«

»

Nov ২৭

পদার্থবিদ্যার অমিমাংসিত সমস্যা -৪ (হিগস বোসন, গ্র্যাভিটন – পর্ব ২)

পর্ব-১, পর্ব-২, পর্ব-৩

পর্ব-৪.১

জুন ১৯২৪, অদম্য সত্যেন ও সুযোগ্য অর্ধাঙ্গিনী

ক্লাস থেকে নিজ কক্ষে ফিরে এসে সত্যেন দেখেন একটা চিঠি এসেছে। উপরে ঠিকানায় দেখলেন লন্ডন থেকে। অনুমান করলেন হয়তো তার পাঠানো পেপারের ব্যপারে কোনো তথ্য আছে চিঠিতে। তাড়াতাড়ি খুলে চিঠি পড়া শুরু করলেন। চিঠির বৃত্তান্ত দেখে মনটা খারাপই হয়ে গেলো। সম্পাদক মন্ডলী সত্যেনের লেখার কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি, তাই পেপারটা ছাপানো হয়নি।

সন্ধ্যায় সত্যেনকে দেখে ঊষা কিছুটা বিচলিত হলেন। সত্যেনের মতো সদা প্রাণোচ্ছল ব্যক্তি কেমন যেন চুপসে আছেন। ঊষা কাছে এসে বললেন,

“কী হলো তোমার, মনটা ভালো নেই বুঝি।”

“ভালো আর থাকে কীভাবে বলো; মনে তো হয় সমস্যাটার সঠিক সমাধানই করেছি, কিন্তু ম্যগাজিন তো তা ছাপালো না।”

“কেন ছাপেনি কিছু কী বলেছে?”

“বিষয়বস্তুই বোঝেননি সম্পাদক সাহেব।”

“কেন বুঝতে পারেননি বলে মনে হয়?”

“কী জানি; হয়তো গাণিতিক রিজনিং বুঝতে পারেননি। ম্যাগাজনটা মূলত দর্শন শাস্ত্রের বলা যায়। সমস্যাটার দার্শনিক গুরুত্বটা দেখেই ওখানে লেখাটা পাঠিয়েছিলাম।”

“হুম বুঝলাম; সমস্যাটা ওখানেই হয়েছে। শোনো, লেখা যিনি বুঝবেন তার কাছেই পাঠাও। এরপরেও না ছাপালে নিশ্চয়ই সমাধানে কোনো সমস্যা আছে কিনা তাতো জানাবেন আশা করা যায়।”

এবার সত্যেনের মনটা কিছুটা ভালো হলো। ঊষার সাথে পরামর্শ করলে এভাবেই মাঝে মধ্যে সে না মাড়ানো পথের কথা বাতলে দেয়।

“থ্যাঙ্ক ইউ, উষা। কার কাছে পেপারটা পাঠাতে হবে তা অন্তত বুঝতে পারছি।”

সত্যেন তৎক্ষণাত লেখাটা আরেকটু ঘষামাজা করে এতে আরো গাণিতিক স্পষ্টতা আনলেন। আর তাই পাঠিয়ে দিলেন আইনষ্টাইনের কাছে।

 

জুলাই ১৯২৪, বিচক্ষণ আইনষ্টাইন

আইনষ্টাইন কাজ থেকে বাড়ি ফিরেছেন। এসে দেখলেন এক গাদা চিঠি এসে বসে আছে। বর্তমানে আইনষ্টাইন জীবন চালাচ্ছেন লিভিং লিজেন্ডের মতো। তার আপেক্ষিকতার তত্ত্ব আধুনিক পদার্থবিদ্যার ভিত্তিপ্রস্তর বলে সবাই মেনে নিয়েছেন। স্থান আর কালকে (space and time) নতুন বাস্তবতায় নিয়ে আসার পর থেকে তিনি এখন মোটামুটি সেলিব্রিটি। সে হিসেবে প্রতিদিন তিনি প্রচুর চিঠি পান। বেশীরভাগই অনুরক্তদের চিঠি। আজকের চিঠিগুলো চেক করে অবাক হলেন ঢাকা থেকে একটা চিঠি এসেছে দেখে। তাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোড়কে। তিনি প্রায় সারা পৃথিবী থেকেই অনেক অজানা লোকেরই চিঠিপত্র পান; কিন্তু ঢাকা থেকে কখনো চিঠি পেয়েছেন বলে মনে করতে পারছেন না। পড়ে দেখলেন, প্রেরকের জায়গাতে লেখা আছে সত্যেন্দ্রনাথ বোস। নামটা কোথায় যেন শুনেছেন মনে হলো। আবছা করে মনে পড়লো বোস নামের কেউ মনেহয় ইংরেজীতে তার আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুবাদ করেছিল। কিন্তু যতদুর মনে পড়ে সেই বোস তো কোলকাতায় ছিল। যাইহোক, চিঠি খুলে দেখলেন একটা পেপার লিখেছে বোস। হাল্কা চোখ বুলিয়ে মনে হলো আলোর কোয়ান্টা তত্ত্ব নিয়ে গাণিতিক পরিসংখ্যান সম্পর্কিত কিছু। তিনি বুঝলেন যে এই চিঠিটা অন্তত সিরিয়াস গোছের। সময় নিয়ে পুরোটা পড়ে দেখার জন্যে তা তুলে রাখলেন আপাতত।

