বলেও মনে পড়ছেনা। সে সনাতন ধর্মের হবারই সম্ভবনা বেশি। 

    2. 14.2
      Momtaz Begum

      বানু কুরাইজা হত্যাযজ্ঞ দিয়ে ইসলাম ধর্মের যাত্রা শুরু। বিষয়টি মুসলিমদের জন্য সুখকর হলেও অমুসলিমদের জন্য নয়। ধন্যবাদ।   

      নবি মুহাম্মদের মৃত্যুর চার বছর পর খলিফা ওমরের শাসনামলে ৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দে ভারতীয় সীমান্তীয় থানা অঞ্চলটি আক্রমণ ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে ভারতে ইসলামি হামলার সূচনা হয়। পরবর্তীতে খলিফা ওসমান, আলী ও মুয়াবিয়ার সময়ে এরূপ আরো আটবার লুণ্ঠন অভিযান চালানো হয়। এসব প্রাথমিক আক্রমণে কখনো কখনো লুটতরাজ ও হত্যাকাণ্ড ছাড়াও লুণ্ঠনদ্রব্য ও ক্রীতদাস সংগ্রহ করা হয়, কিন্তু ভারতে ইসলামের স্থায়ী পদাঙ্ক স্থাপনে ব্যর্থ হয়। খলিফা আল-ওয়ালিদের আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সিন্ধুতে উবায়দুল্লাহ ও বুদাইলের নেতৃত্বে দু’টো অভিযান প্রেরণ করেন। উভয় অভিযানই চরমভাবে ব্যর্থ হয় অনেক মৃত্যুর মাশুল দিয়ে, নিহত হয় উভয় সেনাপতি। অন্তরে ক্ষতবিক্ষত হাজ্জাজ এরপর ৬,০০০ সৈন্যের নেতৃত্বে ১৭-বছর-বয়স্ক তারই ভাতিজা ও জামাতা কাসিমকে প্রেরণ করেন। মোহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধুর দেবাল বন্দর জয়ের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ইসলামের শক্ত ও স্থায়ী ভিত্তি রচনা করে। বিখ্যাত মুসলিম ইতিহাসবিদ আল-বিরাদুরী লিখেছেন: ‘দেবাল আক্রমণ করে সেখানে তিনদিন ধরে লুণ্ঠন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়; মন্দিরের যাজকদের সবাইকে হত্যা করা হয়। কাসিম ১৭ বছরের অধিক বয়সী পুরুষদেরকে তলোয়ারের ডগায় হত্যা করে এবং নারী ও শিশুদেরকে ক্রীতদাস বানায়। দেবালে কত লোককে বন্দি করা হয়েছিল সে সংখ্যা লিখা হয়নি, তবে তাদের মধ্যে ছিল মন্দিরে আশ্রয়গ্রহণকারী ৭০০ রমণী, জানায় ‘চাচনামা’। লুণ্ঠিত মালামাল ও ক্রীতদাসদের মধ্যে খলিফার এক-পঞ্চমাংশের হিস্যায় ছিল পঁচাত্তর জন কুমারী, যাদেরকে হাজ্জাজের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অবশিষ্টদেরকে কাসিম তার সেনাদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়।   

      আজ পর্যন্ত দাসপ্রথা সৌদি আরব, সুদান ও মৌরিতানিয়ায় নানা আকারে অব্যাহত রয়েছে।

      সম্প্রতি রয়টার ‘শ্লেইভারি স্টিল এক্জিস্ট ইন মৌরিতানিয়া’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে: তারা শৃঙ্খল পরে না, প্রভুদের কোনো চিহ্ন দ্বারা তারা চিহ্নিত নয়, কিন্তু মৌরিতানিয়ায় এখনো ক্রীতদাস রয়েছে। সাহারার রৌদ্র-তপ্ত বালিয়াড়ির মধ্যে তারা উট-ছাগলের পাল চড়িয়ে বেড়ায়, কিংবা নোয়াকোচটের ধনাঢ্যদের কার্পেট বিছানো ভিলায় তারা গরম পুদিনার চা পরিবেশন করে অতিথিদেরকে। মৌরিতানিয়ার ক্রীতদাসরা তাদের মালিকদের জন্য কাজ করে; প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা মালিক-পরিবারের অস্থাবর সম্পত্তির মতো কাটিয়ে দিচ্ছে… তাদের সংখ্যা হাজার হাজার হতে পারে বলে দাবি করে দাসপ্রথা-বিরোধীরা। ক্রীতদাস হিসেবে জন্ম-গ্রহণকারী বুবাকার মেসোদ, যে বর্তমানে দাসপ্রথা-বিরোধী আন্দোলনের কর্মী, সে রয়টারকে বলে: ‘এটা যেন ভেড়া-ছাগল রাখার মত। কোনো নারী ক্রীতদাসী হলে তার সন্তানরাও ক্রীতদাস।  

      1. 14.2.1
        শাহবাজ নজরুল

        আপনি বত্রিশ জায়গাতে শাখামৃগের মত বিচরণ করতে চান। এভাবে অন্তত আমার ব্লগে বিচরণ করা যাবেনা। এখানে এক একটি ইস্যু ক্লোজড না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী ইস্যুতে যাওয়া যাবেনা। যেখানে মূল আলোচনা ছিল ভারতবর্ষে বৌদ্ধ ধর্মের অবলুপ্তির কারণ -- সে বিষয়ে কোনো কথা না বলে "বড়াল বেজার" মার্কা কমেন্ট করলে অন্য কোথাও গিয়ে নিজের কথা জানান। এখানে আলোচনা করতে চাইলে ধারাবাহিক ভাবে একেকটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে -- এবং ঐ ইস্যুতে নিজের শেষ অবস্থান জানাতে হবে। এই পদ্ধতিতে কথা বলতে চাইলে বলেন -- নাহলে অন্য কোথাও যান। 

        এবার আসেন প্রথম ৩-টি ইস্যু আগে শেষ করা যাক। ইস্যুগুলোতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করবেন। নাহলে কথা বার্তা বলে লাভ নেই। 

        ১. এই পোস্টে ভারতবর্ষে বৌদ্ধধর্ম অবলুপ্তির ব্যাপারে যে বক্তব্য তুলে ধরা হলো এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। 
        ২. আপনার মূল প্রশ্নের জবাবের একাংশে ৪.১.১.২.১ এ বলা হয়েছে -- আপনার ভাষার এই "দখলবাজ"-দের প্যালেস্টাইনি মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের বিতাড়িত করে ইহুদিদের GOD GIFTED  পিতৃভুমি ফিলিস্তিনের মালিকানা বুঝিয়ে দেয়াতেই (অন্য কথায় জায়নবাদ) খ্রিষ্টান ধর্মের সুতিকাগার প্যালেস্টাইনেই আর খ্রিষ্টান নাই। এই মন্তব্যের সাথে একমত কিনা তা পরিষ্কার করেন। 
        ৩. মিশরের ব্যাপারে ৯ নং কমেন্টে এম আহমেদ ভাই কিছু কথা বলেছেন। এই বিষয়ে আপনার অবস্থান পরিষ্কার করেন।

        এই তিনটি ইস্যু আগে ক্লিয়ার করেন। পরিষ্কার ভাবে বলেন আপনি উপরোক্ত পয়েন্ট গুলোর সাথে একমত কিনা কিংবা আপনার অবস্থান কি? তারপরে ধারাবাহিক ভাবে অন্যান্য ইস্যু গুলোতে যাওয়া যাবে। 

        মজলুম, কিংশুক, এম আহমেদ ভাই -- আপনারা প্লিজ একই নিয়ম ফলো করেন। একেকটা ইস্যু করে আলোচনা করা যাক। 

