«

»

Nov ২৪

পদার্থবিদ্যার অমিমাংসিত সমস্যা -৪ (হিগস বোসন, গ্র্যাভিটন – পর্ব ১)

পর্ব-১, পর্ব-২, পর্ব-৩

এপ্রিল ১৯২১, ঢাকা থেকে চিঠি এলো

ঢাকা থেকে পি. জে. হার্টগের আসা চিঠি দেখে আনন্দ আর অনিশ্চয়তার মিশ্র অনুভূতির তপ্ত শোণিত ধারা বেয়ে গেল সত্যেনের ধমনী জুড়ে।

অর্ধাঙ্গিনী ঊষাকে জিজ্ঞেস করলেন, “ঢাকা থেকে তো অফার লেটার চলে এলো, এখন কী করা?”

ঊষার মনে অজানা দেশে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানি; কিন্তু নতুন ভাবে জগত জীবনকে দেখার নেশা সত্যেনের মতো তারও আছে।

উষা বললো, “চল চলে যাই ঢাকায়; দেখিনা কী আছে সেখানে। আশুতোষ স্যারের সাথে কথা বলেছ?”

“নাহ, এখনো জানানো হয়নি। স্যার কীভাবে নেবেন কে জানে! মেঘনাদটা থাকলে ভালো হতো, ওর সাথে শলা করে একটা ভালো সিদ্ধান্তে আসা যেত।”

“মেঘনাদ দাদা তোমাকে ঢাকায় নিয়েই ছাড়তো। উনি বাঙ্গাল না!!”

অদ্ভুত এক অনুভূতি নিয়ে সত্যেন সেদিন শুতে গেলেন।

পরদিন সত্যেন আশুতোষের অফিসে গিয়ে নক করলেন। অসীম উদ্যমী এই মানুষটির উৎসাহে সত্যেন আর মেঘনাদ যুগপদ খেটেখুটে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগকে বলা চলে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে এসেছেন। পৃথিবীর খুবই অল্প সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ান্টাম মেকানিক্স আর থিওরি অব রিলেটিভিটি পড়ানো হচ্ছেআধুনিক এই বিষয়গুলো বোঝে এমন লোকই পৃথিবীতে বিরল।

“আসতে পারি স্যার।”

“কে, সত্যেন; আয় ভেতরে আয়। কেমন আছিস? কোনো জরুরী কথা।”

“স্যার গতকাল হার্টগ সাহেবের চিঠি পেলাম। পদার্থবিদ্যা বিভাগে রিডার পদে যোগ দিতে বলছে। কী করা যায় পরামর্শ করতে আপনার কাছে আসা।”

আশুতোষ বেশ মর্মাহত হলেন। পদার্থবিদ্যা বিভাগে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগানো এই টগবগে তরুনদ্বয়ের দ্বিতীয়টিও এখন চলে যেতে চায় – তিনি বেশ আশাহত হলেন। ভগ্নকন্ঠে তিনি বললেন,

“মেঘনাদ বিলেতে  চলে গেল গেল বছর, আর এখন তুইও চলে যাবি? ডিপার্টমেন্টে তো আর তুখোড় কেউ থাকলো নারে।”

 

চিত্র ১: সত্যেন্দ্রনাথ বোস ও মেঘনাদ সাহা

“ভেঙ্কটরমন স্যার তো রইলেন। উনি একাই একশ। আর স্যার, আমরা সবাই মিলে বঙ্গভঙ্গ রদ করলাম; পূর্ব বাংলার প্রতি তো স্বভাবতই একটা দায়িত্ববোধ এসে যায়।”

“যা তাহলে ঢাকায়। রিসার্চটা ছাড়িস না কিন্তুনতুন জায়গাতে ভালো সুযোগও এসে যায়। ওখানে তোর জন্যে ভালোই হবে মনে হয়।