চিত্র ১: আইনষ্টাইন

দিন দুয়েক পরে বেশ মনোযোগ দিয়ে বোসের লেখা আলোর কোয়ান্টার নতুন তত্ত্ব ও গাণিতিক মডেল তিনি পড়লেন। ফোটন কণাদের আলাদা কোয়ান্টাম স্টেটে না থাকার যুক্তিটা বেশ ধারালো। বোস লিখেছেন পরীক্ষাগারে পাওয়া ফলাফলের গ্যাপটা এসেছে সব ফোটনকে অনন্য স্টেটে ধরে ডিস্ট্রিবিউশন মডেল বের করার জন্যে। আইনষ্টাইন মনে মনে বললেন, “এই লোক তো দেখি মহা জিনিয়াস!!! মনে তো হয় সে সঠিক লাইট কোয়ান্টা ডিস্ট্রিবিউশন মডেলই বের করে ফেলেছে!!!”

সময় না নষ্ট করে আইনষ্টাইন সত্যেনের ইংরেজী লেখাকে নিজেই জর্মনে অনুবাদ করলেন। এরপরে পাঠিয়ে দিলেন জর্মন ভাষার ফিজিক্সের জার্নালে। এবার আইনষ্টাইনের আশীর্বাদ থাকাতে লেখা ছাপা হয়ে গেলো জার্নালে, আর সত্যেন বোস হয়ে গেলেন বোস-আইনষ্টাইন পরিসংখ্যানের মূল রূপকার। সেইসাথে বোস-আইনষ্টাইন সমীকরণ মেনে চলা মৌলিক কণাগুলোর নামের সাথে সত্যেনের নাম লেগে গেলো চিরস্থায়ীভাবে; এই নতুন কণা পরিবারের নাম হলো বোসন। আর আলোর কোয়ান্টা ফোটন হয়ে গেলো প্রথম বোসনিক মৌলিক কণা।

সেপ্টেম্বর ১৯২৪, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ও প্রাশ্চাত্যে গবেষণার সুযোগ

সত্যেনের ডাক পড়েছে হার্টগ সাহেবের অফিসে। ভাইস চ্যান্সেলরের রুমে ঢোকার পরেই হার্টগ সাহেব সত্যেনের সাথে করলেন উষ্ণ করমর্দন; অসম্ভব সন্তুষ্টির চিহ্ন তার চোখেমুখে।

“দেখো সত্যেন ঢাকায় পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে অনেক চড়াই উতরাই পার হয়ে। প্রথম থেকেই  আমার স্বপ্ন একে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেব গড়ে তুলবো। আমাদের সবার সে স্বপ্ন তুমি আজ অনেকটা এগিয়ে নিলে। আইনষ্টাইনের সাথে নতুন পেপার পাবলিশ হওয়াতে আমরা সবাই বেশ আনন্দিত। Congratulations!!!

“ধন্যবাদ স্যার। আপনার অবদানের কথাও আমরা স্মরণ করি। খুব অল্প সময়েই আপনিবিশ্ববিদ্যালয়কে অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছেন।”

“থ্যাঙ্কস সত্যেন। আর একটা কথা। জানোইতো নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, তাই স্থাপনা নির্মানেই বেশীরভাগ ফান্ড খরচ হয়ে যাচ্ছে। তবুও বিশ্ববিদ্যালয় তোমাকে রিসার্চ করার জন্যে ইউরোপে পাঠাবার ফান্ডিং দেবে। তুমি নিজেই ঠিক করো কোথায় যেতে চাও।”

আনন্দচিত্তে সত্যেন সেদিন বাসায় ফিরলেন, আর সুখবরটা দিলেন উষাকে। উষা বললেন, “যদি রিসার্চের জন্যে যেতেই চাও, যাও সেরা জায়গাতেই।”

