«

»

Feb ০৬

দেশের ভবিষ্যত: আমার সন্তানের কী করণীয়?

বিকেলে ছোট্ট ছেলে আব্দুল্লাহর কোমল হাত ধরে মেয়ে ফাতিমাসহ পুরো পরিবার উত্তরার গলির রাস্তায় হাঁটছিলাম আর চিন্তা করছিলাম সিঙ্গাপুরের কথা। সিঙ্গাপুরেও পরিবার নিয়ে হাঁটার সময় চিন্তা করতাম দেশের কথা! দেশে রাস্তায় বের হলেই এক ধরনের মানসিক শংকা কাজ করে-কখন কোন সময় রিক্সা বা গাড়ী ছেলে-মেয়ের উপর উঠিয়ে দেয়। দু’বছর বয়সী ছেলেটি রাস্তায় হাঁটার সময় শিশুসুলভ সহজাত প্রবৃত্তি হিসেবে দৌড় দিতে চেষ্টা করে। মোটামুটি ধমক দিয়ে তাকে ধামিয়ে দিতে হয়। বাংলাদেশে অহরহ ঘটনা রয়েছে যেখানে মা বাচ্চার হাত ধরে স্কুলে নেয়ার পথে সাই করে হয়ত মা বা বাচ্চার প্রাণকে কেড়ে নিয়ে নিয়েছে। ঢাকায় বাচ্চারা যে দৌঁড়াবে তারও কোন ব্যবস্থা নেই। খেলার মাঠ, পার্ক যে থাকা দরকার সেই প্রয়োজনীয়তার কথাও মানুষ ভুলে গিয়েছে। বিকল্প হিসেবে যথাসম্ভব কম ফার্নিচার কিনেছি যাতে বাচ্চারা বাসায় দৌঁড়াদৌঁড়ি করতে পারে! এভাবেই বড় হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম!     

চিন্তা করছিলাম ফাতিমাদের প্রজন্মের কথা; ফাতিমা যখন নানী হবে তাদের সময়ের প্রজন্ম কথা। চিন্তা করতে মনটা বিষিয়ে উঠে। খুব খারাপ লাগছিল বিধায় কীবোর্ড হাতে তুলে নিয়েছি। সিস্টেমহীম বা বিশৃংখল সমাজে বেঁচে থাকতেই যেখানে সবশক্তি নিঃশেষ হয়ে যায় সেখানে মানসিক বিকাশের ইস্যুটি গৌণ। হানাহানি, কমপিটিটিভ সমাজে মানুষজন স্বার্থপর হয়ে বেড়ে উঠে; সামাজিক সাম্যতা বা মানবিকতা চরমভাবে লোপ পায়। এই সমাজে প্রত্যেকটি পরিবার যেন হয়ে উঠে একেকটি নিঃসঙ্গ দ্বীপের মত। দুর্ভাগ্য এমন যে আমাদের দেশে গাছ-পালা প্রাকৃতিক পরিবেশও নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। সিটি এলাকায় গাছ-পালা নেই যাতে মানুষের মানসিক বিকাশ হতে পারে।   

পরিবেশ দূষনের কথা, ভেজাল খাদ্যের কথা বাদ-ই দিলাম। এখন ঘরে ঘরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ছে। প্রিয়জনকে বাঁচাতে অর্থনৈতিকভাবে সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়ছে পুরো পরিবার। এতে সরকারের, সমাজের কোন দায়বদ্ধতা নেই। আমরা খাবারের মাধ্যমে নীজে বিষ খাচ্ছি আর সাথে সাথে সন্তানদের মুখেও তা নির্দিধায় তুলে দিচ্ছি। দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়লেও মানবিক গুনাবলির সূচকে চরমভাবে অবক্ষয় হয়েছে। এর জন্য দায়ী স্বাধীনোত্তর প্রত্যেকটি সরকার। এভাবে একটি দেশ কখনোই সাস্টেইনেব্যল হতে পারে না। একটি দেশ যদি মাত্র কয়েকটি প্রজন্মের মধ্যে বিলীন হয়ে যায় তবে সেটিকে কী প্রকৃত অর্থে দেশ বলা যায়?    

আমার সন্তান বড় হতে সরকারের কী কোন অবদান রয়েছে? এর উত্তরে বলা যায়- সরকার বা দেশ কী আমার সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছে? যে পুলিশ আস্থা এবং নিরাপত্তা দেয়ার কথা সেই পুলিশই হচ্ছে আতংকের বিষয়! তারা সাধারন মানুষকে পুড়িয়ে মারে, চাঁদাবাজি করে, ধর্ষন করে! অসুখ বিসুখের সময় সরকার কি কোন রকম সাপোর্ট দিচ্ছে? স্কুলের ব্যয়ভার বহনে সাহায্য করছে?

আমার দেশের জন্য দায়িত্ববোধ থাকলেও আমরা ছেলে মেয়ের ক্ষেত্রে সেটি যৌক্তিকভাবেই প্রযোজ্য নয়। বাবা-মা, দেশের ঋন শোধ করার নিমিত্তে দীর্ঘদিনের প্রবাস জীবন গুটিয়ে দেশে ফিরে এসে কন্ট্রিবিউট করার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমার সন্তানের দায়িত্ব কে নিবে?   