জুন ১৯২১- জুলাই ১৯২৪, রমনীয় রমনার ছায়াতে বাড়লো চিন্তার গভীরতা

১৯২১ সালের জুন মাসের এক বিকেলে সপরিবারে সত্যেন ঢাকায় এলেন। কাজ শুরু হলো পহেলা জুলাই থেকে। নতুন ইউনিভার্সিটি; আনকোরা নতুন বিভাগ। সিলেবাস, ক্লাস ম্যাটেরিয়াল আর ল্যাব সেটাপেই যাচ্ছে বেশীরভাগ সময়। ছাত্রসংখ্যা বেশী নয়। সে হিসেবে কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে ভাববার সময় পাচ্ছেন সত্যেন। কোলকাতার চেয়ে অনেক নিরব ঢাকার পরিবেশে মাঝে মধ্যে সত্যেনের মনে পড়ে যায় মেঘনাদকে সাথে নিয়ে নেশাগ্রস্তের মতো দিনের পর দিন আর রাতের পর রাত কাটিয়ে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক, আইনষ্টাইন, বোল্টজম্যান, হাইজেনবার্গ, নীলস বোরের গবেষণা আর পেপার পাব্লিকেশনগুলো নিয়ে গভীর পড়াশুনা আর বাংলা-ইংরেজীতে সেগুলো অনুবাদ করার স্মৃতি। জর্মন ভাষায় বেশীরভাগ গবেষণা পেপার ছাপা হতো দেখে মেঘনাদ জর্মন ভাষা শিখে নিয়েছিল। আরো মনে পড়ে গেল মেঘনাদকে সাথে নিয়ে আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্বকে প্রথম ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করার কথা। অসাধারণ সে সময়গুলোতে মাঝে মধ্যে সঙ্গ আর উৎসাহ দিতে আসতেন জগদীশ চন্দ্র বোস, নিখিলরঞ্জন বোস, আশুতোষ স্যারসত্যেন ভাবলেন ঢাকার এই আপাত নির্জন পরিবেশ কাজে লাগিয়ে আলোর কোয়ান্টা তত্ত্ব নিয়ে কোলকাতায় শুরু করা কাজটা এগিয়ে নেবেন।

চিত্র ২: কার্জন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সত্যেন বোসের কর্মস্থল

ম্যাক্স প্লাঙ্ক কিছুকাল আগে আলোকে কণাসদৃশ কোয়ান্টা আকারে দেখার প্রস্তাব করেছেনকোয়ান্টা আকারে আলোকে ভাবার আগে একে কেবলমাত্র তরঙ্গ সদৃশ বলে ধরে নেয়া হতো। কিন্তু আইনষ্টাইন এসে যখন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের দেয়া তত্ত্ব অনুসারে ফটো-ইলেক্ট্রিক এফেক্টের ব্যাখ্যা দিলেন, তখন থেকে শুরু হয় কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নতুন ইতিহাস। আর দুবছর হলো আইনষ্টাইইন এই ব্যাখ্যার জন্যেই নোবেল পেলেন। এদিকে হাইজেনবার্গ নিয়ে এলেন অনিশ্চয়তার নীতি। সবাই এখন নবজাত শিশু কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে গবেষণা করছেন।

সত্যেন চাইলেন আলোর কোয়ান্টা অর্থাৎ ফোটনের কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল ডিস্ট্রিবিউশনের উপর গবেষণা কিছুটা এগিয়ে নিতেফোটনের ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ে করা গবেষণাপত্রগুলো নিয়ে বসলেন একাগ্রচিত্তে। ফোটনকে ম্যাক্সওয়েল বোল্টজম্যান ডিস্ট্রিবিউশনের ফর্মূলাতে ফেলে ভাবতে লাগলেন প্রেডিকশনের সাথে গবেষণাগারের ফলাফলের এত তারতম্য কেন।