      2. 14.2.2
        কিংশুক

        এই তোর পাগলের প্রলাপ না বকলে তোর শিবছাগু বাপেরা পেমেন্ট দিবেনা নাকি? পোষ্টের প্রসংগে কথা বল। প্রসংগ ঘুরানোর চেষ্টা তোদের বিজেপি রামছাগুদের পুরনো অভ্যাস। ইহুদিদের উপর গণহত্যা চালাতো পেগান ও খ্রিস্টানরা। 2000 বছর আগের ইসরাইল থেকে ইহুদি গণহত্যা চালিয়ে দেশ দখল করেছিল খ্রিস্টানরা। মুসলমানরা ফিলিস্টিন মুক্ত করে খ্রিস্টানদের কাছ থেকে। মদিনার বনু কোরাইজা মদিনার অধিবাসীদের সাথে রাজাকারী করে বৃহত্তর আরব কাফের লীগের সাথে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে আহযাবের যুদ্ধের মাধ্যমে মদিনার মুসলমানদের কচুকাটা করার জন্য চেষ্টা করেছে। কাফের লীগের সৈন্যরা মদিনার দ্বারপ্রান্তে এসে রাজাকারদের গুপ্ত হত্যার আশায় বসে ছিল। কাফের লীগের সৈন্ন সংখ্যা মদিনার আদিবাসীদের চেয়েও বেশি ছিল। তাদের আব্বারা পরাজিত হলে রাষ্ট্রীয় আইনে যা তারা সই করেছিল তা অনুযায়ী তাদের ধর্মীয় আইনে তাদের বেছে নেওয়া বিচারক তাদের রায় দিয়েছে। এটা গণহত্যা হবে কেন? গণহত্যার সংগা জানস গাজাখোর বিজেপি? আইনটা কড়া হলেও তা তাদের নিজেদের আইন যা দিয়ে তারা পরিচালিত হবে মর্মে তারা সম্মত হয়ে সই করেছিল।

  8. 13
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    সদালাপ আর্কাইভকে সমৃদ্ধ করার মতো আরেকটা লেখার জন্যে অনুবাদক শাহবাজ নজরুল এবং মুল লেখক ড. হাবিব সিদ্দিকীকে অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ। 

     

    লেখাটা পড়তে গিয়ে একটা জায়গায় চোখ আটকে গেলো -- 

     

    সপ্তম শতাব্দীর আরেক পরিব্রাজক ইউয়ান চং বলেন, "বৌদ্ধবাদের নানা মতবাদীদের মধ্যে অবিরত বচসা লেগেই থাকত, যেন একেকজনের বচসা-বাণী সাগরের উত্তাল ঊর্মিমালা … যেখানে ১৮টি গোত্রের প্রতিটিই নিজেদের মৌলিক বিশিষ্টতার দাবি করে।" এই নানা উপদলের শত্রুতা জনমানসে সঞ্চিত বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা কালেক্রমে ম্রিয়মান করে তোলে। মহায়ন ও বজ্রায়ন উপদলের ধর্মীয় গ্রন্থগুলো সংস্কৃতে লেখা শুরু হলো যা কিনা ভারতীয় আমজনতার কাছে ছিল অবোধগম্য। এই ধারা দিনে দিনে বৌদ্ধ ধর্মকে সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিল। ফলে মূলত "ঈশ্বরহীন" মর্মবাণীর এই ধর্ম ভারতবর্ষের সাধারণ জনগণের মনে হিন্দুত্ববাদের মত করে স্থান করে নিতে ব্যর্থ হলো – যেখানে অসংখ্য দেবতারা সাধারণের জীবনে মধ্যস্থতা করতো যদি তারা সেভাবে পূজিত হত। বৌদ্ধদের এই নৈতিক অবক্ষয় ধর্মটিতে বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা ডেকে আনে – অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদ তখন শক্তিশালী বুদ্ধিজীবিদের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে ছিল।

    -- আমাদের জন্যেও কি কোন শিক্ষা নেই এই ঐতিহাসিক ঘটনাবলী থেকে? আমরাও কি অনেকটা একই রকম পরিস্থিতিতে আছি বলে মনে হচ্ছে না। 

     

    ধন্যবাদ। 

  9. 12
    মহাসাগরের মাঝি

    Let's start it.

  10. 11
    কিংশুক

    বৌদ্ধ ধর্ম এসে ভারতে যুদ্ধ বিগ্রহ থামাতে পারেনি, আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল। অন্যদিকে ইসলাম এসে মধ্যপ্রাচ্য, ভারতে যুদ্ধ বিগ্রহ থামাতে পেরেছিল। সব মুসলমান ভাই ভাই হয়ে উমাইয়া আবাসি উসমানি খিলাফত এর অধীনে হাজার বছর সুখে শান্তিতে ছিল। আর আলোকিত ভগবান ইউরোপীয় আলোকে দুইটা বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াও কংগো এংগোলা ভিয়েতনাম কম্বোডিয়া আফগানিস্তান সহ কত দেশে যে 30-40 বছর ধরে স্নায়ু যুদ্ধের নামে সমাজতান্ত্রিক পুঁজিবাদের প্রগতিশীলতার যুদ্ধ চলেছে!

  11. 10
    রিজভী আহমেদ খান

    ভারতীয়
    উপমহাদেশে বৌদ্ধরাও ছিল।খৃষ্টপূর্ব প্রায়
    ৩০০ বছর পূর্বে সম্রাট অশোকের বৌদ্ধধর্ম
    গ্রহণ করায় এবং বৌদ্ধ ধর্ম ভারতের
    রাজধর্ম ঘোষণা করায় হিন্দুধর্মের বিকাশ
    বাধাগ্রস্থ হচ্ছিল।ফলে হিন্দু ও বৌদ্ধ ও
    হিন্দুধর্মের সংঘাত বাধে এবং সে
    “সাম্প্রদায়িক” সংঘাতে হিন্দুরা
    বৌদ্ধদের ভারতবর্ষের বাইরে পাঠিয়ে
    দেয়।ফলে বৌদ্ধরা অবস্থান নেয়
    সিংহলে(বর্তমান শ্রীলংকা), ব্রক্ষদেশে
    এবং জাপানের দিকে।
    ♪♪ “শ্রী বিনয় ঘোষ” তার “ভারতজনের
    ইতিহাস” বইয়ের ১০০ পৃষ্ঠায় বলেছেন,
    “হিন্দুধর্মের কাছে নতি স্বীকার
    করিয়া,তাহাকে নিজের শ্রেষ্ঠ নীতি ও
    গুণাবলি দান করিয়া বৌদ্ধ ধর্ম ভারতবর্ষ
    হইতে বিদায় লইয়াছে।” ♪♪
    —-এজন্য আমাদের দেশে বৌদ্ধদের
    মহাস্থান গড় আছে,আছে সোমপুর
    বিহার,আছে ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার; কিন্তু
    নাই কেবল বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী।
    ——অন্যদিকে মুসলমানরা প্রায় ৭০০ বছর
    উপমহাদেশ শাসন করেছে কিন্তু হিন্দুদের
    কিন্তু উপমহাদেশ ত্যাগ করতে হয়নি।বরং
    মুসলমানরা ভারতবর্ষে সংখ্যালঘু,

  12. 9
    এম_আহমদ

    শাহবাজ ভাই, আলোচনাকে শয়তানদের বিভ্রষ্টতা (deflection) থেকে সরিয়ে রাখার দরকার আছে। কই ভারত আর কই মিশর? মিশরে যদি মুসলমানগণ একান্ত কোন অন্যায় করেই থাকে তবে তা কি ভারতে বৌদ্ধ গণহত্যা ও নির্যাতনের কোন জাস্টিফিকেশন হয়ে যায়?