হাঁটার সময় ফাতিমাকে আমরা বুঝাচ্ছিলাম ভালমত পড়াশুনা করে যে করেই হোক এই দেশে ছেড়ে প্রবাসে সেটেলড হতে। দেশাত্ববোধ একটি আপেক্ষিক ব্যাপার যেটি ওদের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাই দেশাত্মবোধের চেয়ে ইসলামিক ভাতৃত্ব-বোধ অর্জন করতে পারলে বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন মুসলিমদের সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে। স্বাভাবিক নিয়মে আমাদের হয়ত আর ২০/২৫ বছর বাঁচার কথা। এত  দিন যে বাঁচব সেটারও কোন গ্যারান্টি নেই। আফগানিস্তানে বা সিরিয়ায় ড্রোন আটাকের চেয়ে আমাদের দেশে অনেক বেশী প্রাণ হারায় রোড এক্সিডেন্টে। তাই আমাদের জন্য যেন ফাতিমারা চিন্তা না করে। জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম  করতে থাকবো। যতটা সম্ভব শেষ দেখে যেতে চাই। তারপর একদিন হারিয়ে যাবো। এতে দেশের বা সরকারের কিছুই হবে না। মৃত্যুর পর কোন প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকলে তা সন্তান-সন্তুতি বা বংশধরের হাত ধরেই হতে পারে।         

১৮ comments

Skip to comment form

  1. 10
    সরোয়ার

    ‘হতাশা থেকেই সহিংসতা’

    দেশের বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন সমাজে হতাশা বাড়ছে। আর এর থেকে সহিংসতা জন্ম দেয়। শিশুরা দুর্বল। বাবাকে শাস্তি দিতে শিশুকে হত্যা বা নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা নিষ্ঠুর , নির্মম ও পাষণ্ড হচ্ছি। নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে সহিংসতা করতে দ্বিধা করি না। এসব ঘটনার পেছনে মানসিক দিকটি মূল্যায়ন করার প্রয়োজন আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তারা বলেন, সমাজে মূল্যবোধের ক্ষয় হতে হতে তলানিতে চলে এসেছে। নষ্ট হয়েছে পারিবারিক বন্ধনও।

    দেশের বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্সেস-এর সহযোগী অধ্যাপক ডা. এমএ মোহিত কামাল মানবজমিনকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটে সেটি আগে বিশ্লেষণ করতে হবে। পারিবারিক সহিংসতা বাড়ছে। আর এর বলি হতে দেখছি নারীদের। কিন্তু এখন সন্তানদের ওপরও হচ্ছে। মা’র কোনো মানসিক সমস্যা আছে কি-না। বাবা-মা’র মানসিক সমস্যা হতে পারে। এতে যে কারো কারণে খুনে অনুপ্রাণিত হতে পারে। বিষণ্নতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি দু’সন্তান হত্যার ঘটনাটি হতাশা থেকে কিনা, তাও দেখার প্রয়োজন আছে। তিনি বলেন, মা-বাবা একত্রে খুন করতে পারে না। যদি মা অসুস্থ হন, তাহলে হতে পারে। আবার বাবা যদি মানসিক অসুস্থ হন, তাহলেও হতে পারে। নানা কারণে সমাজে হতাশা বাড়ছে। আর এর থেকে সহিংসতা জন্ম নিচ্ছে। মানসিক দিকটি মূল্যায়ন করার দরকার আছে। শিশুদের হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিশুরা দুর্বল। বাবাকে শাস্তি দিতে এটা ঘটতে পারে। আমরা নিষ্ঠুর, নির্মম ও পাষণ্ড হচ্ছি। নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে সহিংসতা করতে দ্বিধা করি না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আফরোজা হোসেন এ প্রসঙ্গে  মানবজমিনকে বলেন, সমাজে মূল্যবোধের ক্ষয় হতে হতে তলানিতে চলে এসেছে। পারিবারিক বন্ধন নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা কিভাবে বেড়ে উঠছি, কি আচরণ শিখছি। ঠিকভাবে অনুভূতির চর্চা করি না। আমাদের বোধগুলো নষ্ট হয়েছে। পুরুষ-শাসিত সমাজে কন্যা শিশুদের নির্যাতন হতো। কিন্তু এখন সবার বেলাই ঘটছে। যৌথ পরিবার না থাকায় এসব ঘটছে বলে তিনি মনে করেন। কারণ কেউ দেখছে না, কেউ বড় হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করছে না। সামাজিক দায়িত্ববোধ নেই। বিচারহীনতার সংস্কৃতি সব জায়গায় বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। আমাদের বিবেক হারিয়ে ফেলেছি। এর থেকে উত্তরণ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