একদিন সত্যেন রমনীয় রমনার নির্জন রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন শাহবাগের দিকে, তখন হঠাত একটা ধারণা বিদ্যুতের মতো মাথায় খেলে গেলোতিনি ভাবলেন, “প্রত্যেকটা ফোটনকে ম্যাক্সওয়েল বোল্টজম্যান ডিস্ট্রিবিউশনের শর্তানুসারে অনন্য কোয়ান্টাম স্টেটে আছে তা ধরে নিতে হবে কেন? এমনও তো হতে পারে যে একাধিক ফোটন একই কোয়ান্টাম স্টেটে আছে!!!” বিদ্যুতের মতো খেলে যাওয়া এই ধারণা ঠিক কিনা তা পরখ করে দেখার জন্যে সত্যেন দ্রুত বাসায় এলেন। কাগজ কলম নিয়ে বসলেন ফোটনগুলোকে স্বতন্ত্র না ধরে নতুন ডিস্ট্রিবিউশন বের করার কাজে। এই হাইপোথিসিস ধরে এগিয়ে দেখলেন নতুন বিন্যাসে প্রেডিকশন ল্যাবে পাওয়া ফলাফলের সাথে মিলে যাচ্ছে। চিন্তার গাঁথুনি অটুট থাকতে থাকতেই অসীম উৎসাহ নিয়ে নতুন এই ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ে ৬ পাতার একটা পেপার লিখে ফেললেন। পাঠিয়ে দিলেন লন্ডন ভিত্তিক দর্শন শাস্ত্রের এক ম্যাগাজিনের জন্যে। আর পর পর কয়েক দিন ধরে পরম উৎসাহ নিয়ে ক্লাসে এ নতুন আবিষ্কার নিয়ে সত্যেন লেকচার দিলেন ছাত্রদের।

(…চলবে…) 

 

পাদটীকা:

সত্যেন্দ্রনাথ বোস (বসু)– বোস-আইনষ্টাইন ডিস্ট্রিবিউশনের আবিষ্কারক। তার নামেই স্ট্যান্ডার্ড মডেলের বোসন নামের মৌলিক কণার নামকরণ করা হয়।

জে. পি. হার্টগ – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর।

উষা দেবী – সত্যেন্দ্রনাথ বোসের সহধর্মিনী।

মহাদেব সাহা – কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সত্যেন্দ্রনাথ বোসের সহকর্মী।

আশুতোষ মুখোপাধ্যায় – কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর।

চন্দ্রশেখর ভেঙ্কটরমন – কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে সত্যেন বোস ও মহাদেব সাহার সিনিয়র কলিগ। ১৯৩০ সালে আলোর রমন এফেক্ট ব্যাখ্যার জন্যে নোবেল পুরষ্কার পান।

২০ comments

Skip to comment form

  1. 11
    জব্বার খান

    উপস্থাপনা খুব ভালো লাগছে, সাথে সাথে এত বড় বাঙ্গালী বিজ্ঞানীদের কাহিনী পড়ে বাঙ্গালী হিসেবেও গর্ব বোধ করছি। কোয়ান্টাম মেকানিক্স সম্পর্কে জানার আগ্রহ রয়েছে, পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

  2. 10
  3. 9
    সত্তুক

    শাহাবাজ ভাই, অসম্ভব রকম হচ্ছে, আশা করি, প্লট মাথায় শীঘ্রই এসে যাবে।
    মজা লাগছে, প্রতি কমেন্টে একটু একটু করে বলা ইতিহাসও। জোস। চলুক। আর অন্য পর্ব আসতে আসতে, কমেন্ট চলতে থাকুক।
    মূল খাদ্য আসিবার পূর্বে, একটু হালকা পাতলা নাস্তা, আমার বরাবরই প্রিয়, ভোজন রসিক কিনা , খাওয়া আর পড়া, যাই হোক যুত না হলে কি চলে!!! 

  4. 8
    সত্তুক

    জটিল, তারাতারি পরের পোস্টটা দেন তো ভাই।

    1. 8.1
      শাহবাজ নজরুল

      @সত্তুক,
       

      জটিল, তারাতারি পরের পোস্টটা দেন তো ভাই।

      অপেক্ষা করেন, প্লট মাথায় সাজাচ্ছি …:D।

  5. 7
    শামস

    ভিন্ন ধাচের উপস্থাপনা, মুগ্ধ হয়ে পড়লাম। সুপারব!