অল্পদিনের মধ্যেই সত্যেন ঠিক করে ফেললেন প্যারিসে মাদাম কুরীর সাথে কাজ করার সুযোগ। আর কিছুদিন পরেই তার প্রথমবারের মতো ভারতবর্ষের বাইরে যাওয়া হবে। মাদ্রাজ থেকে ফ্রান্স যাবার ব্যবস্থা করলেন সত্যেন; ভাবলেন কোলকাতায় বাবা, মা আর ভাই বোনদের সাথে দেখা করে যাবেন, আর একটা ঢুঁ মারবেন কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কোলকাতা রওয়ানা হবার আগে সত্যেন গেলেন ঢাকার অদূরে শেওড়াতলী গ্রামে, মেঘনাদের বাবা আর পরিবারের অন্যান্যদের সাথে দেখা করতে। গ্রামে মেঘনাদের বাবা জগন্নাথ আর বড় দাদা জয়নাথের সাথে দেখা হলো। জয়নাথ দাদাকে আগে একবার দেখেছিলেন সত্যেন প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময়। বেশ অভাবী ঘরের সন্তান হওয়া সত্তেও জয়নাথের প্রচেষ্টার জন্যে মেঘনাদের পড়াশুনা অব্যহত থাকে। মেঘনাদকে সত্যেন বেশ মিস করেন। যদিও চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ আছে নিয়মিতই। জগন্নাথ আর জয়নাথের সাথে কুশলাদী বিনিময় করে আর আশীর্বাদ নিয়ে পরদিন সপরিবারে কোলকাতা যাবার ট্রেন ধরলেন সত্যেন। এরপরে, দিন সাতেক কোলকাতায় থেকে উষাকে বাবার বাসায় রেখে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন তিনি।

(…চলবে…)

১৯ comments

Skip to comment form

  1. 10
    shiplu

    অনেক ভাল লাগলো। পরবর্তী লেখার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

  2. 9
    বুড়ো শালিক

    অসাধারণ! এক টানে পড়ে ফেললাম!

  3. 8
    মুজাহিদ রাসেল

    ধন্যবাদ

  4. 7
    সাদাত

    লেখা মজাদার হয়েছে।
    তবে আমি ভাবছি আকাশ মালিক না আবার বলে বসে 'কৃষ্ণে করলে …
    হা হা হা..

    1. 7.1
      বুড়ো শালিক

      @সাদাত ভাই: হা হা হা হা!!!

  5. 6
    এম ইউ আমান

    আইনষ্টাইন মনে মনে বললেন, “এই লোক তো দেখি মহা জিনিয়াস!!!
    --
    এরকম লেখা দেখে পাঠকের বোঝা উচিৎ যে লেখক (শাহবাজ নজরুল) বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত ব্যাপারগুলি বলতে কিছুটা কল্পনার আশ্রয় নিয়েছেন- বিজ্ঞানের খটমট ব্যাপারগুলি আকর্যণীয় ও বোধগম্য করার জন্য। তারপরেও মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে বাংলাভাষী ছেলে-মেয়েরা বলবে যে আইনষ্টাইন বলেছেন, "সত্যেন বোস মহা জিনিয়াস।" রেফারেন্স হিসেবে এই লেখা দেবে।
    'বিষাদ সিন্দু'র ব্যাপারে এক সময় তাই হয়েছে। এখন তাবলিগী নেছাব, ফাজায়েলে আমাল, এই বইগুলির ব্যাপারে তাই ঘটছে। 
    লেখককে অনুরোধ করবো, ছোট একটা নোট দিয়ে এই অত্যন্ত সুখপাঠ্য লেখাগুলি কিভাবে গ্রহণ করতে হবে, সেটি পরিস্কার করে বলে দিতে।

    1. 6.1
      শাহবাজ নজরুল

      আইনষ্টাইন মনে মনে বললেন, “এই লোক তো দেখি মহা জিনিয়াস!!!
      --
      এরকম লেখা দেখে পাঠকের বোঝা উচিৎ যে লেখক (শাহবাজ নজরুল) বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত ব্যাপারগুলি বলতে কিছুটা কল্পনার আশ্রয় নিয়েছেন- বিজ্ঞানের খটমট ব্যাপারগুলি আকর্যণীয় ও বোধগম্য করার জন্য।
       