  2. 9
    সরোয়ার

    আগের লিঙ্কে প্রথম আলোতে প্রকাশিত আর্টিকেলে একজনের মন্তব্যঃ

    গতকাল বাহন গাড়ীতে অফিসে যাওয়ার সময় গাড়ীটা বারডেমের পাশে গিয়ে দাড়ালে একজন ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে তিনজন পুলিশ গাড়ীটা আটকায় এবং আমাদের তথা যাত্রীদের কিছু না বলে যাত্রীসহই গাড়ীতে র‌্যাকার লাগিয়ে টানতে আরম্ভ করে দেয়। যাত্রীরা হুড়মূড় করে নেমে পরে; আমিও নামি। নেমে ঐ ইন্সপেক্টরের কাছে জানতে চাই যে, যাত্রীদের না নামিয়ে বা নামতে না বলে কোন যাত্রবাহী গাড়ীতে র‌্যাকার লাগানোর কোন বিধান আছে কিনা; আর ড্রাইভার কোন ট্রাফিক-অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া যেতে পারে, সেক্ষেত্রে অফিসে যাওয়ার হাই-টাইমে কেন গাড়ীতে র‌্যাকার লাগানো হ’ল। তাছাড়া কোন গাড়ী খারাপ হ’লে বা বড় ধরণের কোন এ্যাক্সিডেন্ট করলে তখনই তাতে র‌্যাকার লাগানো ‍যুক্তিযুক্ত। আমার কথায় ঐ ইন্সপেক্টর উষ্মা প্রকাশ করে বললো- গাড়ীটা যে সঠিক স্থানে দাড়ায়নি, তা দেখলেন না। বলুনতো গাড়ী কোথায় দাড়াবে- তা কি কোন যাত্রীর সাথে মোসাবিদা করে ড্রাইভার দাড় করায়। ঐ ইন্সপেক্টর একটা সম্পূর্ণ চালু গাড়ীতে কেন র‌্যাকার লাগিয়েছে- তাতো একজন ছোটখাট সমঝদার লোকেরও না বোঝার কথা নয়। যাই হোক এক পর্যায়ে গাড়ী আবার র‌্যাকারে টানতে আরম্ভ করলে ঐ দলে থাকা সাব-ইন্সপেক্টর আমাদের সরতে বললে আমি তাকে বললাম- বরং আমাদের উপর দিয়েই চালিয়ে নিয়ে যান, কেননা আপনারাইতো এখন দেশের মালিক। তখন সে মুখ আড়াল করে কিছুটা হেসেছিল, যে হাসিটাকে মূলতঃ আমি অন্যভাবে নিয়েছি অর্থাৎ তার ঐ হাসির আড়ালে ছিল এক ধরণের অপরাধ-জনক স্বীকৃতি। এতক্ষণ তাদের সাথে বাতচিৎ করার এক পর্যায়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি আমার সহযাত্রীদের মধ্যে মাত্র একজন বয়স্ক লোক মৌনভাবে আমার পেছনে দাড়িয়ে আছেন, বাকীরা যে যার পথে চলে গেছে। কি আর করা ! যাদের জন্য বচসায় লিপ্ত হ’লাম তারাই আমার সাথে নেই ! শিশুদের কারণে-অকারণে হত্যা করা হচ্ছে, নানামাত্রিক অযাচার-অনাচার, সমাজ-বিধ্বংসী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা প্রশমনে পুলিশের ভূমিকা যেন তলানিতে ঠেকেছে; তারা বরং যে অপরাধটায় একটা মামলা দিয়ে প্রতিকার করা যেত, সেই ছোটখাট ট্র্রাফিক অপরাধের কারণে দেশের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ঘটিয়ে শুধুই ধান্দা করে যাচ্ছে। দেশটা যে কোথায় যাচ্ছে- আল্লাহ মালুম। মূল্যবোধের বিপর্যয় সম্পর্কিত একটা খন্ডিত অথচ বাস্তব উদাহরণ হয়ত আমি টানতে পেরেছি। আর এর অন্তরাল-স্থিত কারণগুলো নাহয় নাইবা টানলাম- কেননা অনেকেই হয়ত বা তা জানেন বা বোঝেন।

  3. 8
    সরোয়ার

    মূল্যবোধের এত বিপর্যয় কেন?

     

    হবিগঞ্জের বাহুবলে চার শিশু হত্যার ঘটনাকে মূল্যবোধের বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা। এ ধরনের নিষ্ঠুরতা বিচারহীনতার সংস্কৃতি, অপরাধীদের বিকৃত মনোভাব এবং সমাজে শিশুদের অসহায় অবস্থার চিত্রই তুলে ধরছে।
    একসঙ্গে চার শিশু হত্যার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কী বলব? মূল্যবোধের এত বিপর্যয় কেন ঘটছে? শিশুদের সঙ্গে কারও কোনো দ্বন্দ্ব, সংঘাত থাকে না। তাদের শুধু ভালোবাসা পাওয়ার কথা। অথচ তারাই নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে। আর এ ধরনের ঘটনা আমাদের প্রতিনিয়ত সহ্য করতে হচ্ছে, যা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’ তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটার পেছনে বিচারহীনতার সংস্কৃতি কাজ করে।

    শিশুহত্যা ও নির্যাতন এবং তাদের অধিকারের বিষয়গুলোর তথ্য সংগ্রহ করে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (২৬৭টি বেসরকারি সংস্থার জোট)। ১০টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে করা ফোরামের পরিসংখ্যান বলছে, এ বছরের জানুয়ারিতে সারা দেশে ২৯টি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে কেরানীগঞ্জের স্কুলছাত্র আবদুল্লাহকে অপহরণ করে হত্যা করে লাশ ঘরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। গাজীপুরে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে সোলায়মান নামে এক শিশুকে। কিশোরগঞ্জের নিকলীতে শিশুহত্যার অভিযোগে মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে দুই শিশুকে বিষ খাইয়ে মা আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে একটি শিশু মারা গেছে।
    আর গত চার বছরে দেশে ১ হাজার ৮৫টি শিশুকে হত্যা করা হয়। পারিবারিক কলহ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ব্যক্তিগত লোভ অথবা স্বার্থ আদায়ের অস্ত্র হিসেবেই শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

    হত্যার পাশাপাশি শিশু নির্যাতনও বেড়েছে। চলতি মাসেই রাজশাহীর পবা উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামে মুঠোফোন চুরির অপবাদ দিয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে জাহিদ হাসান (১৫) ও ইমন আলী (১৩) নামের দুই কিশোরকে অমানবিক নির্যাতন করে সেই ঘটনার ভিডিওচিত্রও ধারণ করা হয়। নাটোরের বাগাতিপাড়ার মাকুপাড়া গ্রামে দোকানে চুরির অভিযোগে তিন শিশুকে পেছনে দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেদম পেটানো হয়।

    এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘যা ঘটে চলেছে তা খুবই দুঃখজনক। শিশুহত্যার ঘটনা এত বেশি পরিমাণে কেন ঘটছে, এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তাও ভাবিয়ে তুলছে। তবে ঘটনা ঘটার পরই সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
    প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেখেশুনে মনে হচ্ছে অপরাধীদের মধ্যে একধরনের বিকৃত মনোভাব তৈরি হয়েছে। অপরাধীরা জানে শিশুদের আক্রমণ করা সহজ। শিশুরা পাল্টা আঘাত করতে পারবে না। তবে যে কারণেই শিশুরা হত্যার শিকার হোক, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