    মিশরে যুদ্ধ ময়দান ছাড়া মুসলমানদের হাতে কোন রক্ত বন্যা বহে নি, কোন নির্যাতন হয় নি। মিশরিদের দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করা সেদিনের পাদ্রিদের বিস্মিত করেছিল। তবে সেন্ট জন্স দামাসিনাস (St. Joannes Damacenus ,675-739) মিশরবাসীদেরকে ভাল খৃষ্টিয়ান মনে করেন নি। তার দৃষ্টিতে এরা নামের খৃষ্টিয়ান ছিল, কাজের নয়। তাই সহজেই ধর্মান্তরিত হয়েছিল। চতুর্দিকে হিড়িক-পড়া (সিরিয়া, পেলেষ্টাইনসহ) এই ধর্মান্তরকে দাজ্জালের (anti-Christ/الدجال) আবির্ভাব হিসেবে দেখেছেন। সেদিনের সিরিয়ান খৃষ্টিয়ান লেখকদের মতে আরব অঞ্চলের ইয়াসরিব (মদিনা)শহর থেকে নাকি তাদের দাজ্জালের আবির্ভাবের আলামত রয়েছিল (The Muslim World, Vol. XLI. No. 2. April 1951, p.88, October, 1934, pp22. Cited in Dr. Jawād Ali, [1988]. Tarīkh Al-‘Arab fī al-Islām.  Beirut: Dār al-Ḥadāthah, p.26 )। সেন্ট জন্স দামাসিনাস ইসলামকে মূর্তি-পূজার ধর্ম বলেও উল্লেখ করেন। তারপর নবীকে (সা) ভণ্ড নবী এবং কোরানকে খৃষ্টিয়ানিটি থেকে গৃহীত বলে উল্লেখ করেন, যে সব প্রোপাগান্ডা আজও চালু আছে। খৃষ্টিয়ানগণ (বিশেশ করে ক্লাসিক্যাল ও নব্য ক্রুসেডগণ) আজও মিথ্যার পাহাড় গড়ে যাচ্ছে।

    ইসলামে ধর্মান্তর হওয়ার সেদিনের হিড়িক-পড়াকে কে জহানান পেঙ্কায়ি (Johanan bar Penkaye) নামক পাদ্রি,  যিনি ৬৮০ দশকে তার ইতিহাস রচনা করেন, আল্লাহর ইচ্ছায় হচ্ছিল বলে উল্লেখ করেন। কেননা, এত বিরাট ধর্মান্তরের বাস্তবতা তো অমনি অমনি হয়ে যেতে পারত না (Dionysius, S. 5, A. Mingana, Sources syriaques, Leipzig, 1908, Vol.,I, p.146, Baumstark, S.40. Cited in Dr. Jawād Ali, [1988]. Tarīkh Al-‘Arab fī al-Islām.  Beirut: Dār al-Ḥadāthah, p.27)।

    মিশর বিজয়ের সময় মিশরে বাইজানটাইন শাসকের অধীনে দেশের ভিতরের ঐক্যের পরিবেশ ছিল না, ধর্মীয় দলের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। কপ্টিক চার্চ (কিবতি) ক্যাথোলিকদের সাথে একমত ছিল না। এখানে সংযোজিত ভিডিও দেখা যেতে পারে। আমি পুরোটি দেখিনি। ৪/৫ মিনিট দেখে মনে হয়েছে ভাল হবে।

    আমার মনে হয় যারা deflaction করতে আসবে তাদের মন্তব্য মুছে দেয়া ভাল।

    1. 9.1
      শাহবাজ নজরুল

      আহমেদ ভাই ধন্যবাদ, আপনার মূল্যবান সংযোজনের জন্যে।

  13. 8
    শাহবাজ নজরুল

    মমতাজ বেগমের প্রতি প্রশ্ন -- এই লেখাতে ভারতবর্ষে বৌদ্ধদের সংখ্যা অবলুপ্তির কারণের যে থিসিস দেয়া হলো তার সাথে উনি একমত কিনা? এটাই কিন্তু এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য -- সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, ইরাক, ইরানে খ্রিস্ট ধর্ম পালনকারীরা কম কেন -- সেটি এই পোস্টের মূল আলোচ্য নয়। 

    1. 8.1
      Momtaz Begum

      কথায় বলে- গরম ভাতে বিড়াল বেজার @ শাহবাজ নজরুল?

      1. 8.1.1
        শাহবাজ নজরুল

        আয়নায় যে নিজের মুখখানি'ই দেখা যায়, তো বেজার তো হইবেনই। ভাত কি বেশি গরম?

  14. 7
    এস. এম. রায়হান

    বাংলা অন্তর্জালে ইংরেজী লেখা অনেকেই পড়তে চায় না। লেখাটির অনুবাদ করে ভালো করেছেন। বেশ তথ্যবহুল একটি লেখা।

    …ফলে মূলত "ঈশ্বরহীন" মর্মবাণীর এই ধর্ম ভারতবর্ষের সাধারণ জনগণের মনে হিন্দুত্ববাদের মত করে স্থান করে নিতে ব্যর্থ হলো – যেখানে অসংখ্য দেবতারা সাধারণের জীবনে মধ্যস্থতা করতো যদি তারা সেভাবে পূজিত হত। বৌদ্ধদের এই নৈতিক অবক্ষয় ধর্মটিতে বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা ডেকে আনে – অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদ তখন শক্তিশালী বুদ্ধিজীবিদের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে ছিল।

    অন্য ধর্মের দিকে অঙ্গুলি প্রদর্শন না করে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের নিজেদেরই ভারত ও দক্ষিণ এশিয়াতে নিজেদের অবলুপ্তির কারণ অনুসন্ধানে অন্তর্বীক্ষণে নামা উচিত। যদি তাই'ই করা হয় তবে দেখা যাবে যে বৌদ্ধ ধর্মের মৃত্যুর জন্যে সে নিজেই দায়ী – কোনো বাইরের শক্তি নয়। নিজেদের পর্বতপ্রমাণ ব্যর্থতার দায় বৌদ্ধবাদ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে পারেনা।

    এটাই মূল কথা। বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে আমার এই লেখাতে কিছু মৌলিক প্রশ্নের মাধ্যমে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে যে, বৌদ্ধ ধর্মের দর্শন আসলে হিন্দু ধর্ম ও নাস্তিক্যবাদের দর্শনের চেয়েও অনেক বেশি অসার।

  15. 6
    কিংশুক

    সেখানেও পেগান মূর্তি পুজারীরা খ্রিস্টান ধর্ম বাড়তে দেয়নি । সেখানে রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাটরা যতটুকু পেরেছে খ্রিস্টান রেখেছিলো। রোমানরা ছিল বিদেশী। ইরানিরা কখনো খ্রিস্টান ছিল না, তারাও পেগান হিন্দু মার্কা ছিল । তাঁদের পারসিয়ান সাম্রাজ্য খ্রিস্টান বিরোধী থাকায় রোমানদের বিরুদ্ধবাদী শক্তি ছিল। ওরাই হিন্দুদের আসল বাপ আর্য। ওদের নিজেদের ব্রাহ্মণ সাজিয়ে কালা শুদ্রদের ক্রীতদাস বানানো হে দু ধর্মের ওরাই সনাতন আব্বাজান। আফ্রিকায় খ্রিস্টানের অভাব নাই।

  16. 5
    Momtaz Begum

    ইরাণ, মিশর এবং উত্তর আফ্রিকায় খ্রীষ্ট ধর্মের অবলুপ্তির কারণ কি?