      যেভাবে বললাম, এ লেখাটা লেখা হচ্ছে ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে, অতএব এতে লেখকের পক্ষ থেকে কল্পনার আশ্রয় নেয়া স্বাভাবিক। বাংলায় আমরা অনেকেই হয়ত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস পড়েছি (যেমন সুনীলের 'পূর্ব-পশ্চিম'); ঐখানে ঐতিহাসিক ব্যক্তিবর্গই উপন্যাসের চরিত্র। তাই ঐসব ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের বলা কথাগুলোতে কিছুটা কল্পনার মিশ্রণ থাকা স্বাভাবিক। আশা করি পাঠকরা বিষয়টা বুঝতে পারছেন।
      তারপরেও, এই বিষয়ে গবেষণা করে যতদুর জানা যায় তাতে এমন ধরণেরই কথা বলা আইনষ্টাইনের পক্ষে একেবারে অমূলকও নয়। এর পক্ষে একাধিক যুক্তি দেয়া যেতে পারে। প্রথমত সত্যেনের লেখা পাওয়া মাত্রই আইনষ্টাইন সেটি অনুবাদের সিদ্ধান্ত নেন। দ্বিতীয়ত, বোস-আইনষ্টাইনের পরিসংখ্যান আইনষ্টাইনের প্রায় শেষ মাইলস্টোন প্রাপ্তি। তৃতীয়ত, বোসের সাথে আইনষ্টাইনের এটাই শেষ সংযোগ নয়, তাদের মধ্যে সারাজীবনই যোগাযোগ ছিল; আর এর পরেও বোসের ব্যপারে প্রশংসা আর স্তুতি করতে আইনষ্টাইনকে কার্পন্য করতে দেখা যায়নি। আমার লেখার আগামী পর্বগুলোতে এই ব্যপারগুলো আসবে। তাই, প্রসংগ বিচারে যতটুকু মনে হয়েছে তাই উক্তি আকারে দিলাম। আমার নিজের ধারণা আইনষ্টাইনের মনে এই ধরনেরই ধারণা হয়েছিল (অর্থাৎ, কেবল 'জিনিয়াস' নয় বরং 'মহা জিনিয়াস')। তবে যাইহোক, পাঠকবর্গ আশা করি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা গল্পের ব্যপ্তি  ও প্রত্যাশা বুঝতে পারবেন। আমার লেখা থেকে সবাই মোটামুটি আঁচ করতে পারবেন কী ঘটেছিল; আর আশা করি এমন লেখার সীমাবদ্ধতার পরিমিতিবোধ পাঠকদের মধ্যে আছে।
       
      --শাহবাজ

      1. 6.1.1
        সরোয়ার

        শাহবাজ ভাইয়ের সাথে সহমত।  বিষাদ সিন্দু আর  ফাজায়েলে আমলকে এক কাতারে ফেলানো মনে হয় ঠিক হচ্ছে না।  ফাজায়েলে আমলে  হাদিস বা কোরানের বিষয় স্পস্টভাবে দেয়া থাকে।  তারপর জনসাধারণের বোধগম্য করতে সেটার আলোকে ব্যাখ্যা করা হয়।  এটা স্পেসিক্যালি লেখা থাকে। এখন কেউ যদি ব্যাখ্যাগুলোকে কুরআন, হাদিস বলে মনে করে সেটা ঐ ব্যক্তির বুঝার ব্যর্থতা।

        শাহবাজ ভাইয়ের লেখাগুলো তো আর জার্নাল পেপার নয়। এই বোধ সাধারণ পাঠকের আছে বলে মনে হয়।

      2. 6.1.2
        শামস

        চরিত্রের কাল্পনিক কথোপকথনের ব্যাপারে শাহবাজ ভাইয়ের ব্যাখ্যাটা ভাল লাগল!
         

  6. 5
    শাহবাজ নজরুল

    হিট কাউন্টারের কি হল কে জানে? সকালে দেখলাম হিট কাউন্ট দেখাচ্ছে ১৫০ এর মতো। এরপরে মনে হয় একবার সাইট ক্রাশ করেছিল এখন দেখি হিট কাউন্টার রিসেট হয়ে গেছে ৩৫ এ।  হুম, লেটেস্ট লেখা বইলা হিট কাউন্টারে কেবল আমিই ধরা খাইলাম মনে হয়।
    --শাহবাজ

    1. 5.1
      সরোয়ার

      শাহবাজ ভাই, হিট কাউন্টার নিয়ে মন খারাপ কইরেন না! ধরা সদালাপে সবাই খেয়েছে। আমার অনেক পোষ্টে মন্তব্যের সংখ্যা হিট চেয়েও বেশী ছিল! সদালাপসহ সামু, আমুতেও আমার পোষ্টের এ অবস্থা হয়েছিল! 