    গত বছরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল সিলেটের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন ও খুলনার মোহাম্মদ রাকিব হত্যা। দেশের সচেতন মানুষ এ ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামে। নিম্ন আদালতে দ্রুত এ মামলা দুটির নিষ্পত্তি হয়। রাজন হত্যার দায়ে প্রধান আসামি কামরুলসহ চারজনকে ফাঁসি ও সাতজনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং রাকিব হত্যা মামলায় দুজনকে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। তবে কেরানীগঞ্জে আবদুল্লাহ হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

    জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান এমরানুল হক চৌধুরী বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে শিশুদের অসহায় অবস্থার সার্বিক চিত্রটাই তুলে ধরছে। সুশাসনের অভাব ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়াও এমন অপরাধ সংঘটনের একটি বড় কারণ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিশুহত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা বাড়লেও দেশের রাজনীতিবিদেরা এ নিয়ে তেমন কথা বলেন না। সরকার দ্রুত এসব ঘটনার প্রকৃতি ও পুনরাবৃত্তিকে বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  4. 7
    শামস

    এদেশে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণহীন।মনে হয় গন্তব্যহীন একধরণের দেউলিয়তবের দিকে সবাই ধাবিত হচ্ছি। ভেজাল দুর্নীতি সবকালেই ছিল, কম বা বেশী, এর মধ্যেই মানুষ বেঁচে থেকেছে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যেটি হয়েছে সেটি হল জাতির মেরুদন্ড শিক্ষার ক্ষতি। এখানে যে বিশাল এক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, এর সামান্যটুকু পর্যন্ত স্বীকার করার মানসিকতা হর্তাকর্তাদের নাই। নয়তো একের পর এক প্রশ্নপ্ত্র আউট হয় কিভাবে। নতুন বছরে নতুন বই হল উন্নয়নের স্লোগান!

    এদেশে রাজনীতিবিদদের জবাবদিহীতা বলতে গেলে নাই। তারপরও তাদের যেখানে একটু  জবাবদিহীতার মধ্যে তাদের পড়তে হয় সেটা হল নির্বাচন। ব্যাপক জালিয়াতির কারণে এখন সটাও প্রায় ধবংস। এখন পর্যন্ত এমন একটা সমীক্ষা দেখলাম না, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক এর পক্ষে বেশীরভাগ মানুষ মত দেয় নাই।

    আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য যে চারটা ভিত্তির দরকার (ভারতীয় সাংবাদিক এ জে আকবর থেকে কোট করা) তার একনম্বরে হল গণতন্ত্র! একটা সেক্যুলার রাষ্ট্রকাঠামো থাকবে কিন্তু গণতন্ত্র থাকবে না, সেটা দেউলিয়ায় পর্যবসিত হবে নাতো কি! প্রতিটা ভিত্তিই রাষ্ট্রের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও এদের মধ্যে একটা, কিন্তু সবার শেষে। আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়টি কেবল জোড় গলায় উন্নতির কপচানো না। কাদের পকেটে মূলত টাকা যাচ্ছে, কমবেশি সবাই জানে। 

    এই শিশুহত্যা, নৈরাজ্য এসব বিচ্ছিন্ন কিছু না। গতদিনের চেয়ে আগামী দিন কি ভালো যাচ্ছে বা যাবার কথা!

  5. 6
    সরোয়ার

    হবিগঞ্জে নিখোঁজ ৪ স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার

    হবিগঞ্জের ৪ স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে জেলার বাহুবল উপজেলার পুথিজুড়ি ইউনিয়ন থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে খেলতে বের হয় ভাদেশ্বরের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া আহমেদ শুভ। সঙ্গে ছিল চাচাত ভাই তাজেল মিয়া, মনির মিয়া এবং প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাঈল হোসেন। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি তারা। নিখোজ হওয়ার পাঁচ দিন পর তাদের লাশ মিললো। এর আগে নিখোজের দিন রাতভর অপেক্ষা করে শনিবার শুভর বাবা বাহুবল থানায় সাধারণ ডায়রি করেন।

     

  6. 5
    ফাতমী

    সরোয়ার ভাই,

    আপনাকে সদালাপে আবার দেখে ভাল লাগল। দেশবিদেশ এই সময় প্রায় একই কথা হয়ে যাচ্ছে এবং মানুষের চলার গতি আরও বেড়ে যাবে ইনশা আল্লাহ। তাহলে দেশ আর বিদেশ সবই একই। আমরা দেশকে ভালবাসি, দেশের উন্নতি চাই।  

    জাতীয়তাবাদ একটি সুস্থ ধারণা নয়, এটি মানুষকে মিথ্যা অহংকার করতে শিখায়। আল্লাহ পাক আমাদের জাতীয়তা দিয়েছেন পরিচিত হওয়ার জন্য, মিথ্যা অহংকারের জন্য নয়। সব কিছুর একটা সীমা আছে এবং সীমার ভিতর জাতীয়তাবাদ খারাপ কিছু নয়। এটি সীমার বাহিরে গেলেই সমস্যা। 

    এত চিন্তারও কিছু নেই, সব কিছু আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় ঘটে। তাই আপনার দায়িত্ব সুশিক্ষা দেওয়া এবং সেই দায়িত্ব আল্লাহর ইচ্ছায় পালন করতে পারলেই, ইনশাআল্লাহ সব কিছু ভালই হবে।  

    1. 5.1
      সরোয়ার

      ফেসবুকে অনেক সময় দিয়েছি। কিন্তু চিন্তা করছি এখন থেকে সদালাপে সময় দিবো ইনশাল্লাহ, কেননা ফেসবুকে সবকিছু তাড়াতাড়ি হারিয়ে যায়। দেশের অনিশ্চিত ভবিষ্যত আমাদের কর্মফল, পাপের ফসল। ধন্যবাদ। 