    1. 5.1
      মজলুম

      মমতাজ বেগমের কোথায় লেগেছে  তা বুঝতে পেরে খুবই আনন্দিত হইলাম। নাস্তিক সেজে ব্রাহ্মণবাদীদের  ডিফেন্ড করতে দৌড়ে এসেছে। মুসলিমরা যে তরবারী চালিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে নাই তার প্রমান আপনি নিজে, নইলে মমতা ব্যানার্জি হয়ে মমতাজ বেগম নাম নিয়ে ইসলাম বিদ্বষী লেখার সুভাগ্য! আপনার হতোনা। ৮০০ বছর একটা দেশ সংখ্যালঘু হয়ে শাসন করেও যখন এই ভারত ভাগ হয় ধর্মের ভিত্তিতে তখন মুসলিমরা পায় ১ ভাগ আর হিন্দুরা পায় ৩ ভাগ। এই ভারতের ৮০% এর বেশী লোক অমুসলিম, এটাই প্রমান করে মুসলিমরা তরবারী দিয়ে মতবাদ প্রতিষ্ঠা করে নাই, আমেরিকার মূল আধিবাসী রেড ইন্ডিয়ান বা অস্ট্রেলিয়ার এবরোজিনাল অধিবাসিদের ইউরোপিয়ান দস্যুদের মতো নির্মূল করেন নাই।

      অস্ট্রেলিয়ার এবরোজিনাল অধিবাসিদের বন্য পশুর মতো বেধেঁ নিয়ে যাচ্ছে ইউরোপিয়ান দস্যুরা.

      মুসলিমরা যদি ইউরোপিয়ান দস্যুদের মতো তরবারী দিয়ে দিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতো তাহলে স্পেনে নির্মম গনহত্যার শিকার হয়ে সম্পূর্ন নির্মূল হয়ে যেতোনা। মুর মুসলিমরা স্পেনে সংখ্যালঘু হয়েই স্পেন শাসন করেছেন ইউনিভার্সাল ব্রাদারহুডের ভিত্তিতে। যেকোন ভাবে কারো উপরই ইসলাম ধর্ম চাপিয়ে দেন নাই বা বিধর্মীদের নির্মূল করেন নাই। ইহুদীরা সারা ইউোরোপে খ্রিষ্টানদের হাতে মার খেয়ে স্পেনের মুসলিমদের কাছে আশ্রয় পেতো। আজকে ইহুদি জাতি তাদের যেই স্বর্ণযুগ নিয়ে বড়াই করে তাও তারা করেছে মুসলিম শাসিত স্পেনে।
      কেনো মুসলিমরা তরবারি দিয়ে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করে নাই?
      কারন তা ইসলাম ধর্মে অনুমতি নাই। "তরবারি"  এই শব্দটার অন্তত   ১০০ এর ও বেশী প্রতিশব্দ আরবীতে পাওয়া যায়, কিন্তু তার ১ টা প্রতিশব্দও আল-কোরানের সাড়ে ৬হাজারেরও বেশী  আয়াতের একটাতেও পাওয়া যায় না। খুবই অবাক বিষয়, তাই না!! কিন্তু তরবারী শব্দটা অহরহ পাওয়া যায় বাইবেলে, গীতায়, মহাভারতে।
      রাসূল(সঃ) এর ওফাত পর্যন্ত প্রায় লাখের মতো সাহাবী ছিলো, কিন্তু হাদিস বর্ননাকারী সাহাবীদের সংখ্যা পাওয়া যায় প্রায় ১৬ হাজারের মতো, তাহলে প্রশ্ন হলো বাকি সাহাবীরা কই ছিলো। তারা কি রাসূল(সঃ) এর সহচার্যে বেশী ছিলেন না?
      তাহলো ধূসর মরুভুমিতে কিছু ফলন না হওয়ায় ব্যাবসা বানিজ্যের জন্যে এদের দূর দুরান্তে ছুটে বেড়াতে হতো, আর এতেই ইসলাম প্রসারিত হয়। আমরা তাই দেখি ওয়েস্ট কোষ্ট অড আফ্রিকায়, মালেশিয়ায়, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাইয়ে লোকেরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে মুসলিম ব্যবসায়ীদের হাতে।
      এই বাংলায় বখতিয়ার আসার অনেক আগ থেকেই সূফিদের হাত হতে ইসলাম অনেক প্রতিষ্ঠিত ছিলো।

      সবচেয়ে বড় কথা হলো ইসলাম মূলত যাহা আদম (আঃ) শুরু করেছিলেন তাহার সর্বশেষ এডিশন। সকল নবীরা হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ(সঃ) পর্যন্ত সবাই মূলত একটাই মূল বাণী প্রচার করতে এসেছেন, তা হলো "লা-ইলাহা ইল্লাললাহ" শুধু এই বাণীটা প্রচার করার জন্যে তাদের হত্যা করা হয়েছে, নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে, তবে এরা কেউই তরবারি বা অন্য কোনভাবে প্রতিশোধ নেননি। তবে কিছু ক্ষেত্রে যখন কিছু জাতি ভয়ংকরভাবে সীমা লংঘন করতো তখন জীব্রাইল(আঃ) এসে ঐ জাতিকে শাস্তি দিতেন।   এরা কেউই যশ, খ্যাতি, সম্রাজ্য বা রাজা বাদশা হওয়ার জন্যে এই বাণীটা প্রচার করেনি, এটা মনে রাখতে হবে।
      আপনাকে এইভাবে উদাহারনের পর উদাহারন দেওয়া যায়।  

      এবার কথা হলো, সিরিয়া, ইরাক, মিশরে খ্রিষ্টান নাই কেন?
      এই ইরাক, সিরিয়া, মিশর মূলত আরবদের দেশ ছিলো। কিন্তু ১৪০০ বছর আগে ইরাক ছিলো ইরানি অগ্নি উপাসক পারসিয়ান সম্রাজ্যের দখলে, সিরিয়া ছিলো ইউরোপিয়ান রোমান সম্রাজ্যের দখলে, মিশর ছিলো ইউরোপিয়ান বাইজেন্টিয়ান সম্রাজ্যের দখলে।

      পরে রাসূল(সঃ) সাহাবীরা এই সব সম্রাজ্য হতে আরবদের মুক্ত করেন। আমর ইবনুল-আস(রঃ) দ্বারা  মিশরকে স্বাধিন করা হয়, খালিদ বিন ওয়ালিদ(রঃ) দ্বারা সিরিয়াকে মুক্ত করা হয়, সাদ বিন ওয়াক্কাস(রঃ) দ্বারা ইরাককে স্বাধীন করা হয়। আর এইসব জনপদের লোকেরা ইসলামের ন্যায় বিচার দেখে নবী রাসূলদের উপর প্রেরীত ধর্মের সর্বশেষ এডিশন গ্রহন করে।

      তারপরও এই ১৪০০ বছর মুসলিমরা শাসন করার পরও এখনো মধ্যপ্রাচ্যের ১৬ মিলিয়ন লোক বা ৫% লোক খ্রিষ্টান, ১০০ বছর আগে এটা ছিলো ২০% এর ও উপর। তবে দ্রুত ড্রপ হওয়ার কারন হলো, মুসলিমদের চেয়ে খ্রিষ্টানদের জন্মহার কম, ইউরোপ আমেরিকায় স্রোতের মত মাইগ্রেট হওয়া এইসব। একটা ছোট্ট উধাহারন দেই, ২০০৩ এ ইরাক আগ্রাসনের পর যতগুলো ইরাকী আমেরিকাতে মাইগ্রেট করেছে তাদের ৮০ ভাগের ও বেশী ইরাকী খ্রিষ্টান, যদিও  তারা ইরাকে ৫%এর ও কম। কারন হলো আমেরিকার চার্চগুলো ইরাকি খ্রিষ্টানদের আমেরিকাতে নিয়ে আসতে খুবই এক্টিভ।  এখনো যতগুলো আরব আরব বিশ্বের বাইরে বসবাস করে তাদের বেশীরভাগই আরব খ্রিষ্টান।

      এবার দেখি ইন্ক্রেডিবল ইন্ডিয়াতে বৌদ্বদের সংখ্যা, মাত্র ০.৮%, মানে ১% এর ও কম বৌদ্ব ইন্ডিয়াতে বাস করছে। এখন ভেকধরা নাস্তিকেরা সবকিছুর পিছনে কেনু কেনু খুজলেও  বৌদ্বধর্মের জন্মস্হানে কেনু বৌদ্বরা ০.৮%, তা নিয়ে খুবই নীরবতা পালন করে।

       

    2. 5.2
      Momtaz Begum

      আমার অতি সামান্য প্রশ্ন ছিল- "ঐ বিশাল অঞ্চল-   Levant and Egypt ( ইরাক, সিরিয়া, ইসরাইল/প্যালেস্টাইন, মিশর, আলেক্সজান্ডারিয়া) এর কপ্টিভ খ্রীষ্টানরা নেই কেন?  ইরানের সনাতন ধর্মীরা নেই কেন?" 