  7. 4
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    পড়তে অনেকটা উপন্যাসের মতো লাগছে । লেখার জন্য ধন্যবাদ।

    1. 4.1
      শাহবাজ নজরুল

       
       
      @জব্বার খান,
       
      গল্পের আদলে বিজ্ঞান ভিত্তিক ইতিহাস জানানোর চেষ্টা করছি। দেখি কোথায় যায়।
      --শাহবাজ

  8. 3
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    মুগ্ধ হয়ে পড়লাম। বিজ্ঞানের বইগুলো এ ধাচের হলে পাঠকদের বুঝতে খুব সুবিধে হয়। আমি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের যে বইগুলো পড়েছি, সেগুলোতে পাঠকের সাথে যে একধরণের ইন্টারেকশনের দরকার তা চোখে পড়েনি, অথবা হয়তো আছে আমি পাইনি। আপনার এ লেখার স্ট্যাইল অসাধারণ, বিশেষত বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। বিজ্ঞানের প্রতি ভয়টা দূর করতে অনেককেই সাহায্য করবে। ভেবে দেখুন বই আকারে ভবিষ্যতে কিছু প্রকাশ করা যায় কিনা।

    1. 3.1
      শাহবাজ নজরুল

      @ শামস,

      মুগ্ধ হয়ে পড়লাম। বিজ্ঞানের বইগুলো এ ধাচের হলে পাঠকদের বুঝতে খুব সুবিধে হয়। মি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের যে বইগুলো পড়েছি, সেগুলোতে পাঠকের সাথে যে একধরণের ইন্টারেকশনের দরকার তা চোখে পড়েনি, অথবা হয়তো আছে আমি পাইনি। আপনার এ লেখার স্ট্যাইল অসাধারণ, বিশেষত বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।

       
      ভালো লাগার কথা জানানোর জন্যে ধন্যবাদ। সহজ করে গল্প আকারে লিখছি যাতে অন্যথায় যে পাঠকেরা বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা পড়তে চাননা, তারাও হয়ত পড়ার চেষ্টা করবেন। আর বৈজ্ঞানিক সমস্যাটা সম্পর্কে পুরোপুরি ব্যাখ্যা না দেয়া গেলেও অন্তত একটা সমস্যার পেছনের ইতিহাসটা গোছানো ভাবে বললে, অন্তত ইতিহাসটা জানা থাকলো। 

      ভেবে দেখুন বই আকারে ভবিষ্যতে কিছু প্রকাশ করা যায় কিনা।

      দেখা যাক।
       

  9. 2
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    এবারও "ইতিহাসের মিমাংসিত সমস্যা" মনে হল। কিন্তু পড়ে ভাল লেগেছে। 🙂

    1. 2.1
      শাহবাজ নজরুল

      এবারও "ইতিহাসের মিমাংসিত সমস্যা" মনে হল। কিন্তু পড়ে ভাল লেগেছে।
       
      ইতিহাসের আরেকটা মিমাংসিত কথা বলে রাখি। ঢাকায় জন্মানো মেঘনাদ সাহা পড়েন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, ঢাকা কলেজে ও পরে প্রেসিডেন্সি কলেজে। তিনি সত্যেন বোসকে নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা পেপার পাব্লিশ করেন কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। তিনি পরবর্তীতে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে অনুরক্ত হয়ে পড়লে কোলকাতায় গড়ে তোলেন 'সাহা ইন্সটিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স।' মেঘনাদ সাহা পদার্থবিদ্যাতে নোবেল পুরষ্কার পাবার জন্যে মনোনীত হন একাধিকবার।
       

  10. 1
    সরোয়ার

    শাহবাজ ভাই, আপনার লেখার যে ধাঁচ তাতে দেশে বিজ্ঞান বিষয়ক বই বের করলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণরা বুদ হয়ে পড়বে বলে আমার বিশ্বাস। আমার নিজেরই তো নেশা ধরে যাচ্ছে!  মনে হচ্ছে আমি ১৯২০ শতকের সেই কার্জন  হলে সত্যেন বোসের পাশে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছি! কার্জন হলের নিজের স্মৃতি রোমান্থন করেও শিহরিত হচ্ছি। বুকটা ইঞ্চি দেড়েক ফুলে উঠছে। লেখাতে ইমোশনগুলো বেশ চমৎকারভাবে শব্দের মাধ্যমে ধরা পড়েছে। স্যালুট।  

    1. 1.1
      শাহবাজ নজরুল

      পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। আর উৎসাহ দেবার জন্যেও। নতুন স্টাইলে বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা লিখছি, দেখি কেমন যায়। এতে করে সাধারনত যারা বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা পড়তে চাননা তারাও হয়তো কিছুটা পড়বেন। আর এর মাঝেই যদি কিছুটা ধারণা দিতে পারি হিগস বোসন আর গ্র্যাভিটনের ব্যপারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.