  7. 4
    এম_আহমদ

    মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। দুটি স্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বাস্তবতা নিরোপক মনে হয়েছে। এক: “আমার সন্তান বড় হতে সরকারের কী কোন অবদান রয়েছে? এর উত্তরে বলা যায়- সরকার বা দেশ কী আমার সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছে? যে পুলিশ আস্থা এবং নিরাপত্তা দেয়ার কথা সেই পুলিশই হচ্ছে আতংকের বিষয়! তারা সাধারন মানুষকে পুড়িয়ে মারে, চাঁদাবাজি করে, ধর্ষন করে! অসুখ বিসুখের সময় সরকার কি কোন রকম সাপোর্ট দিচ্ছে? স্কুলের ব্যয়ভার বহনে সাহায্য করছে?” তারপর:

    হাঁটার সময় ফাতিমাকে আমরা বুঝাচ্ছিলাম ভালমত পড়াশুনা করে যে করেই হোক এই দেশে ছেড়ে প্রবাসে সেটেলড হতে। দেশাত্ববোধ একটি আপেক্ষিক ব্যাপার যেটি ওদের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাই দেশাত্মবোধের চেয়ে ইসলামিক ভাতৃত্ব-বোধ অর্জন করতে পারলে বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন মুসলিমদের সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে।

    আজ সমাজের একজন মার্জিত ও শিক্ষিত নাগরিকদের অবস্থাই দেশের করুণ দশা ব্যক্ত করছে। সবাই তো আর ছিন্নমস্তা-চণ্ডী নন, রণদা সর্বনাশী নন এবং কবিও নন যে জাহান্নামের আগুনে বসে পুষ্পের হাসি হাসবেন।

    কথা হচ্ছে এই যে যখন অনৈতিকতাকে দায়িত্বশীলরা নৈতিকতার আঙ্গিকে বিবৃত করবেন, যখন ঘুষকে টাকামন্ত্রী হাম্বু-বাম্বু ‘স্পীড-মানি’ বলে হালাল করবেন, তখন পুলিশ-বেটা কেন ঘুষ খাবে না? ঘুষ যে আগে ছিল না –এমন কথা নয়, তবে এখন তা ‘নৈতিক’ –স্পীড মানি। যে ব্যক্তি এই “নৈতিক-সংস্কৃতিতে” লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে চাকুরী পেয়েছে, সে ক’শো বছর চাকুরী করে সেই টাকা উদ্ধার করবে এবং কবে নিজের ঘর-সংসারের খরচের যোগান দেবে?

    মাফিয়াতন্ত্রসহ কোনো তন্ত্রই একা একা একা গড়ে উঠে না। এর পিছনে একটা সংস্কৃতি থাকে, সমর্থক বাহিনী থাকে। আর এর পিছনে থাকে মিথ্যা মোহগ্রস্ততা। এসব নিয়ে কী বলা হবে? আজ আর বলার কিছু নেই।

    মা-বাপ তাদের বাচ্চাদেরকে স্কুলে পাঠিয়ে কীভাবে শান্তি পাবে যেখানে প্রায়ই শিশু হত্যা আর মুক্তিপণের গুম চলছে। কত ঘটনা যে নীরবে ঘটে যাচ্ছে -কেউ ভয়ে প্রকাশ করতে পারছে না –সেসবের হিসাব কে নেবে? আজ ‘কাঁদতে কেহ পারবে না না'ক যতই মরুক শোকে!’

    “দেশাত্ববোধ একটি আপেক্ষিক ব্যাপার যেটি ওদের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাই দেশাত্মবোধের চেয়ে ইসলামিক ভাতৃত্ব-বোধ অর্জন করতে পারলে বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন মুসলিমদের সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে।” বর্তমান প্রেক্ষিতে এটাই সঠিক কথা। দেশ প্রেমের ব্যাপারে ইংরেজিতে আমার একটি মন্তব্য এভাবে আছে:

    The country is not Mother

    The concept of a state/country as being Mother (দেশ মাতা) is not an Islamic concept. Although in Hinduism, along with many other deities, the 'land' can anthropomorphically be deified, it is not acceptable in Islam. Love for the country and the deification of it –and finding ways to pay homage are different things. حب الوطن من الإيمان (Ḥubbul waṭan minal al-Īman) ‘the love of the country is part of Īman’ is a fabricated ḥadith, of the category of mawdū‘ (موضوع), meaning one of its narrator in the chain has been found to have narrated ‘falsely’ and has had attributed it to the Prophet (pbuh). However, it is regarded an Arabic saying.

    It should further be noted that the deification of land was a Brahmin concoction during the Middle Ages to unite the high and low castes in a religious effort to drive the ‘foreign jaban/mleccha (যবন/ম্লেচ্চ –non-Hindus) out of the land. At the time, the embedded subject of it was the Muslim rulers. There inhibited the cruel and subtle idea that the ‘unholy’ (Muslims) were walking on her, on the land, the deity, the very mother.

    1. 4.1
      সরোয়ার

      আপনার বিশ্লেষণ, মন্তব্যে অন্যরকমের আবেদন আছে। আপনার সংযোজনের জন্য ধন্যবাদ।

    2. 4.2
      dirtroad

      "deification of land was a Brahmin concoction during the Middle Ages to unite the high and low castes in a religious effort to drive the ‘foreign jaban/mleccha (যবন/ম্লেচ্চ –non-Hindus) out of the land. At the time, the embedded subject of it was the Muslim rulers. There inhibited the cruel and subtle idea that the ‘unholy’ (Muslims) were walking on her, on the land, the deity, the very mother" ……

      নিজেকে উপস্থাপিত করতে সব সময় হিন্দু কাউন্টার পয়েন্ট ব্যবহারটা হাস্যকর।  ভারতবর্ষ কে জন্মভূমি বলা বাল্মীকি রামায়ন এর সময় থেকে আছে  .. এই হচ্ছে তার source   … Api swarnamayi lanka na me laksmana rocate /  Janani janmabhumis ca svargad api gariyasi (Valmiki Ramayana)