      অথচ এর উত্তর না দিয়ে আপনি কিছুক্ষন বেজায় ভিষম ডালে/ডালে লম্ফ, ঝম্প করলেন!! এভাবেকি শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায়?

      তো, আর কথা না। তথ্য দিয়েই শুরু করি। প্রথমেই তরবারী নামক বস্তুটি কি একটু জেনে নিন।

      ১। সূরা ৫:৩৩,
      "যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।"  

      ২। সূরা ৯:২৯,
      "তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।" 

      ৩। Bukhari (52:177) -- Allah's Apostle said, "The Hour will not be established until you fight with the Jews, and the stone behind which a Jew will be hiding will say. "O Muslim! There is a Jew hiding behind me, so kill him" 

      ৪। Muslim (1:33) -- the Messenger of Allah said: "I have been commanded to fight against people till they testify that there is no god but Allah, that Muhammad is the messenger of Allah" 

      ৫। Bukhari (52:73) -- "Allah's Apostle said, 'Know that Paradise is under the shades of swords"  

      আশা করি এতক্ষনে আসল তরবারী সন্ধান পেয়েছেন। ধন্যবাদ।

      এরপর আপনি বলেছেন-  এই ইরাক, সিরিয়া, মিশর মূলত আরবদের দেশ ছিলো। কিন্তু ১৪০০ বছর আগে ইরাক ছিলো ইরানি অগ্নি উপাসক পারসিয়ান সম্রাজ্যের দখলে, সিরিয়া ছিলো ইউরোপিয়ান রোমান সম্রাজ্যের দখলে, মিশর ছিলো ইউরোপিয়ান বাইজেন্টিয়ান সম্রাজ্যের দখলে।" 

      তো ভায়া, আরব দেশকে আরব মুসলিমদের কাছে কে ইজারা দিয়েছেন?  
      ১। আরব দেশের  আরবী ভাষা/ভাষি আরব কপ্টিভ খ্রীষ্টানরা? 
      ২। নাকি আরব দেশের  আরবী ভাষা/ভাষি আরব ইহুদীরা? 
      ৩। নাকি আরব দেশের  আরবী ভাষা/ভাষি আরব প্যাগানরা? 

      ওদের বাপ/দাদা/চোদ্দপুরুষ কি আরব দেশী ছিল না?  আবুলাহাব নিশ্চয় ইংল্যান্ড থেকে আরব দেশে যান্নি! বিষয়টি একটু একটু খোলাসা করে বলেন তো, শুনি? 

      আপনি আরো বলেছেন- "পরে রাসূল(সঃ) সাহাবীরা এই সব সম্রাজ্য হতে আরবদের মুক্ত করেন। আমর ইবনুল-আস(রঃ) দ্বারা  মিশরকে স্বাধিন করা হয়, খালিদ বিন ওয়ালিদ(রঃ) দ্বারা সিরিয়াকে মুক্ত করা হয়, সাদ বিন ওয়াক্কাস(রঃ) দ্বারা ইরাককে স্বাধীন করা হয়। আর এইসব জনপদের লোকেরা ইসলামের ন্যায় বিচার দেখে নবী রাসূলদের উপর প্রেরীত ধর্মের সর্বশেষ এডিশন গ্রহন করে।"  

      হুমমম!!!!!  আমর ইবনুল-আস, খালিদ বিন ওয়ালিদ, সাদ বিন ওয়াক্কাস……… এসব মুসলিম সেনাপতিরা তাহলে চাপাতি(তরবারী তো আপনারা চিনেন্না! তাই চাপাতি বল্লাম)  নিয়ে ঐ সব অমুসলিম'দের জন্মভূমি দখল করতে যান্নি। গিয়েছিলেন তবলিক জামাতিদের লোটা-কম্বল নিয়ে, নাকি??  
      উত্তর দিন, প্লিজ। 

      সবশেষে জনাব মজলুম আপনাকে ধন্যবাদ।

      বিঃদ্র- আশা করি প্রতি মন্তব্যটি প্রকাশ করার সৎ সাহস সদালাপ সম্পাদক সাহেবের আছে। ধন্যবাদ।

      1. 5.2.1
        শাহবাজ নজরুল

        শান্তিপূর্ণ ভাবে তো খ্রীষ্টানেরা ধর্ম প্রচার করতে দেয় নাই। কি আর করা? 

        যুদ্ধ শুরু করছে খ্রীষ্টানেরা -- তাই পরম্পরায় যুদ্ধ চলছে। চুড়ি পড়ে তো আর যুদ্ধ হয়না। অসুবিধা কি ভাবী?  

        1. 5.2.1.1
          Momtaz Begum

          শান্তিপূর্ণ ভাবে তো খ্রীষ্টানেরা ধর্ম প্রচার করতে দেয় নাই। কি আর করা? 
          যুদ্ধ শুরু করছে খ্রীষ্টানেরা – তাই পরম্পরায় যুদ্ধ চলছে। চুড়ি পড়ে তো আর যুদ্ধ হয়না। অসুবিধা কি ভাবী?
           

          আমারো একই কথা বাইজান,  কোন অসুবিধা নেই। 

          মুমিন মুসলিমরা যখন চুড়ি খুলে কোরাণ-হাদীস উচিয়ে বোমা মেরে সারা বিশ্বে শান্তির জেহাদ শুরু করেছে  তখন ইহুদী, নাসারা, পৌত্তলিকরা বসে থাকবে ক্যান? ওরাও আবাবিল পাখির মত F-16 এ উড়ে এসে ইরাক, সিরিয়া, গাজা, প্যালেস্টাইন, আফগানিস্তান, কাশ্মির, মিয়ানমারে…………. মুমিনদের  জেহাদ পন্ড করে দেয়।  কোন  সমস্যা???