    1. 7.1
      শাহবাজ নজরুল

       
      @ শামস,
       

      ভিন্ন ধাচের উপস্থাপনা, মুগ্ধ হয়ে পড়লাম। সুপারব!

       

      উৎসাহের জন্যে ধন্যবাদ। আপনাকে এই সুযোগে আরেকটা ইতিহাস জানিয়ে রাখি। আশুতোষ মুখোপাধ্যায় প্রথমে কোনো অজানা কারণে ঢাকাতে পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করেন, এবং বেশ ভালোভাবেই সেই বিরোধিতা করেন। পরে অবশ্য তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেন, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনায় বেশ ভুমিকা রাখেন।
       
      --শাহবাজ

      1. 7.1.1
        শামস

        আপনার মন্তব্যগুলো পড়ে মজা পাচ্ছি, চমকের উপর চমক।

         

  6. 6
    মহিউদ্দিন

    চমৎকার, চালিয়ে যান। পরের পর্বগুলোর  অপেক্ষায় রইলাম।

    1. 6.1
      শাহবাজ নজরুল

      @ মহিউদ্দিন ,
       

      চমৎকার, চালিয়ে যান। পরের পর্বগুলোর  অপেক্ষায় রইলাম।

       
      অপেক্ষা করেন, আসছে। গল্পে আসবে আইনষ্টাইনের সাথে সত্যেন বোসের অনন্য সম্পর্কের ইতিহাস, আসবে গ্র্যাভিটন নিয়ে আইনষ্টাইনের struggle সহ অনেক কিছুই।
       
      --শাহবাজ

  7. 5
    বুড়ো শালিক

    ওয়াও!!! চমৎকার বললে কম বলা হবে। পরের পর্বগুলোর জন্য মুখিয়ে থাকবো…
     

    1. 5.1
      শাহবাজ নজরুল

      ওয়াও!!! চমৎকার বললে কম বলা হবে। পরের পর্বগুলোর জন্য মুখিয়ে থাকবো…
       
      সাথে থাকুন। আশা করছি একটা বোসনের একটা চলনসই ইতিহাস লিখতে পারবো।
       
      সত্যেন্দ্রনাথ বোস উপমহাদেশের এক অনন্য সাধারণ বিজ্ঞানী হলেও তিনি কখনো ডক্টরেট ডিগ্রী নেননি বা নেবার সময় পাননি।  কিন্তু তিনি জীবনে কখনো সেকেন্ড না হওয়া ছাত্র ছিলেন। মেট্রিক থেকে শুরু করে মাস্টার্স পর্যন্ত তিনি প্রতিটি পরীক্ষাতেই সবসময় হয়েছেন প্রথম। আর মেট্রিক, ইন্টার আর বি-এসসি পর্যন্ত সত্যেনের পরের স্থানটা (অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থান)  নিয়েছেন আরেক সুপার স্টার ঢাকায় জন্মানো মেঘনাদ সাহা। MS এ এসে অবশ্য সত্যেন আর মেঘনাদ আলাদা ভাবেই প্রথম হন, সত্যেন pure math এ আর মেঘনাদ applied math এ। এরপরে তারা একসাথে যোগ দেন কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে; প্রথমে গণিত বিভাগে আর কিছুকাল পরেই পদার্থবিদ্যা বিভাগে।
       
      --শাহবাজ

  8. 4
    আহমেদ শরীফ

    নাটকীয় সূচনা !