      “O my brother Lakshmana! Even if Lanka is made of gold, I do not like it because Mother and Motherland are far more superior to heaven”.    সব জায়গায় আন্টি-ইসলামিক চিন্তা দেখতে পাওয়াটা কিন্তু এক ধরনের persecution complex  .. বিশেষ করে একদম দু হাজার বছর পেরিয়ে যখন খোঁজেন। 

      1. 4.2.1
        এম_আহমদ

        @dirtroad:

        [১] আপনার সাথে ইতিপূর্বে আমার কোন আলোচনা হয় নি এবং “সব সময় হিন্দু কাউন্টার পয়েন্ট ব্যবহার” করেছি বলেও জানি না। এপর্যন্ত সদালাপে আমার ৮৮টি লেখা রয়েছে যার মধ্যে একটি লেখাই গরু-পূজারীদের নিয়ে এবং তা বাস্তবতার আলোকে। সুতরাং অযাচিতভাবে “সব সময় হিন্দু কাউন্টার পয়েন্ট ব্যবহার” ও “সব জায়গায় আন্টি-ইসলামিক চিন্তা দেখতে পাওয়াটা কিন্তু এক ধরনের persecution complex”–এইসব উল্লেখ হয়ত আপনারই মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে।

        অধিকন্তু, আপনার কাছে কী ‘হাস্যকর’ হয়, আর কী হয় না –তা এই পর্যায়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কেননা, আপনি কে এবং আপনার হাসির অভ্যাস/চরিত্র ও মূল্য কতটুকু তা আলোচ্য মহলে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাছাড়া আমার মন্তব্যে persecution নিয়ে তো কিছু বলাই হয় নি। তাই, এখানে persecution complex পর্যন্ত চলে গিয়ে অযাচিত মন্তব্য কেন করবেন?

        যে বিষয়ে যে আলোচনা নেই, সেবিষয়ে, অন্তত আমার সাথে, আলোচনা বাড়াবেন না। অনেক দূরে থাকবেন। ফালতু বিতর্কের সময় আমার নেই। তবে হ্যাঁ, যদি নিজেকে জাহির করতে মনের ভিতরে কিড়মিড় অনুভব করেন তবে আলাদা একটি ব্লগ লিখে তা ব্যক্ত করবেন। এতে সব কথা যথাযথ স্থানে বিশদভাবে বলতে পারবেন এবং হয়ত সুন্দরও দেখাবে।

        [২] ভাল্মিকী যদি খৃষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে ভারতকে “জন্মভূমি” বলে উল্লেখ করে থাকেন, তবে এই কথা এখানে কিভাবে প্রযোজ্য হয়? এখানে কি জন্মভূমি অস্বীকার করা হচ্ছে? আমাদের কথা হচ্ছে ‘deification of motherland’, ভূখণ্ডকে পূজনীয় ও পূজ্য-করণ নিয়ে। যার জন্ম যেখানে সেটিই তার জন্মভূমি। অন্য কথায়, মাতৃগর্ভ থেকে যে মাটিতে যে ভূমিষ্ট হয় সেটাই তার মাতৃভূমি। এখানে বিতর্কের কী থাকতে পারে? কিন্তু কোন ভূখণ্ডকে যদি মাতৃদেবী করে তোলা হয়, তবে বাস্তবতা পূজারী ও অপূজারীদের (যবন/ম্লেচ্ছ তারা যারাই হোক) মধ্যে পবিত্র ও অপবিত্র সূত্রে ধর্মীয় রূপ দান করে। আমরা মধ্যযুগের শেষের দিক থেকে দেশকে পূজনীয় করার ধারণা দেখতে পাই -‘দেশভক্তির’ আচরণ পাই। তবে দেশভক্তির ধারণা যদি ভাল্কিমীর লেখায় থেকে থাকে তবে এটা আমাদের পক্ষের দলিল হবে, সেটা ইসলাম ধর্মের আগের হলেও। ভারতে হিন্দুদের হাতে কেবল মুসলিম ম্লেচ্ছই নির্যাতিত হয় নি বরং বৌদ্ধদের নির্মূল-নির্যাতনসহ আরও অনেক ম্লেচ্ছ-যবন বলী হতে হয়েছে। এই বিতর্ক এখানে শুরু করার দরকার নেই। কেননা, এসব বিষয়ের আলোচনায় নতুন কিছু নেই। ভারতের নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের বিষয় নিয়ে কয়েকটি সার্চ দিলেই সকল পক্ষের নির্যাতনের ইতিহাস দেখা যাবে। দেশভক্তির পৌত্তলিক ধর্ম-দিগন্ত ও রাজনীতির উপর সার্চ দিলেও সেই প্রেক্ষিত পাওয়া যাবে। তবে হাসি একটু সংবরণ করলেই মনে হয় ভাল। আবার এই বিশ্বে যেহেতু ইসলাম বিদ্বেষ আছে তাই এটাও চতুর্দিকে পাওয়া যাবে এই সম্ভাবনাও সাথে নিয়েও।

        1. 4.2.1.1
          dirtroad

          বাল্মীকি শুধু জন্মভূমি বলেন নি স্বর্গাদপি গরিয়সী ও বলেছেন। …. ব্যাপারটা প্রায় deification হলো….জননী র সাথেই। … ভারতমাতা মূর্তি বলতে কখনো কিছু  ছিল না। .. স্বাধীনতা আন্দোলন-র সময় দু একবার বা কস্চিত কদাচিত এখনো ছবিতে যা দেখা যায়  সেটা দূর্গা রূপেই পূজিত হয়.. …… আলাদা করে মধ্যযুগে বিশেষ ভাবে কোনো নৃ -- গোষ্ঠিকে বাইরে রেখে হিন্দুসমাজকে এক করার জন্যে জন্মভূমির deification হয়েছিলে এটা বোধয় ঠিক নয়। …. যদিও আপনার একটি বিশেষ প্যারাগ্রাফ সেটিকেই উল্লেখ করছে

  8. 3
    মহিউদ্দিন

    "এর জন্য দায়ী স্বাধীনোত্তর প্রত্যেকটি সরকার। এভাবে একটি দেশ কখনোই সাস্টেইনেব্যল হতে পারে না। একটি দেশ যদি মাত্র কয়েকটি প্রজন্মের মধ্যে বিলীন হয়ে যায় তবে সেটিকে কী প্রকৃত অর্থে দেশ বলা যায়?"    