        2. শাহবাজ নজরুল

          কিছুটা সম্মতি হওয়া গেল দেখে ভালই লাগলো ভাবীসাব। 

          তবে এরপরেও কথা থাকে কে আগে বোমা মারা শুরু করছে তা নিয়ে। মুসলিম আর ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিকদের মধ্যে যুদ্ধ সবই শুরু করছে প্রতিপক্ষরা'ই। তাই মুসলিমরাই ন্যায়ের পক্ষে আছে আর তাই মুসলিমদের প্রত্যাঘাত নিয়ে আশা করি আর মায়াকান্না করবেন'না। 

          আর ইরাক, গাজা, প্যালেস্টাইন, আফগানিস্তান, কাশ্মির ও মিয়ানমারেও আধুনিক জমানার সমস্যাও মুসলিম'দের প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করা হয়েছে -- তাই ন্যায়ের পক্ষে আমরাই আছি। যে ব্রিটিশ সেনা গোলা মেরে বাঁশের কেল্লা উড়িয়েছে তাকে ইতিহাস খল হিসেবেই দেখে -- কিন্তু মুহুর্তে গুড়িয়ে যাওয়া তিতুমির'ই রেজিস্ট্যান্সের বীর অধ্যায়।  

        3. কিংশুক

          ইরাক সিরিয়ায় মুসলমানরা খ্রিস্টানদের কিছু করনি। এসব যুদ্ধ বিশ্বপরাশক্তিরা রাজনৈতিক অর্থনৈতিক লাভের পরিকল্পনায় শুরু করেছে। ফিলিস্টিন দখল করা জায়নবাদী ইসরাইল এর সাদা ইউরোপীয় ইহুদিদের 100 পুরুষের কেউ ফিলিস্তিনের বাসিন্দা ছিলনা। ইসরায়েল বানিয়ে ভূয়া ইহুদি সেকুলার শয়তান জায়নবাদীরা আরবের বিশাল তেল সম্পদ ও দখল করেছে ।ফিলিস্তিনের ইসরায়েল বিরোধী লড়াই 100% মুক্তিযুদ্ব। কাশ্মির এর কেউ হিন্দু দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নাই।কাশ্মীর কখনও ভারত বর্ষেই ছিলনা। তাদের কাশ্মীরি জাতি হিন্দু জাতি থেকে আলাদা । 1947 সালে ভারত পাকিস্তান সৃষ্টির সময় কথা ছিল কোন জাতি চাইলে গণভোটের মাধ্যমে ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারবে। চাইলে স্বাধীন ও থাকতে পারবে। কাশ্মীরি দের কোন সুযোগ না দিয়ে তাদেরকে দখল করা হয়েছে । হায়দরাবাদ দখল করা হয়েছে । কাশ্মীর আজাদ কাশ্মীর চায়নার দখল করা অংশ নিয়ে কাশ্মীর এর স্বাধীন হওয়া উচিত । কাশ্মীর এর মুসলমানরা দখলদার নেংটি হিন্দু দের মুখে পেশাব করে।

        4. 5.2.1.2
          কিংশুক

          জায়নবাদ কল্পিত না। জায়নবাদীরা আমিরকা ইউরোপ এ অতি শক্তিশালী তা খ্রিস্টানরাও জানে। ইসরাইল রাষ্ট্রের পরিচালকরা সবাই স্বীকার করে তারা জায়নবাদী ব্রাহ্মণ জাত। যেভাবে বিজেপি নিজেকে হিন্দুত্ববাদী বলে স্বীকার করে। এতে ল ুকোচুরির কিছু নাই। রোমানরা হযরত মোঃ সাঃ মক্কা বিজয়ের সাথেসাথে তাঁদের করদ রাজ্য সিরিয়া ইত্যাদির প্ররোচনায় ইসলাম শেষ করতে লাখ লাখ সৈন্য নিয়ে তা বুক ইত্যাদি জায়গায় ইসলামের বিরুদ্ধে আগ বাড়িয়ে যুদ্ধ শুরু করেছে। মোঃ সাঃ এর দুত ইসলামের দাওয়াত দেওয়া মাত্র হত্যা করেছে। রীতি অনুযায়ী তখনই যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। রোমান ও পারসিয়ানরা নিজেদের সাম্রাজ্য এর প্রতি হুমকি বিবেচনা করে বলদর্পী হয়ে টানা 10-20 বছর মোঃ সাঃ, খোলাফায়ে রাশেদিনগনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরাজিত হয়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তারপরও 1400 বছর টানা মুসলিম শাসনে থেকও মিশরে 10% খ্রিস্টান । স্পেন ফিলিপাইন এ মুসলমান কত শতাংশ । খ্রিস্টানরা তারপরও ইসলাম এর বিরুদ্ধে ক্রুসেড চালিয়ে বিজয় লাভ করলেই মুসলিম ও ইহুদি গণহত্যা চালাতো। খ্রিস্টান ক্রুসেডারদের বৈশিষ্ট্যই গণহত্যা ।ইহুদিরা মুসলিমদের অধীনে সুখে থাকতো আর খ্রিস্টানদের অধীন 4th class নাগরিক হত।

        5. 5.2.1.3
          Momtaz Begum

          @ শাহবাজ নজরুল,

          "তবে এরপরেও কথা থাকে কে আগে বোমা মারা শুরু করছে তা নিয়ে। মুসলিম আর ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিকদের মধ্যে যুদ্ধ সবই শুরু করছে প্রতিপক্ষরা'ই। তাই মুসলিমরাই ন্যায়ের পক্ষে আছে আর তাই মুসলিমদের প্রত্যাঘাত নিয়ে আশা করি আর মায়াকান্না করবেন'না।"

          না বাইজান, মায়াকান্নার প্রশ্নই উঠে না। ন্যায়বাদী! মুমিন মুসলিমরা সালমান রুজদীর কল্লা চাইবে, শার্লি হোবদো পত্রিকা অফিসে হামলা, ইরাক/সিরিয়ায় ইসলামী জেহাদ,  নইজেরিয়ায় যৌনদাসী বেচা কেনা…….  এসব মুমিনী কর্ম কান্নাকাটি করে থামানো যাবে না। এর জন্য অন্যরকম দাওয়াই আছে।  বিষয়টি এমন্না যে মসজিদে/মসজিদে কান্নাকাটি করে ফিলিস্তিনী মুমিনদের চুরান্ত বিজয়ের আহাজারি করা। 

      2. 5.2.2
        কিংশুক

        কেন আরবরা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ না করে ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাতে বিজেপির এত জ্বলে কেন? তোমার এত গাঁজাখুরী মায়াকান্না তো কিছুই না এমনকি এটম বোমার ভয় দেখিয়েও মুসলমানদের আবার হিন্দু বা খ্রিস্টান বানাতে পারবেনা।শিয়া সুন্নি এত শত্রুতা তাও ইসরাইল বা হিন্দুরা জোর করেও তাদেরকে বিধর্মী বানাতে পারবেনা। জীবন দিবে তাও ইমান দিবেনা। মুসলমানরা ইউরোপের স্পেন, বুলগেরিয়া, আর্মেনিয়া, ফ্রান্স সহ বল কান দেশগুলি শত শত বছর ধরে শাসন করেছে। কাউকে জোর করে মুসলমান বানানো হয়নি। আজ সেখানে কত শতাংশ মুসলমান ? আফ্রিকা শত শত বছর শাসন করেছে। অথচ সেখানকার স্থানীয় ধর্মবিশ্বাসীদের জোর করে মুসলিম বানানো হয়নি। সেখানে খ্রিস্টান ঔপনিবেশিকরা এমনকি এক শত বছরের মধ্যেই অনেক দেশে 80-99% খ্রিস্টান বানিয়ে ফেলেছে । ফিলিপাইন এ করেছে। তাঁদের জন্য গলাবাজি করসনা কেন রবিজেপির বাচ্চা! মুসলমানরা সারা বিশ্ব শাসন করেছে ঠিকই কিন্তু কাউকে জোর করে মুসলিম বানায়নি। শান্তিপূর্ণ ধর্ম প্রচারের মাধ্যমে অল্প অল্প করে মানুষ মুসলমান হয়েছে । ফিলিস্টিন, কাশ্মীর, চীনের জিনজিয়াং, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডের মুসলমানরা জাতীয়তাবাদ দিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিজেদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করছিল। কোত্থেকে রহস্যময় আল কায়েদা, লাদেন এসে কাশ্মীর ফিলিস্টিন চায়না রাশিয়া বার্মা ইত্যাদি জায়গার মুসলমানদের অধিকার আদা য়ের বাধা হিসাবে আমেরিকা ইউরোপের বিরুদ্ধে 911 ঘটিয়ে গ্লোবাল জিহাদ নাকি আজগুবি জংগিবাদ এর ঘোষণা দিয়ে সব মুসলমানের উল্টা ক্ষতি করলো। এখন মুক্তিযোদ্ধারাও চিহ্নিত হয় জংগি বলে। জংগি ইসুর 110% সুবিধা নিচ্ছে দখলদাররা। বিন লাদেন জংগিবাদ বড়ই রহস্যময় যার সাথে ইসলামের শত্রুদের চালবাজি জড়িয়ে থাকার সমূহ সম্ভাবনা । জায়নবাদী বিশ্ব শয়তানের সাথে ক্রীতদাস পাচাটা নেংটি হিন্দুত্ববাদীরা এক হয়েছে । জায়নবাদীরা এখন হিন্দুদের ইশ্বর।