    চলুক।

    1. 4.1
      শাহবাজ নজরুল

      @আহমেদ শরীফ,
       
      উৎসাহের জন্যে ধন্যবাদ।
       
      আপনার সাথে কিছুটা ইতিহাস কপচানো যাক। ১৯১১ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী থাকার সুবাদে শিক্ষা সহ সব ক্ষেত্রেই কোলকাতা এগিয়ে থাকে ব্রিটিশ ভারতের অন্যান্য শহর থেকে। আর বাংলা থেকেই ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী হওয়াতে অনেক বাঙ্গালীই নানারকম ভাবে কিছু সুবিধা পেয়েছেন, কিন্তু একথাও সত্য যে আধুনিকতা, শিক্ষা সহ সব দিক থেকে অনেক অনেক পিছিয়ে ছিল ঢাকা সহ তাবৎ পূর্ব বাংলা। সে হিসেবে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ছিল পূর্ব বাংলার জন্যে সূবর্ণ অধ্যায়। ঢাকার নবাব পরিবারের সলিমুল্লাহ সহ অনেকেই বঙ্গভঙ্গ কে সমর্থন করেছেন, আর স্বভাবতই এতে ব্রিটিশ রাজের কিছুটা হলেও চোখে পড়ে অন্যথায় আলোচনায় না আসা ঢাকা সহ পূর্ব বাংলা। ১৯২১ সালে ঢাকাতে পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সেই বঙ্গ ভঙ্গেরই স্বাভাবিক পরিনতি।
      যাইহোক, একই সাথে মুলত পশ্চিম বাংলা ভিত্তিক স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়। স্বদেশী আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বঙ্গভঙ্গ রদ করা। তাদের কথা ছিল বাংলা এক ও অনন্য একে ভেঙ্গে ব্রিটিশরাজ divide and rule এর নীতি পালন করছে। যাইহোক, যা হবার তা হলো; ১৯১১ সালে বঙ্গ ভঙ্গ রদ হলো, আর রাজধানী চলে গেলো দিল্লীতে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে আমি বঙ্গ ভঙ্গ যে হয়েছে তাকে সমর্থনই করবো; কেননা সেই বঙ্গ ভঙ্গের ultimate পরিনতি আজকের এই বাংলাদেশ।
      এই সিরিজের অন্যতম চরিত্র সত্যেন বোস বঙ্গভঙ্গের বিরূদ্ধে ছিলেন, মনেপ্রাণেই ছিলেন, মেঘনাদ সহ অনেকেই সেই স্বদেশী আন্দোলনের পুরোধাই ছিলেন। পূর্ব বাংলাকে কিছু দেবার জন্যেই মনেহয় তার করা বঙ্গ ভঙ্গ রদ আন্দোলনের background ই তাকে ঢাকাতে আসতে উৎসাহিত করেছিল। তিনি বাংলাকে না ভেঙ্গেই সমগ্র বাংলার সুষম উন্নতির স্বপ্ন দেখতেন। ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগ তাই সত্যেনকে অসম্ভব পীড়িত করে। দেশ বিভাগের প্রাক্কালে প্রায় ২৫ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার পর, সত্যেন ফিরে যান কলকাতায়।
       
      --শাহবাজ

  9. 3
    তামীম

    আপনার উপস্থাপনা এক কথায় দারুন হয়েছে! পরের পর্বের অপেক্ষায়…

    1. 3.1
      শাহবাজ নজরুল

      @ তামীম,
       

      আপনার উপস্থাপনা এক কথায় দারুন হয়েছে! পরের পর্বের অপেক্ষায়…

       
      উৎসাহ দেয়ার জন্যে ধন্যবাদ। একটু অন্যভাবে সিরিজটা লেখার ইচ্ছে হলো। উপরের কমেন্টগুলো পড়ে দেখুন। যাইহোক, আপনার কমেন্টের পর থেকে কিছুটা আনুষঙ্গিক ইতিহাস এখানে পরিষ্কার করছি।
       
      আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ছিলেন কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্যে এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি। শিক্ষাকে আনতে হবে সব কাজকর্মের কেন্দ্রবিন্দুতে, এমন নীতি নিয়েই চলতেন তিনি। তিনিই সত্যেন আর মেঘনাদ সাহাকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য প্রতিষ্ঠিত আধুনিক গণিত ও পরে পদার্থবিদ্যা বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দিতে বলেন। মেঘনাদ আর সত্যেন বোস ছিলেন অনন্য যুগল। তারাই অল্প সময়ের মধ্যে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগকে সাজিয়ে তুলেন পৃথিবীর অন্যতম আধুনিক বিভাগ হিসেবে। ১৯১৭ সালে ড. সি. ভি. রমন যোগ দেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'পালিত অধ্যাপক' হিসেবে। সেই সময়টা ছিল কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণযুগ। প্রফেসর রমন ১৯৩০ সালে পান নোবেল প্রাইজ। আর সত্যেন ১৯২১ সালে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯২৩ সালে ঢাকাতে বসেই লেখেন সেই বিখ্যাত পেপার, যা বোসন নামের মৌলিক কণার গাণিতিক বিন্যাস/মডেল পৃথীবিকে উপহার দেয়। আর বোসন কণার সাথে চিরস্থায়ী ভাবে লেগে যায় সত্যেন বোসের নাম।  