     সহমত ১০০% 

    আপনি সাহস করে বাংলাদেশের সামাজিক ও প্রশাসনিক অবক্ষয়ের যে কথাগুলা লিখেছেন সে জন্য ধন্যবাদ। 
    আসলে যে কথাটা আমি আগেও বলেছি  আমাদেরকে ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে অবশ্যই। কিন্তু স্বাধীনোত্তর প্রত্যেকটি সরকারের সময় হালুয়া রুটির ভাগীদার এবং চাচা আপন প্রাণ বাঁচার -এই তরিকার ভীতুদের কারণে ইতিবাচক চিন্তা করা সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর সব চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হল এখন তা এত প্রকট আকার ধারণ করেছে যে এসব নিয়ে কথা বলাটাই যেন অপরাধ! একটা ব্যাপার খেয়াল করবেন যখনই কেউ সরকারের কোন অব্যবস্থা, অনিয়ম ও দুর্নীতি কিংবা বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের দলীয়করণের কথা বলতে যাবে তখনই "অতীতেও এর চেয়ে বড় অনিয়ম হয়েছে" বলে তাকে সম্পূর্ণ ঘিরিয়ে ফেলা হবে হালুয়া রুটির ভাগীদার সেই চাটুকারদেরকে দিয়ে। কিন্তু এ দেশটা তো কেবল তাদের বাপ দাদার সম্পত্তি নয়। আল্লাহ অন্য যাদেরকে এদেশে জন্ম দিয়েছেন তাদেরও সম্মানের সহিত বাঁচার অধিকার আছে। মাতৃভূমিকে ফ্যসিষ্ট মানসিকতার অগণতান্ত্রিক মাফিয়া স্টাইলের অত্যাচারী শাসন শোষন ও দূবৃত্তায়নের হাত থেকে নিরাপদ রাখা তাদের জন্মগত অধিকার তাই সবাইকে এ অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে হবে।  
    যারা আপনার লিখায় শুধু হতাশা খোঁজেন তাদেরকে বলব আসুন না এ হতাশা থেকে পরিত্রাণের রাস্তা কি তা নিয়ে আলোচনা করা যাক। সম্মিলিতভাবে এসবকে ঠেকানোর এখনই সময়। আমাদের ছেলে-মেয়েদের প্রজন্ম, তাদের প্রজন্ম বিবেচনা করেই দেশের জন্য আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      @মহিউদ্দিন:

      আর সব চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হল এখন তা এত প্রকট আকার ধারণ করেছে যে এসব নিয়ে কথা বলাটাই যেন অপরাধ! একটা ব্যাপার খেয়াল করবেন যখনই কেউ সরকারের কোন অব্যবস্থা, অনিয়ম ও দুর্নীতি কিংবা বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের দলীয়করণের কথা বলতে যাবে তখনই …"। কিন্তু এ দেশটা তো কেবল তাদের বাপ দাদার সম্পত্তি নয়। আল্লাহ অন্য যাদেরকে এদেশে জন্ম দিয়েছেন তাদেরও সম্মানের সহিত বাঁচার অধিকার আছে। মাতৃভূমিকে ফ্যসিষ্ট মানসিকতার অগণতান্ত্রিক মাফিয়া স্টাইলের অত্যাচারী শাসন শোষন ও দূবৃত্তায়নের হাত থেকে নিরাপদ রাখা তাদের জন্মগত অধিকার …।

      সুন্দর বলেছেন। কিন্তু এই বর্ণিত সুন্দর হতোস্মি। দেশটাকে ফ্যাসিস্টরা কোথায় এনে হাজির করেছে? এখন কথা বলাই অপরাধ!

      জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিজম সমাজকে নানান মিথ্যাচারী জিঘাংসায় অল্প সময়েই ধ্বংস করে দিতে পারে। প্রথম মহাযুদ্ধের পর থেকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে জার্মান জাতিকে নানান মিথ্যাচারে উত্যক্ত করে তুলা হয়। তবে প্রথম মহাযুদ্ধের পর ইউরোপ জার্মানের উপর যে অন্যায় ব্যবহার করে তাও ছিল সেই ফ্যাসিবাদের আত্মপ্রকাশের আরেকটি কারণ। জাতীয়তাকে “গর্বের” কিছু ভাবা, অন্যের উপর এটাকে প্রাধান্য দেয়া, মিথ্যাভাবে এর সাথে কিছু ধারণা সংযুক্ত করে এর জন্য অপরের রক্ত হালাল করা, বিদ্বেষী ভাষা ও হিংস্রতায় প্রতিপক্ষ নির্মূলের আন্দোলন করা –এগুলো হীন, এগুলোই ফ্যাসিবাদের মূলমন্ত্র। জার্মানে মাত্র দুই দশকে তা বড় আকারে মবিলাইজড (mass mobilisation) করা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের ফ্যাসিস্টরা মাত্র দেড় দশকে তা সাজিয়ে এনেছে। জাতীয়তাবাদ discretionary ও মিথ্যাচারী হলেই তা সর্বনাশ ডেকে আনে। নিছক একটি পরিচয় ছাড়া জাতীয়তায় কিছু নেই -তা জার্মান হোক, অথবা ইংরেজ, অথবা বঙ্গাল। কেউ যদি প্রশ্ন করে, আপনার বাঙালীত্ব কি? তো তা কী হবে? বাংলায় কথা বলতে পারা? অনেক অবাঙালীও বাংলায় কথা বলে। তাহলে ক্রাইটেরিয়া? আবার অনেক বাঙালীর ছেলেমেয়েরা বাংলা তেমন বলতেই পারে না। মাছে-ভাতে বাঙালী? সবাই কী মাছ ভাত খায়? শহুরে বাসিন্দারা কি সর্বদা মাছ ভাত খায়? তাছাড়া কেবল বঙ্গাল অঞ্চলেই কী মাছ ভাত খাওয়া হয়? তাহলে বঙ্গাল ও বঙ্গালীত্ব কী? যারা শাড়ী-সার্ট-লুঙ্গি পরে? এটাও হাস্যকর। অবাঙ্গালীরাও শাড়ী পরে এবং সব বাঙালী মেয়েরা শাড়ী পরে না, এবং পুরুষরাও লুঙ্গি-ধূতিতে নেই। বাঙালীত্ব তো কী?