        1. 5.2.2.1
          শাহবাজ নজরুল

          ভালো বলেছেন।

      3. 5.2.3
        কিংশুক

        কোরআনের আয়াত উল্লেখ করলে তার প্রেক্ষাপট শানে নজুল তাফসির জানতে হয় । যখন বিধর্মীরা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে তখন ইসলাম ইসলামি রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় নিরপরাধ নারী শিশু সিভিলিয়ান রক্ষায় জানপ্রাণ উৎসর্গ করে যুদ্ধ করতে হয়। মক্কা মদিনার মুশরিক, ইহুদি; আফতাবের যুদ্ধ হতে সকল আরব পে গান, খ্রিস্টান;:মক্কা বিজয়ের পর রোমান, পার্সিয়ান সবাই মিলে ইসলামের বিরুদ্ধে গোপন প্রকাশ্য অভিযান চালিয়েছে । আল্লাহ্ তায়ালা সর্বোচ্চ পরীক্ষা নিয়ে অর্থাত্ জানমাল দিয়ে কিতালের পরীক্ষায় পাশ করিয়ে তবেই জমি নে রাজত্ব দান করেছেন । এর আগে নয়। যাঁরা উপযুক্ত তারাই খলিফা হয়েছে।

  17. 4
    কিংশুক

    লেখাটি অনেক বড় হওয়ায় একটানা মনোযোগ ধরে রেখে পুড়াইয়া কঠিন । বৌদ্ধ ধর্মের পতন সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম। বৌদ্ধ ধর্মের জম্মস্থানেই বোদ্ধ নাই। অথচ আট শত বছর মুসলিম শাসনে থেকেও ভারতে আশি শতাংশ হিন্দু । মুসলিমরা বৌদ্ধ ধর্ম বিরোধী নীতি গ্রহণ করে বৌদ্ধ তাড়া লে হিন্দু আশি শতাংশ থাকে কিভাবে ? তাহলে হিন্দু ধর্মেরওতো ভারত বর্ষে বিনাশ ঘটার কথা। হিন্দুত্ববাদীরা অতীতে যেমন বৌদ্ধদের "ঘর ওয়াপসির" মাধ্যমে পূর্ব পুরুষের হেদু ধর্মে মেরে কেটে ফিরিয়ে নিয়েছে এখন আবার মুসলমানদের জোরপূর্বক হিন্দু বানাতে চায়। সেই মিশনে বৌদ্ধ জৈণ শিখ দেরকেও সাথী হিসাবে নিতে আজ হিন্দু বৌদ্ধ শিখ দের কমন প্রধান শত্রু হিসাবে ইসলামকে উপস্থাপন করে জোটবদ্ধ যুদ্ধ চালাতে চায়। এগুলো বিজেপি ভন্ড ছাগুদের নীতি। অথচ হিন্দুরাই অতীতে বৌদ্ধ শিখ দের বেশী নিপীড়ন করেছে ।

    1. 4.1
      Momtaz Begum

      "বৌদ্ধ ধর্মের জম্মস্থানেই বোদ্ধ নাই। অথচ আট শত বছর মুসলিম শাসনে থেকেও ভারতে আশি শতাংশ হিন্দু ।"

      খ্রীষ্ট ধর্মের জন্মস্থান প্যালেস্টাইন, সিরিয়া, ইরাণ, মিশর তথা নীলনদ অববাহিকায় খ্রীষ্ট ধর্ম নেই কেন @ কিংশুক?

      1. 4.1.1
        শাহবাজ নজরুল

        কিংশুক ভাই কিছুটা জবাব দিয়েছেন নিচে। খৃষ্ট ধর্মের সুতিকাগার প্যালেষ্টাইনে খৃষ্ট ধর্ম অবলুপ্তির আধুনিক জমানার কারণ হচ্ছে জায়নবাদ। জায়নবাদী ইহুদিরা প্যালেস্টাইনী মুসলিম কিংবা খৃষ্টান সবাইকেই তাদের 'ঈশ্বর নির্বাচিত' -- বাপ/দাদার জায়গাতে অবৈধ দখলদার বলে মনে করে। প্যালেষ্টাইন থেকে খৃষ্টানদের আধুনিকতম মাইগ্রেশনের কারণ মোটাদাগে এটাই।

        1. 4.1.1.1
          Momtaz Begum

          @ শাহবাজ নজরুল,

          এটা আমার প্রশ্নের উত্তর হল না। আপনি আসলে এক চোখ বন্ধ করে মোটাদাগে মোটা কথা বল্লেন!  

          আরে ভাই,  ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর খ্রীষ্টানরাই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা  ইহুদীদের তাদের ধর্মবিশ্বাসের আদি পিতৃ ভুমি ইসরাইল(প্যালেস্টাইন) এ পুর্নবাসন করেছে। এটা কেনা জানে। 

          কিন্তু ঐ বিশাল অঞ্চল-   Levant and Egypt ( ইরাক, সিরিয়া, ইসরাইল/প্যালেস্টাইন, মিশর, আলেক্সজান্ডারিয়া) এর কপ্টিভ খ্রীষ্টানরা নেই কেন?  ইরানের সনাতন ধর্মীরা নেই কেন? 

          মোটাদাগে নয়, একটু চিকন দাগেই বলুন তো, শুনি?

        2. শাহবাজ নজরুল

          একে একে কথা শেষ করা যাক। ৫০ ফ্রন্ট খোলা যাবেনা। আপনি প্রশ্ন করেছিলেন খ্রিস্থধর্মের "খ্রীষ্ট ধর্মের জন্মস্থান প্যালেস্টাইন, সিরিয়া, ইরাণ, মিশর তথা নীলনদ অববাহিকায় খ্রীষ্ট ধর্ম নেই কেন?" জবাবে আমি বলেছি -- 

          কিংশুক ভাই কিছুটা জবাব দিয়েছেন নিচে। খৃষ্ট ধর্মের সুতিকাগার প্যালেষ্টাইনে খৃষ্ট ধর্ম অবলুপ্তির আধুনিক জমানার কারণ হচ্ছে জায়নবাদ। জায়নবাদী ইহুদিরা প্যালেস্টাইনী মুসলিম কিংবা খৃষ্টান সবাইকেই তাদের 'ঈশ্বর নির্বাচিত' – বাপ/দাদার জায়গাতে অবৈধ দখলদার বলে মনে করে।

          আমি কেবল প্যালেস্টাইনের কথা বলেছি দু'কারণে -- প্রথমত প্যালেষ্টাইন'ই খ্রিস্টধর্মের মূল সুতিকাগার -- সিরিয়া, ইরাণ, মিশর তথা নীলনদ অববাহিকা নয়। আর দ্বিতীয়ত কিংশুক ভাই প্যালেস্টাইন ছাড়া বাকি জায়গাগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। তাই আপনার প্রতি আমার প্রশ্ন, আপনার প্রশ্নের জবাব যে আমি দিলাম, অর্থাৎ, খৃষ্ট ধর্মের সুতিকাগার প্যালেষ্টাইনে খৃষ্ট ধর্ম অবলুপ্তির আধুনিক জমানার কারণ হচ্ছে জায়নবাদ -- এ'কথা মানেন কি মানেন না? আগে এই থ্রেড শেষ করেন। তাহলে আলোচনা অন্যান্য অঞ্চলে আগানো যাবে (অবশ্য কিংশুক ভাই ও মজলুম ভাই ইতোমধ্যে এ নিয়ে কথা বলছেন …) -- নয়ত নয়। পিছলাবেন না। 