  10. 2
    সাদাত

    চমত্কার লাগলো, তবে স্বাদ মিটলো না। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম.. 

    1. 2.1
      শাহবাজ নজরুল

      @ সাদাত,
       
      ঢাকায় বসে সত্যেনের বোসনিক কণার ধারণার গাণিতিক মডেল আবিষ্কার করা থেকে শুরু করে হিগস বোসন পর্যন্ত পদার্থবিদ্যা কীভাবে এলো এটাকে বিজ্ঞান আর নাটকীয়তার সংমিশ্রন করে এই পর্ব লেখার ইচ্ছে আছে। বেশ কয়েকটা উপপর্ব লাগবে। সাথে থাকবে হিগসের মতোই আরেকটি elusive প্রস্তাবিত কণা গ্র্যাভিটনের ইতিহাসও। ঘটনার গাঁথুনি নিজের থেকেই করা। যতটা পারি chronology ঠিক রাখার চেষ্টা করবো। তবে যে ঘটনাগুলোর বর্ণনা আসবে মোটাদাগে বলতে গেলে ঘটণাগুলো মোটামুটি তেমনই। তবে অবশ্যই কিছুটা এদিক ওদিক হতে পারে। আর নাটকীয়তার জন্যে নিজের মন থেকে অনেক সিচুয়েশন তৈরী করার ইচ্ছে থাকলো। দেখি কোথায় যায়!!
       
      --শাহবাজ

  11. 1
    সরোয়ার

    অসাধারণভাবে শুরু করেছেন।  হ্যাটস অফ।

    1. 1.1
      শাহবাজ নজরুল

      @ সরোয়ার,

      অসাধারণভাবে শুরু করেছেন।  হ্যাটস অফ।

       
      একটু নাটিকীয়ভাবে চতুর্থ পর্বটা লেখার ইচ্ছে হলো। দেখি কেমন যায়!! বর্তমান তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার অন্যতম প্রধান অমিমাংসিত সমস্যা হচ্ছে এই হিগস বোসন আর গ্র্যাভিটন। এই দুটো প্রস্তাবিত মৌলিক কণাই বোসনিক মৌলিক কণা। সার্ণে লার্জ হেড্রন কলাইডরে দিনরাত চলছে 'হিগস বোসন' এর অনুসন্ধান। নাটকীয় করার একটা কারণ, এই বোসনিক মৌলিক কণার ধরণা সৃষ্টি হয় সত্যেন বোসের অনন্য-সাধারন ক্লাসিক একটা পেপার লেখার মাধ্যমে। আইনষ্টাইন, বোসের লেখা মূল প্রতিপাদ্যকে কিছুটা ঘষামাজা করেন, কিন্তু বোস-আইনষ্টাইন পরিসংখ্যানের মৌলিক ভিত্তি রচনা করেন সত্যেন্দ্রনাথ বোস। আর মূল কাজটা তিনি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে বসেই।
       
      লেখাতে বোসনিক কণাগুলোর ধারাবাহিক ইতিহাস আসবে, কিন্তু মূলত আলোকপাত করা হবে এখনো অমিমাংসিত দুটি বোসনিক কণা হিগস বোসন আর গ্র্যাভিটনকে খূঁজে পাবার প্রচেষ্টার ইতিহাস। মঝে মধ্যে থাকবে পদার্থবিদ্যাকে গুলিয়ে খাওয়ানোর সামান্য প্রচেষ্টা। দেখি কোথায় যায়?
       
      --শাহবাজ  
       

Leave a Reply

Your email address will not be published.