      “আমি বাঙালী, আমি বীরের জাতি, আমি এই, আমি সেই, আমি বাঙালী বলে গর্বিত” –এমন বঙ্গাল বাণী ও আস্ফালন নিশ্চয় দেখেছেন, শুনেছেন! ফ্যাসিবাদ এভাবে মিথ্যাচারের মাধ্যমেই গড়ে উঠে এবং মিথ্যা কল্পিত বিষয়ে রচিত আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষকে হত্যা, গুম, নির্যাতন, দেশ বিভক্তি, সমাজ বিভক্তি সবই করা হয়। ফ্যাসিবাদীদের হেকাত্তরের বঙ্গাল “আদর্শে”এখন কী হয়েছে? দেশের একটা ইউনিভার্সিটিতে একজনকে বিজ্ঞান শেখানোর দায়িত্ব দেয়া হলেও সে আবিষ্কার করে “হেকাত্তরের ফিল্টার”। এই ফিল্টারের নানান মিথ্যাচার, গল্প আর কাহিনী দিয়ে বাচ্চাদের মাথা ধোলাই করা হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনে বসে চলছে দলীয় ফ্যাসিস্ট রাজনীতি। অভিজিতের বিদ্যাও ছিল বিজ্ঞান। কিন্তু সে লিখত সেই সব বিষয়ে যেসব বিষয়ে সে ছিল অজ্ঞ। আজ শিক্ষাঙ্গন পর্যন্ত দায়িত্বের স্থান বিচ্যুৎ হয়ে পড়েছে। “কানার পোলার নাম ধূলা, কলারে কয় মূলা” -আজ দেশের চরম অবনতিতেও কাহিনী বর্ণিত হচ্ছে এভাবে: দেশের বিচার ব্যবস্থা পবিত্রতা অর্জন করেছে, পুলিশ বাহিনী ইউরোপের কয়েকটি দেশের চাইতেও উন্নত হয়েছে, দেশ মধ্যম আয়ের হয়ে গিয়েছে। চিন্তা করুন, এই বেইমান ফ্যাসিদের কথাই আমরা বিগত বছরগুলো ধরে শুনে আসতে হচ্ছে।

  9. 2
    সরোয়ার

    শুধু জানুয়ারী মাসেই ২৯ শিশুকে অপহরন  করে হত্যা করা হয় বাংলাদেশে। চ্যানেলে আইয়ের ভিডিও দেখুন-

    https://www.youtube.com/watch?v=guhqmJumuKk

  10. 1
    শাহবাজ নজরুল

    লেখায় কঠোর সামাজিক ও সমসাময়িক বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। ঢাকাতে মনে হয় ডারউইনের "অস্তিত্বের সংগ্রাম" -- কথাটি বেশ খাটে। তবে সার্বিক অর্থে আপনার লেখাতে এক ধরনের হতাশা ফুটে উঠেছে। সবাই কি দেশ নিয়ে হতাশার চিত্রই দেখেন? আশা জাগানিয়া কিছুই কি দেখা যায়না?

    1. 1.1
      সরোয়ার

      আশা জাগানিয়ার মধ্যে আছে ইকোনোমিক স্বচ্ছলতা। তবে এটিও আসে পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের বিনিময়ে। ভবিষ্যত নিয়ে কি হবে এটা নিয়ে চিন্তার অবকাশ নেই; এজন্য কেউ কেউ সাময়িকভাবে আশাবাদী হয়ে উঠে। ক্রিকেটের জয়ে অনেকেই শান্তি ফিল করে!

    2. 1.2
      সরোয়ার

      শাহবাজ ভাই,

      আমার মত আশাবাদী মানুষ অনেক কম আছে বলে মনে করি। নীজের টাকায় দেশের জন্য রিসার্চ করছি; ভাল কিছু পাবলিকেশনও করেছি। অন্যকেও ভাল কাজে মোটিভেইট করা চেষ্টা করি। বর্তমানে আমি যে অবস্থায় আছি তাতে আমার সময়কাল ভালভাবে কাটিয়ে দিতে পারব কেননা আমরা শৈশবকালিন ভাল মেমোরি আছে, বন্ধু-বান্ধব আছে। কিন্তু আমাদের ছেলে-মেয়েদের প্রজন্ম, তাদের প্রজন্ম বিবেচনা করলে দেশের তেমন কোন আশা নেই। এটাই বাস্তবতা। ঢাকা শহরের আশে-পাশে যেকোন নদী খালের পানি দেখলেই এত ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়ত না! 

Leave a Reply

Your email address will not be published.