           

        3. 4.1.1.2
          Momtaz Begum

          @ জনাব শাহবাজ নজরুল, 

          আসল কথার উত্তর নেই,  জায়নবাদ, জায়নবাদ, জায়নবাদ…..!!!????  বিরক্তি কর। কল্পিত জায়নবাদ আপনাকে পাগল করেছে।  

          আরে মিয়াবাই!! বাংলা কথাও বুঝেন্না?  ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বয়ং খ্রীষ্টানরাই দীর্ঘদিনের দখলবাজ মুমিনবাদী'দের উচ্ছেদ করে  ইহুদী ধর্মলম্বীদের কাছে তাদের GOD GIFTED  পিতৃভুমি ফিলিস্তিনের মালিকানা বুঝিয়ে দেয়।  এখানে জায়নবাদ!? কোথ্থেকে পয়দা করলেন??

        4. শাহবাজ নজরুল

          আপনার ভাষার এই "দখলবাজ"-দের প্যালেস্টাইনি মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের বিতাড়িত করে ইহুদিদের GOD GIFTED  পিতৃভুমি ফিলিস্তিনের মালিকানা বুঝিয়ে দেয়াতেই (অন্য কথায় জায়নবাদ) খ্রিষ্টান ধর্মের সুতিকাগার প্যালেস্টাইনেই আর খ্রিষ্টান নাই -- বুঝছেন ভাবিজান?  

  18. 3
    এম_আহমদ

    বৌদ্ধদের প্রসঙ্গে একশ্রেণীর ব্রাহ্মণবাদীদের ঘৃণা ছড়ানো, তাদের বিশ্বাসকে বিকৃত করা, অচ্ছুত করা, সামাজিকভাবে হীন করা ইত্যাদির চিত্রটি সুন্দর হয়ে ফুটে এসেছে। এই সাথে মনে হচ্ছে আজ বাংলার ‘মুসলমানগণ’ কীভাবে তাদের কৌশলে দুইভাগে বিভক্ত। এতেও রয়েছে ঘৃণা-বিদ্বেষ, বিশ্বাস বিকৃতি, এক যুদ্ধের রেষ ধরে আরও আরও যুদ্ধ, বিশ্বাস বিকৃতি, স্তম্ভ-মূর্তির মাধ্যমে আত্মগর্ব ও যুদ্ধংদেহী মানসিকতা ও ঘৃণার মশাল জাগিয়ে রাখা।   

    এই শ্রেণি তাদের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য ও গুণের বিজয় বার বার এই ভূখণ্ডে ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। আর কিছু মুসলমান বার বার তাদের মোকাবেলায় ঐতিহাসিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। এই উভয়ের  শিক্ষা আকাশ-পাতাল সদৃশ। আমরা ইসলামের প্রথমিক যুগের কিছু শিক্ষা এই প্রসঙ্গে দেখতে পারি। মক্কা বিজয়ের আগ পর্যন্ত মুসলমানগণ অনেক যুদ্ধে হাজির হতে হয়েছে। যেথায় অনেক জটিল আবেগ ছিল -একই পরিবারের লোক যুদ্ধে মুখামুখি ছিল। প্রাচীন যুদ্ধের জের ছিল। ছেলেমেয়েরা সেইসব যুদ্ধের মানসিকতায় বড় হওয়ার সংযোগ ছিল। ইসলাম সেই যুদ্ধংদেহী ঐতিহাসিক মানসিকতা ও প্রতিশোধ প্রবণতা থেকে মুক্তি দিতে পেরেছে। আসন্ন বিজয়ের আগেই মুসলমানদেরকে বিজয়ের আখলাকিয়াত (নৈতিকতা) শিক্ষা দিয়েছে। যেসব বস্তু জাতীয় মানসিকতায় হিংসা-বিদ্বেষ জাগিয়ে রাখত, আত্মগর্বকে স্ফীত করত যা রোমান-পারসিয়ানরা দেয়াল-স্তম্ভ তৈরির মাধ্যমে করে রাখত, ইসলাম সেই পথ রুধ করে দেয়। সেই স্থান থেকে প্রতিশোধ প্রবণতা, স্তম্ভ তৈরি, আর বাড়াবাড়ি নিশ্চিহ্ন করে। আল্লাহ বলেন, 'যখন আল্লাহর সাহায্য ও তার বিজয় আসবে এবং মানুষকে দলে দলে ইসলামে ঢুকতে দেখবেন, তখন আপনার প্রভুর পবিত্রতা কীর্তন করুন এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থী হোন। তিনি ক্ষমাশীল' (সূরা নাসর)। এতেই বিজয়ের দাম্ভিকতা, আত্মগর্ব, স্ফীতি, প্রতিশোধ প্রবণতা, ঘৃণার স্মারক এগুলো মুসলিম সভ্যতায় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বাংলায় ব্রাহ্মণ্যবাদী কৌশল সফল হয়েছে। এত্থেকে আশু মুক্তির পথ দেখি না।

    এই অনুবাদটির জন্য আল্লাহ আপনাকে অশেষ সওয়াব দান করুন। প্রায় সাড়ে তিন হাজার শব্দের এইটি প্রবন্ধের অনুবাদ সহজ কথা নয়। এতে আছে শ্রম, ধৈর্য ও সময়ের অবদান। সুন্দর অনুবাদ হয়ে। পড়ে কেউ সহজে বুঝবে না যে সে অনুবাদ পড়ছে –এটাই অনুবাদের সার্থকতা।

    1. 3.1
      শাহবাজ নজরুল

      পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। অনুবাদ আসলেই কঠিন বিষয় -- নিজের স্বতন্ত্র লেখাগুলো যতটা সাবলীল ভাবে লেখা যায় -- অনুবাদ ততটা নয়। অনেক সময় দেখা যায় একই পরিমান লেখা লিখতে হলে অনুবাদের ক্ষেত্রে ৩/৪ গুন বেশি সময় লাগে।  মূল লেখাটির অনুবাদ থাকা দরকার বলেই মনে হয়েছিল। সে সময় অনুবাদের কথাও উঠেছিল [মূল লেখাটির কমেন্ট সেকশন দেখা যেতে পারে] -- আমি কথাও দিয়েছিলাম অনুবাদ করার। কিন্তু সময় লেগে গেল অনেক খানি। লেখা শেষে মূল লেখক ড. হাবিব সিদ্দিকীকে দেখালে উনি অনুবাদটির প্রশংসা করেন -- আর আমাকে অনুরোধ করেন পারলে লেখাটির আরো কম্প্রিহেনসিভ ভার্সনটির অনুবাদ করা যায় কিনা ভেবে দেখতে। আরো সার্বিক মানের লেখাটি এখানে পাওয়া যাবে -- 'সদালাপে' সেটা আসেনি। কিন্তু আর অনুবাদের ধৈর্য ছিলনা। তাই সদালাপে ছাপানো ভার্সনটির অনুবাদই এখানে প্রকাশিত হলো।   

      পড়া ও উত্সাহের জন্যে ধন্যবাদ। 

  19. 2
    আহমেদ শরীফ

    অসাধারণ লেখা !

    অত্যন্ত সময়োপযোগী, প্রয়োজনীয় এবং ঐতিহাসিকও।

  20. 1
    Shahriar

    Jajak-allah for sharing .

Leave a Reply

Your email address will not be published.